Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026

    শঙ্খচিল – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্ধবৃত্ত – সাদাত হোসাইন

    সাদাত হোসাইন এক পাতা গল্প480 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অর্ধবৃত্ত – ১৪

    ১৪

    শুক্রবার সকালে দেরি করে ঘুম ভাঙল মুনিয়ার। শেষ রাতের দিকে ভালো ঘুম হয়েছে তার। দীর্ঘ আড়মোড়া ভেঙে চোখ মেলে তাকাল সে। জাফর ঘরে নেই। হয়তো বাইরে কোথাও গিয়েছে। হাত-মুখ ধুয়ে এসে ধীরে সুস্থে সকালের খাবার খেল মুনিয়া। তারপর ফোনটা খুলল। অনেকগুলো মেসেজ এসেছে ফোনে। অবশ্য বেশির ভাগই বিভিন্ন কোম্পানির প্রোমোশনাল মেসেজ। আকাশটা খানিক মেঘলা আজ। আবহাওয়াও ঠাণ্ডা। একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বারান্দায় এলো সে। বাইরে শান্ত, স্নিগ্ধ এক আবহ। ছুটির দিন বলেই হয়তো রাস্তায় একদম লোক নেই। মুনিয়া রেলিংয়ের কাছে এসে দাঁড়াল। আর ঠিক সেই মুহূর্তে একটা লোক যেন চট করে দেয়ালের আড়ালে সরে গেল। ঠিক রাস্তার ওপাশে ফুটপাতে দাঁড়িয়েছিল লোকটা। পাশেই ভাঙা দেয়াল। মুনিয়ার চোখ কিংবা মনের ভুলও হতে পারে। কিন্তু তার কেন যেন মনে হলো, তাকে দেখেই লোকটা আড়ালে সরে গেল। আবার নাও হতে পারে। হয়তো এমনি এমনিই সে সরে গেছে। তারপরও মনের ভেতর কেমন একটা খচখচ করতে লাগল তার। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এলোমেলো নানা ভাবনা ভাবল সে। তারপর চেষ্টা করল বিষয়টা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলার। আজকাল শুধু শুধু উটকো চিন্তা মাথায় নিচ্ছে সে। এটাও বয়স বাড়ার লক্ষণ।

    আয়েশ করে চেয়ারে বসল মুনিয়া। এমনিতে সংবাদপত্র পড়ে না সে। কিন্তু আজ কী মনে করে খবরের কাগজটা হাতে নিয়ে বসল। অনেকদিন পর আলস্যে ভরপুর এক সকাল। প্রায় প্রতিদিনই খবরের কাগজে রফিকুল আলমের ঘটনার ফলোআপ সংবাদ আসছে। কিন্তু এখনো তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

    ফোনটা আবার হাতে নিল মুনিয়া। হাবিজাবি সব মেসেজের মধ্যে জাফরের একটা মেসেজও দেখা যাচ্ছে। সে লিখেছে, ‘রাতে তোমাকে জানাতে ভুলে গেছি। সকালে আমার চট্টগ্রামের ফ্লাইট ছিল। অফিসের জরুরি কাজ। কালই ফিরব।’

    মুনিয়া ধোঁয়া ওঠা চায়ের উষ্ণ কাপে আলতো করে ঠোঁট ছোয়ালো। তারপর ফোনে দুটো অক্ষর লিখে পাঠিয়ে দিল জাফরকে, ‘ওকে।’

    তারপর ফোন করল রাফিকে, ‘আজ ফ্রি আছো?’

    রাফি ঘুম জড়ানো গলায় বলল, ‘কখন?’

    ‘বিকেলে।’

    ‘কেন?’

    ‘জাফর ঢাকার বাইরে।’

    রাফি বলল, ‘আচ্ছা।’

    .

    মুনিয়ার অবশ্য বের হওয়া হলো না। বিকেলের দিকে হাফসা খুব অসুস্থ হয়ে পড়ল। আশফাককে অনেকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া গেল না। নাদিয়া এসে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, ‘মা কেমন করছে চাচি। বাবাও ফোন ধরছে না।’

    মুনিয়া তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সাজছিল। যত্ন করে কাজল পরছিল চোখে। সে নাদিয়ার দিকে না তাকিয়েই বলল, ‘কী হয়েছে?’

    ‘মা শ্বাস নিতে পারছে না। বুকের ভেতর কেমন ঘড়ঘড় শব্দ হচ্ছে।’

    ‘ইনজেকশন দিয়েছো?’

    ‘হ্যাঁ, কিন্তু কাজ হচ্ছে না।’

    মুনিয়া তখনো গুরুতর কিছু ভাবেনি। হাফসার মাঝেমধ্যেই এমন একটু আধটু হয়। সে ধীরে সুস্থে চোখে কাজল পরা শেষ করল। তারপর ওপর তলায় গেল। কিন্তু হাফসার অবস্থা দেখে ঘাবড়ে গেল মুনিয়া। হাফসাকে দেখে মনে হচ্ছে যেকোনো মুহূর্তে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। হাপড়ের মতো ওঠানামা করছে হাফসার বুক। চোখজোড়া যেন উল্টে বেরিয়ে আসতে চাইছে। মুনিয়া বার দুয়েক হাফসার সাথে কথা বলার চেষ্টা করল। কিন্তু পারল না। তাকে হাসপাতালে নেয়া হলো তার কিছুক্ষণ পরই। ডাক্তার অবশ্য চিন্তিত হবার মতো কিছু বললেন না। তবে দুটো দিন হাসপাতালেই রাখতে চাইলেন। মায়ের সাথে হাসপাতালে রয়ে গেল নাদিয়াও। সবকিছু গোছগাছ করে মুনিয়া বাড়ি ফিরল রাত দশটায়। তার ঘরের আলো নেভানো। দরজা বন্ধ। কিন্তু ভেজানো দরজা খুলে ঘরে ঢুকতেই অন্ধকার ঘরে কারো উপস্থিতি টের পেল মুনিয়া। বাইরের আবছা আলোয় বিছানায় উবু হয়ে শুয়ে থাকা অবয়বটা ঋদ্ধির তা বোঝা যাচ্ছে। এসময় এভাবে তার ঘরে কেন ঋদ্ধি?

    মুনিয়া বাতি জ্বালাল। ঋদ্ধি অবশ্য নড়ল না। যেভাবে শুয়ে ছিল, সেভাবেই শুয়ে রইলো। মুনিয়া বিছানায় এসে বসল। তারপর আলতো হাতে ঋদ্ধির মাথায় হাত বোলোতে বোলাতে বলল, ‘কী হয়েছে মা?’

    ঋদ্ধি কথা বলল না। পড়ে রইলো অনড়, অসাড়। মুনিয়া ঋদ্ধির এলোমেলো চুলগুলো গালের কাছ থেকে সরিয়ে দিতে দিতে বলল, ‘শরীর খারাপ করেছে?’

    ঋদ্ধি এবার ডানে বাঁয়ে মাথা নাড়লো, তার শরীর খারাপ করেনি।

    ‘তাহলে?’

    ঋদ্ধি কথা বলল না। মুনিয়া ঋদ্ধির পাশে কাত হয়ে শুয়ে পড়ল। তারপর এক হাত বাড়িয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘মন খারাপ?’

    ‘হুম।’ মৃদু মাথা নাড়ল ঋদ্ধি।

    ‘কী হয়েছে? মন খারাপ কেন?’

    ‘তোমার জন্য।’ ঋদ্ধির গলা ভাড়ী।

    আমার জন্য? আমার জন্য মন খারাপ কেন মা?’

    ঋদ্ধি আবার চুপ করে রইলো। মুনিয়া খানিকটা জোর করেই ঋদ্ধিকে তার দিকে ফেরাল। হঠাৎ চোখে আলো লাগায় ঋদ্ধি বার কয়েক কপাল কোঁচকাল তবে চোখ খুলল না। তার চোখের কোলে শুকিয়ে যাওয়া জলের দাগ। মুনিয়া আঁতকে ওঠা গলায় বলল, ‘কী হয়েছে মা?’

    ঋদ্ধি সাড়া দিল না। মুনিয়া এবার ঋদ্ধির গালে হাত রেখে ঝাঁকালো, ‘এই ঋদ্ধি। ঋদ্ধি? কী হয়েছে বলতো!’

    ঋদ্ধি চোখ মেলে মায়ের দিকে তাকাল। তারপর হাসতে চেষ্টা করল, ‘কিছু না মা।’

    ‘কিছু না মানে কী! বল।’

    সামান্য চুপ করে থেকে ঋদ্ধি বলল, ‘তুমি কেমন অন্যরকম হয়ে গেছো মা। ‘অন্যরকম মানে কী?’

    ‘আমাকে আর আগের মতো ভালোবাসো না।’

    ‘তোকে আর আগের মতো ভালোবাসি না?’

    ‘উহু।’

    ‘তাহলে কাকে ভালোবাসি?’

    ‘তাতো জানি না! তবে আমাকে বাসো না।’

    ‘কী করে বুঝলি?’

    ‘বোঝা যায়।’ ঋদ্ধি সামান্য থামল। তারপর মায়ের চোখে চোখ রেখে দৃঢ় কণ্ঠে বলল, ‘ভালোবাসলে যতটা বোঝা না যায়। ভালো না বাসলে তারচেয়েও বেশি বোঝা যায় মা।’

    ঋদ্ধির কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেল মুনিয়া। এভাবে কথা বলা কোথায় শিখেছে ঋদ্ধি? সে কথা বলছে পরিণত বয়সী মানুষের মতো। কতদিন তাকে ঠিকঠাক খেয়াল করে না মুনিয়া? মাত্র কদিনেই কী অনেকখানি বদলে গেছে সে! ঋদ্ধিকে অবশ্য তার এসব ভাবনা বুঝতে দিলনা মুনিয়া। বরং সে আদুরে গলায় বলল, ‘ওরে আমার পাকনা বুড়ি, আর কী কী বোঝা যায় শুনি?’

    মুনিয়া দু হাতে ঋদ্ধির মুখটা তার বুকের কাছে টেনে নিল। তারপর বলল, ‘এইসব কথা কোথায় শিখেছিস হ্যাঁ? বাসায় কী আজকাল খুব হিন্দি সিরিয়াল দেখিস? না বন্ধুদের কাছে শিখেছিস?’

    ঋদ্ধি হাসল, ‘কোথাও শিখিনি মা। আই ক্যান ফিল, না?’ সে গম্ভীর, স্থির। ‘আচ্ছা, কী কী করলে মনে হয় মা তোকে ভালোবাসে না?’

    ‘তাতো জানি না। কিন্তু বুঝতে পারি।’

    ‘উহু। তুই কিছুই বুঝছে পারিস না। মা তোকে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। সবচেয়ে বেশি।’

    ঋদ্ধিকে শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরে তার কপালে চুমু খেল মুনিয়া। তারপর চুলে বিলি কেটে দিতে লাগল। ঋদ্ধি বলল, ‘মা।’

    ‘হুম।

    ‘তুমি আর আগের মতো আমার সাথে কথা বলো না কেন? সময় দাও না কেন?’

    মুনিয়া খানিক চুপ করে থেকে বলল, ‘কে বলেছে সময় দিই না?’

    ‘দাও?’

    উত্তরটা দিতে গিয়েও থমকালো মুনিয়া। একটু সময় নিল যেন। তারপর বলল, ‘তুইতো জানিসই কীসব ঝামেলা যাচ্ছে আমার ওপর দিয়ে। স্কুলে অতবড় একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেল। নানা প্রেসার। একটু বুঝতে হবে না মা?’

    ‘আমিতো বুঝি মা। এজন্যইতো তোমাকে কখনো জ্বালাই না। কিন্তু আজ কেন যেন খুব মন খারাপ হয়ে গেল। মনে হলো, কতকাল তুমি আমার সাথে আর মায়ের মতো কথা বলো না। অন্য মানুষের মতো কথা বলো।’

    ঋদ্ধির এই কথাটুকুতে কী ছিল কে জানে! মুনিয়া আবারো ঋদ্ধির মাথাটা তার বুকের সাথে চেপে ধরল। ঋদ্ধি কাঁপা গলায় বলল, ‘আজতো বাবা নেই। আমি আজ রাতে তোমার সাথে ঘুমাই মা?’

    মুনিয়া কী বলবে ভেবে পেল না। আজ বিকেলে রাফির সাথে তার বের হবার কথা ছিল, কিন্তু পারল না। অথচ রাফি তার আর সব কাজ ফেলে মুনিয়ার অপেক্ষায় বসেছিল। মুনিয়ার সাথে তার জরুরি কিছু কথা আছে। যে কথাগুলো সে ফোনে বলতে চায় না। আবার অনেকদিন মুখোমুখি কথার সুযোগও হচ্ছে না তাদের।

    মুনিয়া অবশ্য হাফসার অবস্থা দেখে রাফিকে আর কিছু জানাতেও পারেনি। রাফি অপেক্ষা করতে করতে অধৈর্য হয়ে বারবার ফোন করেছে। কিন্তু ওই পরিস্থিতিতে সবার সামনে তার ফোনও ধরতে পারেনি মুনিয়া। বিরক্ত রাফি মেসেজের পর মেসেজও করেছে। মুনিয়া ভেবেছিল বাসায় ফিরে একবারে ফোন করবে। কত কাল সারারাত জেগে কথা হয়না রাফির সাথে। জাফর না থাকায় আজ সেই সুযোগটা হয়েছে। ফলে ছোট্ট করে মেসেজ লিখে রাফিকে তা জানিয়েও দিয়েছিল মুনিয়া। সে লিখেছিল, ‘ইন অ্যান ইমারজেন্সি সিচ্যুয়েশন। উইল টক টু ইউ এট নাইট ইন ডিটেলস।’

    বহুদিন পরে রাতভর নিশ্চিন্তে কথা বলতে পারবে ভেবে ভেতরে ভেতরে এক ধরনের উত্তেজনাও অনুভব করছিল মুনিয়া। কিন্তু এখন? এখন কী করবে সে?

    মুনিয়া যেন জোর করেই সামান্য হাসল। তারপর বলল, ‘অবশ্যই ঘুমাবি। কিন্তু রাতে যদি আমাকে বারবার হাসপাতাল থেকে ফোন করে, তখন বিরক্ত লাগবে না তোর?’

    তুমি আজ রাতে আর কারো ফোন ধরবে না। তাহলেইতো হলো মা। ‘কিন্তু তোর বড় চাচি যে হাসপাতালে। সেখানে তোর নাদিয়া আপু একা। যখন তখন আমাকে দরকার হতে পারে না?’

    ঋদ্ধি অবশ্য মায়ের কথা শুনল না। মুনিয়ারও আর জোর করতে ইচ্ছে করছে না। ঋদ্ধি এমন করে আগে কখনো বলেনি। বরং সে একা একা থাকতেই বেশি পছন্দ করে। মেয়েটার জন্য ভেতরে ভেতরে কেমন একটা অস্থিরতাও অনুভব করছে মুনিয়া। কিন্তু রাফিকে কী করে বোঝাবে সে? এখন ফোন করলেও রাফি বুঝতে চাইবে না। বরং চিৎকার-চেঁচামেচি করবে। একগুঁয়েমি দেখাবে। তারচেয়ে ভালো তাকে মেসেজ করে পরিস্থিতি জানিয়ে দেয়া। মুনিয়া দিলও। আজ রাতেও আর কথা বলা যাবে না। কাল ভোরে সে চেষ্টা করবে ফোন করতে। কিন্তু সে যা ভেবেছিল, তাই ঘটল। মেসেজ পাওয়ার সাথে সাথেই একনাগাড়ে ফোন করতে থাকল রাফি। মুনিয়া যতবার ফোন কেটে দিচ্ছে, ঠিক ততবারই আবার ফোন করছে রাফি। বিরক্ত মুনিয়া শেষ অবধি ফোন অফ করে রাখল।

    বিষয়টা অবশ্য চোখ এড়ায়নি ঋদ্ধির। সে বলল, ‘এতোবার কে ফোন করছিল মা? হাসপাতাল থেকে?’

    ‘উহু।’

    ‘হাসপাতাল থেকে হলে ধরো। আমার সমস্যা হবে না।’

    ‘নাহ, হাসপাতাল থেকে না। অপরিচিত উটকো নাম্বার। সমস্যা নেই, আমি ফোন অফ করে রেখেছি।’

    ঋদ্ধি চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল, ‘অফ করলে কেন? যদি হাসপাতাল থেকে নাদিয়াপু ফোন করে?

    মুনিয়া সামান্য থমকে গিয়ে বলল, ‘সমস্যা নেই। দিপু বা সেলিনার ফোনে ফোন করলেই হবে।

    ঋদ্ধি কিছুই বুঝল না। কিছুক্ষণ আগেই না মা নাদিয়াপুর ফোন নিয়ে এত দুশ্চিন্তা করছিল! অথচ এখন কীনা নিজ থেকেই বলছে অন্যদের ফোনে ফোন করবে। মাকে খুব চিন্তিতও দেখাচ্ছে। এই ব্যাপারগুলোই বেশ কিছুদিন থেকে খেয়াল করছে ঋদ্ধি। মা যেন কেমন অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে। এই যে অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে, তা হয়তো মা নিজেও বুঝতে পারছে না। কিন্তু ঋদ্ধির ধারণা সে ঠিক ঠিক বুঝতে পারছে।

    .

    সেই রাতটা বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শান্তি এবং তীব্র এক অস্থিরতা নিয়ে কাটল মুনিয়ার। ঋদ্ধিকে বুকের ভেতর জড়িয়ে রেখে কতকাল পর যে তার মনে হলো, সেই এতটুকু ইঁদুর ছানার মতো বাচ্চাটা তার চোখের সামনেই যে এত বড় হয়ে গেল, তা সে টেরই পায়নি! ঋদ্ধিকে এভাবে জড়িয়ে রাখতে কী যে ভালো লাগছে মুনিয়ার। মনে হচ্ছে, সারাক্ষণ বুকের ভেতর যে অথৈ শূন্যতা সে বয়ে বেড়ায়, সেই শূন্যতার সবটুকু যেন কানায় কানায় পরিপূর্ণ লাগছে আজ। কিন্তু রাফির বিষয়টাও মাথা থেকে তাড়াতে পারছে না মুনিয়া। নিশ্চয়ই সারাটা রাত একা একা জেগে থাকবে ছেলেটা। ছটফট করতে থাকবে। কে জানে, এত রাতে চলেও আসতে পারে সে। আপাদমস্তক পাগল এক ছেলে রাফি। কিন্তু আজ এই এত রাতে রাফিকে নিয়ে ভীষণ ভয়ও কাজ করছে তার। এখন যদি সে চলে আসে তবে ভয়াবহ বিপদ ঘটে যাবে। আপাতত বেশ কিছুদিন রাফিকে বাড়ির আশপাশে আসতে না করে দিয়েছে মুনিয়া। কারণ সে জানে, তার ঠিক নিচতলার বারান্দা কিংবা জানালার ফাঁকফোকড় দিয়ে একজোড়া চোখ নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকে রাস্তায়। সেই চোখ জোড়া সেলিনার। কিংবা তার শাশুড়ি মছিদা বেগমের। এই এতরাতে রাফি চলে এলে যে ভয়ানক বিপদ

    রাফি অবশ্য সেই রাতে এলো না। সে এলো পরদিন সকালে। শনিবারও সরকারি কী এক ছুটির কারণে স্কুল বন্ধ। ফলে ভোরে ঘুম থেকে ওঠার তাড়া ছিল না মুনিয়ার। শেষ রাতের দিকে ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসছিল তার। সে ঘুম থেকে উঠল বেলা করে। ঋদ্ধি ততক্ষণে তার ঘরে গিয়ে পড়তে বসেছে। মুনিয়া হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নিচে নাশতার টেবিলে গিয়ে বসল। সেখানে দিপু নাশতা করছে। তবে দিপুকে দেখার মতো অবস্থা আর রইলো না মুনিয়ার। সে ভূত দেখার মতো চমকে উঠল। দিপুর পাশের চেয়ারটাতে বজ্রাহতের মতো তাকিয়ে রইলো মুনিয়া। সেখানে নির্বিকার ভঙ্গিতে নাশতা করছে রাফি। মুনিয়াকে দেখে সে উঠে দাঁড়াল। তারপর বিনীত ভঙ্গিতে বলল, ‘স্লামালিকুম ভাবি, কেমন আছেন?’

    মুনিয়া কী বলবে ভেবে পাচ্ছিল না। এখানে এই অবস্থায় রাফিকে দেখবে, এটা সে ভাবেনি। খারাপ কোনো কিছু ঘটেনিতো! না হলে অন্তত এই পরিস্থিতিতে এতটা বেপরোয়া হওয়ার কথা না রাফির। মুনিয়া জানে রাফি আর দিপু বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ব্যাচের ছাত্র। কিন্তু বিভাগ আলাদা হওয়ায় খুব একটা যোগাযোগ নেই তাদের। ঋদ্ধি আর রথির বন্ধুত্বের সূত্রেই মূলত যতটুকু জানাশোনা, ঘনিষ্ঠতা দুজনের। কিন্তু এর আগে কখনো এ বাড়িতে আসেনি রাফি। গতকাল সন্ধ্যা থেকে সেই অর্থে যোগাযোগ হয়নি রাফির সাথে তার। কিন্তু তাই বলে এভাবে বাড়ি চলে আসবে সে? অজানা আশঙ্কায় বুক কাঁপতে লাগল মুনিয়ার। সে যতটা সম্ভব নিজেকে সামলে নিয়ে সালামের জবাব দিল। তারপর অপ্রস্তুত হাসি হেসে বলল, ‘তুমি কেমন আছো?’

    ‘জি ভালো।’

    চেয়ারে বসতে বসতে মুনিয়া বলল, ‘এত সকালে, কী খবর?’

    ‘দিপুর কাছে হঠাৎ জরুরি একটা দরকার পড়ে গিয়েছিল ভাবি।’

    ‘আচ্ছা। রথির কী খবর? ওর পড়াশোনা কেমন চলছে?’ যতটা সম্ভব স্বাভাবিক

    থাকার চেষ্টা করছে মুনিয়া।

    রাফি মৃদু হাসল, ‘ওর পড়াশোনার খবরতো ভাবি আপনার কাছে।’

    মুনিয়াও হাসার চেষ্টা করল, ‘আসল পড়াশোনাটা কিন্তু স্কুলে নয় রাফি, ওটা বাড়িতেই। বাড়িতে পড়াশোনাটা ঠিকঠাক না হলে সমস্যা।’

    ‘জি ভাবি।’

    ‘তুমি আজ সব কথায় এত ভাবি ভাবি করছো কেন?’

    রাফি যেন একটু সপ্রতিভ হলো, ‘ম্যাডাম বলব তাহলে? রথিও অবশ্য আপনাকে তা-ই বলে।’

    মুনিয়া আর এ কথার জবাব দিল না। তার প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে। এ কেমন কান্ডজ্ঞানহীনের মতো কাজ করল রাফি! এই পরিস্থিতিতে কেউ সরাসরি বাড়ি চলে আসে? এত করে সবকিছু বুঝিয়ে বলার পরও? কোনো সমস্যা নয়তো?

    মুনিয়া খাওয়া শেষ করে দোতলায় উঠে গেল। তার খুবই বিরক্ত লাগছে। একবার ভাবল ঘরে এসে রাফিকে ফোন করে। কিন্তু পরক্ষণেই সেই চিন্তা বাদ দিল সে। রাফির আশপাশে নিশ্চয়ই দিপুও আছে। সে থম মেরে বসে রইলো অনেকক্ষণ। আর সেই মুহূর্তে ঘরে ঢুকল ঋদ্ধি। ঋদ্ধিকে দেখে আরেক দফা চমকে গেল মুনিয়া। নিজে নিজে চোখে কাজল পরার চেষ্টা করেছে ঋদ্ধি। কিন্তু আগে কখনো একা একা পরেনি বলে অনভ্যস্ত হাতের কাজটা ঠিকঠাক হয়নি। চোখ ছাড়িয়ে নেমে যাওয়া কাজলটুকু কিছু দিয়ে মুছে ঠিক করতে গিয়ে আরো লেপ্টে ফেলেছে সে। মুখে কি সামান্য প্রসাধনীও মেখেছে?

    ঋদ্ধির চোখ মুখ ঝলমল করছে চাপা আনন্দে। তার হাতে একখানা নোটবুক আর কলম। সে সেই নোটবুক খানা টেবিলের ওপর রাখতে রাখতে উচ্ছ্বসিত গলায় বলল, ‘মা, শুনেছো? রাফি ভাইয়া আমাদের বাসায় এসেছে?’

    মুনিয়া নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে মেয়ের দিকে তাকাল, ‘হ্যাঁ, শুনেছি।’

    ‘এই প্রথম আমাদের বাসায় এলো, না?’

    ‘কী জানি!’

    ‘দেখা করবে না তুমি?’

    ‘দেখা করার কী আছে? ও তো প্রায়ই রথিকে নিতে স্কুলে আসে।’

    ‘কিন্তু বাসায়তো আর আসে না। চলো না মা।’

    ‘উহু।’

    ‘কেন?’

    ‘আমার মাথাটা খুব ধরেছে।’

    ‘ওহ!’ এতক্ষণে যেন মায়ের প্রতি খেয়াল হলো ঋদ্ধির। সে মুনিয়ার পাশে এসে বসল। তারপর কপালে হাত রেখে বলল, ‘তোমার গা-টাও কিন্তু একটু গরম মা। জ্বর আসবেনাতো?’

    মুনিয়া এই প্রশ্নের উত্তর দিল না। সে গম্ভীর কণ্ঠে বলল, ‘তুই এমন সেজেগুজে কই যাচ্ছিস?’

    ঋদ্ধি ভারি লজ্জা পেল। সে কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে বলল, ‘নিচে।‘

    ‘কেন?’

    ‘রাফি ভাইয়া এলো যে!’

    ‘তাতে কী?’

    ঋদ্ধি খানিক চুপ করে থেকে বলল, ‘একটা কবিতা লিখে দিতে বলব।’

    ‘একবার না দিল?’

    ‘হুম।’

    ‘তাহলে আবার কী?’

    ঋদ্ধি এবার আর সাথে সাথে জবাব দিল না। চুপ করে রইলো দীর্ঘ সময়। তারপর আচমকাই বলল, ‘স্কুল ফাংশানে সেবার তোমাকে যেমন কবিতা লিখে দিয়েছিল, আমাকে অমন একটা কবিতা লিখে দিতে বলবে?’

    মুনিয়া জবাব দিল না। ঋদ্ধি করুণ গলায় বলল, ‘প্লিজ মা, প্লিজ।’

    মুনিয়া কী বলবে ভেবে পেল না। সে জানালা দিয়ে তাকিয়ে রইলো বাইরে। বাইরে ঝলমলে রোদ উঠেছে। সেই রোদে তার চোখ জ্বালা করছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআলথুসার – মাসরুর আরেফিন
    Next Article সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026
    Our Picks

    কসবি – হরিশংকর জলদাস

    August 11, 2026

    শঙ্খচিল – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }