Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প698 Mins Read0
    ⤷

    ১. বিশ্বনাথ

    ছোট্ট দুটো প্রজাপতি উড়ছে। আর উড়তে উড়তে একে-অপরকে গোল করে ঘুরছে তারা। পথের পাশে ফুটে রয়েছে নাম না-জানা সব ফুল ।

    হাওয়ায় আলতো করে দুলছে তাদের মাথা। পাপড়িঘেরা ছোট্ট মুখগুলো তাকিয়ে রয়েছে আলোর দিকে। আর রঙের আঙুল দিয়ে তারা যেন ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছে এই সকালের শীতের বাতাস। পাতা আর কুঁড়ি দিয়ে যেন আহরণ করছে এই রোদ্দুর। তাদের জীবন ৷

    আর, এই সব ফুলের ওপরেই উড়ছে ওই দুটো প্রজাপতি। তাদের ছোট্ট বাসন্তী রঙের পাখনায় নীলের ফোঁটা। ধারে ধারে হেম সেলাইয়ের মতো বাদামি দাগ। সেই পাখনা নাড়িয়ে তারা কী সুন্দর ভেসে আছে সকালের বাতাসে। দু’জনে দু’জনকে ঘিরে গোল করে ঘুরছে। যেন নাচছে দু’জনে। কোনও এক অশ্রুত সুর যেন ভেসে আসছে এই আলোয়, আলোয়, এই হাওয়ায়। আর, তার তালে ওরা দুলছে, উড়ছে, একে অপরের সঙ্গে অদৃশ্য বন্ধনে জড়িয়ে, ভেসে থাকছে।

    এই অদৃশ্য বন্ধনই আসল বন্ধন। এর টানই কাটাতে পারে না কেউ । এই চরাচর, প্রকৃতি, দৃশ্য জাগতিকতা ও অদৃশ্য জীবন, সবাই মিলেমিশে কী করে যে এই বন্ধন রচনা করে তা কেউ জানে না। যে ভাবে কেউ জানে না, ঠিক কখন প্রথম শিশির ফোঁটা ভাস্বর হয়ে ওঠে ঘাসের ডগায়। জানে না, ঠিক কোন মুহূর্তে ফুটে ওঠে ফুল। পাখির ছানা তার ছোট্ট বাসায় প্রথম চোখ মেলে কখন! জানে না কখন একজন মানুষের মনে ফুটে ওঠে অন্য আর-একজন মানুষ! ঠিক সে ভাবেই সবার অলক্ষ্যে এই বন্ধন রচিত হয়। এর ব্যাখ্যা নেই। স্পষ্ট কারণ নেই । নেই কোনও সঠিক পদ্ধতি। শুধু জ্বলে ওঠা তারা আর হারিয়ে, মিলিয়ে যাওয়া তারার আলোর মাঝে ভারী অদ্ভুত ভাবে গড়ে ওঠে এই বন্ধন। এই সমগ্র জগৎ এই বন্ধনেই চালিত হচ্ছে। গ্রহ-নক্ষত্র থেকে শুরু করে সামান্য এই দুই প্রজাপতির নাচের বন্ধন ক্রিয়াশীল। ক্রিয়াশীল একই মধ্যেকার অণু-পরমাণুতে শুধু এই একই টান। ঘুমন্ত শিশুর হাত বাড়িয়ে তার হারিয়ে যাওয়া মাকে খোঁজার মতো টান ৷

    বিশু যত দেখে তত অবাক হয়। আকাশে, বাতাসে, গাছপালায়, নদীতে, পাহাড়ে, এই বিস্তৃত জীবজ- গতে মানুষের মনের মধ্যে শুধু এই টান-ই দেখতে পায় ও। দেখতে পায় এই আশ্চর্য বন্ধন ।

    কী ভাবে সম্ভব হয় এরকম! কী রহস্য লুকিয়ে আছে এর মধ্যে! কিসের টানে ছোট্ট ঘাসফুলের চূড়ায় এ ভাবে দু’টি প্রজাপতি একে-অপরকে ঘিরে আবর্তিত হয়!

    আজও বিশু মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। পৃথিবীকে রোজ নতুন লাগে ওর। ঘুম থেকে উঠে ও যখন ঘরের বাইরে এসে ওদের ছোট্ট দাওয়ায় দাঁড়ায়, তখন রোজই নতুন কিছু না- কিছু দেখতে পায়। মানে রোদটা যেন রোজ আলাদা ভাবে পড়েছে। গাছের পাতার ছায়াগুলোর রং কোনও দিন যেন নীল, কোনও দিন গাঢ় সবুজ আবার কোনও দিন যেন ঘন মেরুন রঙের। দূরের ওই লম্বা অশোক গাছটাও যেন এক-একদিন খুশি থাকে, মাথা নাড়ায়, হাসে। আবার অন্য দিন কেমন যেন চুপচাপ, মনমরা অন্যমনস্ক। আবার ওই বোসবাবুদের বড় চারটে তালগাছের মাথার ওপরে প্ৰকাণ্ড পাথর-বাঁধানো যে নীল আকাশ, সেটাতেও যেন রোজ রোজ মেঘেদের মনমেজাজ পাল্টায়। সব হাঁ করে তাকিয়ে দেখে বিশু। সব কিছুর মধ্যেই কেমন যেন প্রাণ দেখতে পায় ও। দেখতে পায় সেই বন্ধন। মনে হয় এই প্রকৃতি আর তার জীবজগৎ কোনও এক অদৃশ্য সুতোয় যেন গাঁথা। ওর কেবলই মনে হয়, কে গাঁথল এই সব কিছু? কে এই সব কিছুর মধ্যে বুনে দিল এত ভালবাসা?

    “কী রে পাগলা, কী দেখছিস?”

    পাশ থেকে ডাক পেয়ে মুখ তুলে তাকাল বিশু। দেখল, জগন্নাথ হাসছে ওর দিকে তাকিয়ে।

    জগন্নাথ ওর ভায়রা হারু ঘোষের ভাই। থাকে পাশের গ্রাম মুড়াপোঁতায়। পার্টি করে। বেশ নাম করেছে উঠতি নেতা হিসেবে। গরিব মানুষের হকের কথা বলে জগন্নাথ । সবাই বেশ সমঝে চলে ওকে । বিশু অবাক হয়ে দেখে লোকটাকে। শালকাঠের মতো ঘন রং। উজ্জ্বল চোখ। সারা শরীর দিয়ে যেন আত্মবিশ্বাসের ছটা বেরোচ্ছে! ওর চেয়ে বয়সে সামান্য ছোট হয়েও জগন্নাথ ওকে তুই-তোকারি করে, পাগলা বলে। তাও ওর খারাপ লাগে না। মনে হয়, ওকে নিয়ে মজা করা ঘন ছায়ার মতো দেখতে এই জগন্নাথের ভেতরে আর-একটা জগন্নাথ আছে। আলো দিয়ে তৈরি একটা জগন্নাথ। যে খুব ভাল লোক। মানুষের কষ্ট বোঝে। যে অন্যের জন্য নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করে।

    বিশুও হাসল। জগন্নাথ সাইকেলে বসে আছে।! কাঁধে ব্যাগ। ঠোঁটের কোণে বিড়ি। তার থেকে বেরোনো সরু ধোঁয়ার রেখা সাদা শিরা- উপশিরায় ভাগ হয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে হাওয়ায়।

    জগন্নাথকে দেখে খুব আশা-ভরসা হয় বিশুর। মনে হয় এমন সব মানুষ থাকলে অসহায় লোকজনের সুবিধে হবে একটু ।

    যদিও নানান লোকে নানান খারাপ কথা বলে। বলে জগন্নাথ খুব সেয়ানা। ঝামেলাবাজ। নিজের ধান্দার জন্য সব পারে। ক্ষমতার দিকে খুব লোভ। ওপর ওপর মানুষের জন্য কাজ করে দেখালেও মনে মনে একটা সামন্তপ্রভু!

    কিন্তু এ সব কথা বিশু মাথায় গাঁথে না। আসলে আজকাল কোনও খারাপ কথাই ওর মনে ছাপ ফেলে না খুব একটা। চারিদিকের সব কিছুর মধ্যেই ও একটা খুশি আর আনন্দ দেখতে পায়। ওর বুকের মধ্যেটা খুশিতে, বিস্ময়ে ফুলে ওঠে। কেমন যেন লাগে মাথাটা। কেবলই মনে হয় এই সব কিছু যদি ও কারও সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারত!

    কিন্তু কার সঙ্গে ভাগ করবে বিশু! কাকে চিনিয়ে যাবে এই সব গাছপালা, মেঘ, নদী আর আলো- ছায়ার গল্প! বিশু ভাবে, যদি ওর একটা সন্তান থাকত! তা হলে তার ছোট্ট হাতটা নিজের মুঠোয় ধরে তাকে চিনিয়ে দিত এই জগতের অস্ফুট সব গল্প।

    কিন্তু তা তো হওয়ার নয়। বিশু আর শিউলির এখনও কোনও সন্তান আসেনি। আর কোনও দিন আসবেও না। এমনটাই বলেছে হাওয়াদাদু । বিশুকে নাকি বাবা হওয়ার মতো করে তৈরি করেনি প্রকৃতি। তার শরীর বীজশূন্য। তার গাছে ফুল নেই। তার মেঘে বৃষ্টি নেই। হয়তো হবেও-বা। হাওয়াদাদু তো আর ভুল কথা বলার মানুষ নয় ৷ কিন্তু সন্তানের জন্য ভেতরে ভেতরে কী যে এক তীব্র টান অনুভব করে বিশু। কেন এই টান! কিসের এই টান! কেন যে ছোট্ট প্রজাপতিরা একে অপরকে কেন্দ্র করে ঘুরে যায় এমন!

    “কী রে পাগলা, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কী দেখছিস? দোকান খুলবি না?” আবার প্রশ্নটা করে জগন্নাথ হাসল।

    “খুলব,” বিশু বলল, “আসলে হাওয়াদাদুর কাছে যাব একবার। আমায় ডেকেছে আজ।”

    “অ,” জগন্নাথ পাত্তা দিল না কথাটাকে। বলল, “ভালই আছিস! তা এখানে দাঁড়িয়ে কী করছিস বললি না তো?”

    “ওই মানে দেখছিলাম, প্রজাপতিদের,” বিশু আমতা আমতা করে বলল ।

    “ও, তুই তো আবার কবি!” হাসল বিশু, “তা কবিতা লিখলি কিছু?”

    “লিখব,” বিশু টালুমালু চোখে তাকাল। বলল, “দশ দিন লেখা আসেনি। আজ আসবে হয়তো। মাথার মধ্যে একটা লাইন উড়ছে…” “প্রজাপতির মতো না মশার মতো?” শব্দ করে হাসল জগন্নাথ । জিজ্ঞেস করল, “শিউলি কেমন আছে রে?”

    বিশু বলল, “ভালই আছে।”

    “তোর পাল্লায় পড়েছে, আর ভাল!” জগন্নাথ মাথা নাড়ল নিজের মনে, “কাজে যা। সকাল সকাল প্রজাপতি দেখছে। যেন এতে পেট ভরবে। গাধা একটা! শিউলি নাকি ভাল আছে! হুঃ!’

    জগন্নাথ সাইকেল দাপিয়ে চলে গেল ।

    ওর যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইল বিশু। জগন্নাথের বলে যাওয়া কথাগুলো কানের মধ্যে বাজছে। শিউলি কেমন আছে! খারাপ আছে! কষ্টে আছে! ও তো জানে না। তা হলে জগন্নাথ এমন বলল কেন? ও জানল কী করে?

    বিশু জানে ওর বোধবুদ্ধি সবার মতো অতটা প্রখর নয়। বরং বলা যায় মাথাটা সব সময় ঠিকমতো কাজ করে না ওর। সঙ্গে শরীরটাও যে খুব ভাল যায় তাও নয়। জন্ম থেকেই হৃদ্যন্ত্রের দোষ রয়েছে ওর। সঙ্গে আরও নানান সমস্যা আছে। তার ওপর রোজগারপাতি কম। এতটাই কম যে, শিউলিকে একটু দূরের গেস্ট হাউসে রান্নার কাজ করতে যেতে হয়। বিশুর খারাপ লাগে। কিন্তু উপায়ও তো নেই। বিশুর মতো এমন একটা ছেলের সঙ্গে শিউলির মতো মেয়ের বিয়ে হওয়াটা সত্যি ঠিক হয়নি। কিন্তু এখন উপায়টাই-বা কী!

    আসলে বাবা-মা না থাকলে মুখচোরা লাজুক মানুষের খুবই দুর্ভোগ। শিউলিরও এই কারণেই দুর্ভোগটা হয়েছে। বিশু বোঝে এ সব। বোঝে শিউলির মতো মেয়ের সঙ্গে ওর মতো মানুষের বিয়ে হওয়াটা অনুচিত খুব। কিন্তু তাও কী ভাবে এই অনুচিত ব্যাপারটাকে পাল্টে দেবে, সেটা বুঝতে পারে না।

    এই কারণে বিশুর মনে একটা আবছা পাপবোধ কাজ করে। সেটা ঢাকতেই কী না কে জানে, শিউলিকে খুব ভালবাসে ও। কষ্ট দেয় না একটুও ।

    শিউলিও খুব ভাল মেয়ে । চুপচাপ। নিজের মনে থাকে। বাড়ির সামনের একটু জায়গায় বাগান করেছে ও।

    নিজের কাজ শেষ হওয়ার পরে, সেই নিয়েই থাকে। এর সঙ্গে ওদের বাড়ির দাওয়ায় উড়ে আসা নানারকম

    পাখিদের যত্ন করে খাওয়ায়। সেই কারণেই ওদের বাড়িতে কতরকমের যে পাখি আসে!

    এ সবের মাঝে শিউলি নিজের মনে গুনগুন করে গান গায়। কখনও বিশুকে কোনও কিছু নিয়ে অভিযোগ করে না। বিশু বোঝে, শিউলি নিজের এই ভাগ্যকে বা স্পষ্ট করে বললে দুর্ভাগ্যকে মেনে নিয়েছে। শিউলির দিদি মানে লীলার বিয়ে হয়েছে হারু ঘোষের সঙ্গে। নিজের দিদির হারু ঘোষের মতো অত বড়লোকের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পাশাপাশি বিশুর মতো হতদরিদ্র মানুষের সঙ্গে নিজের বিয়েটাকে মেনে নেওয়া তো চাট্টিখানি কথা নয়! কিন্তু শিউলি সেটা মেনে নিয়েছে! ভাল মানুষজন এমনই হয়। অনেকটা যেন পৃথিবীর মতো। সব মেনে নেয়। সহ্য করে নেয় ৷

    আজও সকালে শিউলি চলে গিয়েছে রান্নার কাজে। শুধু যাওয়ার আগে বলে গিয়েছে বিশু যেন হাওয়াদাদুর সঙ্গে একবার দেখা করে। খুবই জরুরি দরকার।

    হাওয়াদাদু মানে বিমল মুস্তাফি। ষাটের কাছাকাছি বয়স। অকৃতদার মানুষ ৷ গ্রামের মধ্যে বড় একটা বাড়িতে থাকে। আর সেই বাড়ির নীচের তলায় ডিসপেনসরি খুলে চিকিৎসা করে। গরিবদের কাছ থেকে টাকাপয়সা নেয় না বিশেষ ।

    বিশুকে ছোট থেকেই খুব ভালবাসে হাওয়াদাদু। শিউলিকেও দেখে নিজের সন্তানের মতোই। অন্যান্য সাহায্যের পাশাপাশি ওদের টাকাপয়সা দিয়েও সাহায্য করতে চায় হাওয়াদাদু। কিন্তু এই টাকাপয়সার সাহায্যটা শিউলি নেয় না কিছুতেই।

    তাই যাতে ওদের আর্থিক দিক থেকে কিছুটা সুরাহা হয়, সেই কারণে হয়, হাওয়াদাদু সামান্য দূরের ওই গেস্ট হাউসে রান্নার কাজটা দেখে দিয়েছে শিউলিকে ।

    হাওয়াদাদু খুব লম্বা মানুষ। সঙ্গে তেমন চওড়াও। মাথায় বড় টাক। আর গালে বেশ লম্বা দাড়ি। সেই ছোট থেকেই বিশুরা দেখত, হাওয়ায় দাদুর দাড়ি উড়ছে। সেই থেকেই ওরা নাম দিয়েছিল হাওয়াদাদু ।

    আজ কেন হাওয়াদাদু সকাল সকাল ডেকে পাঠিয়েছে বিশুকে কে জানে! কিন্তু ডেকেছে যখন যেতে তো হবেই।

    আর যাচ্ছিলও তো বিশু। কিন্তু ওই যে দুটো প্রজাপতি! বাসন্তীর ওপর নীল ফোঁটা, ডানার ধারে বাদামি হেম সেলাইয়ের মতো দাগ, তারাই তো আটকে দিল পথ!

    আকাশের দিকে তাকাল বিশু। ডিসেম্বরের সকাল ফুটে উঠছে শত- দলের মতো। রোদ্দুর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডার ভাব কমে এসেছে কিছুটা। বেলা বাড়ছে। গাছের ছায়া ছোট হচ্ছে। নাঃ, আর দাঁড়িয়ে থাকলে দোকান খুলতে দেরি হয়ে যাবে। বিশু হাঁটা লাগাল। দেখা যাক হাওয়াদাদু কী বলে ।

    হাওয়াদাদুর বাড়িটা বিশাল বড়। সামনে উঁচু পাঁচিল। তার মাঝে বড় লোহার দরজা। সেই দরজার পেটে আবার ছোট্টমতো আর-একটা দরজা। সেটা এখন খোলা ।

    বিশু দেখল, সেই ছোট দরজাটার সামনে কাঠের টুলে বসে আছে রহম- তদা। এই মানুষটা হাওয়াদাদুর কাছেই থাকে। সব কিছু দেখাশোনো করে।

    রহমতদা এখন গোবিন্দ বাউলের গান শুনছে। হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে সুর। মনটা আরও ভাল হয়ে গেল বিশুর। ও ধীরে ধীরে গিয়ে দাঁড়াল গোবিন্দর পাশে । পাশে। শুনল গোবিন্দ রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইছে, “আমি তার মুখের কথা শুনব ব’লে গেলাম কোথা,/ শোনা হল না, হল না— আজ ফিরে এসে নিজের দেশে এই-যে শুনি/ শুনি তাহার বাণী আপন গানে৷/ আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে, তাই হেরি তায় সকল খানে৷”

    গানের শেষের দিকে এসে রহমতদা নিজেও গলা মেলাল। বিশু দেখল দু’জনেই বিভোর। চোখ বন্ধ করে গেয়ে চলেছে।

    গান শেষ করে এবার বিশুকে দেখতে পেল রহমতদা। বলল, “আরে, তুই এসে গিয়েছিস? যা ভেতরে। কত্তা অপেক্ষা করছেন। যা তাড়াতাড়ি।’

    বিশু হাসল। পকেট থেকে একটা এক টাকার কয়েন বের করে গোবিন্দর হাতে দিয়ে বলল, “আমার দোকানে এসে একদিন গান শুনিয়ে যাবে?”

    গোবিন্দ টাকাটা পকেটে রেখে বলল, “যাব গো বিশ্বনাথ। তোমার কাছে ছাড়া আর কার কাছে যাব! তুমি যে সব গো! তুমিই তো ভারসাম্য রাখো। এই প্রকৃতিতে তুমিই তো আসল কাজ করো। তুমিই তে দেবাদিদেব। যাব তোমার কাছে। যেতে যে হবেই ।”

    বিশু রহমতের পাশ দিয়ে, ছোট দরজার ফাঁক গলে ভেতরে ঢুকল ।

    চারিদিক যেন রঙে ঝলমল করছে! নানান রঙের গাঁদা, ডালিয়া আর কত নাম না-জানা ফুলে ভরে আছে চারিদিক। বিশুর মনে হল কোনও এক শিশু যেন এক বাক্স মোমরং দিয়ে এলোমেলো ভাবে যেমন খুশি তেমন রং করে দিয়েছে চারিদিকটা!

    আর এই এত রঙের মধ্যেই হাওয়াদাদুকে দেখতে পেল বিশু। লম্বা মানুষটা আজও সটান। দস্তানা পরা হাতে ছোট্ট একটা স্প্রেয়ারের বোতল নিয়ে ঘুরছে গাছেদের সামনে। রোদের মধ্যে ঝিলিক দিচ্ছে চোখের সোনার চশমাটা ।

    ওকে দেখে থমকে গেল হাওয়াদাদু। যেন হাসল সামান্য। তার পর ধীরে ধীরে এগিয়ে এল ওর দিকে ।

    বড় গাছের দিকে যে ভাবে শিশুরা মাথা তুলে তাকায়, সে ভাবে বিশু মাথা তুলে তাকাল হাওয়াদাদুর দিকে।

    হাওয়াদাদু কোনও রকম ভনিতা না করে সরাসরি বলল, “বিশু, তোকে আমি ডেকেছি একটা দরকারি কথা বলার জন্য!”

    “দরকারি!” বিশু তাকাল মানুষটার দিকে। হ্যাঁ, দরকারি কথা যে আছে সেটা তো জানতই। শিউলি বলেছে ওকে। কিন্তু অন্য দিন হাওয়াদাদু আগে নানান কথা বলে তার পর কাজের কথায় আসে। কিন্তু আজ এমন সরাসরি ভাবে বলল! কী এমন দরকারি কথা! বিশুর মনে হল আজ হাওয়াদাদুকে যেন অন্যরকম লাগছে ।

    “হ্যাঁ রে,” হাওয়াদাদু ওর পিঠে হাত রেখে আস্তে আস্তে বাগানের মধ্যে হাঁটতে লাগল, “বিশু, তোকে একটা কথা জিজ্ঞেস করছি। উত্তর দে। জীবনবৃক্ষ বলতে কী বুঝিস তুই?” “জীবনবৃক্ষ!” বিশু কী বলবে বুঝতে না পেরে হাঁ করে তাকিয়ে রইল ।

    হাওয়াদাদু বলল, “হ্যাঁ, জীবনবৃক্ষ। সেই বৃক্ষ, তার ফল, তার বীজ। সেখান থেকে জন্ম নেওয়া আরও নতুন সব বৃক্ষ। মানুষের জীবনও যে এমন, তা বুঝিস? বুঝিস এক গাছ থেকে কেমন করে জন্ম নেয় আরও অনেক অনেক গাছ! তাদের আপাত ভাবে আলাদা লাগলেও আসলে তারা কিন্তু আলাদা নয়। একে অপরের কাছ থেকে দূরে দূরে থাকলেও, তারা কিন্তু এক। আমরা সবাই কিন্তু আসলে এক । একই বৃক্ষ থেকে জন্ম নিয়েছি। জানিস তো?”

    বিশু তাকাল হাওয়াদাদুর দিকে। তার পর বলল, “তাই, না? আমরা সবাই এক!”

    “হ্যাঁ রে। আমার-তোমার ভাগটা সঙ্কীর্ণ মানুষজনেরা করে। জানবি আসলে সব এক। জানবি এই জীবন আমাদের কাছে প্রসাদস্বরূপ। একই বৃক্ষের ফল। তাই এই জীবন যা দেয় হাত পেতে নিতে হয়। কারণ, এ ঈশ্বরের দান। তোকেও নিতে হবে, বুঝলি?”

    “আমায়?” বিশু অবাক হয়ে তাকাল হাওয়াদাদুর দিকে। আজ হাওয়াদাদু যে কী বলছে কিছুই বুঝতে পারছে না ও।

    “হ্যাঁ, তোকে,” হাওয়াদাদু হাসল সামান্য। তার পর জিজ্ঞেস করল, “তুই নিতে প্রস্তুত তো?”

    বিশু তাকাল হাওয়াদাদুর দিকে। পাশেই ফুলগাছ। সেখানে কোথা থেকে আবার ফিরে এসেছে দুটো প্রজাপতি। এরা ভিন্ন। কমলা-কালোয় রাঙানো, গির্জার রঙিন কাচের মতো এদের ডানা। এরাও একে-অপরকে কেন্দ্র করে উড়ছে । গোল্লা কাটছে। সেই দিকে তাকিয়ে বিশু হাসল নিজের মনে। তার পর আবছা গলায় বলল, “জীবনের এই টান কিসের থেকে আসে হাওয়াদাদু? আমরা সবাই এক বলেই কি এই টান? এ টান কি আসলে নিজের প্রতি নিজের আকর্ষণ?”

    হাওয়াদাদু কিছু না বলে তাকিয়ে রইল ওর দিকে।

    বিশু দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার পর বলল, “আমি প্রস্তুত । তুমি বলো।’

    হাওয়াদাদু চোখ থেকে চশমাটা খুলে বুক-পকেটে রাখল। তার পর ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল ।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)
    Next Article কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }