Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মৌর্য – আবুল কাসেম

    লেখক এক পাতা গল্প894 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মৌর্য – ১০৯

    ১০৯

    তৃতীয় দিনে হেলেনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার চূড়ান্ত অনুষ্ঠান শুরু হবে শোভাযাত্রার (শবযাত্রা) মধ্য দিয়ে। একটি উন্মুক্ত শকটে হেলেনের মমিপ্রতিম মরদেহ রাখা হয়েছে। চারটি ঘোড়া তা টেনে নিয়ে যাবে। দিদাইমেইয়া কালো ঢোলাঢিলা একটি গাউন পরিধান করে বংশদণ্ড হাতে নিয়ে শকটের সামনে থেকে এ শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন। তার আগে তাঁকে একগুচ্ছ চুল, যাতে মধু, দুধ, জল, মদ, সুগন্ধি ও তৈলমিশ্রিত করে উৎসর্গ করতে হয়েছে। ফাওলিনের বাবা সে বস্তু সামনে নিয়ে প্রার্থনা করেছেন এবং মেগাস্থিনিস তাঁকে সহায়তা করেছেন। অতঃপর এঁরা, অর্থাৎ ফাওলিনের বাবা, কিউকেকাস, নিকোমেডেস, মেগাস্থিনিস, বিন্দুসার ও সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত শকটের চারপাশে অবস্থান নিয়েছেন। দিদাইমেইয়ার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়েছেন লাউডিস, স্ট্রেটোনিস, ফাওলিন ও হারমিজ। সবাই ঢোলা কালো বস্ত্র পরিহিত। তাঁদের পেছনে কালো বস্ত্র পরিহিত নিখিল, চীনা শিল্পী ও রাবণহাথার শিল্পী। তাদের পেছনে উৎসর্গের পণ্যবোঝাই চিত্রিত পটরাজি বয়ে নিয়ে যাচ্ছে কেউ কেউ। তাদের পেছনে মন্ত্রী, আচার্য, মহাপাত্র, অমাত্য, রাজকর্মচারী, প্রজাসাধারণ, অসংখ্য ও অগণিত। রাস্তার দুপাশে শান্তিরক্ষী ও সেনাসদস্যরা লম্বা সারিতে দাঁড়িয়ে আছে, হাতে তাদের নানা দেবাস্ত্র। দিদাইমেইয়ার বংশদণ্ডের ইঙ্গিতে শবযাত্রা শুরু হবে। শুরু হলো নিখিলদের বাঁশিতে স্তবগানের সুর। ঠিক এ সময় বহুদূর থেকে কালো বস্ত্র পরিহিত এক মধ্যবয়সী নারী চিৎকার করতে করতে ছুটে এলেন। বলছেন ভুল হয়ে গেছে। থামো তোমরা, থামো। কাছে আসতেই শান্তিরক্ষীরা আটকে ফেলেছে তাকে। জবরদস্তিতে ধস্তাধস্তি হচ্ছে। সম্রাটের চোখ গেল সেদিকে। তিনি দৃঢ় পায়ে এগিয়ে গেলেন। দেখে চিনতে কষ্ট হলো না, এ নারী রাক্ষসপত্নী সর্বাণী। গতকাল কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

    সম্রাট বললেন, কী বলতে চাও তুমি?

    আমার ঋণ শোধ করতে চাই।

    কী ঋণ?

    দেখাচ্ছি সম্রাট, বলে সঙ্গে আনা পুঁটলি থেকে বের করলেন স্বর্ণ, হীরা, মণিমুক্তার সব গয়না এবং মমিসদৃশ মরদেহে (কালো বস্ত্রে) একে একে গেঁথে দিতে লাগলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মরদেহ দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠল। অলংকার সজ্জিত দেহ রোদে ঝলমল করতে শুরু করল। কাজ শেষে সর্বাণী প্রজাদের কাতারে চলে এলেন, সম্রাট ফিরে গেলেন তাঁর পূর্বস্থানে। বিউগলের সুরে এবার শবযাত্রা আবার শুরু হলো।

    নিখিলের বাঁশির করুণ সুর মহানীরবতার সঙ্গে জীবনের সর্বশেষ ঠিকানায় পৌঁছে দিল সম্রাজ্ঞী হেলেনকে। সেখানে প্রস্তুত ছিল সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল। সম্রাজ্ঞীকে এরা স্যালুটের মাধ্যমে শেষ বিদায় জানাল। এখানেই সম্রাট তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ভাষণ দিলেন। বললেন, মৌর্য সাম্রাজ্যের অধিবাসীগণ শোনো, এক নারী, যাকে তোমরা যবন বলতে, তার শেষ বিদায় কত গৌরবজনক। তোমরা কত শোক নিয়ে তার শেষযাত্রায় অংশ গ্রহণ করেছ। মানুষের পরিচয় দেশ, বংশ, ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজকীয় কোনো খেতাব নয়, কর্মে। কর্ম দিয়ে সব কিছু জয় করতে হয়, এ শিক্ষাই দিয়ে গেছেন হেলেন।

    এই হেলেন আমার মতোই এক দুঃখী সন্তান, মা যাকে ছেড়ে চলে গেছে। এই হেলেন আমার মতোই রাজার সন্তান কিন্তু রাজকীয় শৈশব, কৈশোর, যৌবন যাদের উপভোগের ছিল না, ছিল দুঃখ-কষ্ট আর গ্লানি বয়ে বেড়ানোর যন্ত্রণা। এই হেলেন যুদ্ধে পরাজিত বন্দী কোনো রাজনন্দিনী নয়, আমার ভালোবাসা, আমার আরাধনা, আমার প্রেম।

    হেলেন, তুমি আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেছ দেবতা হেইডেস ও পার্সিফেনির সাম্রাজ্যে। এ এক গোপন দেশ, যেখান থেকে কেউ ফিরে এসে বলে না, সে কেমন আছে। আমাকে ছেড়ে গেছ যাও, কিন্তু বিন্দুসার, সে একজন মা পেয়েছিল, তাকে মাতৃশূন্য করলে। এই যে এত আয়োজন, আমি তার কিছুই করি নি, বিন্দুসার তার মায়ের জন্য করেছে। আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসা দিতে জন্মেছিলাম, এত বড় সাম্রাজ্যের সম্রাট আমি অনেক কিছুই দিতে পারতাম, পাছে ভালোবাসা ছোট হয়, তাই এর প্রতিদ্বন্দ্বী কাউকে দাঁড় করাই নি বস্তুগত কিছু উৎসর্গ করে।

    হেলেন, তুমি অভিমান করে আমাকে একা ফেলে চলে গেছ, আমি যুদ্ধযাত্রাকালে তোমার কথা মেনে বিন্দুসারের পরামর্শ গ্রহণ করি নি, এ জন্য? প্রমিলাকে ছেড়ে মেঘনাদ গেছেন, হেক্টরপত্নীকে ফেলে হেক্টর গেছেন। সবাই ফেরাতে চেয়েছিল, কিন্তু কেউ পারে নি। তোমাকে ও ফেরাতে পারব না জানি। আমিই যাব। সেদিন হয়তো দেবতা হেইডেস ও পার্সিফেনি আমাদের ভালোবাসায় ঈর্ষান্বিত হবে। জগতের মানুষ যখন তা জানবে, দেবতাদের আরও পরিহাস করবে। তুমি আর আমিই হব মানুষের ভালোবাসার শক্তি। ভালো থেকো তুমি। বিদায়। হেলেন বিদায়।

    প্রশস্ত একটি কবরে শুইয়ে দেওয়া হলো হেলেনকে। উৎসর্গ করা বস্তুসমূহের পটগুলোকে একে একে সাজিয়ে বসিয়ে দেওয়া হলো চারপাশে। আগামেমননের মুখোশের মতো হেলেনের সম্রাজ্ঞী মুকুটটা শোভা পেল পেছনের দেয়ালটায়। স্টেলস শোটা রাখা হলো তার নিচেই। মরদেহ ঢেকে দেওয়ার কাজটা শুরু করতেই পাটালিপুত্রের নাগরিকদের মধ্য থেকে একজন এগিয়ে এসে বললেন, সম্রাট, অনুমতি দিন, আমাদেরও কিছু দেওয়ার আছে। এঁরা সোনাদানায় ভরিয়ে দিলেন হেলেনের সমাধি। এগুলো সম্রাজ্ঞীর প্রতি তাঁদের ভালোবাসার নিদর্শন হয়ে থাকল। তা দেখে দিদাইমেইয়া চোখ মুছলেন। তাঁর মনে প্রশ্ন, কর্নি এখানে এত জনপ্রিয়? মেগাস্থিনিস অবাক হয়ে ভাবলেন, এত কিছু দিতে পারে ভারতীয়রা। তাহলে কি শর্মিলা তাঁর সঙ্গে মিথ্যে অভিনয় করছে? তার হৃদয়েও ভালোবাসা আছে? মেঘনাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া থেকে ফিরে যাওয়ার দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। বলেছিলেন, বিজয়া দশমীর দিনে দেবীকে বিসর্জন দিয়ে যেন ফিরে যাচ্ছে রাক্ষসেরা। হেলেনকে সমাধিস্থ করে যাওয়া চন্দ্রগুপ্তদের চেহারা দেখলে সে দৃশ্যই মনে পড়বে।

    অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া থেকে ফিরে গিয়ে একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। আচার্য ভদ্ৰবাহুকে আসতে অনুরোধ করলেন। আচার্য এলে বললেন, আচার্য, মনটা বড় বিধ্বস্ত, না হয় আমিই যেতাম আপনার কাছে, বলে থামলেন তিনি।

    আচার্য ভাবলেন, তাঁকে হয়তো দাক্ষিণাত্যে না যেতে অনুরোধ করবেন সম্রাট। কিন্তু তাঁকে অবাক করে দিয়ে যা বললেন, তাতে তাঁর কানকে বিশ্বাস করতে পারলেন না ভদ্রবাহু!

    আচার্য বললেন, এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও একটু ভেবে নাও, চন্দ্র।

    চন্দ্রগুপ্ত বললেন, আমি ভেবেছি, আচার্য, ভেবেচিন্তেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপনি এখনই এ কথা কাউকে বলার দরকার নেই। আমি আগে অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করব।

    তারপরও তোমাকে ভাবতে বলব, চন্দ্র, বলে উঠে গেলেন আচার্য I

    আচার্যের চলে যাওয়ার পর চন্দ্রগুপ্ত দুদিন কারও সঙ্গে দেখা দিলেন না, কথাও বললেন না। শুধু হেলেনের কথা ভাবলেন। কত স্মৃতি তাঁর। আনন্দ-বেদনার স্মৃতি। রাতে একটি স্বপ্ন দেখলেন। হেলেন একেবারে সাদা ধবধবে পোশাকে হাজির হয়েছেন। চন্দ্রগুপ্ত রাজকার্য করছিলেন। এসে চন্দ্রগুপ্তের আসনের হাতলে বসলেন। চন্দ্রগুপ্তের কাঁধে হাত রেখে বললেন, প্রজাদের জন্য এত কাজ করেন, সম্রাট!

    তবু তো তোমার সমান জনপ্রিয় হতে পারলাম না।

    ঈর্ষা হচ্ছে?

    হওয়ারই তো কথা।

    চলুন বারান্দায় যাই।

    রাজপ্রাসাদের বারান্দা অনেক প্রশস্ত। স্বর্গীয় একটা অবস্থা যেন বিরাজ করছে। বারান্দায় যাওয়ার দরজায় বড় বড় পর্দাগুলো দুলছে। কেমন মায়াবী মায়াবী মনে হয়। বারান্দায় গিয়ে হেলেন বললেন, চলুন আকাশে উড়ি।

    চন্দ্রগুপ্ত বললেন, আমাদের তো পাখা নেই, কীভাবে উড়ব?

    এখানে উড়তে পাখার প্রয়োজন হয় না। আসুন, আসুন, আমার সঙ্গে আসুন, বলে হেলেন উড়ে গেলেন।

    চন্দ্রগুপ্ত উড়তে গিয়ে ধপ করে মাটিতে পড়ে গেলেন। তাঁর ঘুম ভেঙে গেল। অন্য সময় হলে আচার্য ভদ্রবাহুর কাছ থেকে এ স্বপ্নের মর্ম জানতে চাইতেন। এখন তাঁর স্বপ্নের মর্ম সম্পর্কে কোনো আগ্রহ নেই। বিছানায় উঠে বসে মনে হলো এ স্বপ্নটা তিনি আরও কিছুক্ষণ দেখতে চেয়েছিলেন এবং না উড়তে চাইলে হয়তো আরও কিছুক্ষণ দেখা যেত। একটা নির্লিপ্ত মনোভাব তাঁর মধ্যে তৈরি হয়েছে। বিছানায় তিনি বসেই রইলেন।

    .

    বিন্দুসার, চাণক্য ও সুবন্ধু একত্রে বসে সাম্রাজ্যের বিষয়ে কথা বলছেন। সম্রাটের নির্লিপ্ততা এবং সাম্রাজ্যের কাজে সক্রিয়তার অভাবে কী ক্ষতি হচ্ছে, চাণক্য তা বুঝিয়ে বলছেন।

    কৌটিল্য রাজার সব দুরাবস্থা সম্পর্কে উত্তরণের সব পথ বাতলেছেন, বিষণ্ণতা বা মানসিক বিপর্যয় ছাড়া। এটিও রাজার রাজ্য পরিচালনার জন্য বড় বাধা, বললেন বিন্দুসার।

    চাণক্য ভেবে দেখলেন, কথাটা ঠিক। ব্যাপারটা তাঁর মনেই আসে নি। কিন্তু এ কম বয়সী যুবরাজের কাছে তিনি প্রথমেই হেরে যেতে চান না। বললেন, আছে যুবরাজ, একটু অন্যভাবে আছে। রাজার মন্ত্রণার (কাউন্সেলিং) কথা বলা আছে।

    তা পর্যাপ্ত নয়, দৃঢ়ভাবেই বললেন যুবরাজ। যুবরাজের দৃঢ়তা দেখে সুবন্ধু হাসলেন।

    চাণক্যের তাতে গোসসা উৎপন্ন হলো। প্রায় ধমকের সুরেই বললেন, হাসি থামাও মূর্খ। এ দুঃসময়েও তোমার মুখে হাসি। কোনো কাজ তোমাকে দিয়ে হয় না। যুবরাজ ছেলেমানুষ, তুমি সম্রাটকে সম্রাজ্ঞীর অসুস্থতার কথা জানাও নাই কেন? এর জন্য তোমাকেই মূল্য দিতে হবে।

    যুবরাজ বললেন, আচার্য, কথাটা বেশি শক্ত হয়ে গেল না? এসব বলার কিংবা বিচার- বিশ্লেষণ করার অনেক সময় পড়ে আছে।

    আমার মাথাটা ঠিক নেই, যুবরাজ, সাম্রাজ্যের এ সংকটের দিনে অস্থির হয়ে আছি।

    তাঁদের অবাক করে দিয়ে সম্রাট দরবারকক্ষে উপস্থিত হলেন। তাঁকে মোটেও বিমর্ষ কিংবা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে হচ্ছে না। তিনি অপরাপর অমাত্যদেরও ডাকলেন। যুবরাজ, মন্ত্রী, অমাত্য ও রাজন্যবর্গের উদ্দেশে বললেন, কয়েকটি আবশ্যকীয় কাজ আমাদের করতে হবে। নকশা অনুযায়ী সম্রাজ্ঞীর সমাধিসৌধ নির্মাণের কাজ শেষ করতে হবে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর গ্রিক রীতিতে একটি ভোজ দেওয়ার অনুশাসন রয়েছে। তার আগে দিদাইমেইয়ার সঙ্গে আলোচনা করে নেবেন। সেখানে যাতে মেগাস্থিনিসও থাকেন। সেলুসিয়ায় সম্রাটের বদল হয়েছে, নতুন সম্রাট সম্পর্ক রাখতে চাইলে এবং তা সম্মানজনক হলে তা বিবেচনা করতে হবে। মেগাস্থিনিস এখানে থেকে যেতে চাইলে তাকে আশ্রয় দিতে হবে। দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে যুবরাজ যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা যথাযথ ও পর্যাপ্ত। সব অধ্যক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ককে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হোক। অমাত্যগণ দুর্ভিক্ষকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে।

    অন্ধ্রে মৌর্য শাসন জারি থাকবে, তবে সেখানকার প্রজাদের কোনো কর দিতে হবে না। ব্যবসায়িক কর হবে সামান্য। সেখানকার যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত প্রজাগণ কেন্দ্রীয় কোষাগার থেকে আর্থিক অনুদান লাভ করবে। অমরাবতীর ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাজকোষ থেকে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। দুর্ভিক্ষ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্গত এলাকায় কোনো কর আদায় করা যাবে না। অন্যত্র নতুন কর ধার্য নিষিদ্ধ। সম্রাজ্ঞী বাৎসরিক সম্মানী বাবদ যে আটচল্লিশ হাজার পণ পেতেন, তা অব্যাহত থাকবে এবং এ অর্থ এখানে অবস্থানকারী তাঁর আত্মীয়স্বজন ভোগ করবেন। এঁরা পাটালিপুত্রে থাকতে চাইলে রাজকীয় সম্মানে থাকার বন্দোবস্ত করতে হবে। আমার অবর্তমানে যুবরাজের সাম্রাজ্য পরিচালনার সম্পূর্ণ এখতিয়ার থাকবে। সুবন্ধুকে সাম্রাজ্যের পূর্ণ মন্ত্রী করা হলো। সে যুবরাজের ব্যক্তিগত মন্ত্রক হিসেবেও কাজ করবে। মহামন্ত্রী আগের মতোই তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন। আদেশগুলো লেখা ছিল। হাতের অঙ্গুরি দিয়ে সিলমোহর করে দিলেন এবং কাউকে কোনো প্রকার প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়েই সম্রাট নিজের কক্ষে চলে গেলেন।

    চাণক্য স্তম্ভিত হয়ে বসে রইলেন। তাঁর অনেক কথাই বলার ছিল। অমরাবতীতে একজন মহা অমাত্যের প্রয়োজন। ভেবে রেখেছিলেন সুবন্ধুকে সেখানে পাঠিয়ে দেবেন। বলার ছিল মেগাস্থিনিসের এখানে আর কী প্রয়োজন। আচার্য ভদ্রবাহুকেই বা কেন দাক্ষিণাত্যে যেতে হবে। আর যা শুনলেন, তাতে নিজের কানকে বিশ্বাস হচ্ছে না, সম্রাটের অবর্তমানে যুবরাজ সাম্রাজ্য পরিচালনা করবে, তাহলে সম্রাট কোথায় যাচ্ছেন, কত দিনের জন্য যাচ্ছেন, নাকি প্রাসাদে স্বেচ্ছায় অন্তরীণ হয়ে থাকবেন। সুবন্ধুর নির্বাসনের পরিবর্তে পদোন্নতি হয়ে গেল। সম্রাট একটু জিজ্ঞেসও করলেন না। ভাবলেন, তাঁরও ভুল আছে। কেন পথে তিনি সম্রাটের সঙ্গে নাটক করতে গেলেন, অমরাবতী দখল কি খুব জরুরি ছিল? এতগুলো হত্যাকাণ্ড ঘটে গেল তাঁরই জন্য। নিজেই আবার তাঁর পক্ষে যুক্তি দাঁড় করালেন। তিনি ভুল কোনটি করেছেন? সম্রাটকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এ বিশাল সাম্রাজ্যের প্রয়োজনেই। সেদিন নাটক না করলে অনাহারে সম্রাটের মৃত্যু হতে পারত। মৌর্য সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি দক্ষিণে সমুদ্র পর্যন্ত হবে না কেন? এ সাম্রাজ্যের গৌরবের জন্য অমরাবতীর দখল অপরিহার্য ছিল। যুদ্ধে মানুষের মৃত্যু হবে, এ আর নতুন কী। সৈন্যদেরও তো অর্থকড়ির প্রয়োজন আছে, গ্রিকদের কাছ থেকে কাঁচকলাটাও পায় নি। যা করেছি, ঠিক করেছি। কিন্তু সম্রাট যাচ্ছেন কোথায়, কত দিনের জন্য যাচ্ছেন?

    .

    সুলভদ্র, বিশাখা, শর্মিলা এবং অপরাপর গুরুত্বপূর্ণ জৈন সন্ন্যাসীদের নিয়ে বসেছেন আচার্য ভদ্রবাহু। সুলভদ্র, থাকতে চাইছ, এখানেই থাকো, বললেন তিনি। সাম্রাজ্যের একটা কঠিন সময়ে আমরা পাটালিপুত্র ছেড়ে যাচ্ছি। স্থুলভদ্র, এখন তোমার দায়িত্ব অনেক। এখানে সম্রাটের ধর্মীয় পরামর্শদাতা থাকবে তুমি। ধর্মাচার্য হিসেবে যে আটচল্লিশ হাজার পণ আমি পাচ্ছি, এগুলো ধর্মের কাজে ব্যবহার করেছি। এগুলো ব্যক্তিগত, চাইলে তুমি নিজের জন্য ব্যয় করতে পারো। আমি শুনেছি তুমি শ্বেতাম্বর সম্প্রদায় সৃষ্টি করতে চাচ্ছ, এতে আমার আপত্তি নেই, তা তোমার ব্যাপার। বিশাখা এখানে থাকছে। সে দিগম্বর সম্প্রদায়ের হয়েই থাকবে বলে জানিয়েছে। এ বিভক্তিটা কোন পথে নিয়ে যাবে জৈনধর্মকে, তা বলা শক্ত। তা যা-ই হোক, তোমাদের সঙ্গে আমার আশীর্বাদ থাকবে।

    বিশাখা বললেন, আচার্য, আমি আপনার পথই অনুসরণ করব। ঝড়-তুফান উপেক্ষা করেই করব। আপনার আদর্শের জন্য আমি জীবনও দিতে পারি।

    বিশাখা, আবেগের কথাটা বলো না। আমরা যে ধর্ম পালন করি, তা যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত।

    সুলভদ্র বললেন, আচার্য, শ্বেতাম্বরের ধারণা জৈন্যধর্মের মূল বিষয়গুলোকে প্রভাবিত করে না। ভারতীয় অন্য ধর্মগুলো এই ধারণাকে ধর্মসংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। মূল জৈনধর্মের কিছুই পরিবর্তিত হচ্ছে না।

    আমি তো বলেছি, সে স্বাধীনতা ধর্ম তোমাকে দিয়েছে। পালন কিংবা পালন না করা যার যার অভিরুচি। শর্মিলা আমার সঙ্গেই যাচ্ছে।

    .

    দিদাইমেইয়ারা সবাই বসেছেন। গ্রিক রীতির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রতিপালনে এঁরা সম্রাট ও যুবরাজের ওপর খুবই সন্তুষ্ট। লাউডিস বললেন, সবকিছু সুন্দর মতো হয়েছে। কর্নির ভাগ্যই বলতে হবে। এই ভারতবর্ষে সে এত বড় সম্মান পেল, ভাবা যায়? মাঝখানে শুধু সর্বাণী সমস্যা করল, সে তো আগে বা পরেও তা করতে পারত। আর কেনই-বা করল? দিদাইমেইয়া বললেন, আমি ঘটনা জানি এবং তিনি সে ঘটনা বর্ণনা করলেন। পরে বললেন, হেলেন তাকে যথাযথ মর্যাদা দিতে সম্রাটকে অনুরোধ করেছিল। কারাগারে সে শান্তি ও নিরাপদে ছিল, না হয় তার জীবন বিপন্ন হতে পারত। তার কৃতজ্ঞতাবোধ এবং ঋণ পরিশোধের ধরনের প্রশংসাই করতে হয়। আর শুধু সর্বাণী কেন, সব প্রজাসাধারণের কথা ভাবো, কী উৎসর্গ করে নি এরা। এতে শুধু হেলেন নয়, আমরাও সম্মানিত হয়েছি।

    কিউকেকাস বললেন, আমিও সম্মানিতবোধ করছি। তবে এ সম্মান নিয়ে আমি গ্রিসে চলে যাওয়ার পক্ষপাতী। কিন্তু পিসি, নিকো, ফাওলিনরা কি আমাদের সঙ্গে যাবে, বললেন লাউডিস। কেন যাবেন না? আমি তো তোমাদের সবার দায়িত্ব নিতে চাই।

    এ সময় যুবরাজ এসে উপস্থিত হলেন। সবাই উঠে তাঁকে স্বাগত জানালেন। দিদাইমেইয়া বললেন, আমরা খুবই সন্তুষ্ট বিন্দুসার, তোমার এত বড় আয়োজনে।

    ধন্যবাদ আপনাদের।

    ধন্যবাদ তো তোমাকে দিতে হবে।

    আপনারা কিছু বলছিলেন, আমি এসে বিঘ্ন সৃষ্টি করি নি তো?

    না না, আপনি আসাতে ভালো হয়েছে, বললেন ফাওলিনের বাবা। আমরা এখন গ্রিসে যাওয়ার কথা ভাবছি।

    আপনারা গ্রিসে যেতেই পারেন। তবে সম্রাট একটা আদেশ জারি করেছেন, আপনারা এখানে সসম্মানে বসবাস করতে পারবেন। সে জন্য চল্লিশ হাজার পণ প্রতিবছর আপনাদের প্রদান করা হবে। এটা দান বা অনুদান নয়, মা সম্মানী হিসেবে এ টাকাটা পেতেন। এখানে আপনারা রাজকীয় মর্যাদায় থাকবেন।

    দিদাইমেইয়া বললেন, এ নিয়ে তো আমাদের ভাবতে হবে, যুবরাজ।

    অবশ্যই, ভেবেচিন্তেই আপনারা সিদ্ধান্ত নেবেন। আরেকটা কথা, গ্রিক রীতিমতে একটা ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। তাতে আপনাদের অংশগ্রহণ করতে হবে, সম্রাটের এ ইচ্ছে।

    দিদাইমেইয়া বললেন, অবশ্যই।

    যুবরাজ চলে গেলে নিকোমেডেস বলল, যুবরাজ খুবই আন্তরিক, মা। আমাদের ঝট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। সবাই তাকে সমর্থন করলেন। ফাওলিনের ছেলে বলল, আমিও সমর্থন করলাম। তার কথা শুনে এদের আসার পর এই প্রথম হাসলেন সবাই।

    .

    পরদিন সকালে মেগাস্থিনিসের কাছে যেন উড়ে গেলেন শর্মিলা। মেগাস্থিনিস বললেন, কিছুই বুঝতে পারছি না, আচার্য কি সত্যিই চলে যাচ্ছেন?

    যাওয়াই চূড়ান্ত হয়ে গেছে।

    মেগাস্থিনিস একটু চুপ করে থেকে বললেন, বেশ, তবে চলে যান। এখানে কাউকে রেখে যান, যাতে আপনার মতো আমাকে দেখা হলেই বকাবকি করতে পারে। তাতেও আমি আপনার কথা মনে করে শান্তি পাব। ভারতীয়দের নাকি হৃদয় আছে। হেলেন বলেছিলেন। মিথ্যে বলেছিলেন। ওই যে পাহাড়গুলো দেখছেন, এগুলোর ভেতরে শুধুই পাথর।

    শর্মিলা পাহাড়ের ঝরনার মতো কাঁদছেন। পাথর যেন গলে গেছে।

    আপনার কাছে তো কিছুই চাই নি। শুধু ভালোবাসা চেয়েছিলাম, আবার বললেন মেগাস্থিনিস।

    পান নি?

    মেগাস্থিনিস কিছু বলছেন না। নীরবে চোখ মুচ্ছেন। পরে বললেন, প্রথমেই আপনি আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন নি কেন? বলেন নি কেন, এ্যাই, গ্রিক দুরাচার, তোমাকে আমি ঘৃণা করি। চেষ্টা করেছি, পারি নি। যেটুকু করেছি, তার জন্য হৃদয় ছিঁড়ে গেছে। বুক ফেটে গেছে। আমরা যেদিন যাব, আপনাকে যেন সেদিন না দেখি, তাহলে আমি যেতে পারব না।

    আচ্ছা, তাই হবে। সেদিন তো বলেছিলে যেন যাত্রাপথে থাকি।

    বলেছিলাম। আজ মনে হয় ঠিক বলি নি।

    ঠিক যে কোনটা, আমিও জানি না।

    তাহলে আমি আসি।

    বিদায় জানাতে বলছ, তা আমি পারব না। তবু হাত নাড়লেন মেগাস্থিনিস।

    আমিও না, জবাবে বললেন শর্মিলা।

    অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ভোজ সম্পন্ন হয়ে গেল। সে এক মহাভোজ। পাটালিপুত্রের কেউ বাদ যায় নি। সম্রাট নিজে উপস্থিত থেকে, ঘুরেফিরে তত্ত্বতালাশ করে সবার খাওয়া নিশ্চিত করেছেন। ধর্মবর্ণ ও শ্রেণিমতো সবার জন্য আয়োজন করা হয়েছে। গ্রিক রীতি-ঐতিহ্যের পাশাপাশি আরেকটা জিনিস কাজ করেছে, তা হলো সম্রাটের সব ছেড়েছুড়ে চলে যাওয়ার মানসিকতা। অন্যেরা তা না জানলেও সম্রাটের ভেতর তা কাজ করেছে। ভোজ শেষে সম্রাট বললেন, কাল সকালে সভা বসবে। যুবরাজ, আধ্যাত্মিক গুরু, মহামন্ত্রী, মন্ত্রী, অমাত্যগণ এবং রাজন্যবর্গ তাতে উপস্থিত থাকবে, কথা আছে।

    সবাই ভাবলেন সম্রাট আবার কী কথা বলবেন যে দরবার ডাকতে হবে। এঁরা চলে যাচ্ছিলেন। সম্রাট সুবন্ধুকে ডাকলেন, একান্তে বললেন, যুবরাজকে কাল রাজপোশাকে নিয়ে আসবে। দেখতে যাতে সুন্দর মনে হয়। রাজপোশাকে তাকে কেমন দেখায়, দেখতে ইচ্ছে করছে।

    সারা রাত বড় অস্থিরতায় কাটল চন্দ্রগুপ্তের। ঘুম হলো না। এত বছরের সাম্রাজ্য, সম্রাটের প্রাসাদ ছেড়ে যাবেন ভাবতেই যেন কেমন লাগছে। কত স্মৃতি। কিছুই নেবেন না। এমনকি রাজকীয় বস্ত্র, পাদুকাও নয়। ছেলে, অর্থাৎ আগামীকালের সম্রাটের জন্য সবকিছু গোছগাছ করছেন, যাতে ওর কোনো অসুবিধা না হয়। ছেলের জন্য চিন্তা হয়। কী করবে ও। কত বড় একটা সমস্যা সামনে। মহামন্ত্রীটা ধূর্ত। কখন কী করে বসে কে জানে। তবু বিন্দুসারের ওপর ভরসা আছে। হেলেন যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে তাঁর হাতে বিন্দুসারকে তুলে দিয়ে নিশ্চিন্তে যেতে পারতেন। একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে গেল হেলেনের কথা মনে হতেই। সম্রাজ্ঞী দুরধরার কথাও মনে পড়ে গেল। এ কক্ষেই আহার্য গ্রহণের পর বিষক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। এ জীবনে কত কিছু তাঁকে হারাতে হয়েছে। কাল হারাতে হবে ছেলেকেও। আর তো দেখা হবে না। ভাবতেই মনটা কেমন যেন হাহাকার করে উঠল

    ভাবছেন চাণক্যও। কী হতে যাচ্ছে কাল। এ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রথম থেকেই আছেন। আছেন কী, তিলে তিলে গড়েছেন এ সাম্রাজ্যকে। সব সময়ই কী করতে হবে, তা তিনি সম্রাটকে পরামর্শ দিয়েছেন। সম্রাট সেইমতো কাজ করেছেন। অথচ এখন কী হচ্ছে, না হচ্ছে, তাঁকে আগে কিছুই জানানো হচ্ছে না। তেমন কিছু দেখার আগে তাঁর পদত্যাগ করাই উচিত ছিল। তিনি হাঁটছেন। পায়চারি করছেন উদ্ভ্রান্তের মতো। অনিদ্রার কারণে কি না কে জানে, হঠাৎই বরাহ মিহিরকে দেখলেন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আঁতকে উঠলেন তিনি। বললেন, মিহির, কাছে আসবে না, একদম না।

    বরাহ মিহির দাঁড়িয়ে থেকে হাসল। বলল, আচার্য, আপনি ন্যায়বিচারক না, ঈশ্বর ঠিকই বিচার করেছেন, কাল জানবেন।

    কী জানব?

    কালই জানুন। এখন আসুন বুকের সঙ্গে বুক মেলাই, বলে হাসছিল সে। চাণক্য দুই পা পিছিয়ে গেলেন। বললেন, কাছে আসবে না, একদম না।

    মিহির ক্রূর হাসি হেসে কোথায় যেন মিলিয়ে গেল।

    চাণক্য আর স্বস্তি পাচ্ছেন না। তাঁর বিশ্বাস, মিহিরের প্রেতাত্মা ঘরের মধ্যেই কোথাও আছে। কিন্তু তিনি এতটা ভয় পেয়ে গেছেন যে ডাকতে কিংবা খুঁজতে সাহস পাচ্ছেন না।

    সম্রাট নিজের কক্ষ থেকে বের হয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়েছেন। হেলেন ঠিক যেখানটায় তাঁকে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। দূরে হেলেনের সমাধিটা দেখা যায়। প্রজ্বলিত আলোয় স্পষ্ট সেখানে দেখা যাচ্ছে কয়েকজন প্রহরী সমাধিটা প্রহরা দিচ্ছে। সেখানে অনেক মূল্যবান জিনিস আছে। সেসব চুরি হয়ে যেতে পারে, তাই প্রহরা। সৌধ নির্মাণ হয়ে গেলে প্রহরার আর প্রয়োজন হবে না। কী অদ্ভুত! হেলেন একা একা সেখানে শুয়ে আছে। তার সমাধি ছেড়ে যাচ্ছেন সম্রাট। ভেবে বড় কষ্ট হচ্ছে। আকাশটা পরিষ্কার। অনেক তারা ঝলমল করছে। হেলেন কি তারাদের সঙ্গে আছে? যদি থাকে তো ভালো হয়। সমাধি যাবে না, তারারা সঙ্গে সঙ্গে যাবে। যত দূরেই যাওয়া হোক না কেন, মনে হবে আকাশ, চন্দ্র, সূর্য, তারা সঙ্গেই আছে—ওই দেখা যাচ্ছে।

    সম্রাট হঠাৎ করে ডাক শুনতে পেলেন। কে যেন তাকে নাম ধরে ডাকছেন, চন্দ্র। কারও উপস্থিতি তিনি টের পাচ্ছেন, কিন্তু দেখতে পাচ্ছেন না। বললেন, কে কে? কে যেন লাফিয়ে বলল, কোথায় যাচ্ছেন আমাদের ফেলে?

    সম্রাট সাহসী মানুষ। ভাবলেন, হেলেনের আত্মা এসেছে। জৈনধর্মে আত্মারা অমর, এক দেহ থেকে অন্য দেহে যাতায়াতের শক্তি আছে তাদের। তিনি তা বিশ্বাস করেন। বললেন, হেলেন, তুমি এসেছ?

    মিহিরের আত্মা বের হয়ে এল। বলল, হেলেন না, সম্রাট, আমি মিহির।

    কী করছ এখানে তুমি?

    কিছু না। দেখতে এসেছি, আপনার প্রস্তুতি।

    দেখা শেষ হলে চলে যেতে পারো।

    আমি আছি, আমি যাব না। আপনি আর ভদ্ৰবাহু যাবেন!

    ভদ্রবাহু গেলেও তুমি শ্রুতিকেবলী হবে না। সে দায়িত্ব পাবে সুলভদ্র।

    তাকেও আমি অন্যত্র পাঠাব। যাচ্ছি। হে! হে! হে! শেষ পর্যন্ত যেতেই হলো তাকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনবি মুহাম্মদের ২৩ বছর – আলি দস্তি
    Next Article মানবতন্ত্র – আবুল ফজল

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }