Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026

    আগস্ট আবছায়া – মাসরুর আরেফিন

    July 28, 2026

    খেলারাম খেলে যা – সৈয়দ শামসুল হক

    July 28, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    সন্মাত্রানন্দ এক পাতা গল্প327 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ছায়াচরাচর – ৯

    নয়

    অপরাহ্ণ হইয়া গিয়াছে, তিন্তিড়ী বৃক্ষের ঊর্ধ্বশাখার উপর দিনান্তের রৌদ্র কবিতার অন্তিম চরণের ন্যায় পড়িয়া আছে। আজ পূর্ণিমা তিথি—টোলের পঠন-পাঠন বন্ধ। নিজ কক্ষে উন্মুক্ত কবাটের নিকট কমলনয়ন কী একটি পুথির উপর দেহকাণ্ড আনমিত করিয়া বসিয়া ছিল। সহসা পুথির পৃষ্ঠার উপর কাহার যেন ছায়া আসিয়া পড়িল। কমলনয়ন সচকিতে মুখ তুলিয়া তাকাইল। দেখিল, সম্মুখে যাদবানন্দ দাঁড়াইয়া আছে।

    যাদবানন্দ হইল কমলনয়নের অগ্রজ। দীর্ঘকাল কমলনয়ন উনসিয়া ছাড়িয়া চলিয়া আসিয়াছে; কতদিন তাহারা কোনো সংবাদ নাই— পিতামাতা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হইয়া পড়িয়াছেন। পাড়া-প্রতিবেশী সকলে পিতামাতার নিন্দা করিতেছে, এত সহজে কমলনয়নকে তাঁহারা গৃহত্যাগের অনুমতি দিয়াছেন বলিয়া। গৃহে কমলনয়ন ও তাহার দাদা যাদবানন্দ একত্রে পিতার নিকট অধ্যয়ন করিত, কমলনয়ন চলিয়া আসায় যাদব একেবারে একা হইয়া গিয়াছে। অধ্যয়নে আর মন লাগে না। একদিন সে পিতার সমীপে কহিল, “তাত! আমি ভ্রাতার সন্ধানে নবদ্বীপ যাইব। তাহার কোনো সংবাদ নাই। তাহার কী হইল? তাহাকে আমি ফিরাইয়া আনিব।”

    পিতা পুরন্দর বৃদ্ধ হইয়াছেন; যাদবের এই প্রস্তাবে তিনি প্রমাদ গণিলেন। পুত্র কমলনয়নকে তিনি সম্যক চিনিতেন। সে বড়ো দৃঢ়চিত্ত। তাহাকে ফিরানো অত সহজ নহে। আবার কমলনয়নের প্রভাবে যাদব না গৃহত্যাগ করিয়া বসে। পুরন্দর তৎক্ষণাৎ যাদবকে কিছু বলিলেন না।

    বিষয়টি লইয়া পুরন্দর পরে কমলনয়নের জননীর সহিত আলাপ করিলেন। জননী কিন্তু বলিলেন, “যাদব বড়ো হইয়াছে। কমলনয়ন দাদার কথা খুব মানিত। এতদূর হইতে গিয়া কহিলে দাদার কথা কমলনয়ন উপেক্ষা করিতে পারিবে না বলিয়া মনে হয়। যদি সে ফিরিয়া আইসে…”

    জননীর মন কিছুতেই আশা ছাড়িতে পারে না। যাদব বড়ো হইয়াছে, কমলনয়ন কি বড়ো হয় নাই? তাহার কি কোনো নিজস্ব চিন্তা, স্বকীয় পৃথিবী গড়িয়া উঠে নাই? জননী ভাবেন, যে-সন্তানটি দূরদেশে আছে, সে এখনও ছোটোটিই আছে, তাঁহারই অঞ্চলনিধি হইয়া আছে, তাহার বয়স বাড়ে নাই, চিন্তা পরিণতি লাভ করে নাই! একটু অনুরোধ করিলেই সে ফিরিয়া আসিবে। আসিতেও তো পারে, যদি আইসে…

    অগ্রপশ্চাৎ চিন্তা করিয়া পিতামাতা যাদবকে নবদ্বীপ যাইবার অনুমতি দিলেন। যাদব কিন্তু কমলনয়নের ন্যায় উদ্‌ভ্রান্তবৎ পথ হাঁটে নাই, প্রসিদ্ধ পথ ধরিয়া সে ধীরে ধীরে নবদ্বীপে আসিয়া পৌঁছিল। তথাপি, সময় লাগিল ঢের।

    নবদ্বীপে উপনীত হইয়া যাদব অনেক অনুসন্ধান করিয়া মথুরানাথ তর্কবাগীশের টোলে কমলনয়নের দেখা পাইল। যাদব দেখিল, কমলনয়ন ভক্ত হইয়া যায় নাই, টোলের বিদ্যার্থী হইয়াছে। ভ্রাতাকে দেখিয়া যাদবের প্রাণে আশার সঞ্চার হইল। কমলনয়ন অগ্রজকে প্রণাম নিবেদন করিল। তৎপশ্চাৎ উভয় ভ্রাতা প্রেমালিঙ্গনে আবদ্ধ হইল। এতদিন পর ভ্রাতার দেখা পাইয়া কমলনয়নের চক্ষে জল আসিল। কিন্তু সে-অশ্রুবিন্দু ভাদ্রের মেঘের ন্যায় তাহার ভালদেশে স্তম্ভিত হইয়া রহিল, আষাঢ়ের ধারাবিন্দুর ন্যায় ঝরিয়া পড়িল না।

    যাদব বহু কথা কহিতে লাগিল। গ্রামের কথা, নদীর কথা, সমবয়স্ক বালক- বালিকাদিগের কথা, পিতামাতার কথা, পাড়াপ্রতিবেশীর কথা, তাহাদের গোশালার ধবলী গাভিটির কথা। কমলনয়নও সেসকল কথায় যোগ দিল। পরিশেষে যাদব কহিল, “অনেকদিন তো হইল রে। এইবার গৃহে ফিরিয়া চল। কতদিন আর বিদেশে থাকিবি?”

    দাদার মুখের উপর ‘না’ বলিলে দাদা আহত হইতে পারে। তাই সরাসরি কিছু না বলিয়া কমলনয়ন চুপ করিয়া রহিল। সে ভাবিতেছিল, গৃহ হইতে বাহির হইয়া আসিয়া যে-নূতন জগতের সংবাদ সে পাইয়াছে, পাইতেছে; উনসিয়ায় ফিরিয়া গেলে তাহা আর পাইবে কি? নদী একবার পাহাড় হইতে নামিয়া আসিলে, সেই নদী কি আর উৎসে প্রত্যাবর্তন করে?

    যাদব দেখিল, কমলনয়ন চুপ করিয়া আছে। যাদব ভাবিল, ‘মৌনং সম্মতিলক্ষণম্’–এই চুপ করিয়া থাকাই গৃহে ফিরিবার ইঙ্গিত। যাদব বুঝিল না, মৌন বা বাক্যাভাব অস্বীকৃতির লক্ষণও হইতে পারে। অভাবও যে একটি পদার্থ এবং সেই অভাবেরও যে সুগভীর তাৎপর্য থাকিতে পারে, যাদব অত তলাইয়া ভাবে নাই।

    যাহাই হউক, রাত্রিতে আহারান্তে বিশ্রামের পর যাদব লেখাপড়ার কথা পাড়িল। কহিল, “সম্প্রতি কী পাঠ করিতেছিলি?”

    কমলনয়ন উত্তর দিল, “উহা গঙ্গেশ উপাধ্যায় বিরচিত তত্ত্বচিন্তামণি’ গ্রন্থের উপর আমার আচার্য মথুরানাথ তর্কবাগীশকৃত টীকা— তত্ত্বালোক-রহস্য।”

    যাদব হাসিয়া বলিল, “আমরা তো ইহার নামও জানি না। আমরা এখনও উদয়নের ‘ন্যায়কুসুমাঞ্জলি’ লইয়াই পড়িয়া আছি।”

    কমলনয়ন গম্ভীরভাবে কহিল, “এখানে আসিবার পূর্বে আমিও জানিতাম না। আসলে ন্যায়শাস্ত্রের বিপুল অগ্রগতি হইয়াছে। প্রভূত গবেষণা চলিতেছে। পূর্বেকার কোনো কথাকে এখন অলঙ্ঘ্য ভাবিবার আর উপায় নাই। যুক্তি দ্বারা ধোপে টিকিল ভালো, না হইলে পুরানো মত ফেলিয়া দিয়া নূতন করিয়া চিন্তা করিতে হইবে।”

    “বলিস কী? প্রাচীন গ্রন্থের প্রামাণিকতা আর থাকিবে না?”

    “না, দাদা, থাকিবে না। তুমি দেখিয়া লইও, কালে কালে আরও পরিবর্তন সাধিত হইবে। আজ আমরা কেবল যুক্তিবিচার লইয়া নাড়াচাড়া করিতেছি। কিন্তু কল্য হয়তো যন্ত্রবিদ্যার এরূপ উন্নতি হইবে যে, জড়জগৎ সম্বন্ধে আমাদের চিরাচরিত সিদ্ধান্তগুলিও প্রত্যাখ্যাত হইবে। হয়তো ম্লেচ্ছদেশে এখনই এইরূপ উন্নতি হইতেছে, আমরা জানি না।”

    “তাই বলিয়া কি ঋষিদের মত ভ্রান্ত হইতে পারে? আর ঋষিদের মত ছাড়িয়া আমরা কি যাবনিক মত গ্রহণ করিব?”

    “দাদা, কথাটা কে বলিতেছেন, ইহা সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ নহে। কী বলিতেছেন, তাহাও সময়ে সময়ে গুরুত্বপূর্ণ। ম্লেচ্ছ যবনদিগের বিদ্যা যদি আমাদের ঋষিমুখাগত তত্ত্বের তুলনায় সত্যের অধিকতর সমীপবর্তী হয়, তবে তাহাও গ্রহণ করিতে হইবে। আবার যবনে কহিলেই যে সত্য হইবে, তাহাও নহে। পরীক্ষা করিয়া যাহা টিকিবে, তাহাই গৃহীত হইবে, অন্যথায় ‘বালভাষিত’ বলিয়া উড়াইয়া দিতে হইবে।”

    “এ যে একেবারে নূতন কথা কহিতেছিস! আমি ভালো বুঝিতে পারিতেছি না।”

    “দাদা, একটা কথা বলি, বুঝিয়া দেখ। ন্যায়-মতে আপ্তোপদেশঃ শব্দঃ’ অর্থাৎ ঋষিরা আপ্ত ও সর্বজ্ঞ। তাহা হইলে জ্যোতির্বিদ্যার সামান্য সামান্য তত্ত্বে তাঁহারা এত কেন অজ্ঞানের পরিচয় দিয়াছেন? কেহ বলিতেছেন, পৃথিবী ত্রিকোণ। কেহ-বা বলিতেছেন, বাসুকি নাগের মস্তকের উপর পৃথিবী অবস্থান করিতেছে, আরও কত কী! এসকল কথা, যিনিই বলিয়া থাকুন না কেন, আমি সহজে স্বীকার করিয়া লইতে পারি না। প্রমাণ কই? প্রমাণ দাও; স্বীকার করিব।”

    “তবে কি তুই নাস্তিক হইয়া গিয়াছিস? এত পড়িয়া তোর এই হইল?”

    “না, দাদা। নাস্তিক বা আস্তিক নহি। কারণ, আমি নাস্তিক বা আস্তিক হইলাম, তাহাতে সত্যের কিছু যায় আসে না। সত্য যা, সত্য তাহাই। আমি কোনো দিকেই দ্বার রুদ্ধ করিয়া রাখিতে চাহি না। সকলের মত শুনিতে চাই, বিচার করিতে চাই। পরিশেষে যাহা গ্রহণ করিবার যোগ্য, তাহাই গ্রহণ করিব। পাঠ ও চর্চার ভিতর দিয়া মনের অন্ধকার কাটে। যে-স্থলে নিকষ অন্ধকার ছিল, সেই স্থলে জ্ঞানের স্বচ্ছ আলোক আসিয়া পড়ে। আমি নাস্তিক বা আস্তিক নহি, আমি প্রজ্ঞাপন্থী। জ্ঞান আমাকে নির্ভয়ে প্রশ্ন করিতে শিখাইয়াছে। আর জ্ঞান কোনো স্থবির পদার্থ নহে। উহা সতত চলিয়াছে, সূর্য যেমন সারা দিনমান ধরিয়া চলে, মাস-বর্ষ-মন্বন্তর-মহাযুগ ধরিয়া সূর্য চলিতেছে। তাহার চলার বিরাম নাই।”

    যাদব মুগ্ধ হইয়া অনুজের কথা শুনিতেছিল। এই সেই তাহাদের উনসিয়া গ্রামের ক্ষুদ্র বালক—কমলনয়ন! তাহার সেই বাল্যের খেলার সাথি। কত পথ পার হইয়া, কত অভিজ্ঞতার মণিমুক্তা সঞ্চয় করিয়া সে সম্মুখে নির্ভীকচিত্তে অগ্রসর হইতেছে। সে ক্ষুদ্র বালক আর নাই, এ এখন পরিণত চিন্তক, প্রাগ্রসর নৈয়ায়িক। বলিতেছে, চলাই তাহার ধর্ম! যাদব মনে মনে কত কথাই ভাবিতেছিল।

    কক্ষের নৈঃশব্দ্য ভঙ্গ করিয়া কমলনয়ন কহিয়া উঠিল, “দাদা, আমি বলি কী, তুমি গৃহে না ফিরিয়া এইখানেই কিছুকাল অবস্থান করো। পিতার নিকট যাহা শিখিয়াছ, তাহার পর আরও শিক্ষা করো। নবদ্বীপের ন্যায় জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র এখন ভূভারতে বিরল। আর মথুরানাথ তর্কবাগীশ শ্রেষ্ঠ নৈয়ায়িক। তুমি তাঁহার এই টোলে প্রবেশ করো। উনসিয়ায় ফিরিয়া গিয়া কী করিবে? এখানে কত কী জানিতে পারিবে। মনের কত দুয়ার খুলিয়া যাইবে। জ্ঞানের ভিতরেই সেই আনন্দ, তুচ্ছ সাংসারিকতায় যাহা নাই।”

    কমলনয়নের কথা যাদবের ভালো লাগিতেছিল। মন্দ বলে নাই, মথুরানাথ তর্কবাগীশের নিকট হইতে পাঠ লইলে মন্দ হয় না। কত কিছু অজানা রহিয়া গিয়াছে, কত ভ্রান্ত ধারণা লইয়া হয়তো সে বসিয়া আছে। কমলনয়নের কথা শুনিতে শুনিতে যাদবের মনে হইতে লাগিল, সে যেন রহস্যাবৃত অন্ধকার এক গুহাকক্ষের সম্মুখে দাঁড়াইয়া আছে। ইহার রহস্য তাহাকে গভীরভাবে নিকটে আকর্ষণ করিতে লাগিল।

    কথায় কথায় যাদব অন্য কথা পাড়িল। বলিল, “তুই যে বলিয়াছিলি, শ্রীগৌরাঙ্গের পদানুগ ভক্ত হইবি? তাহার কী হইল?”

    কমলনয়ন যেন অন্তরের কোন্ গভীর প্রকোষ্ঠে তলাইয়া গেল। সেই গোপন প্রকোষ্ঠের তমসার ভিতর যেন একখানি অনাদৃত ধুলামলিন বীণা পড়িয়া আছে। যাদবের প্রশ্ন সেই সংগোপন হৃদয়বীণার তারে নিভৃতে ঝংকার তুলিল। রক্তক্ষরণ হইতেছিল, কিন্তু কমলনয়ন অন্তরের সেই ক্ষতচিহ্ন দাদাকে দেখাইল না। মুখ নামাইয়া লইয়া দীর্ঘশ্বাস গোপন করিয়া সে ধীরে ধীরে বলিল, “আমি এখানে অসিয়া শুনি, তিনি নবদ্বীপ ছাড়িয়া পুরী যাত্রা করিয়াছেন। তাঁহার সঙ্গে আমার দেখা হইল না।”

    তাহার পরই কী একটি প্রশ্ন, কী একটি জিজ্ঞাসা কমলনয়নের মানসসরসীর তলদেশ হইতে ‘উঠি, উঠি’ করিয়া ফুটিয়া উঠিতে চাহিল। প্রথমে সেই জিজ্ঞাসার আকার কমলনয়ন দেখিতে পাইতেছিল না। কিন্তু ক্ষণপরেই তাহার মনে পড়িল। মনে পড়িবামাত্র উদ্‌গ্রীব হইয়া সে যাদবকে প্রশ্ন করিল, “আচ্ছা দাদা! উনসিয়া গ্রাম হইতে আমারই ন্যায় কেহ কি শ্রীগৌরাঙ্গের আশ্রয় লইতে আসিয়াছিল, তুমি জানো?”

    যাদব উত্তর দিল, “না তো!”

    কমলনয়ন আবার জিজ্ঞাসা করিল, “আচ্ছা, আমাদিগের গ্রামে ‘রাজীবলোচন’ নামে কোনো বালক ছিল কি?”

    যাদব বলিল, “রাজীবলোচন? নাঃ, এই নামে তো কেহ ছিল না! কেন, কী হইয়াছে?”

    কমলনয়ন কহিল, “ভালোভাবে মনে করিয়া দেখ তো! আমারই সমবয়স্ক, আমারই ন্যায় উনসিয়া হইতে নবদ্বীপ আসিয়াছিল, শ্রীগৌরাঙ্গের চরণাশ্রয় লইবার নিমিত্ত… তাহার নাম রাজীবলোচন… কাহারও কথা মনে আসিতেছে কি?”

    যাদব ঈষৎ বিরক্ত হইয়া কহিল, “আরে কী বলিতেছিস? উনসিয়া গ্রামের সমস্ত বালকদিগকে আমি যেমন চিনি, তুইও তো তেমনই চিনিস। ‘রাজীবলোচন’ নামে সেখানে কেহ নাই। কী হইয়াছে, বল না!”

    কমলনয়ন কিছুক্ষণ নির্বাক হইয়া থাকিয়া পরিশেষে বলিল, “নাহ, কিছু না!” কিছুক্ষণ পর যাদব ঘুমাইয়া পড়িল। কিন্তু কমলনয়নের চক্ষে ঘুম আসিল না। রাজীবলোচন তবে কে? যে উনসিয়া হইতে নবদ্বীপে শ্রীগৌরাঙ্গ-পদানুগ হইতে আসিয়াছিল? আচ্ছা, ‘রাজীবলোচন’ আর ‘কমলনয়ন’ দুইটা সমার্থক শব্দ, না? এ কী প্রহেলিকা? রাজীবলোচনের সহিত শ্রীগৌরাঙ্গের দেখা হইয়াছে। রাজীবলোচনকে লইয়া তিনি পুরী গিয়াছেন। অথচ, কমলনয়ন তাঁহার দেখা পাইল না। অদ্ভুত! বড়ো অদ্ভুত!!

    কিন্তু এই চিন্তা তাহাকে অধিক কাল অধিকার করিয়া রাখিতে পারিল না। কিছু পরে সেও নিদ্রাতুর হইয়া পড়িল।

    এইরূপে কয়েক মাস কাটিয়া গেল। দিন কি কাহারও জন্য বসিয়া থাকে? যাদবানন্দ টোলে প্রবেশ করিয়াছে। তাহারও মেধা প্রখর, যদিও মথুরানাথ তাহাকে এখনও সাক্ষাৎ পাঠ দিতে আরম্ভ করেন নাই। সে মধ্যম শ্রেণীতে অন্য বিদ্যার্থিদিগের নিকট পড়িতেছে। পাঠে, চর্চায় যাদবের দিনগুলি আনন্দেই কাটিতেছে।

    এদিকে কমলনয়নের পাঠ শেষ হইয়া আসিল। মথুরানাথের নিকট জ্ঞানের, প্রজ্ঞার যত মধু ছিল, কমলনয়ন তাহার সকল মধুই আহরণ করিয়া লইয়াছে।

    একদিন মথুরানাথ নিভৃতে কমলনয়নকে আহ্বান করিলেন। বলিলেন, “মধুসূদন! তোমাকে একটি কথা বলিবার ছিল।”

    কমলনয়ন যুক্তকরে সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে তাকাইয়া রহিল।

    মথুরানাথ বলিলেন, “নব্যন্যায়শাস্ত্র তোমার করতলাধিগত হইয়াছে। আহরণ করিবার এখন আর কিছুই নাই। গবেষণা করিবার প্রবল সম্ভাবনা আছে। তাহা তুমি করিতে পারো। সতত আমার সহায়তা পাইবে। কিন্তু আমরা নৈয়ায়িকগণ দীর্ঘকাল একটি সংকটে পড়িয়া আছি। উহা আমাদের গলার কাঁটা। কেহ সেই সমস্যা আজিও মিটাইতে পারে নাই।”

    কমলনয়ন প্রশ্ন করিল, “কী সেই সমস্যা?”

    “সেই সমস্যা হইল অদ্বৈতবাদ। তুমি জানো, আজ হইতে আট শত বর্ষ পূর্বে আচার্য শংকর উহার প্রতিষ্ঠা করিয়া গিয়াছেন। তাঁহার যুক্তিপ্রণালী অতি দুরূহ। তদুপরি, আমরা নৈয়ায়িকরা ওই যুক্তিপ্রণালী ভালো ধরিতে পারি না। এই অদ্বৈত বেদান্ত আমাদের প্রবল প্রতিপক্ষ; আমাদের সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধ। তুমি তো জানো, নৈয়ায়িকরা দ্বৈতবাদী। আমাদিগের মতে জীব, জগৎ, ঈশ্বর পরস্পর ভিন্ন। কিন্তু অদ্বৈতমতে এই জগৎ কল্পিত বা মিথ্যা। ঈশ্বরের বিগ্রহ বা তাঁহার রূপচিত্তন কিংবা উপাসনা—সেও মায়িক অর্থাৎ কল্পিত। একমাত্র নির্বিশেষ ব্রহ্মই সত্য। আর জীব ব্রহ্ম একই; অভেদ। সর্বথা সর্বপ্রকারে এই অদ্বৈতমত আমাদিগের দ্বৈতভাবাত্মক উপাসনার প্রতিকূলতা করিয়াছে।”

    কমলনয়ন অত্যন্ত উত্তেজিত হইয়া কহিল, “কেহ কি ইহা খণ্ডন করিবার চেষ্টা করেন নাই?”

    “করিয়াছেন। দ্বৈতবাদী মধ্বাচার্য, বিশিষ্টাদ্বৈতবাদী রামানুজাচার্য, ভেদাভেদবাদী ভাস্করাচার্য এবং তাঁহাদের শিষ্য-প্রশিষ্যগণ যুগে যুগে এই মতের বিরোধিতা করিয়াছেন। কিন্তু সেসকল বাধার প্রাচীর বিদীর্ণ করিয়া অদ্বৈত বেদান্তের দার্শনিকগণ পরাক্রান্ত মহীরূহের ন্যায় বারংবার উঠিয়া দাঁড়াইয়াছেন।”

    “আচ্ছা, তাহা হইলে শ্রীগৌরাঙ্গ অর্থাৎ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্তিবাদেরও তো ইহা ঘোর বিরোধী!”

    “হাঁ, ঠিকই ধরিয়াছ। যদিও শ্রীমহাপ্রভু স্বয়ং কোনো গ্রন্থ রচনা করেন নাই, কিন্তু তাঁহার শিষ্য-প্রশিষ্যগণ তাঁহার ভাব অবলম্বন করিয়া ভেদাভেদবাদকে পরিপুষ্ট করিতেছেন। অদ্বৈতবাদ মহাপ্রভুর ভক্তদিগের সেই মতেরও বিরোধিতা করে।”

    কমলনয়নের মুখমণ্ডল তেজে ও প্রেমে আরক্তিম হইয়া উঠিল। কী? মহাপ্রভুর মতেরও বিরোধিতা করে অদ্বৈতবাদ? তাহার মনে হইল, সে মহাপ্রভুর দর্শন পায় নাই, সেবা করিবার সুযোগ পায় নাই। এতদিনে সেই সেবার সুযোগ মিলিল। যাহারা মহাপ্রভুর বিরোধিতা করিতেছে, সে তাহাদের খণ্ডন করিয়া চূর্ণবিচূর্ণ করিয়া দিবে। কমলনয়ন সাগ্রহে প্রশ্ন করিল, “আমি কি অদ্বৈতবাদ খণ্ডন করিবার চেষ্টা করিতে পারি না?”

    মথুরানাথ বিষণ্ণ হাসিয়া বলিলেন, “কী করিয়া করিবে? তুমি তো অদ্বৈতবাদ জানো না। তুমি উহা শিক্ষা করিলে কবে? যে-মত তুমি জানো না, শিক্ষা করো নাই, তাহা কাটিয়া ফেলিবে কীরূপে? শত্রুকে পরাস্ত করিতে হইলে শত্রুর শক্তি কত, তাহা তো পূর্বে জানিতে হইবে।”

    নবোদ্যমে বলীয়ান হইয়া কমলনয়ন কহিল, “আমি যদি উহা শিক্ষা করি? কে আমাকে অদ্বৈতবাদ শিক্ষা দিতে পারে?”

    মথুরানাথ কহিলেন, “নবদ্বীপে কেহ নহে। অদ্বৈতবাদের চর্চা এখানে হয় না। শিখিতে হইলে তোমাকে বারাণসী কাশী যাইতে হইবে। সেখানে রামতীর্থ-নামক এক মহা ধুরন্ধর পণ্ডিত সন্ন্যাসী আছেন। তাঁহার নিকট হইতে অদ্বৈত বেদান্তমত ভালোভাবে শিক্ষা করিতে পারো। কিন্তু…”

    কমলনয়ন অধীর হইয়া কহিল, “কিন্তু?”

    মথুরানাথ উত্তর দিলেন, “কিন্তু তোমাকে রামতীর্থের নিকট তোমার অভিপ্রায় গোপন করিতে হইবে। যদি তিনি একবার বুঝিতে পারেন, তুমি তাঁহাদেরই মত খণ্ডন করিবার জন্য তাঁহারই নিকট শিক্ষালাভ করিতে গিয়াছ, তাহা হইলে তিনি তোমাকে আর উহা শিক্ষা দিবেন না।”

    “অর্থাৎ, আমাকে পরিচয় গোপন করিতে হইবে।”

    “হাঁ। তুমি যে নৈয়ায়িক, কিংবা তোমার যে দ্বৈতবাদের প্রতি অনুরাগ, ইহা রামতীর্থের সম্মুখে কখনোই প্রকাশ হইতে দিবে না। কহিবে, সামান্য ব্যাকরণচর্চা করিয়াছ। এক্ষণে অদ্বৈতবাদ শিক্ষা করিতে চাও, ইত্যাদি।”

    “বেশ, তাহাই করিব। আমি কাশী যাইব। রামতীর্থের নিকট অদ্বৈতবাদ শিক্ষা করিব। আমি যে দ্বৈতবাদী, ইহা তাঁহাকে বুঝিতে দিব না। অদ্বৈতবাদ শিক্ষা করিয়া লইয়া তাহার পর প্রবল যুক্তি সহায়ে ওই অদ্বৈতবাদ আমি খণ্ডন করিব। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের ভক্তিবাদের জয়ধ্বজা আকাশে তুলিব।”

    মথুরানাথ রহস্যপূর্ণ হাস্য করিয়া বলিলেন, “বেশ। তবে প্রস্তুত হও। অসমাপ্ত কার্য যাহা আছে, কয় দিনে সম্পন্ন করিয়া লও। তাহার পর শ্রীহরি সহায় করিয়া কাশীযাত্রা করো। আমার আশীর্বাদ তোমার চলিবার পথে সতত বর্ষিত হইবে।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগস্ট আবছায়া – মাসরুর আরেফিন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026
    Our Picks

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026

    আগস্ট আবছায়া – মাসরুর আরেফিন

    July 28, 2026

    খেলারাম খেলে যা – সৈয়দ শামসুল হক

    July 28, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }