Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026

    অশ্বত্থামা হত – ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    September 5, 2026

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প698 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৭. বিন্দি

    বিন্দির কাছে একটা ছোট্ট অ্যালবাম আছে। বাড়িতে থাকার সময় ওদের চাকেরির ‘রিমঝিম’ স্টুডিয়োয় মাঝে মাঝে ফোটো তুলতে যেত ওরা। যে-ছেলেটা ছবি তুলত, সেই নগেন্দ্র পছন্দ করত বিন্দিকে। তাই দুটো বললে চারটে ছবি তুলে দিত। বাড়তি টাকা নিত না। ভাল ছেলে ছিল। কিন্তু জাতিতে মিল ছিল না ওদের। তাই নগেন্দ্র এগোয়নি বিন্দির ব্যাপারে। অবশ্য তাতে বিন্দির কিছু যায়-আসেনি। একটা মেয়ে যখন বড় হয়, কত পুরুষের মুগ্ধ আর লুব্ধ দৃষ্টি যে তাকে পার করে যেতে হয়! এ পার করার কায়দা মেয়েদের কেউ শেখায় না, তারা নিজেরাই শিখে যায়। অনেকটা গাছে ফুল আসার মতো এ সব শিক্ষাও মেয়েদের মনে নিজে থেকেই আসে।

    নগেন্দ্রর দৃষ্টিও বিন্দি বুঝত। কিন্তু সেটা গায়ে মাখত না। বরং খুশি হত অতিরিক্ত ছবি পেয়ে। সেই ছবিগুলো এই অ্যালবামটায় জমিয়ে রেখেছে ও। মাঝে মাঝে এগুলো খুলে দেখে। ভাল লাগে।

    চাকেরি জায়গাটা ছোট হলেও বেশ ফাঁকা আর সুন্দর। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল, ওখানে আকাশ দেখা যায় অনেকটা করে। কারণ, উঁচু বাড়ি নেই একটাও। যে দু’-চারঘর ধনী আছে, তাদের বাড়ি বড়জোর দোতলা। ওদের গ্রামের সবচেয়ে উঁচু জায়গাটা হল জলের ট্যাঙ্ক!

    চাকেরির আকাশ খুব প্রিয় বিন্দির কাছে। দূষণ নেই। নরম নীল রঙের ভেলভেট যেন কেউ খুব ভালবেসে, যত্ন করে পেতে দিয়েছে আকাশে।

    নগেন্দ্র যে ওর আর ইমলির ছবি তুলে দিত তার অনেকটাই ছিল আউটডোরে। স্টুডিয়োর মধ্যেকার ওই আঁকা দৃশ্যপটের সামনে কাঠের পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে তোলা ছবি নয়। নগেন্দ্রর মধ্যে একটা আর্টিস্ট ছিল। বিন্দিকে বলত, “তোমায় এত সুন্দর দেখতে, এ ভাবে স্টুডিয়োর নকল ছবির সামনে তোমায় মানায় না। তোমার জন্যই তো চাকেরিতে এত ফুল ফোটে। এমন বড় বড় গাছ মাথা তুলে দাঁড়ায়। পাখি গান গায়। তোমার জন্যই তো চাকেরির আকাশ এমন নীল। তাই তোমার ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে নেচারকে রাখতেই হবে।”

    নগেন্দ্রর সেই স্টুডিয়ো এখন আর নেই। সব গুটিয়ে কানপুরে চলে গিয়েছে ও। সেখানে বড় স্টুডিয়ো খুলেছে। বিয়েও করেছে। আজকাল নাকি ভিডিয়োগ্রাফিও করে নানা অনুষ্ঠানে। একটা সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কিনেছে। ফেসবুকে মাঝে মাঝে দেখে বিন্দি। না, নগেন্দ্র ফেসবুকে ওর বন্ধু নয়। তবু দেখে ও। আর ভাবে এক জাতি নয় বলে নগেন্দ্র কোনও দিন সাহস করে কিছু বলেনি বিন্দিকে। কিন্তু এখনকার দিনে সে সব না মেনে ওরা যদি বিয়ে করত! চারদিন হয়তো এলাকায় ছিছিক্কার হত, তার পর তো সব ঠান্ডা হয়ে যেত। তা হলে কি এখন এমন একটা অন্ধকূপের মধ্যে বেঁচে থাকতে হত ওকে!

    অনেক সময়ে অল্প বয়সে, নিজের রূপে নিজে মুগ্ধ হয়ে নিজেকে বড্ড মহার্ঘ ভেবে নেয় মানুষ! যুক্তি বুদ্ধি কাজ করে না। নিজের লাভ-ক্ষতির বোধ তৈরি হয় না। ফলে পরের জীবনে খুব বিপদে পড়ে যায় নিজেই।

    বিন্দিরও তেমন হয়েছিল। নগেন্দ্র ওকে পছন্দ করে, এটা ভেবে ভাল লাগলেও নগেন্দ্রকে ও পাত্তা দেয়নি। ওর কেবলই মনে হত কেউ না কেউ ঠিক আসবে, যাকে দেখলেই ওর মনের মধ্যে ভায়োলিন বেজে উঠবে হিন্দি সিনেমার মতো! ওর মনে হত ওর বর হবে রণবীর কপূরের মতো কেউ!

    এখন এ সব ভাবলে হাসি পায়। ওর ওপর উঠে যখন মাধু হাঁসফাঁস করে, তখন সেই সব সময়ের কথা মনে পড়ে। ভাবে, নগেন্দ্র কি মাধুর চেয়ে খারাপ হত!

    তবে জীবনের আরাম বা সিকিওরিটির জন্য এই সব এখন মনে হয়। বিন্দির। আসলে খুব গভীর ভাবে ভেবে দেখলে ওর নগেন্দ্রকে পছন্দই নয়। এখনও যেন মনে মনে ও রণবীর কপূরের জন্য বসে রয়েছে বলে মনে হয় ওর! হাসি পায় বিন্দির। মানুষ ধান্দা আর বেঁচে থাকার জন্য সেয়ানাগিরি করলেও, অনেক গভীরে সে চিরকালীন বোকা আর স্বপ্ন দেখা এক প্রাণী বই আর কিছু নয়।

    অ্যালবামটা হাতে নিলেই কত কী যে মনে পড়ে যায় ওর! চাকেরির সেই সময়গুলো ওকে বড্ড মায়ায় জড়িয়ে রাখে। হাজার অভাব থাকলেও ইমলি আর ও কী আনন্দেই না ছিল!

    ইমলি! ওঃ ইমলি! বোনের কথাটা মনে পড়তেই মাথার মধ্যে কট করে উঠল বিন্দির। শালা পেট বাঁধিয়ে বসে আছিস! হারামজাদি! দাঁতে দাঁত ঘষে ফোঁস করে শ্বাস ফেলল একটা। বোনকে খুব ভালবাসে ও। কিন্তু আজকাল কেমন যেন একটা রাগ কাজ করে ওর। মনে হয় অন্যের নোংরা ও পরিষ্কার করবে কেন? কেন নিজের জীবনের দায়িত্ব ইমলি নিজে নেবে না! আর মা! সে-ই বা কীরকম! মেয়েকে ঠিক করে রাখতে পারে না, আর এখন ন্যাকামো করে ইমলিকে মেরে কুয়োয় ঝাঁপ দেবে বলে নাটক করছে! পাঁচ লাখ টাকা মুখের কথা! কী ভাবে সেটা রোজগার করবে ও? আচ্ছা, রূপবান কি সত্যি ওকে দেবে টাকাটা? ওকে কি শুধু লালুকে বীরেন্দ্রর বিরুদ্ধে উস্কে যেতে হবে? লালু, বীরেন্দ্রর ওপর রেগে গেলে লোকটার কী লাভ? আর লোকটা যে টাকা দেবে তার গ্যারান্টি কী?

    তাও যদি টাকাটা পাওয়া যায়! সেটার জন্যই বিন্দি চেষ্টা করছে। কিন্তু কে এই রূপবান! কোথা থেকে এল লোকটা! বীরেন্দ্রর ক্ষতি করা যে উদ্দেশ্য, সেটা তো বুঝতে পারছে। কিন্তু কেন এমন করতে চায়? এর সঙ্গে কি বীরেন্দ্রকে মারার চেষ্টা জড়িয়ে আছে?

    যাক গে যাক। বিন্দির টাকা পেলেই হল। কেন করতে চায়, কী করতে চায় ভেবে ও কী করবে! টাকা পাওয়া আর ঝামেলায় জড়িয়ে না পড়া এই দুটোই ওর লক্ষ্য। আর এই দ্বিতীয় পয়েন্টটার ব্যাপারে ওকে নিশ্চয়তা দিয়েছে রূপবান। বলেছে যে, ওর কোনও অসুবিধে হবে না। কেউ কিচ্ছু জানবে না। এখন দেখা যাক কী হয়। শুধু সময়ে সময়ে রূপবানকে খবর দিয়ে যেতে হবে ওকে এই বাড়ির ব্যাপারে। আর তার সঙ্গে লালুকে উস্কে যেতে হবে।

    অ্যালবাম বন্ধ করে উঠল বিন্দি। ও নিজের ঘরে থাকলেও দূরে আবছা ভাবে একটা গাড়ির আওয়াজ পেয়েছে। ম্যাডাম ফিরেছে। এবার ওকে যেতে হবে।

    বিছানা থেকে নেমে পায়ে চটি গলাল বিন্দি। তার পর ওড়নাটা নিয়ে কাঁধে ফেলে কোমরেও জড়াল। ম্যাডামের জন্য কাজ শুরু হবে এবার।

    ঘর থেকে বেরিয়েই ও দেখল, অমলা মাসি আসছে। অমলা মাসি এই বাড়ির অনেক পুরনো কাজের দিদি। ম্যাডাম নাকি বিয়ের সময় সঙ্গে করে এনেছিল। মহিলা ভাল। নির্ঝঞ্ঝাট।

    ওকে দেখে হাসল। বলল, “ওই কুশি এল। যা।”

    ম্যাডামকে এই নামে একমাত্র অমলা মাসিই ডাকে। ছোট থেকে নাকি মানুষ করেছে ম্যাডামকে। কিন্তু অমানুষ করেছে বলেই মনে হয় বিন্দির।

    তবে ম্যাডাম অমলা মাসির দিকটা দেখে। এই যে মাসির ঘরের বিছানার ম্যাট্রেসটা নষ্ট হয়ে গিয়েছে, সেটা অমলা মাসি একবার ম্যাডামকে বলা মাত্র ম্যাডাম নাকি লালুকে সেটা দেখতে বলেছে। বিন্দিরা কিছু বললে কিন্তু ম্যাডাম এমন চটপট কিছু করে না।

    অমলা মাসির বয়স হয়েছে। সঙ্গে বেশ মোটাও। পায়ে একটা সমস্যা আছে। খুঁড়িয়ে হাঁটে। কাজও সে ভাবে করতে পারে না। দেখে কষ্ট হয় বিন্দির। কিন্তু তাও ম্যাডাম মাসিকে রেখে দিয়েছে।

    করিডোর পেরিয়ে মূল বাড়িতে গেল বিন্দি। তার পর ম্যাডামের ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দরজা খোলা।

    “ম্যাডাম!” বিন্দি আলতো করে ডাকল। কে জানে, ম্যাডামের মুড কেমন আছে!

    “ঘরে আয়,” ম্যাডামের গলা শুনে বিন্দি বুঝল যে, মুড ঠিকই আছে। বিন্দি ঘরে ঢুকল। সে ভাবে গরম পড়েনি এখনও। তাও এরা এসি চালিয়ে রাখে। কিসের এত গরম কে জানে এদের! টাকা থাকলে মানুষ ভূতের বিয়ে দেয়!

    বিন্দি মাঝে মাঝে ভাবে, এদের কত টাকা! মানে, এত টাকা যে সারা জীবনে সেই অর্থের একটা বিরাট অংশ এমনই পড়ে থাকবে! তাতে কেউ কোনও দিন হাত দেবে না। তবু এরা অভাবী, সত্যিকারের দরকার যাদের, তাদের সাহায্য করবে না। চোখের সামনে অন্যদের কষ্ট পেতে দেখলেও এরা পুতুলের মতো মুখ ঘুরিয়ে নেবে। সত্যি, মানুষের মতো এত জঘন্য প্রাণী এই পৃথিবীতে একটাও নেই। বাঘ, সিংহ তো কখনও নিজের দরকারের বেশি কোনও কিছুতে অধিকার তৈরি করে রাখে না!

    ম্যাডাম বিছানায় বসে রয়েছে। শুধু কুর্তি পরা। লেগিংস খুলে রেখেছে। ম্যাডাম জানে, এই ঘরে বিন্দি আর অমলা মাসি ছাড়া আর কেউ আসবে না এখন।

    ওকে দেখে ম্যাডাম ঘুরল। বলল, “বাইরে থেকে একটু পেঁয়াজি নিয়ে আয় তো। আর সঙ্গে আলুর চপ। কত দিন খাওয়া হয় না। তোরা খেলে তোদের জন্যও আনিস।”

    ‘ওই বাসি মোবিলে ভাজাগুলো?” বিন্দি ভুরু কোঁচকাল, “তার চেয়ে ঠাকুরকে বলছি, বানিয়ে দেবে চট করে।”

    ম্যাডাম হাসল, “খুব পেকেছিস! বাসি মোবিল! শোন, বাইরে ওদের ওই বাজে তেল, ধুলো-ময়লা আর অপরিচ্ছন্নতার জন্যই ওদের রান্নায় ওরকম টেস্ট হয়। কলেজে যখন পড়তাম, কলেজ স্ট্রিটে এরকম প্রায় রোজই খেতাম। আমার কিছু হবে না, বুঝলি? এখন যা, নিয়ে আয়। খেতে ইচ্ছে করছে। ঢোকার সময় দেখছিলাম ভাজছে। আমার জন্য দুটো পেঁয়াজি আর দুটো আলুর চপ। আর তোরা যেমন খাবি। আর ওগুলো এনে ভাল করে মুড়ি মাখবি। আম-তেল, আমচুর, পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা, ঝাল চিপস আর ঝাল চানাচুর! সঙ্গে কোল্ড ড্রিঙ্কও। বুঝেছিস?”

    বিন্দি মাথা নাড়ল। ম্যাডাম এমনিতে খুব নিয়মে চলে। ফিগার নিয়ে খুব সতর্ক। কিন্তু দু’-তিন মাস পর পর একদিন এরকম হাবিজাবি খায়! এই এমন সব খাবার বলল যে, শুনেই যেন বিন্দির অম্বল হয়ে গেল!

    বিন্দি মাথা নাড়ল। তার পর বলল, “আচ্ছা ম্যাডাম, টাকা ধার দেয় এরকম কেউ আছে, জানেন?”

    “টাকা ধার! কেন? কার লাগবে? তোর?” ম্যাডাম জিজ্ঞেস করল। “আমার লাগবে। পাঁচ লাখ। বাড়িতে পাঠাতে হবে। বাড়িতে খুব দরকার!”

    ম্যাডাম ভুরু তুলল, “বাব্বা! এত টাকা! আমিই দিই। কিন্তু বাইরের লোককে। কাজের লোকদের দিই না। কত টাকা মাইনে পাস তোরা যে, শোধ দিবি?”

    কথাটার মধ্যে যে তীব্র অপমান আছে সেটা এসে গায়ে বিধল বিন্দির। জ্বালা ধরাল মনে। ও চোয়াল শক্ত করল।

    ম্যাডাম বলল, “থার্টিন পারসেন্ট সুদে টাকা দিই। বুঝেছিস? মানে, আমার কাছ থেকে পাঁচ লাখ নিলে তোকে আমায় সুদে-আসলে পাঁচ লাখ পঁয়ষট্টি হাজার ফেরত দিতে হবে এক বছরে। তুই মাইনে পাস ন’হাজার। মানে, বিনা মাইনেতে প্রায় সাড়ে চার বছর কাজ করলে, তবেই আসলটা শোধ হবে। সুদ তো তার পরে। বুঝেছিস? কিন্তু তত দিনে তুই যে ভেগে যাবি না, তার গ্যারান্টি কী? কো-ল্যাটারাল তো কিছু নেই তোর, তাই না!” বিন্দি অত মুখে-মুখে হিসেব বোঝে না। কিন্তু এটা বুঝল যে, ম্যাডাম টাকা দেবে না। ও দীর্ঘশ্বাসটা গোপন করল। ভেবেছিল ম্যাডাম সাহায্য করলে রূপবানকে না করে দেবে। কিন্তু ঈশ্বর চান ওকে দিয়ে এরকম কাজ করাতে। চান, ও যেন লালুকে বীরেন্দ্রর বিরুদ্ধে উস্কানি দেয় সারাক্ষণ। তাতে ও আর কী করবে! ঈশ্বরের বিরুদ্ধে তো আর ও যেতে পারে না!

    বিন্দি মাথা নাড়ল, “ঠিক আছে, আমি অন্য ব্যবস্থা করে নেব ম্যাডাম।”

    “দেখিস, আবার চুরি-ছ্যাঁচড়ামি করিস না,” ম্যাডাম হাসল, “মজা করলাম কিন্তু। টাকা খুব খারাপ জিনিস রে বিন্দি। বাইরের লোকের সঙ্গে ব্যবসার সম্পর্ক, তাই তাদের টাকা দিই। কিন্তু ঘরের লোকরা যদি টাকা ফেরত না দেয়, তা হলে তো লোক দিয়ে তাদের ঠ্যাঙানো যায় না, না! তাই এ সবে ঢুকি না। তুই তাড়াতাড়ি চপ নিয়ে আয়। আমার খিদে পাচ্ছে। যা!”

    বিন্দি জোর করে হাসল। তার পর বেরিয়ে এল ঘর থেকে। কান লাল হয়ে আছে ওর। বলে কিনা যেন চুরি না করে। এটা যে ইয়ার্কি নয়, সেটা কি আর ও বোঝে না! জানোয়ার! জানোয়ার সব! চোয়াল শক্ত করে বিন্দি চাপা গলায় গালি দিল, “রান্ডি!” বলেই থমকাল। কেউ শুনে ফেলল না তো! ও এদিক-ওদিক দেখল। না, কেউ নেই। দূরে রান্নাঘর থেকে ঠাকুরের রান্নার আওয়াজ আসছে। রাতের জন্য রুটি হচ্ছে।

    মাসের শুরুতে ম্যাডাম ওকে কিছু টাকা দিয়ে রাখে। সেখান থেকেই এমন ধরনের খরচগুলো করে ও। কুর্তির পকেটে হাত দিয়ে দেখল। দুশো টাকার নোট আছে একটা। চপ হয়ে যাবে আরামসে। বাকি সব জিনিসপত্র বাড়িতে আছে। ও মনে মনে হিসেব করল, ম্যাডাম ছাড়াও অমলা মাসি-সহ কাজের পাঁচজন রয়েছে। সবার জন্য দুটো করে আনবে। ও নিজে খাবে না। চপ জিনিসটা ভাল লাগে না ওর।

    ও দ্রুতপায়ে বাড়ির বাইরে এল। বাইরে সন্ধে নেমেছে বেশ কিছুক্ষণ। সাজানো বাগানের মধ্য দিয়ে পেতে রাখা পথের দু’পাশে নরম আলো জ্বলছে। কোকিল ডাকছে একটা। আর কী সুন্দর হাওয়া দিচ্ছে! বসন্তের হাওয়া। এই হাওয়া নাকি খারাপ। মা বলত। বলত যে, এই হাওয়ায় রোগ হয়।

    এত সুন্দর হাওয়ায় রোগ! কে জানে! হবেও-বা।

    বিন্দি দেখল আশপাশে কেউ নেই। ও বড় গেটের দিকে হাঁটা দিল। চপের দোকানটার সেল খুব। তবে আটটার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। কে জানে পেঁয়াজি আর আলুর চপ পাবে কি না এখন।

    ছ’জন দারোয়ান নিজেদের মধ্যে গল্প করছে। ওকে দেখে হাসল। বিন্দি পাত্তা দিল না। সব ভুসো মাল।

    ও রাস্তা পার করে অন্যদিকে গেল। ওই একটু দূরে চপের দোকান দেখা যাচ্ছে। একটা ছোট্ট ঘরের সামনে স্বামী-স্ত্রী মিলে দোকান চালায়। সকালে লুচি, কচুরিও করে। আর বিকেলে নানা রকমের চপ। সঙ্গে লাল লাল করে ভাজা মুড়ি।

    বিন্দি দোকানের দিকে এগিয়ে গেল। দোকানের সামনে বেশ ভিড়। অধিকাংশই কাজ থেকে ফেরা মানুষ। বাড়িতে ফেরার আগে খাবার কিনতে এসেছে!

    বিন্দির বিরক্ত লাগল। এ সব চপ ও সহ্য করতে পারে না। ওর বাবা এমন হাবিজাবি খাবার আর তার সঙ্গে সস্তার মদ খেয়েই তো হঠাৎ করে চলে গেল। পেটের যে কী সাংঘাতিক অবস্থা হয়েছিল!

    বিন্দি এগিয়ে ভিড়ের মধ্যে ঢুকল এবার। ওই যে মহিলা বসে রয়েছে। সামনে একটা ঝুড়ি। তাতে চপ ভেজে রাখছে পাশে বসে থাকা লোকটি। আর ঝুড়ি থেকে সেই চপ তুলে সামনের অ্যালুমিনিয়ামের ট্রে-তে ভাগ ভাগ করে রাখছে মহিলা।

    বিন্দি গলা তুলে বলল, “ও দিদি, আমায় চপ দিন। পেঁয়াজ…” “আরে তুই!” ভিড়ের মধ্য থেকে লালুর গলা পেল বিন্দি।

    ও দেখল, লালু ভিড়ের মধ্য থেকে মাথা বের করে ওকে দেখে হাসল। তার পর চার-পাঁচজনকে ঠেলেঠুলে লালু এসে দাঁড়াল ওর সামনে। ?” বিন্দি বলল।

    “কী রে, তুই কী কিনতে এসেছিস“ক’টা করে বল। আমি কিনে দিচ্ছি। এখানে হেব্বি ভিড়। তুই পাশে দাঁড়া। এ ভাবে চাইলে আধ ঘণ্টা লেগে যাবে!”

    বিন্দি বলল ক’টা করে কী কী কিনতে হবে। তার পর জিজ্ঞেস করল, “তুমিও কিনতে এসেছ?”

    লালু হাসল, “হ্যাঁ। ম্যাডামের সঙ্গে গাড়ি করে ফেরার পথে দেখছিলাম। খেতে ইচ্ছে হল। তুই দাঁড়া, আমি নিয়ে আসি। মাসির সঙ্গে আমার হেভি দোস্তি। নিজেই তুলে নেব। টাকাটা দে!”

    বিন্দি বলল, “তোমারটাও এর মধ্যে ধরে নিয়ো। ম্যাডাম বলেছে কেউ খেলে তারটাও নিতে। তুমি বেকার কেন নিজে পয়সা দেবে!”

    “ঠিক আছে। তুই দাঁড়া। আমি চট করে আসছি,” কথাটা বলেই লালু আবার ভিড়ের মধ্যে ডুব দিল।

    বিন্দি সরে এল একটু। ভিড় ভাল লাগে না ওর। বাঁচা গিয়েছে যে, লালুকে পেল এখানে। ও আশপাশে তাকাল। আলিপুরের এই জায়গাটা এমনিতে ফাঁকাই। আশপাশে গাছপালাও আছে। কয়েকটা ফ্ল্যাট থাকলেও এখানে মূলত বড় বড় পাঁচিল ঘেরা বাড়ি সব। কলকাতার এ সব জায়গায় এমন বাড়ি থাকা মানে বিরাট ব্যাপার। কোটি কোটি টাকা না থাকলে সেটা সম্ভব নয়।

    বিন্দি মাঝে মাঝে ভাবে, ও পাঁচ লাখ টাকা জোটাতেই পাগল হয়ে যাচ্ছে চিন্তায়। সেখানে কী করে মানুষজন এমন কোটি কোটি টাকা রোজগার করে? ম্যাডাম বা বীরেন্দ্রর যে-কথাবার্তা কানে উড়ে, ভেসে আসে তাতে ও বোঝে যে, পলিটিক্স করাটা নাকি এখন খুব ইমপর্ট্যান্ট। তা হলেই নাকি টাকার মুখ দেখা যাবে। তাই তো নাকি এ সব লাইনে যারা থাকে, তাদের গাড়ি-বাড়িটাকাপয়সার কোনও অভাব নেই। কথাটা শুনে কেমন যেন লাগে বিন্দির। সবটা সত্যি নয় নিশ্চয়ই। সৎ মানুষও নিশ্চয়ই আছে। না হলে পৃথিবী চলছে কী করে?

    প্যাঁ করে হর্ন দিয়ে একটা আকাশি নীল আর হলুদ বাস পাশ দিয়ে চলে গেল। তার হাওয়া এসে গায়ে লাগল বিন্দির। ওর যেন হুঁশ ফিরল। বাসটা একদম গায়ের ওপর দিয়ে গেল যেন। ও ফুটপাথে দাঁড়িয়ে আছে তাতেই এই ভুল করে রাস্তায় নেমে দাঁড়ালে কী হত!

    এখন ছুটির সময়। প্যাসেঞ্জার তোলার রেষারেষি আছে। বাসে বাসে এখন খুব টক্কর লাগবে। বিন্দি ফুটপাথের ওপরই একটু পিছিয়ে দাঁড়াল। আর তখনই টিং-টিং শব্দ করে ফোনটা বেজে উঠল কুর্তির পকেটে।

    এখন আবার কে ফোন করল? মা? কিন্তু মা তো জানে এখন কাজের সময়। মা তো রাতে ফোন করে।

    বিন্দি ফোনটা বের করল। অচেনা নাম্বার। এটা আবার কার নাম্বার? সার্ভিস প্রোভাইডার কি? ধরব না ধরব না করেও ফোনটা ধরল ও। “হ্যালো?”

    “বিন্দি, আমি!” কাঁপা গলাটা চিনতে পারল ও। মাধু। “এটা কার নাম্বার?” বিন্দি গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করল। “পাশের দোকানের মনোজের। তুমি আমার নাম্বার তো ধরছ না। তাই…

    প্লিজ, কেটে দিয়ো না… প্লিজ”

    কথাটা ঠিক। মাধুর নাম্বার ক’দিন হল ধরছে না ও। রাগ থেকেই ধরছে না। সে দিন সব জানার পরও কী করে ও সব লুকিয়ে ওর সঙ্গে সেক্স করল! এমন বিপদ নিয়েও ও সব পারল ও? তার মানে বিন্দি ওর কাছে একটা মাংসের তাল মাত্র! ওর বিপদআপদের কোনও মূল্যই নেই! এই সব ভাবনা থেকেই বিরক্তি এসেছে বিন্দির।

    ও বলল, “কেন ফোন করেছ?”

    “আই লাভ ইউ বিন্দি!” কাতর গলায় বলল মাধু।

    বিন্দি খরখরে গলায় বলল, “অনেক দিন হয়নি বলে লাগাতে ইচ্ছে করছে! তাই আবার ঢ্যামনামো শুরু করেছ?”

    “কী বলছ তুমি?” ফোনের ও পারে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল মাধু। “আবার শুরু করলে!” বিন্দি বিরক্ত হল, “এমন ন্যাকামো দেখলে গা জ্বলে যায় আমার! কী, চাইটা কী, সেটা ঝেড়ে কাশো!”

    “কিছু চাই না,” কান্নাটা গিলে মাধু বলল কোনও মতে, “তুমি শুধু আমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখো। না হলে মরে যাব আমি। সেক্স তো ভালবাসার প্রকাশ। তুমি না চাইলে আমি তোমায় ধরবও না। কিন্তু নিজে থেকে দূর করে দিয়ো না। আমি মরে যাব।”

    একই সঙ্গে পরপর দু’বার মরে যাওয়ার কথা। বিন্দি চোয়াল শক্ত করল। এখন প্রেম নামক এই মিথ্যের বুদ্বুদটাকে ও সহ্য করতে পারছে না। ইমলিকেও ভালবাসত না ওই দুর্জয়! কী হল! এখন মাধুর সঙ্গে সহবাসে বিন্দি যদি প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়ে, তা হলে কী হবে? মাধু কি তখন পাশে এসে দাঁড়াবে? তখন তো লেজ গুটিয়ে পালাবে। সব বোঝে বিন্দি। সবাইকে জানা হয়ে গিয়েছে ওর।

    “কেউ কারও জন্য মরে না। ও সব ঢপলিং অন্যদের দিয়ো,” বিন্দি নিজের ভাষায় নিজেই অবাক হল। কলকাতায় থাকতে থাকতে ওর ভাষা কী ভাবে যে পাল্টে গেছে!

    “মাইরি বলছি! মা কসম!” মাধু যতটা সম্ভব বিশ্বাসযোগ্য ভাবে বলল, “তোমার মায়ের কথা মেনেই সে দিন প্রথমে কিছু বলিনি। আর তুমি আমায় এমন দোষ দিচ্ছ। বেশি ভালবাসি বলেই এমন করছ, না? আমি দেখেছি কেউ কাউকে সব দিয়ে যখন ভালবাসে, সে তখন তাকে অবহেলা করে। কষ্ট দেয়, অপমান করে। ধুলোর মতো মাটিতে মিশিয়ে দেয়। যেই বোঝে তাকে ছাড়া অন্যজনের জীবন অচল, অমনি অত্যাচার শুরু করে,” এক তোড়ে কথাগুলো বলে মাধু কেমন যেন হাঁপাল।

    বিন্দির বিরক্ত লাগল। ও রাগের গলায় বলল, “জ্ঞান পেলনে কে লিয়ে ফোন কিয়া হ্যায় ক্যা? ফোন রাখো!”

    “তুমি আমার সঙ্গে কথা না বললে আমার খুব কষ্ট হয়। তাই ফোন করলাম। আমি তোমায় ভালবাসি, এটা জানাতেই ফোন করলাম। প্লিজ, আমায় কষ্ট দিয়ো না।”

    বিন্দি দ্রুত হিসেব করল। লোকটাকে আর টাইট দেওয়া ঠিক হবে না। কলকাতায় একমাত্র মাধুই আছে যে, বিনা প্রশ্নে ওকে নানা হেল্প করে। তা ছাড়া রূপবান যে টাকা দেবে, সেটা তো মায়ের কাছে পাঠাতেও হবে। মাধু ছাড়া কে করবে সেটা? কাকেই-বা ও অত টাকা দিয়ে ভরসা করবে? না, মাধুর ব্যাপারটা আর চুইংগামের মতো টানলে হবে না। ওর মাধুকে দরকার।

    বিন্দি বলল, “ঠিক আছে। আর বলতে হবে না। বুড়োধাড়ি একটা, কথায় কথায় ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদে! চুপ করো এবার। ঠিক আছে আমি ফোন ধরব। তবে আর যদি দেখি কোনও ভুলভাল করেছ…”

    “কোনও দিন না। কভি নেহি!”

    বিন্দি বুঝল, ফোনের ও পারে সবেগে মাথা নাড়ছে মাধু। হাসি পেয়ে গেল ওর। একটা জোকার! কী করে এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ল বিন্দি! কোথায় ওর রণবীর কপূর!

    বিন্দি বলল, “ঠিক আছে। ফোন রাখো। কথা হবে আবার।” “আই লাভ ইউ,” ভিখিরির মতো গলায় আবার বলল মাধু। বিন্দি শব্দ করে হেসে কেটে দিল ফোনটা। ‘লাভ!’ কে কত লাভ করে আর লোকসান করে খুব জানা আছে ওর! ‘লাভ’ শুনলেই গা-পিত্তি জ্বলে বিন্দির। মাধুকে নেহাত ওর দরকার, তাই রেখে দিয়েছে পুষে রাখার মতো। না হলে কবে লাথি মেরে বের করে দিত জীবন থেকে।

    “কী রে, তোর কথা হল?” পাশ থেকে লালু জিজ্ঞেস করল।

    বিন্দি একটু থতমত খেয়ে গেল। খেয়ালই করেনি যে, লালু এসে দাঁড়িয়েছে। ও কি শুনেছে ওর কথা? শুনলেও বুঝেছে কি কিছু? বিন্দি দ্রুত মনে করার চেষ্টা করল, ও নিজে কতটা বলেছে।

    লালু বলল, “দূর থেকে দেখছিলাম কাকে যেন ঝাড়ছিস। হেব্বি র‍্যালা কিন্তু তোর! আমাকে একটু শিখিয়ে দিবি, কী করে এমন র‍্যালায় থাকতে হয়?”

    “তুমি শিখে কী করবে?” বিন্দি হাসার চেষ্টা করল।

    লালু বলল, “এমন র‍্যালা থাকলে আমি অনেক টাকা রোজগার করতাম।”

    বিন্দি, লালুর হাত থেকে চপের ঠোঙাটা নিয়ে নিল। তার পর টাকাটাও ফেরত নিয়ে গুনল। ঠিক আছে। এখানে যে কোনও চপ সাত টাকা করে দাম।

    আর সময় নষ্ট করা যাবে না। ম্যাডাম রেগে যাবে। বিন্দি বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগল। লালুও পাশে পাশে এল। লালুর হাতে একটা ছোট ঠোঙা। ও সেখান থেকে একটা পেঁয়াজি বের করে খাচ্ছে।

    বিন্দি কথা ঘোরাতে বলল, “তুমি গ্রামে গিয়েছিলে, না? তা কেমন আছে বাড়ির সবাই?”

    লালু হাসল, “দিব্যি আছে। তবে আমায় দেখে বিরক্ত হয়েছে খুব। তাড়াতে পারলে বাঁচে। আত্মীয়স্বজনদের মতো এমন হারামি প্রজাতি আর কিছু নেই এ পৃথিবীতে। একটা জিনিস দেখবি, রাস্তার লোকে তোকে হেল্প করবে। কিন্তু আত্মীয়রা করবে না। তারা তোর ইয়ে মেরে খাল করে সেই খালে কুমির ছেড়ে দেবে!”

    বিন্দিও হাসল। এমন করে কথা বলে লালু!

    লালু এদিক-ওদিক দেখে বিন্দির হাতের বাজুটা ধরে রাস্তা পার করল। হাওয়া দিচ্ছে বেশ। বিন্দির কী যে ভাল লাগছে হাওয়াটা! বসন্ত এসেছে। কী যেন সেই গানটা সে দিন উর্জা গাইছিল নিজের ঘরে! হ্যাঁ মনে পড়েছে— ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে’। জাগ্রত মানে কী? দ্বার মানে তো সম্ভবত দরজা। কিন্তু জাগ্রত মানে? হিন্দিতে জাগ্রাতা মানে ও জানে। দেবীর পূজার জন্য সারা রাত জেগে যে অনুষ্ঠান হয়! কিন্তু জাগ্রত মানে বাংলায় ঠিক কী? বিন্দি জিজ্ঞেস করল, “জাগ্রত মানে কী গো?”

    লালু অবাক হল, “ও বাবা! জাগ্রত মানে জেগে আছে। কেন?”

    বিন্দি বলল, “ও কিছু না। একটা গান। সেদিন উর্জাদি গাইছিল। ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। তাই আর কী!”

    “রবি ঠাকুরের গান,” একটা পেঁয়াজি শেষ করে, একটা ভেজিটেবল চপ ঠোঙা থেকে বের করল লালু। তার পর ফাঁকা ঠোঙাটা মুড়িয়ে দূরে রাখা একটা সবুজ রঙের ময়লা ফেলার ড্রামে ছুড়ে দিল।

    বিন্দি বুঝল, লালু নিজের জন্য আলুর চপ নেয়নি।

    লালু বলল, “রবি ঠাকুরের গান। মা-ও গাইত। জানিস, গ্রামে গিয়ে গোবিন্দ বাউলের সঙ্গে দেখা হল। গোটা যাতায়াতে এটাই একটা ভাল ঘটনা।”

    “বাউল।” বিন্দি তাকাল লালুর দিকে। দেখল, লালু যেন সামান্য আনমনা হয়ে আছে।

    “কত বছর পর দেখলাম। বুড়ো হয়ে গেলেও এখনও সেই হাসিখুশি আছে। বলল, মায়ায় জড়ানো খুব কষ্টের। মায়ার মতো খারাপ কিছু নেই। সত্যিই বলেছে বাউল। মায়ার মতো খারাপ সত্যি কিছু নেই। আমি হাড়ে ড়ে টের পাচ্ছি। মাঝে মাঝে ভাবি জানিস, সবাইকে তো চলে যেতেই হবে, তা-ও আমরা এ ভাবে বেঁচে থাকার জন্য আকুল কেন! কিসের মায়া সেটা! নিজের প্রাণের নাকি অন্যের সঙ্গ ছাড়া হব সেটার! বুঝতে পারি না জানিস। শুধু কষ্ট পাই। আমরা সবাই কষ্ট পাই। কষ্ট পাওয়াটাই যেন আমাদের নিয়তি।”

    বিন্দি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল লালুর দিকে। কী হয়েছে লালুর! এমন তো কখনও বলে না! কিসের কষ্ট ওর?

    ওরা বড় গেটের কাছে চলে এসেছে।

    বিন্দি বলল, “আমি যাই। ম্যাডাম না হলে রেগে যাবে আবার।”

    “হ্যাঁ, চল। আমিও ঘরে যাই। দেখি, কবি এল কি না।”

    বড় গেট দিয়ে ঢুকে ওরা এগোল। সামনে বড় ফাঁকা জায়গা। সেখানে বীরেন্দ্রর বড় গাড়িটা দেখল বিন্দি। মানে সাহেব এসে গিয়েছে।

    লালুও দেখেছে। ও বলল, “কবিও এসেছে তা হলে। এঃ, ওর জন্য চপ আনা হল না!”

    বিন্দি ঠোঙা খুলে বলল, “একটা করে পেঁয়াজি আর আলুর চপ নাও। আমি দুটো করে বেশি এনেছি। অসুবিধে হবে না।”

    লালুর মুখটা খুশি খুশি হয়ে উঠল। দুটো চপ তুলে নিল, “ওরে শালা, কী গরম!”

    বিন্দি কিছু বলার আগেই শুনল, “বিন্দি” বলে সাহেব ডাকছে ওকে। দূরে বড় বাড়ির সামনে সাহেব দাঁড়িয়ে রয়েছে। ও দ্রুত চিন্তা করে নিল। লালু পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। এটাই সুযোগ।

    ও চাপা গলায় লালুকে শুনিয়ে বলল, “এই জানোয়ারটা আবার ডাকছে! আমায় কী ভেবেছে!” তার পর গলা তুলে বলল, “আসছি।”

    ও যাওয়ার আগে একবার তাকাল লালুর দিকে। দেখল, লালু অবাক বুঝতে পারছে না ঠিক।

    হয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। ব্যাপারটা যেন লালুকে অমন আধখ্যাঁচড়া অবস্থায় রেখে বিন্দি দ্রুতপায়ে বড় বাড়ির দিকে এগিয়ে গেল।

    বীরেন্দ্র বাইরের জামাকাপড়েই দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিন্দি বুঝল, এইমাত্র ফিরেছে বাইরে থেকে। বীরেন্দ্র খুব একটা কথা বলে না ওর সঙ্গে। হঠাৎ আজ ডাকল কেন?

    বিন্দি দেখল, দূরে বড় একটা ঝাউগাছের পাশে দাঁড়িয়ে লালু এ দিকেই তাকিয়ে আছে। বিন্দি অল্প অল্প করে যে-বিষটা পুঁতছে, সেটা কাজ করতে শুরু করেছে বলেই ওর বিশ্বাস। লালুকে আগে বলা কথার ধাঁচ, এখন ওরকম চাপা গলায় দেওয়া গালি, সবটাই লালুকে কৌতূহলী করে তুলছে।

    বিন্দি গিয়ে দাঁড়াল বীরেন্দ্রর সামনে। এই জায়গায় বিশাল বড় একটা খোলা বারান্দা আছে। সাদা মার্বেলে মোড়া। সিলিং থেকে একটা সুন্দর ঝাড় ঝুলছে। নরম আলোয় মুড়ে আছে সব।

    হাওয়াটা এখনও বইছে। সুন্দর একটা হাওয়া। বসন্ত জাগ্রত দ্বারে! কিন্তু এই বাড়িতে তো সে ভাবে জাগ্রত নয়! কেমন যেন ছায়া ছায়া একটা মনখারাপ আর উদ্বেগ লেগে থাকে এ বাড়ির সর্বত্র!

    বীরেন্দ্রর সামনে গিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়াল বিন্দি। বীরেন্দ্র সারা দিন বাইরে থাকলেও ওর জামাকাপড় একদম নিখুঁত। এমনকি, এখনও পারফিউমের গন্ধে চারিদিক থইথই করছে।

    বীরেন্দ্র সময় নিল একটু। তার পর গলা নামিয়ে বলল, “তোর সঙ্গে আমার একটা গোপন দরকার আছে। কাজও বলতে পারিস। তোকে কি বিশ্বাস করতে পারি?”

    বিন্দি মুখ তুলে তাকাল। বাবা! সাহেবের আবার ওর সঙ্গে কী গোপন দরকার? কিন্তু সেটা বুঝতে না দিয়ে ও নিঃশব্দে মাথা নাড়ল।

    বীরেন্দ্র বলল, “দেখ, আমরা বাবা-মায়েরা কী চাই? আমরা চাই আমাদের সন্তানরা ভাল থাকুক। তাই তো? আমিও আমার মেয়ের জন্য তা চাই। কিন্তু মেয়ে আমার বেগড়বাই করছে। তাই আমি চাই উর্জা যতক্ষণ বাড়িতে থাকবে, ততক্ষণ তুই ওকে চোখে চোখে রাখবি। ও কী করে, কখন বাইরে যায়, কার সঙ্গে যায়, কখন ফেরে সব জানাবি আমায়। বুঝেছিস!”

    বিন্দি কী বলবে বুঝতে পারল না। হাত তুলে অসহায় ভঙ্গি ফুটিয়ে বলল, “কিন্তু সাহেব এটা কি…”

    “তুই আমার কাছে চাকরি করিস তো! যা বলব, শুনবি। বুঝেছিস?” বীরেন্দ্রর গলায় ধার!

    বিন্দি অসহায় ভাব বজায় রেখে মাথা নামিয়ে নিল। তার পর মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল। ও জানে দূর থেকে ওদের কথা শুনতে না পেলেও ওর শরীরের ভঙ্গিমা দেখছে লালু!

    বীরেন্দ্র বলল, “সব জানাবি আমায়। ডাইরেক্ট আমায়। আর কেউ যেন এটা জানতে না পারে। মনে থাকে যেন। না উর্জা, না তোর মেমসাহেব। আমার মেয়ের ভালমন্দটা আমাকেই দেখতে হবে।”

    বিন্দি মাথা নাড়ল আবার।

    বীরেন্দ্র একটা দু’হাজার টাকার নোট বাড়িয়ে দিল ওর দিকে, “এটা রাখ। মাঝে মাঝে দেব। কাজে ফাঁকি দিবি না। আমি ভরসা করছি কিন্তু তোর ওপর!”

    বিন্দি দ্বিধা দেখিয়ে টাকাটা নিল।

    বীরেন্দ্র আর দাঁড়াল না। “বনোয়ারি, বনোয়ারি” বলে ডাকতে ডাকতে ঘরের ভেতরে চলে গেল!

    বনোয়ারি বীরেন্দ্রর খাস বেয়ারা।

    ওই মৃদু মায়াবী আলোর মধ্যে বিন্দি কয়েক মুহূর্ত দাঁড়াল। তার পর ওড়নাটা মুখে চাপা দিয়ে কান্নার মতো ভঙ্গি করল। আড়চোখে দেখল, লালু অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে এই দিকে। এক পা, দু’পা করে এগিয়েও আসছে।

    কিন্তু না, এখনই কিছু জানাবে না ও। আরও খেলিয়ে লালুর মনে বিষ ঢোকাতে হবে। ও আর অপেক্ষা না করে কান্নার ভঙ্গিমা করেই এক হাতে ঠোঙা আর অন্য মুঠোয় টাকা আর ওড়না ধরে এক দৌড়ে ঘরের দিকে চলে গেল। সবটার মধ্যেই এটা ফোটানোর চেষ্টা করল যে, ওকে সাংঘাতিক কিছু বলা হয়েছে আর ও নিরুপায় ভাবে সেটা মেনে নিয়েছে।

    বাড়ির ভেতরে গিয়ে সামান্য দাঁড়াল বিন্দি। হাসি পাচ্ছে। আবার কষ্টও হচ্ছে। কী করছে ও! লালু ওকে বোনের মতো দেখে, তাকে এ ভাবে ঠকাচ্ছে। কিন্তু বোনের মতো আর নিজের বোন অনেক আলাদা। বিন্দি জানে নিজের বোনের জন্য ওকে সব কিছু করতে হবে।

    বিন্দি ভাবল রূপবান ওর অভিনয় দেখলে নির্ঘাত টাকাটা বাড়িয়ে দিত!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)
    Next Article কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    ক্রিস-ক্রস – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 11, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রজতশুভ্র মজুমদার
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026
    Our Picks

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026

    অশ্বত্থামা হত – ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    September 5, 2026

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }