Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প698 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৬. বিন্দি

    ম্যাডাম বাড়িতে নেই। কিন্তু লালু রয়েছে। ম্যাডামের কী একটা আছে। তাই বেরিয়েছে। অনেক রাত করে নাকি ফিরবে।

    বাঁচা গিয়েছে। ম্যাডাম থাকা মানেই হুকুম। এটা করো, ওটা করো! এদিকে অমলা মাসি তো আছে। কিন্তু তাকে খুব কিছু বলে না। যত যেন বিন্দিকে দেখলেই মনে পড়ে!

    বিন্দি মোবাইল বের করে ঘড়ি দেখল। সাড়ে ছ’টা বাজে। সময় তো প্রায় হয়ে গিয়েছে। ফোনটা এলেই এখন বেরিয়ে পড়বে ও। বাড়ি থেকে যেতে মিনিট পাঁচেক মতো সময় লাগবে ।

    জানলা দিয়ে বাইরে তাকাল বিন্দি। নরম আলো জ্বলছে বাগানে। হাওয়া দিচ্ছে। এত বড় বাড়িটা কী নিঃঝুম! এটা বড়লোকদের পাড়া। এখানে এমনিতেই হই-হট্টগোল নেই। তার ওপর এত বিশাল জায়গা নিয়ে । এত গাছপালা। পাখির ডাক। সবই যেন এই নিস্তব্ধতাকে আরও তোলে।

    বিন্দি উঠল। বাইরে গিয়ে বসবে এবার। মনের মধ্যে একটা উত্তেজনা হচ্ছে। কখন যে আসবে! সময় তো হয়ে গিয়েছে। একবার কি ফোন করবে! সেটা ঠিক হবে না মনে হয়। কারণ, ঘণ্টাখানেক আগেই তো ফোনে কথা হয়েছিল যে, আসছে। তাই বারবার ফোন করাটা আদেখলার মতো । বিন্দির অভাব আছে, কিন্তু তাই বলে তো আর নিজেকে খেলো করা যায় না!

    বিছানা থেকে নেমে পায়ে চটি গলাল ও। তার পর হাতে একটা ব্যাগ । কাপড়ের।

    বিন্দি ঘর থেকে বেরিয়ে করিডোর দিয়ে বাইরের দিকে এগোল এবার। সারা বাড়ি শাস্ত। শুধু দূর থেকে টিভির শব্দ আসছে। বীরেন্দ্র আজ বাড়িতে । নিশ্চয়ই টিভি দেখছে!

    বীরেন্দ্রর কথা মতো উর্জার ওপর নজর রেখেছে বিন্দি। কিন্তু কিসের জন্য যে নজর রাখছে কে জানে! উর্জা খুব শান্ত, চুপচাপ মেয়ে। ওর ওপর নজর রেখে যে কী হবে বুঝতে পারছে না। তাও সাহেব যখন বলেছে, তখন কী আর করে বিন্দি। যখনই উর্জা বাড়ি থেকে বেরোয়, বিন্দি, বীরেন্দ্রকে ফোন বা মেসেজ করে জানিয়ে দেয়। কে জানে ও উর্জার কোনও ক্ষতি করছে কি না!

    মাঝে মাঝে বিন্দি ভাবে এই বাড়িতে কী যে চলছে! বীরেন্দ্রর মতো লোক ম্যাডামকে বিয়ে করেছে কেন? এ দিকে বিয়ে করলেও সম্পর্ক নেই। আর উর্জার সঙ্গে বীরেন্দ্রর সম্পর্কটা যেন কীরকম! দু’জনেই দু’জনকে এড়িয়ে থাকে। তবে ইদানীং উর্জা, বীরেন্দ্রর পছন্দ করা ছেলেকে বিয়ে করতে আপত্তি করেছে। সেটার পরই বীরেন্দ্র রেগে গিয়েছে খুব। দু’- একবার রাগারাগি শুনেছে বিন্দি। কিন্তু ও সরে গিয়েছে দূরে। এ সব শুনতে ভাল লাগে না ওর। ও শুধু ভাবে প্রত্যেকের জীবনেই যেন অশান্তির শেষ নেই!

    বিন্দি সামান্য আড়মোড়া ভাঙল। আর তখনই বাগানের কোথা থেকে যেন একটা কোকিল ডেকে উঠল। কেমন যেন শিরশির করে উঠল ওর সারা শরীর। সন্ধেবেলা কোথা থেকে ডাকছে কোকিলটা? শেষ রাতেও একদিন শুনছিল ঘুম ভেঙে। কোকিলের ডাকের মধ্যে কেমন যেন একটা গা ছমছমে ভাব আছে। ভাল লাগে না ওর। বিন্দি মাথা ঘুরিয়ে খোঁজার চেষ্টা করল পাখিটাকে। কোথায় বসে আছে ঘাপটি মেরে!

    “কী রে, কোথায় যাচ্ছিস?”

    বিন্দি থমকে ঘুরে তাকাল। অমলা মাসি দাঁড়িয়ে আছে। মুখে সামান্য হাসি।

    বিন্দি বলল, “ম্যাডাম তো নেই। তাই একটু বাগানে যাচ্ছি আর কী। ঘরে বসে থাকতে ভাল লাগছে না।”

    অমলা মাসি এবার হাসল বড় করে। বলল, “রাতে তো কৌশানি খাবে না। আমাদের জন্য খাবার করে নিতে বলেছে। সাহেব তো সুপ আর রুটি খাবে। আমাদের জন্য খিচুড়ি বলছি। অসুবিধে নেই তো?”

    বিন্দি মাথা নাড়ল। না নেই। কিন্তু মনে মনে বিরক্ত হল। বাড়িতে যখন থাকত, তখন দাল-চাওল মিলিয়ে মা যেমন খিচুড়ি করত, এখানে তেমন খিচুড়ি হয় না। বাঙালিদের এই খিচুড়ি যেন একটু মিষ্টি। তবে এখানে দেখেছে, দাল চাওলের সঙ্গে এরা পাশে অনেকরকম ভাজা আর তরকারি নিয়ে এরা খায়। ওদের গ্রামে কিন্তু এরকম নয়। সেখানে লঙ্কা আর আচারই যথেষ্ট!

    বাঙালিরা অনেক বেশি তরিজুত করে খায়। ওর মনে হয়, এ সব টাকা নষ্ট করা ছাড়া আর কিছু নয়। আসলে ম্যাডাম বাঙালি বলেই এমন ধরনের খাওয়া এই বাড়িতে। তবে হ্যাঁ, বিন্দি এটাও মানে যে, বাঙালিদের মতো এমন খাওয়ার রেওয়াজ হয়তো খুব বেশি জাতির নেই!

    অমলা মাসি বলল, “ঠিক আছে, আমি তা হলে বলে দিচ্ছি সেই ভাবে।”

    বিন্দি আর না দাঁড়িয়ে বাড়ির বাইরে এল। আর সঙ্গে সঙ্গে এক রাশ হাওয়া এসে যেন ধুইয়ে দিল ওকে! যেন একটা অদৃশ্য ঢেউ এসে শাস্ত ঠান্ডা স্রোতে ভিজিয়ে দিল ওর সারা শরীর। আর তার সঙ্গে গুলমোহরের দু’-চারটে কচি পাতাও এসে জড়িয়ে গেল ওর চুলে। কী যে ভাল লাগল বিন্দির। কয়েক মুহূর্তের জন্য সব ভুলে গেল ও। মনে হল ও স্বাধীন! ও সুখী!

    কিন্তু হাওয়া যেমন এল, তেমন চলেও গেল। যেন জল নেমে গেল অনেকক্ষণ জমে থাকার পর। আর তার পর জলের তলা থেকে যেন বেরিয়ে এল চাকেরির বাড়ি, মা, ইমলি, ইমলির না-হওয়া বাচ্চা, মাধু-সহ আরও নানা এলোমেলো কষ্ট!

    বিন্দি তাকাল সামনে। হাওয়া দিচ্ছে এখনও। তবে সামান্য। ওই ফুলের গাছের মাথা নড়ছে একটু। গাছের পাতারা নড়ছে। কিন্তু সেই যে মাতন, সেই যে সব ভুলিয়ে দেওয়া সেটা আর নেই।

    জীবনের যা কিছু ভাল, যা কিছু খুশির তা এমন ক্ষণস্থায়ী হয় কেন? বেঁচে থাকার অধিকাংশটাই এমন কষ্ট আর যন্ত্রণা দিয়ে মোড়া কেন?

    ও দেখল, সামনে ছড়ানো নির্জন বাগানে হালকা আলো জ্বলে আছে। দারোয়ানদের ঘর থেকে ক্ষীণ স্বরে রেডিয়োর গান ভেসে আসছে। আর নরম আলতো হাওয়ায়, কাছের গুলমোহর থেকে ছোট ছোট পাতা ঝরেই চলেছে!

    সময় চলে যাচ্ছে। জীবন ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু কিচ্ছু করা হল না। বিন্দির! নিজের একটা সেলাইয়ের ব্যবসার ইচ্ছে ছিল, সেটাও হল না! চাকরিতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল, হল না। রণবীর কপূর না হলেও ভাল, নরম-সরম একটা ছেলের সঙ্গে জীবন ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছে ছিল, সেটাও হল না। শুধু সন্ধের মৃদু বাতাসে একলা গুলমোহরের পাতা ঝরে গেল নিজের খেয়ালে। সময় ফুরিয়ে এল!

    মোবাইলটা বেজে উঠল হঠাৎ। চিন্তার পাতলা সুতোটা কেমন যেন ছিঁড়ে গেল সেই শব্দে!

    সেই ফোনটা কি এল? দ্রুত মোবাইলটা কুর্তির পকেট থেকে বের করল বিন্দি। দেখল মা!

    যাঃ! বিন্দির মনের উত্তেজনাটা কেমন যে বুদ্বুদের মতো ফেটে গেল! সেই ফোনটা এল না! তবে কি আসবে না ফোন !

    ফোনটা রিসিভ করে কানে লাগাল বিন্দি, “বলো।”

    মায়ের গলাটা কেমন যেন শোনাল, “বিন্দি, কিছু হল? ইমলির যে এবার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মানে আশপাশে যে সবাই বুঝে যাবে। কুমারী মেয়ে… দেশগাঁয়ের ব্যাপার। কী যে করব! দুর্জয় আজকাল আসছে না। বলছে, টাকার ঠিক নেই যখন, তখন আর আসবে না। ভাব একবার কী রকম জানোয়ার! ইমলি কাল সারা রাত ঘুমোয়নি। খুব কান্নাকাটি করেছে। আজ আমায় তোকে ফোন করতে না করেছিল। কিন্তু এখন ও একটু দোকানে গিয়েছে। সেই ফাঁকে আমি তোকে ফোন করছি। মনের মধ্যে কী যে হচ্ছে তোকে কী করে বোঝাই! শেষে কি আমাদের মরতে হবে?”

    বিন্দির মনের ভেতরটা তেতো হয়ে উঠল। মা কি ভেবেছে কলকাতায় টাকার গাছ আছে! পেড়ে নিলেই হল! পাঁচ লাখ টাকা কি মুখের কথা !

    বিন্দি তাও নিজেকে সামলাল। মায়ের শরীর ভাল নেই মোটেই। ওখানে খুব চাপে আছে। তার ওপর যদি ও আবার রাগ করে কিছু বলে দেয়, তা হলে মায়ের আরও কষ্ট হবে। মায়ের প্রেশার বেড়ে গেলে খুব সমস্যা হবে। সব ফেলে ওকে তখন দেশে ছুটতে হবে। টাকাটা জোগাড় করতে হলে বিন্দিকে এখন কলকাতাতে থাকতেই হবে। এখান থেকে নড়লে আর টাকার মুখ দেখতে হবে না।

    বিন্দি রাগটাকে গিলে নিল কষ্ট করে। তার পর শান্ত আর ভরসা জোগানো গলায় বলল, “মা, একদম চিন্তা কোরো না। টাকার জোগাড় হয়ে যাবে। কথা হয়ে গিয়েছে। পেয়ে যাব। তুমি ছেলের বাড়িকে বলো এক লাখ আগে দেবে। তবে টাকা দেওয়ার সময় কিন্তু সাক্ষী রেখে দেবে। পরে যেন টাকা দেয়নি বলতে না পারে। বুঝেছ? এটা মাথায় রাখবে কিন্তু।”

    মা সময় নিল একটু। তার পর বলল, “বিন্দি, এত টাকা তুই পাবি কী করে?”

    “সে আমি জোগাড় করছি। তুমি অত ভেবো না তো!” বিন্দি জোর করে হাসার চেষ্টা করল। ও জানে যে, মাকে তো বলছে। কিন্তু ওই রূপবান না কে সে যদি টাকা না দেয়? তা হলে? তা হলে কোন পথে টাকা জোগাড় করবে ও? শেষমেশ কি চুরিচামারি করতে হবে? ম্যাডামের গয়না কোথায় থাকে ও জানে। সেখান থেকে কি তা হলে জিনিস সরাতে হবে? না হলে তো আর কোনও উপায় দেখছে না!

    মা বলল, “আচ্ছা, টাকা জোগাড়ের চক্করে আবার কোনও খারাপ কাজ করে বসিস না। আমি ঠিক করে রেখেছি, তেমন হলে ইমলিকে নিয়ে আমি কলকাতায় চলে যাব। মাধু আমায় বলেছে, ও আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেবে। অত বড় শহর কে কাকে মনে রাখে ওখানে! তাই না?”

    “মাধু বলেছে?” বিন্দির গলায় বিরক্তি, “তুমি ওর সঙ্গে এ সব নিয়ে পরামর্শ করো কেন? ও কে? কলকাতায় আসবে? আর বাড়ি? বাড়িটা কার ভরসায় ছাড়বে?”

    “সে না-হয় বন্ধ থাকবে,” মা বলল, “আর খুব খারাপ অবস্থা হলে বাড়ি বিক্রি করে ইমলির বিয়ে দেব। তার পর না-হয় এখানে ঘর ভাড়া করে থেকে যাব!”

    “না, বাড়ি বিক্রি করবে না!” বিন্দি জোরের সঙ্গে বলল, “কেন করবে বাড়ি বিক্রি? আর কী আছে আমাদের ওইটুকু ছাড়া? সব বেচে খাব?”

    মা বলল, “কিন্তু অত টাকা! তোকে যদি খারাপ কিছু করতে হয়?”

    বিন্দি বলল, “আঃ মা! কী সব বলো তুমি? কিচ্ছু হবে না। আমি বলছি তো টাকা জোগাড় হয়ে যাবে। এমন ভাবে জোগাড় করব, যাতে করে কাউকে দেনা শোধ করতে না হয়। বুঝেছ?”

    “কিন্তু…” মা আবার বলতে গেল কিছু, কিন্তু তখনই ফোনের মধ্যে বিপ বিপ করে উঠল। মানে, কেউ একটা ফোন করছে!

    কে ফোন করতে পারে এখন? বিন্দি দ্রুত ফোনটা কান থেকে সরিয়ে দেখল কে ফোন করছে। রূপবান!

    বিন্দি মাকে বলল, “জরুরি ফোন আসছে মা। আমি রাখছি। তুমি ভেবো না। আমি দেখছি যাতে সব ঠিক থাকে। রাখলাম!”

    মাকে কিছু বলতে না দিয়েই ফোনটা কেটে দিল বিন্দি। তার পর রূপবানের নাম্বার ডায়াল করল।

    চারবার রিং হওয়ার পরে ফোনটা ধরল রূপবান।

    বিন্দি বলল, “আমি অপেক্ষা করছিলাম আপনার জন্য। আমার তো কাজ থাকে! হুটহাট করে বেরোতে পারি না।”

    রূপবান বলল, “আমি প্রায় এসে গিয়েছি। আপনি ওই চপের দোকানের কাছে আসুন। আমি জিনিসটা দিয়ে যাই!” “ঠিক আছে। আমি আসছি,” বিন্দি কথা না বাড়িয়ে ফোনটা কাটল।

    বিন্দি এদিক-ওদিক তাকাল। বাগানটা নিঃঝুম হয়ে আছে। সামনের গেটের কাছে দারোয়ানরা রয়েছে। তাদের অবশ্য খুব কড়া নির্দেশ দেওয়া আছে যে, ওরা যেন মূল বাড়ির লোকেদের সঙ্গে দরকার ছাড়া একদম কথা না বলে।

    তাই দারোয়ানদের মধ্যে অল্পবয়সি দুটো ছেলের চোখে মুগ্ধতা দেখলেও, ওরা কাজ হারানোর ভয়ে বিন্দির সঙ্গে কথা বলে না। কিন্তু বিন্দি রাস্তায় বেরোলে গেটে দাঁড়িয়ে যতটা দূর চোখ যায়, ততটা ওরা চোখ দিয়ে অনুসরণ করে ওকে।

    বিন্দি দ্রুতপায়ে গেট দিয়ে বেরোল। চপের দোকানটা এখান থেকে একটু দূরে, গেট থেকে ভাগ্যিস দেখা যায় না। তার ওপর আবার গেটের কাছে সিসি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। তাই ওই দূরে চপের দোকানটাই ঠিক আছে। যদিও এই যে বিন্দি গেটের বাইরে যাচ্ছে, এটাও নোট করে রাখবে দারোয়ানরা। তার জন্য অবশ্য একটা উপায় ভেবে রেখেছে ও। ফেরার পথে দুটো চপ কিনে আনবে। পরে কেউ প্রশ্ন করলে বলবে যে, চপ কিনতে গিয়েছিল।

    আজ রাস্তায় যেন একটু কম গাড়ি চলছে। সন্ধের পর এখানে গাড়ি কমে যায়। কিন্তু আজ যেন একটু বেশিই সব ফাঁকা! আর এখনও হাওয়া দিচ্ছে সামান্য। স্ট্রিট লাইটগুলো কেমন যেন কমলা-হলদে আলোর গুঁড়ো ছড়িয়ে দিচ্ছে শহরের মাথায়। ওদের কাচের ঢাকনার মধ্যে মৌরির মতো মৃত পোকারা জমে আছে। ফলে যতটা আলো আসার কথা, ততটা আসছে না। এখানে গাছপালা আছে ভালই। ফলে আলোর জোর অতটা বেশি পৌঁছোয় না মাটিতে।

    এই আলোছায়ার মধ্যে কিছুটা যেন লুকিয়েই ওই চপের দোকানের দিকে এগিয়ে গেল বিন্দি। ও যত দোকানের দিকে যাচ্ছে, ততই ওর অদ্ভুত লাগছে। এ সব কি ঠিক করছে ও! এমন টাকার গায়ে কি অন্ধকার লেগে থাকে না!

    বীরেন্দ্র আর কৌশানির কাছে ও চাকরি করে। ওদের সঙ্গে মাইনে নিয়ে কথা হওয়ার পরেই ও কাজ শুরু করেছে। ওকে কেউ বেঁধে রাখেনি। ও ইচ্ছে করলে আজই কাজ ছেড়ে চলে যেতে পারে। কেউ ওকে আটকাবে না। ওর বোন যা করেছে, তার ফলে যে অবস্থাটা তৈরি হয়েছে, তাতে তো বীরেন্দ্র বা কৌশানি দায়ী নয়। তা হলে ও কি বিশ্বাসঘাতকতা করছে না!

    কিন্তু আর উপায় কী? যে-ঝামেলায় পড়েছে তাতে কী করবে ও!

    এখান থেকে কাজ ছেড়ে গেলে কে এক্ষুনি কাজ দেবে ওকে? আর ওই টাকাটাই-বা দেবে কে? সেখানে এই রূপবান না কে, তাকে যেন ঈশ্বর পাঠিয়ে দিয়েছেন!

    ওর কাজ শুধু লালুর মনে বীরেন্দ্রর জন্য বিদ্বেষ জাগানো। কেন এটা করতে বলছে কে জানে! আর সত্যি বলতে কী, জানতেও চায় না বিন্দি। ও ওইটুকুই করতে চায় শুধু। ওই কাজের পরিবর্তে টাকাটা পেলেই হবে। আর অন্য একটা দিক ভেবে ও নিজেকে ঠিক করার চেষ্টা করছে। এখানে বাবা হয়ে বীরেন্দ্র নিজেই ওকে উর্জার পেছনে নজরদারি করতে লাগিয়েছে, সেখানে ওর এ সব উচিত-অনুচিত আর ভাল খারাপ ভেবে কী হবে! মাঝে মাঝে জীবনে সমস্যা থেকে বেরোনোর জন্য যে-কাজগুলো করতে হয়, তা নিয়ে বেশি ঠিক-ভুল ভাবতে নেই।

    চপের দোকানে আজও বেশ ভিড়। কিন্তু সে দিকে বেশি তাকাল না বিন্দি। কাজ সেরে ফেরার পথে না-হয় দুটো চপ কিনবে।

    রূপবানকে দেখতে পেল বিন্দি। চপের দোকান থেকে একটু দূরে একটা ভুজিয়াওলার দোকান। সেখানে দাঁড়িয়ে চপ খাচ্ছে লোকটা!

    লোকটাকে দেখেই কেমন যেন লাগে বিন্দির। মানুষটা যে সহজ লোক নয়, সেটা তো বোঝাই যায়। বীরেন্দ্রর শত্রুপক্ষের লোক, সেটাও বোঝা যায়। কিন্তু লোকটা কেমন যেন অতিরিক্ত শাস্ত। নির্লিপ্ত। কিছুতেই যেন কিছু এসে যায় না। কেমন যেন হলে ভাল, না হলে আরও ভাল টাইপ। যখন কথা বলে কী নরম ভাবে বলে! কোনও তাড়া নেই, উদ্বেগ নেই। ভয় নেই। ভাবনা নেই। কিন্তু তাও কথার মধ্যে কেমন যেন একটা চাপা কৰ্তৃত্ব আছে। লোকটাই যেন সব কন্ট্রোল করছে।

    রূপবান ওকে দেখে হাসল। তার পর ধীর পায়ে এগিয়ে এল ওর দিকে।

    বিন্দি চট করে এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখল। বাড়ির কেউ দেখে ফেলবে না তো!

    রূপবান কাছে এসে ঠোঙায় হাত মুছে ঠোঙাটা পাশের একটা সবুজ ড্রামে ফেলে বলল, “আপনি ইঞ্চি থাকুন। ভয়ের কিছু নেই!”

    বিন্দি নার্ভাস ভাবে হাসল। বলল, “না মানে ইয়ে… আমার ইয়েটা… সাইড ব্যাগ থেকে এবার একটা প্লাস্টিকের ব্যাগ বের করল রূপবান। তার পর বলল, “এই নিন।”

    বিন্দি প্লাস্টিকের ব্যাগটা হাতে ধরল। তার পর মুখটা খুলে দেখল। একটা গরম ভাপ বেরিয়ে এসে নাকে লাগল ওর। আরে, এটাও যে চপ!

    ও কী বলবে বুঝতে না পেরে বলল, “এটা তো চপের ঠোঙা! আমি বলছিলাম…”

    “ওতেই সব আছে!” রূপবান বলল, “বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন। একটা অজুহাত তো লাগবে। তাই আমি কয়েকটা চপ কিনে দিয়েছি। তলায় আর-একটা প্লাস্টিকের ব্যাগে জিনিস আছে। দুটো পাঁচশোর বান্ডিল। পুরো এক। দেখে নিতে পারেন।”

    “না না,” বিন্দি বিব্রত হল। লজ্জাও পেল!

    “দেখুন এটা বিজনেস। আপনি দেখে নিলে আমি খারাপ কিছু মনে করব না।”

    বিন্দি ঠোট চাটল। তার পর আমতা আমতা করে বলল, “আচ্ছা, আমি যে সত্যি লালুর ওপর কোনও প্রভাব বিস্তার করছি বা করতে পারছি, সেটা আপনি জানবেন কী করে? মানে এতগুলো টাকা…. আর লালুর সঙ্গে আপনার কি….”

    রূপবান মাথা নাড়ল, “প্রথমে বলি এটা কিছুই টাকা নয়। আর আপনি কী কাজ করছেন, সেটা লালুর সঙ্গে কথা বললেই আমি বুঝে যাব। প্লাস সে দিন আপনি যে সাহায্য করেছেন তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ওর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। হচ্ছেও। তবে আপনি কিন্তু আপনার কাজটা চালিয়ে যাবেন। থামবেন না।”

    বিন্দি মাথা নাড়ল। সত্যি সে দিন ও লালুকে উস্কে দিয়েছিল। বলেছিল বাড়ির বাইরে যেতে। সবটাই ছিল বিন্দির পরিকল্পনা। কারণ, তার আগের দিন রূপবানের সঙ্গে ওর এই নিয়েই কথা হয়েছিল।

    রাত বারোটা নাগাদ ফোন করেছিল রূপবান ।

    কাজ সেরে তখন সবে ঘরে ফিরেছিল বিন্দি। ক্লান্ত ছিল খুব। মনে হচ্ছিল জামাকাপড় পাল্টে শুয়ে পড়বে। তখনই বিছানার ওপর রাখা ফোনটা বেজে উঠেছিল।

    রূপবান! এত রাতে। আবার কী দরকার পড়ল! বুকের মধ্যে কেমন একটা ভয় চমকে উঠেছিল ওর।

    ফোনটা ধরে যথাসম্ভব শান্ত গলায় ও বলেছিল, “বলুন।”

    রূপবান বলেছিল, “টেনশন করবেন না। আমি একটা ছোট্ট দরকারে আপনাকে ফোন করলাম।”

    “না না, টেনশন করছি না,” জোর করে হেসে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলার চেষ্টা করেছিল বিন্দি।

    “কাল লালুর সঙ্গে আমার দেখা করা দরকার। কিন্তু সেটা লালুর স্বাভাবিক অবস্থায় নয়। আমি চাই আপনি ওকে কাল ইমোশনালি উত্তেজিত করে, সন্ধের পরে কোনও এক সময় রাস্তায় বের করে আনবেন। আপনার সাহেব বা মেমসাহেবের বিরুদ্ধে ওকে খেপিয়ে ওকে বের করে আনবেন। তার পর আমি যা করার করব। ”

    “কাল?” বিন্দি ঘাবড়ে গিয়েছিল, “কিন্তু আমি বললেই ও যাবে কেন?” “সেটা আপনি জানেন। সেটাই তো আপনার কাজ। আপনাকে করতে হবে। কাল সন্ধের পরে। মনে থাকে যেন। রাখলাম এখন।” রূপবান কেটে দিয়েছিল ফোন!

    কাল সন্ধেবেলা লালুকে বীরেন্দ্রদের ওপর উত্তেজিত করে বাড়ির বাইরে আনতে হবে। কেন? আর কী ভাবে?

    মাথাটা আচমকা দপদপ করছিল ওর। এবার কী করবে ও? কী ভাবে করবে? বিছানায় কুঁকড়ে শুয়ে কেমন যেন ভয় ভয় করছিল। ও সামান্য একজন মানুষ, টাকার চক্করে কোন পাঁকে আটকে যাচ্ছে কে জানে। ওর কিছু হবে না তো!

    তবে মনে মনে একটা ফন্দি এঁটেছিল। আর সেই মতো পরের দিন সন্ধেবেলা গিয়েছিল লালুর কাছে। ইনিয়ে-বিনিয়ে বলেছিল ওর দুর্দশার কথা। ক্রমশ ও লালুকে ঠেলছিল একটা খাদের দিকে। আর ওকে আরও সুবিধে করে দিয়েছিল লালু নিজে, ম্যাডামের কাছে টাকা চাইবে বলে।

    বিন্দি ভালই জানে ম্যাডাম টাকা দেবে না। কিন্তু ও লালুকে ইচ্ছে করে আশা দিয়েছিল। ও জানত এই অবস্থা থেকে নিরাশ হলে ওর কাজ সহজ হয়ে যাবে। ও আগেও দেখেছে লালু আপসেট হলে খুব ঘেঁটে যায়। তাই ও জানে সেই অবস্থায় লালুকে দিয়ে অনেক কিছু করিয়ে নেওয়া যায়।

    আর যা ভেবেছিল ঠিক তাই হয়েছিল। কিছু পরে ম্যাডামের ঘর থেকে পুরো এলোমেলো হয়ে বেরিয়ে এসেছিল লালু। চোখে জল। হাত-পা কাঁপছিল। কী সব যেন বলছিল। ম্যাডাম নাকি ওকে খারাপ গালি দিয়েছে।

    এই সুযোগ। বিন্দি ওকে এই বাড়ি থেকে কিছুক্ষণ দূরে থাকার কথা বলেছিল। বলেছিল রাস্তা থেকে একটু ঘুরে আসতে। আর শুধু তাই নয়, নিজেও ওর সঙ্গে যেতে চেয়েছিল।

    কিন্তু লালু রাজি হয়নি। টলমল পায়ে একা-একাই বেরিয়ে গিয়েছিল। বাড়ির বাইরে। আর তখনই মোবাইল বের করে রূপবানকে ফোন করেছিল বিন্দি। বলেছিল, “লালু এই বেরোল। আপনি কি বাইরে আছেন?”

    রূপবান শান্ত গলায় বলেছিল, “আমি দেখে নিচ্ছি। আপনাকে ধন্যবাদ!” আজ আবার সেই কথাটাই বলল রূপবান। বিন্দি বুঝল, সে দিন তা হলে রূপবানের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।

    বিন্দি প্লাস্টিকের প্যাকেটটা ভাল করে মুড়ে কাপড়ের ব্যাগে ভরল। তার পর বুকের কাছে আঁকড়ে ধরল। বলল, “বাকিটা কী ভাবে কোথায় দেবেন আমি বলে দেব।”

    রূপবান মাথা নাড়ল। তার পর বলল, “লালুকে কিন্তু আরও পুশ করা দরকার। এই ব্যাপারটা ভুলবেন না।”

    বিন্দি মাথা নাড়ল। তার পর আমতা আমতা করে বলল, “একটা কথা….. মানে…”

    “হ্যাঁ বলুন!” রূপবান আগ্রহ নিয়ে তাকাল।

    বিন্দি সময় নিল একটু। আশপাশে তাকাল। চপের দোকানে ভিড় বেশ বেড়েছে। ভুজিয়াওলার দোকানেও টুকটাক লোক হচ্ছে। এর মধ্যে কেউ চেনা বেরিয়ে যাবে না তো!

    বিন্দি বলল, “মানে, ঠিক একটা কথা নয়, দুটো কথা….”

    “হ্যাঁ, বলুন!”

    বিন্দি বলল, “এই যে আমি যা করছি এতে কারও ক্ষতি হবে না তো? আসলে আমাদের সাহেবকে কারা যেন মারতে চেষ্টা করেছিল। তার পর থেকে সাহেব সিকিওরিটি ছাড়া বেরোয় না। তাই মানে… আমি তো ঠিক বুঝতে পারছি না কী হচ্ছে… আমার জন্য যেন কারও খারাপ না হয় । ”

    রূপবান হাসল না এবার। শাস্ত ভাবে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল ওর দিকে। তার পর বলল, “দেখুন, খারাপ মানুষ যারা, তাদের খারাপ হবে। আর কারও কিছু না। আপনার সাহেব ভাল হলে তার খারাপ হবে না। ফলে এ সব নিয়ে ভাববেন না। আর অন্যটা?”

    বিন্দি আবার সামান্য সঙ্কোচ করল। তার পর বলল, “আমি গরিব মানুষ। এ সব করছি টাকার জন্য। আপনি তো জানেন। তাই টাকাটা পাব তো? না হলে খুব অসুবিধে হবে।”

    রূপবান বলল, “আমি কথা দিচ্ছি। আপনি নিশ্চিত থাকুন। আমার কাছে কথার দামটাই শেষ কথা। আপনি কাজে মন দিন। সময় কম আমাদের হাতে।”

    লোকটার কথায় এমন কিছু একটা আছে যে, বিন্দির বুক থেকে যেন ভার নামল। লোকটাকে দেখলে ভরসা হচ্ছে ওর। কোথায় একটা সূক্ষ্ম ভাললাগাও আসছে। কোনও কোনও মানুষ আছে, যাদের দেখলেই মনে হয় অনেকটা রোদের পর যেন গাছের ছায়া পাওয়া গেল। এই লোকটাকে দেখে আজ তেমনই মনে হচ্ছে।

    বিন্দির মনে হয় মানুষ সুন্দর বা কুৎসিত তার রূপের দিক দিয়ে হয় না, হয় তার উপস্থিতি আর ব্যবহারের মধ্য দিয়ে। এক-একজন মানুষ এক-এক রকমের আবহাওয়া নিয়ে আসে। এই লোকটিকে দেখলে মনে ভরসা হয় বিন্দির। মনে হয় লোকটা সব কিছু ঠিক করে দিতে পারে।

    রূপবান বলল, “আপনি আসুন। আর দেরি করা ঠিক হবে না। আমাকেও ফিরতে হবে।”

    বিন্দি মাথা নাড়ল। আবার দেখল আশপাশটা। তার পর পায়ে পায়ে বাড়ির দিকে এগোল।

    এখন আবার হাওয়া দিচ্ছে বেশ। হাওয়ায় একটা আলতো ঠান্ডা ভাব। বসন্ত এসেছে। তবে শীতও যেন গড়িমসি করছে যেতে!

    এই রাস্তাটার দু’পাশে গাছ। ফুটপাথ ছোট। তাই মাঝে মাঝেই রাস্তায় নেমে যেতে হয়। পাশ দিয়ে হুশ করে গাড়ি বেরিয়ে যায়। বিন্দির ভয় লাগে। ও সাবধান হয়ে হাঁটলেও গাড়িচালক যদি অসাবধান হয়, তা হলেই কেলেঙ্কারি হবে!

    আজ যেন একটু বেশিই সাবধান হয়ে হাঁটছে বিন্দি। বুকের কাছে ধরে রেখেছে টাকাটা। যক্ষের ধন ওর! ইমলির মুখটা মনে পড়ছে। কিন্তু মাথার মধ্যে সেই যে কট করে একটা কষ্ট হত, সেটা আর হচ্ছে না। তা হলে কি টাকার একটা সংস্থান হয়েছে বলেই কিছুটা ভরসা পাচ্ছে? তাও কোথাও এখনও একটু খটকা লাগছে। এই লোকটাকে দেখে ভরসা হয়। কিন্তু দুনিয়ায় কাউকেই কি সম্পূর্ণ বিশ্বাস করা যায়? আমরা নিজেরাই কি সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য? আমরা নিজেরাই কি মাঝে মাঝে এমন কাণ্ড করি না, যাতে নিজেরাই পরে চমকে যাই? নিজেরাই তো বুঝি না যে, আমাদের মধ্যেও এমন একটা মানুষ বসেছিল। এই যে বিন্দি যা করছে সেটা তো অবিশ্বাসের কাজ। তা হলে ও কি অন্যের কাজের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে? আসলে মানুষ নিজে যা কিছু করতে চায়, সেটা সব সময় অন্যের বেলায় মানতে পারে না। অধিকাংশ মানুষের কাছে নিজের জন্য এক নিয়ম আর বাকি সবার জন্য অন্য নিয়ম। বিন্দির নিজের কাছেও যে তাই, সেটা যেন ও আজ বুঝতে পারল।

    গেটের কাছে দারোয়ানরা জটলা করছে। ওকে দেখে সরে দাঁড়াল ওরা। বিন্দি ওদের দিকে না তাকালেও বুঝল অল্পবয়সি একটা ছেলে ওকে দেখছে।

    বাড়ির বাগানে গিয়ে থমকে দাঁড়াল বিন্দি। হাতের প্লাস্টিকের প্যাকেট ভরা ব্যাগটার দিকে তাকাল একবার। তার পর মনে পড়ল বীরেন্দ্র আজ বাড়িতে আছে। ও ঠোঁট কামড়ে একবার চিন্তা করল। তার পর মূল বাড়ির দিকে না গিয়ে লালুর ঘরের দিকে এগোল।

    শাস্ত বাগানের মধ্যে দিয়ে সরু নদীর মতো বয়ে গিয়েছে পথ। পথের দু’পাশে ছোট ছোট আলো লাগানো। নরম হলুদ আলো মাটির দিক মুখ করে লাজুক ভাবে জ্বলে আছে। কী সুন্দর আভা চারিদিকে। এদের শুধু যে অর্থ আছে তা নয়, রুচিও আছে।

    আজ ছোট্ট দোতলা বাড়িটার নীচের তলার বারান্দায় কেউ বসে নেই। জিনি কোথায় কে জানে! কিন্তু বিন্দি আর ও দিকে মন দিল না। ও পাশের সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে গেল।

    লালুর ঘরের দরজা খোলা। ভেতর থেকে হালকা গানের আওয়াজ আসছে। কী একটা বাংলা গান- “আমার ঘরে কোন এক পাখি / বসত করে যায়/ ধরতে গেলে দেয় না ধরা/ করি কী উপায়।”

    বিন্দি সামান্য সময় দাঁড়িয়ে শুনল। তার পর দরজায় নক করল। “কে?” লালুর গলা।

    “আমি বিন্দি।”

    “আয়, ভেতরে আয়,” ঘরের ভেতর থেকে গানের আওয়াজটা বন্ধ হয়ে গেল এবার।

    দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকল বিন্দি। দেখল, বিছানার ওপর শুয়ে আছে লালু।

    বিন্দি বিছানার এক পাশে বসে সাবধানে জিজ্ঞেস করল, “তোমার শরীর খারাপ?”

    লালু উঠে বসে জোর করে হাসল। তার পর বলল, “না না। ম্যাডাম নেমন্তন্নে গিয়েছে। আমার ছুটি। তুই বল।”

    বিন্দি ব্যাগের ভেতর হাত ঢুকিয়ে চপের ঠোঙাটা বের করে ওর সামনে ধরল, “খাও। তোমার জন্য আনলাম।”

    লালু ঠোঙাটা নিয়ে ভেতরে দেখল। তার পর অবাক হয়ে বলল, “আরে বাবা, এত চপ! দশটা! এত আমি খাব কী করে?”

    দশটা চপ! সত্যি, লোকটা এতগুলো চপ দিয়েছে কেন! বিন্দি অবাক হলেও সেটা প্রকাশ হতে দিল না। বরং বলল, “তুমি, কবিদা, জিনি, জিনির মা, সবাই খাবে।”

    “ওরে বাবা!” লালু হেসে একটা চপ বের করে কামড় দিল। তার পর জিজ্ঞেস করল, “হঠাৎ?”

    বিন্দি দ্বিধা হচ্ছে এমন অভিনয় করে বলল, “তুমি জানো তো আমায় কী করতে হয়। জানো তো… আমায় আজ সাহেব এক লাখ টাকা দিয়েছে। বাড়িতে খুব দরকার লালুদা। উপায় নেই আমার। কী করব বলো!”

    বিন্দি কথাটা শেষ করে ব্যাগ ফাঁক করে ওকে দুটো পাঁচশো টাকার বান্ডিল দেখাল।

    “কী!” লালু থমকে গেল। তার পর আচমকা খোলা দরজা দিয়ে চপটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে বলল, “তুই… তুই… এই কারণে চপ এনেছিস! তুই মানুষ!”

    “টাকাটা যে খুব দরকার,” বিন্দি করুণ মুখ করে তাকাল ওর দিকে।

    তার পর বলল, “তোমায় ওরা দেবে না আমি জানি। তোমায় দিয়ে তো ওদের কোনও লাভ হবে না। কিন্তু আমায় টাকা দিয়ে তো… মানে, ওরা লোকজনকে খুশি করিয়ে কাজ বের করে আনবে। আমায় তাই দেবে। বুঝলে?”

    বিন্দি কথাটা বলে লালুর দিকে তাকাল। দেখল, লালুর মুখটা রাগে উত্তেজনায় বেগুনি হয়ে গিয়েছে। চোখ লাল। যেন ফেটে পড়বে রক্ত! “হারামি শালা, শুয়োরের বাচ্চা, বেজন্মা শালা!” লালু বিড়বিড় করে গালি দিতে লাগল।

    বিন্দি আলতো করে লালুর হাতে হাত রেখে বলল, “যে দেয় না তার থেকে ছিনিয়ে নিতে হয়। তুমি পারবে না লালুদা?” লালু চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত ঘষে বলল, “আমি নিজে না পারলেও অন্য ব্যবস্থা নেব। যে পারে তাকে দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়াব। অনেক সহ্য করেছি বিন্দি, আর নয়! একটা দুধের শিশু… না, আমি ব্যবস্থা নেব এবার। আমরা গরিব বলে যা খুশি তাই করবে! দাঁড়া দেখ, এবার কী করি!”

    লালু ফুঁসতে লাগল। বিন্দি আর দাঁড়াল না। ও জানে কখন কতটুকু বলতে বা করতে হয়।

    ও ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে এল এবার। ও জানে লালুকে ভাল ভাবে চাবি দিয়ে দিয়েছে আজ। লালুর কেন টাকা দরকার সেটা ও জানে না।

    কোনও বাচ্চার কথা বলতে গিয়েও যেন বলল না। কিন্তু সে যে কারণেই দরকার হোক না কেন, সেটা গুরুতর। না হলে লালু এমন করত না। সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতে লাগল বিন্দি। হাওয়া দিচ্ছে খুব। হাওয়ার টানে গাছের পাতায় ঝমঝম আওয়াজ হচ্ছে। ছোট ছোট গাছগুলো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে যেন। বিন্দি সিঁড়ির ওপর চোখ বন্ধ করে দাঁড়াল। তার পর ভগবানের উদ্দেশে মনে মনে বলল, “ঠাকুর, আমার জীবনটা যেন ঠিক হয়ে যায়। আমার মা-বোন যেন ভাল থাকে। ঠাকুর আমার জন্য যেন কারও কোনও ক্ষতি না হয়।”

    এবার চোখ খুলে আকাশের দিকে তাকাল বিন্দি। পিট পিট করছে আলো। তারা! ওর ওই পাড়ে কি বসে আছে কেউ? সে কি মনের ডাক শুনতে পায়?

    বিন্দি দেখল, তারাদের নীল আলোর মাঝখান দিয়ে ছোট্ট একটা এরোপ্লেন লাল সবুজ আলো জ্বেলে দুঃখী মানুষের মতো চলে যাচ্ছে মাথা নিচু করে। কেন কে জানে আজ এত বছর পরে ওর নিজের বাবার কথা মনে পড়ল!

    চোয়াল শক্ত করে নিজেকে সামলাল বিন্দি। তার পর দ্রুতপায়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে বড় বাড়ির দিকে এগিয়ে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)
    Next Article কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }