Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৪.৪

    ৪.৪

    রোজ সকালে বর্গিব্যাটারিতে গিয়ে কসরত করে হেমন্তর স্বাস্থ্য ফিরল, কাঁধ ও হাতের পেশি ফুলে উঠল, হাঁটাচলায় হাবেভাবে ফুটে উঠল এক নতুন আত্মপ্রত্যয়। সেবার ইংল্যান্ড থেকে ফিরে সুনির্মল দুর্গাপুজোয় এল ডোরাডোয় এসে হেমন্তর এই পরিবর্তন লক্ষ করে একটু অবাকই হলো।

    ‘কী ব্যাপার? তুমি আজকাল আর ও বাড়িতে আসছ না শুনলাম। লাইব্রেরিতে নতুন বই এসেছে দেখেছ?’

    ‘এখন বই পড়ে কাটানোর সময় নয়,’ হেমন্ত বলে। ‘যেকোনো সময় দেশের ডাক আসতে পারে, আমাদের প্রস্তুত হতে হবে।’

    ‘কিন্তু ইংরেজরা তো চলে গেছে। দেশটা তো এখন স্বাধীন, নয় কি?’

    ‘এ মিথ্যে স্বাধীনতা!’ হেমন্ত ঝাঁঝিয়ে উঠে বলে।

    ওর দিকে কৌতূহলভরে তাকিয়ে সুনির্মল আন্দাজ পাবার চেষ্টা করে সেই ঝাঁঝের উৎস। এ যেন ঠিক আদিরামবাটির রক্তে বংশপরম্পরায় বয়ে চলা ব্রিটিশ বিরোধিতা নয়, আরও গভীর কিছু। তিনদিন পরে নবমীতে বাঁটুলের আখড়ায় হনুমান পুজো উপলক্ষ্যে প্রদর্শনী দেখতে গিয়ে তার খানিকটা বুঝতে পারে সুনির্মল। কালো শর্টসের ওপর নতুন শ্যান্ডো গেঞ্জি পরে বৃদ্ধ বাঁটুল দি গ্রেট তাঁর ছেলেদের লাঠিখেলা ছোরাখেলা মোটর-ধরার খেলা পরিচালনা করলেন, এবং থেকে-থেকেই হাত মুঠি করে শূন্যে তুলে টার্কি মোরগের গলার মতো লোল পেশি কাঁপিয়ে কাঁপা কাপা গলায় শ্লোগান দিতে লাগলেন— ‘সুভাষ তুমি ফিরে এস!’

    ছেলেরা সমস্বরে ধ্বনি তুলল–‘ফিরে এস! ফিরে এস!’

    পরের দিন সুনির্মল হেমন্তকে জিজ্ঞেস করল একান্তে –‘সুভাষ ফিরে আসবেন তুমি বিশ্বাস কর?’

    ‘আলবাৎ ফিরে আসবেন!’ হেমন্ত উরু চাপড়ে বলে। ‘দেশের ডাক শুনে উনি না এসে পারবেন না। উনি কেবল উপযুক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করছেন।’

    ‘সুভাষচন্দ্র বোসকে কমিউনিস্টরা কী বলে জানো?’ সুনির্মল জিজ্ঞেস করে, তারপর নিজেই উত্তরটা দেয়— ‘তোজোর কুকুর!’

    হেমন্তর মুখের অভিব্যক্তি দেখে সঙ্গে সঙ্গে যোগ করে,— ‘না না, আমি অবশ্য অতটা মনে করি না।’

    লন্ডনে থাকাকালীন ইন্ডিয়ান মজলিস নামে ভারতীয় ছাত্রদের একটি সংগঠনের সদস্য ছিল সুনির্মল। সেখানে ওরা কয়েকবার সুভাষচন্দ্রকে আমন্ত্রণ করে এনেছে। ওঁর দেশপ্রেম নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু ওঁর রাজনীতি কিংবা ইতিহাসচেতনা সুনির্মল সমর্থন করে না। লন্ডনে তিনটে বছর কাটিয়ে ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন সম্পর্কে ওর কী ধারণা হয়েছে সে ব্যাপারে একদিন হেমন্তকে বলল।

    ‘ওরা এদেশে এসে অনেক খারাপ কাজ করেছে, দেশটাকে লুঠ করেছে। কিন্তু যা যা করেছে খাতায় কলমে তার পাইপয়সা হিসেব আছে। লন্ডনে ইন্ডিয়া অফিস লাইব্রেরিতে গিয়ে তুমি চাইলে সেসব নথিপত্র দেখতে পারো। তার আগে আমাদের দেশে শাসকেরা যতরকম কুকীর্তি করেছে তার কোনো রেকর্ড কিন্তু কোথাও নেই।’

    ‘তার কারণ ইংরেজরা হল দোকানদারের জাত!’ হেমন্ত বলে।

    সুনির্মল মিষ্টি করে হাসে। বাবা তারিণীচরণের মতোই সুগঠিত মুখ চোখ আর নাকের চোখা গড়ন ওর।

    ‘দ্যাখ হেমন্ত, ইংরেজদের এ দেশ ছাড়তেই হতো, আজ না হোক কাল। ভা সে একদল বাঙালি ছেলেমেয়ে বোমা ছুঁড়ে ফাঁসি যাবার জন্যে নাকি মোহনদাস গান্ধীর সত্যাগ্রহের জন্যে হলো, সে বিতর্কে আমি যাচ্ছি না। উপনিবেশ হিসেবে এই দেশটা ওদের কাছে একটা পড়তি জমিদারি হয়ে উঠেছিল। শুধুই লোকসান, কোনো খদ্দের নেই। কিন্তু ওরা যাবার পর যে দেশটা আমরা পেলাম, এর জন্যে কি তোমার বনলতাপিসিরা প্রাণ বলিদান দিয়েছিলেন? সে কথা কখনো ভেবেছ? হ্যাঁ, আমি তোমার সঙ্গে একমত, এ মিথ্যে স্বাধীনতা! কিন্তু আমি এটা মানতে পারি না যে একজন মানুষ, তিনি যত বড়ো দেশপ্রেমিক বীরই হোন, একদিন এসে আমাদের হাতে প্রকৃত স্বাধীনতা তুলে দেবেন।

    সুনির্মল থামে, পাঞ্জাবির পকেট থেকে দাড়ি-অলা নাবিকের ছবি আঁকা সিগারেটের টিন থেকে একটি বের করে ধরায়, তারপর এক মুখ ধোঁয়া ছেড়ে বলে— ‘সেই স্বাধীনতা আসতে হবে সম্পূর্ণ অন্য জায়গা থেকে।

    ‘কোন জায়গা থেকে?’ হেমন্ত জিজ্ঞেস করে।

    অনেকদিন পরে সুনির্মল ওকে আবার সেদিন এল ডোরাডোর দোতলায় লাইব্রেরিতে নিয়ে গিয়ে দুটি বই হাতে তুলে দিল। একটি এডমন্ড বার্কের লেখা রিফ্লেকশনস অন দ্য রেভেলিউশান ইন ফ্রান্স; দ্বিতীয়টি একটি চটি পুস্তিকা, ধুসর মলাটে লাল কালিতে লেখা কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো। লেখক কার্ল মার্কস।

    কালিপুজোর পর ভাইফোটার দিন আবার আদিরামবাটিতে এল সুনির্মল। এবার নিয়ে এল রজনী পাম দত্তের লেখা একটি বই – লেফট ন্যাশানালিজম ইন ইন্ডিয়া। ভেতরে স্বয়ং লেখকের সাক্ষর রয়েছে। হেমন্ত জানতে পারে, ইনি হলেন কমিউনিস্ট পার্টি অফ গ্রেট ব্রিটেনের জেনারেল সেক্রেটারি, লন্ডনে ইন্ডিয়ান মজলিসে নিয়মিত আসতেন।

    ‘সেদিন জিজ্ঞেস করেছিলে না প্রকৃত স্বাধীনতা কোন জায়গা থেকে আসবে?’ সুনির্মল ডান হাত মুঠিবদ্ধ করে বাঁ হাতের তালুতে রেখে বলে,— ‘সেটা আসবে নীচের তলা থেকে, যখন শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হবে! ইতিহাস আমাদের সেটাই শেখায়।’

    ‘শ্রমিক?’ হেমন্ত অবাক হয়ে বলে।

    ‘হ্যাঁ, যাদের শৃঙ্খল ছাড়া আর কিছু হারাবার নেই।’

    ‘তুমি কি ক্রীতদাসদের কথা বলছ?’ হেমন্ত জিজ্ঞেস করে। ‘কিন্তু সেই প্রথা তো কবেই চুকে গেছে। তাদের বংশধরেরা খালপাড়ে দাসপাড়ায় থাকে, নৌকা বানায়।’

    ‘আরেকটু গভীরে গিয়ে দ্যাখ,’ সুনির্মল বলে। হেমন্তর কাঁধে হাত রেখে ওকে লাইব্রেরির বিশাল জানলার কাছে নিয়ে যায়। এখান থেকে ওষধিবাগানে ঝাঁকড়া নাগকেশর গাছটার পেছনে অনেক দূর অব্দি দেখা যায় বাড়ির পাঁচিলের ওপাশে পাকা পায়খানাঘর, কুয়ো, ঘন আমের বন আর তার নীচে দিয়ে পায়ে-চলা পথ গিয়েছে ছায়ার ভেতর। ‘দিনের বেলা প্রথম কার শ্রমের ওপর নির্ভর করে থাক সেটা ভাবো।’

    হেমন্ত ভেবে পায় না।

    ‘মেথরানী!’ সুনির্মল বলে। ‘যে সকালবেলায় খাটা পায়খানায় মাটির মালসা পরিষ্কার করতে আসে। ওর কী হারাবার আছে ভেবেছ কখনো?’

    হেমন্ত আবছা মনে করতে পারে দুয়েকবার খুব ভোরবেলায় আমের বনে ছায়া ছায়া মূর্তি দেখেছে, কিন্তু তাকে দেখতে ঠিক কেমন সে জানে না।

    ‘আর ওই মাটির মালসাগুলো? ওগুলো যারা বানায়?’ সুনির্মল বলে। ‘ওই কুমোরদের পুঁজি বলতে তো এক তাল মাটি আর একটা কাঠের চাক। কিংবা তাও নয়, একজোড়া হাত। ওদেরই বা কী হারাবার আছে? এবার ভাবো যে বস্তুটি ছাড়া আমাদের জীবন একদিনও চলে না, খাটা পায়খানায় ওই মাটির মালসা ভরে না। সেটা কী?’

    ‘খাদ্য!’ হেমন্ত বলে।

    ‘রাইট ইউ আর! আর খাদ্য ফলায় কারা? চাষি। সেই মানুষটা রোদে জলে এক হাঁটু কাদায় দাঁড়িয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে বছরভর। তার নিজের বউবাচ্চার পেট ভরানোর জন্য কতটুকু খাদ্য দরকার? তার অতিরিক্ত সে ফলায় কাদের জন্যে? তোমার জন্যে, আমার জন্যে। তাহলে এত ফলানোর পরেও তার বাচ্চাগুলো আধপেটা খেয়ে থাকে কেন? বলতে পারো কেন?’

    হেমন্তর কাছে এর কোনো উত্তর নেই। সেদিকে দৃকপাত না করে সুনির্মল কথার ঝোঁকে বলে–

    ‘অথচ ওরাই কিন্তু দাসত্বের শিকল খসায় সবার শেষে!

    ‘সবার আগে খসায় কারা?’

    সুনির্মল উত্তর না দিয়ে রহস্যময় হেসে হেমন্তর দিকে তাকায়। কোটের পকেট থেকে উইলস প্লেয়ার্স মিডিয়ামের টিন বের করে একটি হেমন্তর হাতে দেয়, আরেকটি নিজের ঠোঁটে গুঁজে অগ্নিসংযোগ করে।

    আর ঠিক তক্ষুণি, যেন দৈব কাকতালে, হুগলির পাড়ের দিক থেকে পর পর পাটকলের সাইরেন বেজে উঠতে থাকে। কারখানায় শিফট বদল হচ্ছে।

    *

    মি’লেডি, সার্জেন-পাদরি রুয়ানো ডে ইনফান্টের সেই অপারেশানের পর হুগলি নদীর নবজীবন লাভ হলো। সেইসঙ্গে সরস্বতীর ধারে সাতগাঁ বন্দরের মৃত্যু ঘটল। ইতিমধ্যে জটিল ভ্রাতৃঘাতী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর হিন্দুস্থানের মসনদে আসীন নতুন সম্রাট। সাতগাঁ বন্দরের পতনের ফলে মোগল কোষাগারের আয় হ্রাস পেয়েছিল। এবার বাংলায় পর্তুগীজদের দুর্বৃত্তপনার একের পর এক অভিযোগ এসে জমা পড়তে লাগল আগ্রায় শাহি দরবারে:

    ১- বন্দর-হুগলিতে একাধিপত্যের সুবাদে তারা দেশীয় বণিকদের থেকে জাহাজঘাটা ব্যবহারের জন্য চড়া শুল্ক আদায় করছে, এমনকি খোদ সম্রাটের বাণিজ্যপোতের ক্ষেত্রেও কোনোরকম রেয়াত করছে না।

    ২- পেদ্রো আলভারেজের উত্তরসূরিরা পুবের দেশে সেবাস্তিয়ান গনজালেজ টিবাও নামে এক নুনের ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগসাজসে নিরীহ গ্রামবাসীদের অপহরণ ও ক্রীতদাস কেনাবেচার ব্যবসা ফেঁদেছে।

    ৩- বাংলার সুবেদার মারফত সম্রাটকে খাজনা পাঠানো সম্পূর্ণ বন্ধ করেছে।

    ৪– পর্তুগীজ যাজকেরা স্থানীয় ধর্মাবলম্বীদের বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করছে।

    সম্রাটের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল। আগস্ট মাসের এক শনিবার ভোরবেলায় সাতগাঁর আকাশ কেঁপে উঠল কামানের বুম বুম শব্দে, মোগল নৌবহর বন্দর- হুগলিতে আক্রমণ হানল। গড়ের থেকে সোলদাদোরা কামান-বন্দুক বাগিয়ে যথাসাধ্য যুঝেছিল, কিন্তু জলে স্থলে শাহী সৈন্যদলের বিপুল সংখ্যার চাপে তা ধসে গেল অচিরেই। বর্ষার মেঘলা দিনের আলো ফুরোনোর আগেই পেদ্রো আলভারেজের সাধের কেল্লা নগর সব শুঁড়িয়ে মাটিতে মিশে দিল মোগলাই ফৌজ। তিনশোরও বেশি পর্তুগীজ বন্দুকবাজ ও সাধারণ নাগরিক হতাহত হলো, আরও দুশো জনকে –তাদের মধ্যে উনিশজন যাজক বন্দি করে আগ্রায় নিয়ে আসা হলো।

    সেই দলে রুয়ানো ডে ইনফান্টেও ছিলেন। ইতিমধ্যে তিনি বৃদ্ধ হয়েছেন, গেঁটে বাতে ক্লিষ্ট ও সম্পূর্ণ বধির এতটাই যে নিজের সঙ্গে নিজের কথোপকথনও আর শুনতে পাননা। কিন্তু তখনও নিরস্তর অনুসন্ধান করে চলেছেন সেই তত্ত্ব, যার মূল প্রতিপাদ্য হলো এই মহাবিশ্ব এক অনন্ত বিন্যাস, যা কুমড়ো থেকে শুরু করে বাতাবি লেবুর বিচিতে, শামুকে গুগলিতে জোঁকে, এবং গির্জার লাগোয়া তাঁর বাগানে বিবিধ আণুবীক্ষণিক প্রাণে নিরন্তর প্রতিভাত হয়ে চলেছে। উত্তর ভারতে এবার ছিল তাঁর দ্বিতীয় যাত্রা, কিন্তু প্রথমবারের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। মহিষে-টানা গাড়ির ওপর লোহার খাঁচায় এক ডজন পুরুষের সঙ্গে ঠাসাঠাসি হয়ে বন্যপ্রাণীর মতো যাচ্ছিলেন।

    নতুন বাদশাহ যিনি নিজেকে দুনিয়ার অধিপতি নামে অভিহিত করেছেন— খ্রিস্টান যাজকদের প্রতি অতিমাত্রায় ক্রুদ্ধ ছিলেন। উনিশজন পাদরিকে হাতির পায়ের নীচে ফেলে মারার হুকুম দিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা আর সম্ভব হলো না। প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী মাটিতে উপুড় করে শোয়ানো, হাত পিছমোড়া করে বাঁধা, সাদা জোব্বা পরা উনিশজন যাজকদের দেখে ঘাতক হাতিটির পা সরেনি। মাহুতের মরীয়া ডাঙসের গুঁতো খেয়েও সে অনড় থাকে, আকাশে শুঁড় তুলে বারে বারে বৃংহণ করতে থাকে। আরেকটি বিবরণ অনুসারে বধ্যভূমিতে নিয়ে যাওয়ার অব্যবহিত আগে রুয়ানো ডে ইনফান্টে সম্রাটের সঙ্গে একান্তে আলাপের অস্তিম ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। সম্রাট সম্মত হন। বহুকাল আগে যিনি ছুরি হাতে অস্ত্রোপচার করেছিলেন পাদশাহী জঘনে, যেখান থেকে উৎসারিত বর্তমান জাঁহাপনার বংশধারা, সেই শল্যবিদ-যাজকের সঙ্গে সম্রাটের ঠিক কী কথোপথন হয়েছিল জানা যায়নি, কিন্তু তিনি উনিশজন যাজককে নিঃশর্তে মুক্তি দেন।

    মি’লেডি, এসবই ইতিহাসের উপচ্ছায়াময় অঞ্চল, লোককল্পনার উপাদানে গড়া। সত্য হলো, তামাম হিন্দুস্থানের দূরদর্শী শাসক বেয়াড়া পর্তুগীজদের চরম শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা আর সম্ভব ছিল না। সেই সময়ে এই বিশাল উপমহাদেশে ফিরিঙ্গি বণিকদের উপস্থিতি ততটাই বাস্তব যতটা মোগল শাসনব্যবস্থা। ওদের সমূলে তাড়ালে যে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হতো, সেটা সামাল দেবার মতো সামর্থ্য মোগল কোষাগারের ছিল না। অতএব বছর দুয়েকের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে ফের জেগে উঠল বন্দর-হুগলি। তবে এবার আর কেল্লা নয়। স্থানীয় মানুষদের বলপূর্বক ধর্মান্তরকরণও বন্ধ হলো। এবং বন্দর-হুগলির নতুন প্রশাসককে মুচলেকা দিতে হলো, জলদস্যু ও দাসব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনোরকম সম্পর্ক রাখবে না। সবচেয়ে বড়ো কথা, এই নতুন ফিনিক্সপ্রতিম নগরীতে পর্তুগীজেরা তাদের কর্তৃত্ব হারালো। ফরাসি, ওলন্দাজ, গ্রীক ও ইংরেজরা বাংলার এই জন্নত-এ-মুল্ক-এ এসে ঘাঁটি গাড়ল। তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা করে ব্যবসায়িক চুক্তি হলো মোগল শাসকের। হুগলির বাণিজ্যপথে একচেটিয়া কায়েমি বন্দোবস্ত বিলোপ হলো, এই নদী হয়ে উঠল সকলের। কিছুকালের মধ্যেই ওলন্দাজ, দিনেমার ও ফরাসীরা ভাটির দিকে তাদের নিজস্ব গুদাম ও নগর গড়ে তুলবে।

    জীবনের সায়াহ্নে এসে রুয়ানো ডে ইনফান্টের ওপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেল, তিনি তা সামলে উঠতে পারলেন না। নভেম্বরের এক হিমেল সন্ধ্যায় তিনি কবরে গেলেন, সঙ্গে নিয়ে গেলেন সম্রাটকে একাস্তে বলা সেই গোপন সত্য, যা দিয়ে বন্দি স্বদেশবাসীদের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। তাঁকে তাঁর কটেজের লাগোয়া বাগানে গোর দেওয়া হলো, সেইসব বিরল গাছপালার মাঝে যা তিনি নিজে হাতে লাগিয়েছিলেন।

    রুয়ানোর মৃত্যুর পর অগস্টিনীয় গির্জা ও সংলগ্ন যাজকাবাসটি ক্রমশ আরও পোড়ো হয়ে পড়ে। মোগলদের কামানের গোলায় গির্জাটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। কয়েক বছর পর সেটি মেরামত শুরু হয়। এজন্য গোয়ার স্থপতিরা ম্যাঙ্গালোরের পোড়ামাটির টালি নিয়ে আসে। কিন্তু পুরোনো টালির সঙ্গে নতুনগুলি ঠিকমতো খাপ খায়নি, জোরে হাওয়া উঠলে টালিগুলো কেঁপে কেঁপে উঠে বেড়ালের কান্নার মতো ধ্বনি বহুদুর থেকে শোনা যায়।

    *

    দুশো বছর পরে ম্যাওবেড়ালের গির্জার ধ্বনির সঙ্গে যোগ হয় হুগলির পাড় বরাবর পাটকলের সাইরেন। খাদ্যশস্য গুদামজাত করে রপ্তানি থেকে শুরু করে যুদ্ধে বালির বস্তার প্রয়োজনে পাটজাত দ্রব্যের চাহিদা গগনচুম্বী হয়। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষ এসে পাটকলে শ্রমিক হয়ে যোগ দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অভিবাসী শ্রমিকের ঢেউ এসে ফুলে ফেঁপে উঠেছে কারখানার লাগোয়া লেবার লাইন ওরফে মজদুর মহল্লা।

    ‘সবার আগে জেগে উঠবে ওরা!’ উইল্স প্লেয়ার্সে টান দিয়ে সুনির্মল বলল। ‘ওরা নিজেদের গাঁ-ঘর জোতজমি কালচার সবকিছু ছেড়ে এসেছে। ওদের জীবন জড়িয়ে গিয়েছে কতগুলো ইস্পাতের মেশিনের সঙ্গে। যেমন ক্রীতদাসের ছিল জাহাজের বাঁশি, ঠিক তেমন ওরাও জাগে ঘুমোয় মিলের সাইরেনের শব্দে। একদিন ওরা যদি মনস্থির করে সাইরেনের শব্দে আর জেগে উঠবে না, মিলের গেটে গিয়ে লাইন দেবে না, তাহলেই এই গোটা ইকোনমিক সিস্টেমটা তাসের কেল্লার মতো ভেঙে পড়বে। শুধু ওদের একটা জিনিস বোঝাতে হবে, একটা মন্ত্র শেখাতে হবে।

    ‘কী সেই মন্ত্র?’ আঙুলের ফাঁকে না-জ্বলা সিগারটেটা নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে হেমন্ত জিজ্ঞেস করে।

    ‘ওয়ার্কার্স অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইউনাইট…’ সুনির্মল আওড়ায়।

    ‘ইউ হ্যাভ নাথিং টু লুজ বাট ইয়োর চেইন্স!’ হেমন্ত বলে ওঠে।

    ‘হিয়ার! হিয়ার!’ এক মুখ ধোঁয়া ছেড়ে সুনির্মল বলে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }