১৪. আদর্শ এবং বাস্তবের প্রশ্ন
অধ্যায় : ১৪ [৪৬৭–৪৭৩]
আদর্শ এবং বাস্তবের প্রশ্ন
সক্রেটিস আদর্শ রাষ্ট্র রচনা করেছেন—এটি উত্তম ব্যাপার। গ্লকন বললেন : কিন্তু এরূপ ব্যবস্থা কি বাস্তবায়িত করা সম্ভব? সাধারণ মানুষের এ-প্রশ্ন স্বাভাবিক। আদর্শ যদি বাস্তবায়িত না হয় তা হলে সে-আদর্শে আমাদের কী লাভ? আদর্শকে কল্পনায় রেখে আমাদের কী উপকার? কিন্তু সক্রেটিস সেরূপ মনে করেন না। আদর্শের সার্থকতা বাস্তব হওয়ার মধ্যে নয়। আদর্শ বাস্তব হলে আর সে আদর্শ থাকে না। আদর্শের সার্থকতা আদর্শ থাকায়। আদর্শ হচ্ছে আকর্ষণ; আদর্শ হচ্ছে পরিমাপদন্ড। আদর্শ বাস্তবায়িত হতে পারে না বলে আদর্শ বাস্তবের চেয়ে কম ‘বাস্তব’ অর্থাৎ কম সত্য বা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং আদর্শ বাস্তবের চেয়ে অধিক ‘বাস্তব’, অধিক সত্য। কারণ, আদর্শহীন হলে আমরা স্থাণু হয়ে পড়ি। আদর্শ দিয়ে আমরা আমাদের বাস্তবের সম্পূর্ণতা অসম্পূর্ণতাকে পরিমাপ করি। যে-অস্তিত্ব আদর্শের যত নিকটবর্তী হতে পেরেছে সে-অস্তিত্ব তত সম্পূর্ণ। যে আদর্শ থেকে যত দূরে সে তত অসম্পূর্ণ। কাজেই মানুষের প্রয়োজন আদর্শকে বাস্তব করে তোলা নয়, বাস্তবকে যত অধিক সম্ভব আদর্শ করে তোলা। কাজেই আমাদেরও প্রয়োজন হচ্ছে স্থির করা, কোন্ কোন্ পরিবর্তনের মাধ্যমে বাস্তব অসম্পূর্ণ রাষ্ট্রকে আমরা অধিকতর সম্পূর্ণ অর্থাৎ আদর্শ রাষ্ট্রের অধিকতর নিকটবর্তী করে তুলতে পারি। তাই সক্রেটিস বললেন : “আমাদের জিজ্ঞাসা ছিল : পরিপূর্ণ পরম ন্যায়ের প্রকৃতি কী? এ-জিজ্ঞাসার উদ্দেশ্য ছিল : আমরা একটি আদর্শকে পেতে চেয়েছিলাম, যেন আমরা আমাদের বাস্তব সুখ এবং অ-সুখকে এই আদর্শের সঙ্গে তুলনা করে বিচার করতে পারি। আদর্শের সঙ্গে আমাদের সাদৃশ্য বৈসাদৃশ্য কতখানি। আদর্শ যথার্থভাবে বাস্তবে থাকতে পারে—একথা প্রমাণের জন্য আমরা আদর্শের অন্বেষণ করিনি।”
.
সে যাহোক, গ্লকন, তুমি আমার সঙ্গে একমত; আমরা যেরূপ বলেছি, আমাদের রাষ্ট্রে পুরুষ এবং মেয়েদের জীবনপদ্ধতি হবে একই। একই প্রকার শিক্ষা তারা লাভ করবে, তাদের সন্তান হবে যৌথ সন্তান এবং নগর রক্ষায় কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের উভয়ের দায়িত্ব এক। একসঙ্গেই তারা নগর প্রহরায় নিযুক্ত থাকবে, কুকুরের ন্যায় একসঙ্গেই তারা শিকারের সন্ধানে বহির্গত হবে। মোটকথা শারীরিক গঠনে যতদূর সম্ভব মেয়েদের দায়িত্ব পুরুষের সমান হবে, এবং যৌথ জীবনে যা মহৎ তা তারা উভয়েই সাধন করবে। মেয়ে এবং পুরুষের সম্পর্কের স্বাভাবিকতাকে তারা রক্ষা করবে। তাকে তারা ভঙ্গ করবেনা।
গ্লকন বললেন : তোমার সঙ্গে আমি একমত, সক্রেটিস।
আমাদের অনুসন্ধানের আর একটি দিক অবশ্য এখনও বাকি : পশুর মধ্যে যেমন দেখা যায়, মানুষের মধ্যে মেয়ে ও পুরুষের এরূপ যৌথজীবন সম্ভব কি না।
হ্যাঁ, তোমাকে এই প্রশ্নটিই আমি করতে যাচ্ছিলাম।
আমি বললাম : তারা যুদ্ধ কেমন করে পরিকল্পনা করবে সে-বিষয়টি অবশ্যই বোঝা তেমন কঠিন কিছু নয়।
কেমন করে?
কেন? তারা একসঙ্গেই যুদ্ধযাত্রা করবে। তাদের সন্তানদের মধ্যে যারা সবল তাদের তারা সঙ্গে নেবে। কারণ, শিল্প-কারিগরের সন্তানরা পিতার কাজ অল্প বয়স থেকেই পর্যবেক্ষণ করে। কারণ, পরবর্তীকালে তারাও পিতার কাজ গ্রহণ করবে। অভিভাবকের সন্তানকেও তাদের পিতামাতার কাজ কারিগরের সন্তানদের মতো দেখতে হবে। কেবল দেখা নয়, যুদ্ধের বিষয়ে পিতামাতাকে তারা সাহায্য করবে, তাদের পরিচর্যা করবে। তুমি কুম্ভকারের সন্তান দেখেছ? তুমি দেখনি কেমন করে সে পিতার কাজকে দেখে এবং তার পাত্র তৈরির চক্রে হাত লাগাবার বয়সের বহু পূর্ব থেকে পিতাকে সে সাহায্য করে?
হ্যাঁ, সক্রেটিস, আমি তাদের দেখেছি।
কিন্তু আমাদের অভিভাবকদের চেয়ে কুম্ভকারগণ কি তাদের সন্তানের শিক্ষাদানের বিষয়ে, তাদের পেশা দেখাবার এবং তা হাতেকলমে শেখাবার বিষয়ে অধিক যত্মবান হতে পারে?
না, এরূপ মনে করা অদ্ভুত হবে।
তা ছাড়া, পশুর ক্ষেত্রে যেমন, মানুষের ক্ষেত্রেও পিতামাতার উপরও সন্তানের প্রভাব পড়ে। সন্তানের সঙ্গে তাদের সাহসিকতায় উদ্বুদ্ধ করে তুলবে।
সে কথা সত্য। কিন্তু ধরো তারা যুদ্ধে পরাজিত হল। তখন কি বিপদ বেশি হবে না? পিতামাতা এবং সন্তানগণ—সবাই নিহত হবে। এরূপ ক্ষতিকে পূরণ করা রাষ্ট্রের পক্ষে আদৌ সম্ভব হবে না।
সত্য কথা গ্লকন। কিন্তু তাই বলে তুমি কি তাদের কখনো বিপদের ঝুঁকি নিতে দেবে না?
না, আমি সে কথা মোটেই বলছি না।
কিন্তু বিপদের ঝুঁকি যদি নিতে হয় তা হলে তাদের এমন উপলক্ষে সে-ঝুঁকি নেওয়া আবশ্যক যে, বিপদ কাটাতে পারলে তার লাভ যেন তাদের বিরাট হয়।
অবশ্যই।
যারা আগামীতে যোদ্ধা হবে যৌবনে তাদের যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করা অবশ্যই আবশ্যক। এ-কারণে এরূপ ঝুঁকি আমাদের নিতে হবে।
হ্যাঁ, এরূপ ঝুঁকি নেওয়ার গুরুত্ব আছে।
তা হলে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হবে এটি : সন্তানেরা যুদ্ধকে প্ৰত্যক্ষ করবে। তবে আমাদের দেখতে হবে, তাদের নিরাপত্তার যেন ব্যবস্থা থাকে। তা হলেই ব্যাপারটি উত্তম হবে।
ঠিক।
পিতামাতা নিশ্চয়ই যুদ্ধের বিপদ সম্পর্কে অন্ধ হবে না। তাদের অনুমানশক্তি দ্বারা তারা স্থির করবে সন্তানদের জন্য কোন্ অভিযান নিরাপদ হবে এবং কোন অভিযান বিপজ্জনক।
হ্যাঁ, একথা আমরা ধরে নিতে পারি।
কাজেই তারা সন্তানদের নিরাপদ অভিযানেই নিয়ে যাবে; বিপজ্জনক অভিযান সম্পর্কে তারা সাবধান থাকবে।
অবশ্যই।
সন্তানদের তারা অভিজ্ঞ যোদ্ধাদের অধিনায়কত্বে স্থাপন করবে। এরা তাদের নেতা এবং শিক্ষক হিসাবে দায়িত্বপালন করবে।
হ্যাঁ, তা-ই ঠিক হবে।
অবশ্য যুদ্ধের বিপদের সব কথা পূর্ব থেকে অনুমান করা চলে না। তার অনেক কিছু আকস্মিকতার উপর নির্ভর করে।
একথা ঠিক।
এরূপ আকস্মিকতার বিষয়েও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ছোটদের এমনভাবে সজ্জিত করতে হবে যেন তারা বিপদের সময়ে দ্রুত সরে পড়ে বিপদকে এড়াতে পারে।
কেমন করে?
আমরা তাদের শৈশব থেকে অশ্বারোহণে শিক্ষিত করব। অশ্বারোহণে যখন তারা শিক্ষিত হবে আমরা তখন তাদের অশ্বপৃষ্ঠে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যাব যেন তারা যুদ্ধকে দেখতে পায়। অবশ্য অশ্বগুলি যুদ্ধের অশ্ব হবে না। সেগুলো বাধ্য এবং দ্রুতগতির হবে। এভাবে আমাদের কিশোরেরাও যুদ্ধের নিকটদৃশ্য দেখতে পাবে। যে-পেশা পরবর্তী জীবনে তারা গ্রহণ করবে তার সাক্ষাৎ অভিজ্ঞতা তারা লাভ করবে। বিপদ আসন্ন হলে তারা তাদের জ্যেষ্ঠদর অনুসরণ করবে এবং বিপদ থেকে পরিত্রাণলাভের চেষ্টা করবে।
তুমি ঠিকই বলেছ, সক্রেটিস।
এবার যুদ্ধের কথায় আসা যাক। যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিকের সঙ্গে সৈনিকের এবং সৈনিকের সঙ্গে শত্রুর সম্পর্ক কীরূপ হবে? আমার তো মনে হয়, যে-সৈনিক যুদ্ধক্ষেত্রে দলত্যাগী হবে কিংবা অস্ত্র পরিত্যাগ করবে কিংবা অপর কোনো কাপুরুষতার পরিচয় দেবে তার পদাবনতি ঘটিয়ে তাকে কৃষক বা শিল্প-কারিগরের শ্রেণীতে নামিয়ে দেওয়া উচিত। তোমার কী মনে হয়, গ্লকন?
আমিও তা-ই মনে করি সক্রেটিস।
আর কেউ যদি স্বেচ্ছায় শত্রুর হাতে বন্দি হয় তা হলে তাকে আমরা শত্রুর নিকট পাঠানো উপঢৌকন হিসাবে গণ্য করব। যে শত্রুর শিকারে পরিণত হয়েছে তাকে নিয়ে শত্রু যেমন ইচ্ছা তেমন করতে পারে।
অবশ্যই।
কিন্তু যে বীরত্ব প্রদর্শন করেছে তার বিষয়ে আমাদের কী সিদ্ধান্ত হবে? প্রথমত তার তরুণ সাথিদের তরফ থেকে তাকে সম্মানিত করা হবে। সাথিগণ একের পর এক তার মাথায় জয়ের মুকুট পরিয়ে দেবে। তুমি কী বল, গ্লকন?
তোমার এ-প্রস্তাব আমি সমর্থন করি।
সকলের সঙ্গে তার করমর্দনের প্রস্তাবটিও থাকা উচিত?
সে-প্রস্তাবও আমি সমর্থন করি।
কিন্তু আমার পরবর্তী প্রস্তাবটি নিশ্চয়ই তুমি সমর্থন করবে না?
কী তোমার প্রস্তাব?
আমার প্রস্তাব হচ্ছে বীরকে সবাই চুম্বন করবে এবং বীর সকলকে চুম্বন করবে।
অবশ্যই আমি এ-প্রস্তাব সমর্থন করি। আমি বরঞ্চ আরও বলব : অভিযানের অবশিষ্ট সময়ে বীর যাকে চুম্বন করতে চাইবে তার পক্ষে তাকে প্রত্যাখান করা চলবে না। কেননা বীরের যদি কোনো প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা থাকে তা হলে তাকে জয় করার জন্য অধিকতর বীরত্ব-প্রদর্শনে সে আগ্রহী হয়ে উঠবে।
আমি বললাম : আহা, চমৎকার বলেছ। বীরের পত্নীসংখ্যা যে অপরের চেয়ে অধিক হবে, সে-সিদ্ধান্ত ইতিপূর্বেই গৃহীত হয়েছে। তা ছাড়া এ-ব্যাপারে নির্বাচন করার প্রথম অধিকার তারই। কারণ আমরা চাই সে সর্বাধিকসংখ্যক সন্তানের জনক হোক।
এ-প্রস্তাবও আমি স্বীকার করি।
তা ছাড়া বীরকে সম্মান করার আরও উপায় আছে। হোমার তা বর্ণনা করেছেন। হোমার বলেছেন, এ্যাজাক্স যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্ব প্রদর্শন করলে তাকে ভোজের উৎসবে পশুর মেরুদণ্ড খেতে দিয়ে সকলে তাকে সম্মানিত করল।* এটা বীরের প্রতি যেমন সম্মানের স্মারক, তেমনি তাকে বলশালী করারও উপায়।
[* হোমার : ইলিয়াড।]
হ্যাঁ, একথা ঠিক।
তা হলে এক্ষেত্রে আমরা হোমারকে আমাদের শিক্ষক বলে মানতে পারি। আমরাও বলির উৎসবে আমাদের বীরদের বীরত্বের পরিমাণ অনুযায়ী তাদের উদ্দেশে স্তোত্র-কীর্তন করে কিংবা অন্য উপায়ে তাদের সম্মানিত করব; ভোজনের সারিতে প্রথম আসনের অধিকার হবে তাদের, ভোজনের পাত্র তাদের মাংসপূর্ণ হবে; সুরাভাণ্ডও তাদের শূন্য থাকবে না। এমনিভাবে পুরুষ এবং নারী-নির্বিশেষে আমাদের বীরদের আমরা সম্মান জানাব। এই সম্মান জানাবার মাধ্যমে আমরা তাদের শিক্ষিত করেও তুলব।
তোমার প্রস্তাবটি উত্তম।
এবং যারা সমরক্ষেত্রে গৌরবময় মৃত্যুবরণ করবে আমরা বলব তারা ‘সোনার মানুষ’ ছিল।
অবশ্যই।
কারণ হিসিয়ডে আমরা দেখেছি, ‘মৃত্যুর পরে তারা পবিত্র দেবদূতে পরিণত হয়; তারা সৎকর্ম সাধন করে, অপদেবতাকে নিবৃত্ত করে এবং ভাষাময় মানুষকে তারা রক্ষা করে।’
হ্যাঁ, হিসিয়ডে এরূপ আছে। তাঁর কথাকেই আমরা স্বীকার করব। আর দেবতার কাছ থেকে আমরা নির্দেশ নেব, এই বীরদের সমাহিত করার পদ্ধতি কী। তাদের কী বিশেষ সম্মানে ভূষিত করতে হবে। এ-বিষয়ে দেবতার নির্দেশ আমরা পালন করব।
দেবতার নির্দেশ অবশ্যই আমরা পালন করব।
এবং অনাগত যুগেও আমরা তাদের সম্মান করব। আমরা বীরদের সমাধির সম্মুখে নতজানু হয়ে প্রার্থনা করব। কেবল এই বীরদের নয়, যারা বিশেষভাবে মহৎ তারা বার্ধক্য কিংবা অন্যভাবে পরলোকগমন করলে তাদের প্রতিও আমরা সম্মান জানাব।
হ্যাঁ, তা করাই আমাদের উচিত হবে।
তা হলে এর পরের প্রশ্ন হচ্ছে : আমাদের সৈনিকরা তাদের শত্রুদের প্রতি কীরূপ আচরণ করবে? এ-ব্যাপারে তোমার কী মত?
কোন্ ব্যাপারের কথা বলছ, সক্রেটিস?
প্রথমত দাসত্ব সম্পর্কে। তুমি কি মনে কর, গ্রীসীয় কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে অপর গ্রীসীয় রাষ্টকে দাসে পরিণত করা সঙ্গত? কিংবা অপর কাউকে গ্রীসীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাহায্য করা সঙ্গত? একটি গ্রীসীয় রাষ্ট্রের কি উচিত নয় অপর গ্রীসীয়কে দাসত্ব থেকে এরূপ বিবেচনায় রেহাই দেওয়া যে, অন্যথায় পরিণামে একদিন সমগ্র গ্রীক জাতি বৈদেশিকদের দাসে পরিণত হতে পারে?
রেহাই দেওয়া অবশ্যই উত্তম।
তা হলে আমাদের বিধান হবে : কোনো গ্রীসীয় অপর কোনো গ্রীসীয়কে দাসে পরিণত করতে পারবে না। আমাদের সৈন্যগণ এই বিধান মেনে চলবে। এবং অপর গ্রীসীয়কেও এ-নীতি অনুসরণের পরামর্শ দেবে।
অবশ্যই, সক্রেটিস। এরূপে তারা বর্বরদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে এবং পরস্পরের উপর আক্রমণ থেকে বিরত থাকবে।
তারপর প্রশ্ন হচ্ছে নিহতদের সম্পর্কে। এক্ষেত্রে বিজয়ীরা কী করবে? নিহতের বর্ম ব্যতীত অপর কিছু কি বিজয়ীর পক্ষে নেওয়া সঙ্গত? নিহত শত্রুর সবকিছু অপহরণ করা কি অনেক সময়ে যুদ্ধকে পরিহার করার অজুহাত হিসাবে প্রদত্ত হয় না? বস্তুত কাপুরুষ সৈনিক নিহতদের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে ভালোবাসে। কিন্তু তারা কৈফিয়ত পেশ করে, তারা একটি কর্তব্য সম্পাদন করছে। প্রকৃতপক্ষে, অতীতে বহু বাহিনী লুণ্ঠনের এই প্রবৃত্তি থেকে পরাজিত হয়েছে।
তোমার একথা সত্য।
তা ছাড়া একটা মৃতদেহ লুণ্ঠনের মধ্যে লুণ্ঠনকারীর লোভ এবং নীচতার প্রকাশ ঘটে। লুণ্ঠনকারীর এরূপ ব্যবহার নারীসুলভও বটে। কারণ, সংগ্রামকারী শত্রু যেখানে তার দেহটি রেখে সরে পড়েছে, কাপুরুষ সৈনিক সেখানে সেই মৃতদেহের সঙ্গে লড়াই করার ভাব দেখাচ্ছে। এ প্রায় সেই কুকুরের ন্যায় যে তার প্রতি প্রস্তর নিক্ষেপকারীর বদলে প্রস্তরখণ্ডকে লক্ষ্য করে মুখব্যাদান করতে থাকে।
হ্যাঁ, ঠিক বলেছ, এ প্রায় কুকুরের ব্যবহার
কাজেই নিহতকে বিকৃত করা এবং তাকে সমাধিস্থ হতে না দেওয়ার আচরণ থেকে আমাদের অবশ্যই বিরত হতে হবে।
গ্লকন বললেন : অবশ্যই এরূপ আচরণ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।
দেবতার মন্দিরে অস্ত্র অর্পণের প্রথাও আমাদের অনুসরণ করা উচিত নয়। বিশেষ করে অপর গ্রীসীয়দের সঙ্গে উত্তম সম্পর্ক রাখতে চাইলে তাদের অস্ত্র অর্পণ মোটেই সঙ্গত নয়। আত্মজনের লুণ্ঠিত দ্রব্যের এরূপ অর্পণের প্রথা মন্দিরকে কলুষিত করে। দেবতার আজ্ঞা ব্যতীত এরূপ প্রথা আমাদের অনুসরণ করা উচিত নয়।
যথাৰ্থ কথা, সক্রেটিস।
তদুপরি প্রশ্ন হচ্ছে গ্রীসের অপর কোনো রাষ্ট্রের ধ্বংস এবং তার গৃহসমূহ অগ্নিদগ্ধ করার প্রশ্ন। এক্ষেত্রে কী আচরণ সঙ্গত?
তোমার অভিমতটি শুনি, সক্রেটিস।
আমার মতে উভয় প্রথাকে নিষিদ্ধ করা আবশ্যক। আমরা কেবলমাত্র তাদের বাৎসরিক ফসলই নিতে পারি, অপর কিছু নয়। তোমাকে এ-প্রস্তাবের কারণের কথা বলব?
অবশ্যই।
কারণ, আমার মতে ‘বিরোধ’ এবং ‘যুদ্ধ’ একথা দুটির মধ্যে পার্থক্য আছে। এদের প্রকৃতি পৃথক। একটিকে বলব আমি অভ্যন্তরীণ এবং ঘরোয়া; অপরটিকে বৈদেশিক। এ-কারণে এদের প্রথমটিকে বলা হয় ‘বিরোধ’ এবং দ্বিতীয়টিকে মাত্র ‘যুদ্ধ’।
তোমার পার্থক্যকরণটি যথার্থ হয়েছে।
এবং অনুরূপ উপযুক্ততা নিয়েই আমি বলব : গ্রীসীয় জাতির মধ্যে আছে রক্ত এবং বন্ধুত্বের বন্ধন, বিদেশী এবং বর্বরদের বিরুদ্ধে তারা সকলে ঐক্যবদ্ধ।
ঠিক।
এবং তাই কোনো গ্রীসীয় রাষ্ট্র যখন বর্বরদের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং বর্বরগণ গ্রীসীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে তখন তারা পরস্পর যুদ্ধে রত থাকে এবং তারা পরস্পর শত্রু। এই লড়াইকে আমরা বলব ‘যুদ্ধ’। কিন্তু গ্রীসীয় যখন গ্রীসীয়র বিরুদ্ধে লড়াই করে তখন আমরা বলব গ্রীসীয় রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা এবং বিরোধ দেখা দিয়েছে। কারণ তারা পরস্পরের বন্ধু। এরূপ লড়াইকে আমরা বলব ‘বিরোধ’।
আমি তোমার সঙ্গে একমত সক্রেটিস।
এখন ধরো, যাকে আমরা বিরোধ বলেছি সে-বিরোধ আমাদের রাষ্ট্রে দেখা দিল। বিরোধে নগর বিভক্ত হয়ে গেল। বিভক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ একে অপরের জমি ধ্বংস করতে লাগল এবং গৃহাদি অগ্নিদগ্ধ করতে লাগল। এমন হলে বিরোধ কি মারাত্মক আকার ধারণ করবে না? যে যথার্থ দেশপ্রেমিক, যে তার দেশকে সত্যিকারভাবে ভালোবাসে সে কখনো তারই জননী এবং প্রতিপালককে এমনিভাবে নখরাঘাতে ছিন্নভিন্ন করে ফেলবে না। বিরোধে বিজয়ীপক্ষ পরাজিতের ফসল দখল করতে পারে। কিন্তু অন্তরে তাদের শান্তিস্থাপনার উদ্দেশ্য থাকতে হবে। চিরকাল তারা লড়াই করতে থাকবে—এরূপ তাদের চিন্তা করা সঙ্গত নয়।
হ্যাঁ, তাদের শান্তির কথাই স্মরণ রাখতে হবে। ধ্বংসকারী মনোভাবের চেয়ে এটি উত্তম মনোভাব।
এবং আমরা যে-নগর রচনা করছি সে তো গ্রীসেরই একটি নগর?
হ্যাঁ, তা-ই হওয়াই তো সঙ্গত।
তা হলে আমাদের এ রাষ্ট্রের নাগরিককে কি উত্তম এবং সভ্য হতে হবে না?
অবশ্য। তাদের অবশ্যই সভ্য হতে হবে।
তা ছাড়া তারা কি গ্রীসকে ভালোবাসবে না? তারা কি গ্রীসকে তাদের নিজেদের দেশ বলে বিবেচনা করবে না? সকল নগরীর দেবমন্দিরকে কি তারা নিজেদের মন্দির বলে গণ্য করবে না।
অবশ্যই।
তা হলে তাদের নিজেদের মধ্যে যে-পার্থক্য সে হচ্ছে বিরোধ। এ হচ্ছে বন্ধুদের মধ্যে ঝগড়া। একে যুদ্ধ বলা চলে না। ঠিক নয় কি?
ঠিক। একে যুদ্ধ বলা চলে না।
তাই তারা যখন ঝগড়া করবে তখন পরিণামে আপোসের মনোভাব নিয়েই ঝগড়া করবে।
নিশ্চয়ই, তাদের আপোসের মনোভাব থাকতে হবে।
মিত্রসুলভ সংশোধনকে তাদের গ্রহণ করতে হবে। তারা পরস্পরকে দাসে পরিণত করবে না। অপরকে ধ্বংস করার ইচ্ছা তাদের থাকবে না। তারা পরস্পরের সংশোধক হবে, শুক্র নয়।
তাদের এরূপই হতে হবে।
আর তাই বিবদমান পক্ষদ্বয় যখন উভয়ই গ্রীসের, তখন গ্রীসকে ধ্বংস করা তাদের লক্ষ্য হতে পারে না। তারা একে অপরের গৃহ অগ্নিদগ্ধ করতে পারে না কিংবা তারা এরূপ বিবেচনা করত পারে না যে, একটি নগরীর নারী পুরুষ শিশু সকলে তাদের শত্রু। কারণ, তাদের স্মরণ রাখতে হবে, যুদ্ধের অপরাধ মাত্র কতিপয়ের, সকলের নয়। নগরীর অধিকাংশকে বন্ধু বলে গণ্য করতে হবে। এই কারণে বিবদমান পক্ষের কেউ অপরপক্ষের জমিকে বিনষ্ট করতে পারে না, তাদের গৃহকে ধ্বংস করতে পারে না। নিরপরাধ ক্ষতিগ্রস্ত সকলে অপরাধী কতিপয়কে তাদের কৃতকর্মের জন্য দণ্ডিত না করা পর্যন্তই মাত্র তাদের বিরোধ স্থায়ী হতে পারে, তার অধিক নয়।
সক্রেটিস, তোমার সঙ্গে আমি একমত। নিজেদের বিরোধের ক্ষেত্রে আমাদের নাগরিকগণের অর্থাৎ গ্রীসবাসীর প্রতি গ্রীসবাসীর আচরণ এরূপ হওয়াই উচিত। কিন্তু বৈদেশিক শত্রুর সঙ্গে আচরণ বর্তমানের ন্যায়ই হবে।
তা হলে আমাদের অভিভাবকদের জন্য আমাদের বিধান হবে : একজন গ্রীসবাসী অপর গ্রীসবাসীর জমিকে ধ্বংস করতে পারবে না; তার গৃহকে সে অগ্নিদগ্ধ করতে পারবে না।
গ্লকন বললেন : আমি একমত। এবং আমরা এও বলব যে, আমাদের অপর সকল বিধানের ন্যায় বর্তমান বিধানও উত্তম। কিন্তু সক্রেটিস, আমার বক্তব্য হচ্ছে, তুমি এই ধারাতে অগ্রসর হলে এই আলোচনার গোড়াতে যে-প্রশ্নকে তুমি সরিয়ে রেখেছিলে তাকে তুমি একেবারেই ভুলে যাবে। প্রশ্নটি ছিল : এরূপ ব্যবস্থা কি বাস্তবায়িত করা সম্ভব? এবং যদি সম্ভব হয় তা হলে কেমন করে তা সম্ভব? কারণ, একথা আমি স্বীকার করছি, তুমি যেরূপ প্রস্তাব করেছ তাকে বাস্তবায়িত করা সম্ভব হলে রাষ্ট্রের মহৎ কল্যাণ সাধিত হবে। এক্ষেত্রে তুমি যা বলনি আমি তাও বলছি : এ-রাষ্ট্রের নাগরিকগণ অবশ্যই সবচেয়ে সাহসী যোদ্ধা হিসাবে নিজেদের প্রমাণিত করবে। যুদ্ধক্ষেত্রে দলত্যাগ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ তারা সকলে সকলের পিতা, ভ্রাতা এবং পুত্র। তা ছাড়া তুমি যেমন বলেছ, মেয়েরাও যদি সৈন্যবাহিনীতে শত্রুর আতঙ্ক হিসাবে সম্মুখসারির যোদ্ধা অথবা পশ্চাৎসারির সহায়ক হিসাবে যোগদান করে তা হলে আমাদের বাহিনী একেবারেই অপরাজেয় হয়ে উঠবে। তা ছাড়া তোমার প্রস্তাবে সাংসারিক অনেক সুবিধার বিষয়ও আছে। কিন্তু এই সকল এবং অন্য যা-কিছু সুবিধা, তা সম্ভব কেবলমাত্র তোমার প্রস্তাবিত এ-রাষ্ট্র যদি বাস্তবায়িত হয়। এ-সম্পর্কে অধিক বলা নিষ্প্রয়োজন। চিন্তার দিক থেকে আমাদের এ-রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে আমি স্বীকার করছি। এবার তার সম্ভাব্যতার বিষয় নিয়ে—তাকে বাস্তবায়িত করার উপায় নিয়ে, এসো আমরা আলোচনা করি।
আমি বললাম : গ্লকন, এ তোমার ভারি নির্দয় ব্যবহার। আমি একটু এদকি-ওদিক হলেই তুমি আমাকে আক্রমণ করে বস। প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউ-এর আঘাত কাটাতে-না-কাটাতে, তুমি বুঝতে পারছ না, তুমি আমাকে তৃতীয় এবং সবচেয়ে মারাত্মক ঢেউয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছ। এই তৃতীয় ঢেউ যখন তুমি দেখবে তখন তুমি নিজেও আমার আতঙ্ক এবং দ্বিধার কারণটি অনুধাবন করত সক্ষম হবে। তুমি তখন বুঝতে পারবে, যে-অভিনব প্রস্তাবের কথা আমাকে এখন বলতে হবে এবং যে-সমস্যার সমাধান আমাকে অন্বেষণ করতে হবে তার চিন্তায় আমার পক্ষে ভীত এবং দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া খুবই স্বাভাবিক।
গ্লকন বললেন : সক্রেটিস এরূপ আবেদন তুমি যতই করবে, তোমার কাছ থেকে জবাবের দাবি আমাদের ততই প্রবল হবে। এরূপ রাষ্ট্র কেমন করে বাস্তবায়িত করা যায় তা তোমাকে বলতে হবে। বিলম্বের চেষ্টা বৃথা। তাই বিলম্ব না করে সক্রেটিস, সোজা তুমি আলোচনাটি শুরু করো।
আমি বললাম, তা হলে একটি কথা তোমাদের আমি স্মরণ করিয়ে দিই। আমরা এখানে কেমন করে এলাম? ন্যায় এবং অন্যায়ের অন্বেষণের মধ্য দিয়েই আমরা এখানে এসে উপস্থিত হয়েছি। ঠিক নয় কি গ্লকন?
ঠিক, সক্রেটিস। কিন্তু তাতে কী?
না, আমি জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছিলাম : যদি আমরা ন্যায় এবং অন্যায়কে পেয়ে থাকি, তা হলে একজন ন্যায়বান লোকের কাছে আমাদের কী দাবি হবে? আমরা কি বলব : তাকে পুরোপুরি ন্যায়বান হতে হবে—অর্থাৎ ন্যায়কে পরিপূর্ণরূপে তার মধ্যে থাকতে হবে—তার একচুল কম হলে চলবে না? অথবা যদি তাকে ন্যায়ের কাছাকাছি হতে দেখি—অর্থাৎ অপরের মধ্যে ন্যায়ের যে-পরিমাণ দৃষ্ট হয় তার চেয়ে তার ন্যায়ের পরিমাণ যদি অধিক হয় তা হলেই আমরা সন্তুষ্ট বোধ করব?
হ্যাঁ, ন্যায়ের কাছাকাছি হলেই যথেষ্ট।
আমাদের জিজ্ঞাসা ছিল : পরিপূর্ণ বা পরম ন্যায়ের প্রকৃতি কী? পরম ন্যায়বানের বৈশিষ্ট্য কী? তেমনি অপরদিকে অন্যায়ের চরিত্র কী এবং চরম অন্যায়ীর বৈশিষ্ট্য কী? এ জিজ্ঞাসার উদ্দেশ্য ছিল : আমরা একটি আদর্শকে পেতে চেয়েছিলাম। এই আদর্শলাভের কারণ ছিল, যেন আমরা আমাদের বাস্তব সুখ অ-সুখকে এই আদর্শের সঙ্গে তুলনা করে বিচার করতে পারি, আদর্শের সঙ্গে আমাদের সাদৃশ্য কতখানি। আদর্শ যথার্থভাবে বাস্তবে থাকতে পারে—একথা প্রমাণের জন্য আমরা আদের্শের অন্বেষণ করিনি। ঠিক নয় কি?
হ্যাঁ, একথা ঠিক সক্রেটিস।
তা হলে, একজন শিল্পী সম্পর্কে আমরা কী বলব? শিল্পী পরিপূর্ণ সুন্দর মানুষের ছবি অঙ্কন করেছে। তার দক্ষতার কোনো ত্রুটি নেই। আদর্শ সুন্দরের ছবি। কিন্তু এমন আদর্শ সুন্দর মানুষ কোথাও অস্তিত্বমান কখনো ছিল—একথা সে প্রমাণ করতে পারে না। এ-কারণে কি আমরা এই শিল্পীকে নিকৃষ্ট শিল্পী বলে অভিহিত করব?
অবশ্যই না। এ-কারণে সে আদৌ নিকৃষ্ট হবে না
আমরাও কি সর্বোত্তম রাষ্ট্রের একটি আদর্শ রচনা করছিলাম না?
নিশ্চয়ই।
কিন্তু যদি সে-রাষ্ট্রের বাস্তব অস্তিত্ব প্রমাণে আমরা অসমর্থ হই তা হলে আমাদের আদর্শ রাষ্ট্রের তাতে কি কোনো হানি ঘটবে?
অবশ্যই না।
আমি বললাম : সেটাই যথার্থ সত্য। তবু তোমার অনুরোধে আমি যদি দেখাবার চেষ্টা করি, কোন্ অবস্থাতে আমাদের রাষ্ট্রের বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি তা হলে তোমাকেও তোমার পূর্ব-স্বীকৃতিগুলোকে পুনরায় ঘোষণা করতে হবে।
কী স্বীকৃতি?
আমি জানতে চাচ্ছি, আদর্শ কি কখনো বাস্তবে রূপায়িত হয়? কারণ, যা আদর্শ তা বাস্তবের চেয়ে অধিক। সাধারণে যা-ই মনে করুক, আসলে বাস্তব আদর্শের খুব নিকটে যেয়ে পৌঁছতে পারে না। তুমি কী মনে কর গ্লকন?
তুমি ঠিক বলেছ, সক্রেটিস।
তা হলে রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও তুমি আমাকে বলতে পার না যে, বাস্তব রাষ্ট্রকে প্রতিটি বিষয়ে আদর্শ রাষ্ট্রের সঙ্গে অভিন্ন বলে আমাকে দেখাতে হবে। একটি বাস্তব রাষ্ট্র কেমন করে এবং কত অধিক পরিমাণে আমাদের আদর্শ অনুসারে সংগঠিত হতে পারে—কেবল এই সত্যটির যদি আমরা সন্ধান পাই তা হলে তুমি যে-সম্ভাব্যতার কথা বলেছ, সে-সম্ভাব্যতা আবিষ্কৃত হয়েছে—একথা আমরা বলতে পারব। আমি তাতেই সন্তুষ্ট হব। তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হবে না?
হ্যাঁ, সক্রেটিস, আমিও তাতে সন্তুষ্ট হব।
তা হলে এবার আমি দেখাতে চেষ্টা করব, বাস্তব রাষ্ট্রগুলির বর্তমান দুঃশাসনের কারণ কী এবং কী পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র অধিকতর উত্তম রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে উঠতে পারে। একটি পরিবর্তনে এ-উন্নতি হতে পারে; একটি যথেষ্ট না হলে দুটি পরিবর্তনে হতে পারে। মোটকথা, কত কম পরিবর্তনে রাষ্ট্রের এই উন্নতিসাধন সম্ভব সেটা নির্দিষ্ট করাই আমাদের কাজ হবে। তুমি কী বল?
তুমি ঠিক বলেছ, সক্রেটিস।
