Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৩.৯

    ৩.৯

    বাল্যকালে বাবা মা দুজনকেই হারিয়ে যে ছোটো ভাইকে তিনি প্রায় পিতার স্নেহে মানুষ করেছেন, সেই পাগলরাম কলকাতায় গিয়ে থিতু হবার পর থেকেই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন গঙ্গা কবিরাজ। বিশেষ কারোর সঙ্গে কথা বলতেন না, চিকিৎসায় তেমন মন বসতো না। ভাইপো রামপ্রাণকে আয়ুর্বেদ অনুসারে মানব দেহতন্ত্রের বিভিন্ন দিক, রোগনির্ণয়, গাছগাছড়ার ওষধি গুণাগুণ সম্পর্কে শিক্ষা দিয়ে ক্রমশ চেম্বারের দায়দায়িত্ব তার হাতে তুলে দেবার তোড়জোড় করছিলেন। কলকাতায় চলে যাবার পর পাগলরাম বহুকাল সাতগাঁয়ে আসেনি, এমনকি দুর্গাপুজোর সময়েও না। তার স্ত্রী হিরণ্ময়ী প্লীহার দহন ও রক্তাল্পতায় ভুগছে খবর পেয়ে—পরে রোগনির্ণয় হয় কালাজ্বর— গঙ্গারাম নিজে হাতে বটিকা তৈরি করে লোক মারফৎ পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু পাগলরাম বংশে বহু প্রজন্মের অর্জিত বিদ্যা অস্বীকার করে কলকাতার ডাক্তার দিয়ে হিরণ্ময়ীর চিকিৎসা করালেন। তার বেশ কিছুকাল পরে দাদার সঙ্গে কোনোরকম পরামর্শ না করে যখন পৈতৃক জমিতে এল-ডোরাডো গড়ে তুলতে লাগলেন, এবং বলে বেড়াতে লাগলেন তিনি মরতে আসবেন বলে বাড়ি বানাচ্ছেন, লোকমুখে সেই কথা কানে যেতে গঙ্গারাম স্বগতোক্তির স্বরে আক্ষেপ করেছিলেন—

    ‘শত শত বছর ধরে দেশবিদেশ থেকে মানুষ সাতগাঁয় বাস করতে এসেছে দীর্ঘায়ু লাভের জন্য, আর ও কি না বলছে মরতে আসবে!’

    দুই ভাইয়ের মনান্তর ঘুচল না। এদিকে পৃথিবী বদলাতে লাগল দ্রুত। মানুষ আকাশে উড়ল, বেতার তরঙ্গে বার্তা সম্প্রচার শুরু হলো, জগদীশ বোস উদ্ভিদের দেহে উদ্দীপন আবিষ্কার করলেন। কলকাতায় পাগলরামের স্বাস্থ্যের অবনতির খবর পেয়ে গঙ্গারামের মনে আশা জাগল, এইবার বোধহয় সে সাতগাঁয় ফিরে আসবে। কিন্তু পাগলরাম ফিরলেন তাম্রপাত্রে চিতাভষ্ম রূপে। গঙ্গারামের জীবনটা হঠাৎ বিষবৎ হয়ে উঠল। ক্ষুধামান্দ্য শুরু হলো তাঁর, সর্বক্ষণ একটা জ্বলনের অনুভূতি তলপেট থেকে বিকীরিত হয়ে কাঁকড়ার দাঁড়ার মতো ছড়িয়ে যায় সর্বাঙ্গে। কোনো ওষুধে তার উপশম হলো না, এমনকি হিমালয় থেকে আলিসাহেবের আনা দুষ্প্রাপ্য স্বচ্ছপ্রভ ছত্রাকেও না।

    প্রতিদিন সকালে গঙ্গারাম সরস্বতীর ঘাটে স্নানে গিয়ে পেট থেকে বুক পর্যন্ত ভিজে মাটি মেখে বসে থাকেন, তাতে কিছুক্ষণ দহনের উপশম হয়। এবং এভাবেই রোজ আহ্নিক সারেন তিনি। আবার মধ্যরাতে জেগে ওঠেন প্রদাহের জ্বালায়। এই সময় মাঝে মাঝে তিনি একটি কন্ঠস্বর শুনতে পান। প্রথমে মনে হয়েছিল বুঝি মৃত পাগলরামের। কিন্তু তা তো নয়, এ এক অচেনা যুবকের কণ্ঠস্বর। গঙ্গারামকে সে প্রশ্ন করে:

    ‘গীতার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে ৪৭ নম্বর শ্লোকে অর্জুন উবাচ, তোমার কর্মে অধিকার আছে, তার ফলে নেই। কর্মফল যেন তোমার লক্ষ্য না হয়, অকর্মণ্যতায় যেন আসক্তি না হয়। আচ্ছা বলুন তো, যদি তাহা সত্য হবে তবে জাগতিক ঘটনাবলীর ব্যাখ্যা কী? পৃথিবীর আহ্নিক গতি, গ্রহনক্ষত্রের আবর্তন, এগুলি জীবজগতকে ক্রমাগত আত্মোৎপাদনের ফলের দিকে চালিত করে। নচেৎ কী? নিষ্কাম কর্ম কি প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধাচারণ নয়? আর ফলের ধারণা না থাকলে কী করে কর্মকে চালিত করা যাবে? তৃষ্ণা নিবারণের বাসনা না থাকলে বায়স কি কভু পাত্রে উপল নিক্ষেপ করবে? পাত্রের ধারণা না থাকলে কুম্ভকার কি কভু কাদার তালকে চাকের ওপর ঘোরাতে সমর্থ হবে? কর্মফলের ধারণা বিনা মন কীভাবে ক্রিয়াশীল হবে? নিষ্কাম কর্ম কি সঠিক কর্ম?’

    ভাঙা ভাঙা বাংলা উচ্চারণ, কথায় তৎসম শব্দের আধিক্য আর গুরুচন্ডালি দোষ লক্ষ করলেন গঙ্গারাম। ইতিমধ্যে সেই যুবক কণ্ঠস্বর জানিয়েছে যে সে জীবিত ও মৃত একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। কিন্তু কেউই সঠিক পথের দিশা দেখাতে পারেনি। আলিসাহেবের দেওয়া ছত্রাকের ক্রিয়ায় আফিমের মতো একটা আবেশ সৃষ্টি হয়, কিছুক্ষণের জন্য অসহ্য প্রদাহের উপশম হয়। কিন্তু এই কন্ঠস্বর যে কোনোরকম স্নায়বিক বিভ্রম নয়, সে ব্যাপারে গঙ্গারামের মনে কোনো সন্দেহ নেই। এত স্পষ্ট যে মনে হয় মানুষটি যেন ঘরের মধ্যেই রয়েছে।

    ‘আপনি কে?’ গঙ্গারাম জিজ্ঞেস করেন।

    ‘আমার নাম অ্যাক্রয়েড ঘোষ।’ কণ্ঠস্বর ভেসে আসে।

    ‘আপনি কি বাঙালি?’

    ‘হ্যাঁ আমি বঙ্গজ কায়স্থ, কোন্নগর গ্রামে আমার বাটি। বর্তমানে আমি আলিপুর জেলে রাজবন্দি। ইংরেজ শাসক আমার নশ্বর দেহটাকে বন্দি করেছে, কিন্তু বিশ্বের কোনো শক্তি আমার সত্তাকে বন্দি করতে পারে না। সে ভেসে বেড়ায় ঈথারে। আমি শীঘ্রই সশরীরে এসে আপনার সহিত সাক্ষাৎ করব।’

    সেই সময় কাত্যায়নীর মেয়ে কমলা ওরফে বনলতা ছায়ার মতো গঙ্গারামের কাছে কাছে থাকে, তাঁর খুটিনাটি স্বাচ্ছন্দ্যের খেয়াল রাখে, তাঁর কাছে গণিত ও সংস্কৃত শেখে। আলিসাহেব গঙ্গারামের জন্য দুষ্প্রাপ্য জড়িবুটি নিয়ে এলে সেসব গুছিয়ে রাখে। কীভাবে তাদের সংরক্ষণ করতে হয়, কীভাবে লেবেল লাগিয়ে রাখতে হয় সেসব গঙ্গারাম ওকে শিখিয়ে দিয়েছেন। একদিন ভোরবেলায় গঙ্গারামকে শূন্যে তাকিয়ে বাক্যালাপ করতে দেখে বনলতা ভাবল দাদামশাইয়ের মতিভ্রম হয়েছে। দাদা বিশুকে কিংবা রামপ্রাণকে জানানো উচিৎ কী না ভেবে দ্বিধায় দীর্ণ হলো, মন্দিরে গিয়ে কেঁদে পড়ল আদিরামের পায়ে— ‘হে ঠাকুর, দাদামশাইকে সুস্থ করে তোলো!’

    একদিন রাত্রে সত্যিই এলেন সেই বিদেহী কণ্ঠস্বরের যুবক। ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের জন্য বোমা তৈরির ষড়যন্ত্রে বন্দি হয়েছিলেন। আদালতে কোনোরকম প্রমাণ দাখিল করতে না পারায় ওঁকে ছেড়ে দিয়েছে, কিন্তু পুলিশের নজরাধীন। ব্রিটিশ শাসিত এলাকার বাইরে চাঁদেরডাঙায় পালিয়ে এসে উঠেছেন।

    চৈত্রের গভীর রাতে একটি পালকি নিঃশব্দে এসে ওযধিবাগানে নাগকেশর গাছের নীচে থামল। ভেতর থেকে বেরিয়ে এলেন শ্যামবর্ণ, ছোটোখাটো চেহারার যুবক। তার চিবুকে হালকা দাড়ি, পরনে মোটা গুজরাটি ধুতি কুর্তা আর পায়ে তালপাতার চটি। জানা গেল, তিনি বরোদার মহারাজের বিশেষ সচিব ছিলেন, চাকরি ছেড়ে এসে দেশকে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত করার গোপন ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়েছেন।

    তবে তার আসল ষড়যন্ত্র একটি পুরোনো কুটিল প্রকল্পের বিরুদ্ধে, যার রচয়িতা টমাস মেকলে নামে এক ইংরেজ, যিনি মেরি শেলীর উপন্যাসের ভিক্টর ফ্র্যাঙ্কেস্টাইনের মতো এমন এক নেটিভ ভারতীয়ের জাত সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন যাদের দেহবর্ণ হবে কালো, শিরায় বইবে এশীয় রক্ত, কিন্তু রুচি, মতামত, নীতিবোধ হবে ইংরেজদের মতো। মি’লেডি, সেই গথিক পরীক্ষাগারে যুবকের জন্ম। বাবা ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের অধীনস্থ সিভিল সার্জেন, পুত্রের নাম রাখেন অ্যাক্রয়েড এবং তার জন্য একজন খাঁটি ইংরেজ গভর্নেস নিযুক্ত করেন। শিশু অ্যাক্রয়েডকে শেখানো হয় ইংরেজি ও হিন্দি, যার সাহায্যে সে তার আয়া ও চাকরবাকরদের সঙ্গে কথা বলত। পাঁচ বছর বয়সে এ দেশে সাহেব বাবালোগদের মতো অ্যাক্রয়েডকে দার্জিলিঙে বোর্ডিং স্কুলে পাঠানো হয়, এবং ঠিক দু বছর পর সেখান থেকে পাঠানো হয় ম্যাঞ্চেস্টারের একটি গ্রামার স্কুলে, এক অ্যাংলিকান যাজকের হেফাজতে। অ্যাক্রয়েড ঘোষের ভবিষ্যৎ জীবনের পথটি আঁকা হয়েছিল সরলরেখায় সোজা ও সরু : গ্রামার স্কুল থেকে লন্ডনে কিংস কলেজ, সেখান থেকে কেমব্রিজ এবং তারপর ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস। লিখিত পরীক্ষায় পাস করেন কিন্তু ঘোড়ায় চড়ার পরীক্ষায় অসফল হয়ে একুশ বছর বয়সে দেশে ফিরে আসেন অ্যাক্রয়েড। তাঁর মা তখন মৃত্যুশয্যায়। নিজের পুত্রকে তিনি চিনতে পারেননি, দুজনের মধ্যে ভাব বিনিময়ের কোনো ভাষা ছিল না, গর্ভধারিণী ও জাতকের চোখে জল গড়িয়ে পড়েছে কেবল। এরপর অ্যাক্রয়েড বরোদায় চলে যান।

    এদিকে বঙ্গভঙ্গের পর বাংলায় তখন প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে, মি’লেডি, জেগে উঠেছে বাঙালি জাতীয়তাবাদ। তাঁকে টেনে নিল সেই আগুন। মৃত্যুশয্যায় মায়ের সেই অব্যক্ত মর্মভেদী চাহনি আর নিজের স্থবির নির্বাক আবেগের স্মৃতি তাকে ঠেলে দিল সন্ত্রাসবাদী রাজনীতিতে। তারপর ঠাঁই হলো ব্রিটিশ কারাগারে।

    সেই চৈত্রের শেষরাতে বাগানের ধারে নির্জন মেটেঘরে বসে আমের বনে সড়সড় হাওয়ার শব্দের মাঝে গঙ্গারামকে নিজের জীবনের গল্প বললেন অ্যাক্রয়েড। বাইরে ঘন অন্ধকার, পালকি বেহারার ছদ্মবেশে তাঁর সঙ্গীরা অপেক্ষা করছে, চালতা গাছের ডালে ডানা ঝাপটাচ্ছে বাদুড়েরা।

    ‘এতগুলো বছর, এবং এতটা লম্বা জার্নির পর আমার চেতনা হলো জন্মের মুহূর্ত থেকেই আমি একটি ব্রিটিশ জেলখানায় বাস করছি। তখন আমি আমার ফেলে আসা জীবনের দিকে ফিরে তাকালাম, টের পেলাম আমার মনটা একটা অটোমেটিক মেশিনের মতো। আমি তার সুইচ বন্ধ করে থামিয়ে দিতে শিখলাম। আর তারপরেই অনুভব করলাম আমার ভেতর থেকে নৈঃশব্দ্য উঠে আসছে, যেমনভাবে কুয়োর ভেতর থেকে জল ওঠে। ভেতরের সমস্ত শক্তি দিয়ে আমি সেই কুয়োর ভেতরে ডুব দিলাম। দেখলাম অন্তরের সেই জলে কোনো রঙ নেই, কোনো গন্ধ নেই, কোনোরূপ সংস্কার নেই। বিদেশি শাসকের কোনো ডিক্রি সেই গভীরে পৌঁছতে পারে না। আর তারপর একদিন সেলের ভেতরেই আবিষ্কার করলাম আমি আমার নশ্বর বন্দি দেহটা থেকে আমার সেই স্বচ্ছ তরল অন্তরাত্মাকে বের করে আনতে পারছি। শূন্য থেকে দেখলাম কম্বলের ওপর আমার দেহটি শুয়ে আছে, তার গায়ে ডোরাকাটা গরাদের ছায়া। তারপর ক্রমশ আমি সেলের বাইরে, জেলখানার চৌহদ্দির বাইরে এসে ঈথারে ভেসে বেড়াতে শিখলাম, খুঁজে পেলাম মহাজাগতিক সত্তার সজীব সমুদ্র। তার ঢেউয়ে ঢেউয়ে অবিরাম ধ্বনিত হচ্ছে কোটি কোটি ভাষা, যা আমি এতগুলো দেশি বিদেশী ভাষা শিখেও বুঝতে পারি না। আস্তে আস্তে টের পেলাম এই শূন্যতার সমুদ্রে জালের মতো যে এত অসংখ্য ভাষা, তা শুধু বিশ্বের যেখানে যত জীবিত ভাষা আছে তাই নয়। যে ভাষাগুলো হারিয়ে গিয়েছে সেগুলিও আছে। আর সেই মৃত ভাষায় কথা বলছে বহুকাল আগে মৃত মানুষেরা। মৃতেরা মৃতের সঙ্গে কথা বলছে, জীবিতেরা মৃতের সঙ্গে কথা বলছে। এভাবেই আমি একদিন মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারলাম, আরও অনেকের সঙ্গে, আমি চেতনার নব ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ভাষাতরঙ্গে ভেসে বেড়াতে লাগলাম। এভাবেই একদিন শুনলাম এক জীবিত মানুষ তাঁর মৃত ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছেন — আর আপনাকে খুঁজে পেলাম!’

    ‘তুমি কি সেই উজ্জ্বল পথের সন্ধান পেয়েছ, যার কথা সেদিন বলেছিলে?’ গঙ্গারাম জিজ্ঞেস করলেন।

    ‘হ্যাঁ, আমি সেই পথেই বেরিয়ে পড়ছি। যাবার আগে আপনাকে বিদায় জানাতে এলাম।’ এই বলে গঙ্গারামকে হাতজোড় করে প্রণাম করলেন অ্যাক্রয়েড ঘোষ, কিন্তু পাদস্পর্শ করলেন না।

    যখন তিনি পালকিতে উঠলেন, দূরে কোয়ার্সভিলে গির্জার ঘড়িতে চারটের ঘন্টা বাজছে, অন্ধকার ক্রমশ পাতলা হয়ে আসছে। ওঁর সহচরেরা পালকি নিয়ে হুগলির ঘাটের দিকে গেল, যেখানে একটি নৌকা ওঁর জন্য অপেক্ষা করছিল। পালকিটা সাতগাঁর ঘুমন্ত জনপদ ছেড়ে, ধর্মতলা ছাড়িয়ে কেরেস্তান গোরস্তানের পাশের মেঠো গলিপথ দিয়ে এগিয়ে চলল চাঁদেরডাঙার দিকে। মার্টিন্‌স কোম্পানির রেললাইনের সাঁকোর নীচেটা গুহার মতো, সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশটা পার হতে যেতেই ভেতরে দুপাশ থেকে লাফ দিয়ে উঠল সাদা পোশাকের ইংরেজ পুলিশ। সার্জেন্ট পালকির পান্না-আঁটা দরোজার দিকে রিভলভার তাক করে চেঁচিয়ে উঠল –‘ইউ আর আড্ডার অ্যারেস্ট, মিস্টার ঘোষ!’

    পান্না খুলতে দেখা গেল ভেতরে কেউ নেই। এক কোণে পড়ে আছে কোরা ধুতি, চাদর আর তালপাতার চটি একজোড়া। মানুষটি তার ভেতর থেকে বেরিয়ে গিয়েছে, যেভাবে খোলস ছেড়ে রেখে যায় সাপ, যেভাবে গুটি কেটে বেরিয়ে যায় প্রজাপতি।

    চাঁদেরডাঙা ফরাসী উপনিবেশ, কিন্তু মার্টিন্‌স লাইট রেলওয়ে ব্রিটিশ কোম্পানি। রেললাইন গিয়েছে যে সরু জমির ওপর দিয়ে সেখানে ব্রিটিশ আইন চলে। কলকাতা থেকে পুলিশের দলটি এসে লুকিয়েছিল সাঁকোর নীচে। তখন ভোরের শান্ত হুগলির বুক চিরে পোর্তোহাটা আর্মানিডাঙা ওলন্দাজডাঙার জনহীন ঘাটগুলো পেরিয়ে ভাটির দিকে চলেছে এক আট দাঁড়ির ছিপ, তাতে বসে আছেন এক দিশি সাহেব। তাঁর পরনে থ্রি-পিস স্যুট, মাথায় বোলার হ্যাট, চোখে প্যাসনে, হাতে রুপো বাঁধানো ছড়ি। ঠিক এই পোশাকেই তিনি সতেরো বছর আগে পেসিফিক অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল কোম্পানির জাহাজে বিলেত থেকে কলকাতায় এসে নেমেছিলেন। আজ চলেছেন করমন্ডল শিপিং রুটে পন্ডিচেরিগামী জাহাজ ধরতে।

    .

    এই ঘটনার ঠিক পাঁচ দিন পরে চৈত্র সংক্রান্তির শেষ রাতে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম থেকে দুটি স্টিমার হুগলি নদী দিয়ে উজান পথে এল। একটি সোজা গিয়ে ভিড়ল বন্দর-হুগলির জাহাজঘাটায়, অন্যটি হুগলি খাল দিয়ে সরস্বতীতে ঢুকে উজিয়ে এল সাতগাঁয় আদিরামবাটির নিকটস্থ ঘাটের কাছে। রবারের ভেলায় পাঁচজন সশস্ত্র কনস্টেবল ও এক গোয়েন্দা নিয়ে সাহেব অফিসার এসে নামল সিঁড়িতে। জলের ধারে তখন গঙ্গারাম চক্রবর্তী সর্বাঙ্গে মাটির প্রলেপ দিয়ে পদ্মাসনে বসেছিলেন, দেখে চেনার উপায় নেই। তিনটি ধাপ ওপরে তাঁর আহ্নিকের হরিণচর্মের আসন আর গন্ডারের খড়্গের কোষা দেখে গোয়েন্দা সনাক্ত করল। নিরস্ত্র কর্দমাক্ত একজন অশীতিপরকে গ্রেপ্তার করার জন্য এত বিপুল আয়োজন করে এসে অফিসার বেশ অস্বস্তির সঙ্গেই অ্যারেস্ট ওয়ারেন্টটি পড়ল। গোয়েন্দা সেটি বাংলায় তর্জমা করতে যেতেই গঙ্গারাম বাঁ হাত তুলে তাকে নিরস্ত করলেন। তারপর তিনি বুক জলে নেমে তিনবার ডুব দিলেন, গায়ের মাটি ধুয়ে পরিষ্কার করলেন, গলায় উপবীতটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মার্জনা করলেন, দু হাতের তালু কোষবদ্ধ করে বসন্তের শেষ দিনে উদীয়মান সূর্যের দিকে ফিরে জলাঞ্জলি দিলেন। অবশেষে জল থেকে উঠে অশক্ত পায়ে এগিয়ে গেলেন ভেলার দিকে। সাহেব অফিসার তাঁর বাহু ধরে উঠতে সাহায্য করল।

    পুরো ঘটনাটি ঘটতে তিন মিনিটও লাগলো না। ঘাটে কেউ সাক্ষী ছিল না। তবে পাড়ের ওপর কিছুটা দূরে পোড়ো বর্গিব্যাটারির ছাত থেকে সেই দৃশ্য দেখেছিল বাঁটুল নামে এক বালক। প্রতিদিনের মতো সেদিন ভোরেও বর্গিব্যাটারির ছাতে উঠে একা একা শরীরচর্চা করছিল সে। গঙ্গারাম চক্রবর্তীকে সে চিনত। বাল্যকালে তিনি তার বাবা গুঁফো গোঁসাইয়ের বন্ধু ছিলেন, এ কথা সে বাবার মুখে বহুবার শুনেছে। ইংরেজ পুলিশ গুঁফোকে গ্রেপ্তার করে জেলে পোরে। সেই দৃশ্য চোখের সামনে দেখেছে বাঁটুল, কিছু করতে পারেনি। এবারও সে দূর থেকে অসহায়ের মতো দেখল, এবং খবরটা তৎক্ষণাৎ সাতগাঁয়ে ছড়িয়ে দিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }