Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৬.১

    ৬.১

    শীতের শেষে রাধারাণী নিউমোনিয়ায় মারা গেলেন। সেবার আলিপুরদুয়ার থেকে কলকাতায় এসে বাপ্পা মায়ের সঙ্গে ওদের বাগবাজারের বাড়িতে গিয়ে জীবনে প্রথমবার অপরাধবোধে আক্রান্ত হলো। কয়েক বছর আগে এক সন্ধ্যায় ওবাড়িতে গিয়ে হুইলচেয়ারটা দেখে বড়ো লোভ হয়েছিল। সেবার রনোমামা ওকে একটি ডিস্কি মোটরগাড়ি উপহার দিতে চেয়েছিল, বাপ্পা নেয়নি। কিন্তু মনে মনে আদিরামের কাছে প্রার্থনা করেছিল, মায়ের কলকাতার পিসি যেন মরে যায় আর হুইলচেয়ারটা ও পায়। তাহলে ওই হুইলচেয়ারে চড়ে ট্রামলাইনের ওপর দিয়ে কলকাতা শহরে ঘুরে বেড়াবে সে। কিন্তু সেদিন ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের কোণে শূন্য হুইলচেয়ারটাকে দেখে, রাধারাণীর ছবির সামনে দাঁড়িয়ে হাত জোড় করে প্রণাম করতে গিয়ে আগেরবার ছবিটায় প্রণাম করতে হেসে উঠেছিলেন, কিন্তু এবার ছবিতে ফুলের মালা পরানো ছিল— গলার কাছে একটা কী যেন দলা পাকিয়ে উঠল। চোখ ভিজে উঠল বাপ্পার। কেউ দেখে ফেলার আগেই জামার হাতায় চোখ মুছে নিল।

    ছেলেদের কাঁদতে নেই। সে এখন বড়ো হয়েছে। আলিপুরদুয়ারে ইস্কুলে যেতে শুরু করেছে।

    *

    মে মাসে বাপ্পার ইস্কুলে ছুটি পড়ার আগেই আলিপুরদুয়ার থেকে রথীনের বদলি হলো বীরভূমের খয়রাশোলে। ততদিনে সেখানে গ্রীষ্মের দাবদাহ শুরু হয়েছে। তার দাপট কমার, এবং আগের অফিসার বাংলো খালি করে দেবার মাঝে মাস দুয়েকের জন্য বাপ্পাকে নিয়ে শিউলি চলে এল কলুটোলা লেনের বাসায়। রথীন সপ্তাহান্তে যাওয়া আসা শুরু করল। এখন বাপ্পার লেখাপড়া চলে মায়ের কাছে। রবিবারগুলোয় বাবার কাছে অঙ্ক শেখা আর সাপ্তাহিক হোমটাস্ক নেওয়া।

    মাঝেমাঝেই তাতে ছেদ পড়ে যায়। আগে শিলং থেকে চিনি এলে সিলেটি গুষ্টির আড্ডা বসতো, এখন শনি-রবিবারে রথীনের কলকাতায় ফেরাটা উপলক্ষ্য হয়ে উঠল। ব্যবসার কাজ নিয়ে শিলং থেকে চিনি এসে পড়লে সেটা আরও জমে ওঠে। বাপ্পার জন্য জেমস অ্যান্ড সন বেকারির মিন্ট চকোলেট আসে, আসে কাঁচা সিদল, জয়ন্তী পাহাড়ের নাগা মরিচ। এছাড়া নানান সুখাদ্যের পসরা নিয়ে আসে খোকাজেঠু, মোমবুচান, মিঠুপিসি, বাবিদাদা ও অন্যান্যরা। ছোটোবেলায় ছেড়ে- আসা, আর কোনোদিন ফিরে যেতে-না-পারা স্বদেশভূমিকে ঘিরে বাবা-কাকাদের জটিল আবেগ আর সাতগাঁ নিয়ে আদিরামবাটির বাসিন্দাদের একেবারে অন্যরকম গর্বের মধ্যে কোথাও যেন একটা তফাৎ রয়েছে, বুঝতে শেখে বাপ্পা।

    রথীন ও চিনির সিলেটে ছেলেবেলার স্বর্ণালি স্মৃতিতে তেমন কোনো অভিজ্ঞতার খাদ মিশে নেই। ওদের মধ্যে সবচেয়ে ছোটো মিঠুর আবছা পারিবারিক স্মৃতির বাইরে কিছুই নেই। কেবলমাত্র খোকার কিছুটা বিস্তৃত চেনাজানা রয়েছে, পরিবারের গন্ডির বাইরে সমাজটা কীভাবে বদলে যাচ্ছে সে সম্পর্কে ধারণা রয়েছে। গৌহাটিতে চলে যাবার পরেও সিলেটে থেকে যাওয়া পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে সে। কলুটোলা লেনের আড্ডায় খোকা জানায় ওদের পুরোনো পাড়ার লোকজনেরা কেমন আছে। আলতাফের পরিবার বংশ পরম্পরায় ওদের পারিবারিক নৌকার মাঝি ছিল, ঘোড়ার গাড়ির কোচোয়ান ছিল। তারা এখন আপিসে চাকরি করছে, ছেলেমেয়েরা ইস্কুলে যাচ্ছে। এছাড়া শ্রীহট্ট শহরে নতুন নতুন পাকা বাড়ি হয়েছে, নর্দমা হয়েছে, তৈরি হয়েছে ওসমানি মেডিকেল কলেজ…

    শুরু হয় এক বিচিত্র স্মৃতির খেলা: কোনো একজন পরিচিতের নাম, তাকে কেউ চিনতে না পারলে তার কোনো আত্মীয়ের নাম, তার কোনো আত্মীয়ের আত্মীয়ের নাম… কোনো একটি বিশেষ ঠিকানা, সেই ঠিকানাটিকে চিহ্নিত করার জন্য একটি গলি, একটি রাজপথ, সুরমা নদীর ওপর একটি সেতু, একটি ফেরিঘাটের কথা বলতে বলতে, স্মৃতির ঝাঁপি হাতবদল করতে করতে ক্রমশ ফুটে ওঠে এক অলীক শহরের মানচিত্র, তাতে জড়িয়ে থাকা স্মৃতির গলিপথ, বাড়ি, চেনা আধোচেনা মানুষের বংশলতিকা পাটে পাটে খুলে আসতে থাকে কলুটোলা লেনের অপরিসর মেঝের ওপর। হাত-পা-ছড়িয়ে এ-ওর-গায়ে-ঠেস দিয়ে থাকা সাত-আটজন তরুণ নাতি-তরুণ নারীপুরুষের ওপর দিয়ে বইতে শুরু হয় নদী, নদীর ওপরে পাখির ছায়া, ছায়ার ওপর দিয়ে খাসি পাহাড়ের হিমেল বাতাস।

    একটি পোস্টকার্ডের কথা ঘুরেফিরে আসে। পূর্বজ সাতপুরুষের– এবং নারীর— নামের তালিকা সংবলিত সেই পোস্টকার্ডটা সিলেট থেকে এসেছিল কলকাতায় ২৩/৩ কলুটোলা লেনের ঠিকানায়। এক বাঙাল যুবক ও এক ঘটি তরুণী যেদিন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলো তার ঠিক আগের দিন। ছেলেটি ইতিহাসের মহাপ্লাবনে ভেসে এসেছিল শহরে, মেয়েটির পরিবার পৌরাণিক কাল থেকে শিকড়ে-গাঁথা ছিল সাতগাঁর দোয়াবে। একজন পূর্ববঙ্গীয় শাক্ত বংশের, অপরজন রামের উপাসক কনৌজিয়া ব্রাহ্মণ বংশের। সেই বিবাহ প্রত্যয়িত হয়েছিল শাক্ত কিংবা বৈষ্ণব আচার মেনে নয়, চিকিৎসাশাস্ত্রের একটি বিশেষ ধারায়, যার নাম হোমিওপ্যাথি।

    কলুটোলা লেনের সেই গুষ্টিসুখের রবিবারগুলোয় দীর্ঘ সময় ধরে বিবিধ পদ সহযোগে ভোজনের শেষে যখন বিরান চালের আঠালো ভাত আর গাঁজানো সিদলের প্রভাবে মিঠে নেশার মতো আবুলি জড়িয়ে আসে, যখন জানলার বাইরে পাশের বাড়ির দেয়ালে দিনের আলো মরে আসে, দুঃখ-সুখের স্মৃতির হরতন ইস্কাবনগুলো হাতবদল হতে হতে মলিন ঝাপসা হয়ে নেতিয়ে আসে, তখন সেই পোস্টকার্ডের প্রসঙ্গ ওঠে।

    ‘হ্যাঁ, অই পোস্টকার্ড!’ খোকা বলে, ঠোঁটে বিচিত্র রহস্যের হাসি। এরপর সে তার নিজস্ব ভঙ্গিতে গোড়া থেকে বলতে শুরু করে কীভাবে লগ্নপত্রের দিন বিবাহের আনুষ্ঠানিক ক্রিয়াকর্ম কী কী শাস্ত্রাচার মেনে হবে সেসব নিয়ে যখন কথাবার্তা হচ্ছে, সেই সময়— ‘বাজ পণ্ডিত’ রামরাম শাস্ত্রী মশাই— ঘন ভুরুর নীচে তীক্ষ্ণ শ্যেনদৃষ্টিতে তাকিয়ে জানতে চাইলেন

    ‘তা পাত্র বাবাজীবনের পূর্বতন পাঁচ পুরুষের নামের তালিকা?—’

    ‘পাঁচ পুরুষের নামের তালিকা?’ রথীনের অগ্রজের এক গাল মাছি।

    ‘ওটি তো লাগবেই,’ মশাই বাঁকা হাসি হেসে বলেছিলেন। ‘ওটি ছাড়া যে সম্প্রদানের আগে আভ্যুদয়িক হবে না।’

    ‘আমি মনে মনে কইলাম, আছুদার মাত হুন! দুই নয় তিন নয়, পাঁচ পুরুষ!’ খোকা বলে। ‘বাবা সেজকাকিমা কেউ দুতিন পুরুষ আগের ঠাকুদ্দা ঠাকমার নাম জানে না, তয় বলে কী না পাঁচ পুরুষ! একটা লাল খেরোর খাতায় কুলজি লেখা থাকত, ছেলেবেলায় দেখসি। কিন্তু ওসব তো দেশ ছাড়ার সময়ে ফেলে আসা হয়। আউকাল করসে! এহন কী করি? বাজ পণ্ডিতের যা মেজাজ, নামের লিস্টি না ধরাই দিতে পারলে বেঠাটার বিয়াই না ভেঙে যায়। তো ছাড়লাম দেশের বাড়ির পুরুত ভশ্চাজ ঠাকুরকে চিঠি। ভশ্চাজটা একটু উদ্বুহুছু টাইপ, বিয়ের দিন আসি আসি করে রিপ্লাই আর আসে না। আমার হাল বুঝছ তো, এক্কেরে লাউয়া লাউয়া। শ্যাষকালে বিয়ার ঠিক আগের দিন……

    ‘পাকিস্তান থিক্যা রিপ্লাই আইল,’ রুপু ডিবে থেকে পানের খিলি মুখে গুঁজে বলে।

    ‘পাকিস্তান না, তহনও ইস্টবেঙ্গল!’ খোকা শুধরে দেয়। ‘দেশ ভাগ হয়েসে, পোস্টাল সার্ভিস বেহাল। তার ওপর ব্যাটা ভশ্চাজ ঠাকুর পোস্টকার্ডে নামের লিস্টি লিখে বাক্সে ফেলসেন, কিন্তু এমন চুকুমবুদাই যে হালায় স্ট্যাম্প সাঁটেননি।’

    ‘সে যাইহোক, ঠিক সময়ে তো পোস্টকার্ড এল,— মিঠু বলে-–’ রথিদার বিয়াও মিটল!’

    ‘এবং গুঁয়ারা সুখে শান্তিতে বাস করিতে লাগিলেন,’ চিনি বলে।

    ‘ছোট্‌টা বড়ো বিতলা!’ চিনির পিঠে চাঁটি মেরে মোমবুচান বলে, তারপর বাপ্পাকে ডেকে— ‘অ ডিমপোনা, আমার পিঠটা এট্টু চুলকে দে না বাপ।’

    ‘কিসসা অহনও শেষ নয়।’ খোকা ইস্কাবনের টেক্কা হাতে চেপে রাখার মতো চোখ করে বলে। ‘রথির বিয়ার দুই মাস হইসে, পল্টনবাজারে সিলেটের এক গাউয়া পুঙ্গার হঙ্গে দেখা। সে ব্যাটায় কয় কি পুরুত ভশ্চাজ তো কবেই ওলাউঠায় মরসে, বছর ঘুরে গেসে।’

    ‘তার মানে?’ মিঠুর ভ্রূ কুঞ্চিত হয়। ‘চিঠিটা তবে লিখল কে? ভশ্চাজের পোলা?’

    ‘উঁহু!’ খোকা গম্ভীরভাবে মাথা নাড়ে। ‘ওই হাতের লেখা আমার ভুল অইব না। আমার পৈতার সময় ভশ্চাজ একখান খাতায় গায়ত্রী মন্ত্র লিখে দিসল, সেই খাতা এহনও আছে।’

    ‘তাইলে? ওই পোস্টকার্ড কেডায় লিখল, বড়দা?’ মিঠু চোখ গোল গোল করে তাকায়।

    খোকা মুখে রহস্যের ছমছমে অভিব্যক্তি করে অসহায় ঠোঁট ওল্টায়। দিনের আলো ফুরিয়ে আসছে, ঘরের ভেতরে ঘনায়মান ছায়া আর আলো জ্বালানোর মধ্যবর্তী এই প্রহরে বুঝি এর বেশি কিছু বলতে যাওয়া সমীচীন নয়।

    ‘এ বড়ো অসৈরণ!’ বলে মিঠু ফেরে চিনির দিকে। চিনিও মুখে উপযুক্ত রহস্য ফুটিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে এমনভাবে চেয়ে থাকে যেন ঘরের বাতাসে সেই পোস্টকার্ডটা রহস্যময়ভাবে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। এরপর মিঠু রথীনের দিকে ফিরে বলে,— ‘পোস্টকার্ডটা এখন কোথায় আছে, রথিদা?’

    ‘ভ্যানিশ করে গেছে,’ চিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে।

    ‘মোটেই ভ্যানিশ করেনি! ওটা যত্ন করে রাখা আছে, বাপ্পার পৈতের সময়ে ঠিক বের করা হবে!’ শিউলি মিঠুর দিকে ফিরে আশ্বাসের হাসি হাসে, তারপর উঠে সুইচ টিপে ঘরের আলো জ্বেলে বলে—

    ‘সবাই চা খাবে তো এবার?’

    বাপ্পার পৈতের সময়ে অবশ্য সেই পোস্টকার্ডের কথা কারোর মনে ছিল না, মৃত্যু শিউলির দরজায় কড়া নাড়ছে তখন। কিন্তু সে পরের কথা, মি’লেডি।

    *

    পৃথিবী গ্রহটা অসীম ব্রহ্মান্ডে তার নিজস্ব কক্ষপথে যাত্রা করছিল। এই গ্রহের এক কোণে মৎস্যাকৃতি নদীবিধৌত চরভূমির ওপর দেশলাই বাক্সের ছোটো রেলগাড়ি, পোর্সেলিনের গির্জা আর পোড়ামাটির বাউলের জগতে দুই সদ্য বালকবালিকা, সম্পর্কে তারা তুতো ভাইবোন, এই মহাজগতের অভিযাত্রিক। ইতিমধ্যে সেই বালিকা কোয়ার্সভিলে সিস্টার্স দ্য ক্লুনি কনভেন্ট স্কুলে ভর্তি হয়েছে। সাদা শার্ট, হাঁটুর ওপর নীল স্কার্ট, নেকটাই পরে, নীল রিবনের প্রজাপতি-তোলা দুটি সরু বিনুনি পিঠে ঝুলিয়ে ইস্কুলে যায়। আদিরামবাটির অন্যান্য মেয়েদের মতো তাকে নিকটবর্তী সাতগাঁ আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগে না পাঠিয়ে ফরাসী সন্ন্যাসিনীদের ইস্কুলে ভর্তি করাটা তার বাবা-মায়ের তরফে, বিশেষত মায়ের তরফে, একটা ছোটোখাট বিদ্রোহ।

    প্রতিদিন সকালে বাবার সঙ্গে WLA 45 মডেলের ৪০০ সিসি এয়ার কুলড ইঞ্জিনের হার্লে ডেভিডসন চড়ে ইস্কুলে যায় তিতলি। ওকে সাজিয়ে গুছিয়ে মোটরবাইকের সিটে বসিয়ে দেবার সময়ে নতুনবউ হাত নেড়ে বলে—’টাটা! অভ্যোয়া!’

    অ্যান্টনি বলে–‘টাটাটাটাটাটা…ট্‌শাও!’

    কুয়োতলায় বামুনদি কপিকলে জল টানার ক্যাচক্যাচ শব্দে স্বগতোক্তি মিশিয়ে দিয়ে বলে–‘এখন ভটভটি হাঁকিয়ে ইস্কুলে যাচ্ছেন এরপর মোটরগাড়ি হাঁকিয়ে কালেজ যাবেন কলকেতার মাগীদের মতো!’

    বসন্তর অফিসের পথেই তিতলির ইস্কুল। সাতগাঁর পূর্বদিকে হুগলি নদীর পাড় বরাবর রাস্তাটার নাম কে যে রেখেছিল রু দ্য সওদাদ। সেই রাস্তা ধরে একে একে পোর্তোঘাটা, আর্মানিডাঙা, ওলন্দাজডাঙা, দিনেমারডাঙা পেরোলে চাঁদেরডাঙা- কোয়ার্সভিলের সীমানা। উঁচু পাঁচিল ঘেরা সিস্টার্স দ্য ক্লুনি কনভেন্টটা স্ট্র্যান্ডের ধারেই। পরপর গীর্জা, ট্যাভার্ন, ঘড়িঘর আর ফরাসি ইন্সটিটিউট, বসন্তর অফিস, এককালে ছিল ফরাসী গভর্নরের বাংলো। তিতলিকে ইস্কুলে নামিয়ে দিয়ে ইন্সটিটিউটে যায় বসন্ত, ইস্কুল ছুটির পর অফিসে লাঞ্চ আর সিয়েস্তার দীর্ঘ অবসরে মেয়েকে ফের বাড়িতে দিয়ে আসে। মাঝেমাঝে ইস্কুল ছুটির সময় অফিসের বেয়ারা গিয়ে তিতলিকে নিয়ে আসে, বসন্ত তাড়াতাড়ি কাজ গুটিয়ে ওকে নিয়ে বাড়ি ফেরে।

    .

    খয়রাশোলে গিয়ে নতুন ইস্কুলে ভর্তি হয়েছে বাপ্পা। কিন্তু গ্রীষ্মের শেষেও সেখানে প্রবল জলাভাব, ইস্কুলে ছুটি প্রলম্বিত হলো। অনেক দিন পরে বাপ্পা মায়ের সঙ্গে সাতগাঁয়ে এসে থাকতে শুরু করল।। তিতলির ইস্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি পড়ে যায় আগে, খুলেও যায় আগে। কনভেন্টে ফরাসী সন্ন্যাসিনীরা বেশিরভাগই দেশে ফিরে গিয়েছে রেফারেন্ডামের পর, তাদের জায়গায় এসেছে কেরালা মিশনের ক্যাথলিক নানরা। গ্রীষ্মে তারা নিজেদের গ্রামদেশে ফিরে যায়, মালাবার উপকূলে বর্ষা ঢোকার সঙ্গে তাল রেখে ছুটির নির্ঘন্ট তৈরি হয়। সুদূর দক্ষিণ থেকে ভারতের বদ্বীপভূমি পার হয়ে বাংলায় বর্ষা আসার মাঝে তপ্ত গ্রীষ্মের দিনগুলোয় হাফছুটি হয়ে যায় তিতলির স্কুলে।

    এতদিনে হার্লের পিঠে চড়ার সুযোগ এল বাপ্পার। কতকাল ধরে কল্পনা করেছে, সেও একদিন হার্লের বাঁকানো শিং মুচড়ে ধরে ওর পিঠে চেপে বসবে বসন্তমামার মতো, কামানের মতো তোপ দাগতে দাগতে ছুটবে হার্লে, পেট্রোলের মিষ্টি ধোঁয়ায় ভরে উঠবে চারদিক, বসন্তমামার মতো বিকেলে অফিস ফেরত হার্লের গ্লাভবক্স থেকে বেরোবে হাতেগরম ফ্রেঞ্চ লোফ, চিনির গুঁড়ো মাখানো কোয়াসঁ, যা দিয়ে বাপ্পার শৈশব কল্পনার কোয়ার্সভিলের বাড়িঘর গির্জা হাসপাতালগুলো তৈরি।

    সেই শৈশবকালটা, টোকো দুধ আর জনসন বেবি পাউডারের গন্ধের সেই জগত্‍টা, যার মধ্যে এখন রয়েছে তিতলির ভাই রামকানাই, মনে হয় যেন কতকাল আগে ছেড়ে এসেছে। তখন বাপ্পা আর তিতলিকে চিন্তামণির পিঠে বসিয়ে বাগানো ঘোরাতো গামা।

    ইতিমধ্যে চিন্তামণি আরও বুড়ো আর বেতো হয়েছে, তার মেজাজমর্জি খোকাজেঠুর ভাষায় যাকে বলে— ‘মুড়াহুরইনদিয়া’। বসন্তমামার হার্লেও বুড়ো, রোজ সকালে তাকে লাথি মেরে মেরে জাগাতে হয়। তার পরেও প্রায়ই গামাকে পেছন থেকে ঠেলে গলির মুখ পর্যন্ত ছুটতে হয়, যতক্ষণ না ইগনিশান লাগে। নিলামে কেনার সময়ে চালকের পেছনে যাত্রীর সিট ছিল না, বসন্ত পোর্তোহাটার গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে বসিয়েছে। তাছাড়া সামনের মাডগার্ডের পাশে রাইফেল রাখার গান ব্র্যাকেট সামান্য অদলবদল করে জিনিসপত্র রাখার মতো হয়েছে। তাতে তিতলির ইস্কুলের ব্যাগ থাকে, কখনো অফিস-ফেরতা চাষিদের হাট থেকে আনা নধর সবুজ শাকপাতা থাকে—যতটা না স্বাদের জন্য, তার চেয়েও বেশি বসন্তর নাছোড় কোষ্ঠবদ্ধতার তাড়নায়। যে গানব্র্যাকেটে একদা ইনফ্যান্ট্রির মেশিনগান থাকত, সেখানে উঁকি দেয় সদ্যতোলা কচুর ডাঁটা, কখনো শালুক, তার গা থেকে জল ঝরে আর গোলাপি আধফোটা ফুলগুলো দোলে। এদিকে চালকের পেছনে শালুক ফুলের মতো দোলে দুই সদ্যবালক-বালিকার হাস্যোজ্জ্বল মুখ।

    বাবা আর বাপ্পাদাদার মাঝে বসে তিতলি বাবার ভুঁড়ির বিষুবরেখা বরাবর হাতদুটো জড়িয়ে ধরে, ছোট্ট হাত অপর গোলার্ধে বেশিদূর পৌঁছয় না। ওর পেছনে পা ঝুলিয়ে বসে বাপ্পা মরীয়া খামচে ধরে থাকে বসন্তমামার ট্রাউজার্সে সাসপেন্ডার বেল্টের নীচের দিকটা। সকাল বিকেল পথচারীরা দেখে এক মোটাসোটা লোক ও দুই ছোট্ট রোগাপাতলা ছেলেমেয়ে একটি লজঝড়ে জলপাই-রঙা ভটভটি চেপে বিকট শব্দ করে চলেছে। লোকটির মাথায় চামড়ার হেলমেট, চোখে গগলস্‌, মেয়েটির পরনে সাদা-নীল স্কুল ইউনিফর্ম, মাথার পেছনে জোড়া বিনুনি উদ্বুত্তু মাছের মতো উড়ছে, ছেলেটার নাকে লেগে সুড়সুড়ি দিচ্ছে। যত সে হেঁচে উঠছে, ততই দুজনে বেদম হেসে উঠছে, হেসে গিয়ে পড়ছে চালকের পিঠে।

    এমনিতে রু দ্য সওদাদের দুপাশে হাসির উপকরণের অভাব নেই। ভটভটির প্রবল শব্দে পথের ধারে গরুবাছুর ধেই ধেই করে নেচে উঠছে, খোঁটা উপড়ে পালাচ্ছে, ধুতি-পরা পথচারী ছিটকে সরে যেতে গিয়ে কাছা খুলে যাচ্ছে, হুগলি খালে ব্রিজের আগে লেবেল-ক্রসিং পড়ে গিয়ে সোয়া আটটার বন্দর-হুগলি লোকালের লাল-কালো ইঞ্জিন আর সবুজ তিনটি কামরা চলে যেতে যেতে সাদা পোশাকের গার্ড সাহেব ব্যাকুল মুখে দেখছে, পাদানিতে কাদামাটি-মাখা ছেলের দল মোটরবাইক ও তার আরোহীদের দেখে অঙ্গভঙ্গি করছে। প্রত্যুত্তরে ওদের জিভ ভেঙিয়ে কাঁচকলা দেখায় বাপ্পা, আর তিতলি হাতদুটো কানের ওপর শিঙের মতো তুলে চিৎকার করে ওঠে— ‘ম্যার্দ! ম্যার্দ!’

    ট্রেনের শব্দ, হার্লের শব্দ ছাপিয়ে চামড়ার শিরস্ত্রাণ ফুঁড়ে কথাগুলো বসন্তর কানে পৌঁছচ্ছে কি না, পৌঁছলে সে কন্যার ইস্কুলে নবলব্ধ ভাষাজ্ঞানে গর্বিত কি না মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই। তার কারণ রাস্তাটা এবার ঢালু দিয়ে বাঁক হুগলির পাড় ধরে চলেছে। বাঁদিকে জলের ওপর জেলেদের নৌকা, ডানদিকে প্রাচীন ক্ষয়াটে ভিলাগুলো, তাদের ভূমধ্যসাগরীয় স্থাপত্যশৈলী, খসে-পড়া পঙ্খের কাজ, গায়ে ঝাপসা প্যাস্টেলের রঙ, বাগানে বন্য বোগেনভেলিয়ার ঝাড় পেরিয়ে একের পর এক একদা ফিরিঙ্গিদের ডাঙার ফটকগুলো পার হয়ে যেতে যেতে তিতলির দেখাদেখি বাপ্পাও ছড়া কাটার মতো করে বলে উঠবে— ‘আর্মানিডাঙা! ওলন্দাজডাঙা! দিনেমারডাঙা!’ আর প্রতিটি ফটকের নীচে পাতা লোহার শিকের ওপর দিয়ে বাইকের চাকা যাবার সময় বসন্তর পেটটা থরথর করে কেঁপে উঠবে, আর ওদের দুজনেরও নাড়িভুঁড়ি কিলবিল করে উঠবে, খিলখিল করে হেসে উঠবে ওরা, আর তিতলি ঘাড় ঘুরিয়ে বিজ্ঞের গলায় বাপ্পাকে বলবে, শিকগুলো কেন পাতা রয়েছে জানিস বাপ্পাদাদা? –‘কেন রে’–যাতে এক ফিরিঙ্গিডাঙার গরু ছাগল কুকুর অন্য দেশের ডাঙায় যেতে না পারে, তার কারণ শুধু মানুষ নয়, যা কিছু জ্যান্ত সেই সেই দেশের আইনের আওতায়, যে আইনগুলো সব আলাদা আলাদা, কোথাও ভটভটি এসে রাস্তার লোককে ধাক্কা দিয়ে মেরে ফেললে অপরাধ সেই লোকের, আর সেইজন্যেই ওদের দেখে লোকজন ছিটকে সরে যাচ্ছে, কারণ হার্লের ধাক্কায় যদি কোনো লোক মরে যায় তাহলে তাকেই পুলিশকে ফাইন দিতে হবে আর তাকেই জেলখানায় যেতে হবে, এমনকি মরার পরেও, আর সবাই মরার থেকেও জেলখানাকে বেশি ভয় পায়, তাই পালাচ্ছে।

    এভাবেই ওরা পৌঁছে যাবে কোয়ার্সভিল। ইস্কুলের গেটের বাইরে এক ঝাক পড়ুয়ার মাঝে সাদা-গাউন-নীল-ঘোমটা পরা সন্ন্যাসিনীরা, কচি কন্ঠের কলকলানির ভেতর পাঁচিলের ওপাশে চ্যাপেলের অভ্যন্তর থেকে ভেসে আসে গভীর অর্গ্যানের ধ্বনি। তিতলিকে নামিয়ে বসন্ত এরপর বাপ্পাকে নিয়ে চলে আসবে ইন্সটিটিউটে। বাগানের মাঝে থামে ঘেরা ভিলা প্যাটার্নের বাড়িটায় একদিকে মিউজিয়াম, বিগত শতকের বিবর্ণ পত্রপত্রিকা আর জার্নালের আর্কাইভ, আরেকদিকে ক্লাসঘরে বিশীর্ণ বৃদ্ধা মাদাম নেলিন বিভিন্ন বয়সের একদল ছাত্রছাত্রীকে ভাষাশিক্ষা দিচ্ছেন। মাদাম নেলিনের ন্যাশপাতির মতো ত্বক, রেফারেন্ডামের পরেও আবুলির টানে থেকে গিয়েছে যারা তাদের একজন; নকল দাঁত সামলিয়ে পাখি-পড়ানোর মতো বলে চলেছেন,— ‘স্যোঁ শা শ্যাঁটে সা শ্যঁসঁ’ (son chat chante sa chanson)। বারান্দার এপাশে পর পর ঘরগুলোয় পুরোনো দিনের ধুলো পড়া আসবাবপত্র মিউজিয়ামের তালিকাভুক্ত নয়, শেলফে টেবিলে মেঝেয় ছড়িয়ে আছে।

    প্রথমদিন এই বাড়িটায় বাপ্পাকে এনে বসন্ত বলেছিল–‘এখানে তুই ইচ্ছেমত যেখানে খুশি ঘুরে বেড়াতে পারিস, যে কোনো ঘরে ঢুকতে পারিস। কিন্তু মনে থাকে যেন, জোরে শব্দ করবি না, কোনো জিনিসে হাত দিবি না, একটা ধুলোর কণাও যেন না সরে। ইচ্ছে হলে বাগানে গিয়েও খেলতে পারিস।’

    ভবিষ্যতের ভূতের মতো বাপ্পা পা টিপে টিপে ঘুরে বেড়ায় সেই ঘরগুলোয়, যেখানে বাতাস শাকম্ভরী দেবীর অন্তর্জলী-ফেরা নিশ্বাসের মতো গন্ধে ভারি, এতই প্রাচীন যে তার মরার সময়ও পার হয়ে গিয়েছে যতক্ষণ না তিতলি ইস্কুল থেকে এসে যোগ দেয়, আর দুজনে মিলে সাহস সঞ্চয় করে ছায়াচ্ছন্ন ঘরগুলোয় ঢুকতে পারে। কোয়ার্সভিলের গভর্নরের ব্যক্তিগত কক্ষে মোটা মোটা থামওয়ালা খাট, ওপরে ঝুলছে বেত-কাপড়ের পাঙ্খা, দেয়ালে জলরঙে আঁকা বিলিতি নদীর ছবি, র‍্যাকে বিভিন্ন আকারের বন্দুক, ওয়ার্ডরোবে সোনালি ট্যাসেল দেওয়া সবুজ মেরুন ভেলভেটের কোট আর ব্রিচেস বিবর্ণ হয়ে এসেছে।

    রোদের তাপ পড়ে এলে বসন্ত অফিস ছুটি করে বেরিয়ে পড়ে ওদের নিয়ে। ফিরতি পথে তিতলির আবদারে থামতেই হয় ঘড়িঘরের পাশে সার্কাস বেকারিতে, যেখানে উষ্ণ কোয়ার্স কিংবা স্ট্রবেরি টার্ট আর বাধ্যতামূলক আইসক্রিম সোডার পর ফের যখন ওরা হার্লের পিঠে, ততক্ষণে স্ট্র্যান্ডে ভিস্তিওয়ালারা জলছড়া দিয়েছে, গরম ধুলোর ভাপ উঠছে, হকারেরা কুলফি, ঘটিগরম আর ভুট্টাপোড়ার পসরা নিয়ে বসতে শুরু করেছে, একজন দুজন করে বৃদ্ধ ফিরিঙ্গি দম্পতি যাঁরা এখনও মনে করেন ফরাসী কোয়ার্সভিলেই আছেন— ততোধিক বৃদ্ধ কুকুরের পিছু পিছু লাঠি ঠুকঠুক করে ব্যোয়া-দু-ভয় (হাওয়া খেতে) বেরিয়ে পড়েছেন। গির্জার সামনে পাথরে বাঁধানো চত্বরে ঝাঁকে ঝাঁকে পায়রার নীলচে ধূসর ঢেউয়ের বিক্ষোভে পালতোলা জাহাজের মতো দুই নীল-সাদা গাউনের সন্ন্যাসিনীকে হেঁটে যেতে দেখে তিতলি চিৎকার করে উঠবে— ‘বনাপ্‌ফেমিদি সিস্টার আনা মারিয়া!’

    ‘বনাপ্‌ফেমিদি সিস্টার জুলিয়া!’ কুলফিওয়ালা ভুট্টাওয়ালাকে দেখে বাবার পিঠের সাসপেন্ডার বেল্ট টেনে বলে উঠবে,— ‘বাবা- কুলফি খাবো!’

    ‘বাবা-ভুট্টা-খাবো!’ বসন্ত কর্ণপাত না করে স্ট্র্যান্ড ছাড়িয়ে রু দ্য সওদাদ ধরে পড়ন্ত রোদে রুপোগলানো হুগলি নদীকে ডান দিকে রেখে, বুনো বোগেনভেলিয়ায় ছাওয়া বিবর্ণ ভিলাগুলোকে বাঁদিকে রেখে, একে একে ফিরিঙ্গিডাঙার ফটক পেরিয়ে চড়াই বেয়ে লেবেল ক্রসিং পেরিয়ে নির্জন শিরিষ আর বুনো আমগাছে ছাওয়া কেরেস্তান গোরস্তানের ধারে এসে থামবে, কারণ দিনেমারডাঙা ছাড়ানোর পর থেকেই তিতলি বলতে শুরু করে দেবে— ‘বাবা পিপি! বাবা পিপি!

    নিরুপায় বসন্ত হার্লের ব্রেক টিপে দাঁড় করাবে কিন্তু ইঞ্জিন বন্ধ করবে না। তিতলি জনহীন পথের পাশে উবু হয়ে স্কার্টের পেছনদিকটা দুহাতে ছাতারে পাখির ডানার মতো মেলে ধরবে, হার্লে থেকে নেমে বসন্তর মনে পড়বে তার নিজেরও রাস্তার পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন, রাস্তার অন্যপারে, লানটানা ঝোপের দিকে মুখ করে কাঁধের থেকে সাস্পেন্ডার বেল্ট কোমরের দুপাশে ঝুলিয়ে। এবং তখনই মামার পাশে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে বাপ্পাও ওর প্যান্টুলের বোতাম খুলবে।

    সাস্পেন্ডার বেল্ট কাধে তুলে ট্রাউজার্সের বোতাম লাগাতে যতক্ষণ লাগে, হার্লের ইঞ্জিনের শব্দ শুনশান ঝিঁঝিডাকা কেরেস্তান গোরস্তানে স্বাভাবিক কান- সওয়া ধ্বনি হয়ে উঠতে যতক্ষণ লাগে, ততক্ষণে তিতলি আর বাপ্পা কবরখানার শ্যাওলাকীর্ণ ওবেলিস্কগুলোর মাঝে লজ্জাবতী লতাগুলোকে পর পর ছুঁয়ে কুঁকড়িয়ে দিতে দিতে একদিন বিকেলে সৌধের আড়ালে গিয়ে দেখল এক ফিরিঙ্গি সাহেব। ভাঙা শ্যাওলাকীর্ণ থাম আর গম্বুজের ছায়া থেকে তাকে আলাদা করা যায় না, গোটা দেহের চামড়া ভয়ঙ্কর রকমের কুঁচকে গিয়েছে, পরনে ফরাসি ইন্সটিটিউটে সেই ওয়ার্ডোবে ঝুলন্ত পোশাকের মতো ব্রিচেস আর টিউনিক, কাঁধের জায়গায় শুকনো পাখির বিষ্ঠা লেগে আছে, মাথায় ভেলভেটের তেকোনা রঙজ্বলা টুপি। গম্বুজের দেয়ালে কপাল ঠেকিয়ে হেলে দাঁড়িয়ে আছে লোকটা, ব্রিচেস নামানো। তলপেটের নীচ থেকে সাপের মতো লম্বা গোলাপি অঙ্গ ধরে টানছে প্রাণপণে, যেন ওটা পেট থেকে ছিঁড়ে ফেলবে। দৃশ্যটা দেখে বাপ্পা তিতলি দুজনের কেউই ভয় পেল না। মনে হলো কোনো কঠিন অসুখ করেছে মানুষটার। গম্বুজের দিকে ফেরানো মুখটা পেছন থেকে যতটুকু দেখা যায় মনে হয় যন্ত্রণায় ক্লিষ্ট, কাদছে, মনে হয় এক্ষুণি বুঝি মারা যাবে। আর তাই ওরা ছুটে রাস্তায় উঠে গিয়ে বসন্তকে দৃশ্যটার বর্ণনা দিতেই এক বিচিত্র কাণ্ড করল সে— দুই ঝটকায় পর পর ওদের ওদের দুজনকে হার্লের পিঠে তুলে নিজে চড়ে বসল, আর তীব্র গতিতে হার্লে ছোটালো সাতগাঁয়ের দিকে।

    সেদিন রাতে দিদার কাছে শুয়ে গল্প শোনার ফাঁকে তিতলি অদ্ভুত ঘটনাটার কথা ফাস করে দিল। পরদিন সকালে সরোজা বসন্তকে আড়ালে ডেকে বকুনি দিলেন।

    ‘বলিহারি তোর আক্কেল! বাচ্চাদুটোকে অমন জায়গায় বিকেলের অলক্ষুণে পহরে ছেড়ে দিয়েছিলি?’

    ‘ম্যের্দ!’ বসন্ত বলল— ‘কেরেস্তান গোরস্তানের ফিরিঙ্গিগুলো কবেই মাটি হয়ে পাদরি আমগাছের সার হয়ে গ্যাছে। কে জানত!

    আর কোনোদিন তিতলি-বাপ্পাকে নিয়ে ওই জায়গাটা পেরোনোর সময় থামেনি বসন্ত, হার্লের হর্ন বাজাতে বাজাতে গিয়েছে, যদিও রাস্তার ওই অংশে বিকেলের ওই সময়ে জনমনিষ্যি দেখা যায় না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }