Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিদ্বান বনাম বিদুষী – প্রীতম বসু

    প্রীতম বসু এক পাতা গল্প393 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিদ্বান বনাম বিদুষী – ৫৯

    ।। ঊনষাট।।

    এদিকে গ্রহবিপ্র সত্যাচার্যের জ্যোতিষ-মন্দিরে সন্ধ্যা থেকেই ক্রুদ্ধ চন্দ্র ডাকাতের দলবল অবস্থান করছিল। তারা দেওয়ান দুর্লভচাঁদের অনুচর মারফত খবর পেয়েছে যে ডেভিড সাহেব বুধনকে ভুলিয়ে কলকাতা নিয়ে গিয়ে নবাবের দারোগার হাতে তুলে দিয়েছে। দারোগা নাকি অকথ্য অত্যাচার করে বুধনের ফাঁসি দিয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে ডেভিড সাহেবকে দেওয়ান বন্দী করতে সক্ষম হয়েছে। চন্দ্র ডাকাত রাগে ফুঁসছে। ভাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই হবে। বাইরে হাওয়ার দাপটে ক্ষণে ক্ষণে ডাকাতদের মশাল আন্দোলিত হচ্ছে। মশাল নিভে গেলে আবার তৎক্ষণাৎ অন্য মশাল জ্বালানো হচ্ছে। আর হাওয়ার শব্দ ভেদ করে করে মাঝে মাঝে জেগে উঠছে ক্রুদ্ধ ডাকাতদের সমস্বরে হুঙ্কারধ্বনি।

    জ্যোতিষ-মন্দিরের মাঝামাঝি একটি অস্থায়ী হাঁড়িকাঠ লাগানো হয়েছে। তাতে একজন ডাকাত তৈলাক্ত সিঁদুর মাখাচ্ছে। মন্দিরের মেঝেতে বসে আছে ডেভিড সাহেব, সাহেবের দু’হাত পিছমোড়া করে বাঁধা। সাহেবের পাশে রাখা এক বিশাল খাঁড়া।

    চন্দ্র সর্দার মন্দিরে অস্থির পায়চারি করছে। সে অপেক্ষা করছে সত্যাচার্যের। সাহেবকে ডাকাতদের হাতে তুলে দিয়েছে ওই ব্রাহ্মণ পণ্ডিত। সত্যাচার্য জমিদার বাড়ি থেকে এলে সাহেবের রক্তে সে নিজের খাঁড়া রাঙিয়ে তার ভাইকে হত্যার প্রতিশোধ নেবে।

    কিন্তু আজ যাকে হত্যা করার জন্য এত কিছু আয়োজন চলছে সেই ডেভিড সাহেব কিন্তু স্থির। সাহেবের নির্বিকার চোখের দিকে তাকিয়ে অস্বস্তি, আর তার চেয়েও বেশি ক্রোধ হচ্ছে চন্দ্র সর্দারের। লোকটার মরণের ভয় নেই! পায়চারি করতে করতে অসহিষ্ণু চন্দ্র সর্দার এবার নীচু হয়ে বসে সাহেবের চিবুক আঁকড়ে নিজের অগ্নিদৃষ্টির সামনে নিয়ে এসে বলল ‘তুই মরতে ভয় পাস না?’

    ‘হ্যাঁ পাই,’ সাহেবের নির্বিকার দৃষ্টি।

    ‘তাহলে কেন তোর চোখে মরণ ভয় দেখছি না?’

    ‘কারণ, আমি জানি আজ আমার মৃত্যু নাই।’

    ‘মৃত্যু নেই!’ চন্দ্ৰ ডাকাত অবাক সাহেবের মূঢ়তায়। ‘আমার ডান হাতে যম অধিষ্ঠান করে তা শুনেছিস? কীভাবে বলছিস আজ তোর মৃত্যু নেই?’

    ‘আমি তো বলিনি।’

    ‘তবে কে বলেছে যে তোর মৃত্যু নেই?’

    ‘বেহুলা,’ ডেভিড বলল। ‘বেহুলা বলেছে এদেশে যমদেবতা আমার ছায়া মাড়াইবেন না। আর আমি বেহুলার ভবিষ্যৎবাণী আমার ঈশ্বরের চেয়েও সত্য বলে বিশ্বাস করি। বেহুলা যখন বলেছে আমার প্রবাসে মৃত্যু নাই তখন কিছুতেই আমার প্রবাসে মৃত্যু নাই।’

    ‘মিথ্যে কথা!’ চন্দ্র রাগে মন্দিরের মেঝে থেকে খড়া তুলে নিল। ‘যে আমার ভাইয়ের হত্যার জন্য দায়ী তাকে আজ কেউ রক্ষা করতে পারবে না। তুই কেন বুধনকে ধরিয়ে দিলি?’

    ‘কতবার এক কথা বলব? আমি বুধনকে ধরিয়ে দিইনি। এরা মিথ্যা কথা বলছে। তোমার ভাই সুরক্ষিত আছে।’

    এবার কাপাসডাঙার মাঠে কয়েকটা মশালের আলো জেগে উঠল। ধীরে ধীরে আলো কাছে এলে দেখা গেল একটা পালকি এগিয়ে আসছে। কিছুক্ষণের মধ্যে পালকি এসে জ্যোতিষ-মন্দিরের সামনে এসে থামল। পালকি থেকে নামল সত্যাচার্য, দৃষ্টিতে তার অস্থিরতা।

    ‘আসুন ঠাকুর, চন্দ্র ডাকাত বলল। ‘আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।’

    ‘এই সাহেবকে বলি দিয়ে তোমরা খনা মন্দির ভেঙে ফেলার কাজ শীঘ্র শুরু কর, সত্যাচার্য বলল। ‘আঘাত হানো এর শরীরে। তারপর ধুলোয় মিশিয়ে দাও ওই অলক্ষুণে মন্দির।’

    সত্যাচার্যের কথা শেষ হওয়ার আগেই মেদিনী জোরে জোরে দুলে উঠল, আর জ্যোতিষ-মন্দিরের চারচালার একচালা হুড়মুড় করে ভেঙে মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ল। ডাকাতরা ভয়ে চেঁচিয়ে উঠল—‘ভূমিকম্প!’

    এবার এত জোরে মাটি কেঁপে উঠল যে ডাকাতরা ভয়ে বাইরে বেরিয়ে এল।

    ‘না ঠাকুর, খনার মন্দির ভাঙতে পারব না।’ চন্দ্র ডাকাত এবার বলে উঠল। ‘নিজের চোখেই দেখছেন প্রকৃতি আপনার এই আদেশ পছন্দ করছে না।’

    ‘এ অন্যায়। কথার খেলাপ!’ সত্যাচার্য চেঁচিয়ে উঠল। তোমার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তোমার ভাইয়ের ঘাতককে আমি তোমার হাতে তুলে দিয়েছি—’

    ‘ঠাকুর, তুমি বাড়ি ফিরে যাও।’ দৃঢ়কণ্ঠে বলল চন্দ্র ডাকাত। ‘আমার ভাইয়ের হত্যাকারীকে আমি হত্যা করবই, কিন্তু খনার মন্দির আমি ভাঙবো না।’

    ‘অসম্ভব! এই মন্দির আজ রাতে ধ্বংস হবেই। তোমরা না গেলে আমি জমিদারের লেঠেলদের নিয়ে গিয়ে জঙ্গলের মন্দির ধ্বংস করে আসব।’

    ‘ঠাকুর!’ এবার চন্দ্র ডাকাত এমন জোরে চেঁচিয়ে উঠল যে সত্যাচার্য ভয়ে কেঁপে উঠল। ক্রোধে চন্দ্র ডাকাতের হাতে বল্লম উঠে এসেছে—‘জিভকাটির মন্দিরে যে আঘাত হানবে তাকে আমি বাড়ি ফিরে যেতে দেব না।

    সত্যাচার্য গুটি গুটি পায়ে পালকিতে গিয়ে বসল। বেহারারা পালকি তুলে নদীর দিকে চলতে লাগল।

    হঠাৎই দেখতে দেখতে বাতাসের বেগ প্রচণ্ড বেড়ে গেল আর তার সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি শুরু হল। ডাকাতরা বৃষ্টি থেকে বাঁচতে আবার জ্যোতিষ-মন্দিরের টিঁকে থাকা চালার নীচে দাঁড়াল, কিন্তু বাতাসের বেগ তীব্র থেকে তীব্রতর হতে লাগল। বিদ্যাধরী নদী আক্রমণোদ্যত কালীয়নাগের মতো ফুঁসে বিশাল আক্রোশে গর্জন করতে করতে আছড়ে পড়ল ডিঙাডুবি গ্রামে।

    হঠাৎ অন্ধকারে জিভকাটির ঢিপির জঙ্গলের দিক থেকে একসঙ্গে অনেক শাঁখের আওয়াজ ভেসে এল।

    ‘মহাপ্রলয়ের শঙ্খ!’ চন্দ্র ডাকাতের দলের একজন ডাকাত ভয়ার্ত কণ্ঠে

    বলল। ‘তার মানে ধ্বংসের সময় এসে গেছে।’

    ‘প্রলয় এসে গেছে। যদি বাঁচতে চাও তো সবাই শাঁখের আওয়াজের দিকে দৌড়াও। এটাই তোমাদের একমাত্র বাঁচবার পথ, ডেভিড সাহেব উচ্চৈঃস্বরে বলল।

    ভয়ার্ত ডাকাতরা একে অপরের দিকে চাইল। তারপর তারা ঊর্ধ্বশ্বাসে জিভকাটির জঙ্গলের দিকে ছুটতে লাগল। মারাত্মক হাওয়ার বেগ আর সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি। চন্দ্র সর্দারও জঙ্গলের দিকে ছুটতে শুরু করেছিল, ছুটতে ছুটতে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখল জ্যোতিষ মন্দিরের বাকি চালাও ঝড়ের তাণ্ডবের কাছে আত্মসমর্পণ করে উড়ে বেরিয়ে গেল, আর চালাঘরের খুঁটি, দেওয়াল মড়মড় করে ভেঙে পড়ল। থেমে গেল চন্দ্র সর্দার। পিছন ফিরে সত্যাচার্যের জ্যোতিষ-মন্দিরের দিকে ছুটে এসে ঝাঁপের বেড়া সরিয়ে সরিয়ে চাপা পড়া ডেভিড সাহেবের কাছে এগিয়ে গেল। কোঁচড় থেকে চাবি বের করে সাহেবের হাতকড়া ও পায়ের শিকল খুলে দিয়ে বলল ‘তোমাকে বিশ্বাস করলাম সাহেব। পালাও। যদি পার নিজেকে বাঁচাও।’

    ডেভিড সাহেব আর চন্দ্র সর্দার প্রাণপণে দৌড়াতে লাগল জিভকাটির ঢিপির দিকে। দু’জনে বাকি ডাকাতদের সঙ্গে এসে পৌঁছাল জিভকাটির মন্দিরে। মন্দিরের দরজায় দাঁড়িয়ে শান্তিপিসির ছেলে দামু চিৎকার করে পথ প্রদর্শকের কাজ করছে। প্রবেশ পথে একটা বিশাল গাছ উপড়ে গেছে। ডেভিড সাহেব আর চন্দ্র ডাকাত কোনোমতে মন্দিরের ভিতরে ঢুকল।

    ভিতরে কেউ মশাল জ্বালিয়েছে। বেহুলা একে একে সকলকে পাথরের সিঁড়ি দিয়ে একটা বড় চাতালে বসাচ্ছে।

    ‘বেহুলা!’ ডেভিড সাহেব বেহুলাকে দেখে খুশিতে চিৎকার করে ডাকল।

    বেহুলা পিছন ফিরল। ওর দৃষ্টি নিবদ্ধ হল সাহেবের ওপর। দু’চোখ বন্ধ করে দু’হাত জোড় করে কপালে ঠেকালো। বেহুলার দু’চোখে ঝরে চলেছে অশ্রু খুশি আর ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞতায় মাখামাখি হয়ে। বেহুলা তাড়াতাড়ি সিঁড়ি দিয়ে নেমে এল সাহেবের কাছে।

    ‘তোমার জ্যোতিষ গণনা নির্ভুল, বেহুলা,’ ডেভিড সাহেব গ্রামের সমাজের চোখ রাঙানি ভুলে আনন্দে বেহুলাকে জড়িয়ে ধরল। ‘আমি জানতাম আমাদের দেখা হবেই।’

    .

    মন্দিরের ভিতর ইটের সোপান উঁচুতে একটা বিশাল চাতালে শেষ হয়েছে। ন্যূনাধিক একশো গ্রামবাসী ঠাসাঠাসি করে সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। এত অধিক লোকসমাগমে ভীতসন্ত্রস্ত মানুষের কোলাহল দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে এক অদ্ভুত আওয়াজ সৃষ্টি করছে। বাইরে প্রকৃতি ফুঁসছে। মন্দিরের ভিতর কয়েকটা মশাল জ্বলছিল। চন্দ্র সর্দার বলল, ‘আমাদের কাছে বেশি মশাল নেই। অল্প ক’টা মাত্র মশাল জ্বলুক। সেই মশাল নিভে যাওয়ার আগে অন্য মশাল জ্বালানো হবে। রাত গভীর হতে ধীরে ধীরে এক এক করে সব ক’টা মশাল নিভে গেল। মন্দির অন্ধকারে ডুবে গেল। অন্ধকারে ডেভিড সাহেব এবার সকলকে শান্ত হতে বলল, কিন্তু কে কার কথা শোনে।

    বিপদের রাত সব সময় লম্বা হয়ে যায়। অন্ধকারে কত দণ্ড সময় যে কেটে গেল তার হিসেব নেই, কিন্তু সকাল হওয়ার নাম নেই। এক সময় মনে হলো হয়তো ঝড় থেমে গেছে। বেহুলা ডেভিড সাহেবকে বলল একবার বাইরেটা দেখা যাক? উঁচু চাতাল থেকে কম্পিত পদক্ষেপে সোপান দিয়ে কিছুটা নীচে নামতেই বেহুলা টের পেল যে নীচে থই-থই করছে জল। বেহুলা আবার পাথরের ওপর উঠে এল। ডেভিড সাহেব বলল, ‘আমাদের সকাল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বেহুলা। যদি জল নামে।’

    ‘কিন্তু এই মন্দির গ্রামের থেকে অনেক উঁচু ঢিপির ভিতর অবস্থিত। এখানে যদি এত জল তাহলে ডিঙাডুবি গ্রাম তো জলের তলায়!’ বেহুলা বলল।

    ‘অসম্ভব কিছু নয়,’ ডেভিড বলল। ‘সকাল হোক তারপর দেখা যাবে।’ দুর্যোগের রাত এক সময় কেটে গেল। বাইরের থেকে সকালের আলোর আভা গুহামুখে দেখা গেল। বেহুলা এবার জলের দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠল—একটা কুমির প্রাণ বাঁচাতে গুহামুখে ঢুকে রয়েছে।

    ‘ভাগ্যিস কাল রাতে বাইরে যাইনি,’ বেহুলা ডেভিডকে দেখাল।

    ‘আমার পিস্তলটাও কেড়ে রেখেছে ওরা। এরকম কত সাপ, কুমির এই জলে আছে কে জানে? কেউ যেন নীচে না নামে।’

    আরো কিছুক্ষণ সময় কাটল। কুমিরটা নিথর কাঠের গুঁড়ির মতো গুহামুখে শুয়ে আছে। কুমির এরকম অনেক ঘন্টা চুপচাপ শুয়ে শুয়ে শিকারের জন্য অপেক্ষা করে। গুহার জল ধীরে ধীরে নামতে লাগল। এক সময় কুমিরটা গুহা ছেড়ে বেরিয়ে গেল।

    গুহার ভিতর সকলেই কুমিরটাকে দেখেছে। কেউ আর সাহস করে বাইরে যেতে চাইছে না। এদিকে জল, খাদ্যের অভাবে শিশুরা কাঁদতে শুরু করল। বেহুলা ভাবছে বাইরে দিনের আলো থাকতে থাকতে খাবার আর পানীয় জল জোগাড় করে আনতেই হবে। কিন্তু তারা জলবন্দী। কোথায় পাবে সেসব? গোটা গ্রাম তো নিশ্চয়ই বানের জলের নীচে।

    দুপুর গড়িয়ে গেল। হঠাৎ বেহুলার মনে হলো কেউ বাইরে তার নাম ধরে ডাকছে। বেহুলার মনে হলো ভুল শুনছে? পাশের পাথরে চন্দ্র সর্দার হাঁটুতে মাথা রেখে ঘুমিয়ে ছিল। সারা রাতের অবসাদের পর শরীর ঝিমোচ্ছে। হঠাৎ সে মাথা তুলে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তাকাল। বেহুলার দিকে তাকিয়ে বলল ‘বুধনের গলা না?’

    বাইরের আওয়াজ এত ক্ষীণ যে বেহুলা বুঝতে পারছে না কার গলা। কিন্তু চন্দ্র সর্দার ধড়মড় করে উঠে লাঠি হাতে তুলে নিল—‘হ্যাঁ, ওটা আমার ভাইয়ের গলার আওয়াজ। বুধন তাহলে বেঁচে আছে!’ চন্দ্র সর্দার পাথরের ওপর দিয়ে গুহার দরজার কাছে ছুটে গিয়ে চেঁচিয়ে ডাকল—‘বুধন?’

    বাইরে থেকে উত্তর এল—‘দাদা?’

    ‘হ্যাঁ, এখানে আমরা গ্রামের অনেকে আছি,’ চন্দ্র সর্দারের চোখ ছলছল করছে। ডাকাত তার ভাইয়ের গলা ঠিক চিনেছে।

    ‘ওখানে বেহুলা আছে?’

    ‘হ্যাঁ। বেহুলা, ডেভিড সাহেব সবাই আছে এখানে।’

    ‘তোমরা ওখানে থাকো, আমরা আসছি,’ বুধনের গলা সকলকে আশ্বাস দিল।

    চন্দ্র সর্দার এবার ডেভিড সাহেবের দিকে এসে দু’হাত দিয়ে ডেভিডের দু’হাত নিজের মুঠোর মধ্যে ঢুকিয়ে নিজের ঝোঁকানো কপালে বারবার ঠেকিয়ে বলতে লাগল—‘ঈশ্বর রক্ষা করেছেন, তোমায় মারলে আমি মহাপাতক হতাম সাহেব। তুমি আমার ভাইকে রক্ষা করেছ। আমায় ক্ষমা করো সাহেব।’

    এবার গুহামুখে মশালের আলো দেখা গেল। কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে সকলকে বাঁচাতে ডিঙাডুবিতে ফিরে এসেছে বুধন।

    ‘বুধনদা,’ বেহুলা পাথরের ওপর থেকে চেঁচিয়ে ডাকল।

    বুধন বেহুলাকে দেখতে পেয়েছে। বুধন চেঁচিয়ে বলল, ‘গোটা গ্রাম জলের নীচে। কত নৌকা ছিন্নভিন্ন অবস্থায় সারা গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। যেন মনে হচ্ছে ডিঙির বৃষ্টি হয়ে গেছে এই গ্রামে। তোমাদের ভয় নেই, আমরা এসে গেছি তোমাদের সকলকে উদ্ধার করব।’

    ‘তুমি এত ঝুঁকি নিলে? দারোগা তোমায় ধরে ফেলবে যে,’ ডেভিড বলল। ‘সে সম্ভাবনা নেই,’ বুধন বলল। ‘এই ধ্বংসস্তুপে দারোগা কাউকে খুঁজতে আসবে না। সারা গ্রামে মৃতদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।’

    বুধন ওর সালতিতে ছালাভর্তি মুড়ি, মুড়কি, জালায় জল এনেছিল। গ্রামবাসীদের সেসব দিল, অনেকগুলো মশাল দিল। বুধন বলল, ‘আমি কাল আরো অনেক নৌকা লোকলস্কর নিয়ে ফিরে আসব। তখন তোমাদের সকলকে উদ্ধার করতে পারব। আজকের রাতটা তোমরা কষ্ট করে এখানে কাটাও।’

    .

    ধীরে ধীরে বানের জল গ্রামের জমি থেকে বিদ্যাধরীতে নামতে লাগল। বুধন পরের দিন আবার এল। জিভকাটির মন্দিরে আটকে পড়া সকলে একে একে বাইরে এল। ঝড় নেই, কিন্তু প্রকৃতির নৃশংস বিধ্বংসী রূপ চারদিকে ছড়িয়ে আছে। কত গাছ উপড়ে গেছে, অজস্র গাছের ডাল ভেঙে পড়ে আছে, হাজারে হাজারে পাখি, বাদুড় মরে পড়ে আছে। গোরু, ছাগল, মানুষ মরে আছে মাঠে। গ্রাম আর বসবাসের যোগ্য নয়। ফিরিঙ্গি কুঠির কোনো অস্তিত্ব নেই, পর্তুগিজ কেল্লাও মুখ থুবড়ে পড়ে আছে, গ্রামের একটা বাড়িও টিঁকে নেই—খড়, বাঁশ, হোগলার আচ্ছাদন, দরমার বেড়া সব উড়ে গেছে প্রবল ঝড়ের প্রকোপে, জমিদারবাড়ির ছাদ নেই, ইঁট পাথরের দেওয়াল শুধু অস্তিত্ব বজায় রেখে দাঁড়িয়ে।

    বেহুলা পাখমারা গণকের ভিটের দিকে তাকাল—তাঁতিপাড়া আর গণকের ভিটে সব এক হয়ে মাটিতে মিশে গেছে। বচনপিসি আঁচলে চোখ ঢেকে ডুকরে কেঁদে উঠল। পাখমারা গণক বলল, ‘কাঁদিস নে। এ গ্রামে অন্যায় অত্যাচার বাড়তে বাড়তে প্রকৃতির সহ্যের সীমা পার হয়ে গেছিল। তাই প্রকৃতি শাস্তি দিল।’

    ‘এবার আমরা কী করব?’ শান্তিপিসি কাঁদতে কাঁদতে বলল। ‘আমাদের তো এখানে মাথা গোঁজার জায়গা পর্যন্ত নেই।

    ‘এ গ্রাম আর বাসের যোগ্য নয় মা,’ দামু বলল। ‘আমি তোমায় কলকাতায় নিয়ে যাব।’

    আরেক জন গ্রামবাসী বলল, ‘আমাদের কী হবে বাবা? আমাদের জাল, নৌকা সবই তো ঝড়ে উড়ে গেছে। আমরা জেলেরা মাছ ধরব কীভাবে? আমরা থাকব কোথায়?’

    ‘তোমরাও আমার সঙ্গে শহরে চলো কাকা। কলকাতায় এখন প্রচুর রাজবাড়ি তৈরি হচ্ছে। ওখানে সকলের কোনো না কোনো কাজ জুটে যাবে। গঙ্গার পশ্চিম পারে বসাকদের পুরোনো ইটের ভাটি আছে, ওখানে মেটে মজুর, রেজা, কামলা, বাইতির কাজ প্রচুর। সকলের ওখানে আপাতত মাথা গোঁজার একটা ব্যবস্থা হোক আগে।’

    তাই ঠিক হল সকলে হাওড়ায় বসাকদের ইট খোলায় গিয়ে উঠবে। শান্তি বুড়ি দু’হাত কপালে ঠেকিয়ে প্রণাম করল।

    ‘কোন ঠাকুরের থানে প্রণাম করলি শান্তি?’ বচনপিসি বলল।

    ‘মা গঙ্গাকে। তোর বেহুলা ঠিক বলেছে রে আমাদের বারাণসীতে গঙ্গাপ্রাপ্তি। কথায় বলে ভাগীরথীর পশ্চিমকূল বারাণসী সমতুল। এবার বুঝলাম তা সত্যি হতে চলেছে।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅনুষ্ঠান প্রচারে বিঘ্ন ঘটায় দুঃখিত – শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    Next Article সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    Related Articles

    প্রীতম বসু

    বিদ্বান বনাম বিদুষী – প্রীতম বসু

    April 23, 2026
    প্রীতম বসু

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Our Picks

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }