বিদ্বান বনাম বিদুষী – ৬৯
।। ঊনসত্তর।।
কোর্টরুম থেকে বিদ্যাদি বাইরে বেরিয়ে গেল। নমিতা বিদ্যাদির পিছন পিছন এল। দ্রুতপায়ে করিডর পার হয়ে বিদ্যাদি কোর্টের প্রাঙ্গনে মাস্টারদার স্ট্যাচুর দিকে এগিয়ে গেল। ওখানে রূপা তার বাচ্চা কোলে স্ট্যাচুর রেলিং এর ঠিক বাইরে সিমেন্ট বাঁধানো জায়গাটাতে বসে ছিল। পাশে পায়চারি করছেন ধন্বন্তরি কবিরাজ, যেন মেয়েটিকে পাহারা দিতেই আজ কোর্টরুমে ঢোকেন নি। কিন্তু মনে অস্থিরতার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। পাশে দাঁড়িয়ে গগন হকার। বিদ্যাদিকে দেখে রূপা বাচ্চা কোলে নিয়ে উঠে দাঁড়াল।
‘কিছু খেয়েছিস?’ বিদ্যাদি রূপাকে জিজ্ঞাসা করল।
‘হ্যাঁ, দাদু আমাকে পাঁউরুটি আর মামলেট কিনে খাইয়েছে,’ রূপা বলল। ‘চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলি তুই রূপা,’ বিদ্যাদি বলল। ‘আমার একটা পুরোনো মোবাইল ফোন আছে, ওটা আমি তোকে কাল এনে দেব। তুই সব সময় ওটা কাছে রাখবি। কিছু দরকার হলেই আমাকে জানাবি।’
নমিতার লজ্জা করছিল। কিছুদিন আগেই ও শুধু স্টেটাস সিম্বলের ইঁদুর দৌড়ে এগিয়ে থাকার জন্য ওর পুরোনো আই ফোন ফাইভ ফেলে টেন নিল। পুরোনো ফোনটা একদম সচল তবুও।
মিস বসাক কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এসে ওদের পাশে এসে দাঁড়ালেন। রূপাকে দেখে বলল, ‘এই মেয়ে আমাদের বড় চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল।’
‘আজ এর জন্যই আপনি কোর্টে অতবড় একটা এভিডেন্স জমা করতে পারলেন, মিস বসাক, বিদ্যাদি বলল।
‘মানে?’
‘ওষুধের ফর্মুলা লেখা ডায়েরি,’ বিদ্যাদি মৃদু হাসল। ‘রূপা না থাকলে আমরা ওটা হারাতাম।’
‘কীভাবে?’
‘সেদিন বৌবাজারে ‘অনিকেত’এর অফিসে আমার সঙ্গে তথাগত দেখা করতে এসেছিল। ওখানে এসে ও প্রথমে কয়েকটা ওর জীবনের ব্যক্তিগত কথা বলে, তারপর আমায় বাবলু বলল কেন আমরা আরুষিদের সাহায্য করছি? কথায় কথা বাড়ল। আমি বললাম তুই মিথ্যুক, আমাদের দেশের প্রাচীন আবিষ্কারকে তুই অ্যামফার্মার আবিষ্কার বলে পেটেন্ট করিয়েছিস। আমি সেটা হতে দেব না। আমাদের কাছে এখনও পুরোনো ডায়েরিটা আছে যাতে ওই ওষুধের ফর্মুলা লেখা আছে। আমি সেটা আদালতে জমা করব। তা শুনে বাবলু প্রথমে আমার কাছে অনেক অনুনয় করে যাতে আমি ওর বাবার থেকে ওষুধের ফর্মুলা লেখা ডায়েরিটা ওর হাতে তুলে দিই। আমি রাজি না হওয়ায় বাবলু খুব রেগে যায় আর আমাকে শাসিয়ে বলে এর ফল আমাকে ভোগ করতে হবে। তখন আমার মনে কেমন যেন একটা সন্দেহ হল। তথাগত চলে যাওয়ার পর আমি রূপাকে বললাম—রূপা, তুই আমার সঙ্গে আমার বাড়ি চল তো। রূপা ওর বাচ্চা নিয়ে আমার বাড়ি এল। আমি ওকে এই ডায়েরিটা দিয়ে বললাম—কিছু খারাপ লোকের হাত থেকে এটাকে বাঁচাতে হবে। রূপা বলেছিল তুমি চিন্তা কোরো না, দিদিমনি। রূপা তারপর থেকে ওই ডায়েরিটা ওর মেয়ের সঙ্গেই কাঁথার মধ্যে রাখতো। তাই আমার বাড়ি, বৌবাজারে ‘অনিকেত’ এর অফিস, শোভাবাজারের প্ল্যাটফর্মের ট্রাঙ্ক সব জায়গা চোর তন্নতন্ন করে খুঁজেও ডায়েরিটা পায় নি। অ্যামফার্মা জানে যে এই মামলায় জিততে গেলে ওদের ওই ডায়েরিটা হাতাতেই হবে। ওরা তখন রূপাকে সন্দেহ করে রূপাকে ধরতে কাল বিকেলে ওদের বস্তিতে যায়। কিন্তু রূপা টের পেয়ে পালায়। ওরা ওর বস্তির কুঁড়ে তছনছ করে দেয়, কিন্তু ডায়েরিটা পায় না।’
‘কোথায় ছিল রূপা সারা রাত?’
‘সেদিন ওই দালালের হাত থেকে আমি রূপাকে বাঁচাবার পরদিন রূপাকে গগনের নুঙ্গি স্টেশন রোডের বাড়ি চিনিয়ে রেখেছিলাম। বলেছিলাম যদি কখনো কোনো বিপদে পড়িস তবে গগনের বাড়ি কিংবা আমার বাড়ি আশ্রয় নিবি। রূপা তাই করেছিল। অনেক রাতে ও গগনের বাড়িতে ঢুকেছিল। আমি আজ সকালে ওকে গগনের বাড়ি থেকে তুলে আনলাম। আসার সময় এই মূল্যবান ডায়েরিটা নিয়ে এলাম।’
মিস বসাক রূপার দিকে কৃতজ্ঞ চোখে তাকিয়ে রূপার দু’গাল ধরে ওর রুক্ষ চুল-ভরা মাথায় চুমু খেলেন। তারপর উনি বিদ্যাদিকে বললেন, ‘জানি না এই কেসের ফয়সলা কী হবে। কিন্তু আমার বড় সৌভাগ্য যে আমি আপনার মতো একজন বিদুষীর সান্নিধ্যে অন্তত কিছুক্ষণ থাকতে পেরেছি। আপনি যখন কোর্টে সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন আমার মনে হচ্ছিল ইউনিভার্সিটির ক্লাসে একজন প্রফেসর লেকচার দিচ্ছেন।’
‘আপনি এভাবে বলে আমায় লজ্জা দেবেন না,’ বিদ্যাদি বলল। ‘আপনি নিজে আহত বাঘিনীর মতো লড়াই করলেন আপনার মেয়েকে বাঁচাতে। ম্যারাথন লড়াই। আপনাকে দেখেই তো আমি আবার লড়াই করার শক্তি ফিরে পেয়েছি।’
‘আমি কি একবার বাবলুর সঙ্গে কথা বলতে পারি?’ ধন্বন্তরি কবিরাজ মাধবী বসাককে জিজ্ঞাসা করলেন। ‘ছেলেটা একলা ওখানে বেঞ্চে বসে আছে। আমাদের এত কাছে এসেছে—’
‘সেটা উচিত হবে না, স্যার,’ মাধবী বসাক বারণ করলেন। ‘জাজ এই মামলার রায় দেবার পর আপনি আপনার ছেলের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। আপনাকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।’
‘ঠিক আছে,’ কবিরাজমশাই মাথা নাড়লেন।
.
রিসেসের পর আবার বিচার শুরু হল। বিচারপতি বললেন, ‘আমি দুপক্ষের উকিলকে বলব তাদের সামিং আপ এবং ক্লোজিং আর্গুমেন্টস প্রেজেন্ট করতে। ডিফেন্স ল’ইয়ার প্রথমে, তারপর পিটিশনার ল’ইয়ার। মিস বসাক, প্লিজ প্রসিড।’
মাধবী বসাক ওঁর সামনে হলুদ লিগ্যাল প্যাডের খোলা পাতায় এক নজর দ্রুত চোখ বুলিয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন—‘ইয়োর অনার, বিচারে অনেক সাক্ষী এলেন, অনেক এভিডেন্স জমা হল, অনেক তর্ক-বিতর্ক হল। সেসবের ভিত্তিতেই আমরা যদি দেখি তাহলে আমাদের কাহিনি এরকম দাঁড়ায় ধন্বন্তরি কবিরাজের কাছে তার পিতৃপুরুষের অর্জিত অনেক প্রাচীন আয়ুর্বেদিক ওষুধ বানাবার সমীকরণ লেখা কিছু পুঁথি ছিল। ২০০৪ সালে ধন্বন্তরি কবিরাজের স্ত্রীর কঠিন অসুখ হয়। চিকিৎসার জন্য টাকার দরকার, কবিরাজের যৎসামান্য উপার্জনে তার স্ত্রীর হাসপাতালের খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছিল না, তখন কবিরাজ তার আয়ুর্বেদের খাতা নিয়ে সুশ্রুত আয়ুর্বেদ কোম্পানির মালিকের ছেলে শমীক মিশ্র এবং তাঁর বড় ভাই প্রমিত মিশ্রের কাছে গিয়ে সেই ফর্মুলা বিক্রি করে তার বিনিময়ে চল্লিশ হাজার টাকা চান। শমীক এবং প্রমিত মিশ্র কবিরাজের অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে সেই ওষুধের ফর্মুলা মাত্র দশ হাজার টাকায় কিনে নেন। সেই টাকায় কবিরাজের স্ত্রীর কিছুদিন চিকিৎসা চলে, কিন্তু শীঘ্রই মূলত অর্থাভাবে কবিরাজের স্ত্রী বিনা চিকিৎসায় মারা যান। এই ঘটনা কবিরাজের কুড়ি বছরের ছেলে তথাগত দাসের মনে খুবই বিরূপ প্রভাব ফেলে। ২০০৬ সাল থেকে সুশ্রুত এই ফর্মুলা থেকে ‘বিষহরি’ নামে সাপের বিষের প্রতিষেধক ওষুধ তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতে থাকে। ইয়োর অনার, তথাগত তখন মাস্টার্স করছে। খুবই মেধাবী ছেলে, কিন্তু সে তার মায়ের মৃত্যুর জন্য সুশ্রুত আয়ুর্বেদের মালিকদ্বয়কে দায়ী মনে করল, এবং তার মনে প্রতিশোধের আগুন জ্বলতে লাগল। সুব্রত মিশ্রের নাতনি আরুষি মিশ্র একই সময় ব্যাচেলর্স করছিল, তথাগত আরুষির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সৃষ্টি করল। তারপর তথাগত পিএইচডি কমপ্লিট করে ২০১১ সালে আরুষিদের কোম্পানিতে চাকরি নিল এবং সেখানে সে দেখল কীভাবে তার বাবার বিক্রি করা ফর্মুলায় সাপের বিষের প্রতিষেধক ‘বিষহরি’ তৈরি হয়ে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। আগেই বলেছি তথাগত খুবই মেধাবী, সে চটপট ওই ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেস শিখে নিল এবং তারপর ২০১৩ সালে সেই ওষুধের ফর্মুলা নিয়ে হাজির হল আমেরিকান কোম্পানি অ্যামফার্মার দরবারে। একদম তৈরি প্রোডাক্ট, খুব শীঘ্রই অ্যামফার্মার চ্যানেলে ওই একই ওষুধ এবার ‘ভেনম’ নাম দিয়ে পেটেন্টের জন্য অ্যাপ্লাই করল। পেটেন্ট পেয়ে যেতেই তথাগত সুশ্রুতকে পথে বসিয়ে দেবার জন্য তাদের ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ওপর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে আইনি ব্যবস্থা নিল। কোর্টে মামলা লড়তে লড়তে ঘটনাচক্রে সুশ্রুত টিমের কাছে ‘বেহুলার খনা’ বইটি এল যাতে একটা প্রাচীন সর্পবিষ প্রতিষেধকের বর্ণনা আছে।’ মাধবী বসাক একটু থেমে মিনারেল ওয়াটারের বোতলে চুমুক দিলেন। নমিতা দেখল মাধবী বসাকের চিবুকের নীচ থেকে গলা বেয়ে নীল শিরা জেগে উঠেছে। মাধবী বসাক আবার শুরু করলেন ‘ইয়োর অনার, অ্যামফার্মা জানে যে ধম্বন্তরি কবিরাজের কাছে ড. তথাগত দাসের ফর্মুলার একটা কপি সম্ভবত আছে। যদি সেই কপি বাইরে প্রকাশ পায় তবে অ্যামফার্মা খুবই অস্বস্তিতে পড়ে যাবে। তাই ওরা একটা ঘৃণ্য পথ বেছে নিল। ধন্বন্তরি কবিরাজের বাড়ি থেকে রাতে কবিরাজের ট্রাঙ্ক যেখানে সমস্ত কাগজ পত্র রাখা থাকে তা চুরি করালো। আমি ‘বেহুলার খনা’ বই থেকে একটা কথা শিখেছি যে অনাথের দৈব সখা। চুরির ঠিক আগে কবিরাজের বোন বিদ্যাধরী দাস সেই ডায়েরি তাঁর আহিরীটোলার প্ল্যাটফর্ম স্কুলের ছাত্রী রূপার হাত দিয়ে সরিয়ে ফেলেছিল। যার ফলে, ইয়োর অনার, সেই প্রাচীন ফর্মুলা আমরা রক্ষা করতে পেরেছি এবং দেখাতে পেরেছি যে এই ফর্মুলা আমাদের অতি প্রাচীন কাল থেকেই জানা, অ্যামফার্মার পেটেন্ট ল্যাকস নভেলটি। আমরা ভারত সরকারের হাতে সেই ডায়েরি বই তুলে দেব এবং অনুরোধ করব অবিলম্বে ভারত সরকার এই পেটেন্টের বিরোধিতা করে। ইয়োর অনার, একটা শব্দ ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ডের কাছে খুব অস্বস্তিকর—তা হল বায়োপাইরেসি। আমাদের সনাতন জ্ঞানের ছিনতাই। আমাদের ভারত সরকার এ ব্যাপারে অনেক বিরোধিতা করেছে এবং আজও করছে। এই কেসটা হল নিমের কেসের মতো বায়োপাইরেসির একটা ক্লাসিক এক্সাম্পল। কিছু বায়োটেক কোম্পানি আন্ডারডেভেলপড ও ডেভেলপিং নেশনসগুলোর বংশ পরম্পরায় ব্যবহৃত জ্ঞান চুরি করে নিজেদের বিজনেসকে আরো আরো ধনী করে তুলছে এবং একই সঙ্গে বঞ্চিত এই গরীব দেশগুলোকে আরো গরীব করে তুলছে। আমাদের এই কেসের সঙ্গে নিমের কেসের হুবহু মিল আছে। দুটো ক্ষেত্রেই ভায়োলেশন অব ইন্ডিয়ান আইডেন্টিটির অপপ্রচেষ্টা হয়েছে।’ মাধবী বসাক একটু থামলেন তারপর আবার শুরু করলেন, ‘খনার বচন এটা প্রমাণ করে যে গন্ধনাকুলীর শিকড়ের ব্যবহার আমাদের দেশের গ্রাম্য বৈদ্য এবং শিক্ষিত মানুষেরা সকলেই প্রায় জানে, উই হ্যাভ আ লং হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়ান আইডেন্টিটি অব ইউস অব দিজ প্ল্যান্ট।’ নমিতা সম্মোহিতের মতো মাধবী বসাকের দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করা দেখছে। মাধবী বসাক বলে চললেন, ‘ইয়োর অনার, উন্নত বিশ্বের দেশগুলির আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন করার একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তাদের সেই অভ্যাসের বর্তমান রূপ হল জৈবিক ‘স্ট্রিপ-মাইনিং’। এরা আমাদের সম্পদের ওপর নিজেদের পেটেন্টের ছাপ লাগিয়ে আবার আমাদের দেশেই বিক্রি করবে। আর মোনোপলিস্টিক কম্পিটিশনের জন্য ওরা কীভাবে এন্ট্রি বেরিয়ার তৈরি করে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সর্বনাশ করে তা আমরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময় থেকে দেখে আসছি। আমাদের দেশের তাঁতশিল্প একদম শেষ করে দিয়ে ইংরেজরা নিজেদের প্রোডাক্ট আমাদের দেশের বাজারে ছেয়ে দিয়েছিল। মলবুস খাস এখন শুধুই মিথ। আমরা কি আবার তা চাই? দ্যাটস অল ইয়োর অনার। থ্যাঙ্ক ইউ’ মাধবী বসাক বসলেন।
জাজ বললেন, ‘মিস্টার আহুজা, ইউ মে প্রসিড উইথ ইয়োর ক্লোজিং আর্গুমেন্টস।’
অ্যাামফার্মার উকিল সমীর আহুজাকে দেখে এবার মনে হলো সে বুঝে গেছে এটা ওর জন্য একটা লুজিং ব্যাটল। আহুজা শুরু করল—‘ইয়োর অনার, আমার চারটি পয়েন্ট আছে। পয়েন্ট নাম্বার ওয়ান, এই ওষুধের জন্য অ্যামফার্মার কাছে অ্যাপ্রুভড পেটেন্ট আছে। সুশ্রুত আয়ুর্বেদিকের কাছে কোনো পেটেন্ট নেই এই ওষুধের জন্য। সুতরাং অ্যামফার্মা অবশ্যই এই ওষুধ বিক্রি করার একমাত্র দাবিদার। পয়েন্ট নাম্বার টু, এই ওষুধ আমেরিকায় ভেটেরিনারি ফিল্ডে যা রেভিনিউ আনবে তা আমাদের রেভিনিউর তুলনায় পি নাটস বললেও বেশি বলা হবে। আমরা তবু কেস লড়ছি সত্যকে সামনে আনার জন্য। পয়েন্ট নাম্বার থ্রি, সুশ্রুত আয়ুর্বেদিক এই ওষুধকে ইন্ডিয়ান ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনস দ্বারা অ্যাপ্রুভ না করিয়ে বাজারে বিক্রি করে চলেছে, যদি এতে কোনো সাইড এফেক্ট হয় তার দায়িত্ব কে নেবে? পয়েন্ট নাম্বার ফোর, আমি চাই এই দায়িত্বহীন কাজের শাস্তি হোক যাতে এটা অন্য কোম্পানির কাছে দৃষ্টান্তস্বরূপ হয়ে থাকে, এজন্য আমি মহামান্য আদালতের কাছে আবেদন করব যাতে সুশ্রুত আয়ুর্বেদিককে আট কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। এই টাকার ব্রেক আপ আমি আমার পিটিশনে উল্লেখ করেছি। দ্যাটস অল ইয়োর অনার।’
সমীর আহুজার ক্লোজিং স্টেটমেন্ট শেষ হলে এবার বিচারক বললেন, ‘আদালত আগামী পরশু ভার্ডিক্ট দেবে। পরশু সকাল দশটায় আমরা এখানে মিলিত হব। কোর্ট ইজ ইন রিসেস আনটিল ফ্রাইডে এট টেন এএম।’
