Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প698 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৯. বিন্দি

    বাড়িটা থমথম করছে। জনা মারা যাওয়ায় বাড়ির পরিবেশটা কেমন যেন পাল্টে গিয়েছে হঠাৎ। কেউ বেশি কথা বলছে না। বললেও সংক্ষেপে সারছে। তাই আশপাশের আওয়াজ যেন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। বিন্দির অবশ্য তাতে সুবিধেই হয়েছে। ওকে একটু কমই ডাকা হচ্ছে কাজের জন্য।

    আসলে এ সব নিয়ে বিন্দি মাথা ঘামায় না। বড়লোকদের অনেক বড় বড় আর জটিল ব্যাপার-স্যাপার থাকে। সে সবে ওর মতো মেয়েদের না ঢুকলেও চলবে। ও এখন নিজের চিন্তায় পাগল হচ্ছে। বোনটা এটা কী করল! ইমলিকে ওর মনে হত বুদ্ধিমতী। সে এমন একটা কাণ্ড ঘটাল! আরে বাবা, সেক্স করতে হলে প্রোটেকশন নে। এখন কি আর সে সবের অভাব আছে? সেখানে এমন একটা কাণ্ড বাঁধিয়ে বসলি তুই! আর দুর্জয়! জানোয়ার! বলে কিনা পাঁচ লাখ টাকা লাগবে! টাকা গাছে ফলে? না নদীতে জাল দিলে ওঠে? রাতে ভাল করে ঘুমোতে পারে না বিন্দি। সারা গায়ে চিড়বিড়ে একটা অনুভূতি হয়। হাতের আর পায়ের তলা জ্বালা করে। মনে হয় মাথার মাঝখান দিয়ে লাভার মতো আগুন ছিটকে বেরোবে। মনে হয়, ইমলিকে পেলে গলা মুচড়ে ও নিজেই মেরে দেবে! সে দিন কথাটা শোনার পরে ওর যা হয়েছিল তা বলার নয়। তাই তো আর সময় নষ্ট না করে সে দিন মাধুর ওখান থেকে বাড়ি ফিরেই মাকে ফোন করেছিল।

    “বিন্দি,” ম্যাডামের ডাক শুনতে পেল এবার। ও উঠে দাঁড়াল। এমনিতে ম্যাডাম যখন ঘরে থাকে, তখন ওকে কাছেপিঠেই থাকতে হয়। কিন্তু আজ ম্যাডামই ওকে বলেছিল নিজের ঘরে যেতে।

    বিন্দির ঘরটা একতলায়। বাড়ির শেষ প্রান্তে। ঘরটা মাঝারি। সঙ্গে একটা লাগোয়া বাথরুম আছে। ছিমছাম ঘর। এদিকে বড় বড় কাচের জানলা। খুলে দিলেই বাগান থেকে খুব হাওয়া আসে। তাই এই ঘরে গরমকালেও গরম লাগে না। কবি, লালুদের ঘরে ছোট এসি লাগানো থাকলেও ওর ঘরে নেই। তবে তার দরকারও হয় না। বাগান থেকে রাতে এমন হাওয়া দেয় যে, বিন্দির মনে হয় এসির চেয়ে তা হাজার গুণে ভাল।

    এই শেষ বিকেলে ও নিজের ঘরে বসে সেলাই করছিল। আজকাল আবার শুরু করেছে এটা। আসলে মাথাটা সারাক্ষণ এমন থম মেরে থাকে যে, মনে হয় যেন অন্ধকারে ডুবে যাবে যে-কোনও সময়ে। তাই নিজেকে ভুলিয়ে রাখতেই আবার সেলাই শুরু করেছে। এমনি কাপড় কিনে এনে তাতে নক্সা ফুটিয়ে তুলছে। টেবিল ক্লথ। তবে জানে না কার জন্য বানাচ্ছে এটা।

    ম্যাডামের ডাক শুনে হাতের সুচটা সুতোর গোল্লার গায়ে গেঁথে রাখল ও। ম্যাডাম অন্য সময়ে ফোনে মিস কল দেয়। মানে, ও যদি কাছে না থাকে। কিন্তু আজ নিজেই ঘরে এসে পড়েছে!

    এবার সুচ সমেত সুতোর গোল্লা আর কাপড়টা সরিয়ে রেখে ও খাট থেকে নামল। তার পর হাওয়াই চটি গলাল পায়ে। এ বাড়িতে চটি পরে ঘুরতে হয়।

    ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখল ম্যাডাম দাঁড়িয়ে আছে। গায়ে ঢিলে একটা সিল্কের কিমোনো পরে আছে আজ। মাথার চুল ক্লিপ দিয়ে এলোমেলো করে জড়ো করা।

    “হ্যাঁ ম্যাডাম,” বিন্দি সামনে গিয়ে দাঁড়াল।

    ম্যাডাম সামান্য বিরক্ত গলায় বলল, “তপনবাবু কোথায় রে? লোকটাকে ফোন করে যাচ্ছি, ধরছে না!”

    “কোনও দরকার ছিল ম্যাডাম?”

    “না হলে কেন ডাকব?” ম্যাডাম ভুরু কুঁচকে তাকাল। তার পর বলল, “এ বাড়িতে একটা কাজ যদি ঠিক মতো হয়!”

    বিন্দি জানে সব কথার উত্তর দিতে নেই। ম্যাডামের এখন মাথা গরম হয়েছে। তাই এ সব বলবে। ও অপেক্ষা করতে লাগল।

    ম্যাডাম বলল, “যা, গিয়ে তপনবাবুকে দেখ কোথায় গিয়েছে। আমার ঘরের ফ্যানটা চলছে না। এসিটাতেও কেমন একটা শব্দ হচ্ছে। বিরক্ত লাগছে। আর উর্জার ঘরের বাথরুমের একটা ট্যাপ লিক করছে। সেটাও বল। মেয়েটাও হয়েছে আমার! ওর বাথরুম কিন্তু সেটাও আমায় দেখতে হবে। আরে বাবা, ও না বললে তপনবাবু জানবে কেমন করে! ও তো আর বাথরুমে ঢুকে চেক করতে পারে না! যা, গিয়ে দেখ।”

    “যাচ্ছি ম্যাডাম,” বিন্দি ছোট করে বলল।

    ম্যাডাম আবার বলল, “আর আমার ড্রিঙ্ক ফুরিয়ে গিয়েছে। মণির দোকানে বলা আছে। ও প্যাক করে রাখবে। তুই নিয়ে আয়। মাথাটা এত ধরে আছে! ভাল লাগছে না কিছু। তপনবাবুকে খবর দিয়ে চলে যা। বুঝলি?”

    ম্যাডাম বিন্দির উত্তরের অপেক্ষা না করে এবার চলে গেল। এই করিডোরের মেঝেটা সবুজ পাথরে বাঁধানো। সেই চকচকে মেঝেতে ম্যাডামের উল্টো প্রতিবিম্ব দেখা যাচ্ছে।

    বিন্দি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ওকে এখন ওই ছোট বাড়িতে যেতে হবে। তপনবাবুকে ও তপনকাকু বলে। খুব ভাল আর ভদ্র ওই মানুষটা। আগে কী যেন একটা চাকরি করত। সেটা চলে যাওয়ার পর বীরেন্দ্র ওকে এখানে এনে রেখেছে। সারা বাড়ির কাজকর্ম দেখাশোনা করে তপনকাকু।

    তবে বিন্দি দেখেছে মাঝে মাঝেই বীরেন্দ্র যা নয় তাই বলে অপমান করে তপনকাকুকে। আর সেটা সবার সামনেই করে। লোকটার যেন নিজের কোনও মানসম্মান নেই। সেই কারণে তপনকাকুও কেমন যেন কুঁকড়ে থাকে। সারাক্ষণ সবাইকে খুশি করে যেতে চায়। এই বয়সে কাজ হারানোর ভয় পায়। শত অপমানের পরেও হাসিমুখে থাকে। লোকটাকে দেখলে কেন কে জানে বিন্দির নিজের বাবার কথা মনে পড়ে। ও বোঝে টাকার কাছে মানুষ কত অসহায়।

    বীরেন্দ্র ক্ষমতাশালী লোক। অনেক টাকা। পোষা গুন্ডাও আছে। সবাই ওকে ভয় করে। এমন লোকজন আজকাল রাজনীতির ছত্রছায়ায় ভালই ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। বিন্দি ভেবে দেখেছে এই লোকগুলোর আসলে কিন্তু কোনও গুণ নেই। সৎ ভাবে কোনও কাজ করে খাওয়ার যোগ্যতা নেই। রাস্তায় এমনি ছেড়ে দিলে না খেতে পেয়ে ভিক্ষে করবে। মাঝে মাঝে এত রাগ হয় বিন্দির!

    বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে বাগানে বেরিয়ে এল বিন্দি। বাইরে এখন শেষ বিকেলের নরম আলো। গাছে গাছে পাখিদের কিচিরমিচির। কত পাখি যে বাসা বেঁধেছে এই বাগানে! আর এই সময়টা তারা সারা দিনের কাজের গল্প করে নিজেদের মধ্যে। বাগানের মধ্য দিয়ে সুন্দর পাথর বাঁধানো আঁকাবাঁকা পথ। পথের পাশে-পাশেই ছোট ছোট আলোর স্তম্ভ। একটু পরেই সব জ্বলে উঠবে। সেই পথ দিয়ে ছোটবাড়ির দিকে এগোল বিন্দি।

    দোতলা বাড়ির নীচের তলায় তপনকাকুরা থাকে। ও দেখল, বাইরে বারান্দায় বেতের চেয়ার-টেবিলে বসে ল্যাপটপে ঝুঁকে পড়ে কিছু একটা করছে জিনি।

    বিন্দি নিজের মনে হাসল। মেয়েটা খুব ভাল। শান্ত, সভ্য। পড়াশোনা করে মন দিয়ে। আগে ওদের বড়বাড়ির দিকে বিশেষ যেত না, কিন্তু উর্জা আসার পরে আজকাল কখনও-সখনও যায়। উর্জাই ডাকে।

    উর্জার ব্যবহারও বেশ ভাল। তবে বাড়িতে থাকে কম। আর থাকলেও নিজের মনে থাকে। তবে বিন্দির সঙ্গে কথা বলে ভালই। এই তো সে দিন বলছিল, বাগানে একটা বড় দোলনা লাগালে ভাল হয়।

    দোলনা লাগালে সত্যিই ভাল হয়। বিন্দি সেটা ম্যাডামকে জানিয়েওছে। বলেছে, উর্জা এমনটা চায়। দোলনা জিনিসটা বিন্দিরও খুব ভাল লাগে। চাকেরিতে ওদের বাড়ির পিছনে একটা বড় শিরীষ গাছে শর্মারা একটা দোলনা টাঙিয়েছিল। সেখানে বোনের সঙ্গে কত দোল খেয়েছে বিন্দি।

    বোন। ইমলি। আবার মনে পড়ে গেল বিন্দির। মাথার মধ্যে কট করে উঠল। ওঃ, মেয়েটা যে কী করল! মা-ও হয়েছে আর-এক! কোথায় বোনকে চোখে চোখে রাখবে! তা না সেই দিকে খেয়ালই করল না। সে দিন ফোনে যখন মা কাঁদছিল, বিন্দির এত মাথা গরম হয়েছিল যে, বলার নয়। মনে হচ্ছিল দেয় আচ্ছা করে। কিন্তু বাস্তবে তা করেনি।

    “আরে বিন্দিদি, তুমি?” বিন্দি কাছে গিয়ে দাঁড়ালে জিনি মুখ তুলে জিজ্ঞেস করে হাসল।

    বিন্দি বলল, “তপনকাকু আছে? ম্যাডাম ফোন করে পাচ্ছে না। তাই খবর নিতে পাঠাল।”

    জিনি বলল, “আরে, কাণ্ড দ্যাখো না, বাবার মোবাইলটায় চার্জ ছিল না। তাই চার্জে বসিয়ে একটু বাইরে গিয়েছে। চলে আসবে যে-কোনও সময়। এলেই আমি বলছি।”

    বিন্দি মাথা নাড়ল। স্বাভাবিক। কাজ তো থাকতেই পারে। তপনকাকুর যেন কাজের সময়-গময় বলে নেই কিছু। যখন ডাকবে তখনই যেতে হবে! লোকটাকে কোনও দিন কোথাও যেতে দেখেনি বিন্দি। একবেলাও ছুটি নিতে দেখেনি। এ ভাবে কেউ কাউকে খাটায়!

    জিনি পাশের একটা ঠোঙা থেকে এক মুঠো বাদাম তুলে বিন্দির হাতে দিয়ে বলল, “এটা নাও। খাও।”

    বিন্দি বলল, “আবার এ সব কেন?”

    “খাও তো!” জিনি ওর হাতের মুঠোয় একটু চাপ দিল। তার পর বলল, “বাবা আসলে মায়ের ওষুধ আনতে গিয়েছে। আমায় বলেছিল। আমি ভুলে গিয়েছিলাম আনতে। তাই বাবা গিয়েছে।”

    “আরে, ঠিক আছে,” বিন্দি হাসল, “বাদ দাও তো! সারাক্ষণ এটা-ওটা ফরমায়েশ লেগেই রয়েছে এদের। অত সিরিয়াসলি নিয়ো না। আমি বলে দিচ্ছি যে, স্যর মানে বীরেন্দ্র সাহেবের কাজেই একটু গিয়েছে। এসে দেখা করবে। তপনকাকুকে এত চাপ নিতে হবে না।”

    “না না, এ সব বলার দরকার নেই। ম্যাডাম আবার স্যরকে জিজ্ঞেস করলে বাজে ব্যাপার হবে,” জিনি যেন সামান্য ভয় পেল।

    “কিচ্ছু হবে না,” বিন্দি মাথা নাড়ল, “ওদের মধ্যে কথাই হয় না সে ভাবে। আর এ সব নিয়ে তো প্রশ্নই নেই। তুমি ভেবো না।”

    কথাটা সত্যি। ওদের মধ্যে সে ভাবে কথা নেই। এই যে এত বড় একটা কাণ্ড হয়ে গেল। বীরেন্দ্রকে মারার জন্য ওর ওপর হামলা হল, তাতেও যেন ম্যাডামের সেরকম হুঁশ নেই। লোকদেখানো একটু উদ্বেগ দেখিয়েছিল, তার পর যে কে সেই হয়ে গিয়েছে। জনাদা যে মারা গেল, তাতেও যেন কিছু না! সত্যি এটা বাড়ি না অন্য কিছু। এতই যখন অপছন্দ, তখন ডিভোর্স নিয়ে আলাদা থাকলেই তো হয়। কিন্তু তা নয়, এক বাড়িতে থেকে শত্রু দেশের মতো আচরণ।

    হাসল। জিজ্ঞেস করল, “চা খাবে?”

    “না না। কাজ আছে। একটু বাইরে যেতে হবে। আমি আসি,”

    “তোমার মা আর বোন কেমন আছেন? ভাল?” জিনি জিজ্ঞেস করল। বোন! ইমলি! আবার মাথার মধ্যে কট করে উঠল বিন্দির। আবার মনে পড়ে গেল সব কিছু।

    ও কোনও মতে বলল, “এই আছে আর কী! না, আমি এবার যাই। দেরি হলে ম্যাডাম বকবে। এলাম।”

    বিন্দি বলল।

    বিন্দি পিছন ঘুরে বড় গেটের দিকে হাঁটতে লাগল। মণির দোকানে যেতে হবে। পাথর বাঁধানো পথের দু’ধারে আলো জ্বলে উঠেছে এবার। সব কিছু বড় মায়াময় লাগে এই সময়টায়। এত সুন্দর পরিবেশের মধ্যেও মুখটা তেতো লাগছে বিন্দির। কোনও কিছুই আজকাল ও ঠিক মতো উপভোগ করতে পারে না। সারাক্ষণ টেনশন হয়। পাঁচ লাখ টাকা। কোথায় পাবে এত টাকা! ম্যাডামকে বললে দেবে না ও জানে। তাই বেকার সে সব বলে মুখ নষ্ট করতে চায় না। এদিকে মা ওকে বলেছে তাড়াতাড়ি টাকাটা জোগাড় না করতে পারলে বাড়ি বিক্রি করে দেবে। ইমলির জীবনের ব্যাপার। কী জীবন এটা! একটা মেয়েকে এখানে এত চাপে আর এমন কুঁকড়ে থাকতে বাধ্য করা হয় কেন! আর মা কেনই-বা সারাক্ষণ ওর ওপর চাপ দেয়! বিন্দি হাতের বাদামগুলো কুর্তির পকেটে ভরে ফেলল। খেতে ইচ্ছে করছে না। বারবার মায়ের কথাগুলো মনে পড়ে যাচ্ছে। সে দিন ফোনে মা এমন কাঁদছিল যে, খুব খারাপ লাগছিল ওর। অসহায় লাগছিল ভীষণ।

    সেদিন মাধুর বাড়ি থেকে না খেয়েই তড়িঘড়ি বাড়ি ফিরে এসেছিল। মাধু প্রথমে অবাক হয়ে গিয়েছিল। বলেছিল, “না খেয়েই চলে যাবে?”

    বিন্দির মনে হচ্ছিল মাধুকে ঠাটিয়ে একটা থাপ্পড় মারে। এমন একটা খবর চেপে রেখে ওর সঙ্গে শোয়া-বসা করেছে! সেক্সের জন্য এই নোংরামোটা ও মেনে নিতে পারছিল না। এত গুরুত্বপূর্ণ একটা খবর চেপে রেখে কী করে ও বিন্দির গায়ে হাত দিতে পারল! সত্যি যদি ওকে ভালবাসত, তা হলে কি বিন্দির এই বিপদে ও এমন করে ওকে সেক্সের জন্য ব্যবহার করতে পারত! কী ভেবেছিল, বিন্দি জানবে না?

    বিরিয়ানির গন্ধে গা গোলাচ্ছিল বিন্দির। ও দ্রুত জামাকাপড় পরে তৈরি হয়ে নিয়েছিল।

    মাধু আবারও বলেছিল, “এ ভাবে চলে যাবে?”

    বিন্দি বেরিয়ে যাওয়ার মুখে দরজার কাছে ঘুরে দাঁড়িয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলেছিল, “তোমায় কী নোংরা গালাগাল দেব ভেবে পাচ্ছি না! কেমন জানোয়ার হলে এই অবস্থায় কেউ আমার গায়ে হাত দেয়!”

    মাধু হাঁ করে তাকিয়ে ছিল ওর দিকে। ঘামছিল কুল-কুল করে। বুঝতে পারছিল যে, বিশাল একটা গোলমাল করে ফেলেছে, কিন্তু সেটা নিয়ে আর কিছু করার উপায় নেই।

    মাধু হাঁটু গেড়ে মেঝেতে বসে পড়েছিল। বিন্দিও দ্রুত পিছিয়ে এসেছিল। তার পর কড়া গলায় বলেছিল, “আবার যদি পা জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চাওয়ার নাটক করো, তা হলে কিন্তু লাথি মারব তোমার মুখে!”

    “মারো মারো। তাই মারো!” মাধু বাচ্চাদের মতো কেঁদে উঠেছিল, “চাচি না করেছিল বলতে, তাই বলিনি। তুমি টেনশন করবে বলেই বলিনি। সব কিছু নরমাল যাতে লাগে তাই আদর করেছি তোমায়। আর তোমায় দেখলে আমার মাথার ঠিক থাকে না বিন্দি। একটা জানোয়ারের মতো অন্ধ টান অনুভব করি আমি। তাই নিজেকে আটকাতে পারিনি। তুমি আমায় মারতে চাইলে মারো। আমি কী করব বলো! আমি কি একটা দোকান বিক্রি করে দেব? তা হলে বেশ অনেকটা টাকা পাব। তোমার সেলাইয়ের স্কুল আর ইমলির বিয়ে দুটোই হয়ে যাবে। করে দেব বিক্রি?”

    বিন্দি আর কিছু বলেনি। এ সব নাটক ভাল লাগছিল না ওর। মাধুর দিকে কড়া ভাবে তাকিয়ে ও বেরিয়ে এসেছিল ঘর থেকে। তার পর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে তরতর করে নেমে গিয়েছিল সিঁড়ি দিয়ে।

    বাড়ি ফেরার পথে বুকের ভেতরটা এমন করছিল যে, বলার নয়। কিন্তু সবার সামনে মায়ের সঙ্গে কথা বলা যাবে না। তাই বাড়িতে ফিরে একান্তে কথা বলতে হবে।

    সন্ধে পর্যন্ত ছুটি নিয়েছিল সে দিন বিন্দি। তাই দুপুরবেলা বাড়িতে ফিরে এলেও ওর কাজ ছিল না কোনও। বড় বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকলে ওর ঘরটা কাছে পড়ে। সেখান দিয়েই ঢুকেছিল ও। তার পর নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। আর জামাকাপড় না পাল্টেই মাকে ফোন করেছিল।

    বেশ কয়েকবার রিং হওয়ার পরে মা ধরেছিল ফোনটা। বিন্দির মাথায় আগুন জ্বলছিল তখন। কিন্তু কোনও দিনই বিন্দি হঠকারীর মতো কোনও কাজ করে না।

    বরং সব সময় মনের ভারসাম্য বজায় রাখে। ও জানে মা ওখানে একা থাকে। মায়ের হাই প্রেশার আছে। ইমিলির ব্যাপারটা মূলত একা সামলাতে হচ্ছে মাকেই। তাই রাগ হলেও মাকে এমন কিছু বলা যাবে না, যাতে করে মা আরও চাপে পড়ে যায়। এর মধ্যে মা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিশাল অসুবিধে হয়ে যাবে।

    মা কাঁপা গলায় বলেছিল, “হ্যালো!”

    বিন্দি গম্ভীর গলায় বলেছিল, “মা…”

    আর কিছু বলার আগেই মা শব্দ করে কেঁদে উঠেছিল। বিন্দি শুনেছিল মা প্রচণ্ড কাঁদছে। কথাই বলতে পারছে না। হেঁচকি উঠছে।

    “মা শান্ত হও মা, শান্ত হও!” বারবার বলেছিল বিন্দি।

    মা বেশ কিছুটা সময় পরে শান্ত হয়েছিল। কোনও রকমে বলেছিল, “মাধু ফোন করেছিল আমায়। ও বলেছে যে, তুই জেনে গিয়েছিস। আমিই ওকে বারণ করেছিলাম তোকে বলতে। মানে, আমি নিজেই বলতাম আর কী। কিন্তু কোন মুখে তোকে বলব বুঝতে পারছিলাম না।”

    বিন্দি বুঝতে পারছিল মায়ের কথার গায়ে গায়ে কান্না আর মনের দুর্বলতা জড়িয়ে আছে। মায়ের গলা কেঁপে যাচ্ছিল বারবার। নাক টানছিল মা। বিন্দির কষ্ট হচ্ছিল মায়ের জন্য। ওদের দু’বোনকে মা-ই তো সারা জীবন যতটা পেরেছে আগলে রেখেছে। সেখানে ইমলি যে এমন একটা কাণ্ড করবে, সেটা তো ওরা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি!

    বিন্দি বলেছিল, “তুমি এ ভাবে ভেঙে পোড়ো না। যা হওয়ার হয়েছে। এখন এটা মেটাতে হবে!”

    মা বলেছিল, “না মিটলে আমি ইমলিকে মেরে নিজে কুয়োয় ঝাঁপ দেব।”

    “মা এ সব কী বলছ!” বিন্দি মাকে থামিয়ে দিয়ে বলেছিল, “কিছু একটা ব্যবস্থা ঠিক হবেই!

    মা আবার কেঁদে ফেলেছিল। জড়ানো গলায় সারা জীবনের সমস্ত দুঃখের কথা বলতে শুরু করেছিল। বিন্দির অসহায় লাগছিল খুব। ও দেখেছে এটাই হয়। একটা কষ্ট আরও সব কষ্টকে টেনে আনে। মায়ের বেলাতেও সেটাই হচ্ছিল। মা যেন নিজেকে কিছুতেই সামলাতে পারছিল না।

    বিন্দি এবার জোরের সঙ্গে মাকে চুপ করিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, “ইমলি কী বলছে?”

    “ও বলছে বিয়ে না হলে ও একাই বাচ্চা মানুষ করবে! ও নাকি বড় শহরে চলে যাবে। সেখানে একা থাকবে বাচ্চা নিয়ে। টিউশন করে পেট চালাবে। একদম বোকা একটা মেয়ে। বলে বিদেশে এ সব নাকি আকছার হয়! ভাব একবার!” মা ঝরঝর করে বলছিল, “আরে, এটা বিদেশ নাকি? এখানে ও ভাবে জীবন চলে? এখানে মেয়েদের কি মানুষ বলে মনে করে লোকজন, তুই বল?”

    বিন্দি বলেছিল, “আমি দেখছি কী করা যায়। তুমি একদম আজেবাজে কিছু করবে না। আর আমি কি ছেলেটার সঙ্গে কথা বলব?”

    “লাভ নেই,” মা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল, “সে ডরপোক! বাপ যা বলবে তাই করবে। তবে ব্যাটা রোজ আসে। ইমলির কাছে বসে। ইমলি কথা বলে না। কিন্তু তাও কুত্তার মতো পায়ে পায়ে ঘোরে। এ দিকে বাপের অমতে নাকি বিয়েও করতে পারবে না! কাকে কী বলব!”

    বিন্দি বলেছিল, “তুমি নিজেকে সামলে রাখো। আমি দেখছি কী করে টাকা জোগাড় করা যায়।”

    “শোন না…” মা কেমন যেন থমকে গিয়েছিল একটু, তার পর বলেছিল, “আমি তোকে প্রথমে জানাইনি, কারণ তুই অত দূরে একা থাকিস। তাই তোকে টেনশন দিতে চাইনি। মাধুকে বলেছিলাম, কারণ ও পুরুষমানুষ। যদি কিছু বুদ্ধি দিতে পারে। তুই আমার ওপর রাগ করিস না।”

    পুরুষমানুষ! বুদ্ধি দেবে! বিন্দির বিরক্ত লেগেছিল। বুদ্ধির বেলায় নারী পুরুষ আবার কী! বরং ছেলেগুলো যে আসলে গবেট হয়, সেটা বিন্দি জানে। পৃথিবীতে এত হানাহানি, মারামারি, যুদ্ধবিগ্রহ এত হাজার হাজার বছর ধরে কারা লাগিয়েছে? মেয়েরা?

    ফোন রেখে দেওয়ার আগে বিন্দি বলেছিল, “তুমি মাথা ঠান্ডা রাখো। প্রেশারের ওষুধটা ভুলবে না। আমি দেখছি কী করা যায়। আর বাড়িঘর, জমিজিরেত বিক্রির কথা ভাববে না একদম!”

    মা বলেছিল, “সেটা এখনও ভাবছি না। তবে… পরে কী করব জানি না।

    বিন্দি বলেছিল, “ইমলিকে সামলে রেখো। দেখো, যেন ভুলভাল কিছু করে না বসে!”

    মা আবার কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, “মেয়েটাকে কলেজে পাঠিয়েই ভুল হল। মেয়েদের এত পড়াশোনা শেখাতে নেই। বাবা ঠিকই বলত।”

    বিন্দির রাগ হয়ে গেল। ও বলল, “না না, ভুল বলত। মেয়েদেরই আগে পড়াশোনা শেখানো উচিত। মা এমন কথা বোলো না। আমি যদি পড়াশোনা করতাম, তা হলে কি এ ভাবে পরের বাড়িতে ঝি-গিরি করতাম! নাকি এই টাকার জন্য আমাদের চিন্তা করতে হত! ইমলি যা করেছে তার সঙ্গে পড়াশোনার কোনও সম্পর্ক নেই। তাই এ সব বোলো না আমায়। আমি রাখছি। তোমরা ঠিক মতো থেকো। বুঝেছ? রাখলাম।”

    ফোনটা কেটে বিছানায় ছুড়ে দিয়েছিল বিন্দি। তার পর বড় কাচের জানলা দিয়ে তাকিয়েছিল বাইরে। বাইরে হাওয়া দিচ্ছিল। দুপুরের সোনা-রোদ ছড়িয়ে পড়ছিল বিশাল বড় শিফনের ওড়নার মতো। কী একটা মনে হচ্ছিল ও যেন নরকের মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে! পাঁচ লাখ টাকা। কে দেবে ওকে? কেন দেবে? পাখি সুর করে ডাকছিল নিজের মনে। কী সুন্দর পরিবেশ! কিন্তু বিন্দির গেটের কাছে লালুর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল ওর। বিন্দি দেখল চোয়াল নড়ছে লালুর। কিছু খাচ্ছে। ম্যাডাম তো বাড়িতে, তাই লালুর এখন সেরকম কাজ নেই। এই ছেলেটাকে খুব ভাল লাগে বিন্দির। নিজের দাদা থাকলে যেমন ব্যবহার করত ওর সঙ্গে, লালুও যেন তেমনই করে। বিন্দিকে গার্ড করে রাখার চেষ্টা করে। ভাল পরামর্শ দেয়। বিন্দির মনে হয়েছিল লালুকে কি ইমলির ব্যাপারটা বলবে! না, তার পর মত বদলেছে। এ সব পাঁচ কান করে দরকার নেই। লালুর আর্থিক অবস্থা ভাল নয়। লালু ওকে কোনও সাহায্য করতে পারবে না।

    লালু ওকে দেখে এগিয়ে এল। আবছায়া ছিল বলে বোঝেনি, এখন বিন্দি দেখল, লালুর বাঁ হাতে একটা প্যাকেট। আর ডান হাতে আলুর চপ। ইস! বাইরের খাবার খেতে পারে বটে ছেলেটা!

    লালু কিছু বলার আগেই বিন্দি বলল, “আবার ওই পোড়া মবিলে ভাজা জিনিসগুলো খাচ্ছ?”

    লালু হাসল। বলল, “আমার পেট লোহা দিয়ে তৈরি। সব খাই আমি। আমার অম্বল-টম্বল হয় না। তুই চিন্তা করিস না।”

    বিন্দি বলল, “যখন হবে তখন বুঝবে।”

    “তুই খাবি? এই দেখ পেঁয়াজি আছে। সাইজ দেখ। বিটনুন ছড়িয়ে দিয়েছে। খা না একটা!” লালু ঠোঙাটা বাড়িয়ে দিল।

    বিন্দি নাক কোঁচকাল। বলল, “পেঁয়াজি না ছাই! ওই দামে পেঁয়াজি দেবে! পেঁয়াজের দাম জানো? বাঁধাকপি কুঁচিয়ে দিয়েছে। খেয়ো না ও সব।”

    লালু পাত্তা দিল না। জিজ্ঞেস করল, “তা, তুই কোথায় যাচ্ছিস!” “আর কোথায়!” বিন্দি মাথা নাড়ল, “ম্যাডামের জন্য মাল কিনতে যাচ্ছি। মণিদার দোকানে ম্যাডাম ফোন করে দিয়েছে।”

    লালু অবাক হল, “এই তো সে দিন এতগুলো আনাল আমায় দিয়ে। এর মধ্যে শেষ! শালা পুরো পিপে হয়ে গিয়েছে! তা তুই থাক আমি যাচ্ছি।”

    “না লালুদা,” বিন্দি বাধা দিল, “আমায় বলেছে আমিই যাচ্ছি।” লালু বলল, “জানিস তো সামনে পার্টি হবে। মেয়ে ফিরে এসেছে সেই উপলক্ষে পার্টি। ঘ্যামা হবে মাইরি।”

    বিন্দি নির্বিকার গলায় বলল, “হলে হবে! আমি কী করব?” “ক’দিন ধরেই দেখছি তোর মেজাজটা খারাপ। কেন রে?” লালু চপটা শেষ করে নিজের প্যান্টে হাত মুছল।

    “কিছু না, এমনি,” বিন্দি জোর করে হাসার চেষ্টা করল। লালু বলল, “আমায় বলতেই পারিস। জোর করছি না। কিন্তু কোনও অসুবিধে হলে আমায় বলতে পারিস বিন্দি। বুঝলি?”

    “হ্যাঁ গো বুঝলাম,” বিন্দি হাসল, “আমি যাই। ম্যাডাম আবার রাগ করবে দেরি হলে। আসি।”

    লালু মাথা নেড়ে সরে দাঁড়াল। বিন্দি বড় গেটের দিকে এগিয়ে গেল। ও পিছনে না তাকালেও বুঝল, লালু ওর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে।

    রাস্তায় আলো জ্বলে উঠেছে। এই অঞ্চলটা বেশ ফাঁকা। কলকাতার পশ এলাকার অন্যতম এই আলিপুর। বিন্দি ফুটপাথের একপাশ ধরে হাঁটতে লাগল। এখানে পায়ে হাঁটা লোকজন খুব অল্প। মাঝে মাঝে শুধু গাড়ি বেড়িয়ে যাচ্ছে হুস-হাস শব্দ তুলে। হাওয়া দিচ্ছে একটা। গাছের পাতার ঝিরঝির শব্দ শোনা যাচ্ছে। কলকাতার এই অংশে গাছপালা বেশি। ওদের চাকেরির কথা মনে করিয়ে দেয়।

    অন্য দিন হলে বিন্দির এই সব ভাল লাগত। কিন্তু এখন সারাক্ষণ ওর শরীরের মধ্যে কেমন যেন একটা ঝিঁঝি ডাকে। মাথার মধ্যে যেন বহু দিনের পুরনো বন্ধ ঘরের অন্ধকার আটকে আছে। বুকের মধ্যে কিসের যেন এক কষ্ট। এই বয়সেই জীবন ওকে ক্রমাগত নানা বিপদে ফেলতে থাকে। বিন্দির মনে হয়, ওর টাকা নেই বলেই জীবন ওর কাছে এক দুর্বিষহ বোঝা হিসেবে দেখা দিয়েছে। যদি কোনও উপায়ে টাকা রোজগারের সুযোগ থাকে, তা হলে ও পিছনে হটবে না। ও কি জানে না যে, বীরেন্দ্রর এই যে এত টাকা, সে সব সোজা উপায়ে রোজগার করা নয়! আজকালকার দিনে কেউ সোজা পথে এত টাকা রোজগার করতে পারে না। সভ্য, ভদ্র, নিয়ম মেনে চলা মানুষের জীবন সব সময় কঠিন হয়। পদে পদে তাদের হেনস্থার শিকার হতে হয়। অমানুষদের হাতে পীড়িত হতে হয়। একদিন বিন্দি শুনেছিল যে, বীরেন্দ্র কাকে যেন ফোনে বলছিল, “এই পৃথিবীতে বাঁচতে গেলে বুচার হতে হয়।” বুচার। এর মানে জানে বিন্দি। ও নিজেও এখন বুচার হতে চায়। অনেক হয়েছে ভাল সেজে থাকা। ইমলি তো ভাল ছিল, কিন্তু কী হল ওর! বিন্দিও সুযোগ পেলে দেখে নেবে সবাইকে। নিজের অজান্তেই চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল বিন্দির। মাথার দুটো পাশ কেমন যেন ব্যথা করে উঠল।

    মণির দোকানটা বেশ বড়। দূর থেকেই বিন্দি দেখল ভিড় হয়ে আছে। নানা শ্রেণির পুরুষদের ভিড়। এই সব জায়গায় আসতে কেমন যেন সঙ্কোচ হয় বিন্দির। যদিও এই শহরে ছেলে আর মেয়েদের মধ্যেকার বিভেদ প্রায় আর নেই বললেই চলে। তাও ওর মধ্যেকার আধা-গ্রামের মেয়েটার নিজস্ব সংস্কার এখনও কাজ করে।

    মণি দূর থেকে দেখে হাত তুলে দোকান থেকে দূরেই দাঁড়াতে বলল। তার পর একটা ছেলেকে দিয়ে কালো বড় প্লাস্টিকের একটা প্যাকেট পাঠিয়ে দিল।

    বিন্দি বুঝল ওতেই জিনিসটা আছে। ওর আসলে ভুল হয়ে গিয়েছে।

    বাড়ি থেকে একটা ব্যাগ নিয়ে আসা উচিত ছিল। আজকাল মাঝে মাঝেই এমন টুকটাক ভুল করে ফেলছে ও।

    ও ছেলেটার কাছ থেকে প্যাকেটটা নিল। টাকা দেওয়ার এখনই দরকার নেই। ম্যাডাম ওদের নিয়মিত খরিদ্দার।

    আবার বাড়ির দিকে ফিরল বিন্দি। বাঁ হাতে প্যাকেট নিয়ে ডান হাতটা কুর্তির পকেটে ঢোকাল। বাদাম। জিনি দিয়েছিল। ও কয়েকটা বাদাম বের করল। তার পর মুখে দিল। বাদাম খেতে ওর ভাল লাগে। “নমস্কার!”

    আচমকা পাশ থেকে গলাটা পেয়ে চমকে গেল বিন্দি। ও থাকে দাঁড়িয়ে পড়ল। সামান্য বিষমও খেল যেন। কে লোকটা! এমন আচমকা কেউ ডাকে!

    বিন্দি দেখল লোকটাকে। লম্বা। দোহারা চেহারা। দেখতে বেশ ভাল। ছোট করে কাটা চুল। চোখে একটা সরু ফ্রেমের চশমা। রাস্তার আলোয় দেখে মনে হল বয়স মধ্য তিরিশের মতো।

    লোকটির গলার স্বরটি নরম।

    বিন্দি জিজ্ঞেস করল, “কী ব্যাপার?”

    লোকটি হাসল। সুন্দর দাঁতের সেটিং। বলল, “আপনি বিন্দি শর্মা তো?” “হ্যাঁ!” বিন্দি অবাক হল।

    লোকটা হাসল। তার পর বলল, “মাধুর কাছ থেকে জানলাম আপনার ব্যাপারে।”

    কথাটা বলে লোকটা তাকিয়ে রইল ওর দিকে। যেন ওর প্রতিক্রিয়া দেখতে চায়!

    বিন্দি সামান্য কঠিন গলায় জিজ্ঞেস করল, “কী দরকার আপনার যদি বলতেন।”

    “আমার? আমার সামান্য দরকার আছে আপনার সঙ্গে। কিন্তু,” লোকটা হাসল আবার। বলল, “আপনার আমার সঙ্গে তার চেয়েও বেশি দরকার আছে। বুঝলেন? আপনার দরকার আছে। আপনার মায়ের দরকার আছে। এমনকি, আপনার বোন ইমলিরও দরকার আছে।”

    বিন্দি হাঁ করে তাকিয়ে রইল লোকটার দিকে। কে লোকটা?

    লোকটা সেরকমই হাসি হাসি মুখে বলল, “মাধু কিন্তু আপনাকে খুব ভালবাসে। আর আপনি? আপনি তো নিজেকে ভালবাসেন, তাই না? তাই বলছি আপনার আমার সঙ্গে খুব দরকার।”

    “কে আপনি!” বিন্দির সামান্য ভয় লাগল এবার। পিঠ দিয়ে বরফের টিকটিকি হেঁটে গেল যেন।

    লোকটা বলল, “ভয় পাবেন না। আমাদের এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। আমি ক্ষতি করব না আপনার। আমার নাম ধরে নিন রূপবান। আমাকে আপনার বন্ধু ভাবতে পারেন। কেমন?”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)
    Next Article কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }