Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 9, 2026

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    সরদার ফজলুল করিম এক পাতা গল্প669 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৬. দর্শনের দুর্নামের কারণ

    অধ্যায় : ১৬ [৪৮৪–৪৯৭]

    দর্শনের দুর্নামের কারণ

    সক্রেটিসের বিরুদ্ধে এ্যাডিম্যান্টাসের অভিযোগ, ‘সক্রেটিস তার শব্দের দাবা খেলায় সকলকে হারিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু তাতেই প্রমাণ হয়ে যায় না যে, দার্শনিকরাই একমাত্র উত্তম ব্যক্তি এবং শাসক হওয়ার উপযুক্ত’। ‘তোমার সঙ্গে কথায় কেউ পেরে উঠতে না পারুক তবু একথা সত্য যে, … যারা দর্শনের চর্চা করে তাদের অধিকাংশই কেবল যে চরম দুরাত্মায় পরিণত হয় তা-ই নয়, তারা অদ্ভুত এক জীবে পরিণত হয়ে যায়। যারা উত্তম তারাও এই ‘মহান’ দর্শনের চর্চায় জগতের জন্য অপদার্থ প্রাণীতে পর্যবসিত হয়’ [৪৮৭] দার্শনিক তথা জ্ঞানের সাধকদের বিরুদ্ধে এ-অভিযোগ প্রচলিত সমাজব্যবস্থার সাধারণ অভিযোগ। সক্রেটিস এ-অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেন না। তাঁর জবাব হচ্ছে : এই অভিযোগের কারণ দুটো ১. সত্যকার দার্শনিক যারা তারা অপদার্থ বলে পরিচিত, কারণ প্রচলিত সমাজ হচ্ছে কলুষিত। প্রচলিত সমাজের পরিচালনভার অনধিকারীর হাতে। এ-সমাজ তথা রাষ্ট্র দার্শনিকের মূল্য বুঝতে অক্ষম। দার্শনিকের চরিত্র এবং এই রাষ্ট্রের চরিত্র পরস্পরবিরোধী। একজন হচ্ছে জ্ঞানী। অপরটি হচ্ছে অজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত। আর এ-কারণে যে-তরুণরা একদিন সম্ভাবনাময় ছিল তারাও এই রাষ্ট্রে কলুষিত হয়ে পড়ে। ২. দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, দর্শনের যথার্থ অর্থ অনুধাবন না করে, যারা এর অনুপযুক্ত তারাও দর্শনের অধ্যয়নে সাময়িককালের জন্য যোগ দেয়। এদের অস্থির চরিত্র এবং দর্শনকে হালকাভাবে গ্রহণ করার মনোভাবই প্রচলিত সমাজে দর্শনের দুর্নামের কারণ।

    এ-প্রসঙ্গে দুটি বিষয়ের উল্লেখ করা চলে। প্রথমত প্লেটো এথেন্সের প্রচলিত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিরোধী ছিলেন। তাঁর এই বিরোধিতা এবং সমালোচনা, তীক্ষ্ণ বিদ্রূপ এবং বিভিন্ন উপমার মাধ্যমে আদর্শ রাষ্ট্রের বিচ্যুতির বাস্তব দৃষ্টান্ত সহযোগে প্লেটো উপস্থিত করেছেন। এখানে প্লেটো এই বিকৃত শাসনব্যবস্থাকে বিরাটকায় একটা হিংস্র পশুর সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই রাষ্ট্রের যারা শাসক কিংবা শিক্ষক তারা যথার্থ সত্যের অন্বেষণ করে না। তারা এই হিংস্র পশুর মনস্তুষ্টিসাধনের চেষ্টা করে। তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার অভিজ্ঞতাই তারা লাভ করে এবং তাকেই যথার্থ জ্ঞান বলে প্রচার করে।

    দ্বিতীয়তঃ দর্শনকে হালকাভাবে অধ্যয়ন বা শিক্ষাদানের অভিযোগের মধ্যে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধেও প্লেটোর সমালোচনার আভাস পাওয়া যায়। প্লেটোর যেমন নিজস্ব একাডেমি ছিল এবং শিক্ষার বিষয়ে তাঁর সুনির্দিষ্ট দর্শন ছিল তেমনি তার একটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানও ছিল। তার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শিক্ষাবিদ আইসোক্রাটিস (খ্রিঃ পূঃ ৪৩৬–৩৩৮)। আইসোক্রাটিস সফিস্টদের প্রবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থার ধারাই বহন করতেন। সফিস্টদের শিক্ষার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো দর্শন ছিল না। তাঁদের প্রধান লক্ষ্য ছিল তাঁদের নিকট যে-তরুণরা, বিশেষ করে ধনবান পরিবারের যে-শিক্ষার্থীরা শিক্ষালাভ করতে আসত কিংবা সফিস্টরা যাদের গৃহে যেয়ে শিক্ষাদান করতেন তাদেরকে বাস্তব জীবনের উপযোগী করে তোলা। এজন্য প্রয়োজনবোধে তাঁরা ধর্ম, রাষ্ট্র, দর্শন, শিক্ষা—জীবনের যে-কোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত পুরাতন ধ্যানধারণা বিশ্বাস বা অভিমতকে যেমন সমালোচনা করতে দ্বিধা করতেন না, তেমনি বাস্তব জীবনের যে নীতি ফলদায়ী সে-নীতি যতই কেননা অধম বা সুবিধাবাদী বা উপদলীয় স্বার্থবাহক হোক, তার শিক্ষাদানেও তাঁরা কম উৎসাহী ছিলেন না। এদিক থেকে তাঁদের প্রয়োগিক বলা চলে। অর্থাৎ বাস্তব জীবনে যা প্রয়োগযোগ্য এবং ব্যক্তির স্বার্থবাহক তা-ই সত্য। ব্যক্তির স্বার্থ-নিরপেক্ষ কোনো সত্য নেই—সফিস্টদের আচরণে এই নীতিটি স্পষ্ট হয়ে উঠত। প্লেটো এই নীতির সমালোচক ছিলেন। আইসোক্রাটিসকেও তিনি এই নীতির ধারক এবং প্রচারকারী বলে মনে করতেন। তাই প্লেটো আইসোক্রাটিসের শিক্ষানীতিকে অগভীর বলে অভিযুক্ত করেন। অপর দিকে আইসোক্রাটিস প্লেটোকে অবাস্তব এবং কল্পনাবিলাসী বলে আখ্যায়িত করতেন।

    .

    আমি বললাম : গ্লকন, দীর্ঘ কষ্টকর পথ আমাদের অতিক্রম করতে হয়েছে। তবু যথার্থ দার্শনিকের সঙ্গে কৃত্রিম দার্শনিকের পার্থক্যটি আমাদের নিকট ধরা পড়েছে—এটিই বড় কথা।

    গ্লকন বললেন : সক্রেটিস, পথের দৈর্ঘ্য কমাবার কোনো উপায় ছিল না।

    হ্যাঁ, আমি তা-ই মনে করি। যথার্থ দার্শনিক সম্পর্কে আমরা অধিকতর উত্তম পরিচয় পেতে পারতাম, যদি হাতে আমাদের সময় থাকত এবং যদি এই বিষয়টিই আামদের একমাত্র আলোচনার বিষয় হত। কিন্তু আলোচনার বিষয় আমাদের সম্মুখে আরও পড়ে আছে। ন্যায়বান এবং অন্যায়ী—এদের জীবনকে সম্যকভাবে বুঝতে হলে এ-সমস্ত আলোচনা সম্পূর্ণ করতে হবে।

    তা হলে আমাদের পরবর্তী আলোচনা কী হবে?

    আমি বললাম : আলোচনার ধারায় যুক্তিসঙ্গতভাবে যে-প্রশ্ন আসবে তাকেই আমাদের আলোচনা করতে হবে, গুকন। আমরা দেখেছি, শাশ্বত এবং অপরিবর্তনীয় সত্যের একমাত্র দ্রষ্টা হচ্ছে যথার্থ দার্শনিক। কিন্তু যারা কেবল বৈচিত্র্য এবং অনিত্যের জগতেই জীবনযাপন করে, তাকেই সত্য বলে মনে করে, তারা যথার্থ দার্শনিক নয়। তা-ই যদি হয়, তা হলে, গ্লকন, এবার তুমি বলো, আমাদের রাষ্ট্রের শাসক হওয়ার যোগ্য এদের মধ্যে কে?

    কিন্তু এ প্রশ্নের সঠিক জবাব আমরা কেমন করে দেব?

    এর জবাব নিশ্চয়ই কঠিন নয়। যে আমাদের রাষ্ট্রের বিধিবিধান এবং তার সংস্থাসমূহকে সর্বোত্তমভাবে রক্ষা করতে পারবে, তাকেই আমাদের শাসক বানাতে হবে।

    হ্যাঁ, একথা টিক।

    আর তা ছাড়া এ-বিষয়েও কোনো প্রশ্ন নেই যে, এমন যে রক্ষাকারী বা প্রহরী তার অবশ্যই চোখ থাকতে হবে। তাকে অন্ধ হলে চলবে না।

    না, এ-বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না।

    কিন্তু পরম সত্য সম্পর্কে যাদের জ্ঞান নেই, শিল্পীর সম্মুখে মডেল বা প্রতিরূপের ন্যায় যাদের সম্মুখে সুস্পষ্ট কোনো আদর্শ নেই যার ভিত্তিতে ন্যায্য বা উত্তম বিধান কী তা তারা নির্ধারণ করতে পারবে এবং অভিভাবক হিসাবে, যে-বিধান আছে তাকে তারা রক্ষা করত পারবে—তাদের আমরা অন্ধ ব্যতীত আর কি বলতে পারি?

    হ্যাঁ, তারা অন্ধ বই আর কী?

    তা হলে আমরা এদের কি আমাদের শাসক করব? যখন এমন লোক আছে যাদের অভিজ্ঞতা এদের চেয়ে কম নয়, যাদের কোনো উত্তম গুণের অভাব নেই এবং যারা সকল রকম অস্তিত্বের অন্তর্নিহিত সত্যকে জানে তখন অন্ধের সমান ব্যক্তিকে আমাদের শাসক করা কি সঙ্গত?

    না, অপর কোনো ক্ষেত্রে তাদের কোনো ব্যর্থতা না থাকলে আমরা গুণান্বিত ব্যক্তিদেরই শাসক করব। শাসক হওয়ার ব্যাপারে তাদেরই অগ্রাধিকার থাকবে।

    তা হলে আমাদের এবার বিবেচ্য হওয়া উচিত, জ্ঞানের সঙ্গে অপর সকল উত্তম গুণের সম্মেলন কেমন করে ঘটানো যায়। জ্ঞানী কেমন করে সকল উত্তম গুণে গুণী হয়ে উঠতে পারে।

    হ্যাঁ, আমাদের তা-ই বিবেচ্য হওয়া উচিত

    তা হলে প্রথমত দার্শনিকের চরিত্র আমাদের নির্ধারণ করতে হবে। দার্শনিকের চরিত্র সঠিকভাবে বুঝতে পারলে আমরা দেখব তার মধ্যে সকল উত্তম গুণের সম্মেলন সম্ভব। আর এরূপ গুণের সম্মেলন যে-চরিত্রে ঘটবে তাকেই আমাদের রাষ্ট্রের শাসক করব।

    একটু ব্যাখ্যা করে বলো, সক্রেটিস।

    দার্শনিকের চরিত্রের একটি বৈশিষ্ট্য তো আমরা ধরে নিতে পারি। দার্শনিকের থাকবে তেমন জ্ঞানের প্রতি প্রেম যে-জ্ঞান তাকে শাশ্বত সত্যের সন্ধান দেবে, যে-সত্যের কোনো পরিবর্তন কিংবা ক্ষয় নেই। দার্শনিক সমগ্র সত্যের প্রেমিক। সাধারণ যে-উচ্চাকাঙ্ক্ষী বা প্রেমিকের কথা আমরা পূর্বে বলেছি* তাদের ন্যায় সত্যের কোনো অংশের জন্যই তার উপেক্ষা থাকবে না।

    [* ২৩৬-২৩৭ দ্রষ্টব্য।]

    হ্যাঁ, একথা আমরা ধরে নিতে পারি।

    বেশ, দার্শনিক যদি এরূপ হয় তা হলে তার আর-একটি গুণও থাকা আবশ্যক। নয় কি?

    কী গুণ?

    সত্যবাদিতা। স্বেচ্ছাক্রমে দার্শনিক কখনো অসত্যকে গ্রহণ করবে না। অসত্যকে সে ঘৃণা করবে। সত্যবাদিতাকে সে ভালোবাসবে।

    হ্যাঁ, দার্শনিকদের এরূপ হওয়াই সম্ভব।

    না, শুধু ‘সম্ভব’ বললে চলবে না। দার্শনিককে অবশ্যই এরূপ হতে হবে। কারণ সে যদি সত্যকারভাবে প্রেমিক হয় তা হলে তার প্রেমাস্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনোকিছুই তার কাছে উপেক্ষণীয় হবে না।

    ঠিক বলেছ।

    দার্শনিক সকলকাল এবং অস্তিত্বের দ্রষ্টা

    এবং জ্ঞানের সঙ্গে সত্যের চেয়ে অধিক সম্পর্কিত আর কী হতে পারে? না, আর কী হতে পারে?

    কিন্তু যে-চরিত্র জ্ঞানের প্রেমিক, সে কি একই সঙ্গে অসত্যের প্রেমিক হতে পারে?

    না, তা কখনো সম্ভব নয়।

    তা হলে জ্ঞানের সত্যকার প্রেমিককে তার শৈশবকাল থেকেই যথাসম্ভব সমস্ত সত্যের আকাঙ্ক্ষী হতে হবে।

    অবশ্যই।

    কিন্তু আমরা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই জানি, যার একদিকে প্রবণতা অধিক তার অপরদিকে প্রবণতা কম থাকে। যেমন ধরো একটি ছোট নদী। তার পানি অপর কোনো শাখায় বইলে সে নিজে শুকিয়ে যাবে।

    একথা সত্য।

    তেমনি যার সমস্ত ইচ্ছা সকলরকম জ্ঞানের ইচ্ছায় মিলিত হয়েছে তার আনন্দের একমাত্র লক্ষ্য হবে আত্মা। দেহের আনন্দ তাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। অবশ্য সে যদি যথার্থ দার্শনিক হয়, যদি সে কৃত্রিম না হয়, তা হলেই তার চরিত্রে এই গুণের আমরা সাক্ষাৎলাভ করব। ঠিক নয় কি?

    নিঃসন্দেহে।

    এমন লোক অবশ্যই সংযমী হবে। সে অর্থগৃধু হবে না। কারণ, যে-প্রবণতা অপর মানুষকে অর্থলোভী এবং অমিতব্যয়ী করে তোলে সে-প্রবণতা যথার্থ দার্শনিকের চরিত্রে থাকতে পারে না।

    খুবই সত্য কথা।

    তা ছাড়া দার্শনিক-চরিত্রের আর-একটি বৈশিষ্ট্য আমাদের লক্ষ করা আবশ্যক। যে আত্মা সত্যসন্ধানে ব্রতী তার মধ্যে হীনতার কোনো স্থান হতে পারে না।

    অবশ্যই।

    তা হলে যার আত্মা উদার, যে সকল কাল এবং অস্তিত্বের দ্রষ্টা তার পক্ষে সাধারণ মানবিক জীবনকে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা কি সম্ভব?

    না, তা সম্ভব নয়।

    কিংবা এরূপ লোক কি মৃত্যুর ভয়ে ভীত হতে পারে?

    না, তা পারে না।

    তা হলে যথার্থ দার্শনিকের চরিত্রে কাপুরুষতা কিংবা হীনতার কোনো স্থান নেই।

    না, এদের কোনো স্থান হতে পারে না।

    তা হলে যার চরিত্র সঙ্গতিময়, যে অর্থগৃধু, হীন, আত্মগর্বী কিংবা কাপুরুষ নয় তেমন চরিত্র কি অন্যায়কারী হতে পারে? অপরের সঙ্গে ব্যবহারে তার পক্ষে কি রূঢ় হওয়া সম্ভব?

    অসম্ভব।

    তা হলে কোন চরিত্র ন্যায় এবং নম্র এবং কোন্ চরিত্র রূঢ় এবং অসামাজিক তা নির্ধারণ করতে তোমার কোনো অসুবিধা হবে না। এমনকি কৈশোরেও এই গুণের ভিত্তিতে দার্শনিক-চরিত্র অ-দার্শনিক চরিত্র থেকে পৃথক বলে দৃষ্ট হবে।

    তোমার কথা সত্য, সক্রেটিস।

    আর-একটি বিষয়।

    কী?

    এমন চরিত্রের মধ্যে কোনোকিছু শেখার আগ্রহ আছে কি নেই? কারণ, যে-বিষয় ক্লেশকর এবং পরিশ্রম সত্ত্বেও যাতে উন্নতি কম, তেমন বিষয় শেখার জন্য সে নিশ্চয়ই আগ্রহবোধ করবে না?

    একথা সত্য।

    আবার তার স্মৃতিশক্তি যদি দুর্বল হয় অর্থাৎ যা সে শেখে তার অল্পই সে স্মরণ রাখতে সক্ষম হয় তা হলে সে একটি শূন্যকুম্ভ বই আর কিছু নয়।

    একথাও সত্য।

    তেমন হলে বৃথা পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে সে পরিণামে নিজের প্রতি বিরক্ত হয়ে উঠবে। নিজেকে এবং তার এই নিষ্ফল চেষ্টাকে সে ‘ঘৃণা করতে শুরু করবে।’

    তা-ই সে করবে।

    তা হলে, যে-চরিত্র স্মরণশক্তিতে দুর্বল তাকে আমরা যথার্থ দার্শনিক-চরিত্র বলে গ্রহণ করতে পারিনে। আমাদের দার্শনিককে অবশ্যই উত্তম স্মৃতিধর হতে হবে।

    অবশ্যই।

    আমরা আবার বলছি : অসঙ্গতিপূর্ণ এবং বিসদৃশ চরিত্র কেবল বিষমানুপাতেরই সৃষ্টি করতে পারে। ঠিক নয় কি?

    নিঃসন্দেহে, সক্রেটিস।

    তা হলে অপর গুণ ছাড়াও উত্তম চরিত্রের মধ্যে আমাদের সুসঙ্গতির অন্বেষণ করতে হবে। এমন চরিত্রের মহৎ অন্তঃকরণ থাকবে। এই মহৎ অন্তঃকরণ নিয়ে সে সকল অস্তিত্বের সারসন্ধানে নিয়োজিত হবে।

    আমি তোমার সঙ্গে একমত সক্রেটিস।

    তা হলে এরূপ যে-চরিত্রের মধ্যে আমরা স্মৃতিশক্তি, বিদ্যার আগ্রহ, দৃষ্টির উদারতা, মনের সর্বময়তা—অর্থাৎ সব মহৎ গুণের সমন্বয়ের সাক্ষাৎ পাই, সে-চরিত্র যে-কাজসাধনে উদ্যত হবে সে-কাজে ত্রুটি অন্বেষণ করা কি আমাদের পক্ষে সম্ভব?

    না, মোমাসদেবের* পক্ষেও এমন চরিত্রে ছিদ্রান্বেষণ সম্ভব নয়।

    [* হিসিয়ভের থিওগনিতে বর্ণিত ছিদ্রান্বেষণ এবং বিদ্রূপের দেবতা মোমাস অন্ধকারের সন্তানরূপে কল্পিত।]

    তা হলে এমন চরিত্র যখন শিক্ষায় সমগ্র এবং অভিজ্ঞতায় পূর্ণ হয়েছে তখন তার উপরই মাত্র আমরা রাষ্ট্রকে ন্যস্ত করতে পারি।

    এ্যাডিম্যান্টাস এই স্থানে আমাদের বাধা দিয়ে বললেন : সক্রেটিস, তোমার এ কথার কোনো জবাব নেই সত্য, কিন্তু তোমার কথা শুনতে শুনতে তোমার শ্রোতাদের মনে একটি প্রতিক্রিয়ার সঞ্চার না হয়ে পারে না। তারা মনে করে, তোমার এই প্রশ্নোত্তরের কৌশলে তারা দক্ষ নয় বলে তুমি যুক্তি দিয়ে একটু একটু করে তাদের পথভ্রষ্ট করে ফেল। অবশেষে তাদের প্রতিপদের স্বীকৃতি যখন একত্র করা হয় তখন তারা দেখতে পায়, তাদের পরাজয় বিরাট আকার ধারণ করেছে। এবার নিজেদের কাছেই তাদের সব পুরনো ধারণা মিথ্যা বলে বোধ হয়। তারা দেখতে পায়, তাদের নিজেদের সব অভিমতকেই তারা অস্বীকার করেছে। দাবাখেলায় দক্ষ প্রতিপক্ষের চালে যেমন প্রতিযোগী গুটি দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে পড়ে, তার যেমন অগ্রসর হওয়ার কোনো পথ থাকে না, তেমনি এই শব্দের দাবাখেলায় তোমার প্রতিযোগী নিজেকে পরিণামে শব্দহীন, নিরস্ত্র দেখতে পায়। অথচ সে-প্রতিযোগী সারাক্ষণ সঠিকই ছিল। তোমার সঙ্গে ব্যাপারটা আমাদের যা ঘটছে তা দেখে আমার এই কথাই মনে হচ্ছে। কারণ আমাদের কেউ তোমাকে বলতে পারে, তোমার সঙ্গে কথায় কেউ পেরে উঠতে না পারুক তবু একথা সত্য যে, তোমার দর্শনের প্রবক্তাদের মধ্যে যারা কেবল তরুণ বয়সে তাদের শিক্ষার অংশ হিসাবেই নয়, পরিণত বয়সেও যারা দর্শনের চর্চা করে, তাদের অধিকাংশই কেবল চরম দুরাত্মায় পরিণত হয় তা-ই নয়, তারা অদ্ভুত এক জীবে পরিণত হয়ে যায়। আর এদের মধ্যে যাদের উত্তম বলে বিবেচনা করা যায় তারা তোমার এই ‘মহান’ দর্শনের চর্চায় জগতের জন্য অপদার্থ প্রাণীতে পর্যবসিত হয়।

    বেশ, কিন্তু তুমি কি এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন মনে কর?

    এ্যাডিম্যান্টাস বললেন : আমি বলতে পারিনে এ-অভিযোগ সত্য কি না। এ-ব্যাপারে আমি তোমার অভিমত শুনতে চাই।

    আমি বললাম : ঠিক আছে। আমার জবাব তুমি শোনো। আমি মনে করি এ-অভিযোগ তাদের যথার্থ।

    তা হলে যে-দার্শনিকরা অপদার্থ বই আরকিছু নয়, তুমি কেমন করে বলছ সেই দার্শনিকগণ শাসক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের নগরীগুলি দুঃশাসনের সংকট থেকে মুক্ত হতে পারবে না?

    এ্যাডিম্যান্টাস, তোমার প্রশ্নটি এমন যার জবাব কেবল একটি গল্পের মাধ্যমেই দেওয়া সম্ভব।

    বেশ, তা-ই দাও। কিন্তু আমার মনে হয় এমন জবাবে তুমি অভ্যস্ত নও।

    আমি বললাম : আমাকে একটি অসম্ভব অবস্থার মধ্যে টেনে আনতে তোমার আনন্দের ব্যাপারটি আমি বুঝতে পারছি, এ্যাডিম্যান্টাস। যাহোক, গল্পটি শোনো। আমার গল্প শুনে আমার কল্পনার বহরে তোমার কৌতুক আরও বৃদ্ধি পাবে, একথা আমি বলতে পারি। কারণ, আমাদের সমস্ত রাষ্ট্রে উত্তম লোকের যে-দুর্দশা তাতে জগতের কোনোকিছুকেই তাদের সঙ্গে তুলনা করা চলে না। কাজেই তাদের পক্ষে কিছু বলতে হলে আমাকে কল্পকাহিনীর আশ্রয় নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। আর এর মাধ্যমে আমাকে সেই ছবির ছাগ এবং হরিণের মিলিত আকৃতির ন্যায় একাধিক উৎস থেকে উপাদান সংগ্রহ করে দুর্দশাগ্রস্ত দার্শনিককে মূর্ত করে তোলার চেষ্টা করতে হবে। এবার তা হলে এমন একটি জাহাজের কল্পনা করো যার কর্ণধারটি তার নাবিকদের চেয়ে দীর্ঘ এবং সবল বটে কিন্তু কানে সে কিছুটা খাটো এবং দৃষ্টিশক্তিতে ক্ষীণ এবং সে জাহাজচালনার জ্ঞানেও অজ্ঞ। জাহাজের হাল তার হাতে। নাবিকের দল তাকে ঘিরে কোলাহলে উদ্দাম হয়ে উঠেছে। সকলেরই দাবি জাহাজের হাল ধরার অধিকার তারই। কিন্তু নাবিকদের কেউ নৌচালনার জ্ঞানে জ্ঞানী নয়। নৌচালনার কৌশল আদৌ জানা যায়—এ-বিশ্বাসও তারা কেউ পোষণ করে না। যদি কেউ বলে, নৌচালনা একটি শিল্প এবং একে শেখা যায় তা হলে ক্ষিপ্ত হয়ে এমন লোককে হয়তো তারা হত্যা করে ফেলবে। তারা সকলেই জাহাজচালককে ঘিরে ধরেছে। প্রত্যেকেই বলছে তার হাতে জাহাজের হাল তুলে দেওয়া হোক। উপদলেও তারা বিভক্ত। কোনো উপদল যদি শক্তিশালী হয়ে কর্ণধারের কাছ থেকে হাল তুলে নেওয়ার উপক্রম করে তা হলে অপর উপদল নিশ্চয়ই তাদের কেটেকুটে সমুদ্রে নিক্ষেপ করে দেবে এবং সরল জাহাজচালককে সুরা কিংবা ঔষধ প্রয়োগে বাধ্য করে জাহাজচালনার দায়িত্ব তুলে নিয়ে সুরামত্ত উল্লাসকারীর ন্যায় যেমন ইচ্ছা তেমন আচরণ করতে শুরু করবে। এই পরিস্থিতিতে যে-জ্ঞানী কোনোপ্রকারে জাহাজচালককে কাবু করে সঠিক জাহাজচালনায় সাহায্য করবে তাকে তখন সবাই প্রশংসা করবে। তার নৌচালনার এবং সমুদ্রের জ্ঞানের প্রশংসায় এবং অপর সকলের অজ্ঞতার নিন্দায় তখন তারা উচ্চকণ্ঠ হয়ে উঠবে। কিন্তু তারা জানে না, যথার্থ যে নাবিক তাকে বৎসরের ঋতুপরিক্রমের জ্ঞান অর্জন করতে হয়। তাকে আকাশ এবং তার তারকারাজি, হাওয়ার গতি এবং আনুষঙ্গিক সব বিষয়কে আয়ত্ত করতে হয়। এই জ্ঞানের ভিত্তিতেই মাত্র নাবিকের পক্ষে নৌপোত সঠিকভাবে চালনা করা সম্ভব। কিন্তু এ কথা তারা বিশ্বাস করতে চাইবে না। নৌচালন-শিল্পে দক্ষতা অর্জনকে তারা অসম্ভব মনে করে। এবার বল এ্যাডিম্যান্টাস, এরূপ জাহাজের নাবিকরা একজন যথার্থ নৌচালক সম্পর্কে কী মনোভাব পোষণ করবে? তারা সকলে কি যথার্থ নাবিককে আকাশচারী এবং আদার্থ বলে গণ্য করবে না?

    এ্যাডিম্যান্টাস বললেন : হ্যাঁ, তারা তাকে তা-ই মনে করবে।

    তা হলে এ-রূপকের ব্যাখ্যা ছাড়াই তুমি বুঝতে পারছ, যথার্থ দার্শনিকের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক কী?

    হ্যাঁ, এবার আমি বুঝতে পারছি।

    তা হলে, যে-ভদ্রলোক দার্শনিকদের প্রতি সমাজের এরূপ আচরণে বিস্ময় বোধ করে তাকে তুমি এই কাহিনীটি শুনিয়ে দিও এবং তাকে বরঞ্চ বুঝিয়ে বোলো যে, দার্শনিকদের প্রতি এরূপ আচরণ না করাটাই অধিকতর বিস্ময়কর হত।

    আমি তা-ই করব, সক্রেটিস।

    তুমি তাকে বোলো, একথা সত্য যে, উত্তম দার্শনিকদের তাদের সহগামীগণ অপদার্থ বলে গণ্য করে। কিন্তু এজন্য দায়ী দার্শনিক নয়, দায়ী তারা যারা তার জ্ঞানকে ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ জাহাজচালক নাবিকদের অনুনয় করে বলবেনা যেন তাকে জাহাজ চালাতে দেওয়া হয়; জ্ঞানীও ধনবানের প্রাসাদে যেয়ে ধরনা দেবে না (এ-কাহিনী যে তৈরি করেছে, সে ভ্রান্ত)। এরূপ বলা স্বাভাবিক নয়। স্বাভাবিক হচ্ছে এই সত্য যে, যে রুগি সে ধনী কিংবা নির্ধন হোক, তাকেই যেতে হবে চিকিৎসকের নিকট। যাদের শাসিত হওয়া প্রয়োজন তারাই যাবে যে শাসন করতে জানে তার নিকট। বর্তমানে যে-রাজনীতিকগণ শাসন করছে তাদের যদি তুমি আমাদের কাহিনীর জাহাজের অজ্ঞ নাবিকের সঙ্গে তুলনা কর এবং যাদের এরা আকাশচারী অপদার্থ বলে আখ্যায়িত করে তাদের যদি যথার্থ নৌচালক বলে মনে কর তা হলে তোমার সে-তুলনা খুব ভ্রান্ত হবে না।

    তোমার একথা খুবই সত্য, সক্রেটিস

    এসমস্ত কারণে এরূপ লোকের নিকট দর্শনের ন্যায় মহৎ বিষয়ের কোনো মূল্য হবে না। তার বিরোধী উপদল তার কোনো মর্যাদা দেবে না; কিন্তু দর্শনের সর্বাধিক ক্ষতি তার বিরোধীদের দ্বারা সাধিত হয় না; তার সর্বাধিক ক্ষতি সাধিত হয় তার কৃত্রিম অনুসারীদের হাতে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তুমি বলেছিলে যে, তারা দুরাত্মা কিংবা অপদার্থ জীবে পরিণত হয় এবং আমি সে-অভিযোগকে স্বীকার করেছিলাম।

    তোমার এ-ব্যাখ্যা যথার্থ, সক্রেটিস।

    তা হলে উত্তম কেন অপদার্থ হয় তার ব্যাখ্যাটি তুমি পেয়েছ?

    হ্যাঁ, সে-ব্যাখ্যা আমি পেয়েছি।

    কিন্তু আমি আর-একটু বলব। আমি বলব, দর্শনের ক্ষেত্রে অধিকাংশের এই বিকারকে আমরা এড়াতে পারিনে আর এজন্য পূর্বের দৃষ্টান্তে যেমন বলেছি, দর্শনকে দায়ী করা চলে না।

    অবশ্যই।

    এসো, আমরা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমেই অগ্রসর হই। আমরা বলেছিলাম : যে মহৎ তাকে সর্বক্ষেত্রে সত্যকে অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় সে প্রতারকে পরিণত হবে এবং যথার্থ দর্শনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক থাকবে না। ঠিক নয় কি?

    হ্যাঁ, একথা আমরা বলেছিলাম।

    তাই যদি হয়, তা হলে অন্য গুণের কথা ছেড়ে দিলেও এই গুণের ক্ষেত্রে তার সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার কি সে বিপরীত চরিত্র নয়?

    অবশ্যই।

    তা হলে তার পক্ষে আমরা অবশ্যই বলব, জ্ঞানের যথার্থ যে প্রেমিক তার সর্বক্ষণের লক্ষ্য হচ্ছে ‘সত্য’। সত্যকে সে অন্বেষণ করে। এই সত্যঅন্বেষণই তার স্বভাব। আর সে-কারণে সাধারণের ধারণায় সে তৃপ্ত হতে পারে না। ক্লান্তিহীনভাবে সত্যের সন্ধানে সে অগ্রসর হতে থাকে। আত্মার যে-শক্তিতে অস্তিত্বের যথার্থ সত্য অনুধাবন করা সম্ভব, যে-শক্তি সত্যের নৈকট্যে এবং সাদৃশ্যে ভাস্বর, সত্যের সম্মেলনের যে-শক্তি প্রজ্ঞা এবং যাথার্থ্যের জন্মদান করে সেই শক্তিতে সত্যের সন্ধানী যতক্ষণ-না সকল অস্তিত্বের মূলকে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় ততক্ষণ তার যাত্রার বিরাম নেই, ততক্ষণ তার আত্মার তৃপ্তি নেই।

    তুমি যথার্থ বলেছ, সক্রেটিস।

    এবার তা হলে আমাদের দেখাতে হবে দর্শনের বিকরগুলি কী এবং কী কারণে অধিকসংখ্যক মানুষ দর্শনের ক্ষেত্রে বিকারদুষ্ট হয়ে পড়ে, কী কারণে খুব অল্প সংখ্যকই এই বিকারকে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। আমরা অবশ্য এখন তাদের কথাই বলছি যাদের অপদার্থ বা অকাজের বলা হয়, যারা দুরাত্মা তাদের কথা নয়। এ-অপদার্থদের আলোচনা সম্পন্ন হলে আমরা দর্শনের অনুকারীদের কথা ধরব : কী প্রকারের লোক তারা যারা এমন লক্ষ্যকে সাধন করতে চায় যে-লক্ষ্য তাদের সাধ্যের ঊর্ধ্বে, যার যোগ্য তারা নয়—ফলে যারা দর্শনের গায়ে সংখ্যাহীন অসঙ্গতির কলঙ্ক লেপন করে এবং তাকে সর্বজনীন নিন্দার পাত্র করে তোলে।

    এ্যাডম্যান্টাস বললেন : কী এই বিকারগুলি?

    দেখি, তোমাকে আমি এদের কথা ব্যাখ্যা করে বোঝাতে পারি কি না। একথা তো সত্য, এ্যাডিম্যান্টাস, সর্ব-মহৎগুণ-সমন্বিত যে-চরিত্র আমরা দার্শনিকের ওপর আরোপ করেছি সে-চরিত্র মানুষের মধ্যে খুবই দুষ্প্রাপ্য।

    হ্যাঁ, এমন চরিত্র অবশ্যই দুষ্প্রাপ্য।

    আর এই দুষ্প্রাপ্য চরিত্রকে বিনষ্ট করার জন্য কত সংখ্যাহীন কারণ ক্রিয়াশীল রয়েছে, তাও আমরা জানি।

    কী কারণের কথা বলছ তুমি?

    প্রথমত আমি বলব দার্শনিকদের নিজেদের গুণই অর্থাৎ তাদের সাহস, সংযম এবং অন্য যে-গুণকে আমরা প্রশংসার্হ বলেছি সেই গুণই তাদের আত্মাকে ‘দর্শন’ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে। এটা অবশ্যই বিস্ময়কর ব্যাপার।

    অবশ্যই বিস্ময়কর, সক্রেটিস।

    তারপর দৈনন্দিন জীবনের আকর্ষণ—যেমন সুন্দরের মোহ, সম্পদের কামনা, শক্তির ইচ্ছা, পদের লোভ এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সম্পর্ক—এগুলি রয়েছে। এগুলির বিভ্রান্তিকর প্রভাবের কথা তুমি সহজেই বুঝতে পারবে।

    হ্যাঁ, এগুলোকে আমি বুঝতে পারি। তবুও এ-সম্পর্কে তোমার কাছ থেকে আর-একটু সঠিকভাবে আমি শুনতে চাই।

    এ্যাডিম্যান্টাস, সত্যকে সমগ্রভাবে এবং সঠিকভাবে অনুভব করার চেষ্টা করো। তা হলে আমার পূর্বের অভিমতটি বোঝা তোমার পক্ষে কষ্টসাধ্য হবে না। সে-বক্তব্য তোমার নিকট অদ্ভুত বলেও বোধ হবে না।

    সে কাজ আমি কেমন করে করব?

    কেন, আমরা কি জানিনে যে, উদ্ভিদই বল আর জন্তুই বল, জীবনমাত্রেরই বৃদ্ধির জন্য আবশ্যক হচ্ছে উপযুক্ত পুষ্টি, পরিবেশ এবং জলবায়ু আর এই জীবনের বীজ যত স্বাস্থ্যবান হবে, এই উপাদানের অভাব সে তত বেশি বোধ করবে। কারণ অধম এবং উত্তমের বৈপরীত্য অধম এবং মধ্যমের চেয়ে অধিক। তা হলে উত্তম বীজ যে প্রতিকূল পরিবেশে অধমের চেয়ে অধিকতর খারাপ হবে—সে-অনুমান যুক্তিসঙ্গত।

    হ্যাঁ, এ কথা সত্য।

    তা হলে, এ্যাডিম্যান্টাস, এ-নীতির ভিত্তিতে আমরা কি বলতে পারিনে যে, সবচেয়ে গুণময় যে-চরিত্র সে যদি প্রতিকূল পরিবেশে প্রতিপালিত হয়ে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় তা হলে পরিণামে সে অধিক অধম চরিত্রের লোকে পরিণত হবে? কারণ যত পাপ এবং অপরাধের মনোভাব, তার উদ্ভব কুশিক্ষায় বিনষ্ট চরিত্র থেকে যত, অধম চরিত্র থেকে তত নয়। কারণ, দুর্বল চরিত্রের অধিক ভালো কিংবা মন্দ, কোনটা করারই তেমন ক্ষমতা থাকে না।

    তুমি ঠিক বলেছ, সক্রেটিস।

    আমাদের দার্শনিকের ক্ষেত্রেও এই দৃষ্টান্ত সত্য। দার্শনিকও একটি চারাগাছ সদৃশ। উপযুক্ত পরিবেশ এবং পরিচর্যা পেলে সে সবগুণের আধার হয়ে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে উঠবে। কিন্তু প্রতিকূল ভূমিতে যদি তুমি তাকে বপন কর তা হলে সে সর্বাধিক ক্ষতিকারক বুনো বৃক্ষে পরিণত হয়ে যাবে। তুমি কি মনে কর, যারা বলে, আমাদের যুবকদের বিনষ্টির কারণ হচ্ছে সফিস্টগণ, তাদের অভিমত ঠিক? ব্যক্তিগত শিক্ষকগণ কি যুবকদের চরিত্র মারাত্মকরূপে নষ্ট করতে পারে? যে-জনসাধারণ এরূপ অভিমত পোষণ করে তারাই কি সবচেয়ে বড় সফিস্টের ভূমিকা পালন করে না? তারাই কি আমাদের তরুণ, বৃদ্ধ, নারী, পুরুষ সকলকে তাদের ইচ্ছামাফিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে যেরূপ চরিত্র তাদের আবশ্যক, সেরূপ চরিত্রে তাদের পরিণত করে না?

    কখন তারা এরূপ কার্য সাধন করে, সক্রেটিস?

    যখন তারা সম্মিলিত হয়, সাধারণ সভার যখন অধিবেশন বসে কিংবা বিচারকমণ্ডলীর সভা বসে কিংবা রঙ্গালয়ে বা শিবিরে সকলে সমাগত হয় তখন। তখন কেউ যদি কিছু বলে এবং তা জনতার পছন্দসই হয় তা হলে চারদিকে তুমুল কলরোলের সৃষ্টি হয়, করতালি ধ্বনিত হয়। প্রশংসার সে-ধ্বনি চারিপার্শ্বের প্রস্তরগাত্রে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দ্বিগুণ শক্তিতে প্রতিধ্বনিত হয়। যা তাদের নিন্দার্হ তাকেও তারা এমনি করে নিন্দার ধ্বনিতে নিমজ্জিত করে দেয়। প্রশংসা এবং নিন্দা—উভয়ের প্রকাশ বিপুল আকার গ্রহণ করে। এমন অবস্থায় কোনো তরুণের অন্তর কি উৎফুল্ল না হয়ে পারে? জনমতের এরূপ প্রবল স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার মতো শক্তি যোগানো কোনো ব্যক্তিগত শিক্ষকের পক্ষে কি সম্ভব? উত্তম কিংবা অধমের বিষয়ে এরূপ জনতার যে-অভিমত, তরুণরাও কি সেই অভিমতই পোষণ করবে না? তারা যেরূপ আচরণ করবে একটি তরুণও তো সেরূপ আচরণই করবে? এবং এই জনতা যেরূপ, তরুণরাও সেরূপই হবে। ঠিক নয় কি?

    অনিবার্যভাবে তারা তা-ই হবে।

    অনিবার্যতার কথা যদি বল, তা হলে এর চেয়েও বড় অনিবার্যতা আছে যার কথা আমি এখনও উল্লেখ করিনি।

    কী সে অনিবার্যতা?

    কলঙ্ক, বাজেয়াপ্তি এবং মৃত্যুর অনিবার্যতা। এই জনতাই হচ্ছে শিক্ষক। এই জনতাই হচ্ছে নূতন সফিস্ট। অপরকে বশ করতে তাদের হর্ষধ্বনি যখন শক্তিহীন হয়ে পড়ে, তখন তারা অবাধ্যের উপর কলঙ্ক লেপন করে, তার ধনসম্পদ বাজেয়াপ্ত করে কিংবা তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে।

    হ্যাঁ, তা-ই তারা করে। এবং এ ক্ষেত্রে তারা নির্মম।

    কোনো সফিস্ট বা ব্যক্তিগত শিক্ষকই কি প্রতিযোগিতায় এই জনতাকে অতিক্রম করতে পারে?

    না, তা পারে না।

    কেউই এদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পারে না। জনমতের বাইরে ভিন্নতর শিক্ষায় ভিন্নতর চরিত্র গঠন করা কারোর পক্ষেই সম্ভব নয়। সেরূপ চেষ্টা করা মূর্খতার নামান্তর বই আর কিছু নয়। অলৌকিক ক্ষমতার কথা না ধরলে, মানুষের সাধ্যের ভিত্তিতে বললে, এরূপ কখনো সম্ভব হয়নি এবং কখনো হবে না। এ্যাডিম্যান্টাস, একটি কথা ভুলে যেও না। আমাদের বর্তমান সমাজব্যবস্থায় কারোর পক্ষে বিপদকে এড়িয়ে ন্যায়পথে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হওয়া যথার্থই অলৌকিক ঘটনা।

    তোমার কথা ঠিক, সক্রেটিস।

    তা হলে আর-একটি বিষয়ও তোমাকে স্বীকার করতে হয়।

    কী?

    প্রশ্ন হচ্ছে, জনতা যাদের ভাড়াটে শিক্ষক বলে, যাদের তারা সফিস্ট বলে অভিহিত করে এবং নিজেদের প্রতিপক্ষ বলে গণ্য করে, তারা কেন এই জনতা বা সংখ্যাধিকের অর্থাৎ তাদের সাধারণ সভার পছন্দসই অভিমতকেই শিক্ষা দেয়? এই সফিস্টরা জনতার অভিমতকেই নিজেদের অভিজ্ঞান বলে মনে করে। কিন্তু কেন? এদের তুমি সেই মানুষের সঙ্গে তুলনা করতে পার যে একটা বিরাটাকার হিংস্র পশুকে পালন করছে। এ হচ্ছে সেই পশুর পালক। এই পালক তাকে আহার করায়। তার আচরণকে সে পর্যবেক্ষণ করে। কেমন করে তার সঙ্গে ঘেঁষা যায় তা সে অধ্যয়ন করে। কিসে সে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, কিংবা কিসে খুশি হয়ে ওঠে কিংবা তার কোন্ গর্জনের কী অর্থ এবং কোন্ আওয়াজে সে শান্ত হয় এবং কোন্ আওয়াজে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে—এ-সবকিছুতে এই লোক অভিজ্ঞ হয়ে ওঠে। এই হিংস্র পশুর পালনে সে যখন দক্ষ হয়ে উঠেছে তখন তার এই ক্ষমতাকে সে জ্ঞান বলে অভিহিত করে এবং এই জ্ঞানকে সে শিল্প এবং কলারূপে মানুষকে শিক্ষা দিতে শুরু করে। তবু যথার্থভাবে সে কিন্তু জানে না, এই হিংস্র পশুর কোন্ রুচি বা ইচ্ছা ভালো কিংবা মন্দ, ন্যায় কিংবা অন্যায়, উপকারক কিংবা ক্ষতিকারক। তার যা জ্ঞান তা শুধু এই পশুটার প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে। যাতে পশু খুশি হয় তা এই ‘জ্ঞানীর’ কাছে ভালো এবং যাতে পশু ক্ষিপ্ত হয় তাকেই সে বলে মন্দ। এ শিক্ষকের বিচারের আর কোনো মানদণ্ড নেই। পশুর প্রয়োজনই এর ন্যায়-অন্যায়, ভালোমন্দ বিচারের মানদণ্ড। ন্যায়-অন্যায়ের যথার্থ পার্থক্য সম্পর্কে সে জ্ঞানহীন। এমন শিক্ষককে অবশ্যই তুমি একজন অদ্ভুত শিক্ষক বলবে। নয় কি?

    অবশ্যই সে একজন অদ্ভুত শিক্ষক।

    তা হলে যে মনে করে বিচিত্র জনতার রুচি এবং মেজাজ বোঝাটাই হচ্ছে জ্ঞান; চিত্রকলা, সঙ্গীত এবং সর্বোপরি রাজনীতিতে জনতার মনমেজাজ বুঝতে পারাই হচ্ছে জ্ঞান, তার সঙ্গে আমাদের একটু পূর্বে বর্ণিত শিক্ষকের কী পার্থক্য? কারণ, কোনো অনিবার্যতা ব্যতিরেকেই কেউ যখন তার কাব্য কিংবা কলা কিংবা রাষ্ট্রীয় সেবার নমুনা নিয়ে এই জনতার দরবারে হাজির হয় যেন জনতাই তার বিচারক, তখন পরিণামে ডায়োমিডের* অনিবার্যতা জনতার যা মনোরঞ্জক কেবলমাত্র সেই কর্ম সাধনেই তাকে বাধ্য করবে। আর এরূপ মনোরঞ্জক-সৃষ্টির যথার্থ কোনো গুণ আছে, একথা কেউ কি কখনো গুরুত্বসহকারে প্রমাণ করতে পেরেছে?

    [* গ্রীসীয় পুরাণের থ্রেসের রাজা ডায়োমিড। ডায়োমিড তার অশ্বকে নরমাংস খেতে দিত এবং প্রতিরোজ প্রজাদের একজনকে ধরে এনে অশ্বের জন্য হত্যা করত। কেবলমাত্র হারকিউলিসই ডায়োমিডকে পরাভূত করতে পেরেছিল। হারকিউলিস ডায়োমিডকে পরাভূত করে তারই নরখাদক অশ্বের সামনে নিক্ষেপ করলে অশ্ব তাকে ভক্ষণ করে ফেলে।]

    না, কেউ পারেনি। আর আমি পারব, এমনও আমি মনে করিনে।

    আমি যা এতক্ষণ বলেছি তার যথার্থতা তুমি তা হলে স্বীকার করছ এ্যাডিম্যান্টাস? তা হলে আর-একটি বিষয়ও ভেবে দ্যাখো। এই যদি হয় অবস্থা, তা হলে জনতাকে কারও পক্ষে কি একথা বিশ্বাস করানো কখনো সম্ভব হবে যে, সুন্দরের বৈচিত্র্য নয়, একমাত্র পরম সুন্দরই অস্তিত্বময়, কিংবা যে-কোনো সৃষ্টির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যের অন্তর্নিহিত একক সত্তাই হচ্ছে অধিকতর সত্য?

    না, তাদের এ-বিশ্বাস উৎপাদন করা সম্ভব হবে না।

    তা হলে জনতা দার্শনিক হবে—একথা চিন্তা করা অসম্ভব?

    হ্যাঁ, এ অসম্ভব।

    তা হলে দার্শনিকরা অনিবার্যভাবেই জনতা দ্বারা নিন্দিত হবে?

    তা-ই হবে।

    শুধু জনতা নয়, যেসব ব্যক্তি জনতার অনুগমন করে এবং তাকে খুশি রাখতে উদ্‌গ্রীব থাকে তাদের কাছেও দার্শনিক নিন্দার পাত্র।

    তাও পরিষ্কার।

    তা হলে এমন কী পথ আছে যে-পথে দার্শনিক তার জ্ঞানের চর্চায় অবিচল থাকতে পারে? দার্শনিকের যে-গুণ আমরা স্থির করেছিলাম সে-গুণের কথা নিশ্চয়ই তুমি ভুলে যাওনি। আমরা বলেছিলাম, তার যেমন বুদ্ধির প্রাখর্য, স্মৃতির শক্তি এবং সাহস থাকতে হবে, তেমনি তাকে উদারহৃদয়ও হতে হবে। দার্শনিকের এই হবে যথার্থ গুণ।

    হ্যাঁ, একথা আমার মনে আছে।

    এরূপ যে-ব্যক্তি সে তো তার শৈশব থেকে সর্বক্ষেত্রেই প্রথম হবে। বিশেষ করে তার শারীরিক গুণ যদি মানসিক গুণের অনুরূপ হয় তা হলে এমন কৃতিত্ব সে স্বাভাবিকভাবেই অর্জন করবে। ঠিক নয় কি?

    হ্যাঁ, অবশ্যই ঠিক।

    এবং এরা যত অধিক বয়ঃপ্রাপ্ত হবে তত তার সুহৃদ এবং সহনাগরিকগণ তার গুণাবলীকে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে চাইবে।

    নিঃসন্দেহে।

    তারা সকলে তার সম্মুখে নতজানু হয়ে তাকে অনুরোধ করবে, তাকে স্তোকবাক্যে তৃপ্ত করতে চাইবে। কারণ, যে শক্তি সে অর্জন করেছে, যা একদিন সমগ্রভাবে তার করায়ত্ত হবে তার উপকার তারাও লাভ করতে চাইবে।

    পৃথিবীর এটাই রীতি।

    এরূপ অবস্থায় এমন তরুণ কী করবে? বিশেষ করে সে যদি একটি বৃহৎ নগরীর নাগরিক হয়, যদি সে ধনবান এবং অভিজাত বংশীয় হয়, তা হলে তার মনে কীরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে? তার মনে সীমাহীন আকাঙ্ক্ষার উদ্ভব হবে। গ্রীসীয় নগরী এবং বর্বর জাতি সকলকেই সে শাসন করতে পারে, এই মনোভাব তার মধ্যে সৃষ্টি হবে। এবং এই মনোভাব পোষণ করে সে নিজেকে অসীম শক্তির আধার মনে করবে এবং অসার আড়ম্বর এবং গর্বে স্ফীত হয়ে উঠবে।* ঠিক নয় কি?

    [* অনেকে মনে করেন প্লেটোর এই মন্তব্যের লক্ষ্য হচ্ছেন এ্যালসিবিয়াডিস। এ্যালসিবিয়াডিস (খ্রিঃ পূঃ ৪৫০-৪০৪) ছিলেন এথেন্সের অন্যতম জননেতা এবং সামরিক অধিনায়ক। তাঁর জীবন ছিল ঘটনাবহুল। পিলোপনেশীয় যুদ্ধে এ্যালসিবিয়াডিস অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে একবার সক্রেটিস তাঁর জীবনরক্ষা করেন। উচ্চাকাঙ্ক্ষী এ্যালসিবিয়াডিস ক্ষমতার দ্বন্দ্বে একাধিকবার এথেন্সের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষীয় রাষ্ট্রের সঙ্গেও যোগদান করেন।]

    নিশ্চিতরূপেই সে এরূপ করবে।

    এ্যাডিম্যান্টাস, এখন মনে করো, তার মনের এমনি অবস্থায় কেউ তার কাছে গিয়ে বিনম্রভাবে সত্য কথাটি বলল। তাকে বলল, তার যথার্থ জ্ঞানের অভাব আছে। তাকে সেই জ্ঞান লাভ করতে হবে। এবং জ্ঞানের দাস হয়ে সাধনা না করলে এই জ্ঞান সে লাভ করতে সক্ষম হবে না। এরূপ যদি তাকে বলা হয়, তুমি কি মনে কর এরূপ প্রতিকূল অবস্থায় তার পক্ষে সত্যকে গ্রহণ করা সহজ হবে?

    না, তার পক্ষে এ-কাজ আদৌ সহজ হবে না।

    এমনকি তার সহজাত গুণ এবং স্বাভাবিক যুক্তিবোধের কারণে তার সত্যদৃষ্টি যদি ঈষৎ উন্মুক্তও হয় এবং দর্শনের প্রতি যদি সে আকৃষ্ট হয় তা হলে তার সেই বন্ধুগণ যখন দেখবে তারা তার কাছ থেকে যে-সুবিধা লাভের আশা করেছিল সে-আশা বিনষ্ট-প্রায় তখন তার প্রতি তাদের ব্যবহার কীরূপ হবে বলে তুমি মনে কর? তারা কি তখন তাকে সর্বপ্রকারে সত্যের দর্শন এবং তার শিক্ষার প্রভাব থেকে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে না? আর এই উদ্দেশ্যসাধনে তারা গোপন ষড়যন্ত্র কিংবা প্রকাশ্য বিচার এবং দণ্ডদান—কোনো পন্থা গ্রহণ থেকেই বিরত থাকবে না। ঠিক নয় কি?

    এ-সম্পর্কে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই সক্রেটিস।

    কিন্তু যে এমনি করে প্রতিরুদ্ধ তার পক্ষে কি দার্শনিক হওয়া সম্ভব?

    না সক্রেটিস, তা সম্ভব নয়।

    তা হলে আমরা যখন বলেছিলাম, যে-গুণে একজন মানুষ দার্শনিক হতে পারে সে-গুণেরও যদি সুশিক্ষা না ঘটে, তা হলে ধনসম্পদ কিংবা অপর জাগতিক আকর্ষণ যেমন তাকে তার সঠিক পথ থেকে ভ্রষ্ট করতে পারে, তেমনি পারে তার এই সকল গুণও, তখন কি আমরা সঠিক কথাই বলিনি?

    হ্যাঁ, আমরা সঠিক কথাই বলেছিলাম।

    প্রিয় বন্ধু, তা হলে দেখতে পাচ্ছ সর্বগুণে গুণান্বিত যে-চরিত্র, যে-চরিত্র বলতে গেলে দুর্লভ, সে-চরিত্রও এমনিভাবে বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে। এবং এরূপ গুণী চরিত্র একদিকে যেমন সমাজ এবং ব্যক্তির সর্বাধিক ক্ষতিসাধন করতে পারে, তেমনি আবার মঙ্গলসাধনের ইচ্ছা থাকলে সে সমাজের সর্বাধিক মঙ্গলও সাধন করতে পারে। যে-চরিত্র ক্ষুদ্র, দুর্বল, গুণহীন তার মঙ্গল কিংবা অমঙ্গল কোনোকিছু সাধনেরই ক্ষমতা থাকে না।

    খুবই যথার্থ কথা।

    তা হলে এ্যাডিম্যান্টাস, আমাদের দার্শনিক কিংবা বলি ‘দার্শনিকা’ এখন পরিত্যক্ত। যে-বিবাহঅনুষ্ঠানের সূচনা ঘটেছিল সে-অনুষ্ঠান অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। কারণ তার প্রেমাস্পদগণ তাকে বিস্মৃত হয়েছে। তারা যখন দর্শনকে পরিত্যাগ করে অসত্য অসম্মান এবং অযোগ্যের জীবনযাপন করছে তখন হীনতর লোক তাকে অরক্ষিতা দেখে তার বাসগৃহে প্রবেশ করে তাকে অসম্মানিত করে যাচ্ছে। এখন নিন্দুকরা দর্শনের গায়ে নানা অপবাদের মোড়ক মুড়ে দিচ্ছে। তারা বলছে দর্শনের যারা সঙ্গী তাদের এক অর্ধেক অপদার্থ, অপর অর্ধেক নরাধম, দুরাত্মা।

    হ্যাঁ, দর্শনের বিরুদ্ধে এমন অপবাদই সচরাচর দেওয়া হয়।

    এর অন্যথা তুমি আশা করতে পার না। কারণ দর্শনের ন্যায় মহৎ নামের ঔজ্জ্বল্যে উজ্জ্বল একটি ক্ষেত্রকে উন্মুক্ত এবং অবারিত দেখতে পেয়ে বন্দিশালার শেকলভাঙা অপরাধীর ন্যায় হীনতর ক্ষেত্রের দক্ষ লোকগুলো সব যখন দলেদলে তাকে একটি অরক্ষিত মন্দিরের ন্যায় দখল করে ফেলে তখন তুমি তার সম্পর্কে এমন অপবাদ ছাড়া আর কী আশা করতে পার? কারণ দর্শনের অপব্যবহার যা-ই থাকুক-না কেন, অপর কোনো ক্ষেত্রের চেয়ে দর্শন এখনও উচ্চতর সম্মান বহন করে। আর এরই আকর্ষণে পতঙ্গের মতো, দৈহিক পীড়নে বিকলাঙ্গ ওদের দেহের ন্যায়, যান্ত্রিক জীবনের পীড়নে বিকৃতমনের অধিকারী এই হীন চরিত্রগুলো দর্শনের দিকে ধেয়ে আসে। আর তারই ফলে দর্শনের এই পরিণতি ঘটে। ঠিক নয় কি?

    হ্যাঁ, ঠিক সক্রেটিস।

    এরা সব সেই কয়েদখানা থেকে ছাড়-পাওয়া মুণ্ডিতমস্তক ক্ষুদ্রকায় ঝালাইকারের ন্যায়, যার হাতে বেশ অর্থ এসে গেছে এবং যে সেই অর্থ দিয়ে বরের ন্যায় নূতন পোশাকে নিজেকে আচ্ছাদিত করে তার দুর্দশাগ্রস্ত মনিবের কন্যাকে বিয়ে করতে উদ্যত হয়েছে।

    সক্রেটিস, এর চেয়ে সঠিক উপমা আর কিছু হতে পারে না।

    কিন্তু এমন মিলন থেকে কী সন্তান জাত হবে? এদের যে-সন্তান হবে তারা অবশ্যই ঘৃণ্য এবং অবৈধ হবে। নয় কি?

    নিঃসন্দেহে।

    ঠিক তেমনি, যারা শিক্ষার অযোগ্য তারা তখন দর্শনের আশ্রয় নেয় এবং যে-দর্শন তাদের স্তরের চেয়ে উচ্চতর স্তরের, সে-দর্শনের সঙ্গে ভাবগত সম্পর্ক স্থাপন করে তখন এই সম্পর্কে কী ভাব এবং অভিমতের সৃষ্টি করতে পারে? সে-ভাব অবশ্যই শ্রবণের জন্য আকর্ষণীয়, কিন্তু জ্ঞানের সঙ্গে যথার্থ কোনো সাদৃশ্যশূন্য ভ্রান্ত যুক্তিজাল ব্যতীত অপর কিছু হতে পারে না। তুমি কী বল?

    খুবই সত্য কথা।

    এ্যাডিম্যান্টাস, তা হলে আমরা দেখতে পাচ্ছি দর্শনের যথার্থ অনুসারীর সংখ্যা খুব কমই হবে। যে-কতিপয় তার যথার্থ অনুসারী হবে তাদের মধ্যে হয়তো থাকবে সুশিক্ষিত অভিজাত কোনো ব্যক্তি, দেশ সেবার কারণে যে নির্বাসিত হয়েছে এবং দূষিত আবহাওয়ার বাইরে থাকার জন্য যার পক্ষে দর্শনের প্রতি অনুগত থাকা সম্ভব হয়েছে; এবং দূষিত কোনো নগরীর মধ্যেও মহৎ আত্মা যে রাজনীতিকে ঘৃণা করে এবং তার প্রতি যে ভ্রূক্ষেপহীন। এ ছাড়া ধীশক্তিসম্পন্ন যারা কূটকলাকে ঘৃণা করতে সক্ষম হয়েছে তারাও দর্শনের আশ্রয়ে এসে মিলিত হতে পারে। আমার বন্ধু থিজেস্-এর ন্যায়ও কেউ থাকতে পারে যার দর্শন পরিত্যাগের আকর্ষণ ছিল বহু, কিন্তু দেহের অসুস্থতার কারণে রাজনীতিতে যোগদান যার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। আমার নিজের কথা হিসাবে আনছিনে। আমার ভেতরে একটি ঐশ্বরিক হুঁশিয়ারি আছে যা হয়তো অপর কারুর মধ্যে নেই।* অতি অল্পসংখ্যক যাদের কথা আমরা উল্লেখ করলাম তারা যখন দর্শনের আনন্দ উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় এবং জনতার উন্মত্ততাকে প্রত্যক্ষ করে তখন তারা সম্যকভাবে বুঝতে পারে, রাজনীতির মধ্যে কোনো সুস্থতা নেই, ন্যায়ের সংগ্রামে রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে তাদের পাশে এসে কেউ দাঁড়াবে না। তারা যদি দুরাচারের স্রোতে নিজেরা যোগদান না করে, আর যখন নিঃসঙ্গভাবে ন্যায়ের সংগ্রাম পরিচালনে তারা সক্ষম নয়, তখন হিংস্র পশুর মুখে নিক্ষিপ্ত অসহায় ব্যক্তির ন্যায় সুহৃদ কিংবা সমাজ কারও কোনো উপকারসাধন করার পূর্বেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া ব্যতীত তাদের গত্যন্তর নেই। এই উপলব্ধি নিয়ে তারা নীরব এবং নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করে। তাদের এ-জীবন যাপনকে তুলনা করা চলে সেই পথিকের সঙ্গে যে ধূলিঝড় এবং শিলাপাতে আক্রান্ত হয়ে একটি প্রাচীরের পাশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। তারা দেখছে, জগৎ অন্যায় কর্মে পূৰ্ণ। তাদের কামনা, যেন তারা এই অন্যায়ের স্রোতে ভেসে না যায়, অন্যায়ের স্পর্শশূন্য হয়ে জীবন ধারণ করে পরিশেষে আনন্দ এবং আশাপূর্ণ চিত্তে এ-পৃথিবী থেকে যেন তারা তাদের যাত্রা শুরু করতে পারে।

    [ঐশ্বরিক হুঁশিয়ারি : আমরা একে সক্রেটিসের বিশেষ বিবেক বলে মনে করতে পারি। সক্রেটিস তাঁর ‘জবানবন্দিতে’ বিচারকদের লক্ষ্য করে এই ঐশ্বরিক শক্তির উল্লেখ করে বলেছিলেন : “যে-ঐশিক শক্তি আমার অন্তর্বাণীর উৎস সে… আমার বিন্দুমাত্র পদস্খলন কিংবা ভ্রান্তি থেকে আমাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছে।” –সক্রেটিসের জবানবন্দি : প্লেটোর সংলাপ : সরদার ফজলুল করিম, পৃ. ৩৯, প্রথম সংস্করণ।]

    এ্যাডিম্যান্টাস বললেন : তাদের এ-নীতিও কম মহৎ নয়। তাদের এ কাজের মূল্যও অনেক।

    হ্যাঁ, তাদের এ-দানও কম নয়। কিন্তু উপযুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্রে তাদের গুণের পূর্ণতর বিকাশ ঘটতে পারত। আর সে-বিকাশে তার নিজের এবং সমাজের মুক্তি সাধনে সক্ষম হত। যাহোক, দর্শনের দুর্নামের কারণ এবং এ-দুর্নাম যে অন্যায় সে সম্পর্কে আমরা যথেষ্ট আলোচনা করেছি। এ-সম্পর্কে তোমার কি আর কিছু বলার আছে?

    না সক্রেটিস, আমার এ-বিষয়ে যোগ করার কিছু নেই। আমি জানতে চাচ্ছি প্রচলিত সরকারের মধ্যে কোনটিকে তুমি দর্শনের জন্য উপযুক্ত বলে গণ্য কর।

    আমি বললাম : না, প্রচলিত কোনো রাষ্ট্রই দর্শনের উপযুক্ত নয়। আমার অভিযোগও সেখানেই। এদের কোনো রাষ্ট্রই দর্শনের স্বভাবের যোগ্য নয়। তাই দর্শনের চরিত্র এখানে বিদেশী জমিতে উপ্ত বীজ থেকে জাত চারার ন্যায় বিকৃত এবং পরিবর্তিত হয়ে যায়। দর্শন এখানে তার সঠিক চরিত্র হারিয়ে ফেলে এবং এর স্বভাবের বহির্ভূত বৈশিষ্ট্য তার স্বভাবের অঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু নিজের সর্বোত্তম চরিত্র অনুযায়ী আদর্শ রাষ্ট্রের পরিবেশ লাভে সক্ষম হলে দর্শন যে যথার্থই ঐশ্বরিক এবং অপর যা-কিছু চরিত্র বা সংগঠন সব যে কেবলমাত্র সাধারণ মানবিক, সে সত্য সকলের নিকট স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আমি বুঝতে পারছি, এ্যাডিম্যান্টাস, তুমি হয়তো আমাকে এর পরে জিজ্ঞেস করবে সেই আদর্শ রাষ্ট্রটি কীরূপ?

    এ্যাডিম্যান্টাস বললেন : না সক্রেটিস, তোমার সে-ধারণা ভুল। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছিলাম, আমরা যে-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করছি, কিংবা বলো যে-রাষ্ট্রকে আমরা আবিষ্কার করছি, তোমার আদর্শ রাষ্ট্র কি সেই রাষ্ট্র? না অপর কোনো রাষ্ট্রের কথা তুমি বলতে চাচ্ছ?

    আমি বললাম : হ্যাঁ, প্রায় সর্বক্ষেত্রে তা-ই। কিন্তু একটি বিষয় আমাদের স্মরণ রাখতে হবে। আমরা বলেছিলাম, আমাদের এ-রাষ্ট্রের এমন একটি লোকের আবশ্যক হবে যে বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমরা যে-ধারণা পোষণ করি সেরূপ ধারণাই সে পোষণ করে।

    হ্যাঁ, একথা আমরা বলেছিলাম।

    হ্যাঁ, কিন্তু আমরা তখন সন্তোষজনকভাবে বলতে পারিনি। কারণ তুমি আপত্তি তুলে আমাদের ভীত করে তুললে। আলোচনা দীর্ঘ এবং কঠিন হবে বলেই তখন আমাদের ধরণা হল। কিন্তু সে আলোচনার যা অবশিষ্ট রয়েছে তাও কঠিন বই সহজ নয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার
    Next Article প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026
    Our Picks

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 9, 2026

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }