Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প698 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১. কবি

    এটা বাড়ি না কেল্লা মাঝে মাঝে বুঝতে পারে না কবি। কুড়ি ফুট উঁচু বাউন্ডারি ওয়াল! সেই ওয়ালের ওপর পাঁচ ফুট উঁচু স্টেনলেস স্টিলের কাঁটাতার আর সেই কাঁটাতারেও আবার মোটা করে প্লাস্টিক লাগানো, যাতে কোনও ভাবেই বাইরে থেকে ভেতরের কিছু দেখা না যায়! এ ছাড়াও চারিদিকে সিসিটিভি ক্যামেরা তো আছেই। বাড়ির সামনের দরজায় আর পেছনের দরজায় ছ’জন ছ’জন করে মোট বারো জন গার্ড। এত নিরাপত্তা! এত সতর্কতা! ভাবতেই পারে না কবি ৷

    এই বাড়িতে মাস দুয়েক হয়ে গিয়েছে কবির। এতদিনে এখানকার আদবকায়দায় অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে ও। তাও মাঝে মাঝে অবাক লাগে। ও জানে বীরেন্দ্র ত্রিবেদী খুব নামী লোক। তার যেমন অনেক টাকা, তেমন শত্রুও অনেক। কিন্তু তাই বলে এতটা নিরাপত্তা!

    বর্ডার ঘেঁষা এক গ্রামের ছেলে কবি। এখানে একরকম আশ্রিত হয়েই এসেছে। মানে, চাকরি একটা ওকে দেওয়া হয়েছে বটে, কিন্তু ও জানে আসলে এটা একরকম আশ্রয়ই।

    গ্রামে মা আছে ওর। আর কেউ নেই । বাবা মারা গিয়েছিল সেই ছোট বয়সে। তার পর থেকে গোট জীবন ওর মা আর ও অনেক কষ্টে কাটিয়েছে।

    গ্রামে একটা গেস্ট হাউস আছে। সেখানে রান্না করে মা। কিন্তু তাতে আর ক’টা টাকাই-বা হয়! বাবা মারা যাওয়ার পরে, জ্যাঠা-কাকারা ওদের একটা টালির ঘর, চারটে সুপুরি গাছ আর দুটো নারকেল গাছ দিয়ে আলাদা করে দিয়েছিল। ওর মায়ের যদি ওই গেস্ট হাউসের চাকরিটা না থাকত, তা হলে যে কী হত কে জানে!

    তবে হ্যাঁ, হাওয়াদাদু আছে। লোকটার ভাল নাম বিমল মুস্তাফি। পেশায় ডাক্তার। ওদের গ্রামের এক পাশে একটা বিশাল বড় বাড়িতে থাকে। সেই বাড়ির এক তলায় চেম্বার খুলে আগে মানুষটা রোগী দেখত ৷ কিন্তু বছর দুয়েক হল সেই সব বন্ধ করে দিয়েছে। রহমতকাকা বলে, “অনেক সেবা করেছেন। এবার নিজের শরীরের সেবা করেন।”

    রহমতকাকা ওই বাড়ি আর সেই সঙ্গে হাওয়াদাদুরও দেখাশোনা করে। হাওয়াদাদুর বাড়িতে কবির অবাধ যাতায়াত। ও শুনেছে বাবাকেও নাকি খুব ভালবাসত হাওয়াদাদ, হাওয়াদাদুর কাছেই বাবার সম্পর্কে যা শোনার শুনেছে কবি। মা কখনওই বাবাকে নিয়ে সেই ভাবে কিছু বলে না।

    কিন্তু হাওয়াদাদু বলে। বলে, “বিশু ছিল এক্কেবারে শিশুর মতো সরল। সারাক্ষণ একটা বিস্ময় নিয়ে ঘুরত। জানিস তো, যার মনে বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা আছে, তাকে জীবনের কোনও দুঃখই ঘায়েল করতে পারে না। বিশুকেও পারত না। আকাশের ওই মেঘ দেখলে, ছোট্ট দুটো প্ৰজাপতি দেখলে, মণি নদীতে মাঝির গান শুনলে, নদীর পাশের মাঠে ছেলেদের ফুটবল খেলা দেখলে, সবেতেই খুব আনন্দ পেত ও। মানে, তোকে কী বলব কবি, সবেতেই কী যে বিস্মিত হত বিশু, ভাবতে পারবি না! কেবল বলত, প্রতিটা দিনই উপহার! চারিদিকে এত কিছু দেখতে পাচ্ছে, শুনতে পাচ্ছে, এর চেয়ে বেশি আর কী-ই বা চাইবে ও! এর সঙ্গে ওর মনটাও ছিল আকাশের মতো বড়। এত বড় মনের মানুষ আমি কোনও দিন দেখিনি আর। কিন্তু আফসোস একটাই, ভাল মানুষ বড় তাড়াতাড়ি চলে যায় পৃথিবী থেকে! বিশুর বেলাতেও তার অন্যথা হয়নি!”

    কেন তাড়াতাড়ি চলে যায় হাওয়াদাদু? আর কে নিয়ে যায় গো?” বালক কবি টালুমালু চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করত।

    হাওয়াদাদু আনমনা হয়ে জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে বলত, “এই কেনটাই তো জানি না রে! তিনি কেন যে কী করেন, সেটা কেউ জানে না। আর ‘তিনি’ কে! সেটাও আজ পর্যন্ত কেউ জানতে পারল না। তিনি ফুলের ভেতরের গন্ধ। সূর্যের ভেতরের আলো। চাঁদের মধ্যেকার অপার জ্যোৎস্না।

    মহাকাশের মধ্যেকার শূন্যতা। শূন্যতার মধ্যেকার শক্তি। শক্তির ভেতরের কোমলতা। তিনিই আবার শিশুর মনের সারল্য। নদীর জলের স্রোত । অন্নের মধ্যেকার ক্ষুধা নিবারণ। আগুনের দাহ্যগুণ। তিনি সর্বত্র বিরাজমান।”

    কবি হাঁ হয়ে এ সব শুনত, কিন্তু বুঝতে পারত না ঠিক। শুধু মনে হত, হাওয়াদাদু যখন বলছে, তখন ভাল কথাই হবে। কিন্তু এত কথার পরেও বাবার তাড়াতাড়ি মারা যাওয়ার ব্যাপারটা ঠিক মীমাংসা হত না ।

    ও মাকে এই নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলে মা-ও সেভাবে উত্তর দিত না। শুধু বলত, “খুব ভাল মানুষ ছিল। এটুকুই জেনে রাখ!”

    সেটুকুই জেনে রেখেছে ও। মাকে আর বিরক্ত করেনি। আসলে ছোট থেকেই কবি কম কথার ছেলে। নিজের মধ্যে ডুবে, একা একা থাকার ছেলে।

    মাকে সারা জীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করতে দেখেছে কবি। কিন্তু এখন যেন মা আর পারে না। আসলে বেশ কিছুদিন হল মায়ের শরীরটা বিশেষ ভাল নেই। তার ওপর ওকে নিয়ে চিন্তা করে খুব।

    কবি মাকে জিজ্ঞেস করত, “কী হয়েছে মা? আজকাল সারাক্ষণ মনমরা হয়ে থাকো কেন?”

    মা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলত, “তোর কাজটা চলে গেল। এখন কী যে করবি! সারা জীবন পড়ে আছে। চিন্তা তো হবেই। তাই না?”

    কবি জানে হাওয়াদাদু ওকে নিজের কাছে সহকারী হিসেবে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু মা রাজি হয়নি। মা আসলে চায় না এ ভাবে কবির জীবন কাটুক। এই ছোট্ট জায়গায় থেকে কবির মনেও শ্যাওলা ধরে যাক।

    কবি মাকে আশ্বস্ত করে বলেছিল, “কিছু একটা ঠিক হয়ে যাবে। তুমি অত ভেবো না। আমি কয়েক জায়গায় বলে রেখেছি।”

    মা বলেছিল, “কিছু হয়ে যায় না রে। হওয়াতে হয়। তবে একটা উপায় আছে। সেটা নিয়েই ভাবছি। অবশ্য হাওয়াদাদুর সঙ্গে একবার পরামর্শ করে নেব।”

    মাস আড়াই আগের ঘটনা এটা। সেই ‘একটা উপায় আছে’ বলার দু’দিন পরে মা ওর হাতে একটা ছোট্ট রুপো বাঁধানো আয়না আর একটা ঠিকানা লেখা কাগজ দিয়েছিল। সঙ্গে দিয়েছিল পাঁচশো টাকার একটা নোট। বলেছিল, “এই ঠিকানায় গিয়ে বীরেন্দ্র ত্রিবেদীকে এই আয়নাটা দেখাবি। দেখবি, উনি তোর ব্যবস্থা করে দেবেন।”

    “বীরেন্দ্র ত্রিবেদীটা কে মা?” আয়নাটা হাতে নিয়ে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল কবি |

    মা বলেছিল, “সে আছে একজন। অনেক দিন তাঁর কোনো খবর পাইনি। এই আয়নাটা দিয়েছিলেন আমায়। বলেছিলেন, দরকারে এটা সমেত তোকে যেন ওঁর কাছে পাঠাই। আমার আর কিছু বলার মতো নেই এ ব্যাপারে। তুই গিয়ে দেখা করিস।”

    মাকে দেখে কবি বুঝেছিল, এর বেশি আর কিছু জানা যাবে না। মা এমনই। একবার দরজা বন্ধ করে দিলে পৃথিবীর কারও সাধ্য নেই সেটা খোলে।

    মা শুধু বলেছিল, “আমি দেখে যেতে চাই যে, তুই নিজেরটুকু করে নিতে পেরেছিস। এখানে তো সে ভাবে কিছু হল না তোর।”

    হ্যাঁ, সত্যি সে ভাবে কিছু করে উঠতে পারেনি কবি। ক্লাস টুয়েলভের পরে ও বুঝেছিল, রোজগার করার চেষ্টা না করলে সংসার আর চলবে না। তাই আর পড়াশোনো না করে কাজ খুঁজতে বেরিয়েছিল। আর পেয়েও গিয়েছিল কাজ। ছোট্ট একটা সার্কাসে খেলা দেখানোর কাজে ঢুকে পড়েছিল।

    প্রথমে চার-পাঁচ মাস ধরে কাজ শিখেছিল কবি। হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হত। সঙ্গে ছিল সবার ফাইফরমাশ খাটা। সে ভাবে মাইনে পেত না।

    ফাইফরমাশ খাটা। সে ভাবে মাইনে পেত না । খাওয়া-পরাটুকু শুধু যা পেত। কিন্তু কষ্ট হলেও বাড়ি ফেরেনি। মায়ের ওপর আর বোঝা হতে চায়নি।

    তার পর অবশ্য দিন ফিরেছিল। কাজ শিখে নেওয়ার পর ভাল মাইনেই ধার্য করা হয়েছিল ওর জন্য। আর কোনও অসুবিধে হয়নি।

    ওর কাজটা বেশ বিপজ্জনক ছিল। একটা বড় লোহার জাল-কাটা গ্লোবের মধ্যে ফটফটে শব্দওয়ালা বাইক চালাতে হত কবিকে। আর, এর সঙ্গে চোখ বেঁধে শুধু শব্দ শুনে বন্দুক চালিয়ে লক্ষ্যভেদের খেলা দেখাত ও!

    কিন্তু কিছুদিন পরেই সার্কাসের ব্যবসা পড়তে শুরু করেছিল। পুজো-পার্বণ ছাড়া খুব একটা রোজগার হত না। আজকাল লোকে টিভিতে আর মোবাইলে এত কিছু দেখে যে, তাপ্পিমারা তাঁবু, মুখে সাদা রং মাখা ছেলেমেয়ে, বেঁটে-লম্বা মলিন জামাকাপড় পরা জোকার বা নড়বড়ে কাঠের বেঞ্চওলা সিটকে তারা আর একদমই পাত্তা দেয় না!

    তাও বছরখানেক টিমটিম করে চলেছিল সার্কাসটা। তার পর গত ছ’মাস আগে একদম বন্ধ হয়ে গিয়েছে সব। সেই থেকে কবি একদম কাঠ-বেকার। তাই মায়ের কথা শোনা ছাড়া আর উপায় ছিল না ওর।

    কবি মায়ের দেওয়া আয়নাটা ধরে এদিক-ওদিক দেখেছিল। ছোট্ট ইঞ্চি চারেক ডিম্বাকৃতি আয়না। চারিদিকে রুপোর কাজ করা ফ্রেম। একটা ছোট্ট হাতলও আছে। ওর অবাক লেগেছিল, এটা দেখালেই ওর একটা হিল্লে হয়ে যাবে! এমন তো সেই ছোটবেলায় রূপকথার গল্পে পড়েছে! এই আয়নার মধ্যে কী আছে এমন? কোন রহস্য বহন করে চলেছে এই আয়না!

    মায়ের কথা মতো কলকাতায় এসেছিল কবি। খুঁজে বের করেছিল বীরেন্দ্র ত্রিবেদীর বাড়ি। কিন্তু দারোয়ানরা কিছুতেই ওকে বাড়ির মধ্যে ঢুকতে দেয়নি। আসলে ওর পোশাকআসাক দেখেই ওকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। রাগের সঙ্গে বলেছিল, এমন অনেকে আসে সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে। বলেছিল, সবাই ফালতু পাবলিক!

    তাও বাড়ির সামনে থেকে নড়েনি কবি! দু’দিন সামনে ক্রমাগত ঘোরাফেরা করার পরে তৃতীয় দিন দেখা পেয়েছিল বীরেন্দ্রর।

    আসলে কলকাতায় কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না কবির। তাই ওই দুটো রাত ফুটপাথেই কাটিয়েছিল শীতের মধ্যে। সামান্য টাকা থেকে কোনও রকমে রুটি-ঘুগনি আর টাইম কলের জল খেয়ে ছিল দুটো দিন!

    এই শহরে এর আগে আসেনি ও। মুক্তদহ নামে ওদের ছোট্ট গ্রামের পাশে এ যেন ময়দানবের তৈরি করা নগরী! টিভিতে আগে কলকাতা শহরের ছবি দেখেছিল। কিন্তু সামনে থেকে শহরটাকে দেখে ও বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিল।

    রাস্তার ওপরেই রান্না করে এরা। সবার সামনে বসে খায়। ফুটপাথের ধুলোর মধ্যে এ ভাবে এদের বাচ্চারা বেড়ে ওঠে। আর এর পাশেই আবার এত বড় শপিং মল। ঝাঁ-চকচকে বাড়ি। বড় বড় আলো। লম্বা দামি গাড়ি। মানে, পাশাপাশি এমন বৈপরীত্য দেখে বেশ ঘাবড়েই গিয়েছিল কবি ।

    তৃতীয় দিনের দিন সকালে উঠে ওর মনে হয়েছিল, হাতে আর মাত্র একশো বিরাশি টাকা পড়ে আছে। আজকের মধ্যে দেখা না করতে পারলে কাল ফিরে যাবে গ্রামে। এই শহরে আর এ ভাবে থাকতে পারবে না। ফিরে গিয়ে হাওয়াদাদুকেই না-হয় বলবে কিছু একটা দেখে দিতে। সে মা যা-ই বলুক, ও আর শুনবে না!

    কিন্তু কবির ভাগ্য এমনই যে, সেদিনই দেখা হয়ে গিয়েছিল বীরেন্দ্রর সঙ্গে।

    আগের দু’দিনের মতো সেদিনও আলিপুরে বীরেন্দ্রর বিশাল বাড়ির সামনের ফুটপাথে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল কবি। দারোয়ানরা ওকে চিনে গিয়েছিল এই দু’দিনে তাই নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করছিল ওকে দেখে রাগ হয়ে গিয়েছিল কবির। কিন্তু ছোট থেকে নানান কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে ও বুঝেছে, রাগ একটা ঋণাত্মক অনুভূতি। এটাকে লাই দিতে নেই। এর বশীভূত হতে নেই। বরং একে ঠান্ডা মাথায় নিজের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হয়। রাগ করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি নিজেরই হয়।

    দারোয়ানদের হাসাহাসির মাঝেই নিজের ছোট ব্যাগটা নিয়ে বড় গেটের একপাশে দাঁড়িয়ে ছিল কবি। ও জানত সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ দুধ-সাদা বড় গাড়ি করে কেউ একটা বেরোয় এই বাড়ি থেকে। গাড়িতে কে থাকে জানত না। কালো কাচের আড়ালে সব ঢাকা থাকে যে! কিন্তু গাড়িটা দেখে ওর মনে হত যেই ভেতরে থাকুক না কেন, সে একজন কেউকেটা হবে।

    সেদিনও গাড়িটা বেরিয়েছিল কাঁটায় কাঁটায় সাড়ে দশটার সময়। আর, কবি বুঝেছিল এটাই ওর শেষ সুযোগ। কিন্তু কী করবে ভেবে না পেয়ে আয়নাটা বের করে নাড়াতে নাড়াতে দৌড়োতে শুরু করেছিল গাড়িটার পাশে-পাশে।

    একটু দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিল গাড়িটা। তার পর সামনে, ড্রাইভারের পাশের দরজা খুলে বেরিয়ে এসেছিল একজন ভদ্রলোক। সামান্য মোটা, ফরসা, কাঁচাপাকা মোটা গোঁফওয়ালা একজন মানুষ । মানুষটার পরনে পাজামা-পাঞ্জাবি। হাতে মোটা সোনার চেন। একটু দূর থেকেও কী সুন্দর যে গন্ধ বের হচ্ছিল! লোকটা কি এক বোতল সেন্ট এক দিনেই মেখে নিয়েছে! তখন পারফিউমকে সেন্ট বলেই জানত কবি ।

    লোকটার চেহারার মধ্যে কিছু একটা ছিল যে, থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছিল ও। গেট থেকে দৌড়ে এসে দারোয়ানরাও এর মধ্যে ধরে ফেলেছিল ওকে। এবার গাড়ির পেছন থেকে একটা লম্বা-চওড়া কাঠখোট্টা ধরনের লোক বেরিয়ে এসে জামার কলারটা শক্ত করে চেপে ধরেছিল কবির।

    চোয়াল শক্ত করে জিজ্ঞেস করেছিল, “কে তুই? ক’দিন হল দেখছি দাঁড়িয়ে আছিস! কী মতলব তোর?”

    “জনা, ওকে ছাড়,” ফরসা লোকটা এসে দাঁড়িয়েছিল ওর সামনে। লোকটা কবির মুখের দিকে তাকিয়েছিল একবার। তার পর ওর হাতে ধরা ছোট্ট আয়নাটা নিয়ে নিয়েছিল। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখেছিল ভাল করে। তার , পর কেটে কেটে জিজ্ঞেস করেছিল, “এটা তোকে কে দিয়েছে?”

    কবির গলা শুকিয়ে গিয়েছিল নিমেষে। আশপাশে বেশ ভিড় জমে গিয়েছিল এর মধ্যেই। একটা ধুলোমলিন ছেলেকে এতজন মিলে ঘিরে ধরেছে! লোকে হয়তো ভাবছে, নির্ঘাত চোর-ছ্যাঁচোর হবে। কবির ভয় লাগছিল। লোকজন যদি কিছু শোনার আগেই মারধোর শুরু করে! ওদের গ্রামে তো এমনই হয়! গণধোলাইয়ে মারা যাওয়ার কথা ও শুনেছে বেশ কয়েকবার ।

    লোকটা আবার জিজ্ঞেস করেছিল, “কী রে বল! এটা কে দিয়েছে তোকে?” এবার লোকটার গলায় যেন অধৈর্য ভাব!

    কবি বলেছিল, “মা দিয়েছে। সঙ্গে এই বাড়ির ঠিকানা। বলেছে বীরেন্দ্র ত্রিবেদীকে এটা দেখাতে। তা হলেই হবে।”

    লোকটা বিহ্বল হয়ে তাকিয়েছিল ওর দিকে। তার পর অস্ফুটে বলেছিল, “শিউলি!”

    এই বিরাট কেল্লার মতো বাড়িটার চৌহদ্দির মধ্যেই একপাশে একটা ছোট দোতলা বাড়ি আছে। তার নীচের তলায় থাকে এই বাড়ির ম্যানেজার তপন রায় ও তার পরিবার। মানে স্ত্রী রেখা আর মেয়ে জিনি অর্থাৎ জিনিয়া। আর সেই বাড়ির দোতলার দুটো ঘরের একটায় জায়গা হয়েছে কবির।

    ওর ঘরটা খুব বড় নয়। তবে বিছানা, চেয়ার টেবিল, আলমারি সব রয়েছে। আর আছে লাগোয়া বাথরুম। এ ছাড়াও এই ঘরে এসি আছে। টিভিও আছে। কোথাও কোনও অসুবিধে নেই কবির।

    বড় বাড়ির পাশে একটা মেসের মতো আছে। সেখানেই এই বাড়িতে যারা কাজকর্ম করে, তারা তিনবেলা খায়। কবিও সেখানে খাওয়া-দাওয়া করে।

    সেই গম্ভীর মতো লোকটাই যে বীরেন্দ্র ত্রিবেদী, সেটা পরে বুঝেছিল কবি। অবাকও হয়েছিল। ত্রিবেদী হয়েও এত ভাল বাংলা বলে লোকটা!

    সেদিন থেকে এখন, এই সময়ের মধ্যে বাকিটা জেনেছে কবি। জেনেছে বীরেন্দ্ররা সাত পুরুষ ধরে আছে কলকাতায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে বীরেন্দ্রদের পূর্বপুরুষরা ব্যবসা করে ফুলেফেঁপে উঠেছিল। আর সেই ফুলেফেঁপে ওঠার ধারা এখনও অব্যাহত।

    বীরেন্দ্রর স্ত্রী কৌশানি, বাঙালি। আর খুব বড়লোক বাড়ির মেয়ে। তবে বীরেন্দ্রর সঙ্গে এক বাড়িতে থেকেও সে ভাবে সম্পর্ক নেই। বড় বাড়ির অন্য দিকে আলাদা থাকে ম্যাডাম। নিজের ব্যবসা আছে। বুটিক আর বিউটি সালোঁর। কবি শুনেছে সেটাও খুবই ভাল চলে।

    লালু বলে, “ম্যাডাম হেভি কড়া। রাগীও। শুধু ওইটা উঠলে ম্যাডামের শক্ত মনটা আর শক্ত থাকে না। তখন অন্য খেল।”

    লালু ছেলেটা ম্যাডাম মানে কৌশানির ‘ম্যান ফ্রাইডে’। ম্যাডাম বাইরে বেরোলে অনেকটা সময় 34 সঙ্গে সঙ্গে থাকে। দরকারি সব কাজকর্ম করে দেয়।

    আর প্রথম থেকেই কেন কে জানে, কবিকে পছন্দ করে খুব। ওর পাশের ঘরেই থাকে এই লালু।

    ছেলেটা রোগা, শ্যামলা। সামনের একটা দাঁত ভাঙা। পায়ে কী একটা সমস্যাও আছে। খুঁড়িয়ে হাঁটে। আর কথাবার্তায় বেশ ভাল। বোঝা যায় যে, পড়াশোনা করেছে।

    প্রথম দিন থেকেই লালু ওর সঙ্গে সহজ ভাবে কথাবার্তা বলে। তবে মাঝে মাঝে বড্ড বেশি কথা বলে ফেলে ছেলেটা, এটাই যা সমস্যা। মানে, এমন সব কথা বলে ফেলে, যা কাউকে বলার নয়। ,

    “ওইটা উঠলে মানে? কী উঠলে?” কবি অবাক হয়ে গিয়েছিল প্রথম দিন ।

    লালু হেসেছিল খুব। তার পর বলেছিল, “সেক্স কাকা, সেক্স! হিট! তখন আমাকে ছেলে ধরে আনতে হয়। বুঝলে? একটা লোক আছে। পাখিদা। এজেন্ট। সে সাপ্লাই করে।”

    আর শুনতে চায়নি কবি। লালুর কোনও বোধ নেই। কী সব যে বলে! যার হয়ে কাজ করে মানুষ, তার, সম্বন্ধে এ সব কেউ বলে!

    ও লজ্জা পাচ্ছে দেখে লালু হেসেছিল। বলেছিল, “সেক্স শুনেই লজ্জা পেলে! আরে বাবা ওটাও তো একটা নিড, না কি! সাহেব আলাদা থাকেন। কিছু করেন না। তা, ম্যাডাম কী করবেন? বাড়িতে রান্না না হলে মানুষ তো বাজার থেকেই কিনে খাবে, না কি!”

    “ঠিক আছে, এ সব আমাকে বলার দরকার নেই,” কবি মাথা নামিয়ে নিয়েছিল।

    লালু হেসে বলেছিল, “তুমি তো আমার বন্ধু! তোমায় বলব না তো কাকে বলব?”

    বন্ধু! ওকে ক’দিন চেনে লালু! লালুর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়েছিল কবি। এই চব্বিশ বছরে কোনও দিন কোনও বন্ধু হয়নি কবির! সার্কাসে একটা ছেলে ছিল। মাধব। সে একটু বন্ধুর মতো হচ্ছিল, কিন্তু তার পর কামিনীকে নিয়ে বেকার ঝামেলা হয়ে গিয়েছিল ওদের মধ্যে। বা বলা ভাল মাধবই ঝামেলা করেছিল ফালতু ফালতু।

    কামিনী কিন্তু খেলা দেখাত না। কামিনী সার্কাসের টিকিট কাউন্টারে বসত। মাধবের পছন্দ ছিল সেই কামিনীকে। কিন্তু কামিনী পছন্দ করত কবিকে। কিন্তু কামিনী পছন্দ করত কবিকে। সেই নিয়ে কী ঝামেলা! মাধব তো এক রাতে আকণ্ঠ মদ খেয়ে একটা বড় ছোরা নিয়ে মারতেই এসেছিল কবিকে। কবি অনেক বুঝিয়েছিল। কিন্তু মাধব শুনছিলই না। লোকজন ধরে রাখতেও পারছিল না কিছুতেই। মাধবের গায়ে যেন অসুরের শক্তি এসে জড়ো হয়েছিল সে রাতে!

    শেষে কামিনী এসে অনেক কষ্টে সামলেছিল ব্যাপারটা। সকালে নেশা কেটে যাওয়ার পরে মাধব এসে ক্ষমা চেয়েছিল। কবিও আর ঝামেলা বাড়ায়নি। কিন্তু সেদিনের পর থেকে মাধবের সঙ্গে বন্ধুর মতো সম্পর্কটা ভেঙে গিয়েছিল। সেটা আর জোড়া লাগেনি।

    কবির একটা ব্যাপার আছে। কোথাও থেকে বা কারও থেকে ওর মন একবার সরে গেলে, তার প্রতি সেই ভরসা আর ফিরে আসে না। এই ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছিল। তবে সেই দিনের পর থেকে কবি জেনেছে যে, প্রেম-ফেম হেভি ঝামেলার জিনিস। এতে মানুষের ণত্ব-যত্ব জ্ঞান থাকে না। এ যেন এক ে স্রোতের টান। এক জায়গা থেকে টেনে নিয়ে মানুষকে অন্য কোথাও ছুড়ে ফেলে দেয়। আর তার ফাঁকে কী সব যে করিয়ে নেয়! মানুষ নিজেই বোঝে না! তাই এখন এ সব থেকে দূরে থাকতে চায় ও।

    ছোট থেকে নানা সমস্যা, কষ্ট আর অবহেলার মধ্য দিয়ে গিয়ে কবি বুঝেছে, জীবনে কেউ কারও নয়। বুঝেছে, মানুষ শুধু সুযোগ খোঁজে অন্যকে অপমান করার, অপদস্থ করার আর ব্যবহার করার। তাই এই চব্বিশেই ও অনেক নির্লিপ্ত থাকার চেষ্টা করে। ওর নিজের ভেতরে যে একটা মরুভূমি আছে সেটা বোঝে। বোঝে, ভালবাসা পাওয়ার জন্য একটা ছটফটানি আছে। কিন্তু তার সঙ্গে এটাও বোঝে যে, এতে একবার পড়লে চোরাবালিতে তলিয়ে যাওয়ার মতো করে চিরদিনের জন্য তলিয়ে যাবে। কিন্তু সেটা তো হতে দিতে পারে না কবি। মায়ের দায়িত্ব ওর ওপর। ও বোঝে, জীবনে সব কিছু সবার জন্য নয় ৷

    গত দু’মাসে ওকে এই বাড়িতে সে ভাবে কিছুই করতে হয়নি। শুধু মাঝে মাঝে তপনকাকুর সঙ্গে বেরোতে হয়েছে ব্যাঙ্কে বা পোস্ট অফিসে। কখনও ওষুধ এনে দিতে হয়েছে। পাম্প খারাপ হলে মি ডেকে আনতে হয়েছে।

    বসে বসে বিরক্তি ধরে যাচ্ছিল কবির। মাস গেলে এদিকে ওর হাতে দশ হাজার টাকাও দেওয়া হচ্ছে। খাওয়াদাওয়া তো এমনিতেই ফ্রি। তার ওপর দশ হাজার টাকা! মাকে আট হাজার পাঠিয়ে হাতে বাকিটা রেখে দিয়েছে। কিন্তু এ ভাবে কিছু না করে এই টাকা নিতে ওর সম্মানে লাগছে। সামান্য একটা আয়নার মধ্যে কী এমন আছে যে, তার জন্য টাকা পাচ্ছে ও? জীবনের কোন রহস্য আড়াল হয়ে রয়েছে ওর থেকে? তা ছাড়া কোনও কাজ না করে আর কতদিনই-বা এ ভাবে টাকা নেবে?

    কবি তো ঠিক করেছিল তলায় তলায় কাজ খুঁজবে। এখানে এ ভাবে কতদিন থাকবে? নিজেকে অন্যের গলগ্রহ ভাবতে ইচ্ছে করে না ওর। কিন্তু তার পরে গতকালই কবিকে বলা হয়েছে যে, আজ থেকে ওকে কাজে জয়েন করতে হবে।

    আজ রোদটা কেমন যেন বাটার-পেপার দিয়ে মোড়া! দোতলার সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে এই ছড়ানো বাগানে দাঁড়িয়ে ভাল করে চারিদিকটা দেখল কবি । কাল রাতে বৃষ্টি হয়েছিল। আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা হয়ে আছে। শিবশিবে হাওয়া দিচ্ছে একটা। আকাশে আছে। শিরশিরে হাওয়া দিচ্ছে একটা। আকাশে পাউডারের ফোঁটার মতো আবছা চাঁদ দেখা যাচ্ছে এই সকালে! কবি জামার হাতাটা নামিয়ে বোতাম আটকে দিল। তারপর বড় বাড়ির দিকে এগোল। দু’পা এগোতেই তপনকাকুকে দেখতে পেল কবি । হন্তদন্ত হয়ে আসছে বড় বাড়ির দিক থেকে। ওকে দেখেই হাত তুলে চেঁচিয়ে বলল, “দশটা পঁচিশ বাজে। সাহেব বেরোচ্ছেন। কী করছিস তুই? আয় তাড়াতাড়ি।”

    বীরেন্দ্র যে খুব সময় ধরে চলে, সেটা জানে কবি । ও বড় বাড়ির সামনে গিয়ে বলল, “দশটা একুশ বাজে।”

    “একই হল। চল।”

    তপনকাকু লোকটা ভাল। তবে একটু খিটখিট করে। জিনি বলে, “বাবা আসলে টেনশন থেকে এমন করে, জানো!”

    জিনি মানে জিনিয়া। তপনকাকুর মেয়ে। সদ্য ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে এমএ-তে ভর্তি হয়েছে। সুন্দর দেখতে জিনিকে। চোখ দুটো উজ্জ্বল। আর হাসলে গালে লম্বা টোল পড়ে! দাঁতের গঠনও বিজ্ঞাপনের মতো! জিনিকে দেখলেই মনে হয় আজ অনেক দিন মেঘ করে থাকার পরে রোদ উঠল!

    লালু বলে, “পুরো আলিয়া ভাটের জেরক্স, না গো? তোমার সঙ্গে হেব্বি মানাবে!”

    জিনি লালুকে দাদা বলে ডাকে। কবিকে বলে, “লালুদা লোকটা ভাল। শুধু বকে বেশি।”

    কবি আর বলে না যে, জিনিও কিছু কম যায় না! এই তো ওর সঙ্গে আলাপ হওয়ার পরেই বলেছিল, “কবি কোনও নাম নাকি? তোমার আসল নাম কী?”

    আসল নাম? দীর্ঘশ্বাস চেপে কবি চুপ করেছিল। সেদিন হাওয়া দিচ্ছিল বেশ। বাগানের মধ্যে গাছের পাতায় কেমন যেন ঝরঝর শব্দ হচ্ছিল। আলো এসে পাতার ছাঁকনি দিয়ে ঘাসে পড়ে ফুটিয়ে তুলছিল এক অন্যরকম আলপনা। তারই মধ্যে কবির মনে পড়ছিল যে, একদিন ওর একটা আসল নাম ছিল বটে। কিন্তু সে নামে আর কেউ ডাকে না।

    গ্রামে ওর বাবার একটা ছোট্ট দোকান ছিল। সেখানেই সারা দিন বসে থাকত বাবা। টুকটাক বিক্রিবাটা হত। তার সঙ্গে বাবা ওই দোকানে বসেই লেখালিখি করত। হ্যাঁ, ওর বাবা কবিতা লিখত। সে সব যে খুব ছাপা হত তা নয়। তাও বাবা লিখত।

    কবিতা এমন একটা জিনিস, যা লোকে পড়ে কম, বোঝে আরও কম, কিন্তু সেটা নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে সবচেয়ে বেশি।

    সেই পথ ধরে ওর বাবাকে নিয়েও গ্রামের সবাই খুব ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করত। আর ওকে দেখলেই ‘কবির ছেলে’ বলে ডাকত! খেপাত! খুব আবছা ভাবে বাবার অপমানিত মুখটা মনে পড়ে কবির। মনে পড়ে এই নিয়ে কবি বাবাকে কিছু জিজ্ঞেস করলে, ওকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে থাকা বাবার অসহায় মুখ।

    বাবা নেই বহু দিন। হার্টের অসুখ ছিল। ওর সেই কোন ধু ধু ছোটবেলায় মারা গিয়েছে বাবা। কবিতার খাতাগুলোও পুড়িয়ে ফেলেছে মা। ‘কবির ছেলে’ ডাক থেকে ‘র’ আর ‘ছেলে’ খসে পড়ে গিয়েছে সেটাও আর মনে নেই ওর। শুধু ওর বাবার নাম কোনও কবি হতে না পারার বিদ্রুপটুকু সারা জীবনের মতো আটকে গিয়েছে ওর নামে। তবু এটাকেই ও ধরে থেকেছে। বাবার সঙ্গে যেন এই নাম দিয়েই কোথায় একটা যোগসূত্র থেকে গিয়েছে ওর।

    এত কথা ও সেদিন বলেনি জিনিকে। বলেনি ওর আসল নাম অমলকান্তি গুহ। এটাও বলেনি যে, বাবা বলত, “কবিতার অমলকান্তি পারেনি। কিন্তু তোকে রোদ্দুর হতে হবে।” জিনিকে কিছুই বলেনি ও। শুধু ওর থেকে মুখ ঘুরিয়ে দূরে তাকিয়ে দেখেছিল, বড় আমগাছ থেকে একটা কাঠবিড়ালী নেমে এসে একা একা কী যেন খুঁজছে সুন্দর করে সাজানো লনে!

    বড় বাড়িতে ঢোকার আগে লম্বা খোলা শ্বেতপাথরের চাতাল। সেখানে তিন ধাপ সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি দিয়ে উঠে বাড়িতে ঢোকার বড় কাচের দরজা।

    দরজা পার করে বড় হলঘরে গিয়ে দাঁড়াল কবি। এই ঘরটা বাইরের লোকেদের বসার জায়গা। এখানে সার দিয়ে চেয়ার রাখা। আর এক পাশে বড় একটা সোফা সেট ।

    কবি দেখল বীরেন্দ্র ফোনে কথা বলছে। পাশে জনা দাঁড়িয়ে আছে। ওকে দেখেই চোখের ইশারায় দাঁড়াতে বলল।

    জনা বীরেন্দ্রর পার্সোনাল বডিগার্ড। সারাক্ষণ একটা নাইন এম এম ব্লক পিস্তল নিয়ে ঘোরে। আসলে বন্দুক নিয়ে একটা আগ্রহ আছে কবির। তাই জনাকে জিজ্ঞেস করে জিনিসটা দেখেছে।

    কিন্তু জনা বন্দুকটা ধরতে দেয়নি ওকে। বলেছে, “তুই এ সব ধরে কী করবি? কোনও দিন চালিয়েছিস?”

    কবি বলেনি কিছু। সার্কাসে পিস্তল চালানো ছাড়াও এমনি পিস্তলও চালিয়েছে। সার্কাসের মালিকেরই ছিল। আর সেটাতেও ওর টিপ খুব ভাল। কিন্তু এখানে এ সব বলে কী হবে? কেনই-বা বলবে!

    কবি দেখল জনার কোমরের কাছের জামাটা উঁচু হয়ে আছে।

    জনা এই বাড়িতে থাকে না। তবে কাছেই একটা ফ্ল্যাটে একা থাকে। শুনেছে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু জনাকে ছেড়ে ওর বউ চলে গিয়েছে।

    লালু বলেছিল ওকে। বলেছিল, “মালটার যত হম্বিতম্বি সাধারণ লোকের ওপর। আসলে ওর দাঁড়ায় না। তাই বউ পালিয়েছে!

    সেক্স ভাই আসল জিনিস। না দিতে পারলে কোনও পাখি পোষ মানবে না!”

    লালু কী সব যে বলে! তাও জনাকে দেখলে লালুর ওই মুখ, হেসে বলা ওই কথা আর সামনের ভাঙা দাঁতটা মনে পড়ে। মনে মনে হাসি পায় লালুর বলার ভঙ্গিমায়!

    “এসেছিস!” ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে ওর দিকে তাকাল বীরেন্দ্র। তার পর জিজ্ঞেস করল, “গাড়ি চালাতে পারিস?”

    মাথা নাড়ল কবি, পারে। বলল, “তবে লাইসেন্স নেই!”

    বীরেন্দ্র হাসল, “সে হয়ে যাবে। আমার একটা গাড়ি নিয়ে সোজা চলে যা এয়ারপোর্ট। আমার মেয়ে আসছে। নিয়ে আয় ওকে। তার পর কাল থেকে আমার সঙ্গে বেরোবি। বুঝলি! দু’মাস হল, এবার তো কাজকর্মে ঢুকতে হবে। কাজ শেখাটা ইমপর্ট্যান্ট।”

    কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনা পকেট থেকে একটা চাবি বের করে ছুড়ে দিল ওর দিকে। কবি ধরল এক হাতে ।

    জনা এবার ওর দিকে একটা প্যাকেট এগিয়ে দিয়ে বলল, “এতে তোর নতুন মোবাইল আছে। সব কানেকশন-টন করে চালু করে দেওয়া আছে। ওতে একটাই ছবি আছে। বিটিয়ার ছবি। দেখে নে। আর, গ্যারাজ় থেকে বড় নীল এসইউভি-টা নিয়ে নে।

    বিটিয়া কে! কিছু জিজ্ঞেস না করেই ও তাকাল বীরেন্দ্রর দিকে।

    বীরেন্দ্র হেসে বলল, “আমার মেয়ে। উর্জা। জনা বিটিয়া ডাকে। যা বেরিয়ে পর। এটাই প্রথম কাজ তোর। সাবধানে নিয়ে আসবি। বুঝলি? এয়ারপোর্ট চিনিস তো?”

    কবি মাথা নাড়ল। দু’মাস তো এমনি বসে থাকেনি ও।

    চাবিটা মুঠো করে নিয়ে দ্রুতপায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এল কবি। যাক, শেষমেশ কাজ পেল একটা। কিন্তু কেমন যেন লাগল ওর! তা হলে কি ওকে গাড়িই চালাতে হবে? এই করতে এসেছে কলকাতায়?

    গ্যারাজের দিকে যেতে যেতে বাবার সেই আবছায়া মুখটা আবার মনে পড়ল কবির। মনে পড়ল দোকানে বসে মাথা নিচু করে খাতায় লিখে যাওয়া একটা মানুষ। চোখ তুলে অবাক হয়ে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে থাকা একটা মানুষ। ওর বাবা।

    আকাশের দিকে তাকাল কবি। বাটার-পেপারের রোদ্দুর! শীতের আকাশ যেন রোদ ছড়াতেও ভয় পাচ্ছে! এটাই কি ভীরু আকাশ?

    নিজের অজান্তেই দীর্ঘশ্বাস পড়ল ওর। ভাবল, অমলকান্তি কি ভুলে যাবে ওর কী হওয়ার কথা ছিল?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)
    Next Article কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }