Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026

    শঙ্খচিল – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্ধবৃত্ত – সাদাত হোসাইন

    সাদাত হোসাইন এক পাতা গল্প480 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অর্ধবৃত্ত – ৪৮

    ৪৮

    একটা বাড়ি। বাড়িটার কোনো নাম নেই। সেই নামহীন বাড়িটার তবু প্রাণ ছিল। বাড়িটা অকস্মাৎ প্রাণহীন হয়ে গেল। বাড়ির প্রাণ মূলত মানুষ। মানুষবিহীন বাড়ি কেবল ইটকাঠের কাঠামো। সেখানে প্রাণ নেই। বেঁচে থাকার ঘ্রাণ নেই। শব্দ নেই, কোলাহল নেই। হৃদস্পন্দন নেই। অথচ এই বাড়িটাতে এখনো মানুষ আছে। এই বাড়ির প্রতিটি ঘরে ঘরে তারা এখনো নিঃশ্বাস নিচ্ছে। তাদের হৃৎস্পন্দন আছে। কিন্তু সেই নিঃশ্বাস কিংবা হৃৎস্পন্দনে কোনো শব্দ নেই। যেন শব্দ হলেই অন্য কেউ তীব্র আতঙ্কে কেঁপে উঠবে। ডুকরে কেঁদে উঠবে। মানুষ মূলত মরে যায় মনে। এই মানুষগুলোও মনে মনে মৃত। যেন পাশাপাশি ঘরগুলো পাশাপাশি কবর। যেন প্রতিটি কবরে একেকটা নিষ্প্রাণ লাশ। আর বাড়িটা আস্ত এক গোরস্থান। এক নিঃশব্দ, প্রাণহীন, নির্জীব গোরস্থান।

    একটা রাত। এক ভয়াল দুঃস্বপ্নের রাত। অসংখ্য স্বপ্ন আর সম্ভাবনার অবিশ্বাস্য যবনিকাপাত। জীবন যেন তার বুকভর্তি জমিয়ে রেখেছিল তীব্র গরল। সেই গরল সে ঢেলে দিল ভয়াল সেই কাল রাত্তিরেই। তারপর কত দিন এলো। কত রাত এলো। কিন্তু সেই রাত্রি আর কাটে না। যেন আরো গাঢ় হয়। যেন আরো জেঁকে বসে বুকের ভেতর। যেন আরো তীব্র শোকে চোখজুড়ে স্থির হয়ে থাকে। গেড়ে বসে আরো গভীরে। যেন এর থেকে মুক্তি নেই। আফজাল আহমেদ শূন্য চোখে বসে থাকেন। মছিদা বেগম কারো সাথে কথা বলেন না। সেলিনা আর মুখরা নেই। সে সারাক্ষণ চুপচাপ বাবার পাশে বসে থাকে। তারপর হাউমাউ করে কাঁদে, ‘বাবা, বাবা।’

    আফজাল আহমেদ জবাব দেন না। সেলিনা চিৎকার করে ডাকে, ‘মা, মা, ও মা।’

    মছিদা বেগম কথা বলেন না। সেলিনা বলে, ‘দিপুর কী হবে মা? নাদিয়ার কি হবে? ও মা, দিপুর কি হবে?’

    মছিদা বেগম পাথরের মূর্তির মতো তাকিয়ে আছেন দেয়ালে। সেখানে একা এক টিকটিকি। আলোর কাছে ওত পেতে বসে আছে। একটা দুটো পোকা গিয়ে ভিড় করছে। সেই পোকাগুলো কি জানে, আর খানিক বাদেই কী ভয়াবহ বিপদ নেমে আসবে তাদের ওপর? জানে না। মানুষও জানে না। কত শত স্বপ্ন তাই সে বুকে পুষে রাখে, কিন্তু তার সেই স্বপ্ন হঠাৎ দপ করে নিভে যায়। নাকি স্বপ্ন কখনো নেভে না? কেবল মানুষই নিভে যায়? কিন্তু মানুষবিহীন স্বপ্ন কি কখনো হয়?

    তাহলে নাদিয়া? নাদিয়ার স্বপ্নের কী হবে? সে কি অমন স্বপ্নহীন, বিবর্ণ, ধূসর আর দুঃসহ, কুৎসিত স্মৃতির এক মানুষ হয়েই বেঁচে থাকবে? মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে সে কি মৃত্যুর চেয়ে ভয়ংকর এক জীবন নিয়ে বেঁচে থাকবে? জীবন এমন কেন?

    সেলিনা চিৎকার করে বলে, ‘ও মা, মা। দিপুর কি হবে? বাবা, নাদিয়া… নাদিয়াকে নিয়ে এখন কী হবে? বাবা, ও বাবা… দিপুর কী হবে?’

    কেউ কোনো কথা বলে না। যেন নিঃশব্দ এক গোরস্থানে সারি সারি লাশ নিশ্চুপ শুয়ে আছে। বসে আছে। দাঁড়িয়ে আছে। তাদের মুখে কোনো শব্দ নেই। শরীরে কোনো শক্তি নেই। কেবল বুকের ভেতর বয়ে যাচ্ছে সুতীব্র যন্ত্রণার সুগভীর এক নদী। সেলিনা তার জমানো সব টাকা, সব গয়না এনে বাবার সামনে রাখল। তারপর বলল, ‘আমার সব গয়না আমি বিক্রি করে দেব বাবা। আমার কাছে যেখানে যা ছিল, তার সব। তুমি শুধু দিপুকে ছাড়িয়ে আনার ব্যবস্থা করো। বাবা, ও বাবা, বাবা।’

    হাফসা বেগমের জ্ঞান ফিরেছে দিন কতক হলো। তবে এই জ্ঞান ফেরার চেয়ে না ফেরাই ভালো ছিল। তিনি যেন পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছেন। কাউকে চিনতে পারছেন না। তার সামনে কেউ গেলেই জান্তব চিৎকারে উন্মাদ হয়ে যাচ্ছেন। আশফাক আহমেদ পাথরের মূর্তির মতো নিথর, নিশ্চল। নাদিয়া হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে। বাড়ি ফেরার পর থেকে সে এখনো কারো সাথে কোনো কথা বলেনি। সারাক্ষণ অন্ধকার ঘরে চুপচাপ শুয়ে থাকে। তবে তার ঘুম হয় না। খানিক তন্দ্রার মতো পেলেই ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে ওঠে সে। নাবিলা ফরিদপুর থেকে চলে এসেছে। সে সারাক্ষণ নাদিয়ার পাশে বসে থাকে। নাবিলা রাতে বোনকে বুকের ভেতর চেপে ধরে কত কী করে! কিন্তু নাদিয়া তা বোঝে কিনা বোঝা যায়না।

    নাবিলা বলে, ‘তুই আমার সাথে একটু কথা বলবি না সোনা?’

    নাদিয়া ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। নাবিলা বলে, ‘ও সোনা, সোনা বোন আমার, তুই একটু আমার সাথে কথা বল। একটুখানি কথা বল। তুই কথা না বললে যে আমার বুক শুকিয়ে যায়। কান্না কান্না লাগে। তুই জানিস না? ও বোন। বোন রে…।’

    নাদিয়া কথা বলে না। নাবিলা বলে, ‘তোর মনে নেই, তুই একবার আমার সাথে ঝগড়া করে মেজো খালার বাড়ি চলে গেলি। আমি যে কী খুশি হয়েছিলাম, একা একা আরাম করে কটা দিন থাকা যাবে। কিন্তু রাত হতেই আমার কেমন কান্না কান্না লাগতে লাগল। মনে হলো সারা বাড়িতে কেউ নেই। কেউ না। আমার হঠাৎ সবকিছু এত শূন্য লাগতে শুরু করল। রাতে একা ঘুমাতে গিয়ে চোখ বন্ধ করতেই মনে হলো, তুই আমার পাশে শুয়ে শুয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছিস। আমি ঝট করে চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি তুই নাই। আমি আবার চোখ বন্ধ করি। আমার আবার মনে হয়, তুই আমার পাশে শুয়ে শুয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছিস। আমি সেই মাঝরাতে বাবা-মার রুমে গিয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলাম। আমি তোকে ছাড়া রাতে থাকতে পারব না। তোর মনে নেই বোন? ও বোন তোর মনে নেই?’

    নাদিয়া শূন্য চোখে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে। নাবিলা বলল, ‘তোর কিছু মনে নেই? সেই মাঝরাতে বাবা আমাকে নিয়ে মেজো খালার বাড়িতে গেলেন। কাক ভোরে মেজো খালাদের বাড়িতে গিয়ে দেখি ওই বাড়ির সবাই জেগে আছে। কারণ মাঝরাতে ঘুম ভেঙে বাড়ি ফেরার জন্য তোর সে কী কান্না! সকাল অবধি ও তর সইছে না। তোর মনে নেই? আমাকে দেখে তুই পাগলের মতো ছুটে এলি। তারপর জড়িয়ে ধরে সে কী কান্না। তোর একদম মনে নেই?’

    নাদিয়া কথা বলে না। তবে নাবিলা সারাটাক্ষণ এমন কত কত কথা, কত কত গল্প যে বলে যায়, তার ইয়ত্তা নেই। গল্প বলতে বলতে মাঝে মাঝে তার চোখের কোণে জল জমে। সেই জল ফোঁটায় ফোঁটায় গড়িয়ে পড়ে নাদিয়ার কোলে। নাদিয়া ভাবলেশহীন চোখে তাকিয়ে থাকে। যেন এই জগতের কোনো কান্না, কোনো আনন্দ, কোনো স্মৃতি, কোনো অনুভূতি তাকে ছুঁয়ে যায় না। সে যেন সকল কিছু ছাড়িয়ে অনুভূতিহীন, স্মৃতিহীন এক মানুষ। যেন তার আর কোনো আনন্দ বেদনার অনুভব নেই!

    মুকিত অবশ্য আর এ বাড়িতে আসে না। ফোনও করে না। জাহানারা কয়েকবার মুকিতের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মুকিত তখন ব্যস্ত। ইউনিভার্সিটিতে তার জরুরি পরীক্ষা চলছে। এই মুহূর্তে সে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। জাহানারা অবশ্য মুকিতের মাকে ফোন করলেন। তিনি প্রথম কয়েকদিন জাহানারার ফোন ধরেননি। পরে অন্য অচেনা নম্বর থেকে ফোন দিতে ধরলেন। জাহানারা সালাম দিতেই তিনি অপরিচিত মানুষের কণ্ঠে বললেন, ‘ও, আপনে?’

    ‘জি, কেমন আছেন আপা?’

    ‘এইতো রাখছে আল্লাহয় কোনো মতে। বাতের ব্যথায় আর বাঁচি না।’

    ‘ওহ, তা এখন কী অবস্থা?’

    ‘অবস্থা আর কী হবে! আল্লাহয় যেমন রাখছে, তেমনই থাকতে হবে।’

    জাহানারা অনেক ইতস্তত করে অবশেষে কথাটা বললেন,

    বললেন, ‘আপা, নাদিয়াকেতো একটু দেখতেও এলেন না!’

    মুকিতের মা পান খাচ্ছিলেন। তিনি পান মুখে নেয়া অবস্থায়ই গমগম করে বললেন, ‘এই অবস্থায় ওইখানে দূরের মানুষ যত কম যাওয়া যায়, ততই ভালো। এই সময়ে আপনা মানুষের কাছে থাকা দরকার।’

    ‘আপনিতো আর দূরের মানুষ না আপা? আপনারাইতো সবচেয়ে কাছের মানুষ।’

    মুকিতের মা পানের পিক ফেলতে ফেলতে বললেন, ‘কাছের মানুষ আর হতে পারলাম কই?’

    ‘কেন আপা!’

    ‘কেন আপা মানে? আপনি কি কচি খুকি নাকি? এমন ভাব করছেন যেন কিছুই বোঝেন না, জানেন না। দুনিয়ার সব মানুষ জানে। সব পত্রপত্রিকা, রেডিও টিভিতে খবর আসছে। আর আপনি এখন জিজ্ঞেস করছেন কেন আপা? যেন কিছুই হয় নাই। যেন কিছুই জানেন না আপনি!’

    ‘আপা, এটাতো একটা দুর্ঘটনা।’

    ‘তো দুর্ঘটনা হলে আমি কী করব? এই মেয়ে আমি ঘরে তুলতে পারব? আপনি পারবেন এই মেয়ে আপনার ছেলের বউ করে ঘরে তুলতে? দুনিয়ার মানুষ কী বলবে একবার চিন্তা করেনতো?’

    ‘আপা, কেন পারব না? আমার ছেলে থাকলে আর সেই ছেলের সাথে যদি বিয়ের কথাবার্তা এভাবে ফাইনাল থাকত, আমি অবশ্যই…।’

    ‘থামেন থামেন। নিজের কাঁধে না পড়লে এসব বড় বড় কথা সবাই বলতে পারে। কিন্তু কাজ করার বেলায় দেখা যায়। আর একটা কথা সত্যি করে বলেনতো আপা, এই ফ্যামিলির সাথে আমাদের কোনো দিক দিয়ে যায়? মা পাগল, বাপ শুনছি বিয়েও করছে। তা ছাড়া আমাদেরতো একটা সোশ্যাল স্ট্যাটাস আছে, তাই না? এই মেয়েকে ঘরে তুললে আমরা আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী কারো কাছে মুখ দেখাতে পারব? আপনিই বলেন?’

    পরিবর্তিত পরিস্থিতি খুব ভালোই বুঝতে পারছেন জাহানারা। তারপরও তিনি মরিয়া হয়েই বললেন, ‘এর বেশির ভাগ জেনেশুনেই কিন্তু আপনারা…।’

    এবারও জাহানারাকে কথা শেষ করতে দিলেন না মুকিতের মা। তিনি খানিকটা ধমকের স্বরেই বললেন, ‘শোনেন আপা, এই ঘরে আমি জীবনেও আমার ছেলেরে বিয়ে দিতাম না। আমাদের সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণাই নেই। শুধু ওই এক ছেলের জন্য আমি কিছু বলতে পারি নাই। মেয়ে দেখার পর ছেলে গেল পাগল হয়ে। তাকে যতকিছু বুঝাই, কোনো লাভ নাই। সে ওই মেয়েকেই বিয়ে করবে। পরে ভাবলাম, যার যার জীবন, তার তার। কিন্তু এখনতো আপা, এই মেয়ের জন্য আমি সমাজে ছোট হতে পারব না। আমার জাত-কুল সব বাদ দিতে পারব না। তাই না?

    ‘আপা, একবার ভাবেনতো যদি এই একই ঘটনা আপনার মেয়ের ক্ষেত্রে ঘটত, তখন আপনি কী করতেন!

    মুকিতের মা কথাটা শুনে যেন তেলেবেগুনে জ্বল উঠলেন। তিনি চিৎকার করে বললেন, ‘কী বললেন আপনি? কী বললেন? আপনার এত বড় সাহস, আপনি আমার মুখের ওপর আমার মেয়েকে নিয়ে এই ধরনের কথা বলেন…।’

    তিনি এরপর অকথ্য ভাষায় কথা বলতে থাকলেন জাহানারাকে। জাহানারা ফোন রেখে দীর্ঘসময় চুপ করে বসে রইলেন। একবার ভাবলেন মুকিতের বড় বোনকে ফোন দেন। কিন্তু পরক্ষণেই তার মনে হলো, তাতে কোনো লাভ হবে না। বরং মুকিতকে যদি সরাসরি কোথাও ধরা যায়। কেবল মুকিত রাজি হলেই এই সম্পর্ক সম্ভব। অন্য কোনোভাবেই না। যেহেতু নাদিয়ার প্রতি মুকিতের এক ধরনের প্রচণ্ড ভালোলাগা ছিল, সেহেতু মুকিতই এখন একমাত্র ভরসা!

    তিনি মুকিতকে একদিন সরাসরি তার ইউনিভার্সিটিতেই ধরলেন। মুকিত তখন দিনের শেষ ক্লাসটি নিয়ে কেবল তার রুমে ঢুকেছে। সেই মুহূর্তে জাহানারা হাজির হলেন। তিনি মুকিতকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই বললেন, ‘আমার কিছু কথা তোমার শুনতেই হবে বাবা।’

    মুকিত অবশ্য তার কথা শুনল। সে শান্ত ভঙ্গিতে বলল, ‘আপনি বসুন। আমি চা দিতে বলি?’

    ‘আমার চা লাগবে না বাবা। তুমি আমার কথা কয়েকটা একটু শোনো।’

    ‘জি বলুন।

    ‘এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল, নাদিয়াকেতো তুমি একটু দেখতেও গেলেনা বাবা?’

    ‘আমি খুব ব্যস্ত ছিলাম খালা। ইউনিভার্সিটিতে ছেলে-মেয়েদের পরীক্ষা চলছিল।’

    ‘এখনতো পরীক্ষা শেষ, এখনতো একটু যেতে পারো?’

    মুকিত কোনো কথা বলল না। জাহানারাই বললেন, ‘তুমি শিক্ষিত মানুষ। তোমাকেতো আর আমার বোঝানোর কিছু নেই। এইসময়ে তার সবচেয়ে বেশি দরকার তোমাকে। তুমি যদি একটু তার পাশে গিয়ে শক্ত করে তার হাতটা ধরো, একটু সাহস দাও, দেখবা সে সবকিছু ভুলে যাবে। দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে। তোমার একটু যাওয়া উচিত বাবা।’

    মুকিত ইতস্তত করে বলল, ‘একটু সমস্যা আছে খালা।’

    ‘কী সমস্যা?’

    ‘মা বা বড় আপা কেউই চান না যে এই বিষয়টাতে আমি আর ইনভলভ হই!’ মুকিতের কথায় জাহানারা যেন খানিক আশার আলো খুঁজে পেলেন। মুকিততো এখনো তার নিজের ইচ্ছের কথা কিছু বলেনি। জাহানারা উৎসাহী গলায় বললেন, ‘তারা আগের মানুষ। তাদের ধ্যান-ধারণাও তেমন। কিন্তু তুমিতো বাবা শিক্ষিত, আধুনিক মানুষ। তোমার নিজেরতো একটা বিচার-বিবেচনা আছে, আছে না? তা ছাড়া তুমিতো নাদিয়াকে পছন্দ করো। আর নাদিয়াও তোমাকে পছন্দ করে!

    ‘সবই ঠিক আছে খালা। কিন্তু আমিতো আমার ফ্যামিলির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারি না, তাই না?’

    ‘তুমি এখন বড় হয়েছো, তোমার একটা সিদ্ধান্ত আছে না?’

    ‘খালা, আমার বাবার মৃত্যুর পর আমার মা-ই আমার সব। তার কারণেই আমি যতটুকু যা করেছি। এখন তার সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কিছু করা আমার পক্ষে সম্ভব না।’

    কিন্তু তোমার মায়ের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েই কিন্তু তুমি নাদিয়াকে পছন্দ করেছিলে? তখন?’

    ‘হ্যাঁ, করেছিলাম। কিন্তু তখন সিচ্যুয়েশন ভিন্ন ছিল। আর মা তখন রাজিও হয়েছিল। কিন্তু খালা বুঝতেই পারছেন, এখন সিচ্যুয়েশন চেঞ্জ হয়ে গেছে। তা ছাড়া, আমার একটা সার্কেল আছে। সেই সার্কেলটা আমাকে মেইনটেইন করতে হয়। এই ঘটনা এখন সবার মুখে মুখে। আপনি একবার আমার কথা চিন্তা করেন, আমি এই কাজ করলে কাউকে মুখ দেখাতে পারব? তা ছাড়া এখন আমি চাইলেই অনেক কিছু করতে পারি না। আমার একটা পরিচিতি আছে, সম্মান আছে। এখন কিছু করার আগে আমাকে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে কাজ করতে হয়

    জাহানারা বেপরোয়া ভঙ্গিতে বললেন, ‘আচ্ছা মুকিত, আমাকে একটা কথা বলোতো বাবা?’

    ‘জি?’

    ‘এতদিনে কিন্তু নাদিয়ার সাথে তোমার বিয়েটা হয়েও যেতে পারত, পারত না?’

    মুকিত জবাব দিল না। তবে কঠিন চোখে সে জাহানারার দিকে তাকিয়ে রইলো। জাহানারা বললেন, ‘তো নাদিয়ার সাথে যদি তোমার বিয়েটা হয়ে যেত, তখনতো নাদিয়া তোমার স্ত্রী হতো তাই না?’

    মুকিত এবারও জবাব দিল না। জাহানারা বললেন, ‘তো তখন এই ঘটনা ঘটলে তুমি কী করতে? তোমার স্ত্রীকে কেউ রেপ করলে তুমি তোমার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিতে? ছেড়ে দিতে তাকে?’

    মুকিত এই প্রশ্নেরও জবাব দিল না। তবে তার সময় শেষ এমন ভঙ্গিতে সে উঠে দাঁড়াল। জাহানারা অবশ্য উঠলেন না। তিনি তারপরও বললেন, ‘আমি জানি না তুমি কাকে বিয়ে করবে, কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর আমাকে তোমার দিতেই হবে। আল্লাহ না করুক, তোমার ভবিষ্যৎ স্ত্রীর সাথে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে তখন তাকে তুমি তালাক দিয়ে দেবে? ডিভোর্স দিয়ে দেবে? বা ধরো, তোমার মা কিংবা বোনের সাথে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে তুমি আর তাদের তোমার মা বা বোন বলে পরিচয় দেবে না?’

    এই প্রথম মুকিতের বিনয়ের খোলসটা যেন ঝরে পড়ল। সে হঠাৎই উত্তেজিত কণ্ঠে বলল, ‘আপনি এখন, এই মুহূর্তে আমার রুম থেকে বের হন। এক্ষুণি বের হন। না হলে খুব বাজেভাবে আমি আপনাকে এখান থেকে বের করব। এক্ষুনি বের হন। এক্ষুনি।’

    জাহানারা অবশ্য উত্তেজিত হলেন না। তিনি হাসলেন, ‘কীভাবে বের করবে, গলা ধাক্কা দিয়ে? আমার কিন্তু গলগণ্ডের সমস্যা আছে বাবা। ‘

    জাহানারার কথা শুনে মুকিত খানিক অবাক হয়ে গেল। এখানে এই পরিস্থিতিতে সে জাহানারার কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করেনি। জাহানারা এদিক সেদিক তাকিয়ে হঠাৎ ফিসফিস করে বললেন, ‘তোমার সাথে আমার একটা খুব জরুরি কথা আছে। কথাটা মন দিয়ে শুনবা।’

    মুকিত উৎসুক চোখে তাকাল। জাহানারা নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বললেন, ‘ডাস্টবিন দেখলে আমি সহ্য করতে পারি না বাবা। সাথে সাথে আমার বমি চলে আসে। কিন্তু তোমাদের এখানেতো মনে হয় বমি করা যাবে না, এইজন্য ডাস্টবিন দেখেও আমি বমি করতে পারলাম না। তবে থুতুতো ফেলা যাবে, কি বলো?’

    মুকিত জাহানারার কথা কিছুই বুঝতে পারল না। সে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে। জাহানারা শান্ত ও নির্বিকার ভঙ্গিতে বললেন, ‘আমি তাই সেই ডাস্টবিনের উপর থুতু ফেলে গেলাম। থুতু। ওয়াক থুঃ।’

    জাহানারা শব্দ করে এক দলা ঘন আঠালো থুতু ফেললেন মুকিতের মুখের ওপর। তারপর হনহন করে হেঁটে বেরিয়ে এলেন মুকিতের ঘর থেকে। মুকিত তার মুখভর্তি সেই ঘন আঠালো থুতু নিয়ে জাহানারার চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে রইলো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআলথুসার – মাসরুর আরেফিন
    Next Article সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026
    Our Picks

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026

    শঙ্খচিল – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }