Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প698 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩০. লালু

    ৩০. লালু

    লোকটার নাম মাধু। ফরসা, মোটা চেহারা। মাথায় বড় টাক। মুখ ভর্তি পান আর পানের রস। কথা বলার সময় মাথা তুলে মুখটা বাটির মতো করে কথা বলছে। আর কথার সঙ্গে মুখের মধ্যে পাতলা একটা বুড়বুড়ি কাটছে পানের লাল রস।

    লালুর খালি মনে হচ্ছে এই বোধহয় মুখ বেয়ে রস গড়িয়ে পড়বে বাইরে। কিন্তু মাধু বেশ কায়দা করে সামলে নিচ্ছে প্রতিবার। অনেকটা যেন টুপটুপু ভর্তি তেলের বাটি নিয়ে হাঁটার মতো।

    মাধু পান বিক্রি করে। শোভাবাজার-সুতানুটি স্টেশনের পাশে একটা সরু দোকান আছে ওর। তাতে একটা তাকের মতো করা। তাকের ওপরে মাধুর দোকান আর নীচে কোল্ড ড্রিংক আর চিপসের স্টক। গরম পড়েনি। তাই কোল্ড ড্রিঙ্কের মরসুম শুরু হয়নি সে ভাবে। নীচের দিকটা তাই সবুজ পাল্লা দিয়ে বন্ধ করা আছে। এমন দোকান নাকি মাধুর আরও আছে। দোকানের সামনে দু’-তিনজন কাস্টমার দাঁড়িয়ে আছে এখন। তাদের পান সিগারেট এ সব দিচ্ছে মাধু। আর দিতে দিতে মুখটাকে ওরকম বাটির মতো করে তুলে কথা বলছে।

    লালু বিরক্ত হয়ে মোবাইলে সময় দেখল। সন্ধে হয়ে গেছে। প্রায় সাড়ে ছ’টা বাজে। কলকাতা এখন কিছুটা ক্লান্ত। অফিস ফেরতা মানুষজন খানিকটা ব্যতিব্যস্তও। লালুর মনে হয়, কলকাতা যদি মানুষ হত, তা হলে প্রতিদিন এই সময়টায় কলকাতার ভুরু কুঁচকে থাকত। এখন যেমন ও আছে।

    আরে বাবা, মাধু ওকে ছেড়ে দিলেই তো পারে! তা না, “একটু দাঁড়ান দাদা,” বলে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। ও দিকে পাখিদা দাঁড়িয়ে থাকবে। তার পর অঞ্জনার কাছেও যেতে হবে। ওর কি সময়ের দাম নেই! লালু মোবাইলটা পকেটে ঢুকিয়ে গলা তুলে বলল, “মাধুভাই, আমায় ছেড়ে দাও। আমার খুব দেরি হয়ে যাচ্ছে। আর ওয়েট করতে পারছি না।” মাধু একটা পান খিলি করে সামনে দাঁড়ানো কাস্টমারের হাতে তুলে দিয়ে বলল, “এই যে হয়ে গেল দাদা। আপনি আসেন এবার।” লালু এগোল। তার পর আড় করে ঝোলানো ব্যাগের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে একটা খাম বের করে আনল। সাদা খাম। বড়, মুখ বন্ধ। ভেতরে টাকা আছে। এক লাখ। পাঁচশো টাকার নোটের দুটো বান্ডিল। টাকাটা নিয়ে মাধু হাসল। তার পর একটা ড্রয়ার খুলে ঢুকিয়ে রাখল। “আরে, গুনলেন না?” লালু অবাক হল।

    “গুনব? জরুরত হোবে না দাদা! বিন্দি বলেছে যে, আপনি খুব ভরসার লোক। বিন্দির কথা আমি মেনে চলি। ও যা বলে ঠিক বলে,” মাধু ওর খয়েরি রঙের দাঁত দেখিয়ে হাসল।

    লালু মাথা নাড়ল। বলল, “তা হলে আমি আসি?”

    মাধু বলল, “শোনেন না দাদা, বিন্দি আছে কেমন? ঠিক আছে তো?” লালু হাসল। কী বলবে? বিন্দি এই জীবনে কোনও দিন খুশি থাকতে পারবে? এটা কিসের টাকা সেটা কি আর ও জানে না? কিন্তু মাধু জানে না বলেই এমন প্রশ্ন করতে পারল। জীবনে কোনও কোনও বিষয় না জানলেই মানুষ ভাল থাকে। সে দিন সন্ধেবেলা চপটাকে যত সহজে ও ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল, আজ টাকাটাকে তো দিতে পারল না লালু! কারণ, বাস্তব খুবই কঠিন। তাই ওকে এই টাকাটা যখন মাধুকে পৌঁছে দিতে বলেছিল বিন্দি, “না” করতে পারেনি। বিন্দির যে এটা খুব দরকার সেটা ও বুঝেছে।

    লালু বলল, “হ্যাঁ আছে। আমি আসি। আমায় আর-এক জায়গায় যেতে হবে।”

    “ঠিক আছে। আপনি একটু লজেন্স খান,” মাধু পান ভর্তি মুখ তুলে হেসে দুটো লজেন্স বাড়িয়ে দিল ওর দিকে।

    “আরে, এ সব কেন?” লালু সামান্য বিব্রত হল।

    “আরে, নিন দাদা। আপনি বিন্দির দাদা। আমারও দাদা। নিন পিলিজ,” মাধু আবার মুখ তুলে হাসল।

    লালু লজেন্স দুটো নিয়ে হাসল। তার পর পকেটে রেখে বলল, “ঠিক আছে আমি চলি।”

    মাধু আর কিছু না বলে বুকের কাছে হাত জড়ো করে মাথা নাড়ল। দোকানের সামনে থেকে সরে এসে বড় রাস্তা দিয়ে হাঁটতে লাগল লালু। ও অন্যদের মতো দ্রুত হাঁটতে পারে না। ওর একটু সময় লাগে। ছোট থেকেই এই নিয়ে ওর একটা কষ্ট আছে। কিন্তু কী করবে!

    আজ ম্যাডাম ওকে বলছিল একটা স্কুটার কিনে দেবে কাজের জন্য। লালু শুনেছে, কিছু বলেনি। কী বলবে! সে দিনের পর থেকে ওর আর কিছু বলার ইচ্ছে নেই। অপমান করে এখন স্কুটার দান করার কোনও মানে হয় না।

    লালু দেখছে সে দিনের পর থেকে ম্যাডাম সামান্য হলেও ভাল ব্যবহার করছে ওর সঙ্গে। কিন্তু যা হয়ে গিয়েছে, তা তো আর ম্যাডাম পাল্টাতে পারবে না। একটা সুযোগ চাই লালুর। একটা। তার পর ও দেখাবে মজা!

    অঞ্জনার কাছে যাওয়ার পথেই একটা জায়গায় পাখিদা দাঁড়িয়ে থাকবে। কাল ম্যাডামের নতুন লোক লাগবে। সেটা ফাইনাল করে তার পর যাবে অঞ্জনার কাছে। অঞ্জনা ডেকেছে। টাকার নাকি একটা বন্দোবস্ত হতে পারে। দেখা যাক অঞ্জনা কী বন্দোবস্ত করেছে।

    লালু মোবাইল বের করল। ও যে টাকাটা দিয়ে দিয়েছে, সেটা বিন্দিকে জানিয়ে দিতে হবে। না, ফোন করবে না। মেসেজ করেই জানিয়ে দেবে।

    লালু হাঁটতে হাঁটতেই মেসেজ করে দিল। জানিয়ে দিল যে, টাকাটা পৌঁছে দিয়েছে। আর বিন্দি যেন একবার ফোন করে ব্যাপারটা কনফার্ম করে নেয়।

    এক লাখ টাকা! ভাবা যায়! লালু মোবাইলটা পকেটে ঢুকিয়ে চোয়াল শক্ত করল। এই ম্যাডাম, বীরেন্দ্র সব হারামি! ওর বেলায় টাকা নেই আর সেখানে বিন্দিকে এক লাখ দিয়ে দিল। কী? না বিন্দির থেকে ওর বিজনেস হবে। ছিঃ! আর বিন্দিও এটা পারল কী করে?

    কাল রাতে বিন্দি এসেছিল ওর কাছে। রাতে খাওয়ার পরে কবির সঙ্গে কথা বলে নিজের ঘরে চলে এসেছিল লালু।

    আজকাল মনমেজাজ ভাল থাকে না। সারাক্ষণ মনে হয় মাথার মধ্যে কেমন একটা ব্যথা। হাই ভোল্টেজ ইলেকট্রিকের তারের কাছে গেলে যেমন গুনগুন শব্দ শোনা যায়, তেমন একটা শব্দ যেন কানের মধ্যে সারাক্ষণ বেজে চলে। ছুটির মুখটা মনে পড়ে। মেয়েটাকে বাঁচানো যাবে না? অঞ্জনার ঘরে ঢুকলে ছুটির জামা ঝোলে খাটের স্ট্যান্ডে। পুতুল পড়ে থাকে এক পাশে। ছুটির স্কুলের ব্যাগ ঝোলে দেওয়ালের আংটায়। চকোলেটের কাগজ ছড়িয়ে থাকে মেঝেয়। এই সব কিছু থাকবে, শুধু মেয়েটাই থাকবে না! এটা কী করে হতে পারে! জীবন কী ভাবে এমন নিষ্ঠুর হয়!

    কাল রাতে নিজের ঘরে ফিরে এ সবই ভাবছিল লালু। শরীর ক্লান্ত হলেও ঘুম আসছিল না। ছুটির জন্য টাকা জোগাড় করতে পারছে না, এই অক্ষমতা থেকে তৈরি হওয়া পাপবোধ কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল ওকে। কেন কে জানে ওর মনে হচ্ছিল ছুটি ওর জন্যই মারা যাবে।

    এটা ঠিক নয়, নিজেকেই নিজে বোঝাচ্ছিল লালু, কিন্তু নিজের মনের মধ্যে বসে থাকা আর-একটা লালুকে যেন কিছুতেই এটা বোঝাতে পারছিল না। নিজের চুল দু’মুঠোর মধ্যে ধরে বসেছিল ও। আর তখনই দরজায় টোকা পড়েছিল।

    লালু নিজেকে ঠিক করার চেষ্টা করেছিল। বাইরে কারও সামনে ও নিজের দুর্বলতা দেখাতে পারে না। তা-ও বিন্দি জেনে ফেলেছিল সে দিনের ঘটনাটা। সেটা নিয়েও মনে মনে নিজের ওপর বিরক্ত হয়ে আছে। কেন ক্ষণিকের দুর্বলতায় ও ওরকমটা করল!

    আসলে নিজের শারীরিক সমস্যার জন্য সারা জীবন নানা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ সহ্য করে এসেছে লালু। ও বুঝেছে এই পৃথিবী প্রচণ্ড নিষ্ঠুর এক জায়গা। কারও কোনও দুর্বলতা দেখলেই সেটার মাধ্যমে তাকে আক্রমণ করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে লোকজন। তাই কাউকেই নিজের কোনও রকম দুর্বলতার সন্ধান দেওয়া যাবে না।

    নিজেকে সামলে, লালু দরজা খুলে দেখেছিল বিন্দি এসেছে। লালু জিজ্ঞেস করেছিল, “তুই! এখন?”

    বিন্দি লালুকে সামান্য ঠেলে ঘরে ঢুকে পড়েছিল। তার পর বলেছিল, “একটা দরকার আছে লালুদা। তোমার হেল্প লাগবে আমার। তুমি কি এখনও রেগে আছ আমার ওপর?”

    “না রেগে নেই। আর আমার হেয়?” লালু ভাল করে তাকিয়েছিল বিন্দির দিকে। মেয়েটার চোখমুখে কেমন একটা অস্বস্তি ভাব। যেন মেয়েটা কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত।

    “কী হয়েছে বল,” লালু জিজ্ঞেস করেছিল।

    “এটা,” বিন্দি ওড়নার তলা থেকে একটা সাদা খাম বের করেছিল, “এতে সেই টাকাটা আছে। এক জায়গায় দিয়ে আসতে হবে।”

    “টাকা! সেইটা?” লালু তাকিয়েছিল বিন্দির দিকে।

    বিন্দি ঠোঁট কামড়ে মাথা নামিয়ে নিয়েছিল। তার পর মৃদু গলায় বলেছিল, “হ্যাঁ, এক লাখ।”

    “সেই এক লাখ!” লালু চোয়াল শক্ত করে তাকিয়েছিল ওর দিকে। রাগ হচ্ছিল ওর। কিন্তু সেটাকেও লুকিয়ে ফেলেছিল অন্য সব কিছুর মতো।

    বিন্দি একই রকম মৃদু গলায় বলেছিল, “জানি, তুমি রাগ করলে। সে দিন সেই চপটাও ফেলে দিলে। কিন্তু আমি কী করব! বোনের বিয়ে। পাত্রপক্ষকে টিভি, ফ্রিজ আর ওয়াশিং মেশিন দিতে হবে। ছেলে টুয়েলভ পাশ। পিওনের চাকরি করে, সরকারি। আমাদের ওদিকে দহেজ ছাড়া কিছু হয় না। বোনটাকে ওখানে বিয়ে না দিলে ওর জীবনও আমার মতো হয়ে যাবে। ছেলেটি নগদ বেশি চায়নি। কিন্তু এগুলো চেয়েছে। আমি ছাড়া আর কে দেবে বলো?”

    লালু কিছু বলেনি। চুপচাপ শুনছিল। বুঝতে পারছিল এ সব কথা ওকে নয়, নিজেকে বোঝাতেই বলছে বিন্দি। আর এ-ও বুঝতে পারছিল, ওর বুকের মধ্যে যেমন একটা ঠ্যাঁটা আর অবুঝ লালু আছে, বিন্দির মধ্যেও অমন একটা জিদ্দি বিন্দি আছে। সেই বিন্দিটাকেই তাই এই বিন্দি বুঝিয়ে যাচ্ছে নানা ভাবে।

    বিন্দি বলছিল, “স্যরের কাছে দু’জন আসবে। একজন বেশ বয়স্ক। নেতা। তার আমাকে পছন্দ! সার বলেছে আমার দ্বারা নাকি সারের অনেক লাভ হয়েছে। তাই টাকাটা দিয়েছে। তুমি আমায় খারাপ ভাবলেও আমার কিছু করার নেই। আমার টাকার দরকার লালুদা। আমি আর কী করে পারব টাকা জোগাড় করতে? তুমি তো সে দিন টাকা চাইলে, কী হল দ্যাখোনি?”

    লালু থমকে গিয়েছিল। আবার মনে পড়ে গিয়েছিল সব। ওকে বাপ-মা তুলে গালি দিয়েছিল!

    বিন্দি বলেছিল, “এদের কিছু না দিলে এরা কিছু দেবে না। আমায় তাই দিতেই হল। দুটো লোকের সঙ্গে… আমি…. যা করেছি আমার উপায় ছিল না লালুদা। আমার উপায় ছিল না। তুমি আমায়…. তুমি ….”

    বিন্দি ঘুরে গিয়ে দেওয়ালে মাথা রেখে কাঁদছিল। লালু কিছু না বলে চুপচাপ ওই খাম হাতে ধরে দাঁড়িয়েছিল। বিন্দিকে ও খারাপ ভাবেনি। এই জীবনে কোথায় যে কার কষ্ট সেটা কেউ জানে না। অন্যকে দূর থেকে জাজ করে যা খুশি বলে দেওয়াটাকে জানোয়ারের মতো কাজ মনে করে লালু। ও নিজে ওরকম জ্ঞানত করে

    না। তাই বিন্দিকেও খারাপ ভাবেনি একটুও। বিন্দি নিজেকে সামলে নিয়ে চোখ মুছে ঘুরে তাকিয়েছিল। তার পর বলেছিল, “তুমি আগে টাকাটা খুলে গুনে নাও। শোভাবাজার মেট্রো স্টেশনের পাশেই মাধুর পানের দোকান আছে। মাধু মোটা, মাথায় টাক। কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবে। ও আমাদের গ্রামের লোক। ওকে দিলে ও টাকা পৌঁছে দেবে। আমি কথা বলে নিয়েছি।”

    “মাধু!” লালু খাম খুলে টাকা গুনতে গুনতে তাকিয়েছিল বিন্দির দিকে। বিন্দি বলেছিল, “ও আমায় পছন্দ করত গ্রামে থাকতে। কিন্তু বিয়ে করতে পারেনি। ওর বিয়ে হয়ে গিয়েছে এখন। দুটো বাচ্চাও আছে। তাও আমায় মাঝে মাঝে ফোন করে। কথা বলে। টুকটাক দেখাও করে। তুমি আমায় খুব খারাপ ভাবছ, না?”

    টাকাটা গুনে খামে ভরে হেসেছিল লালু। বলেছিল, “তুই ঘরে যা এবার। আমি পৌঁছে দেব। আর খারাপ ভাল আমি কিছু ভাবি না রে। সবার জীবন তার নিজের মতো, আলাদা আলাদা। কে কী করে, কেন করে, সে সব বোঝা যায় না!”

    বিন্দি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল, “আসলে সবাই তো ভাবে, তাই বললাম!”

    লালু বলেছিল, “ক’জন মানুষ অন্যের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পারে বল!

    মনে মনে অন্যকে খারাপ ভেবে নিতেই তারা আনন্দ পায়। সুপিরিওরিটি কমপ্লেক্স আর কী। সে দিন আমি ডিস্টার্বড ছিলাম, তাই তোর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছি। তুই কিছু মনে করিস না, প্লিজ।”

    “সুপিরিও… কী!” বিন্দি অবাক হয়ে তাকিয়েছিল।

    “কিছু না। তুই ঘরে যা। আমি কাল পৌঁছে দেব। বিন্দি দরজা খুলে দাঁড়িয়ে বলেছিল, “তুমি তো পড়াশোনা করেছ। কত জানো। কেন এখানে পড়ে আছ! অপমান সহ্য করছ!”

    লালু কিছু না বলে হেসেছিল। এমন সাধারণ বি এ পাশ কত কোটি যে আছে এই দেশে! এই যে সাড়ে বারো হাজারি চাকরি ও পেয়েছে এই তো অনেক।

    বিন্দি চলে যাওয়ার পরে টাকাটা টেবিলের একপাশের ড্রয়ারে রেখে বিছানায় বসেছিল লালু। মনে মনে একটা রাগ জন্মাচ্ছিল। বাচ্চা একটা মেয়েকে সাহায্য করার বেলায় ওকে মারল আর নিজের স্বার্থে নোংরামো করার বেলায় টাকা বেরিয়ে পড়ল! বীরেন্দ্র একটা অমানুষ! বিন্দির অসহায়তার সুযোগ নিয়ে ওকে দিয়ে কী সব করাচ্ছে। এটা বাড়ি না নরককুণ্ড!

    নিজের মাথার চুল দু’হাতে মুঠো করে চোখ বন্ধ করেছিল লালু। আর তখনই একটা মুখ ভেসে উঠেছিল ওর সামনে। ও যেন দেখতে পেয়েছিল, ওর দিকে তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে রেখেছে একটা লোক। সে বলছে, “আমার নাম রূপবান।

    ওই দাঁড়িয়ে আছে পাখিদা। কনুই অবধি গোটানো লম্বা হাতার টেরিকটের শার্ট, এলোমেলো চুল, বগলে একটা ফোলিও ব্যাগ আর পায়ে ক্যাম্বিসের জুতো। একটা মিষ্টির দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে মোবাইলে কী একটা দেখছে।

    “পাখিদা,” সামনে গিয়ে লালু আলতো করে ডাকল।

    “ইঃ, লাটসাহেব এসেছে!” পাখিদা মুখ তুলে তাকাল, “তোর জন্য দশ মিনিট ওয়েট করছি। আমার সময়ের দাম নেই! লেট করলি কেন?”

    লালু হাসল। বলল, “একটা কাজ ছিল শোভাবাজার মেট্রো স্টেশনের কাছে। তার পর অফিস টাইমে বাসে এত ভিড় যে, বাসে উঠিনি। আর এই পা নিয়ে কী করে তাড়াতাড়ি হাঁটি বলো?”

    “ভিড়ের জন্য বাসে উঠিসনি? আবার ঢপ মারছিস? পিঁপড়ের পিছন টিপে গুড় বের করে খাওয়া পাবলিক তুই। বাসে উঠবে। সেই টাকাও তুই ঝাড়বি। আমি চিনি না তোকে!” পাখিদা কথা শেষ করে নাক দিয়ে একটা বিরক্তিসূচক আওয়াজ বের করল।

    লালু বলল, “কী করব পাখিদা! টাকার দরকার আমার। অনেক টাকার।”

    “কেন, কী করবি অনেক টাকা দিয়ে? ক্রিকেটের টিম কিনবি? আমি কিন্তু তোকে টু পারসেন্টের বেশি দিতে পারব না,” পাখিদা সতর্ক গলায় বলল।

    লালু দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাসল নিজের মনে। যে যার ধান্দায় আছে। বলল, “বাদ দাও। কাজটা সেরে নিই।”

    ব্যাগ থেকে এবার ট্যাব বের করল লালু। কাল পাখিদা কয়েকজন ছেলের ছবি পাঠিয়েছিল ওকে। ম্যাডাম সেখান থেকে একজনকে পছন্দ করে দিয়েছে। ট্যাব অন করে সেই ছবিটা ও দেখাল পাখিদাকে।

    পাখিদা জিজ্ঞেস করল, “পৌঁছে যাবে। তুই এনেছিস টাকা?”

    “হ্যাঁ,” লালু, ম্যাডামের দেওয়া খামটা বের করে দিল।

    পাখিদা খামটা খুলে দেখল। তার পর লালুকে ওর টাকাটা দিয়ে বলল, “শুধু ম্যাডামের কাট নিয়ে তোর কত দিন চলবে? আরও ক্লায়েন্ট জোগাড় কর। ম্যাডামের তো বিউটি পার্লার আছে। সেখানে তো ভাল ভাল ক্লায়েন্ট আসে। তাদের ধর। আরে, বিজনেস এক্সপ্যান্ড না করলে কী করে হবে?”

    লালু প্রথমে ট্যাবটা ঢোকাল ব্যাগে, তার পর টাকাটা বুক পকেটে ঢুকিয়ে বলল, “কী যে বলো! আমাদের পার্লার ওরকম জায়গা নয়। ম্যাডাম জানতে পারলে ক্যালাবে!”

    পাখিদা বলল, “জানতে পারবে কেন? তুই গান্ডু নাকি? তোকে আমি ক্যাটালগ পাঠিয়ে দেব। চুপচাপ দেখাবি। আমি টু পারসেন্ট দেব আমার টাকা থেকে। কিন্তু তুই এক্সট্রা হাজার, দু’হাজার চার্জ করতে পারলে তোর উপরি হবে।”

    লালু বিরক্ত হল এবার, “এ সবের দালালি করব এখন?” “কেন, খারাপ কী! বিজনেস তো!” পাখিদা রাগে মাথা নাড়াল, “আমি কোন বাড়ির ছেলে জানিস? জানিস, একসময় আমাদের ক’টা হাতি ছিল? আমাদের বাড়িতে বড়লাট কতবার এসেছে জানিস? তাও আমি এই কাজ করি। কারণ, এটা বিজনেস। ডিমান্ড আর সাপ্লাইয়ের বিজনেস।”

    লালু চুপ করে রইল। সবাই সব কিছু বুঝবে না। বেকার বুঝিয়ে লাভ নেই। এমনিতেই ওর মাথা-ফাথা ঠিক নেই, কী বলতে কী খিস্তি-ফিস্তি দিয়ে দেবে, পাখিদার প্রেস্টিজ গ্যামাক্সিন হয়ে যাবে! তার চেয়ে এখান থেকে সরে পড়াই ভাল।

    লালু বলল, “আমি আসি। আমার কাজ আছে!”

    “তুই আর তোর ভাটের কাজ! কাজ মারাচ্ছে, শালা! বলে দালালি। এই যে টাকা নিচ্ছিস সেটা কিসের টাকা রে? দালালির নয়? শুয়োরের বাচ্চা বলে কিনা দালালি! যা, পাঠাব না ছেলে তোর ম্যাডামকে। যা পারিস করে নে,” পাখিদা আচমকা খেঁকিয়ে উঠল।

    লালুর কী যে হল হঠাৎ মাথার মধ্যে! শুয়োরের বাচ্চা! ওর বাপ-মা তুলে আবার খিস্তি করা! সবাই ওকে বাজে কথা বলবে! বাপ-মা তুলবে। আর ওকে সহ্য করতে হবে! কেন? কী অন্যায় করেছে ও?

    লালু আচমকা বুক পকেট থেকে কমিশনের টাকাটা বের করে দলা পাকিয়ে ছুড়ে মারল পাখিদার মুখে। তার পর চিৎকার করে বলল, “রাখ তোর টাকা শুয়োরের বাচ্চা! তোর টাকায় মুতি আমি! বড় বাড়ির ছেলে! তোর পূর্বপুরুষ ব্রিটিশদের পা চেটে রোজগার করেছে আর এখন তুই মদ্দাদের পা চাটছিস। বেশি বললে না, তোর ওই পুরনো কঙ্কালের মতো বাড়িতে গিয়ে সব ফাঁস করে দেব। ছেলে সাপ্লাই করে বাঞ্চোত আবার বেশি বাতেলা! হারামি শালা!”

    পাখিদা প্রচণ্ড ঘাবড়ে গিয়ে কী বলবে বুঝতে পারল না। চোখ-মুখ লাল করে তাকিয়ে রইল।

    লালু বলল, “আর, ফের বাজে কথা বললে না পেছনে বাঁশ দিয়ে সারা কলকাতায় প্ল্যাকার্ডের মতো ঘোরাব। টাকা নিয়েছিস, ছেলে সাপ্লাই করবি। জানিস তো, ম্যাডামের কত বড় হাতা গলার মধ্যে দিয়ে ঢুকিয়ে আখরোট টেনে বের করে আনবে। শুয়ার কা বাচ্চা। ভাগ এখান থেকে!”

    লালু কথা শেষ করেই সামনে দাঁড়ানো একটা বাসে কোনও মতে উঠে পড়ল। বাসটা ছেড়েও দিল সঙ্গে সঙ্গে। লালু বাসের দরজা থেকে মুখ বাড়িয়ে চেঁচিয়ে বলল, “ছেলে পাঠিয়ে দিবি পাখি! দালালির টাকা নিয়েছিস মনে রাখিস। না হলে তোর পাখি কী করে ওড়াতে হয় দেখবি বাঞ্চোত!”

    লালু দেখল, রাস্তার লোকজন পাখিদার দিকে তাকিয়ে আছে। পাখিদা মাটি থেকে লালুর ফেলে দেওয়া টাকা কুড়োচ্ছে। লালুর বুকে একটা শাস্তি এল যেন। বাপ-মা তুলে কথা বলছে! সাহস কত!

    বাসটা চলছে এখন। ভিড়ের মধ্যে পাশের সিট থেকে একজন বয়স্ক লোক বকের মতো গলা বাড়িয়ে বলল, “কী কেস ভাই?”

    লালু তাকাল লোকটার দিকে। তার পর বলল, “খুব অসভ্য কেস দাদু। ওই লোকটা ছেলে সাপ্লাই করে। পুরুষ বেশ্যা। হেভি ফিগার। বুঝলেন? লাগবে আপনার?”

    লোকটা থতমত খেয়ে বলল, “এ সব কী কথা!”

    “চুপচাপ সিটে বসুন তা হলে। কোথায়, কী, কেন? এত কৌতূহল কিসের? বাড়িতে টিভি নেই? সেখানে সন্ধেবেলা ঝগড়া দেখে মন ভরে না?” লালু খড়খড়ে গলায় বলল। তার পর কন্ডাক্টরের দিকে একটা কুড়ি টাকার নোট বাড়িয়ে একই ফোর্সে গড়গড় করে বলল, “সোনাগাছি যাব। সেই ভাবে টিকিট দাও।”

    লালু দেখল, গোটা বাসের লোক ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে হাঁ করে! লালু মাথা নাড়াল। তার পর জোরে জোরে বলল, “শালা, এরা মানুষ!”

    বারান্দায় আজ বেশ ভিড় হয়ে আছে। না, কাস্টমারদের ভিড় নয়। স্বপ্না, বৈশাখী, দীপা, কোয়েল-সহ আরও কয়েকজন মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর সবার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে কমলাদি। সবার মুখেই উদ্বেগ। সবাই বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকলেও, সবার চোখ অঞ্জনার ঘরের দিকে।

    ব্যাপারটা কী! লালু একটু দ্রুত এগোল ঘরের দিকে। ওকে দেখে কমলা সরে এল।

    লালু জিজ্ঞেস করল, “কী ব্যাপার? তোমরা সব এখানে? আজ কাজে বসেনি কেউ?”

    কমলা বলল, “আরে, বলিস না! মেয়েটার আজ খুব শরীর খারাপ। বুঝিসই তো। অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। ডাক্তার এসে কী সব ইনজেকশন দিল। তার পর এখন কিছুটা ঠিক আছে। ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। এই অবস্থায় কিছু করা যায় নাকি! আমাদের টাকার দরকার। তাই বলে অমানুষ তো নই কেউ! আমি চেষ্টা করেছি। সমিতিতে গিয়েছি। আশপাশে বলেছি অনেককে। লাখ দেড়েক টাকার মতো উঠতে পারে। কিন্তু আপাতত তো পাঁচ লাখ লাগবে। তার পর আরও ছয়-সাত। দেড় লাখে তো কিছু হবে না, তাই না?”

    লালু চোয়াল শক্ত করল। তার পর আস্তে আস্তে ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। দেখল, বিছানায় ঘুমিয়ে আছে ছুটি। পাশে ছলছলে চোখে বসে অঞ্জনা। লালু ঘরের মধ্যে ঢুকল।

    কমলা বুঝল, ওদের এবার একা থাকতে দেওয়াই ভাল। সে সবাইকে এক রকম তাড়িয়ে নিয়েই চলে গেল ওখান থেকে। শুধু যাওয়ার আগে বলে গেল, কিছু দরকার হলে যেন একবার হাঁক দেয়।

    মাথার ওপর কিচকিচ শব্দ করে ফ্যান চলছে। ঘরের মধ্যে আলোও কম। একটা ডিম লাইট জ্বলছে দরজার ওপর।

    লালু গিয়ে দাঁড়াল বিছানার পাশে। ছুটির ঘুমন্ত, আবছা মুখটা দেখলে কে বলবে মেয়েটার এরকম শরীর খারাপ! অঞ্জনা তাকাল এবার।

    অল্প আলোতেও লালুর বুঝতে অসুবিধে হল না যে, মেয়েটা খুব কেঁদেছে! লালু গলা নামিয়ে জিজ্ঞেস করল, “এত কিছু হয়ে গেল, আমায় ফোন করোনি কেন?”

    অঞ্জনা হাসল। ম্লান হাসি। বলল, “কী হবে? তুমি ডাক্তার? কিছু করতে পারবে? তা ছাড়া আমার ব্যাপার আমাকেই সামলাতে হবে।”

    “তোমার ব্যাপার মানে?” লালু আস্তে করে বসল বিছানার এক পাশে। “মানে, ছুটি আমার মেয়ে। ওর তো বাপ নেই। তাই বাপও আমি। ওর যা কিছু তার দায় আমার। তার জন্য আমায় যা করতে হয় করব। তোমাকে এর মধ্যে জড়াতে চাই না,” অঞ্জনা কথাগুলো বলে চোখ সরিয়ে নিল।

    “আশ্চর্য কথা বলছ তো! এর মানে কী!” লালু ভুরু কুঁচকে তাকাল অঞ্জনার দিকে, “আমি কেউ না? আমি তোমার কেউ না অঞ্জনা?”

    “না, কেউ না,” অঞ্জনা মৃদু, কিন্তু নিশ্চিত ভাবে বলল।

    লালু কী বলবে যেন বুঝতে পারল না। বুকের মধ্যে কেমন একটা কষ্ট হচ্ছে ওর। অঞ্জনা ওকে এ ভাবে বাতিল করে দিল! কিন্তু ও করলটা কী? অঞ্জনা যদি জানত ও টাকার জন্য কী লাঞ্ছনা সহ্য করেছে! যদি জানত কী ভাবে এখন প্রতি মুহূর্তে ও নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করছে, আচমকা আসা একটা সুযোগ নেবে কি নেবে না এই ভেবে! যদি অঞ্জনা জানত রূপবানের কথা!

    অঞ্জনা বলল, “আমি মোটামুটি পাঁচ লাখ টাকার একটা ব্যবস্থা করেছি। মানে, প্রাথমিক ভাবে কথা হয়েছে। এখনও পাকাপাকি হ্যাঁ বা না বলিনি। কিন্তু আজ যা হল, আর আজ ডাক্তারবাবু যা বলে গেল, তার পর আর ভাবার সময় নেই। হ্যাঁ বলে দিতেই হবে।”

    লালু অবাক হল, “পাঁচ লাখ টাকা! তুমি বন্দোবস্ত করেছ! কী করে? আর কী কাজ করবে যে, এত টাকা তোমায় দেবে কেউ?”

    অঞ্জনা একটা দীর্ঘশ্বাস চেপে বলল, “সিনেমা করব।”

    “সিনেমা!” লালু হাঁ হয়ে গেল।

    “হ্যাঁ। ছোট ছোট। সব মিলিয়ে বারোটা। আধ ঘণ্টা করে। মোট পাঁচ লাখ দেবে,” অঞ্জনা কপালের ওপর পড়ে থাকা চুলটা সরিয়ে কানের পিছনে নিল।

    লালু ভুরু কুঁচকে সামান্য গলা তুলে বলল, “কী? কী সিনেমা?”

    “আস্তে কথা বলো। ছুটি ঘুমোচ্ছে!” অঞ্জনা চাপা গলায় ধমক দিল। তার পর বলল, “ব্লু ফিলিম। এই লাইনে নেমেছি যখন, তখন অত ঘোমটা দিলে হবে না। আর আমার টাকার দরকার। সে দিন একজন এসেছিল। কাস্টমার নয়। অন্য একজন। নাম মোহনবাবু। সে-ই বলেছে। কয়েক দিন আগেই ব্যাপারটা হয়েছিল। তার পর আবার ফোন করেছিল জানার জন্য যে, আমি কী বলব। আর তার সঙ্গে বার বার জিজ্ঞেস করেছিল আমার বা কারও আপত্তি আছে কি না। আমি বলে দিয়েছিলাম, কারও আপত্তি নেই। কে আছে আমার যে আপত্তি করবে! কিন্তু তাও সে বলেছে কারও আপত্তি থাকলে তার সঙ্গে যেন কথা বলে নিই। কারণ, সে টাকা ঢালবে, পরে যেন কেউ এসে ঝামেলা হুজ্জতি না বাঁধায়– সেটাই নিশ্চিত করে নিতে চায়। আমি বলেছি ভেবে জানাব। কিন্তু বুঝতে পারছি যে, দেরি করা যাবে না আর।”

    “মোহনবাবু! তুমি ঘরে লোক নিচ্ছ?” লালু অবাক হল।

    “না নিচ্ছি না। সে আমায় আঙুল দিয়ে ছুঁয়েও দেখেনি। মেয়ের এই অবস্থায় ঘরে লোক নেব! সে এসেছিল এই কাজের জন্যই। এই অফার দিতেই,” অঞ্জনা বলল, “কোথা থেকে খবর পেয়েছে কে জানে! কিন্তু ভগবানই যেন পাঠিয়ে দিয়েছেন।”

    “ভগবান না শয়তান! তুমি ও সব নোংরা ছবি করবে!” লালুর মাথায় যেন আগুন লেগে গেল। ও ভাবতেই পারছে না অঞ্জনা ক্যামেরার সামনে ওই ভাবে দাঁড়াবে।

    “কেন? আমি ঘরে লোক নিই না?” অঞ্জনা খর গলায় বলল।

    “আমি চাই না তুমি লোক নাও। কিন্তু কথা তো শোনো না আমার। আর দুটো এক জিনিস নয়। আর শোনো, এমন সিনেমা আমি মরে গেলেও তোমায় করতে দেব না। কিছুতেই না,” লালু উঠে দাঁড়িয়ে জেদের গলায় বলল।

    “কেন করতে দেবে না? তুমি কে জোর করার? আমার মেয়ে যখন, আমিই টাকা জোগাড় করব। দরকারে সবার সামনে জামাকাপড় খুলতে হলেও খুলব,” অঞ্জনা জেদের সঙ্গে বলল।

    “আমি বলছি, তুমি অমন করবে না!” লালু অঞ্জনার সামনে গিয়ে দাঁড়াল।

    “কী অধিকারে এ সব বলছ তুমি? কে দেবে টাকা? তোমার মুরোদ আছে?” অঞ্জনা হিসহিসে গলায় বলল।

    “কী অধিকারে? কী অধিকারে?” লালু ফুঁসতে ফুঁসতে আচমকা অঞ্জনার মাথার পিছনটা চেপে ধরে নিজের সামনে টেনে আনল, তার পর জোর করে অঞ্জনার ঠোঁটে চেপে ধরল নিজের ঠোঁট। অঞ্জনা প্রথমে বাধা দিলেও পরমুহূর্তেই দু’হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরল লালুকে। তার পর দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরল ওর ঠোঁট।

    ফ্যানের কিচকিচ শব্দটা শোনা যাচ্ছে শুধু। লালুর কাছে যেন মুছে গিয়েছে আর সব কিছু। অঞ্জনাকে ও কিছুতেই ওই পথে যেতে দেবে না। কিছুতেই ওকে নামতে দেবে না ওই অন্ধকারে। ও দু’হাত দিয়ে প্রাণপণে জড়িয়ে ধরল অঞ্জনাকে। বুঝতে পারল, ওর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। অঞ্জনারও তাই। চুম্বনের সিক্ততায় মিশে যাচ্ছে অশ্রু।

    কিছু পরে অঞ্জনা আলগা করে ছাড়ল লালুকে। কিন্তু লালু ছাড়ল না। অঞ্জনা ওর বুকের কাছে মাথা রেখে বলল, “তুমি বলো, আমি কী করব? মেয়েটাকে এই ভাবে মারা যেতে দেব? সরকারি ভাবে চিকিৎসা করালে কী হবে জানো না? সেই ভরসায় মেয়েকে ফেলে রাখব?”

    লালু, অঞ্জনার চুলের মধ্যে হাত ডুবিয়ে বলল, “আমি টাকার ব্যবস্থা করে দেব। তুমি ভেবো না। ওই লোকটাকে ফোন করার দরকার নেই। ও সব করার কথা মোটেও ভাববে না। আমি বেঁচে থাকতে তুমি ও সব করবে না।”

    অঞ্জনা আলতো করে চিমটি কাটল লালুকে। বলল, “হুঁ! নিজেকে কী ভাবো? বীরপুরুষ, না প্রসেনজিৎ তুমি?”

    লালু বলল, “দেখতেই পাবে আমি কে!”

    রাতে খাওয়ার পর ঘরে এসে শুতে যাবে লালু, ঠিক তখনই ফোনটা আবার এল আজ। তাকিয়ে দেখল ফোনটার দিকে। রূপবান! কথা বলে এই কলটা কাটল লালু। কে এই লোকটা! ধূমকেতুর মতো কোথা থেকে এসে উদয় হল! আজকাল মাঝে মাঝে ফোনে কথা হয়। কী শান্ত ভঙ্গিতে কথা বলে লোকটা।

    ফোনটা হাতে নিয়ে ঝুম হয়ে একটু বসে রইল লালু। কী করতে যাচ্ছে ও! এটা তো ঠিক কাজ নয়! কিন্তু এ ছাড়া আর উপায়ই-বা কী আছে! অঞ্জনা আর ছুটির জন্য এ ছাড়া তো আর কোনও উপায়ই নেই ওর।

    লালু উঠল। ফোনটা বারমুডার পকেটে ঢুকিয়ে দরজার চাবিটা নিয়ে টি-শার্টের বুক পকেটে রাখল। তার পর ঘর থেকে বেরিয়ে দরজাটা টেনে বন্ধ করে দিল। কবির কাছে যেতে হবে ওকে।

    কবির ঘরের দরজা খোলা আছে একটু। ওই ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতর থেকে লম্বা একটা আলো এসে পড়েছে বারান্দায়।

    লালু দরজায় আলতো টোকা দিল।

    “কে?” কবি জিজ্ঞেস করল।

    লালু বলল, “আমি রে! আসব?”

    “হ্যাঁ, আয়,” কবি ছোট্ট করে বলল।

    কবির ঘরটা সুন্দর করে সাজানো। লালু দেখল, কবি বিছানায় বসে ফোনটা ঘাঁটছে। কী হয়েছে ছেলেটার? আজকাল কেমন যেন মুখচোখ শুকনো লাগে ওর। মনে হয় গোপন কোনও এক কষ্ট যেন ঘুণের মতো ওর ভেতরে সিঁদ কেটে চলেছে। এত চাপা ছেলে! কিছু বলে না। তাই কিছু বোঝাও যায় না।

    লালু ঘরে ঢুকে বিছানার পাশে বসল। দেখল, কবি তাকাচ্ছে না ওর দিকে। ফোনের মধ্যেই ডুবে আছে। লালু জিজ্ঞেস করল, “কেমন আছিস তুই?” কবি কিছু না বলে মাথা নাড়ল শুধু। লালু বলল, “ঢপ মারছিস! মোটেও ভাল নেই তুই। সারাক্ষণ মুখটা কেমন যেন বাংলার পাঁচের মতো করে থাকিস। কেসটা কী বল তো? কী হয়েছে?”

    কবি ফোনটা বন্ধ করে ওর দিকে তাকাল। তার পর বলল, “কিছু বলবি?”

    লালু ঠোট চাটল একটু। শীতের শেষটায় খুব ড্রাই লাগে সব কিছু। ঠোঁট ফাটে খুব। চোখ জ্বালা করে।

    কবি বলল, “কিছু বলার হলে বল। আমি শোব।”

    “একটা দরকার আছে তোর সঙ্গে। একটু প্রাইভেট। তুই শুনবি?” লালু সঙ্কোচের সঙ্গে বলল।

    “কী হল আবার?” কবি ভুরু কুঁচকে তাকাল। লালু বলল, “আগে সবটা শুনবি, তার পর ‘হ্যাঁ’ ‘না’ যা বলার বলবি, কেমন?”

    কবি তাকিয়ে রইল। মানে, ও শুনছে লালুর কথা।

    লালু চটি খুলে পা তুলে বসল বিছানায়। তার পর বলল, “আসলে ব্যাপারটা খুব প্রাইভেট আর আর্জেন্ট। তোর হেল্প লাগবে। তবে তার আগে একজনের সম্বন্ধে তোকে একটু বলে নিই। মানে, তার সম্বন্ধে আমি কিছু জানি না। কিন্তু প্রস্তাবটা সেই এনেছে। তাই তার নামটা তোর জানা দরকার।”

    কবি জিজ্ঞেস করল, “কে? কী নাম?” লালু কোনও ভণিতা না করে বলল, “লোকটার নাম রূপবান।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)
    Next Article কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Our Picks

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }