Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প698 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫. ঝিরিকুমার

    “জোরে মারবে না কিন্তু। ওই দিকের বাগানে বল ঢুকে গেলে বুড়োটা হেব্বি খিটখিট করে। গত সপ্তাহে আমাদের বলটা কেটে দিয়েছিল জানো!” গাবলু ভুরু কুঁচকে, মাথা ঝাঁকিয়ে কথাটা বলল।

    ঝিরি বলল, “না না, আস্তে মারব। ব্লক করব জাস্ট। তুই ভয় পাচ্ছিস কেন?”

    “অ্যাঁ, ব্লক করবে! ব্লকের প্রেসিডেন্ট না রাহুল দ্রাবিড় তুমি! মারো তো আনতাবড়ি! তাই বলে দিলাম আগে থেকে!” গাবলু একই।

    ঝিরি হাসল, “আরে, বলছি তো ব্লক করব! আর বাই চান্স বলটা ওই দিকে চলে গেলে কোনও টেনশন নেই। ঠিক নিয়ে আসব!”

    এবার উইকেটের পিছন থেকে মিন্টু বলল, “টেনশন খুব আছে। একটা ক্যাম্বিস বলের দাম জানো এখন! শয়তান বুড়োটা প্রতি মাসে একটা করে বল কেটে দেয় রুটিন করে। দাঁড়াও না, ওর গাছে আম আসতে দাও, তার পর দেখাচ্ছি মজা। যত টাকার বল কেটেছে, তার পাঁচ গুণ আম যদি উসুল না করি, তা হলে আমার নাম মিন্টু নয়!”

    ঝিরি কাঁধের ওপর ব্যাট তুলে হাসল। মিন্টু, গাবলু, টোম্যাটো, কুকি, বুকুরা বিকেল করে বাড়ির সামনের মাঠটায় খেলতে আসে। মফস্সল শহরের এই দিকটা বেশ নির্জন। যেখানে ঝিরি ভাড়া থাকে, সেটা বাড়ি জমি-সহ বেশ বড়। নিচু পাঁচিল ঘেরা কম্পাউন্ড। এক দিকে নানা ফুলের গাছ আর অন্য দিকে বিভিন্ন রকমের ফল। এখন শীতের শেষ। বাগানে বেশ সুন্দর সুন্দর ফুল ফুটে আছে। ওর বাড়িওলা প্রতুলবাবু এই গাছপালা নিয়ে সারাক্ষণ তটস্থ হয়ে থাকেন। লোকটার ধারণা সবাই ওঁর সব কিছু নষ্ট করতে চায়। কেড়ে নিতে চায়। এমন কেন যে ভাবেন, কিছুতেই বুঝতে পারে না ঝিরি।

    ঝিরি, প্রতুলবাবুর বাড়ির দোতলার ছাদের দুটো ঘর নিয়ে ভাড়া থাকে। ঝিরি একদম নিজের মনে থাকে। বাড়িতে কেউ বুঝতেও পারে না যে, ওপরে কোনও মানুষ রয়েছে। তা সত্ত্বেও সুযোগ পেলেই ঝিরিকে সাবধান করতে থাকেন ভদ্রলোক! বলেন, “শোনো ঝিরি, কখনও রান্না করলে গ্যাস খুলে রাখবে না। জলের কল বন্ধ রাখবে সব সময়। কল খুলে রেখে ব্রাশ করবে না বা হাতে সাবান দেবে না। কাচের জানলাগুলো আস্তে আস্তে বন্ধ করবে, হুটহাট করে বন্ধ করবে না। কিছু খেয়ে তার র‍্যাপার জমাবে না ঘরে। বাইরে যাওয়ার সময় সব আলো পাখার সুইচ বন্ধ করবে, প্লাগ খুলে রাখবে। দেওয়ালে ক্যালেন্ডার টাঙাবে না। পেরেক পুঁতবে না। মেঝেতে কিছু জিনিস ঘষটে সরাবে না। এসি চালালেও ঠিক মতো বন্ধ করবে। কাজের মেয়েটি মেঝে ঝাঁট দেওয়ার আর মোছার সময় মন দিয়ে লক্ষ রাখবে, যাতে ঠিক মতো মোছে। ফিনাইল দিয়ে বাথরুম কমোড একদম চকচকে করে পরিষ্কার রাখবে। সব সময় সাবধান থাকবে। জানবে, এই বাড়ি আমার পাঁজরের মতো। আমি আমার পাঁজর তোমার হাতে তুলে দিয়েছি।”

    ঝিরি শোনে আর মনে মনে হাসে। ভাবে, এত ফিরিস্তি দেওয়ার কী আছে! ও কি বাড়ির দোতলার দুটো ঘর আছাড় মেরে ভেঙে ফেলবে নাকি!

    ঝিরি একা মানুষ। আটত্রিশ বছর বয়স হয়ে গেলেও বিয়ে করেনি। এ জীবনে খুব দূরের দুই মামা ছাড়া ওর আর কেউ নেই। বাবা মারা গিয়েছিল সেই ধু ধু ছোটবেলায়। আর মা চোদ্দো বছর আগে। সেই যখন ওকালতি পাশ করে একটা ফার্মে জয়েন করেছিল ও, তখন। সেই থেকে ঝিরি সম্পূর্ণ একা!

    আগে কলকাতায় থাকত ঝিরি। কিন্তু বছর দুয়েক হল মফসসলে শিফট করে এসেছে। আসলে কলকাতা আর ভাল লাগে না ওর। এই হই-হট্টগোল। গাড়িঘোড়া। সারাক্ষণ দৌড়। এ সব আর নিতে পারে না। হ্যাঁ, কাজের জন্য ওকে কলকাতায় যেতে হয়। কিন্তু তাও দিনের শেষে ও ফিরে আসে এই বাগানঘেরা বাড়িতে।

    কলকাতা থেকে লোকাল ট্রেনে করে এক থেকে সোয়া এক ঘণ্টার মতো দূরে এই মাখনপুর। ছোট একটা নদী আছে মাখনপুরের পাশে। নাম, অভিমানী। তার কাছেই অনেকটা জায়গা নিয়ে প্রতুলবাবুর এই বাড়িটা।

    বাড়ির সামনে একটা বড় মাঠ। তার এক ধারে পুরনো ভাঙা ঘণ্টাঘর। আর পোস্ট অফিস। তার পাশেই ভাঙা পিচের রাস্তা, যা দিয়ে মিনিট দশেক সাইকেলে গেলেই মাখনপুরের একমাত্র রেল স্টেশন।

    গোটা জায়গাটার মধ্যে একটা দারুণ মন ভাল করা ব্যাপার আছে। শান্ত, স্নিগ্ধ, গাছ আর পাখিতে মাখামাখি এমন এক শহরতলি খুব বেশি দেখা যায় না।

    বিকেলে আশপাশ থেকে ছোট ছোট ছেলেরা মাঠে খেলতে আসে। কিন্তু ব্যাপারটা হল, গোটা মাঠের বেশির ভাগটাই ইদানীং জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। কলকাতার একটা ক্লাব মাঠটা লিজ নিয়েছে। ঝিরি শুনেছে, তারা এখানে একটা প্র্যাকটিস স্টেডিয়াম তৈরি করবে।

    তাই মাঠের বাকি এক ফালি অংশ, যেটা কিনা প্রতুলবাবুর বাউন্ডারি ওয়াল ঘেঁষে, সেখানে বাচ্চারা খেলে। আর, একটু জোরে বল মারলেই বলটা পাঁচিল টপকে বাড়ির চৌহদ্দিতে ঢুকে পড়ে। তখনই হয় বিপদ। কারণ, বল ঢুকলেই প্রতুলবাবু খুব রাগারাগি করেন। বল ধরে কেটেও দেন।

    তাই আজ এখন গাবলু ঝিরিকে সতর্ক করে দিল।

    ঝিরি গত চার দিন হল কলকাতায় যাচ্ছে না। সে ভাবে কাজ নেই এখন। আসলে এখন আর ওকালতি করে না ও। ঠিক কী যে করে, সেটা লোকজনকে গুছিয়ে বলা বেশ মুশকিল। তাই কেউ জিজ্ঞেস করলে ঝিরি বলে, “কনসালট্যান্ট আমি!” লোককে যাই বলুক ও নিজে জানে যে, ওর কাজ হল নানা সিচুয়েশনকে ‘ফিক্স’ করা। ও একজন পলিটিকাল ফিক্সার। বিভিন্ন ক্ষমতাশালী লোকের হয়ে নানারকম সোজা, বাঁকা কাজ করে দেওয়াই ওর পেশা। এমন কাজ, যা সব সময় নিয়ম বা আইনের ঘেরাটোপে থেকে করা যায় না।

    বিকেলে মিন্টু গাবলুরা খেলতে আসে মাঠে। আর বাড়িতে থাকলে মাঝে মাঝে ঝিরি ওদের সঙ্গে খেলে। গল্প করে। সবাইকে নিয়ে রেল স্টেশনের ওদিকে যায়। ওখানে বান্টিদার রোল সেন্টার আছে। দারুণ রোল বানায় বান্টিদা। সেখানে সবাইকে রোল খাওয়ায় ঝিরি। চিকেন রোল।

    বারো-তেরো বছর বয়স ছেলেগুলোর। তবে ওদের সঙ্গে বন্ধুর মতোই মেশে ঝিরি। আসলে ও বোঝে, মানুষজন বাইরে বড় হলেও মনে মনে তারা চিরকিশোর।

    আজও কথা আছে খেলার পরে সবাই যাবে স্টেশনে। সেখানে নাকি বান্টিদা মোমোর নতুন কাউন্টার খুলেছে। ওদের মাখনপুরে এই প্রথম মোমোর দোকান। বুকু খবরটা এনেছে। না, মোমো খেতে একদম ভাল লাগে না ঝিরির। নোনতা ঘামের মতো জল দিয়ে সিদ্ধ শিঙাড়া খাবে কোন দুঃখে? কিন্তু ওর ভাল লাগাটা তো এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখানে আসল হল বাচ্চাদের ইচ্ছে। ওদের আনন্দ।

    দুপুরে আজ একটু ঘুমিয়েছে ঝিরি। তার পর বিকেলে উঠে এক কাপ চা করে এসে দাঁড়িয়েছিল ছাদে। ওর ঘরের সামনে অনেকটা খোলা ছাদ আছে। তখনই গাবলু মিন্টুরা এসে ওকে ডাকাডাকি করে নামিয়েছে খেলতে। আর সেই সঙ্গে বুকু বলেছে বান্টিদার নতুন মোমো কাউন্টারের কথা।

    ঝিরি মিন্টুকে বলল, “আবার আমগাছে আক্রমণ! কেন বেকার ঝামেলা করবি! জানিস তো প্রতুলবাবু কেমন লোক! বাদ দে না!”

    মিন্টু ফোঁস করে উঠল, “কেন বাদ দেব? আমাকে কেউ টাইট দিলে আমিও তাকে টাইট দিয়ে ছাড়ব। টিট ফর ট্যাট! বুঝেছ? তুমি এমন ভিতু কেন গো! যেন পৃথিবীর সমস্ত ভদ্রতার ভার তোমাকেই একা দেওয়া হয়েছে! বাবা বলে, এই পৃথিবীতে মার খেলে পাল্টা মারও দিতে হয়। বুঝেছ! ভদ্রলোকদের এখানে সবাই বোকা আর ভিতু ভাবে।”

    ঝিরি ব্যাটটা মাটিতে নামিয়ে খুব হাসল। মিন্টুর বয়স বারো কি তেরো হবে। কিন্তু এমন করে গুছিয়ে কথাগুলো বলল, যেন বয়সে আর অভিজ্ঞতায় ও ঝিরির বাবা!

    মিন্টু ফোঁস করে উঠল, “কেন বাদ দেব? আমাকে কেউ টাইট দিলে আমিও তাকে টাইট দিয়ে ছাড়ব। টিট ফর ট্যাট! বুঝেছ? তুমি এমন ভীতু কেন গো!”

    ঝিরির মনে পড়ে গেল ওর সেই কিশোর বয়সের কথা। তখন ওরা শান্তিপুরে থাকত। মা আর ও। সেই সময় একটা লোক আসত ওদের বাড়িতে। মায়ের প্রায় সমবয়সি ছিল লোকটা। তাও মাকে ‘দিদি দিদি বলেই ডাকত। আর ঝিরি লোকটাকে ডাকত মামা বলে, জগন্নাথমামা।

    লোকটা পলিটিক্স করত। গ্রামের মানুষ বলত, পার্টি করে। নিজের অঞ্চলে বেশ নাম ছিল লোকটার।

    জগন্নাথমামা মাঝে মাঝে এসে ওদের খোঁজখবর নিত। এটা-ওটা কিনে আনত ঝিরির জন্য। ঝিরির বাবার সঙ্গে আসলে পরিচয় ছিল জগন্নাথমামার। এক সঙ্গে ওরা পার্টি করত। সেই সূত্রেই ওদের বাড়িতে আসত মানুষটা। কেন কে জানে ঝিরির বাবাকে জগন্নাথমামা জামাইবাবু বলে ডাকত।

    লোকটাকে এখনও মনে আছে ঝিরির। কৃষ্ণবর্ণ, পেটানো চেহারা। খুব বিড়ি খেত! আর হাসত খুব। গরিব মানুষজনের কথা বলত। বলত, কী ভাবে অনেক মানুষ খেতে না পেয়ে ধীরে ধীরে অপুষ্টিতে মারা যাচ্ছে। লোকে ফ্যান খাচ্ছে, শাক-পাতা ফুটিয়ে খাচ্ছে! অখাদ্য কুখাদ্য খাচ্ছে খিদের জ্বালায়!

    জগন্নাথমামা কেমন যেন ঘোরের মধ্যে চলে যেত এ সব বলার সময়। হাতের মুঠোয় জ্বলন্ত বিড়ি ধরে বলত, “বুঝলি ঝিরি, একটা দেশ তো মানুষ দিয়েই তৈরি। সেই মানুষই যদি খেতে না পায়, যদি অপুষ্টিতে ভোগে, তা হলে দেশও অপুষ্ট হবে। গুটি কয়েক লোকের হাতে ক্ষমতা আর টাকা গিয়ে জমছে। আর তারা সেই ক্ষমতার বলে আমাদের মারছে, পেষাই করছে! শোন ঝিরি, কেউ তোকে মারলে চুপচাপ সহ্য করবি না। তাকে পাল্টা মার দিবি। কারণ, তাকেও বোঝাতে হবে মার খেতে কেমন লাগে। এই দুষ্টের পৃথিবী এখন লজিক আর লজ্জার অনেক বাইরে চলে গিয়েছে। সবাই গ্লোবাল টেররিজমের কথা বলে। কিন্তু এটা বলে না যে, মাইক্রো লেভেলে সাধারণের ওপরে ক্ষমতাবানরা কেমন প্রচ্ছন্ন টেররিজম চালায়। তাই নো কম্প্রোমাইজ। বুঝেছিস?”

    এই লোকটাই এক দিন কী ভাবে যেন হঠাৎ খুন হয়ে গেল! ভাবলে আজও অবাক লাগে ঝিরির। মা খুব কেঁদেছিল খবর পেয়ে। নিজের ভাইয়ের মতোই দেখত মা জগন্নাথমামাকে। আর ঝিরিরও কষ্ট হয়েছিল খুব। সেই কিশোর বয়সে ওর মনে হয়েছিল, যারা জগন্নাথমামাকে মেরেছে, তাদের ও একদিন কঠিন শাস্তি দেবে। জগন্নাথমামার কথায়, পাল্টা মার দেবে!

    আজ এত বছর পরে এ সব ভাবলে কেমন যেন লাগে ঝিরির। বোঝে, সেই কষ্ট আর অবশিষ্ট নেই। সবটাই কেমন যেন দূরের স্মৃতি হয়ে গিয়েছে। যেন ঝিরির সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ নেই সে সবের। আচ্ছা, সব অনুভূতিই কি সময়ের সঙ্গে হালকা আর নির্বিষ হয়ে যায়!

    গাবলু বলল, “তুমি ক্রিকেট খেলতে এসেছ, না দাবা! এত চিন্তা করার কী আছে!”

    ঝিরি হেসে এবার ব্যাটটা মাটিতে ঠুকে স্টান্স নিল। তার পর ইশারা করল বল করার জন্য।

    গাবলু সামান্য মোটা! চোখের চশমাটা ঠিক করে একটু দৌড়ে এসে বলটা করল। ফ্লুরোসেন্ট রঙের ক্যাম্বিস বল বাতাসে সামান্য বাঁক খেয়ে একদম ব্যাটের ওপরে এসে পড়ল। ফুলটস।

    ঝিরি বলটাকে জোরে মারতে চাইল না। বরং হালকা করেই ঠেকাল, যাতে কাছেই ড্রপ পড়ে। কিন্তু বলটা ছিটকে উঁচু হয়ে পাঁচিল টপকে গিয়ে পড়ল প্রতুলবাবুর বাগানে। আর সঙ্গে সঙ্গে ঠং করে শব্দও হল একটা!

    গাবলু মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল, “নাও, হল তো! শিয়োর কিছু ভেঙেছে! এই বলটাও গেল। বাবা কিনে দিয়েছিল। জানলে আমার পিঠের ছাল তুলে দেবে। তুমি যে কী করো না ঝিরিকাকা! এতবার বললাম! সেই মারলে এ ভাবে! জানো না এটা স্বার্থপর দৈত্যের বাগান!”

    ঝিরি অপরাধীর মতো মুখ করে তাকাল সবার দিকে। বলল, “সরি সরি। চিন্তা করিস না। আমি এনে দিচ্ছি বলটা। তেমন হলে কিনেও দেব। রাগ করিস না তোরা।”

    মিন্টু বলল, “হাতের মাপ নেই একটা! ব্লক করার কথা মুখে বললে হবে? ব্লকটা করতেও তো শিখতে হবে না কি! সব বল যেন মারতে হবে? সত্যি টি-টোয়েন্টি দেখে দেখে সবার বারোটা বেজে গিয়েছে। যাও, অনেক করেছ! এবার তুমি আউট!”

    “ভাগ! আউট কিসের রে!” ঝিরি ঠোঁট কামড়ে তাকাল, “সব দোষ আমার না! আর গাবলু যে লোপ্পা ফুলটস দিল! বড় মাঠ হলে তো এটাকে ছয় নয়তে৷ বারো মারা যায়।”

    “ইঃ বারো!” গাবলু কোমরে হাত দিয়ে তাকাল ওর দিকে, “আমি তো টেস্ট করছিলাম তুমি মুখে যা বলো সেরকম করো কি না। দেখলাম একদম উল্টো কাজ করলে। বাবা বলে, এমন যারা করে তাদের পলিটিক্সে জয়েন করা উচিত।”

    ঝিরি কী বলবে বুঝতে না পেরে হেসে ফেলল।

    “পরে হেসো, আগে বলটা আনো!” টোম্যাটো বিরক্ত হয়ে বলল,

    “প্রতুলদাদু বাড়িতেই আছে আজ। যাও যাও। সবাই এত আজেবাজে কথা বলে না!”

    ঝিরি ব্যাটটা রেখে বাড়ির মধ্যে ঢুকল। আর ঢুকেই দাঁড়িয়ে পড়ল। সবাই যা ভয় করেছিল তাই হয়েছে। দেখল, একটা ছোট্ট চিনেমাটির টব উলটে পড়ে আছে। আর টবের সামনে বল হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন প্রতুলবাবু। মুখে সারা পৃথিবীর বিরক্তি।

    ঝিরি অবস্থাটা ম্যানেজ করার জন্য হাসি হাসি মুখে গিয়ে দাঁড়াল সামনে।

    প্রতুলবাবু বিরক্ত মুখে বললেন, “অমন বোকার মতো দাঁত বের করছ কেন? আমি কি ডেন্টিস্ট! নতুন কিনেছি টবটা, দিলে তো উল্টে! বুড়ো বয়সে খোকা সাজা কেন বাপু? ঘরে বসে টিভিতে নিউজ দেখতে পারো না?”

    “না মানে, একটু খেলছিলাম আর কী। শরীরচর্চা তো ভাল,” ঝিরি হাসল।

    “এটা একটু! আমার বাগান তছনছ করে বলছ একটু শরীরচর্চা করছ! এই বয়সে মনোহর আইচ হবে!” প্রতুলবাবু রাগে গরগর করে উঠলেন।

    ঝিরি আরও কিছু বলতে গিয়েছিল, কিন্তু পারল না। দেখল, রিপা আসছে ওদের দিকে। হাতে একটা ট্রে, তাতে দুটো চায়ের কাপ। দুটো কেন? ও যে এসেছে সেটা কি বাড়ি থেকে দেখেছে?

    প্রতুলবাবু মুখ ঘুরিয়ে রিপাকে দেখলেন। রিপা এগিয়ে এসে পাশের একটা সিমেন্টের বেদিতে টে-টা রেখে এক কাপ চা প্রতুলবাবুর দিকে বাড়িয়ে দিল। প্রতুলবাবু বলটা নিয়ে কী করবেন বুঝতে পারলেন না।

    রিপা বলটা নিয়ে নিল নিজের হাতে। প্রতুলবাবু চায়ের কাপটা নিয়ে ফিরল ঝিরির দিকে।

    রিপা অন্য কাপটা প্লেট সমেত ঝিরির দিকে বাড়িয়ে দিল এবার। “না, ওকে দিবি না!” প্রতুলবাবু রাগের গলায় বললেন, “আমার বাগান ধ্বংস করছে, আবার চা খাবে! এটা ভাড়ার বাড়ি, মামার বাড়ি নয়।”

    ঝিরি মাথা নেড়ে চায়ের কাপটা ফিরিয়ে দিল। রিপা ঠোঁট টিপে তাকাল জিনি ওর দিকে। চোখে কি রাগ না বিরক্তি! এবার বলটা ওর হাতে জোর করে গুঁজে দিল রিপা। ঝিরি, রিপার কাছ থেকে ভেসে আসা খুব সুন্দর একটা গন্ধ পেল। শ্যাম্পুর গন্ধ? কী শ্যাম্পু এটা? রিপা কি এখন স্নান করেছে! এই ওয়েদারে এখন স্নান করলে তো ঠান্ডা লেগে যাবে।

    প্রতুলবাবু বলটা ফেরত দেওয়া দেখে কী বলবেন বুঝতে পারলেন না প্রথমে। তার পর আবার বললেন, “একদম চা দিবি না ওকে, রিপা!” রিপা মাথা নাড়ল। তার পর আর একবার ঝিরির দিকে তাকিয়ে হেঁটে চলে গেল মূল বাড়ির দিকে।

    ঝিরিও আর দাঁড়াল না। রাগে গরগর করতে থাকা প্রতুলবাবুকে পেছনে রেখে বলটা নিয়ে গেটের দিকে হাঁটা দিল। যেতে যেতে শুনল প্রতুলবাবু বলছেন, “আর-একবার বল আসুক, পেয়ারার মতো দু’খণ্ড করে দেব বলে দিলাম!”

    গেট পেরোতে পেরোতেই এবার ফোনটা বেজে উঠল পকেটে। আবার কে! ঝিরি দাঁড়িয়ে পড়ে পকেট থেকে বের করল ফোনটা। নামটা দেখে কপাল কুঁচকে গেল ওর। সানুদা!

    “হ্যাঁ বলো!” ঝিরি ফোনটা কানে লাগাল।

    “ক’দিন আসছিস না কেন?” সানুদার গলায় বিরক্তি।

    “ব্রেক নিচ্ছি একটু। প্লাস কাজও নেই তেমন। সব সময় ওই শহরটায় যেতে ইচ্ছে করে না সানুদা। যাক গে, আমি একটু তাড়ায় আছি। কিছু বলবে?”

    “ঝিরি শোন, রাগ করিস না। যা ডিসিশন সেটা নেওয়া হয়ে গিয়েছে। উপায় নেই এখন পিছোনোর। দেখবি, ঠিক কাজ হবে,” সানুদা বলল।

    ঝিরি বলল, “আর, না হলে উল্টো ফল হবে। সেটাও মনে রেখো। সব কিছুতে গায়ের জোর আর তাড়াহুড়ো করো কেন!”

    “আচ্ছা দেখিস, কাজ হয় কি না এবার!” সানুদা ওকে বোঝানোর চেষ্টা করল, ,“না হলে তুই তো আছিসই!”

    “দ্যাখো! আমি আর কী বলি!” ঝিরি নিজের মনে মাথা নাড়ল। সেই, ও তো আছেই। ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো!

    “কাল আসিস। এমনিই আসিস। কেমন?” সানুদা হেসে ব্যাপারটাকে লঘু করার চেষ্টা করল।

    ঝিরি আর কিছু না বলে, “রাখছি” বলল শুধু। তার পর ফোনটা কেটে পকেটে রেখে দিল! চোয়াল শক্ত করল ঝিরি। আর মনে মনে যেন দেখতে পেল সামনে একটা ঝড় পাকিয়ে উঠছে। আবার খারাপ দিন আসছে!

    “কী হল, রিপাকে দেখে কি বিপাকে পড়লে!” গাবলু চশমাটা নাকের ওপর তুলে ভুরু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করল। ছেলেটার মুখে একটা ফচকে হাসি!

    “তবে রে! নাম ধরে ডাকছিস? বয়সে বড় হয় না?” ঝিরি ছদ্মরাগে চোখ পাকাল।

    গাবলু ওকে পাত্তা না দিয়ে বলল, “তুমি আউট, যাও ফিল্ডিং করো!” “ইঃ, আউট!” ঝিরি ভুরু কুঁচকে বলল, “তোদের মোমো খাওয়ার ইচ্ছে নেই নাকি?”

    মিন্টু বলল, “ঠিক আছে ব্যাটিং করতে দেব, কিন্তু মোমোর সঙ্গে আইসক্রিমও খাওয়াতে হবে। রাজি?”

    ঝিরি হাসল। ভাবল, লোকে ওকে ফিক্সার বলে, কিন্তু এই খুদেগুলো ওর বাবা!

    বলটা গাবলুকে দিয়ে ব্যাটটা তুলে নিল ঝিরি। বলল, “আমায় আউট করতে পারলে খাওয়াব। দেখি আউট কর!”

    টোম্যাটো পাশ থেকে সামান্য তুতলে বলল, “রিপাপিসিকে ডাক তো, এসে দাঁড়ালেই ঝিরিকাকু আউট হয়ে যাবে!”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)
    Next Article কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }