Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026

    শঙ্খচিল – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্ধবৃত্ত – সাদাত হোসাইন

    সাদাত হোসাইন এক পাতা গল্প480 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অর্ধবৃত্ত – ২

    ২

    নাবিলা চুপচাপ বসে আছে। তার সামনে বসে আছে সাজ্জাদ। সাজ্জাদের চোখ লাল। সে গলা অবধি মদ গিলে এসেছে। বিয়ের প্রথম দিকে এই নিয়ে খুব হৈচৈ করত নাবিলা। এখন আর করে না। না করার কারণও অবশ্য আছে। সেই কারণ বলার মতোও কেউ আর নেই তার। সে মাকে কিছু বলতে পারে না। বাবাকেতো না-ই। মাঝে মাঝে নাদিয়াকে হয়তো কিছু বলা যায়। কিন্তু নাবিলা জানে, সে নাদিয়ার জীবনটাও কঠিন করে ফেলেছে। বড় বোন নিজের ইচ্ছেয় বিয়ে বা সম্পর্ক নিয়ে বড়োসড়ো ভুল করে ফেললে তার জের পোহাতে হয় ছোট বোনকে। নাদিয়াও পোহাচ্ছে। এই বয়সে তার ঝলমলে প্রজাপতির মতো ডানা মেলে উড়ে বেড়াবার কথা। এক পৃথিবী স্বপ্নের রং চোখে-মুখে ছড়িয়ে ভেসে বেড়াবার কথা। কিন্তু যখনই কোনো স্বপ্ন তার চোখের পাতায় ভর করতে চায়, সে চট করে চোখ মেলে তাকায়। অনবরত ঝাঁজালো জল ছেটাতে থাকে চোখে। যতক্ষণ না অবধি সেই রঙচঙে স্বপ্নটা ধুয়ে-মুছে যায় চোখ থেকে, ততক্ষণ অবধি সে দাঁতে দাঁত চেপে নির্ঘুম দিন-রাত্রি কাটিয়ে দেয়। সে জানে, তার স্বপ্ন দেখতে মানা। তার এই স্বপ্নবিহীন জীবনের পাণ্ডুলিপি লিখে দিয়েছে তার বড় বোন নাবিলা।

    নাবিলা তার নিজের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি লিখেছে ভুল গল্পে, ভুল সিদ্ধান্তে। এই গল্প নতুন করে লেখার ক্ষমতা আর তার নেই। বিষয়টা জানে বলেই সারাক্ষণ কুঁকড়ে থাকে সে। কিন্তু সবকিছু যখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন বাধ্য হয়েই ছোটবোন নাদিয়াকে ফোন করে কাঁদে সে। নাদিয়া বড় বোনকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে, ‘দেখিস একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। দুলাভাই বুঝতে পারবেন উনি যা করছেন তা ঠিক নয়। তুই দেখিস।’

    নাবিলা কাঁদে। সে নাদিয়ার কথা শোনে কিনা বোঝা যায় না। কাঁদতেই থাকে। নাদিয়া সেই একই গলায় বলে, ‘তুই কাঁদিস না আপু। তুই কাঁদলে আমার ভালো লাগে না। আমারও কান্না পেয়ে যায়।’ নাদিয়া অবশ্য কাঁদে না। তবে নাবিলাও কান্না থামায় না। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতেই থাকে। তার এই একটা জীবন হয়তো কান্নার ফোঁটা ফোঁটা জলেই লিখে রেখেছে কেউ। সেই জল শেষ না হওয়া অবধি তাকে কাঁদতেই হবে, তা সে জানে। জীবনের এমন এক অন্ধ গলিতে সে ঢুকে পড়েছে, যেই গলি থেকে বেরুনোর কোনো পথ তার জানা নেই।

    রাত তিনটা বাজে। ফরিদপুরের ছোট্ট এই মফস্বল শহর সুনসান। দূরে হেঁটে যাওয়া কারো পায়ের শব্দ, কোনো পাতা ঝরার শব্দও হাওয়ায় ভেসে কানে আসে। তারপরও সাজ্জাদ চড়া গলায় বলল, ‘তুই আমাকে কী ভাবিস? আমি রাস্তার ফকির?’

    নাবিলা জবাব দিল না। তার আর মার খেতে ভালো লাগে না। সাজ্জাদ বলল, ‘তোর বাপকে বল আমাকে একসাথে আট লাখ টাকা দিতে। আগের বারের মতো ভেঙে ভেঙে দিলে হবে না। ভাঙা টাকা কোনো কাজে লাগে না। ভাংতি টাকা দেখলেই আমার মদ খেতে ইচ্ছে করে। এই যে আমি এত মদ খাই, এর জন্য কে দায়ী বল?’

    নাবিলা মাথা নিচু করে বসে আছে। সাজ্জাদ যে প্রতি রাতেই মদ খায়, বিষয়টা এমন নয়। তবে সপ্তাহে দুয়েকদিন খাবেই। আবার মদ খেলেই যে সে নাবিলার গায়ে হাত তোলে, ব্যাপারটা তাও নয়। তবে মাসে দুয়েকদিন এই ঘটনা ঘটেই। আজও ঘটবে কিনা সে জানে না। সাজ্জাদ বলল, ‘বিয়ের আগে কে ফষ্টিনষ্টি করে না, তুই বল? তাই বলে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিতে হবে? তোর বাপ করে নাই? সেও করেছে। এখনো করে। যেই কলেজে সে পড়ায়, সেই কলেজের ম্যাডামের সাথে তার কী সম্পর্ক বল? এই যে বিয়েতে এত টাকা খরচ হলো, এই টাকা সে কই পেয়েছে? আমাকে যে টাকা দিয়েছে, সেই টাকা সে কই পেয়েছে? আমি জানি না ভেবেছিস? আমি সব জানি। তোর বাপ হলো একটা নিমহারামি। নিমহারামি কি বুঝিস?’

    একটু থেমে সে আবার বলল, ‘নিমহারামি হলো বাইরে ফিটফাট, ভেতরে সদরঘাট। তোর বাপ হলো ওইটা। বাইরে দেখলে মনে হয় ভাঁজা মাছ উল্টে খেতে জানে না। আসলেতো কাঁটাসহ খেয়ে ফেলে। কয় টাকা বেতন পায় সে ওই কলেজে? ওই কটা টাকাই যদি বেতন পায়, তাহলে এতটাকা সে আমারে দিল কীভাবে? ভেতরে অন্য ঘটনা আছে। সেও ওই মহিলার সাথে ফষ্টিনষ্টি করে। এইটারে ইংরেজিতে বলে জিগালো। টাকার বিনিময়ে…। বুঝলিতো? সে ওই মহিলার…।’

    নাবিলা আর চুপ থাকতে পারল না। সে বলল, তুমি সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছো সাজ্জাদ…।

    সাজ্জাদ সপাটে চড় বসাল নাবিলার গালে। নাবিলা ছিটকে পড়তে পড়তেও সামলে নিল। সাজ্জাদ নির্বিকার ভঙ্গিতে হাসল, ‘এত আস্তে চড় খেয়ে ব্যথা পেলেতো সমস্যা! তুইতো ছাত্রীও ভালো ছিলি না। খারাপ ছাত্রী হলে মার খাওয়ার অভ্যাসতো থাকতে হবে। হবে না?’

    সাজ্জাদের সাথে বছর পাঁচেক আগে নাবিলার পরিচয়। সাজ্জাদরা কয়েক বন্ধু মিলে কলেজ ভর্তির কোচিং দিয়েছিল। সেই কোচিংয়ে ভর্তি হয়েছিল সে। সাজ্জাদ কথা বলতো সুন্দর করে। পড়াতোও ভালো। ব্যাচের সব মেয়েরা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকত তার দিকে। নাবিলা অবশ্য ভীতু ধরনের মেয়ে। ভালো লাগলেও সে কখনো অন্য মেয়েদের মতো ড্যাবড্যাব করে সাজ্জাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারতো না। পরীক্ষা কিংবা মডেল টেস্টের পেপারে বিশেষ কিছু লিখেও দিতে পারতো না। সেই সাহস তার কোনো কালেই ছিল না। এমনকি ক্লাস শেষে কঠিন কোনো বিষয় বুঝতে পারেনি বলে আলাদা করে সাজ্জাদের রুমে বুঝতেও যেতে পারত না। তারপরও আর সব মেয়েদের রেখে কেমন কেমন করে যেন সাজ্জাদের চোখ পড়ে গেল নাবিলার ওপরই। সেবার হিসাববিজ্ঞানে খুব খারাপ করে ফেলল নাবিলা। যদিও অতটা খারাপ রেজাল্ট হবে সেটা বিশ্বাসই হচ্ছিল না তার। ক্লাস টেস্টের খাতা হাতে সাজ্জাদ গম্ভীর গলায় বলেছিল, কাল বিকেলে দেখা করবে। তোমার সাথে সিরিয়াস আলাপ আছে।’

    সিরিয়াস আলাপ অবশ্য কিছু হয়নি। দীর্ঘসময় তাকে বসিয়ে রেখে শেষে সাজ্জাদ বলেছিল, ‘পড়াশোনা বিষয়টা কেমন জানো?’

    নাবিলা চোখ তুলে তাকিয়েছিল। সাজ্জাদ বলেছিল, ‘পড়াশোনা বিষয়টা একটা বিশাল ফাঁকি। এখানে শোনার চেয়েও দেখার ভূমিকা বেশি। অথচ পড়াদেখা বাদ দিয়ে লোকে একে বলে পড়াশোনা। কী উদ্ভট না?’

    নাবিলা জবাব দেয়নি। সাজ্জাদ নাবিলার চোখে চোখ রেখে বলেছিল, ‘এইজন্য আমি শোনার চেয়ে দেখি বেশি, বুঝলে?’

    নাবিলা বোঝেনি। কিন্তু সে জানত তার সামনে বসা ছেলেটার জন্য তার বুকের ভেতর কেমন ছটফটানি হয়। না দেখলে তেষ্টা তেষ্টা লাগে। সাজ্জাদ তার খাতায় গোটাগোটা অক্ষরে লিখে দিয়েছিল, ‘আমি তোমাকে দেখতে চাই। দেখে দেখে তোমাকে পড়তে চাই। সারাটা জীবন। একান্ত বাধ্যগত ছাত্রের মতো।’

    সাজ্জাদ ঠিক বলেনি। সে নয়, বরং একান্ত বাধ্যগত ছাত্রী হয়ে গেল নাবিলা। সে বুঝতে পারছিল, সাজ্জাদ একটা চোরাবালির মতো। এখানে ডুবে গেলে সে আর কখনোই উঠতে পারবে না। অবশ্য তখন উঠতে চায়ওনি সে। সাজ্জাদ তখন সীমাহীন মুগ্ধতার নাম। সেই মুগ্ধতা বাড়তে বাড়তে অন্ধ করে দিয়েছিল নাবিলাকে। বছর দুয়েক বাদে এক সন্ধ্যায় সাজ্জাদ এসে বলল, ‘তোমার কাছে টাকা হবে?’

    ‘টাকা!’ চমকে গিয়েছিল নাবিলা।

    ‘হ্যাঁ, খুব প্রয়োজন।’

    নাবিলা প্রয়োজনটা আর জানতে চায়নি। মেয়েদের চিরকালীন সঞ্চয়ের অভ্যাস। তারও কিছু ছিল। তার সেই সঞ্চয়টুকু সাজ্জাদের হাতে তুলে দিতে কী যে ভালো লাগছিল নাবিলার! কিন্তু তখনো কী সে জানত, সাজ্জাদও ডুবে গেছে ভয়াবহ এক চোরাবালিতে! তার টকটকে লাল চোখ, এলোমেলো চলন-বলন কিংবা নেশাসক্ত মুখশ্রী যে নাবিলার চোখে পড়েনি তা নয়। কিন্তু মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, চোখে চোখ রেখে শক্ত গলায় সে কথাটুকু বলবার সাহসটা কখনো হয়ে ওঠেনি নাবিলার। বলা হয়ে ওঠেনি আরো কতকিছুই। আর হয়নি বলেই এক ভয়ংকর ভুলের পর সে যখন উদ্ভ্রান্তের মতো একা একা মুক্তির উপায় খুঁজছিল। সমুদ্রে ডুবে যেতে থাকা সাঁতার না জানা এক মানুষের মতো খড়কুটো খুঁজছিল, তখন আচমকা তার মা তাকে ডেকে বলেছিলেন, ‘তোর কি শরীর খারাপ?’

    সেদিন সে কম্পিত, সন্ত্রস্ত গলায় বলেছিল, ‘নাতো মা, কেন?’

    হাফসা বলেছিলেন, ‘এদিকে আয়, আমার কাছে এসে বোস।’

    সে রাজ্যের সাহস জড় করে নিয়ে এসে তার মায়ের সামনে বসেছিল। হাফসা দীর্ঘ সময় মেয়ের দিকে তাকিয়ে থেকে বলেছিলেন, ‘কী হয়েছে বল?’

    কী বলবে সে? আঁতিপাঁতি করে খুঁজেও সেদিন বলার মতো কিছু পায়নি সে। কিন্তু হাফসার অমন অন্তর্ভেদী দৃষ্টির সামনে বসেও থাকতে পারছিল না। সেদিন চোরের মতো পালিয়ে বেঁচেছিল। কিন্তু হাফসার দৃষ্টি তাতে ক্ষান্ত দেয়নি। তার চোখও এড়ানো যায়নি। দিন পনেরো বাদে মেয়েকে একা ঘরে ডেকে দরজা বন্ধ করতে বললেন তিনি। তারপর হাউমাউ করে কাঁদলেন। নাবিলা চেষ্টা করছিল এটা সেটা অনেক কিছু বলে মায়ের চোখকে ফাঁকি দিতে। কিন্তু পারেনি সে। হাফসা আচমকা বললেন, ‘জামা খোল।’

    ‘জামা কেন খুলবো মা? এসব তুমি কী বলছো!’ নাবিলা চেষ্টা করেও তার গলা শক্ত করতে পারেনি।

    হাফসা হিসহিসে কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘হারামজাদী, তুই জামা খোল। তোর প্যাটে কী বাঁধাইছোস তুই, আমারে দেখতে দে?’

    নাবিলা তখন তিন মাসের গর্ভবতী। ভয়াবহ দুশ্চিন্তায় তার চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে। রাতের পর রাত নির্ঘুম, কান্না-ক্লান্ত, ফ্যাকাশে এক মানুষ সে। ঘটনার পর থেকে সাজ্জাদ উধাও। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ততদিনে তার কোচিং সেন্টার উঠে গেছে। দশবার ফোন দিলে সে একবার ফোন ধরে। নাবিলার তখন দিশেহারা অবস্থা। তার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই এমন পরিস্থিতিতে কী করতে পারে একটা মেয়ে! কাকে কী বলবে সে? কীভাবে বলবে? কতদিন আর এভাবে লুকিয়ে রাখতে পারতো সে নিজেকে!

    হাফসা অবশ্য মাথা গরম করলেন না। তিনি ঠাণ্ডা মাথায় ঘটনা খুলে বললেন আশফাককে। ঘটনা শুনে আশফাকের ছোটোখাটো স্ট্রোকের মতো হয়ে গেল। শেষ উপায় অবশ্য মুনিয়া। মুনিয়া সব শুনে বলল, ‘এখন কী করতে চান ভাবি?’

    হাফসা ঠাণ্ডা গলায় বললেন, ‘ছেলেটারে খুঁজে বের করো। এই মেয়ে আমি ঘরে রাখব না। এরে আমি বিয়ে দেব। ওই ছেলের সাথেই দেব। তুমি দ্রুত ব্যবস্থা করো।

    সাজ্জাদ অবশ্য সহসা বিয়েতে রাজি হলো না। তার নানা দাবি দাওয়া, শর্ত। প্রায় সকল শর্তই মেনে নিলেন হাফসা। আশফাককে বড় অঙ্কের টাকার ব্যবস্থাও করতে হলো। বিদেশ থেকে তার বড় বোনও কিছু পাঠালেন। লজ্জায়, অপমানে, অপরাধবোধে আড়ষ্ট নাবিলা তখন বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে পারলে বাঁচে। নাবিলা আর সাজ্জাদকে ঢাকায় বাসা ভাড়াও করে দেয়া হলো। সাজ্জাদের একটা চাকরি-বাকরি হওয়া অবধি এই ব্যবস্থা। সাজ্জাদ অবশ্য বিয়ের দিন দুয়েকের মাথায় নাবিলাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। তারপর গর্ভপাত করাল আরো কিছুদিন পর।

    এই নিয়ে কারো দ্বিরুক্তি করার কোনো সুযোগও অবশ্য রইলো না। সমস্যা শুরু হলো এরপর। হঠাৎ করেই নাবিলাকে ঢাকায় রেখে একা ফরিদপুরে নিজেদের গ্রামের বাড়িতে চলে এলো সাজ্জাদ। তারপর থেকে আর কোনো খবর নেই তার। মাসখানেক পরে সে ফোন করে জানাল, তার মোটা অঙ্কের নগদ টাকা দরকার। সেই টাকায় নিজের শহরে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে সে। আশফাকের পক্ষে তখন এককালীন অত টাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব না। কিন্তু সাজ্জাদের শর্তে রাজি না হয়েও উপায় রইল না তার। সে মাসে মাসে নির্দিষ্ট একটা টাকা পাঠাতে লাগল সাজ্জাদকে। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির কোনো উত্তরণ ঘটল না। বরং আরো অবনতি হলো। সেই অবনতি হওয়া পরিস্থিতির কথা অবশ্য কেউ জানলো না। নাবিলা হাসি হাসি মুখে মায়ের সাথে কথা বলে। বাবার সাথে কথা বলে। নাদিয়ার সাথেও বলে। তবে কেবল নাদিয়ার কাছেই কেঁদে বুক ভাসাতে পারে সে। অকপট, ভানহীন হতে পারে। আর কারো কাছে নয়। জগতে আর কোথাও সেই জায়গাটুকু তার নেই। নিজের ইচ্ছেয় যতটুকু পথ সে সামনে এগিয়েছে, ঠিক যেন ততটুকু পথই রুদ্ধ করে এসেছে পেছনে। তাই ফেরার আর পথ নেই তার।

    নাবিলা ভেবেছিল সে কাঁদবে না। কিন্তু তার চোখের কোল গড়িয়ে জল নামছে। সাজ্জাদ চাপা গলায় বলল, ‘আমার সামনে বসে ফ্যাঁচফ্যাচ করে কাঁদবি না। তোর কান্না দেখলে আমার মাথায় খুন চেপে যায় নাবিলা।’

    নাবিলা এক হাতে মুখ চেপে ধরে দাঁড়িয়ে রইল। সাজ্জাদ বলল, ‘তুই টাকার ব্যবস্থা কর। তোর বাবাকে ফোন কর। আমার টাকা লাগবে। এই মাসের মধ্যে লাগবে।’

    নাবিলা কথা বলল। সে ভেজা, শ্লেষ্মা জড়ানো গলায় বলল, ‘বাবা অত টাকা কই পাবে? তুমিতো বাবার অবস্থা জানো। জানো না?’

    সাজ্জাদ ক্রুঢ় ভঙ্গিতে হাসল, ‘কই পাবে সেটা আমি কী জানি! তোর বাপতো ভাড়া খাটে, ভাড়া খেটে আনতে বল!’

    নাবিলা এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে চিৎকার করে বলল, তুমি আমার বাবাকে নিয়ে আর একটা নোংরা কথা বলবে না। একটাও না।’

    ‘কেন? বললে কী করবি তুই?’

    নাবিলা শক্ত হাতে খাটের স্ট্যান্ড ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তার হাত কাঁপছে। সাজ্জাদ বলল, ‘মারবি আমাকে? মারবি? আয়, মার। আয়।

    সাজ্জাদ দু পা সামনে এগুলো। তারপর আচমকা লাথি বসাল নাবিলার পেট বরাবর। নাবিলা ছিটকে পড়লো শোকেসের ওপর। ঝনঝন শব্দে কাচ ভেঙে ছড়িয়ে পড়ল মেঝেতে। শোকেসটা বিকট শব্দে উল্টে পড়ে গেল। দরজার ওপাশ থেকে শফিক ভীত কণ্ঠে ডাকল, ‘ভাইজান। ভাইজান।’

    সাজ্জাদ চিৎকার করে বলল, ‘এতরাতে এইখানে কোনো ঝামেলা করবি না শফিক। ঘুমাতে যা।’

    শফিক সাজ্জাদের ছোট ভাই। সে ফরিদপুর থেকে বিএ পাস করে ঢাকায় এক কলেজে সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স করছে। সাথে এক এনার্জি বাল্বের কোম্পানিতে পার্টটাইম মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করছে। টিউশনও করায় দুটো। তারা দুই ভাই এক বোন। বোনের বিয়ে হয়েছে বরিশালে। সে কালেভদ্রে বাড়িতে আসে। বাবা নেই। মা অসুস্থ। সেই মাকে দেখতেই বাড়ি এসেছে শফিক। খানিকটা চুপচাপ স্বভাবের ছেলে সে। নাবিলার সাথে সাজ্জাদের আচরণ সম্পর্কে সে কম-বেশি জানে। কিন্তু এবার বাড়ি আসার পর থেকে যে অবস্থা সে দেখছে, তা একপ্রকার অচিন্তনীয়ই।

    শফিক আবারো দরজায় নক করল। সাজ্জাদ বিশ্রি ভাষায় গাল বকে দরজা খুলে দাঁড়াল। শফিক বলল, ‘তুমি কি ভাবিকে মেরে ফেলবে?’

    ‘ফেললে ফেলবো, তাতে তোর কী?’

    শফিক জবাব দিল না। সে সাজ্জাদকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে ঘরে ঢুকল। নাবিলা মেঝেতে পড়ে আছে। তার কপালের পাশ কেটে রক্ত বেরুচ্ছে। হাতের তালুতে ভাঙা কাচের টুকরো বিধে আছে। ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে সে নড়াচড়া করছে না। মৃত মানুষের মতো নিথর পড়ে আছে। শফিক তাকে বার কয়েক ডাকল, কিন্তু কোনো সাড়া দিল না নাবিলা।

    নাবিলাকে হাসপাতালে নেয়া হলো ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই। তার জ্ঞান ফিরল তারও কিছুক্ষণ পর। কিন্তু নাবিলা কারো সাথে কোনো কথা বলল না। চুপচাপ শূন্য চোখে নির্নিমেষ তাকিয়ে রইলো সে। শফিক বলল, ‘ভাবি, তুমি ঢাকায় যাবে?’

    নাবিলা জবাব দিল না। শফিক বলল, ‘তোমার ভালো চিকিৎসা আর বিশ্রাম দরকার ভাবি। কয়েকটা দিন ঢাকায় থেকে এসো। দেখবে ভাইজানও তখন কিছুটা হলেও বুঝবে। তাকে জোর করে কিছু বোঝানো যাবে না, যদি না সে নিজ থেকে বোঝে।’

    নাবিলা তখনো কথা বলল না। সে এই অবস্থায় কখনোই ঢাকায় যেতে চায় না। তার এই চেহারা সে বাড়ির কাউকে দেখাতে চায় না। বিকেলে অবশ্য সাজ্জাদ হাসপাতালে এলো। সুস্থ, স্বাভাবিক, শান্ত একজন মানুষ। সে নাবিলার পাশে এসে বসল। তারপর বিড়বিড় করে বলল, ‘আমার মাথার ঠিক থাকেনা নাবিলা। নানান চিন্তা, টেনশন। এইজন্য মাথার ঠিক থাকে না। কী করব বলো!’

    নাবিলা যেমন ছিল, তেমনই নির্জীব পড়ে রইল। সে জানে, সাজ্জাদের এই চেহারা স্থায়ী কিছু নয়। সে আবার নেশা করবে, আবার মাঝরাতে রক্তচক্ষু নিয়ে ঘরে ফিরবে। আবার সেই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হবে। সাজ্জাদ নাবিলার হাত ধরে কাঁচুমাচু গলায় বলল, ‘অনেক টাকা লোন করে ফেলেছি। সেই টাকা শোধ করতে পারছি না বলে লোকে দিনরাত আমাকে খোঁজে। আমি লুকাই থাকি। দেখা হলেই গাল-মন্দ করে। অপমান করে। আয়-রোজগারও কিছু নাই। এইজন্য আমার মাথা উল্টাপাল্টা হয়ে যায় নাবিলা। তুমি আমাকে মাফ করে দাও।’

    নাবিলা সব জানে, সব বোঝে, তারপরও কোনো এক ব্যাখ্যাহীন কারণে এই লোকটাকে সে উপেক্ষা করতে পারে না। অবজ্ঞা করতে পারে না। লোকটা সামান্য নরম গলায় কথা বললেই তার মনে হয় আগের ঘটনাগুলো সব দুঃস্বপ্ন ছিল। সে এখন ঘুম থেকে জেগে উঠতেই সেই ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন ভেঙে গেছে। নাবিলা তার ব্যান্ডেজ বাঁধা হাতের মুঠোতে সাজ্জাদের হাতটা আলতো করে ধরল। তার দু চোখের কোল বেয়ে অঝর ধারায় নেমে আসতে লাগল একজোড়া দুঃখবতী নদী।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআলথুসার – মাসরুর আরেফিন
    Next Article সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026
    Our Picks

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026

    শঙ্খচিল – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }