২১. ঝিরি
এই ছোট্ট শহরটায় পাখিদের বড় বাড়াবাড়ি। সারা দিন কতরকম পাখি যে দেখা যায়! এত ভাল লাগে! যে-অঞ্চলে পাখিদের সংখ্যা বেশি, সেখানকার মানুষ সুখী হয় বলে মনে করে ঝিরি।
আজ আচমকা এখানে বৃষ্টি হয়েছে। আশপাশে কোথাও হয়নি, শুধু এই মাখনপুরে হয়েছে। কেন এমন হল কে জানে! বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে। এখনও মেঘ করে আছে। অভিমানী নদী থেকে ঠান্ডা একটা হাওয়া ভেসে আসছে। আর তার মধ্যে এই সন্ধের মুখে বাসায় ফিরে এসে পাখিরা কিচিরমিচির করেই চলেছে।
আজ কলকাতা থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছে ঝিরি। যা কাজ ছিল, সেটা হয়ে গিয়েছে। ফলে আর থাকেনি ওই ধুলো-ধোঁয়ার শহরে।
পলিটিকাল লোকজন ওকে নানা সময়ে নানা কাজে লাগায়। কখনও শুধু খোঁজখবর করার কাজ থাকে। আবার কখনও কোনও কাজ করে দেওয়ার জন্য বলে। ঝিরি জানে, রাজনীতির খেলাটা অনেকটা দাবা খেলার মতো। প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে মনে মনে লড়ে যাচ্ছে। আর এই লড়াইয়ের গজ, ঘোড়া, নৌকো হল ইনফরমেশন আর ইনফ্লুয়েন্স!
একরকম ইনফ্লুয়েন্স আছে, যা সরাসরি প্রয়োগ করা হয়। যেমন পুলিশ, আইনি সংস্থা বা ওই ধরনের কোনও এজেন্সির মাধ্যমে বলপ্রয়োগ করে নিজের ইচ্ছে মতো কোনও মানুষকে দিয়ে কাজ করানো। আবার অন্য আর এক ধরনের ইনফ্লুয়েন্সও আছে। যাকে বলে ‘সাটল ইনফ্লুয়েন্স’। যা ঠিক আইনের পথে চলে না। আর এখানেই আসে ঝিরি। ওর কাজই হল মানুষকে এমন ভাবে ইনফ্লুয়েন্স করা, যাতে তারা বুঝতে না পারে যে, তাদের ওপর চাপ দিয়ে কোনও কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে!
ঝিরি এই কাজে সিদ্ধহস্ত। ও জানে, এই সব ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট মানুষকে তার জীবনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এমন একটা অবস্থার মধ্যে ফেলতে হয়, যাতে সে ঝিরির নির্দেশ মতো অন্যকেও ইনফ্লুয়েন্স করতে বাধ্য হয় কোনও কাজ করার ব্যাপারে। মানে, যাকে বলে ডমিনো এফেক্ট। এটা এফেক্টিভলি অন্যের ওপর প্রয়োগ করতে ঝিরির জুড়ি নেই!
আজ সেই কাজটাই করে এসেছে ঝিরি। হ্যাঁ, যে দুর্বলতাটাকে ও ব্যবহার করেছে নিখুঁত ভাবে। না, তার জন্য ঝিরি মোটেও গর্বিত নয়। কিন্তু উপায় নেই। সময় দ্রুত কমে আসছে। ওকে তাড়াতাড়ি রেজাল্ট দিতে হবে। আর তার জন্য এই ‘পুশ’-টা দরকার ছিল। আজ ও প্রথম চালটা দিয়ে এসেছে। এবার দু’দিন পর দেবে দ্বিতীয় চালটা। দেখতে হবে প্রথম চালের ডমিনো এফেক্ট-টা কী ভাবে কাজ করে দ্বিতীয় চালের ওপর!
গায়ে একটা হাফ হাতা সোয়েটার চাপিয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে ছাদে এসে দাঁড়াল ঝিরি। বিকেল গাঢ় হচ্ছে মাখনপুরে। বাড়ির পাশের ঘন গাছপালার মধ্যে পাখিদের কিচিরমিচির যেন বেড়েই চলেছে। সত্যি, এখানে পাখিদের বড় বাড়াবাড়ি!
শান্তিপুরে ওদের বাড়িটা ছিল ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায়। সে ভাবে পাখিটাখি ও খেয়াল করতে পারেনি। তবে ওর মনে আছে, জগন্নাথমামা ওদের জন্য খাঁচাসমেত একটা টিয়া পাখি কিনে এনে দিয়েছিল। ঝিরির আনন্দ হয়েছিল খুব। ভেবেছিল পাখিটাকে যত্ন করে পুষবে।
ঝিরি শুনেছিল টিয়া পাখি কথা শেখে। কিন্তু ওদের টিয়াটা কথা বলত না। সারাক্ষণ কেমন যেন মনমরা হয়ে থাকত। মা কয়েক দিন দেখার পর খাঁচা খুলে উড়িয়ে দিয়েছিল পাখিটাকে।
কিন্তু পাখিটা বেশি দূরে যায়নি। পরের দিনই সেটাকে মরে গেটের কাছে পড়ে থাকতে দেখেছিল ঝিরি। মনখারাপ হয়েছিল সামান্য। এখনও ওর মনে আছে, একটা খালি জুতোর বাক্সের মধ্যে খবরের কাগজের কুঁচি ভরে, তাতে পাখিটাকে শুইয়ে ও একটু দূরে একটা ঝোপের মধ্যে পুঁতে দিয়েছিল।
সেই প্রথম আর শেষ কোনও পাখিকে ও পোষার চেষ্টা করেছিল। ওই যে সামান্য একটা কুয়াশার মতো পাতলা মনখারাপ হয়েছিল, সেখান থেকেই ও বুঝেছিল, কারও জন্য মায়া বাড়ানোর মতো অসুবিধেজনক ব্যাপার আর কিছু হয় না। সেই কিশোর বয়সে ঝিরি যা শিখেছিল, তা এই আটত্রিশে এসেও মেনে চলার চেষ্টা করছে ঝিরি!
মায়া খুব খারাপ জিনিস। এটা মনে পুষে রাখে বলেই মানুষ সবচেয়ে দুর্বল প্রাণী। এই যে লোককে ম্যানিপুলেট করে ঝিরি নানা কাজ করে বা করায় সেটা ও পারে, কারণ মানুষের মনে মায়া নামক এই দুর্বলতাটা আছে বলেই।
ঝিরি চায় ওর যাতে কোনও রকম দুর্বলতা না থাকে। আর সেটার জন্য আপ্রাণ চেষ্টাও করে ও। কিন্তু ইদানীং সেই চেষ্টাতেই কেমন যেন কিছুটা গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। ঝিরি বুঝতে পারছে, একা কুম্ভের লড়াইটা ক্রমশ কেমন যেন জোলো হয়ে যাচ্ছে। বুঝতে পারছে, কুম্ভ যেন আর নিজেই লড়াই করতে চাইছে না।
“রিপাপিসি, ঝিরিকাকা এসেছে গো?”
নীচ থেকে মিন্টুর গলা পেল ঝিরি। ও ছাদের যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, সেই জায়গাটা বেশ ঝাঁকড়া একটা আম গাছ আর লিচু গাছ দিয়ে ঢাকা। তাই বাড়িতে ঢোকার গেট থেকে ঠিক দেখা যায় না এখানে কেউ দাঁড়িয়ে রয়েছে কি না!
ঝিরি আড়ালে থেকেই শুনল রিপা বলছে, “কেন রে? আজ আবার ওই হাঁদা লোকটার ঘাড় ভেঙে কিছু খাওয়ার মতলব করছিস, না?”
এবার গাবলু বলল, “এ বাবা! কী যে বলো! আমরা কি রাক্ষস নাকি যে, ঘাড় ভেঙে খাব?”
রিপা বলল, “তোরা এক একটা খুদে রাক্ষস! বদমাশের গাছ। ওকে ভালমানুষ পেয়ে তোরা কী করিস আমি জানি না?”
ভালমানুষ! ঝিরি হাসল নিজের মনে। না, এ কোনও আনন্দের হাসি নয়। এ হাসি বিষণ্ণতার। মানুষ নিজে সবচেয়ে ভাল বোঝে সে খারাপ না ভাল। অধিকাংশ সময় সে এই বোঝাটাকে এড়িয়ে যায় একটু সুখস্বাচ্ছন্দে বেঁচে থাকার তাগিদে। কিন্তু মনে মনে সে জানে, কোথায় কোথায় আর কখন কখন সে ততটাও ভাল হয়ে থাকতে পারেনি। এই যেমন এখন ঝিরির মনে পড়ে গেল, ও কেমন নিষ্ঠুরের মতো কাজ করেছে। মনে পড়ে গেল, অঞ্জনা নামে সেই মেয়েটার অসহায় চোখ দুটো। রিপা যদি এ সব জানত, তা হলে কি মিন্টু-গাবলুদের অমন করে বলতে পারত!
ঝিরির মনে পড়ে গেল, সে দিন সেই আবছায়া গলি থেকে বেরিয়ে রাস্তার ওপরে দোকানে দাঁড়িয়ে বৈশাখী একটা নয়, পরপর দুটো চিকেন রোল খেয়েছিল। তার পর বলেছিল, “একটা কোল্ডিস খাওয়াও।”
ঝিরি কিনে দিয়েছিল কোল্ড ড্রিংকের একটা বোতল। তার পর শান্ত, বন্ধুত্বপূর্ণ গলায় জিজ্ঞেস করেছিল, “অঞ্জনার কে হয় লালু?” “তুমি জেনে কী করবে?” বোতলটা দু’হাতে ধরে বৈশাখী জিজ্ঞেস করেছিল।
“এমন তো উল্টো প্রশ্ন করার কথা ছিল না!” ঝিরি হাসিমুখেই বলেছিল।
বৈশাখী কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলেছিল, “লালু আসলে ভালবাসে অঞ্জনাকে। আর অঞ্জনার মেয়ের তো কী এক রকমের ক্যানসার হয়েছে। খুব কঠিন রোগ। অনেক টাকা লাগবে। তাই তো আজ মহিলা সমিতিতে গিয়েছে সাহায্য পাওয়া যায় কি না দেখতে।”
“লালু ভালবাসে! সত্যি!” ঝিরি জিজ্ঞেস করেছিল।
বৈশাখী বলেছিল, “হ্যাঁ। খুব। এমনকি, ঘরে যেন লোক না বসায় সেই নিয়েও বেশ ঝামেলা হয় ওদের মধ্যে। লালু খুব আঁকুড়ে টাইপের। আমার মাইরি অবাক লাগে! লাইনের মেয়ের সঙ্গে প্রেম করলে তো ভাই এটা মেনেই নিতে হবে যে, ঘরে লোক সে নেবে। বিজনেস তো বিজনেস, তাই না, বলো?”
ঝিরি নিজের মনেই বলেছিল, “পজেসিভ!”
“কী!” বৈশাখী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল।
“কিছু না। তা, লালুও নিশ্চয়ই ওই ছুটি বলে মেয়েটার জন্য চিন্তিত!” ঝিরি তাকিয়েছিল বৈশাখীর দিকে।
বৈশাখী বোতলটা শেষ করে বলেছিল, “খুব চিন্তিত। স্বাভাবিক। ছুটি খুব ভাল মেয়ে। কিন্তু এতগুলো টাকা! আমরাও সবাই কিছু করে দেব। কিন্তু আমাদের আর কী ক্ষমতা বলুন! লালু যে খুব চেষ্টা করছে কমলাদি বলছিল। কিন্তু অত টাকা পাওয়া যায়! কে দেবে?”
ঝিরি পকেট থেকে দুটো পাঁচশো টাকার নোট বের করে দিয়ে বলেছিল, “আমার সঙ্গে কিন্তু তোমার কোনও কথা হয়নি। কেমন?”
টাকাটা নিয়ে বৈশাখী জিজ্ঞেস করেছিল, “ওদের কোনও ক্ষতি করবে না তো?”
“একদম না। বরং সাহায্য করব। শুধু তুমি কাউকে কিছু বোলো না। তা হলে ওদের সাহায্য করতে আমার অসুবিধে হবে, বুঝলে?” ঝিরি চলে যাওয়ার আগে জিজ্ঞেস করেছিল, “আচ্ছা, কমলাদি কে?”
“আমাদের বাড়ির দিদি। সব দেখাশুনো করে,” বৈশাখী বলেছিল। সে দিন আর দাঁড়ায়নি ঝিরি। যা জানার তা জেনে নিয়েছে। ও গাড়ি ধরে স্টেশনের দিকে যাবে বলে বড় রাস্তায় যাচ্ছিল। শিয়ালদা স্টেশনের কাছে, সেই ছেলেটার থেকে কাকিমার জন্য জর্দাও যে কিনতে হবে।
যে কাজটা ঝিরি নিয়েছে, সেটা খুব সহজ কাজ নয়। কিন্তু ওকে কাজটা দ্রুত শেষ করতে হবে। সানুদা চাপ দিচ্ছে খুব। ও জানে এই ধরনের কাজে টাইমটা খুব বড় একটা ফ্যাক্টর!
সে দিনের পরে অঞ্জনার সম্বন্ধেও একটু খোঁজখবর করেছে ঝিরি। তা থেকে জানতে পেরেছে, অঞ্জনা হতভাগ্য মেয়ে। আঠারো বছর বয়স থেকে এই ব্যবসায় আছে। কোন এক জানোয়ার ওকে গ্রাম থেকে ফুসলে এখানে নিয়ে এসেছিল। ওর ব্যবসায়িক নাম, রোজি।
যে-গ্রাম থেকে অঞ্জনা এসেছিল, সেখানে অঞ্জনার আর কেউ নেই এখন। মানে অঞ্জনার সে ভাবে মেয়ে ছাড়া আর কেউ-ই নেই এই পৃথিবীতে। সেই মেয়ে অসুস্থ। আর তাই মেয়ের জন্য অঞ্জনা সব কিছুই করতে পারে। এই সব জেনেই আজ দুপুর নাগাদ ও গিয়েছিল অঞ্জনার কাছে।
ঝিরি পকেট থেকে একটা লজেন্স বের করে মুখে দিল। ট্রেনে একটা লোক বিক্রি করে। টক-ঝাল-মিষ্টি। কালো রঙের। কিছুক্ষণ খাওয়ার পর লজেন্সের পেটের মধ্যে থেকে জেলি বের হয়। অমৃত যে কত রূপে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন ঈশ্বর!
ঝিরি শুনতে পেল, এখনও গেটের কাছে রিপার সঙ্গে বাচ্চাগুলোর কথা হচ্ছে। আসলে বাড়িতে থাকলেই ওদের সঙ্গে খেলে ঝিরি। আর খেলার পর টুকটাক এটা-ওটা খাওয়া হয়। তাই বলে সেই জন্য যে বাচ্চাগুলো এসে ওকে খুঁজছে, তা নয়। এটাও জানে ঝিরি। বা বলা ভাল সেটা বিশ্বাস করতে ওর ইচ্ছে করে। বাচ্চাগুলো ওর থেকে বয়সে অনেক ছোট হলেও ওরা মেশে একদম বন্ধুর মতো!
কিন্তু আজ আর খেলতে ইচ্ছে করছে না ঝিরির। মেঘটা এমন হয়ে আছে যে, মনে হচ্ছে যে-কোনও সময়ে আবার বৃষ্টি নামবে। এদিকে কলকাতার দিকে আজ সব খটখটে শুকনো ছিল। আবহাওয়া যেন খেয়ালি বালক!
আবার ঘরের মধ্যে ফিরে গেল ঝিরি। একটা উইংড চেয়ার আছে ওর। এটা ভারী শখের জিনিস। মোটা গদি। খুব আরামের জায়গা।
সেটায় বসল ঝিরি। মাথাটা বেশ ধরেছে। এক কাপ চা করে খেলে ভাল হত। কিন্তু সত্যি বলতে কী, নিজে থেকে উঠে চা করে খেতে ইচ্ছে করছে না। ও হাত বাড়িয়ে টেবিলের ওপর থেকে একটা রোল-অন বাম নিয়ে মাথায় ঘষল। সারা ঘরে ইউক্যালিপ্টাস তেলের গন্ধ প্রজাপতির মতো উড়তে শুরু করল!
ঝিরি চোখ বন্ধ করল। কেমন একটা আলস্য এসে জড়িয়ে ধরছে লতানো গাছের মতো। আজ আসলে কিছু করতেই ইচ্ছে করছে না আর।
তবে ছোট্ট একটা কাজ বাকি আছে। একটা ফোন আসার কথা আছে। কখন যে আসবে! মেয়েটা কি রাজি হবে! সামান্য টেনশন হচ্ছে।
আজ দুপুরে ঝিরি যখন অঞ্জনার কাছে গিয়েছিল, তখন ওই পুরনো বড় বাড়িটা কেমন যেন ঝিম মেরে ছিল। দেখে বোঝাই যাচ্ছিল না যে, একটু পরে, পৃথিবীর আলো কমে এলে এই বাড়িটাই কেমন আমূল বদলে যাবে!
অঞ্জনার ঘরে ঢোকার আগে অবশ্য মধ্যবয়স্ক একজন মহিলার সঙ্গে দেখা হয়েছিল ঝিরির। বা বলা ভাল মহিলাটি ওর পথ আটকেছিল। ঝিরি হেসে বলেছিল, “আপনি কমলাদি তো? ভূষণ আপনার কথা বলেছিল আমায়। ফোন নাম্বারও দিয়েছিল কিন্তু হারিয়ে ফেলেছি!”
“ভূষণ!” কমলাদি বুঝতে পারেনি কার কথা বলছে ঝিরি। উল্টে জিজ্ঞেস করেছিল, “আপনি কে?”
ঝিরি মনে মনে হেসেছিল। ভূষণ নামটা এমনি বানানো। ও জানে এখানে এত লোক আসে যে, সে ভাবে কাউকে মনে রাখা সম্ভব নয়।
ঝিরি বলেছিল, “আরে, ভূষণ একবার এসেছিল এখানে। দিল্লিতে থাকে। খুব প্রশংসা করেছিল আপনার।”
কমলাদি কী বলবে বুঝতে না পেরে বলেছিল, “কিন্তু এখন তো কিছু হবে না। বিকেলে আসবেন।”
ঝিরি যেন শুনতেই পায়নি এমন করে বলেছিল, “রোজি মানে অঞ্জনার সঙ্গে আমার খুব দরকার।”
“ও বাবা!” কমলাদি ভুরু কুঁচকে বলেছিল, “সে তো এখন কাজ করছে না। মেয়ের খুব অসুখ তো! লোক নিচ্ছে না ঘরে।”
“না না, আমি বসতে আসিনি,” ঝিরি বলেছিল, “আমি এসেছি কাজে। জাস্ট দু’মিনিটের কথা আছে। ওঁর লাভের কথাই। অনেক দূর থেকে আসছি। প্লিজ, একটু দেখুন না। বেশি সময় নেব না, দু’মিনিট! প্লিজ!”
কমলাদি ভুরু কুঁচকে ওকে ভাল করে দেখেছিল কিছুক্ষণ। তার পর নিয়ে গিয়েছিল অঞ্জনার ঘরের কাছে। আলতো করে টোকা দিয়েছিল দরজায়।
ঝিরি এদিক-ওদিক মাথা ঘুরিয়ে দেখছিল। টানা বারান্দা। রংচটা দেওয়াল। সার দেওয়া বন্ধ দরজা। বাড়িটা বেশ পুরনো। কারা এই বাড়ি তৈরি করেছিল? আর সেটা এখন কী ভাবে এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে! কারা এই সব মেয়েকে নিয়ে আসে এখানে? তাদের কতটা অসহায়তা থাকলে তারা এমন একটা জীবন বেছে নেয়! কারণ, কেউ তো আর ‘বড় হয়ে এমন একটা জীবন কাটাব’ ধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগোয় না!
ওর মনে পড়েছিল জগন্নাথমামার কথা! জগন্নাথমামা বলত, “পেটের জন্য মানুষ পারে না এমন কাজ নেই। জানিস, আফ্রিকার নাইজেরিয়ায় এক গোষ্ঠীর মানুষ আছে, যারা ভয়ঙ্কর জীবজন্তুদের নিয়ে জীবন কাটায়। তাদের নিয়ে দূর-দূরান্তে ট্র্যাভেল করে। এক সঙ্গে থাকে, খায়, ঘুমোয়। নানা প্রজাতির বিষাক্ত সাপ, বেবুন, হায়না নিয়ে এরা দিন কাটায়। ভাব একবার! কেন? না পেটের জন্য!”
এই যে বাড়ি, এই যে এত মেয়ে, এরাও তো পেটের জন্যই এসেছে এখানে! কত না অবহেলা আর কষ্ট সহ্য করছে রোজ!
ঝিরি মাথায় নানা চিন্তা নিয়ে এ-ও ভাবছিল যে, বৈশাখী বলে মেয়েটার সঙ্গে যেন আবার না দেখা হয়।
খুট শব্দে দরজা খুলে গিয়েছিল। ঝিরি দেখেছিল একটা মেয়ে মুখ বের করল। মুখটা প্রসাধনহীন। ক্লান্ত দৃষ্টি। আলুথালু চুল। কিন্তু মোটের ওপর বেশ দেখতে!
মেয়েটা জিজ্ঞেস করেছিল, “কী কমলাদি?”
‘এই ভদ্রলোকের তোর সঙ্গে দরকার,” কমলা ঝিরির দিকে দেখিয়েছিল।
“আমি তো লোক নিচ্ছি না…”
“না না,” ঝিরি বুঝেছিল এই অঞ্জনা। ও নিজে থেকেই বলেছিল, “ম্যাডাম, আমার জাস্ট দু’মিনিটের কথা আছে। প্লিজ!”
অঞ্জনা ওকে ভেতরে আসতে না দিয়ে নিজেই বেরিয়ে এসেছিল বাইরে। বলেছিল, “ঘরে মেয়ে ঘুমোচ্ছে। ওর শরীরটা ভাল নেই। তাই…….”
“নো প্রবলেম,” ঝিরি কথাটা বলে কমলাদির দিকে তাকিয়েছিল। কমলাদি বুঝেছিল যা বোঝার। চলে যাওয়ার আগে বলেছিল, “বেশি মাথা খাবেন না কিন্তু।”
ঝিরি পাত্তা দেয়নি। ও তাকিয়েছিল অঞ্জনার দিকে। তার পর কথা শুরু করেছিল।
“আসব?” দরজার বাইরে রিপার গলা পেল ঝিরি। ও চোখ খুলল। এখন আবার মেয়েটা এল কেন!
ও বলল, “হ্যাঁ, এসো।”
রিপা দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকল। আর ঢুকেই থমকে দাঁড়িয়ে চারিদিকটা দেখল। ঝিরি ভাবল মেয়েটা বাবার হয়ে স্পাইগিরি করছে নাকি! ওদের বাড়িঘর ঠিক আছে কি না দেখতে এল কি!
ঝিরি কিছু না বলে তাকিয়ে রইল।
রিপা বলল, “এ কী করে রেখেছ ঘরটাকে! এখানে তো যখন-তখন বাঘ ডেকে উঠবে! এ যে জঙ্গল!”
আসলে কিছুই জঙ্গল নয়। টেবিলে বইগুলো একটার ওপর আর-একটা দাঁড় করিয়ে রাখা আছে। জামাকাপড় চেয়ারে রাখা আছে কিছু। আর বিছানায় গায়ের চাদরটা ভাঁজ করা নেই!
রিপা দ্রুত ঘরে ঢুকে চেয়ারের ওপরে রাখা জামাকাপড়গুলো টান দিয়ে নিয়ে ভাঁজ করতে লাগল।
“আরে আরে, করছ কী!” ঝিরি বিব্রত হল, “প্লিজ়, এমন কোরো না।” “আমি এ সব দেখতে পারি না! এমন করে কেউ রাখে ঘরবাড়ি!” রিপা
দ্রুত সব গুছিয়ে ভাঁজ করে বিছানায় সাজিয়ে রাখতে লাগল।
ঝিরি খুব অপ্রস্তুত মুখে তাকিয়ে রইল ওর দিকে। কী যে করে মেয়েটা মাঝে মাঝে! বাড়িতে একজন কাজের দিদি আসে। সেই দিদি এসে ঘর ঝাঁট দিয়ে মুছে দেয়। রান্নাবান্নাও করে দেয়। তা ছাড়া ওয়াশিং মেশিন আছে ঝিরির। সেখানে জামাকাপড় কেচে সে সব জামাকাপড় ছাদে মেলেও দেয়।
ঝিরি বাকিটুকু নিজের সময় মতো করে। তবে সেই ‘সময় মতো’
ব্যাপারটা অবশ্য মাঝে মাঝে হয়। তাই জিনিসপত্র অগোছালো হয়ে থাকে। ঝিরি কিছুক্ষণ রিপাকে দেখে, তার পর জিজ্ঞেস করল, “কিছু বলবে?” “চিনি,” এবার টেবিলের বইগুলো গোছাতে গোছাতে বলল রিপা। “কাকে? কাকে চেনো?” ঝিরি অবাক হল।
“কাকে আবার চিনব! চিনি মানে শুগার। চিনি লাগবে একটু। বাড়িতে ফুরিয়ে গিয়েছে। মা পাঠাল। ধার,” রিপা তাকাল ওর দিকে।
“দেব না,” ঝিরি গম্ভীর মুখে বলল।
“কী!” রিপা সামান্য ঘাবড়ে গেল।
“ধার দিই না আমি কাউকে। চিনিও দেব না,” ঝিরি বলল, “এমনি নিলে নিয়ে যাও।”
রিপা তাকাল ওর দিকে। তার পর বলল, “মা বলেছে ধার। আমি বলিনি। এই যে আমি ঘরটা একটু গুছিয়ে দিলাম, এর পারিশ্রমিক হল চিনি। এমনি নেব। ফেরত দেব না।”
ঝিরি আর হাসি চেপে রাখতে পারল না। বলল, “পারিশ্রমিক! এমন আজব পারিশ্রমিক আমি শুনিনি জীবনে! নিয়ে যাও। সামান্য একটা জিনিস। এত জিজ্ঞেস করার কী আছে?”
রিপা বলল, “তুমি না শুনলেও এই পৃথিবীতে অনেক কিছু ঘটেছে ও ঘটছে। প্রাচীন রোমে পারিশ্রমিকের অংশ হিসেবে নুনও দেওয়া হত। ল্যাটিনে ‘স্যাল দারে’ শব্দটাও পাওয়া যায়! মানে কাউকে ‘নুন দেওয়া। ‘স্যাল’ মানে নুন। মান্থলি অ্যালাওয়েন্সকে ‘স্যালারিয়াম’ বলা হত। সেই থেকেই স্যালারি কথাটা এসেছে!”
“বাবা!” ঝিরি হাসল, “দিদিমণি যে জ্ঞানের রানি!”
“সবাই তোমার মতো অজ্ঞানী হবে নাকি!” কথাটা বলে রিপা পাশের ঘরের দিকে গেল।
ওই পাশের ঘরেই রান্না আর খাওয়ার জায়গা। সেই ঘরে গিয়ে একটা প্লাস্টিকের বাটিতে কিছুটা চিনি ঢেলে নিল রিপা। তার পর বলল, “বাটিটা পরে দিয়ে যাব।”
ঝিরি না বলে মাথা নাড়ল।
রিপা বেরিয়ে যেতে গিয়েও দাঁড়িয়ে পড়ল আবার। বলল, “তোমার টাকা খুব বেশি হয়েছে, না?”
“কার?” ঝিরি অবাক হল খুব।
‘ এই ঘরে আর কে আছে?” রিপা কঠিন গলায় জিজ্ঞেস করল। “কেন? কী হল?” ঝিরি হাসল সামান্য।
“ওই ছোটগুলোর পেছনে অত টাকা ওড়ানোর কী আছে! আর ওদের যে প্রায় দিনই ওই সব বাইরের আজেবাজে খাবার খাওয়াও, তাতে ওদের শরীর খারাপ করলে ওদের বাপ-মায়েরা তো পিটিয়ে পিঠের চামড়া তুলে দেবে তোমার। যেমন নাম তেমন বুদ্ধি!” রিপা বিরক্তির সঙ্গে মাথা নাড়ল।
মেয়েটা একটু রাগী ধরনের। এর আগে প্রমাণ পেয়েছে ঝিরি। কিন্তু আজ যেন একটু বেশিই করছে।
রিপা আবার বলল, “টাকা খোলামকুচি, না! এত বয়স হল, নিজের একটা মাথা গোঁজার জায়গা বানাতে পারলে না এখনও। আশ্চর্য!”
ঝিরি আবারও হাসল। এ সবের কী উত্তর দেবে ও? ওর জীবন কেমন, তা অন্যকে বলে বোঝানো যাবে না।
রিপা বলল, “কোনও উদ্যোগ নেই। লক্ষ্য নেই। অ্যাম্বিশন নেই। বেঁচে আছো। কী কাজ করো কে জানে। এই বয়সের পুরুষ ভর-বিকেলে বাড়িতে বসে আছে।”
ঝিরি মাথা নাড়ল নিজের মতো। তার পর বলল, “যাওয়ার সময় দরজাটা একটু টেনে দিয়ে যেয়ো প্লিজ।”
রিপা ঝাপটা মেরে তাকাল ওর দিকে, “যাচ্ছি, চলেই যাচ্ছি,” বলে মুখ দিয়ে একটা অবজ্ঞাসূচক শব্দ করে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। না, দরজাটা বন্ধ করল না।
মেয়েটা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ করেছে পলিটিকাল সায়েন্স-এ। ভাল নাচ জানে। একটু দূরের প্রভারানি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ইলেভেন টুয়েলভে পড়ায়। কিন্তু সমস্যার মধ্যে একটাই— মাঝে মাঝেই শ্বাসের কষ্টে ভোগে। আর সেটা হলে বেশ বাড়াবাড়িই হয়। কাকিমাই এ সব বলেছে ঝিরিকে। আর তাই এত গুণী আর দেখতে-শুনতে ভাল হয়েও এই জন্যই নাকি এখনও বিয়ে হয়নি ওর।
মানে কেউ এসে ওকে পছন্দ করার পরে রিপা নিজেই নাকি এই শারীরিক সমস্যার কথা বলে দেয় পাত্রপক্ষকে। আর তাতেই নাকি বিয়ে ভেস্তে যায়। এটা যে কেন হয়, সেটাই বুঝতে পারে না ঝিরি। এই দেশে বিয়ের ব্যাপারটা এতটাই কমপ্লিকেটেড যে, ঝিরি এর তল খুঁজে পায় না।
রিপার স্কুলটা কাছেই। মর্নিং স্কুল বলে দুপুরের পর থেকে সময় পায়। সারা বাড়িতে ঘুরে বেড়ায় মেয়েটা। ঝিরি দেখে ওকে। তার পর ভেবে অবাক হয়, কেমন সুন্দর একটা মেয়ে আর তাকে নাকি ওই কারণে কেউ পছন্দ করে না! আশ্চর্য! আচ্ছা, বিয়ের পরে যদি কোনও রোগ ধরা পড়ত! তা হলে?
মাথা ব্যথাটা বাড়ছে। তবে কি নিজেই চা করে নেবে! ভাবতে ভাবতেই ফোনটা এল। যাক, মেয়েটা কথা রেখেছে। অবশ্য রাখবে নাই-বা কেন! যা একখানা গাজর ঝুলিয়ে এসেছে! কথাটা ভেবেই নিজেকে চড় মারতে ইচ্ছে করল ঝিরির। ছিঃ, গাজর ঝুলিয়ে এসেছে! এমনটা ভাবতে পারল!
কিন্তু পরমুহূর্তেই মনে হল এটাই তো ওর কাজ। ছলে-বলে-কৌশলে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছোনোই ওর কাজ। ওর ধর্ম।
ফোনটা ধরল ঝিরি। বলল, “বলুন অঞ্জনা।”
অঞ্জনা বলল, “আমি বলছিলাম কী, চার-টা পাঁচ করবেন? তা হলে ভেবে দেখতে পারি। ওই টাকাটা খুব দরকার এখন।”
“পাঁচ,” ঝিরি ইচ্ছে করে সময় নিল। তার পর বলল, “ওভার বাজেট হয়ে যাচ্ছে। তবে আপনি যখন বলছেন আমি কথা বলে দেখব। অবশ্য আপনিও কিন্তু কথা বলে নেবেন। মানে, যদি কারও কোনও আপত্তি থাকে। আমরা এত টাকা ঢালব, আর পরে কেউ এসে হুজ্জতি করবে সেটা তো হতে পারে না! তখন বেকার আপনার টাকা আটকে যাবে।”
“কথা! না না মানে…” অঞ্জনা কী বলবে যেন বুঝতে পারল না।
“অঞ্জনা, সবার কেউ না কেউ থাকে, যার কাছে নিজের সব কিছু ক্লিয়ার রাখতে হয়। আপনারও আছে আমরা জানি। আর দেখবেন, এ সব তো খুব কিছু লিগাল ব্যাপার নয়। তাই পাঁচ কান যাতে না হয়। আমার নামটা যেন কেউ না জানে। আপনি ভেবে কথা বলে নিন। তার পর যোগাযোগ করবেন। কেমন?”
অঞ্জনা বলল, “আমি না জানানো অবধি আর কাউকে নেবেন না প্লিজ়। টাকাটা দরকার। আমি জানাব আপনাকে মোহনবাবু। আমি আপনার কথা কাউকে বলব না। একদম বলব না। আর দেখবেন, পাঁচ যদি করা যায়।”
ফোনটা কেটে দীর্ঘশ্বাস ফেলল ঝিরি। অঞ্জনা যদি জানত আসল গল্পটা! ও অঞ্জনাকে নিজের নাম বলেছে মোহন। বিন্দিকে যেমন নিজের নাম বলেছে রূপবান, মানে সেই ছেলেবেলার বন্ধুর নাম ধার করে আর কী। তেমন এই মোহনপুর থেকে ধার করে ও নিজের নাম অঞ্জনাকে বলেছে মোহন। নিজের পরিচয় গোপন করাটা এই কাজের অঙ্গ।
তবে অঞ্জনা বিশ্বাসও করেছে ওকে। এখন দেখা যাক লালুর কাছে এই ডমিনো এফেক্ট কতটা কাজ করে! আকণ্ঠ প্রেমে ডুবে থাকা, পজেসিভ পুরুষকে দিয়ে অনেক কাজ করিয়ে নেওয়া যায়, এটা ভাল মতো বোঝে ঝিরি। সত্যিকারের প্রেমে পড়লে পুরুষদের যে মাথা কাজ করে না, সেটা এই পৃথিবীতে কে না জানে!
আবার দরজায় শব্দ হল। মুখ তুলে দেখল, রিপা এসে দাঁড়িয়েছে। হাতে চায়ের কাপ-প্লেট। এই রে, প্রতুলবাবু এটা দেখলে খেপে যেতেন! কিপটে মানুষ। কাউকেই কিছু খাওয়াতে চান না।
“এ সব কেন?” ঝিরি জিজ্ঞেস করল, “বাড়িতে প্রতুলবাবু নেই, না?” রিপা বলল, “না নেই। থাকলে আনতাম নাকি? আর বাবাকে কাকাবাবু বলতে পারো না!”
“নাহ্,” মাথা নাড়ল ঝিরি, “সবাই কাকাবাবু হতে পারে নাকি! তা ছাড়া সন্তু তা হলে কে হবে?”
প্রতুলবাবু বলো কেন?
“ব্যাড জোক!” রিপা এসে চায়ের কাপটা ঠক করে রাখল টেবিলে। “কিন্তু হঠাৎ চা!” ঝিরি অবাক হল।
“মাথা ধরেছে যে ‘আপনার’! ঘরে বামের গন্ধ পেয়েই বুঝেছি। তাই নিয়ে এলাম। খেতে হলে খাও, না হলে ফেলে দাও!” রিপা দরজার দিকে এগিয়ে গেল, “আর তো বেশি দিন নয়! তখন আর চা করে এনে দেব না।”
“ওরে বাবা, এ যে মিস মার্পেল! তা বেশি দিন নয় কেন?” ঝিরি অবাক হল।
“কারণ আছে। তবে সবাইকে জানতে হবে না। আমি চলি,” রিপা দুরদার করে সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেল।
কারণ? কী কারণ? চায়ের কাপটা হাতে নিল ঝিরি! আচমকা মনটা কেমন যেন করে উঠল। ঝিরি চোয়াল শক্ত করে নিজেকে ঠিক করল। কুম্ভ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে। লড়াই ছেড়ে পালানোর তাল করছে। না, তাকে কিছুতেই লড়াই ছাড়তে দেওয়া যাবে না। ফাঁকি দিতে দেওয়া যাবে না। এ লড়াই ওকে চালিয়ে যেতে হবে যে-কোনও মূল্যে!
ঝিরি শূন্য দরজার দিকে তাকিয়ে রইল। পাশে রাখা ফোনটা বাজল আবার। কে এখন! ঝিরি তাকাল ফোনের দিকে। নামটা দেখল। তা হলে ফোন করল! মনটা চাইছে না এখন কাজ করতে। মন চাইছে রিপা কী বলবে, তার মানে বের করতে। কিন্তু উপায় নেই। কাজ ইজ় কাজ। ও ফোনটা হাতে নিল। দেখা যাক ওর কী খবর এল এবার!
