Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প698 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২১. ঝিরি

    এই ছোট্ট শহরটায় পাখিদের বড় বাড়াবাড়ি। সারা দিন কতরকম পাখি যে দেখা যায়! এত ভাল লাগে! যে-অঞ্চলে পাখিদের সংখ্যা বেশি, সেখানকার মানুষ সুখী হয় বলে মনে করে ঝিরি।

    আজ আচমকা এখানে বৃষ্টি হয়েছে। আশপাশে কোথাও হয়নি, শুধু এই মাখনপুরে হয়েছে। কেন এমন হল কে জানে! বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে। এখনও মেঘ করে আছে। অভিমানী নদী থেকে ঠান্ডা একটা হাওয়া ভেসে আসছে। আর তার মধ্যে এই সন্ধের মুখে বাসায় ফিরে এসে পাখিরা কিচিরমিচির করেই চলেছে।

    আজ কলকাতা থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছে ঝিরি। যা কাজ ছিল, সেটা হয়ে গিয়েছে। ফলে আর থাকেনি ওই ধুলো-ধোঁয়ার শহরে।

    পলিটিকাল লোকজন ওকে নানা সময়ে নানা কাজে লাগায়। কখনও শুধু খোঁজখবর করার কাজ থাকে। আবার কখনও কোনও কাজ করে দেওয়ার জন্য বলে। ঝিরি জানে, রাজনীতির খেলাটা অনেকটা দাবা খেলার মতো। প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে মনে মনে লড়ে যাচ্ছে। আর এই লড়াইয়ের গজ, ঘোড়া, নৌকো হল ইনফরমেশন আর ইনফ্লুয়েন্স!

    একরকম ইনফ্লুয়েন্স আছে, যা সরাসরি প্রয়োগ করা হয়। যেমন পুলিশ, আইনি সংস্থা বা ওই ধরনের কোনও এজেন্সির মাধ্যমে বলপ্রয়োগ করে নিজের ইচ্ছে মতো কোনও মানুষকে দিয়ে কাজ করানো। আবার অন্য আর এক ধরনের ইনফ্লুয়েন্সও আছে। যাকে বলে ‘সাটল ইনফ্লুয়েন্স’। যা ঠিক আইনের পথে চলে না। আর এখানেই আসে ঝিরি। ওর কাজই হল মানুষকে এমন ভাবে ইনফ্লুয়েন্স করা, যাতে তারা বুঝতে না পারে যে, তাদের ওপর চাপ দিয়ে কোনও কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে!

    ঝিরি এই কাজে সিদ্ধহস্ত। ও জানে, এই সব ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট মানুষকে তার জীবনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এমন একটা অবস্থার মধ্যে ফেলতে হয়, যাতে সে ঝিরির নির্দেশ মতো অন্যকেও ইনফ্লুয়েন্স করতে বাধ্য হয় কোনও কাজ করার ব্যাপারে। মানে, যাকে বলে ডমিনো এফেক্ট। এটা এফেক্টিভলি অন্যের ওপর প্রয়োগ করতে ঝিরির জুড়ি নেই!

    আজ সেই কাজটাই করে এসেছে ঝিরি। হ্যাঁ, যে দুর্বলতাটাকে ও ব্যবহার করেছে নিখুঁত ভাবে। না, তার জন্য ঝিরি মোটেও গর্বিত নয়। কিন্তু উপায় নেই। সময় দ্রুত কমে আসছে। ওকে তাড়াতাড়ি রেজাল্ট দিতে হবে। আর তার জন্য এই ‘পুশ’-টা দরকার ছিল। আজ ও প্রথম চালটা দিয়ে এসেছে। এবার দু’দিন পর দেবে দ্বিতীয় চালটা। দেখতে হবে প্রথম চালের ডমিনো এফেক্ট-টা কী ভাবে কাজ করে দ্বিতীয় চালের ওপর!

    গায়ে একটা হাফ হাতা সোয়েটার চাপিয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে ছাদে এসে দাঁড়াল ঝিরি। বিকেল গাঢ় হচ্ছে মাখনপুরে। বাড়ির পাশের ঘন গাছপালার মধ্যে পাখিদের কিচিরমিচির যেন বেড়েই চলেছে। সত্যি, এখানে পাখিদের বড় বাড়াবাড়ি!

    শান্তিপুরে ওদের বাড়িটা ছিল ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায়। সে ভাবে পাখিটাখি ও খেয়াল করতে পারেনি। তবে ওর মনে আছে, জগন্নাথমামা ওদের জন্য খাঁচাসমেত একটা টিয়া পাখি কিনে এনে দিয়েছিল। ঝিরির আনন্দ হয়েছিল খুব। ভেবেছিল পাখিটাকে যত্ন করে পুষবে।

    ঝিরি শুনেছিল টিয়া পাখি কথা শেখে। কিন্তু ওদের টিয়াটা কথা বলত না। সারাক্ষণ কেমন যেন মনমরা হয়ে থাকত। মা কয়েক দিন দেখার পর খাঁচা খুলে উড়িয়ে দিয়েছিল পাখিটাকে।

    কিন্তু পাখিটা বেশি দূরে যায়নি। পরের দিনই সেটাকে মরে গেটের কাছে পড়ে থাকতে দেখেছিল ঝিরি। মনখারাপ হয়েছিল সামান্য। এখনও ওর মনে আছে, একটা খালি জুতোর বাক্সের মধ্যে খবরের কাগজের কুঁচি ভরে, তাতে পাখিটাকে শুইয়ে ও একটু দূরে একটা ঝোপের মধ্যে পুঁতে দিয়েছিল।

    সেই প্রথম আর শেষ কোনও পাখিকে ও পোষার চেষ্টা করেছিল। ওই যে সামান্য একটা কুয়াশার মতো পাতলা মনখারাপ হয়েছিল, সেখান থেকেই ও বুঝেছিল, কারও জন্য মায়া বাড়ানোর মতো অসুবিধেজনক ব্যাপার আর কিছু হয় না। সেই কিশোর বয়সে ঝিরি যা শিখেছিল, তা এই আটত্রিশে এসেও মেনে চলার চেষ্টা করছে ঝিরি!

    মায়া খুব খারাপ জিনিস। এটা মনে পুষে রাখে বলেই মানুষ সবচেয়ে দুর্বল প্রাণী। এই যে লোককে ম্যানিপুলেট করে ঝিরি নানা কাজ করে বা করায় সেটা ও পারে, কারণ মানুষের মনে মায়া নামক এই দুর্বলতাটা আছে বলেই।

    ঝিরি চায় ওর যাতে কোনও রকম দুর্বলতা না থাকে। আর সেটার জন্য আপ্রাণ চেষ্টাও করে ও। কিন্তু ইদানীং সেই চেষ্টাতেই কেমন যেন কিছুটা গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। ঝিরি বুঝতে পারছে, একা কুম্ভের লড়াইটা ক্রমশ কেমন যেন জোলো হয়ে যাচ্ছে। বুঝতে পারছে, কুম্ভ যেন আর নিজেই লড়াই করতে চাইছে না।

    “রিপাপিসি, ঝিরিকাকা এসেছে গো?”

    নীচ থেকে মিন্টুর গলা পেল ঝিরি। ও ছাদের যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, সেই জায়গাটা বেশ ঝাঁকড়া একটা আম গাছ আর লিচু গাছ দিয়ে ঢাকা। তাই বাড়িতে ঢোকার গেট থেকে ঠিক দেখা যায় না এখানে কেউ দাঁড়িয়ে রয়েছে কি না!

    ঝিরি আড়ালে থেকেই শুনল রিপা বলছে, “কেন রে? আজ আবার ওই হাঁদা লোকটার ঘাড় ভেঙে কিছু খাওয়ার মতলব করছিস, না?”

    এবার গাবলু বলল, “এ বাবা! কী যে বলো! আমরা কি রাক্ষস নাকি যে, ঘাড় ভেঙে খাব?”

    রিপা বলল, “তোরা এক একটা খুদে রাক্ষস! বদমাশের গাছ। ওকে ভালমানুষ পেয়ে তোরা কী করিস আমি জানি না?”

    ভালমানুষ! ঝিরি হাসল নিজের মনে। না, এ কোনও আনন্দের হাসি নয়। এ হাসি বিষণ্ণতার। মানুষ নিজে সবচেয়ে ভাল বোঝে সে খারাপ না ভাল। অধিকাংশ সময় সে এই বোঝাটাকে এড়িয়ে যায় একটু সুখস্বাচ্ছন্দে বেঁচে থাকার তাগিদে। কিন্তু মনে মনে সে জানে, কোথায় কোথায় আর কখন কখন সে ততটাও ভাল হয়ে থাকতে পারেনি। এই যেমন এখন ঝিরির মনে পড়ে গেল, ও কেমন নিষ্ঠুরের মতো কাজ করেছে। মনে পড়ে গেল, অঞ্জনা নামে সেই মেয়েটার অসহায় চোখ দুটো। রিপা যদি এ সব জানত, তা হলে কি মিন্টু-গাবলুদের অমন করে বলতে পারত!

    ঝিরির মনে পড়ে গেল, সে দিন সেই আবছায়া গলি থেকে বেরিয়ে রাস্তার ওপরে দোকানে দাঁড়িয়ে বৈশাখী একটা নয়, পরপর দুটো চিকেন রোল খেয়েছিল। তার পর বলেছিল, “একটা কোল্ডিস খাওয়াও।”

    ঝিরি কিনে দিয়েছিল কোল্ড ড্রিংকের একটা বোতল। তার পর শান্ত, বন্ধুত্বপূর্ণ গলায় জিজ্ঞেস করেছিল, “অঞ্জনার কে হয় লালু?” “তুমি জেনে কী করবে?” বোতলটা দু’হাতে ধরে বৈশাখী জিজ্ঞেস করেছিল।

    “এমন তো উল্টো প্রশ্ন করার কথা ছিল না!” ঝিরি হাসিমুখেই বলেছিল।

    বৈশাখী কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলেছিল, “লালু আসলে ভালবাসে অঞ্জনাকে। আর অঞ্জনার মেয়ের তো কী এক রকমের ক্যানসার হয়েছে। খুব কঠিন রোগ। অনেক টাকা লাগবে। তাই তো আজ মহিলা সমিতিতে গিয়েছে সাহায্য পাওয়া যায় কি না দেখতে।”

    “লালু ভালবাসে! সত্যি!” ঝিরি জিজ্ঞেস করেছিল।

    বৈশাখী বলেছিল, “হ্যাঁ। খুব। এমনকি, ঘরে যেন লোক না বসায় সেই নিয়েও বেশ ঝামেলা হয় ওদের মধ্যে। লালু খুব আঁকুড়ে টাইপের। আমার মাইরি অবাক লাগে! লাইনের মেয়ের সঙ্গে প্রেম করলে তো ভাই এটা মেনেই নিতে হবে যে, ঘরে লোক সে নেবে। বিজনেস তো বিজনেস, তাই না, বলো?”

    ঝিরি নিজের মনেই বলেছিল, “পজেসিভ!”

    “কী!” বৈশাখী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল।

    “কিছু না। তা, লালুও নিশ্চয়ই ওই ছুটি বলে মেয়েটার জন্য চিন্তিত!” ঝিরি তাকিয়েছিল বৈশাখীর দিকে।

    বৈশাখী বোতলটা শেষ করে বলেছিল, “খুব চিন্তিত। স্বাভাবিক। ছুটি খুব ভাল মেয়ে। কিন্তু এতগুলো টাকা! আমরাও সবাই কিছু করে দেব। কিন্তু আমাদের আর কী ক্ষমতা বলুন! লালু যে খুব চেষ্টা করছে কমলাদি বলছিল। কিন্তু অত টাকা পাওয়া যায়! কে দেবে?”

    ঝিরি পকেট থেকে দুটো পাঁচশো টাকার নোট বের করে দিয়ে বলেছিল, “আমার সঙ্গে কিন্তু তোমার কোনও কথা হয়নি। কেমন?”

    টাকাটা নিয়ে বৈশাখী জিজ্ঞেস করেছিল, “ওদের কোনও ক্ষতি করবে না তো?”

    “একদম না। বরং সাহায্য করব। শুধু তুমি কাউকে কিছু বোলো না। তা হলে ওদের সাহায্য করতে আমার অসুবিধে হবে, বুঝলে?” ঝিরি চলে যাওয়ার আগে জিজ্ঞেস করেছিল, “আচ্ছা, কমলাদি কে?”

    “আমাদের বাড়ির দিদি। সব দেখাশুনো করে,” বৈশাখী বলেছিল। সে দিন আর দাঁড়ায়নি ঝিরি। যা জানার তা জেনে নিয়েছে। ও গাড়ি ধরে স্টেশনের দিকে যাবে বলে বড় রাস্তায় যাচ্ছিল। শিয়ালদা স্টেশনের কাছে, সেই ছেলেটার থেকে কাকিমার জন্য জর্দাও যে কিনতে হবে।

    যে কাজটা ঝিরি নিয়েছে, সেটা খুব সহজ কাজ নয়। কিন্তু ওকে কাজটা দ্রুত শেষ করতে হবে। সানুদা চাপ দিচ্ছে খুব। ও জানে এই ধরনের কাজে টাইমটা খুব বড় একটা ফ্যাক্টর!

    সে দিনের পরে অঞ্জনার সম্বন্ধেও একটু খোঁজখবর করেছে ঝিরি। তা থেকে জানতে পেরেছে, অঞ্জনা হতভাগ্য মেয়ে। আঠারো বছর বয়স থেকে এই ব্যবসায় আছে। কোন এক জানোয়ার ওকে গ্রাম থেকে ফুসলে এখানে নিয়ে এসেছিল। ওর ব্যবসায়িক নাম, রোজি।

    যে-গ্রাম থেকে অঞ্জনা এসেছিল, সেখানে অঞ্জনার আর কেউ নেই এখন। মানে অঞ্জনার সে ভাবে মেয়ে ছাড়া আর কেউ-ই নেই এই পৃথিবীতে। সেই মেয়ে অসুস্থ। আর তাই মেয়ের জন্য অঞ্জনা সব কিছুই করতে পারে। এই সব জেনেই আজ দুপুর নাগাদ ও গিয়েছিল অঞ্জনার কাছে।

    ঝিরি পকেট থেকে একটা লজেন্স বের করে মুখে দিল। ট্রেনে একটা লোক বিক্রি করে। টক-ঝাল-মিষ্টি। কালো রঙের। কিছুক্ষণ খাওয়ার পর লজেন্সের পেটের মধ্যে থেকে জেলি বের হয়। অমৃত যে কত রূপে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন ঈশ্বর!

    ঝিরি শুনতে পেল, এখনও গেটের কাছে রিপার সঙ্গে বাচ্চাগুলোর কথা হচ্ছে। আসলে বাড়িতে থাকলেই ওদের সঙ্গে খেলে ঝিরি। আর খেলার পর টুকটাক এটা-ওটা খাওয়া হয়। তাই বলে সেই জন্য যে বাচ্চাগুলো এসে ওকে খুঁজছে, তা নয়। এটাও জানে ঝিরি। বা বলা ভাল সেটা বিশ্বাস করতে ওর ইচ্ছে করে। বাচ্চাগুলো ওর থেকে বয়সে অনেক ছোট হলেও ওরা মেশে একদম বন্ধুর মতো!

    কিন্তু আজ আর খেলতে ইচ্ছে করছে না ঝিরির। মেঘটা এমন হয়ে আছে যে, মনে হচ্ছে যে-কোনও সময়ে আবার বৃষ্টি নামবে। এদিকে কলকাতার দিকে আজ সব খটখটে শুকনো ছিল। আবহাওয়া যেন খেয়ালি বালক!

    আবার ঘরের মধ্যে ফিরে গেল ঝিরি। একটা উইংড চেয়ার আছে ওর। এটা ভারী শখের জিনিস। মোটা গদি। খুব আরামের জায়গা।

    সেটায় বসল ঝিরি। মাথাটা বেশ ধরেছে। এক কাপ চা করে খেলে ভাল হত। কিন্তু সত্যি বলতে কী, নিজে থেকে উঠে চা করে খেতে ইচ্ছে করছে না। ও হাত বাড়িয়ে টেবিলের ওপর থেকে একটা রোল-অন বাম নিয়ে মাথায় ঘষল। সারা ঘরে ইউক্যালিপ্টাস তেলের গন্ধ প্রজাপতির মতো উড়তে শুরু করল!

    ঝিরি চোখ বন্ধ করল। কেমন একটা আলস্য এসে জড়িয়ে ধরছে লতানো গাছের মতো। আজ আসলে কিছু করতেই ইচ্ছে করছে না আর।

    তবে ছোট্ট একটা কাজ বাকি আছে। একটা ফোন আসার কথা আছে। কখন যে আসবে! মেয়েটা কি রাজি হবে! সামান্য টেনশন হচ্ছে।

    আজ দুপুরে ঝিরি যখন অঞ্জনার কাছে গিয়েছিল, তখন ওই পুরনো বড় বাড়িটা কেমন যেন ঝিম মেরে ছিল। দেখে বোঝাই যাচ্ছিল না যে, একটু পরে, পৃথিবীর আলো কমে এলে এই বাড়িটাই কেমন আমূল বদলে যাবে!

    অঞ্জনার ঘরে ঢোকার আগে অবশ্য মধ্যবয়স্ক একজন মহিলার সঙ্গে দেখা হয়েছিল ঝিরির। বা বলা ভাল মহিলাটি ওর পথ আটকেছিল। ঝিরি হেসে বলেছিল, “আপনি কমলাদি তো? ভূষণ আপনার কথা বলেছিল আমায়। ফোন নাম্বারও দিয়েছিল কিন্তু হারিয়ে ফেলেছি!”

    “ভূষণ!” কমলাদি বুঝতে পারেনি কার কথা বলছে ঝিরি। উল্টে জিজ্ঞেস করেছিল, “আপনি কে?”

    ঝিরি মনে মনে হেসেছিল। ভূষণ নামটা এমনি বানানো। ও জানে এখানে এত লোক আসে যে, সে ভাবে কাউকে মনে রাখা সম্ভব নয়।

    ঝিরি বলেছিল, “আরে, ভূষণ একবার এসেছিল এখানে। দিল্লিতে থাকে। খুব প্রশংসা করেছিল আপনার।”

    কমলাদি কী বলবে বুঝতে না পেরে বলেছিল, “কিন্তু এখন তো কিছু হবে না। বিকেলে আসবেন।”

    ঝিরি যেন শুনতেই পায়নি এমন করে বলেছিল, “রোজি মানে অঞ্জনার সঙ্গে আমার খুব দরকার।”

    “ও বাবা!” কমলাদি ভুরু কুঁচকে বলেছিল, “সে তো এখন কাজ করছে না। মেয়ের খুব অসুখ তো! লোক নিচ্ছে না ঘরে।”

    “না না, আমি বসতে আসিনি,” ঝিরি বলেছিল, “আমি এসেছি কাজে। জাস্ট দু’মিনিটের কথা আছে। ওঁর লাভের কথাই। অনেক দূর থেকে আসছি। প্লিজ, একটু দেখুন না। বেশি সময় নেব না, দু’মিনিট! প্লিজ!”

    কমলাদি ভুরু কুঁচকে ওকে ভাল করে দেখেছিল কিছুক্ষণ। তার পর নিয়ে গিয়েছিল অঞ্জনার ঘরের কাছে। আলতো করে টোকা দিয়েছিল দরজায়।

    ঝিরি এদিক-ওদিক মাথা ঘুরিয়ে দেখছিল। টানা বারান্দা। রংচটা দেওয়াল। সার দেওয়া বন্ধ দরজা। বাড়িটা বেশ পুরনো। কারা এই বাড়ি তৈরি করেছিল? আর সেটা এখন কী ভাবে এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে! কারা এই সব মেয়েকে নিয়ে আসে এখানে? তাদের কতটা অসহায়তা থাকলে তারা এমন একটা জীবন বেছে নেয়! কারণ, কেউ তো আর ‘বড় হয়ে এমন একটা জীবন কাটাব’ ধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগোয় না!

    ওর মনে পড়েছিল জগন্নাথমামার কথা! জগন্নাথমামা বলত, “পেটের জন্য মানুষ পারে না এমন কাজ নেই। জানিস, আফ্রিকার নাইজেরিয়ায় এক গোষ্ঠীর মানুষ আছে, যারা ভয়ঙ্কর জীবজন্তুদের নিয়ে জীবন কাটায়। তাদের নিয়ে দূর-দূরান্তে ট্র্যাভেল করে। এক সঙ্গে থাকে, খায়, ঘুমোয়। নানা প্রজাতির বিষাক্ত সাপ, বেবুন, হায়না নিয়ে এরা দিন কাটায়। ভাব একবার! কেন? না পেটের জন্য!”

    এই যে বাড়ি, এই যে এত মেয়ে, এরাও তো পেটের জন্যই এসেছে এখানে! কত না অবহেলা আর কষ্ট সহ্য করছে রোজ!

    ঝিরি মাথায় নানা চিন্তা নিয়ে এ-ও ভাবছিল যে, বৈশাখী বলে মেয়েটার সঙ্গে যেন আবার না দেখা হয়।

    খুট শব্দে দরজা খুলে গিয়েছিল। ঝিরি দেখেছিল একটা মেয়ে মুখ বের করল। মুখটা প্রসাধনহীন। ক্লান্ত দৃষ্টি। আলুথালু চুল। কিন্তু মোটের ওপর বেশ দেখতে!

    মেয়েটা জিজ্ঞেস করেছিল, “কী কমলাদি?”

    ‘এই ভদ্রলোকের তোর সঙ্গে দরকার,” কমলা ঝিরির দিকে দেখিয়েছিল।

    “আমি তো লোক নিচ্ছি না…”

    “না না,” ঝিরি বুঝেছিল এই অঞ্জনা। ও নিজে থেকেই বলেছিল, “ম্যাডাম, আমার জাস্ট দু’মিনিটের কথা আছে। প্লিজ!”

    অঞ্জনা ওকে ভেতরে আসতে না দিয়ে নিজেই বেরিয়ে এসেছিল বাইরে। বলেছিল, “ঘরে মেয়ে ঘুমোচ্ছে। ওর শরীরটা ভাল নেই। তাই…….”

    “নো প্রবলেম,” ঝিরি কথাটা বলে কমলাদির দিকে তাকিয়েছিল। কমলাদি বুঝেছিল যা বোঝার। চলে যাওয়ার আগে বলেছিল, “বেশি মাথা খাবেন না কিন্তু।”

    ঝিরি পাত্তা দেয়নি। ও তাকিয়েছিল অঞ্জনার দিকে। তার পর কথা শুরু করেছিল।

    “আসব?” দরজার বাইরে রিপার গলা পেল ঝিরি। ও চোখ খুলল। এখন আবার মেয়েটা এল কেন!

    ও বলল, “হ্যাঁ, এসো।”

    রিপা দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকল। আর ঢুকেই থমকে দাঁড়িয়ে চারিদিকটা দেখল। ঝিরি ভাবল মেয়েটা বাবার হয়ে স্পাইগিরি করছে নাকি! ওদের বাড়িঘর ঠিক আছে কি না দেখতে এল কি!

    ঝিরি কিছু না বলে তাকিয়ে রইল।

    রিপা বলল, “এ কী করে রেখেছ ঘরটাকে! এখানে তো যখন-তখন বাঘ ডেকে উঠবে! এ যে জঙ্গল!”

    আসলে কিছুই জঙ্গল নয়। টেবিলে বইগুলো একটার ওপর আর-একটা দাঁড় করিয়ে রাখা আছে। জামাকাপড় চেয়ারে রাখা আছে কিছু। আর বিছানায় গায়ের চাদরটা ভাঁজ করা নেই!

    রিপা দ্রুত ঘরে ঢুকে চেয়ারের ওপরে রাখা জামাকাপড়গুলো টান দিয়ে নিয়ে ভাঁজ করতে লাগল।

    “আরে আরে, করছ কী!” ঝিরি বিব্রত হল, “প্লিজ়, এমন কোরো না।” “আমি এ সব দেখতে পারি না! এমন করে কেউ রাখে ঘরবাড়ি!” রিপা

    দ্রুত সব গুছিয়ে ভাঁজ করে বিছানায় সাজিয়ে রাখতে লাগল।

    ঝিরি খুব অপ্রস্তুত মুখে তাকিয়ে রইল ওর দিকে। কী যে করে মেয়েটা মাঝে মাঝে! বাড়িতে একজন কাজের দিদি আসে। সেই দিদি এসে ঘর ঝাঁট দিয়ে মুছে দেয়। রান্নাবান্নাও করে দেয়। তা ছাড়া ওয়াশিং মেশিন আছে ঝিরির। সেখানে জামাকাপড় কেচে সে সব জামাকাপড় ছাদে মেলেও দেয়।

    ঝিরি বাকিটুকু নিজের সময় মতো করে। তবে সেই ‘সময় মতো’

    ব্যাপারটা অবশ্য মাঝে মাঝে হয়। তাই জিনিসপত্র অগোছালো হয়ে থাকে। ঝিরি কিছুক্ষণ রিপাকে দেখে, তার পর জিজ্ঞেস করল, “কিছু বলবে?” “চিনি,” এবার টেবিলের বইগুলো গোছাতে গোছাতে বলল রিপা। “কাকে? কাকে চেনো?” ঝিরি অবাক হল।

    “কাকে আবার চিনব! চিনি মানে শুগার। চিনি লাগবে একটু। বাড়িতে ফুরিয়ে গিয়েছে। মা পাঠাল। ধার,” রিপা তাকাল ওর দিকে।

    “দেব না,” ঝিরি গম্ভীর মুখে বলল।

    “কী!” রিপা সামান্য ঘাবড়ে গেল।

    “ধার দিই না আমি কাউকে। চিনিও দেব না,” ঝিরি বলল, “এমনি নিলে নিয়ে যাও।”

    রিপা তাকাল ওর দিকে। তার পর বলল, “মা বলেছে ধার। আমি বলিনি। এই যে আমি ঘরটা একটু গুছিয়ে দিলাম, এর পারিশ্রমিক হল চিনি। এমনি নেব। ফেরত দেব না।”

    ঝিরি আর হাসি চেপে রাখতে পারল না। বলল, “পারিশ্রমিক! এমন আজব পারিশ্রমিক আমি শুনিনি জীবনে! নিয়ে যাও। সামান্য একটা জিনিস। এত জিজ্ঞেস করার কী আছে?”

    রিপা বলল, “তুমি না শুনলেও এই পৃথিবীতে অনেক কিছু ঘটেছে ও ঘটছে। প্রাচীন রোমে পারিশ্রমিকের অংশ হিসেবে নুনও দেওয়া হত। ল্যাটিনে ‘স্যাল দারে’ শব্দটাও পাওয়া যায়! মানে কাউকে ‘নুন দেওয়া। ‘স্যাল’ মানে নুন। মান্থলি অ্যালাওয়েন্সকে ‘স্যালারিয়াম’ বলা হত। সেই থেকেই স্যালারি কথাটা এসেছে!”

    “বাবা!” ঝিরি হাসল, “দিদিমণি যে জ্ঞানের রানি!”

    “সবাই তোমার মতো অজ্ঞানী হবে নাকি!” কথাটা বলে রিপা পাশের ঘরের দিকে গেল।

    ওই পাশের ঘরেই রান্না আর খাওয়ার জায়গা। সেই ঘরে গিয়ে একটা প্লাস্টিকের বাটিতে কিছুটা চিনি ঢেলে নিল রিপা। তার পর বলল, “বাটিটা পরে দিয়ে যাব।”

    ঝিরি না বলে মাথা নাড়ল।

    রিপা বেরিয়ে যেতে গিয়েও দাঁড়িয়ে পড়ল আবার। বলল, “তোমার টাকা খুব বেশি হয়েছে, না?”

    “কার?” ঝিরি অবাক হল খুব।

    ‘ এই ঘরে আর কে আছে?” রিপা কঠিন গলায় জিজ্ঞেস করল। “কেন? কী হল?” ঝিরি হাসল সামান্য।

    “ওই ছোটগুলোর পেছনে অত টাকা ওড়ানোর কী আছে! আর ওদের যে প্রায় দিনই ওই সব বাইরের আজেবাজে খাবার খাওয়াও, তাতে ওদের শরীর খারাপ করলে ওদের বাপ-মায়েরা তো পিটিয়ে পিঠের চামড়া তুলে দেবে তোমার। যেমন নাম তেমন বুদ্ধি!” রিপা বিরক্তির সঙ্গে মাথা নাড়ল।

    মেয়েটা একটু রাগী ধরনের। এর আগে প্রমাণ পেয়েছে ঝিরি। কিন্তু আজ যেন একটু বেশিই করছে।

    রিপা আবার বলল, “টাকা খোলামকুচি, না! এত বয়স হল, নিজের একটা মাথা গোঁজার জায়গা বানাতে পারলে না এখনও। আশ্চর্য!”

    ঝিরি আবারও হাসল। এ সবের কী উত্তর দেবে ও? ওর জীবন কেমন, তা অন্যকে বলে বোঝানো যাবে না।

    রিপা বলল, “কোনও উদ্যোগ নেই। লক্ষ্য নেই। অ্যাম্বিশন নেই। বেঁচে আছো। কী কাজ করো কে জানে। এই বয়সের পুরুষ ভর-বিকেলে বাড়িতে বসে আছে।”

    ঝিরি মাথা নাড়ল নিজের মতো। তার পর বলল, “যাওয়ার সময় দরজাটা একটু টেনে দিয়ে যেয়ো প্লিজ।”

    রিপা ঝাপটা মেরে তাকাল ওর দিকে, “যাচ্ছি, চলেই যাচ্ছি,” বলে মুখ দিয়ে একটা অবজ্ঞাসূচক শব্দ করে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। না, দরজাটা বন্ধ করল না।

    মেয়েটা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ করেছে পলিটিকাল সায়েন্স-এ। ভাল নাচ জানে। একটু দূরের প্রভারানি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ইলেভেন টুয়েলভে পড়ায়। কিন্তু সমস্যার মধ্যে একটাই— মাঝে মাঝেই শ্বাসের কষ্টে ভোগে। আর সেটা হলে বেশ বাড়াবাড়িই হয়। কাকিমাই এ সব বলেছে ঝিরিকে। আর তাই এত গুণী আর দেখতে-শুনতে ভাল হয়েও এই জন্যই নাকি এখনও বিয়ে হয়নি ওর।

    মানে কেউ এসে ওকে পছন্দ করার পরে রিপা নিজেই নাকি এই শারীরিক সমস্যার কথা বলে দেয় পাত্রপক্ষকে। আর তাতেই নাকি বিয়ে ভেস্তে যায়। এটা যে কেন হয়, সেটাই বুঝতে পারে না ঝিরি। এই দেশে বিয়ের ব্যাপারটা এতটাই কমপ্লিকেটেড যে, ঝিরি এর তল খুঁজে পায় না।

    রিপার স্কুলটা কাছেই। মর্নিং স্কুল বলে দুপুরের পর থেকে সময় পায়। সারা বাড়িতে ঘুরে বেড়ায় মেয়েটা। ঝিরি দেখে ওকে। তার পর ভেবে অবাক হয়, কেমন সুন্দর একটা মেয়ে আর তাকে নাকি ওই কারণে কেউ পছন্দ করে না! আশ্চর্য! আচ্ছা, বিয়ের পরে যদি কোনও রোগ ধরা পড়ত! তা হলে?

    মাথা ব্যথাটা বাড়ছে। তবে কি নিজেই চা করে নেবে! ভাবতে ভাবতেই ফোনটা এল। যাক, মেয়েটা কথা রেখেছে। অবশ্য রাখবে নাই-বা কেন! যা একখানা গাজর ঝুলিয়ে এসেছে! কথাটা ভেবেই নিজেকে চড় মারতে ইচ্ছে করল ঝিরির। ছিঃ, গাজর ঝুলিয়ে এসেছে! এমনটা ভাবতে পারল!

    কিন্তু পরমুহূর্তেই মনে হল এটাই তো ওর কাজ। ছলে-বলে-কৌশলে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছোনোই ওর কাজ। ওর ধর্ম।

    ফোনটা ধরল ঝিরি। বলল, “বলুন অঞ্জনা।”

    অঞ্জনা বলল, “আমি বলছিলাম কী, চার-টা পাঁচ করবেন? তা হলে ভেবে দেখতে পারি। ওই টাকাটা খুব দরকার এখন।”

    “পাঁচ,” ঝিরি ইচ্ছে করে সময় নিল। তার পর বলল, “ওভার বাজেট হয়ে যাচ্ছে। তবে আপনি যখন বলছেন আমি কথা বলে দেখব। অবশ্য আপনিও কিন্তু কথা বলে নেবেন। মানে, যদি কারও কোনও আপত্তি থাকে। আমরা এত টাকা ঢালব, আর পরে কেউ এসে হুজ্জতি করবে সেটা তো হতে পারে না! তখন বেকার আপনার টাকা আটকে যাবে।”

    “কথা! না না মানে…” অঞ্জনা কী বলবে যেন বুঝতে পারল না।

    “অঞ্জনা, সবার কেউ না কেউ থাকে, যার কাছে নিজের সব কিছু ক্লিয়ার রাখতে হয়। আপনারও আছে আমরা জানি। আর দেখবেন, এ সব তো খুব কিছু লিগাল ব্যাপার নয়। তাই পাঁচ কান যাতে না হয়। আমার নামটা যেন কেউ না জানে। আপনি ভেবে কথা বলে নিন। তার পর যোগাযোগ করবেন। কেমন?”

    অঞ্জনা বলল, “আমি না জানানো অবধি আর কাউকে নেবেন না প্লিজ়। টাকাটা দরকার। আমি জানাব আপনাকে মোহনবাবু। আমি আপনার কথা কাউকে বলব না। একদম বলব না। আর দেখবেন, পাঁচ যদি করা যায়।”

    ফোনটা কেটে দীর্ঘশ্বাস ফেলল ঝিরি। অঞ্জনা যদি জানত আসল গল্পটা! ও অঞ্জনাকে নিজের নাম বলেছে মোহন। বিন্দিকে যেমন নিজের নাম বলেছে রূপবান, মানে সেই ছেলেবেলার বন্ধুর নাম ধার করে আর কী। তেমন এই মোহনপুর থেকে ধার করে ও নিজের নাম অঞ্জনাকে বলেছে মোহন। নিজের পরিচয় গোপন করাটা এই কাজের অঙ্গ।

    তবে অঞ্জনা বিশ্বাসও করেছে ওকে। এখন দেখা যাক লালুর কাছে এই ডমিনো এফেক্ট কতটা কাজ করে! আকণ্ঠ প্রেমে ডুবে থাকা, পজেসিভ পুরুষকে দিয়ে অনেক কাজ করিয়ে নেওয়া যায়, এটা ভাল মতো বোঝে ঝিরি। সত্যিকারের প্রেমে পড়লে পুরুষদের যে মাথা কাজ করে না, সেটা এই পৃথিবীতে কে না জানে!

    আবার দরজায় শব্দ হল। মুখ তুলে দেখল, রিপা এসে দাঁড়িয়েছে। হাতে চায়ের কাপ-প্লেট। এই রে, প্রতুলবাবু এটা দেখলে খেপে যেতেন! কিপটে মানুষ। কাউকেই কিছু খাওয়াতে চান না।

    “এ সব কেন?” ঝিরি জিজ্ঞেস করল, “বাড়িতে প্রতুলবাবু নেই, না?” রিপা বলল, “না নেই। থাকলে আনতাম নাকি? আর বাবাকে কাকাবাবু বলতে পারো না!”

    “নাহ্,” মাথা নাড়ল ঝিরি, “সবাই কাকাবাবু হতে পারে নাকি! তা ছাড়া সন্তু তা হলে কে হবে?”

    প্রতুলবাবু বলো কেন?

    “ব্যাড জোক!” রিপা এসে চায়ের কাপটা ঠক করে রাখল টেবিলে। “কিন্তু হঠাৎ চা!” ঝিরি অবাক হল।

    “মাথা ধরেছে যে ‘আপনার’! ঘরে বামের গন্ধ পেয়েই বুঝেছি। তাই নিয়ে এলাম। খেতে হলে খাও, না হলে ফেলে দাও!” রিপা দরজার দিকে এগিয়ে গেল, “আর তো বেশি দিন নয়! তখন আর চা করে এনে দেব না।”

    “ওরে বাবা, এ যে মিস মার্পেল! তা বেশি দিন নয় কেন?” ঝিরি অবাক হল।

    “কারণ আছে। তবে সবাইকে জানতে হবে না। আমি চলি,” রিপা দুরদার করে সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেল।

    কারণ? কী কারণ? চায়ের কাপটা হাতে নিল ঝিরি! আচমকা মনটা কেমন যেন করে উঠল। ঝিরি চোয়াল শক্ত করে নিজেকে ঠিক করল। কুম্ভ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে। লড়াই ছেড়ে পালানোর তাল করছে। না, তাকে কিছুতেই লড়াই ছাড়তে দেওয়া যাবে না। ফাঁকি দিতে দেওয়া যাবে না। এ লড়াই ওকে চালিয়ে যেতে হবে যে-কোনও মূল্যে!

    ঝিরি শূন্য দরজার দিকে তাকিয়ে রইল। পাশে রাখা ফোনটা বাজল আবার। কে এখন! ঝিরি তাকাল ফোনের দিকে। নামটা দেখল। তা হলে ফোন করল! মনটা চাইছে না এখন কাজ করতে। মন চাইছে রিপা কী বলবে, তার মানে বের করতে। কিন্তু উপায় নেই। কাজ ইজ় কাজ। ও ফোনটা হাতে নিল। দেখা যাক ওর কী খবর এল এবার!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)
    Next Article কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }