১০. উর্জা
পার্ক স্ট্রিটের এই রেস্তরাঁটা বেশ পুরনো। প্যারিসের একটা বিখ্যাত নাইট ক্লাবের নামে তৈরি। ভিতরের সব কিছু পুরনো আর রাজকীয় ঢঙে তৈরি। দেখলেই মনে হয় একটা পুরনো শহরের টুকরো যেন আটকে আছে সময়ের ফাঁকে।
রেস্তরাঁর ভেতরে ঢুকে একটু এগোলেই ডান দিকে একটা বড় কাচের অ্যাকোয়ারিয়াম আছে। উমেশ বসেছিল ওর সামনেই।
উর্জা দরজা ঠেলে ঢুকে একবার থমকে দাঁড়িয়ে তাকাল। তার পর উমেশকে দেখতে পেয়ে ওই দিকেই এগোল। দেখল, উমেশও হাসিমুখে উঠে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রয়েছে ওর দিকে।
উমেশের ছবি কাল বীরেন্দ্রই দেখিয়েছে ওকে। বলেছে আজ লাঞ্চে দেখা করে নেয় যেন।
লাঞ্চে দেখা! সামান্য বিরক্ত হয়েছিল উর্জা। অফিসে জয়েন করেছে ও। অফিস ডালহৌসিতে ওদের। পার্ক স্ট্রিট থেকে কাছেই। কিন্তু তাও এ ভাবে দেখা করাটা যথেষ্ট অসুবিধের। অফিসে লাঞ্চ আওয়ার থাকে আধ ঘণ্টার। সেখানে কারও সঙ্গে লাঞ্চে দেখা করতে যাওয়া মানে দু’ঘণ্টা সময় মিনিমাম লাগবেই। এ ভাবে কাজে ফাঁকি দেওয়াটা একদম ভাল লাগে না উর্জার।
কিন্তু উর্জা এখন জানে কী করলে বাড়িতে আর মনে শান্তি থাকবে ওর। তাই এই সব প্রতিবাদের ঝামেলায় ও পড়ে না। গতকালও বীরেন্দ্রর কথাই তাই মেনে নিয়েছিল।
এর মধ্যে বাড়িতে একটা বাজে ঘটনা ঘটে গিয়েছে। বীরেন্দ্রর সঙ্গে থাকে যে জনা, সে মারা গিয়েছে। খবরে বলছে বীরেন্দ্রকে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তার দেহরক্ষী মারা গিয়েছে। সেই নিয়ে ক’দিন টিভিতে আর খবরের কাগজে হইচই হচ্ছে বেশ। কিন্তু উর্জা জানে বীরেন্দ্রকে এই নিয়ে বলে কোনও লাভ নেই। কারও কথা শোনার লোক সে নয়। ও দেখেছে যে, বীরেন্দ্রর সঙ্গে আরও কয়েকজন সিকিওরিটি গার্ড এসে জুটেছে। বীরেন্দ্রর মন-মেজাজও আজকাল খুব খারাপ থাকে। তাই উমেশের সঙ্গে দেখা করার ব্যাপার নিয়ে আর ঝামেলা করেনি উর্জা।
সেই যে দিন ও বাড়িতে ফেরে, সে দিনই মায়ের থেকে জেনেছিল যে, বীরেন্দ্র নাকি ওর জন্য পাত্র দেখেছে। উর্জা জানে ও কী করবে। কী করতে চায়। কিন্তু জীবনে নিজের কাজ সুষ্ঠু ভাবে করার একমাত্র উপায় হল মন্ত্রগুপ্তি। তাই ও রাজি হয়ে গিয়েছিল মায়ের কথায়। কারণ, যেটা ও করবে বলে ঠিক করেছে সেটা ও করবেই। কিন্তু সব ব্যাপার বীরেন্দ্র আর মাকে বলার দরকার নেই। জীবনটা ওর। তাই সেখানে কী করবে আর কী করবে না, তা নিয়ে ও কাউকেই কৈফিয়ত দেবে না।
অফিসে ওর বস মঞ্জীভ গুপ্তা। মধ্য পঞ্চাশ এখন। মানুষ হিসেবে খুবই ভাল। তাঁর বক্তব্য হল, কাজটা হলেই হল। সময় নিয়ে খুব কড়াকড়ি করেন না। তার ওপর জানেন যে, উর্জা কোন বাড়ির মেয়ে।
মঞ্জীভ তাই বলেছিলেন, “আফটার লাঞ্চ কাম ব্যাক ইফ পসিবল। আজ অত কাজ নেই। তাও, ট্রাই।”
গাড়িটা একটু দূরে পার্ক করে রেখেছে উর্জা। কালকেই ডেলিভারি পেয়েছে গাড়িটা। ছোট্ট, সাদা রঙের। বাড়ি থেকে দেওয়া ওই বিশাল দামি বিদেশি গাড়ি নিয়ে সব জায়গায় ঘুরতে খুব অস্বস্তি লাগে। মনে হয় সবাই হাঁ করে তাকিয়ে দেখছে। এমন শো অফ করা একদম পছন্দ নয় ওর। নিজের যা আছে তা আছে। তা অন্যকে দেখানোর মধ্যে যে একটা আদেখলামো আছে, সেটা একদম পছন্দ করে না ও। তা ছাড়া অত বড় গাড়ি কলকাতা শহরে পার্ক করাও খুব কঠিন।
রেস্তরাঁর ভেতরটা বেশ ঠান্ডা। বাইরে বসন্তের কলকাতা যেন আগুন ঝরাচ্ছে!
উমেশকে দেখে একটু হাসল উর্জা। সৌজন্যমূলক হাসি। হাসতে হয় তাই হাসা। ও মনে মনে ভাবল, রাজু জানলে যে কী করবে! আজ সকালে রাজুকে ফোনে বলেছিল উমেশের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার ব্যাপারটা।
রাজু সব শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে ছিল। তারপর ছোট্ট করে “ঠিক আছে” বলে ফোন কেটে দিয়েছিল। আর সেটাতেই উর্জা বুঝেছে যে, কিছুই ঠিক নেই!
ছেলেরা একদম অবুঝ বাচ্চাদের মতো হয়। মাথা ঠান্ডা করে কথা শোনার বালাই নেই। শুধু রাগ দেখিয়ে সব কিছুর সমাধান করতে চায়। রাজুও তাই। ও বোঝে না যে, এখানে থাকতে গেলে আসল সময় আসার আগে পর্যন্ত সবটা বুদ্ধি করে সামলে থাকতে হবে!
বীরেন্দ্র খুবই ইনফ্লুয়েনশিয়াল মানুষ। আর সেটা পদে পদে বোঝায় সবাইকে। ওর ইচ্ছের একটু এদিক-ওদিক হলে আর রক্ষে নেই! রাজুরা অর্থনৈতিক ভাবে কমজোরি। তা ছাড়া বীরেন্দ্র সমাজের যে স্তর বা ক্ষমতার বলয়ে বিরাজ করে, সেখানে রাজুর মান সম্পূর্ণ শূন্য। তাই সবদিক দিয়েই রাজুর ব্যাপারটা জানতে পারলে বীরেন্দ্র খুবই রাগ করবে। কে বলতে পারে বীরেন্দ্র যদি একবার ওদের সম্পর্কের ব্যাপারে জানতে পারে, তা হলে হয়তো ওদের দু’জনকেই শেষ করে দেবে। উর্জা জানে বীরেন্দ্রর পক্ষে সবই সম্ভব।
বীরেন্দ্রর এমন মানসিকতার কথা ভেবে উর্জার মাঝে মাঝে এত রাগ হয় যে, বলার নয়! কিন্তু ও জানে, বীরেন্দ্র কোনও কিছু শোনার মানুষ নয়। ওর মনে হয় বীরেন্দ্র যেন পৃথিবীতে আলোচনা করতে আসেনি, কেবল হুকুম দিতে এসেছে। আর সত্যি বলতে কী, বীরেন্দ্রর সঙ্গে ওর চিরকালই এত ফর্মাল সম্পর্ক যে, সেটা টপকে ওর পক্ষে কিছু বলাও অসম্ভব।
উর্জা শুধু জানে ও কী করবে। তলায় তলায় প্ল্যান করেই রেখেছে সেই মতো। কিন্তু সে সব কাউকে বলা যাবে না। রাজুটা এত ছেলেমানুষ! আরে বাবা, চার বছর এত দূরে থেকেও তো সম্পর্কটা টিকল। তা হলে এখন যখন কাছে এসে পড়েছে, তখন কি একটুও ভরসা নেই! এমনিতে রাজু নানা ব্যাপারে এত বোঝে, কিন্তু উর্জার ব্যাপারে একদম পা দাপানো ছিঁচকাঁদুনে বাচ্চার মতো ব্যবহার করে!
রাজুর সঙ্গে উর্জার দেখা হয়েছিল বিনির মাধ্যমে। সেই যে বিনিদের একটা এনজিও ছিল সেখানেই যুক্ত ছিল রাজু।
একবার বর্ষাকালে সুন্দরবনের একটা ছোট্ট গ্রামে ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিল ওরা। গ্রামটার নাম ছিল রাঙাবেলে। বন্যায় সারা গ্রাম ডুবে গিয়েছিল। লোকজন একটা স্কুলের মধ্যে ঠাসাঠাসি করে আশ্রয় নিয়েছিল কোনও মতে। পর্যাপ্ত শোওয়ার জায়গা নেই। বসার জায়গা নেই। বাথরুমও কমন ও অপরিষ্কার। সব মিলিয়ে নরক যেন। তার মধ্যে লোকাল পার্টির লোকেদের দৌরাত্ম্য তো আছেই!
ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার পরে পার্টির ছেলেরা ঘিরে ধরেছিল ওদের। তাদের দাবি ছিল, ওই সব ত্রাণ তাদের হাতে দিয়ে চলে যেতে হবে। কারণ, তারা লোকাল মানুষ। তারাই জানে কে কেমন বাড়ি থেকে এসেছে। কার অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন। আর কার কতটা ত্রাণের দরকার। ফলে কলকাতা থেকে আসা এই সব ছেলেমেয়ে এ সব বুঝবে না!
উর্জা বুঝতে পারছিল ব্যাপারটা। ওদের আনা ত্রাণ হস্তগত করে নিজেদের পার্টির নামে সে সব বিলি করে, সেখান থেকে মুনাফা লোটার চেষ্টা করবে ছেলেগুলো!
আসলে আমাদের দেশে জনসংখ্যার তুলনায় এখানে প্রকৃত শিক্ষার হার খুব কম। দেশের অর্থনৈতিক প্রয়োজনে বিদেশি কোম্পানিদের ব্যবসাও করতে দেওয়া হয়। ফলে চারিদিকে চোখ ধাঁধানো জিনিসের হাতছানি। বিজ্ঞাপন। লোভী মানুষজন সে সব কিনতে চায়। কিন্তু সবার তো আর প্রচুর টাকা রোজগারের সুযোগ বা যোগ্যতা নেই। তাই প্রয়োজনের বাইরে, লাক্সারি আইটেমের জন্য অতিরিক্ত অর্থ রোজগার, স্বাভাবিক বৃত্তির মাধ্যমে সবাই করতে পারে না। কিন্তু লোভ, ইগো এ সব চরিতার্থ করতে হবে তো! ব্যস, এই সব মানুষ ভাবে, অর্থ রোজগারের সোজা পন্থা হল কোনও না-কোনও রাজনৈতিক দলের লেজুর হয়ে যাওয়া। আমাদের দেশে এমন একটা ধারণা প্রকাশ্যে না হলেও জনগণের মনের মধ্যে ফল্গু হয়ে বইতেই থাকে যে, রাজনীতি করলে টাকার চিন্তা থাকবে না। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। কিন্তু তার পরিমাণ কম। আর, এমন ধারণা হওয়ার কারণও আছে। সাধারণ মানুষজন অনেক রাজনীতিবিদকে দেখে, কী ভাবে ক্ষমতা পাওয়ার পরেই রাতারাতি শূন্য থেকে রাজা-বাদশার মতো জীবনযাপন করছে! দেখে, প্রচুর সম্পত্তি, দামি গাড়ি, জামাকাপড় সব কিছুতেই অর্থ উপচে পড়ছে তাদের!
তাই সাধারণ, রোজকার জীবনে অকৃতকার্য মানুষও এই লোভে পড়ে যায়। তারা ভাবে নেতাদের মতো অতটা না পেলেও কিছুটা তো পাবেই। একটা বাইক, সোনার চেন, দামি টিভি, শোওয়ার ঘরে এসি বা আর-একটু উঠতে পারলে একটা মিউনিসিপালিটি বা ওই মাপের কোনও নির্বাচনের জন্য টিকিট। সেটায় জিততে পারলে আরও নানা কিছু পাওয়ার সুবিধে। এখানে সত্যিকারের মানুষের জন্য কাজ করতে হয়তো পাঁচ থেকে দশ শতাংশ লোক রাজনীতিতে আসে। কিন্তু বাকিরা আসে নিজেদের উচ্চাশা পূরণ করার জন্যই।
উর্জা জানে আমাদের দেশের এই সমস্যা মেটার নয়। কারণ, যত দিন জনসংখ্যার এই অবস্থা থাকবে, তত দিন মানুষের ইনসিকিওরিটিও থাকবে। সঙ্গে অশিক্ষা ও লোভ তো আছেই। ফলে মানুষ কিছুটা না জেনেই সমাজের মধ্যেকার গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেয়। উর্জা এমনও শুনেছে, লোকজন সৎ ভাবে রাজনীতি করা মানুষটিকে দেখিয়ে বাঁকা হেসে বলছে, “কী বোকা দেখ। কুড়ি বছরেও কিছু গোছাতে পারল না!”
সেই গ্রামের পার্টির ছেলেরাও এই মানসিকতার বশবর্তী হয়েই ঝামেলা করছিল। কিন্তু সবটা একা হাতে সামলে দিয়েছিল রাজু।
ছ’বছর আগের সেই ঘটনা আজও স্পষ্ট মনে আছে উর্জার। বত্রিশ বছর বয়সের রাজু সবার মাঝে দাঁড়িয়ে কী ভাবেই না বলেছিল মানুষের অধিকারের কথা। বিপদের সময় মানুষের পাশে মানুষের থাকার কথা। বলেছিল, “আপনারা এই ত্রাণ দখল করতে চাইলে একমাত্র আমাকে মেরে এটা করতে পারবেন। তার আগে নয়। কিন্তু ভেবে দেখুন এতটা নীচে কি নামবেন আপনারা! নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, মানুষের কাজ হওয়াটা ইমপর্ট্যান্ট, নাকি নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ চরিতার্থ করাটা ইমপর্ট্যান্ট! আর বাস্তব দিকটাও দেখুন। স্কুলবাড়িতে আশ্রয় নেওয়া গ্রামের সকলের সামনে এটা করতে পারবেন? এর পরে আপনাদের যেটুকু বিশ্বাসযোগ্যতা আছে, সেটা কি আর থাকবে! গেঁড়ি-গুগলির লোভে কি ইলিশটা ফস্কে যাবে না?”
সব কাজ সেরে ফেরার পথে রাজুর সঙ্গে ভাল করে আলাপ হয়েছিল উর্জার। বলা যায় উর্জাই আলাপ করেছিল যেচে। রাজু কেমন যেন আড় হয়েছিল সারাক্ষণ। কথাই বলতে চাইছিল না। তাও উর্জা কথা বলছিল, একরকম জোর করেই। হাঁ করে তাকিয়ে দেখছিল রাজুকে। ভাবছিল সবার সামনে এমন ভাবে একা একা দাঁড়ানোর জোর কী করে পায় ছেলেটা! রাজু কিন্তু ফিরেও তাকায়নি সে ভাবে।
আজও মনে আছে, ওই ফেরার পথটুকু উর্জার কী যে ভাল লেগেছিল! কিন্তু কেন লেগেছিল? না, তার স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা আজও নেই উর্জার কাছে।
আসলে আমাদের কেন যে কাউকে ভাল লাগে, কেন যে কারও প্রতি আমাদের মন নরম হয়ে আসে, তা আমরা নিজেরাই বুঝতে পারি না। জীবনের অনেক রহস্যের মধ্যে এটাও একটা রহস্য।
বাড়িতে ফিরেও রাজুর কথাই মনে আসছিল উর্জার। বুঝতে পারছিল, রাজুর সঙ্গে কথা না বলতে পারলে প্রবল একটা মনখারাপ আস্তে আস্তে ঘিরে ধরবে ওকে। এমন অস্বস্তি আর উচাটন কোনও দিন কারও জন্য ওর হয়নি। সামান্য কয়েক ঘণ্টা সঙ্গে থাকাটা ওর ভেতরের কী যে পাল্টে দিয়েছিল! একই সঙ্গে এমন ভাল লাগা আর অস্বস্তি কেন হয় মানুষের মনে? এ কী জ্বালা রে বাবা!
কয়েক দিন পরে আর থাকতে না পেরে বিনিকে বিষয়টা বলেছিল উর্জা। বলেছিল, “রাজুর ফোন নাম্বারটা একটু দিবি? জানি না কেন, কিন্তু ওর কথা খুব মনে পড়ছে। কোনও কাজে শান্তি পাচ্ছি না।”
বিনি চুপ করে শুনেছিল সবটা। আসলে বিনি জানত উর্জাদের বাড়ির ব্যাপার। বিশেষ করে বীরেন্দ্রর মনোভাব। তাই হয়তো কিছুক্ষণ উত্তর দেয়নি।
“কীরে, কী বললাম তোকে!” উর্জা অস্থির হয়েছিল, “আমি ইয়ার্কি মারছি না। আমার এমন কোনও দিন হয়নি। প্লিজ়, বোঝ ব্যাপারটা।”
বিনি একটু সময় নিয়ে স্বভাবগত মৃদু স্বরে বলেছিল, “এ সবে ঢুকিস না। কী দরকার তোর। ওর সঙ্গে তোর এজ গ্যাপটাও একটু বেশি। তা ছাড়া ওদের বাড়ির সঙ্গে তোদের মানাবে না। এই বয়সে ওভার প্রিভিলেজড লোকেদের মাঝে মাঝে এমন বিপ্লব-বিপ্লব খেলতে খারাপ লাগে না। দুর্গত মানুষজনের সাহায্যের জন্য সবাই মিলে গেলি। কিছু সময়ের জন্য থাকলি। কাজ করলি একটু। গ্রাম দেখলি, পদ্মপাতায় গরম মোটা ভাত আর কুঁচো চিংড়ি দেওয়া লাউয়ের তরকারি খেলি। গ্রামের বাচ্চাদের সঙ্গে একটু গল্প করলি, খেললি। মহিলাদের সঙ্গে গান গাইলি। তার পর সব ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলি বা হ্যাশট্যাগ দিয়ে একটা চেন অফ টুইট চালু করলি— সব ঠিক আছে। কিন্তু তার মানে এটাকে সিরিয়াসলি নিয়ে এর মধ্যে ঢোকাটা বোকামো হবে। জানবি, এই যে তুই টুকটাক আমাদের সঙ্গে গ্রামে যাস, সেটা কিন্তু একটা ছোট্ট ট্রিপের মতোই। তোর জীবনের স্বাদ বদল হয়। কিন্তু এটাও জানবি যে, তুই ওখানে বিলং করিস না। আর উল্টোদিকে রাজুদা একদম মাটিতে দাঁড়িয়ে কাজ করা মানুষ। ধান কাটার ঝামেলায় জোতদারদের লাঠি, পঞ্চায়েত নির্বাচনে চপার, দেশি পিস্তল এ সব সামনে থেকে মোকাবিলা করা ছেলে, বুঝলি! ওর খেলার মাঠ আর তোর পার্ক এক নয়। তোর আর রাজুদার মধ্যে কয়েকশো লাইট ইয়ার দূরত্ব। ইটালিয়ান বলতে তুই লেদার বুঝিস আর ও বোঝে সেলুন!”
উর্জা সব শুনে হেসে বলেছিল, “ঠিক আছে বাবা, ঠিক আছে। আমার ভুল হয়ে গিয়েছে। তোকে কিছু করতে হবে না। আমি নিজেই যোগাযোগ করে নেব। আর তুইও রাজুদের পার্টি জয়েন কর। ভালই বক্তৃতা দিতে শিখে গিয়েছিস।”
না, উর্জাকে কিছু করতে হয়নি। বিনিই যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিল। এক টুকরো কাগজে একটা ফোন নাম্বার লিখে দিয়ে বলেছিল, “স্মার্ট ফোন নয় কিন্তু। এমনি ফোন। কথা বলে নিস।”
সে দিন রাতে ফোন করেছিল উর্জা। বুকের মধ্যে কী যে তোলপাড় হচ্ছিল! মাতলা নদীর ওপর দিয়ে নৌকা করে গ্রামে যাওয়ার সময় যেমন দুলুনি হয়েছিল, উর্জার বুকের মধ্যেও অবিকল সেরকম দুলুনিই হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল হাত থেকে ফোনটা পড়ে না যায়!
তাও কাঁপা হাতে ডায়াল করে কানে লাগিয়েছিল ফোনটা। চারবার রিং হওয়ার পরে রিসিভ করেছিল রাজু। শান্ত গলায় বলেছিল, “বলো উর্জা।” “তুমি… আমার…” উর্জা অবাক হয়ে গিয়েছিল।
রাজু সময় নিয়েছিল একটু। তার পর নরম গলায় বলেছিল, “বিনি দিয়েছে। বলেছে, দুপুরে নাকি নাম্বার নিয়েছ আমার। আর এখন প্রায় রাত বারোটা। আমি ভাবলাম আর বুঝি করলেই না ফোন।”
এর দিন দশেক পরে বৃষ্টির মধ্যে একটা বড় গাছের তলায় রাজুর বুকে মিশে যেতে যেতে উর্জা জিজ্ঞেস করেছিল, “আমায় তুমি ফোন করোনি কেন? নাম্বার তো ছিল।”
রাজু ওর মুখটা দু’হাতের মধ্যে নিয়ে চোখের দিকে তাকিয়ে বলেছিল, “তুমি যদি কথা না বলতে! যদি তাড়িয়ে দিতে! আমার যে কী হত! সেই গ্রামে যাওয়ার পর, তোমায় দেখার পর থেকেই তো আমার মাথা কাজ করছিল না। তার পর তুমি যদি পাত্তা না দিতে, তা হলে? আমার বুঝি নিজের প্রাণের মায়া নেই?”
দু’বছর আর কোনও দিকে তাকায়নি উর্জা। ওর জীবন সম্পূর্ণ ডুবে ছিল রাজুর মধ্যে। তার পর আচমকাই অফিস থেকে সুযোগ এসেছিল বাইরে যাওয়ার।
না, বিদেশ যাওয়াটা ওর কাছে নতুন কিছু ছিল না। প্রতিবছর ঘুরতে ওরা যেতই। কিন্তু এটা ছিল বাড়ি থেকে দূরে একদম একা, কাজের জন্য যাওয়ার সুযোগ। বাড়ির ওই বিষাক্ত পরিবেশ থেকে দূরে যাওয়ার সুযোগ। বীরেন্দ্র আর মায়ের সম্পর্কটা যে কোনও সম্পর্কই নয়, সেটা তো নতুন করে কিছু বলার নেই। কিন্তু দিনকে দিন সেই অবস্থাটা যেন খারাপ হচ্ছিল আরও। বাড়িতে থাকতেই ইচ্ছে করত না উর্জার। তাই বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে কোনও কিছু না ভেবে ‘হ্যাঁ’ বলে দিয়েছিল।
রাজু কষ্ট পেয়েছিল খুব। কথাটা শুনে হতভম্ব হয়ে তাকিয়েছিল ওর দিকে। ও তো ধরেই নিয়েছিল যে, ওদের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেল। কেমন একটা ভাঙাচোরা গলায় বলেছিল, “তুমি এত স্বার্থপর! নিজেরটাই শুধু দেখলে! আমার দিকটা দেখলে না!”
উর্জা বলেছিল, “আমার ওপর ভরসা নেই একটুও? আমি চিরকাল চেয়েছিলাম আমার বাড়ির ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের আইডেন্টিটি তৈরি করতে। সেটার সুযোগ এসেছে। আর আমি ছেড়ে দেব?”
রাজু বাচ্চাদের মতো কেঁদে ফেলেছিল। জড়ানো গলায় বলেছিল, “আমি জানি তুমি ভুলে যাবে আমায়। মেয়েরা অমন হয়। তাদের কাছে প্রেম অমনই। দু’দিন ভাল লাগল, তার পর অন্যদিকে মন ঘুরে গেল। আমি আমার পরিচিতদের মধ্যেও এমনটা দেখেছি। তুমিও তাই করবে। আমি জানি।”
উর্জার খারাপ লেগেছিল। ও ভুরু কুঁচকে বলেছিল, “তুমি শিক্ষিত মানুষ হয়ে এমন জেন্ডার বায়াসড কেন? আর এত পলকা বিশ্বাস নিয়ে ভালবেসেছ?”
রাজু অক্ষম রাগে আর কষ্টে নিজের চুলগুলো খামচে ধরে বসেছিল। উর্জা পাশে বসে বাচ্চাদের মতো করে মাথায় হাত বুলিয়ে বাবা-বাছা করে বুঝিয়েছিল ওকে।
বিদেশে গিয়ে চারটে বছর কাটানো কিন্তু সহজ ছিল না! এখান থেকে যাওয়ার আগে একটা স্মার্ট ফোন কিনে দিয়েছিল ও রাজুকে। বলেছিল, “এটা সব সময় সঙ্গে রাখবে। রোজ কথা হবে। মনে রাখবে আমি নিজের থেকে গিয়েছিলাম তোমার কাছে। আমি তোমায় ভালবাসি।”
উর্জা কথা রেখেছে। রোজ কথা বলেছে ফোনে, ভিডিয়ো কলে। রাজুর মোবাইল খারাপ হয়ে গেলে ওখান থেকে অনলাইনে নতুন ফোন কিনে পাঠিয়েছে। রাজুর ছেলেমানুষি সামলেছে সাধ্য মতো। বিদেশে অনেক পুরুষ ঘনিষ্ঠ হতে চেয়েছে ওর। কিন্তু তাদের দিকে যায়নি একবারের জন্যও। শেষে কলকাতায় ফেরার পরে রাজু যেন হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছে।
রাজুর সঙ্গে উর্জা প্রথম দেখা করেছিল ফেরার দিন বিকেলেই। একটা ছোট্ট রেস্তরাঁয়। তার পর রাজু বলেছিল দু’দিন পরে কলেজ স্ট্রিটে আসতে।
ওদের ওখানে একটা সভা আছে। সেখানে একটা জিনিস দেবে ও উর্জাকে। সেদিন শপিং করার কথাও ছিল। কিন্তু শপিং করার আগে রাজুর কথা মতো উর্জা গিয়েছিল কলেজ স্ট্রিটে।
রাজু ওর হাতে একটা চাবি দিয়ে বলেছিল, “এখানে-ওখানে আর ঘুরতে হবে না আমাদের। আমার এক বন্ধুর বাড়ির চাবি এটা। এইট বি-র কাছে।” ঠিকানাটা বলে দিয়েছিল ও উর্জাকে। বলেছিল, “ওখানে দেখা হবে আমাদের। কেমন?”
ফেরার পথে জিনির সঙ্গে দেখা হয়ে গিয়েছিল উর্জার। দেখেছিল মেয়েটার শরীর বেশ খারাপ ছিল সে দিন। সেই অবস্থায় ওকে আর পথে ছেড়ে দিতে পারেনি উর্জা। শপিংয়ের পরিকল্পনা বাতিল করে ওকে নিয়ে ফিরে এসেছিল বাড়িতে। তাতে কিন্তু একটুও খারাপ লাগেনি ওর। বরং রাজুর কথা শুনে, ওর সঙ্গে দেখা করার একটা জায়গা হয়েছে ভেবে ভালই লাগছিল বেশ।
উর্জা ভালবাসে রাজুকে। আর ও বুঝতে পারছিল এই চার বছরে ওর প্রতি রাজুর ভালবাসাও অনেকটা বেড়ে গিয়েছে।
নির্দিষ্ট দিন সন্ধেবেলা ওই বাড়িতে মিলিত হওয়ার পরে, উর্জাকে একদম আঁকড়ে ধরেছিল রাজু। ভাবটা এমন যে, ছেড়ে দিলে উর্জা বোধহয় গ্যাস বেলুনের মতো আকাশে উড়ে মিলিয়ে যাবে!
রাজু ফিসফিস করে বলেছিল, “ইজ় দিস রিয়েলি হ্যাপেনিং?” উর্জা নরম গলায় রাজুর মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, “কেন, কী হয়েছে?”
রাজু ওর গায়ে নাক গুঁজে বলেছিল, “আমার তোমার থেকে দূরে থাকতে কষ্ট হয়। আমি জানি, তোমার এ সব কথা ন্যাকামো মনে হবে হয়তো। কিন্তু আমার কষ্ট হলে আমি কী করব! সারাক্ষণ সবার সামনে সাহসী হয়ে থাকতে হয়। তোমার সামনে সেরকম মিথ্যে মিথ্যে সাহসী হতে ইচ্ছে করে না আমার।
“ন্যাকাই তো। বিশ্ব ন্যাকা একটা,” উর্জা হেসে জড়িয়ে ধরেছিল রাজুকে, “আবার বিপ্লব করতে এসেছে! খালি ছিঁচকাঁদুনে বাচ্চার মতো কাঁদে!”
রাজু আরও ঘন হয়ে বলেছিল, “বিপ্লব আর প্রেমে বিরোধ নামী তাত্ত্বিকদের আর বিপ্লবীদের লাভ লাইফ খুলে দ্যাখো। বুঝবে।” উর্জা বলেছিল, “তাই?”
রাজু বলেছিল, “না তো কী? যারা অশিক্ষিত তারাই এ সবের মধ্যে বিরোধ খোঁজে।”
উর্জা হেসে উঠেছিল শব্দ করে। বলেছিল, “খুব রাগ হয়েছে, না!” রাজু, উর্জার দিকে তাকিয়েছিল একদৃষ্টে। তার পর সামান্য হেসে বলেছিল, “There are many females in the world, and some among them are beautiful. But where could I find again a face, whose every feature, even every wrinkle, is a reminder of the greatest and sweetest memories of my life? Even my endless pains, my irreplaceable losses I read in your sweet countenance, and I kiss away the pain when I kiss your sweet face…”
উর্জা অবাক হয়েছিল।
রাজু জিজ্ঞেস করেছিল, “এটাকে ন্যাকামো বলবে? যে যাকে ভালবাসে, তাকে তো নিজের ভালবাসার কথা সুন্দর ভাবে, নরম করেই জানাবে। সেখানে তো, ‘জবাব চাই জবাব দাও’ বা ‘এই শালা বাঞ্চোত শোন’ বলে চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলাটা যুক্তিযুক্ত নয়, তাই না?”
উর্জা হেসে বলেছিল, “খালি বাজে কথা!” তার পর জিজ্ঞেস করেছিল, “কী ভাল প্যাসেজটা! কার লেখা এটা?”
রাজু হেসেছিল। তার পর উর্জার কাঁধে নাক ঘষে বলেছিল, “কাল মার্ক্স।”
উমেশ ছেলেটা ভাল। ইউপি-র ছেলে হলেও তিন পুরুষ ওরা আছে এখানে। তবে লখনউ আর লখিমপুর খেরিতে ওদের বড় বাড়ি আছে এখনও।
উমেশের বাবার প্রচুর পয়সা। রাজনৈতিক যোগাযোগও একদম ওপরের স্তর অবধি। উমেশ সপ্রতিভ ছেলে। ইঞ্জিনিয়ার। নিজেদের ব্যবসাতেই বসে। নিরামিষাশী। বাংলায় কথা বলে স্পষ্ট, কিন্তু কোথায় একটা ‘স’-এর টান আছে।
উর্জার যেহেতু এই দেখা করার আর বিয়ের পছন্দ-অপছন্দের গোটা ব্যাপারটাই মনঃপূত নয়, তাই কিছু খেতে ইচ্ছে করছিল না। ও সামান্যই খাবার খেল। উমেশ শুধু হুইস্কি নিল আর সঙ্গে একটা পনির টিক্কা!
উর্জা বলল কম আর শুনল বেশি। ছেলেটা সারাক্ষণ এমন সব কথা বলে গেল, প্রচ্ছন্ন ভাবে যেন বোঝাতে চাইল যে, ওদের কত টাকা! কত ভাল কানেকশন! ওরা একরকম রাজাই বলা যায়। আর এটাও বলল, উর্জার সঙ্গে নাকি উমেশের হরোস্কোপ পুরো ছত্রিশ গুণ মিলে গেছে। উমেশের বাবাকে নাকি ওদের জ্যোতিষী এ-ও বলেছে যে, এই মেয়েকে বিয়ে করে বাড়িতে আনলে উমেশের বাবা খুব তাড়াতাড়ি কেন্দ্রের মন্ত্রী হবেই!
উর্জার যে কী হাসি পাচ্ছিল! মনে হচ্ছিল উমেশের সামনেই পেট চেপে হাসতে শুরু করে। ওর খালি মনে হচ্ছিল, বীরেন্দ্র একদম খাপমতো বিয়ের সম্বন্ধ এনেছে। উর্জা যদি এখানে বিয়ে করে, তা হলে বীরেন্দ্রর ইচ্ছের ষোলোকলা পূর্ণ হবে! বীরেন্দ্রর ক্ষমতা আর প্রতিপত্তি একশো গুণ বেড়ে যাবে। বীরেন্দ্র এখন যে জায়গায় আছে, এই বিয়ে হলে এক ধাক্কায় একদম আরও বড় লেভেলে চলে যাবে!
উমেশের কথার মাঝেই এবার ঘড়ি দেখল উর্জা। ঘণ্টা দেড়েক কেটে গিয়েছে। আর ও যে সে ভাবে কিছুই বলেনি সেটার ব্যাপারেও উমেশের যেন কোনও হুঁশই নেই। ও মোটামুটি ধরেই নিয়েছে যে, এখানেই বিয়ে হবে।
উর্জা বলল, “আমায় উঠতে হবে। প্লিজ, ডোন্ট মাইন্ড!”
উমেশের যেন এবার খেয়াল হল। ও তাড়াতাড়ি বলল, “শিওর শিওর। আমারও কাজ আছে! লেটস প্যাক আপ ফর দ্য ডে।”
বিল পেয়ে উর্জা পেমেন্ট করতে চেয়েছিল, কিন্তু উমেশ দিতে দিল না। বলল, “আরে, পরের বার তুমি দিয়ো। এ তো এখন চলতেই থাকবে।”
উমেশের কনফিডেন্স দেখে উর্জা হাসল মনে মনে। পরের বার। চলতেই থাকবে। আচ্ছা! কত শখ ছেলের!
রেস্তরাঁ থেকে বেরিয়ে এসে দাঁড়াল ওরা। বাইরে গনগনে রোদ। মুখ যেন পুড়ে যাচ্ছে। আজ আচমকা একটু গরম পড়েছে। তার মধ্যেই দুপুরের পার্ক স্ট্রিট ছুটছে হু হু করে।
উর্জা অফিস যাবে এবার। মঞ্জিভকে আবার বলতে হবে কলকাতা থেকে ট্রান্সফারের কথা। ভেবেছিল এখানে ফিরে এসে শান্তিতে থাকবে। কিন্তু এখানে থাকা যাবে না আর। এই উমেশকে সহ্য করা মুশকিল। আর বীরেন্দ্র কিছু করার আগেই সরে পড়তে হবে। এখানে এসে সব দেখেশুনে ও নিজের পরিকল্পনা বদলেছে। এখন ওর অন্য একটা প্ল্যান আছে।
উমেশের দিকে তাকিয়ে হাসল উর্জা। বলল, “আমি তা হলে আসি? আমার গাড়িটা অন্য দিকে পার্ক করা আছে।”
“শিওর,” বলেই আচমকা উমেশ এগিয়ে এসে হাতটা ধরল ওর। তার পর মুখটা বাড়িয়ে গালে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়াল।
ঘাবড়ে গিয়ে একদম পাথরের মতো জমে গেল যেন উর্জা। এটার জন্য একদম প্রস্তুত ছিল না ও। অপ্রস্তুত আর বিরক্ত হয়ে ও বলল, “এটা কী হল?”
উমেশ হাসল, “তুমি এত বছর বিদেশে ছিলে… ভাবলাম…. বাকি কথাটা শোনা হল না উর্জার। চোখের পাশ দিয়ে সামান্য দূরে কিসের একটা নড়াচড়া যেন চেনা লাগল ওর। ও দ্রুত মাথা ঘোরাল। দেখল, ওই ঝলসে যাওয়া রোদের নীচে দাঁড়িয়ে, ওদের দু’জনের দিকে কেমন একটা অদ্ভুত মুখ করে তাকিয়ে রয়েছে রাজু।
