Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026

    শঙ্খচিল – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্ধবৃত্ত – সাদাত হোসাইন

    সাদাত হোসাইন এক পাতা গল্প480 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অর্ধবৃত্ত – ৪৪

    ৪৪

    এই বাড়িটা কেমন ঘুম ঘুম।

    সন্ধ্যাবেলা নাদিয়া যখন বাবার সাথে গেট পেরিয়ে ঢুকল, তখন বৃষ্টি নেমেছে। গেটের ভেতর থেকে অনেকদূর অবধি মসৃণ লাল ইটের সরু রাস্তা। রাস্তার দু ধারে মেহগনি আর দেবদারুর সারি। একটা পিলারের মাথায় ইলেক্ট্রিকের বাতি জ্বলছে। তার আলোয় মেহগনির কালচে সবুজ পাতাগুলো চকচক করছে। মাগরিবের আজানের সময়টাতে চারপাশ এমন শূন্য, নিঃসাঢ় আর ম্লান লাগতে কখনো দেখেনি সে। মিনিট দুয়েক হাঁটতেই ঘন গাছপালার ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে খানিকটা পুরনো ধাঁচের সাদা বাড়ির অবয়বটা উঁকি দিল। দোতলা বাড়ির বারান্দায় বাতি জ্বলছে। নিচতলায় ভূতুড়ে অন্ধকার। বাঁধানো আঙিনায় পা রাখতেই বেটেখাটো একটা লোক ছুটে এলো। মাথার পেছনে অল্প চুল। নাকের নিচে ঘন সাদা গোঁফ। মুখভর্তি খোঁচা খোঁচা দাড়ির ভেতর থেকেও বিগলিত কিন্তু সৌম্য হাসিটা আলো ছড়াচ্ছে। আশফাক সেদিকে তাকিয়ে পরিচিতের ভঙ্গিতে বললেন, ‘স্যুটকেসগুলো দোতলায় নিয়ে যা তো তালেব। আর সুফিয়াকে বল নাদিয়ার ঘরটা ঠিক করে দিতে।’

    .

    তালেবের শব্দহীন হাসি এবার উচ্চকিত হলো। সে বলল, ‘সেই কথা আর বলতে হবে না স্যার। ম্যাডাম সবকিছুর ব্যবস্থা করে রেখেছেন।’

    ‘আফসানা চলে এসেছে!’ আশফাক যেন খানিক অবাক হলেন!

    ‘না স্যার। ম্যাডামের ফিরতে ফিরতে রাত হবে।’

    নাদিয়া কিছুই বুঝতে পারছে না। সে দুপুরের দিকে বাবার সাথে তার কলেজ দেখতে এসেছে। কলেজটা দারুণ সুন্দর। এখানে এত সুন্দর একটা কলেজ থাকতে পারে, তার ধারণাতেই ছিল না। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, সে কলেজে ঢোকামাত্রই সবাই তাকে যেভাবে অভ্যর্থনা জানিয়েছে, তাতে হকচকিয়ে গিয়েছিল সে। কলেজে জহিরুল নামে এক ভদ্রলোক প্রশাসনিক পদে চাকরি করেন। তিনি নাদিয়াকে পুরো কলেজ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখালেন। আশফাকের পরপর দুটো ক্লাস ছিল। তিনি ক্লাস নিতে চলে গেলেন। তাতে অবশ্য নাদিয়ার কোনো সমস্যা হলো না।

    জহিরুল প্রচণ্ড বিনয়ী এবং যত্নবান একজন মানুষ। তার বয়স বেশি না হলেও মাথায় চুল কম। এ কারণে বয়সের তুলনায় তাকে দেখতে খানিকটা ভারীই লাগে। তিনি পুরোটা সময় নাদিয়াকে নিয়ে শশব্যস্ত হয়ে রইলেন। তবে নাদিয়ার সম্পর্কে ভদ্রলোকের অতিরিক্ত কৌতূহল আর ব্যক্তিগত, পারিবারিক নানা প্রশ্নে খুবই বিরক্ত হলো নাদিয়া। যদিও ভদ্রতাবশত সেটা প্রকাশ করল না সে। তবে তার রুমে যেতেই নাদিয়াকে চমকে দিল জহিরুল। একগুচ্ছ দোলনচাঁপা উপহার দিল সে। সাথে নানা ধরনের উপহার। যেন এখানকার সবাই আগেভাগেই জানত যে নাদিয়া আসবে। আর এ কারণে আগে থেকেই প্রস্তত হয়েছিল তারা। কিন্তু নিজের প্রতি সবার এমন আলাদা যত্নের কারণ বুঝল না নাদিয়া। বিশেষ করে জহিরুল যেন দীর্ঘদিন থেকেই তার সম্পর্কে জানে। তার নানা কথাবার্তা, আচার-আচরণে তেমনই মনে হতে লাগল নাদিয়ার। বিষয়টাতে সে ভারি অবাক হলো। তবে মুখে সেটি প্রকাশ করল না।

    .

    আশফাকের ক্লাস শেষে জহিরুল তাদের দুজনকে সঙ্গে নিয়ে কলেজের আশপাশে নানা জায়গাই ঘুরিয়ে দেখাল। বিস্তৃত শালবনের কোল ঘেঁষে কী দারুণ জায়গা! ঘন শালবনের ভেতর দিয়ে পিচঢালা চওড়া রাস্তা। সেখান দিয়ে সারাক্ষণই সাঁই সাঁই করে ঢাকার দিকে গাড়ি যায়। তবে আশফাক এখন যেই বাড়িটাতে নাদিয়াকে নিয়ে এসেছেন, সেই বাড়িটা অনেক ভেতরে। সুনসান নীরবতায় অন্ধকার বিচ্ছিন্ন এক বাড়ি। আশপাশে যেন ঘন বন ছাড়া আর কিছুই নেই। নাদিয়া এর আগে কখনো এখানে আসেনি। ফলে প্রথমবার বলেই কী না কে জানে, একটু বেশিই থমথমে লাগছে চারপাশ। যেন বিচ্ছিন্ন, নিঃসঙ্গ কোনো বন্দিশালা। তবে তার বাবা যে এখানে নিয়মিতই আসেন এবং এখানে যে তার বেশ একটা কর্তৃত্ব রয়েছে তা খুব সহজেই বোঝা যাচ্ছে।

    দোতলার বারান্দায় এসে অবশ্য নাদিয়ার মন ভালো হয়ে গেল। বাড়ির দখিন দিকের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষেই বিস্তৃত বিল। সেই বিলে যেন এখনো সন্ধ্যে নামেনি। কেমন ম্লান সোনারঙা এক আলো ছড়িয়ে আছে বিলজুড়ে। নাদিয়া ঘোরগ্রস্তের মতন সেদিকে তাকিয়ে রইলো। কী আশ্চর্য, একই সন্ধ্যা অথচ এ বাড়ির আলোটুকু যেন অভিমান করে সব ওখানে গিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এখানে তাই অন্ধকার, ওখানে আলো। সেই আলোয় নাদিয়ার মন কেমন করে উঠল। ইশ্, ঠিক এই জায়গাটায়, ঠিক এই মুহূর্তে শফিক যদি থাকত!

    আচমকা ঝড়ের মতো দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো তার বুক চিরে। সে কি তাহলে এই পুরোটা সময় আনমনে শফিকের কথাই ভাবছিল? না হলে এই মুহূর্তটাতে এমন করে শফিকের কথাই কেন মনে হবে তার?’

    সে শফিকের নম্বরটাতে আরো একবার ফোন করল। এখানে ফোনের নেটওয়ার্ক খুবই খারাপ। তবে তাতেও লাভ ক্ষতি কিছু হলো না। কারণ শফিকের নম্বর এখনো বন্ধ।

    এখানে একটা শীতের আমেজ। বৃষ্টি হচ্ছে। হয়তো মৌসুমের শেষ বৃষ্টি। এই বৃষ্টিই জাঁকিয়ে শীত নিয়ে আসবে। বৃষ্টির তোড় বাড়ছে। তেলতেলে মসৃণ মোজাইকের চওড়া বারান্দার মেঝেতে যেন ক্রমশই জেগে উঠছে জলের আয়না। কম ভোল্টের বৈদ্যুতিক বাল্বের হলদেটে আলোয় সেই আয়নাখানা হঠাৎ যেন কেঁপে উঠল। নাদিয়া ঝট করে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। তার আচমকা মনে হলো এই বারান্দাটা ঝলমলে আলোয় ভরে গেছে। সেই আলোয় ধবধবে সাদা শাড়ি পরা কী সুন্দর একটা মেয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সাদা শাড়িতে কাউকে এত সুন্দর লাগতে পারে, নাদিয়ার তা জানা ছিল না। নাদিয়ার চেয়ে বয়সে কত বড় হবে এই মানুষটি? নাদিয়া আন্দাজ করতে পারল না। তবে মানুষটা আশ্চর্য মমতাময় কণ্ঠে তাকে ডাকল, ‘ঠাণ্ডা লেগে যাবে কিন্তু নাদিয়া!

    নাদিয়া জবাব দিতে পারল না। এই অচেনা অজানা মানুষটি তাকে চমকে দিয়ে এমন চেনা মানুষের মতো ডাকবে, এটা সে আশা করেনি। মানুষটি আবার বলল, ‘তোমার ঘর পছন্দ হয়েছে?’

    নাদিয়া এবারও জবাব দিল না। তার আচমকা ভয় লাগতে লাগল। এই মানুষটাকে তার ভয় লাগার কথা না, বরং ভালো লাগার কথা। এমন মানুষকে কারো খারাপ লাগে না। কিন্তু কোনো এক রহস্যময় কারণে এই মানুষটিকে তার ভয় লাগছে। খুব ভয়!

    মানুষটা আবারো ডাকল, ‘নাদিয়া?’

    ‘হুম।’

    ‘নাবিলা ঢাকায় নেই?’

    নাদিয়ার মনে হলো এই প্রশ্নের উত্তরও তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির অজানা নয়। তারপরও প্রশ্নটি সে কেন করল কে জানে!

    ‘তোমার মা এখন কেমন আছেন? ভালো?’

    নাদিয়া এই প্রশ্নেরও জবাব দিল না। সে খোলা দরজা দিয়ে তার ঘরে ঢুকল। মানুষটি তখনো পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। নাদিয়া আড়চোখে একবার ফিরে তাকাল। আর তখুনি মানুষটা বলল, ‘তুমি সম্ভবত আমাকে চিনতে পারোনি। আমি আফসানা।‘

    .

    সেই রাতে আফসানার সাথে নাদিয়ার অনেক কথা হলো, গল্প হলো। এই মেয়ের কথা আড়ালে-আবডালে নানা সময়ে শুনেছে নাদিয়া। বাড়িতে মাঝেমাঝেই ফিসফাস হতো। কিন্তু তারপরও কেউ তাকে কখনো স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। বরং সবসময়ই যেন বিষয়টা গোপন রাখতে চেয়েছিল সবাই। ফলে আফসানা তার কাছে এক প্রগাঢ় রহস্য হয়েই ছিল। কিন্তু আজ এভাবে আফসানার সাথে তার দেখা হয়ে যাবে, এটা সে ভাবেনি। তবে সন্ধ্যায় ভয় পেয়ে গিয়েছিল নাদিয়া। কেমন রহস্যময় জনবিচ্ছিন্ন এক বাড়ি! সেই বাড়িতে সন্ধ্যার অন্ধকারে অমন রহস্যময় এক নারী হঠাৎই একটা ভয় আগলে ধরেছিল তাকে। তবে সেই ভয়টা এখন মিলিয়ে গেছে। আফসানার সাথে কথা বলতে গিয়ে মনে হয়েছে সে খুবই সহজ, স্নেহময়ী এক মানুষ। কী অবলীলায়, কত সহজে সে নাদিয়াকে আপন করে নিলো, নাদিয়া যেন তা টেরই পেল না। বরং গত কয়েকদিনে তার বুকের ভেতর জমে থাকা থমথমে মেঘ সরে গিয়ে ধীরে ধীরে যেন রোদ ঝলমলে আকাশ উঁকি দিতে শুরু করল।

    আফসানা বলল, ‘তোমার কবিতা ভালো লাগে?’

    নাদিয়া ঠোঁট উল্টে বলল, ‘একদম না।’

    আফসানা মন খারাপ করার ভঙ্গিতে বলল, ‘তাহলেতো আমাকেও ভালো

    লাগবে না।

    ‘কেন?’

    ‘কারণ আমি যে কবিতা লিখি।’

    নাদিয়া হাসল, ‘তাতে কী! আপনাকেতো ভালো লাগে।‘

    আফসানা বলল, ‘তাহলে আরো বেশি ভালো লাগত। আমি কত কী প্ল্যান করে রেখেছিলাম, জানো?’

    ‘কী?’

    ‘কাল কিংবা পরশু পূর্ণিমা। এখানে পূর্ণিমা যে কী অদ্ভুত সুন্দর, তুমি ভাবতেও পারবে না। আমাদের ছাদে উঠে দাঁড়ালে চারপাশটাকে অন্য এক জগৎ বলে মনে হয়। আমার খুব ইচ্ছে ছিল, তোমাকে সারারাত কবিতা শোনাব।’

    নাদিয়া মৃদু হেসে বলল, ‘কবিতা ভালো লাগেনা বলে যে কখনো শুনিনি, তা কিন্তু না। আর তা ছাড়া ও রকম একটা পরিবেশে হয়তো সবই ভালো লাগবে।’

    ‘আমাকে খুশি করার জন্য বলছো?’

    ‘একদম না। সত্যি সত্যি বলছি।’

    আফসানা আলতো করে নাদিয়ার হাত ছুঁয়ে বলল, তুমি এত ভালো কেন নাদিয়া? আমার এ কদিন খুব মন খারাপ ছিল। কিন্তু তুমি আসার পর এইটুকু সময়েই আমার মন ভালো হয়ে গেছে।’

    নাদিয়ার মনে হলো তার ক্ষেত্রেও ঘটনা একই। এই মেয়েটির সাথে তার বাবার কী সম্পর্ক সেটি নিয়ে সে খুব একটা চিন্তিত নয়। বরং তার মনে হয় একটা সময় পর প্রতিটি মানুষেরই হয়তো নিজের ভালো থাকার জন্য নিজেদের মতো আলাদা একটা জগৎ দরকার হয়। সেই জগৎ যদি অন্যের ক্ষতির কারণ না হয়, তাতে তার আপত্তি নেই। সে জানে বাবার সাথে মায়ের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা আর নেই বহুদিন। তারপরও আপাতদৃষ্টিতে বাবাকে যতটা দায়িত্বহীন মনে হয়, ততটা দায়িত্বহীন তিনি নন। বরং নাদিয়া টের পায় মায়ের অসুস্থতার চিকিৎসা, তাদের দুই বোনের পড়াশোনা, নাবিলার বিয়ে থেকে শুরু করে সবকিছুতেই বাবা তার সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তার সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা যেমন রয়েছে, তেমনি তিনি খুব অন্তর্মুখীও। ফলে নিজেকে যখন প্রকাশ করার দরকার হয়ে পড়ে, যখন নিজের কর্তৃত্ব জাহির করা অনিবার্য হয়ে ওঠে, তখনো তিনি সেটি করতে পারেন না। বরং নিশ্চুপ, নিষ্প্রভ হয়ে থাকেন। আর এ কারণেই তার চারপাশের মানুষের জন্য তিনি যা করেন তার বেশির ভাগই রয়ে যায় দৃষ্টির আড়ালে।

    নাদিয়ার ধারণা বেশির ভাগ মানুষই তার বাবার বাইরের দিকটাই কেবল দেখে। তারা তার ভেতরের মানুষটাকে বোঝার চেষ্টা কখনো করে না। কিন্তু সে বাবাকে খুব কাছ থেকেই দেখার, বোঝার চেষ্টা করেছে। আর করেছে বলেই নাদিয়া জানে, তার বাবা দায়িত্বজ্ঞানহীন কোনো মানুষ নয়। বরং খুবই সংবেদনশীল একজন মানুষ। ফলে তার ভালো থাকা-মন্দ থাকায় অনর্থক হস্তক্ষেপ করতে চায়নি নাদিয়া। যদিও নাদিয়া এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয় যে এই মেয়েটির সাথে তার বাবার প্রকৃত সম্পর্কটা আসলে কী? বাবাকে এটি জিজ্ঞেসও করতে পারবে না সে। এমনকি ফিরে গিয়ে এ নিয়ে কাউকে কিছু বলতেও চায় না নাদিয়া। মাত্র দুটো দিন সে এখানে কাটাবে বলে এসেছে। এই দুটো দিন যদি খানিক ভালো কাটে। যদি বুকের ভেতর জমে থাকা অসহনীয় যন্ত্রণার মেঘ খানিকটা হলেও উধাও হয়, তাতেই সে খুশি। তবে এখনো অবধি মেয়েটিকে তার দারুণ পছন্দ হয়েছে। এখানে এসে এত চমৎকার একজন মানুষের সঙ্গ পাবে এটা ভাবেনি আফসানা।

    নাদিয়া বলল, ‘আমারও। আমি খুব মন খারাপ নিয়ে এখানে এসেছিলাম, কিন্তু আপনি আমার মন ভালো করে দিয়েছেন।’

    সারাদিন ছোটাছুটি শেষে ক্লান্ত শরীরেও দীর্ঘ গল্প-আড্ডা হলো আফসানা আর নাদিয়ার। এই পুরোটা সময় অবশ্য আশফাক সেখানে থাকলেন না। তিনি চলে গেলেন তার কলেজ কোয়ার্টারের বাসায়। প্রায় শেষ রাতের দিকে ঘুমাতে গেল নাদিয়া। অনেকদিন পর যেন ভালো ঘুম হলে; তার। কিছুটা সময়ের জন্য হলেও বুকে জমা স্যাঁতসেঁতে আঁধারটা দূর হলো। সকালে বেলা করে ঘুম ভাঙল তার। গতকাল সারাদিনে হাফসা অসংখ্যবার ফোন করেছে তাকে। কিন্তু মায়ের সাথে বেশিক্ষণ কথা বলেনি সে। এখানে ভালো আছে, দুদিন বাদে ফিরে আসবে, এটুকু বলেই ফোন রেখে দিয়েছিল নাদিয়া। তারপর বন্ধই করে রেখেছিল ফোন। যদিও মা দুশ্চিন্তা করবে ভেবে মাঝখানে দুয়েকবার কথাও বলেছে। তবে সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা করেছে মুকিত। সে মেসেজের পর মেসেজ পাঠিয়ে গেছে। অসংখ্য প্ৰশ্ন তার। নাদিয়ার কাছে এখানকার ঠিকানাও চাইছে, যাতে চলে আসতে পারে সে।

    নাদিয়া অবশ্য যতটা সম্ভব শান্ত থাকার চেষ্টা করল। ঘুম থেকে উঠে মাকে

    ফোন করল। হাফসা বেগম কোনো এক অজানা আশঙ্কায় জড়সড় হয়ে আছেন। তিনি প্রায় কাঁদো কাঁদো স্বরে বললেন, ‘তুই এক্ষুনি চলে আয় মা। এক্ষুনি চলে আয়।’

    ‘আমিতো বললাম, দুটা দিন থেকে আমি চলে আসব মা। এত অস্থির হওয়ারতো কিছু নেই!‘

    হাফসা প্রায় আকুতির স্বরে বললেন, ‘আমি জানি না কেন, আমার খুব অস্থির লাগছে, খুব ভয় হচ্ছে মা। তুই চলে আয়। তুই এক্ষুনি চলে আয়।’

    ‘এখন আমি কীভাবে আসব?’

    ‘আমি মুকিতকে পাঠাচ্ছি, মুকিত গিয়ে তোকে নিয়ে আসুক। সেও তোর জন্য খুব অস্থির হয়ে আছে। সকাল থেকে এসে বাসায় বসে আছে।’

    নাদিয়া জানে না কেন, কথাটা শোনার সাথে সাথে তার প্রচণ্ড রাগ লেগে গেল। সে চাপা স্বরে বলল, ‘আমি এখন ফোন রাখছি মা। পরে আবার ফোন দেব। অযথা টেনশন করো না।’

    সে মায়ের ফোন রেখে দেখে মুকিত এর মধ্যেই তাকে বারবার ফোন করেছে, শুধু ফোনই করেছে, তা-ই না। মেসেজও পাঠিয়েছে একের পর এক। সে মুকিতকে ফোন করল, ‘কী হয়েছে?’

    মুকিত হড়বড় করে বলতে লাগল, ‘তুমি কোথায়? তোমার ফোন অফ কেন? আমি সারারাত একটুও ঘুমাতে পারিনি জানো? সকাল থেকে তোমাদের বাড়িতে এসে বসে আছি।’

    নাদিয়া শান্ত গলায় বলল, ‘এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই। আপনি শান্ত হোন।’

    শান্ত হবো মানে? তুমি কোথায় আছো, কীভাবে আছো, আমি কিছুই জানি না! ফোনও ধরছো না তুমি।’

    নাদিয়া গম্ভীর ভঙ্গিতে বলল, ‘আমি এখানে আমার বাবার সাথে এসেছি। এটাই কি যথেষ্ট না?’

    নাদিয়ার কথার ধরনে মুকিত দমে গেল। সে মিন মিন করে বলল, ‘আমার মা, বড় আপা তোমার সাথে খুব কথা বলতে চাইছিলেন।’

    ‘আমি কাল বা পরশু ঢাকায় আসবো। তারপর যে যত ইচ্ছা আমার সাথে কথা বলতে পারবে। এখন রাখি।’

    নাদিয়া ফোন রাখার আগে মুকিত অবশ্য কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, তুমি আমাকে ভালোবাসোতো নাদিয়া? আমাকে তোমার অপছন্দ নাতো?’

    নাদিয়া থমথমে গলায় বলল, ‘কদিন পরেইতো আমি আপনাকে বিয়ে করছি, তাই না?’

    ‘হুম!’

    ‘তাহলে আবার কী!

    ‘নাহ, কিছু না। কিন্তু আমার কেন যেন মনে হচ্ছে কোনো একটা সমস্যা আছে।’

    নাদিয়া বিরক্ত গলায় বলল, ‘কোনো সমস্যা নেই। সব ঠিক আছে। ঢাকায় ফিরলেই বিয়ে হবে। আমি কারো সাথে পালিয়ে যাচ্ছি না। আপনি শুধু শুধু দুশ্চিন্তা করবেন না, প্লিজ।’

    ‘ঠিক তো?’

    ‘হুম।’

    ‘তুমি তাড়াতাড়ি চলে আসো। তাড়াতাড়ি। আই ক্যান্ট ওয়েট অ্যানি মোর নাদিয়া।’

    নাদিয়া আর কথা বাড়াল না। সে ফোন রেখে দিল। তার খুবই বিরক্ত লাগছে। তবে সেই বিরক্তিটা বেশিক্ষণ রইলো না। পুরো বিকেলটা অসাধরণ ভালো লাগায় আচ্ছন্ন হয়ে রইলো সে। তার বাবা, আফসানা আর সে মিলে খানিক দূরের নদীতে নৌকা করে ঘুরতে গেল। পায়ে হেঁটে হেঁটে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে আবার বাড়ি ফিরল। আফসানার সাথে কত কত গল্প যে হলো তার! নাদিয়ার হঠাৎ মনে হলো, যদি এখানের কোনো একটা স্কুলে সেও একটা চাকরি-বাকরি কিছু পেয়ে যেত, তাহলে এখানে থেকে যাওয়াটাও মন্দ কিছু নয়।

    সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে অবশ্য দেখা গেল বাড়িতে লোকজন এসেছে। সবাই আফসানার সাথে দেখা করতেই এসেছে। হয়তো কলেজের কোনো বিষয়। পরদিন দুপুরে ঢাকায় চলে যাবে নাদিয়া। ফলে রাতে আফসানার সাথে দীর্ঘ আড্ডা হলো তার। সমস্যা হচ্ছে পরদিন দুপুরে নাদিয়া ঢাকায় যেতে পারল না। আশফাককে কী এক জরুরি কাজে যেতে হবে ময়মনসিংহ। সেদিন আর ফিরতে পারবেন না তিনি। তাকে ফিরতে হবে পরদিন। ফলে ঢাকায় ফেরার জন্য পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে নাদিয়াকে। নাদিয়ার অবশ্য এতে ভালোই লাগল। আরো একটা দিন সে এখানে থেকে যেতে পারবে।

    পরদিন দুপুর নাগাদ আশফাক চলে গেলেন ময়মনসিংহ। রাতে ভরা পূর্ণিমা। সেই পূর্ণিমার রাতে ধবল জোছনায় স্নান করা অন্য এক জগতের সৌন্দর্য দেখার অপেক্ষায় নাদিয়া। কিন্তু বিকেল থেকেই আকাশ কালো করে বৃষ্টি শুরু হলো। সাথে তুমুল ঝড়। নাদিয়ার অবশ্য সেই ঝড়ও ভালো লাগছে। ঝড়-বৃষ্টিও যে এমন অপরূপ হতে পারে, তা সে এখানে না এলে কখনোই বুঝতে পারত না। মুগ্ধ হয়ে জানালার সামনে দাঁড়িয়ে রইলো। মনে হচ্ছিল, এই ঝড়, এই বৃষ্টি আর না থামুক। কিন্তু নাদিয়া জানে না সন্ধ্যার আকাশ যে প্রবল মেঘে ঢেকে গেছে, যে পূর্ণিমার ঝলমলে চাঁদ লুকিয়ে গেছে কালো মেঘের দানবীয় চেহারার আড়ালে, সেই মেঘ নিয়ে আসছে এক ভয়াল কাল রাত্রিও। সেই ভয়াল রাত্রি অবর্ণনীয় এক নৃশংসতা নিয়ে আসছে তার জীবনে।

    কে জানে সেই একই রাত্রি এখান থেকে বহু বহু দূরের এক পাহাড় চূড়ায় স্বপ্নাবিষ্ট হয়ে থাকা সুমি আর দিপুর জন্যও প্রলয়ঙ্করী এক ঝড় নিয়ে এলো কিনা!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআলথুসার – মাসরুর আরেফিন
    Next Article সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026
    Our Picks

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026

    শঙ্খচিল – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }