Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 9, 2026

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    সরদার ফজলুল করিম এক পাতা গল্প669 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১২. মেয়ে এবং পুরুষের সমতা

    অধ্যায় : ১২ [৪৪৯-৪৫৭]

    মেয়ে এবং পুরুষের সমতা

    রিপাবলিকের প্রধান বিষয় যদি ন্যায়ের অন্বেষণ এবং ন্যায়ের সংজ্ঞাদান হয় তা হলে সে কার্য সমাধা হয়েছে বলা চলে। সক্রেটিস রাষ্ট্রের মধ্যে ন্যায় কী তা নির্ধারণ করেছেন, তার সংজ্ঞা দিয়েছেন। রাষ্ট্রের অনুরূপ, ব্যক্তির মধ্যে ন্যায়ের উপাদান বলতে কী বোঝায় তাও তিনি বলেছেন। মূল আলোচনার অবশিষ্ট থাকে, এই ন্যায়ের ব্যতিক্রমে ব্যক্তির দেহের মতো রাষ্ট্র কীরূপে তার সঙ্গতি হারিয়ে নানাপ্রকার ত্রুটিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্ম দেয় তা দৃষ্টান্তসহকারে দেখানো, আর্দশ রাষ্ট্রের মানদণ্ডে পরিমাপ করে কোন্ প্রকার বাস্তব রাষ্ট্র আদর্শ রাষ্ট্র থেকে কতখানি বিচ্যুত তা প্রকাশ করা। এ ছাড়া ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্র এবং ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিই যে সুখী, অন্যায় রাষ্ট্র কিংবা ব্যক্তি নয় তাও এই পর্যায়ে প্রমাণ করা। কিন্তু এই মুহূর্তে সক্রেটিস যুক্তির সেই পর্বে যেতে চাইলেও তাঁর সঙ্গীগণ তাঁকে বাধা দেন। তাঁদের দাবি ‘মেয়েরা বন্ধুজনদের যৌথ সম্পত্তি’ [৪২৪ দ্রঃ] বলে সক্রেটিস পূর্বে যে-মন্তব্য করেছিলেন, তা তাঁকে ব্যাখ্যা করতে হবে।

    তাই মূল আলোচনা থেকে সরে যেয়ে পার্শ্বীয় আলোচনা হিসাবে আমরা পঞ্চম, ষষ্ঠ এবং সপ্তম পুস্তকে পরিবার ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিলোপের এবং তার উৎকৃষ্টতা বা অপকৃষ্টতা সম্পর্কে আলোচনা দেখতে পাই। এই আলোচনার দুটি পর্যায় : ১. রাষ্ট্রে মেয়েদের দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত পরিবারের বিলোপ। ২. ইতিপূর্বে অভিভাবকদের শাসক এবং সহায়ক বা সৈন্যবাহিনীতে বিভক্ত করা হয়েছে। এবার অভিভাবকদের গুণ এবং তাদের শিক্ষিত করার প্রয়োজনীয় শিক্ষারও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

    এখানে মেয়েদের বৈশিষ্ট্য এবং ব্যক্তিগত পরিবারের বিলোপের ক্ষেত্রে এর মূলনীতি এবং এর বিস্তারিত বিবরণের মধ্যে পার্থক্য করা প্রয়োজন।

    সমসাময়িক এথেন্সের সামাজিক প্রথা ও বিশ্বাসের পটভূমিতে প্লেটোর অভিমত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। মেয়েদেরও পুরুষের মতো সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে অংশগ্রহণের সমান অধিকার থাকা উচিত—এ-প্রশ্ন গ্রীসের সমাজজীবনে দেখা দিয়েছিল। কিন্তু তখনও সাধারণভাবে মেয়েরা গুণের এবং ক্ষমতার ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নিকৃষ্ট, এই বিশ্বাসই প্রবল। তাই সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মেয়েদের তখনও প্রতিষ্ঠা ঘটেনি। এই বিশ্বাসের আভাস এরিষ্টটলের মধ্যেও পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে সক্রেটিস যখন বলেন, সন্তানধারণের ক্ষেত্র ব্যতীত গুণের প্রশ্নে মেয়ে এবং পুরুষের মধ্যে তিনি অপর কোনো পার্থক্য দেখেন না তখন সে-অভিমত একেবারে অভিনব না হলেও প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাসের সে বিরোধী এবং তার চেয়ে অগ্রসর। কিন্তু মেয়েদের সম্পর্কে এই অভিমত প্রকাশের পূর্বে সক্রেটিসের দ্বিধার মধ্যে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রভাবের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে, একথা বলা চলে। তাই মেয়েরা পুরুষের সঙ্গে শরীরচর্চায় নগ্নদেহে অংশগ্রহণ করবে—এ-প্রস্তাব প্রকাশে সক্রেটিস বিশেষ শঙ্কিত। তাঁর এই শঙ্কা ভিত্তিহীন নয়। কারণ, একমাত্র স্পার্টা ব্যতীত মেয়েদের এরূপ রাষ্ট্রীয় ভূমিকা অপর কোনো গ্রীসীয় রাষ্ট্রে স্বীকৃত ছিল না। কিন্তু মেয়েদের সম্পর্কে এরূপ প্রস্তাবের চেয়ে সক্রেটিসের মূলনীতি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই নীতির একটি হচ্ছে : রাষ্ট্র এবং ব্যক্তির মধ্যে রাষ্ট্রের স্বার্থই প্রধান। দ্বিতীয়টি হচ্ছে : রাষ্ট্রের ঐক্য এবং শক্তির স্বার্থে পুরুষের সঙ্গে মেয়েরাও সমান এবং একই দায়িত্ব বহন করবে। কেবলমাত্র দৈহিক গঠনের কারণে যে-কাজে অধিক পরিশ্রম আবশ্যক সে-কাজের দায়িত্ব পুরুষকে দেওয়া হবে। মেয়েদের হালকা কাজের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এবং পরিবার ও সন্তানের উপর অভিভাবক (শাসক এবং সৈনিক)-এর যৌথ স্বামিত্ব প্রতিষ্ঠা করা হবে।

    *

    আমরা যেরূপ বর্ণনা করেছি সেরূপই হচ্ছে একটি উত্তম নগর বা রাষ্ট্র। সত্যিকারের উত্তম মানুষের রূপও এমনই। আমাদের একথা যদি সত্য হয় তা হলে এর বিপরীত যা তা মিথ্যা হবে। আর যা মিথ্যা বা অন্যায় তা কেবল রাষ্ট্রের বিন্যাসকেই বিনষ্ট করে না, সে ব্যক্তির আত্মার যে-শৃঙ্খলা বা বিন্যাস তাকেও বিনষ্ট করে। এই বিনাশ বা বিকারের চারটি রূপ আমরা দেখতে পাই।

    সে-রূপগুলি কী, সক্রেটিস?

    এই বিকারের চারটি রূপ কেমন করে একটির পরে অপরটি উদ্ভূত হয় সেকথাটি আমি বলতে যাচ্ছিলাম। এমন সময়ে পলিমারকাসের হাবভাবটি আমার নজরে এল। পলিমারকাস এ্যাডিম্যান্টাস থেকে একটু দূরে উপবিষ্ট ছিলেন। আমি দেখলাম, তিনি এবার এ্যাডিম্যান্টাসের কানে ফিসফিস করে কী যেন বলছেন। তিনি হাত বাড়িয়ে এ্যাডিম্যান্টাসের গাত্রাবরণের ঊর্ধ্বভাগ আকর্ষণ করে তাঁকে তাঁর নিকটে টেনে নিলেন এবং তাঁর কানের কাছে ঝুঁকে কিছু বললেন, তাঁর সব কথা আমি শুনতে পেলাম না, কিন্তু কয়েকটি শব্দ তবু আমার কানে এল। পরিমারকাস বলছেন : কী হে, সক্রোটিসকে আমরা এমনিভাবে ছেড়ে দেব? তুমি কী বল?

    এ্যাডিম্যান্টাস শব্দ করে বললেন : নিশ্চয়ই না। তাঁকে আমরা ছেড়ে দিতে পারিনে।

    এবার আমি বলে উঠলাম : কী হে এ্যাডিম্যান্টাস, কাকে তুমি ছেড়ে দেবে না?

    এ্যাডিম্যান্টাস বললেন : তোমাকে।

    আমি বললাম : কেন, আমাকেই তোমরা এরূপ বিশেষ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করলে কেন?

    এ্যাডিম্যান্টাস বললেন : কারণ তুমি আলস্য দেখাচ্ছ! তুমি আমাদের ফাঁকি দিতে চাচ্ছ, সক্রেটিস। এ-কাহিনীর যেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, তুমি সেই পুরো অধ্যায়টি এড়িয়ে যেতে চাচ্ছ। তুমি মনে করছ, তোমার এই পাশ কাটিয়ে যাওয়াকে আমরা ধরতে পারব না। তুমি বলেছিলে : স্ত্রী এবং সন্তানসন্ততির ওপর বন্ধুজন সকলের সমষ্টিগত অধিকার। কারণ যারা বন্ধু সকল দ্রব্যেই তাদের সমান অধিকার।* তুমি কথাটি বলেই খালাস। যেন সকলের কাছেই কথাটি স্বতঃসিদ্ধ।

    [* ৪২৪ দ্রষ্টব্য। সংলাপের উক্ত স্থানে সক্রেটিস প্রথমবারের মতো সাম্যবাদী নীতির উল্লেখ করেন।]

    আমি বললাম : কেন এ্যাডিম্যান্টাস, আমার কথাটি কি ঠিক নয়?

    এ্যাডিম্যান্টাস বললেন : হ্যাঁ সক্রেটিস, তোমার কথাটি ঠিক। কিন্তু অন্যত্র যেরূপ, বর্তমান ক্ষেত্রেও তেমনি ‘ঠিকের’ ব্যাখ্যা আবশ্যক। কারণ ‘যৌথ স্বত্ব’-র প্রকারভেদ থাকতে পারে। তুমি আমাদের দয়া করে বলো ‘যৌথ স্বত্ব বা মালিকানা’ বলতে তুমি কী বোঝাতে চেয়েছে। কারণ আমরা বহুক্ষণ ধরে আশা করছি, আমাদের আদর্শ রাষ্ট্রের নাগরিকদের পারিবারিক জীবন সম্পর্কে তুমি কিছু বলবে : কেমন করে তারা সন্তান উৎপাদন করবে, জন্মের পরে কেমন করে সন্তানদের প্রতিপালন করা হবে এবং বিশেষ করে নারী এবং সন্তানের উপর যৌথ স্বামিত্বের প্রকৃতি কী—এ-সম্পর্কে তোমার বক্তব্য আমরা শুনতে চাই। কারণ, আমরা মনে করি, এ-বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ। এ-বিষয়গুলির সঠিক কিংবা বেঠিক ব্যবস্থাপনার পরিফল আমাদের রাষ্ট্রের মঙ্গলের জন্য আবশ্যই গভীর হতে বাধ্য। কিন্তু এ-প্রশ্নের জবাব আমরা এখনও পাইনি। অথচ তুমি ভিন্নতর রাষ্ট্রের আলোচনা শুরু করতে চাচ্ছ। এ-কারণেই আমরা স্থির করেছি, এই সমস্যাগুলির সমাধানের পূর্বে আমরা তোমাকে ছাড়ছিনে। আর এ ভালোই হয়েছে, আমাদের সিদ্ধান্তের কথাটি তুমি শুনে ফেলেছ।

    থ্র্যাসিমেকাস বললেন : আর কথা বাড়িয়ে লাভ কী? সক্রেটিস, তুমি ধরে নিতে পার, এ-ব্যাপারে আমরা সবাই একমত।

    আমি বললাম : তোমরা জান না আমাকে এরূপ আক্রমণ করে কোন্ বিপদের দ্বার তোমরা উম্মুক্ত করে দিচ্ছ! তোমরা জান না, রাষ্ট্রের কী সাংঘাতিক সমস্যার কথা তোমরা খুঁচিয়ে তুলছ! কী আশ্চর্য! আমি যখন ভাবছিলাম, প্রশ্নটিকে এড়ানো গেছে এবং আমি তখন যা বলেছিলাম তাকে তোমরা বিনা প্রশ্নে মেনে নিয়েছ দেখে আমি যখন উৎফুল্ল বোধ করছিলাম তখনই তোমরা আমাকে আবার সেই মূল থেকে শুরু করতে বলছ! অথচ এর অর্থ কী তোমরা জান না। তোমরা জান না, এই প্রশ্ন করে সমস্যার কোন ভিমরুলের চাকে তোমরা প্রস্তর নিক্ষেপ করছ। এই সংকটেরই আমি আশঙ্কা করছিলাম। আর এ-কারণেই আমি একে এড়াতে চেয়েছিলাম।

    থ্র্যাসিমেকাস বললেন : সক্রেটিস, আমরা এখানে কেন এসেছি? সে কি স্বর্ণের সন্ধানে, না আলোচনা শ্রবণের জন্য?

    আমি বললাম : তা বটে। কিন্তু আলোচনারও একটা সীমা থাকা আবশ্যক। গ্লকন বললেন : ঠিকই সক্রেটিস। কিন্তু সে-সীমা হচ্ছে জীবনের সীমা। জ্ঞানী যাঁরা তাঁরা এমন আলোচনার সীমা কেবল জীবনের পরিধি দ্বারাই নির্দিষ্ট করেন। সে যাহাকে, আমাদের নিয়ে তুমি উদ্বিগ্ন হয়ো না। তুমি যেমন প্রয়োজন বোধ কর তেমনভাবে অগ্রসর হয়ো। প্রশ্ন হচ্ছে : অভিভাবক বা শাসকদের জন্য কোন্ ধরনের যৌথ পরিবার অর্থাৎ যৌথ স্ত্রী এবং সন্তানের কথা চিন্তা করছ? তা ছাড়া জন্ম এবং শিক্ষার মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ব্যবস্থাটিও-বা কীরকম হবে। এই বিষয়গুলি তুমি ব্যাখ্যা করো, সক্রেটিস ।

    আমি বললাম : প্রিয় বন্ধু, তোমার প্রশ্নটি সহজ কিন্তু এর জবাবটি সহজ নয়। আমরা অপর যে-সিদ্ধান্ত করেছি তার চেয়ে এক্ষেত্রে সন্দেহের অবকাশ অধিক। কারণ এক্ষেত্রে যা বলা হয়েছে তার সম্ভাব্যতা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করা চলে। আবার অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, পরিকল্পনাটি সম্ভব হলেও, এটি যে সর্বোত্তম তার নিশ্চয়তা কী? এ-প্রশ্নও তোলা চলে। এ-কারণেই বিষয়টির আলোচনায় আমার দ্বিধা ছিল, পাছে সমাধানের যে-আশা আমরা পোষণ করছি তা পরিণামে স্বপ্নে পর্যবসিত হয়ে যায়।

    তুমি ভীত হয়ো না, সক্রেটিস। তোমার শ্রোতৃবৃন্দ নিশ্চয়ই তোমার উপর নির্দয় হবে না। আমরা অবিশ্বাসী কিংবা তোমার বিরুদ্ধবাদী নই।

    আমি বললাম : প্রিয়বর! আমি তোমার কথা বুঝতে পারছি। তুমি আমাকে উৎসাহিত করতে চাচ্ছ।

    হ্যাঁ, আমি তোমাকে অভয় দিচ্ছি।

    আমি বলব, গ্লকন তুমি বরঞ্চ তার বিপরীত কাজটিই করে চলেছ। তোমার অভয়বাণীতে আমি যথার্থই উৎসাহিত হতাম যদি আমি বিশ্বাস করতাম, আমি যে-সমস্যার আলোচনা করছি, তার সমাধান আমি জানি। যারা জ্ঞানী এবং যারা তোমাকে ভালোবাসে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে নিজের সত্যোপলব্ধির বিষয় প্রকাশ করাতে ভয়ের কিছু নেই, তা আমি জানি। কিন্তু যে-সমস্যায় আমি নিজেই দ্বিধাসঙ্কুল সেখানে সে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া বিপজ্জনক। বিপদ এই নয় যে, আমি উপহসিত হব। সেরূপ ভয় হবে শিশুর ভয়। আমার ভয় হচ্ছে, সত্যের দৃঢ় পদস্থাপনার আবশ্যক যেখানে সবচেয়ে বেশি সেখানে হয়তো আমি সত্যভ্রষ্ট হয়ে পদস্খলিত হয়ে পড়ব। এবং সে-পতনে আমার সুহৃদবর্গেরও পতন ঘটবে। আমার প্রার্থনা, যে-বাণী আমি উচ্চারণ করতে যাচ্ছি অদৃষ্টদেব যেন না তাকে আমার জন্য সত্য করে তোলেন। কারণ আমি যথার্থই বিশ্বাস করি সুন্দর, উত্তম এবং ন্যায়ের প্রশ্নে সেচ্ছাপ্রতারণার চেয়ে অনিচ্ছুক নরহত্যা লঘু অপরাধ। এবং এরূপ অপরাধের ঝুঁকি বরঞ্চ আমি শত্রুর সঙ্গে নেব, তবু আমার বন্ধুজনকে আমি প্রতারণা করতে চাইব না। কাজেই তোমার উৎসাহে আমি অভয়বোধ করতে পারছিনে গ্লকন।

    গ্লকন হেসে জবাব দিলেন : সক্রেটিস, বেশ, তোমার যুক্তি যদি আমাদের কোনো অনিষ্টসাধন করে তা হলে তোমাকে আমরা নরহত্যার দায়ে দোষী করব না এবং তোমাকে প্রতারক বলেও আখ্যায়িত করব না—এ-প্রতিশ্রুতি আমরা পূর্ব থেকেই তোমাকে দিয়ে রাখছি। এবার তুমি নির্ভয়ে কথা বলো।

    আমি বললাম : কিন্তু আইন বলে যে, অভিযুক্ত আসামি যদি বেকসুর মুক্তি পায় তা হলে তার চরিত্রও নির্দোষ বলে প্রমাণিত হয়। বর্তমান যুক্তির ক্ষেত্রে আইনের এই বিধানটি সমভাবেই প্রযোজ্য।

    তা হলে তুমি চিন্তা করছ কেন?

    আমি বললাম : ঠিক আছে। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, আমার কিছু পিছিয়ে যাওয়া আবশ্যক, এবং পিছিয়ে যেয়ে যে-কথাটি আমার উপযুক্ত স্থানে বলা সঙ্গত ছিল সে কথাটি এখন আমাকে বলতে হবে। আমি বলব, পুরুষের ভূমিকা শেষ। তারা তাদের ভূমিকা পালন করেছে। এখন আসে মেয়েদের কথা। এবার আমি মেয়েদের কথা বলব। বস্তুত মেয়েদের কথা বলার জন্যেই তোমরা আমাকে অনুরোধ করেছ। এখানে বক্তব্য হচ্ছে : আমাদের নাগরিকগণ যেরূপে শিক্ষিত হয়েছে তাতে মেয়েদের উপর এবং সন্তানের উপর মালিকানার প্রশ্নটিও আমরা আমাদের গৃহীত নীতির ভিত্তিতে স্থির করতে পারি। আমরা গোড়াতেই বলেছি, পুরুষরা হবে অভিভাবক বা শাসক এবং মেষপালের রক্ষক।

    হ্যাঁ, আমরা এ-নীতিই স্থির করেছিলাম।

    তা হলে মেয়েদের ব্যাপারটি কীরূপ হবে? ধরো, আমরা মেয়েদেরও পুরুষদের ন্যায় শিক্ষিত করে তুললাম, পুরুষের তুল্য নিয়মকানুন দিয়েই তারা পরিচালিত হল। তা হলেই আমরা বুঝতে পারব এর ফল আমাদের উদ্দেশ্যের পরিপূরক কিংবা প্রতিবন্ধক।

    তুমি কী বলছ, সক্রেটিস?

    আমার কথাটিকে বরঞ্চ একটি প্রশ্নের আকারে আবার বলছি : আমাদের শিকারি এবং প্রহরী-কুকুর সম্পর্কে আমরা কী করি? আমার কি তাদের মর্দ এবং মাদি কুকুর হিসাবে ভাগ করি? এরূপ জাতিভেদে তাদের কাজের কি কোনো পার্থক্য হয়? শিকার কিবা প্রহরার দায়িত্ব কি তারা সমভাবে পালন করে? না আমরা মেষপাল রক্ষার দায়িত্ব কেবলমাত্র মর্দ কুকুরের উপর ন্যস্ত করি এবং মনে করি মাদি কুকুরের দায়িত্ব কেবল কুকুর শাবক গর্ভে ধারণ করা এবং জন্মের পরে তাদের স্তন্যদান করা?

    গ্লকন বললেন : না, দায়িত্বের কোনো পার্থক্য থাকে না। তাদের উভয়ের দায়িত্বই এক। মর্দ এবং মাদি কুকুরের একমাত্র পার্থক্য এই যে, মর্দ কুকুর মাদি কুকুরের চেয়ে অধিক শক্তিশালী।

    কিন্তু এদের যদি তুমি সমানভাবে প্রতিপালন না কর, সমান খাদ্যে তুমি যদি তাদের ভুক্ত না রাখ তা হলে সকল রকম পশুকে তুমি কি একই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পার?

    না সক্রেটিস, তা সম্ভব নয়।

    ঠিক অনুরূপভাবে পুরুষের ন্যায় মেয়েদেরও যদি একই দায়িত্ব পালন করতে হয় তা হলে তাদের জন্য আমাদের একই প্রতিপালন এবং শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। ঠিক নয় কি?

    হ্যাঁ, একথা ঠিক।

    পুরুষদের জন্য আমরা সঙ্গীত এবং শরীরচর্চার ব্যবস্থা করেছিলাম। নয় কি?

    হ্যাঁ।

    তা হলে মেয়েদেরও সঙ্গীতে এবং শরীরচর্চায় শিক্ষিত করতে হবে এবং পুরুষদের ন্যায় তাদেরও রণকৌশল আয়ত্ত করতে হবে। এ-বিষয়ে তুমি কী বল?

    গ্লকন বললেন : আমার তো মনে হয়, এই সিদ্ধান্তই আমাদের গ্রহণ করতে হয়।

    আমি বললাম : তবে আমার মনে হয়, আমাদের এমন কতকগুলি অসাধারণ প্রস্তাব আছে যেগুলি কার্যকর করতে গেলে তাদের অদ্ভুত বলে বোধ হতে পারে।

    হ্যাঁ, এমন বোধ হওয়া সম্ভব।

    এবং সবচেয়ে অদ্ভুত লাগবে পুরুষদের সঙ্গে নগ্নভাবে বয়স্ক মেয়েদেরও কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ’। এ-দৃশ্য অবশ্যই মনোহর হবে না। বলি-মুখ উৎসাহী বৃদ্ধগণ যখন ব্যায়ামাগারে শরীরচর্চার জন্য আসতে থাকে তখন সে-দৃশ্যও মনোহর নয়।

    গ্লকন বললেন : ঠিকই বলেছ সক্রেটিস। প্রচলিত ধারণার ভিত্তিতে এই প্রস্তাবটি অদ্ভুত বলেই বোধ হবে।

    আমি বললাম : কিন্তু আমরা যখন আমাদের মনের কথা প্রকাশ করে বলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি তখন আমাদের প্রস্তাবের নূতনত্বে অপরের পরিহাসকে ভয় পেলে চলবে না। মেয়েরা সঙ্গীত এবং শরীরচর্চায় কীরূপ দক্ষতা দেখাবে কিংবা কেমন করে তারা অস্ত্রধারণ করবে এবং অশ্বপৃষ্ঠে আরোহণ করে

    ১. গ্রীকগণ নগ্নদেহে শরীরচর্চা এবং কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করত। মেয়েদের জন্য একই প্রকার শরীরচর্চার প্রস্তাব থেকে তাদের নগ্নভাবে শরীরচর্চা ও কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণের কথা স্বাভাবিকভাবেই আসে [দ্রঃ লী’র অনুবাদ পৃঃ ২০৫]

    অশ্বচালনা করবে—এসবের উপর অপরের বিদ্রূপের প্রতি আমাদের দৃপাত করলে চলবে না।

    তোমার কথা খুবই সত্য সক্রেটিস।

    যা-ই হোক, আমরা শুরু যখন করেছি তখন কঠিন বিধানগুলিও আমাদের প্রণয়ন করতে হবে। পরিহাসকারীদের আমরা বলব, তাঁরা যেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেন। আমরা তাঁদের স্মরণ করিয়ে দেব, অধিক দিন পূর্বের কথা নয় যখন বর্বরদের ন্যায় গ্রীসীয়গণও পুরুষদের নগ্ন দৃশ্যকেও অদ্ভুত এবং অন্যায় বলে বিবেচনা করত। কিন্তু পরবর্তীকালে ক্রীটবাসীগণ এবং স্পার্টাবাসীগণ নগ্নদেহে শরীরচর্চার প্রথাটি যখন প্রবর্তন করল তখন পরিহাসকারীদের পরিহাসের বস্তুর কি কোনো অভাব ঘটেছিল?

    তোমার কথা নিঃসন্দেহে সত্য, সক্রেটিস।

    কিন্তু অভিজ্ঞতা যখন প্রমাণ করল যে, শরীরচর্চায় দেহের সর্ব অঙ্গ আবৃত করার চেয়ে অনাবৃত রাখা উত্তম বই অধম নয়, তখন বাহ্যিক দৃষ্টিতে যা অদ্ভুত বলে বোধ হয়েছিল যুক্তির দৃষ্টিতে তা সঙ্গত বলে বোধ হল। শুধু তা-ই নয়, আমরা বলব, যে-মানুষ পাপ এবং অন্যায়ের বদলে অপর বস্তুর উপর তার পরিহাসের ফলাকে উদ্যত করে, যে উত্তম ব্যতীত অপর কোনো মানদণ্ডে সুন্দরকে পরিমাপের চেষ্টা করে সে পরিণামে মূর্খ বলেই প্রতিপন্ন হয়।

    খুবই সত্য কথা সক্রেটিস।

    তা হলে, প্রশ্নটি আমরা পরিহাস করেই করে থাকি কিংবা গাম্ভীর্যের সঙ্গে করে থাকি, এসো আমরা মেয়েদের প্রকৃতির বিষয়টি সম্যকভাবে বোঝার চেষ্টা করি। প্রশ্ন হচ্ছে : মেয়েরা পুরুষদের সঙ্গে সকল কাজই কি সমভাবে সম্পাদন করার ক্ষমতা রাখে, না পুরুষদের কাজের অংশমাত্রকে তারা সম্পাদন করতে পারে? রণকৌশল আয়ত্ত করতে পারে কিংবা এ-কৌশল তাদের সঙ্গে আয়ত্ত করতে তারা অক্ষম? এই প্রশ্ন দিয়েই আমরা শুরু করতে পারি। এ থেকেই হয়তো আমরা সর্বাধিক ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সক্ষম হব?

    হ্যাঁ, এই প্রশ্ন নিয়ে অগ্রসর হওয়াই উত্তম হবে।

    কিন্তু আমরা কোন্ পক্ষের যুক্তিকে প্রথম প্রকাশ করব? আমাদের প্রস্তাবের বিরুদ্ধ যুক্তিকেই প্রথমে বিবেচনা করা সঙ্গত। এতে আমাদের প্রতিপক্ষ আর অসমর্থিত থাকবে না।

    হ্যাঁ, এই পদ্ধতিতেই অগ্রসর হয়ো, সক্রেটিস।

    আমাদের বিরুদ্ধবাদীদের যুক্তি তাদের মুখের ভাষণেই শোনা যাক। তারা নিশ্চয়ই বলবে : ‘সক্রটিস এবং গ্লকন! তোমাদের যুক্তিখণ্ডনের জন্য কোনো প্রতিপক্ষের আবশ্যকতা নেই। কারণ, তোমাদের রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার গোড়াতে তোমরা নিজেরাই স্থির করেছিলে—প্রত্যেকে তার গুণ অনুযায়ী একটিমাত্র কাজই সম্পাদন করবে।’ আমাদের প্রতিবাদীর এ কথায় আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হয়, আমরা এরূপ নীতিই রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার গোড়াতে স্থির করেছিলাম। এবার প্রতিবাদী বলবে : ‘তা-ই যদি সত্য হয়, তা হলে মেয়েদের প্রকৃতি কি পুরুষদের প্রকৃতি থেকে বিশেষভাবেই ভিন্ন নয়?’ ‘হ্যাঁ, তারা ভিন্ন।’ এবার পালটা প্রশ্ন হবে : ‘তা হলে তাদের নিজ নিজ প্রকৃতি অনুযায়ী তাদের আপন দায়িত্ব কি ভিন্ন প্রকারের হবে না?’ আমাদের বলতে হবে : ‘অবশ্যই তা ভিন্ন হবে।’ তখন ওরা বলবে : ‘পুরুষ এবং মেয়েদের প্রকৃতি যখন বিশেষভাবে ভিন্ন ধরনের তখন তাদের উভয়ের জন্য একই কর্মের বিধান দ্বারা তোমরা কী গুরুতর অসঙ্গতির সৃষ্টি করছ না?’—গ্লকন, এ-সমস্ত প্রতিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের আত্মরক্ষামূলক জবাব কি হবে?

    এমন আকস্মিক প্রশ্নের জবাব দেওয়া সহজ নয়। তবু, সক্রেটিস, আমরা তোমাকে অনুরোধ করছি, তুমি আমাদের পক্ষের একটি জবাব তৈরি করো।

    প্লকন, প্রতিপক্ষের যুক্তি আরও আছে। এই সমস্ত প্রতিবাদের বিষয়ে আমি পূর্বেই চিন্তা করেছি। এই সমস্ত কথা চিন্তা করে আমি ভীত হয়েছি। এবং স্ত্রী ও সন্তানদের উপর অধিকারের প্রশ্নটি নিয়ে আলোচনা করতে দ্বিধা বোধ করেছি।

    গ্লকন বললেন : জিউসদেব জানেন, এ-সমস্যার সমাধান সহজ নয়।

    আমি বললাম : সে কথা সত্যি। কিন্তু কেউ যদি পানিতে একবার পড়ে যায়, সে ডোবাই হোক কিংবা সমুদ্র, তা হলে তাকে সাঁতার অবশ্যই কাটতে হয়।

    খুবই সত্য কথা।

    আমাদেরও সে-অবস্থা। সাঁতার আমাদের কাটতেই হবে; সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছার চেষ্টা আমাদের করতে হবে। আমরা কেবল আশা করব আমাদের এই সংকটে আরিয়নের বাহন* কিংবা অলৌকিক অপর কোনো শক্তি আমাদের উদ্ধার করে দেবে।

    [* আরিয়নের বাহন : সঙ্গীতপিপাসু আরিয়ন কোরিন্থের নাবিকদের বিশ্বাসঘাতকতা থেকে বাঁচার জন্য সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এক মৎস্যকন্যার সাহায্যে তীরে পৌঁছতে সমর্থ হয় [লী’র অনুবাদ : পৃ : ২০৭]]

    হ্যাঁ, আমরা তা-ই আশা করব।

    বেশ, তা হলে এসো, আমরা দেখি উদ্ধারের কোনো উপায় আছে কি না। একথা আমরা বলেছিলাম যে, যার যেমন প্রকৃতি বা গুণ তার তেমন কাজ করা সঙ্গত। আমরা স্বীকার করি, একথা আমরা বলেছি। আর একথাও সত্য, পুরুষ এবং মেয়েদের প্রকৃতি পৃথক। কিন্তু এখন আমরা কী বলছি? আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এখন আমরা বলছি, ভিন্ন গুণ বা প্রকৃতির মানুষ একইরকম কাজ করবে। এভাবে আমরা পরস্পরবিরোধী কথা বলছি। এই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ। তা-ই নয় কি?

    ঠিকই। এটাই অভিযোগ।

    গ্লকন, পরস্পরবিরোধী কথা বলার শক্তিটি কিন্তু খেলো নয়। এ এক মহতী শক্তি!

    একথা কেন বলছ, সক্রেটিস?

    কারণ, অনেক মানুষ আছে যারা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও এই পদ্ধতিটির মধ্যে আটকা পড়ে যায়। ফলে সে যখন মনে করছে সে সঠিক যুক্তি দিচ্ছে তখন সে আসলে নিজের যুক্তিরই বিরুদ্ধতা করছে। কারণ যে-ক্ষমতাটি তার নেই সে হচ্ছে বিচার্য বিষয়ের সংজ্ঞানির্ধারণ করা এবং তাকে পৃথক করা। ফলে সে আর জানে না, সে আসলে কোন্ বিষয় নিয়ে কথা বলছে। পরিণামে তার যুক্তি, প্রতিযুক্তি সঙ্গত আলোচনার মূল সুর হারিয়ে শাব্দিক বাদ-প্রতিবাদে পর্যবসিত হয়ে পড়ে।

    গ্লকন বললেন : হ্যাঁ, এরূপ প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু তার সঙ্গে আমাদের যুক্তির কী সম্পর্ক আছে?

    বেশ সম্পর্ক আছে। কারণ, আমাদের জন্য বিপদ হচ্ছে আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও অনুরূপ শাব্দিক বাদ-প্রতিবাদে জড়িত হয়ে পড়া।

    কেমন করে?

    কারণ আমরাও খুব ‘সাহসিকতা’র সঙ্গে এবং কলহপ্রিয়ের স্বভাব নিয়ে শাব্দিক সত্যের উপর জোর দিয়ে বলছি : যার যেরূপ স্বভাব বা প্রকৃতি তার সেরূপ কাজ। কিন্তু এই বলার সঙ্গে আমরা কখনো চিন্তা করে দেখিনি, স্বভাবের সাদৃশ্য এবং বৈসাদৃশ্য বলতে সত্যিকারভাবে কী বোঝায় এবং আমরা যখন প্রকৃতি বা গুণ অনুযায়ী সদৃশ স্বভাবে সদৃশ দায়িত্ব এবং ভিন্ন স্বভাবে ভিন্ন দায়িত্ব ন্যস্ত করেছিলাম তখন কী কারণে আমরা তাদের পৃথক ভেবেছিলাম।

    হ্যাঁ, একথা ঠিক। এভাবে আমরা চিন্তা করিনি।

    দৃষ্টান্ত হিসাবে একটি প্রশ্ন করা যাক : টাক মাথা এবং সচুল মাথার মধ্যে স্বভাবগত কোনো পার্থক্য আছে কি নেই? যদি বলি তাদের মধ্যে স্বভাবগত পার্থক্য আছে তা হলে টাক মাথা যদি জুতাসেলাইকারী চর্মকার হয় তা হলে সচুল মাথা আর চর্মকার হতে পারবে না। কথাটা আমরা বিপরীতভাবেও বলতে পারি।

    তুমি কি পরিহাস করছ, সক্রেটিস?

    আমি বললাম : হ্যাঁ, পরিহাসেরই কথা বটে। কারণ আমরা যখন আমাদের রাষ্ট্র গঠন করেছি তখন স্বভাবের বা গুণের পার্থক্যের কথা বলতে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে প্রত্যেকটি পার্থক্য বোঝাতে চাইনি। পার্থক্য বলতে ব্যক্তির দায়িত্বপালন যে-গুণের উপর নির্ভর করে সেরূপ পার্থক্যই আমরা বোঝাতে চেয়েছি। আমাদের বলা উচিত ছিল : একজন পুরুষ এবং মেয়ে এদের উভয়ের যদি চিকিৎসার দক্ষতা থাকে তা হলে এদের উভয়কে আমরা একই স্বভাবের বলে আখ্যায়িত করব। অপরদিকে দুজন পুরুষের মধ্যে এক জনের চরিত্রে যদি জন্মগতভাবে চিকিৎসকের গুণ দৃষ্ট হয় এবং অপরজনের মধ্যে জন্মগতভাবে সূত্রধরের গুণ, তা হলে আমরা এই দুজন পুরুষকে ভিন্ন স্বভাবের বলে অভিহিত করব।*

    [* কর্নফোর্ডের ইংরেজি অনুবাদ।]

    যথার্থ।

    কারণ, চিকিৎসক এবং সূত্রধর –এদের প্রকৃতি আলাদা।

    অবশ্যই।

    কাজেই কোনো নির্দিষ্ট কাজের ক্ষেত্রে যদি পুরুষ এবং মেয়ের মধ্যে দক্ষতার পার্থক্য দেখা যায় তা হলে সে-কাজের দায়িত্ব হয় পুরুষের উপর, নয়তো মেয়ের উপর আমরা ন্যস্ত করব। কিন্তু তাদের পার্থক্যটি যদি কেবল এই হয় যে, পুরুষ সন্তানের জন্মদান করে এবং মেয়ে সন্তানকে ধারণ করে, তা হলে এই পার্থক্যের ভিত্তিতে আমরা বলতে পারিনে যে, শিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়ের শিক্ষা পুরুষ থেকে পৃথক হবে। কাজেই আমাদের অভিভাবক বা শাসকগণ এবং তাদের স্ত্রীগণ যে একই কাজের উপযুক্ত—এ-নীতিটি আমরা পরিত্যাগ করতে পারিনে। এ-নীতির পক্ষেই আমরা কথা বলব।

    খুবই সত্য কথা সক্রেটিস।

    আমরা বরঞ্চ আমাদের প্রতিপক্ষকে জিজ্ঞেস করব, কোন্ দায়িত্বের ক্ষেত্রে তারা মেয়েকে পুরুষ থেকে পৃথক বলে বিবেচনা করে।

    হ্যাঁ, আমরা সঙ্গতভাবেই এ-প্রশ্ন করতে পারি।

    এবং গ্লকন, আমাদের প্রতিপক্ষ তোমার ন্যায়ই বলতে পারে : ‘মুহূর্তমধ্যে এ-প্রশ্নের জবাব দেওয়া সহজ নয়’। মুহূর্তের মধ্যে না হলেও খানিক চিন্তা করে প্রশ্নের জবাবদান কঠিন নয়।

    তা ঠিক।

    মনে করো আমাদের প্রতিপক্ষকে আমাদের যুক্তির সঙ্গী করে নিলাম। আমাদের আশা আছে তাকে আমরা দেখিয়ে দিতে পারব যে, মেয়েদের গঠনে এমন অদ্ভুত কিছু নেই যা তাকে রাষ্ট্রশাসনের কোনো দায়িত্বপালনে অক্ষম করতে পারে।

    একথা যথার্থ সক্রেটিস।

    আমরা আমাদের প্রতিবাদীকে বলব : এসো, তোমাকে একটি প্রশ্ন করি : তুমি যখন কারও স্বভাব বা প্রকৃতিকে বিশেষ গুণে গুণী কিংবা গুণী নয় বলে পৃথক করতে চেয়েছিলে, তখন কি তুমি এই বোঝাতে চেয়েছিলে যে, গুণী ব্যক্তি কোনো বিষয়কে সহজে শিখে ফেলে কিন্তু যে গুণী নয় তার পক্ষে সে-বিষয় আয়ত্ত করা কঠিন হয়? এদের একজন যেখানে অল্প শিখেই অনেক কিছু সাধন করতে পারে সেখানে অপর ব্যক্তি বহু অধ্যয়ন এবং চর্চাতেও সে-সাফল্য অর্জন করতে পারে না, সে শিখতে-না-শিখতে বিষয়কে ভুলে যায়? অথবা তোমার বক্তব্য ছিল এই যে, এদের একের ক্ষেত্রে তার দেহ যেখানে মনের বশীভূত, তার মনের উত্তম দাস, সেখানে অপর ব্যক্তির দেহ তার মনের একটি প্রতিবন্ধকস্বরূপ? স্বভাবগতভাবে গুণী এবং নির্গুণের মধ্যে পার্থক্যের ভিত্তি কি এরূপ নয়?

    এ-যুক্তি কেউই অস্বীকার করতে পারে না।

    মোটকথা, এমন কোনো কাজ কি আছে যেটি পুরুষ, মেয়ের চেয়ে উত্তমরূপে সম্পন্ন করতে পারে না? এমনকি বস্ত্রবয়ন এবং রন্ধন যেখানে মেয়েদেরই দক্ষতা থাকার কথা সেখানেও পুরুষ যখন মেয়েকে অতিক্রম করে যায় তখন মেয়েরা হাসির পাত্র হয়ে ওঠে।

    গ্লকন বললেন : সক্রেটিস, মেয়েজাতির নিকৃষ্টতার যে-কথা তুমি বলছ সাধারণভাবে তা সত্য। অবশ্য এমন অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে পুরুষের চেয়ে মেয়েরা উত্তম। তবু পুরুষ এবং মেয়েকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করলে তোমার কথা সত্য।

    তা-ই যদি হয়, গ্লকন, তা হলে আমরা বলতে পারিনে যে, রাষ্ট্রশাসনের এমন কোনো ক্ষেত্র আছে যেটা মেয়ে হিসাবে কেবল মেয়েদেরই করায়ত্ত অথবা পুরুষ হিসাবে পুরুষের করায়ত্ত। প্রকৃতির দান উভয়ের মধ্যেই বণ্টিত। পুরুষের যা কাজ, মেয়েদেরও সেই কাজ। কেবল পার্থক্য এই যে, কার্যকারিতায় পুরুষের চেয়ে মেয়েরা সাধারণত কম দক্ষ।

    খুবই সত্য কথা।

    তা হলে আমাদের যা-কিছু বিধান সে সব কি কেবল পুরুষের জন্যই নির্দিষ্ট হবে, মেয়েদের জন্য নয়?

    না, তা কিছুতেই হতে পারে না।

    মেয়েদের মধ্যে আমরা হয়তো দেখব, একের মধ্যে যেখানে নিরাময়ের গুণ আছে, অপরের মধ্যে তা নেই; একজনের চরিত্রে সঙ্গীতের গুণ আছে, অপরজনের চরিত্রে সঙ্গীতের কোনো গুণ নেই।

    হ্যাঁ, এরূপই বটে।

    কোনো মেয়ের মধ্যে শরীরচর্চার এবং সামরিক কুচকাওয়াজের প্রবণতা আছে, আর একজনের চরিত্রে এর অভাব আছে এবং সে শরীরচর্চার প্রতি বীতরাগ।

    এ কথাও সত্য।

    আবার এক মেয়ে হয়তো দার্শনিক, অপর মেয়ে দর্শনের শত্রু; একের মধ্যে যেখানে তেজ আছে, অপরের মধ্যে তেজের অভাব আছে।

    হ্যাঁ, একথা ঠিক।

    তা হলে আমরা বলতে পারি, এক মেয়ের মধ্যে অভিভাবক বা শাসকের গুণ থাকতে পারে; অপরজনের মধ্যে সে-গুণ নাও থাকতে পারে। পুরুষ-শাসকদের নির্বাচনও তো আমরা এই চিন্তার ভিত্তিতেই করেছি। নয় কি?

    হ্যাঁ, আমরা তা-ই করেছি।

    অভিভাবক বা শাসক হওয়ার যে-গুণ তা পুরুষ মেয়ে উভয়েরই আছে। তাদের পার্থক্য কেবল তুলনামূলক শক্তি এবং দুর্বলতার ক্ষেত্রে।

    নিঃসন্দেহে, সক্রেটিস।

    তা হলে যে-মেয়েদের শাসক হওয়ার গুণ আছে তাদের অবশ্যই আমরা যে পুরুষদের সে-গুণ আছে এবং যাদের সঙ্গে তাদের ক্ষমতা ও চরিত্রগত সাদৃশ্য রয়েছে তাদের সহকর্মী হিসাবে নিযুক্ত করব।

    অবশ্যই।

    আর একই রকম স্বভাবের তো একই রকম দায়িত্ব থাকা সঙ্গত। নয় কি?

    হ্যাঁ, তাদের একই রকম দায়িত্ব থাকা সঙ্গত।

    তা হলে, আমরা পূর্বে যে-কথা বলেছি, শাসকদের স্ত্রীদের জন্য সঙ্গীত এবং শরীরচর্চার দায়িত্ব স্থির করা তা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিষয়টির আমরা আবার উল্লেখ করছি।

    না, তাদের জন্য এ-দায়িত্ব স্থির করা অস্বাভাবিক নয়।

    যে-বিধান আমরা তখন প্রণয়ন করেছিলাম সে-বিধান প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। আর তাই সে-বিধান আমাদের কোনো অসম্ভব কল্পনার বিষয় ছিল না। বরং আমরা বলব, এক্ষেত্রে যে-প্রথা বর্তমানে প্রচলিত আছে সেই প্রথাই প্রকৃতির বিরোধী।

    তোমার একথাই সত্য মনে হচ্ছে সক্রেটিস।

    আমাদের দুটি প্রশ্ন বিবেচনার ছিল : প্রথমতঃ আমাদের প্রস্তাবগুলি সম্ভব কি না; দ্বিতীয়তঃ এগুলি মঙ্গলজনক বা উত্তম কি না।

    হ্যাঁ, তা-ই আমাদের বিবেচ্য ছিল।

    এর সম্ভাব্যতাকে আমরা প্রমাণ করেছি। নয় কি?

    অবশ্যই।

    এবার আমাদের প্রমাণ করতে হবে, এরা উত্তম কি না।

    হ্যাঁ, আমাদের তা-ই করতে হবে।

    গ্লকন, তুমি নিশ্চয়ই স্বীকার করবে, যে-শিক্ষা একজন পুরুষকে উত্তম অভিভাবক বা শাসকে পরিণত করে সে-শিক্ষা একজন মেয়েকেও উত্তম শাসকে পরিণত করবে। কারণ, পুরুষ এবং মেয়ের মূল চরিত্র এক। ঠিক নয় কি?

    হ্যাঁ, ঠিক।

    কিন্তু আমার একটি প্রশ্ন আছে গ্লকন।

    কী প্রশ্ন সক্রেটিস?

    পুরুষের বেলা তুমি কী বলবে? সকল পুরুষকে কি তুমি সমানভাবে গুণী বলবে, না একজনকে অপরজনের চেয়ে উত্তম মনে করবে?

    অবশ্যই একজন অপরজনের চেয়ে উত্তম হবে।

    তা হলে, আমরা যে-রাষ্ট্রকে তৈরি করছি এবং সে-রাষ্ট্রের যে-শাসকদের আমরা একটি আদর্শ শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত করছি তাদের তুমি রাষ্ট্রের সর্বোত্তম মানুষ বলবে, কিংবা যে-চর্মকারদের শিক্ষা পাদুকা সেলাই-এর শিক্ষায় সীমাবদ্ধ তাদের তুমি সর্বোত্তম মানুষ বলবে?

    তোমার প্রশ্নটি তো বড় অদ্ভুত সক্রেটিস!

    ঠিক আছে, তোমার এই জবাবেই আমার চলবে। কিন্তু আমরা কি এও বলব না যে, আমাদের শাসকরাই হচ্ছে আমাদের নাগরিকদের মধ্যে সর্বোত্তম নাগরিক?

    অবশ্যই তারা সর্বোত্তম নাগরিক।

    তা হলে তাদের স্ত্রীরা কি সর্বোত্তম মেয়ে বলে বিবেচিত হবে না?

    হ্যাঁ, তারাও সর্বোত্তম মেয়ে।

    একটি রাষ্ট্রের পুরুষরা এবং মেয়েরা যতদূর সম্ভব উত্তম হবে—এর চেয়ে এই রাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য মঙ্গলকর আর কিছু কি হতে পারে?

    না। এর চেয়ে উত্তম কিছু হতে পারে না।

    এবং সঙ্গীত ও শরীরচর্চার বিষয়ে আমরা যেরূপ বলেছি সেরূপে তাদের চর্চা করা হলে আমাদের রাষ্ট্রে এই সর্বোত্তমই সাধিত হবে। ঠিক নয় কি?

    অবশ্যই ঠিক, সক্রেটিস।

    তা হলে আমরা এবার বলতে পারি যে, এমন বিধান আমরা প্রণয়ন করেছি যে-বিধান কেবল সম্ভব নয়, যে-বিধান রাষ্ট্রের জন্য উত্তমও বটে।

    হ্যাঁ, একথা সত্য।

    তা হলে আমরা বলব, আমাদের শাসকদের স্ত্রীগণ নগ্ন হোক। তাতে ক্ষতি নেই। কারণ, ধর্মই তাদের আবরণ। যুদ্ধ এবং দেশরক্ষার পরিশ্রমে পুরুষদের তারা সমঅংশীদার হবে। কেবল কাজের বণ্টনে যে-কাজ পরিশ্রমের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে হালকা সে-সমস্ত কাজ মেয়েদের দেওয়া হবে। কারণ দৈহিক গঠনে তারা দুর্বলতর। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব হবে পুরুষদের সঙ্গে এক। এবং উত্তম উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে যে-মেয়ে নগ্নদেহে শরীরচর্চা এবং সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিচ্ছে তার দর্শনে কোনো মানুষ যদি পরিহাস করে তা হলে আমরা বলব তার পরিহাসের দণ্ড দিয়ে, ‘অপরিপক্ক জ্ঞানের ফলকেই’ সে আহরণ করছে। কারণ, সে কাকে পরিহাস করছে তা সে জানে না; তার পরিহাসের কী উদ্দেশ্য সে-সম্পর্কেও সে অজ্ঞ। এক্ষেত্রে যে-প্রবাদ বলে : ‘যা কাজের তা-ই উত্তম এবং যা অ-কাজের এবং ক্ষতিকর তাই অধম’—সে-প্রবাদই সর্বকালের সর্বোত্তম বাণী বলে বিবেচিত হবে। ঠিক নয় কি গ্লকন?

    অবশ্যই ঠিক, সক্রেটিস।

    তা হলে মেয়েদের ক্ষেত্রে বিধানের ব্যাপারে একটা অসুবিধাকে আমরা কাটাতে পেরেছি, বলা যায়। অভিভাবক শাসকদের মধ্যে পুরুষ এবং মেয়ে উভয়েরই দায়িত্ব হবে একই রকম—এ-বিধানের জন্য সমুদ্রতরঙ্গে আমরা একেবারে ডুবে যাইনি। এ-বিধানের প্রয়োজনীয়তা এবং কার্যকারিতা যুক্তির সঙ্গতি দ্বারাই প্রমাণিত হয়েছে।

    তুমি ঠিকই বলেছ সক্রেটিস। এ-বিধানের তরঙ্গ কম জোরদার ছিল না। তুমি তাকে অতিক্রম করতে পেরেছ, এটি কম কথা নয়।

    আমি বললাম : কিন্তু গ্লকন, যে-তরঙ্গ আসছে তার জোর আরও বেশি সেই তরঙ্গকে যখন তুমি দেখবে তখন এটি তোমার নিকট তুচ্ছ বলেই বোধ হবে।

    গ্লকন বললেন : তুমি অগ্রসর হও। আসুক সে-ঢেউ। তাকে আমরা প্রত্যক্ষ করব।

    আমি বললাম : আমাদের পূর্ববিধানের পরিণাম হিসাবে এখন যে-বিধান আসছে তাকে আমি এভাবে বলতে পারি : ‘আমাদের অভিভাবক বা শাসকদের স্ত্রীদের উপর সমষ্টিগত স্বামিত্ব প্রবর্তিত হবে এবং তাদের সন্তানরাও হবে সকলের সমষ্টিগত সন্তান এবং কোনো জনক-জননী যেমন জানবে না কোন্ সন্তান তার, তেমনি কোনো শিশুও জানবে না, তার পিতামাতা কে।’

    গ্লকন বললেন : এ-ঢেউ আগের চেয়েও মারাত্মক বটে! আর এ-বিধানের উপকারিতা এবং সম্ভাব্যতা প্রমাণ করা পূর্বের চেয়ে দুরূহ নিশ্চয়ই।

    আমি বললাম : গ্লকন, স্ত্রী এবং সন্তানের উপর সমষ্টিগত স্বামিত্ব যে বিশেষভাবে উপকারী সে-সম্পর্কে কোনো আপত্তি থাকতে পারে বলে আমি মনে করিনে। তবে এর সম্ভাব্যতার প্রশ্ন আলাদা এবং এ-সম্পর্কে আপত্তি তোলা সম্ভব।

    গ্লকন বললেন : আমার তো মনে হয় উভয় প্রশ্নে একাধিক আপত্তি উত্থাপিত হতে পারে।

    আমি বললাম : তার মানে তুমি বলছ, দুটো প্রশ্নকে যুক্ত করা আবশ্যক? আমার কিন্তু আশা ছিল, তুমি আমাদের প্রস্তাবটির উপযোগিতাকে স্বীকার করবে। তা হলে একটা সমস্যা থেকে আমি রেহাই পেতাম। তখন প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতার দিকটিই আমাদের বিবেচ্য হত।

    এভাবে তোমার বিপদ এড়াবার চেষ্টাটি আমরা ধরে ফেলেছি। কাজেই দুটো প্রশ্নের জবাবই তোমাকে দিতে হবে, সক্রেটিস।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার
    Next Article প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026
    Our Picks

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 9, 2026

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }