Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প698 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৬. লালু

    এইটকু সময়ের জন্য এতটা দূর যাওয়ার কোনও মানে হল না। এই ভিড়ের মধ্যে ট্রেনে গুঁতোগুঁতি করে এতটা পথ না গেলেও পারত লালু। কিন্তু কী করবে! কেউ ফোন না ধরলে তো যেতেই হবে। পরিচিত লোকজন যদি অপরিচিতের মতো ব্যবহার করে, তা হলে খুব মুশকিল।

    মাথা নামিয়ে স্টেশনের নাম দেখল লালু। আগরপাড়া। আর দুটো স্টেশন। দমদমে নেমে মেট্রো ধরে নেবে। বাড়ি ফিরতে হবে তাড়াতাড়ি। গোটা দিন ছুটি নিয়ে কোথাও গিয়ে তাড়াতাড়ি না ফিরলে ম্যাডাম খুব রেগে যান।

    ম্যাডাম আজ ছুটি দিতে চাইছিলেন না। ওকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তোর কিসের এত ছুটি লাগে? রবিবার তো ছুটি পাস। সে দিন কাজটা করলে হয় না?”

    লালু বলেছিল, “আসলে দাদারা তো ওখানে একটা রাইস মিলে কাজ করে, সেখানে রবিবার ছুটি থাকে না। বিষ্যুদবার করে থাকে। তাই যদি ম্যাডাম একদিন ছুটি পাওয়া যেত!”

    ম্যাডাম বলেছিল, “ঠিক আছে। কী আর বলি! রোজ রোজ এমন করে ছুটি চাইলে খুব সমস্যা!

    লালু কিছু বলেনি। শুধু মনে মনে খুব খারাপ একটা গালি দিয়েছিল। রাগ হচ্ছিল ওর। বলে কিনা রোজ রোজ ছুটি চায়! শেষ ছুটি নিয়েছিল দু’বছর আগে। তার পর থেকে একদিনও ছুটি নেয়নি। এমনকি, একশো দুই জ্বর নিয়েও কাজ করে গিয়েছে! সেখানে এ সব কথা বলছে! এরা আদৌ মানুষ কি না, মাঝে মাঝে সন্দেহ হয় লালুর।

    ম্যাডাম বলেছিল, “শুক্রবার কাজে লেট করবি না কিন্তু। আর পাখির কাছে যাবি ওই দিন, মনে থাকে যেন!”

    লালু মাথা নেড়ে চলে এসেছিল। যাক, একটা দিন অন্তত ছুটি পাওয়া গেল। ভেবেছিল, কাল খুব ভোর ভোর বেরিয়ে যাবে। শিয়ালদা থেকে শান্তিপুর লাইনের ট্রেন ধরতে হবে। কত দিন পরে মুড়াপোঁতায় যাবে ও!

    শিয়ালদা থেকে ট্রেন ধরে মুড়াপোঁতায় পৌঁছে গিয়েছিল সকাল দশটার মধ্যে। আসলে মুড়াপোতায় কোনও স্টেশন নেই। কাছের স্টেশন দশ কিলোমিটার দূরে। ট্রেন থেকে নেমে ডিজেল অটো বা মোটর ভ্যান ধরতে

    সে সব করে যখন বাড়িতে পৌঁছেছিল, বেলা বেড়ে গিয়েছিল বেশ। বাড়িটা কেমন যেন শুনশান! বাবার মামার বাড়ি এটা। আগে সবাই একান্নবর্তী ছিল। কিন্তু এখন নানা ভাবে ভাগ হয়ে গিয়েছে। পাঁচিল উঠেছে। ওরা যেদিকটায় থাকত, সেদিকে সেজো গোয়ালঘর করে নিয়েছে!

    এই বাড়িতেই জীবনের বেশিটা কেটেছে ওর। কিন্তু আজ কেমন যেন অচেনা লাগছিল সব। মনে হচ্ছিল ও এখানে বাড়তি। তাও কত কী যে মনে পড়ছিল ওর! ওই পেয়ারা গাছে উঠে পেয়ারা পাড়ত। দূরে দত্তদের পুকুরে গরমকালের দুপুরে কতক্ষণ ধরে দাপাত। নীলকুঠির মাঠে ধান কাটার পরে এক কোণে মাটি চেঁছে পিচ তৈরি করে ক্রিকেট খেলত। দূরে ফিল্ডিং করতে সমস্যা ছিল বলে ও হত উইকেট কিপার। একবার ওখানেই তো কিপিং করতে গিয়ে ব্যাটসম্যানের ঘোরানো ব্যাটের কোনা লেগে সামনের দাঁতের কিছুটা ভেঙে গিয়েছিল।

    এখানে গ্রামে কত স্মৃতি! কিন্তু তাও লালুর মনে হচ্ছিল এ সব যেন ওর নিজের স্মৃতি নয়। এ সব যেন কারও কাছ থেকে শোনা গল্প!

    বাবার চার মামার দু’জনের ছেলে আছে। বাকিদের মেয়ে। তাদের একজন আবার এখানে জামাই নিয়ে থাকে।

    সেই পিসির সঙ্গেই দেখা হয়েছিল লালুর।

    পিসি গোমড়া মুখ করে বলেছিল, “অ তুই! তা হঠাৎ। লালু, পিসির মুখ দেখে বুঝেছিল, ওকে দেখে পিসি মোটেই খুশি হয়নি।

    আসলে ভাইবোনরা মারা যাওয়ার ফলে মা কেমন যেন হয়ে গিয়েছিল।

    আর বাবাও তো বেশি দিন বাঁচল না। তার পর থেকেই লালু সবার গলগ্রহ! তা সেই গলগ্রহ যদি কথা নেই বার্তা নেই এসে হাজির হয়, তা হলে কে খুশি হবে!

    লালু জিজ্ঞেস করেছিল, “বড়দা নেই?”

    পিসি বিরক্তি বজায় রেখে বলেছিল, “মালিকের বাড়ি গিয়েছে। মাগনা খাটতে।”

    বড়দা মানে বড় দাদুর নাতি। হারু ঘোষের রাইস মিলে কাজ করে। এই বড়দা লোকটাই যা ভাল এখনকার সকলের মধ্যে। মেজদা খিটখিটে লোক। লালুকে সহ্য করতে পারে না। লালু দেখেছে দাদুরা সবাই খুব ভাল ছিল। কিন্তু পরের জেনারেশনের সকলে খুবই স্বার্থপর আর অশান্তি-প্রিয় হয়েছে।

    পিসি বলেছিল, “তা, হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? আমার এখানে দুপুরে খাওয়া হবে না কিন্তু। আমার রান্না হয়ে গিয়েছে। অন্য বাড়িতে দেখ বাপু।”

    লালুর তখনই খিদে পেয়ে গিয়েছিল খুব। আসলে সকালে স্টেশনে একটা কেক আর এক কাপ চা খেয়েছিল মাত্র। কিন্তু পিসির মুখ আর কথা শুনে এই নিয়ে কথা বাড়ায়নি। বরং বলেছিল, “না না, আমি স্টেশনে কচুরি খেয়ে এসেছি পেট ভরে। তুমি ভেবো না।”

    “ভাবতে বয়ে গিয়েছে আমার!” পিসি মুখ বেঁকিয়েছিল, “লম্পট বাপ আর পাগলি মাগির বিয়ানো ছাগলের জন্য ভাবতে যাব আমি!”

    কথাগুলো একদম থাপ্পড়ের মতো এসে লেগেছিল লালুর গালে, বুকে। কেন খামোকা পিসি ওকে গালি দিচ্ছে এ ভাবে!

    লালু জানে কথায় কথা বাড়ে। আর এখানে এ সব করতে আসেনি ও। লালু আর কথা না বাড়িয়ে বেরিয়ে এসেছিল বাড়ি থেকে। দাদুরা আর জীবিত নেই। তাই আর কারও সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছেও ছিল না ওর।

    রাস্তায় ঘন রোদ। ভাঙাচোরা পথের পাশে ধুলো জমা খিটখিটে গাছ। ও আকাশের দিকে তাকিয়েছিল। রংচটা বেড কভার দিয়ে যেন কেউ ঢেকে দিয়েছে সবটা। গরমে সারা শরীর জ্বালা করছে!

    স্টেশন থেকে আসার আগে ফিরতি ট্রেন ক’টায়, দেখে এসেছে লালু। ও ঠিক করেছিল, বড়দার সঙ্গে দেখা করে সেখান থেকেই সরাসরি স্টেশনে চলে যাবে।

    ওদের বাড়ি থেকে হারু ঘোষের বাড়ি কিছুটা দূরে। একে খিদে পেয়েছিল খুব, তার পর এই রোদে অতটা দূর হাঁটা ওর পক্ষে সম্ভব ছিল না।

    বাড়ি থেকে সামান্য হেঁটে গেলেই বড়রাস্তা। সেখান দিয়ে টোটো, ডিজেল অটো, বাস, সব চলে। কিন্তু কোনওটাই সরাসরি হারু ঘোষের বাড়ি অবধি যায় না।

    ও দেখেছিল, একটা মোটর লাগানো ভ্যান আসছে। পুরনো বা চোরাই মোটরবাইকের ইঞ্জিন খুলে সেগুলো লাগিয়ে এই ভ্যানগুলো তৈরি করা হয়। এই সব জায়গায় একে ‘ভ্যানো’ বলে।

    সেই ভ্যানোকেই হাত তুলে দাঁড় করিয়েছিল লালু। দেখেছিল, ভ্যানোর পিছনে একজন বাউল বসে আছে। আরে, গোবিন্দ বাউল না! কত দিন পরে দেখল!

    লালু এগিয়ে গিয়েছিল ভ্যানোর দিকে। চালককে বলেছিল, “হারু ঘোষের বাড়ি যাব, যাবেন?”

    চালক লোকটি গামছা দিয়ে মুখ মুছে হেসে বলেছিল, “পনেরো টাকা লাগবে বাবু।”

    আর কথা না বাড়িয়ে লালু উঠে পড়েছিল পিছনে। পা ঝুলিয়ে বসেছিল গোবিন্দ বাউলের পাশে।

    ভ্যানো চলছিল বড় রাস্তা দিয়ে। আস্তে আস্তে দুলছিল লালু। পাশ দিয়ে লং রুটের বাস একদিকে কাত হয়ে ঝিকিমিকি হর্ন বাজিয়ে নিমেষে হারিয়ে যাচ্ছিল দূরের রোদে!

    “বাউল ভাল আছ?” মৃদু গলায় জিজ্ঞেস করেছিল লালু। গোবিন্দ হেসে মাথা নাড়িয়েছিল। তার পর বলেছিল, “আজ শরীরটা ভাল নেই। তাই পাশের গ্রামে গিয়েছিলাম বিমল ডাক্তারের কাছে। বলছে স্পন্দ না কী রোগ হয়েছে! মাথা ঘুরায়। গা পাঁক দেয়। ব্যথা করে শিরদাঁড়া। শরীরের ওপর কম অত্যাচার করেছি? এখন সে প্রতিশোধ নেবে না, বলেন?”

    লালু হেসেছিল।

    গোবিন্দ জিজ্ঞেস করেছিল, “তা বাবুসাহেব, আপনাকে তো চিনলাম না!”

    লালু বলল, “আমি লালকুমার বর্ধন। আগে এখানে থাকতাম। এখন কলকাতায় চাকরি করি।”

    “বর্ধন?” গোবিন্দ মাথার কাঁচা-পাকা চুলে হাত দিয়ে কী যেন চিন্তা করেছিল। তার পর বলেছিল, “বর্ধন তো এখানে একজন হল, বাস স্ট্যান্ডের পাশের মানিক বর্ধন, যার মুদির দোকান আর গমকল আছে। আর অন্যজন তো… মানে এখন তো আর নেই!”

    লালু বলেছিল, “বাচ্চু বর্ধন। মারা গিয়েছিল কুড়ি বছর আগে।”

    “ঠিক ঠিক। জগন্নাথ ঘোষের সঙ্গে। কী সাংঘাতিক! নীলকুঠির মাঠে সেদিন কত্ত লোক! ওই মাঠটা খুব খারাপ। কালাচাঁদকেও নিয়েছিল ওই মাঠ। আরও কতজনকে যে নেবে কে জানে।”

    “আমার বাবা। বাচ্চু বর্ধন আমার বাবা,” লালু ছোট্ট করে বলেছিল। গোবিন্দ কী বলবে বুঝতে না পেরে হাঁ করে তাকিয়েছিল।

    সামনে থেকে চালক বলেছিল, “ও গোবিন্দবাবা, তোমায় আগে ছেড়ে দিয়ে আসব না বাবুকে নামিয়ে দেব?”

    গোবিন্দ বলেছিল, “বাবুসাহেবকেই দাও। অত দূর থেকে এসেছেন!” বড় রাস্তা থেকে ডান দিকে বেঁকে এবড়োখেবড়ো পথ ধরেছিল ভ্যানোচালক। নির্জন দুপুরে ফটফট শব্দ করতে করতে হেলেদুলে যাচ্ছিল ভ্যানো। হাওয়ায় পোড়া ডিজেলের গন্ধ ভাসছিল। কালো ধোঁয়া পাক খাচ্ছিল গরম বাতাসে। লালুর ঠোঁট টানছিল খুব।

    গোবিন্দ বলেছিল, “আপনি বাবুসাহেব, বাচ্চুর ছেলে?”

    “আমায় আপনি বলছ কেন? আমি তোমার গান কত শুনেছি!” লালু হেসেছিল। স্কুলের মাঠে। গুহবাড়ির বাগানে। মণি নদীর পাশে। কত শুনেছি।

    গোবিন্দ হাসছিল। বলছিল, “তখন খুব ঘুরে ঘুরে বেড়াতাম। এখন এই মুড়াপোঁতা, মুক্তদহ, আলমপুর আর নৃসিংবাগ ছাড়া বিশেষ কোথাও যাই না। তা, বাবুসাহেব আপনি ভাল আছেন তো?”

    “আবার আপনি!” লালু অবাক হয়েছিল।

    গোবিন্দ মাথা তুলে হো হো করে হেসেছিল। এলোমেলো হাওয়ায় ওর কাঁচাপাকা চুল আর দাড়ি উড়ছিল। তামাটে কপালে গভীর রেখায় কত দিনের ভাঁজ! চোখের পাশে বয়স আর কষ্টের আঁচড়! তাও এরকম রোদে পোড়া মানুষটাকে দেখে কেন কে জানে ভাল লাগছিল লালুর। তারিমারা জামা। হাতে একতারা। দু’পায়ে দুটো আলাদা রঙের স্ট্র্যাপের হাওয়াই চটি! এই রুক্ষ প্রকৃতির মাঝে এই লোকটাকে কেমন যেন প্রকৃতির অংশ বলেই মনে হচ্ছিল লালুর।

    গোবিন্দ বলেছিল, “একটা বয়স পরে সবাই ‘আপনি’ হয়ে যাওয়াই ভাল বাবুসাহেব! ‘তুমি’ আর ‘তুই’-তে বড় মায়া। ওতে না জড়ানোই ভাল।”

    বড় একটা বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল ভ্যানোটা। চালক বলেছিল, “বাবু, এসে গিয়েছে।”

    গাড়ি থেকে নেমে টাকা মিটিয়ে দিয়েছিল লালু। দেখেছিল, বড় বাড়ির গেট থেকে একজন মাঝবয়সি লোক বেরিয়ে এল বাইক চেপে। নীল জিনস আর সাদা হাফ-শার্ট। চোখে সোনালি ফ্রেমের দামি সানগ্লাস। লোকটির চেহারা খুব ভাল। ছোট করে ছাঁটা চুল। গায়ের রং ঘোর কৃষ্ণবর্ণ!

    লালু শুনেছিল, গোবিন্দ বাউল চালককে বলছে, “মনোহর দেখ, হারু ঘোষের ছেলে। দেখতে একদম জগন্নাথের মতো, না?”

    লালু চলে যাওয়ার আগে বলেছিল, “আসি গো বাউল! আবার দেখা হবে কোনও দিন।”

    “আনন্দে থাকবেন বাবুসাহেব,” গোবিন্দ বাউল হেসেছিল। তার পর ঝোলার ভেতর থেকে একটা ছোট্ট প্লাস্টিকের প্যাকেট বের করে হাতে দিয়েছিল লালুর। বাদামের প্যাকেট। ওই যেমন ট্রেনে-বাসে বিক্রি হয়, সেরকম।

    ও তাকিয়েছিল অবাক হয়ে। কেন কে জানে ভাল লেগেছিল খুব। নিজের বাড়ির লোক ওকে দূর দূর করে তাড়িয়েছে আর কোথাকার কে এক বাউল, সে এমন করে খাবার দিল!

    লালু হেসে আলতো করে হাতটা একটু ধরেছিল গোবিন্দর। গোবিন্দ আনমনা গলায় বলেছিল, “জড়াব না, জড়াব না ভাবি, তাও জড়িয়ে যাই! আসি।”

    দুপুরের নির্জনতায় ফটফট শব্দের ছোট ছোট ঢেউ তুলে দূরের বাঁকে হারিয়ে গিয়েছিল ভ্যানো আর গোবিন্দ বাউল। সামনের বড় ভাঙাচোরা গেরুয়া পথের ওপর ঝরে পড়ছিল পাতা। গাছের ফাঁক দিয়ে আসা আলোর মধ্যে ভাসছিল সোনা রঙের ধুলো। মায়ার কত যে রকমফের আছে এই পৃথিবীতে!

    বড় বাড়ির গেটে কেউ ছিল না। লোহার বড় গেটটা অর্ধেক খোলা ছিল। ভেতরে পেল্লায় জায়গা। সেই বাগানেই কাজ করতে দেখেছিল বড়দাকে। বড়দা মালির কাজ ভাল পারে। তাই কি হারু ঘোষ ওকে দিয়ে নিজের বাগানের কাজ করায়?

    পায়ে পায়ে গেট দিয়ে ঢুকেছিল লালু। ও দেখেছিল, আশপাশে অনেকেই কাজ করছে আর তাদের মাঝে একটা বড় গার্ডেন আমব্রেলার তলায় বেতের চেয়ারে বসে রয়েছেন একজন মহিলা। বয়স ষাটের কাছাকাছি। তাও এই বয়সেও কী সুন্দর দেখতে! বড় বড় চোখ। খাড়া নাক। তাতে চিকচিক করছে একটা পাথরের নাকছাবি

    ওকে গেট দিয়ে ঢুকতে দেখে মহিলা ঘুরে জিজ্ঞেস করেছিল, “কে তুমি? কাকে চাই?”

    লালু বড়দার দিকে হাত দিয়ে দেখিয়ে বলেছিল, “আমার বড়দা। আমি একটা দরকারে এসেছি কলকাতা থেকে।”

    বড়দাও ততক্ষণে ওকে দেখে ফেলেছিল। তাড়াতাড়ি হাতের খুরপিটা নামিয়ে রেখে গলায় ঝোলানো গামছায় হাত মুছতে মুছতে বলেছিল, “আমার ভাই হয়, মা।”

    “অ!” মহিলা মুখ ঘুরিয়ে বলেছিল, “তাড়াতাড়ি কথা বলে নাও। কাজের সময় নষ্ট কোরো না। তা কেমন ভাই তোমার?”

    “ওর বাবার মামা ছিল আমার দাদু।”

    বড়দার কথাতেই লালু বুঝেছিল যে, বড়দার নিজেরই সম্পর্কটা গুলিয়ে গিয়েছে।

    বড়দা বলেছিল, “ওর বাবা এখানেই আমাদের বাড়িতেই থাকত। পার্টি করত।”

    মহিলা আগ্রহ হারিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বাকিদের কাজ দেখছিল। মাঠে সেই যে মারা গেল বড়দা তাও বলে যাচ্ছিল, “নীলকুঠি জগন্নাথকাকার সঙ্গে। সেই যে…”

    মহিলা এবার দ্রুত ঘুরে তাকিয়েছিল লালুর দিকে। তার পর কেমন অস্ফুটে বলেছিল, “বাচ্চু!”

    লালু দেখেছিল মহিলার মুখের রং যেন সামান্য পাল্টে গেল। বড়দা সে সব খেয়াল না করে বলেছিল, “আমি একটু কথা বলে নিই মা!”

    তার পর ওর দিকে তাকিয়ে গেটের বাইরে যাওয়ার ইঙ্গিত করে হাঁটা দিয়েছিল নিজেই!

    বড় লোহার গেটের বাইরে এসে ওরা দাঁড়িয়েছিল। আর ওখান থেকেই লালু দেখেছিল, মহিলা চেয়ার থেকে উঠে বাড়ির ভেতরে চলে গেল ধীর পায়ে।

    লালু, বড়দার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, “কে ইনি?”

    বড়দা অপ্রয়োজনীয় ভাবে গলাটা খাদে নামিয়ে বলেছিল, “আরে, এ হল বাড়ির মালকিন। হারু ঘোষের স্ত্রী। লীলা ঘোষ।”

    লালু এখানে থাকার সময় এ দিকে আসেনি বিশেষ। তাই মহিলাকে চেনে না। তবে নাম শুনেছিল।

    বড়দা জিজ্ঞেস করেছিল, “তা তুই হঠাৎ। এ ভাবে খবর না দিয়ে। এত দিন কোনও পাত্তাই নেই যে!”

    লালু সময় নষ্ট করেনি। সরাসরি বলেছিল, “আমি খুব বিপদে পড়ে এসেছি রে দাদা। আমার টাকার দরকার। এখানে দাদু আমার নামে যেটুকু জমি রেখেছিল, সেটা কি আছে?”

    “জমি? তোর নামে?” গামছা দিয়ে মুখ মুছে অবাক হয়ে লালুর মুখের দিকে তাকিয়েছিল বড়দা।

    “হ্যাঁ, বড়দাদু যে আমায় বলেছিল। বলেছিল, ‘তোর জন্য চার-পাঁচ কাঠা জমি রেখে যাব।’ সেটার কথা বলছি.” লালু তাকিয়েছিল বড়দার দিকে।

    “আরে, সে তো বড়দাদু সবাইকেই এমন বলত! নিজের জমি ছিল সামান্য। সেটা আমাদের বাবা-কাকারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে। ওরকম মুখের কথায় তো কিছু হয় না! লিখিত-পড়িত কিছু করে যায়নি।

    “সে কী!” লালু কী বলবে বুঝতে না পেরে তাকিয়েছিল হাঁ করে।

    “আরে, দাদুরা পুরনো দিনের লোক। এ সব বুঝত না। বাবা-কাকারা সেই জমি বেচেও দিয়েছে। তুই এত বছর নেই এখানে, এর মধ্যে কত কী পাল্টে গিয়েছে! বাড়ি গেলে দেখবি দাওয়া জুড়ে পাঁচিল তুলেছে। সুপুরি নারকেল গাছের ভাগ হয়েছে। তোরা যেখানে ছিলিস, সেজো সেই দিকটা দখল করে গোয়াল করেছে.” বড়দা অনেক কিছু বলে যাচ্ছিল।

    লালু জিজ্ঞেস করেছিল, “তা হলে আমার নামে কিছু নেই?”

    “না রে!” মাথা নেড়েছিল বড়দা। তার পর জিজ্ঞেস করেছিল, “তা কী দরকার রে? খুব দরকার? আমার কাছে জমানো পনেরো-কুড়ি হাজার আছে। লাগলে দেব।”

    লালুর মাথার মাঝখানটা দপদপ করছিল। এবার কী হবে! যা ভেবেছিল তাও তো নেই। তা হলে টাকাটা পাবে কোথা থেকে!

    বড়দা জিজ্ঞেস করেছিল, “আমায় বলতে পারিস লালু। তা, দুপুরে খাবি কোথায়? এই বাড়িতে আমি দুপুরে খাব আজ। ওদের বললে তোরও খাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে যাবে। খাবি তো?”

    লালু বলেছিল, “জমির কথাটা দাদু বেকার বলেছিল। আমিও গাধা, না ভেবে এত দূরে এলাম। বড়দা, খুব বিপদে পড়ে গেলাম রে!”

    “তাই!” বড়দা কাঁচুমাচু মুখ করে বলেছিল, “আমার কাছে যা আছে তোকে দেব। সেজোকে বলিস না আবার। ওর গরু কেনার ছিল, আমার কাছে চেয়েছিল, দিইনি। জানলে খুব ঝামেলা করবে। তা, তোর ঠিক কত টাকার দরকার রে?”

    লালু তাকিয়েছিল বড়দার দিকে। তার পর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল, “বারো লাখের মতো।”

    “বা…” কথা শেষ না করে হাঁ করে ওর দিকে তাকিয়েছিল বড়দা। চারিদিকটা বড় নিস্তব্ধ লাগছিল লালুর। শুধু দূরে টিটি টিটি করে একটা পাখি ডেকে যাচ্ছিল একা।

    “কী ভাই, নামবে?” পেছন থেকে ধাক্কা লাগল এবার।

    লালু মাথা ঘুরিয়ে দেখল, একটা মোটা লোক ওর দিকে তাকিয়ে আছে। লোকটা কুলকুল করে ঘামছে।

    ট্রেন ঢুকছে দমদম জংশনে। লালু বলল, “নামব দাদা!”

    লোকটা বলল, “একটু এগিয়ে চলো ভাই। তাড়াতাড়ি না নামলে মেট্রোটা মিস করব। হেভি কেলো হয়ে যাবে।”

    কেলো হতে আর কি কিছু বাকি আছে জীবনে! কোথাও যে কোনও আশার আলো দেখছে না লালু। এখন কী করবে ও!

    ট্রেন থামল। আর সঙ্গে দুটো বিপরীতমুখী স্রোত যেন একে-অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেল। ট্রেনের ভেতরের লোক নামতে চাইছে আগে আর স্টেশনে দাঁড়ানো লোকজন উঠতে চাইছে একই সঙ্গে। কারও তর সয় না এখানে। সবাই খুব অস্থির। সবাই এখনই সব করে ফেলতে চায়। এই ধাক্কাধাক্কিতে যে আসলে আরও দেরি হয়ে যায়, সেই বোধ কারও নেই। সবাই যেন ধাক্কাধাক্কিতেই একটা জান্তব আনন্দ পায়।

    এখন লালুও সেই খণ্ডযুদ্ধের মধ্যে পড়ে গেল। এমনিতেই পায়ের জন্য ওর একটু অসুবিধে হয়, তার মধ্যে এরকম ভিড়। স্টেশনে নেমে ধাক্কার চোটে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল লালু, কিন্তু তখনই একটা শক্ত হাত ওকে ধরে দাঁড় করিয়ে দিল। আর শুধু তাই নয় ভিড় থেকে টেনে বেরও করে আনল ওকে।

    লালু মুখ তুলে তাকাল। দেখল লোকটাকে। দোহারা চেহারা। বেশ সুন্দর দেখতে। চোখে-মুখে সৌম্যভাব। লালু হাসল লোকটার দিকে তাকিয়ে।

    লোকটাও হাসল পাল্টা। তার পর নরম স্বরে বলল, “আবার দেখা হবে আপনার সঙ্গে। ভাল থাকবেন।”

    লালু কিছু বলার আগেই লোকটা প্ল্যাটফর্মের ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে গেল! দেখা হবে মানে? কেন দেখা হবে? কিসের জন্য দেখা হবে ওদের? কে লোকটা? লালু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল হিজিবিজি ভিড়ের দিকে। মাঝে মাঝে জীবনে কী যে ঘটে, মাথামুণ্ডু তার কিছুই বোঝা যায় না। লালু বুঝল, লোকটার ওই আপাত সামান্য কথার ফলে ওর মাথার মধ্যেও যেন একটা শেষ বিকেলের দমদম জংশন ঢুকে পড়েছে এখন!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)
    Next Article কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }