Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প698 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৪. জিনি

    নিধি একটা নতুন স্কুটি কিনেছে! বেশ সুন্দর হলুদ রঙের স্কুটি। আজকাল সেটা নিয়েই ইউনিভার্সিটিতে আসে ও। আজও এসেছে। স্কুটির সঙ্গে ম্যাচ করে একটা হেলমেটও আছে। কিন্তু সেটা যেখানে-সেখানে ফেলে রাখে ও।

    জিনিকে স্কুটিতে বসিয়ে একদিন ঘোরাতেও নিয়ে গিয়েছিল নিধি। কিন্তু সে যা অভিজ্ঞতা হয়েছে জিনির! তার পর থেকে আর রিস্ক নিচ্ছে না। মেয়েটা কোনও ট্র্যাফিক মানে না। লাল, সবুজ কোনও রং বোঝে না। যেখান দিয়ে ইউ টার্ন নেওয়ার নয়, সেখান দিয়ে ইউ টার্ন নেয়। যেখান দিয়ে ডান দিকে বেঁকতে বারণ করা হয়েছে, সেখান দিয়েই ও ডান দিকে বেঁকবে। নো পার্কিং-এ পার্ক করবে। পুলিশে ধরলে সরকারি নানা বড় অফিসারকে কাকু, দাদা বলে ফোন করে ব্যাপারটা সামলাবে। যে-মেয়ে সারা পৃথিবীর চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘোরে, সে কী করে এমন করতে পারে! জিনি অবাক হয়ে যায়।

    নিধিকে এই নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল জিনি। জিজ্ঞেস করেছিল, “তুই কী শুরু করেছিস বল তো! এ ভাবে কেউ গাড়ি চালায়!”

    নিধি হেসে বলেছিল, “সবাই তো নিয়ম মানে মোটামুটি। তার মধ্যে আমি একা নিয়ম না মানলে কী হয়েছে। আমি আর আমার ওই ছোট্ট হলুদ স্কুটি কী এমন ক্ষতি করতে পারে বল!”

    জিনি এর কী যে উত্তর দেবে বুঝে উঠতে পারেনি। ও মাথা নেড়ে বলেছিল, “আবার তুই সারা পৃথিবীর জন্য চিন্তা করিস! কী অদ্ভুত কন্ট্রাডিকশন!”

    “সে তো বিনিদির জন্য,” নিধি কথাটা বলে হেসেছিল খুব, “জানিস জিনি, আমায় একজন দিদি পড়াত। বিনিদি। এইচএস-এ তো সায়েন্স ছিল আমার। তখন পড়াতে আসত। ফিজিক্স। ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট। নিজে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ত। ইলেক্ট্রনিক্স নিয়ে। গরিব বাড়ির মেয়ে, কিন্তু স্টাইপেন্ড পেত। আমার ঠাকুমা খুব ভালবাসত বিনিদিকে। বলত জলপানি পাওয়া মেয়ে। আমার ঠাকুমা কিন্তু বাঙালি, জানিস তো! বলত জলপানি! স্কলারশিপকে কেন জলপানি বলে রে?”

    “আঃ” বিরক্ত হয়েছিল জিনি, “একটা কথা স্বাভাবিক ভাবে বলে শেষ করতে পারিস না! তার পর, সেই বিনিদির কী হল?”

    “কী আবার হবে! এখন হায়দরাবাদে আছে। শুনছি কয়েক মাসের মধ্যে সিলিকন ভ্যালিতে চলে যাবে। তা সেই বিনিদি একটা এনজিও-তে যুক্ত ছিল। দুঃস্থ মানুষের জন্য খুব করত দিদিটা। আমার দেখে এত ভাল লাগত! দিদিই আমার চোখ খুলে দিয়েছিল, জানিস! আমি যেটুকু যা করি তা দিদির থেকেই শেখা।”

    জিনি জানে এটা পুরোটা সত্যি নয়। এ সব কারও মধ্যে থাকলে এমনিই থাকে। আর যার থাকে না, তার কোনও অবস্থাতেই থাকে না! এই যে জিনি, ওর কি ইচ্ছে করে না লোকের জন্য করতে? কিন্তু পারে না খুব একটা। কোথায় যেন আটকায়। ও দেখেছে মানুষকে সাহায্য করতে গেলেও সমাজের নানা স্তর থেকে নানা রকম বাধাবিপত্তি আসে। ধমক চমক আসে। কারও জন্য কিছু করলে, সেটাকে ব্যবহার করে মাইলেজ নেওয়ার জন্য ঝান্ডা কাঁধে নানা দল এসে উপস্থিত হয়।

    অসহায় বৃদ্ধাকে স্টেশনে ছেড়ে রেখে চলে গিয়েছে তার সন্তান, এমন খবর করার জন্য ও ভি ভ্যান নিয়ে নানা সংবাদমাধ্যম আসে, কিন্তু কাজ হয়ে গেলে বৃদ্ধাকে অমন একা রেখে দিয়েই তারা ‘দারুণ নিউজ হয়েছে’ ভেবে অফিসে ফিরে যায়! এমন কত ঘটনা আছে। সবটাই যেন প্রোডাক্ট! সবাইকে যেন সব কিছু বিক্রি করতেই হবে! সে কর্পোরেটের টপ অফিশিয়াল থেকে পাড়ার বিস্তির ছোটদি বা সেজকা। সবাইকে, কোম্পানির প্রোডাক্ট থেকে শুরু করে নিজের রান্না করা পায়েস, পুজোয় কম্বল বিতরণ থেকে রাস্তার অবলা কুকুরকে বিস্কিট খাওয়ানো অবধি সব কিছুর যেন বিজ্ঞাপন করতেই হবে! বুকনি আর বাতেলা দিয়েই সবাই নিজেকে জাহির করতে ব্যস্ত। ক্যাশ বা কাইন্ড। যেখানে যা রেকগনিশন পাওয়া যায়, তাই তালু থেকে কনুই অবধি গড়িয়ে পড়া আমের রসের মতো জিভ দিয়ে চেটে খেয়ে নিতে হবে! এমন হ্যাংলামো চলছে চারিদিকে যে, ভাবা যায় না!

    এর মধ্যে কাউকে সাহায্য করতেও জিনির কেমন যেন বাধো বাধো ঠেকে। ওর মনে হয় লোকজন বোঝে না যে, কাউকে সাহায্য করে সেটা নিজেই ফলাও করে প্রচার করার মধ্যে মহত্ত্ব তো নেই-ই, উপরন্তু এর মতো অশিক্ষার প্রকাশ ও ছোটলোকপনা আর কোনও কিছুতে হয় না। মানুষের পাশে দাঁড়ানো তখনই মহৎ, যখন তা নিভৃতে হয়, সেটা নিয়ে প্রচার করা আর বিষ্ঠা ছড়ানো একই বস্তু।

    “কী নায়িকা, একা একা বসে কি নায়কের কথা ভাবা হচ্ছে?” নিধি এসে বসল জিনির পাশে।

    ক্লাসঘরটা প্রায় ফাঁকা। গ্যালারির মতো থাক থাক পাতা বেঞ্চ। সামনে কয়েকজন বসে আছে। আর পিছনের দিকে একা বসে নোট টুকছিল জিনি। আর টুকতে টুকতে জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে কী সব যে চিন্তা করছিল!

    জিনি হেসে খাতা আর লাইব্রেরি থেকে আনা বইটা গুটিয়ে ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখল। তার পর ওর পাশে রাখা নিধির হলুদ হেলমেটটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “এটা ধর। যেখানে-সেখানে ফেলে রাখিস! আমি কি তোর জিনিস গুছিয়ে বেড়াব নাকি?”

    নিধি হেলমেটটা নিয়ে পাশে রেখে বলল, “না হলে আর তোর সঙ্গে বন্ধুত্ব করলাম কেন!”

    জিনি ঠোঁট কামড়ে ছোট্ট করে মারল নিধির হাতে। তার পর বলল, “আমি একটু বেনেটোলার মুখে যাব। আনন্দ র বইয়ের দোকান থেকে আমায় টিনটিনের কমিকস কিনতে হবে।”

    “কার জন্য? নায়কের জন্য?” নিধি ভুরু তুলে নাচাল।

    “খালি বাজে কথা!” জিনি হাসল।

    নিধি ভুরু তুলে ঘাড়টা একটু কাত করে বলল, “তোর কি খুব খারাপ লাগল? সত্যি করে বল তো!”

    জিনি কিছু না বলে ঠোঁট কামড়াল।

    এমনিতেই কবি খুব চুপচাপ ধরনের ছেলে। কিন্তু আজকাল আরও চুপচাপ হয়ে গিয়েছে যেন। কিছু দিন আগে দেখেছিল, অনেক রাত করে কেমন যেন এলোমেলো হয়ে ফিরেছে। পরের দিন জেনেছিল বীরেন্দ্রর ওপর হামলা হয়েছে। বীরেন্দ্রর বডিগার্ড মারা গিয়েছে। কবিও তো সঙ্গে ছিল। ওর কিছু হয়নি এটাই অনেক। জিনির যে বুকের মধ্যে কেমন করেছিল সবটা জানার পর! কিন্তু কবির সঙ্গে এই নিয়ে কোনও কথাই বলা যায়নি। ছেলেটা কেমন যেন একদম গুটিয়ে নিয়েছে নিজেকে। জিনি আড়াল থেকে লক্ষ করেছে, ওদের বাড়ির পিছনে যে-বাগানটা আছে, সেখানে এক রাতে একা-একা বসে কাঁদছিল ছেলেটা।

    জিনি সামনে যায়নি। ওর মনে হয় কান্না খুব পার্সোনাল একটা ব্যাপার। সবার সামনে রাগারাগি, হাসাহাসি, ইয়ার্কি করা গেলেও কাঁদা যায় না। মানুষ যদি কারও সামনে কাঁদে, তা হলে বুঝতে হবে সেই মানুষটাকে সে নিজের জীবনে বিশেষ একটা জায়গা দিয়েছে।

    কবির জীবনে সেই জায়গা নেই জিনির। তাই ও সামনে যায়নি। শুধু মনে হয়েছিল কী হয়েছে কবির যে, এমন করে কাঁদছে একা একা! পরের দিন লালুকে ধরেছিল জিনি।

    লালু ছেলেটা অদ্ভুত। সারা দিন বীরেন্দ্রর স্ত্রীর নানা কাজকর্ম করে দেয়। তার পর সন্ধের পর থেকে একদম একা থাকে। ছেলেটাকে এই জন্য ভাল লাগে জিনির যে, প্রথম থেকেই ওকে বোনের মতো দেখে। খুব বেশি না হলেও কিছুটা জীবন তো দেখেছে জিনি। দেখেছে অধিকাংশ ছেলেই একটু কথা বলার পরেই কেমন যেন গায়ে পড়তে চায়। পার্সোনাল হতে চায়। কেউ কেউ তো সরাসরি ‘হুক আপ’ করতে চায়! কী করে তারা এমন অসভ্যের মতো ব্যবহার করে জানে না জিনি, কিন্তু দেখেছে, করে।

    সেখানে লালু একদম ওরকম নয়।

    লালুকে জিনি জিজ্ঞেস করেছিল, “কী হয়েছে গো তোমার বন্ধুর? এমন একাচোরা হয়ে আছে কেন? সে দিন দেখলাম কান্নাকাটি করছে!”

    লালু তাকিয়েছিল ওর দিকে। তার পর বলেছিল, “আসলে একটা মেয়েকে প্রোপোজ করেছিল। সে ‘না’ করে দিয়েছে। তাই কান্নাকাটি করছে আর কী।”

    পঁচিশটা লাল পিঁপড়ে যেন একসঙ্গে বুকের মধ্যে কামড়েছিল জিনিকে! প্রোপোজ়! কবি! যে কথাই বলে না কারও সঙ্গে! সারাক্ষণ ভুরু কুঁচকে থাকে, সে কি না প্রোপোজ করেছে? সত্যি?

    তার পরেই মাথায় আগুন লেগে গিয়েছিল। অবশ্য এরকম করতেই পারে– ওর মনে হয়েছিল! এমন চুপ করে থাকে যারা তারাই মিটমিটের ডান হয়। সবার সামনে গুরু দত্তের মতো মুখ করে থাকে, পিছনে দ্যাখো, কোথায় কী করে বেড়াচ্ছে! বীরেন্দ্র নিজে লোক ভাল নয়। তার সঙ্গে যে থাকে সেও কি সাধুপুরুষ হবে নাকি!

    এই যে বীরেন্দ্রকে গুলি করার চেষ্টা করা হয়েছিল, এ সব কি ভাল লোকেদের সঙ্গে হয়! আর এমন একটা লোকের সঙ্গে সারাক্ষণ লেজুড় হয়ে ঘোরে কবি। আরে, বাজে লোকেদের সঙ্গে থাকলে মানুষের উন্নতি হয় নাকি! সঙ্গদোষ বলেও তো একটা কথা আছে।

    কিন্তু তার পরেই মনে হয়েছিল, লালু কি সত্যি বলল? কাকে প্রোপোজ় করেছে কবি? রোগা, ফর্সা, গালে হালকা দাড়ির আড়ালে লম্বা দুটো টোল। চোখের সামনে যেন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিল জিনি। মাথার আগুন ছাপিয়েও এবার বুকের মধ্যে প্রাণপণে বিষ ঢালছিল পিঁপড়েরা। জিনি বুঝতে পারছিল, ক্রমে এই পিঁপড়ের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে ওর জীবনে।

    নিজেকে সামলাতেই জিনি চোয়াল শক্ত করে মাথা নামিয়ে নিয়েছিল। ওকে দেখে হিহি করে হেসে উঠেছিল লালু। যেন খুব মজা পেয়েছে। লালুর সামনের ভাঙা দাঁতটা বেরিয়ে পড়েছিল হাসির সময়ে।

    লালু কোনও মতে নিজেকে সামলে নিয়ে বলেছিল, “হল তো! পুরো ধসে গেলি! আরে, আমি ইয়ার্কি করছি। ও করবে প্রোপোজ! তুই পাগল হলি! দেখিস না ও কেমন নিজের মধ্যে থাকে! কারও সঙ্গেই কোনও কথা বলে না। রাতে খেতে গিয়েও খাবার চায় না। যা দেয় চুপচাপ খেয়ে নেয়।”

    “তা হলে কাল রাতে কাঁদছিল কেন?” জিনি ভুরু কুঁচকে তাকিয়েছিল। লালু বলেছিল, “তা জানি না। তবে ভালই করছিল, জানিস!” “কিসের ভাল?” জিনি বুঝতে পারেনি লালু কী বলতে চাইছে।

    লালু বলেছিল, “আমার বড়দাদু বলত, মন হল ঝাঁঝরির মতো। সাদাকালো, ভাল-খারাপ, ইচ্ছে-অনিচ্ছে, মান-অপমান— কত কী আসে আমাদের মনে। কিন্তু খারাপগুলো ভেতরে আটকে রেখে আপাত ভাবে সঠিক আর ন্যায্য জিনিসটাই আমাদের প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু যা প্রকাশ করা গেল না? মনের ঝাঁঝরিতে সেই ইচ্ছেগুলো, সেই না-পাওয়াগুলো, মনখারাপগুলো, অপমানগুলো, অনিচ্ছাকৃত ভুলগুলো সব বাজে কাগজ, চুলের গোল্লা, ফলের চোকলা ইত্যাদি নানা ময়লার মতো জমে থাকল যে! একা একা কান্না হল সেই ঝাঁঝরি খুলে চোখের জলে সেই সব ময়লা পরিষ্কার করে নেওয়া। দেখবি, কান্নার পরে কেমন ক্লান্ত লাগে। ময়লা পরিষ্কারের পরিশ্রম কম। তার পর দেখবি, আস্তে আস্তে কোথায় যেন একটু ভাল বোধ হয়। পজিটিভ বোধ হয়। ময়লা ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাওয়া মনের ভেতরটা চকচক করে।”

    জিনি তাকিয়েছিল লালুর দিকে। মানুষের মধ্যে কত কী যে থাকে! লালুকে দেখলে কে বলবে যে, ও এমন করে ভাবতে পারে। এমন করে কথা বলতে পারে।

    লালু বলেছিল, “তাই কেউ একা, নির্জনে গিয়ে কাঁদলে তাকে জিজ্ঞেস করতে নেই কেন কাঁদছে। আসলে সাফাইয়ের কাজ চলছে তো! তাকে শান্তিতে সেই কাজ করতে দিতে হয়।”

    জিনির আর জানা হয়নি কী হয়েছে কবির। শুধু লক্ষ করেছে, ওই ঘটনাটার পরে আজকাল যেন আরও চুপ করে গিয়েছে ছেলেটা। আরও একা, আরও গম্ভীর! এই বয়সে আর কাউকে এমন দেখেনি জিনি।

    আর যে এমন করে একা থাকে তাকে নিজে থেকে কতটাই-বা বলা যায়! জিনি বোঝে না ওর কী করা উচিত। এরকম চুপ করে থাকা উচিত, নাকি এগিয়ে গিয়ে কবির ওই পাঁচিলটা নিজের হাতে ভেঙে দেওয়া উচিত।

    ক্লাস থেকে বেরিয়ে করিডোর ধরে হাঁটা দিল জিনি। নিধি বলল, “বল না কার জন্য কিনবি ছোটদের বই?”

    জিনি হাসল, “টিনটিন ছোটদের বই কে বলল? টিনটিন হল সুকুমার রায়ের বইয়ের মতো। ছোট-বড় সবার!” “তাই? কী সব বলিস।”

    গলাটা পেয়ে জিনি চমকে গেল একটু। দেখল, নীচে নামার সিঁড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে বিধান।

    নিধি ভুরু কুঁচকে বিধানের দিকে তাকিয়ে বলল, “তোর কি সিঁড়িতেই ডিউটি? নাকি জিনিকে স্টক করছিস? মানে, তোর দাবিটা কী? আমরা যখনই কথা বলি, মাটি ফুঁড়ে ঠিক এখানেই উদয় হোস কী করে? হ্যাংলা না স্পাই, কী তুই?”

    বিধান পাত্তা দিল না নিধিকে। জিনির দিকে তাকিয়ে বলল, “টিনটিনও ফ্যান্টমের মতো হোয়াইট মেগালোম্যানিয়ার প্রোপাগান্ডা! অ্যার্জে মানে, জর্জ রেমির জানিস তো নাৎসি লিঙ্ক পাওয়া গিয়েছে। নাৎসিরা যখন বেলজিয়াম অকুপাই করেছিল, সেখানকার সব ইলাস্ট্রেটর আর আর্টিস্টরা কিন্তু তাদের হয়ে কাজ করেনি। কিন্তু রেমি করেছিলেন। নাৎসিদের সঙ্গে লিঙ্ক ছিল এমন নিউজ পেপারে নিজের কার্টুন ছাপিয়েছিলেন।”

    জিনি বিরক্ত হল এবার। বলল, “তার আগে কিন্তু জাপানিজ ইমপেরিয়ালিজমের বিরুদ্ধে ও ইউরোপে নাৎসি এক্সপ্যানশনের বিরুদ্ধেও উনি লিখেছেন। নাৎসিরা বেলজিয়াম অকুপাই করার পর সেখানকার কী দশা হয়েছিল কেউ জানে? পরে উনি এ সব থেকে সরে এসেছিলেন। আর নিজের গল্পের কয়েকটি চরিত্রকে মডিফাইও করেছিলেন। রিগ্রেটও করেছেন। খুব সামান্য কিছু কাজই করেছিলেন ওই সময়ে। গোটা ছবিটা দেখ। পারশিয়াল নয়, বুঝেছিস! পারশিয়াল ইনফরমেশন নিয়ে সেটাকে নিজের ইচ্ছে মতো মোল্ড করে ফেক নিউজ় তৈরি করাটা বন্ধ কর।” বিধান গোঁ ধরা গলায় বলল, “সামান্য হলেও করেছিলেন তো! সেটাই-বা কেন!”

    “আরে মোলো যা! কবে কী হয়েছে, তুই এখানে হাঁপিয়ে মরছিস কেন? আর মানুষ বলেই সে ভুল করে। পরে আবার সে শুধরেও নেয়। তোদের এই হার্ড লাইনড পলিটিক্সের নেতারা ভুল করে না? তাদের পায়ে পড়ে থাকিস কেন? রেমি না হয় কয়েকটা কমিকস ছাপিয়েছেন? আর সেই সময় ইউরোপের বড় বড় নেতা, হিটলারের সঙ্গে সন্ধি করেনি? পোলান্ড ভাগ করে নেয়নি? পরে আবার যুদ্ধও করেছে। আশি-নব্বই বছর পরের পৃথিবীতে বসে এ সব বলা যায়। সবাই জানে নাৎসিরা অমানুষ। কেউ তাদের সমর্থন করছে না। রেমিও করেননি। টিনটিন একটা আর্ট, বুঝেছিস? প্রো ক্যাপিটালিজম, নিও কলোনিয়ালিজম এ সব বলে লাভ নেই। যে-কোনও গ্রেট আর্ট ফর্ম সেই সময়ের সোসাইটি, মেন্টালিটি, পলিটিক্স ইত্যাদিকে রিফ্লেক্ট করে। আর তোদের মতো কিছু আমোদগেঁড়ে সারা জীবন যা পপুলার আর যার মাস কানেকশন আছে, তাদের খিস্তি করে নিজেদের অক্ষমতা থেকে উদ্ভূত কমপ্লেক্স মেটাস। এ দিকে শেক্সপিয়র পপুলার হলে কিন্তু তোদের অসুবিধে নেই। ডাবল স্ট্যান্ডার্ড সোয়াইন!” নিধি রীতিমতো ফুঁসছে।

    বিধান বাঁকা হেসে মাথা নাড়ল, “শেক্সপিয়র আর টিনটিন! তুলনা হল?”

    “কেন নয়?” নিধি কোমরে হাত দিয়ে এগিয়ে গেল। জিনি দেখল ঝগড়া দেখতে চারিদিকে ছোটখাটো একটা ভিড় জমে গিয়েছে। নিধি বলল, “কেন নয় বল! যে যার ফিল্ডে বেস্ট। ক্লাসিক। অসাধারণ। দুটো আলাদা আর্ট ফর্ম। আলাদা এক্সপ্রেশন। আমার ‘ম্যাকবেথ’ পড়ে যেমন ভাল লাগে তেমন ‘কিং অটোকার্স সেপটার’ পড়েও লাগে। আবার ‘থ্রু দ্য অলিভ ট্রিজ়’ দেখে যেমন ভাল লাগে, তেমন। খেলা দেখেও ভাল লাগে। এ সব কিছু মানুষের ভাল লাগার জন্য। সব ব্যাপারে পণ্ডিতি না করলেই নয়, না! জানিস তো এই যে বাজে সমালোচনা করে তুই প্রমাণ করতে চাইছিস যে, অনেক জানিস, তুই বিজ্ঞের বাটখারা, আসলে কিন্তু এটাই প্রমাণ করছিস যে, তুই একটা অর্ধশিক্ষিত। যেটা অশিক্ষিতের চেয়েও খারাপ। কারণ, যার মন খোলা নয়, যে একবগ্গা একটা ধারণা ধরে থাকে, যে কিছুতেই অন্যের যুক্তি বুঝতে চায় না, সে আসলে নিজে মনে মনে একজন নাৎসি। শুধু বুলেট নয়, জানবি আইডিয়া অলসো কিলস। আর তোদের মতো হাফ উইটেড, সব ভাল জিনিসের খুঁত ধরে অন্যকে ছোট করে নিজে বড় হতে চাওয়া গান্ডুগুলো আসলে আ কাইন্ড অফ নাৎসি। কিন্তু মজা হল, সেটা তোরা নিজেরাও বুঝিস না। মানে এতটাই বোধবুদ্ধিহীন তোরা। টিনটিনকে খিস্তি না করে নিজে বড় কিছু করার চেষ্টা কর। অন্যকে ছোট করে দেখার চেষ্টার মধ্যে দিয়ে নিজের কুচুটেপনা আর অক্ষমতাই দেখাচ্ছিস। তার তো কোনও লোমও ছেঁড়া যাচ্ছে না। আসলে ক্রিয়েটিভলি তুই যে একটা বিগ জিরো, সেটাই প্রমাণ করছিস এ সব বলে। ওয়েক আপ ফাকার! দেয়ার ইজ্ স্টিল টাইম। ওয়াক আওয়ে ফ্রম ইওর সিটি লাইফ।”

    বিধান আর কিছু না বলে থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে রইল। জিনি অবাক হয়ে দেখল, নিধি রীতিমতো ফুঁসছে। মুখ-চোখ লাল। কপালের শিরা ফুলে উঠেছে। জিনি ওকে আর কিছু বলতে না দিয়ে হাত ধরে টানতে টানতে নীচে নিয়ে গেল।

    বিধানও পিছন পিছন এল সিঁড়ি বেয়ে। বলল, “এই নিধি, আমি এমনি ক্যাজুয়ালি বলছিলাম। এত রেগে গেলি কেন? কী হয়েছে তোর? এই নিধি…

    নিধি ঘুরে তাকাল বিধানের দিকে। তার পর কঠিন গলায় বলল, “তুই বুঝলে মানুষ হয়ে যেতিস। সারাক্ষণ ঘুরঘুর… সারাক্ষণ জিনির পিছনে…”

    আনন্দ-র দোকান থেকে দুটো টিনটিনের বই কিনে আর দাঁড়াল না জিনি। বাস ধরে নিল। নিধিও বিশেষ কিছু বলল না আর।

    ওই ঝগড়ার পরে নিধিও কেমন চুপ করে গিয়েছে। দরকারের চেয়ে বেশি রেগে গিয়েছিল যে, সেটা কি নিজেও বুঝতে পেরেছে!

    কে জানে বাবা! জিনি আর জিজ্ঞেস করেনি। নিধির কী যে হয় মাঝে মাঝে। বিশেষ করে বিধানকে দেখলেই আজকাল কেমন যেন রেগে যায়।

    বিধান ছেলেটা খারাপ নয়। কিন্তু সব বিষয়েই বেশি জানে দেখাতে যায়। একটা শ্যালো পণ্ডিতি আছে। অনার্সে একসঙ্গে পড়ত কিছু পাশের পেপার। একবার জিনিকে প্রোপোজও করেছিল। জিনি ‘না’ করে দিয়েছিল। তার পর আর কোনও দিন সে সব নিয়ে কিছু বলেনি। কিন্তু জিনি বোঝে যে, তার কাছাকাছি কেন ঘোরাঘুরি করে ছেলেটা।

    বাসে ভিড় নেই। বেলা সাড়ে তিনটে বাজে। এখনও অফিসের সেই ভিড়টা শুরু হয়নি। তবে রাস্তায় ভিড় আছে। জানলার ধারে জায়গা পেয়ে গিয়েছে জিনি। গাড়ি-বাস ছুটছে হু হু করে। মানুষ ছুটছে তার চেয়েও বেশি জোরে। বড় বড় বাড়ির ছায়া, শুকোনো কাপড়ের মতো পড়ে আছে রাস্তার এ মাথা থেকে ও মাথা। কেমন যেন মনমরা তাদের রং! এত ব্যস্ততাতেও যেন কোনও হেলদোল নেই। ওর আবার কবির কথা মনে পড়ল। মনে পড়ল রাতের বেলা ছোট্ট বেঞ্চে বসে একলা একটা ছেলে ফুলে ফুলে কাঁদছে!

    জীবনের রহস্য নিয়ে মাঝে মাঝে খুব অবাক হয় জিনি। এত অসংখ্য মানুষ এই পৃথিবীতে, কিন্তু তাদের মধ্যে কেন একজনের জন্যই এমন মনখারাপ করে অন্যজনের! কেন মাত্র একজনকে দেখলেই বুকের মধ্যে ঢেউ ভাঙে! ধুলোয় ডানা ঝাপটায় চড়াই! কেন মনে হয় তাকে না পেলে এই বেঁচে থাকা অনর্থক! নিজের অস্তিত্বকেও কেন এমন শূন্য লাগে তাকে ছাড়া! জিনি জানে না কিছু। বোঝেও না। শুধু অদ্ভুত ছমছমে একটা কষ্ট আর আনন্দ লুকোচুরি খেলে মনে। যেন পাহাড়ের ওপর খেলে যাওয়া রোদছায়ার ছবি। এক মুহূর্তে নিজেকে মনে হয় দীনেরও দীন। আবার পরমুহূর্তেই মনে হয় নিজের মতো রাজা-বাদশা আর কেউ নেই ইহজগতে।

    “দিদি, টিকিট,” কন্ডাক্টর এসে দাঁড়িয়েছে সামনে।

    টিকিট কেটে ছোট্ট আয়তাকার কাগজের স্ক্রিপ্টটা হাতঘড়ির ব্যান্ডে গুঁজে রাখল জিনি। তার পর লাল কাপড়ের ব্যাগের মধ্য থেকে বের করল বই দুটো। ঝকঝকে ছাপা। কী সুন্দর!

    জিনি ভাবল মা পেলে খুব খুশি হবে। আগামিকাল মা-বাবার পঁচিশতম বিবাহবার্ষিকী। কত দিন মানুষ একসঙ্গে থাকে, তাই না! কী ভাবে থাকে? জিনি জানে, বাবা-মায়ের কোর্ট ম্যারেজ হয়েছিল। বাড়িতে কেউ মেনে নেয়নি বিয়েটা। পরে ভাড়াবাড়িতে এসে বাবার বন্ধুরা নাকি দু’জনের হাতে হাতে রেখে সঞ্চয়িতা খুলে পাঠ করে বিয়ে দিয়েছিল।

    মা, জিনিকে বলেছিল, “বিয়ের বৈদিক মন্ত্রও তো আসলে কবিতাই। তাই আমরা আমাদের পছন্দের কবিতা পাঠ করে বিয়ে করেছিলাম। দু’জন মানুষ একসঙ্গে থাকতে চায় সারা জীবন। এতে কারও তো কিছু বলার থাকতে পারে না।”

    বাবাকে দেখলে এখন বিশ্বাসই হয় না জিনির যে, এই লোকটা ওরকম ছিল।

    এখন বাবা কেমন যেন ভিতু আর খিটখিটে হয়ে গিয়েছে। সারাক্ষণ কপালে ভাঁজ। মনখারাপ। মুখে কেমন যেন অন্ধকারের ছাপ। এই বাড়িতে বাজার সরকারের কাজ করতে যে বাবার ভাল লাগে না, সেটা বোঝে জিনি। কিন্তু জুট মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে বাবা যে আর কোনও চাকরি পায়নি! বীরেন্দ্র ত্রিবেদী সেই জুট মিলের পার্টনার ছিল। সে জানত বাবা খুব সৎ, তাই বাবাকে এখানে নিয়ে এসে থাকতে দিয়েছে, কাজ দিয়েছে। না হলে বাবাকে কোনও ছোটখাটো কাপড়ের দোকানে বা মুদিখানায় কাজ করে জীবন কাটাতে হত হয়তো। বাবার জন্য এত কষ্ট হয় জিনির। বাবাকে দেখলে ও স্পষ্ট বোঝে, বাবা মনে মনে হেরে গিয়েছে। এ ভাবে সারা জীবন থাকা যে কী কষ্টের! তাই ও জানে, যা করার ওকেই করতে হবে। বাবামায়ের যে ও ছাড়া আর কেউ নেই।

    বাস থেকে নেমে হেঁটে বাড়িটা একটুখানি। দুপুরের দিকটা বাড়িটা একদম শান্ত থাকে। গেটের দারোয়ানরাও কেমন যেন ঝিমোয়। শুধু হাওয়ায় গাছপালা নড়ার একটা খসখসে শব্দ ভেসে বেড়ায় চারিদিকে। রোদ সরে যায় ওই বড় অশোক গাছ থেকে দূরের শিরীষ গাছের ডাল অবধি। কত রঙের যে প্রজাপতি ওড়ে! পাখিরা এসে মাটি থেকে কী যে খুঁটে খায় কে জানে। জিনি শুধু জানে আনমনা একটা দুপুর, বসন্তের রোদে যেন সোনালি চুল মেলে এসে বসে এই বাড়ির বড় বাগানে।

    জিনি ঘরে ঢুকে দেখল, বাবা ফুলপ্যান্ট আর স্যান্ডো গেঞ্জি পরে বিছানায় একটা খবরের কাগজ পেতে পড়ছে।

    জিনি বুঝল বাবা এই মাত্র এসেছে। সারা দিন বাড়ির নানা কাজ লেগেই থাকে। সব বাবাকে দেখতে হয়। কোনও কিছু খারাপ হলে তা ঠিকঠাক করার লোক দিয়ে মেরামত করাতে হয়। এত বড় প্রপার্টি। মেন্টেনেন্সই তো বিশাল। বাবা সারা দিন খাবার সময়ও পায় না।

    জিনি ঠিক করল মাকে এখন বই দুটো দেখাবে না। কাল দেবে একেবারে।

    জিনি “মা মা” বলে ডাকল।

    মা পাশের ছোট্ট রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এল।

    ওদের দুটো ঘর, একটা রান্নাঘর আর এক ফালি বারান্দা আছে। বারান্দার একপাশে বাথরুম।

    মা বলল, “আর জ্বর আসেনি তো? জোর করে তো ইউনিভার্সিটি গেলি!”

    “না মা, আসেনি,” জিনি হাসল, “জ্বর হয়েছিল। সেরে গিয়েছে। ব্যস। আর কিছু নয়। খালি টেনশন করো কেন তুমি?”

    মা কিছু বলতে গেল, কিন্তু পারল না। হঠাৎ বাইরে বীরেন্দ্রর গলা শোনা গেল। বাবার নাম ধরে ডাকছে লোকটা। ডাকের মধ্যে কেমন একটা রাগ যেন।

    জিনি দেখল, বাবা কোনও মতে জামাটা গায়ে গলিয়ে বেরিয়ে গেল বাইরে। জিনিও গিয়ে দাঁড়াল দরজার কাছে। আর সঙ্গে সঙ্গে ধক করে উঠল ওর বুকটা। কবি দাঁড়িয়ে রয়েছে বীরেন্দ্রর পিছনে!

    বীরেন্দ্র বাবার সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলল, “আমার বড় গাড়িটা এখনও ঠিক হয়নি কেন? তোমায় বলেছিলাম না ঠিক করিয়ে রাখতে? কেন হয়নি?”

    বাবা কেঁপে উঠল। কোনও মতে বলল, “স্যর, নিয়ে গিয়েছিলাম। ওদের গ্যারাজ বন্ধ ছিল। কাল বলেছে, ওরা এখানেই লোক পাঠিয়ে করিয়ে দেবে।”

    “কাল, সব কাল? আজ তা হলে কী করবে? কী করবে তুমি? কলকাতায় একটাই গ্যারাজ আছে? আর নেই!” বীরেন্দ্র দু’পা এগিয়ে এসে বাবার সামনে দাঁড়াল।

    বাবা আরও ঘাবড়ে গেল। বলল, “আজ তো হবে না স্যর!” “হবে না? তা হলে তুই আছিস কেন? কেন আছিস?” বীরেন্দ্র আচমকা সর্বশক্তি দিয়ে বাবার গালে একটা থাপ্পড় মারল।

    জিনি দেখল বাবা টলে গিয়ে পড়ে গেল মাটিতে।

    বীরেন্দ্র ঝুঁকে পড়ে বাবার সামনে হিসহিসে গলায় বলল, “কাল ঠিক না হলে তোকে লাথি মেরে বের করে দেব! স্টাডির এসি ঠিক নেই। সুইমিং পুলের ফিল্টারের ব্যাকওয়াশ হচ্ছে না! পুলে পাতা পড়ে থাকছে! টাকা গাছে ফলে? গাড়ি যেন কালকের মধ্যে ঠিক হয়। হারামজাদা কোথাকার!”

    বীরেন্দ্র আর কথা না বাড়িয়ে হনহন করে হেঁটে চলে গেল নিজের বাড়ির দিকে। জিনি থরথর করে কাঁপছে ভয়ে। তা-ও এগিয়ে গিয়ে ও বাবাকে ধরতে গেল। কিন্তু তার আগেই কবি এসে ধরল বাবাকে। জিনি দেখল বাবার চোখে জল। মাথা নিচু। সন্তানের সামনে হেনস্থার চেয়ে কষ্ট আর অপমান কী হতে পারে একটি মানুষের!

    জিনিও এবার ধরল বাবাকে। ওর চোখেও জল চলে এল। চোখের পাতা উপছে সেই জল ক্ষীণ ধারায় নেমে এল গালে। জিনি মোছার চেষ্টা করল না।

    কবি তাকাল ওর দিকে। তার পর নরম গলায় ফিসফিস করে বলল, “কাঁদে না। মেয়েরা তো সবচেয়ে সাহসী হয়। জানো না, সাহসীদের কাঁদতে নেই!”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)
    Next Article কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }