Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প698 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৮. কবি

    “তুই ঘড়ি পরিস না কেন রে?” জনা সিগারেট জ্বালিয়ে গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল।

    সামনের ফুটপাথটা বেশ উঁচু। কবি হাত দিয়ে একটু ঝেড়ে, একটু ফুঁ দিয়ে কিছুটা জায়গা পরিষ্কার করে বসল ফুটপাথের ওপর। তার পর সামনের রাস্তায় পড়ে থাকা কয়েকটা কাগজ ফুলের পাপড়ি তুলে নিয়ে রাখল হাতের পাতায়। আশপাশের কারও বাড়ি থেকে উড়ে এসেছে বোধহয়।

    ফুল ওর খুব ভাল লাগে। গ্রামে, ওদের বাড়ির আশপাশে অনেক ফুল গাছ আছে। হাওয়াদাদুর বাড়িতেও আছে। মায়ের খুব ফুলের শখ। আর সব ফুলের মধ্যে মায়ের প্রিয় ফুল হল মল্লিকা। কবি অবাক হয়ে দেখত, মা কত যে ফুলের নাম জানে! কোনটার কী গুণ, তাও জানে। মা ওকে ধরে ধরে শেখাতও সে সব। ও ভাবত মায়ের তো সে ভাবে পড়াশোনো করার সুযোগ হয়নি। তাও মা প্রকৃতির নানা বিষয় নিয়ে এত জানল কী করে!

    মায়ের জীবনটা যে কষ্টের, সেটা ছোট থেকেই বুঝত কবি। মায়ের এক দিদি আছে। লীলা। কিন্তু সারা জীবনে কবি তাকে একবার মাত্র দেখেছে। ওদের গ্রামের পাশেই মুড়াপোঁতা গ্রাম। সেই গ্রামের খুবই ধনী ব্যবসায়ী হারু ঘোষের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে লীলা মাসির! তার পর থেকে কারও সঙ্গেই লীলা মাসি সম্পর্ক রাখে না। মাকে এই নিয়ে জিজ্ঞেস করলে মা কোনও উত্তর দেয় না।

    মা ওই রান্নার কাজের বাইরে এই গাছপালা, ফুল, ফল এ সব নিয়েই থেকেছে বরাবর। আর ছোটবেলায় সময় পেলেই কবিকে সে সব চেনাত। কবি অবাক হয়ে দেখত, মা নানারকম পাখিও চেনে। ডাক শুনে বলে দিতে পারে কোন পাখি এসে বসেছে পাতার আড়ালে।

    মা যখন এ সব বলত, শুনত মন দিয়ে। মা যতটা বলত, সে মনে রেখে দেওয়ার চেষ্টা করত। কোন পাখির ডাক কেমন। কোন পাখি কোন ঋতুতে আসে। কার তৈরি করা বাসা কেমন, সব মনে মনে টুকে নিত কবি।

    তবে ফুল দেখলেই কেন কে জানে মায়ের চেয়েও হাওয়াদাদুর বলা পুরনো কথাগুলোই কবির মনে পড়ে বেশি। হাওয়াদাদু বলত, ফুল হল প্রকৃতির নির্মোহ ভাবের একটা প্রতীক। এই যে সারা পৃথিবীতে এত গাছপালা, তাতে নানা ধরনের ফুল, সবই তো ক্ষণিকের জন্য আসে। ফুটে ওঠার কিছু পরেই সব কেমন ঝরে যায়। নাম জানা ফুল বলো বা জঙ্গলের এক পাশে সবার আড়ালে ফুটে থাকা ছোট্ট কোনও ফুলই বলো, সবাই ক্ষণিকের অতিথি। যেন রাতের আকাশের উল্কা! ফুটে ওঠা আর ঝরে হারিয়ে যাওয়াই যেন তার নিয়তি! এই দুইয়ের অবসরেই যেন তার বেঁচে থাকার আনন্দ। এত সুন্দর তাদের কারুকাজ, এত নিঁখুত তাদের গড়ন, কিন্তু সে সবের বিজ্ঞাপন নেই একটু। কোনও প্রচার নেই। শুধুমাত্র নিজের খেয়ালে সে সব দিয়ে চারপাশটা সাজিয়ে রাখে প্রকৃতি। তার যেন এই সব সৃষ্টিকে চিরন্তন করার ইচ্ছে নেই কোনও। সবই যেন তার বালক-খেয়াল। সন্ন্যাসীর নির্মোহ। আঁকড়ে থাকায় তার যে কী প্রচণ্ড অনিহা! সে শুধু দিতে এসেছে। তার কারও থেকে কোনও কিছুই যেন পাওয়ার নেই।

    হাওয়াদাদু বলত যে, মানুষেরও এমন হওয়া উচিত। এমন নির্মোহ, নম্র ও শুধুমাত্র কাজের প্রতি একনিষ্ঠ।

    এই জীবনে কী হওয়া উচিত, কী করা উচিত তাই নিয়ে হাওয়াদাদু নানা কথা বলত কবিকে। কিন্তু কবি বুঝেছে এই পৃথিবীতে ওই সব নিয়মে কাজ চলে না। এই পৃথিবী ফুল দিয়ে শুধু মালা গাঁথে না। তাকে পিষে সুগন্ধি তৈরি করে। যা পরে চড়া দামে বিক্রি করে। মানুষ সব কিছুকেই উপযোগিতা আর ব্যবহার করার গুণ দিয়ে বোঝে, বিচার করে। কবি তো দেখেছে ফুল, ফল, গাছ, পাখি তো পরের কথা, সবার আগে মানুষ মানুষকেই সারাক্ষণ ব্যবহার করে যাচ্ছে! ঘানির মধ্যে ফেলে পিষে তার তেল বের করে আনছে।

    হাওয়াদাদুর সঙ্গে বহু দিন কথা হয় না কবির। মানুষটা কেমন আছে কে জানে! শুধু আচমকা কখনও কখনও মনে পড়ে তাকে। আর তার কথাগুলো মনের গুহায় প্রতিধ্বনি হয়ে ফেরে।

    কবির দীর্ঘশ্বাস পড়ল। সেই কোথায় ছোট্ট মুক্তদহ আর কোথায় এই রাতের সল্টলেক। জীবন যে কতটা দূরে নিয়ে এসে ফেলেছে ওকে, ভাবলেই অবাক লাগে। কিন্তু তাও হাতের তালুতে কাগজ-ফুল নিতেই আবার সব কেমন করে যেন মনে পড়ে গেল এক নিমেষে। কাগজ-ফুল যেন সংযোগ ঘটিয়ে দিল পুরনো জীবনের সঙ্গে।

    এ সব মনে পড়ায় হঠাৎ মনখারাপ করল ওর। মনে হল চারিদিকের সব কিছুই বড় অনর্থক।

    কবি চোয়াল শক্ত করে নিজেকে সামলাল। এ ভাবে দুর্বল হওয়ার মানে নেই কোনও। কারণ, ও জানে দুর্বলতা মানেই মনের মৃত্যু। ও মুখ তুলে তাকাল সামনের দিকে। দেখল, জনা ওর দিকে তাকিয়ে সিগারেট টানছে!

    “শালা, তুই নামে কবি জানতাম! কিন্তু কামেও তাই নাকি রে?” জনা হাসল।

    কবি কিছু বলল না। বরং দেখল একটা ছোট্ট হ্যাচব্যাক গাড়ি রাস্তা দিয়ে ধীরে ধীরে চলে গেল বাঁ দিকে। এই নিয়ে দু’বার। গাড়িটা গত কুড়ি মিনিটে দু’বার গেল ওদের সামনে দিয়ে। চক্কর মারছে নাকি? সল্টলেক জায়গাটায় এলে একটু রাস্তা গুলিয়ে যায় কবির।

    এদেরও তাই হল নাকি?

    জনা আবার জিজ্ঞেস করল, “তোকে কী বলছি সেটা খেয়াল করলি? ঘড়ি পরিস না কেন?”

    কবি উত্তর না দিয়ে বলল, “ওই সিলভার কালারের ছোট গাড়িটা দু’বার গেল, দেখলে?”

    জনা একবার রাস্তার দিকে তাকাল। তার পর হাসল, “তো? রাস্তা দিয়ে গাড়ি যাবে না তো কি হাতি যাবে?”

    কবি দেখল, জনা সিগারেটটা টেনে একদম ছোট করে মাটিতে ফেলে পা দিয়ে পিষে দিল।

    ও বলল, “এমনিই ঘড়ি পরি না। কী হবে? মোবাইলেই টাইম দেখা যায়।”

    জনা মাথা নাড়ল, “তা হলেও ঘড়ি হল ঘড়ি। সাহেবের হাতে দেখেছিস? বাইশ লাখ টাকা দাম ঘড়িটার। সোনার। হিরে-ফিরে বসানো। তাই সাহেবের সোনার সময় চলে! ঘড়ি খুব ইমপর্ট্যান্ট বুঝলি! সাহেব তো খুব জ্যোতিষ, বাস্তু এ সব মানেন। তখন সাহেবের হেব্বি ডাউন সময় যাচ্ছিল। একজন জ্যোতিষ তখন সাহেবকে বলেছিল কালো ডায়ালের ঘড়ি না পরতে। যেন সোনালি নয়তো সাদা ডায়াল পরেন। ব্যস, সাহেবের হাতে ছিল ছ’লাখ টাকার একটা কালো ডায়ালের ঘড়ি। জাস্ট খুলে আমায় দিয়ে দিলেন! তার পর এই বাইশ লাখিটা কিনেছেন সাহেব। ‘ম্যাড প্যারিস’ না কী নাম যেন। আর আমার হাতে সেই থেকে এটা ঝুলছে। শালা, একটু দূরের মফস্সলে একটা ওয়ান বিএইচকে হয়ে যায় বল এতে?”

    জনা হাত বাড়িয়ে দিল কবির দিকে।

    কবি দেখল ঘড়িটা। কালো ডায়ালের। ওপরে ছোট ছোট দাগে এক দুই তিন লেখা। কাঁটা দুটো কমলা রঙের। কী আছে এই ঘড়িতে যে এত দাম! মানুষ কত ভাবে যে পয়সার অপচয় করে! কিন্তু দুঃস্থদের দিতে হলেই গায়ে জ্বালা ধরে।

    ওর বাবার একটা ঘড়ি ছিল। আসলে ঠিক ওর বাবার নয়, বাবার ঠাকুরদার। ছোট্ট সাদা ডায়ালের। সিলভার কালারের চেন। অদ্ভুত কায়দায় বাঁধার ব্যবস্থা। কেমন একটা দিক টেনে নিয়ে সেটাকে কব্জির অন্য দিকে বাঁধতে হত। নামটাও মনে আছে ঘড়িটার। ‘অ্যাংলো সুইস’! ঘড়িটা এখন খারাপ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তাও রেখে দিয়েছে মা। স্মৃতি বলে কথা।

    মায়ের সেটুকু ছাড়া কী-ই বা আছে! কবি বোঝে মানুষের কাছে স্মৃতিই হল শিকড়।

    জনা আর-একটা সিগারেট ধরাল। জিজ্ঞেস করল, “তুই এত কম কথা বলিস কেন রে? কাজ না থাকলে দেখেছি বাড়ির পিছনের বাগানের ছোট্ট সিমেন্টের বেঞ্চটায় বসে থাকিস। কেন? কলকাতায় এসেছিস, একটু এদিক-ওদিক ঘুরতে পারিস না? গার্লফ্রেন্ড নেই তোর?”

    কবি তাকাল ওর দিকে। গার্ল ফ্রেন্ড! আলিয়া ভাট!

    লালু আজকাল সারাক্ষণ এই নিয়ে কানের পোকা বের করে দেয় ওর। বলে, “প্রোপোজটা করেই ফেল এবার।”

    আজকাল লালু ‘তুই’ করে বলে ওকে। বলে, “অনেক দিন তুমি হল আর ভাল লাগছে না। আমি কি পুরনো দিনের বাংলা সিনেমার লোক নাকি যে, বন্ধুকে তুমি করে বলব? তুইও আমায় তুই করেই বলবি।”

    কবি লালুকে আর কী বলবে? কাকেই বা কী বলবে? এই জীবনে ওর যাকে পছন্দ হয়েছে, তাকে তো আর কোনও দিনও কিছু বলতে পারবে না। ও মাথা নামিয়ে নিয়েছিল শুধু।

    লালু ছাড়েনি। বলেছিল, “মেয়েটা তোকে পছন্দ করে। বুঝিস না? বলে দে না!”

    কবি বলেছিল, “আমি কলকাতায় এ সব করতে এসেছি? জিনি খুব ভাল মেয়ে। ওর জীবনে অনেক ভাল ছেলে আসবে। আমি কেন এ সব করে ওর জীবনটাকে কমপ্লেক্স করে দেব? আমি তো পাগল নই!”

    লালু নাক টেনে বলেছিল, “দূর শালা। তুই একদম ফালতু। রোম্যান্টিক নোস। দেখতে-শুনতে এত ভাল! কম কথা বলিস। ঘ্যামা পার্সোনালিটি আছে একটা। তোর সঙ্গে দারুণ মানাত। সেখানে কী সব বলিস! কী দারুণ দেখতে বল তো জিনিকে! তোরা মনে মনে মাইরি হ্যাপি এন্ডিং চাইবি, কিন্তু তার জন্য যা করতে হবে সে সব করবি না, বদলে এমন কাজ করবি যে, লাইফ কমপ্লিকেটেড হয়ে বসে থাকবে।”

    কবি ভুরু কুঁচকে বলেছিল, “দারুণ দেখতে হলেই তাকে গিয়ে প্রোপোজ করতে হবে আমায়! আশ্চর্য! বরং সুন্দরের কাছ থেকে মানুষকে দূরে থাকতে হয়, যাতে সেই সুন্দরটা আরও বেশি দিন বেঁচে থাকে। মানুষের হাত পড়লেই তো সব নষ্ট হয়ে যায়। জানিস না?”

    লালু ওর দিকে গোলগোল চোখ করে তাকিয়ে থেকে বলেছিল, “বাবা! অনেক হয়েছে ফিলোসফি! রক্তমাংসের শরীরটা যত দিন আছে তত দিন সব আছে। তুই নেই তো সব শালা শূন্য। মানুষ অজন্তা ইলোরার আর্ট নয় যে, হাজার হাজার বছর পরে মাটি খুঁড়ে বের করে তাকে নিয়ে আদিখ্যেতা হবে। চেতনার রঙে পান্না সবুজ হয় কাকা। অচেতন হলে মিয়াঁদাদ লাস্ট বলে ছয় মেরে কেলিয়ে চেতন শৰ্মা বানিয়ে দেয়! শালা, লাইফটাকে বোঝ। আমার ম্যাডামকে দেখ। মেয়ে এসেছে বাড়িতে, কিন্তু তার মাঝেও লাইফের থেকে আনন্দ বুঝে নিচ্ছে কড়ায়-গন্ডায়। নিউটাউনে ম্যাডামের যে ফ্ল্যাট আছে, সেখানে প্রায়ই কামসূত্রের সিলেবাসের রিভিশন দিচ্ছে। তুই একটা কথা বল, লাইফে আছেটা কী? সেই তো মরেই যাবি! সেখানে অত জ্ঞানের কথা মারিয়ে কী করবি? জানিস তো, যাদের ধক নেই, যারা পারে না কিছু, তারাই জ্ঞান ভেজে বাতেলার চপ করে। ভাল কথা বলছি শোন। জিনিরও ইন্টারেস্ট আছে! তুই দেখতে-শুনতে ভাল হলেও রণবীর কপুর তো নোস! তাও একটা আলিয়া ভাট জুটছে! করজোরে গ্রহণ কর। হাতের লক্ষ্মীকে পায়ে ঠেলতে নেই। বুঝেছিস!”

    বাপরে বাপ! কবির মাথা ঝাঁঝাঁ করছিল। এত জ্ঞানী ছেলে এখানে কী করছে! কিন্তু এত জ্ঞানী হয়েও ও একটা কথা বোঝে না যে, ধরেবেঁধে আর যাই হোক প্রেম হয় না।

    কিন্তু তা বলে জিনিকে ও অবজ্ঞা করে না বা অসম্মান করে না কখনও। সেই যে উর্জা ওকে চারটে চকোলেট দিয়েছিল সেগুলো ও নিজে খায়নি। দিয়ে দিয়েছিল জিনিকে।

    জিনি সে দিন খুব অবাক হয়েছিল। বড় বড় চোখ করে তাকিয়েছিল ওর দিকে। তার পর সামান্য হেসে বলেছিল, “এগুলো আমি রেখে দেব। খাব না।”

    “সে কী কেন!” কবিও অবাক হয়েছিল।

    জিনি ঠোঁট টিপে সামান্য সময় নিয়ে তাকিয়েছিল ওর দিকে। তার পর ছোট্ট করে বলেছিল, “বলব না!”

    কবিও বলবে না। কোনও দিন বলবে না। ওর আসলে কাকে পছন্দ, সেটা কাউকেই বলবে না কোনও দিন।

    জনা ঘড়ি দেখল, “কী কেস বল তো! সাহেব বললেন যাবেন আর আসবেন। সেখানে এত দেরি হচ্ছে কেন?”

    কবি কিছু বলল না। ও জানে উত্তরটা জনাই দেবে। আসলে জনা লোকটা রাফ হলেও ভাল। বীরেন্দ্রর বডিগার্ড। লালুর কাছে শুনেছে, বেশ কয়েকটা খুনের অভিযোগ নাকি আছে লোকটার নামে। কিন্তু বীরেন্দ্রর প্রোটেকশনের জন্য কেউ কিছু করতে পারে না ওকে।

    বীরেন্দ্র এই যে কবিকে এখন সারা দিন সঙ্গে করে রাখে, এতে জনার প্রথমে একটু আপত্তি ছিল। কিন্তু যেই বুঝেছে যে, আপত্তি করে লাভ নেই, ও সঙ্গে সঙ্গে কবির সঙ্গে ভাল ভাবে কথা বলা শুরু করেছে!

    জনা বলল, “দেখ, সাহেব হল কুবের। রাজনীতি এমন একটা ইঞ্জিন যার ফুয়েল হল টাকা। আনইন্টারাপ্টেড টাকা। সেটার জোরেই লোকে গদিতে বসে। কারণ, গদি হল ক্ষমতা। এই সামনের বছর নির্বাচন। কিন্তু রাতে, ঘুমের মধ্যেও আজকাল উর্জাকে মাঝে মাঝে দেখে কবি। বুকের মধ্যে কেমন একটা করে ওর। ঘুম ভেঙে যায়। মাথার কাছে রাখা জলের বোতল খুলে জল খায় ও। তার পর উঠে বসে থাকে চুপ করে। এক সময় নামে বিছানা থেকে।

    সলতে তো এখন থেকেই পাকাতে হবে। তাই সাহেব এসেছেন নিজের দলের মানে, রুলিং পার্টির এক বড় নেতার বাড়িতে। কারণ, এখানে ডিল হবে। সাহেব চান সাহেব-সহ ওঁর কাছের আরও ছ’জনকে যেন টিকিট দেওয়া হয়। আর জেতার পরে যেন সাহেবকে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদের মন্ত্রিত্বও দেওয়া হয়। কিন্তু নেতাবাবুটি বলেছেন, দলের হাইওকমান্ড সাহেবের লিস্টের তিন জনের বেশি কাউকে টিকিট দেবে না। সাহেব বলেছেন, তা হলে অপোজ়িশনকে ব্যাক করবেন। তারা নাকি সাহেবের সব শর্ত মেনে নিয়েছে। সাহেব এ রাজ্যের বেশ কিছু অঞ্চল নিজের মুঠোয় রাখেন। সাহেব চটে গেলে সেই সব জায়গার ভোটেও সুইং হবে। কিন্তু রুলিং পার্টি তো আর গান্ডু নয়! তারা নাকি মধ্যপ্রদেশ থেকে কোনও এক বিজনেসম্যানকে নিয়ে আসবে বলে ঠিকঠাক করছে। তাকে এখানকার অনেক প্রোজেক্ট পাইয়ে দেবে। ব্যাঙ্ক থেকে লোন পাইয়ে দিয়ে সেই টাকা তার থেকে সাইফন করে ফান্ড তৈরি করে নেবে। টাকা ছাড়া তো ভোট করা যাবে না। এ সবে সাহেব পুরো খিট খেয়ে গিয়েছেন। আমায় বলেছিলেন জাস্ট পাঁচ মিনিটে এসপার-ওসপার করে বেরিয়ে আসবেন। কিন্তু কেন যে লেট হচ্ছে!”

    কবি কী বলবে ভাবল। নিজেদের দলের মধ্যেই দ্যাখো কী করে। কিন্তু সত্যি বলতে কী, এ সব জেনে ও কী করবে! ও দেখল জনা আরও কিছু বলতে যাচ্ছে, কিন্তু তার আগেই আচমকা ফোনটা নড়ে উঠল পর্কেটে। একটু অবাক হল কবি। এখন কে ফোন করছে ওকে। সে ভাবে তো কেউ ফোন করে না! ও ফোনটা বের করে দেখল। উর্জা। চোয়াল শক্ত করে স্ক্রিনের দিকে তাকাল কবি। তার পর কলটা রিসিভ করে কানের কাছে ধরে বলল, “বলুন ম্যাডাম।”

    “কবি, তুমি কোথায়?” উর্জার গলায় সামান্য উদ্বেগ কি? “আমি স্যরের সঙ্গে আছি। কিছু হয়েছে?” কবি জিজ্ঞেস করল।

    উর্জা যেন একটু উদ্বিগ্ন গলায় বলল, “বাবা ক’টায় আসবে বলো তো বাড়িতে? আমি ফোন করছি, কিন্তু ধরছে না। কী হল বুঝতে পারছি না! আমার একটু দরকার আছে।”

    কবি শান্ত গলায় বলল, “স্যর একটা মিটিংয়ে আছেন। উনি বেরোলেই আমি বলছি ম্যাডাম।”

    “হ্যাঁ বোলো,” উর্জার গলায় যেন সামান্য বিরক্তি, “আর কী সারাক্ষণ ম্যাডাম ম্যাডাম করো! উর্জাদি বলতে পারো না?”

    কবি একই রকম শান্ত গলায় বলল, “না। ম্যাডামই ঠিক আছে। আর স্যর বেরোলেই আমি ওঁকে বলছি!”

    ফোনটা বন্ধ রেখে কবি তাকাল জনার দিকে। জনা হাতের সিগারেটটা ফেলে একই কায়দায় পা দিয়ে পিষে নিভিয়ে ডান হাতের কনিষ্ঠা তুলে

    ইঙ্গিত করে বলল, “মাইনাস করে আসছি। যাস না আবার কোথাও।”

    কোথায় যাবে কবি! সাহেব ওকে সঙ্গে রাখে ড্রাইভার হিসেবে। উর্জা যে দিন ফেরে, তার দু’দিনের মধ্যেই ওর ড্রাইভিং লাইসেন্স বের করে দিয়েছে জনা!

    এই গাড়ি চালানোর কাজটা করতে ভাল লাগে না কবির। কিন্তু উপায় নেই। মায়ের মুখটা মনে পড়ে ওর। মাসের শেষে যখন টাকা পাঠায়, তখন মায়ের গলা শুনে ও বোঝে যে, নিশ্চিন্ত আছে মা!

    কবির আশ্চর্য লাগে একটা ব্যাপারেই। কেন ওকে কাজে রাখল বীরেন্দ্র! ওই আয়নায় কী আছে যে এমনটা হল! এই বাজারে সামান্য যে-কোনও কাজ পাওয়াই বিরাট ব্যাপার। সেখানে দু’মাস প্রায় বসিয়ে টাকা দিল লোকটা ওকে। কেন!

    মোবাইলটা বের করে কবি আবার উর্জার নাম্বারটা দেখল। উর্জাদি বলবে! পাগল হয়েছে ও? উর্জাকে দিদি বলা যায় নাকি! সেই এয়ারপোর্টে প্রথমবার যাকে দেখেই মনে হয়েছিল গ্রহ ও গ্রহান্তরের সমস্ত আলো একসঙ্গে ওর বুকের ভেতরে জ্বলে উঠেছে। যাকে দেখে মনে হয়েছিল, এই জন্য, একমাত্র এই মেয়েটির সামনে এসে একদিন ও দাঁড়াবে বলেই ঈশ্বর ওকে কলকাতায় পাঠিয়েছেন। তাকে বলবে দিদি!

    রাতে, ঘুমের মধ্যেও আজকাল উর্জাকে মাঝে মাঝে দেখে কবি। বুকের মধ্যে কেমন একটা করে ওর। ঘুম ভেঙে যায়। মাথার কাছে রাখা জলের বোতল খুলে জল খায় ও। তার পর উঠে বসে থাকে চুপ করে। এক সময় নামে বিছানা থেকে। জানলা খুলে তাকিয়ে থাকে বাইরের অন্ধকার বাগানের দিকে। আর মন থেকে স্বপ্নের ছবি মুছে ফেলতে চায় ঘষে ঘষে। কিন্তু মুছে ফেলতে পারে না। উর্জার হাসি। চোখ তুলে তাকানো। কথা বলতে বলতে কানের পেছনে সরিয়ে নেওয়া চুল। ঠোঁট টিপে আনমনা হয়ে যাওয়া। সব কিছু ছবির মতো মনে ভেসে আসতে থাকে। সামান্যই সব ভঙ্গি, কিন্তু তার মধ্যেই কী যে অসামান্য আকর্ষণ লুকিয়ে আছে! শরীর আর মনের দুরূহ কোনও জায়গায় কেমন একটা যেন করে কবির। ওর মধ্যে এমনও যে কোনও জায়গা ছিল, সেটা এই প্রথম বুঝতে পারছে ও। ও ভাবে কোনও কোনও মানুষের সামনে এলে আমাদের মধ্যেকার আর-একটা আমি বা সত্যিকারের আমি-টা প্রকাশ হয়ে পড়ে। যেন নদীর বুকে আচমকা জেগে ওঠে কোনও চর। কিন্তু কেন এমন হয়, তার কারণ কিছুতেই স্পষ্ট বোঝা যায় না। শুধু মনে হয় বুকের মধ্যে টান টান করে পেতে রাখা চাদরটাকে কে যেন এক হ্যাঁচকায় এলোমেলো করে দিয়েছে!

    কেউ যাতে এ ব্যাপারে কিছু বুঝতে পারে, সে নিয়ে কবি সতর্ক থাকে। আর উর্জার সামনে তো ও একটু অতিরিক্ত সাবধানেই থাকে। কথাই বলে না সে ভাবে। সরাসরি তাকায় না। সামনেই যায় না খুব একটা। তাও উর্জা ওকে ডাকে, নানা কাজে খোঁজে। সে দিন যেমন কলেজ স্ট্রিটেওডেকেছিল। ও তখন তো আর এড়াতে পারেনি। কী করে এড়াবে। কাজ করে তো ওদের হয়েই।

    সেদিন কিছু শপিং করার ছিল উর্জার। তাই নাকি কবিকে যেতে হবে। কিন্তু জিনির জ্বর ছিল বলে উর্জা শপিং-এর কথা তোলেনি। বরং কবিকে জিনির জন্য ওষুধ কিনতে হয়েছিল। কবির দেখে ভাল লেগেছিল যে, উর্জা শপিং-এ বেরিয়েছে, সেটা জিনির সামনে একবারও বলেনি। বরং এমন ভান করেছিল যেন বাড়িতেই ফিরছে। অসুস্থ জিনিকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই উর্জার কাছে আসল ছিল। মানুষ হিসেবে উর্জা কেমন বুঝতে পেরেছিল ও।

    সারা পথ গাড়িতে বসে সামনের দিকে তাকিয়েছিল কবি। উর্জা আর জিনি কথা বলছিল পিছনে। ওর ইচ্ছে করছিল পিছন ফিরে উর্জাকে দেখতে। কিন্তু দেখেনি। ছোট থেকেই সে ভাবে কিছু পায়নি কবি। নিজের ইচ্ছেকে মেরে ফেলা, নিজেকে বঞ্চিত করার ব্যাপারটা ওর মজ্জায় মিশে গিয়েছে। তাই চট করে কোনও কিছুর বা কোনও ইচ্ছের ফাঁদে ও পড়ে না।

    কিন্তু এবার যে কী হল! সেই এয়ারপোর্টে উর্জাকে দেখার পরেই মাথা আর বুকটা কেমন যেন গুলিয়ে গিয়েছে। যেন বুকের মধ্যে হাজার হাজার হরিণ ছুটে বেড়াচ্ছে অকারণে! কিন্তু ও জানে এটা ঠিক হচ্ছে না। নিজেকে সামলাতে হবে। সামলাতে হবেই। মনে মনে রোজ নিজেকে এ সবই বোঝায় কবি। নিজেকে বলে, ভালবাসার চক্করে পড়ে ওদের গ্রামে হরেনদার কী হয়েছিল মনে আছে তো!

    মুক্তদহের সবচেয়ে বড় জোতদার যে গোপাল সামন্ত, তার মেয়ে জয়ার প্রেমে পড়েছিল হরেনদা। হরেনদা হল ওদের পাড়ার মুদিখানার মালিক সব্যদার ভাই।

    হরেনদা ছিল গান-পাগল মানুষ। খুব ভাল গান গাইত। অনেকেই গান শিখতে আসত হরেনদার কাছে। জয়াও আসত। আর তার পর কী করে যেন হরেনদা প্রেমে পড়েছিল জয়ার!

    কিন্তু জয়া পড়েনি। জয়া খুব শান্ত, চুপচাপ ধরনের মেয়ে ছিল। হরেনদা একদিন, ঘরে কেউ না থাকা অবস্থায়, জয়ার পা জড়িয়ে ধরে বলেছিল, “আমি তোমায় ভালবাসি। তুমি প্লিজ আমার কথাটা ফেলো না! আমায় প্লিজ় বিয়ে করো!”

    পা জড়িয়ে কেউ প্রোপোজ করে নাকি! কবি এটাই বুঝতে পারেনি। জয়া ভয় পেয়ে ঘাবড়ে গিয়ে কান্নাকাটি করে বাড়ি চলে গিয়েছিল। তার পর নিজের বাবা-মাকে কী বলেছিল কে জানে!

    গোপাল সামন্তর লোকজন সেদিন সন্ধেবেলা তুলে নিয়ে গিয়েছিল হরেনদাকে। তার পর বাজারে সবার সামনে জামাকাপড় খুলে কাপড় কাচার মতো করে কেচে দিয়েছিল!

    মার খেয়ে এক মাস সরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিল হরেনদা। মাসখানেক পরে ছাড়া পেয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসে হরেনদা দেখেছিল বিয়ে করে মুক্তদহ ছেড়ে চলে গিয়েছে জয়া।

    এখন হরেনদা সারা দিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। মাথা কাজ করে না। একা একা হাসে। কথা বলে। গান করে। সব্যদা বা তার বউ খুব একটা দেখে না হরেনদাকে। বরং গোপাল সামন্ত দেখে। খাবার দেয়। রাতে নিজের গোয়ালের পাশের একটা ঘরে থাকতেও দেয়!

    জ্যোৎস্না রাতে মাঝে মাঝে উল্কাবাড়ির মাঠের পাশে বসে গান করে হরেনদা। খালি গলায় এখনও কী অদ্ভুত সুন্দর গায় মানুষটা! সারা মুক্তদহের বাতাস ভারী হয়ে যায় হরেনদার গানে। মা বলে হরেনদা যখন গান গায়, আকাশ থেকে নাকি পরিরা নেমে আসে উল্কাবাড়ির মাঠে!

    একদিন সেটা হরেনদাকে বলেওছিল কবি। বলেছিল, “জানো হরেনদা, মা বলে তোমার গান শুনে নাকি রাতের বেলা পরিরা নেমে আসে! তুমি এত ভাল গান করো।”

    হরেনদা কেমন যেন টালুমালু চোখে তাকিয়েছিল ওর দিকে। তার পর মুখ ফিরিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল, “কিন্তু যার আসার কথা ছিল, সে? সে তো এল না!”

    তার পরেও কতদিন যে কবি শুনেছে সেই গান! দেখেছে মাঠের পাশে ছোট্ট একটা কালভার্টে বসে একা গেয়ে চলেছে হরেনদা। বিশাল ফাঁকা মাঠে ছড়িয়ে যাচ্ছে সুর। আর জ্যোৎস্নায় হলুদ হয়ে যাওয়া চরাচরে গাঢ় বাদামি রঙে আঁকা সে যেন গন্তব্যহীন এক নিঃসঙ্গ পথিক!

    না, এমন জীবন চায় না কবি। কয়েকশো কোটি মানুষের মধ্যে থেকেও এমন একলা হয়ে যাওয়ার অভিশাপ কিছুতেই নিতে চায় না ও।

    “সাহেব আসছেন,” জনা সোজা হয়ে দাঁড়াল।

    কবিও ফুটপাথ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে এগোল গাড়ির দিকে। দেখল, বড় বাড়িটা থেকে বেরিয়ে এল বীরেন্দ্র। তার পর ছোট্ট বাগান পেরিয়ে এসে গেট খুলে বেরোল।

    বীরেন্দ্র গাড়ির দিকে এগোতে গেল আর ঠিক তখনই ওই সামনের মোড় থেকে সেই সিলভার রঙের গাড়িটা বাঁক নিয়ে আচমকা গতি বাড়িয়ে এগিয়ে এল ওদের গাড়ির দিকে।

    কবির মনের মধ্যে কু-ডাক দিল। মনে হল কিছু একটা ভয়ঙ্কর হতে যাচ্ছে। ও দৌড়ে গেল বীরেন্দ্রর দিকে। আর সেই অবস্থাতেই দেখল সামনের গাড়িটার পেছনের জানলা দিয়ে একটা হাত বেরিয়ে আসছে। আর তাতে ধরা একটা পিস্তল!

    “জনাদা,” চিৎকার করে কবি ঝাঁপিয়ে পড়ে বীরেন্দ্রকে মাটিতে শুইয়ে, তার ওপর চেপে নিজে শুয়ে পড়ে আড়াল করল। আর তখনই গাড়িটা থেকে পরপর কয়েকটা গুলি চালানোর আওয়াজ শুনল কবি।

    দেখল, নিজের প্যান্টের পেছনে গোঁজা পিস্তলটা বের করার আগেই গুলি এসে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিল জনার বুক আর মাথা। নিথর জনা ছিটকে পড়ল ফুটপাথে, কবির পাশে।

    কবি আতঙ্কিত হয়ে দেখল গাড়িটা থামল এবার। গাড়ির পেছনের দরজা খুলছে। কেউ একটা নামছে। এবার আর ওদের রক্ষে নেই!

    কবি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিল। ও পাশ ফিরে পড়ে যাওয়া জনার প্যান্টের পিছনদিকে গোঁজা পিস্তলটা বের করল এক ঝটকায়। তার পর আনলক করে ওই শোয়া অবস্থাতেই গুলি চালাল।

    গাড়ি থেকে যে লোকটা বের হয়ে এসেছিল, সে থতমত খেয়ে গেল। গুলিটা লাগল লোকটার পায়ে। লোকটা বোঝার আগেই আর-একটা গুলি চালাল কবি। এবার লোকটার বাঁ চোখে লাগল গুলিটা। কাটা কলাগাছের মতো পড়ে গেল লোকটা।

    গাড়িটা দাঁড়াল না আর। পেছনের দরজা খোলা অবস্থাতেই হু হু করে গতি বাড়িয়ে বেরিয়ে গেল। কবি উঠে দৌড়ে গেল গাড়িটার পিছনে। গুলি চালাল আরও দুটো। গাড়িটার পেছনের কাচ ভাঙল। কিন্তু গাড়িটা আরও গতি বাড়িয়ে বেরিয়ে গেল সামনের রাস্তা দিয়ে। আলো কম বলে গাড়ির নাম্বারটা দেখতে পেল না।

    কবি ফিরে এল হাঁপাতে হাঁপাতে। গাড়ি থেকে বেরোনো লোকটা মরে পড়ে আছে। পাশে পিস্তল। আর এদিকে জনাও নিথর।

    কবির হাত-পা কাঁপছে। গলা শুকিয়ে মরুভূমি! একটা মানুষকে মেরে ফেলল ও! জলজ্যান্ত একটা মানুষ! আজ থেকে ও খুনি! বিস্ফারিত চোখে ও একবার তাকাল মৃত লোকটির দিকে তার পর তাকাল বীরেন্দ্রর দিকে। দেখল, বীরেন্দ্র তাকিয়ে আছে ওর দিকেই।

    ফুটপাথে বসে পড়ল কবি। হাত-পা প্রচণ্ড কাঁপছে ওর। বমি পাচ্ছে। আশপাশে কেউ নেই। নির্জন সব। এখন কী করবে ও!

    বীরেন্দ্র এগিয়ে এসে ওর হাত থেকে পিস্তলটা নিয়ে নিল। তার পর বলল, “তুই মারিসনি কাউকে। আমি মেরেছি। বুঝেছিস?”

    তার পর নেতার বাড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, “এখনও কেউ এল না বেরিয়ে! আচ্ছা! ঠিক আছে!”

    কবির মাথায় ঢুকছে না কিছু। ও দেখল বীরেন্দ্র ফোন বের করে পুলিশে কল করল এবার। কথা বলল সংক্ষেপে। তার পর কেটে দিল ফোনটা।

    বীরেন্দ্র এবার কবির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে বলল, “ভালই পিস্তল চালাস তো! আমায় বাঁচালি আজ। আমি মনে রাখব এটা। বাড়িতে এখনই কিছু জানাবি না। আর টেনশন করিস না একদম। প্রথমবার মানুষ মারলে এমন হয়। পরের বার থেকে আর হবে না। বুঝলি!”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)
    Next Article কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }