Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026

    শঙ্খচিল – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্ধবৃত্ত – সাদাত হোসাইন

    সাদাত হোসাইন এক পাতা গল্প480 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অর্ধবৃত্ত – ২৯

    ২৯

    হাফসার ঘুম ভেঙে গেছে মাঝরাতে। ঘুমের ঘোরে তিনি ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন দেখেছেন। ঘুম ভেঙে তিনি ফ্যাসফেঁসে গলায় নাদিয়াকে ডাকলেন, ‘নাদিয়া, ও নাদিয়া, নাদিয়া।’

    নাদিয়া পড়ছিল। সে পেছন ফিরে তাকিয়ে বলল, ‘বলো মা।’

    ‘এদিকে একটু আয়তো মা।’

    নাদিয়ার পড়া অনেক বাকি। সে বলল, ‘বাথরুমে যাবে?’

    ‘নাহ।’

    ‘তাহলে? ক্ষিদে পেয়েছে? কিছু খাবে?’

    ‘নাহ। তুই একটু এদিকে আয়।’ হাফসার গলায় বিরক্তি।

    নাদিয়া মায়ের কাছে গেল। মশারির বাইরে দাঁড়িয়ে সে বলল, ‘বলো।’

    ‘মশারিটা তোল।’

    মশারি তুলব কেন? তুমি না বললে বাথরুমেও যাবে না, কিছু খাবেও না?’

    তুই মশারি তুলে ভিতরে আয়।’

    ‘ভিতরে আসব কেন?’

    ‘আসবি কারণ আমি নড়তে পারছি না।’

    ‘বাথরুমে না গেলে তোমার নড়তে হবে কেন?’

    হাফসা এবার বিরক্ত হলেন, ‘বাথরুমে যাওয়া ছাড়া আমার নড়ার প্রয়োজন পড়তে পারে না? আমার জীবনে কি খাওয়া আর হাগামুতা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই?’

    নাদিয়া আর কিছু বলল না। সে মশারি তুলে মায়ের কাছে গিয়ে বসল। হাফসা অতি কষ্টে তার ডান হাতখানা নাদিয়ার হাতের ওপর রাখলেন। গত কদিনে তার শরীরের ব্যথাটা আবারও অসহ্যরকম বেড়েছে। হাত-পা নড়াতেও কষ্ট হচ্ছে তার। তিনি নাদিয়ার হাতখানা ধরে বললেন, ‘আমার বুকের ওপর একটু আয়তো মা।’

    ‘বুকের ওপর আসব কেন?’

    ‘আমার বুকের ওপর তোর মাথাটা একটু রাখ।’

    নাদিয়া তার মায়ের ঘটনা কিছুই বুঝতে পারল না। মাঝে মাঝে তিনি এমন অদ্ভুত সব কর্মকাণ্ড করেন যে নাদিয়ার বিরক্তই লাগে। তাও সে কিছু বলে না। হাফসা অসুস্থ। দীর্ঘদিনের দুরারোগ্য ব্যাধি তার। এ সময় মানুষ এমনিতেই ভয়াবহ মনঃকষ্টে থাকে। তার শারীরিক কষ্টের চেয়েও মানসিক কষ্ট হয়ে ওঠে প্রবল। ফলে সামান্য কথাতেই সে আহত বোধ করে। নিজেকে অপাঙ্ক্তেয় মনে করে। বিষয়টা নাদিয়া বোঝে। আর বোঝে বলেই সে মায়ের নানা অন্যায় আবদারও বিনা বাক্যে মেনে নেয়। নাদিয়া মায়ের বুকের ওপর তার মাথাটা রাখল। হাফসা ঘন ঘন শ্বাস নিচ্ছে। সে তার হাতটা উঠিয়ে নাদিয়ার গাল ছুঁয়ে দিল। তারপর আলতো হাতে চেপে ধরে রাখল কিছুক্ষণ। নাদিয়া হঠাৎ আবিষ্কার করল হাফসা কাঁদছেন। সে বলল, ‘তুমি কাঁদছো কেন আম্মা?’

    হাফসা জবাব দিলেন না। তার কান্নার তোড় বাড়ছে। নাদিয়া আলগোছে সরে গিয়ে মায়ের পাশে বালিশে মাথা রাখল। তারপর এক হাতে মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘কী হয়েছে বলো? দুঃস্বপ্ন দেখেছো?’

    হাফসা কোনো মতে কান্না থামিয়ে বললেন, ‘খুব খারাপ স্বপ্ন দেখেছি।’

    ‘খারাপ কী স্বপ্ন?’

    রাতের খারাপ স্বপ্ন বলা যায় না।

    ‘বলা যায় না কেন?’

    ‘তাহলে সত্যি হয়ে যায়।’

    ‘তুমি এসব বিশ্বাস করো আম্মা?

    হাফসা এই কথার জবাব দিলেন না। তিনি আবার কাঁদতে লাগলেন। তারপর বললেন, ‘তোর আপুর অনেক দিন কোনো খোঁজখবর নেই। ওর একটু খবর নিবি মা?’

    ‘এই এত রাতে আমি তাকে ফোন করব আম্মা?’

    ‘বিপদ আপদের আবার রাত দিন কী?

    ‘তোমার ধারণা সে বড় কোনো বিপদে পড়েছে?’

    ‘পড়তেও তো পারে।’

    ‘কেন? তুমি তাকে নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখেছো বলে?

    ‘কাকে নিয়ে দেখেছি তা মনে করতে পারছি না। তবে তোদের দুজনের একজনই হবে! একবার মনে হলো তুই আবার একবার মনে হলো নাবিলা। ঠিক স্পষ্ট করে মুখটা দেখতে পেলাম না। খুব অন্ধকার ছিল। একটা জঙ্গলের মধ্যে। মেয়েটা ভয় পেয়ে দৌড়াচ্ছিলো আর চিৎকার করে কাঁদছিল। দেখে মনে হচ্ছিল তাকে কেউ তাড়া করছিল।’

    ‘তোমার ধারণা এই এত রাতে তোমার বড় মেয়ে একলা একলা জঙ্গলের ভেতর দৌড়াচ্ছে?’

    হাফসা এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন না। তিনি জানালার বাইরের অন্ধকারে তাকিয়ে রইলেন। বাইরে মৃদু হাওয়া বইছে। একটু ঠাণ্ডা ঠাণ্ডাও লাগছে। শীতের আগমনী কি বোঝা যাচ্ছে? শহরে অবশ্য আজকাল আর শীত নেই। কখন আসে আর কখন চলে যায়, টেরই পাওয়া যায় না।

    হাফসা সেদিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘বাইরে গেটের কাছে আগে একটা শব্দ হতো না?’

    ‘কীসের শব্দ?’

    ‘ঘটাং ঘটাং একটানা শব্দ?’

    ‘কী বলছো? আমি কখনো শুনিনি।’

    ‘আমি শুনেছি। কয়েকদিন পরপরই শুনতাম। একটানা ঘটাং ঘটাং।’

    ‘সারাক্ষণ একা একা শুয়ে থাকতে থাকতে তোমার মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে আম্মা? তুমি আজেবাজে চিন্তা করো আর ভাবো, এই সবকিছুই সত্যি। আসলেতো সবই তোমার কল্পনা। এই এতদূর তিন তলা থেকে তুমি নিচতলার গেটের ঘটাং ঘটাং শব্দ শুনতে পেতে?’

    ‘হ্যাঁ পেতাম।’

    ‘কীভাবে?’

    ‘কীভাবে, তাতো আর জানি না। তবে আমি শব্দের ভেতরের সূক্ষ্ম শব্দও শুনতে পাই। ঘ্রাণের ভেতরেও ঘ্রাণ পাই। গেটের ওই শব্দটা অবশ্য অনেকদিন আর পাই না।’

    ‘আম্মা,আমি একটা কথা বলি?’

    ‘বল।’

    ‘মাঝে মাঝে তোমাকে আমার ভয় হয়। তোমার কথা শুনলে ভয় লাগে।

    হাফসা শব্দ করে হাসলেন। তারপর বললেন, ‘দুনিয়াতে মনে হয় আমিই একমাত্র মা। যার কথা শুনলে তার মেয়ের ভয় লাগে। হা হা হা।’

    ‘আম্মা এই এত রাতে এভাবে হেসো না প্লিজ।’

    ‘কেন তোর ভয় লাগছে? তোর মায়ের হাসি শুনেও তোর ভয় লাগছে? কী মনে হচ্ছে তোর, আমি ভূত-প্রেত কিছু? হা হা হা।’

    নাদিয়ার এবার সত্যি সত্যিই ভয় হচ্ছে। হাফসা যে মাঝে মধ্যে একটু আধটু পাগলামি করে না তা নয়। আসলে বছরের পর বছর এই একই বিছানায় একইভাবে শুয়ে থাকতে থাকতে সে ক্লান্ত, বিধ্বস্ত, এলোমেলো হয়ে গেছে।

    তুমি কি আরেকটা ঘুমের ওষুধ খাবে আম্মা?’

    হাফসা শান্ত গলায় বললেন, ‘দে, আরেকটা দে। খেয়ে একটা শান্তিমতো ঘুম দেই।’

    নাদিয়া মাকে আরো একটা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দিল। হাফসার অবশ্য তাতে ঘুম এলো না। তিনি নাদিয়াকে ধরে বললেন, ‘তুই আংটিটা কেন খুলে রেখেছিস আমাকে বলবি মা?’

    নাদিয়া জবাব দিল না। সে চুপচাপ মায়ের কাছে শুয়ে রইলো। হাফসা বললেন, ‘আমার খুব কষ্ট মা! খুব কষ্ট। নাবিলাকে নিয়ে যে আমার কী কষ্ট হয়, সেটা মা না হলে বুঝবি না। তোকে একটা অনুরোধ করি মা?’

    ‘হুম।’

    ‘তুই আমার মাথায় হাত রেখে বলবি, তোর কি অন্য কাউকে পছন্দ?’

    নাদিয়া এই প্রশ্নের উত্তর দিল না। হাফসা নাদিয়ার হাতটা এনে তার মাথায় রাখলেন। তারপর বললেন, ‘বল, এবার বল।’

    নাদিয়া তবুও কথা বলল না। হাফসা হঠাৎ কেঁদে ফেললেন, ‘তুই আমার এই সর্বনাশটা করিস না রে মা। নাবিলাকেতো চোখের সামনে দেখেছিস। দেখিস নাই? তারপরও তুই এমন কিছু করিস নারে মা। মারে, আমার যে কী কষ্ট হয়রে মা। এই কষ্ট আমি এই দুনিয়াতে কাউরে বোঝাতে পারব না গো মা।’

    নাদিয়া কী বলবে! তার আসলেইতো কোনো পছন্দ নেই। সে অনেক ভেবেছে, ভেবেও পছন্দ করার মতো কারো কথা তার মনে আসেনি। কিন্তু একটা জিনিস সে স্পষ্ট বুঝতে পারছে, কোথাও কোনো একটা ঝামেলা আছে। সেই ঝামেলাটা তার নিজের মধ্যেই। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও সেই সমস্যা সে ধরতে পারছে না। অথচ রাত- দিন সারাটাক্ষণ তার বুকের ভেতরটা কী যে অস্থির হয়ে থাকে! তীব্র অশান্তিতে সবকিছু এলোমেলো লাগে তার। হাফসা কাঁদতে কাঁদতেই বললেন, আমার মাথা ছুঁয়ে বল, তুই নাবিলার মতো কিছু করবি না। আমাকে কসম কেটে বল।’

    নাদিয়ার হাতটা মৃত মানুষের মতো তার মায়ের মাথায় পড়ে রইলো। এত অসহায় লাগছে নাদিয়ার! সে নিজেই স্পষ্ট কিছু বুঝতে পারছে না, অন্য কাউকে কী করে বোঝাবে সে! হাফসা এবার হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন, ‘তুই আমাকে তার চেয়ে মেরে ফেল মা। নিজের হাতে মেরে ফেল। আমি আর এত যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছি না। মা রে…।’

    নাদিয়া অবশেষে অস্ফুট স্বরে কথাটা বলল, ‘না মা, কেউ নেই।’

    হাফসার কান্না মুহূর্তেই থেমে গেল। তিনি ভেজা গলায় বললেন, ‘আমাকে কথা দে, তুই কখনো উল্টাপাল্টা কিছু করবি না।’

    নাদিয়া সুবোধ বালিকার মতো বলল, ‘করব না মা।’

    ‘মুকিতকে তোর পছন্দ না?’

    নাদিয়া চুপ করে রইলো। হাফসা বললেন, ‘বল। বল, কেন মুকিতকে তোর পছন্দ না। বল? এত ভালো ছেলে! আমরাইতো তার যোগ্য না। বল কেন তাকে তোর পছন্দ না?’

    ‘আমিতো বলি নাই যে পছন্দ না।’

    ‘সব কথা বলতে হয় না। আমি তোর মা না? আমি বুঝি না, তোর মনে কী চলছে? তোর চোখের দিকে তাকালেই আমি বুঝতে পারি।’

    ‘কী বুঝতে পারো?’

    ‘মুকিতকে তোর পছন্দ না। তোর অন্য কাউকে পছন্দ, কিন্তু সেই কথা তুই বলতে সাহস পাচ্ছিস না। বল, কথা সত্য কি না বল?’

    নাদিয়া এবার যেন খানিক রুঢ় হল, ‘আমিতো একবার বলেছিই মা, আমি তোমাদের অমতে কখনোই কিছু করব না। তারপর আবার কী? তোমার মাথা ছুঁয়েতো আর আমি মিথ্যে বলব না।

    মায়ের পাশ থেকে উঠে চলে গেল নাদিয়া। হাফসা তাকিয়ে রইলেন। তার বুকের ব্যথাটা আরো বাড়ছে। নাদিয়া নাবিলার মতো অস্থির, চঞ্চল নয়। সে শান্ত, চুপচাপ। নিজের ভেতরে অসহ্য কষ্ট, অভিমান নিয়েও সে চুপচাপ কাটিয়ে দেবে। কাউকে কিছু বলবে না। এ কারণেই তাকে নিয়ে আরো বেশি ভয়। কী এমন রয়েছে নাদিয়ার মনে যে এত করে বলার পরেও সে সেটা বলছে না!

    সেই সারারাত জেগে রইলেন হাফসা। মাঝে মাঝে খানিক সময়ের জন্য তার তন্দ্রা এলো, তবে তা বেশিক্ষণ থাকল না। এই আধো ঘুম আধো জাগরণেই তিনি ভয়াবহ সব দুঃস্বপ্ন দেখতে লাগলেন। কিন্তু সেই দুঃস্বপ্ন কারো কাছে বলার সাহস তার হলো না। তাতে যদি দুঃস্বপ্ন সত্যি হয়ে যায়!

    .

    পরদিন দুপুরে ইউনিভার্সিটি থেকে ফিরে ঘরে ঢুকতেই ধাক্কার মতো খেল নাদিয়া বসার ঘরে শফিক বসে আছে। নাদিয়াকে দেখে শফিক অবশ্য হুড়মুড় করে উঠে দাঁড়াল না। তটস্থ ভঙ্গিতে সালামও দিল না। মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে রইলো। তার হাতে একটা পুরনো পত্রিকা। গভীর মনোযোগে সে সেই পত্রিকা পড়ছে। নাদিয়া ইচ্ছে করেই খানিক শব্দ করল। শফিক চোখ তুলে তাকাল, তবে কথা বলল না। নাদিয়া জানে না কেন, সেও কোনো কথা বলল না। চুপচাপ হেঁটে ঘরের ভেতর চলে গেল। এর আগে এমন কখনো হয়নি। শফিককে দেখলেই খোঁচাতে চাইত নাদিয়া। এটা-সেটা জিজ্ঞেস করত। কিন্তু কী এমন হলো আজ?

    এই সামান্য একটু সময়। শব্দহীন, গল্পহীন, বাক্যহীন। কিন্তু সেই নিঃশব্দ সময়টুকুই যেন অগোচরে অদ্ভুত, গোপন সব কথা বলে গেল। যেন এই দুজন মানুষ তাদের অবচেতনেই একটা অদৃশ্য দ্বৈরথে আবির্ভূত হয়েছে। কোথায় যেন একটা তীব্র অস্বাভাবিকতা। সবকিছু আরো বেশি স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে নিজেদের অগোচরেই যেন তারা অতি সতর্ক হয়ে উঠেছে। তাদের সেই অতি সতর্কতা ক্রমশই একটা অনুচ্চারিত অনুভূতিকে দৃশ্যমান করে তুলেছে। এই যে নাদিয়া, সে সবসময় শফিককে দেখলেই সহজাত ভঙ্গিতেই প্রগল্ভ হয়ে ওঠে। নানা হাসি ঠাট্টা করে। শফিককে উত্ত্যক্ত করে আনন্দ পায়। কিন্তু সেও কেন আজ হঠাৎ এমন গম্ভীর হয়ে গেল?

    শফিকের সাথে আলাদা করেতো কিছু হয়নি তার! তাদের মধ্যে কোনো অনুরাগ, অভিযোগ কিংবা অভিমানের সম্পর্কও নেই। কোনো রাগ, ক্রোধ কিংবা ক্ষোভের কারণও থাকার কথা নয়। তারা পরস্পরের অতটা কাছেরও কেউ নয়। রাস্তায় পথ চলতে হঠাৎ দেখা হওয়া দুজন মানুষের যেটুকু পরিচয়, তারাও অনেকটা তেমনই। তাহলে?

    নাদিয়া কেন আজ হঠাৎ শফিককে এড়িয়ে গেল? এই প্রশ্নের উত্তর নাদিয়া জানে না। সে কি তবে শফিককে আলাদা করেই উপেক্ষা করতে চাইছে? কিংবা এড়িয়ে যেতে চাইছে? কিন্তু শফিকতো এমন গুরুত্বপূর্ণ কেউ নয় তার কাছে যাকে এড়িয়ে যেতে হবে, উপেক্ষা করতে হবে! তাহলে শফিককে সে আলাদা করে এতটা গুরুত্ব কেন দিচ্ছে? নাদিয়া ঘরে ঢুকলেও এই প্রশ্নটা ঘুণপোকার মতো খোঁচাতে থাকল তাকে। হাফসা বললেন, ‘আমার নাবিলাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। এত বাজে একটা স্বপ্ন দেখলাম, তারপর থেকে মনটা কেমন খচখচ করছে।

    ‘এইজন্য শফিক ভাইকে আসতে বলেছো?’

    হুম। শফিককে বলব, নাবিলাকে যেন দিন কয়েকের জন্য একটু নিয়ে আসে।

    ‘আচ্ছা।’

    তুই একটু নাবিলার সাথে কথা বলে দেখবি?’

    ‘আমি কেন?’

    ‘আমিতো বললাম, কিন্তু সে এখন আসতে চাইছে না। বারবার বলছে, সব ঠিকঠাক আছে। কিন্তু আমার মনটা কেমন করছে!’

    ‘আমি বললেই সে আসবে?’

    ‘এ বাড়িতে কারো কথা যদি সে শোনে, তা ওই তোর কথাই।’

    ‘তুমি এক কাজ করো, শফিক ভাইয়ের সাথে ফরিদপুর চলে যাও।’

    ‘আমার শরীরে কুলালে সে কথা আর তোর বলতে হতো না।’

    নাবিলা অবশ্য নাদিয়ার কথাও শুনল না। সে আসতে রাজি হলো না। হাফসাও ইনিয়ে বিনিয়ে নানাভাবে তাকে রাজি করানোর চেষ্টা করলেন ফোনে, কিন্তু লাভ হলো না। শেষে হাফসা বললেন, ‘এক কাজ করবি নাকি?’

    ‘কী কাজ?’

    তুই শফিকের সাথে চলে যাবি ফরিদপুরে? তারপর ধরে নিয়ে এলি?’

    ‘না মা। লাভ হবে না। ও যে একগুঁয়ে! একবার যখন বলেছে, আর আসবে না। তা ছাড়া আমার পরীক্ষাওতো আছে।’

    শফিককে খেতে দেয়া হয়েছে। সে অবশ্য তেমন কিছু খেল না। বের হয়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তে আচমকা নাদিয়া এলো। কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে সে সহজ, স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করল, ‘আপনি সবসময় এই একই শার্ট পরেন কেন শফিক ভাই?’

    শফিক জবাব দিল না। মৃদু হাসল কেবল। তার সেই হাসির কোনো অর্থ করতে পারল না নাদিয়া। শফিক কি খানিক অন্যরকম হয়ে গেছে? আগে সে যেমন চুপচাপ ছিল, এখনো তেমনই আছে। কিন্তু তারপরও কোথায় যেন একটা অন্য মানুষ সে। নাদিয়া বলল, ‘সেদিন অমন বৃষ্টির ভেতর হেঁটে চলে গেলেন কেন?’

    শফিক এবারও জবাব দিল না। নাদিয়া বলল, ‘আমি পেছন থেকে এত করে ডাকলাম, আপনি শুনলেন না অবধি!’

    শফিক শোনেনি এটা ঠিক নয়। সে শুনেছে। বেশ ভালো করেই শুনেছে। কিন্তু তারপরও এক বেপরোয়া অভিমান যেন তার বুকের ভেতরটা ভেঙেচুরে তছনছ করে দিয়েছিল। শফিক জানে না, সেই অভিমানটা কার সাথে! কখনো কখনো মনে হয় স্রষ্টার সাথে। তিনি কেন তাকে এমন বঞ্চিত, হতভাগ্য, অভিশপ্ত এক মানুষের আদল দিয়েছেন? কেন কোথাও তার এতটুকু প্রাপ্তি নেই, শান্তি নেই, আনন্দ নেই? আর যদি তার জন্য কিছু নাই থাকবে, তাহলে তার বুকের ভেতর তার অবচেতনেই কেন এই অসম্ভব প্রত্যাশাটুকু এমন কঠিনভাবে গেঁথে দিলেন? তিনি কি জানেন না, কী ভয়াবহ যন্ত্রণা প্রতি মুহূর্ত তাকে বিদ্ধ করে চলে!

    নাদিয়া বলল, ‘কী হলো, কথা বলবেন না আমার সাথে?’

    ‘বলব না কেন?’

    ‘সেটা আপনি জানেন। এই যে এলাম, আপনার সাথে দেখাও হলো, কই কথাতো বললেন না?’

    শফিক অনেক কিছু বলবে ভেবেও শেষ পর্যন্ত কিছুই বলতে পারল না। গত বেশ কিছুদিন থেকে সে নিজের সাথে যুদ্ধ করছে। নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে, এই অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণা আর নিতে পারছেনা সে। নাদিয়ার প্রতি যে দুর্দমনীয় অনুভূতি সে অনুভব করে, তা তার পৃথিবীটাকে এলোমেলো করে দিচ্ছে। তার স্বাভাবিক জীবনটাকে অস্বাভাবিক করে তুলেছে। যে করেই হোক এর থেকে মুক্তি তাকে পেতেই হবে। আর এর জন্য সবার আগে নাদিয়ার ছায়া থেকেও তাকে দূরে সরে থাকতে হবে। কিন্তু আজ হাফসার জরুরি ফোন পেয়ে সে না এসে পারেনি।

    নাদিয়া বলল, ‘আপনি থাকেন কোথায় শফিক ভাই?’

    ‘মহাখালী।’

    নাদিয়া হাসল, ‘এত খালি নিয়ে কীভাবে থাকেন?’

    শফিক চট করে কথাটা ধরতে পারল না। নাদিয়া বুঝতে পেরে বলল, ‘আপনি খুব ভালো আছেন, তাই না?’

    ‘তাই?’

    ‘হুম। কেন ভালো আছেন জানেন?’

    শফিক তাকাল। নাদিয়া বলল, ‘কারণ আপনি সবকিছু খুব কম বোঝেন। ভালো থাকতে হলে এই কম বোঝাটা খুব দরকার। যেসব মানুষ বেশি বোঝে, তাদের কষ্টটাও বেশি।’

    শফিক হাসল। সেই হাসি যে কান্নার মতো, নাদিয়া কি তা বুঝতে পারল? কতটা ভালো আছে শফিক? কতটা কম বোঝে সে? শফিক জানে, সে কম বোঝে তা নয়, বরং সে যতটা বোঝে ততটা বোঝাতে পারে না। এর চেয়ে খারাপ থাকা আর হয় না।

    নাদিয়া কী মনে করে শফিককে নিচতলা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে এলো। শফিক অবাক হলেও নাদিয়াকে বুঝতে দিল না। গেটের বাইরে দাঁড়ানো শফিককে আচমকাই কথাটা বলল নাদিয়া, ‘আপনি আর এই শার্টটা পরবেন না শফিক ভাই।’

    শফিক হেঁটে যাচ্ছিল দুপুরের রোদ মাথায় করে। কিন্তু তার বুকের ভেতর ফুরফুর করে বয়ে যাচ্ছিল সন্ধ্যার হাওয়া। সেই হাওয়ায় ভেসে যাচ্ছিল মন কেমনের সুবাস! এই সুবাস থেকে সে যতই দূরে যেতে চায়, ততই কাছে চলে আসে। কী অদ্ভুত!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআলথুসার – মাসরুর আরেফিন
    Next Article সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026
    Our Picks

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026

    শঙ্খচিল – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }