Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 9, 2026

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    সরদার ফজলুল করিম এক পাতা গল্প669 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫. ন্যায়ের সংজ্ঞা এখনও স্থির হয়নি

    অধ্যায় : ৫ [৩৫৭-৩৬৭]

    ন্যায়ের সংজ্ঞা এখনও স্থির হয়নি

    কিন্তু ন্যায় কিংবা ধর্ম যথার্থভাবে কী, তার সংজ্ঞা এখনও স্থির হয়নি। এ-পর্যন্ত যে-আলোচনা হয়েছে, তাকে কেবল ভূমিকা বলা চলে। সমস্যাটির গভীরতার ইঙ্গিতমাত্র। যে-ব্যাপক অনুসন্ধান এজন্য চালাতে হবে, তার আভাস। এ্যাসিমেকাসের তত্ত্বকে কেবল প্রতিযুক্তি দিয়ে আপাতভাবে অসার প্রতিপন্ন করা কঠিন নয়। কিন্তু প্লেটো জানেন যে, সে-তত্ত্বের মূল সমাজের মধ্যে। কাজেই সমাজ ও রাষ্ট্রের চরিত্রের বিশ্লেষণ বাদে—অর্থাৎ জ্ঞানের সামগ্রিক পটভূমির ভিত্তিতে তত্ত্বের বিচার না করলে এ তত্ত্বকে মূলগতভাবে খণ্ডন করা যাবে না। সক্রেটিস বুঝতে পারছেন, পরিহাসময় যুক্তি এবং প্রতিযুক্তির লড়াই-এর চেয়ে গুরুতরভাবে চিন্তা এবং বিশ্লেষণের সময় এসেছে।

    আলোচনার এই অবস্থারই প্রকাশ ঘটেছে সক্রেটিসের তরুণ শিষ্য গ্লকন এবং এ্যাডিম্যান্টাসের প্রস্তাবনায়। গ্লকন বা এ্যাডিম্যান্টাস এ্যাসিমেকাসের মতো উগ্র কিংবা প্রচলিতের বিরোধী নন। তাঁরা দুজনেই বিশ্বাস করেন, ন্যায় অন্যায় এবং অধর্মের চেয়ে উত্তম। ন্যায় শুধু সামাজিক একটা রীতিমাত্র নয়। ন্যায় শক্তিমান কিংবা সমাজের উপর অপর কারোর চাপিয়ে দেওয়া প্রথা, একথা তাঁরা বিশ্বাস করেন না। কিন্তু থ্র্যাসিমেকাসকে যুক্তির ধারে খণ্ডিত করাতেই তো ন্যায়ের সেই যথার্থ সত্তার প্রতিষ্ঠা হয় না। কিংবা কেবল নেতিবাচকভাবে তাকে অনুধাবন করা চলে না। তাই সক্রেটিসের কাছে গ্লকনের প্রশ্ন : “সক্রেটিস, ন্যায়, অন্যায়ের চেয়ে সর্বদাই উত্তম, একথা কি তুমি যথার্থই আমাদের যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চাও, না কেবলমাত্র বোঝাবার ভান করতে চাও?’ সক্রেটিসের নিকট তাঁদের দাবি, ন্যায় যে কেবল জাগতিকভাবে অন্যায়ের চেয়ে ব্যক্তির জন্য লাভজনক, সুতরাং সে উত্তম—একথা বলা যথেষ্ট নয়। সক্রেটিসকে প্রমাণ করতে হবে, ন্যায় ব্যক্তির লাভ-লোকসান ব্যতিরেকেই সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি, অস্বীকৃতি, দণ্ড বা দান ব্যতীতই আপন সত্তায় সর্বোত্তম। সক্রেটিস স্বীকার করেন, এরূপ গুরুতর দাবিকে আর পরিহাস দিয়ে স্তব্ধ করা যায় না। এবার তাঁকে যথার্থই সত্যের অনুসন্ধানে যাত্রা করতে হবে। তাই এখন প্রয়োজন কেবল সমালোচনা এবং ধ্বংসের নয়। প্রয়োজন সমস্যার বিশ্লেষণের এবং গঠনের।

    ন্যায় মানুষের তৈরি, সমাজের সৃষ্টি এই ‘অভিনব’ তত্ত্বের আক্রমণের রেশ এখনও কাটেনি। গ্লকন তারই জের হিসাবে সামাজিক চুক্তি বা সামাজিক সৃষ্টির এই তত্ত্বটি, আলোচনার শুরুতে আবার তুলে ধরলেন। তাঁর বক্তব্য হচ্ছে সকল সামাজিক আচার-আচরণ নীতিবোধ যা ব্যক্তির উপর রাষ্ট্র বা সমাজ আরোপ করে তার মূলে যেমন মানুষের বুদ্ধি ক্রিয়া করে, তেমনি মানুষের ইচ্ছার ভিত্তিতে তা অনুসৃত বা পালিত হয়। কাজেই এদের উদ্ভাবন এবং প্রয়োগ—উভয়েই মানুষের হাতে। মানুষ-নিরপেক্ষভাবে এই ন্যায়নীতির কোনো অবিচল অস্তিত্ব নেই। আর সাধারণ বিধানের ন্যায় মানুষই একে প্রণয়ন করে এবং প্রয়োজনবোধে একে মানুষই পরিবর্তন করে। এই সমস্ত রীতিনীতি আচরণের প্রবর্তন এবং প্রয়োজন এই কারণে যে, এদের একেবারে লোপ করে দিলে মানুষ তার প্রবৃত্তিতে এত উদ্দাম হয়ে উঠবে যে, এ্যাসিমেকাসের কথাই সত্য হয়ে দাঁড়াবে : মানুষের যার যেমন শক্তি সে তেমনি অন্যায় করার চেষ্টা করবে। গ্লকনের এরূপ উপস্থাপনার মধ্যে সমাজ এবং রাষ্ট্রগঠনে অর্থাৎ তার ন্যায়, নিয়ম, নীতির গঠনে সামাজিক চুক্তিমূলক তত্ত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। এ্যাডিম্যান্টাস গ্লকনের সঙ্গে যোগ দিয়ে সামাজিক ক্ষেত্রে ন্যায়কে যে মানুষ কেবল লাভের উপায় বলে বিবেচনা করে তার উল্লেখ করেন। গ্লকন এবং এ্যাডিম্যান্টাস—উভয়ের দাবি হচ্ছে, সক্রেটিসকে প্রমাণ করতে হবে যে, এই সামাজিক সৃষ্টি, অনুশাসন, লাভ-লোকসান,গোচর,অগোচর নিরপেক্ষভাবেই ন্যায় অস্তিত্বময় এবং উত্তম। গ্লকনের পরে এ্যাডিম্যান্টাস তাঁর সুদীর্ঘ প্রস্তাবনাশেষে বললেন : “আর সে-কারণেই আমার দাবি হচ্ছে, সক্রেটিস, তোমাকে শুধু একথা বললেই হবে না যে ন্যায় অন্যায়ের চেয়ে শ্রেয়। তোমাকে প্রমাণ করতে হবে, মানুষ কিংবা দেবতার জ্ঞানে বা অজ্ঞানে কোন্ পরিফলের কারণে ন্যায় পুণ্য বলে বিবেচিত এবং অন্যায়ের কোন্ পরিফলের কারণে অন্যায় পাপ বলে পরিগণিত।” [৩৬৭]

    .

    আমি শেষের কথাগুলো বলতে বলতে ভাবছিলাম যে আমাদের আলোচনার এখানেই সমাপ্তি ঘটবে। কিন্তু একটু পরেই বুঝতে পারলাম, যেটাকে আমি সমাপ্তি ভেবেছিলাম সেটা আসলে আর এক কিস্তি তর্কের সূচনা বই অপর কিছু ছিল না। গ্লকন সব সময়েই তর্কপ্রিয়। তাই এ্যাসিমেকাসের আত্মসমর্পণটিকে তিনি তেমন খুশির সঙ্গে গ্রহণ করতে পারেননি। এ্যাসিমেকাসের ওপর তিনি দস্তুরমতো অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। তর্কের লড়াইটাকে শেষ পর্যন্ত না দেখে তিনি ছাড়বেন না, এই ছিল তাঁর মনোভাব। এবার আমাকে লক্ষ্য করে তিনি বললেন : সক্রেটিস, ন্যায় অন্যায়ের চেয়ে সর্বদাই উত্তম, একথা কি তুমি যথার্থ‍ই আমাদের যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চাও, না কেবলমাত্র বোঝাবার ভান করতে চাও?

    আমি বললাম, আমার ক্ষমতায় যদি কুলোয় তা হলে, যথার্থই আমি তোমাদের একথাটি বোঝাতে চাই।

    আমার জবাবে গ্লকন বললেন, সক্রেটিস, তা হলে আমি বলব যে, সে-উদ্দেশ্যে তুমি আদৌ সফল হওনি। আমি তোমাকে একটি প্রশ্ন করছি। তুমি বলো, যে-সমস্ত বস্তুকে আমরা উত্তম বলি, তাদের মধ্যেও কি প্রকারভেদ নেই? একথা কি সত্য নয় যে ফলাফলের প্রশ্ন ব্যতিরেকেও কোনো কোনো বস্তুকে আমরা উত্তম বলি? যেমন ধরো, নির্দোষ আমোদ-প্রমোদ। নির্দোষ আমোদ-প্রমোদ আমাদের ভোগের মুহূর্তে আনন্দ দেয় ঠিকই, কিন্তু তার পরিণতি তেমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ নয়। পরিণামে নির্দোষ আমোদ-প্রমোদ থেকে আমরা কিছুই লাভ করিনে। তথাপি নির্দোষ আমোদ-প্রমোদকে আমরা উত্তম বলেই বিবেচনা করি।

    আমি বললাম, এরূপ উত্তমও যে হতে পারে, তা আমি স্বীকার করছি।

    গ্লকন বললেন, আবার এমন বস্তুও আছে যা শুধু তার নিজের কারণেই উত্তম নয়, তার পরিণতি বা পরিফলের কারণেই সে উত্তম। যেমন ধরো, জ্ঞান, দৃষ্টিশক্তি কিংবা স্বাস্থ্য। এরা কেবল নিজেদের কারণেই উত্তম বা কাম্য নয়। এরা উত্তম এদের পরিফলের জন্য। ঠিক নয় কি?

    আমি বললাম : অবশ্যই।

    গ্লকন বললেন : তা ছাড়া একটি তৃতীয় শ্রেণীর কথাও তোমার স্বীকার করতে হয়, যেমন ধরো ব্যায়াম, রোগীর সেবা এবং নিরাময়কৌশলের কথা। এ ছাড়াও রয়েছে অর্থোপার্জনের নানা কৌশল। এরা আমাদের নানা উপকারে আসে সন্দেহ নেই। তথাপি কিন্তু একথা সত্য যে আমরা এদের অবাঞ্ছিত মনে করি। এদের কোনো একটিকে নিশ্চয়ই আমরা কেবল তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্যই গ্রহণ করি না; আমরা এদের গ্রহণ করি এদের মাধ্যমে প্রাপ্ত অপর কোনো ফলের জন্য। নয় কি?

    আমি বললাম, একথা ঠিক যে তৃতীয় শ্রেণীও রয়েছে। কিন্তু একথা তুমি কেন জিজ্ঞেস করছ গ্লকন?

    কারণ, আমি জানতে চাই ন্যায়কে তুমি এদের মধ্যে কোন্ শ্রেণীর বলে দাবি করতে চাও।

    আমি বললাম, ন্যায় অবশ্যই সর্বোত্তম শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। যে-সমস্ত বস্তুকে মানুষ তার আপন বৈশিষ্ট্য এবং পরিফল উভয়ের জন্য জীবনে কামনা করে ন্যায়কে আমি তারই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করি।

    গ্লকন বললেন, এই যদি তোমার মত হয় সক্রেটিস, তা হলে আমি বলব এমন অনেকে রয়েছেন যাঁরা তোমার থেকে ভিন্নতর মত পোষণ করেন। তাঁদের বিবেচনায় এমন অনেক অনিবার্য অপ্রিয় বস্তু রয়েছে যাদের আমরা আয়ত্ত করতে চাই কোনো সুনাম, সম্মান বা অনুরূপ কোনো পুরস্কারলাভের কারণেই, তাদের নিজেদের চরিত্র-মাহাত্ম্যের জন্য নয়। পুরস্কারের আকর্ষণ ব্যতীত নিজেদের চরিত্রগুণে এরা আমাদের নিকট অবাঞ্ছিত এবং পরিহার্য। ন্যায়কেও এঁরা এরূপ অবাঞ্ছিত এবং পরিহার্য, কিন্তু অপরদিকে অনিবার্য বস্তুর অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেন।

    আমি বললাম, আমি জানি এঁরা এরূপই চিন্তা করেন। থ্র্যাসিমেকাস ও ক্ষণকাল পূর্বে ন্যায়ের নিন্দা এবং অন্যাযের প্রশংসা করে এই তত্ত্বটিকেই প্ৰমাণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার সে-যুক্তিতে বিশ্বাস স্থাপন করার ন্যায় মূর্খ আমি নই।

    গ্লকন বললেন : আমি আশা করি তুমি এ্যাসিমেকাসের বক্তব্য যেরূপ শ্রবণ করেছ, আমার বক্তব্যকেও তেমনি শ্রবণ করবে। আমি বলছি, আমার বক্তব্যকে আগে বলতে দাও। তার পরেই মাত্র দেখা যাবে আমরা দুজনে একমত হতে পারি কি না। কারণ, থ্র্যাসিমেকাস সর্পবৎ তোমার কণ্ঠস্বর শ্রবণ করা মাত্র বিমোহিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁর এই ত্বরিত আত্মসমৰ্পণটি আদৌ আমার পছন্দ হয়নি। কেননা, ন্যায়-অন্যায়ের বিষয়টি আমার নিকট এখনও পরিষ্কার হয়নি। তাদের মাধ্যমে পুরস্কার বা ফললাভের কথা ছেড়ে দিয়ে, আমার প্রশ্ন হচ্ছে তাদের আপন-আপন প্রকৃতিগত সত্তা কী এবং কীভাবেই-বা তারা আমাদের আত্মার অন্তরে ক্রিয়াশীল হয়। কাজেই সক্রেটিস, তুমি যদি অনুমতি দাও তা হলে থ্রাসিমেকাসের যুক্তিকে আমি আবার তুলে ধরে শুরু করতে চাই। এক্ষেত্রে প্রথমে আমি ন্যায়ের মূল এবং প্রকৃতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মতটিকেই পেশ করব। দ্বিতীয়ত আমি তোমাকে প্রমাণ করে দেখাব যে, যারা ন্যায়পরায়ণ তারা স্বেচ্ছায় নয়, অনিচ্ছাসহকারেই তারা ন্যায়পরায়ণ। কেননা তারা ন্যায়কে চরম মঙ্গল বলে গ্রহন করে না, তারা তাকে অপর কোনো মঙ্গল বা সার্থকতালাভের প্রয়োজনীয় মাধ্যম হিসাবেই গ্রহণ করে। তৃতীয়ত আমি যুক্তি দিয়ে দেখাব যে, দ্বিতীয় এই মতটি ভিত্তিহীন নয়। আমি তাদের মতাবলম্বী যদিও নই, তথাপি তাদের কথাকে সত্য বলে স্বীকার করলে একথা মানতে হয় যে, অন্যায় ন্যায়ের চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক। অবশ্য একথা আমি স্বীকার করছি যে, থ্র্যাসিমেকাস কিংবা তাঁরই মতো অসংখ্য মানুষের মতামতকে শুনতে শুনতে আমি সত্য সম্পর্কে বিভ্রান্তই হয়ে পড়ি। কেননা, অন্যায়ের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আমি যেরূপ যুক্তি শুনেছি তার চেয়ে কোনো উত্তম যুক্তি আমার নিকট ন্যায়ের পক্ষে আজ পর্যন্ত কেউ পেশ করতে পারেনি। আমি চাই যে, ন্যায়ের আপন সত্তা দিয়েই তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হবে। ন্যায়ের শ্রেষ্ঠত্বের সেই যুক্তিকেই আমি সন্তোষজনক বলে বিবেচনা করব। কিন্তু সেরূপ যুক্তি একমাত্র তোমার নিকটেই আমি আশা করতে পারি, অপর কোথাও নয়। তোমার জবাবের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে আমি অন্যায়ের সমর্থন করব। আমার বক্তব্যের ভঙ্গি থেকেই সক্রেটিস, তুমি বুঝতে পারবে যে তোমার নিকট থেকে আমি কীরূপ জোরের সঙ্গে ন্যায়ের প্রশংসা এবং অন্যায়ের নিন্দাকে পেতে চাই। এবার তুমি বলো আমাদের আলোচনার এই পদ্ধতিটি তুমি অনুমোদন কর কি না?

    আমি বললাম, অবশ্যই আমি তোমার প্রস্তাবটি অনুমোদন করি। তা ছাড়া ন্যায়-অন্যায় ব্যতীত এমন কোনো বিষয়ের কথা আমি চিন্তা করতে পারিনে যা নিয়ে আলোচনার সুযোগকে জ্ঞানীমাত্রই তার আন্তরিক কামনার বিষয় বলে তাকে স্বাগত জানাতে পারে।

    গ্লকন বললেন, সক্রেটিস, তোমার নিকট থেকে একথা শুনতে পেয়ে আমি যথার্থই আনন্দিত হলাম। এবার আমার প্রস্তাব অনুযায়ী ন্যায়ের প্রকৃতি এবং মূল নিয়েই আমি আলোচনা শুরু করব।

    ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে প্রচলিত সাধারণ মতটি হচ্ছে এই যে, অন্যায়সাধন করা মানুষের জন্য উত্তম; কিন্তু অন্যায় ভোগ করা হচ্ছে অধম। আবার উত্তম এবং অধমের পরিমাপের দিক দিয়ে অন্যায় ভোগ করায় যে-পরিমাণ অধম মানুষ লাভ করে তা পরিমাণগতভাবে অন্যায় করার উত্তমের পরিমাণের চেয়ে অধিক। মানুষের সমাজে বিধি-নিষেধ বা আইনকানুনের উদ্ভব তার এই ন্যায়-অন্যায়ের অভিজ্ঞতার সঙ্গে জড়িত। কেননা, একদিন যখন মানুষ অন্যায় করা এবং অন্যায়কে ভোগ করা উভয় প্রকার অভিজ্ঞতাই লাভ করেছিল, আর একথা উপলব্ধি করেছিল যে, কারুর পক্ষেই দ্বিতীয়টির ভোগ ব্যতীত প্রথমটির উপভোগ সম্ভব নয়, সেদিন তারা নিজেদের মধ্যে এই মীমাংসায় উপনীত হয়েছিল যে, অন্যায় করা কিংবা অন্যায় সহ্য করা কোনোটিতেই তাদের লিপ্ত হওয়া সঙ্গত নয়। এভাবেই একদিন মানুষের সমাজে বিধিনিষেধ কিংবা আইনকানুনের সূচনা ঘটেছিল। এখান থেকেই আইনসঙ্গত বা ন্যায় কথাটির উদ্ভব হয়েছিল। কেননা, সেদিন থেকে যা-কিছু বিধিসঙ্গত হত তাকেই ন্যায়সঙ্গত বলে অভিহিত করা হত। ন্যায়ের এই প্রকৃতি এবং তার উদ্ভবের এই ইতিহাস থেকে একথাটি বুঝতে পারা যায় যে ‘ন্যায়’ হচ্ছে আসলে একটি আপোষভিত্তিক ভাব। অর্থাৎ এ হচ্ছে উত্তম এবং অধম অবস্থার মধ্যবর্তী অবস্থা। মানুষ একদিকে চেয়েছিল কোনোরূপ প্রতিফল বা শাস্তি ব্যতীত কেবলমাত্র অন্যায় করার সুযোগ। তার স্বাভাবিক কামনায় এটি ছিল সর্বোত্তম অবস্থা; এর অপর প্রান্ত ছিল প্রতিশোধের উপায়হীনভাবে অন্যায়কে সহ্য করার চরম অবস্থা। এই চরমের বিকল্প হিসাবেই মানুষ গ্রহণ করেছিল ন্যায়কে। অর্থাৎ দুই চরমের মধ্যবর্তী অবস্থাটি হচ্ছে ন্যায়। আর তাই মানুষ ন্যায়কে গ্রহণ করেছে কোনো উত্তম হিসাবে নয়, ন্যায়কে সে গ্রহণ করেছে দুই অধমের মধ্যে ন্যূনতর অধম হিসাবে। তার ফলে ন্যায়ের প্রতি মানুষের যে-সম্মানবোধ—এটিও তার কোনো স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। ন্যায়কে সমীহ করারও উৎস হচ্ছে অন্যায় করতে না পারার অবস্থা, অপর কিছু নয়। তার কারণ, যে-মানুষ মানুষ হিসাবে আখ্যায়িত হওয়ার যোগ্য তার যদি ক্ষমতা থাকত অন্যায়কে প্রতিরোধ করার কিংবা অন্যায়সাধন করার তা হলে সে আদৌ ন্যায়ের চুক্তিতে নিজেকে আবদ্ধ করত না। সেরূপ করা তার পক্ষে পাগলামি বই অপর কিছু হত না। সক্রেটিস, এতক্ষণ আমি যা বললাম, এটিই হচ্ছে ন্যায়ের প্রকৃতি আর উৎস সম্পর্কে সাধারণভাবে গৃহীত মত।

    যারা ন্যায়পরায়ণ, অন্যায় করার তাদের ক্ষমতা নেই বলে অনিচ্ছাসহকারেই যে তারা ন্যায়পরায়ণ, একথাটিকে একটি দৃষ্টান্ত দ্বারাও প্রমাণ করা যায়। যেমন ধরা যাক, ন্যায়, অন্যায় উভয়কেই ক্ষমতা দেওয়া হল তাদের যার যেটি ইচ্ছা সেটিই সে সাধন করতে পারে। এসো, একবার আমরা ন্যায়, অন্যায় উভয়ের এই স্বাধীন ক্ষমতার বাস্তব প্রয়োগটিকে লক্ষ করি। এবার কিন্তু দেখা যাবে, নিজ নিজ স্বার্থের দ্বারা পরিচালিত হয়ে ন্যায়, অন্যায় উভয়ই একই প্রকার কাজ করে চলছে। স্বাধীন ইচ্ছার ক্ষেত্রে এবার আর ন্যায়ের কার্যক্রম থেকে অন্যায়ের কার্যক্রমকে মোটেই পৃথক করা সম্ভব হচ্ছে না। এবার ন্যায়েরও প্রবণতা অন্যায়ের পথেই চলার। ন্যায়ের পথে সে যতটুকু আসছে তা কেবলমাত্র রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ কিংবা আইনকানুনের জবরদস্তিরই জন্যে, সাগ্রহে কিংবা স্বেচ্ছায় আদৌ নয়। ‘ন্যায়’-’অন্যায়’কে ইচ্ছা এবং ক্ষমতার যে-স্বাধীনতা দেবার কথা আমরা চিন্তা করছি সে-স্বাধীনতার তুলনা একমাত্র লীডিয়াবাসী ক্রিসাসের পূর্বপুরুষ গাইজেস-এর স্বাধীনতার সঙ্গেই তুলনা করা চলে। এ-সম্পর্কে এরূপ কাহিনী আছে যে, গাইজেস ছিল লীডিয়া-রাজ্যের একজন বেতনভুক মেষপালক। সেবার একদিন লীডিয়ায় প্রচণ্ড ভূমিকম্প হয়েছিল। এই ভূমিকম্পের ফলে গাইজেস যে-স্থানে তার মেষপাল চরিয়ে বেড়াচ্ছিল সে-স্থানটায় একটি বড় আকারের গহ্বরের সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ তার চোখের সম্মুখে এরূপ একটি গহ্বর সৃষ্টিতে বিস্মায়ান্বিত হয়ে কৌতূহলবশে মেষপালক গাইজেস তার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিল। গহ্বরে প্রবেশ করে গাইজেস বহু আশ্চর্য বস্তুই দেখতে পেল। কিন্তু তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর বোধ হল একটি শূন্যগর্ভ অশ্বের মূর্তি। ভূগর্ভস্থ সেই অশ্বটির দেহে গবাক্ষপথও গাইজেসের দৃষ্টি আকর্ষণ করল। সেই গবাক্ষপথে উঁকি দিয়ে গাইজেস অধিকতর বিস্মায়ান্বিত হল একটি বিরাটদেহ মৃত-মানুষের মূর্তিতে। মনুষ্যমূর্তিটির কাছে একটি স্বর্ণ-আংটি ব্যতীত অপর কোনো অঙ্গাভরণই ছিল না। মেষপালক মৃত-মানুষটির হাতের সেই আংটিটি সংগ্রহ করে গহ্বরটি পরিত্যাগ করে ভূপৃষ্ঠে উঠে এল। লীডিয়ারাজের হুকুম ছিল তাঁর মেষপালকগণকে তাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্বের একটি করে মাসিক বিবরণ তাঁর কাছে পেশ করতে হবে। এই আদেশানুযায়ী রাজার নিকট তাদের মেষপালনের মাসিক বিবরণ পাঠাবার উদ্দেশ্যে মেষপালকগণ একদিন একটি সম্মেলনে মিলিত হল। মেষপালক গাইজেস তার নবলব্ধ সম্পদ, ভূগর্ভের আংটিটা হাতের আঙুলে পরে এই মেষপালক-সম্মেলনে এসে উপস্থিত হল। সমবেত সাথিদের মধ্যে আসন গ্রহণ করে কোনো এক সময় আকস্মিকভাবে সে তার অঙ্গুরির মণিবন্ধটিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল। অমনি সে অপর সবার নিকট অদৃশ্য হয়ে গেল। এবার গাইজেস দেখতে পেল যে তার সাথিগণ তাদের আলোচনা এরূপ মন্তব্যাদিসহকারে পরিচালন করছে যেন সে যথার্থই তাদের মধ্যে আর উপস্থিত নেই। বন্ধুবর্গের এরূপ আচরণে বিস্মিত হয়ে হাতের অঙ্গুরির মণিবন্ধটি আবার ঘুরিয়ে দিতেই সে পুনরায় সবার নিকট দৃশ্যমান হয়ে উঠল। অঙ্গুরির মণিবন্ধের ঘূর্ণনে এরূপ ফলাফল তাকে চমৎকৃত করে দিল বেশ কয়েকবারই সে তার আংটিটির মণিবন্ধকে একবার ভিতরের দিকে, আর একবার বাইরের দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে পরীক্ষা করে দেখল। প্রত্যেকবারই সে একই ফল দেখতে পেল। অর্থাৎ আংটির মণিবন্ধকে ভিতরের দিকে ঘুরিয়ে দিলে সে অদৃশ্য হয়ে যায়। আবার তাকে বাইরের দিকে নিয়ে এলে সে পুনরায় দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এমতাবস্থায় মেষপালক গাইজেস কৌশল করে সম্মেলনের পক্ষ থেকে রাজদরবারের একজন প্রতিনিধিও নির্বাচিত হয়ে গেল। আর রাজপ্রাসাদে পৌঁছেই সে রানিকে প্রলুব্ধ করে রাজার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে রাজাকে হত্যা করে তার রাজ্য দখল করে ফেলল।

    এবার মনে করা যাক যে এরূপ ঐন্দ্রজালিক আংটির সংখ্যা একটি নয়, দুটি; আর দুটিকে আমরা পরিয়ে দিলাম ন্যায় এবং অন্যায় উভয়েরই হাতে। এবার দেখা যাবে এই আংটি-হাতে ন্যায়ের আচরণ অন্যায় থেকে মোটেই পৃথক হচ্ছে না। কেননা, সক্রেটিস, এমন মানুষের কথা তুমি আদৌ চিন্তা করতে পার না যে অন্যায়ের সুযোগ পেয়েও ন্যায়কে আঁকড়ে ধরে থাকবে। হাট কিংবা বাজারের দ্রব্যসামগ্রীর দোকান থেকে যে-কোনোকিছুকে ইচ্ছামতো নিয়ে যদি নির্বিঘ্নে সরে পড়া যায় তা হলে এমন সাধু ব্যক্তি কে আছে যে এরূপ সুযোগের সদ্ব্যবহার থেকে নিজেকে নিরস্ত করতে সক্ষম হবে! কিংবা এমন যদি সম্ভব হয় যে, ইচ্ছামতো যে-কোনো গৃহে প্রবেশ করে লোকচক্ষুর অন্তরালে যে-কোনো পুর-সুন্দরীকে আপন শয্যার সঙ্গিনী করে নেওয়া চলে তা হলে এমন নিরাসক্ত ব্যক্তি কোথায় পাওয়া যাবে যে এমন অপূর্ব সুযোগটিকে বিফলে যেতে দেবে! মোটকথা, যা ইচ্ছা তা-ই যদি করা যায়, যাকে ইচ্ছা হত্যা করা যায়, আর যাকে ইচ্ছা রেহাই দেওয়া যায় তা হলে যে-কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি যা ইচ্ছা তা-ই অবশ্যই করবে, এবং মানুষের মধ্যে সর্বপ্রকারে সে সর্বশক্তিমানের ন্যায়ই ব্যবহার করবে। এমন অবস্থায় অন্যায়ের যা আচরণ, ন্যায়েরও সেই আচরণ। শুরু তাদের যেমনই হোক, পরিণামে তারা একই। কাজেকাজেই, এ থেকে বুঝতে পারা যায়, যে-ন্যায়পরায়ণ সে স্বেচ্ছায় কিংবা ন্যায়কে ব্যক্তিগতভাবে লাভজনক বিবেচনা করে বলে ন্যায়পরায়ণ নয়; ন্যায়পরায়ণ সে প্রয়োজনের খাতিরে। কেননা, অন্যায়ের নির্বিঘ্ন সুযোগ পেলে পরম ন্যায়বানও তার ব্যবহার না করে ছাড়ে না। কারণ মানুষই আসলে বিশ্বাস করে যে, অন্যায় ন্যায়ের চেয়ে ঢের বেশি লাভজনক। আর যে আমার যুক্তি গ্রহণ করবে সে মানুষের এই বিশ্বাসকে যথার্থ বলেই মনে করবে। কারণ, এমন যদি হয় যে, কোনো ব্যক্তি পূর্বের গল্পটির ন্যায় অদৃশ্যভাবে যে-কোনো কাজ করার ক্ষমতা পেয়েও কোনো অন্যায় করল না কিংবা অপরের কোনো সম্পদ-সামগ্রীকে নিজে স্পর্শ করল না, তা হলে তার চারপাশের অপর সব মানুষ তাকে মূর্খের অধম বলেই যেমন একদিকে বিবেচনা করবে, তেমনি অপর দিকে নিজেদের ক্ষতির আশঙ্কায় প্রকাশ্যে তাকে তার ‘সাধুতার’ জন্য বাহবা দিতে থাকবে। যাক, এ-ব্যাপারে যথেষ্ট বলা হয়েছে, আর থাক।

    আসলে ন্যায় এবং অন্যায়কে যথার্থভাবে বিচার করতে হলে আমাদের একটিকে অবশ্যই অপরটি থেকে আলাদা করতে হবে। এ ছাড়া কোনো পথ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কী করে এই কাজটি করা যায়। আমি বলি, অন্যায়কে পুরোপুরি ‘অন্যায়’ এবং ন্যায়কে পুরোপুরি ‘ন্যায়’ হতে দাও। এদের উভয়ের আপন-আপন জীবনকে পরিপূর্ণভাবে যাপন করতে দাও। যার যে-জীবন সে-জীবন যাপন করতে তার যা-কিছু সুযোগ কিংবা সম্পদের আবশ্যক, তা থেকে তাকে কিছুমাত্র বঞ্চিত কোরো না। প্রথমত অন্যায়ের কথা এবার ধরা যাক। এই পরিপূর্ণ জীবনে অন্যায়কে হতে হবে অপরাপর কুশলীদের মতোই সুদক্ষ। কুশলী নাবিক কিংবা দক্ষ চিকিৎসক স্বভাবগতভাবে তাদের শক্তি এবং সীমা উভয়কেই জানে। আর তাই কোনো বিপর্যয় বা ব্যর্থতার মধ্যেও তারা পর্যুদস্ত কিংবা হতাশ হয়ে পড়ে না; আপন শক্তিকে সংগ্রহ করে পুনরায় তারা নিজেদের উদ্দেশ্যসাধনে স্থিরকল্প হয়। এদের মতে অন্যায়ও তার অন্যায় কার্য উত্তমভাবেই সাধন করুক। অন্যায়সাধনে কৃতিত্ব অর্জন করতে হলে তাকে চতুর হতে হবে। কারণ, সঙ্গোপনে যে নিজের উদ্দেশ্য সাধন করতে পারে না এবং ধরা পড়ে যায় তাকে আমরা অপদার্থ বলি। কাজেকাজেই, যে পরিপূর্ণরূপে অন্যায়কারী তার চরিত্রে আমরা অন্যায়ের চরম প্রকাশকেই দেখতে পাব। অন্যায়সাধনের ব্যাপারে তার চরিত্রে যেমন কোনো ঘাটতি থাকলে চলবে না, তেমনি চরম অন্যায়েও তাকে পরম ন্যায়বান বলেই লোকের মনে প্রতিভাত হতে হবে। কারণ চরম অন্যায়ের চরম ন্যায় বলে প্রতিভাত হওয়ার মধ্যেই তার সর্বাধিক সফলতা। অন্যায়সাধনে কোনো ভ্রান্ত পদক্ষেপ যদি সে গ্রহণ করে থাকে তা হলে সে-ব্যর্থতা অতিক্রমেও তার দক্ষতা থাকতে হবে; অন্যায় কর্মে ধরা পড়লেও আত্মপক্ষ সমর্থনে তার বাগ্মিতার শক্তি দেখাতে হবে; আপন কার্যসিদ্ধিতে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে জবরদস্তি প্রয়োগের যেমন শক্তি ও সাহস থাকবে তার, তেমনি সম্পদ ও সহচর সংগ্রহেও সে হবে ক্ষমতাবান

    এই চরম অন্যায়ের পাশাপাশি এসো, এবার আমরা পরম ন্যায়ের মূর্তিটি অঙ্কিত করি। পরম ন্যায় হবে সারল্য এবং মহত্ত্বের প্রতিমূর্তি। কবি এসকাইলাস যেমন বলেছেন ঠিক তেমনি ন্যায়সাধনের ইচ্ছা এবং চেষ্টাতেও অন্যায়কারী বলে তাকে প্রতিভাত হতে হবে। তাকে কোনোক্রমেই ন্যায়বান বলে পরিচিত হলে চলবে না। কারণ ন্যায়বান বলে খ্যাতিমান হলে তার নিকট আসতে থাকবে সম্মান আর উপঢৌকনের ডালি এবং তখন আর আমরা স্থির করতে পারব না এই ‘ন্যায়’ ন্যায়বান হচ্ছে কেবলমাত্র ন্যায়সাধনের জন্য, না সম্মান ও উপঢৌকনের আকর্ষণে। কাজেই ‘ন্যায়ের’ আবরণই হবে তার একমাত্র আচ্ছাদন; অপর কোনো আকর্ষণের আচ্ছাদন রাখা তার চলবে না। জীবনযাত্রায় তাকে হতে হবে অন্যায়ের ঠিক বিপরীত। একদিকে যেমন তাকে হতে হবে মানুষ হিসাবে সর্বোত্তম, অপরদিকে লোকমুখে সে বিবেচিত হবে নরাধম বলে। এমন অবস্থাতেই ন্যায়ের আসল পরীক্ষা সম্ভব হবে। তখনই আমাদের পক্ষে দেখা সম্ভব হবে, এই চরম অপমান এবং পরিণামের ভয়েসে ভীত হয়ে পড়ে কি না। তার এ-অবস্থাকে আমরা কোনোক্রমেই সাময়িক বলে ভাবব না। আমৃত্যু সে পরম ন্যায়বান হয়েও চরম অন্যায়কারী বলে প্রতিভাত হোক। এভাবে পরম ন্যায় এবং চরম অন্যায় উভয় যখন তাদের স্ব স্ব অবস্থার চরমে যেয়ে পৌঁছবে কেবল তখনই মাত্র আমরা স্থির করতে পারব ন্যায় এবং অন্যায়ের মধ্যে কে অধিকতর সুখী।

    বিস্ময়ের কণ্ঠে আমি বলে উঠলাম : সাবাস, প্রিয় গ্লকন! বিচারের জন্য কী অদ্ভুত দক্ষতার সঙ্গেই-না তুমি উভয় পক্ষকে সাজিয়ে দিলে। মনে হচ্ছে ন্যায় আর অন্যায় দুটি যেন মূর্তির মতোই প্রত্যক্ষ

    গ্লকন বললেন : আমর যথাসাধ্য আমি করছি। যাক, এদের দুজনার কে কী যখন আমরা এতক্ষণে বুঝতে পারলাম, তখন এদের আপন আপন পরিণামকে অঙ্কিত করতেও আমাদের কোনো অসুবিধা হবে না। সেই পরিণামের বিবরণটিই এবার আমি দিতে চেষ্টা করব। তবে সে বিবরণ আমি দিচ্ছি ভাবলে তোমার মন তার স্থূলতার জন্য পীড়িত হতে পারে। কাজেই, সক্রেটিস, তুমি বরঞ্চ মনে কোরো যে এবারের এই বর্ণনাটি আমি দিচ্ছিনে, এ-বর্ণনা তুমি শুনতে পাচ্ছ অন্যায়ের প্রশংসাকারীদের কণ্ঠে। তারা বলবে : যে সত্যিকারের ন্যায়বান তাকে যদি লোকে অন্যায়কারী বলে মনে করে তা হলে তাকেও জনতা অত্যাচারিত না করে ছাড়বে না। তাকে ধরে তারা কোড়ার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে দেবে, যন্ত্রণার অগ্নিতে তাকে দগ্ধ করবে, হাত-পা বেঁধে তার চোখকে অগ্নিশলাকা পুরে উপড়ে আনবে এবং পরিশেষে তাকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করবে। আর তখন এই ন্যায়বানও আফসোস করবে, হায়, এর চেয়ে উত্তম হত যদি আমি সত্যিকারের ন্যায়বান হওয়ার চেয়ে কেবল ন্যায়বান হওয়ার ভান করতাম। কারণ কবি এসকাইলাসের কথা অন্যায়ের ক্ষেত্রেই যথার্থভাবে প্রয়োগ করা চলে। কারণ, একমাত্র অন্যায়কারীই ভান করে না। আপন অন্তঃকরণে সে যথার্থই জানে কী তার লক্ষ্য। তার লক্ষ্য হচ্ছে যথার্থই অন্যায় করা,অন্যায় করার ভান করা নয় :

    ‘তার হৃদয়ের জমি যেমন গভীর, তেমন উর্বর
    আর তা থেকেই জন্ম নেয় তার অভিজ্ঞানের কিশলয়।[১]

    [১. এসকাইলাস : সেভেন অ্যাগেইন্সট থিবিস (Seven Against Thebes)]

    কারণ, লোকে তাকে মনে করে সে পরম ন্যায়বান। আর তাই নগরীতে তার সম্রাটের আসন; যাকে ইচ্ছা তাকেই সে বিয়ে করতে পারে, আর যেমন ইচ্ছা তেমন করে সে বিয়ে ঘটাতেও পারে। অন্যায় সম্পর্কে তার কোনো সঙ্কোচ কিংবা ভুল ধারণা নেই। আর তাই জীবনের বিকিকিনির কোথাও সে লাভ বই লোকসানের ভাগীদার নয়। প্রতিযোগিতা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা—ব্যক্তিগত কি রাষ্ট্রীয়—যে-কোনো ক্ষেত্রেই হোক-না কেন, সে অপরাজেয়। লাভের ব্যাপারে লাভ ষোলো আনাই তার—লোকসান অপরের। এই নীতির জন্যই তার সমৃদ্ধি। শক্তিতে যেমন সে ক্ষমতাবান শত্রুর প্রতি আঘাত হানতে, তেমনি সে ক্ষমতাবান মিত্রকে পারিতোষিকে তুষ্ট করতে। তা ছাড়া দেবতাদের তুষ্ট করতে তাদের উদ্দেশে বিরাটাকারের বলিদান-যজ্ঞের অনুষ্ঠানেও তার কোনো জুড়ি নেই। মোট কথা, মানুষ কিংবা দেবতা যাকেই তুষ্ট করতে বা সম্মান দেখাতে ইচ্ছা করে তাকেই সে ন্যায়বানের চেয়ে অধিকতর উত্তমভাবে সম্মানিত বা তুষ্ট করতে পারে। সক্রেটিস, এজন্যই আমরা দেখি যে ন্যায়বানের চেয়ে অন্যায়কারীর জীবনকে সুখময় করতে মানুষ আর দেবতার কোনো বিরোধ নেই—সেক্ষেত্রে উভয়েই ঐক্যবদ্ধ।

    গ্লকনের জবাবে আমি কিছু বলতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু তার পূর্বেই তার ভাই এ্যাডিম্যান্টাস বলে উঠলেন : সক্রেটিস, তুমি নিশ্চয় মনে কর না যে, এ-বিষয়ে আর কিছু বলার নেই?

    আমি বললাম, ঠিকই তো, এর পরে বলার আর কী থাকতে পারে?

    এ্যাডিম্যান্টাস বললেন, এ-ব্যাপারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি তো এখনও বলা হয়নি।

    আমি বললাম, তা হলে প্রবাদের কথাই সত্য হোক : ‘ভাই ভাইকে সাহায্য করুক।’ গ্লকন যদি কোনো যুক্তিতে ব্যর্থ হয়ে থাকে তা হলে তুমি তার সাহায্যে জোড় কদমে এগিয়ে এসো। অবশ্য এ্যাডিম্যান্টাস, আমার কথা যদি বল তা হলে আমি স্বীকার করব, গ্লকন আমাকে ধরাশায়ী করে ফেলেছে; বেচারা ন্যায়কে সাহায্য করার কোনো ক্ষমতাই আর আমার নেই!

    এ্যাডিম্যান্টাস জবাব দিলেন : কি যে বলছ তুমি সক্রেটিস; আমি বলছি, এখনও বলার অনেক কিছু রয়েছে। ন্যায়-অন্যায়ের পক্ষে-বিপক্ষে যে-সমস্ত কথা গ্লকন বলেছে, আমি বলব সিদ্ধান্তগ্রহণের পূর্বে এ-ব্যাপারে আর একটি দিককেও আমাদের জানতে হবে। তা না হলে গ্লকনের কথার যথার্থ তাৎপর্য বুঝতে আমরা সক্ষম হব না। সন্তানের পিতামাতা কিংবা শিক্ষকের কথাই ধরো। পিতামাতা তাদের সন্তানকে, শিক্ষক তাঁর ছাত্রকেও উপদেশ দেন যেন তারা ন্যায়বান হয়। কিন্তু কেন তাঁরা ন্যায়বান হওয়ার এই উপদেশ দেন? তাঁরাও এই উপদেশ দেন ন্যায়ের খাতিরে নয়, যাতে তারা ন্যায়বান বলে খ্যাত হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, পারিবারিক সুখ—ইত্যাকার আনন্দ অর্থাৎ গ্লকনের কথামতো ন্যায়বান বলে পরিচিত হয়ে অন্যায়কারীর যে সমস্ত সুখ ও আনন্দলাভ ঘটে, তা যেন তারা ভোগ করতে পারে তারই জন্য। বস্তুত এই শ্রেণীর লোকদের নিকট পরিচিত হওয়ার গুরুত্ব অপরদের চেয়েও অধিক। কারণ পিতামাতা বা শিক্ষক একথাও বলেন যে, ন্যায়বানের উপর দেবতাদের করুণা অজস্র ধারায় বর্ষিত হতে থাকে। আর শুধু এঁরাই নন। মহান হিসিয়ড এবং হোমারও একথাই বলেন। হিসিয়ড বলেছেন, দেবতারা ন্যায়বান দ্বারাই ওক বৃক্ষকে তৈরি করেন। আর তাই :

    “চূড়ায় তাদের ফলের সম্ভার, মধ্যভাগে মধুকরের অধিষ্ঠান
    মেষগুলো উষ্ণ লোমের আচ্ছাদনে মুহ্যমান।”*

    [*হিসিয়ড : ওয়ার্কস এ্যঅন্ড ডেজ (Works and Days)]

    কেবল ফলের সম্ভার আর উষ্ণ লোমের আচ্ছাদন নয়—এমন বহুতর করুণার উল্লেখই হিসিয়ড করেছেন। হোমারের কণ্ঠেও একই সুর। কেননা, তিনিও এমন ন্যায়পরায়ণের কথাই বলেন যার খ্যাতি হচ্ছে :

    ‘নিষ্কলঙ্ক সেই সম্রাটের মতো যিনি দেবতাদের মতোই
    ন্যায়ের দণ্ড বহন করেন; যার রাজ্যে কালো মাটির বুকেও
    সৃষ্টি হয় গম আর বার্লি শস্যের সম্ভার; যার বৃক্ষরাজি
    ফলভারে থাকে আনত আর যার মেষগুলো
    কোনোদিন ব্যর্থ হয় না শাবক উৎপাদনে
    আর সমুদ্র কার্পণ্য করে না মৎস্যদানে—’*

    [* হোমার : ওডিসি]

    ম্যুসাস ও তাঁর পুত্রত* [*ইউমোল পাস : উপকথার চরিত্র] ন্যায়বানদের জন্য যে-স্বর্গীয় সুখের প্রলোভন দেখিয়েছেন তা পূর্ববর্ণিত বিলাসের চেয়েও আড়ম্বরপূর্ণ। ন্যায়বানদের তাঁরা সরাসরি পাতালপুরীতে নিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁরা বলেন, যারা ন্যায়বান তারা সেখানে সোফায় শায়িত এবং বিরামহীনভাবে সুরাপানে চিরমত্ত মনীষীদের সঙ্গলাভ করার সৌভাগ্য লাভ করবে। এদের প্রতিশ্রুতির ভাবটি এমন যে সুরাপানে মত্ততার অমরতা লাভ করাই হচ্ছে ন্যায়বানের জন্য শ্রেষ্ঠতম পুরস্কার। অনেকের প্রতিশ্রুতি আবার এদেরকেও ছাড়িয়ে যায়। তারা বলে, যারা ন্যায়পরায়ণ আর বিশ্বস্ত তারা তাদের পুত্র, পৌত্র, কলত্র নিয়ে পুরুষপরম্পরায় বেঁচে থাকতে পারবে। আমরা দেখতে পাচ্ছি ন্যায়কে প্রশংসা করার ধারা হচ্ছে এদের এইরূপ। অন্যায়ের বেলা এদের কণ্ঠে ফুটে ওঠে বিপরীত সুর। যে অন্যায়কারী তাকে এরা পাতালপুরীতে নিয়ে একটা জলাভূমির পঙ্কে ডুবিয়ে দেয়, নয়তো তাদের ভাগ্যে জোটে চালুনি ভরে পানি বহন করার পরীক্ষা। মৃত্যুর পূর্বেও তারা অপমানে আর অত্যাচারে হয় জর্জরিত। অর্থাৎ যে-ন্যায়বানরা অন্যায়কারী বলে পরিচিত তাদের ভাগ্যে মানুষের ঘৃণা, অত্যাচার আর অপমান বই অপর কিছুই জুটতে পারে না। গ্লকনের মতো লোকের কল্পনায় ন্যায়-অন্যায়ের এই বিচার ছাড়া অপর কোনো বিচারের কথাই স্থান পায় না। একের প্রশংসা আর অপরের নিন্দার এই হচ্ছে তাদের ধারা।

    কিন্তু সক্রেটিস, ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে আর এক প্রকার বিচারও তো আছে। এ-বিচার অবশ্য কবিদের নয়, এ-বিচার গদ্যলেখকদের। সাধারণ মানুষ চিরকাল বলে এসেছে, ন্যায় এবং ধর্মের পথ সম্মানের বটে, কিন্তু তা কঠিন এবং বিপদসংকুল। কিন্তু অন্যায় এবং পাপের পথে সুখ এবং সম্ভোগ সহজেই লাভ করা যায়। রাষ্ট্রীয় বিধানের কিছু ধমক আর সাধারণ মানুষের কিছু নিন্দাবাদ ব্যতীত অন্যায় এবং পাপের পক্ষে ভয় করার কিছু নেই। মানুষ একথাও জানে এবং তারা বলেও এসেছে যে সততার পথে লাভের আশা কম, অসততাতেই লাভ। অসৎকে মানুষ সুখী বলেছে। তাকে তারা তাদের সম্পদ ও শক্তির জন্য প্রকাশ্যে কিংবা গোপনেও সম্মান করেছে। দুর্বল ও দরিদ্রকে তারা অবজ্ঞা করেছে। কিন্তু তথাপি একথাও সত্য যে, মানুষ অসৎকে কখনো ভালো এবং সৎ-কে মন্দ বলেনি। তা ছাড়া, সক্রেটিস, ন্যায় এবং দেবতাদের সম্পর্কে তাদের বলার ধরনটিতে তুমি বিস্মিত না হয়ে পারবে না। কারণ, তাদের ধরনটি বড় অদ্ভুত। তারা বলে : দেবতাদের রীতিনীতি বড়ই আশ্চর্যজনক। তাঁরা ভাগ্যনিয়ন্তা—আর তাই যারা সৎ এবং ধর্মপরায়ণ তাদের ভাগ্যে তাঁরা বণ্টন করেন দুঃখ এবং দুর্দশা; কিন্তু যারা অসৎ তাদেরকে তাঁরা আশীর্বাদ করেন সুখ এবং আনন্দ দিয়ে। ভিক্ষুবেশে দেবতা তাই হাজির হন যেয়ে ধনীর দরজায় আর অভয় দিয়ে বলেন, কোনো পাপেই তাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। কেননা দেবতারা ধনীর নিজের কিংবা তাদের পিতা-পিতামহের পাপের প্রায়শ্চিত্তের ব্যবস্থা করে দেবেন। কেবল কিছু খরচ করলেই তাদের চলবে। দেবতাদের নামে উৎসর্গ করুক তার কিছু কিংবা দিয়ে দিক একটা ভোজ, তা হলেই তাদের পাপের মার্জনা হয়ে যাবে। বলুক তারা তাদের শত্রু কে। হোক-না সে-শত্রু ন্যায়পরায়ণ। ধনীর আবদারে সেই ন্যায়পরায়ণকে অচিরে ধ্বংস করে দেবে দেবতা তার বরপুত্র ধনীর স্বার্থে। মন্ত্র পড়ে তারা প্রেতযোনিকে আটকে দিতে পারে, পারে তারা যেমন ইচ্ছা তেমনি করে তাদের দ্বারা কার্যসাধন করতে। এ-ব্যাপারে কবিদের তারা সাক্ষী মানে : হিসিয়ডের কাব্যময় শব্দ দিয়ে তাদের পাপের সড়ককে যেন তারা আরও সহজগতি করতে চায় :

    “পাপের প্রাচুর্যলাভে আমাদের শঙ্কার কোনো কারণ নেই,
    ওর সড়ক যেমন স্বচ্ছন্দ, ওর মঞ্জিল তেমনি সন্নিকট
    এসো, সত্যের পথকে আমরা পরিহার করি,
    ও-পথে দেবতারা সঙ্কটের কাঁটাজাল বিস্তার করে দিয়েছে।”*

    [হিসিয়ড : রচনাবলি]

    ও সড়কের চড়াই বড় খাড়া। এবার তারা কবি হোমারের উল্লেখ করেও দেখিয়ে দেয়, কীভাবে মানুষ সহজেই দেবতাদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং কীভাবে সহজেই দেবতারা তাঁদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েন :

    “দেবতাদের বিচ্যুতির পথে টেনে নামানো এমন কোনো শক্ত
    ব্যাপার নয়; মানুষ যদি কিছু পাপ করে থাকে আর
    দেবতা হয়ে থাকেন ক্রোধান্বিত, তা হলে একটু প্রার্থনা,
    কিছু সুরার উপঢৌকন, আর ভাজা চর্বির লোভনীয় গন্ধ
    —এইই হবে যথেষ্ট দেবতার সেই ক্রোধকে প্রশমিত করতে।”*

    [*হোমার : ইলিয়ড]

    এই ভিক্ষুর দল বহু কেতাবের উল্লেখও করেন। তাদের মতে চন্দ্র এবং মিউজের যারা সন্তান সেই মিউজিয়াস এবং অর্ফিয়ুস-লিখিত গ্রন্থেও একথার সাক্ষ্য রয়েছে। আর এইসমস্ত কেতাবে বর্ণিত ক্রিয়া-প্রক্রিয়ার মহড়া দিয়ে এঁরা ব্যক্তিমাত্রকে নয়, সমস্ত নগরবাসীকে একথা বিশ্বাস করায় যে, যজ্ঞ, ভোজ আর বিসর্জনের হুল্লোড় দ্বারাই মৃত কিংবা জীবিত সবারই পাপের প্রায়শ্চিত্ত তাঁরা করে দিতে পারেন। এভাবেই তাঁরা যাগ-যজ্ঞ ও জাদু দ্বারা নরকের যন্ত্রণা থেকে আমাদের রেহাই দেবার প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁদের প্রতিশ্রুতিকে আমাদের বিশ্বাস অবশ্যই করতে হবে কারণ তাঁদের অবজ্ঞা করলে আমাদের জন্য চরম পরিণতি যে অপেক্ষা করছে, একথা বলতে তারা ভোলেন না।

    এ্যাডিম্যান্টাস বলে চললেন : তা হলে সক্রেটিস, এবার চিন্তা করে দ্যাখো, ন্যায় অন্যায়ের এই চিত্র এবং অন্যায় সম্পর্কে মানুষ এবং দেবতার বিচার প্রণালীর কথা তরুণদের মনে যখন জাগে তাদের নিজেদের চিন্তা কোনদিকে ধাবিত হতে পারে। তরুণদের মধ্যে যাদের বুদ্ধি তীক্ষ্ণ এবং বাতাসে ভেসে চলা মাধুকরের ন্যায় পুষ্প থেকে পুষ্পে মধু আহরণ করার যাদের মেজাজ তারা ন্যায়-অন্যায়ের এই বোধ থেকে জীবনের কোন আদর্শকে নির্বাচিত করবে? জীবনের সর্বোত্তম ভোগকেই তারা তাদের চরম আদর্শ বলে বিবেচনা করবে। পিন্ডারের মতোই আমাদের তরুণরা প্রশ্ন করবে : “সম্ভোগের সুউচ্চ চূড়াকে কবলিত করতে কে আমাকে সাহায্য করবে? ন্যায় না অন্যায়?”

    একথা আমি বলছি এ-কারণে যে মানুষ মনে করে, সত্যিকারভাবে সৎ হয়েও সৎ বলে প্রচারিত না হলে সততায় কোনো লাভ নেই। এমন ক্ষেত্রে সৎ-এর ভাগ্যে নিশ্চিতভাবে জুটবে দুঃখ, কষ্ট এবং লাঞ্ছনা। অপরদিকে অসৎ হয়েও সৎ বলে প্রচারিত হতে পারলে স্বর্গসুখের প্রাপ্তি আমার অনিবার্য। কাজেই সত্যের চেয়ে অসত্যের মাহাত্ম্য যখন অধিক এবং অসত্যই যখন সুখলাভের উত্তম মাধ্যম, তখন অসত্যের ধ্যানকেই জীবনের লক্ষ্য বলে স্থির করাকে মানুষ শ্রেয় বলে গণ্য করে। কারণ সে মনে করে সুখলাভের পথ হচ্ছে নিজের চারদিকে ন্যায়ের একটি আবরণ তৈরি করা এবং সেই আবরণের আড়ালে ধূর্ত শিয়ালের ন্যায় নিজের স্বার্থসাধনের জন্য ওত পেতে অপেক্ষা করা। মহর্ষি আকিলোকাস সিদ্ধপুরুষদের অন্যতম। সততার আবরণের আড়ালে ধূর্ত শিয়ালের উপামাটি তিনিই দিয়েছেন। এজন্য তিনি আমাদের কাছে স্মরণীয়। অবশ্য কথা উঠতে পারে ধূর্ততা ঢেকে রাখা কিছু কষ্টের ব্যাপার। তার জবাবে আমি বলব : কোনো বৃহৎ লক্ষ্যই অনায়াসে লাভ করা যায় না। কষ্টকর হলেও যুক্তির দিক থেকে সুখের সড়ক এটাই। এই সড়ক ধরেই আমাদের অগ্রসর হওয়া উচিত। ধূর্ততা ঢেকে রাখার জন্য আমরা রাজনৈতিক চক্র এবং গোপন মৈত্রীসংঘ প্রতিষ্ঠা করব। আইন-সভা আর বিচারালয়কে ধোঁকা দেবার কৌশল শিক্ষাদানকারী বাগ্মী অধ্যাপকেরও আমাদের অভাব নেই। কাজেই দেখা যাচ্ছে ধূর্ততা থাকাও খুব অসম্ভব কিছু নয়। এভাবে বুদ্ধির কৌশল এবং শক্তির জোরে স্বার্থসাধন করা এবং দণ্ডভোগ থেকে রেহাই পাওয়া খুব অসম্ভব কিছু নয়। এর পরেও হয়তো কথা উঠবে : মানুষকে প্রতারিত করা সম্ভব হলেও দেবতাকে প্রতারিত করা সম্ভব নয়। দেবতাদের উপর শক্তিপ্রয়োগও অসম্ভব। কিন্তু এ-আশঙ্কারও জবাব আছে। জবাব হচ্ছে এই যে, দেবতা থাকলে তো দেবতার ভয়! থাকলেও মানুষের জন্য দেবতাদের ভাবনার গরজই-বা কী? কাজেই কোনো ক্ষেত্রেই দেবতাদের ফাঁকি দেবার ব্যাপারটা খুব কঠিন ব্যাপার নয়। আর যদি বা তাদের অস্তিত্ব থাকে এবং মানুষের জন্য তাদের শিরঃপীড়াও কিছু থাকে তবুও কোনো চিন্তার কারণ নেই। আসলেই দেবতাদের কথা আমরা পুরাকাহিনী এবং কবিদের নিকট থেকেই তো পেয়েছি। আর এঁরাই বলেছেন : বলিদান, প্রশংসামূলক অর্চনা এবং উপঢৌকন দেবতাদের ঠিক রাখার জন্য যথেষ্ট। এবার তা হলে দুটো পথের একটা পথ আমাদের বেছে নিতে হয়। কবিদের বাণী সত্য হলে অন্যায়ের পথই হচ্ছে উত্তম পথ, লাভের পথ। কারণ সৎ হয়ে আমাদের কী লাভ? সততা আমাদের দেবতার বা পরকালের দণ্ড থেকে রেহাই দিতে পারে। কিন্তু অন্যায়ের লাভ থেকে সততার কারণে আমরা বঞ্চিত হতে বাধ্য। অপরদিকে অন্যায়ী বা অসৎ হলে একদিকে যেমন জীবনের কোনো উপভোগ থেকে আমরা বঞ্চিত হব না, প্রার্থনা এবং প্রতারণায় দেবতাকুলকেও খুশি করা আমাদের অসম্ভব হবে না। এ-পথে দণ্ডভোগেরও কোনো আশঙ্কা থাকবে না। অবশ্য কাপুরুষ যারা তারা এখনও বলতে পারে : পাতালপুরীর কথাও আমাদের ভাবতে হবে। সেখানে অন্যায়ের প্রতিফল আমাদের কিংবা আমাদর বংশধরদের ভোগ করতে হবে। আমি অভয় দিয়ে বলব : প্রায়শ্চিত্তের দেবতার অভাব সেখানেও নেই। এরূপ দেবতাদের শক্তিও কম নয়। পরাক্রমশালী নগরী আর দেবতাদের মুখপাত্র কবিকুলের সাক্ষ্য থেকে এ-জ্ঞান আমরা লাভ করতে পারি।

    তা হলে সক্রেটিস, ভেবে দ্যাখো, কী কারণে মানুষ চরম অন্যায়ের বদলে ন্যায়কে জীবনের আদর্শ বলে গ্রহণ করবে? ন্যায়ের কিছু আবরণ সৃষ্টি করতে সক্ষম হলেই অন্যায় পথে দেবতা এবং মানুষ উভয়কেই আমরা জয় করতে পারি : ইহকাল এবং পরকাল উভয়ের সুখ আমরা নিজেদের জন্য নিশ্চিত করতে পারি। প্রাজ্ঞজনদের কাছ থেকে এই শিক্ষাই আমরা লাভ করেছি। এমন শিক্ষার পরেও বুদ্ধি এবং সামর্থ্যের অধিকারী কেউ কি অন্যায়কে পরিত্যাগ করে ন্যায়ের পথ অবলম্বন করতে পারে? এমন লোকের মনে ন্যায়ের প্রশংসা পরিহাসের উদ্রেক না করে পারে না। এমন যদি কেউ থাকে, যে অন্যায়ের পক্ষের এই যুক্তি খণ্ডন করতে সক্ষম এবং ন্যায়কে উত্তম বলে বিশ্বাস করে, তার পক্ষেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিরূপ ও ক্ষমাহীন হওয়া সম্ভব হবে না। কারণ সে জানে মানুষ ন্যায়বান কিংবা সৎ আপন ইচ্ছাসহকারে হয় না। এর ব্যতিক্রম কেবল স্বর্গীয় প্রত্যাদেশপীড়িত কোনো ব্যক্তি কিংবা যথার্থ সত্যের জ্ঞানে জ্ঞানীর মধ্যেই সম্ভব। আসলে কাপুরুষ, বৃদ্ধ এবং দুর্বল—অর্থাৎ অন্যায়ের পথ অবলম্বনে যারা অক্ষম তারাই অন্যায়ের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং ন্যায়ের কথা বলে। এর আমোঘ প্রমাণ এই যে, এরূপ কোনো ব্যক্তি ক্ষমতার অধিকারী হওয়ামাত্র সে তার সাধ্যমতো অন্যায় করতে আদৌ কোনো দ্বিধা বোধ করে না।

    সক্রেটিস, এর কারণের কথা এই বিতর্কের গোড়াতেই আমরা বলেছিলাম। আমার সহোদর এবং আমি উভয়েই বলেছিলাম যে, স্মরণীয় প্রাচীন বীর থেকে শুরু করে আমাদের কালের প্রাজ্ঞজনের কাউকেই নিঃস্বার্থভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধতা কিংবা ন্যায়ের পক্ষ সমর্থন করতে দেখা যায় না। ন্যায় এবং অন্যায়ের সমালোচনা কিংবা প্রশংসার সঙ্গে তাদের নিজেদের সৌভাগ্য, সম্মান এবং সুখের প্রশ্নটিকে সর্বকালেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত দেখা যায়। ন্যায় এবং অন্যায়ের বিচারে লাভালাভের এই বিষয়টি আমাদের বিস্মায়ান্বিত না করে পারেনি। কারণ, এমন আদৌ দেখা যায় না যে এঁদের কেউই ন্যায়-অন্যায়ের বিচার মানুষ কিংবা দেবতার গোচরের বাইরে কেবলমাত্র আত্মার স্বাধীন উপলব্ধির ভিত্তিতে কখনো করেছেন। অথবা এমন কথাও তাঁরা বলেননি যে, মানুষের মধ্যে দৃষ্ট গুণের মধ্যে ন্যায় হচ্ছে মহৎ পুণ্য আর অন্যায় হচ্ছে চরম পাপ। পৃথিবীর নীতি যদি এই হত এবং শিশুকাল থেকে ন্যায়-অন্যায়ের এই বোধে মানুষকে যদি উদ্বুদ্ধ করা হত তা হলে আজকের মতো অন্যায়রোধের জন্য পরস্পরের উপর খবরদারি করার আমাদের কোনো প্রয়োজন হত না। তখন প্রত্যেকেই নিজের অন্যায়াচরণের বিরুদ্ধে সতর্ক প্রহরীর কাজ করত। কারণ সে বুঝত, তার নিজের অন্যায়াচরণ তার নিজের মধ্যেই নিকৃষ্টতম পাপের সৃষ্টি করবে। এ-উপলব্ধি তাকে অবশ্যই ভীত এবং শঙ্কিত করে তুলত। এটা আমি জোরের সাথেই বলতে পারি যে, ন্যায় এবং অন্যায়ের প্রকৃত চরিত্র সম্পর্কে আমি যে-কথা বলেছি থ্র্যাসিমেকাস এবং অন্য সাথিরা অনুরূপ কথাই বলবেন। আমার কথা স্থুল হতে পারে; ন্যায়-অন্যায়ের প্রকৃত চরিত্রের তাতে হানি ঘটতে পারে। কিন্তু আমি স্বীকার করছি, আমার কথার যা-কিছু তেজ তা এই কারণেই যে, প্রতিপক্ষের নিকট থেকে আমি যথার্থ যুক্তিটি শ্রবণ করতে চাই। তোমাদের কাছে আমার কথা হচ্ছে, তোমাদের জবাবে অন্যায়ের চেয়ে ন্যায় উত্তম এমন কথা বললেই চলবে না, পরিফলের দিক থেকে তোমাদের একথাও বলতে হবে, কী কারণে ন্যায়-অন্যায়ের অধিকারী একটিকে পুণ্য এবং অপরটিকে পাপ বলে বিবেচনা করছে। এ-ব্যাপারে আর-একটা অনুরোধ আছে। গ্লকনও একথা বলেছেন। জবাবের সময়ে খ্যাতির প্রশ্নটি তোমাদের বাদ দিতে হবে। কারণ খ্যাতি-অখ্যাতির প্রশ্ন বিচারের বাইরে রেখে ন্যায়-অন্যায়ের নিজস্ব সার্থকতার ভিত্তিতে বিচার না করার অর্থ হবে অন্যায়কে অন্ধকারের আড়ালে রাখা। তেমন হলে থ্র্যাসিমেকাস-এর বক্তব্যই যথার্থ প্রমাণিত হবে। কারণ, থ্র্যাসিমেকাস বলেছেন, ন্যায় মানে অপরের স্বার্থসাধন আর অন্যায় হচ্ছে দুর্বলকে আঘাত করে সবলের নিজের স্বার্থোদ্ধার। একটা কথা তোমরা স্বীকার করেছ। তোমরা বলেছ, ন্যায় হচ্ছে এমন এক বস্তু যার প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষার উৎস তার পরিফল হলেও, ন্যায়ের নিজস্ব কারণেই ন্যায়কে লাভ করার আকাঙ্ক্ষা আমাদের থাকা উচিত। উপমা দিলে বলা চলে যে, আমাদের দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণক্ষমতা, জ্ঞান, স্বাস্থ্য বা এমনই যথার্থ সম্পদের ক্ষেত্রে যেমন, ন্যায়ের ক্ষেত্রেও তেমনি। তা-ই যদি হয় তা হলে ন্যায়-অন্যায়ের বেলাতেও ন্যায়াচরণ দ্বারা ন্যায়বানের যথার্থ লাভ এবং অন্যায়াচরণ দ্বারা অন্যায়কারীর যথার্থ ক্ষতির কথা তোমাদের উল্লেখ করতে হবে। কেননা, সাধারণ মানুষের প্রশংসা-অপ্রশংসাকে আমি গুরুত্ব দিইনে। তারা একের প্রশংসায় অপরকে ধূলিস্যাৎ করতে পারে;একের লাভকে গগনচুম্বী করে অপরের ক্ষতিকে অতলস্পর্শী করতে পারে। কিন্তু তোমাদের কথা নিশ্চয়ই স্বতন্ত্র। তোমরা, যারা তোমাদের সমগ্র জীবন এই প্রশ্নের বিচারে নিবিষ্ট রেখেছ তাদের পক্ষে সাধারণের প্রশংসা-অপ্রশংসার কৌশল শোভা পায় না। অপর দশজনের চেয়ে তোমাদের যুক্তিকে অবশ্যই উত্তম হতে হবে। আর সে-কারণেই আমার দাবি হচ্ছে, সক্রেটিস, তোমাদের শুধু একথা বললেই হবে না যে, ন্যায় অন্যায়ের চেয়ে শ্রেয়। তোমাদের প্রমাণ করতে হবে, মানুষ কিংবা দেবতার জ্ঞানে বা অজ্ঞানে কোন্ পরিফলের কারণে ন্যায় পুণ্য বলে বিবেচিত এবং অন্যায়ের কোন্ পরিফলের কারণে অন্যায় পাপ বলে পরিগণিত।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার
    Next Article প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026
    Our Picks

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 9, 2026

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }