Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প698 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৩. রাজু

    সুটকেস দুটো বেশ ভারী হয়ে গিয়েছে। নেব না, নেব না করেও এত কিছু নেওয়া হয়ে গিয়েছে যে, বলার নয়! আসলে উর্জার অনেক কিছু যে ওকেই নিতে হয়েছে! উর্জা কোথায় যাচ্ছে সেটা তো সত্যি করে বলেনি নিজের বাড়িতে। বলেছে অফিসের কাজে গুজরাত যাচ্ছে! কিন্তু বিদেশ যেতে গেলে ন্যূনতম কিছু জিনিস তো লাগেই! তাই সে সব নিয়েছে রাজু নিজেই।

    রাজু ঘড়ি দেখল। দশটা কুড়ি বাজে। রাত হয়েছে বেশ। এবার উর্জার ফোন পেলেই বেরিয়ে যাবে! পেটের মধ্যে কেমন একটা করছে। সব ছেড়ে এত দূরে যাওয়াটা চাট্টিখানি কথা নয়। একটা সংশয়ও হচ্ছে। যা করল ঠিক করল তো? কিন্তু পর মুহূর্তে আবার ভাবছে, এ ছাড়া আর কী উপায়ইবা ছিল! এখানে কেউ নেই ওকে সাপোর্ট করার। দিনকে দিন কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছিল। বাড়ির হালও খারাপ। টাকা রোজগার করাটা যে ভীষণ জরুরি। ও তো মোবাইল নেটওয়ার্ক খোলার জন্য টাকা চাইছে না! ফুটবল বা ক্রিকেট টিম কেনার জন্যও টাকা চাইছে না! ওর টাকা দরকার স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকার জন্য। তাই উপস্থিত পরিস্থিতে এটাই ওর একমাত্র উপায় রোজগার করার!

    মা যে খুব খুশি সেটা মাকে দেখেই বুঝতে পারছে। মায়ের খুশির কারণটা ও বুঝতে পারছে। এক তো নিয়মিত অর্থচিন্তার থেকে একটা মুক্তির আশা দেখতে পাচ্ছে। দু’নম্বর কারণ হল, বীরেন্দ্রর মতো লোক বাড়িতে এসে যাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, সে বাড়িতে না থাকলে একটা ঝামেলাও মেটে! আর তিন নম্বর কারণ এই যে, ওর আর মায়ের নামে উর্জা দশ লাখ টাকার একটা ফিক্সড করে দিয়েছে। এর ফলে মায়ের একটা ভরসা এসেছে। সারা জীবন ধরে অর্থ চিন্তায় কাতর মা যেন একটু মন খুলে শ্বাস নিচ্ছে!

    রাজু দেখে অবাক হয়েছে যে, মা একবারও টাকাটা নিয়ে আপত্তি করেনি। বরং অনেকটা যেন হাত পেতেই নিয়েছে। আঁকড়ে ধরেছে। খারাপ লেগেছে রাজুর। কিন্তু কিছু বলেনি। কার যে কিসে শান্তি হয়, সেটা সত্যি বোঝা দায়। তা ছাড়া মায়ের বয়স হচ্ছে, টাকাপয়সার একটু জোর থাকলে দুর্ভাবনাটা কাটে।

    রানার মনটা কিন্তু খারাপ। মানে, আগে যেমন খুশি হয়েছিল, তেমন আর নেই। কে জানে কেন ওর মনে হচ্ছে, রাজু দেশের বাইরে গিয়ে ওদের ভুলে যাবে।

    আজ দুপুরের খাবার পরে নিজের ছোট্ট চৌকিটার ওপর বইপত্র মেলে বসেছিল রাজু। রাজনৈতিক বইপত্র আছে অনেক। এ সব তো আর সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারবে না। আবার সত্যি বলতে কী, প্রাণে ধরে এ সব ফেলেও দিতে পারবে না। তাই গুরানকে ডেকেছে। রাতে এলে দিয়ে দেবে সব। গুরান কার সঙ্গে যেন কথা বলেছে। সে বলেছে এ সমস্ত বই অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে নেবে ও।

    চৌকির কোনায় যখন অনেকগুলো বই জমা হয়েছিল, তখন রানা এসে দাঁড়িয়েছিল পাশে। রানা এমনিতে চুপচাপ নিজের মতো থাকে। বাড়িতে কারও সঙ্গে খুব একটা কথা বলে না। নিজের পড়াশোনা নিয়ে খুব সিরিয়াস। তাই এ ভাবে এসে দাঁড়ানোয় বেশ অবাক হয়েছিল রাজু।

    “কিছু বলবি?” বই থেকে চোখ না সরিয়েই জিজ্ঞেস করেছিল রাজু।

    রানা সময় নিয়েছিল একটু। তার পর চৌকির ওপর ছড়ানো বইয়ের মধ্যে থেকে একটা বই তুলে ফড়ফড় করে পৃষ্ঠাগুলো শাফল করে বলেছিল, “তুই আর ফিরবি কোনও দিন?”

    রাজু হেসে তাকিয়েছিল রানার দিকে। তার পর বলেছিল, “ফিরব। ফিরতে তো হবেই। মাকে নিয়ে যাব ওখানে। ইচ্ছে আছে তোকেও নিয়ে যাওয়ার, যদি তোর ইচ্ছে থাকে আর কী!”

    রানা বলেছিল, “দাদা তোকে কি যেতেই হত? মানে কোনও উপায় ছিল না এখানে থাকার? আর এত হুড়োহুড়ি করছিস কেন?”

    “পরের উত্তরটা আগে দিই,” বইগুলো এক পাশে সরিয়ে রাজু বসেছিল খাটে। তার পর বলেছিল, “কোভিড পরিস্থিতি চলছে। এখনও ফ্লাইট চলছে। কবে দুম করে বন্ধ হয়ে যাবে কে জানে! তার আগেই আমাদের ওই দেশে পৌঁছোতে হবে। বুঝেছিস? আর এখানে থাকার উপায়? নারে, ছিল না। আমি সারা জীবনটাই রাজনীতিকে দেব ভেবেছিলাম। ভেবেছিলাম দেশের কাজে, মানুষের কাজে, পার্টির কাজে আমার জীবন কাটবে। কিন্তু আমরা ভাবি এক আর হয় আর-এক!”

    “তুই থাকতে পারবি এ সব ছেড়ে?”

    রাজু মাথা নেড়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিল, “পারতে হবে। মানুষের মতো এত ফ্লেক্সিবল প্রাণী আর কেউ নেই! তা ছাড়া দেখ, যে-আদর্শ নিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলাম, সেটা আসলে শোকেসে সাজিয়ে রাখার বিষয় হয়ে গিয়েছে এখন! এমন অনেক কাজের সাক্ষী আমি ছিলাম, যা এখন ভাবলেও ঘৃণা হয়, লজ্জা লাগে! কিন্তু তখন ভাবতাম ক্লাস স্ট্রাগল একটা যুদ্ধ। আর যুদ্ধ বলেই সেখানে রক্ত ঝরবে! সেখানে ঠিক কাজ করতে গেলে আইনের বাইরে যেতে হবে মাঝে মাঝে। মাঝে মাঝে আঙুল বেঁকাতে হবে। রাস্তার ঠিক ভুল নিয়ে মাথা ঘামাইনি। গন্তব্যটা যেন সাধারণের কাছে লাভদায়ক হয়, সেটাই ছিল লক্ষ্য।”

    “আর সেটা এখন বদলে গেল!” রানা অবাক হয়ে তাকিয়েছিল ওর দিকে।

    “আসলে সবই এক আছে। আমি ভাবতাম বদলাবে। কিন্তু কিছুই বদলায়নি। বরং আরও খারাপ হয়েছে! একটা কথা ভাব তুই, আমরা সাধারণ মানুষজন আসলে কী? ভোটের আগে নেতারা আর তাদের ভাড়া করা দালালরা আমাদের কী বোঝায়? বোঝায় যে, মানুষের হাতেই সব ক্ষমতা। কিন্তু আসলে কি তাই? সাধারণ মানুষ আছে দুটো কাজের জন্য— এক, ট্যাক্স দেওয়া, আর দুই ভোট দেওয়া! এর বাইরে গিয়ে তুই ন্যায্য কিছু চেয়ে দেখ। দেখবি লোকাল দাদা থেকে নেতা সবাই তোকে ডিফিউজ করতে নেমে পড়েছে। সবচেয়ে অদ্ভূত হল আসল ক্ষমতা যাদের হাতে, তাদের কাছে তুই জীবনেও পৌঁছোতে পারবি না। তারা আমাদের এই নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণি, মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজনদেরই ব্যবহার করে আমাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে! যে-কোনও জায়গায় যা কোনও কাজ করানোর জন্য দেখবি, তোকে ঘোরানো হচ্ছে। তোকে নানা ভাবে হেকেল করা হচ্ছে। কে করছে হেকেল? নেতা মন্ত্রীরা করছে কি? তারা করছে না। করছে এত দশকের পর দশক ধরে তৈরি করা তাদের সিস্টেম থেকে উদ্ভূত মানুষজন! এই সব মানুষ কেউ আমাদের বাবা, কাকা, মা বা মাসিমা! এরাই আমাদের এগোতে বাধা দিচ্ছে। কেন দিচ্ছে? কারণ, এরা এমন একটা সিস্টেম থেকে এসেছে, যে সিস্টেম তাদের সাহস দেয়নি, উল্টে তাদের ভিতু করে দিয়েছে, ইনসিকিওরড করে দিয়েছে। সেই ইনসিকিওরিটির বশবর্তী হয়ে সাধারণ মানুষজন একে অপরকে নিপীড়ন করে যাচ্ছে। ভাবছে এভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করে অতিরিক্ত টাকা বের করতে পারলেই তার জীবন সুরক্ষিত থাকবে। আর আসল ক্ষমতা যারা ভোগ করছে, তারা এ সবের থেকে দূরে বসে রয়েছে। ভাব, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থার কাজ কী ছিল? কাজ ছিল কবির, রবীন্দ্রনাথ এঁদের মতো ফ্রি থিঙ্কার তৈরি করার। অন্তত চেষ্টা করার। কিন্তু কী তৈরি হচ্ছে? না, সমর্থক ভক্ত অনুগামী! হ্যাঁ-তে হ্যাঁ বলা লোক! আমি সব দলের কথা বলছি। নতুন চিন্তা করার কথা কেউ বললে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কারণ, এত এত বছর ধরে চলা দোকান না হলে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে যে! এ সব দেখে আমি বুঝেছি আমার এখানে কিছু করার নেই। নিজেরটা নিজেকে বুঝতে হবে। কিন্তু তাই বলে আমি এমন তেল দিতে পারব না কাউকে। নির্লজ্জের মতো নিজের ধান্দার জন্য বিশ্বাস বদলে অন্যের পা চাটতে পারব না। ক্ষমতায় থাকা মানুষের ব্যাগ বইতে পারব না, গাড়ির দরজা খুলে দিতে পারব না। তাদের পিওন হয়ে পেছন পেছন ‘দাদা দাদা’ বলে ঘুরতে পারব না। তাই সময় থাকতে সৎ পথে আমাকে নিজের জীবনটা তৈরি করে নিতে হবে।”

    “দাদা, তোর সব কথা ঠিক নয়,” রানা বলেছিল, “কিন্তু আমি এই নিয়ে তোর সঙ্গে ঝগড়া বা মতবিরোধে যাব না। আমি শুধু বলব তুই আমাদের ভুলে যাস না। আমাদের কষ্ট হবে খুব!”

    রাজু কিছু না বলে হেসেছিল শুধু।

    রানা বলেছিল, “তুই হাসছিস। কিন্তু আমি সত্যি বললাম। আমি কিছু বলি না মানে কিছু ফিল করি না তা তো নয়!”

    “তুই ভাল করে পড়াশোনা করিস। তার পর ওখানে যেতে চাইলে আমি আছি, উর্জা আছে। ভাবিস না। আমি একেবারে চলে যাচ্ছি না রানা।”

    রানা যাওয়ার আগে চারটে বই বেছে নিয়েছিল। বলেছিল এগুলো ও রাখতে চায়! বাকিগুলো গুরান নিয়ে যেতেই পারে!

    “কী রে রেডি তো?”

    দরজার কাছ থেকে গুরানের গলা শুনে তাকাল রাজু। সামান্য হাসল। বলল, “এই, ফোন এলেই বেরোব। উর্জা যে-কোনও সময়ে ফোন করবে।”

    গুরান দেওয়ালে ঝোলানো রংচটা প্লাস্টিকের ঘড়িটা দেখে জিজ্ঞেস করল, “দশটা পঁচিশ। ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট ধরতে হলে অনেক আগে বেরোতে হয়, না?”

    রাজু মাথা নেড়ে বলল, “আমি সব বই রেডি করে রেখে দিয়েছি। তোর সুবিধে মতো এসে নিয়ে যাস কিন্তু!”

    গুরান থমকাল একটু, তার পর আচমকা এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরল রাজুকে। রাজু সামান্য অবাক হল। তার পর আলতো করে পিঠে হাত রাখল ওর। দেখল, ঘরের কোনায় দাঁড়িয়ে রানা চোখ মুছল হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে।

    গুরান ওকে ছেড়ে দিয়ে হাসল। তার পর বলল, “স্কুল লাইফে বেশ ভাল স্বাস্থ্য ছিল। গোল করার পড়ে তোকে জড়িয়ে ধরতাম, মনে আছে! এত বছর বাদে ধরলাম আবার। রোগা হয়ে গেছিস রাজু। ভাল করে খাওয়াদাওয়া করিস! আর ফোন করিস, প্রথম প্রথম। ”

    “প্রথম প্রথম কেন?” অবাক হল রাজু।

    গুরান বলল, “কারণ, পরে আর কেউ করে না। যারা দূরে চলে যায় তারা মনে মনেও দূরেই চলে যায়! কম তো দেখলাম না। সবটাই আউট অফ সাইট, আউট অফ মাইন্ড! তুই প্রথম প্রথম অন্তত করিস।”

    “আরে, আমি মাকে ভাইকে নিয়ে যাব। তোকেও নিয়ে যাব দেখিস!” রাজু হাসল।

    “এক কাজ কর, পাশের কচুরির দোকানের ভজাদা, ওষুধের দোকানের পার্থদা, কেবল-এর মন্টু, মুদির দোকানের মধু পাল, অটোওলা পিঙ্কু, লটারির টিকিট বিক্রি করা ভোলা- সবাইকে নিয়ে চল। ওখানেই একটা টালিগঞ্জ ফাঁড়ি বানিয়ে ফেল। আমিও মোবাইল রিপেয়ারিং শপ খুলে বসব। ভজাদা মবিলে ভাজা কচুরি বিক্রি করবে। মধু পাল শিয়াল কাঁটা মেশানো তেল দেবে লোকজনকে। আর পিঙ্কু এলপিজি-র অটো নামিয়ে দেবে! নিউ জিল্যান্ডে বিপ্লব চলে আসবে। কী বল!”

    রাজু হাসল। কিন্তু কিছু বলার আগেই মোবাইলটা বেজে উঠল টেবিলের ওপর। ও দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তুলে নিল ফোনটা। উর্জা! যাক ঠিক সময়ে ফোন করেছে।

    রাজু ফোনটা ধরে বলল, “হ্যালো।”

    উর্জা বলল, “আমি বেরোচ্ছি। রাসবিহারি মোড়ে চলে এসো দ্রুত। আই উইল পিক ইউ আপ। ডোন্ট ওয়েস্ট টাইম। এখন রাত সাড়ে দশটা বাজে, তুমি পৌনে এগারোটায় এসো। তাড়াতাড়ি সব সেরে চেকিং করে নিলে নিশ্চিন্ত। কেমন?”

    রাজু শব্দ করে শ্বাস ফেলল। বলল, “আমার কেমন টেনশন হচ্ছে! আসলে জীবনে বাইরে যাইনি তো! আর এ ভাবে এত শর্ট নোটিসে সব ছেড়ে চলে যাওয়া। মানে…”

    “আরে তুমি এখন এ সব বলছ!” উর্জার রাগ হয়ে গেল একটু, “যাওয়ার আগে এমন কথা কেউ বলে! তুমি খুশি হওনি? আমাদের একটা জীবন হবে আলাদা! তুমি মাকে ভাইকে সাপোর্ট করতে পারবে বেটার ভাবে। সে সব ভাবো। আর বিদেশে গেলে দেখবে ওখানের মানুষজন অনেক সেনসিবল! এখানের মতো সারাক্ষণ অন্যের জীবনে উঁকি ঝুঁকি দেয় না! সারাক্ষণ অন্যের কাজে আঙুল দিয়ে সেটা পণ্ড করতে চায় না। সারাক্ষণ নিজের ইনসিকিওরিটি লুকোতে অন্যকে অপমান করে না। তুমি অনেক মন খুলে বাঁচতে পারবে। আনন্দ করে বাঁচতে পারবে। কে কী ভাবল সেই নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।”

    রাজু হাসল শব্দ করে, “আরে, তুমি তো খুব রেগে আছ দেখছি! আমি এমনি বললাম। আসলে সারা জীবন এমন একটা দম বন্ধ সময় কাটিয়েছি। তুমি ছিলে তাই এই মুক্তি এল। কিন্তু তাও একটা কেমন তো লাগবেই। তবে ভাই আর মা খুব খুশি।”

    কিছুটা সময় নিস্তব্ধ। রাজুর মনে হল, উর্জা কি রাগ করল নাকি? কিন্তু উর্জার গলা পেল আবার, “গাড়ি এসে গিয়েছে আমার। ইউ হারি আপ। আমি বেরোচ্ছি। রাখলাম।”

    ফোনটা কেটে মা আর রানার দিকে তাকিয়ে হাসল রাজু।

    দেখল, রানা চোয়াল শক্ত করে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। রানা বলল,

    “আমি মোটেও খুশি নই দাদা। আমাদের দেশ থেকে সব ঠিকঠাক মানুষ যদি চলে যায় তা হলে কী হবে?”

    “তুই চুপ কর,” মা ধমকে উঠল, “খালি বড় বড় কথা তোদের। জীবনে রাজু এই একটা ভাল কাজ করছে। ওকে পেছনে টানবি না! রাজু সাবধানে যাবি। আমাদের জন্য ভাববি না। আমরা ঠিক থাকব।”

    গুরান হাসল, “সবাই একদম ঠিক থাকবে। তুই চিন্তা করবি না! কেমন? চল এবার ট্যাক্সি ধরতে হবে তো? আমি একটা ব্যাগ নিচ্ছি।”

    গুরান একটা ব্যাগ নিল। রানা এগিয়ে এসে রাজুর আগেই ধরল আর-একটা ব্যাগ। রাজু হাসল। পিঠের ব্যাগটা গলিয়ে নিল এবার। তার পর মাকে প্রণাম করল।

    মা থুতনিটা ধরে আদর করে বলল, “তোকে খুব বকি আমি। আসলে তোর ওপর জোর আর ভরসা আমার বেশি। মেয়েটাকে ভাল ভাবে রাখবি। কষ্ট দিবি না। পৌঁছেই যোগাযোগ করবি। জানাবি সব। বুঝলি? আয় এবার। দুগ্‌গা দুগ্‌গা!”

    রাস্তায় ভিড় বেশ কম এখন। একটা ট্যাক্সি নিতে হবে রাজুকে। শুরান আর রানা সুটকেস দুটো নিয়ে এক পাশে রেখেছে। ট্যাক্সি করে অবশ্য বেশি দূরে যেতে হবে না। রাসবিহারী মোড় মাত্র। সেখানেই আসছে উজা।

    কিন্তু একটা ট্যাক্সিও নেই! মহা মুশকিল! বাসে করা এই দুটো ব্যাগ নিয়ে তো যাওয়া যায় না আর।

    মোবাইলটা বের করে সময় দেখল রাজু। উর্জা তো বলল, গাড়ি এসে গিয়েছে। এতক্ষণে তো বেরিয়েও পড়েছে নিশ্চয়। ওকে এসে অপেক্ষা করতে হলে বাজে ব্যাপার হবে। অন্য সময়ে কত ট্যাক্সি ঘোরে এখানে। কিন্তু এখন যেহেতু দরকার, অমনই কোনও ট্যাক্সির টিকির দেখা নেই। রাজু দেখল, গুরান আর রানা দু’জনে দু’দিকে এগিয়ে গিয়ে খোঁজার চেষ্টা করছে!

    “দাদা যাবেন?” আচমকা একটা সাদা গাড়ি এসে পাশে দাঁড়াল রাজুর।

    রাজু দেখল, সরকারি ফলক লাগানো গাড়ি। লাল একটা চৌকো বোর্ডের ওপর সরকারি ডিপার্টমেন্টের নাম সাদা দিয়ে লেখা!

    রাজু জানে, কলকাতায় এরকম হয়। নানা গাড়ি, সে সরকারি কাজে বা বেসরকারি কাজে ব্যবহৃত হোক না কেন, এমন করে কাজের বাইরে খেপ মারে। যা অতিরিক্ত টাকা পাওয়া যায় আর কী!

    রাজু ড্রাইভারটিকে দেখল। মধ্যবয়স্ক মানুষ। মাথায় টাক। গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। চোখমুখে একটা পাকানো ভাব। যদিও সওয়ারির আশায় মুখে একটা হাসি হাসি ভাব আনার চেষ্টা করছে। সামনের সিটে একটা লোক বসে আছে ড্রাইভারটির পাশে। লোক না বলে ছেলেই বলা ভাল। ভাল জামাকাপড় পরা। পিঠের ব্যাগ কোলের ওপর রাখা। রাজু বুঝল একেও তুলেছে।

    রাজু কিছু বলার আগেই গুরান দৌড়ে এল। বলল, “বেশি দূরে না। ওই রাসবিহারী মোড় অবধি যাবে। সঙ্গে দুটো সুটকেস আছে!”

    লোকটা অবাক হল, “ওইটুকু যাবেন, তাতে এত বড় দুটো সুটকেস!” “কেন দাদা, আপনার অসুবিধে আছে?” গুরান বিরক্ত হল।

    “আসলে এত ছোট ট্রিপ! আচ্ছা সত্তর টাকা দেবেন!”

    “এইটুকু সত্তর টাকা!” রাজু ভুরু কুঁচকে বলল।

    লোকটা হাসল পুরো দাঁত দেখিয়ে। বলল, “এত বড় দুটো সুটকেস! ক’টা টাকা আর আমাদের থাকে বলুন!”

    রাজু মাথা নাড়ল। দেরি হয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া আর এই ক’টা টাকার জন্য দরদাম করতে ইচ্ছে করছে না।

    ও বলল, “ডিকি খুলুন। “

    ড্রাইভারটি ডিকি খুলে দিল। ওরা তিনজনে ধরাধরি করে ডিকিতে তুলে দিল সুটকেস দুটো।

    ডিকি বন্ধ করে রানা তাকাল ওর দিকে। তার পর জড়িয়ে ধরল। রাজু বুঝল রানা কাঁদছে। পিঠটা নড়ছে ওর। ফুলে ফুলে উঠছে। ঠিক সেই ছোটবেলার মতো। ক্রিকেট ব্যাট ভেঙে গেলে, বল হারিয়ে গেলে, অরণ্যদেবের কমিক্স না কেনা হলে এ ভাবেই কাঁদত রানা। আজও কাঁদছে।

    রাজুর নিজের চোখে জল চলে এল হঠাৎ। বুকের মধ্যে কেমন একটা করছে! কিসের একটা যন্ত্রণা। কিছু যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে। উপড়ে যাচ্ছে। এমন কেন হচ্ছে ওর! ও তো স্বেচ্ছায় যাচ্ছে। তা হলে এমন ভাব আসছে কেন মনে? এত কষ্ট হচ্ছে কেন?

    ও দেখল, দূরে বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে আছে মা। মা-ও কি কাঁদছে! ও জানে না। স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে না। ওরও দৃষ্টি ঝাপসা।

    রাজু ওই অবস্থাতেও চোখ মুছল। তার পর রানার মাথায় হাত দিয়ে চুল ঘেঁটে দিল একটু। তার পর ওকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে বলল, “কাঁদিস না। আমি তো আসব আবার। তোরাও যাবি। সামনে নতুন দিন আসছে। এমন ভেঙে পড়লে হবে না। কোনও দরকারে আমায় বলবি। পড়াশোনাটা ভাল করে করিস! আমি পৌঁছেই তোকে খবর দেব। বুঝলি? পাগল ছেলে!”

    রাজু, গুরানের দিকে তাকাল হাসল। তার পর মায়ের দিকে হাত তুলল। গাড়িতে উঠে দরজা বন্ধ করেও হাত বাড়াল রানার দিকে। রানা হাতটা চেপে ধরল ওর।

    রাজু বলল, “তুই জানিস তো আমি তোকেই সবচেয়ে বেশি ভরসা করি?”

    ড্রাইভার গাড়ির পেছনের দরজাগুলো সুইচ টিপে লক করে দিল। গাড়িটা ছেড়ে দিল এবার। রাজু ঘুরে বসে পেছনের কাচ দিয়ে তাকাল রাস্তার দিকে। ওই ছোট হতে হতে দূরে চলে যাচ্ছে গুরান, রানা, মা, ওর ছোটবেলার রাস্তা, পাড়ার মোড়, ঘুড়ির দোকান, রোলের ঠ্যালা, আড্ডার চাতাল। ওই চলে যাচ্ছে ওর বড় হয়ে ওঠার পথঘাট। আলো হাওয়া। চলে যাচ্ছে মাঝরাতে একা জেগে থাকার সেই ছোট্ট ঘর। মনখারাপের বারান্দা। চলে যাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে, মিলিয়ে যাচ্ছে রাজু নামক একটি বালকের গল্প।

    “দাদা, আমি একটু ভেতর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বড় রাস্তা দিয়ে নয়। টালিগঞ্জ রোড দিয়ে। প্রাইভেট গলির মুখে উনি নামবেন,” ড্রাইভারটি পাশে বসে থাকা ছেলেটিকে দেখিয়ে বলল।

    ছেলেটা কার সঙ্গে যেন মোবাইলে কথা বলছে খুব নিচু স্বরে। রাজু কিছু না বলে মাথা নাড়ল। তার পর কী মনে হওয়ায় উর্জাকে ফোন করল একটা। আরে, ফোন বন্ধ কেন! অবাক লাগল রাজুর! এমন তো হওয়ার নয়! ও আবার চেষ্টা করল। নাঃ এখনও বন্ধ। কী আশ্চর্য! রাজু বুঝতে পারল না ব্যাপারটা।

    গাড়িটা এরই মধ্যে টালি নালার ওপরের ব্রিজ টপকে বাঁ দিকে বাঁক নিয়ে ঢুকে পড়েছে টালিগঞ্জ রোডে। এই রাস্তাটা সামান্য অপ্রশস্ত। লোকজন একটু বেশি। রাস্তার পাশে গাড়ি, ঠ্যালা দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার মধ্যে দিয়ে এঁকেবেঁকে এগিয়ে গিয়েছে পথ।

    গাড়িটা এগোচ্ছে! রাজু রাস্তার দিকে আর তাকাল না। উর্জার ফোন বন্ধ কেন? এমন তো হওয়ার কথা নয়! সামান্য টেনশান হচ্ছে ওর।

    গাড়িটার গতি কমে এল এবার। রাজু দেখল ডান দিকে একটা গলির মুখ। এই রাস্তায় এসে মিশেছে গলিটা। গাড়িটা গিয়ে থামল সেই গলির মুখে। আর সঙ্গে সঙ্গে খট করে শব্দ হল একটা। গাড়ির পেছনের দরজার লকগুলো খুলে গেল। ড্রাইভারটি যে খুলে দিয়েছে সেটা বুঝল রাজু। কিন্তু কেন?

    রাজু কিছু বোঝার আগেই দু’পাশের দরজা খুলে দুটো দশাসই চেহারার লোক একদম আচমকা উঠে এল গাড়ির মধ্যে। আর উঠেই দু’দিক থেকে রাজুকে চেপে ধরল শক্ত করে।

    “আরে, আরে…” রাজু কিছু বলতে গেল, কিন্তু তার আগেই একজন কালো মোটা কাপড়ের একটা ঢাকনা পরিয়ে দিল ওর মাথায়!

    “কে আপনারা? কী চান?” রাজু ধস্তাধস্তি করতে করতে চিৎকার করল। “বাঞ্চোতকে চুপ করা!”

    রাজু বুঝল সামনের সিট থেকে কথাটা এল। তার পর কিছু বলার আগেই রাজুর মাথায় যেন বিস্ফোরণ হল। মনে হল খুলির হাড় ভেঙে বোধহয় লাভা বেরিয়ে আসবে। আর আস্তে আস্তে সব নিভে এল ওর। সারা শরীর হালকা থেকে ক্রমশ ‘নেই’ হয়ে গেল। রাজু অজ্ঞান হয়ে একটা লোকের কাঁধে ঢলে পড়ল।

    আচমকা নড়ে উঠল রাজু। ভেজা কিছু একটা পড়েছে মুখে। জল!

    কোথায় আছে ও! ঘুমিয়ে পড়েছিল কি? রাজু চোখ খুলে তাকানোর চেষ্টা করল। আর সঙ্গে সঙ্গে কট করে উঠল মাথাটা। কী যন্ত্রণা! আর এই যন্ত্রণাটাই যেন ঝাঁকুনি দিয়ে জাগিয়ে দিল ওকে। ওর মনে পড়ে গেল, বাড়ি থেকে বেরোনো, উর্জার ফোন না পাওয়া । গাড়ির মধ্যে উঠে আসা দুটো লোক। তার পর মুখ ঢেকে দেওয়া। মাথায় আঘাত পাওয়া।

    চোখ ভাল করে খুলে তাকাল রাজু। হলদেটে আলো জ্বলছে। ওই অনেক ওপরে করোগেটেড টিনের ঢেউ খেলানো সিলিং! লম্বা ফ্যাক্টরি শেড! পুরনো, ভাঙা!

    “জ্ঞান এসেছে?” মাথার কাছ থেকে কে যেন বলল।

    রাজু মাথা ঘুরিয়ে দেখতে গেল। কিন্তু তার আগেই কেউ একটা এসে ওর বগলের তলায় হাত দিয়ে ওকে উঠিয়ে, বসিয়ে দিল পাশের একটা টিনের চেয়ারে। পড়ে যেতে যেতে নিজেকে সামলাল রাজু। ও কোথায় এসেছে? কেন এখানে এসেছে ও? কারাই বা আনল ওকে?

    রাজু দেখল, ওকে ঘিরে চারজন দাঁড়িয়ে রয়েছে। ওর ভয় লাগল। এখানে এবার কী হবে? মাথা কাজ করছে না।

    রাজু জিজ্ঞেস করল, “আমাকে এখানে কেন এনেছ? তোমরা কারা?” কিন্তু কেউ কিছু উত্তর দেওয়ার আগেই সামনে থেকে পায়ের শব্দ এল এবার। রাজু দেখল, সামনের গাঢ় খয়েরি অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসছে কয়েকটা ছায়া!

    ও বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে দেখল, আবছায়া থেকে ঘোলাটে হলুদ আলোয় এসে দাঁড়িয়েছে বীরেন্দ্র।

    ভয়ে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল রাজুর। মাথার যন্ত্রণাটাও যেন অনুভূত হচ্ছে না! কারণ, বীরেন্দ্র শক্ত করে ধরে রেখেছে উর্জাকে। উর্জার হাত আর মুখ বাঁধা। ছটফট করছে। বীরেন্দ্রর পেছনে সেই দোকানে আসা লাল চুলের ছেলেটা। আর তার পাশে পেটানো চেহারার আর-একজন। সুন্দর দেখতে। এই ছেলেটা ওর বাড়ি গিয়েছিল না?

    এখানে ওদের ধরে আনা হয়েছে কেন?

    বীরেন্দ্র, উর্জাকে নিয়ে সামনে এসে দাঁড়াল এবার। এমন সর্ষের তেলের মতো আলোয় বীরেন্দ্রকে ঠিক রাক্ষসের মতো লাগছে!

    রাজুর দিকে তাকিয়ে বীরেন্দ্র শান্ত গলায় বলল, “আমি বারণ করেছিলাম। শুনিসনি। বলেছিলাম উর্জার সঙ্গে মিশবি না। সেখানে তোরা দেশ ছেড়ে পালাবি ভেবেছিলিস? কী ভেবেছিলিস, আমি জানব না? আজ এর ফল পাবি তোরা।”

    রাজুর আচমকা কেমন যেন রাগ হল। ওর সামনে উর্জাকে ও ভাবে ধরে রেখেছে! ওকে এ ভাবে নিয়ে এসেছে! সব কি ক্ষমতা দিয়েই এরা চালাবে? জীবনে ঠিক ভুল, ইচ্ছে-অনিচ্ছে বলে কিছু নেই!

    রাজু বলল, “আমায় মেরে দেবেন? অনার কিলিং! এই সময়ে দাঁড়িয়েও এমন করবেন? জাতপাত নিয়ে এখনও এতটা…”

    ওকে কথা শেষ করতে দিল না বীরেন্দ্র। বলল, “ইগো কিলিং! অ্যাম্বিশনের জন্য কিলিং! শোন, জাতপাত ইমপর্ট্যান্ট নয়! ওটা পলিটিকাল টুল। প্লাস সেতুও চায় তুই যাতে মরে যাস! ওকেও নাকি থ্রেট করছিস তুই! ব্ল্যাকমেল! শুয়োরের বাচ্চা! সেতুর ওই জগা ঘোষকে খুনটা এখনও পুষে রেখেছিস মনে। জানিস না, সেই খুনের পেছনে শুধু সেতু নয়, আমিও ছিলাম। আর সেতু চায় না তুই বেঁচে থাকিস। একদিন ও আমার কাজ করেছিল, আজ আমি ওর কাজ করব। সে দিন ওই খুনের জায়গায় না থাকলে আজ হয়তো তুই মরতিস না। আর তোদের এত সাহস, আমার প্ল্যান ভেস্তে দিতে গিয়েছিলিস। উদয় জেনে গিয়েছে তোদের সম্পর্কের কথা। ওর অপমান হয়েছে। উদয় এখন দেখতে চায় আমি কতটা লয়াল। দেখতে চায় ওকে যে তোরা অপমান করলি তার জন্য তোদের কী শাস্তি দিই আমি। ওদের কাছে জায়গা পাওয়াটা এই সময়ের রাজনীতিতে একটা ইমপর্ট্যান্ট সাকসেস! আর সাকসেস নিডস স্যাক্রিফাইস। পাওয়ার নিডস স্যাক্রিফাইস। আমাকেও তো গ্রুভ করতে হবে যে, আমি কঠোর হতে পারি। বারবার কেউ ধোঁকা দেবে আর তার জন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে না? আর আমাকেও অন্য ধাপে যেতে হবে। লাইফ সাপলুডোর মতো! তোরা আমার কাছে ওপরে ওঠার সিঁড়ি। আর আমি তোদের কাছে সাপ!”

    “মারতে চাও? আমাকে মারতে চাও?” রাজুর গলা শুকিয়ে গিয়েছে, “উর্জাকে…. উর্জাকে….”

    বীরেন্দ্র ঘৃণার সঙ্গে তাকাল উর্জার দিকে। বলল, “পেটও বাঁধিয়েছিস হারামজাদি!”

    উর্জা গোঙাল। মুখ বাঁধা থাকায় কথা বেরোচ্ছে না।

    এটা কী বলল বীরেন্দ্র! উর্জা প্রেগন্যান্ট! এই কথাটাই কি উর্জা বলতে চাইছিল! রাজু কী করবে বুঝতে পারল না। “উর্জা..” বলে অসহায় ভাবে চিৎকার করল!

    বীরেন্দ্র আচমকা উর্জাকে ঠেলে মাটিতে ফেলে দিয়ে পিস্তল তুলল উর্জার দিকে। রাজুর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল। নাই-বা হল নিজের বাবা, কিন্তু ছোট থেকে বাবা হিসেবেই তো বড় করেছে উর্জাকে ! সেখানে বীরেন্দ্র এটা কী করে করতে পারে! উর্জা মাটিতে পড়ে ছটফট করছে। গোঙানির মতো শব্দ করছে মুখ দিয়ে।

    রাজু দেখল, পেছনের সুন্দর দেখতে ছেলেটা আচমকা এগিয়ে এল এবার। বীরেন্দ্রর হাত ধরে বলল, “স্যর প্লিজ, ম্যাডামকে মারবেন না! প্লিজ… স্যর মারবেন না, প্লিজ। স্যর…”

    বীরেন্দ্র এক ঝটকায় হাতটা ছাড়িয়ে ঘুরে থাপ্পড় মারল ছেলেটাকে। “এত বড় সাহস তোর? আমার গায়ে হাত দিস! আমার গায়ে। নেহাত… নেহাত…” বলল,

    “মারবেন না, প্লিজ মারবেন না… আমি সরে যাব। প্লিজ….” রাজুর কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। সারা শরীরের রক্ত যেন জমা হয়েছে মাথায়। জল পড়ছে চোখ দিয়ে। লালার সুতো ঝুলছে মুখ থেকে! উর্জাকে মেরে দেবে! সত্যি কি লোকটা মেরে দেবে উর্জাকে?

    বীরেন্দ্র জ্বলন্ত দৃষ্টিতে একবার তাকাল ছেলেটার দিকে আর একবার রাজুর দিকে। তার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে উর্জার মাথা লক্ষ করে গুলি চালিয়ে দিল! পুরনো ফ্যাক্টরির শেডের মধ্যে পিস্তলের শব্দটা বোমার মতো ফেটে পড়ল যেন! গরম গোলাপি বাষ্প উর্জার মাথার পেছন থেকে বেরিয়ে মিলিয়ে গেল হাওয়ায়! ঘিলুর অংশ ছিটকে গিয়ে লাগল পেছনে দাঁড় করানো ড্রামের গায়ে।

    বীরেন্দ্র হিসহিসে গলায় বলল, “শাস্তি। উদয় খুশি। আমিও খুশি!” রাজুর গলায় শ্বাস আটকে গেল যেন! দেখল, মাটিতে ওর সামনে চিৎ হয়ে পড়ে আছে উর্জা। মাথার মাঝে লাল গর্ত দিয়ে রক্ত চুঁইয়ে নামছে। চোখ দুটো খোলা! ওর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে!

    সেই ছেলেটা বসে পড়েছে মাটিতে। বিহ্বল হয়ে তাকিয়ে আছে উর্জার দিকে। ছেলেটার কপালের শিরা জেগে উঠেছে। মুখ লাল! বীরেন্দ্রর চোখে খুনে দৃষ্টি এখনও! হাঁপাচ্ছে বীরেন্দ্র। চোখ দিয়ে জল পড়ছে। সেটা হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুছছে বারবার। কী করবে যেন বুঝতে পারছে না !

    রাজুর শরীরে যেন অসুর ভর করল আচমকা। ও “রাক্ষস” বলে চিৎকার করে লাফিয়ে পড়ল বীরেন্দ্রর ওপর। বীরেন্দ্র সরল না। রাজুও পৌঁছোতে পারল না বীরেন্দ্রর কাছে। তার আগেই চারটে হাত শূন্য থেকে তুলে নিল ওকে। তারপর নিখুঁত হাতে পেছন থেকে ওর গলাটা ধারালো ছুরি চালিয়ে দু’ফাঁক করে মাটিতে ছুঁড়ে দিল!

    শরীর শূন্য। যন্ত্রণায় সব অসাড়। গরম রক্ত ছিটকে বেরোচ্ছে! মুখে বুকে ছড়িয়ে যাচ্ছে রক্তের ফেনা। ধীরে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে রাজুর। নিবে আসছে আলো। খয়েরি অন্ধকার ছড়িয়ে পড়ছে, গ্রাস করে নিচ্ছে ওকে। ঝাপসা সব।

    বৃষ্টি পড়ছে কি কোথাও! কে আসছে বৃষ্টি ভেঙে? রানা? কী হয়েছে? রানা কাঁদছে কেন? আর মা? ছোট মোমের আলোর মধ্যে বসে মা কি সেলাই করছে? শব্দ পাচ্ছে সেলাই কলের! আবছা, সব আবছা। রফির গান কি ওটা! গুরান, গুরান হাত বাড়াল ওর দিকে? ভাজা মৌরির গন্ধ আসছে। গুরান ধরবি আমায়! রানা আমায় ধরবি!

    মাটিতে পড়ে সামনের দিকে হাত বাড়াল রাজু। উর্জার বাঁধা হাত ওই সামনে। একটু ধরতে পারবে না? রাজুর শরীরের আলো নিবে এল ক্রমে। চোখের পাতা ভারী হয়ে এল। শেষবারের মতো তাকাল উর্জার দিকে। দেখল, সেই ছেলেটা হাঁটু গেড়ে বসে আছে উর্জার সামনে। মাথা নিচু।

    রাজুর বুকে কী যে কষ্ট! ও শেষবারের মতো শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না। বুকে কে যেন চাপিয়ে দিয়েছে পাথর! নড়ে উঠল রাজু। দেখল, কে যেন ওর মাথার দিকে পিস্তল তুলল। রাজু বন্ধ করে নিল চোখ।

    আর দেখল, একটা গাড়ি চলছে। রাত নেমে এসেছে চারিদিকে। আর গাড়ির মধ্যে বসে জানলা দিয়ে আসা হাওয়ায় এলোমেলো হয়ে যাওয়া চুল সামলাতে সামলাতে ওর দিকে তাকিয়ে হাসছে উর্জা! ওর মনে হল, উর্জা হাসে, উর্জা ওকে ভালবাসে, তাই জীবন এত সুন্দর।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)
    Next Article কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }