৩৪. কবি
আজ হাওয়া দিচ্ছে খুব। মার্চের নরম রোদ এসে পড়েছে ঘাসে, মল্লিকার ডালপালায় আর ওই বড় গাছটার লম্বা নরম পাতায়। হাওয়ার শব্দ নরম পালকের মতো ছুঁয়ে যাচ্ছে এই বাগান, এই বাড়িঘর, এই শহর। তার মাঝে ওই দোলনায় বসে রয়েছে উর্জা। দুলছে ও। লাল কুর্তা আলো করে রয়েছে। বাগান। হলুদ ওড়না মাটির সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে ভেসে আছে হাওয়ায়। রোদ এসে মাখনের মতো লেগে আছে উর্জার কপালে। সামান্য সোনালি রোম চিকচিক করছে কানের পাশে, গালের ডৌলে। আর হাসছে উর্জা। হাওয়ায় দুলতে দুলতে হাসছে। সুন্দর হাতের আঙুল আঁকড়ে ধরে আছে দোলনার ওই দড়ি। দোলনায় ভেসে থাকতে থাকতে মাথা হেলিয়ে দিয়েছে উর্জা। মার্চের এই আলো যেন প্রাণপণে শুষে নিচ্ছে শরীরে আর মনে। ক্রমশ আলোর মতো উজ্জ্বল আর নিঃসঙ্কোচ হয়ে উঠছে ও।
তার পর ওর দিকে তাকাল উর্জা। হেসে কী যেন বলল। এত হাওয়া, এত হাওয়া যে, ও শুনতেই পেল না কিছু, তাও উর্জা আবারও বলল কোনও কথা। আবারও তারা হাওয়ায় হাওয়ায় মিলিয়ে গেল শিশির ফোঁটার মতো। উর্জা হাসল। মাথা নাড়ল, তার পর হাতছানি দিয়ে ডাকল ওকে।
ও দেখল নরম রোদের মধ্যে প্রজাপতির ডানার মতো নড়ছে উর্জার হাত। ওকে ডাকছে সেই হাত। উর্জার দিকে এগোল ও। হাওয়ায় এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে উর্জার বাদামি চুল। গালের ছোট্ট লাল তিলটাও যেন ও দেখতে পাচ্ছে স্পষ্ট। ওর মনে হচ্ছে কেউ যেন এক কুচি চুনি বসিয়ে দিয়ে গিয়েছে ওই মাখন-রঙা গালে! আলোয় কেমন স্বচ্ছ লাগছে ওই তিলটা।
উর্জা বাড়িয়ে আছে হাত। ডাকছে ওকে। হাওয়ায় এলোমেলো চুল এসে পড়ছে উর্জার মুখের ওপর। আর কী সুন্দর একটা গন্ধ যে পাচ্ছে ও! কিসের গন্ধ এটা! কিসের এমন পাগল করা সুবাস!
বুকের হাওয়া যেন কমে আসছে। ভাল লাগায় দম বন্ধ আসছে ওর। ও এগিয়ে যাচ্ছে। এই তো উর্জা! রোদের বুদ্বুদের মধ্যে উজ্জ্বল হয়ে আছে। হাত বাড়িয়ে রয়েছে ওর দিকে। ধরবে? একবার কি ধরে দেখবে?
“আমার কাছে এসো। আমায় ধরো,” উর্জার ছোট্ট গোলাপি ঠোঁট ফাঁক হল। উর্জা হাসছে এখনও। হাওয়ার জোর কি বাড়ল! তার স্পর্শে দু’-চারটে মল্লিকা কি ঝরে পড়ল পথে।
ও তাকিয়ে রইল উর্জার বাড়ানো হাতের দিকে। তার পর নিজেও হাত বাড়াল ওই হাতের দিকে। স্পর্শ করল ওই আঙুল।
আর আচমকা একটা ঝাঁকুনি দিয়ে ঘুমটা ভেঙে গেল কবির।
বালিশের পাশে মোবাইলটা টিকটিক করে অ্যালার্ম বাজাচ্ছে। কবির বুকের মধ্যেটা কেমন যেন করছে। কষ্ট হচ্ছে খুব। শ্বাস নিতে পারছে না যেন। ঘোর কাটছে না ওর। এই তো উর্জা কাছে ছিল! এই তো স্পর্শ করল ওকে! কিন্তু তার পর? তার পর কোথায় গেল? কোথায় গেল উর্জা? কবির চোখের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল জল। ও মুখ ঢাকল দু’হাত দিয়ে। বন্ধ চোখের মধ্যে আজ শুধু অন্ধকার।
মোবাইলটা ঘ্যানঘ্যানে বাচ্চার মতো চিৎকার করেই চলেছে।
কবি হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ মুছল এবার। তার পর পাশ ফিরে অ্যালার্ম বন্ধ করে, মোবাইলটা তুলে দেখল। ভোর পৌনে পাঁচটা বাজে। কাচের জানলা বাইরের দিকে তাকাল ও। অন্ধকার হয়ে আছে এখনও! কিন্তু ওকে উঠতে হবে এবার। বেরোতে হবে বীরেন্দ্রর সঙ্গে!
আজ উর্জার মারা যাওয়ার পর তৃতীয় দিন! অপঘাতে মৃত্যু বলে আজই শ্রাদ্ধের কাজ হবে। কিন্তু বাড়িতে সেটা করতে চায় না বীরেন্দ্র। গঙ্গার পাড়ে হবে। তা-ও সে ভাবে কেউ থাকবে না সেখানে।
বাড়িতে উর্জার মা খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আসলে মেয়ের আচমকা মৃত্যুর খবরে একদম ভেঙে পড়েছে ওই মহিলা। তাই বাড়িতে কোনও কাজ হবে না।
কবি অবাক হয়ে গিয়েছে। মেয়েকে নিজের হাতে খুন করে নিজেই এখন শ্রাদ্ধ করছে! এ কি মানুষ! ওই যে দু’জনকে মারল বীরেন্দ্র, সেটাতেও কোনও কিছু হয়নি! পুলিশ কিছু করেনি। বলা হয়েছে দু’জনকে দুষ্কৃতীরা মেরে ফেলে দিয়েছে রেললাইনে!
এই ক’দিন প্রেস একটু লাফালাফি করছে, ছেলেটির ভাই রানা টিভিতে নানা কথা বলছে, এমনকি বীরেন্দ্র যে ওদের থ্রেট করেছে, সেটাও বলছে। কিন্তু তাতেও কিছুই হয়নি! কারণ, কোনও প্রমাণ নেই!
কবি জানে কিছু দিন পরে সব ঠান্ডা হয়ে যাবে। মানুষ ভুলে যাবে। জীবন চলবে তার মতো। আসলে এই দেশের কিছু ক্ষমতাবান লোকজন মানুষের এই ভুলে যাওয়া ব্যাপারটাকে মূলধন করেই যা খুশি তাই করে যায়! তারা জানে, জনতা কিছু মনে রাখে না। দু’দিনের জন্য কোনও ঘটনা নিয়ে খুব লাফানো ঝাঁপানো হয়। তার পর সব ঠান্ডা হয়ে যায়। বীরেন্দ্রও সেই ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার অপেক্ষাতেই আছে।
কলকাতায় আসাটা কী যে অভিশাপ হয়ে গেল কবির কাছে! কোনও দিন ভেবেছিল এমন সব কাজে জড়িয়ে যাবে! উর্জাকে দেখবে! ভালবাসবে! তার পর ওর চোখের সামনেই তাকে এ ভাবে মেরে ফেলা হবে!
উর্জা যে কী ভাবে অনুনয় করছিল, এখনও কানে লেগে আছে কবির। বীরেন্দ্র কথা বলেনি একটাও। উর্জাকে তুলে এনেছিল বুলা আর কয়েকটা ছেলে। ওরা ভাঙা ফ্যাক্টরির এক পাশে বসিয়ে রেখেছিল উর্জাকে। উর্জা কাঁদছিল। হাতজোড় করে ছেড়ে দিতে বলছিল। কিন্তু বীরেন্দ্র একটা কথাও বলেনি!
কবির দিকে তাকিয়ে উর্জা বলছিল, “আমায় ছেড়ে দাও। আমি তো ক্ষতি করিনি কারও। আমার বিয়ে করতে ইচ্ছে নেই ওখানে। তাই আমি ওদের সত্যিটা জানিয়েছি। প্লিজ, আমি চলে যাব এখান থেকে। রাজুকে নিয়ে চলে যাব। আর আর মা হতে যাচ্ছি… কবি, তুমি বাবাকে বলো….. প্লিজ…”
আরও কী সব বলে যাচ্ছিল উর্জা! ‘মা হতে যাচ্ছে’! কবির পৃথিবী ঘুরছিল। কাজ করছিল না মাথা! ও তাকিয়েছিল বীরেন্দ্রর দিকে। এলোমেলো ভাবে বলেছিল, “সার, প্লিজ স্যর, ম্যাডামকে মারবেন না!”
বীরেন্দ্র জ্বলন্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেছিল, “তুই এর মধ্যে আসছিস কেন! আর মনে নেই তুই-ই রাজু আর ওর খবর এনে দিয়েছিলিস আমাকে! এখন সাধুগিরি করবি না! রাজুকেও আনছে! দু’জনকে আজ দেখ কী করি।”
দূরে বসেও এটা শুনেছিল উর্জা। ফ্যাক্টরির ওই অল্প আলোর মধ্যেও কবি দেখেছিল উর্জা অবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।
কবি কী করবে বুঝতে পারেনি। ও উর্জার কাছে গিয়ে বলেছিল, “আমি এতটা বুঝিনি ম্যাডাম… আমি বুঝিনি…. সত্যি বলছি…”
উর্জার মুখটা বিশ্বাসভঙ্গের কষ্টে বেঁকে গিয়েছিল। ও ঘৃণার সঙ্গে তাকিয়েছিল কবির দিকে।
কবির মনে হচ্ছিল সারা শরীরে আগুন লেগে গিয়েছে! উর্জা ওকে ঘেন্না করছে। ওকে বিশ্বাসঘাতক ভাবছে। কিন্তু এটা তো ও চায়নি। ও তো জানত না এমনটা হবে। কিন্তু উর্জাকে সেটা বিশ্বাস করাবে কী করে। ও তাকিয়েছিল উর্জার দিকে। বলেছিল, “আপনি বিশ্বাস করুন ম্যাডাম আমি… আমি বুঝতে পারিনি….
“ছিঃ,” উজা থুতু দিয়েছিল কবির মুখে। বলেছিল, “নিশ্চয়ই তোমার জন্মের ঠিক নেই!”
“ওর মুখটা বন্ধ কর,” বীরেন্দ্র চিৎকার করে উঠেছিল, “অনেক নাটক হয়েছে। শালি! আমার মুখে চুনকালি দেওয়া! প্রেগন্যান্ট! আজ বের করছি নোংরামো!”
বুলা আর অন্য একটা ছেলে সঙ্গে সঙ্গে একটা কাপড় নিয়ে মুখটা বন্ধ করে দিয়েছিল উর্জার। তবু তার মধ্যেও উর্জা এমন করে তাকিয়েছিল কবির দিকে যে, কবির মনে হচ্ছিল এর চেয়ে ওকে মেরে ফেললে ভাল হত!
এখনও এই ভোরে উর্জার সেই দৃষ্টিটা মনে পড়ল কবির। সারা শরীরটা আবারও জ্বালা করে উঠল। ভেঙে এল বুক। চোখ দিয়ে আবার গড়িয়ে পড়ল জল। নিজের ওপর তীব্র এক ঘেন্না হল ওর! আর ঘেন্না হল বীরেন্দ্রর ওপর। কেবল মানুষকে ব্যবহার করে যাওয়া, না? সবাইকে নিজের মতো টাকা আর খুচরোয় ভাঙিয়ে নেওয়া!
পিক পিক করে ফোনটা বেজে উঠল এবার। চোয়াল শক্ত করে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল কবি। গলার কাছটা ব্যথা করছে খুব। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তাও ওকে ধরতে হবে ফোনটা। উপায় নেই।
বিছানায় উঠে বসে ফোনটা ধরল কবি।
“আর দশ মিনিটের মধ্যে গাড়ি নিয়ে বাড়ির সামনে আয়। বুলা পুরুত নিয়ে ঘাটে পৌঁছে যাবে। দেরি করবি না,” কথাটা বলেই ফোন রেখে দিল বীরেন্দ্র।
নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল কবি। দুঃখে এমন ভেঙে পড়লে চলবে না। সামনে কাজ আছে!
ও বিছানা থেকে উঠল। আজ পঁচিশ তারিখ। করোনাভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচার জন্য আজ থেকে লকডাউন শুরু হবে গোটা দেশে। তাই ভোর ভোর কাজ সেরে ফিরে আসতে হবে। কারণ, তার পর পুলিশের কড়াকড়ি হতে পারে। যদিও বীরেন্দ্রর তাতে অসুবিধে নেই, তা-ও ও চায় না অকারণে আবার অশাস্তি বা বিতর্ক হোক।
ফ্রেশ হয়ে নিয়ে জামাকাপড় পরে নিল কবি । বিছানার পাশের টেবিলের দিকে এগোল এবার। ড্রয়ার খুলল। পিস্তলটা দেখল। তার পর সেটা না নিয়ে আবার বন্ধ করে দিল ড্রয়ারটা।
গাড়ির চাবিটা দরজার পাশের হুক থেকে তুলে নিল হাত বাড়িয়ে। কালকেই এটা নিজের কাছে নিয়ে রেখেছিল।
মোবাইলটা নিয়ে চোখ বন্ধ করল একবার। আর, আবার যেন ঝলকে দেখল সেই রোদ! সেই সোনালি রোমের ঢাল গালের ওপর। দেখল, উর্জা হাসিমুখে হাত বাড়িয়ে আছে ওর দিকে!
থমকে গেল কবি। বুকের মধ্যে আবার বিশাল বড় একটা জাহাজ নিমেষে তলিয়ে গেল। ও চোখ বন্ধ করে সামলাল নিজেকে। দ্রুত হয়ে ওঠা শ্বাসকে সংযত করার চেষ্টা করল। তার পর একটু সময় নিয়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।
ওর ঘরে ইয়েল লক লাগানো। বাইরে থেকে টেনে দিলেই বন্ধ হয়ে যায়। দরজা বন্ধ করে ও এগিয়ে গেল পাশের দরজার দিকে। দরজাটা বন্ধ৷ লালু থাকে এখানে। ও আলতো করে টোকা দিল দরজায়। লালু খুলে দিল প্রায় সঙ্গে সঙ্গে।
“আমি এলাম,” ছোট করে বলল কবি।
লালু তাকাল ওর দিকে। মাথা নাড়ল। তার পর জিজ্ঞেস করল, “তুই ঠিক আছিস?”
“হ্যাঁ, আসি,” কবি আর কথা না বাড়িয়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল।
পিছনে লালুর দরজা বন্ধ করার শব্দ পেল ও।
পুরো কম্পাউন্ডটা একদম নির্জন এখন। আলো জ্বলছে এদিকে-ওদিকে। ভোরের আলো ফুটি ফুটি করছে আকাশে।
জিনিদের কোয়ার্টারের দিকে তাকাল কবি। নিঝুম হয়ে আছে! মেয়েটার জন্য কেমন একটা কষ্ট হল ওর। ওকে ভালবাসে। ওর জন্য চিন্তা করে। এমনকি, এই বাজারে কোন এক বান্ধবীকে বলে চাকরিও জোগাড় করেছে ওর জন্য! খুব ভাল মেয়ে। ওর যেন ভাল হয়। কবির মতো খারাপ ছেলে ওর জন্য নয়
হাওয়াদাদর কথা আচমকা মনে পড়ল কবির। হাওয়াদাদু বলত, “তোর-আমার চাওয়ায় কিছু হবে না। যা হওয়ার তাই হবে। যা হওয়ার তা হয়েই আছে। আমরা শুধু তার মধ্যে দিয়ে যাত্রা করছি মাত্ৰ৷”
তাই কি! কে জানে! মাথার ওপর এই যে আস্তে আস্তে ছড়িয়ে যাচ্ছে আলো, তার ও-পারে যে নিঃশেষ এক জগৎ, সেখানে কি ইচ্ছের কোনও গুরুত্ব নেই! সেখানে কেউ কি নেই, যে ভালমানুষের জন্য ভাল কিছু করে! এত পাপ, এত লোভ, ঘৃণা, পাশবিকতার মধ্যেও যারা ভাল হয়ে আছে, সৎ হয়ে আছে, তাদেরও যাতে ভাল হয়, সেটা দেখার কি কেউ নেই! তারা কি সারা জীবন কষ্ট পাবে? জিনিও কি কষ্ট পাবে! যেমন পেল উর্জা। আর কার জন্য পেল? ওর জন্য। ও কে? মানুষ না অমানুষ! কে ও? একটা প্রাণী, যার জন্মের কোনও ঠিক নেই!
মাথার মধ্যে কেমন একটা কট করে উঠল। কী যন্ত্রণা! এর কি প্রতিকার নেই কোনও! এই অসীম অন্ধকার এক কুয়োর মধ্যে ডুবে থেকেই কি ওকে কাটাতে হবে বাকি জীবন! এর কি কোনও প্রতি হবে না?
গাড়িটা বের করে বড় বাড়ির সামনে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাল কবি। দেখল, লম্বা সিঁড়ির ওপরে অমলা মাসি দাঁড়িয়ে আছে। গাড়িটা দেখেই ভেতরে চলে গেল। অর্থাৎ খবর দিতে গেল যে গাড়ি এসে গিয়েছে। বিন্দি সাধারণত এই কাজ করে। কিন্তু মেয়েটা দেশে চলে গিয়েছে। ওর বোন মারা গিয়েছে। চারিদিকে যেন মৃত্যু আর মৃত্যু। চোয়াল শক্ত করে কবি বসে রইল। দু’হাত দিয়ে স্টিয়ারিং হুইলটা চেপে ধরল শক্ত করে।
একটু সময়ের মধ্যেই বীরেন্দ্র বেরিয়ে এল বাড়ি থেকে। তার পর আর কোনও দিকে না তাকিয়ে সামনের দরজাটা খুলে উঠে বসল ওর পাশে। বলল, “পেছনের দরজা দিয়ে বেরোবি। সামনে প্রেস থাকতে পারে। তুই তো জানিস যে বাবুঘাট যাব। বুলা নিয়ে আসবে পুরোহিতদের।”কবি জিজ্ঞেস করল, “স্যর, সিকিওরিটি?”
“এই সকালে কিসের জন্য লাগবে? তুই আছিস, বুলা আছে। তা ছাড়া সুন্দরের সঙ্গে উদয়ের কথা হয়ে গিয়েছে। প্রোলিসাইড, স্যাক্রিফাইস বৃথা যায় না, সেই প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে এই উৎসর্গ। আর কোনও ভয় নেই। চল।”
চোয়াল শক্ত করে গাড়িতে স্টার্ট দিল কবি। তার পর পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গাড়ি ছোটাল। ভোর হচ্ছে কলকাতায়। লোকজন প্রায় নেই। আজ থেকে প্যান্ডেমিকের জন্য লকডাউন শুরু। কলকাতা এমন জিনিস দেখেনি কোনও দিন। হু হু করে গাড়ি চলছে। বীরেন্দ্র কোনও কথা বলছে না। জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রয়েছে। কবির মনের মধ্যে তোলপাড় হচ্ছে। এত কাছে বসে রয়েছে লোকটা। খারাপ একটা লোক। ক্ষমতার জন্য সব করতে পারা একটা লোক। সবার সামনে সাধু সেজে থাকা একটা লোক। নিজের রক্তের না হলেও উর্জা ওর সন্তান তো! তাকে মেরে দিল। তার পর কী সুন্দর লোপাট করে দিল প্রমাণ। টিভির সেনসেশনাল নিউজ় ছাড়া আর কিচ্ছু হল না। কেউ কিছু করতে পারল না। ও নিজেও কি কিছু করতে পারল? পারবে?
পুরোহিত বলেছেন সকাল পাঁচটা ছত্রিশে আজ সূর্যোদয়। এখনও সেই সময় হয়নি। কিন্তু সূর্যদেবের আগমনের বার্তা ফুটে উঠছে আকাশে। ধূসর নীল রং উজ্জ্বল হয়ে উঠছে ক্রমশ।
আলিপুর চিড়িয়াখানা পার করে ব্রিজ পেরিয়ে গাড়ি এগোচ্ছে। কবি চোয়াল শক্ত করে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। বড় রাস্তায় পড়ে এবার বাঁ দিকে বাঁক নিয়ে কিছুটা গিয়ে আবার ডান দিকে ঢুকে গেল ওরা।
সামনে গাছপালা ঘেরা রাস্তা। বড় বড় গাছ। আচমকা যেন গাছপালার মধ্যে দিয়ে নেমে আসা নরম রোদ দেখতে পেল কবি। দেখল, বড় গাছ থেকে ঝুলছে দোলনা। তাতে লাল কুর্তি পরে, হলুদ ওড়না দুলি হ্য ভেসে আছে উর্জা! উর্জা হাসছে। গালের ডৌলে সোনালি রোম চিকচিক করছে। ওর দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে…
গাড়িটা আচমকা নড়বড় করে উঠে লাফাল একটু।
“আরে, মারবি নাকি!” বীরেন্দ্র চিৎকার করে উঠল।
হুঁশ হল কবির। সামনে পড়ে থাকা একটা ডালের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিয়েছে! অন্যমনষ্ক হয়ে পড়েছিল একটু সময়ের জন্য। কোনও মতে কবি গাড়িটাকে সামলাল।
“মারবি নাকি? কী হয়েছে তোর?” বীরেন্দ্র ধমক দিয়ে উঠল, “ঘুম কাটেনি?”
“সরি স্যর!” কবি ছোট্ট করে বলল।
“ইডিয়ট! গুর্দা নেই তোর! এখনও ও সব ভেবে যাচ্ছিস? ও সব ভাবলে হবে না। লাইফে অনেক কিছু হয়। অনেক কিছু। কেউ কারও নয়! ওপরে উঠতে গেলে রুথলেস হতে হয়। কিছু মনে রাখলে চলে না। আর যে বিশ্বাস ভাঙে, তাকে তো ক্ষমা করার প্রশ্নই নেই। সবে শুরু। সেন্টারে যাব আমি। তুই আমার সঙ্গে থাকবি। দেখবি, খেল আরও রঙিন হবে ওখানে। মোর পাওয়ার, মোর মানি, মোর ক্রুয়েলটি। ইটস ডু অর ডাই! সব হল ক্ষমতা হাতে পাওয়ার চক্কর। বুঝলি? বুঝবি। আস্তে আস্তে আরও বুঝবি। এখন সামনে দেখে চালা,” বীরেন্দ্র চোয়াল শক্ত করে কথাগুলো বলে সিটটা একটু হেলিয়ে বসল।
কবি ঠোঁট টিপে শান্ত করল নিজেকে। ক্ষমতা, টাকা, প্রতিপত্তি, এ সবই আসল? মানুষ কিছু নয়? সে দিন মাথা নিচু করে উর্জার নিথর শরীরের সামনে বসে কবির মনে হচ্ছিল, ও অমানুষ! এ ভাবে ওর একটা কথার জন্য মরতে হল উর্জাকে! উর্জার হাতের তালু তখনও গরম ছিল। সুন্দর নখগুলোয় লেগে ছিল গাঢ় বাদামি রঙের নেলপলিশ।
স্টিয়ারিংয়ের ওপর রাখা নিজের হাতের দিকে তাকাল কবি। এই হাতে কি রক্ত লেগে আছে? নির্দোষ মানুষের রক্ত! গা গুলিয়ে উঠল ওর। শ্বাস নিতে কষ্ট হল যেন। চোয়াল চেপে নিজেকে সামলাল কবি। আদৌ কি এর প্রায়শ্চিত্ত করতে পারবে কোনও দিন?
গঙ্গার পারের রাস্তা ফাঁকা। ওই দেখা যাচ্ছে ঘাট। রাস্তার বাঁ দিক করে গাড়িটাকে রাখল কবি। তার পর বেরিয়ে গিয়ে খুলে দিল বীরেন্দ্রর দিকের দরজা।
বীরেন্দ্র নামল ধীরেসুস্থে। হাত দুটো ছড়িয়ে আড়মোড়া ভাঙল। তার পর গঙ্গার দিকে তাকিয়ে হাতজোড় করে প্রণাম করল।
“স্যর,” বুলার গলা শুনল কবি।
বীরেন্দ্রও শুনেছে। ঘুরে তাকাল বুলার দিকে।
বুলা এসে দাঁড়াল। বলল, “পুরুতমশাইয়ের মেয়ের একটু শরীর খারাপ। উনি একটু পরেই আসছেন। আমি এটা বলতেই চলে এলাম। ওখানে একজনকে রেখে এসেছি।”
কবি ভাবল বীরেন্দ্র রাগ করবে। কিন্তু বীরেন্দ্র হাসল। মানে, মনমেজাজ ভাল আছে।
বীরেন্দ্র বলল, “ঠিক আছে। একটু জলের কাছে নেমে দাঁড়াই।”
চারিদিকে লোকজন কম। লকডাউন বলেই হয়তো। কবি দেখল, বীরেন্দ্র সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাচ্ছে গঙ্গার দিকে। পেছনেই বুলা। ও এগোল বুলার পিছনে।
সিঁড়ি থাক থাক করে নেমে গিয়েছে জল অবধি । আশপাশে দু’-চারজন বসে আছে। সূর্য উঠি উঠি করছে।
সামনে নদীর মধ্যে দুটো লোক কোমর সমান জলে ডুবে দাঁড়িয়ে আছে। বীরেন্দ্র চটিটা খুলে জলে ডোবা সিঁড়িতে পা দিয়ে দু’ধাপ নেমে গেল। বুলাও নামল এক ধাপ। বুলার শার্টের পেছন উঁচু হয়ে আছে। ওখানে কী আছে জানে কবি ।
সামনের লোক দুটো বীরেন্দ্রর জলে নামার আওয়াজ শুনে ফিরে তাকাল। তার পর আচমকা জলের তলা থেকে হাত তুলল। আর দু’জনের হাতেই পিস্তল!
বীরেন্দ্র ঘাবড়ে গিয়ে পেছনে ঘুরে উঠতে গেল, কিন্তু ভিজে সিঁড়িতে পা পিছলে পড়ে গেল জলের মধ্যে। লোক দু’জন জলের মধ্যে দিয়ে ছপছপ করে এগিয়ে এল দ্রুত।
বুলা থমকে গেল। তার পর প্যান্টের কোমরের পিছনে গোঁজা পিস্তলটা বের করতে গেল আর ঠিক তখনই কবি এগিয়ে গিয়ে বুলার হাতটা চেপে ধরল পিছন থেকে!
বুলা ঘুরে তাকাল ওর দিকে। চোখে আতঙ্ক! ঘাটের ওখানে বসে থাকা লোকেদের মধ্যে থেকে একটা লোক উঠে এল এবার। আর সময় নষ্ট না করে বুলার মাথায় গুলি করল কাছ থেকে। বুলা কবির দিকে তাকিয়ে থেকে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে পড়ে গেল জলে।
বীরেন্দ্র তাকাল কবির দিকে। চোখে অবিশ্বাস, “তুই… তুই… কী করলি তুই এটা? জানিস তুই… জানিস আমি…”
“সুন্দরভাইয়া কী জয়! উদয়জি কী জয়!” জলের মধ্যে দাঁড়ানো লোক দুটো চেঁচিয়ে বলল। আর কবি দেখল, ঘাটে বসে থাকা অন্য সাধারণ দেখতে লোকজনও পিস্তল হাতে উঠে দাঁড়িয়েছে!
বীরেন্দ্র ভয়ের চোখে তাকাল সকলের দিকে। কবির চোয়াল শক্ত। সে তাকিয়ে রইল বীরেন্দ্রর দিকে।
লোক দুটো আর সময় নষ্ট না করে খুব কাছ থেকে পর পর দশটা গুলি করল বীরেন্দ্রকে। ধাতব শব্দে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল সকালের স্তব্ধতা।
বীরেন্দ্রর শরীরের ফুটো দিয়ে রক্ত উপচে উঠে লাল করে দিল নদীর জল। ওর নিথর দেহ ভেসে রইল জলের ওপর।
লোক দুটো এগিয়ে এল কবির দিকে। তার পর বলল, “থ্যাঙ্কস। তুনে সহি কিয়া! যে নিজের মেয়েকে মেরে দেয় তাকে উদয়জি কোন ভরসায় দলে নেবে? এখন তোকে গুলি করব পায়ে। স্ট্যাব করব কাঁধে। রেডি?”
কবি চোয়াল শক্ত করে বলল, “লালুর টাকা?”
“পেয়ে যাবে, লোক আছে আমাদের। সে দিয়ে দেবে ঠিক জায়গায়,” লোকটা সরে দাঁড়াল একটু।
কবি চোয়াল শক্ত করল। লোকটা আচমকা কাঁধের কাছে ছুরি বসিয়ে দিল ওর। তার পর গুলি করল ওর পায়ে।
যন্ত্রণায় সারা শরীরে যেন বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ল কবির! ও পড়ে গেল মাটিতে। লোকটা এবার পিস্তলের বাঁট দিয়ে মাথার পাশে মারল ওকে। মাথার মধ্যেও ফাটল কবির! কিন্তু ও জানে এটা দরকার। জানে এটা না হলে ও বাঁচবে না। নিজেকে শুধু শুধু মেরে লাভ কি!
আসলে লালুই প্রস্তাবটা এনেছিল কয়েকদিন আগে। কিন্তু তখন পাত্তা দেয়নি কবি। কিন্তু সেই রাতের পর ও নিজেই গিয়েছিল লালুর কাছে। লালু নিজের ঘরে বসে মোবাইলে কারও সঙ্গে কথা বলছিল তখন। ওকে দেখে মোবাইলটা নামিয়ে রেখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল।
কবি কোনও রকম ভনিতা না করে বলেছিল, “যেটা বলেছিলিস, সেটা করা যাবে?”
লালু বলেছিল, “আরে, হঠাৎ কী হল? তুই নিজে থেকে বলছিস!”
কবি চোয়াল শক্ত করে তাকিয়েছিল ওর দিকে। গলার কাছটা ব্যথা করছিল খুব। চোখ জ্বালা করছিল। চোখের জলের মধ্যে কী থাকে যে, এমন জ্বালা করে চোখ! নাকি মনের বিষ চোখের জলকে বিষাক্ত করে দেয়! কবির মনে হচ্ছিল বলে দেয় কী হয়েছে। কিন্তু কোথায় যেন বাঁধছিল। সারা জীবন যে কাউকেই মনের কথা খুলে বলতে পারল না ও!
ওর মুখচোখ দেখে লালু বলেছিল, “আচ্ছা আচ্ছ তুই বোস।”
“বসতে আসিনি। তুই আমার কথার উত্তর দে। আমার সময় নেই। ওই লোকটার বেঁচে থাকার আর কোনও অধিকার নেই। বল, করা যাবে কি না ।” লালু চোয়াল শক্ত করে বলেছিল, “যাবে। অফার ওপেন আছে। আমারও সুবিধে হয়। আর টোটাল সেফ।”
“সেফটি ইমপর্ট্যান্ট নয় আমার কাছে। আমি জানাচ্ছি তোকে একটু পরে,” কবি সে দিন আর কথা বাড়ায়নি। নিজের ঘরে ফিরে গিয়েছিল।
তার পর গতকাল রাতেই আজকের সকালের প্রোগ্রাম, মানে কোথায় এবং কখন যেতে হবে বীরেন্দ্রর কাছ থেকে জেনে নেওয়ার পরে ও আবার গিয়েছিল লালুর কাছে। লালু অপেক্ষাই করছিল ওর জন্য।
কবি গিয়ে ওদের গঙ্গার ঘাটের প্রোগ্রামটা বিস্তারিত ভাবে বলেছিল লালুকে।
লালু শুনেছিল সবটা, তার পর বলেছিল, “কাজ হয়ে যাবে। আমি জানিয়ে দিচ্ছি। তবে এটা জানবি যে তোকেও ওরা আহত করবে। না হলে মুশকিল আছে। পরে পুলিশকে জাস্ট বলবি যে, তুই কিছু জানিস না। আর তোকে আহত অবস্থায় দেখলে তোর ওপর সন্দেহও থাকবে না!”
কবি আর কিছু না বলে উঠে আসছিল ঘর থেকে।
লালু আচমকা বলেছিল, “উর্জাকে যে বীরেন্দ্র মেরেছে সেটা আমাকে না বললেও বুঝতে পেরেছি আমি । কিন্তু কবি, তুই এর মধ্যে এলি কেন?
তোর মুখচোখ এমন কেন! কেন সারাক্ষণ গুম হয়ে থাকিস তুই! তুই কি… কবি, তুই কি….”
মাথার মধ্যে সাংঘাতিক যন্ত্রণা। আলো নিভে আসছে। আকাশ হলুদ লাগছে এবার। আর গাছের হাওয়া এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে শরীর। কবির চোখ বুজে আসছে ক্রমশ। আলো বাড়ছে। হলুদ নরম রোদ ছড়িয়ে পড়ছে ঘাসে, মল্লিকার ডালপালায় আর ওই বড় গাছটার লম্বা নরম পাতায়। হাওয়ার শব্দ নরম পালকের মতো ছুঁয়ে যাচ্ছে ওই বাগান, ওই বাড়িঘর আর এই শহরকে। তার মাঝে ওই দোলনায় বা রয়েছে উর্জা। দুলছে ও। লাল কুর্তা আলো করে রয়েছে বাগান। হলুদ ওড়না মাটির সঙ্গে সমান্তরাল স্পষ্ট ভাবে ভেসে আছে হাওয়ায়। রোদ এসে নরম মাখনের মতো লেগে আছে উর্জার কপালে। সামান্য সোনালি রোম চিকচিক করছে কানের পাশে, গালের ডৌলে! আর হাসছে উজা। হাওয়ায় দুলতে দুলতে হাসছে। সুন্দর হাতের আঙুল আঁকড়ে ধরে আছে দোলনার ওই দড়ি। দোলনায় ভেসে থাকতে থাকতে মাথা হেলিয়ে দিয়েছে উর্জা! হাতছানি দিয়ে ডাকছে ওকে। প্রজাপতির ডানার মতো নড়ছে উর্জার হাত। ওকে ডাকছে সেই হাত। হাওয়ায় এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে উর্জার বাদামি চুল। গালের ওই এক কুঁচি চুনির মতো ছোট্ট লাল তিলটাও যেন দেখতে পাচ্ছে স্পষ্ট!
উর্জা বাড়িয়ে আছে হাত। ডাকছে ওকে। হাওয়ায় এলোমেলো চুল এসে পড়ছে উর্জার মুখের ওপর। যেন বলছে, আমার কাছে এসো। আমায় ধরো। উর্জার ছোট্ট গোলাপি ঠোঁট ফাঁক হল। উর্জা হাসছে এখনও। হাওয়ার জোর বাড়ছে। তার স্পর্শে দু’চারটে মল্লিকা কি ঝরে পড়ছে পথে!
এ পথ কোথায় যায়? কার কাছে যাবে বলে এর বিস্তারে নেমে আসে পথিক? কার জন্য সে সহ্য করে সব? কার স্পর্শ পাবে বলে বাড়িয়ে রাখে আজীবনের হাত? কার জন্য নিজেকে পেতে রাখে এই পথ? সেই পথে কেন তুমি ঝরে পড়ো মল্লিকা? শূন্য পথের সমস্ত মল্লিকা কার জন্য বিছিয়ে রাখে এই পৃথিবী?
কবি পড়ে রইল বাঁধানো ঘাটে। ভোরের হাওয়া এসে ছুঁয়ে দিল ওর মুখ। আর চরাচর ধুইয়ে দিয়ে এই আশ্চর্য শহরের মাথার ওপর আলোর ঝারি হাতে উঠে দাঁড়ালেন সূর্যদেব।
নতুন দিন শুরু হল।
