Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026

    শঙ্খচিল – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্ধবৃত্ত – সাদাত হোসাইন

    সাদাত হোসাইন এক পাতা গল্প480 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অর্ধবৃত্ত – ৪১

    ৪১

    আশফাক দুরুদুরু বুকে বাড়িতে ঢুকেছেন। ইদানীং তিনি হাফসাকে খুব ভয় পান। তার ধারণা হাফসার সামনে দাঁড়ালেই হাফসা তার ভেতরের সবকিছু স্পষ্টভাবে দেখতে পান। তিনি এসেছেন নাদিয়াকে নিয়ে যেতে। কিন্তু নাদিয়াকে কেন নিয়ে যেতে এসেছেন সেই কথা তিনি এখুনি কাউকে বলতে চান না। নাদিয়ার সাথে দেখা করার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে আফসানা। সে নাদিয়ার সাথে কথা বলতে চায়। সবকিছু জেনে বুঝে নাদিয়ার জন্য ভালো পাত্রের ব্যবস্থা সে নিজেই করবে। শুধু যে পাত্রের ব্যবস্থাই করবে তাই না, বিয়ের সব খরচাপাতিও তার। প্রথম দিকে দোনোমনো করলেও শেষ দিকে এসে আশফাকের মনে হয়েছে আফসানা যা করতে চাইছে তা সর্বৈব অর্থেই মঙ্গলজনক। এবং নাদিয়ার ক্ষতি হয় এমন কিছু সে কিছুতেই করবে না।

    কিন্তু বাড়িতে ঢুকেই থমকে গেলেন আশফাক। সারা বাড়িতে থমথমে একটা অবস্থা। সবচেয়ে বেশি থমথমে হয়ে আছে হাফসা। তিনি হাফসার এই অবস্থা দেখে মনে মনে দমে গেলেন। বললেন, ‘কী হয়েছে?’

    ‘কী আর হবে? অথর্ব স্বামীর সংসার করলে যা হয় তা-ই হয়েছে।’

    আশফাক থতমত খাওয়া ভঙ্গিতে বললেন, ‘আমি আবার কী করলাম?’

    তুমি কিছু করলেতো আর সমস্যা থাকত না। কিছু করছো না বলেইতো সমস্যা’

    ‘কী হয়েছে বলবেতো?

    ‘তোমার ভাই-বোন দুজনইতো কাউকে কিছু না জানিয়ে পাল্লা দিয়ে বিয়ে করেছে। জামাই, বউ নিয়ে তারা দুজনই এসে উঠেছে এ বাড়িতে। এখন তারা থাকবে কই?’

    আশফাক অনিশ্চিত ভঙ্গিতে বললেন, ‘এখন কই আছে? এখন যেখানে আছে সেখানেই থাকবে।’

    ‘সেলিনাতো জামাই নিয়ে তার ঘরেই আছে। কিন্তু রুবেল তার বউ নিয়ে কই থাকবে? সে তার বউ নিয়ে উঠেছে বাবা-মায়ের ঘরে।’

    ‘কী বলছো? বাবা-মা তাহলে কই?’

    ‘কই আর? স্টোর রুমের ঘরটাতে। কিন্তু ওইখানে মানুষ থাকতে পারে? বাবাতো অসুস্থ হয়ে গেছে, তাকে হাসপাতালেও নিতে হয়েছিল।’

    আশফাক এবার সত্যি সত্যিই চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তিনি বললেন, ‘রুবেলকে দোতলা বা তিনতলার কোনো ঘর দিলেওতো হতো?’

    হাফসা মুখ ঝামটা দেয়ার ভঙ্গিতে বললেন, ‘তোমার মেজো ভাই-ভাবি এখন এ বাড়ির হর্তা-কর্তা, তারা তাদের কাছে আর কোনো ঝামেলা পোহাবে? বলেই দেখো একবার। আমাদের সুদ্ধ না বাড়ি থেকে বের করে দেয়।’

    আশফাক নরম গলায় বললেন, ‘এভাবে বলছো কেন? ওদের কাছে নানা লোকজন আসে। এইজন্য ওদের না হয় একটু ফ্রি স্পেস লাগে। আমাদের তো তেমন কোনো সমস্যা নেই। একটা রুমতো মোটামুটি ফাঁকাই পড়ে থাকে। ওই রুমটা না হয় ওদের…।’

    আশফাক কথা শেষ করতে পারলেন না। তার আগেই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন হাফসা, ‘ও আচ্ছা, তুমিও এখন সবার মনের কথাটা বলতে শুরু করেছো? তোমার মেয়ে যে বড় হয়েছে, সে খেয়াল আছে? আর মেয়ের বিয়ে দিতে হবে না? তখন অতিথি মেহমান আসবে না? তারা এসে যখন দেখবে ঘরে থাকার জায়গা নেই, ঘুমানোর জায়গা নেই। একটা গরুর হাঁটের মতো মানুষ গিজগিজে নোংরা জায়গায় এসে তারা উঠেছে, তখন কেমন লাগবে তোমার?’

    আশফাকের একবার মনে হলো তিনি বলেন যে নাদিয়াকে নিয়ে আর হাফসাকে দুশ্চিন্তা করতে হবে না। ব্যাপারটা তিনি নিজেই দেখবেন। নাদিয়ার সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থাটাই তিনি করবেন। কিন্তু এক্ষুনি এই কথা বলার সাহস তার হলো না। তা ছাড়া কোনো কিছু নিশ্চিত করার আগেই বলে ফেলাও ঠিক নয়।

    তিনি বিকেলের দিকে কথা বলতে গেলেন মছিদা বেগমের সাথে। মছিদা বেগম তাকে দেখেই বললেন, ‘বাড়ির খবরতো কিছু রাখিস না। কে কেমন আছে, কোনো খবর আছে?’

    আশফাক মিনমিন করে বললেন, ‘আমি একটু ঝামেলায় ছিলাম মা।’

    ‘তোরতো সারা জীবনই ঝামেলা। কিন্তু বাবা-মা, ভাই-বোনকে নিয়েতো কোনোদিন কোনো ঝামেলা পোহাতে দেখলাম না। এই যে সেলিনা কাউকে কিছু না বলে বিয়ে-করে বাড়িতে জামাই নিয়ে চলে এলো, কোনো খোঁজ রেখেছিস? রুবেল যে বিয়ে শাদি করে বউ নিয়ে এসে আমার ঘর দখল করে উঠে গেল, আমরা কে কই থাকব না থাকব, তা ভাবলোও না। কই একবারও কোনো খোঁজ নিয়েছিস?’

    আশফাক বিব্রত গলায় বললেন, ‘কী অবস্থা এখন ওদের?’

    মছিদা বেগম এদিক-সেদিক তাকিয়ে বললেন, ‘রুবেলকেতো আর চেনাই যায় না।’

    ‘চেনা যায় না মানে?’

    মানে সেতো আর বউয়ের আঁচলের নিচ থেকে বেরই হয় না। কাম কাজ সব বাদ দিয়ে সারাক্ষণ বউয়ের সাথে গুটুর গুটুর। পারলে বউয়ের রান্নাবান্না, কাপড়- চোপড় ধোয়া পর্যন্ত সে করে দেয়।’

    আশফাক বুঝতে পারলেন মছিদা বেগম রুবেলের ওপর প্রচণ্ড বিরক্ত। তিনি অবশ্য এ বিষয়ে কোনো কথা বললেন না। মছিদা বেগমই বললেন, ‘এমন ছেলে আমি জীবনেও দেখিনি। সারাটাক্ষণ বউ বউ আর বউ। তার ওপর আছে শ্বশুর, শাশুড়ি। তারা এ বাড়িতে আসলে মনে হয় যেন পীর-ফকির আসছে। আর সে হলো গিয়ে তাদের মুরিদ। কথায় কথায় গলে গলে পড়ে। পা ধরে বসে থাকে। যেন আমি না, তারাই তারে পেটে ধরছে। আর বউয়ের কথা কী বলব? বউ যদি বলে দিন, তো দিন। বউ যদি বলে রাত তো, রাত। এই হলো অবস্থা। বউয়ের কথা ছাড়া মনে হয় হাগামুতাও করে না।’

    আশফাক বললেন, ‘ছিঃ, এ কী ধরনের কথা মা?’

    ‘একদম উচিত কথা। এমন পোলা আমি বাপের জন্মেও দেখিনি। আমরাওতো বিয়ে শাদি করেছিলাম, করিনি? তোর বাবাকে কিছু অর্ডার দেয়া দূরে থাক, কথা বলতেও ভয় পেতাম। কখন কী লাগবে, এই নিয়ে তটস্থ থাকতাম। আর এইখানে এ কী চলছে, আল্লাহগো আল্লাহ! এগুলা দেখার জন্য আমি বেঁচেছিলাম?’

    আশফাক তখন আর কথা বললেন না। তবে রাতে মছিদা বেগম নিজেই তাকে ডাকলেন। আশফাক কী মনে করে সেলিনার কথা জিজ্ঞেস করলেন, ‘সেলিনার কী অবস্থা মা?’

    মছিদা বেগম ঝলমলে গলায় বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। এতদিন পর আল্লাহমনে হয় আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকাইছে। আহসান এত ভালো একটা ছেলে তুই চিন্তাও করতে পারবি না। মাশাল্লাহ, এই যুগে এমন জামাই পাওয়া সাত জনমের ভাগ্য।‘

    ‘ভালো কীভাবে? শুনলাম সে নাকি ইংল্যান্ডে পড়াশোনাই করেনি। মিথ্যে কথা বলছে। এখন বিজনেসে লস দিয়ে চাকরি-বাকরিও নাকি কিছু করতে পারছে না?’

    মছিদা বেগম ঠোঁট ওল্টালেন, ‘পড়াশোনা করতেইতো গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী একটা ঝামেলায় পড়াশোনা আর শেষ করতে পারেনি। তাতে কী? সোনার টুকরা ছেলে সে। না দেখলে বুঝবি না, এমন জামাই আল্লাহ নিজ থেকে দিছেন। সেলিনার কথা ছাড়া কোনো কাজই করে না। সেলিনা যা বলবে তাই।’

    ‘মানে?’ আশফাক চমকালেন। সকালে বলা মায়ের কথাগুলোর সাথে যেন সে মেলাতে পারছে না।

    ‘কী যে ভালো ছেলেটা, একদম ঘরের ছেলের মতো। আদব-লেহাজের সীমা নেই। দেখলে প্রত্যেকবারই যেন পা ছুঁয়ে সালাম করবে। এত বিনয়ী। সেলিনা সেদিন বাজারে যেতে বলল, তারপর থেকে প্রত্যেকদিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই বাজার-সদায় করে ফেলে। সেলিনার কথা ছাড়া কিচ্ছু করে না। সে যদি বলে রাত তো রাত। সে যদি বলে দিন তো দিন। একবারও কোনো ঝামেলা করবে না। এমন হীরের টুকরা ছেলে এই যুগে সম্ভব, তুই ই বল? যা নম্র-ভদ্র ছেলে, মাশাল্লাহ, মাশাল্লাহ! সেলিনার ভাগ্যে ছিল বলেই এত ঝই-ঝামেলার পরও এমন ছেলে পাওয়া গেছে।

    আশফাক আহমেদ মায়ের কথা শুনে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলেন। এই জগৎ ঘর, সংসার, সম্পর্কের হিসেব-নিকেশ বোঝা বড় দুষ্কর। এ তিনি কখনো পারেননি। পারবেনও না।

    মছিদা বেগম বললেন, ‘আমি চিন্তা করেছি ছাদে ওদের জন্য কখানা ঘর তুলে দেবো, ওরা একটাতে থাকল। আর বাকিগুলাতে অফিস করে নেবে!’

    আশফাক আহমেদ বললেন, ‘ওহ! আর তার আগ পর্যন্ত? বাবা নাকি ওই ছোট ঘরটাতে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে গেছেন?’

    ‘এইজন্যই তোকে ডেকেছি। নাবিলাতো এখন আর শ্বশুর বাড়ি থেকে আসে না। ওর ঘরটাতো ফাঁকাই পড়ে আছে। রুবেলরা না হয় আপাতত ওর ঘরটাতেই কিছুদিন থাকুক। এর মধ্যে ছাদে ঘর হলে সেলিনাদের ওখানে পাঠিয়ে দেবো। তখন ওরা আবার নিচে চলে আসবে। তুই বড় বউকে বলে এটা একটু ব্যবস্থা কর।’

    আশফাক কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না। তবে মায়ের মুখের ওপর তিনি নাও করতে পারলেন না। তা ছাড়া আফজাল আহমেদ এ কদিনেই খুব ভেঙে পড়েছেন। কিন্তু এতবড় একটা সিদ্ধান্ত আশফাক একা বাস্তবায়িত করতে পারবেন বলে তার মনে হলো না। তারপরও নাদিয়াকে ডেকে তিনি বিষয়টা বললেন।

    নাদিয়া অবশ্য নানা কারণে মানসিকভাবে খুবই বিধ্বস্ত। সে কোনো কিছুতেই যেন স্বস্তি পাচ্ছে না। দিন কয়েক আগে নাবিলা ফরিদপুর থেকে তাকে হঠাৎ ফোন দিয়ে বলল, ‘ঘটনা শুনেছিস?’

    ‘কী ঘটনা?’

    শফিকের কোনো খবর নেই।’

    শফিকের কোনো খবর নেই মানে?’

    ‘তার ফোন অফ। সে মেসেও নেই।’

    ‘মানে কী?’

    ‘হুম।’

    ‘কতদিন ধরে?’

    ‘প্রায় সপ্তাহ হয়ে এলো।

    ‘কী বলছো!’ নাদিয়া খুবই অবাক হলো। সে কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে বলল, ‘কিছুই জানিস না?’

    ‘উহু।’

    বিকেলে সে নিজেই ফোন করল নাবিলাকে। সারাক্ষণ একটা অস্বস্তির কাঁটা খোঁচাতে লাগল তাকে। নাদিয়া বলল, ‘কিছু হয়েছিল?’

    ‘না, কী হবে?’

    ‘তাহলে? হঠাৎ করে একটা মানুষ উধাও হয়ে যাবে? কেউ কোনো খবর জানবে না?’

    ‘কীভাবে জানবে? তার ফোন অফ, কোথায় গেছে কাউকে বলেও যায়নি। তার সাথে আমার লাস্ট কথা হলো তোর বিয়ে নিয়ে।’

    বিয়ে নিয়ে কী কথা?’

    ‘তেমন কিছু না। আমি বললাম যে আমাকে তার ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। কারণ সামনেই তোর বিয়ে।’

    ‘তারপর?’

    ‘ও কিছু জিজ্ঞেস করেনি। শুনে চুপ হয়েছিল। যেমন সবসময় থাকে আর কী! ওতো কেমন জানিসই।’

    ‘তুই কী বললি?’ নাদিয়া উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল।

    নাবিলা বলল, ‘আমি তখন নিজে থেকেই মুকিতের কথা এটা-সেটা বললাম। ও ইউনিভার্সিটির টিচার, ভালো ফ্যামিলি, এইসব আর কী!’

    ‘তারপর?’

    তারপর আর কী! হঠাৎ কী কাজের কথা বলে ফোন কেটে দিল। পরে আমি ফোন দিয়ে দেখি ফোন অফ।’

    ‘তারপর থেকেই ফোন অফ?’

    ‘হুম। পরে ওর রুমমেটকে ফোন করে শুনি ওর কোনো খোঁজ নেই।’

    কথাটা শোনার পর থেকে এক মুহূর্তের জন্যও স্বাভাবিক হতে পারছিল না নাদিয়া। শফিক নেই? তার বিয়ের খবর শোনার পর পরই উধাও হয়ে গেছে সে? এই এতদিনে এসে নাদিয়ার বুকে ঘাপটি মেরে থাকা প্রলয়ঙ্করী ঝড় যেন বিধ্বংসী দানব হয়ে উঠল। শফিকের জন্য তার বুকের ভেতর যে এত অস্থিরতা, এত তীব্র যন্ত্রণা লুকিয়ে ছিল, তা এর আগে কখনোই যেন এমন স্পষ্টভাবে, এমন পরিপূর্ণরূপে সে বুঝতে পারেনি। খবর শোনার পর দীর্ঘসময় স্তব্ধ হয়ে বসে ছিল নাদিয়া। অনেক ইতস্তত করে শেষ অবধি সে শফিকের নম্বরে ফোনও করেছিল। কিন্তু শফিকের নম্বর বন্ধ। তারপরের কয়েকদিন বিষয়টাকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে সে। কিন্তু লাভ হয়নি। বরং চেষ্টাটা যত প্রবল হয়েছে, একটা দমবন্ধ কষ্ট তার থেকেও বেশি তীব্র হয়ে বারবার ফিরে এসেছে। এই মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায় তার জানা নেই।

    নাদিয়া কি আগে কখনোই তার জন্য শফিকের এই তীব্র ভালোবাসা টের পায়নি? এই সুতীব্র অনুরাগ অনুভব করেনি? কিংবা শফিকের জন্য তার নিজের এই নিস্পন্দন অথচ প্রগাঢ় অনুভূতি?

    নাদিয়ার এখন মনে হচ্ছে, সে হয়তো সবই বুঝতে পারত, অনুভব করতে পারত। কিন্তু সে এও জানত, সে এক অক্ষম, অসহায় মানুষ। চাইলেও কিছুই করার ক্ষমতা নেই তার। তার এই প্রবল অপারগতায় একটা তুমুল অসম্ভাব্যতার ভাবনা সারাক্ষণ তাকে তটস্থ করে রাখত। কিছুই বুঝতে দিতে চাইত না। দুর্লঙ্ঘ্য এক বাধার পাহাড় দাঁড় করিয়ে দিত তার ইচ্ছের চারপাশে। নিজের একান্ত ব্যক্তিগত ভালোলাগাটাকে যেকোনো উপায়ে উপেক্ষা করতে চাইত সে। বড় বোন নাবিলার জীবনের নিষ্ঠুরতম অভিজ্ঞতার গল্প তার জীবনে তুলে দিয়েছে কঠিন এক নিষেধের দেয়াল। ওই দুর্লঙ্ঘ্য দেয়াল সে সচেতনভাবে কখনো অতিক্রম করার কথা ভাবেনি। কিন্তু তার অবচেতন মন আড়ালে-আবডালে কখন যে এমন বেপরোয়া, বেহিসেবি হয়ে উঠেছিল তা সে টেরই পায়নি।

    মুকিত বিয়ের জন্য রোজ নাদিয়াকে তাড়া দেয়। তাড়া দেন হাফসাও। নাদিয়া কেবল আরো খানিক অপেক্ষার কথা বলে। আরো খানিকটা সময় চায়। কিন্তু তার সেই সময় চাওয়া কিংবা অপেক্ষার পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণই কেউ খুঁজে পায় না। আর হাফসাও তাই ক্রমশই শঙ্কিত হয়ে ওঠেন। তার মনে কু-ডাক ডাকতে থাকে। তিনি যেন নিজের অজান্তেই টের পান, একটা অনিশ্চয়তার কালো মেঘ ক্রমশই এগিয়ে আসছে। সেই মেঘ নিমেষেই বিষাক্ত ফণা তুলে ঝড় হয়ে যাবে। তিনি সেই মেঘটাকে একদম কাছে গিয়েও দেখতে পাচ্ছেন না। এই নিয়ে সারাক্ষণ শঙ্কিত হয়ে থাকেন তিনি।

    এতকিছুর মধ্যেও এক ফাঁকে নাদিয়া গিয়ে শফিকের খোঁজ নিয়ে এলো। কিন্তু শফিক মেসে নেই। তার খবরও কেউ জানে না। শফিকের থাকা কিংবা না থাকাটা কখনোই নাদিয়া আলাদাভাবে অনুভব করেনি। কিন্তু সেদিন শফিকের মেস থেকে ফেরার পথে নাদিয়ার হঠাৎ মনে হতে লাগল, এই পুরো শহর, এই লোকে লোকারণ্য পথ-ঘাট, রাস্তা, বাস, রিকশা কোথাও যেন কেউ নেই। যেন এক বিরান শহরে সে একা, নিঃসঙ্গ ব্যথাতুর এক পাখি। যেন এ শহরে তার কোনো ঘর নেই। বাড়ি নেই। নিজের কোনো মানুষ নেই। কখনো ছিলও না কেউ। বুকের ভেতরটা কখন কোন আবডালে শফিকের মতো অপাঙ্ক্তেয় এক মানুষের জন্য এমন শূন্য চরাচর হয়ে গেছে, কে জানত!

    ঘরে ফিরে দরজা বন্ধ করে সেই প্রথম শফিকের জন্য কাঁদল নাদিয়া। এই কান্নার দৃশ্যমান কোনো অর্থ নেই, এই কান্না কেউ দেখবে না, কেউ শুনবে না। কিন্তু তারপরও নাদিয়াতো জানে, জগতে এরচেয়ে গভীর, এরচেয়ে শুদ্ধ, এরচেয়ে তীব্র আর কিছু নেই। সে সেই তীব্রতম বেদনার অনুভবে গভীর অন্ধকারে লীন হয়ে রইলো।

    মুকিতের সাথে দুদিন ঠিকঠাক কথাও বলল না সে। বিষয়টা নিয়ে জাহানারা খুবই অস্থির হয়ে গেলেন। অস্থির হয়ে গেলেন হাফসাও। তবে নাদিয়ার হঠাৎ এমন চুপচাপ হয়ে যাওয়া তাদের যেন খানিক শঙ্কিতও করে তুলল। জাহানারা সতর্ক ভঙ্গিতে হাফসাকে বললেন, ‘একদম কোনো প্রেসার দিবি না। আগে একটু সময় দে, একটু দেখ ঘটনা কী? অনেক সময় এমন হয়। সেতো এর আগে কখনো উল্টাপাল্টা কিছু ঘটায়নি। ঘটিয়েছে?’

    হাফসা বললেন, ‘না।’

    ‘তাহলে চিন্তার কিছু নেই। আপাতত সময় দে। দেখ কী হয়। কোনো প্রেসার দিস না। স্বাভাবিক হতে দে।

    হাফসারও তাই মনে হলো। শেষ মুহূর্তে এসে মেয়ে বেঁকে বসলে সমস্যা। তা ছাড়া নাদিয়া এখনো অবধি মুকিতের বিষয়ে নেতিবাচক কিছু বলেনি। হতে পারে হঠাৎ বিয়ের মতো এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে শেষ মুহূর্তে এসে কিছুটা হলেও এলোমেলো হয়ে গেছে সে। এমন নিজের ক্ষেত্রেও হয়েছিল হাফসার। সব বিচার-বিবেচনা করে বিষয়টা নিয়ে যতটা সম্ভব সহনশীলই থাকার চেষ্টা করলেন তিনি।

    আশফাক এসে মছিদা বেগমের কথাটা যখন নাদিয়াকে বললেন, নাদিয়া তখন প্রথম কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর বলল, ‘আমাকে কিছুদিনের জন্য তোমার সাথে কোথাও নিয়ে যাবে বাবা? ওই যে বললে একটা নদী আছে? বন আছে?’

    আশফাক এতটা আশা করেননি। তিনি আনন্দ চাপা কণ্ঠে বললেন, ‘অবশ্যই নিয়ে যাব।’

    ‘আমার মনটা একদম ভালো নেই বাবা। কটা দিন কোথাও থেকে একটু ঘুরে আসতে পারলে বোধহয় ভালো লাগত।’

    আশফাক বললেন, ‘অবশ্যই ভালো লাগবে। তোকেতো আমি নিয়েই যেতে চেয়েছি। সেই যে পরীক্ষার আগে, মনে নেই?’

    ‘হুম, আছে।’

    ‘তাহলে?’

    ‘মা যদি যেতে না দেয়?’

    এই কথায় আশফাকও দমে গেলেন। নাদিয়া সেই রাতেই মায়ের কাছে গেল। কিন্তু প্রথমেই এই কথা বলল না সে। সে বলল রুবেলদের নাবিলার রুমে ওঠানোর কথা। কিন্তু এই কথা শুনেই ভয়ংকর রকম ক্ষেপে গেলেন হাফসা। এতটা তীব্র প্রতিক্রিয়া আশা করেনি নাদিয়া। বরং মায়ের প্রতিক্রিয়া দেখে মন খারাপ হয়ে গেল তার। তারপরও ভয়ে ভয়েই সে বাবার সাথে দিন দুয়েকের জন্য বেড়াতে যাবার কথাটাও বলল। হাফসা এবার রীতিমতো অগ্নিমূর্তি ধারণ করলেন। তিনি তারস্বরে চিৎকার করে বললেন, ‘এখন আসছে দরদ দেখাতে না, দরদ? খবরদার। একদম খবরদার! এই লোকের সাথে তুই ঘরের বাইরেও যাবি না। এক পাও না।’

    মায়ের কথা শুনে নাদিয়া অবশ্য উত্তেজিত হলো না। সে যেন জানতোই যে মা এমন প্রতিক্রিয়াই দেখাবে। হাফসা দীর্ঘসময় ধরে আশফাককে অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করতে লাগলেন। নাদিয়ার পুরো বিষয়টা এখন অসহনীয় লাগছে। মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে যদি সে এ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে পারত! হাফসা অবশ্য বেশিক্ষণ আর ঝগড়াটে থাকলেন না। তিনি আচমকা হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন। বিছানায় শুয়ে থেকেই দু হাতে নাদিয়ার পা জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করতে লাগলেন, ‘মারে, তুই কোথাও যাস নারে মা। আমার এই কথাটা শোন। ও মা, মারে…।’

    নাদিয়া জানে না কেন, মায়ের এই আর্তনাদ তাকে একটুও বিচলিত করতে পারল না। বরং তার বুকের ভেতর জেগে ওঠা অসহনীয় কষ্ট, তীব্র যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য হলেও তাকে যেন মায়ের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে হবে। সারাটা দিন বিয়ে ছাড়া আর কোনো কথা নেই তার মুখে। কয়েকটা দিনের জন্য হলেও মায়ের থেকে, এই বাড়ি থেকে দূরে যেতে চায় সে। পরদিন সকালে হাফসাকে কিছু না জানিয়ে বাবার সাথে বাড়ি ছাড়ল নাদিয়া। মায়ের বিছানার কাছে একটা ছোট্ট চিরকুট লিখে রেখে এলো সে, ‘তুমি চিন্তা করো না মা। আমার কিছু ভালো লাগছিল না। দুটো দিন বাবার সাথে থেকেই আমি আবার চলে আসব।’

    নাদিয়া তখনো জানে না, কী ভয়ংকর এক বিপর্যয় সে ডেকে এনেছে তার জীবনে। কী নৃশংস এক সময় অপেক্ষা করছে তার জন্য!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআলথুসার – মাসরুর আরেফিন
    Next Article সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026
    Our Picks

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026

    শঙ্খচিল – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }