Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৯.৬

    ৯.৬

    তিরিশে জ্যৈষ্ঠ দুপুর সোয়া দশটায় পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। সাতগাঁর গ্রহবিপ্ররা গণনা জানালেন, ওইদিন কলিযুগ শেষ হবে। একে গ্রহণ তায় যুগের ক্রান্তি, ঠিক কী যে ঘটতে চলেছে কেউ জানে না। সকলে গভীর দুশ্চিন্তা নিয়ে গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হতে লাগল। পানাহার মলমূত্র ত্যাগ থেকে শুরু করে আবশ্যক যা কিছু আগেভাগে সেরে নেওয়া হল। রান্নাঘরে বাসি খাবার পানের জল ফেলে দিয়ে উনুন নিকোনো হলো, মন্দিরে পুজোপাট সারা হলো। বাইরের কাজ সেরে নিয়ে সকলে ঘরে ঢুকে জানলা-দরজা বন্ধ করে দিল। বেলা দশটার আগেই পথঘাট হাট বাজার সব শুনশান, যেন মারীজব্দ নগর। গ্রহণকালে বিভিন্ন মহাজাগতিক অপশক্তির তরঙ্গ বাতাসে প্রবাহিত হয়, যার সংস্পর্শে এলে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে, গর্ভবতী নারী ও গবাদি পশুদের বিকলাঙ্গ জাতক হয়। আর এবারে তো একেবারে যুগাবসান! সাবর্ণ পাড়ার লোকজন বাড়ির ভেতর সেঁধিয়ে গিয়ে দুরু দুরু বুকে ইষ্টনাম জপতে লাগল। কেউ কেউ এমনকি যতদূর সম্ভব শ্বাস বন্ধ করে রাখার চেষ্টা করল, যাতে প্রশ্বাসের সঙ্গে অনিষ্টকারী তরঙ্গ দেহে না প্রবেশ করে। ক্রমে ঘনিয়ে এল সেই কাল।

    কিন্তু বেলা এগারোটাতেও বাইরে সূর্যের আলো কমেছে বলে মনে হলো না। তবে কি নতুন যুগের নতুন সূর্যের উদয় হলো? নাকি জ্যোতিষীরা গণনায় ভুল করল? আশা আশঙ্কা সন্দেহের দোলাচলে দুলছে যখন গোটা সাতগাঁর মানুষ, কেউ কেউ এমনকি জানলার কপাট ফাঁক করে দেখছে বাইরে দিব্যি ঝাঁ ঝাঁ গ্রীষ্মের রোদ, পথেও নেমে এসেছে কেউ কেউ, তখনই পুবের দিক থেকে বাতাসে ভেসে এল বিচিত্র অতিলৌকিক ধ্বনি ময়ূরের কেকাধ্বনি, অচেনা পাখির কলকাকলি, বাঘের হাক, হাতির বৃংহণ, বানরের ডাক, আর ঘুঙুর ও বাদ্যযন্ত্রের সুরধ্বনি। আর এই সবকিছু ছাপিয়ে একটা যান্ত্রিক ধকধক ধকধক ধ্বনি, এবং থেকে থেকে গগনবিদারী ভোঁ। যারা বাইরে বেরিয়েছিল তারা সকলেই পড়ি-কি-মরি করে ফের ঘরে গিয়ে সেঁধোলো, খোলা জানলা দরজা দমাদ্দম বন্ধ হয়ে গেল ফের, কিন্তু সেই অলৌকিক ধ্বনি ক্ষীণ হতে হতে ক্রমশ দক্ষিণের দিকে মিলিয়ে গেল। তারও ঘন্টাখানেক পর সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যেতে লোকজন যখন ফের বাইরে আসতে শুরু করেছে, স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হয়েছে, তখন, বেলা দেড়টা নাগাদ, দিনের আলো কমে আসতে শুরু হলো।

    গ্রহবিধরা মস্ত ভুল করেছে! সূর্য রাহুর কবলে পড়ল গণনামাফিক সময়ের তিন ঘন্টা পরে।

    সেই অলৌকিক ধ্বনির রহস্য ক্রমশ জানা গেল ক্যাওটপাড়ার বাসিন্দাদের কাছ থেকে, সাতগাঁর উচ্চবর্ণদের মতো বেদাঙ্গ জ্যোতিষের দ্বারা চালিত নয় যাদের জীবন। হুগলি নদীর দিক থেকে বিচিত্র সব শব্দ বাতাসে ভেসে আসছে শুনে কেউ কেউ খালপাড় ধরে ছুটে গিয়েছিল, নদীতে জেলে নৌকার মাঝিরা দেখেছিল উত্তরের দিক থেকে এক বিশাল ফায়ারবোট তরতর করে চলেছে ভাটির দিকে। ওপরে খাঁচায় বাঘ, হাতি, হরিণ, পাখি ও আরও সব নাম-না-জানা জন্তু, আর জাহাজের একেবারে ওপরের ডেকে সবুজ সোনালি জরি দেওয়া রেশমি চাদোয়ার নীচে নাচগান হচ্ছে।

    আওয়াধের নবাবের বোট। ছল করে ইংরেজরা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। রাজা লখনউ ছেড়ে লন্ডনে চলেছেন রাণী ভিক্টোরিয়ার কাছে নালিশ জানাতে।

    ‘একশো বিশ টনের আগুনবোট, নাম তার জেনারেল ম্যাকলাস্কি!’ গোবর্ধনের দোকানের সামনে চাতালে দাঁড়িয়ে কোম্পানির ঢেঁড়াদারের মতো করে ঘোষণা করল ননী। —‘আগুনবোটে লখনউয়ের রাজা, রাজার মা, ভাই আর পরিবারের ২৮ জন লোক আছে, আটটা সিন্দুকে হীরে জহরত আর সোনার ডেও-ঢাকনা বাসনকোসন আছে, ৪০ জন মোসায়েব, ৩০০ বেগম আছে, গায়ক বাজনদারের দলে আছে ১২০ জন, বাবুর্চি খানসামা আছে ৮০ জন, রাজার চিড়িয়াখানা আছে–এক জোড়া সাদা বাঘ, তিনটে চিতা, একটা জিরাফ, দুটো হাতি, দুটো উট, আর এক জোড়া সোনালি ল্যাজঝোলা পাখি আছে যার নাম ম্যাকাও!’

    কিছুকাল হল হাল অ্যান্টনি গত হয়েছেন। কিন্তু আজব শহর কলকাতার নিত্যনতুন খবর আসায় ভাটা তো পড়েইনি, বরং কোয়ার্সভিল থেকে দিনে দুবার কলকাতায় বোট সার্ভিস চালু হওয়ায় খবরের ডানা গজিয়েছে। কয়েকদিন সরগরম হয়ে রইল ধর্মতলার বাতাস।

    আঠের দিন ধরে গ্রীষ্মের বিশীর্ণ গঙ্গায় বালির চর কন্টকিত খাত ধরে অভূতপূর্ব তাপপ্রবাহের ভেতর দিয়ে কলকাতায় এসে পৌঁছেছে আওয়াধের নবাবের দল। পথে আন্ত্রিক আর খোস-পাঁচড়ায় রাজামশাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পশুগুলিও মৃতপ্ৰায়।

    গ্রীষ্মে তাপমাত্রা যত চড়ছে গোবর্ধনের দোকানে সুশীতল ভাঙ শরবতের চাহিদা তত বাড়ছে। রোজ সকালে কোয়ার্সভিলে বরফ আনতে গিয়ে নিত্যনতুন খবর বয়ে আনে ননী। দশ সের বরফের দাম তিন আনা, এক গন্ডা খবরের দাম পাঁচটি ফুটো পয়সা। দোকানের চাতালে দাঁড়িয়ে টোলের পোড়োদের মতো দুলে দুলে সুর করে চেঁচায় ট্যাড়াদার ননী:

    ‘কুড়োবা কুড়োবা কুড়োবা লিজ্যে
    কাঠায় কুড়োবা কাঠায় লিজ্যে’

    ‘রাজামশাই লন্ডন অব্দি যেতে পারেনি। জেনারেল ম্যাকলাস্কি কলকাতায় এসে থেমে গেছে। রাজার মা আর ভাই লন্ডনে গিয়েছে মহারাণীর কাছে দরবার কর্তে…’

    ‘কুড়োবা কুড়োবা কুড়োবা লিজ্যে’

    ‘রাজামশাই মুচিখোলায় সব ঘরবাড়ি কিনে নিয়েছে, ওখানেই আরেকটা লখনউ শহর ফাঁদার মতলব! রাজার বাইয়ানা পোশাক, পায়ে আলতা। দেকতে ঠিক য্যান অপ্সরা…’

    ‘কুড়োবা কুড়োবা কুড়োবা লিজ্যে
    কাঠায় কুড়োবা কাঠায় লিজ্যে’

    ‘অপ্সরা নয়, অপ্সরা নয়— রাজা কালো-কোলো, ঘাড়ে গদ্দানে, নাকে আবার সোনার চশমা…’

    ‘কুড়োবা কুড়োবা কুড়োবা লিজ্যে’

    ‘নতুন আইন পাশ হয়েচে, এবার থেকে বেধবারা বে কর্তে পারবে! কলকাতায় বেধবা রাঢ় মাগীরা দলে দলে বে কচ্চে…’

    ‘কুড়োবা কুড়োবা কুড়োবা লিজ্যে
    কাঠায় কুড়োবা কাঠায় লিজ্যে’

    ‘মড়াফেরার দিন গোনা হয়েচে! পনেরোই কাত্তিক দশ বছরের মধ্যে যে যেখানে মরেছে সক্কলে যমালয় থেকে ফিরবে। এদিকে যেখানে যত বেধবা মাগীরা বে করেছিল তাদের নলিখলি শুরু হয়েছে…

    ‘কুড়োবা কুড়োবা কুড়োবা লিজ্যে’

    ‘পল্টনের ব্যারাকে নেটিভ বন্দুকবাজেরা মিউটিনি করেছে! লালমুখো ইংরেজ দেখলেই কচুকাটা করছে…’

    ‘কুড়োবা কুড়োবা কুড়োবা লিজ্যে
    কাঠায় কুড়োবা কাঠায় লিজ্যে’

    ‘দেশে ইংরেজদের শাসন শেষ হয়েছে, দিল্লিতে বুড়ো বাদশাহ মসনদে বসেছে…’

    ‘কুড়োবা কুড়োবা কুড়োবা লিজ্যে’

    ‘ইংরেজরা মিউটিনি রুখে দিয়েছে! বন্দুকবাজ সেপাই দেখলেই রাস্তায় গাছে ঝুলিয়ে ফাঁসি দিচ্চে! দিল্লির বুড়ো বাদশাহকে ফাটকে পুরেছে! লন্ডনের রাণী ভিক্টোরিয়া এখন থেকে আমাদের মহারাণী…

    *

    নিত্যনতুন খবরে আর হুগলিতে দিনরাত লাল-নীল ইউনিয়ান জ্যাক পতাকা তুলে গানবোটের আনাগোনায় মৎস্যভূমির মানুষ যখন বিভ্রান্ত, হাটে ঘাটে সর্বত্র মানুষের জটলা, বাতাসে ফিসফাস, মন্দিরে পুরোহিতের দল মন্ত্রোচ্চারণ ভুলে যাচ্ছে, টোলের পোড়োরা পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী সূত্র ভুলে যেতে বসেছে, কেউ কেউ এমনকি শৌচবিধি ভুলে চুঁচুপেত্নির শাপে ব্যাঙ হয়ে কুয়োয় ঝাপ দিচ্ছে, তখন সাতগাঁর ব্রাহ্মণপাড়ায় এক যুবক এই সবকিছু থেকে দূরে আশ্চর্য যন্ত্রবিদ্যার রেশমগুটি বুনে চলেছে নিজের চারপাশে। তার নাম পাগলরাম।

    দেশে ফিরে যাওয়ার আগে রেভারেন্ড বিল সাহেব গঙ্গারামকে যে হুইটেকার কোম্পানির অ্যালবিয়ন প্রিন্টিং প্রেসটি দিয়ে গিয়েছিলেন, সঙ্গে কিলো দশেক সীসের টাইপ, যেটি গঙ্গারাম এনে বসিয়েছিল বারবাড়ির একতলায়, তার কৃৎকৌশলের জাদুতে আটকে পড়েছিল পাগলরাম। ইতিমধ্যে ঘড়ি সারাইয়ের দক্ষতার জন্য সুনাম হয়েছে তার, ফিরিঙ্গিডাঙায় মাঝেমধ্যেই ডাক পড়ে। শার্ল লেবোর মতো কেউ কেউ অচল ট্যাকঘড়ি নিয়ে চলেও আসে। আরুন্ডেল সাহেবের জন্য বানানো বাগানে সেই দরমার ঘরে একদিকে গঙ্গারানের ফার্মেসি, আরেকদিকে পার্টিশান দিয়ে পাগলরামের ওয়ার্কশপ। বড়ো ভাই রামানুজের তীব্র উষ্মা উপেক্ষা করে দুই ভাইই পারিশ্রমিক নিতে শুরু করেছে। গঙ্গারাম অবশ্য গরীবগুর্বোদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করে, এবং এমনকি রোগী দেখতে অসবর্ণ অচ্ছুৎদের গ্রামেও যায়।

    ‘ঘোর কলির আর বাকি রইল কী!’ রামানুজ আক্ষেপ করেন। ‘স্মার্ত নৈয়ায়িক বংশের সন্তান যজন অধ্যাপন ছেড়ে কর্মকার হয়েছে। আরেকজন শুদ্র অস্পৃশ্য দেহ স্পর্শ করে রোগনির্ণয় করছে। স্বর্গত পূর্বপুরুষেরা এইসব দেখে কী নরকযন্ত্রণাই যে ভোগ করছেন!’

    ‘স্বর্গত পূর্বপুরুষেরা কলের যুগ দেখে যাননি!’ গঙ্গারাম জবাব দেয়। ‘আর কলকাতায় মেডিকেল কলেজে আজকাল নিয়মিত সব জাতিবর্ণের শব ব্যবচ্ছেদ হয়। দেখা গেছে, ব্রাহ্মণ দেহ আর শুদ্র দেহের গঠনতন্ত্রে কোনো পার্থক্য নেই!’

    ঘড়ি সারাইয়ের সূত্রে ফিরিঙ্গিডাঙার গুটিকয় তরুণ ফ্যাক্টরের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠার পর পাগলরাম ধর্মতলায় গোবর্ধনের ঠেকে যাওয়া-আসা শুরু করেছিল, বাতিল ঘড়ির কলকব্জা দিয়ে স্বয়ংক্রিয় মাছ ধরা ছিপ বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল সকলকে। কিন্তু গঙ্গারাম ছাপার কলটি নৌকায় চাপিয়ে দিনেমারডাঙা থেকে আনার পর নাওয়া-খাওয়া ভুলে এই আশ্চর্য খেলনার নেশায় মেতে উঠেছে সে।

    আশ্চর্য খেলনাই বটে। মিশনহাউসে গেলে পিটার-জনের সঙ্গে খেলা ছেড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা যে যন্ত্রের কারিকুরি দেখে আর আশ মিটত না তার, সেই যন্ত্র এখন বাড়িতে নাগালের মধ্যে! এ যেন এক আশ্চর্য তাত। পেতলের সরু কম্পোজিং ট্রেতে সীসের অক্ষর গেঁথে যন্ত্রে বসিয়ে কাগজের ওপর ছাপ তুলতে শিখল পাগলরাম। দিন কয়েকের চেষ্টাতেই সে ক্রাউন অক্টেভো আকারের কাগজে ঠাস ছাপা ও সারণী ছাপা শিখল, দরমার ঘরে দাদার রোগী দেখার খুপরির দেয়ালে ঝোলালো ছাপা উপদেশাবলী, যা দিনের পর দিন ঘড়ি সারাইয়ের সময় পার্টিশানের এপার থেকে শুনে শুনে তার স্মৃতিতে গাঁথা হয়েছে—

    গুটিকয় সাধারণ খাদ্য ও তাহাদিগের দোষগুণাবলী

    আক (ইক্ষু) পুষ্টিকর, বলবর্দ্ধক, মূত্রকারক
    আঙ্গুর শীতল, রুচিকারক, শুক্রবৰ্দ্ধক, কফপিত্ত-নাশক, চক্ষুর হিতকর
    আদা অগ্নিবর্ধক, মলমুত্রকারক, বায়ুনাশক (ভোজনের পূর্ব্বে আদা ও লবণ ভক্ষণ করিলে ক্ষুধা বৃদ্ধি হয়)
    আম কচি আম শীতল, কষায়, পিত্তনাশক
    কাঁচা আম ঈষৎ অম্ল, ডাইল কিংবা ঝোল করিলে কচি আমের ন্যায় গুণযুক্ত
    ডাঁসা আম মলরোধক, রক্তপিত্ত-প্ৰকোপক
    পক্ক আম গুরুপাক, মলভেদক, ধাতু ও কান্তি বর্ধক
    আম্র বৌল রক্তদৃষ্টিনাশক, শীতবীর্য ও বায়ুবন্ধক
    আমসত্ত্ব রুচিকর, কিয়ৎ গুরুপাক, বায়ুপিত্তনাশক
    উচ্ছে উষ্ণবীর্য, মলভেদক, পিত্তদোষনাশক, বিষণ্ণ
    ওল লঘু, পাচক, অর্শরোগের উপকারক (রক্তবর্ণ ওল উপকারী নহে)
    কচু মুখী কচু গুরুপাক ও বায়ু পিত্ত আমদোষের বৃদ্ধিকারক। মানকচু শীতল ও শোথনিবারক
    কলা
    কলার থোড় শীতল, কেশের হিতকর, দাহ ও ক্ষয়রোগে হিতকর
    মোচা গুরুপাক, বায়ুপিত্তরোগে হিতকর
    কাঁচকলা কষায় রস, মলরোধক, রক্তবর্ধক
    পাকা কলা অগ্নিমান্দ্যকারক, বলবর্ধক, শুক্রবর্ধক, কফবর্ধক

    মাস তিনেকের মধ্যেই প্রতি সপ্তাহে দুই পৃষ্ঠার একটি বুলেটিন ছাপাতে শুরু করল পাগলরাম, নাম দিল ধর্মতলা বার্তা। তাতে ধর্মতলায় চুঁইয়ে আসা দুনিয়ার খবরাখবর থাকে। এছাড়া সাপ্তাহিক তারিখপঞ্জী (ইংরেজি ও বাংলা), স্থানীয় মেলামোচ্ছবের হদিশ, ঝটিতি দাওয়াই ও রাশিচক্র। ধর্মতলা বার্তা গোবর্ধনের খদ্দেরদের কাছে অচিরেই জনপ্রিয় হয়ে উঠল। সেটা শুধু তার ব্যাবহারিক উপযোগিতার কারণে নয়; নিজেদের অহিফেন-রঞ্জিত কেচ্ছা ও গুজবগুচ্ছ ছাপার অক্ষরে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখতে পাবার মধ্যে এক বিচিত্র মাদকতা ছিল।

    ধর্মতলা বার্তা পড়ে তারা জানতে পারল, রেঙ্গুনে কারাগারে শেষ মোগল সম্রাট মারা গিয়েছেন; জানতে পারল, ইংরেজরা একদিকে আইন পাশ করিয়ে সনাতন হিন্দুধর্মের সর্বনাশ করছে, অন্যদিকে কলকাতায় নেটিভ মেয়েদের জন্য কলেজ খুলে তাদের মাথায় বিজাতীয় বিধর্মী চিন্তাভাবনার বীজ বপন করছে; জানতে পারল, ধর্মসভার সদস্যরা ব্রাহ্ম ও একেশ্বরবাদীদের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে, ঘোষণা করেছে ব্রাহ্মরা কেরেস্তানদের থেকেও বড়ো শত্রু, কারণ কেরেস্তানরা অন্তত ঈশ্বরের ত্রিত্বে বিশ্বাসী, এবং ধর্মান্তকরণের উদ্দেশ্যে তারা যেসব মিরাল দেখায় তা দেশজ অলৌকিকের থেকে ভিন্ন কিছু নয়।

    বছর ঘোরার আগেই দুই পৃষ্ঠার ধর্মতলা বার্তা ফোলিও আকারে আট পৃষ্ঠা ছাপা হতে লাগল। তাতে রাশিচক্র, তারিখপঞ্জি ও কলকাতা থেকে কলের বোটে আসা দেশবিদেশের বিভিন্ন খবরাখবরের পাশাপাশি সংযোজন হলো ইংরেজ শাসনব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় তথ্যাদি : খাজনা বিষয়ক নতুন আইন; ডাক ও তার বিষয়ক প্রয়োজনীয় জ্ঞাতব্য; নবনির্মিত রেলপথে গমনাগমনের নিয়মাবলী, ভাড়া, সময়সারণি; ঘোড়ার গাড়ি ও পালকির নির্দিষ্ট ভাড়া; বাড়ি ও জমির ট্যাক্স; মিউনিসিপ্যালিটির দপ্তরের ঠিকানা; কলিকাতা পুলিশ দপ্তর ও হাইকোর্টের ঠিকানা,; কলিকাতার পথের নাম; মুষ্টিযোগ; মেট্রিক পদ্ধতির ওজন ও মাপ; তীর্থযাত্রীদের প্রতি সতর্কতা, ইত্যাদি। এছাড়া বেদাঙ্গ জ্যোতিষ মতে তিথি নক্ষত্র যোগ ও করণ, মাসিক রাশিফল, শুভাশুভ কালনির্ণয়, হলকর্ষণ ও বীজবপন সংক্রান্ত তথ্যাদি, সুর্যোদয়-সূর্যাস্ত চন্দ্রোদয়-চন্দ্রান্ত ও জোয়ারভাটার সময়সারণি।

    বহুকাল আগে থেকেই সাতগাঁয় পঞ্চাঙ্গ পুথি লেখা হতো। পণ্ডিতেরা রঘুনন্দনের তিথিতত্ত্বম অনুসারে মুখে মুখে তিথি নক্ষত্র নিরূপণ করতেন, দশকর্মাদি পালনের কাল নির্ণয় করতেন। সাতগাঁ বন্দরের আমলে ভিনদেশি জাহাজীরা ফিরতি মৌসমের দিনক্ষণ নির্ণয়ের জন্য গণকদের শরণাপন্ন হতো। দরপ খানের সুবাদে কাগজের ব্যবহার শুরু হবার পর কাগজে লেখা পঞ্চাঙ্গ নির্ণয় দূরের সমুদ্রে পাড়ি দিত। আদিরামবাটির পুথিশালায় তার কিছু নিদর্শন ছিল। পান্ডবেরা বারো বছর বনবাসের পর শেষ এক বছর অজ্ঞাতবাসের সময় নির্ধারিত হয়েছিল যে গণনা মতে তার পুথি যেমন ছিল, তেমনই চাঁদ সদাগরের বাণিজ্যে যাবার কাল নির্ণয়ের গণনা ছিল, মেনকার সাধভক্ষণের শুভক্ষণের উল্লেখও ছিল। এছাড়া ছিল তুলোট কাগজে আঁকা ইসলামি জ্যোতির্বিজ্ঞানের রেখাচিত্র, যার সাহায্যে রাতের আকাশে নক্ষত্রের দিক নির্ণয় করে অনন্ত মরুভূমি পেরিয়ে আলিসাহেবের পূর্বপুরুষেরা এসেছিলেন বাংলায়। পর্তুগিজ নৌবিশারদদের আঁকা দুটি মানচিত্র ছিল দক্ষিণমুখী, সেখানে নদীপাহাড়ে ছাওয়া বেঙ্গালা নামক দেশের ঝাপসা জমির ওপর ভাসমান দুই মাস্তুলের জাহাজ, সুস্তনী মৎস্যকন্যা, দাড়িওয়ালা সিলমাছ, ডানাওয়ালা ড্রাগন, হাতির পাল ও সার্কাসের তাঁবুর আকারের বসতি আঁকা।

    ছোটোবেলায় বার দুয়েক এইসব আশ্চর্য পুথি পান্ডুলিপি চাক্ষুষ করেছে পাগলরাম। ধর্মতলা বার্তা-য় অয় কিছু কিছু চিত্তাকর্ষক অংশ ছাপার জন্য একদিন পুথিশালায় যেতে বাধা দিলেন রামানুজ।

    ‘এইসব পুথিপত্র তুমি স্পর্শ করবে না! আমাদের স্বর্গত পিতামহ রামাই পণ্ডিত এগুলি বর্গি আগুনের থেকে রক্ষা করার জন্য প্রাণদান করেছিলেন। আর তুমি রামাচার্যের বংশজাত হয়ে বেদের একটি শ্লোকও সঠিক উচ্চারণ করতে পার না, কলের কারিগর হয়েছ!’

    আদিরামবাটিতে রামানুজ গৃহকর্তাই শুধু তো নন, পারিবারিক টোলের অধ্যক্ষও বটেন। সেই অধিকার বলে তিনি পুথিশালার দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিলেন, চাবিটি নিজের পৈতেয় বেঁধে রাখলেন।

    ছোটো ভাইয়ের হয়ে সওয়াল করার চেষ্টা করেছিল গঙ্গারাম।

    ‘ও তো আর এগুলো নিয়ে গিয়ে নষ্ট করছে না, বড়োজোর কিছু অংশ কপি করবে। কুলুঙ্গির ভেতর গোছা বাঁধা অবস্থায় ঘুণপোকার থেকে আর কীই বা বেশি ক্ষতি করবে?’

    ‘এইসব পুথির রচনাকারেরা সূর্যবিজ্ঞান জানতেন, তাঁরা ছিলেন বড়ো বড়ো গ্রহবিপ্র গণক।’ রামানুজ পৈতেয় বাঁধা চাবি দিয়ে পেটের কাছে ঘামাচি চুলকোতে চুলকোতে বললেন। ‘সেসব ছাপার কলে ফেলে সর্বত্র প্রচার করা গণিকাবৃত্তি ছাড়া কিছু নয়।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Next Article জীবন স্রোতের আঁকেবাঁকে – অর্পিতা সরকার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Our Picks

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }