Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প698 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৫. কবি

    “তুমি কি নিদ্রিত? নাকি তুমি জেগে থাকো? তুমি আদি, না অন্ত? তুমি আলো, না অন্ধকার? তোমার জল ভাল লাগে, না আগুন? তুমি আকাশ, না ভূ-অভ্যন্তর? সূর্যালোক, নাকি অতল খনির মধ্যেকার তমসা? তুমি জীব, না জড়? তুমি খিদে, না উদরপূর্তি? তুমি শস্য, না খরা? নদী, না মরুভূমি? তুমি প্রেম, না হিংসা? তুমি শান্তিবারি, না তেজস্ক্রিয় ছাই? কে তুমি? কোথা থেকে এসেছ তুমি? শুক্রাণুর মধ্যে তুমি লীন ছিলে, নাকি ডিম্বাণুর মধ্যে বিন্দুবৎ শরীর নিয়ে বিরাজ করছিলে অনন্তকাল? তুমি কি তুমি? নাকি অন্য কেউ? নিজের মনের মধ্যেটুকু তুমি? না অন্যের ধারণায় তোমার উৎপত্তি? তুমি এক, না বহু? তুমি অগাধ প্রসারিত নক্ষত্ররাজি? না প্রলয়পয়োধি জলে ভাসমান ডিম্ব? তুমি অরণ্য, না শহর? তুমি দেবতা না রাক্ষস? কে তুমি? কী তুমি? কেন তুমি? কী ভাবে তুমি? তুমি ভালবাসা, না দ্বেষ? তুমি শ্লোক, না মৃত্যু-চিৎকার? তুমি নারী, না পুরুষ? তুমি সম্ভোগ না ত্যাগ? তুমি স্পর্শ করো, স্পর্শ করো, স্পর্শ করো। নিজের অভ্যন্তর তুমি স্পর্শ করো একবার। দ্যাখো, এ জগৎ সত্যি নাকি মিথ্যে? দ্যাখো, তুমি শুরু, না তুমি শেষ?”

    লোকটা বেঁটে, মাথায় টাক। সামান্য কুঁজো। পরনে একটা নীল কাপড়ের লুঙ্গি আর গোলাপি রংচটা হাফ শার্ট। বাঁধানো গাছের গোড়ায় বসে রয়েছে। সামনের ভাঙাচোরা সিমেন্টে পাতা একটা গামছা। তাতে কয়েকটা দশ টাকার নোট, পাঁচ টাকার কয়েন পড়ে আছে। সে সব দিকে লোকটা খুব একটা তাকাচ্ছে না। বরং একটানা বলে যাচ্ছে কথাগুলো।

    জায়গাটা খুব যে জনবহুল তা নয়। এখানে বসে খুব যে আয় হবে তাও নয়। তা হলেও লোকটা কেন এখানে এসে বসে আছে কে জানে!

    জীবনে নানা রকম ভিক্ষুক দেখেছে কবি। কিন্তু এমন করে কথা বলতে কাউকে দেখেনি। ওর কেবলই আজ মনে পড়ে যাচ্ছে গ্রামের হাওয়াদাদুর কথা।

    নিজেরই অবাক লাগল কবির। যখনই এমন কিছু শোনে, ওর হাওয়াদাদুর কথা মনে পড়ে। একটা মানুষ কী ভাবে এমন নির্মোহ অবস্থায় কাটাতে পারে জীবন! আচ্ছা, প্রথম থেকেই কি হাওয়াদাদু এরকম, নাকি জীবনের কোনও এক বিশেষ ঘটনার পর থেকে এমন হয়ে গিয়েছে!

    স্কুল না-থাকলে, হাওয়াদাদুর ডিসপেনসারিতে গিয়েই বসে থাকত কবি। স্টেথো কানে দিয়ে নিজের বুকে লাগিয়ে শুনত লাবডুব লাবডুব। দূরে বসে হাওয়াদাদু দেখত ওকে। হাসত। বলত, “হ্যাঁ ভাল করে দেখ, শোন। ঠুকে বাজিয়ে নে। জানবি, এই তুইটাই একমাত্র সারা জীবন তোর সঙ্গে থাকবে। আর সব টেম্পোরারি। আসবে যাবে। যে যতই ভালবাসা দেখাক, ঘৃণা দেখাক সবাই চলে যাবে। কেবল কেউ আগে আর কেউ পরে। শুধু এই তুইটা থেকে যাবে তোর সঙ্গে। জীবনে কোনও কিছু পাওয়ার স্মৃতি না থাকলেও মৃত্যুর স্মৃতি বহন করতে হবে তোকে। সে বড় একার সময়! সেই সময়ের জন্য সারা জীবন ধরে প্রস্তুত হতে হয়। তাই দেখে নে নিজেকে। দেখ, তুই কী ও কেন? দেখ, তোর মধ্যে শুরু থাকলেও শেষ আছে কি না!”

    কবি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ে। এ সব কথার মানে বুঝত না। তবে শুনত। কেমন একটা লাগত কথাগুলো শুনে। কেমন একটা ছমছম করত মনের মধ্যেটা। ধরি ধরি করেও কথাগুলোর মানে ঠিক ধরতে পারত না! আর সেই কারণেই যেন কথাগুলো মনে থেকে গিয়েছে ওর। আর আজ এই লোকটার কথাগুলো শুনে আবার পুরনো কথার সঙ্গে মনে পড়ে গেল হাওয়াদাদুকে!

    মা আর কবির তো কেউ ছিল না। বাবা মারা যাওয়ার পরে কেউ ফিরেও তাকাত না ওদের দিকে। শুধু হাওয়াদাদু ছিল। দায়ে দফায় বিপদে-আপদে সাহায্য করত সব সময়।

    এই যে কবি কলকাতায় আসবে, সেটা ও বলতেও গিয়েছিল মানুষটাকে। যদিও হাওয়াদাদু ছিল না তখন। বর্ধমানের কোন এক গ্রামের ভেতরে গিয়েছিল কাকে যেন সাহায্য করার জন্য।

    আসলে হাওয়াদাদু যে কোথায়, কার সঙ্গে এবং কার জন্য মাঝে মাঝে চলে যেত, সে সব কেউ খুব একটা জানত না। শুধু সবাই জানত হাওয়াদাদু ডাক্তার, তাই রোগী দেখতে গিয়েছে।

    কবি সে দিন পায়নি হাওয়াদাদুকে। তাই একটা ছোট চিঠি লিখে এসেছিল মাত্র। আসলে হাওয়াদাদু মোবাইল ব্যবহার করে না যে!

    যাওয়ার আগে দেখা হবে না! কবির মনের মধ্যে একটু খচখচ করছিল বটে, কিন্তু উপায় তো ছিল না কিছু। হাওয়াদাদু সাতদিন নেই। আর তার মধ্যেই ঠিক হয়েছিল কলকাতায় চলে আসার ব্যাপারটা। তাই আগে জানানো হয়নি।

    হাওয়াদাদুর খবর নেই অনেক দিন। মায়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয় কবির। কিন্তু হাওয়াদাদুর কথা জিজ্ঞেস করা হয় না। আজ এই গোলাপি রংচটা জামার লোকটা আবার মনে করিয়ে দিল মানুষটাকে। নিজেকে কেমন যেন অকৃতজ্ঞ লাগল কবির।

    “কেসটা কী বলো তো? স্যর এত টাইম নিচ্ছেন!” বুলা জিজ্ঞেস করল। বুলা ছেলেটা নতুন। কিছু দিন হল বীরেন্দ্রর অফিসে জয়েন করেছে। রোগা হাড় জিরজিরে চেহারা। ফ্যাকাসে সাদা। মাথার চুল খুব কায়দা করে কাটা। আর তার সঙ্গে একটা গুচ্ছ আবার লাল রং করা! ছেলেটাকে বীরেন্দ্রর অফিসে দেখেছে কবি। কিন্তু বীরেন্দ্র সঙ্গে করে এই প্রথম নিয়ে এসেছে আজ।

    বীরেন্দ্র গতকাল গভীর রাতে কলকাতায় ফিরেছে। আর ফিরেই নিজের ঘরে ডেকেছিল কবিকে। কবি দেখেছিল রাত একটা বাজে। কবি জানত এমনটাই হবে। কারণ, রবিবার খুব ঝামেলা হয়েছে বাড়িতে। উর্জা যে উমেশকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে, সেটা লালুর থেকে শুনেছে। আর কারণটাও জানে কবি। রাজু!

    ক’দিন উর্জাকে ফলো করে রাজুর ব্যাপারটা বুঝেছে কবি। ছেলেটা পলিটিক্স করে। প্রভাবশালী নেতা সত্যভাষের কাছের লোক। কবি খোঁজখবর নিয়ে যেটুকু জেনেছে তাতে বুঝেছে রাজু ছেলেটা সৎ। বাড়ির অবস্থা ভাল নয় খুব একটা। টানাটানির মধ্যেই দিন যায়। মায়ের সেলাইয়ের একটা ছোট ব্যবসা আছে। রাজুর ভাই রাজুর তুলনায় বেশ ছোট। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে ৷

    এরকম একটা বয়সে এতটা বড় ছেলের সঙ্গে কেন যে উর্জা ঘোরে, জানে না কবি। তবে হ্যাঁ, উর্জাকে কখনও রাজুর খুব একটা ক্লোজ হতে দেখেনি ও। সে দিন যে এয়ারপোর্টের কাছ থেকে ওদের ফলো করল, সেখানে দেখেছিল উর্জার গাড়িতে রাজু উঠেছে মাত্র। তার পর উর্জা ওকে বাড়ির কাছে নামিয়ে দিয়েছিল। ব্যস, এইটুকুই। রোজই আজকাল উর্জাকে অফিসের পরে ফলো করে কবি। কিন্তু এর বেশি কিছু পায়নি।

    সেটাই রাতে ও বলেছিল বীরেন্দ্রকে।

    বীরেন্দ্র সবটা মন দিয়ে শুনেছিল। তার পর বলেছিল, “রাজু! বন্ধু ও হতে পারে, তাই না? পার্টি করে বললি? সেতুর কাছের ছেলে? তবে তো হাতের মধ্যেই আছে। কিন্তু তোকে দেখতে হবে ওদের কতটা ঘনিষ্ঠতা হয়েছে। বা আদৌ হয়েছে কি না। বুঝলি?”

    কবি মাথা নেড়েছিল। তার পর নিজের ঘরে ফিরে যাওয়ার আগে, কী মনে হওয়ায় এগিয়ে গিয়ে প্রণাম করেছিল বীরেন্দ্রকে।

    বীরেন্দ্র চমকে গিয়েছিল একটু। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, “প্ৰণাম করলি? কী হয়েছে?”

    কবি বলেছিল, “আজ মানে রাত বারোটার আগে, ইয়ে গতকাল আমার জন্মদিন ছিল।”

    “জন্মদিন?” বীরেন্দ্র থমকে গিয়েছিল একটু। তার পর বলেছিল, “বাহ্, ভাল। ঠিক আছে। এটা রাখ,” পকেটে থেকে কয়েকটা দু’হাজার টাকার নোট বের করে হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল। বলেছিল, “কিছু কিনে নিস। আর কাল তুই আমার সঙ্গে বেরোবি। কাজ আছে। সারতে বিকেল হবে। সেখান থেকে উর্জার ডিউটিতে যাবি, বুঝলি?”

    “স্যর, স্কুটিটা…” কবি কথা শেষ না করে তাকিয়েছিল বীরেন্দ্রর দিকে। “আমাদের গাড়ির পেছনে একজন স্কুটিটা নিয়ে থাকবে। কাজ শেষ হয়ে গেলে, তুই স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে যাবি। ক্লিয়ার?” বীরেন্দ্র উঠে দাঁড়িয়েছিল।

    মাথা নেড়েছিল কবি। তার পর ফিরে এসেছিল নিজের ঘরে।

    সেই যে ছেলেটি স্কুটি নিয়ে ওদের গাড়ির পেছনে আসবে বলা হয়েছিল, সেই ছেলেটাই বুলা।

    বুলা বলল, “গাছতলার দাদু কিন্তু হেব্বি জ্ঞানী। আমি শুনছিলাম। কী সব বলছিল বলো তো? কিচ্ছু মাথায় ঢুকছিল না। আর তখনই বুঝতে পারলাম, দাদু পুরো জ্ঞানের গুদাম।”

    কবি তাকাল বুলার দিকে। ছেলেটা বড্ড বকছে। মানুষ কেন যে এমন অনর্থক কথা বলে কে জানে! ও দেখেছে দিনের বেশির ভাগ কথাই ফালতু, মূল্যহীন। কিন্তু তা-ও জাবর কাটার মতো করে বলে যায় মানুষজন। কেন বলে এমন? এই জীবনটা আশাহীন আর একঘেঁয়ে লাগে বলে? কিন্তু নিজের একঘেঁয়েমি কাটাতে গিয়ে অন্যকে যে বিরক্ত করছে, সেটা কি বোঝে না!

    বুলা আবার বলল, “আমাদের স্কুলে যে বাংলার স্যর ছিলেন, তিনিও এমন কী সব আন্টুবান্টু বলে যেতেন। কেউ কিছু বুঝত না। মানে পাড়ার রবীন্দ্র জয়ন্তীতে সারকে সভাপতি করা হত। তিনি বক্তৃতা দিতে গিয়ে কী সব যে বলতেন না! রবি ঠাকুরের লেখা নীল আকাশ থেকে নেমে আসা বজ্রের মতো আমাদের হৃদয় বিদ্ধ করে মাটিতে মিশে যায়। রবি ঠাকুরের গান আমাদের মনে পাখনা জুড়ে দেয় আর আমরা তার জন্য উড়াল দিতে দিতে বেঁচে থাকার এক অন্য আলোকে গিয়ে উপনীত হই। আমরা আসলে স্বপ্নের মধ্যে বেঁচে থাকি আর রবি ঠাকুর আমাদের সেই বেঁচে থাকাকে আরও স্বপ্নময়তায় ভরিয়ে দেন। এমন আরও কী সব কী সব বলতেন। লোকে খুব বাধ্য হয়ে খুশি খুশি মুখে ঘাড় নাড়ত। হাততালি দিত। পরে তাদের আমি ‘কী বুঝলে’ জিজ্ঞেস করলে তারা বলত, কিছুই বোঝেনি। বরং প্রচণ্ড বোর হয়েছে। কিন্তু সার পড়াশোনা জানা মানুষ। তাই যা বলেছেন নিশ্চয় কিছু মানে আছে ভেবে, সব বাধ্য ছাত্র হয়ে বসে থাকত। কিন্তু জানো গুরু, আমার কী মনে হয়? প্রচুর মানুষ এমন পড়াশোনার দোহাই দিয়ে ঢপবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষকে চার অক্ষরের বোকা বানিয়ে যাচ্ছে। আর কেউ কিছু বুঝতে পারছে না। কিন্তু লোকটা পড়া আর নোট মুখস্থ করে গোটা কতক পাশ দিয়েছে বলে কেউ কিছু বলতেও পারছে না। ঠিক না?”

    কবি সামান্য হাসল। বুলার অর্ধেক কথা ও শোনেইনি। ও গাড়ির মধ্যে রাখা ব্রিফকেসটা দেখল একবার। এতে টাকা আছে। বীরেন্দ্র বললেই এটাকে বাড়ির ভেতরে দিয়ে আসতে হবে ওকে।

    বুলা আবার বলল, “আমার এক বন্ধু ছিল। আমাদের মধ্যে ও-ই ভাল ছিল পড়াশোনায়। ও বলত, ‘আসলে কী জানিস এই আধ পাকা আঁতেল টাইপের লোকগুলোকে পলিটিকাল নেতারা পোষে। এতে দু’পক্ষেরই লাভ হয়। এই ভাবে এই ইন্টেলেকচুয়াল ঢ্যামনামোগুলোর বৃদ্ধি হয়। আর কিছু পাবলিক তো যা বোঝে না সেটাকেই গাল ফুলিয়ে ভাল বলে। এ দিকে তলায় তলায় সলমন খানের সিনেমা দেখে দেখে চোখের পর্দা ফাটিয়ে ফেলছে! এমনি এমনি না হলে ওই ছবিগুলো অত ব্যবসা করে! আমার বন্ধু বলত, এই জন্য আমাদের কিছু হবে না। শালা, সবাই হাগা চেপে বসে আছে। কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু মুখে ভাব যেন মোক্ষলাভ করেছে। আমার মনে হয়, বিশেষ করে আমাদের বাঙালিদের এই দশা। ঢপবাজিকে মাথায় চড়ে বসতে দিয়েছে। গোলমালটা হল এই যে, নোবেলটা রবি ঠাকুর পেয়েছেন কিন্তু বহু বাঙালি ধরে নিয়েছে যে, ওটা তারাই পেয়েছে। আমাদের ওই স্যর টাইপের লোকগুলো কিন্তু চারিদিকে প্রচুর আছে। দেখবে, কেমন ঢপবাজি করে চালিয়ে যাচ্ছে। আর লোকেও না বুঝে সবার সামনে নিজেকে বিজ্ঞের বাটখারা বোঝাতে খুব মাথা নাড়াচ্ছে আর খুব কালচার করছি ভেবে ইগোর আইসক্রিম চাটছে। শালা, শুনছ তো বিদেশে সব ভাইরাসে খাবি খাচ্ছে! সে মাল এখানেও এসে পড়েছে। এবার দ্যাখো না কী হয়! দেখবে আন্টুবান্টু কথা বলে যারা সারা জীবন ঢ্যামনামো করে গেল, তারা কী করে এবার।”

    কবির প্রচণ্ড বিরক্ত লাগল। ও কড়া গলায় বলল, “তুমি স্কুটির কাছে যাও। আর মুখটা একদম বন্ধ করো। যাও।”

    বুলা কোমরে হাত দিয়ে হি হি করে হাসল খুব। তার পর বলল, “আরে গুরু, খচে গেলে নাকি! আমি তো মানে এট্টু সমাজ বিশ্লেষণ করছিলাম।” কবি কড়া চোখে তাকাল।

    বুলা হেসে বলল, “গুরু, এই বয়সে তুমি পুরো চাবুক আছো কিন্তু, তা না?”

    কবির আচমকা হাসি পেল খুব। কী ছেলে এই বুলা! এ ভাবে বলার পরেও এমন উত্তর দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হাসির আগেই ফোনটা এল এবার। স্যর।

    “হ্যাঁ সার!” কবি ফোন কানে লাগিয়ে জিজ্ঞেস করল।

    “নিয়ে আয়। দরজায় বলা আছে, ঢুকতে অসুবিধে হবে না।”

    কবি গাড়ির দরজাটা খুলে তার মধ্যে রাখা লেদারের ব্রিফকেসটা বের করল। তার পর দরজা বন্ধ করে এদিক-ওদিক তাকাল। দেখল, বুলা স্কুটারে গিয়ে বসেছে। ওদের সিকিয়োরিটির গাড়িটা একটু দূরে দাঁড়ানো। গাছের তলায় বসা লোকটা এখনও কী সব বলে যাচ্ছে। কবি বাড়ির দিকে এগোল।

    এই বাড়িটা কার ও জানে না। আগে আসেনি এখানে।

    বাড়িটা বেশ বড়। তিনতলা। অনেকটা ছড়ানো। মধ্য কলকাতায় যে এমন বাড়ি এখনও আছে, ও ভাবতেও পারেনি।

    দরজায় অবাঙালি কিছু ছেলে দাঁড়িয়ে। তাদের চেহারা বাউন্সারদের মতো। পরনে পাজামা পাঞ্জাবি। চোয়াল শক্ত। ওরা কবিকে যেতে দিল।

    বলল, তিনতলায় যেতে হবে, লিফট আছে!

    বাড়ির মধ্যে বেশ আধুনিক লিফট।

    তিনতলায় লিফট থেকে বেরিয়েই কবি দেখল, আবার ওরকম চেহারার চারজন দাঁড়িয়ে। আর তাদের পাশে সাফারি সুট পরা একটা লোক। সে-ই পথ দেখিয়ে নিয়ে গেল কবিকে।

    কবি যে ঘরে এসে দাঁড়াল সেটা বিশাল। চারিদিকে শুধু মার্বেল আর মার্বেল। তার মধ্যে কালো মখমলের বসার জায়গা। মাথার ওপর বিশাল ঝাড়বাতি। কবির মনে হল হিন্দি সিরিয়ালের সেট দেখছে যেন।

    সোফায় বীরেন্দ্রর সামনে বসে আছে উমেশ আর উমেশের বাবা উদয়-সহ আরও কয়েকজন। সব মিলিয়ে মোট পাঁচজন।

    এবার বুঝতে পারল কবি। এখানে সে দিনের ঝামেলার পরে মিটমাট করতে এসেছে বীরেন্দ্র। কারণ, এই লোকটার ওপর বীরেন্দ্রর অনেক কিছু নির্ভর করছে। নিজের দলে বীরেন্দ্র বা বীরেন্দ্রর চ্যালাদের পছন্দ মতো টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। তাই বীরেন্দ্র বিরোধী শিবিরে এসেছে নিজের জায়গা পাকা করতে।

    উমেশের বাবা বৃহত্তর স্তরের রাজনীতির একজন মাথাবিশেষ। মেয়ের বিয়ে দিয়ে আত্মীয়তা বাড়লে বীরেন্দ্রর বিশাল লাভ হবে। তাই উমেশকে যে সে দিন অপমান করা হয়েছিল, তাতে মলম লাগাতে এসেছে!

    এদিকে এ-ও জেনেছে কবি যে, সে দিন যারা মারতে এসেছিল বীরেন্দ্রকে, তারা নাকি এই উদয়ের দলেরই লোক। যদিও কেউ প্রকাশ্যে স্বীকার করছে না কিছু। সামনে সবাই কেমন যেন ইস্ত্রি করা, মাড় দেওয়া একটা ভদ্রতা নিয়ে বসে আছে।

    কবির মনে হল, আচ্ছা, বীরেন্দ্র কি সেই জন্যই উর্জার সঙ্গে এই উমেশের বিয়ে দিতে চায়? উর্জাই কি আসলে এই গোটা সম্পর্কের মধ্যেকার সেই মলম?

    কবি এই শহরে এসে একটা জিনিস বুঝতে পেরেছে, সাধারণ মানুষ নিজেদের মধ্যে এই পার্টি ওই পার্টি বলে ঝগড়া করে। গন্ডা গন্ডা ন্যায়- অন্যায় নিয়ে যুক্তি সাজায়। পার্টির এথিক্স কী হওয়া উচিত এ সব নিয়ে ঝগড়া করে। মারামারি কাটাকাটি করে। আসলে সব ফালতু।

    ওপরের মহলে টাকা আর ক্ষমতাই হল আসল। যার হাতে টাকা তার হাতে ক্ষমতা, আবার উল্টোটাও ঠিক। আর সেটা ধরে রাখার জন্য যা যা করার সব করা হয়। ধর্ম, বর্ণ, জাতি থেকে শুরু করে বিখ্যাত মানুষ, ঘটনা মিডিয়া সব কিছুকে এরা ‘টুল’ হিসেবে ব্যবহার করে। সেখানে এথিক্স শুধু লোকের সামনে দেখানোর মতো একটা বেড়ালছানা। সাধারণ মানুষ এ সব ধারণাই করতে পারে না।

    ওর মাঝে মাঝে মনে হয় এই ওপরতলার লোকজনরা যে লাইফ স্টাইলটা মেনটেন করে, সেই জীবনটা যদি গরিব মানুষজনকে কয়েক দিনের জন্য দেওয়া হত, তা হলেই লোকজন বুঝতে পারত তারা কেমন অনর্থক নিজেদের মধ্যে মাথা ফাটাফাটি করছে!

    “এখানে রাখ,” বীরেন্দ্র সামনের কাচের টেবিলটা দেখাল।

    কবি ব্রিফকেসটা রাখল। তার পর দু’পা পিছিয়ে দাঁড়াল। বীরেন্দ্র ঝুঁকে পড়ে নাম্বারিং লক ঘুরিয়ে খুলে ফেলল ব্রিফকেসটা। কবি অবাক হল। এমন দৃশ্য সিনেমাতেই দেখা যায়। কিন্তু সেটা যে এ ভাবে চোখের সামনে দেখবে ভাবেনি!

    ব্রিফকেসে থরে থরে সাজানো দু’হাজার টাকার নোটে হাত রেখে বীরেন্দ্র, উদয়কে বলল, “এই যে, আপাতত পঞ্চাশ লাখ আছে। বিয়ের সময় আরও এসে যাবে। আপনি প্লিজ রাগটা মনে নেবেন না। এখনকার মেয়ে, বিদেশে ছিল। সেলফ ডিপেনডেন্ট। শি উইল কাম আরাউন্ড।”

    উদয় টাকা দেখে এমন কিছু প্রতিক্রিয়া দিলেন না। শুধু বললেন, “ভাল হলেই ভাল। উমেশ লাইকস ইয়োর ডটার। তাই এখনও আমরা কথা বলছি। আপনি মেয়েকে দেখুন। আমরাও কিন্তু নজর রাখব। আর যদি তাও বেচাল হয়, আপনি আপনার মেয়ের যোগ্য শাস্তি নির্ধারণ করবেন। আমার অপমান আপনি নিজের অপমান হিসেবে দেখবেন। ক্ষমতা পেতে গেলে স্যাক্রিফাইস লাগে। উইল লাগে। কঠোর হওয়া লাগে। ইউ হ্যাভ টু প্রুভ ইওরসেলফ। সুন্দর মাইতি আগে আপনাদের দলে ছিল। এখন আমাদের সঙ্গে আছে। ও আপনার নামে ভাল কিছু কথা করছে না কিন্তু চাইছে না আপনি আমাদের সঙ্গে আসুন। আসলে গোল্ডেন টিকিট একটাই মিস্টার ত্রিবেদী। ইউ হ্যাভ টু প্রুভ ইওর ওয়ার্থ। বুঝেছেন নিশ্চয়ই?”

    “সুন্দর! আরে ও তো একটা ফালতু লোক। আগে তো আমার কাছেই ‘ছিল। পরে নিজেকে শের ভাবতে লাগল। সরে গেল। এই যে আমার ওপর হামলা হল। সেগুলো আই থিঙ্ক ও-ই করিয়েছে।”

    উদয় হাসলেন। বললেন, “এমন কথা করবেন না যা আপনি প্রুভ করতে পারবেন না। ও আমার দলের লোক। আপনি এখনও আসেননি আমাদের সঙ্গে। আই উইল নট টলারেট দিস কাইন্ড অফ স্লান্ডার।”

    বীরেন্দ্র থমকে গেল একটু। কবি দেখল, সবার সামনে বাঘ হয়ে থাকা লোকটা এখানে যেন খানিকটা শিয়াল!

    বীরেন্দ্র বলল, “আমি সম্ভাবনার কথা বলছি উদয়জি। আর আপনাকেই তো বলছি, প্রেসকে তো বলিনি কিছু। পার্টিতে আমার কিছু ঝামেলা আছে। সেগুলো মিটিয়েই আমি আপনাদের পার্টিতে জয়েন করব। একটা গ্রামের দিকে আমার কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি আছে। ওতে পলিউশনের একটা ঝামেলা হচ্ছে। স্টেট ম্যাটার। সেটা সামলাতে হবে। আমি পার্টি বদল করতে পারি জেনেই আমায় হ্যারাস করা শুরু করেছে। বুঝতেই তো পারছেন!”

    উদয় মাথা নড়লেন। বললেন, “আপনি স্যাক্রিফাইসের কথাটা মন দিয়ে শুনলেন না বোধহয়!”

    “হ্যাঁ হ্যাঁ, সে ঠিক আছে। আমি সব সামলে নেব…”

    উদয় হাত তুলে থামালেন বীরেন্দ্রকে। তার পর কবিকে দেখিয়ে বললেন, “ওকে ছেড়ে দিন।”

    “আরে হ্যাঁ,” বীরেন্দ্রর যেন এবার খেয়াল হল। ও বলল, “তুই কাজে বেরিয়ে পড়। গাড়ির চাবিটা বুলাকে দিয়ে ওর থেকে স্কুটিটা নিয়ে নে। আছে তো সঙ্গে? আমি বাড়িতেই থাকব। কাজ সেরে সোজা আসবি আমার কাছে। বুঝেছিস?”

    কবি মাথা নাড়ল। তার পর আর দেরি না করে লিফটের দিকে দিল।

    নীচে নেমে গাড়ির চাবিটা বুলাকে দিয়ে ওর থেকে স্কুটির চাবিটা নিয়ে কবি।

    বুলা হেসে কিছু বলতে গিয়েছিল, কিন্তু কবি তার আগেই বলল, স্যরকে নিয়ে যাবে যখন, একটা কথাও বলবে না। বুঝেছ?”

    বুলা, কবির গলা আর বলার ভাব দেখে ঘাবড়ে গেল একটু। শুধু মাথা বলল যে, বুঝেছে।

    কবি আর সময় নষ্ট করল না। স্কুটির কাছে গিয়ে পকেট থেকে বের করল। পৌনে ছ’টা বাজে। ছ’টায় অফিস ছুটি উর্জার। পর ও কোথায় যায় দেখতে হবে।

    মোবাইলের ওয়াল পেপারে উর্জার ছবিটা আবার দেখল ও। এটা একটু সাহসের কাজ হয়ে গিয়েছে, কিন্তু কী করবে! যত দিন যাচ্ছে উর্জা ওর মনে, শরীরে পুরনো বট-অশত্থের মতো শিকড় ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ভাবছে, ভাববে না ওর কথা, ততই মনের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ছে উর্জা। ওই হেসে কথা বলা। কানের পেছনে চুল সরিয়ে নেওয়া। চোখ তুলে তাকানো। ওরকম সুন্দর আঙুল দিয়ে বাগানে ছড়িয়ে থাকা ফুল কুড়োনো। কবি দেখবে না ভেবেও অসহায়ের মতো দেখে। না তাকিয়ে, চোখ বন্ধ করেও দেখে, সারাটা সময়।

    কবি জানে, এটা কোনও সম্পর্ক নয়। হতে পারে না। জানে, ওরা দু’জন দুটো ভিন্ন গ্যালাক্সির বাসিন্দা। তবু কেন কে জানে ওর মনের মধ্যে সারাক্ষণ ঝরে যাওয়া মল্লিকা কুড়িয়ে চলে উর্জা।

    এ ভাবে কেন যে জীবনে কেউ না এসেও আসে! কেন তাকে পাবে না জেনেও তার প্রতি অনুগত হয়ে থাকে এই বেঁচে থাকা! কেন, তাকে ছাড়া, বাকি সব কিছু অদৃশ্য আর ঘষা কাচের মতো লাগে! বুকের ভেতর খুব ধীরে কেন যে জন্ম নেয় বৃশ্চিক! তার হুল ছিন্নভিন্ন করে মন! কেন যে রাগের বিষফুল শরীরে, মনে কুড়ি ধরে অলক্ষ্যে! জীবন যে কী নিষ্ঠুর এক যাত্রাপথ! কী অসহনীয়, নিরাময়হীন এক যন্ত্রণা হয়ে থেকে যায় মাঝে মাঝে!

    এই যে সে দিন দোলনা লাগানো হল। ও তো ছিল। দেখছিল সব। দোলনা টাঙাতে সাহায্যও করছিল। তার পর সেই দোলনায় এসে বসেছিল উর্জা।

    উর্জা দোল খাচ্ছিল। হাওয়ায় ভেসে উঠছিল ওর চুল। নরম, সোনালি রোদ এসে পড়ছিল উর্জার মুখে। দূরে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে তাকিয়েছিল কবি। না, উর্জা দেখছিল না কাউকে। তাকাচ্ছিল না কোনও দিকে। শুধু নিজের মনে দোল খাচ্ছিল। হাসছিল। আকাশের দিকে তাকিয়ে মেখে নিচ্ছিল মার্চের সব রোদ আর হাওয়া।

    কবি বুঝতে পারছিল, এমন দৃশ্য জীবনে একবারই দেখা যায়। আর যায় না। মানুষের কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসে এমন হাওয়া একবারই বয়। এমন রোদ একবারই ওঠে। এমন করে কোনও মেয়ে একবারই দোলনায় ভেসে থাকে উজ্জ্বল ফুলের মতো।

    কবি সবার অলক্ষ্যে মোবাইল বের করে কয়েকটা ছবি তুলেছিল উর্জার। তার পর তার থেকে একটাকে বেছে রেখেছিল ফোনের ওয়াল পেপারে। ভেবেছিল ফোন খুললে তো দেখতে পাবে অন্তত।

    উর্জার কথা কাউকে বলতে পারে না কবি। ও জানে বলা সম্ভবও নয়। কে বুঝবে ওর কথা! কে মানবে যে, ওর কোনও খারাপ উদ্দেশ্য নেই! কেউ না। এই পৃথিবীতে কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। তাই ও বলেনি কাউকে কিছু। বলবেও না।

    এই যে লালু ওকে সারাক্ষণ জিনির কথা বলে, সেটা কেন ও কি জানে না? ও কি জানে না কেন জিনি ওর জন্য কিনে আনে উপহার? বানিয়ে আনে পায়েস? বাড়িতে খেতে ডাকে? কেন বলে ওকে ভাল লাগে জিনির? ও জানে। কিন্তু ও কী করবে? ওর যে আর কাউকেই কিছু দেওয়ার মতো নেই। জিনি খুব ভাল মেয়ে, কবি চায় ও ভাল থাকুক। কিন্তু কবি? ও কি থাকবে ভাল? এই যে রাজু বা উমেশ কোনও একজনের সঙ্গে চলে যাবে উর্জা, তখন কী হবে ওর? কী ভাবে থাকবে এখানে?

    নাহ, কিচ্ছু ভাবতে পারে না কবি। শুধু জানে, উর্জার বিয়ের আগে এই শহর ছেড়ে ও চলে যাবে দূরে কোথাও। অন্য কেউ উর্জাকে ধরছে, এটা ভাবলেই কবির মনে হয় ওর গোটা শরীরটাকে কেউ যেন করাত দিয়ে টুকরো টুকরো করছে। মনে হয় বৃশ্চিক তার হুলের সমস্ত বিষ ঢেলে দিচ্ছে বুকে। মনে হয় বিষফুল ফেটে গরল আচ্ছন্ন করে দিচ্ছে ওর শরীর, ওর মন।

    কিন্তু সহ্য করে নিতে হবে। সহ্য করে নিতে হয়। ও সমাজের যে-স্তর থেকে এসেছে, সেই স্তরকে সমস্ত চাপ তাপ সহ্য করে নিতে হয় মুখ বুজে।

    ও জানে মনের মধ্যে ফুল কুড়িয়ে নেওয়া মেয়েটা থাকলেও, বাস্তবের জীবনে ওর পথ শূন্য। মল্লিকা ফুল সেই পথে ঝরে পড়ে থাকবে একাকী। কোনও পার্থিব হাত এসে কুড়িয়ে নেবে না তাকে।

    উর্জার অফিসের সামনে পৌঁছে স্কুটির স্টার্ট বন্ধ করতে হল না, কবি দেখল, উর্জা নিজের গাড়িতে উঠছে!

    ওঃ, আর একটু হলেই মিস হয়ে যেত। ঠিক সময়ে এসে পড়েছে কবি। উর্জা গাড়িটাকে একটু জোরেই চালাচ্ছে আজ। কবি স্কুটিটাকে গাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই রেখেছে।

    সন্ধে নেমে এসেছে কলকাতায়। দিকে দিকে আলো জ্বলে উঠেছে। বিলবোর্ড ঝলসাচ্ছে। বাস, ট্যাক্সি, অটো আর গাড়ির মধ্যে দিয়ে এঁকেবেঁকে দৌড়োচ্ছে উর্জার গাড়ি। পেছনে একটু দূরত্ব রেখে যাচ্ছে কবি। ওর মাথায় ক্র্যাশ হেলমেট। চেনার উপায় নেই।

    ও বুঝতে পারল, বাড়ির দিকে যাচ্ছে না উর্জা। তা হলে কোথায় যাচ্ছে! উর্জা গড়িয়াহাটার ফ্লাইওভার ধরল। এই পথে আবার কোথায় যাচ্ছে! কবি বুঝতে পারছে না কী হচ্ছে ব্যাপারটা।

    যাদবপুর মোড় পার করে এইট বি-র দিকে এগোচ্ছে উর্জা। তার পর এইট বি মোড় পার করে আর একটু সোজা গিয়ে বাঁ দিকে একটা গলির মধ্যে ঢুকে গেল গাড়িটা।

    এখানে কে থাকে? উর্জা তো এই ক’দিনে এখানে আসেনি! কবি সামান্য দূরত্ব রেখে স্কুটি চালাতে লাগল। রাস্তাটা নির্জন। আশপাশে লোকজন কমে এসেছে। উর্জা আর একটা গলির মধ্যে ঢুকল এবার। তার পর একটা বাড়ির সামনে দেওয়াল ঘেঁষে দাঁড় করাল গাড়ি।

    এখানে রাস্তায় আলো বেশ কম। পাশের একটা ইলেকট্রিকের পোলের বড় আলোটা নেবানো আছে। এই আবছায়াতেই স্কুটিটাকে দাঁড় করিয়ে আলো নিবিয়ে দিল কবি ।

    ও দেখল, গাড়ি থেকে নেমে এদিক-ওদিক দেখল উর্জা। না, ওকে দেখতে পায়নি।

    উর্জা রিমোট লক দিয়ে গাড়ির দরজা বন্ধ করে পাশের প্রায় অন্ধকার একটা বাড়ির দিকে এগিয়ে গেল। লোহার বড় গেটটা খুলল। তার পর ভেতরে ঢুকে গেল!

    কবি হেলমেটটা স্কুটির সিটের নীচে রেখে এগোল। কার কাছে এসেছে উর্জা, এরকম একটা আলো আর জানলা-দরজা বন্ধ বাড়িতে?

    ও দেখল, উর্জা এবার বাড়ির বারান্দায় উঠল আর সঙ্গে সঙ্গেই সামনের কাঠের দরজাটা খুলে গেল। রাজু বেরিয়ে এল ভেতর থেকে। বেল বাজানোর আগেই বেরিয়ে এল। মানে রাজু অপেক্ষা করছিল। প্ল্যানড মিটিং!

    কবির বুকের ভেতরটা কেমন একটু নড়ে গেল। রাজু বেরিয়ে এসে এদিক-ওদিক তাকাল, তার পর আচমকা উর্জার কোমরটা পেঁচিয়ে ওকে টেনে নিল কাছে। ঠোঁটে ঠোঁট ঠেসে ধরে রাখল। উর্জা একটু সময় পরে ঠেলে সরিয়ে দিল রাজুকে। হেসে উঠল সামান্য। কাচের চুড়ি বেজে ওঠার মতো মিহি শব্দ ভেসে এল এখানেও! রাজু আর উর্জা বাড়ির ভেতরে ঢুকে গিয়ে বন্ধ করে দিল দরজাটা।

    কবি যেন নড়তে পারল না। এখানে এ ভাবে কী করছে ওরা! মানে, যা ভাবছে সেটাই কি হচ্ছে?

    বুকের ভেতর কেমন একটা করছে কবির। মনে হচ্ছে একটা নয়, এত দিনে লক্ষ লক্ষ বৃশ্চিক জন্ম নিয়েছে ওর শরীরের সর্বত্র। তাদের দংশনে যেন মাথা ঘুরছে ওর। চারিদিক যেন টালমাটাল। হিংসে হওয়া কি একেই বলে! কিন্তু রাজুকে তো ভালবাসে উর্জা। কত দিনের পরিচয়। সেখানে কবি কে! এমনকি, কবি বলে যে কেউ এই পৃথিবীতে আছে, সেটাও হয়তো মনে থাকে না উর্জার। তা হলে কবি এমন করছে কেন? কেন মনে হচ্ছে ওর সব কিছু এলোমেলো আর ওলটপালট হয়ে গেল এক ধাক্কায় !

    রাগ জন্মাচ্ছে কবির মধ্যে। ইচ্ছে হচ্ছে খুন করে ফেলে রাজুকে। মনে হচ্ছে বেঁধে রাখে উর্জাকেও। তার পর নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেয় উর্জার পায়ে। নিজেকে ভেঙে ফুলের মতো ছড়িয়ে দেয় উর্জার জন্য। এরকম একই সঙ্গে কী করে কাউকে শাস্তি দিতে আর ভালবাসতে ইচ্ছে করতে পারে? এমন করে আগুন আর বরফ একই সঙ্গে থাকে কী ভাবে! এ কোন রহস্য পৃথিবী মেলে ধরছে কবির সামনে! এখন কী করা উচিত ওর? কী জানতে চাইছে ও? কী না জানলে ও দম আটকে এখানেই শেষ হয়ে যাবে?

    টালমাটাল পায়ে বাড়ির দিকে এগিয়ে গেল কবি। শব্দ হওয়ার ভয়ে লোহার গেটটা খুলল না। বরং হালকা পায়ে নিমেষে টপকে গেল পাঁচিল। বাড়ির দরজা জানলা সব বন্ধ। পুরনো দিনের বাড়ি। সামান্য ভাঙা ফাটা চারিদিক। কবি ভূতে পাওয়া মানুষের মতো বাড়ির জানলায় জানলায় কান পাতল। আর অবশেষে একটা জানলায় শুনতে পেল আওয়াজ। অস্ফুট। আহত আরামের শব্দ।

    নিজেকে আটকাতে পারল না কবি। খুব অন্যায় জেনেও ও আলতো করে জানলার খড়খড়ির একটা কাঠ ফাঁক করল।

    পুরনো দিনের একটা বিছানা। আর তার ওপর সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে মন্থনে রত দুই প্রাপ্তবয়স্ক দেহ। রাজুর ওঠা-পড়া আর আদরের মধ্যে উর্জা পিঠ খামচে ধরে আছে ওর। আশ্লেষে, সৃষ্টির ধ্বনি গুঞ্জন তুলছে এই মহাবিশ্বে।

    দেখল, ঘরের ভেতর ম্লান আলো জ্বলছে।

    আচমকা কবির সব কিছু যেন অন্ধকার হয়ে গেল। যেন এই মুহূর্তে ও নিজেও বুঝল, কেমন অজান্তেই ও তীব্র ভাবে জড়িয়ে পড়েছে উর্জার সঙ্গে। ও জানলার কাঠটা নরম ভাবে নামিয়ে দিয়ে কোনও মতে দেওয়াল ধরে নিজেকে সামলাল ।

    সব ঝাপসা লাগছে ওর। এ কী দেখল! কেন দেখল! ঈশ্বর বলে কেউ যদি থাকে, সে আর কত কষ্ট দেবে ওকে! যে হত্যার গ্লানি থেকে জীবনে ফিরে আসার জন্য মনে মনে উর্জার হাত ধরেছিল কবি, সেটাও আজ চলে গেল। ওর প্রিয় নারী অন্যের শরীরের তলায় পিষ্ট হচ্ছে। আর তাতে সুখীও হচ্ছে। এ জীবনে তা হলে আর কী রইল কবির? কে রইল?

    ও চোয়াল শক্ত করে আবার দেওয়াল টপকে রাস্তায় এল। না, আর থাকবে না এখানে। এর চেয়ে আর কী করতে পারে উর্জা, যা ওকে দেখতে হবে?

    কবি টলতে টলতে ফিরে এল স্কুটির কাছে। হেলমেটটা বের করে মাথায় পড়ল ভূতগ্রস্তের মতো। তার পর গাড়িতে বসে চালিয়ে দিল সেটা। কলকাতায় আজ কে যেন লেপটে দিয়েছে সব আলো। কিছু স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে না কবি। ও ক্র্যাশ হেলমেটের ভাইজার সরিয়ে নিজের চোখে হাত দিল। কাঁদছে ও! ছিঃ, এমন ন্যাকামো করার সত্যি কি কিছু আছে! কবির ভেতরের আর-একটা কবি যেন ধমক দিল ওকে। কিন্তু এই কবিটি আজ শ্রবণশক্তি হারিয়েছে। সঙ্গে মস্তিষ্কও কাজ করছে না ওর।

    কবি কী ভাবে যে গাড়ি চালাল, নিজেও জানে না। ক’টা সিগনাল মিস করল, কাকে কোথায় ওভারটেক করল বুঝতে পারল না। বাড়িতে ঢোকার মুখে কোন কোন দারোয়ান গেটে আছে, তাও খেয়াল করল না। আজ সব যেন ঝাপসা। সব যেন বৃষ্টির জলে ধুয়ে যাওয়া জলরঙের ছবি।

    স্কুটি আর হেলমেট গ্যারাজে রেখে, গ্যারাজের পাশে গাড়ি ধোয়ার জন্য যে কলটা আছে, সেটা খুলে ভাল করে চোখে-মুখে আর ঘাড়ে জল দিল কবি। তার পর পকেট থেকে রুমাল বের করে মুখটা মুছল। ঘাড়, মাথা মুছল। লম্বা শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল। পকেট থেকে মোবাইল বের করে উর্জার ছবিগুলো মুছে দিল সব। তার পর পাল্টাবে বলে ওয়াল পেপার সেটিং-এ গেল। কিন্তু ছবি পাল্টানোর আগে এক মুহূর্ত থমকাল কবি। শেষবারের মতো দেখে নিল নরম বাসন্তী রোদে হলুদ ওড়না উড়িয়ে ভেসে থাকা মেয়েটাকে। তার পর মুছে দিল সেটাও। আকাশের দিকে তাকাল একবার। মাথার ওপর অশেষ অন্ধকার। ওর মনেও কি তাই নয়?

    বিষ আবারও উঠে আসছে গলা বেয়ে। চোখ বেয়ে। এই জীবন বেয়ে। চোয়াল শক্ত করে, হাতের মুঠো বন্ধ করে প্রাণপণে নিজেকে সামলাল কবি। গলার ব্যথাটা মনের জোরে মুছে ফেলার চেষ্টা করল। তার পর এগোল বীরেন্দ্রর ঘরের দিকে।

    কী বলবে বীরেন্দ্রকে? যা দেখেছে বলে দেবে? আবার মনের মধ্যে ফুটে উঠল মিলন দৃশ্য। ফুটে উঠল আরামে উর্জার কেঁপে ওঠা শরীর। তৃপ্তির গুঞ্জন। আর এবার কষ্টের বদলে প্রচণ্ড একটা রাগ পাকিয়ে উঠল মনের মধ্যে। নিষ্ঠুর, সংহারক এক রাগ। মনে হল এর জন্য শাস্তি পেতে হবে রাজুকে। কোনও যুক্তি নয়, কোনও কারণ নয়, অন্ধ কুয়াশার মতো, বজ্ৰগৰ্ভ কৃষ্ণমেঘের মতো রাগ এসে আচ্ছন্ন করে দিল কবিকে।

    বীরেন্দ্র বসেছিল নিজের ঘরেই। সেই কালো পোশাক। গুনগুন করে এসি চলছে। সামনের টেবিলে মদের গ্লাস। কাজু, পেস্তার রুপোর প্লেট। কবিকে দেখে সামান্য অবাক হল বীরেন্দ্র। সোজা হয়ে বসে জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে তোর? শরীর খারাপ?”

    “না স্যর,” কবি চোয়াল শক্ত করল। বীরেন্দ্র কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল ওর দিকে। তার পর জিজ্ঞেস করল, “উর্জা ফেরেনি, তুই ফিরে এলি যে!”

    “স্যর, আমি যা দেখার দেখে এসেছি,” কবি বীরেন্দ্রর দিকে তাকিয়ে বলল।

    “কী দেখেছিস?” বীরেন্দ্র চোয়াল শক্ত করে তাকাল।

    “ম্যাডাম এখন রাজু বলে ছেলেটার সঙ্গে একটা বাড়িতে আছেন।”

    “বাড়িতে মানে?” ভুরু কুঁচকে আছে বীরেন্দ্রর, “ছেলেটার বাড়িতে?”

    “না স্যর, ফাঁকা বাড়িতে। দু’জনে….” কবি মাথা নামিয়ে নিল।

    “কী দু’জনে?” বীরেন্দ্র উত্তেজিত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল, “কী করছে ওরা বাড়িতে?”

    কবির বুকের মধ্যেকার কৃষ্ণমেঘ, হিংসা আর দ্বেষে সবুজ হয়ে গেল। পরাগ ছড়িয়ে পড়ল সমস্ত শরীরে। ও সোজা তাকাল বীরেন্দ্রর । তার পর বলল, “আমি নিজে দেখে এসেছি স্যর, ওরা সেক্স করছে।”স

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)
    Next Article কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }