Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ১.১

    ১.১

    মি’লেডি, হারানো স্বদেশভূমির স্মৃতিযাপনের মতো বিলাসিতা আর কিছুতে নেই। এই উপলব্ধিটা বাপ্পার হয়েছিল খুব ছোটোবেলায়, অনাবিল আলোয় ভরা রবিবারগুলোয়, ওদের ২৩/৩ কলুটোলা লেনের বাসা যখন গুষ্টিসুখের হৈহল্লায় ভরে উঠত। তার আগে রথীন সাপ্তাহিক বাজার সেরে ফিরেছে, সোফায় বসে সকাল থেকে চার কি পাঁচ বারের মতো চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে দি সানডে স্টেটসম্যান-এর পাতা দিয়ে নিজেকে ঘিরে একটা কেল্লা বানিয়ে নিয়েছে। কেল্লার ভেতর থেকে ধোঁয়া উঠছে, মেঝেয় ছড়ানো খেলনা আর আঁকার খাতাপেন্সিল নিয়ে বসে বাপ্পা দেখছে। শিউলি রান্নাঘরে, রেডিওয় রোববারের গীতমালা। বেতের টিপয়ে কালো টেলিফোনটা বেজে উঠতেই কাগজের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসবে একটা হাত, আঙুলের ফাঁকে সিগারেট। পরক্ষণেই কাগজের যবনিকা সরে যাবে, উদ্ভাসিত রথীনের মুখ

    ‘চিনি!’ রথীন বলে উঠবে। মুখে হাসি, কানে রিসিভার। বাপ্পাও মেঝের খেলা ছেড়ে সোফার হাতলে উঠে রিসিভারের উলটোদিকে কান পাতবে। চিনির কন্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে যেন হাইড্রান্টের ভেতর থেকে শিলচর বিমানবন্দরে পাবলিক বুথ থেকে ফোন করছে।

    ‘ঘন্টা দুয়েকে এসে পড়ছি রথিদা, সবাইকে খবর দে! বড়দা, বুলু, মিঠু, বৌদি… সব্বাইকে তোর ওখানে ডাক আজ দুপুরবেলা!’

    ‘সে আর বলতে!’ রথীনের গলায় উত্তেজনা। ‘কিচ্ছু ভাবিস না, তুই দমদমে নামার আগেই সকলে জড়ো হয়ে যাবে!’

    ‘সঙ্গে কী নিয়ে আসছি বল দিকি রথিদা?’

    ‘কী?’

    টেলিফোনের ওপ্রান্তে রথীনের খুড়তুতো ভাই চিনির গলা কলকল করে উঠবে যেন হাইড্র্যান্ট-ফাসা জলের ভেতর থেকে—‘দু কিলো কাঁচা সিদল, চার মাসের মাতানো, গোটা বরাক ভ্যালি চষে ফেলেও এই জিনিস মেলে না!’

    ‘দুউউউ কিলো? কী ক’স! দু কিলো সিদলে কলকাতা শহরে গোটা সিলেটি গুষ্টিকে ভোজ খাওয়ানো যাবে!’

    লাইনের দুপ্রান্তে অট্টহাসিতে রিসিভারের বেকেলাইট তেতে উঠবে, কানে সেটা মালুম হবে ছোট্ট বাপ্পার।

    যে সময়ের কথা, তখন চিনি শিলং থেকে ব্যবসার কাজে নিয়মিত কলকাতায় যাওয়া-আসা করে। সেই উপলক্ষে জমে ওঠে শহরে ও শহরতলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রথীনের বিভিন্ন তুতো ভাইবোনেদের মোচ্ছব। বাপ্পাদের ২৩/৩ কলুটোলা লেনের দেশলাই বাক্সের আকারের বাসাটা ভরে ওঠে আট-দশজন মানুষের হইচই গানবাজনায়, সুখাদ্যের সুঘ্রাণে। শিলচর থেকে কলকাতায় ওদের হারানো স্বদেশভূমির আর্দ্র সবুজ উপত্যকার ওপর দিয়ে চিনির উড়ে আসতে যতক্ষণ লাগে, ততক্ষণে রথীন এক প্রস্থ ফোনাফোনি সেরেছে, রান্নাঘরে ভাঁড়ার দেখে নিয়ে আরেকবার বৈঠকখানা এমনকি এন্টালি বাজারেও ঘুরে এসেছে, একে একে এসে পড়ছে নিকট- দূরসম্পর্কীয় ভাইবোনেদের গুষ্টি। ওরা সকলে জন্মেছে, বড়ো হয়েছে সুরমা নদীর ধারে একই শহরের একই পাড়ায়। দেশভাগ যখন সিলেটকে আসাম থেকে খুবলে নিল, ওরা শহর ছাড়ে। সাইক্লোনের ধাক্কায় কাঠের পালতোলা জাহাজের মতো পরিবারটা ভেঙে খানখান হয়ে যায়, টুকরোগুলো ভেসে ছড়িয়ে যায় বিভিন্ন দিকে। এতকাল পরে, এক অনাবিল আলোয় ভরা রবিবার, কলকাতা শহরে এঁদোগলির ভেতর দোতলায় ঘুপচি বাসায় সেই জাহাজটাকে ফের জোড়া লাগানোর প্রস্তুতি চলছে এক আশ্চর্য আঠা দিয়ে, যার নাম কাঁচা সিদল, যা কলকাতার কোনো বাজারে পাওয়া যায় না।

    সবার আগে এসে পড়বে বাপ্পার খোকাজেঠু, চিনির বড়দা, এবং তার স্ত্রী রুপু, যাকে বাপ্পা মোমবুচান বলে ডাকে। নীচের গলি থেকে শোনা যায় তার গলা।

    ‘রথি! অ্যাই রথি! কোই গেলি রে? এখনও ঘুম দিচ্ছিস নাকি? ওঠ! ওঠ! নেমে এসে ধর এগুলা!’

    সদর দরজায় কলিং বেলের সুইচ থাকতেও মোমবুচান কোনোদিন সেটা বাজাবে না, এবং কেউ নীচে নেমে আসার অপেক্ষা না করেই দুহাতে ভর্তি বাঁশের চ্যাঙারি আর শালপাতায় মোড়া শিঙাড়া জিলিপি ইত্যাদি সুখাদ্যের পসরা নিয়ে তার দশাসই দেহটি সরু সিঁড়ি দিয়ে টানতে টানতে দোতলায় উঠে আসবে, আর দরজায় রথীনকে পেয়ে দম নিতে নিতে বলবে—‘কোই গ্যাল আমাদের সাতগাঁর ডলপুতুল? কোই লুকিয়ে রেখেছিস অরে?’

    সাতগাঁর ডলপুতুল, অর্থাৎ কি না শিউলি, দ্রুত পায়ে এসে হাত থেকে খাবারের বোঝা নিতে গেলে রুপু বিপুল বাহুদুটো বাড়িয়ে বুকে টেনে নিয়ে বলে উঠবে, ‘অরে আমার মিষ্টিসোনা ডলপুতুলরে!’ এবং পরক্ষণেই, এদিক ওদিক তাকিয়ে—‘ডিমপোনাটা গ্যাল কোই?’

    ডিমপোনা, অর্থাৎ কি না বাপ্পা, তখন ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে। মেদভারা দেহটা মোচড় দিয়ে ঘুরে ওকে আবিষ্কার করেই—‘ওমা, পোনা কেমন লকলকাচ্ছে দ্যাখো!’ বলে কোলে তুলে নিয়ে দুগালে চকাস চকাস করে চুমো দেবে।

    মোমবুচানের বুকের হিমবাহ থেকে কান্ডা সেন্টের বাস্প আর গোপাল জর্দার গন্ধ বাপ্পার গালে লেগে থাকত সারাটা দিন।

    বিপুল দেহভার নিয়েও সদাপ্রাণোচ্ছল, সুন্দরী, আমুদে রুপুর খয়েররঞ্জিত ঠোঁট, গালে গোলাপি রুজের প্রলেপ, খোপায় গোঁজা নকল চুলের বল, বলে গোঁজা রুপোর ঘন্টি দেওয়া হেয়ারক্লিপ ও অন্যান্য রূপসজ্জা নিয়ে সাজগোজের ধরনটা ছিল তার নিজের কৈশোরে দেখা সিনেমার নায়িকাদের মতো। চুলের ঘন্টি বাজিয়ে সাতগাঁর পুতুল ও তার ডিমপোনাকে স্নেহবর্ষণ সেরে সে এরপর ফিরত রথীনের দিকে। চিবুকে চিমটি কেটে, চুমু খেয়ে, কানের লতি কামড়ে পানের রসে লাল করে দিয়ে, সিলেটি ভাষায় আদুরে বুলি আউড়ে খুড়তুতো দেওরটির ওপর নিজের অধিকার কায়েম করত।

    অনেককাল পরে সেইসব দৃশ্যের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বাপ্পার মনে হয়েছে, মোমবুচান বোধহয় ওর বাবাকে দেখত তার নিজের না-হওয়া সন্তানের চোখে, যদিও দুজনের বয়সের ফারাক বছর দশ-বারোর বেশি ছিল না। এদিকে ওর মুখে সিলেটি আদরের বুলি শুনে ইতিমধ্যে উপস্থিত ভাইবোনেরা হেসে কুটিপাটি। সে ভাষার বিন্দুবিসর্গ বুঝত না বাপ্পা ও তার মা শিউলি, কারণ ওই ক্বচিৎ রবিবারগুলো ছাড়া ওদের সিলেটি বুলি শোনার কোনো উপায় ছিল না। রথীন ঘরে বাইরে সর্বত্র নিখাদ কলকাতার বাংলা বলত। তবে রুপুর নাটুকেপনা দেখে না হেসে উপায় ছিল না ওদেরও।

    ওদিকে তার স্বামীটি তখনও নীচে, গলিতে, রিকশাওয়ালার সঙ্গে প্রবল দরকষাকষি করছেন। খোকাজেঠুর মাথাজোড়া টাক, চওড়া মটনচপ জুলফি, দেহভার স্ত্রীর সঙ্গে মানানসই। অথচ ট্রাম রাস্তা থেকে গলির ভেতর ওইটুকু পথ আসার জন্য সর্বদাই ওরা বেছে নিত সবচেয়ে ক্ষীণদেহী টানা-রিকশাওয়ালাটিকে। সে বেচারি চালক ও আরোহীদের মাধ্যাকর্ষণজনিত অসাম্য হেতু ভাড়ার ওপর কিছু বখশিস চেয়ে সওয়াল করলে খোকাজেঠুর উচ্চকিত কন্ঠস্বরে কেঁপে উঠত গলির বাতাস। দোতলা থেকেও স্পষ্ট শোনা যেত।

    ‘জুঠ মৎ বোলো কেনোকি তুমরা রিকশ একদুম ফটিচর, অউর যব হামি বোলা কি কলুটোলা লেনকো অন্দর হামকো গিরাই দেও, গিরাই দেও, তুমি হামকো দুনিয়া ঘুমাইকে ছোড়! কেইসা সোচ কি হামি মুর্খ ছই, কি মেরো পইসা সস্তা ছই?’

    হুবহু এই কথাগুলো হয়তো নয়, তবে এরকমই এক বিচিত্র জগাখিচুড়ি ভাষা –যার নাম হাফলং হিন্দি–আসামের কাছাড় হিলস-এ চালু বুলি। হিন্দি, ইংরিজি, উর্দু, বাংলা, অসমিয়া, নেপালি, মণিপুরী ও পাঞ্জাবি ভাষার এক মিশ্র পিজিন, যার মধ্যে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন পাহাড়ি জনজাতি, অর্থাৎ জেমে, দিমাসা, কুকি, বিয়াতে, রংকোল ও জয়ন্তিয়ার থেকেও কিছু কিছু শব্দ ঢুকে রয়েছে। ছড়ির ভেতর লুকোনো গুপ্তির মতো বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে ভাষার এই অস্ত্রটি টেনে বের করত খোকা, চিনির বড়দা। এবং কাজ হতো অব্যর্থ। ওই বিচিত্র বুলি শুনে পথচারীরা দাঁড়িয়ে পড়ত, আর মুণ্ডিতকেশ বিহারিটি কাঁধের গামছা টেনে অসহায় ঘর্মাক্ত মুখমণ্ডল মুছে ভাড়ার পয়সা ট্যাকে গুঁজে ঠুনঠুন ঘন্টি বাজিয়ে চলে যেত।

    মধ্য চল্লিশের খোকাজেঠু যদি হয় রোববারের জমায়েতে প্রবীণতম, তাহলে নিশ্চিতভাবেই কনিষ্ঠতম ছিল সদ্যযুবতী মিঠু, বাপ্পার মিঠুপিসি। তবে ভাইবোনেদের উষ্ণ আলাপচারিতায় হাসি-খুনসুটিতে বয়সের তারতম্য ঘুচে যেত। ছোট্ট বাসায় প্রথমেই শোবার ঘরে খাটটাকে খুলে ফেলা হতো। কাঠের পাটাগুলো এক কোনে দাঁড় করিয়ে গদিটা পেতে দেওয়া হতো মেঝেয়। তার ওপর চাদর ও চাদরের ওপর সানডে স্টেটসম্যান বিছিয়ে মুড়ির পাহাড় আর শিঙাড়া জিলিপি ঢেলে আটদশজন নারীপুরুষ হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে বসে, এ-ওর গায়ে হেলান দিয়ে, এর হাঁটু ওর তাকিয়া বানিয়ে নিয়ে যেন একটিই অখন্ড জীবন্ত দেহ হয়ে উঠত: মুখর, কলোচ্ছল, স্মৃতিভারাতুর।

    এবং অধীর, উন্মুখ–চিনি ও তার কাঁচা সিদলের জন্য।

    অনেককাল পরে সেইসব দিনগুলোর ছবি যখন স্মৃতিপটে ভেসে উঠবে, বাপ্পার মনে হবে অচেতনেই যেন এক শরণার্থী শিবিরের আবহ বানিয়ে তুলত ওরা। তখনও অবশ্য শরণার্থী শিবির ব্যাপারটা যে কী, তা সে জানত না। এমনকি চিনিকাকার নামটা যে চিনি থেকে আসেনি, ছোটোবেলায় চিনাদের মতো চোখ- নাকের জন্য ওই ডাকনামটা সে পায়, তাও জানত না। যৌবনে এসে ছিপছিপে চেহারা, মসৃণ হলদেটে ত্বক আর ঘন উজ্জ্বল চুলের জন্য ওকে বাপ্পার খুব পছন্দ ছিল। পছন্দের আরেকটা কারণ চিনিকাকা বাপ্পার জন্য আনতো শিলং পাহাড়ের মিন্ট চকোলেট। রথীন আর চিনির জন্ম একই বছরে, দুজনে পড়েছেও একই ইস্কুলে। তবে দুজনের স্বভাব ছিল ভিন্ন। রথীন ছিল চুপচাপ আর আত্মমগ্ন ধরনের, অন্যদিকে চিনি সারাক্ষণ হইচই করত। রবিবারের সেই আশ্চর্য দুপুরগুলোয় এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি চড়ে চিনি এসে পড়লেই হুল্লোড়ের হররা ছুটত ২৩/৩ কলুটোলা লেনের বাসায়।

    তবে সেটা কেবলমাত্র চিনির জন্যে নয় অবশ্যই। মহার্ঘ্য্য বস্তুটি আসত স্টিলের কৌটোয়, তিন পরত প্লাস্টিকে মোড়া, যাতে তার বিধ্বংসী পারমাণবিক গন্ধটি চাপা থাকে। সেকালে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানে যে কোনো ধরনের মাছ বহন করা–তা সে জীবিত হোক বা মৃত, অথবা গাঁজানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু চিনি গৌহাটি বিমানবন্দরে চেক-ইন কাউন্টারে এক পাড়াতুতো দাদা খুঁজে বের করে। বাসায় পা রেখে প্রথমেই সে বিজয়ীর ভঙ্গিতে ব্যাগ খুলে স্টিলের কৌটোটা বের করত, এবং একে একে প্লাস্টিকের পরত খুলে যখন জাদুকরের মতো হাতের মোচড়ে কৌটোর ঢাকনা খুলে ধরত, সবাই ওর সামনে এসে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে গভীর আঘ্রাণ নিত–চোখ বোঁজা, ঘাড় বাঁকানো, যেন এক রহস্যময় ধর্মানুষ্ঠানের পুরোহিতদল। ঘরের বাতাস সেই বিচিত্র গন্ধে ভরে উঠত, ওরা সবাই সমস্বরে বলে উঠত ‘আহহহ!’ মুখে ফুটত এক অনির্বচনীয় উদ্ভাস।

    সবাই নয়, বাপ্পা আর শিউলি নয়। যেদিন ওরা প্রথম শিউলিকে কাঁচা সিদলের গন্ধ নেবার জন্য প্ররোচিত করে, সেইদিনটার কথা বাপ্পা কোনোদিন ভুলতে পারবে না। অন্যদের মতো শিউলিও খোলা কৌটোর ওপর মাথা ঝুঁকিয়ে ঘ্রাণ নিয়েছিল মনে আছে, পরক্ষণেই বাথরুমের বন্ধ দরজার ওপাশে থেকে ভেসে আসতে লাগল অসহায় বমি করার শব্দ। বাপ্পা তখন খুব ছোটো, ভেবেছিল মা বুঝি মারাই যাবে। তীক্ষ্ণ আতঙ্ক আর সেইসঙ্গে বাবার ওপর, চিনিকাকার ওপর, মোমবুচানের ওপর, সকলের ওপর খুব খুব রাগ হয়েছিল ওর। তার কারণ ওরা যে শুধু ওর মাকে মেরেই ফেলছিল তাই নয়, সকলে মিলে সেটা উপভোগও করছিল। এমনকি ওর বাবাও।

    তার কিছুকাল পরে, বাপ্পা যখন আরেকটু বড়ো হয়েছে, ওকে কাঁচা সিদলে দীক্ষিত করার ভার নিল চিনি স্বয়ং।

    ‘কাঁচা সিদল মিন্ট চকোলেট নয়, বাপ্পাসোনা। এর খুব নিজস্ব একটা সোয়াদ আছে যেটা তোমায় শিখতে হবে।’

    ভাতের থালার সামনে আসনপিঁড়ি হয়ে বসে বাপ্পাকে কোলে বসিয়ে মিষ্টি স্বরে বলছিল চিনি, ধোঁয়া-ওঠা ভাতে সিদলভর্তা মাখতে মাখতে, যে ভর্তাটা সদ্য কড়া থেকে নামিয়ে শিলে বেটেছে বাপ্পার মোমবুচান। পাকা সিলেটি রাঁধুনি সে, বাসায় পা রেখেই শিউলিকে উৎখাত করে রান্নাঘরের দখল নিয়েছে। অক্লান্ত খুন্তি নেড়ে, স্লিভলেস বাহুতে চর্বির পরতে পালতোলা জাহাজের মতো হিল্লোল তুলে নাগা মরিচ দিয়ে কষে রেঁধে চলেছে বিবিধ দুর্লভ পদ।

    ‘তবে সহজ হতো যদি তুই সিলেটে জন্মাতিস!’ এরপর চিনি বলতে শুরু করত ওদের ছেড়ে-আসা দেশটার কথা, যে দেশটা হিমালয় পাহাড় থেকে নামা নদীনালায় কাটাকুটি সবুজ আর অনন্ত বিলে ছাওয়া, যেখানে শীতকালে উত্তরের দেশ থেকে কমলালেবু রঙের হাঁসেরা উড়ে আসে, আর চেরি ব্লসম জুতোর কালির রঙের পানকৌড়ির দল সারাদিন মাছ ধরে খায়। রাতে বাড়ির লাগোয়া বাগানে ঘুমোতে আসে ওরা, ওদের বিষ্ঠার চুনে গাছের পাতাগুলো রুপোলি রাংতার মতো হয়ে যায়। তারপরে যখন বর্ষা আসে–চিনিকাকা বলে যেত–ঠিক যেন একটা

    অনন্ত জলের মশারি বঙ্গোপসাগর থেকে উড়ে এসে পুরো উপত্যকাটা ঢেকে দেয় তিন-তিনটে মাস। তখন চারদিক সবুজ ভেলভেটের মতো, এমনকি বাতাসেও সবজেটে গন্ধ। আর তখনই সবকটা জলাশয় ভরে ওঠে রাশি রাশি মাছে।

    ‘এত্ত মাছ, বুঝলি বাপ্পা, এত্ত মাছ, তোর মা যদি তখন একবার ওখানকার নদীতে নেমে ডুব দেয়, তোর মায়ের ওই ঘন কোঁকড়ানো চুলের গোছে এত কুচো মাছ জড়িয়ে যাবে যে একটা আস্ত পরিবারের একবেলার ভাত উঠে যাবে!’ এই বলে চিনি শিউলির দিকে এমন করে অপাঙ্গে তাকাতো যে সকলে হো হো করে হেসে উঠত। শিউলি আরক্তিম মুখে ঠোঁট কামড়ে অস্ফুটে বলত–‘কচু পোড়া!’

    ‘সত্যিই অত মাছ!’ দীর্ঘশ্বাস ফেলত চিনি। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় লোকেরা সেই মাছ নুন মাখিয়ে রোদে শুকিয়ে নেয়। শীতে যখন নদীনালা শুকিয়ে আসে, টাটকা মাছের আকাল হয়, তখন ওই শুঁটকি দিয়েই দিন গুজরান হয়। কিন্তু ওই পুবের দিগরে, যেখানে বাপ্পার বাবা-কাকাদের দেশ, মাটি তখনও ভিজে। বাতাসে তখনও জোলো ভাপ। ওখানে তাই লোকেরা রাশি রাশি কুচো চ্যাপা মাছ মেটে হাঁড়িতে ভরে কলাপাতায় মুখ বেঁধে মাটির নীচে পুঁতে দেয়। মাসের পর মাস কাঁঠাল গাছের ছায়ায় ঘেরা ঠান্ডা অন্ধকারে সঞ্চিত থাকে সেগুলো। ওদিকে আকাশ ফের নীল হয়, পাখিরা ফিরে আসে বাগানে, আর মাটির ভাঁড়ারে মজে-ওঠা গুপ্তধন শুষে নিতে থাকে এই সবকিছু–পাতার ফাঁক দিয়ে আসা চাঁদের আলো, শিউলি ফুলের গন্ধ, শীতপাখির ডাক।

    ‘আর তুই যদি এখন পরিষ্কার মন নিয়ে এই গরাসটা মুখে তুলিস,’–ভাতের দলাটা বাপ্পার ঠোঁটের কাছে এনে চিনি বলত–‘তাহলে তুইও সেই চাঁদের আলো আর শিউলির গন্ধ টের পাবি।’

    বাপ্পা ঠোঁট সামান্য ফাঁক করত, ওর নাকে এসে লাগত সিদলভর্তা মেশা উইলস নেভি কাটের গন্ধ।

    বহুকাল পরে প্রৌঢ়ত্বের কিনারায় এসে সেইসব দিনগুলোর কথা ভাবতে বসে বাপ্পার মনে হয়েছে, চিনিকাকা যতটা ওই কথাগুলো বলতে ভালোবাসত, ঠিক ততটাই ভালোবাসত নিজের কন্ঠস্বর শুনতে। সেটা সেইসময় আলাদা করে ঠিক বোঝা যেত না, তার কারণ শিউলি ছাড়া আর সকলে অনর্গল কথা বলত–একে অন্যের কথার পিঠে, কথার বুকে, কথার পেটে, ছুটির ঘন্টা বেজে যাওয়ার পর একঝাঁক কচি ইস্কুল পড়ুয়ার মতো কলকল করে। এবং সিলেটি বুলিতে। জিভের নীচে নুড়ি রেখে কথা বললে ঠিক যেমন শোনায় অনেকটা সেরকম, হাওয়া-ভরা ডিপথং আর গড়ানে ব্যঞ্জনবর্ণের সমভিব্যাহারে।

    এমনকি রথীনও। সপ্তাহের অন্য দিনগুলোয় যে রথীনকে বাপ্পা চিনত, যে রথীন রোজ ফিটফাট হয়ে অফিস যেত কালো ব্রিফকেস নিয়ে, বাড়ি ফিরে কুর্তা- পাজামা গলিয়ে সোফায় বসে খবরের কাগজের কেল্লা বানিয়ে নিত, চারের কাপে চুমুক দিত আর কখনো পা নাচাতো রেডিওয় দেবব্রত বিশ্বাসের কন্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীতে, কখনো হাত বাড়িয়ে টেলিফোন তুলে ধমকাতো অফিসের অধস্তন কর্মচারীকে, বাপ্পার সেই একান্ত চেনা বাবা ওই খালি গায়ে লুঙ্গি পরে মেঝেয় পা ছড়িয়ে বসা, দুর্বোধ্য ভাষায় কথা বলা মানুষটাই কী না, সেটা পরখ করার জন্য সে তার ঘাড়ে উঠতে চাইত, গলার কাছে নাক ঘষে ওল্ড স্পাইস আফটারশেভ লোশনের চেনা গন্ধটা খুঁজতে চাইত। আড্ডায় মশগুল রথীন নিস্পৃহ থাকত, এমনকি ঠেলে সরিয়ে ও দিত। বুঝতে চাইত না শিশুটি অমন আচরণ করছে কোন অস্পষ্ট উৎকণ্ঠা থেকে।

    সেই উৎকণ্ঠা তার মধ্যে চারিয়ে গিয়েছে তার মায়ের থেকে। সিলেটি বুলি আর কাঁচা সিদলে তৈরি কেল্লার বাইরে থেকে যাওয়া, রান্নাঘরের নিজস্ব পরিসর থেকেও উৎপাটিত, শিউলির ছেড়ে-আসা স্বদেশভূমির স্মৃতিবিলাসের সম্বল ছিল না। তার কারণ কলকাতা থেকে ট্রেনে চেপে দু ঘন্টায় সাতগাঁয় চলে যাওয়া যেত।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }