Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026

    শঙ্খচিল – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্ধবৃত্ত – সাদাত হোসাইন

    সাদাত হোসাইন এক পাতা গল্প480 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অর্ধবৃত্ত – ৪০

    ৪০

    রাফির ঘুমের সমস্যা আরো বেড়েছে। সাথে ভয়ানক অস্থিরতা। এই মুহূর্তে তার সবচেয়ে বেশি কথা বলা দরকার মুনিয়ার সাথে। কিন্তু সেদিনের পর থেকে মুনিয়া কেমন শীতল হয়ে গেছে। বিষয়টা যে রাফি বুঝতে পারেনি তা নয়। কিন্তু সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার জন্য যে সময়টুকু দরকার, মুনিয়া তা তাকে দিচ্ছে না। শরীর খারাপের অজুহাতে স্কুল থেকে বেশ কিছুদিনের জন্য ছুটিও নিয়েছে মুনিয়া। সমস্যা হচ্ছে বেশির ভাগ সময়ই তার ফোন বন্ধ থাকে। ফলে মুনিয়ার সাথে যোগাযোগও করতে পারছে না রাফি। তার সমস্যাও বাড়ছে। অনেক ভেবেচিন্তে সে একজন সাইকিয়াট্রিস্টের সাথে দেখাও করেছে। ডক্টর আব্দুল বাতেন নামকরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। প্রথম দিনে তিনি তেমন কিছু জিজ্ঞেস করেননি রাফিকে। রাফি নিজ থেকে তার সমস্যার কথা যতটুকু বলেছে, তিনি কেবল ততটুকুই শুনেছেন। রাফির ঘুমের সমস্যা। ঘুমের ভেতর সে নানারকম দুঃস্বপ্ন দেখে। এই দুঃস্বপ্ন দেখার আতঙ্কে এখন আর তার ঘুমই হচ্ছে না। আব্দুল বাতেন দ্বিতীয় দিন জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কি এই দুঃস্বপ্ন কোনো একজনকে নিয়েই দেখেন?’

    রাফি সামান্য ভেবে বলল, ‘নাহ।’

    ‘যাদের নিয়ে দেখেন, তারা সবাই কী আপনার পরিচিত?’

    ‘নাহ।’

    ‘পরিচিত কাকে কাকে দেখেন?’

    রাফি এই প্রশ্নের উত্তর ঠিকঠাক দিতে পারল না। তার এখন মনে হচ্ছে তার স্বপ্নটা আজকাল আর স্পষ্ট না। সে মানসিক আতঙ্ক থেকে যেকোনো স্বপ্নকেই ভয়ের স্বপ্ন ভাবে। ফলে স্বপ্নগুলো সে আর মনে রাখতে পারে না। কিন্তু আতঙ্কটা থেকে যায়। মুনিয়ার সাথে এসব নিয়ে একটু কথা বলতে পারলে ভালো হতো। এখন অবশ্য সে উপায় নেই। মুনিয়া একভাবে তার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নই করে রেখেছে। এই বিষয়টাও খুব কষ্ট দিচ্ছে রাফিকে। তার ধারণা সে তার এই অস্থির মানসিকতার কারণেই গত কয়েকদিনে মুনিয়ার সাথে খুব বেশি উল্টাপাল্টা কথা বলে ফেলেছে। আর এই অবস্থায় মুনিয়া সেটা নিতে পারেনি। রাফি জানে, মুনিয়া এমনিতেই নানা মানসিক, পারিবারিক, পেশাগত ঝামেলায় থাকে। তার কাছে রাফি একঝলক ফুরফুরে দখিনা হাওয়ার মতো। যেখানে এসে সে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারে সে। অথচ এমন একটা সময় রাফিই কিনা আরো উল্টাপাল্টা কথা বলে তার মানসিক অস্থিরতাটা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি ওই সময়েই স্বামীর সাথে ঝগড়া করে মুনিয়া চলে গিয়েছিল বাবার বাড়ি। রাফি কোথায় তাকে মানসিক সাপোর্ট দেবে। কিন্তু সেটা না করে সে উল্টো তাকে মানসিকভাবে আরো বেশি দুর্বল করে দিয়েছে। এটি নিয়েও এখন ভয়াবহ এক ধরনের মানসিক চাপে ভুগছে রাফি।

    এই সময়ে অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটল। সন্ধ্যেবেলা রুম অন্ধকার করে শুয়েছিল রাফি। রথি দরজায় নক করে বলল, ‘ভাইয়া আসব?’

    ‘আয়।’

    রথি ঘরে ঢুকে আলো জ্বালাতেই রাফি চেঁচাল, ‘বাতি জ্বালাস না, বাতি জ্বালাস না।‘

    ‘কেন?’

    ‘আলো ভালো লাগছে না। কী হয়েছে বল?’

    ‘তোমার ফোন।’ রথি তার হাতের ফোনটা রাফির দিকে এগিয়ে দিল।

    ‘আমার ফোন?’ ভারি অবাক হলো রাফি। ‘কে করেছে?’

    ‘ঋদ্ধি।’

    ‘ঋদ্ধি? ও কেন আমাকে ফোন করেছে? আর ফোনই পেল কোথায়?’

    ‘ওর বাবার ফোন থেকে করেছে। ধরো।’

    রাফি ফোন হাতে নিয়ে বিস্মিত গলায় বলল, ‘হ্যালো ঋদ্ধি?’

    ঋদ্ধি তটস্থ ভঙ্গিতে সালাম দিল। রাফি বলল, ‘কী ব্যাপার বলোতো?’

    ঋদ্ধি কী বলবে ভেবে পেল না। অনেকদিন রাফি আর স্কুলে যায় না। কেন যায় না সে জানে না। কিন্তু রাফির কাছে একটা প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য খুব ছটফট লাগছিল তার। যদিও সে নিশ্চিত না, এই প্রশ্নটি করা তার ঠিক হবে কিনা। সে দ্বিধাগ্রস্ত কণ্ঠে বলল, ‘আপনি আর স্কুলে আসেন না যে!’

    রাফি একই রকম সন্দিগ্ধ গলায় বলল, ‘কেন বলতো, কোনো দরকার?’

    ‘নাহ।’

    ‘তাহলে?’

    ‘এমনি।’ ঋদ্ধি কতকিছু ভেবে রেখেছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে বলার জন্য চট করে কোনো উত্তর খুঁজে পেল না। রাফি বলল, ‘বাড়ির সবাই ভালো?’

    ‘হুম।’

    ‘তোমার মা?’

    ‘মাও ভালো।

    ‘কিন্তু উনিতো অনেকদিন ধরে স্কুলে যান না। আর উনার ফোনও অফ। আমি অনেকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পাইনি। কী হয়েছে বলোতো?’ কথাটা বলেই রাফির মনে হলো এভাবে জিজ্ঞেস করা হয়তো ঠিক হয়নি তার। ঋদ্ধিও যেন বিষয়টা ঠিকভাবে নিল না। সে বলল, ‘মাকে আপনি ফোন করেছিলেন? অনেকবার?’

    রাফি সতর্ক হলো, ‘হুম, একটু দরকার ছিল।’

    ‘কী দরকার?’

    রাফি ইতস্তত করে বলল, ‘তেমন কিছু না। একটা ইনফরমেশন দরকার ছিল, কিন্তু উনার ফোন অফ। তা ছাড়া বেশ কিছুদিন ধরে উনিতো স্কুলেও আসেন না। কবে থেকে আসবেন কিছু জানো?’

    ঋদ্ধি গম্ভীর গলায় বলল, ‘মা স্কুলে যায় না বলে আপনিও আসেন না?’

    রাফি তটস্থ হয়ে বলল, ‘তা কেন? আসলে আমারও একটু ব্যস্ততা যাচ্ছে। আচ্ছা, রথি বলল উনি অসুস্থ বলে নাকি ছুটি নিয়েছেন? কী অবস্থা এখন?’

    ঋদ্ধি এই প্রশ্নের জবাব দিল না। সে জানেনা কেন, রাফি মার কথা এত আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করায় কেন যেন তার মন খারাপ লাগছে। এই মন খারাপে তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। দৃশ্যমান কোনো কারণও হয়তো নেই। তারপরও সে বুঝতে পারছে, ভেতরে ভেতরে আপনা আপনিই যেন খানিকটা দমে গেছে সে। বাবার ফোন থেকে ফোন করে রাফিকে চাওয়া তার জন্য দুঃসাহসী এক কাজ। সেই কাজটি সে করেছিল তীব্র এক তেষ্টা থেকে। কিন্তু সেই তেষ্টাটা যেন আর মিটল না। বরং অস্বস্তিকর এক খারাপ লাগা লেগে রইলো বুকের ভেতর। তা ছাড়া মারতো তেমন কিছু হয়নি। সে এমনি এমনিই স্কুল থেকে ছুটি নিয়েছে।

    রাফি বলল, ‘তুমি কিছু বলবে? আমার একটু কাজ আছে।’

    ঋদ্ধির এত মন খারাপ হলো! কত আগ্রহ নিয়ে, কত কতদিন কত কত পরিকল্পনা করেই না সে অবশেষে আজ ফোন করল। অথচ রাফি তার সাথে কথা বলছে কী নির্লিপ্তভাবে। তাহলে কি সে ভুলই ভেবেছে? তাদের বাড়ির উল্টোদিকে রাফির লেখা ওই কবিতাগুলো তার জন্য নয়। অন্য কারো জন্য? কিন্তু অন্য কার জন্য?

    ঋদ্ধি এই প্রশ্নের উত্তর মেলাতে পারছে না। তবে মুহূর্তের জন্য তার সন্দিগ্ধ, বিচলিত, অস্থির মন যেন ভাবনার সূক্ষ্ম, তীক্ষ্ণ এক চিলতে বিদ্যুৎ চমকে দিয়ে আবার মিলিয়ে গেল। তবে তার রেশ থেকে গেল ঋদ্ধির বুকের ভেতর, ভাবনার ভেতর। তার আচমকা খুব কান্না পেতে লাগল। সে শতভাগ নিশ্চিত দেয়ালে লেখা ওই কবিতার লাইনগুলো রাফির লেখা কবিতাই। আর তার নিজের হাতেই লেখা হয়েছে দেয়ালের ওই লেখাগুলো। কিন্তু ওখানে সে কার জন্য ওভাবে দেয়াল ভর্তি কবিতা লিখে রাখবে?

    ঋদ্ধি আর একটা কথাও বলল না। সে চুপচাপ ফোন কেটে দিয়ে অন্ধকারে লীন হয়ে রইলো। তার ছোট্ট বুকের ভেতর কত কত শঙ্কা, কত কত সম্ভাবনা, কত কত কষ্ট আর কান্নার নদী বয়ে যেতে লাগল বিরামহীন তা কেবল সে একা জানে। আর কেউ না।

    মার সাথে তার অদ্ভুত এক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এটা ঋদ্ধি টের পায়। হয়তো এর অনেক দৃশ্যমান কারণই রয়েছে। কিন্তু ঋদ্ধির কেন যেন মনে হয় কোথাও কোনো একটা অদৃশ্য কারণও রয়েছে। সেই কারণটা ঋদ্ধি জানে না। যদিও এই সময়ে তার আর সব বন্ধুদেরও তাদের মায়েদের সম্পর্কে বিস্তর অভিযোগ। সেইসব অভিযোগ অবশ্য নানাবিধ শাসন-বারণ নিয়ে। বাধ্যবাধকতা নিয়ে। কিন্তু ঋদ্ধি জানে তার আর মায়ের সম্পর্কে গলায় বিঁধে থাকা সুক্ষ্ম কাঁটার মতো অন্যকিছু একটাও যেন বিঁধে আছে।

    সন্ধ্যার খানিক পরে মুনিয়া অন্ধকারে বারান্দায় বসে ছিল। ঋদ্ধি পা টিপে টিপে মায়ের পেছনে গিয়ে দাঁড়াল। মুনিয়া প্রথমে খেয়াল করল না। ঋদ্ধি চুপচাপ মায়ের দিকে তাকিয়ে রইলো। মাকে দেখে মনে হচ্ছে কিছু একটা নিয়ে প্রবল চিন্তায় ডুবে আছে সে। এই বিষয়টা অনেক দিন থেকেই হচ্ছে। মা যেন নিজের মধ্যে নেই। সবকিছু ঠিকঠাক দেখালেও তার ভেতর যেন অন্যকিছু একটা সারাক্ষণ রয়ে যাচ্ছে। তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। যদিও কখনো সে কাউকে কিছু বুঝতে দেয় না। ঋদ্ধি ডাকল, ‘মা?’

    মুনিয়া মাথা তুলে তাকাল, ‘হুম?’

    ‘তোমার কাছে একটু বসি?’

    ‘বোস।’ মুনিয়া সরে ঋদ্ধিকে জায়গা করে দিল।

    ঋদ্ধি বলল, ‘আমার ওপর তোমার খুব মন খারাপ তাই না মা?’

    ‘মন খারাপ হবে কেন?’

    ‘এই যে তুমি চলে গেলে, কিন্তু আমি থেকে গেলাম। তোমার সাথে যাইনি…।’

    মুনিয়া ম্লান হাসল, ‘উহু। আমি জানি, বড় হলে মায়ের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়। তখন অন্যদের প্রয়োজন বাড়ে। আমিও ছোটবেলায় মাকে ছাড়া একটা মুহূর্ত থাকতে পারতাম না। আর এখন দেখিস না, অন্যদের এত বেশি প্রয়োজন যে মার সাথে একটু কথা বলারও সময় হয় না!’

    কথাটা লাগল ঋদ্ধির। কিন্তু কী বলবে তা বুঝে উঠতে পারল না সে। খানিক চুপ করে থেকে আলতো করে মাকে ডাকল সে, ‘মা।’

    ‘হুম।’

    ‘আমার না কিছুই ভালো লাগছে না।’

    মুনিয়া আধো অন্ধকারেই ঋদ্ধির দিকে ফিরে তাকাল। ঋদ্ধি হঠাৎ মায়ের কাঁধে মাথা রাখল। মুনিয়া ঋদ্ধির মাথাটা তার কাঁধের সাথে চেপে ধরে বলল, কী হয়েছে?’

    ঋদ্ধি জবাব দিল না। চুপচাপ মায়ের কাঁধে মাথা রেখে তাকিয়ে রইলো সামনে। সেখানে ছাদের কার্নিশ বেয়ে নেমে এসেছে কী একটা এলোমেলো লতা। একটা আমগাছের নুয়ে পড়া ডাল। তারপরে রাস্তা। রাস্তার ওপারে ফুটপাত। ফুটপাতের ওপারে একটা ল্যাম্পপোস্ট। সেই ল্যাম্পপোস্টের নিচে সাদা ধবধবে দেয়াল। দেয়ালের গায়ে লাল রঙে বড় বড় করে লেখা, ‘আমি একদিন নিখোঁজ হবো, উধাও হবো রাত প্রহরে, সড়ক বাতির আবছা আলোয়, খুঁজবে না কেউ এই শহরে…’

    ঋদ্ধি এবং মুনিয়া দুজনই দুজনের অগোচরে ওই লেখাটার দিকে চুপচাপ তাকিয়ে রইলো। তাদের বুকের ভেতর তখন একজন মাত্র মানুষের জন্য অদ্ভুত এক অভিমান, অব্যক্ত এক দহন, অস্পৃশ্য এক গল্প। সেই গল্পে তারা দুজনই যেন বিষে জরজর নীল কষ্ট। ঋদ্ধি হঠাৎ কাঁদতে লাগল। মুনিয়া তার হাতের মুঠোয় ঋদ্ধির হাতজোড়া নিয়ে শক্ত করে চেপে ধরল। তারপর মায়াময় কণ্ঠে বলল, ‘কী হয়েছে মা?’

    ঋদ্ধি জবাব দিল না। সে কাঁদতেই থাকল। মুনিয়া কি জানে ঋদ্ধি কেন কাঁদছে?

    .

    কী মনে করে গভীর রাতে ফোনটা খুলল মুনিয়া। আর তাকে অবাক করে দিয়ে ঠিক সাথে সাথেই ফোন বেজে উঠল। রাফির ফোন। মুনিয়া ফোনটা ধরলো। রাফি কোনো অভিযোগ করল না। সরাসরি বলল, ‘আমার কিছু ভালো লাগছে না।’

    কথাটা কানে লেগে রইলো মুনিয়ার। ঋদ্ধিও ঠিক এই কথাটিই বলেছিল। তাদের সাথে কি কথা হয়? রাফি কি রোজ স্কুলে আসে আজকাল? আসার কথা না। রাফি বলল, ‘খুব অস্থির লাগছে।’

    মুনিয়া বলল, ‘কিন্তু আমি কী করব?’

    ‘তুমি আমার সাথে কথা বলবে।’

    ‘উহু।’

    ‘কেন?’

    ‘কারণ খুব বেশি কাছে যেতে নেই। খুব বেশি কাছে গেলে তখন আর কিছুই দেখা যায় না, সবকিছু ঝাপসা, অস্পষ্ট লাগে। ঠিকঠাক দেখতে হলে কিংবা পেতে হলে বরং কিছুটা দূরত্বই ভালো।’

    কথাটা শুনে রাফি থমকে গেল। মুনিয়ার কথাটা কি আসলেই সত্যি? সবকিছু জানা হয়ে গেলে, সব কিছু পাওয়া হয়ে গেলে কি সবকিছু হারিয়ে যায়? খুব বেশি কাছে গেলে কি সব অস্পষ্ট, ঝাপসা হয়ে যায়? রাফির মনে হলো কথাটা মিথ্যে নয়। সকল সম্পর্কেই কিছুটা দূরত্ব ভালো।

    সে তারপরও বলে, ‘আমার তোমাকে আগের মতো করেই চাই। আগের মতো আমার সাথে বাইরে ঘুরতে যাবে। সময় দেবে। নাহলে পাগল হয়ে যাব আমি।’

    মুনিয়া হাসল, ‘উহু। হবে না। তুমি ঠিকই ঠিকঠাক থাকবে।’

    ‘থাকব না। তুমি জানো না। আমি খুব খারাপ আছি, খুব খারাপ আছি মুনিয়া!’

    মুনিয়ার বুকের ভেতর যেন ছলকে উঠলো জল। রাফি সাধারণত তাকে নাম ধরে ডাকে না। কালেভদ্রে হয়তো ডাকে। কিন্তু আজ অনেকদিন পর রাফির কণ্ঠে তার নামটা শুনে যেন শিরশির করে উঠল শরীর। বিষয়টা এক ধরনের দ্বিধাবিভক্ত অনুভব দিচ্ছে মুনিয়াকে। সে বিরক্ত হবার চেষ্টা করলেও পারছে না। ভেতরে ভেতরে বরং একটা স্পষ্ট, তীব্র ভালোলাগা। এই ভালোলাগাটাকে সে উপেক্ষা করতে পারছে না।

    ‘খারাপ আছো কেন? কোনো সমস্যা হয়েছে?’

    ‘কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু তুমিতো কোথাও নেই।’

    ‘তাতে কী? তোমার চারপাশেতো অসংখ্য মানুষ আছে। সেদিন তুমিইতো বললে, আমি নাহয় আমার নিঃসঙ্গতার জন্য তোমার সঙ্গ চেয়েছি। কিন্তু তুমিতো নিঃসঙ্গ নও। তোমার চারপাশে অনেক মানুষ। আমার শরীর ছাড়াতো তোমার আর কিছু দরকার নেই।’

    রাফি সামান্য চুপ করে থেকে বলল, ‘কিন্তু তারপরও আমার কেবল তোমাকেই দরকার।’

    ‘আমাকেই?’

    ‘হুম। তোমাকেই।’

    মুনিয়া চায় না রাফির এই কথাগুলো তাকে এলোমেলো করে দিক। কিন্তু তারপরও ভেতরে ভেতরে সে যেন রাফির গলা শুনেই নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। জাফরের প্রতি সে একটা মায়া আজকাল নতুন করে টের পায়। কিন্তু সেই মায়া প্রবল ভালোবাসা হয়ে উঠতে পারে না যেন। যেন একটা নিস্পন্দন জলাশয়ের মতো। স্থির, গতিহীন, ঢেউহীন। রাফি কি তাহলে ঠিকই বলেছিল? সম্পর্কও পুরনো হলে তার প্রাবল্য হারায়। পরস্পরকে পাওয়ার দুর্দমনীয় আকর্ষণটা আর থাকে না। ক্ষ্যাপাটেপনা থাকে না। প্রলয়ঙ্করী উচ্ছ্বাস, তুমুল তেষ্টা আর থাকে না? নাকি তার একার ক্ষেত্রেই এমনটা হয়? অন্যরা ঠিকঠাক পরস্পরের প্রতি প্রবল ভালোবাসা নিয়েই সারাটা জীবন একসাথে থেকে যায়? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর মুনিয়া জানে না। তবে আজকাল নিজেকে তার খুব একা মনে হয়।

    রাফি বলল, ‘তোমাকে একটা কবিতা শোনাই?’

    মুনিয়া কথা বলল না। তবে গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল।

    রাফি ভরাট গলায় পড়ল,

    ‘এই যে লোকে লোকারণ্য শহর, সকাল-সন্ধ্যা ভিড় ভাট্টা জাগে,
    তবুও এমন একলা লাগার মানে, ‘নিজের একটা মানুষ সবার লাগে।’

    মুনিয়া কোনো কথা বলল না। চুপ করে রইলো। রাফি এরপর আরো কী কী সব পড়ে গেল। কিন্তু সেসবের কিছুই মুনিয়া শুনল না। তার কেবল মনে হলো তার বুকের ভেতর সারাক্ষণ যে তীব্র তেষ্টাটা সে বয়ে বেড়ায়, যে চিনচিনে ব্যথা, গলায় বিঁধে থাকা সূক্ষ্ম কাঁটার মতো যে অস্বস্তি, যে অস্থিরতাটুকু সে প্রতি মুহূর্তে অনুভব করে, রাফি যেন এই দুটো লাইনেই তার সবটুকু বলে ফেলেছে। সবটুকু। আসলেইতো, তুমুল ব্যস্ততার এই শহর, এই লোকে লোকারণ্য পথ-ঘাট, এই ভিড়ভাট্টার রোজকার দিন, প্রতিটি মুহূর্ত, তারপরও নিজেকে কী ভীষণ একা মনে হয় তার। কী ভীষণ নিঃসঙ্গ মনে হয়। মনে হয় কোনো এক বিচ্ছিন্ন জনমানবহীন দ্বীপের একাকী নির্বাসিত এক মানুষ সে। রাফির প্রতি তার রাগ হয়, অভিমান হয়, কষ্ট হয়। কিন্তু তারপরও একমাত্র রাফিই যেন তাকে বুঝতে পারে। মুনিয়ার সবসময়ই মনে হয়, সে নয়, বরং রাফিই আসলে তার চেয়ে বয়সে বছর কুড়ি বড়। না হলে একটা মানুষ তাকে এমন অকপটে কী করে পড়ে ফেলতে পারে! কী করে সে যা ভাবে, যা অনুভব করে. তার সবটুকু এক নিমিষেই অমন গড়গড় করে বলে দিতে পরে। মনে হয় রাফি যেন তার বুকের ভেতর ঢুকে বসে আছে। সে যেন মুহূর্তেই সব দেখতে পায়, সব বুঝতে পারে। মুনিয়া যেন রাফির কাছে টলটলা স্বচ্ছ জলের মতো উন্মুক্ত, স্পষ্ট।

    রাফি বলল, ‘আমার সাথে দেখা করবে না?’

    মুনিয়া বলল, ‘উহু।‘

    ‘কেন?’

    ‘আমারও কিছু ভাল্লাগছে না’, ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল মুনিয়া।

    ‘তাহলে বাইরে চলে এসো। আজ সারারাত রাস্তায় রাস্তায় হাঁটি।’

    ‘তারপর?’

    ‘তারপর শহরের দেয়ালে দেয়ালে লিখে দিই, আমাদের হারিয়ে যেতে দাও। নিভিয়ে দাও শহরের সকল আলো। তারপর মুছে ফেল তোমাদের হৃদয় কিংবা আমাদের শহরের দেয়ালে দেয়ালে থাকা সকল নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি।’

    মুনিয়া হাসল, ‘এত রাতে দেয়ালে লিখবে কী করে?’

    ‘কেন?’

    ‘রঙ-তুলি কোথায় পাবে?’

    রাফি যেন একটু থমকাল। তারপর বলল, ‘তুমি মুঠো ভরে লিপস্টিক নিয়ে নামো। টকটকে লাল লিপস্টিক। ওটা দিয়েই লিখে দেব।

    রাফির কথা শুনে মুনিয়ার খিলখিল করে হাসতে ইচ্ছে করছে। খুব খুশি হলে ঋদ্ধি যেমন হাসে, ঠিক তেমন। তুমুল হাওয়ায় এলোমেলো হয়ে যাওয়া ধানের ডগার মতো এলোমেলো হয়ে যেতে ইচ্ছে করছে তার। অমন করে হাসতে ইচ্ছে করছে। তারপর রাফির সাথে সারারাত শহরের পথে পথে ঘুরে বেড়াতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু কী করে তা করবে মুনিয়া? আবারো তার বুক চিড়ে বেরিয়ে এলো দীর্ঘ এক দীর্ঘশ্বাস। তারপর মিশে গেল শহুরে বাতাসে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআলথুসার – মাসরুর আরেফিন
    Next Article সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026
    Our Picks

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026

    শঙ্খচিল – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }