২২. উর্জা
ওদের বাড়ির পেছনে একটা বিশাল বড় শিরিস গাছ আছে। একে নাকি রেন ট্রিও বলে। বৃষ্টি হলেই গাছের পাতাগুলো বইয়ের পাতার মতো বুজে যায় নিজে থেকে। আবার এই একই গাছকে ফাইভ ও’ক্লক ট্রি-ও বলে। কারণ, মোটামুটি বিকেল পাঁচটা বাজলেই গাছের পাতাগুলো ওই একই ভাবে বন্ধ হয়ে যায়!
উর্জার এই বন্ধ হয়ে যাওয়া পাতাগুলো দেখলে মনে হয়, সমগ্র গাছ যেন তার লক্ষ কোটি ছোট্ট করতল জোড় করে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে, আলোর দিকে তাকিয়ে, সময়ের দিকে তাকিয়ে, নিজের প্রার্থনা জানিয়ে রাখছে।
কিন্তু এত দিন এই গাছটার নাম জানত না উর্জা। করিমচাচা একটু আগে বলল গাছের নামটা। করিমচাচা অনেক পুরনো দিনের মানুষ। ওদের বাড়িতে সেই কবে থেকে কাজ করছে। প্রায় আশি বছর বয়স লোকটার। উর্জা শুনেছে বীরেন্দ্রর ছোটবেলা থেকেই নাকি করিমচাচা আসে এখানে। টুকটাক কিছু ফিটিং বা সারাইয়ের কাজ হলে তপনকাকু করিমচাচাকেই ডাকে।
গোটা বাড়ির পুরো মেনটেন্যান্সটাই দেখে তপনকাকু। জিনির বাবা। লোকটাকে দেখে মাঝে মাঝে খারাপ লাগে উর্জার। শিক্ষিত মানুষ। আগে কোন এক মিল-এ কাজ করত। কিন্তু সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তার পর বীরেন্দ্র ওকে নিয়ে আসে এখানে। সেই থেকে এখানেই আউট হাউসে আছে কেয়ারটেকার হিসেবে।
বীরেন্দ্র মাঝে মাঝে বেশ দুর্ব্যবহার করে তপনকাকুর সঙ্গে। যা খুশি বলে। এমনকি, চড়চাপড়ও লাগায়। লোকটা ভয় পাওয়া বিড়ালের মতো কুঁকড়ে থাকে সারাক্ষণ। খুব খারাপ লাগে উর্জার। কিছু দিন আগেও নাকি বীরেন্দ্র অমন করেছে। ছোট-বাড়িতে গিয়ে তপনকাকুকে থাপ্পড় মেরেছে মেয়ের সামনে! মার খেয়ে মাটিতে পড়ে গিয়েছিল তপনকাকু।
বিন্দি উর্জার কাজকম্ম দেখাশোনা করে বাড়িতে। ও-ই উর্জাকে বলেছিল এসব। শুনে এত খারাপ লেগেছিল যে, উর্জা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কোনও সন্তানের সামনে তার বাবা-মাকে কখনও অপমান করতে নেই, এই সাধারণ বোধটাও নেই বীরেন্দ্রর!
উর্জা মাঝে মাঝে ভাবে, মা কেন এই লোকটাকে বিয়ে করতে গেল! বিয়ের পরও তো সম্পর্ক নেই দু’জনের! এক বাড়িতে দু’জন দু’দিকে থাকে। নিজেদের কোনও সন্তানও নেয়নি ওরা। কথাবার্তাও খুব দরকার ছাড়া সে ভাবে হয় না। উর্জা বোঝে না ব্যাপারটা কী! মা কেন বিয়ে করতে গেল! শুধু ওর দাদু জোর করেছিল বলে! উর্জার মনে হয়, মা অন্য কাউকে বিয়ে করলে অন্তত মনের দিক থেকে ভাল থাকত।
বীরেন্দ্রর প্রচুর টাকা আর ক্ষমতা। কিন্তু মানুষ হিসেবে ভাল নয়। প্রচণ্ড নির্দয়। নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষার সামনে আর সব কিছু ওর কাছে ফালতু। উর্জার মনে হয়, বীরেন্দ্র সমাজের যে স্তরে ঘোরাফেরা করে, সেখানে হয়তো এমনই রুথলেস হতে হয়। ক্ষমতার জন্য মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে পাগল। ক্ষমতা থাকলে কামিনী কাঞ্চন সব আসে জীবনে। ইতিহাস বলে যে, এর চেয়ে নেশা ধরানোর জিনিস আর কিছু নেই। একবার কেউ এর মোহে পড়ে গেলে উচিত-অনুচিতের সমস্ত সীমা সে পার করে যায়। বীরেন্দ্রকে দেখে ঠিক এরকমই মনে হয় উর্জার।
উর্জা দেখেছে, বীরেন্দ্র যেন ঠিক কাউকেই ভালবাসে না। সবাইকে নিজের জন্য ব্যবহার করে। এই যে ওকে ছোট থেকে দেখছে, সেখানেও কিন্তু ওর প্রতি বীরেন্দ্রর কোনও রকম সফট কর্নার গড়ে ওঠেনি। কিন্তু এখন নিজের রাজনৈতিক প্রয়োজনে ওকেও ব্যবহার করতে চাইছে। উমেশের সঙ্গে বিয়ে হলে স্থানীয় রাজনীতির পাশাপাশি বৃহত্তর রাজনীতিতেও বীরেন্দ্রর “দবদবা” বাড়বে। বীরেন্দ্র এক দল ছেড়ে অন্য দলেও শিফট করে যাবে। সবটাই সেই পুরনো দিনের মতো। বৈবাহিক সম্পর্ক দিয়ে রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা। তাই বীরেন্দ্র ওকে রীতিমতো পুশ করছে এই সম্পর্কতে যাওয়ার জন্য। এমনকি, ও স্পষ্ট করে ‘না’ বলার পরেও ওকে নানা ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছে। কী যে বিরক্তি লাগছে উর্জার! জীবনের কিছু কিছু ক্ষেত্র আছে, যেখানে এখনও অনেক কিছুই মধ্যযুগীয় অবস্থার মধ্যে আটকে আছে।
“মামণি, বলো তোমার পছন্দ হয়েছে তো?”
করিমচাচার কথায় ঘুরে তাকাল উর্জা। সামান্য হেসে বলল, “হ্যাঁ, সুন্দর হয়েছে।“
করিমচাচা চওড়া করে হাসল। বলল, “তপনবাবু বলছিলেন লোহার জঞ্জির লাগাতে। কিন্তু এমন অ্যান্টিক কাঠের দোলনায় লোহার জঞ্জির লাগালে বাজে লাগবে। তার চেয়ে এই লাল নাইলনের মোটা কাছি অনেক ভাল, না? ওপরে পেতলের কভারও আছে। সাহেব দেখলে ভাল হত। কিন্তু সাহেব তো বাড়িতে নেই। তাই আমি এই নিয়ে সকালে সাহেবের সঙ্গে ফোনে কথা বলে নিয়েছি। সাহেব বলেছেন যেটা বেস্ট হবে, সেটাই করতে। এখন দ্যাখো, কী দারুণ লাগছে!”
সত্যি ভাল লাগছে। উর্জা হাসল। অনেকদিন ধরে ওর ইচ্ছে ছিল বাড়ির পেছনের এই বড় শিরিস গাছটায় যদি একটা দোলনা লাগানো থাকত! বিন্দিকে বলেছিল এই কথাটা। আর আজ সকালে জানল যে, দোলনা লাগাতে লোক এসেছে। বিন্দির থেকে কথাটা কী করে বীরেন্দ্রর কাছে গেল কে জানে!
আজ রবিবার। ছুটি। এখন সে ভাবে উর্জার কোনও কাজ নেই। ও বিকেলে একবার বেরোবে একটু। রাজুর সঙ্গে দেখা করতে হবে। ওর কাছ থেকে কলেজের মার্কশিট আর সার্টিফিকেটগুলো নিতে হবে। রাজু যদি মাস্টার্সটা করে রাখত, তা হলে সুবিধে হত। কিন্তু তাও ফিজিক্সে অনার্স করা ছেলে। সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড, তাই অফিসে কনভিন্স করতে অসুবিধে হয়নি।
মঞ্জীভ প্রথমে উর্জার কাছ থেকে রাজুর কথা শুনে বলেছিল, “উর্জা, নিউ জিল্যান্ডের প্রজেক্টটাতে আমাদের বাজেট কিন্তু টাইট একটু। তাই রাজুকে আমরা আমাদের কাজে ডাইরেক্টলি অ্যাবজর্ভ করতে পারব না। কিন্তু আমরা যে লোকাল কনট্র্যাক্টরের মাধ্যমে সিভিল কাজ করাব, সে ওদের সঙ্গে কথা বলেছিল। ওরা বলেছে যে, রাজুর পেপার্স পাঠালে ওরা সেই ভাবে ভিসার জন্য চিঠি পাঠাবে। আমি তো ওদের রেকমেন্ডেশন পাঠিয়ে দিয়েইছি। ফলে অসুবিধে কিছু হবে না। কিন্তু মানডে যে করেই হোক পেপার্স আমায় দিয়ে দিয়ো। আমি ডলিকে দিয়ে দেব। ও স্ক্যান করে পাঠিয়ে দেবে।”
ডলি মানে, ডলি সেন, মঞ্জীভ গুপ্তার সেক্রেটারি।
গত পরশু অফিসে এই কথাটা হয়েছিল। তার পর অফিসের অন্য একটা কাজে একবার এয়ারপোর্ট অথরিটির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল উর্জা। রাজুকে ফোন করে বলেছিল যে, দেখা করতে চায়।
রাজু বলেছিল, “আমি জিকোদের বাড়িতে যাব একটু। তুমি এয়ারপোর্টের কাছে থাকছ তো? ঠিক আছে, কাজ শেষ করে এয়ারপোর্টের সামনে চলে যাব। ওখানেই দেখা করে নেব।”
রাজু ঠিক সময়েই চলে এসেছিল। উর্জাকে অপেক্ষা করতে হয়নি একটুও। রাজু জিজ্ঞেস করেছিল, “এমন জরুরি তলব! কী কেস? ফোনে বললেও তো পারতে!”
“সব কথা ফোনে হয় না। একটা সিরিয়াসনেস তো আছে। প্লাস তোমাকে দেখতেও তো ইচ্ছে করে আমার!” উর্জা বলেছিল শান্ত গলায়।
রাজু বলেছিল, “আচ্ছা আচ্ছা, চলো, কোথাও বসে কথা বলি।” উর্জা মাথা নেড়েছিল, “না, বাইরে বসব না কোথাও। বাড়ি ফিরতে হবে। গাড়িতে যেতে যেতে কথা বলি চলো।”
গাড়িতে সামনে ওর পাশেই বসেছিল রাজু। মাথাটা হেলিয়ে বলেছিল, “এত খাটনি যাচ্ছে! আর ভাল লাগে না।”
উর্জা হেসে গাড়ি স্টার্ট করেছিল। জিজ্ঞেস করেছিল, “জিকোদের আবার নতুন কিছু ঝামেলা হল নাকি?”
“না না, জাস্ট খবর নিতে গিয়েছিলাম। মায়ের একটা কাজ ছিল ও দিকে। তাই খবরও নিয়ে এলাম ওদের। যাক গে। তুমি বলো এত জরুরি কী কথা!”
উর্জা বলেছিল, “আমাদের নিজেদের ব্যাপারেই কথা। আমি কথা বলে নিয়েছি অফিসে। তোমার জন্য ওখানকার প্রাইভেট কন্ট্রাক্টরের সঙ্গে স্যর কথা বলেছেন। কাজটা হয়ে যাবে। তুমি কালকেই আমায় তোমার মার্কশিট, সার্টফিকেট আর যদি এক্সট্রা কোনও ইমপর্ট্যান্ট পেপার্স থাকে, দিয়ে দেবে। সোমবার আমি বসকে দেব ওটা। তোমার ভিসার রেকমেন্ডেশন লেটারের জন্য ওগুলো দরকার।”
“কাল তো হবে না। কাজ আছে। আমি রবিবার বিকেলে যদি দিই, তা হলে হবে?” রাজু তাকিয়েছিল ওর দিকে।
“কাজ আছে! আচ্ছা, সানডে ঠিক আছে। আমায় পেপার্স মানডে জমা দিতে হবে। তা কোথায় দেখা করব বলো?” উর্জা তাকিয়েছিল।
আজ রবিবার। ছুটি। এখন সে ভাবে উর্জার কোনও কাজ নেই। ও
“ওই আমাদের সেই জায়গায়…” ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে হেসেছিল রাজু।
উর্জা মাথা নেড়েছিল, “আমার পক্ষে এখন ফিজিক্যাল হওয়া সম্ভব নয়। আয়াম হ্যাভিং দোজ ডেজ়। এক কাজ করো, আমরা পূর্ণদাস রোডে দেখা করি সানডে। তুমি সব পেপার্স জেরক্স করে নিয়ে এসো। আমি এগজ্যাক্ট লোকেশন বলে দেব তোমায়।”
“কত দিন তোমায় আদর করিনি,” রাজু গিয়ারের ওপর রাখা উর্জার বাঁ হাতটা ধরে নরম ভাবে বলেছিল, “আমার আর তোমার থেকে দূরে থাকতে ইচ্ছে করে না।”
উর্জা হেসেছিল। তার পর বলেছিল, “আর তো ক’টা দিন। ঠিক আছে, নেক্সট উইক আমরা যাব। এই সানডে নয়। প্লিজ় আন্ডারস্ট্যান্ড।” রাজু চলন্ত গাড়িতেই ওর দিকে ঝুঁকে গালে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে ছিল। রাজুর গরম শ্বাসে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল উর্জার!
সন্ধে হয়ে গিয়েছিল, তাই রক্ষে। যদিও গাড়ির মধ্যে, তাও এমন সবার সামনে গায়ে হাত দেওয়া একদম পছন্দ করে না উর্জা। কিন্তু সে দিন ওর ভালও লেগেছিল। মনে পড়ে গিয়েছিল সেই বহু দিন আগে প্রথম রাজুকে দেখার সময়টার কথা ভাবলে অবাক লাগে, সেখান থেকে আজ এখানে ওরা। তখন কি বুঝতে পেরেছিল, এমন একটা জায়গায় এসে পৌঁছোবে জীবন! সময় সত্যি নদীর মতো। কত ঘটনার কূল ছুঁয়ে ছুঁয়ে সে কোথা থেকে যে কোথায় বয়ে যায়।
ও নিজেও হাত বাড়িয়ে ধরেছিল রাজুর হাত। জিজ্ঞেস করেছিল, “তুমি সত্যি যেতে চাও তো? আমি তোমায় প্রেশার করছি না তো?”
রাজু হেসে ওর হাতে চাপ দিয়েছিল, “আমার কোনও দিন কোনও মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক হয়নি, জানো! স্কুলে জীবনে দারিদ্র নিয়ে বিব্রত থাকতাম। ক্লাস টেন থেকে পলিটিক্সে আকৃষ্ট হই। পরে গ্রামে চলে গিয়েছিলাম। তার পর সবটাই ছিল পার্টি আর মানুষের কাজ। সেখানে আর কোনও কিছুর জায়গা ছিল না। তার পর তুমি এলে। অ্যান্ড ইউ রেসকিউড মি ফ্রম মাইসেলফ। সেভড মি। আমার তোমায় দেখে মনে হয়েছিল, বহু বহু দিন আগে আমাদের দেখা হয়েছিল কোনও এক স্বপ্নের মধ্যে!”
উর্জা হাতটা সরিয়ে হেসে বলেছিল, “ইস, কী বস্তা-পচা ডায়ালগ! আর কী ভীষণ চিড়ি!”
রাজুও হেসেছিল, “কিসের চিজি! যেটা সত্যি, সেটা মানুষের ইতিহাসে প্রথম থেকেই সত্যি। এই জীবৎকাল ধরেই সত্যি। তাই বার বার বললে হয়তো এমনই শুনতে লাগে। বস্তা-পচা লাগে। কিন্তু তাও পাল্টায় না সত্যিটা। নেরুদার লাভ সনেটস পড়ো তো! তখন তো চিজ়ি লাগে না? তখন তো চোখ-মুখ উল্টে বলো, কী সাংঘাতিক সমৰ্পণ! কী অসাধারণ প্রেমের আকুতি! নেচার আর প্রেম কী অসাধারণ ভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে আছে! কিন্তু এ সবকে যদি আমি চিড়ি-ফিজ়ি বলি, তা হলেই তুমি আমায় মারবে। কারণ, উনি ল্যাটিন আমেরিকান পোয়েট না! ওদের সবটাই ‘র অ্যান্ড রিয়েল’। আমরা বাঙালি। সব জানি, বুঝি। সবেতে মাতব্বরি! তাই এ সব বললেই চিজি!”
“খুব ঝগড়ুটে তো!” হেসেছিল উর্জা। নেরুদার কবিতা খুব ভাল লাগে উর্জার। সেটার জন্যই যে খোঁচা দিয়েছে রাজু, সেটা বুঝেছিল।
রাজু বলেছিল, “কিন্তু সত্যিটাই বললাম। আমার জীবনটা স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার ছিল। তুমি এলে, তাই আলো এল। আমি তো ভাবতেই পারিনি এমন কিছু হতে পারে! আমি তো আর নেরুদা নই যে, সল্ট রোজ আর টোপ্যাজের কথা বলব! লেমন ফ্লাওয়ারের কথা বলব বা বলব, “The memory of you emerges from the light around me.’ তাই আমার কথা শুনলে তো এমন বলবেই! আর চিড়ি কথা নিজের প্রেমিকাকে বলব না তো কি পাড়ার অন্য মেয়েদের বলব?”
উর্জা হেসে বলেছিল, “খালি কথার প্যাঁচ। আর, অন্য মেয়েদের এ সব বলার খুব শখ, না?”
রাজু মাথা নেড়ে বলেছিল, “হ্যাঁ, এটাই তো হবি আমার। জানো না? আমি তো সারাক্ষণ মেয়েদের কাছে ঘুরে ঘুরে এ সব বলে বেড়াই। সোশ্যাল মিডিয়ায় সুন্দরী মেয়েদের ফেক গুণকীর্তন করে তাদের ফোন নাম্বার নেওয়ার ধান্দা করি। আমার তো আর খেয়েদেয়ে কাজ নেই!”
উর্জা বলেছিল, “সে আমি কী করে জানব কী করো না করো।”
রাজু মাথা নেড়ে বলেছিল, “আমি যে তোমাকে ভালবাসি সেটা জানানোর জন্য একটু নরম করে বললেই আমি চিজ়ি, না বললে আবার অন্য কথা! কী করবে আমার মতো ছেলেরা!”
উর্জা কিছু না বলে হাসছিল শুধু।
রাজুও বসেছিল চুপ করে। টিপটিপ করে আচমকা বৃষ্টি শুরু হয়েছিল কলকাতায়। বাইপাসের কালো পিচের ওপর বাটিক প্রিন্টের মতো ফুটে উঠছিল জলের আলপনা। ওয়াইপারের মৃদু ঘটঘট শব্দ আসছিল। উর্জা না তাকিয়েও বুঝতে পারছিল রাজু ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।
একটু সময় পরে উর্জা মাথা ঘুরিয়ে ইঙ্গিতে জিজ্ঞেস করেছিল, “কী? কী দেখছ?”
রাজুও হেসেছিল একটু তার পর বলেছিল—
“I have dreamed so much of you,
Walked so often, talked so often with you, Loved your shadow so much. Nothing is left me of you.
Nothing is left of me but a shadow among shadows, A being a hundred times more shadowy than a shadow,
A shadowy being who comes, and comes again, in your sunlit life.”
উর্জা বলেছিল, “বিচ্ছিরি, বিচ্ছিরি কবিতা! তুমি মোটেও আমার জীবনে শ্যাডো নও। আমরা যাদের ভালবাসি, তারা সবাই আমাদের কাছে আলো হয়েই আসে। বুঝেছ? তাদের আলোতেই আমরা নিজেদের দেখি। জীবনে কোন পথে চলতে হবে সেটা খুঁজে পাই।”
রাজু হেসেছিল হো হো করে। বলেছিল, “লেটট্স স্টার্ট আ চিজ় ফ্যাক্টরি টুগেদার!”
করিমচাচা বলল, “মামণি একবার বসে দ্যাখো। তোমার জন্য বানালাম আর তুমি একবারও বসলে না!”
উর্জা দেখল তপনকাকু, করিমচাচা-সহ বাড়ির অন্য কাজের লোকজনও হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। তার পর ওর নজর পড়ল কবির দিকে। একটু দূরে, একটা জারুল গাছের নীচে কবি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। দোলনাটা লাগানোর সময় ও নিজেও হাত লাগিয়েছিল। গাছের ওই সমান্তরাল ডালটায় উঠে লোহার ক্ল্যাম্প দুটো ও-ই লাগিয়েছে। করিমচাচার লোকজন ক্ল্যাম্পটা লাগাতে পারছিল না।
প্রায় তিনতলা উঁচু সমান্তরাল ডাল। সেখান থেকে লম্বা করে ঝোলানো হয়েছে দোলনাটা। সবার সামনে এমন করে দোলনায় বসতে লজ্জাই লাগছে ওর। তাও ওকে এ ভাবে যখন বলা হচ্ছে, ও আর কী করে!
পায়ে পায়ে দোলনাটার দিকে এগিয়ে গেল উর্জা। লজ্জাটা আরও বাড়ছে। যেন ও একটা বাচ্চা মেয়ে আর ওর জন্য খেলনা কিনে আনা হয়েছে! এখন সবাই মিলে দেখবে ওর পছন্দ হয়েছে কি না খেলনাটা! আজ নতুন একটা হলুদ লেগিংস আর গাঢ় লাল কুর্তি পরেছে উর্জা। সঙ্গে হলুদ ওড়না ভাঁজ করে ফেলা আছে বুকের ওপর।
সকালে বিন্দি বলছিল, “দিদি, আজ আগুন লাগিয়ে দিয়েছ!”
এই রোদ আর এলোমেলো হাওয়ায় ওড়না আর কুর্তি সামলাতে সামলাতে ওর সেই কথাটা মনে পড়ল। ভাবল, রাজু যদি ওকে দেখত আজ!
দোলনার কাঠটা চওড়া। মোটা। দু’পাশে দুটো করে মোট চারটে লোহার ক্ল্যাম্প লাগানো। তার সঙ্গে লাগানো মোটা নাইলনের দড়ি উঠে গেছে ওই তিনতলা সমান গাছের ডাল অবধি।
দোলনা যেখানে ঝোলানো আছে, তার তলার মাটিটা কুপিয়ে গর্ত করা হয়েছে।
উর্জা বসতেই বিন্দি এসে দাঁড়াল পেছনে। ওকে ধাক্কা দেবে? দোলাবে? হাওয়ার জোর যেন বাড়ল আরও। আজ এলোমেলো হাওয়া দিচ্ছে খুব।
চারিদিকের গাছপালায় খসখস আওয়াজ। মুখে এসে পড়ছে চুল।
উর্জা চুলটা সরিয়ে শক্ত করে ধরল দড়ি। তার পর বলল, “ঠেল বিন্দি।” বিন্দি পেছন থেকে জোরে ঠেলল ওকে। আর উর্জা যেন ভেসে উঠল হাওয়ায়!
একবার সামনে আর একবার পেছনে। পেন্ডুলামের মতো দুলছে দোলনা। আর উর্জা যেন ভেসে যাচ্ছে সেই ছোটবেলার মতো। ওর ওড়না বিজ্ঞাপনের মতো সোজা হয়ে উড়ছে! মুখ-চোখ যেন ডুবে যাচ্ছে হাওয়ায়!
উর্জা দেখল সবাই হাসছে। বিন্দি ছবি তুলছে নিজের মোবাইলে। আস্তে আস্তে দোলার গতি বাড়ছে। দুলতে দুলতে প্রায় দোতলার মতো উচ্চতায় উঠে যাচ্ছে উর্জা। ও আর ভাবছে না কিছু। হাওয়ার মধ্যে যেন ছেড়ে দিয়েছে নিজেকে। যেন ভেসে যাচ্ছে ছোটবেলার রূপকথার মতো। উর্জা চোখ বন্ধ করে নিল।
আর সামনে ছবি ভেসে উঠল একটা! অনেক অনেক আগের একটা দৃশ্য। আবছা, ভাঙা। আকাশি নীল জামা পরা একটা বাচ্চা মেয়ে এমনই দোল খাচ্ছে আর তাকে ধরে, ঠেলে, তার পেছনে দাঁড়িয়ে হাসছে চশমা পরা, উল্টে চুল আঁচড়ানো একজন মানুষ!
চোখ মেলে তাকাল উর্জা। বাবা! বাবাকে দেখল ও! এটা কি সত্যিই হয়েছিল কোনও দিন? নাকি ওর কাছে রাখা পুরনো অ্যালবামে এমন একটা ছবি আছে বলে সেটাই ওর কাছে মাঝে মাঝে সত্যিকারের স্মৃতি হয়ে ফিরে আসে। আমাদের জীবনে যেটুকু স্মৃতি, সেটুকু কি সত্যি ঘটে যাওয়া ঘটনা, নাকি আমাদের পারসেপশন সে সব তৈরি করে!
বুকের মধ্যে কেমন একটা করছে ওর। মনে হচ্ছে বিশাল হলঘরের শেষ প্রান্তে যেন দাঁড়িয়ে আছে একা। কেউ নেই, ওর কেউ নেই।
মনটা আচমকা এলোমেলো হয়ে গেল উর্জার। বাবাকে এত স্পষ্ট দেখল! ও ভাবল, ওই মানুষটা থাকলে আজ কি এমন একটা জীবন কাটাতে হত ওকে!
বাইরে থেকে লোকে দেখলে ভাববে কী নেই উর্জার! টাকা, ক্ষমতা, আরাম সব আছে। কিন্তু জীবনে টাকাটাই কি সব? টাকা অনেক কিছু, কিন্তু সব নয়। সব হলে ওকে এমন নিজের বাড়ি থাকতেও চলে যেতে হত না বাইরে। ওর ইচ্ছে আর কথার একটা দাম থাকত। সারাক্ষণ ওর ওপর এমন ভাবে মানসিক চাপ দিয়ে রাখা হত না। ওর অবাক লাগে এই ভেবে যে, মা-ও কেন একবারও ওর দিকটা দেখতে চাইবে না? মায়ের তো নিজের হাজব্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ, কিন্তু তা-ও মা যেন কিছুতেই চটাতে চায় না বীরেন্দ্রকে! সবাই ভয় পায় লোকটাকে। .
আজকাল তো মাঝে মাঝে উর্জার মনে হচ্ছে যে, ওকেও নজরে রাখা হয়েছে। সেই যে বীরেন্দ্রকে বলেছিল উমেশকে বিয়ে করবে না, তার পর থেকেই কেন যেন এটা মনে হচ্ছে ওর। না, কোনও প্রমাণ পায়নি। হয়তো প্যারানয়েড থিঙ্কিং, কিন্তু তাও আজকাল মনে হচ্ছে এটাই।
নিজেকে সামলে নিয়ে দোলনা থামিয়ে সেখান থেকে নেমে এল উর্জা।
দেখল, সবাই যেন একটু চমকেই গিয়েছে। যে একদম প্রাণ খুলে দোল খাচ্ছিল, সে হঠাৎ এমন নেমে গেল কেন!
করিমচাচা এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল, “কোনও তকলিফ হয়েছে মামণি?”
“না না,” উর্জা হেসে মাথা নাড়ল, “খুব ভাল হয়েছে দোলানাটা। খুব স্মুথ।”
করিমচাচা হেসে দোলনার দিকে এগিয়ে গেল। একটা ছেলেকে বলল যে, দোলনার নীচে যে মাটির গর্তটা করা আছে, সেটা যেন ভাল করে মসৃণ করে দেয়।
উর্জা আর তাকাল না ওই দিকে। ও বাড়ির দিকে এগোল। দেখল, কবি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে হাতের মোবাইলে কী একটা দেখছে।
উর্জা এগিয়ে গেল ওর দিকে। তার পর বলল, “তুমি চড়ো দোলনায়?” কবি মোবাইলটাকে চট করে পকেটে ঢুকিয়ে নিল। তার পর বলল, “না।”
“কেন? মজা লাগে তো! চড়ো না কেন?”
কবি কিছু না বলে হাসল শুধু।
“বলো, কেন চড়ো না!” উর্জা জোর করল। ছেলেটা কথাই বলতে চায় না যে!
কবি বলল, “আমাদের বাড়ির পাশে একটা দোলনা বানিয়ে দিয়েছিল বাবা। একটা টায়ার ঝুলিয়ে দিয়েছিল। সেখানে চাপাত আমায়। বাবা মারা যাওয়ার পরে আর হয়নি। মায়ের কাজ থাকত। আর আমারও ইচ্ছে করত না। তাই আর কী।”
উর্জা হাসল। ও বলল, “তুমি জিনিকে নিয়ে এসে মাঝে মাঝে দোলনাটায় চড়িয়ো। আমি বিন্দিকে বলে দেব, কেউ যেন কিছু না বলে!”
কবি চট করে তাকাল ওর দিকে। তার পর ঠোঁট টিপে ভদ্রতাসূচক মাথা নাড়াল একটু।
উর্জা ইচ্ছে করেই বলেছে কথাটা। সেই রাতের পর থেকে ও ক’দিন একটা জিনিস লক্ষ করেছে। জিনি দূর থেকে কবিকে দেখে। দু’-একদিন তো নিজের ঘরের সামনের টেরাস থেকে দেখেছে যে, আউট হাউসের পেছনের ছোট্ট বাগানটায় একা বসে থাকা কবির সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছে জিনি।
সেই বাগানে জিনির দ্বিধা আর চলাফেরার মধ্যেই একটা অদ্ভুত ভাললাগা ছিল। উর্জা নিজে মেয়ে হিসেবে জিনির অবস্থাটা বুঝতে পারে। জিনির হাঁটা, জিনির দৃষ্টি, জিনির ঠোঁট টিপে মাথা নামিয়ে নেওয়া। সব একটাই জিনিস ইঙ্গিত করে। কিন্তু সেটা কি আদৌ বোঝে কবি? বুঝতে চায়? এই বয়সের একটা ছেলে এমন চুপচাপ কেন? কী আছে ওর নিস্তব্ধতার আড়ালে?
বাড়িতে ঢোকার মুখে পিকপিক করে মোবাইলটা বেজে উঠল। মেসেজ? উর্জা কুর্তির পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখল। আরে, পিটার মেসেজ করেছে। ভাল লাগল ওর।
অনেক দিন যোগাযোগ নেই ওদের সঙ্গে। মেসেজে দেখল লেখা আছে, পিটার আর পাকো নাকি মেক্সিকো গিয়েছিল। কিন্তু ফিরে এসেছে এখন। ওদিকে ইউরোপের অবস্থা খুব খারাপ। করোনাভাইরাসের প্রকোপে খুব সমস্যা শুরু হয়েছে। পিটার জিজ্ঞেস করেছে এখানে সব ঠিক আছে কি না! আর জানিয়েছে নিউ জিল্যান্ডের প্রোজেক্টে সম্ভবত ও নিজেও যাবে। তবে ভাইরাস যদি আরও ছড়ায়, তা হলে কী হবে বোঝা যাচ্ছে না!
এ যে কী উপদ্রব আরম্ভ হল! কলকাতায় এই মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে এখনও কিছু নেই! কিন্তু কেরল-সহ আরও কয়েকটা জায়গায় এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে। কী যে হবে কিছু বুঝতে পারছে না উর্জা। তা হলে কি নিউ জিল্যান্ড যাওয়া এখন হবে না? না যেতে পারলে বাবা যদি জোর করে বিয়ে দিয়ে দেয়। মনের ভেতরটা অস্থির লাগছে খুব!
পিটারের মেসেজ পেয়ে যতটা উর্জা খুশি হয়েছিল, মেসেজটা পড়ার পর খারাপ লাগছে এখন। চাপা টেনশন হচ্ছে। সবটাই কেমন যেন অনিশ্চিত মনে হচ্ছে। এখানেও যদি এমন ভাইরাসের প্রকোপ হয়, তা হলে কী হবে?
আনমনা হয়ে বাড়ির মধ্যে ঢুকে নিজের ঘরের দিকে এগোল উর্জা। কিন্তু সিঁড়ি অবধি পৌঁছোতে পারল না। মা ডাকল পাশের বড় বসার ঘর থেকে।
উর্জা দূর থেকেই দেখল, মা সকালবেলাতেই সেজেগুজে কোথাও যাবে বলে তৈরি হয়ে নিয়েছে।
উর্জা এগিয়ে গেল বসার ঘরের দিকে। আর যা দেখল তাতে নিমেষে মাথায় রক্ত উঠে গেল ওর। উমেশ এসে বসে আছে। কেন? ও এখানে কী করছে! উর্জা দেখল, উমেশের পরনে একটা টি শার্ট আর জিন্স। মুখে সামান্য হাসি।
আশ্চর্য লাগছে ওর। বীরেন্দ্র বাইরে যাওয়ার আগে ওকে তো উর্জা জানিয়ে দিয়েছে ওর কী মত। তা হলে এখানে উমেশ এসেছে কেন? কী চায় ও? এ ভাবে উর্জাকে বিব্রত করা কেন!
উর্জা চোয়াল শক্ত করে তাকাল উমেশের দিকে।
ঘরটা বেশ বড়। উমেশ অন্যদিকের সোফায় বসেছিল। ওকে দেখে উঠে দাঁড়িয়েছে।
উর্জা মায়ের পাশে গিয়ে চাপা গলায় বলল, “এ এসেছে কেন এখানে? বাবাকে তো আমি বলে দিয়েছি যা বলার।”
মা বিরক্ত হল, “তোর কথা আমাদের মানতে হবে নাকি? তুই চুপ কর। আর যা কথা হয়েছে সেটা তোর বাবার সঙ্গে তোর হয়েছে। আমায় জড়াবি না এর মধ্যে।”
“আমার বাবা! আমার বাবা মানে?” উর্জার ভুরু কুঁচকে গেল, “আমি চেয়েছি এই বাবা? আমার ওপর চাপানো হয়েছে! কেন, সেটা তুমিই জানো। আর এখন বলছ এসবে যেন না জড়াই তোমায়! আমি করব না এই বিয়ে।”
“সিন ক্রিয়েট করিস না বাইরের লোকের সামনে,” মা দাঁতে দাঁত ঘষে চাপা গলায় বলল।
“এনি প্রবলেম?” উমেশ এগিয়ে এল এবার। বুঝতে পারছে কিছু একটা হয়েছে।
মা সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে ব্যাপারটা চাপা দেওয়ার জন্য বলল, “না না কিছু না। পেটি ইসুজ!”
“কিচ্ছু পেটি না!” উর্জা ঘুরে উমেশের মুখোমুখি হল, “ইয়েস দেয়ার ইজ্ আ প্রবলেম।”
মা এবার জোরে ধমক দিল, “উর্জা, বিহেভ ইওরসেলফ!”
উর্জা আর মাকে পাত্তা দিল না। উমেশের দিকে তাকিয়ে সোজাসুজি “ইউ আর দ্য প্রবলেম!” বলল,
“মানে?” উমেশ থতমত খেয়ে গেল।
“মানে, আমি তোমায় বিয়ে করব না। তোমাকে বিয়ের করার জন্য আমার পছন্দ হয়নি,” উর্জা চোয়াল শক্ত করে তাকাল।
উমেশ কী বলবে বুঝতে না পেরে মায়ের দিকে তাকিয়ে অসহায় ভাবে নালিশ জানানোর গলায় বলল, “আন্টি!”
“আন্টিকে তুমি বিয়ে করবে?” উর্জা রাগের গলায় বলল, “আমার সঙ্গে কথা বলো। আমি বাবাকে বলে দিয়েছিলাম যে, এই বিয়ে করব না। নাউ প্লিজ লিভ। আমার রাগ হয়ে গেলে আরও খারাপ কথা বলে দেব। তখন তোমারও খারাপ লাগবে। প্লিজ,” উর্জা হাত দিয়ে যাওয়ার রাস্তা দেখাল উমেশকে।
উমেশ তাকাল উর্জার দিকে। সময় নিল একটু। যেন প্রাথমিক ধাক্কা থেকে সামলে নিল নিজেকে। তার পর হাসল সামান্য। বলল, “আয়াম প্রিটি থিক স্কিনড। কিন্তু তাও এটা আমার গায়ে লাগল উর্জা। ইউ হ্যাভ ক্রসড ইওর লিমিট! আঙ্কেল এখন কলকাতায় নেই। যাওয়ার আগে আঙ্কেলই আমায় বলেছিল তোমার সঙ্গে মেলজোল বাড়াতে। গল্প করতে। ঘুরতে যেতে। তোমার পসন্দ না-পসন্দ জানতে। সেই জন্যই আমি এসেছিলাম এখানে। আর তুমি এ ভাবে আমায় অপমান করলে! এর এফেক্ট হবে পরে। আঙ্কেলকে ভোগ করতে হবে এর কনসিকোয়েন্স। আমার বাবা এ সব পছন্দ করে না একদম। দু’রকম কথা আমরা মেনে নিই না। একটা কথা জানবে, আমরা অপমান ভুলি না। যে আমাদের অপমান করে, আমরা তার শেষ দেখে ছাড়ি!”
