Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প698 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৪. কবি

    আজ হাওয়া দিচ্ছে খুব। মার্চের নরম রোদ এসে পড়েছে ঘাসে, মল্লিকার ডালপালায় আর ওই বড় গাছটার লম্বা নরম পাতায়। হাওয়ার শব্দ নরম পালকের মতো ছুঁয়ে যাচ্ছে এই বাগান, এই বাড়িঘর, এই শহর। তার মাঝে ওই দোলনায় বসে রয়েছে উর্জা। দুলছে ও। লাল কুর্তা আলো করে রয়েছে। বাগান। হলুদ ওড়না মাটির সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে ভেসে আছে হাওয়ায়। রোদ এসে মাখনের মতো লেগে আছে উর্জার কপালে। সামান্য সোনালি রোম চিকচিক করছে কানের পাশে, গালের ডৌলে। আর হাসছে উর্জা। হাওয়ায় দুলতে দুলতে হাসছে। সুন্দর হাতের আঙুল আঁকড়ে ধরে আছে দোলনার ওই দড়ি। দোলনায় ভেসে থাকতে থাকতে মাথা হেলিয়ে দিয়েছে উর্জা। মার্চের এই আলো যেন প্রাণপণে শুষে নিচ্ছে শরীরে আর মনে। ক্রমশ আলোর মতো উজ্জ্বল আর নিঃসঙ্কোচ হয়ে উঠছে ও।

    তার পর ওর দিকে তাকাল উর্জা। হেসে কী যেন বলল। এত হাওয়া, এত হাওয়া যে, ও শুনতেই পেল না কিছু, তাও উর্জা আবারও বলল কোনও কথা। আবারও তারা হাওয়ায় হাওয়ায় মিলিয়ে গেল শিশির ফোঁটার মতো। উর্জা হাসল। মাথা নাড়ল, তার পর হাতছানি দিয়ে ডাকল ওকে।

    ও দেখল নরম রোদের মধ্যে প্রজাপতির ডানার মতো নড়ছে উর্জার হাত। ওকে ডাকছে সেই হাত। উর্জার দিকে এগোল ও। হাওয়ায় এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে উর্জার বাদামি চুল। গালের ছোট্ট লাল তিলটাও যেন ও দেখতে পাচ্ছে স্পষ্ট। ওর মনে হচ্ছে কেউ যেন এক কুচি চুনি বসিয়ে দিয়ে গিয়েছে ওই মাখন-রঙা গালে! আলোয় কেমন স্বচ্ছ লাগছে ওই তিলটা।

    উর্জা বাড়িয়ে আছে হাত। ডাকছে ওকে। হাওয়ায় এলোমেলো চুল এসে পড়ছে উর্জার মুখের ওপর। আর কী সুন্দর একটা গন্ধ যে পাচ্ছে ও! কিসের গন্ধ এটা! কিসের এমন পাগল করা সুবাস!

    বুকের হাওয়া যেন কমে আসছে। ভাল লাগায় দম বন্ধ আসছে ওর। ও এগিয়ে যাচ্ছে। এই তো উর্জা! রোদের বুদ্বুদের মধ্যে উজ্জ্বল হয়ে আছে। হাত বাড়িয়ে রয়েছে ওর দিকে। ধরবে? একবার কি ধরে দেখবে?

    “আমার কাছে এসো। আমায় ধরো,” উর্জার ছোট্ট গোলাপি ঠোঁট ফাঁক হল। উর্জা হাসছে এখনও। হাওয়ার জোর কি বাড়ল! তার স্পর্শে দু’-চারটে মল্লিকা কি ঝরে পড়ল পথে।

    ও তাকিয়ে রইল উর্জার বাড়ানো হাতের দিকে। তার পর নিজেও হাত বাড়াল ওই হাতের দিকে। স্পর্শ করল ওই আঙুল।

    আর আচমকা একটা ঝাঁকুনি দিয়ে ঘুমটা ভেঙে গেল কবির।

    বালিশের পাশে মোবাইলটা টিকটিক করে অ্যালার্ম বাজাচ্ছে। কবির বুকের মধ্যেটা কেমন যেন করছে। কষ্ট হচ্ছে খুব। শ্বাস নিতে পারছে না যেন। ঘোর কাটছে না ওর। এই তো উর্জা কাছে ছিল! এই তো স্পর্শ করল ওকে! কিন্তু তার পর? তার পর কোথায় গেল? কোথায় গেল উর্জা? কবির চোখের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল জল। ও মুখ ঢাকল দু’হাত দিয়ে। বন্ধ চোখের মধ্যে আজ শুধু অন্ধকার।

    মোবাইলটা ঘ্যানঘ্যানে বাচ্চার মতো চিৎকার করেই চলেছে।

    কবি হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ মুছল এবার। তার পর পাশ ফিরে অ্যালার্ম বন্ধ করে, মোবাইলটা তুলে দেখল। ভোর পৌনে পাঁচটা বাজে। কাচের জানলা বাইরের দিকে তাকাল ও। অন্ধকার হয়ে আছে এখনও! কিন্তু ওকে উঠতে হবে এবার। বেরোতে হবে বীরেন্দ্রর সঙ্গে!

    আজ উর্জার মারা যাওয়ার পর তৃতীয় দিন! অপঘাতে মৃত্যু বলে আজই শ্রাদ্ধের কাজ হবে। কিন্তু বাড়িতে সেটা করতে চায় না বীরেন্দ্র। গঙ্গার পাড়ে হবে। তা-ও সে ভাবে কেউ থাকবে না সেখানে।

    বাড়িতে উর্জার মা খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আসলে মেয়ের আচমকা মৃত্যুর খবরে একদম ভেঙে পড়েছে ওই মহিলা। তাই বাড়িতে কোনও কাজ হবে না।

    কবি অবাক হয়ে গিয়েছে। মেয়েকে নিজের হাতে খুন করে নিজেই এখন শ্রাদ্ধ করছে! এ কি মানুষ! ওই যে দু’জনকে মারল বীরেন্দ্র, সেটাতেও কোনও কিছু হয়নি! পুলিশ কিছু করেনি। বলা হয়েছে দু’জনকে দুষ্কৃতীরা মেরে ফেলে দিয়েছে রেললাইনে!

    এই ক’দিন প্রেস একটু লাফালাফি করছে, ছেলেটির ভাই রানা টিভিতে নানা কথা বলছে, এমনকি বীরেন্দ্র যে ওদের থ্রেট করেছে, সেটাও বলছে। কিন্তু তাতেও কিছুই হয়নি! কারণ, কোনও প্রমাণ নেই!

    কবি জানে কিছু দিন পরে সব ঠান্ডা হয়ে যাবে। মানুষ ভুলে যাবে। জীবন চলবে তার মতো। আসলে এই দেশের কিছু ক্ষমতাবান লোকজন মানুষের এই ভুলে যাওয়া ব্যাপারটাকে মূলধন করেই যা খুশি তাই করে যায়! তারা জানে, জনতা কিছু মনে রাখে না। দু’দিনের জন্য কোনও ঘটনা নিয়ে খুব লাফানো ঝাঁপানো হয়। তার পর সব ঠান্ডা হয়ে যায়। বীরেন্দ্রও সেই ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার অপেক্ষাতেই আছে।

    কলকাতায় আসাটা কী যে অভিশাপ হয়ে গেল কবির কাছে! কোনও দিন ভেবেছিল এমন সব কাজে জড়িয়ে যাবে! উর্জাকে দেখবে! ভালবাসবে! তার পর ওর চোখের সামনেই তাকে এ ভাবে মেরে ফেলা হবে!

    উর্জা যে কী ভাবে অনুনয় করছিল, এখনও কানে লেগে আছে কবির। বীরেন্দ্র কথা বলেনি একটাও। উর্জাকে তুলে এনেছিল বুলা আর কয়েকটা ছেলে। ওরা ভাঙা ফ্যাক্টরির এক পাশে বসিয়ে রেখেছিল উর্জাকে। উর্জা কাঁদছিল। হাতজোড় করে ছেড়ে দিতে বলছিল। কিন্তু বীরেন্দ্র একটা কথাও বলেনি!

    কবির দিকে তাকিয়ে উর্জা বলছিল, “আমায় ছেড়ে দাও। আমি তো ক্ষতি করিনি কারও। আমার বিয়ে করতে ইচ্ছে নেই ওখানে। তাই আমি ওদের সত্যিটা জানিয়েছি। প্লিজ, আমি চলে যাব এখান থেকে। রাজুকে নিয়ে চলে যাব। আর আর মা হতে যাচ্ছি… কবি, তুমি বাবাকে বলো….. প্লিজ…”

    আরও কী সব বলে যাচ্ছিল উর্জা! ‘মা হতে যাচ্ছে’! কবির পৃথিবী ঘুরছিল। কাজ করছিল না মাথা! ও তাকিয়েছিল বীরেন্দ্রর দিকে। এলোমেলো ভাবে বলেছিল, “সার, প্লিজ স্যর, ম্যাডামকে মারবেন না!”

    বীরেন্দ্র জ্বলন্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেছিল, “তুই এর মধ্যে আসছিস কেন! আর মনে নেই তুই-ই রাজু আর ওর খবর এনে দিয়েছিলিস আমাকে! এখন সাধুগিরি করবি না! রাজুকেও আনছে! দু’জনকে আজ দেখ কী করি।”

    দূরে বসেও এটা শুনেছিল উর্জা। ফ্যাক্টরির ওই অল্প আলোর মধ্যেও কবি দেখেছিল উর্জা অবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।

    কবি কী করবে বুঝতে পারেনি। ও উর্জার কাছে গিয়ে বলেছিল, “আমি এতটা বুঝিনি ম্যাডাম… আমি বুঝিনি…. সত্যি বলছি…”

    উর্জার মুখটা বিশ্বাসভঙ্গের কষ্টে বেঁকে গিয়েছিল। ও ঘৃণার সঙ্গে তাকিয়েছিল কবির দিকে।

    কবির মনে হচ্ছিল সারা শরীরে আগুন লেগে গিয়েছে! উর্জা ওকে ঘেন্না করছে। ওকে বিশ্বাসঘাতক ভাবছে। কিন্তু এটা তো ও চায়নি। ও তো জানত না এমনটা হবে। কিন্তু উর্জাকে সেটা বিশ্বাস করাবে কী করে। ও তাকিয়েছিল উর্জার দিকে। বলেছিল, “আপনি বিশ্বাস করুন ম্যাডাম আমি… আমি বুঝতে পারিনি….

    “ছিঃ,” উজা থুতু দিয়েছিল কবির মুখে। বলেছিল, “নিশ্চয়ই তোমার জন্মের ঠিক নেই!”

    “ওর মুখটা বন্ধ কর,” বীরেন্দ্র চিৎকার করে উঠেছিল, “অনেক নাটক হয়েছে। শালি! আমার মুখে চুনকালি দেওয়া! প্রেগন্যান্ট! আজ বের করছি নোংরামো!”

    বুলা আর অন্য একটা ছেলে সঙ্গে সঙ্গে একটা কাপড় নিয়ে মুখটা বন্ধ করে দিয়েছিল উর্জার। তবু তার মধ্যেও উর্জা এমন করে তাকিয়েছিল কবির দিকে যে, কবির মনে হচ্ছিল এর চেয়ে ওকে মেরে ফেললে ভাল হত!

    এখনও এই ভোরে উর্জার সেই দৃষ্টিটা মনে পড়ল কবির। সারা শরীরটা আবারও জ্বালা করে উঠল। ভেঙে এল বুক। চোখ দিয়ে আবার গড়িয়ে পড়ল জল। নিজের ওপর তীব্র এক ঘেন্না হল ওর! আর ঘেন্না হল বীরেন্দ্রর ওপর। কেবল মানুষকে ব্যবহার করে যাওয়া, না? সবাইকে নিজের মতো টাকা আর খুচরোয় ভাঙিয়ে নেওয়া!

    পিক পিক করে ফোনটা বেজে উঠল এবার। চোয়াল শক্ত করে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল কবি। গলার কাছটা ব্যথা করছে খুব। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তাও ওকে ধরতে হবে ফোনটা। উপায় নেই।

    বিছানায় উঠে বসে ফোনটা ধরল কবি।

    “আর দশ মিনিটের মধ্যে গাড়ি নিয়ে বাড়ির সামনে আয়। বুলা পুরুত নিয়ে ঘাটে পৌঁছে যাবে। দেরি করবি না,” কথাটা বলেই ফোন রেখে দিল বীরেন্দ্র।

    নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল কবি। দুঃখে এমন ভেঙে পড়লে চলবে না। সামনে কাজ আছে!

    ও বিছানা থেকে উঠল। আজ পঁচিশ তারিখ। করোনাভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচার জন্য আজ থেকে লকডাউন শুরু হবে গোটা দেশে। তাই ভোর ভোর কাজ সেরে ফিরে আসতে হবে। কারণ, তার পর পুলিশের কড়াকড়ি হতে পারে। যদিও বীরেন্দ্রর তাতে অসুবিধে নেই, তা-ও ও চায় না অকারণে আবার অশাস্তি বা বিতর্ক হোক।

    ফ্রেশ হয়ে নিয়ে জামাকাপড় পরে নিল কবি । বিছানার পাশের টেবিলের দিকে এগোল এবার। ড্রয়ার খুলল। পিস্তলটা দেখল। তার পর সেটা না নিয়ে আবার বন্ধ করে দিল ড্রয়ারটা।

    গাড়ির চাবিটা দরজার পাশের হুক থেকে তুলে নিল হাত বাড়িয়ে। কালকেই এটা নিজের কাছে নিয়ে রেখেছিল।

    মোবাইলটা নিয়ে চোখ বন্ধ করল একবার। আর, আবার যেন ঝলকে দেখল সেই রোদ! সেই সোনালি রোমের ঢাল গালের ওপর। দেখল, উর্জা হাসিমুখে হাত বাড়িয়ে আছে ওর দিকে!

    থমকে গেল কবি। বুকের মধ্যে আবার বিশাল বড় একটা জাহাজ নিমেষে তলিয়ে গেল। ও চোখ বন্ধ করে সামলাল নিজেকে। দ্রুত হয়ে ওঠা শ্বাসকে সংযত করার চেষ্টা করল। তার পর একটু সময় নিয়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।

    ওর ঘরে ইয়েল লক লাগানো। বাইরে থেকে টেনে দিলেই বন্ধ হয়ে যায়। দরজা বন্ধ করে ও এগিয়ে গেল পাশের দরজার দিকে। দরজাটা বন্ধ৷ লালু থাকে এখানে। ও আলতো করে টোকা দিল দরজায়। লালু খুলে দিল প্রায় সঙ্গে সঙ্গে।

    “আমি এলাম,” ছোট করে বলল কবি।

    লালু তাকাল ওর দিকে। মাথা নাড়ল। তার পর জিজ্ঞেস করল, “তুই ঠিক আছিস?”

    “হ্যাঁ, আসি,” কবি আর কথা না বাড়িয়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল।

    পিছনে লালুর দরজা বন্ধ করার শব্দ পেল ও।

    পুরো কম্পাউন্ডটা একদম নির্জন এখন। আলো জ্বলছে এদিকে-ওদিকে। ভোরের আলো ফুটি ফুটি করছে আকাশে।

    জিনিদের কোয়ার্টারের দিকে তাকাল কবি। নিঝুম হয়ে আছে! মেয়েটার জন্য কেমন একটা কষ্ট হল ওর। ওকে ভালবাসে। ওর জন্য চিন্তা করে। এমনকি, এই বাজারে কোন এক বান্ধবীকে বলে চাকরিও জোগাড় করেছে ওর জন্য! খুব ভাল মেয়ে। ওর যেন ভাল হয়। কবির মতো খারাপ ছেলে ওর জন্য নয়

    হাওয়াদাদর কথা আচমকা মনে পড়ল কবির। হাওয়াদাদু বলত, “তোর-আমার চাওয়ায় কিছু হবে না। যা হওয়ার তাই হবে। যা হওয়ার তা হয়েই আছে। আমরা শুধু তার মধ্যে দিয়ে যাত্রা করছি মাত্ৰ৷”

    তাই কি! কে জানে! মাথার ওপর এই যে আস্তে আস্তে ছড়িয়ে যাচ্ছে আলো, তার ও-পারে যে নিঃশেষ এক জগৎ, সেখানে কি ইচ্ছের কোনও গুরুত্ব নেই! সেখানে কেউ কি নেই, যে ভালমানুষের জন্য ভাল কিছু করে! এত পাপ, এত লোভ, ঘৃণা, পাশবিকতার মধ্যেও যারা ভাল হয়ে আছে, সৎ হয়ে আছে, তাদেরও যাতে ভাল হয়, সেটা দেখার কি কেউ নেই! তারা কি সারা জীবন কষ্ট পাবে? জিনিও কি কষ্ট পাবে! যেমন পেল উর্জা। আর কার জন্য পেল? ওর জন্য। ও কে? মানুষ না অমানুষ! কে ও? একটা প্রাণী, যার জন্মের কোনও ঠিক নেই!

    মাথার মধ্যে কেমন একটা কট করে উঠল। কী যন্ত্রণা! এর কি প্রতিকার নেই কোনও! এই অসীম অন্ধকার এক কুয়োর মধ্যে ডুবে থেকেই কি ওকে কাটাতে হবে বাকি জীবন! এর কি কোনও প্রতি হবে না?

    গাড়িটা বের করে বড় বাড়ির সামনে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাল কবি। দেখল, লম্বা সিঁড়ির ওপরে অমলা মাসি দাঁড়িয়ে আছে। গাড়িটা দেখেই ভেতরে চলে গেল। অর্থাৎ খবর দিতে গেল যে গাড়ি এসে গিয়েছে। বিন্দি সাধারণত এই কাজ করে। কিন্তু মেয়েটা দেশে চলে গিয়েছে। ওর বোন মারা গিয়েছে। চারিদিকে যেন মৃত্যু আর মৃত্যু। চোয়াল শক্ত করে কবি বসে রইল। দু’হাত দিয়ে স্টিয়ারিং হুইলটা চেপে ধরল শক্ত করে।

    একটু সময়ের মধ্যেই বীরেন্দ্র বেরিয়ে এল বাড়ি থেকে। তার পর আর কোনও দিকে না তাকিয়ে সামনের দরজাটা খুলে উঠে বসল ওর পাশে। বলল, “পেছনের দরজা দিয়ে বেরোবি। সামনে প্রেস থাকতে পারে। তুই তো জানিস যে বাবুঘাট যাব। বুলা নিয়ে আসবে পুরোহিতদের।”কবি জিজ্ঞেস করল, “স্যর, সিকিওরিটি?”

    “এই সকালে কিসের জন্য লাগবে? তুই আছিস, বুলা আছে। তা ছাড়া সুন্দরের সঙ্গে উদয়ের কথা হয়ে গিয়েছে। প্রোলিসাইড, স্যাক্রিফাইস বৃথা যায় না, সেই প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে এই উৎসর্গ। আর কোনও ভয় নেই। চল।”

    চোয়াল শক্ত করে গাড়িতে স্টার্ট দিল কবি। তার পর পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গাড়ি ছোটাল। ভোর হচ্ছে কলকাতায়। লোকজন প্রায় নেই। আজ থেকে প্যান্ডেমিকের জন্য লকডাউন শুরু। কলকাতা এমন জিনিস দেখেনি কোনও দিন। হু হু করে গাড়ি চলছে। বীরেন্দ্র কোনও কথা বলছে না। জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রয়েছে। কবির মনের মধ্যে তোলপাড় হচ্ছে। এত কাছে বসে রয়েছে লোকটা। খারাপ একটা লোক। ক্ষমতার জন্য সব করতে পারা একটা লোক। সবার সামনে সাধু সেজে থাকা একটা লোক। নিজের রক্তের না হলেও উর্জা ওর সন্তান তো! তাকে মেরে দিল। তার পর কী সুন্দর লোপাট করে দিল প্রমাণ। টিভির সেনসেশনাল নিউজ় ছাড়া আর কিচ্ছু হল না। কেউ কিছু করতে পারল না। ও নিজেও কি কিছু করতে পারল? পারবে?

    পুরোহিত বলেছেন সকাল পাঁচটা ছত্রিশে আজ সূর্যোদয়। এখনও সেই সময় হয়নি। কিন্তু সূর্যদেবের আগমনের বার্তা ফুটে উঠছে আকাশে। ধূসর নীল রং উজ্জ্বল হয়ে উঠছে ক্রমশ।

    আলিপুর চিড়িয়াখানা পার করে ব্রিজ পেরিয়ে গাড়ি এগোচ্ছে। কবি চোয়াল শক্ত করে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। বড় রাস্তায় পড়ে এবার বাঁ দিকে বাঁক নিয়ে কিছুটা গিয়ে আবার ডান দিকে ঢুকে গেল ওরা।

    সামনে গাছপালা ঘেরা রাস্তা। বড় বড় গাছ। আচমকা যেন গাছপালার মধ্যে দিয়ে নেমে আসা নরম রোদ দেখতে পেল কবি। দেখল, বড় গাছ থেকে ঝুলছে দোলনা। তাতে লাল কুর্তি পরে, হলুদ ওড়না দুলি হ্য ভেসে আছে উর্জা! উর্জা হাসছে। গালের ডৌলে সোনালি রোম চিকচিক করছে। ওর দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে…

    গাড়িটা আচমকা নড়বড় করে উঠে লাফাল একটু।

    “আরে, মারবি নাকি!” বীরেন্দ্র চিৎকার করে উঠল।

    হুঁশ হল কবির। সামনে পড়ে থাকা একটা ডালের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিয়েছে! অন্যমনষ্ক হয়ে পড়েছিল একটু সময়ের জন্য। কোনও মতে কবি গাড়িটাকে সামলাল।

    “মারবি নাকি? কী হয়েছে তোর?” বীরেন্দ্র ধমক দিয়ে উঠল, “ঘুম কাটেনি?”

    “সরি স্যর!” কবি ছোট্ট করে বলল।

    “ইডিয়ট! গুর্দা নেই তোর! এখনও ও সব ভেবে যাচ্ছিস? ও সব ভাবলে হবে না। লাইফে অনেক কিছু হয়। অনেক কিছু। কেউ কারও নয়! ওপরে উঠতে গেলে রুথলেস হতে হয়। কিছু মনে রাখলে চলে না। আর যে বিশ্বাস ভাঙে, তাকে তো ক্ষমা করার প্রশ্নই নেই। সবে শুরু। সেন্টারে যাব আমি। তুই আমার সঙ্গে থাকবি। দেখবি, খেল আরও রঙিন হবে ওখানে। মোর পাওয়ার, মোর মানি, মোর ক্রুয়েলটি। ইটস ডু অর ডাই! সব হল ক্ষমতা হাতে পাওয়ার চক্কর। বুঝলি? বুঝবি। আস্তে আস্তে আরও বুঝবি। এখন সামনে দেখে চালা,” বীরেন্দ্র চোয়াল শক্ত করে কথাগুলো বলে সিটটা একটু হেলিয়ে বসল।

    কবি ঠোঁট টিপে শান্ত করল নিজেকে। ক্ষমতা, টাকা, প্রতিপত্তি, এ সবই আসল? মানুষ কিছু নয়? সে দিন মাথা নিচু করে উর্জার নিথর শরীরের সামনে বসে কবির মনে হচ্ছিল, ও অমানুষ! এ ভাবে ওর একটা কথার জন্য মরতে হল উর্জাকে! উর্জার হাতের তালু তখনও গরম ছিল। সুন্দর নখগুলোয় লেগে ছিল গাঢ় বাদামি রঙের নেলপলিশ।

    স্টিয়ারিংয়ের ওপর রাখা নিজের হাতের দিকে তাকাল কবি। এই হাতে কি রক্ত লেগে আছে? নির্দোষ মানুষের রক্ত! গা গুলিয়ে উঠল ওর। শ্বাস নিতে কষ্ট হল যেন। চোয়াল চেপে নিজেকে সামলাল কবি। আদৌ কি এর প্রায়শ্চিত্ত করতে পারবে কোনও দিন?

    গঙ্গার পারের রাস্তা ফাঁকা। ওই দেখা যাচ্ছে ঘাট। রাস্তার বাঁ দিক করে গাড়িটাকে রাখল কবি। তার পর বেরিয়ে গিয়ে খুলে দিল বীরেন্দ্রর দিকের দরজা।

    বীরেন্দ্র নামল ধীরেসুস্থে। হাত দুটো ছড়িয়ে আড়মোড়া ভাঙল। তার পর গঙ্গার দিকে তাকিয়ে হাতজোড় করে প্রণাম করল।

    “স্যর,” বুলার গলা শুনল কবি।

    বীরেন্দ্রও শুনেছে। ঘুরে তাকাল বুলার দিকে।

    বুলা এসে দাঁড়াল। বলল, “পুরুতমশাইয়ের মেয়ের একটু শরীর খারাপ। উনি একটু পরেই আসছেন। আমি এটা বলতেই চলে এলাম। ওখানে একজনকে রেখে এসেছি।”

    কবি ভাবল বীরেন্দ্র রাগ করবে। কিন্তু বীরেন্দ্র হাসল। মানে, মনমেজাজ ভাল আছে।

    বীরেন্দ্র বলল, “ঠিক আছে। একটু জলের কাছে নেমে দাঁড়াই।”

    চারিদিকে লোকজন কম। লকডাউন বলেই হয়তো। কবি দেখল, বীরেন্দ্র সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাচ্ছে গঙ্গার দিকে। পেছনেই বুলা। ও এগোল বুলার পিছনে।

    সিঁড়ি থাক থাক করে নেমে গিয়েছে জল অবধি । আশপাশে দু’-চারজন বসে আছে। সূর্য উঠি উঠি করছে।

    সামনে নদীর মধ্যে দুটো লোক কোমর সমান জলে ডুবে দাঁড়িয়ে আছে। বীরেন্দ্র চটিটা খুলে জলে ডোবা সিঁড়িতে পা দিয়ে দু’ধাপ নেমে গেল। বুলাও নামল এক ধাপ। বুলার শার্টের পেছন উঁচু হয়ে আছে। ওখানে কী আছে জানে কবি ।

    সামনের লোক দুটো বীরেন্দ্রর জলে নামার আওয়াজ শুনে ফিরে তাকাল। তার পর আচমকা জলের তলা থেকে হাত তুলল। আর দু’জনের হাতেই পিস্তল!

    বীরেন্দ্র ঘাবড়ে গিয়ে পেছনে ঘুরে উঠতে গেল, কিন্তু ভিজে সিঁড়িতে পা পিছলে পড়ে গেল জলের মধ্যে। লোক দু’জন জলের মধ্যে দিয়ে ছপছপ করে এগিয়ে এল দ্রুত।

    বুলা থমকে গেল। তার পর প্যান্টের কোমরের পিছনে গোঁজা পিস্তলটা বের করতে গেল আর ঠিক তখনই কবি এগিয়ে গিয়ে বুলার হাতটা চেপে ধরল পিছন থেকে!

    বুলা ঘুরে তাকাল ওর দিকে। চোখে আতঙ্ক! ঘাটের ওখানে বসে থাকা লোকেদের মধ্যে থেকে একটা লোক উঠে এল এবার। আর সময় নষ্ট না করে বুলার মাথায় গুলি করল কাছ থেকে। বুলা কবির দিকে তাকিয়ে থেকে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে পড়ে গেল জলে।

    বীরেন্দ্র তাকাল কবির দিকে। চোখে অবিশ্বাস, “তুই… তুই… কী করলি তুই এটা? জানিস তুই… জানিস আমি…”

    “সুন্দরভাইয়া কী জয়! উদয়জি কী জয়!” জলের মধ্যে দাঁড়ানো লোক দুটো চেঁচিয়ে বলল। আর কবি দেখল, ঘাটে বসে থাকা অন্য সাধারণ দেখতে লোকজনও পিস্তল হাতে উঠে দাঁড়িয়েছে!

    বীরেন্দ্র ভয়ের চোখে তাকাল সকলের দিকে। কবির চোয়াল শক্ত। সে তাকিয়ে রইল বীরেন্দ্রর দিকে।

    লোক দুটো আর সময় নষ্ট না করে খুব কাছ থেকে পর পর দশটা গুলি করল বীরেন্দ্রকে। ধাতব শব্দে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল সকালের স্তব্ধতা।

    বীরেন্দ্রর শরীরের ফুটো দিয়ে রক্ত উপচে উঠে লাল করে দিল নদীর জল। ওর নিথর দেহ ভেসে রইল জলের ওপর।

    লোক দুটো এগিয়ে এল কবির দিকে। তার পর বলল, “থ্যাঙ্কস। তুনে সহি কিয়া! যে নিজের মেয়েকে মেরে দেয় তাকে উদয়জি কোন ভরসায় দলে নেবে? এখন তোকে গুলি করব পায়ে। স্ট্যাব করব কাঁধে। রেডি?”

    কবি চোয়াল শক্ত করে বলল, “লালুর টাকা?”

    “পেয়ে যাবে, লোক আছে আমাদের। সে দিয়ে দেবে ঠিক জায়গায়,” লোকটা সরে দাঁড়াল একটু।

    কবি চোয়াল শক্ত করল। লোকটা আচমকা কাঁধের কাছে ছুরি বসিয়ে দিল ওর। তার পর গুলি করল ওর পায়ে।

    যন্ত্রণায় সারা শরীরে যেন বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ল কবির! ও পড়ে গেল মাটিতে। লোকটা এবার পিস্তলের বাঁট দিয়ে মাথার পাশে মারল ওকে। মাথার মধ্যেও ফাটল কবির! কিন্তু ও জানে এটা দরকার। জানে এটা না হলে ও বাঁচবে না। নিজেকে শুধু শুধু মেরে লাভ কি!

    আসলে লালুই প্রস্তাবটা এনেছিল কয়েকদিন আগে। কিন্তু তখন পাত্তা দেয়নি কবি। কিন্তু সেই রাতের পর ও নিজেই গিয়েছিল লালুর কাছে। লালু নিজের ঘরে বসে মোবাইলে কারও সঙ্গে কথা বলছিল তখন। ওকে দেখে মোবাইলটা নামিয়ে রেখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল।

    কবি কোনও রকম ভনিতা না করে বলেছিল, “যেটা বলেছিলিস, সেটা করা যাবে?”

    লালু বলেছিল, “আরে, হঠাৎ কী হল? তুই নিজে থেকে বলছিস!”

    কবি চোয়াল শক্ত করে তাকিয়েছিল ওর দিকে। গলার কাছটা ব্যথা করছিল খুব। চোখ জ্বালা করছিল। চোখের জলের মধ্যে কী থাকে যে, এমন জ্বালা করে চোখ! নাকি মনের বিষ চোখের জলকে বিষাক্ত করে দেয়! কবির মনে হচ্ছিল বলে দেয় কী হয়েছে। কিন্তু কোথায় যেন বাঁধছিল। সারা জীবন যে কাউকেই মনের কথা খুলে বলতে পারল না ও!

    ওর মুখচোখ দেখে লালু বলেছিল, “আচ্ছা আচ্ছ তুই বোস।”

    “বসতে আসিনি। তুই আমার কথার উত্তর দে। আমার সময় নেই। ওই লোকটার বেঁচে থাকার আর কোনও অধিকার নেই। বল, করা যাবে কি না ।” লালু চোয়াল শক্ত করে বলেছিল, “যাবে। অফার ওপেন আছে। আমারও সুবিধে হয়। আর টোটাল সেফ।”

    “সেফটি ইমপর্ট্যান্ট নয় আমার কাছে। আমি জানাচ্ছি তোকে একটু পরে,” কবি সে দিন আর কথা বাড়ায়নি। নিজের ঘরে ফিরে গিয়েছিল।

    তার পর গতকাল রাতেই আজকের সকালের প্রোগ্রাম, মানে কোথায় এবং কখন যেতে হবে বীরেন্দ্রর কাছ থেকে জেনে নেওয়ার পরে ও আবার গিয়েছিল লালুর কাছে। লালু অপেক্ষাই করছিল ওর জন্য।

    কবি গিয়ে ওদের গঙ্গার ঘাটের প্রোগ্রামটা বিস্তারিত ভাবে বলেছিল লালুকে।

    লালু শুনেছিল সবটা, তার পর বলেছিল, “কাজ হয়ে যাবে। আমি জানিয়ে দিচ্ছি। তবে এটা জানবি যে তোকেও ওরা আহত করবে। না হলে মুশকিল আছে। পরে পুলিশকে জাস্ট বলবি যে, তুই কিছু জানিস না। আর তোকে আহত অবস্থায় দেখলে তোর ওপর সন্দেহও থাকবে না!”

    কবি আর কিছু না বলে উঠে আসছিল ঘর থেকে।

    লালু আচমকা বলেছিল, “উর্জাকে যে বীরেন্দ্র মেরেছে সেটা আমাকে না বললেও বুঝতে পেরেছি আমি । কিন্তু কবি, তুই এর মধ্যে এলি কেন?

    তোর মুখচোখ এমন কেন! কেন সারাক্ষণ গুম হয়ে থাকিস তুই! তুই কি… কবি, তুই কি….”

    মাথার মধ্যে সাংঘাতিক যন্ত্রণা। আলো নিভে আসছে। আকাশ হলুদ লাগছে এবার। আর গাছের হাওয়া এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে শরীর। কবির চোখ বুজে আসছে ক্রমশ। আলো বাড়ছে। হলুদ নরম রোদ ছড়িয়ে পড়ছে ঘাসে, মল্লিকার ডালপালায় আর ওই বড় গাছটার লম্বা নরম পাতায়। হাওয়ার শব্দ নরম পালকের মতো ছুঁয়ে যাচ্ছে ওই বাগান, ওই বাড়িঘর আর এই শহরকে। তার মাঝে ওই দোলনায় বা রয়েছে উর্জা। দুলছে ও। লাল কুর্তা আলো করে রয়েছে বাগান। হলুদ ওড়না মাটির সঙ্গে সমান্তরাল স্পষ্ট ভাবে ভেসে আছে হাওয়ায়। রোদ এসে নরম মাখনের মতো লেগে আছে উর্জার কপালে। সামান্য সোনালি রোম চিকচিক করছে কানের পাশে, গালের ডৌলে! আর হাসছে উজা। হাওয়ায় দুলতে দুলতে হাসছে। সুন্দর হাতের আঙুল আঁকড়ে ধরে আছে দোলনার ওই দড়ি। দোলনায় ভেসে থাকতে থাকতে মাথা হেলিয়ে দিয়েছে উর্জা! হাতছানি দিয়ে ডাকছে ওকে। প্রজাপতির ডানার মতো নড়ছে উর্জার হাত। ওকে ডাকছে সেই হাত। হাওয়ায় এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে উর্জার বাদামি চুল। গালের ওই এক কুঁচি চুনির মতো ছোট্ট লাল তিলটাও যেন দেখতে পাচ্ছে স্পষ্ট!

    উর্জা বাড়িয়ে আছে হাত। ডাকছে ওকে। হাওয়ায় এলোমেলো চুল এসে পড়ছে উর্জার মুখের ওপর। যেন বলছে, আমার কাছে এসো। আমায় ধরো। উর্জার ছোট্ট গোলাপি ঠোঁট ফাঁক হল। উর্জা হাসছে এখনও। হাওয়ার জোর বাড়ছে। তার স্পর্শে দু’চারটে মল্লিকা কি ঝরে পড়ছে পথে!

    এ পথ কোথায় যায়? কার কাছে যাবে বলে এর বিস্তারে নেমে আসে পথিক? কার জন্য সে সহ্য করে সব? কার স্পর্শ পাবে বলে বাড়িয়ে রাখে আজীবনের হাত? কার জন্য নিজেকে পেতে রাখে এই পথ? সেই পথে কেন তুমি ঝরে পড়ো মল্লিকা? শূন্য পথের সমস্ত মল্লিকা কার জন্য বিছিয়ে রাখে এই পৃথিবী?

    কবি পড়ে রইল বাঁধানো ঘাটে। ভোরের হাওয়া এসে ছুঁয়ে দিল ওর মুখ। আর চরাচর ধুইয়ে দিয়ে এই আশ্চর্য শহরের মাথার ওপর আলোর ঝারি হাতে উঠে দাঁড়ালেন সূর্যদেব।

    নতুন দিন শুরু হল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)
    Next Article কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }