Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প698 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গ. লীলা (বড় দিনের আট দিন আগে)

    রাবণের চিতা কি সত্যি মানুষের বুকের মধ্যে জ্বলে! ছোট থেকে এমনটাই শুনে আসছে লীলা। ঠাকুরমা বলত, “মনের মধ্যে হিংসে আনবি না। মনের মধ্যে অসুরক্ষার ভাব আনবি না। অপমান নিয়ে মাথা ঘামাবি না। কারণ, এগুলো এলেই দেখবি বুকের পাঁজরে কে যেন রাবণের চিতা জ্বালিয়ে দিয়েছে! আর, একবার সেই চিতা যদি জ্বলে ওঠে, তা হলে আর রক্ষে নেই! নিজে যেমন পুড়বে, তেমন তোকেও পোড়াবে সারা জীবন।”

    এ সব এতকাল বোঝেনি লীলা। কিন্তু এখন বোঝে। সারাক্ষণ বুকের মধ্যে গনগনে একটা আঁচ জ্বলে যাচ্ছে যেন। ক্রমশ পুড়ে যাচ্ছে ও! ঠাকুরমা যে কতটা ঠিক বলেছিল বুঝতে পারছে এখন!

    লীলা জানলা দিয়ে দেখল, বড় গাড়িটা দাঁড়িয়ে রয়েছে এখনও। সাদা বড় গাড়ি। কলকাতা থেকে এসেছে লোকটা। বীরেন্দ্র ত্রিবেদী নাম। অনেক টাকা আছে। সঙ্গে পলিটিকাল কানেকশনও নাকি দারুণ। এখন অবশ্য কারও টাকা থাকলেই রাজনীতির মাছিরা তাকে খোলা আম মনে করে এসে তার চারপাশে ভনভন করে।

    হারু অবশ্য বলে লোকটা পার্টি করে অনেক দিন ধরে। বৃহৎ রাজনীতির অনেক কিছুই নাকি নিয়ন্ত্রণ করে।

    এই বীরেন্দ্র ত্রিবেদী মুড়াপোতায় একটা বড় কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি খুলতে চায়। সেই কেমিক্যাল শুধু দেশে নয় বাংলাদেশেও সাপ্লাই করা হবে ।

    কিন্তু ফ্যাক্টরি খুলতে চাইলেই যে খুলতে পারবে তা নয়। কারণ, সেখানে প্রবল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জগন্নাথ। জগন্নাথের কথা হল, এই গ্রাম কৃষিপ্রধান। ওর মতে এখানকার জমিতে কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি খোলা খুব বিপজ্জনক। কারণ, মাটিতে কেমিক্যাল মিশে চারিদিকে ছড়িয়ে যাবে আর কাছের জলাশয় থেকে শুরু করে চাষের জমি, সব কিছুকে বিষিয়ে দেবে।

    বীরেন্দ্র নাকি জগন্নাথের সঙ্গে কথাও বলতে চেয়েছে। কিন্তু জগন্নাথ পাত্তাই দেয়নি বীরেন্দ্রর কথাকে। দেখা করা তো দূরে থাক, ফোনও ধরেনি। তাই আজ বীরেন্দ্র এসেছে হারুর কাছে। কারণ, জমিটা যে শুধু হারু বিক্রিই করবে তা নয়, বীরেন্দ্রর ইচ্ছে হারু কথা বলুক জগন্নাথের সঙ্গেও।

    চেষ্টা করেছে হারু, জগন্নাথের সঙ্গে কথা বলার। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। জগন্নাথ সোজা জানিয়ে দিয়েছে ও থাকতে এ সব হতে দেবে না ।

    লীলা এ সবের মধ্যে থাকে না। সংসার নিয়ে ও দিব্যি আছে। এক ছেলে কলেজে পড়ে আর এক মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক দেবে। তাদের খাওয়াদাওয়া, এত বড় বাড়ির চাকরবাকরদের সামলানো। বাড়ির বাগানে 39 মালিদের কাজের তদারকি। গোয়ালের যাতে ঠিকমতো যত্ন করা হয়, সেই দিকটা দেখা। কম কাজ আছে নাকি লীলার!

    গরিব বাড়ির মেয়ে ও। ছোট থেকে গায়েগতরে খেটে মানুষ হয়েছে। ওর বোন শিউলি ছিল খুব শান্ত আর মিষ্টি স্বভাবের। সবাই শিউলিকেই বেশি ভালবাসত । শিউলি ওর মতো দামাল নয়। শান্ত। তার ওপর রান্না করতে পারত খুব ভাল। এ ছাড়া আর কিছু তেমন করতে চাইতও না। বাড়ির লোকজনও চাপ দিত না শিউলিকে। যত চাপ ছিল লীলার ওপর।

    লীলা ছোট থেকেই দস্যি। এর বাড়ির পেয়ারা পেড়ে আনছে। ওর বাড়ির কুল চুরি করছে। নিজেদের কয়েকটা ফুলগাছ থাকলেও রাত থাকতে বেরিয়ে গিয়ে এর-ওর বাড়ি থেকে টগর, শিউলি জবা গন্ধরাজ তুলে আনত লীলা। এই নিয়ে কম অশান্তি হত না। দাদারা মারতও খুব। লীলা পাত্তা দিত না । শিউলি ছিল, যাকে বলে আদর্শ মেয়ে আর লীলা ছিল জ্যাঠা-জেঠিদের ভাষায় মুখপুড়ি!

    গ্রামে মুখ পোড়ানো কাকে বলে জানত না লীলা তখন ওর বয়স আঠারো। গ্রামেরই একটা ছেলে ছিল, নিতাই। পার্টি করত। তার সঙ্গে একটা দোকানও চালাত। ছুতোরের। টুকটাক ফার্নিচার তৈরি করত অর্ডার ধরে।

    লীলাকে দেখতে সুন্দর। অনেক বুড়ো ছুঁড়োই পেছনে ঘুরঘুর করত। তার মধ্যে নিতাই ছিল অন্যরকম। পড়াশোনা করত। ভাল গান গাইত। নিতাইকেই একমাত্র যা একটু পাত্তা দিত লীলা।

    নিতাইও আসত বিকেলবেলা ভাঙা বুরুজের ধারে। হাতটা একটু ছুঁত। একটু চুমু খেত। ব্যস, এটুকুই। নিতাই খুব ভালবাসা দেখালেও লীলার কিছু মনে হত না। ওই লুকিয়ে দেখা করার উত্তেজনাটা বাদ দিলে ওর গায়ে বা মনে সে ভাবে কিছু লাগত না তবে লেগেছিল। একবার লেগেছিল। নিতাইয়ের সঙ্গে একটা ছেলেকে দেখে কেমন যেন করে উঠেছিল বুকটা। মনে হচ্ছিল পরানদার নৌকা করে মণি নদীর ঢেউয়ের মধ্য দিয়ে যেন কোথায় ভেসে যাচ্ছে ও! এত দোলা কী করে লাগল বুকে? কে লাগাল? কে ছেলেটা যে সাইকেলে নিতাইকে পেছনে বসিয়ে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে?

    বান্ধবী শুক্লা বলেছিল, “একে চিনিস না? মুড়াপোঁতায় থাকে। পার্টি করে। বয়স অল্প হলে কী হবে? খুব নাম। জগন্নাথ ঘোষ ।”

    জগন্নাথকে সেই প্রথম দেখেছিল লীলা । তাও একটুখানি। আর কথাও হয়নি। শুধু দেখেছিল, সাইকেল করে ওদের বাড়ির সামনে দিয়ে মাটির উঁচুনিচু পথ দিয়ে চলে যাচ্ছে ছেলেটা।

    এক-একটা দৃশ্যের মধ্যে এক-একরকমের মৃত্যু লুকিয়ে থাকে, ইশারা লুকিয়ে থাকে। সেটা মানুষকে সারা জীবন কষ্ট দিয়ে যায়। পাগল করে রাখে মনে মনে। কাউকে বলা যায় না কেন এমন উচাটন হয় মন! কেন মনের মধ্যে পাড় ভাঙতে ভাঙতে বয়ে যায় কীর্তিনাশা! কেন একজনকে দেখামাত্র সম্পূর্ণ কোনও কারণ ছাড়াই শূন্য পথের ওপর ঝরে যায় বাগানের সমস্ত টগর, গন্ধরাজ আর মল্লিকা!

    সেই ছিল লীলার ঝরে যাওয়ার শুরু। বয়ে যাওয়ার শুরু।

    বুরুজের কাছে নিতাইয়ের সঙ্গে দেখা করে কথা কথায় ও জেনে নিয়েছিল জগন্নাথ সম্পর্কে।

    জেনেছিল মুড়াপোঁতায় বড় বাড়ির ছেলে জগন্নাথ । টাকাপয়সার নাকি হিসেব নেই। কিন্তু সে সব দিকে খেয়াল নেই জগন্নাথের। ও পার্টির হোলটাইমার। বিয়ে-শাদি নাকি করবে না কোনও দিন। পার্টিই ছেলেটার কাছে সব!

    নিতাই তো বোঝেনি কেন এ সব জিজ্ঞেস করছিল লীলা! ও যত শুনছিল জগন্নাথের সম্পর্কে, ততই মনের মধ্যে কেমন একটা করছিল। বুকের মধ্যে দুলছিল সব কিছু। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। কপালে ঘাড়ে ঘন হয়েছিল তাপ।

    নিতাই হাত ধরতে চাইছিল। কাছে টানতে চাইছিল। কিন্তু লীলা সরে এসেছিল। মনে মনে কেমন একটা অবসাদ আসছিল। কিছু ভাল লাগছিল না। ছেলেটা বিয়ে করবে না? সারা জীবন অমন সাদা হাফ শার্ট, খাকি প্যান্ট পরে সাইকেলে বসে এই গ্রাম থেকে ওই গ্রামে ঘুরে বেড়াবে! সবার জীবন যাতে ভাল হয় সেটা দেখতে গিয়ে নিজের জীবনটাই দেখবে না!

    সে দিন বাড়িতে ফিরেই একটা গোলমালে পড়েছি লীলা। বাড়ির পাশে যে-মালতীদি থাকে, তার বর নাকি ওকে আর নিতাইকে দেখে ফেলেছে বুরুজের কাছে। দেখেছে নিতাই নাকি বুকে হাত দিয়ে অসভ্যতা করছিল লীলার সঙ্গে!

    বুকে হাত মোটেও দেয়নি নিতাই। লীলা কোনও দিন সেই সুযোগই দেয়নি ওকে। আসলে লোকজন এমন করে বাড়িয়ে বলা পছন্দ করে। আর মালতীদির বাবাটা হাড়বজ্জাত। ওদের একতলার বাথরুম থেকে ওরা যখন স্নান সেরে, বুকে কাপড় বেঁধে বেরোয়, বুড়োটা নিজের বাড়ির দোতলা থেকে উঁকিঝুঁকি দেয়!

    কিন্তু দাদারা কিছু শোনেনি সে সব। মারধোর করে বলেছিল, “দাঁড়া, তোর বিয়ে দিচ্ছি!”

    ক্লাস টুয়েলভ পাশ করে আর পড়েনি লীলা। ওর ইচ্ছে ছিল কলেজে যাওয়ার। কিন্তু দাদারা পাঠায়নি। ঠাকুরমাও বাধ সেধেছিল। কেন কে জানে! মেয়েদের কিছু করার কথা উঠলেই যেন মানুষের ঝাল লাগে! সে দিন রাতে বড়দা বলেছিল, “আর নয়। লীলাকে এবার পার করতে হবে। বড্ড বাড় বেড়েছে ও!”

    ও বিড়াল নাকি যে পার করতে হবে! লীলার কষ্ট হয়েছিল খুব। কেঁদেছিল সারা রাত। শিউলি এসে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বটে, কিন্তু লীলা পাত্তা দেয়নি। শিউলিকে ও সহ্য করতে পারত না।

    শিউলি যেন নিখুঁত। শিউলির সব কিছুই যেন ভাল। শিউলি ভাল গান করে। ভাল রান্না করে । কথা শোনে। শিউলিকে দেখতে সুন্দর। মানে, এত প্ৰশংসা শিউলির যে, মনে হয় যেন ভগবানের অবতার ও!

    সেদিন রাতে ও শিউলিকে সরিয়ে দিয়েছিল নিজের কাছ থেকে। মনে হয়েছিল এই শিউলির জন্যই ওর এত দুর্দশা। শিউলির সঙ্গে সারাক্ষণ ওকে মিলিয়ে দেখা হয় বলেই সবাই ওকে অপছন্দ করে। লীলা ভেবেছিল, একবার যদি এই জীবন থেকে বেরোতে পারে ও, তা হলে আর কোনও দিন এ বাড়ির কারও সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না। কারও মুখ দর্শন পর্যন্ত করবে না।

    দিন দশেকের মধ্যেই সম্বন্ধ এসে গিয়েছিল। এক সঙ্গে প্রায় পাঁচটা সম্বন্ধ। কিন্তু বাড়ির দাদারা পছ 39 করেছিল হারু ঘোষকে। মোটাসোটা। প্রচুর পয়সা পণ চায় না। শুধু সুন্দরী বউ চায়। লীলার ছবি যেঘটক নিয়ে গিয়েছিল, তাকে নাকি হারু বলেছে, এই মেয়েকেই বিয়ে করবে ও।

    হারু এসেছিল চারদিন পরে। মোটা, মাখনের মতো ফর্সা। দাড়ি-গোঁফ কম। চোখটা কুতকুতে আর বাদামি। মুখে একটা কেমন যেন আরোপিত গাম্ভীর্য।

    লীলাকে বসানো হয়েছিল ওর সামনে। লীলার বিরক্ত লাগছিল। শুধু সুন্দর বলে বিয়ে করবে? ওর বুঝি অন্য কিছু দাম নেই! একদিন তো চলে যাবে সৌন্দর্য! তখন? তখন কি তা হলে পাপোশ করে রাখবে?

    লীলা কথাবার্তা শুনছিল সবার। হারু বলছিল যে, ওর কোনও পণ লাগবে না। লীলাকেই শুধু চায়। আর বাড়ি, চালকল, প্রচুর জমিজমা সবটাই তো ওরই হবে। থাকার মধ্যে একটাই ভাই। সে-ও আবার বিয়ে করবে না। পার্টি করে সারা দিন। বাড়িতে থাকে কম।

    “কে আপনার ভাই?” দাদা জিজ্ঞেস করেছিল।

    হারু বলেছিল, “আপনারা নিশ্চয়ই শুনেছেন ওর নাম। জগন্নাথ।”

    বিদ্যুতের ছ্যাঁকা খেয়েছিল যেন লীলা! বুকের মধ্যে কেন যে এমন জোরে ঘোরা নাগরদোলা নেমে আসার মতো দুলুনি হয়েছিল! কেন যে এমন শ্বাস নিতে কষ্ট হয়েছিল! হারু জগন্নাথের দাদা! মানে এখানে বিয়ে হলে ও জগন্নাথের কাছে থাকতে পারবে। ও যেন দেখতে পেয়েছিল সাদা শার্ট আর খাকি রঙের প্যান্ট পরে এক যুবক আনমনা ভাবে সাইকেল চালিয়ে পার হয়ে যাচ্ছে ওর মনের মধ্যেকার গ্রাম। মণি নদীর পাড়। বুড়ো শিবের থান।

    হারুর তর সয়নি। বিয়ে হয়ে গিয়েছিল খুব দ্রুত। হ্যাজাক আর ব্যান্ড পার্টি নিয়ে হারু এসেছিল বিয়ে করতে। লীলা মাথা নিচু করেই ছিল। শুধু বুকের মধ্যে ছোট্ট একটা টুনটুনি কাঁপছিল তিরতির করে। শুধু মনে হচ্ছিল, জগন্নাথ কি এসেছে?

    এসেছিল জগন্নাথ। সেই একই জামাকাপড় । মাথা নিচু। আনমনা দৃষ্টি। লীলার দিকে তাকিয়ে সামার 39 হেসে সরে গিয়েছিল। লীলার যে কী হয়েছিল আর কাকেই-বা বলবে!

    হারু একটা ঢেড়স! ওর দ্বারা যে কিছু হবে না সেটা ফুলশয্যাতেই বুঝে গিয়েছিল। তা ছাড়া হারুর গায়ে কেমন যেন একটা গন্ধ। যেন সারা গায়ে ঘি মেখে এসেছে! বমি আসছিল লীলার। কিন্তু সহ্য করছিল, যে ভাবে মেয়েদের অনেক কিছু সহ্য করে থাকতে হয়। ,

    ফুলশয্যার রাতে হারু জল থেকে তুলে রাখা মাছের মতো খাবি খাচ্ছিল ওর ওপর। তার পর কোনও মতে নিজেকে শেষ করে নেমে বলেছিল, “তুমি খুশি তো?”

    ঘি যে অসহ্য লাগে লীলার, সেটা আর বলেনি। কী হবে? এত বড় বাড়ি, সম্পত্তি এ সব তো পেল। একটা জীবনে সব কি আর পাওয়া যায়? যায় না। তা ছাড়া মুক্তদহর ওই বাড়ি, ওই জ্যাঠা-জেঠিমা, দাদাবৌদি, শিউলি, ওদের থেকে তো দূরে যেতে পেরেছে! সেটা কি কম শান্তি!

    এই বাড়িতে মানিয়ে নিতে সময় লাগেনি লীলার এক বুড়ি পিসি আর জগন্নাথ ছাড়া কেউ নেই। পিপি খুব শান্ত, ভাল মানুষ। কারও সাতে-পাঁচে থাকে না। সারা দিন গোপালের সেবায় পড়ে থাকে। আর জগন্নাথ তো সে ভাবে থাকেই না!

    তবে যেটুকু থাকত সেটুকুই ভাল লাগত লীলার। লীলার সঙ্গে টুকটাক কথা হত। জগন্নাথ ইয়ার্কি করত অল্পসল্প। গান গাইত। লীলার যে কী ভাল লাগত। জগন্নাথের গা থেকে পোড়া তামাক আর ঘাম মেশানো একটা গন্ধ পেত লীলা। সেটা যেন সারা দিন ঘুরত ওর সঙ্গে। দালানে বসে সেলাই করার সময়, ছাদে ঘোরার সময়, বাগানে মালিদের কাজ দেখার সময় আচমকা কোথা থেকে যে ভেসে আসত সেই গন্ধ! লীলা ভাবত কত কী যে মানুষের সঙ্গে মানুষকে গেঁথে রাখে!

    এ ভাবেই কেটে যাবে সব। আর কিছু হবে না জীবনে। এটাই ভেবেছিল লীলা। ভেবেছিল ওকেও হয়তো পিসিমার মতো গোপালের আশ্রয়ে যেতে হবে। নির্জন দুপুরে, বৃষ্টির সন্ধেবেলা আর নিস্তব্ধ রাতে মাঝে মাঝে এত কষ্ট হত শরীরে। বালিশে মুখ লুকিয়ে কাঁদত ও। কিন্তু হারুর নাক ডাকার প্রচ আওয়াজে সেই কান্নার শব্দ নিজেও শুনতে পেত না।

    তার পর হারু একদিন বর্ধমানে গেল। নতুন চালকল করবে। মানে, একটা চাল কল আছেই। আর-একটা কিনতে যাবে। বলে গেল সপ্তাহখানেক লাগবে ফিরতে।

    সেটা ছিল বর্ষাকাল। সারা দিন, সারা রাত ধরে বৃষ্টি হচ্ছিল খুব। তারই মধ্যে ভিজে একদিন জ্বর এল জগন্নাথের। দেখার কেউ নেই। চাকরবাকরদের দ্বারা তো আর ও সব হয় না। আর সত্যি বলতে কী, লীলার ইচ্ছে করছিল ওর কাছে যেতে। মাথার পাশে বসতে। ওই ঘন কোঁকড়া চুলের মধ্যে হাত ডুবিয়ে দিতে।

    তাই সন্ধেবেলা পাউরুটি আর দুধ নিয়ে জগন্নাথের ঘরে গিয়েছিল লীলা ।

    জগন্নাথ চেয়ারে বসে কী যেন একটা বই পড়ছিল গায়ে হাতকাটা গেঞ্জি আর পাজামা। ওকে দেখে মুখ তুলে হেসেছিল। এমনিতে ঘরে আলো বন্ধ থাকলেও টেবিল ল্যাম্পটা জ্বলছিল শুধু।

    টেবিলের কাছে খাবারটা রেখেছিল লীলা । জিজ্ঞেস করেছিল, “জ্বর আছে আর?”

    “বুঝতে পারছি না!” জগন্নাথ মুখ তুলে তাকিয়েছিল, “দ্যাখো তো।”

    লীলা আবার সেই কড়া তামাকের গন্ধ পাচ্ছিল। হাত কাঁপছিল ওর। শ্বাসে যেন জ্বলন্ত কয়লার তাপ। ও কাঁপা হাত দিয়েছিল জগন্নাথের কপালে। জগন্নাথ বন্ধ করে নিয়েছিল চোখ। লীলার নিজের হাত এত গরম হয়ে গিয়েছিল যে, জগন্নাথের জ্বর ছিল কি না, বুঝতে পারছিল না।

    জগন্নাথ আচমকা লীলার হাতটা চেপে ধরেছিল কপালে, তার পর কপাল থেকে নিয়ে এসে চেপে ধরেছিল গালে।

    লীলা আর পারছিল না। নিশ্বাসে যেন ফুলকি বেরোচ্ছিল। মনে হচ্ছিল পা দুটো তুলোর তৈরি! প্রায় পড়ে যাচ্ছিল ও। জগন্নাথ কোমরটা বের দিয়ে ধরে ফেলেছিল ওকে। তার পর টেনে এনে বসিয়েছিল কোলে।

    আর বৃষ্টি পড়ছিল বাইরে। অঝোরে ঝাপসা একটা শব্দ পর্দার মতো ঘিরে রেখেছিল ওদের।

    কিছু পরে লীলার ঠোঁট থেকে ঠোঁট সরিয়ে ওর চোখের দিকে তাকিয়েছিল জগন্নাথ। লীলার মাথা হাল্কা লাগছিল। জিভ অসাড়। শ্বাস পাগলা ঘোড়ার মতো দৌড়োচ্ছিল ফাঁকা মাঠ পেয়ে!

    ও শুধু অস্ফুটে বলেছিল, “আমায় নেবে না?”

    জগন্নাথ লীলাকে কোলে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিয়েছিল। তার পর দ্রুত হাতে দরজা বন্ধ করে এক মুহূর্ত দাঁড়িয়েছিল বিছানার কাছে। লীলা নিজেকে উন্মোচিত করতে করতে তাকিয়েছিল জগন্নাথের দিকে। জগন্নাথও দ্রুত নিজেকে মেলে ধরেছিল সম্পূর্ণ, তার পর এগিয়ে গিয়েছিল লীলার দিকে।

    বেশ কিছু পরে জগন্নাথের বুকের মধ্যে মিশে থেকে লীলা বলেছিল, “আর কারও কাছে গেলে আমি তোমায় মেরে ফেলব, দেখো!”

    সেই উনিশ থেকে এখন বিয়াল্লিশ! তেইশ বছর জগন্নাথ ছাড়া আর কাউকে ভালবাসেনি লীলা।

    জগন্নাথ ছাড়া আর কাউকে ভালবাসেনি লীলা। বাচ্চা দুটো পর্যন্ত ওর। আর সে কিনা অন্য একটা মেয়ের সঙ্গে পার্টি অফিসে শুচ্ছে!

    এই ব্যাপারটা শোনার পর থেকেই লীলার বুকের মধ্যে চিতা জ্বলছে যেন! সেই আগুনে লীলার সর্বস্ব পুড়ে যাচ্ছে। কী মনে করে জগন্নাথ অন্য মেয়ের সঙ্গে শোয়! আর ও খবর নিয়েছে আরও। এই বাড়ি ছেড়ে নাকি মুক্তদহতে চলে যাবে জগন্নাথ। কত সাহস! কী বলেছিল লীলা মনে নেই? নাকি নতুন শরীরের লোভে তেইশ বছর আগের সব কথা ভুলে গিয়েছে? ও ছাড়বে না জগন্নাথকে। লীলাকে যে ভাবে ও আজকাল দূরে সরিয়ে রাখে, বিরক্তি দেখায়, সে সবের জন্য ওকে পস্তাতে হবে। দিনের পর দিন ওকে কেউ অপমান করবে আর ও মেনে নেবে? লীলা দেখল নীচের সাদা গাড়িতে উঠে চলে গেল বীরেন্দ্র। তার একটু পরেই পায়ের শব্দ পেল ও। ওই হারু আসছে। চোয়াল শক্ত করল লীলা। এটাই ওর সুযোগ।

    হারু এখন আরও মোটা হয়েছে। সাধারণ ভাবে নিলেও ফুড়ফুড় করে একটা নাক ডাকার মতো পাতলা শব্দ হয় সারাক্ষণ।

    ঘরে ঢুকেই বিশাল শরীরটা বিছানায় ছেড়ে দিল হারু । পুরনো দিনের মজবুত খাট। আসলে পালঙ্ক। সে-ও ওই ভারে সামান্য যন্ত্রণা পাওয়ার মতো কঁকিয়ে উঠল।

    হারু বলল, “জগা শালা শুয়োরের বাচ্চা। দু’কোটি টাকা ওর জন্য হাতছাড়া হবে? বীরেন্দ্র লোকটা দু’কোটি টাকা দেবে আমায়। কিন্তু জয়েন্ট প্রপার্টি। জগার সই না হলে তো কিছু হবে না। তিন মাস ধরে বাঞ্চোত ভোগাচ্ছে! মাথা এমন খারাপ হয়ে আছে না আমার! জমিটা বেকার পড়ে আছে। কিন্তু ওই হারামিটা বেচতে দেবে না। কী, না কেমিক্যালে নাকি জল মাটি নষ্ট হবে। খুব বুঝদার এসেছে আমার । কী যে করি! কোন জন্মের শত্রুতা বের করছে ও?”

    লীলা তাকাল ওর দিকে। তার পর হারুর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, “কী করতে চাও তুমি?”

    “ছাড়ো তো! ছেনালি করতে হবে না,” হারু লী হাতটা সরিয়ে উঠে বসল, “ওকে শালা আমি… মেরে ফেলতে চাই। আমার টাকার ওপর কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে থাকা? ওকে মেরে ফেললে সব ল্যাঠা চুকে যায়।”

    লীলা সরে গেল হারুর দিকে। তার পর বলল, “তো, মেরে ফেলো। কে দেখতে যাচ্ছে?”

    “মানে?” ফর্সা হারু যেন আরও ফ্যাকাসে হয়ে গেল।

    লীলা চোয়াল শক্ত করে বলল, “সাহস আনো মনে। ও তোমার চালকলের শ্রমিক খেপায়। তোমার নামে বদনাম করে। তোমায় জমি বেচতে দেয় না, আর…”

    “আর?” হারু ভুরু কুঁচকে তাকাল।

    “তোমার বউয়ের দিকে কুনজর দেয়!” লীলা কথাটা বলে তাকাল হারুর দিকে।

    “কী?” হারু ছিটকে উঠল, “তোমায় কিছু করেছে?”

    “অত সাহস আছে? কিন্তু আমি মেয়েমানুষ। পুরুষের বদ দৃষ্টি আমি বুঝি না! ও বেঁচে থাকলে খুব জ্বালাবে। বলে দিলাম ।”

    “কিন্তু আমি… মানে জানাজানি হয়ে গেলে….” হারু আবার নেতিয়ে পড়ল।

    লীলা যেন নিজের বুকের মধ্যে আগুনের পটপট শব্দ শুনতে পেল। জ্বলন্ত চিতার শিখা বুক থেকে লকলকিয়ে উঠে এসেছে মাথা অবধি। অন্ধ একটা রাগ সাপের মতো জড়িয়ে ধরেছে মন।

    “হবে না জানাজানি,” লীলা বলল, “ওর রাজনৈতিক শত্রু আছে অনেক। তোমার ভাই কি কম লোক মেরেছে নাকি? তারাও তো ওকে মারতে পারে। তাই না?”

    “পারে?” হারু কুতকুতে চোখগুলো বড় করল।

    “হ্যাঁ। আমি জানি কী করে করাতে হবে,” লীলা চোয়াল শক্ত করল।

    আসলে হারু জানে না কিছু। এটা তো ও জানে না যে, গত দু’সপ্তাহ এমনি এমনি কাটায়নি লীলা। নিজের কাজের ছেলে ফণী খুব করিৎকর্মা। বাচ্চুর কাছ থেকে ব্যাপারটা জানার পরে ফণীকে বলেছিল লীলা। আর ফণীই সব খবর এনে দিয়েছে।

    হারু তাকাল, “আমার কোনও বিপদ হবে না তো?”

    লীলা বলল, “কিছু টাকা খসবে। কিন্তু তোমার নাম আসবে না।”

    হারুর শ্বাস দ্রুত হল। বলল, “ছোট থেকে শুয়োরের বাচ্চাটা জ্বালাচ্ছে আমায়! ও দেখতে ভাল। পড়াশোনায় ভাল। ও সবেতে ভাল। আর আমি শালা যেন ড্রেনের জল! এখন আমার টাকার পেছনে বাঁশ দিচ্ছে! শালা, জান কয়লা করে দিল!”

    লীলা বলল, “দু’কোটি হারাবে, না সরাবে ওকে? কী বলো তুমি? রাজি?”

    হারু বলল, “আমার নাম যেন না আসে।”

    লীলা মুখে কিছু বলল না। শুধু মনে মনে বলল, ‘জগন্নাথ, তোমায় বলেছিলাম না আর কারও কাছে গেলে মেরে ফেলব! এবার বুঝবে যে আমি কথা দিলে কথা রাখি।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)
    Next Article কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }