Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প698 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২২. উর্জা

    ওদের বাড়ির পেছনে একটা বিশাল বড় শিরিস গাছ আছে। একে নাকি রেন ট্রিও বলে। বৃষ্টি হলেই গাছের পাতাগুলো বইয়ের পাতার মতো বুজে যায় নিজে থেকে। আবার এই একই গাছকে ফাইভ ও’ক্লক ট্রি-ও বলে। কারণ, মোটামুটি বিকেল পাঁচটা বাজলেই গাছের পাতাগুলো ওই একই ভাবে বন্ধ হয়ে যায়!

    উর্জার এই বন্ধ হয়ে যাওয়া পাতাগুলো দেখলে মনে হয়, সমগ্র গাছ যেন তার লক্ষ কোটি ছোট্ট করতল জোড় করে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে, আলোর দিকে তাকিয়ে, সময়ের দিকে তাকিয়ে, নিজের প্রার্থনা জানিয়ে রাখছে।

    কিন্তু এত দিন এই গাছটার নাম জানত না উর্জা। করিমচাচা একটু আগে বলল গাছের নামটা। করিমচাচা অনেক পুরনো দিনের মানুষ। ওদের বাড়িতে সেই কবে থেকে কাজ করছে। প্রায় আশি বছর বয়স লোকটার। উর্জা শুনেছে বীরেন্দ্রর ছোটবেলা থেকেই নাকি করিমচাচা আসে এখানে। টুকটাক কিছু ফিটিং বা সারাইয়ের কাজ হলে তপনকাকু করিমচাচাকেই ডাকে।

    গোটা বাড়ির পুরো মেনটেন্যান্সটাই দেখে তপনকাকু। জিনির বাবা। লোকটাকে দেখে মাঝে মাঝে খারাপ লাগে উর্জার। শিক্ষিত মানুষ। আগে কোন এক মিল-এ কাজ করত। কিন্তু সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তার পর বীরেন্দ্র ওকে নিয়ে আসে এখানে। সেই থেকে এখানেই আউট হাউসে আছে কেয়ারটেকার হিসেবে।

    বীরেন্দ্র মাঝে মাঝে বেশ দুর্ব্যবহার করে তপনকাকুর সঙ্গে। যা খুশি বলে। এমনকি, চড়চাপড়ও লাগায়। লোকটা ভয় পাওয়া বিড়ালের মতো কুঁকড়ে থাকে সারাক্ষণ। খুব খারাপ লাগে উর্জার। কিছু দিন আগেও নাকি বীরেন্দ্র অমন করেছে। ছোট-বাড়িতে গিয়ে তপনকাকুকে থাপ্পড় মেরেছে মেয়ের সামনে! মার খেয়ে মাটিতে পড়ে গিয়েছিল তপনকাকু।

    বিন্দি উর্জার কাজকম্ম দেখাশোনা করে বাড়িতে। ও-ই উর্জাকে বলেছিল এসব। শুনে এত খারাপ লেগেছিল যে, উর্জা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কোনও সন্তানের সামনে তার বাবা-মাকে কখনও অপমান করতে নেই, এই সাধারণ বোধটাও নেই বীরেন্দ্রর!

    উর্জা মাঝে মাঝে ভাবে, মা কেন এই লোকটাকে বিয়ে করতে গেল! বিয়ের পরও তো সম্পর্ক নেই দু’জনের! এক বাড়িতে দু’জন দু’দিকে থাকে। নিজেদের কোনও সন্তানও নেয়নি ওরা। কথাবার্তাও খুব দরকার ছাড়া সে ভাবে হয় না। উর্জা বোঝে না ব্যাপারটা কী! মা কেন বিয়ে করতে গেল! শুধু ওর দাদু জোর করেছিল বলে! উর্জার মনে হয়, মা অন্য কাউকে বিয়ে করলে অন্তত মনের দিক থেকে ভাল থাকত।

    বীরেন্দ্রর প্রচুর টাকা আর ক্ষমতা। কিন্তু মানুষ হিসেবে ভাল নয়। প্রচণ্ড নির্দয়। নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষার সামনে আর সব কিছু ওর কাছে ফালতু। উর্জার মনে হয়, বীরেন্দ্র সমাজের যে স্তরে ঘোরাফেরা করে, সেখানে হয়তো এমনই রুথলেস হতে হয়। ক্ষমতার জন্য মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে পাগল। ক্ষমতা থাকলে কামিনী কাঞ্চন সব আসে জীবনে। ইতিহাস বলে যে, এর চেয়ে নেশা ধরানোর জিনিস আর কিছু নেই। একবার কেউ এর মোহে পড়ে গেলে উচিত-অনুচিতের সমস্ত সীমা সে পার করে যায়। বীরেন্দ্রকে দেখে ঠিক এরকমই মনে হয় উর্জার।

    উর্জা দেখেছে, বীরেন্দ্র যেন ঠিক কাউকেই ভালবাসে না। সবাইকে নিজের জন্য ব্যবহার করে। এই যে ওকে ছোট থেকে দেখছে, সেখানেও কিন্তু ওর প্রতি বীরেন্দ্রর কোনও রকম সফট কর্নার গড়ে ওঠেনি। কিন্তু এখন নিজের রাজনৈতিক প্রয়োজনে ওকেও ব্যবহার করতে চাইছে। উমেশের সঙ্গে বিয়ে হলে স্থানীয় রাজনীতির পাশাপাশি বৃহত্তর রাজনীতিতেও বীরেন্দ্রর “দবদবা” বাড়বে। বীরেন্দ্র এক দল ছেড়ে অন্য দলেও শিফট করে যাবে। সবটাই সেই পুরনো দিনের মতো। বৈবাহিক সম্পর্ক দিয়ে রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা। তাই বীরেন্দ্র ওকে রীতিমতো পুশ করছে এই সম্পর্কতে যাওয়ার জন্য। এমনকি, ও স্পষ্ট করে ‘না’ বলার পরেও ওকে নানা ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছে। কী যে বিরক্তি লাগছে উর্জার! জীবনের কিছু কিছু ক্ষেত্র আছে, যেখানে এখনও অনেক কিছুই মধ্যযুগীয় অবস্থার মধ্যে আটকে আছে।

    “মামণি, বলো তোমার পছন্দ হয়েছে তো?”

    করিমচাচার কথায় ঘুরে তাকাল উর্জা। সামান্য হেসে বলল, “হ্যাঁ, সুন্দর হয়েছে।“

    করিমচাচা চওড়া করে হাসল। বলল, “তপনবাবু বলছিলেন লোহার জঞ্জির লাগাতে। কিন্তু এমন অ্যান্টিক কাঠের দোলনায় লোহার জঞ্জির লাগালে বাজে লাগবে। তার চেয়ে এই লাল নাইলনের মোটা কাছি অনেক ভাল, না? ওপরে পেতলের কভারও আছে। সাহেব দেখলে ভাল হত। কিন্তু সাহেব তো বাড়িতে নেই। তাই আমি এই নিয়ে সকালে সাহেবের সঙ্গে ফোনে কথা বলে নিয়েছি। সাহেব বলেছেন যেটা বেস্ট হবে, সেটাই করতে। এখন দ্যাখো, কী দারুণ লাগছে!”

    সত্যি ভাল লাগছে। উর্জা হাসল। অনেকদিন ধরে ওর ইচ্ছে ছিল বাড়ির পেছনের এই বড় শিরিস গাছটায় যদি একটা দোলনা লাগানো থাকত! বিন্দিকে বলেছিল এই কথাটা। আর আজ সকালে জানল যে, দোলনা লাগাতে লোক এসেছে। বিন্দির থেকে কথাটা কী করে বীরেন্দ্রর কাছে গেল কে জানে!

    আজ রবিবার। ছুটি। এখন সে ভাবে উর্জার কোনও কাজ নেই। ও বিকেলে একবার বেরোবে একটু। রাজুর সঙ্গে দেখা করতে হবে। ওর কাছ থেকে কলেজের মার্কশিট আর সার্টিফিকেটগুলো নিতে হবে। রাজু যদি মাস্টার্সটা করে রাখত, তা হলে সুবিধে হত। কিন্তু তাও ফিজিক্সে অনার্স করা ছেলে। সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড, তাই অফিসে কনভিন্স করতে অসুবিধে হয়নি।

    মঞ্জীভ প্রথমে উর্জার কাছ থেকে রাজুর কথা শুনে বলেছিল, “উর্জা, নিউ জিল্যান্ডের প্রজেক্টটাতে আমাদের বাজেট কিন্তু টাইট একটু। তাই রাজুকে আমরা আমাদের কাজে ডাইরেক্টলি অ্যাবজর্ভ করতে পারব না। কিন্তু আমরা যে লোকাল কনট্র্যাক্টরের মাধ্যমে সিভিল কাজ করাব, সে ওদের সঙ্গে কথা বলেছিল। ওরা বলেছে যে, রাজুর পেপার্স পাঠালে ওরা সেই ভাবে ভিসার জন্য চিঠি পাঠাবে। আমি তো ওদের রেকমেন্ডেশন পাঠিয়ে দিয়েইছি। ফলে অসুবিধে কিছু হবে না। কিন্তু মানডে যে করেই হোক পেপার্স আমায় দিয়ে দিয়ো। আমি ডলিকে দিয়ে দেব। ও স্ক্যান করে পাঠিয়ে দেবে।”

    ডলি মানে, ডলি সেন, মঞ্জীভ গুপ্তার সেক্রেটারি।

    গত পরশু অফিসে এই কথাটা হয়েছিল। তার পর অফিসের অন্য একটা কাজে একবার এয়ারপোর্ট অথরিটির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল উর্জা। রাজুকে ফোন করে বলেছিল যে, দেখা করতে চায়।

    রাজু বলেছিল, “আমি জিকোদের বাড়িতে যাব একটু। তুমি এয়ারপোর্টের কাছে থাকছ তো? ঠিক আছে, কাজ শেষ করে এয়ারপোর্টের সামনে চলে যাব। ওখানেই দেখা করে নেব।”

    রাজু ঠিক সময়েই চলে এসেছিল। উর্জাকে অপেক্ষা করতে হয়নি একটুও। রাজু জিজ্ঞেস করেছিল, “এমন জরুরি তলব! কী কেস? ফোনে বললেও তো পারতে!”

    “সব কথা ফোনে হয় না। একটা সিরিয়াসনেস তো আছে। প্লাস তোমাকে দেখতেও তো ইচ্ছে করে আমার!” উর্জা বলেছিল শান্ত গলায়।

    রাজু বলেছিল, “আচ্ছা আচ্ছা, চলো, কোথাও বসে কথা বলি।” উর্জা মাথা নেড়েছিল, “না, বাইরে বসব না কোথাও। বাড়ি ফিরতে হবে। গাড়িতে যেতে যেতে কথা বলি চলো।”

    গাড়িতে সামনে ওর পাশেই বসেছিল রাজু। মাথাটা হেলিয়ে বলেছিল, “এত খাটনি যাচ্ছে! আর ভাল লাগে না।”

    উর্জা হেসে গাড়ি স্টার্ট করেছিল। জিজ্ঞেস করেছিল, “জিকোদের আবার নতুন কিছু ঝামেলা হল নাকি?”

    “না না, জাস্ট খবর নিতে গিয়েছিলাম। মায়ের একটা কাজ ছিল ও দিকে। তাই খবরও নিয়ে এলাম ওদের। যাক গে। তুমি বলো এত জরুরি কী কথা!”

    উর্জা বলেছিল, “আমাদের নিজেদের ব্যাপারেই কথা। আমি কথা বলে নিয়েছি অফিসে। তোমার জন্য ওখানকার প্রাইভেট কন্ট্রাক্টরের সঙ্গে স্যর কথা বলেছেন। কাজটা হয়ে যাবে। তুমি কালকেই আমায় তোমার মার্কশিট, সার্টফিকেট আর যদি এক্সট্রা কোনও ইমপর্ট্যান্ট পেপার্স থাকে, দিয়ে দেবে। সোমবার আমি বসকে দেব ওটা। তোমার ভিসার রেকমেন্ডেশন লেটারের জন্য ওগুলো দরকার।”

    “কাল তো হবে না। কাজ আছে। আমি রবিবার বিকেলে যদি দিই, তা হলে হবে?” রাজু তাকিয়েছিল ওর দিকে।

    “কাজ আছে! আচ্ছা, সানডে ঠিক আছে। আমায় পেপার্স মানডে জমা দিতে হবে। তা কোথায় দেখা করব বলো?” উর্জা তাকিয়েছিল।

    আজ রবিবার। ছুটি। এখন সে ভাবে উর্জার কোনও কাজ নেই। ও

    “ওই আমাদের সেই জায়গায়…” ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে হেসেছিল রাজু।

    উর্জা মাথা নেড়েছিল, “আমার পক্ষে এখন ফিজিক্যাল হওয়া সম্ভব নয়। আয়াম হ্যাভিং দোজ ডেজ়। এক কাজ করো, আমরা পূর্ণদাস রোডে দেখা করি সানডে। তুমি সব পেপার্স জেরক্স করে নিয়ে এসো। আমি এগজ্যাক্ট লোকেশন বলে দেব তোমায়।”

    “কত দিন তোমায় আদর করিনি,” রাজু গিয়ারের ওপর রাখা উর্জার বাঁ হাতটা ধরে নরম ভাবে বলেছিল, “আমার আর তোমার থেকে দূরে থাকতে ইচ্ছে করে না।”

    উর্জা হেসেছিল। তার পর বলেছিল, “আর তো ক’টা দিন। ঠিক আছে, নেক্সট উইক আমরা যাব। এই সানডে নয়। প্লিজ় আন্ডারস্ট্যান্ড।” রাজু চলন্ত গাড়িতেই ওর দিকে ঝুঁকে গালে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে ছিল। রাজুর গরম শ্বাসে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল উর্জার!

    সন্ধে হয়ে গিয়েছিল, তাই রক্ষে। যদিও গাড়ির মধ্যে, তাও এমন সবার সামনে গায়ে হাত দেওয়া একদম পছন্দ করে না উর্জা। কিন্তু সে দিন ওর ভালও লেগেছিল। মনে পড়ে গিয়েছিল সেই বহু দিন আগে প্রথম রাজুকে দেখার সময়টার কথা ভাবলে অবাক লাগে, সেখান থেকে আজ এখানে ওরা। তখন কি বুঝতে পেরেছিল, এমন একটা জায়গায় এসে পৌঁছোবে জীবন! সময় সত্যি নদীর মতো। কত ঘটনার কূল ছুঁয়ে ছুঁয়ে সে কোথা থেকে যে কোথায় বয়ে যায়।

    ও নিজেও হাত বাড়িয়ে ধরেছিল রাজুর হাত। জিজ্ঞেস করেছিল, “তুমি সত্যি যেতে চাও তো? আমি তোমায় প্রেশার করছি না তো?”

    রাজু হেসে ওর হাতে চাপ দিয়েছিল, “আমার কোনও দিন কোনও মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক হয়নি, জানো! স্কুলে জীবনে দারিদ্র নিয়ে বিব্রত থাকতাম। ক্লাস টেন থেকে পলিটিক্সে আকৃষ্ট হই। পরে গ্রামে চলে গিয়েছিলাম। তার পর সবটাই ছিল পার্টি আর মানুষের কাজ। সেখানে আর কোনও কিছুর জায়গা ছিল না। তার পর তুমি এলে। অ্যান্ড ইউ রেসকিউড মি ফ্রম মাইসেলফ। সেভড মি। আমার তোমায় দেখে মনে হয়েছিল, বহু বহু দিন আগে আমাদের দেখা হয়েছিল কোনও এক স্বপ্নের মধ্যে!”

    উর্জা হাতটা সরিয়ে হেসে বলেছিল, “ইস, কী বস্তা-পচা ডায়ালগ! আর কী ভীষণ চিড়ি!”

    রাজুও হেসেছিল, “কিসের চিজি! যেটা সত্যি, সেটা মানুষের ইতিহাসে প্রথম থেকেই সত্যি। এই জীবৎকাল ধরেই সত্যি। তাই বার বার বললে হয়তো এমনই শুনতে লাগে। বস্তা-পচা লাগে। কিন্তু তাও পাল্টায় না সত্যিটা। নেরুদার লাভ সনেটস পড়ো তো! তখন তো চিজ়ি লাগে না? তখন তো চোখ-মুখ উল্টে বলো, কী সাংঘাতিক সমৰ্পণ! কী অসাধারণ প্রেমের আকুতি! নেচার আর প্রেম কী অসাধারণ ভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে আছে! কিন্তু এ সবকে যদি আমি চিড়ি-ফিজ়ি বলি, তা হলেই তুমি আমায় মারবে। কারণ, উনি ল্যাটিন আমেরিকান পোয়েট না! ওদের সবটাই ‘র অ্যান্ড রিয়েল’। আমরা বাঙালি। সব জানি, বুঝি। সবেতে মাতব্বরি! তাই এ সব বললেই চিজি!”

    “খুব ঝগড়ুটে তো!” হেসেছিল উর্জা। নেরুদার কবিতা খুব ভাল লাগে উর্জার। সেটার জন্যই যে খোঁচা দিয়েছে রাজু, সেটা বুঝেছিল।

    রাজু বলেছিল, “কিন্তু সত্যিটাই বললাম। আমার জীবনটা স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার ছিল। তুমি এলে, তাই আলো এল। আমি তো ভাবতেই পারিনি এমন কিছু হতে পারে! আমি তো আর নেরুদা নই যে, সল্ট রোজ আর টোপ্যাজের কথা বলব! লেমন ফ্লাওয়ারের কথা বলব বা বলব, “The memory of you emerges from the light around me.’ তাই আমার কথা শুনলে তো এমন বলবেই! আর চিড়ি কথা নিজের প্রেমিকাকে বলব না তো কি পাড়ার অন্য মেয়েদের বলব?”

    উর্জা হেসে বলেছিল, “খালি কথার প্যাঁচ। আর, অন্য মেয়েদের এ সব বলার খুব শখ, না?”

    রাজু মাথা নেড়ে বলেছিল, “হ্যাঁ, এটাই তো হবি আমার। জানো না? আমি তো সারাক্ষণ মেয়েদের কাছে ঘুরে ঘুরে এ সব বলে বেড়াই। সোশ্যাল মিডিয়ায় সুন্দরী মেয়েদের ফেক গুণকীর্তন করে তাদের ফোন নাম্বার নেওয়ার ধান্দা করি। আমার তো আর খেয়েদেয়ে কাজ নেই!”

    উর্জা বলেছিল, “সে আমি কী করে জানব কী করো না করো।”

    রাজু মাথা নেড়ে বলেছিল, “আমি যে তোমাকে ভালবাসি সেটা জানানোর জন্য একটু নরম করে বললেই আমি চিজ়ি, না বললে আবার অন্য কথা! কী করবে আমার মতো ছেলেরা!”

    উর্জা কিছু না বলে হাসছিল শুধু।

    রাজুও বসেছিল চুপ করে। টিপটিপ করে আচমকা বৃষ্টি শুরু হয়েছিল কলকাতায়। বাইপাসের কালো পিচের ওপর বাটিক প্রিন্টের মতো ফুটে উঠছিল জলের আলপনা। ওয়াইপারের মৃদু ঘটঘট শব্দ আসছিল। উর্জা না তাকিয়েও বুঝতে পারছিল রাজু ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।

    একটু সময় পরে উর্জা মাথা ঘুরিয়ে ইঙ্গিতে জিজ্ঞেস করেছিল, “কী? কী দেখছ?”

    রাজুও হেসেছিল একটু তার পর বলেছিল—

    “I have dreamed so much of you,

    Walked so often, talked so often with you, Loved your shadow so much. Nothing is left me of you.

    Nothing is left of me but a shadow among shadows, A being a hundred times more shadowy than a shadow,

    A shadowy being who comes, and comes again, in your sunlit life.”

    উর্জা বলেছিল, “বিচ্ছিরি, বিচ্ছিরি কবিতা! তুমি মোটেও আমার জীবনে শ্যাডো নও। আমরা যাদের ভালবাসি, তারা সবাই আমাদের কাছে আলো হয়েই আসে। বুঝেছ? তাদের আলোতেই আমরা নিজেদের দেখি। জীবনে কোন পথে চলতে হবে সেটা খুঁজে পাই।”

    রাজু হেসেছিল হো হো করে। বলেছিল, “লেটট্স স্টার্ট আ চিজ় ফ্যাক্টরি টুগেদার!”

    করিমচাচা বলল, “মামণি একবার বসে দ্যাখো। তোমার জন্য বানালাম আর তুমি একবারও বসলে না!”

    উর্জা দেখল তপনকাকু, করিমচাচা-সহ বাড়ির অন্য কাজের লোকজনও হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। তার পর ওর নজর পড়ল কবির দিকে। একটু দূরে, একটা জারুল গাছের নীচে কবি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। দোলনাটা লাগানোর সময় ও নিজেও হাত লাগিয়েছিল। গাছের ওই সমান্তরাল ডালটায় উঠে লোহার ক্ল্যাম্প দুটো ও-ই লাগিয়েছে। করিমচাচার লোকজন ক্ল্যাম্পটা লাগাতে পারছিল না।

    প্রায় তিনতলা উঁচু সমান্তরাল ডাল। সেখান থেকে লম্বা করে ঝোলানো হয়েছে দোলনাটা। সবার সামনে এমন করে দোলনায় বসতে লজ্জাই লাগছে ওর। তাও ওকে এ ভাবে যখন বলা হচ্ছে, ও আর কী করে!

    পায়ে পায়ে দোলনাটার দিকে এগিয়ে গেল উর্জা। লজ্জাটা আরও বাড়ছে। যেন ও একটা বাচ্চা মেয়ে আর ওর জন্য খেলনা কিনে আনা হয়েছে! এখন সবাই মিলে দেখবে ওর পছন্দ হয়েছে কি না খেলনাটা! আজ নতুন একটা হলুদ লেগিংস আর গাঢ় লাল কুর্তি পরেছে উর্জা। সঙ্গে হলুদ ওড়না ভাঁজ করে ফেলা আছে বুকের ওপর।

    সকালে বিন্দি বলছিল, “দিদি, আজ আগুন লাগিয়ে দিয়েছ!”

    এই রোদ আর এলোমেলো হাওয়ায় ওড়না আর কুর্তি সামলাতে সামলাতে ওর সেই কথাটা মনে পড়ল। ভাবল, রাজু যদি ওকে দেখত আজ!

    দোলনার কাঠটা চওড়া। মোটা। দু’পাশে দুটো করে মোট চারটে লোহার ক্ল্যাম্প লাগানো। তার সঙ্গে লাগানো মোটা নাইলনের দড়ি উঠে গেছে ওই তিনতলা সমান গাছের ডাল অবধি।

    দোলনা যেখানে ঝোলানো আছে, তার তলার মাটিটা কুপিয়ে গর্ত করা হয়েছে।

    উর্জা বসতেই বিন্দি এসে দাঁড়াল পেছনে। ওকে ধাক্কা দেবে? দোলাবে? হাওয়ার জোর যেন বাড়ল আরও। আজ এলোমেলো হাওয়া দিচ্ছে খুব।

    চারিদিকের গাছপালায় খসখস আওয়াজ। মুখে এসে পড়ছে চুল।

    উর্জা চুলটা সরিয়ে শক্ত করে ধরল দড়ি। তার পর বলল, “ঠেল বিন্দি।” বিন্দি পেছন থেকে জোরে ঠেলল ওকে। আর উর্জা যেন ভেসে উঠল হাওয়ায়!

    একবার সামনে আর একবার পেছনে। পেন্ডুলামের মতো দুলছে দোলনা। আর উর্জা যেন ভেসে যাচ্ছে সেই ছোটবেলার মতো। ওর ওড়না বিজ্ঞাপনের মতো সোজা হয়ে উড়ছে! মুখ-চোখ যেন ডুবে যাচ্ছে হাওয়ায়!

    উর্জা দেখল সবাই হাসছে। বিন্দি ছবি তুলছে নিজের মোবাইলে। আস্তে আস্তে দোলার গতি বাড়ছে। দুলতে দুলতে প্রায় দোতলার মতো উচ্চতায় উঠে যাচ্ছে উর্জা। ও আর ভাবছে না কিছু। হাওয়ার মধ্যে যেন ছেড়ে দিয়েছে নিজেকে। যেন ভেসে যাচ্ছে ছোটবেলার রূপকথার মতো। উর্জা চোখ বন্ধ করে নিল।

    আর সামনে ছবি ভেসে উঠল একটা! অনেক অনেক আগের একটা দৃশ্য। আবছা, ভাঙা। আকাশি নীল জামা পরা একটা বাচ্চা মেয়ে এমনই দোল খাচ্ছে আর তাকে ধরে, ঠেলে, তার পেছনে দাঁড়িয়ে হাসছে চশমা পরা, উল্টে চুল আঁচড়ানো একজন মানুষ!

    চোখ মেলে তাকাল উর্জা। বাবা! বাবাকে দেখল ও! এটা কি সত্যিই হয়েছিল কোনও দিন? নাকি ওর কাছে রাখা পুরনো অ্যালবামে এমন একটা ছবি আছে বলে সেটাই ওর কাছে মাঝে মাঝে সত্যিকারের স্মৃতি হয়ে ফিরে আসে। আমাদের জীবনে যেটুকু স্মৃতি, সেটুকু কি সত্যি ঘটে যাওয়া ঘটনা, নাকি আমাদের পারসেপশন সে সব তৈরি করে!

    বুকের মধ্যে কেমন একটা করছে ওর। মনে হচ্ছে বিশাল হলঘরের শেষ প্রান্তে যেন দাঁড়িয়ে আছে একা। কেউ নেই, ওর কেউ নেই।

    মনটা আচমকা এলোমেলো হয়ে গেল উর্জার। বাবাকে এত স্পষ্ট দেখল! ও ভাবল, ওই মানুষটা থাকলে আজ কি এমন একটা জীবন কাটাতে হত ওকে!

    বাইরে থেকে লোকে দেখলে ভাববে কী নেই উর্জার! টাকা, ক্ষমতা, আরাম সব আছে। কিন্তু জীবনে টাকাটাই কি সব? টাকা অনেক কিছু, কিন্তু সব নয়। সব হলে ওকে এমন নিজের বাড়ি থাকতেও চলে যেতে হত না বাইরে। ওর ইচ্ছে আর কথার একটা দাম থাকত। সারাক্ষণ ওর ওপর এমন ভাবে মানসিক চাপ দিয়ে রাখা হত না। ওর অবাক লাগে এই ভেবে যে, মা-ও কেন একবারও ওর দিকটা দেখতে চাইবে না? মায়ের তো নিজের হাজব্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ, কিন্তু তা-ও মা যেন কিছুতেই চটাতে চায় না বীরেন্দ্রকে! সবাই ভয় পায় লোকটাকে। .

    আজকাল তো মাঝে মাঝে উর্জার মনে হচ্ছে যে, ওকেও নজরে রাখা হয়েছে। সেই যে বীরেন্দ্রকে বলেছিল উমেশকে বিয়ে করবে না, তার পর থেকেই কেন যেন এটা মনে হচ্ছে ওর। না, কোনও প্রমাণ পায়নি। হয়তো প্যারানয়েড থিঙ্কিং, কিন্তু তাও আজকাল মনে হচ্ছে এটাই।

    নিজেকে সামলে নিয়ে দোলনা থামিয়ে সেখান থেকে নেমে এল উর্জা।

    দেখল, সবাই যেন একটু চমকেই গিয়েছে। যে একদম প্রাণ খুলে দোল খাচ্ছিল, সে হঠাৎ এমন নেমে গেল কেন!

    করিমচাচা এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল, “কোনও তকলিফ হয়েছে মামণি?”

    “না না,” উর্জা হেসে মাথা নাড়ল, “খুব ভাল হয়েছে দোলানাটা। খুব স্মুথ।”

    করিমচাচা হেসে দোলনার দিকে এগিয়ে গেল। একটা ছেলেকে বলল যে, দোলনার নীচে যে মাটির গর্তটা করা আছে, সেটা যেন ভাল করে মসৃণ করে দেয়।

    উর্জা আর তাকাল না ওই দিকে। ও বাড়ির দিকে এগোল। দেখল, কবি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে হাতের মোবাইলে কী একটা দেখছে।

    উর্জা এগিয়ে গেল ওর দিকে। তার পর বলল, “তুমি চড়ো দোলনায়?” কবি মোবাইলটাকে চট করে পকেটে ঢুকিয়ে নিল। তার পর বলল, “না।”

    “কেন? মজা লাগে তো! চড়ো না কেন?”

    কবি কিছু না বলে হাসল শুধু।

    “বলো, কেন চড়ো না!” উর্জা জোর করল। ছেলেটা কথাই বলতে চায় না যে!

    কবি বলল, “আমাদের বাড়ির পাশে একটা দোলনা বানিয়ে দিয়েছিল বাবা। একটা টায়ার ঝুলিয়ে দিয়েছিল। সেখানে চাপাত আমায়। বাবা মারা যাওয়ার পরে আর হয়নি। মায়ের কাজ থাকত। আর আমারও ইচ্ছে করত না। তাই আর কী।”

    উর্জা হাসল। ও বলল, “তুমি জিনিকে নিয়ে এসে মাঝে মাঝে দোলনাটায় চড়িয়ো। আমি বিন্দিকে বলে দেব, কেউ যেন কিছু না বলে!”

    কবি চট করে তাকাল ওর দিকে। তার পর ঠোঁট টিপে ভদ্রতাসূচক মাথা নাড়াল একটু।

    উর্জা ইচ্ছে করেই বলেছে কথাটা। সেই রাতের পর থেকে ও ক’দিন একটা জিনিস লক্ষ করেছে। জিনি দূর থেকে কবিকে দেখে। দু’-একদিন তো নিজের ঘরের সামনের টেরাস থেকে দেখেছে যে, আউট হাউসের পেছনের ছোট্ট বাগানটায় একা বসে থাকা কবির সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছে জিনি।

    সেই বাগানে জিনির দ্বিধা আর চলাফেরার মধ্যেই একটা অদ্ভুত ভাললাগা ছিল। উর্জা নিজে মেয়ে হিসেবে জিনির অবস্থাটা বুঝতে পারে। জিনির হাঁটা, জিনির দৃষ্টি, জিনির ঠোঁট টিপে মাথা নামিয়ে নেওয়া। সব একটাই জিনিস ইঙ্গিত করে। কিন্তু সেটা কি আদৌ বোঝে কবি? বুঝতে চায়? এই বয়সের একটা ছেলে এমন চুপচাপ কেন? কী আছে ওর নিস্তব্ধতার আড়ালে?

    বাড়িতে ঢোকার মুখে পিকপিক করে মোবাইলটা বেজে উঠল। মেসেজ? উর্জা কুর্তির পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখল। আরে, পিটার মেসেজ করেছে। ভাল লাগল ওর।

    অনেক দিন যোগাযোগ নেই ওদের সঙ্গে। মেসেজে দেখল লেখা আছে, পিটার আর পাকো নাকি মেক্সিকো গিয়েছিল। কিন্তু ফিরে এসেছে এখন। ওদিকে ইউরোপের অবস্থা খুব খারাপ। করোনাভাইরাসের প্রকোপে খুব সমস্যা শুরু হয়েছে। পিটার জিজ্ঞেস করেছে এখানে সব ঠিক আছে কি না! আর জানিয়েছে নিউ জিল্যান্ডের প্রোজেক্টে সম্ভবত ও নিজেও যাবে। তবে ভাইরাস যদি আরও ছড়ায়, তা হলে কী হবে বোঝা যাচ্ছে না!

    এ যে কী উপদ্রব আরম্ভ হল! কলকাতায় এই মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে এখনও কিছু নেই! কিন্তু কেরল-সহ আরও কয়েকটা জায়গায় এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে। কী যে হবে কিছু বুঝতে পারছে না উর্জা। তা হলে কি নিউ জিল্যান্ড যাওয়া এখন হবে না? না যেতে পারলে বাবা যদি জোর করে বিয়ে দিয়ে দেয়। মনের ভেতরটা অস্থির লাগছে খুব!

    পিটারের মেসেজ পেয়ে যতটা উর্জা খুশি হয়েছিল, মেসেজটা পড়ার পর খারাপ লাগছে এখন। চাপা টেনশন হচ্ছে। সবটাই কেমন যেন অনিশ্চিত মনে হচ্ছে। এখানেও যদি এমন ভাইরাসের প্রকোপ হয়, তা হলে কী হবে?

    আনমনা হয়ে বাড়ির মধ্যে ঢুকে নিজের ঘরের দিকে এগোল উর্জা। কিন্তু সিঁড়ি অবধি পৌঁছোতে পারল না। মা ডাকল পাশের বড় বসার ঘর থেকে।

    উর্জা দূর থেকেই দেখল, মা সকালবেলাতেই সেজেগুজে কোথাও যাবে বলে তৈরি হয়ে নিয়েছে।

    উর্জা এগিয়ে গেল বসার ঘরের দিকে। আর যা দেখল তাতে নিমেষে মাথায় রক্ত উঠে গেল ওর। উমেশ এসে বসে আছে। কেন? ও এখানে কী করছে! উর্জা দেখল, উমেশের পরনে একটা টি শার্ট আর জিন্‌স। মুখে সামান্য হাসি।

    আশ্চর্য লাগছে ওর। বীরেন্দ্র বাইরে যাওয়ার আগে ওকে তো উর্জা জানিয়ে দিয়েছে ওর কী মত। তা হলে এখানে উমেশ এসেছে কেন? কী চায় ও? এ ভাবে উর্জাকে বিব্রত করা কেন!

    উর্জা চোয়াল শক্ত করে তাকাল উমেশের দিকে।

    ঘরটা বেশ বড়। উমেশ অন্যদিকের সোফায় বসেছিল। ওকে দেখে উঠে দাঁড়িয়েছে।

    উর্জা মায়ের পাশে গিয়ে চাপা গলায় বলল, “এ এসেছে কেন এখানে? বাবাকে তো আমি বলে দিয়েছি যা বলার।”

    মা বিরক্ত হল, “তোর কথা আমাদের মানতে হবে নাকি? তুই চুপ কর। আর যা কথা হয়েছে সেটা তোর বাবার সঙ্গে তোর হয়েছে। আমায় জড়াবি না এর মধ্যে।”

    “আমার বাবা! আমার বাবা মানে?” উর্জার ভুরু কুঁচকে গেল, “আমি চেয়েছি এই বাবা? আমার ওপর চাপানো হয়েছে! কেন, সেটা তুমিই জানো। আর এখন বলছ এসবে যেন না জড়াই তোমায়! আমি করব না এই বিয়ে।”

    “সিন ক্রিয়েট করিস না বাইরের লোকের সামনে,” মা দাঁতে দাঁত ঘষে চাপা গলায় বলল।

    “এনি প্রবলেম?” উমেশ এগিয়ে এল এবার। বুঝতে পারছে কিছু একটা হয়েছে।

    মা সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে ব্যাপারটা চাপা দেওয়ার জন্য বলল, “না না কিছু না। পেটি ইসুজ!”

    “কিচ্ছু পেটি না!” উর্জা ঘুরে উমেশের মুখোমুখি হল, “ইয়েস দেয়ার ইজ্ আ প্রবলেম।”

    মা এবার জোরে ধমক দিল, “উর্জা, বিহেভ ইওরসেলফ!”

    উর্জা আর মাকে পাত্তা দিল না। উমেশের দিকে তাকিয়ে সোজাসুজি “ইউ আর দ্য প্রবলেম!” বলল,

    “মানে?” উমেশ থতমত খেয়ে গেল।

    “মানে, আমি তোমায় বিয়ে করব না। তোমাকে বিয়ের করার জন্য আমার পছন্দ হয়নি,” উর্জা চোয়াল শক্ত করে তাকাল।

    উমেশ কী বলবে বুঝতে না পেরে মায়ের দিকে তাকিয়ে অসহায় ভাবে নালিশ জানানোর গলায় বলল, “আন্টি!”

    “আন্টিকে তুমি বিয়ে করবে?” উর্জা রাগের গলায় বলল, “আমার সঙ্গে কথা বলো। আমি বাবাকে বলে দিয়েছিলাম যে, এই বিয়ে করব না। নাউ প্লিজ লিভ। আমার রাগ হয়ে গেলে আরও খারাপ কথা বলে দেব। তখন তোমারও খারাপ লাগবে। প্লিজ,” উর্জা হাত দিয়ে যাওয়ার রাস্তা দেখাল উমেশকে।

    উমেশ তাকাল উর্জার দিকে। সময় নিল একটু। যেন প্রাথমিক ধাক্কা থেকে সামলে নিল নিজেকে। তার পর হাসল সামান্য। বলল, “আয়াম প্রিটি থিক স্কিনড। কিন্তু তাও এটা আমার গায়ে লাগল উর্জা। ইউ হ্যাভ ক্রসড ইওর লিমিট! আঙ্কেল এখন কলকাতায় নেই। যাওয়ার আগে আঙ্কেলই আমায় বলেছিল তোমার সঙ্গে মেলজোল বাড়াতে। গল্প করতে। ঘুরতে যেতে। তোমার পসন্দ না-পসন্দ জানতে। সেই জন্যই আমি এসেছিলাম এখানে। আর তুমি এ ভাবে আমায় অপমান করলে! এর এফেক্ট হবে পরে। আঙ্কেলকে ভোগ করতে হবে এর কনসিকোয়েন্স। আমার বাবা এ সব পছন্দ করে না একদম। দু’রকম কথা আমরা মেনে নিই না। একটা কথা জানবে, আমরা অপমান ভুলি না। যে আমাদের অপমান করে, আমরা তার শেষ দেখে ছাড়ি!”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)
    Next Article কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }