Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৮.৫

    ৮.৫

    গামা হারিয়ে যাবার পর যেদিন সিঁড়ির নীচে ওর পুটলির মধ্যে গুপিযন্ত্রটা আবিষ্কার করে হেমন্ত কৌতূহলবশে হাতে নিয়ে কিছু না ভেবেই পিড়িং পিড়িং করে বাজালো, অস্পৃশ্য ধ্বনির তরঙ্গ ছড়িয়ে গেল আদিরামবাটিতে। টোলের বাড়িতে মশাইয়ের কর্ণকুহরে প্রবেশ করতেই তিনি আচমকা কেঁপে উঠে স্থির হয়ে গেলেন, হাত থেকে ছিটকে পড়ল ন্যায়মঞ্জরীর পুথি। তিনি শয্যা নিলেন। ভাইপো রামপ্রাণ এসে নাড়ি পরীক্ষা করে ভালো বুঝলেন না।

    গঙ্গারামের মৃত্যুর কিছুকাল পরে ইংরেজ সরকার সাতগাঁর পুরোনো ক্ষত নিরাময়ের উদ্দেশ্যে পণ্ডিত রামরাম শাস্ত্রীমশাইকে ধ্রুপদী জ্ঞানচর্চায় অবদানের জন্য সোনার পদক দিতে চায়। মশাই প্রত্যাখ্যান করে চিঠি লেখেন— ‘ভিনদেশী শাসক বলপূর্বক দেশের যেকোনো নাগরিকের হাতে হাতকড়া পরাতে পারে বটে, কিন্তু বিদ্বানের গলায় পদক ঝোলানোর অধিকার কেউ তাদের দেয়নি।’

    ইদানীং বেশ কিছুকাল ধরেই শাস্ত্রীমশাই তাঁর সেই আগের ব্রাহ্মণ্য তেজ হারিয়ে ফেলছিলেন, জলদগম্ভীর কণ্ঠস্বর স্তিমিত হয়ে এসেছিল। আগের মতো আদিরামবাটিতে তাঁর দৃপ্ত খড়মের শব্দ শোনা যেত না। টোলের বাড়ি থেকে বিশেষ বের হতেন না। কেবল পিতৃপক্ষে তর্পণের ক’টা দিন পাল্কি চেপে সরস্বতীর ঘাটে যেতেন। গুটিকয় বিদ্যার্থীকে কখনো-সখনো বেদান্তের দুরূহ সূত্র ব্যাখ্যা করে বোঝাতেন, ক্বচিৎ সমাজের লোকজন কোনো জটিল পারিবারিক বিষয়ে পরামর্শ নিতে এলে শাস্ত্রীয় বিধান দিতেন।

    সপ্তাহে তিনদিন উপবাস করতেন মশাই। অন্য দিনগুলোয় দিনে একবার তাঁর প্রসারিত ডান হাতের তালুতে যতটা অন্ন ধরে ঠিক ততটাই খেতেন। গঙ্গাজল ছাড়া কিছু পান করতেন না, কখনো আলু টমেটো কিংবা লঙ্কা দাঁতে কাটতেন না, কারণ সেসব ফিরিঙ্গিরা কালাপানির ওপার থেকে এনেছিল। হিমালয়ের সৈন্ধব লবণ ছাড়া অন্য কোনো লবণ এবং কখনো শর্করা জিভে স্পর্শ করেননি, কারণ দুফে সাহেবের চিনিকলে পশুর হাড়ের কয়লা দিয়ে চিনি পরিশোধন হয় তিনি জানতেন। ইদানীং তিনি বিশেষ কথা বলতেন না, যেটুকু যা বলতেন মূলত সংস্কৃতে। ফলে বাড়িতে তাঁর সঙ্গে কথা বলার মতো তেমন কেউ ছিল না।

    সম্প্রতি শাস্ত্রীমশাই প্রাচীন পুথিপত্র ঘেঁটে প্রমাণ করার চেষ্টায় ছিলেন যে সাতগাঁর পশ্চিম তীরে প্রবাহিত নদীটিই ঋগবেদে কথিত সেই সরস্বতী, যার মূল ধারাকে বিধর্মীদের দেশ আফগানিস্তানে বইয়ে দেবার তত্ত্বটা আসলে ইংরেজদের ষড়যন্ত্র। এই বিষয়ে তিনি হিন্দু মহাসভার সদস্যদের লম্বা লম্বা পত্র লিখছিলেন।

    মশাইয়ের জীবনের শেষ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ছেদ পড়ল। তিনি শয্যা নিলেন। সম্প্রতি স্নায়বিক বৈকল্যের কারণে তাঁর মাথাটা সর্বক্ষণ দুদিকে নড়ত–যে ব্যাধিটি শেষের দিকে তাঁর দিদি শাকম্ভরীরও হয়েছিল – পুজোয় বা ধ্যানে বসলেও মাথার পেছনে কাঠবেড়ালির লেজের মতো মোটা শিখাটি ক্ষান্তিহীন নড়ে যেত। দেখলে মনে হবে যেন তিনি নীরবে বলে চলেছেন— ‘না-না-না-না-না’।

    ‘পারকিনসন্স আর অন্যান্য বয়সজনিত সমস্যাগুলো আছেই, এছাড়া ঘন ঘন নিরম্বু উপবাস আর সুষম খাদ্যের অভাবে দেহযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়েছে,’ রামপ্রাণ বললেন। তিনি হোমিওপ্যাথি ওষুধ দিতে চাইলে মশাই রাজি হলেন না, মধুর সঙ্গে মকরধ্বজ মেড়ে দেওয়া হলো। তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে লাগল। তিনদিন পর নাড়ির ক্ষীণ গতি দেখে রামপ্রাণ বাড়ির সকলকে ডেকে মশাইয়ের ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁর অন্তর্জলীযাত্রার ব্যবস্থা করতে বললেন।

    বাইশে চৈত্র দখিনা মৌসম বইতে শুরু হবার দিন অপরাহ্ণ তিনটে একুশ মিনিটে মাহেন্দ্রযোগ শুরু হবার ঠিক আগে মশাইকে ঘাটে নিয়ে যাবার জন্য চৌকি নামানো হলো। তার আগে তিনি তাঁর ভাগনে বিশুর সঙ্গে একান্তে কথা বলার জন্য অন্যদের ঘরের বাইরে যেতে বললেন।

    টোলের বাড়িতে মশাইয়ের প্রায় আসবাবহীন পুবের ঘরে ওঁকে পালঙ্ক থেকে মেঝেয় নামিয়ে কাঠির মাদুরে শোয়ানো হয়েছে। ওঁর কপালে বাহুতে টাটকা চন্দনের তিলক কাটা হয়েছে, বিশুই কেটে দিয়েছে। মাথার পাশে গেরুয়া কাপড়ে বাঁধানো গীতা, বহু ব্যবহারে জীর্ণ। তার ওপর আদিরাম মন্দিরে বিগ্রহের পায়ের পাতা থেকে তুলে আনা তিনটি নীল অপরাজিতা। উঁচু ঘন ভুরুর নীচে কোটরস্থিত চোখদুটোয় আলো স্তিমিত হয়ে এসেছে, মুখের পেশি লোল হয়ে এসে উঁচু নাকটা জেগে আছে যেন খড়গের মতো, ঠোঁট দুটো নড়ে চলেছে।

    বিশীর্ণ ডান হাতটা সামান্য তুলে উনি ইশারায় কাছে ডাকেন, বিশু উবু হয়ে ঝুঁকে ঠোঁটের ওপরে কান পেতে শোনে–

    ক্রতো স্মর কৃতং স্মর ক্রতো স্মর কৃতং স্মর…

    যেন কুয়োর অতল থেকে উঠে আসা ক্ষীণ এক কন্ঠস্বর, ছেঁড়া ছেঁড়া বাক্যে বহুকাল আগের এক ভোরের কথা বলে, যেদিন একটি নীলসাদা তিনচাকার গাড়ি চালিয়ে এসেছিল দুই ফিরিঙ্গি সন্ন্যাসিনী। একজন তরুণী অন্যজন মধ্যবয়স্কা, তাদেরও পরনে সাদা গাউন আর মাথায় নীল ঘোমটার মতো। গাড়িটি ছিল সিস্টার্স দ্য ক্লুনি কনভেন্ট বেকারির। ভোরবেলায় ওই গাড়ি চালিয়ে নিয়ে সন্ন্যাসিনীরা মঠ পরিচালিত বিভিন্ন অনাথাশ্রম ও হসপিসে টাটকা পাউরুটি বিলি করত।

    তখন সবে আলো ফুটব ফুটব করছে, পথে জনমনিষ্যি নেই। সাতগাঁর বামুনপাড়ায় ইটবাঁধানো গলি দিয়ে খর্থর করে চাকা গাড়িটা আদিরামবাটির সদর দরজায় এসে থামল। ইতিমধ্যে ভেতর উঠোনে নিমগাছে প্রথম কাক ডেকে ওঠার আগেই মশাই প্রাতঃকৃত্য সেরে আসন কোষাকুষি নিয়ে নদীর ঘাটে গিয়ে আহ্নিকের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। তিনি দরজায় এসে দাঁড়াতে বয়স্কা সন্ন্যাসিনীটি ভাঙা ভাঙা বাংলায় জানালেন, তাঁরা একান্তে কথা বলতে চান। একটি বিশেষ বার্তা ও একটি অতীব মূল্যবান সম্পদ দিতে চান।

    মশাই বিষ্মিত হলেন, কিন্তু মুখে কিছু বললেন না। ওঁদের সদর থেকে ডেকে নিলেন বাগানের এপাশে ফার্মেসিবাড়ির বারান্দায়, গঙ্গারাম চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর রামপ্রাণ যেখানে বসতে শুরু করেছে। তরুণী সন্ন্যাসিনীটি গাড়ির বাক্স থেকে একটি বেতের ব্রেড বাস্কেট তুলে নিয়ে ওঁদের পিছু পিছু এল। বারান্দায় এসে বাস্কেটের ডালা খুলে ধরতে ফিকে আলোয় মশাই দেখলেন সাদা তোয়ালে মোড়া একটি ঘুমন্ত শিশু, সদ্য সেঁকে-আসা পাউরুটির মতোই তুলতুলে বাদামি। বয়স্কা সন্ন্যাসিনীটি তার গাউনের পকেট থেকে বের করে দিলেন একটি চিঠি, ভাঁজ খুলতেই মশাই হস্তাক্ষর চিনতে পারলেন।

    দিদি কাত্যায়নীর কন্যা বনলতা ওঁকে কলকাতা থেকে চিঠি লিখত। জীবনের অর্থ কী সে জানতে চাইত; নারীর আত্মা নেই এ কথা মনু কোথায় লিখে গিয়েছেন জানতে চাইত; আত্মা যদি নাই থাকে তাহলে মৃত্যুর পর নারীর কী ঘটে, এব্যাপারে শাস্ত্র কী বলে, জানতে চাইত; নিষ্কাম কর্মের ব্যাপারে বেদান্তের ব্যাখ্যা জানতে চাইত। মশাই কখনো সেসব চিঠির উত্তর দেননি।

    এই চিঠিটি তিনি দেখলেন। চোখ তুলে শিশুটিকে একবার দেখলেন। তারপর জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালেন প্রবীণা সন্ন্যাসিনীটির মুখে, যাঁর চোখে গোল রুপোলি ফ্রেমের চশমা, বাম চিবুকে একটি বড়ো আঁচিলে সোনালি রোম।

    সন্ন্যাসিনী থেমে থেমে বললেন সেই দুঃস্বপ্নের রাতের কথা, যখন কলকাতা থেকে ইংরেজ পুলিশ এসে কোয়ার্সভিল ঘিরে ফেলেছিল। ভোর ফোটার আগে, আত্মগোপনকারী বিপ্লবীদের ডেরায় হানা দেবার আগে, বনলতা শিশুটিকে আঁচলে জড়িয়ে কোমরে লুকিয়ে নিয়ে পূণ্যার্থীর ছদ্মবেশে পেতলের কলসি কাঁখে গঙ্গাস্নানে যাবার অছিলায় পালিয়ে এসে কড়া নেড়েছিল মঠের দরজায়। শিশুটিকে এবং এই চিঠিটি যথাস্থানে পৌঁছে দেবার জন্য গচ্ছিত রেখে যায় সে। ও দুটি জিনিস গ্রহণ না করে মঠের প্রধানা সন্ন্যাসিনীর কোনো উপায় ছিল না, তার কারণ সাক্ষাৎ মৃত্যু ওকে যে ধাওয়া করছে সেটা ওর চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল।

    সেটা চিঠিতে ওর হাতের লেখাতেও স্পষ্ট– অসংলগ্ন, প্রায় যতিচিহ্নহীন, যার সঠিক ব্যবহার সে জানত, যা মশাই ওকে রজস্বলা হবার আগে শিখিয়েছিলেন। ব্রেড বাস্কেটের ভেতর শিশুটির দিকে আর দৃকপাত না করে তিনি দ্রুত চিঠিটিতে চোখ বোলালেন, কোথাও অনুশোচনা কিংবা ক্ষমা চাওয়ার কথা লেখা আছে কি না দেখলেন।

    নেই। বনলতা কেবল শিশুটির জন্মের কথা লিখেছে। কোন পরিস্থিতির ভেতর তাকে এই পথ বেছে নিতে হয়েছে সে কথা লিখেছে। আত্মাবিহীন এক তুচ্ছ নারীর জীবন যদি দেশমাতাকে শৃঙ্খলমুক্ত করার জন্য কোনো কাজে লাগে সেজন্য, যে পুরুষেরা সে কাজে নিজেদের উৎসর্গ করে আগুনঝরা পথে হেঁটেছে তাদের পাশে থেকে, অতুল দাস নামে তাদেরই একজনকে বিবাহ করেছে সে। তার সন্তান গর্ভে ধারণ করেছে, যাতে ইংরেজ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে আরও কিছুদিন ওরা বেঁচে থাকতে পারে, আরও কিছু কাজ করে যেতে পারে। লিখেছে—

    তবু শেষপর্যন্ত এই দুঃখ নিয়ে চললাম যে আমার আর শহীদ হওয়া হলো না আমার জীবনটা একটা অনুজ্জ্বল কাহিনি হয়েই থেকে গেল শেষপর্যন্ত। তুচ্ছ বিস্মৃত, আর এখন আমি যখন পেছনে ফিরে এই জীবনটার দিকে তাকাই তখন মনে হয় সেই তো বিয়ে করলাম স্বামীসেবা করলাম সন্তানধারণ করলাম নারীর জন্য মনু যা যা বলে গিয়েছেন সেই সবই তো করলাম। তবু এটুকু সান্ত্বনা যে এসবই আমি করেছি একটি বড়ো লক্ষ্যের দিকে তাকিয়ে যেখানে আমি কোনোদিন পৌঁছতে পারব না।

    রাত এখনও অন্ধকারে ঢাকা শিগগিরই একটা নতুন দিন জেগে উঠবে, আমার এই শিশু সন্তানের জন্য নতুন কিছু নিয়েই সে আসবে আমি নিশ্চিত করেই জানি। কেবল আমি তখন তার পাশে থাকব না কিন্তু সেজন্য আমার একটুও আর দুঃখ নেই। আমার কেবল দুঃখ এরপর থেকে আদিরামবাটির কোনো মেয়ের পক্ষে বদ্ধ অন্ধকার গন্ডির থেকে বেরিয়ে বাইরে এসে শিক্ষার আলো পাওয়া আরও অনেক বেশি কঠিন হয়ে গেল সেটা আমি জানি। আর এবার আমায় সেই পথে যেতে হবে যেখানে আমি ওকে নিয়ে যেতে পারিনা তাই নিরাপদ হাতে গচ্ছিত রেখে গেলাম। আমি ওর নাম রেখেছি অভিমন্যু। ওর বাবা যা পারল না, তেত্রিশ কোটি দেশবাসীকে যে চক্রব্যূহের ভেতর পুরে রেখেছে রক্তচোষা ইংরেজ শাসকেরা আমি আশা রাখি একদিন ঠিক ও সেটা ভেঙে ফেলতে পারবে।

    পড়তে পড়তে কলকাতা থেকে লেখা চিঠিতে বনলতার মনের বিচিত্র গতিপ্রকৃতি, যার উত্তর তিনি কোনোদিন দেননি, মশাইয়ের কাছে স্পষ্ট প্রতীয়মান হল। তিনি চিঠিটি ভাঁজ করে বয়স্কা সন্ন্যাসিনীর হাতে ফেরত দিলেন। এবং দুই ফিরিঙ্গিনীর উৎকণ্ঠাভরা চাহনির সামনে তাই করলেন, যা তিনি এগারো দিন আগে করেছিলেন, যখন মন্দিরে নিয়মিত মাটির পাত্রের যোগান দেয় যে রঘু কুমোর সে এসে ওঁকে চুপি চুপি বলেছিল—

    ‘হুগলির খালে কাল থেকে এটা মড়া ভাসছে গো ঠাউরমশাই! মেয়েমানুষের মড়া! দেখে যেন মনে হয় সে এবাড়ির কেউ!’

    মশাই রঘুর মুখের সামনে দড়াম করে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

    ‘ও কার সন্তান তার কী ঠিক আছে?’ বাস্কেটের দিকে না তাকিয়ে মশাই বললেন। ‘কোন গর্ভে জাত, কোন বীজ!’

    ‘মৃত্যুর ছায়ায় দাঁড়িয়ে কেউ মিথ্যা বলে না, বয়স্কা সন্ন্যাসিনী বললেন। ‘তাছাড়া সে কলকাতার নামী কলেজে বিদ্যা লাভ করেছে, কী লিখছে সে জানত।’

    ‘এই যদি তার পরিণতি হয় তাহলে সেই বিদ্যা অর্জন করে কী লাভ?’ মশাই বিরক্ত স্বরে বললেন।

    ইতিমধ্যে শিশুটি জেগে উঠেছে, কাদতে শুরু করেছে। বাগানে সবে দুটি- তিনটি পাখি ডাকতে শুরু করেছে তখন, সেই পলকা প্রহরে নবজাতকের কান্নার ধ্বনি বিচিত্র তীক্ষ্ণতায় বাজতে লাগল। তরুণী সন্ন্যাসিনী ব্রেড বাস্কেটটি বাঁ হাতে তুলে দোলাতে লাগল, ডান হাতে ওর মুখের সামনে একটি সবুজ অ্যাগট পুথির জপমালা ঝাঁকিয়ে শব্দ করতে লাগল। শিশুর কান্না সামান্য স্তিমিত হলো, থামল না। ক্ষুদে হাত তুলে সে চকচকে রুপোর ক্রুশটি ধরার চেষ্টা করতে লাগল।

    সকাল হচ্ছে, বাড়ির লোকজন এবার জেগে উঠবে। অবিচলিত মশাই ফার্মেসির বারান্দা থেকে নেমে সদর দরজার দিকে এগোতে লাগলেন, ইঙ্গিতটা স্পষ্ট।

    ‘আমাদের ধর্মে উচ্চ বর্ণের কোনো মেয়ে যদি নীচু বর্ণের কোনো পুরুষকে বিবাহ করে তাকে অনুলোম বিবাহ বলে,’ মশাই বললেন। ‘সেই বিবাহে জাতক অপবিত্র। এই বাড়িতে শ্রীরামচন্দ্র আছেন, এখানে আমরা তাকে আশ্রয় দিতে পারি না।’

    ‘আমি তোমাদের ধর্ম বেশি কিছু জানি না পণ্ডিত, কিন্তু রামায়ণের কাহিনি কিছু জানি, বয়স্কা সন্ন্যাসিনী দরজার সামনে এসে বললেন; নিষ্ফল প্রচেষ্টার শ্রমে তাঁর মুখে লাল আভা ফুটেছে। ‘রামও বনে জন্ম লব-কুশকে স্বীকার করেছিল। কিন্তু এই নিয়ে আমি তোমার সঙ্গে তর্ক করব না। কঠিন সময়ে জন্মেছে এই শিশু, তার মা তোমার পরিবারের মেয়ে, তাকে বাড়িতে নিতে তোমার ধর্মে বাধা আছে। কিন্তু আমার ধর্ম ঈশ্বরের সৃষ্টি সব শিশুকে আশ্রয় দিতে আমায় আদেশ দেয়। আচ্ছা, তাই হোক। আমি ওকে কনভেন্টে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। দেখা যাক প্ৰভু ওর জন্যে কোন পথ তৈরি করে রেখেছেন।’

    *

    চৈত্রের প্রথম বাণিজ্যবায়ুতে হু হু পাতাঝরার বিকেলে মশাইকে সরস্বতীর ধারে অন্তর্জলিযাত্রায় নিয়ে যাবার পর সেদিনই সূর্য ডোবার আগে তিনি দেহত্যাগ করলেন। তখন মরা নদীতে ভাটা চলেছে, খাতের প্রায় মাঝামাঝি কাদার ওপর দেহের উপরিভাগ দুদিক থেকে হাতের বেড় দিয়ে ধরে রেখে কোমর থেকে পা পর্যন্ত কোনোক্রমে জলে ভেজানো হলো। হাঁটুডোবা কাদায় দাঁড়িয়ে তিনদিক থেকে ঘিরে রইল শ্মশানযাত্রীরা, রামপ্রাণ নাড়ি ধরে রইলেন, বিশু ঠাকুর মুখের ওপর ঝুঁকে পড়ে কান পেতে অপেক্ষা করতে লাগল প্রাণবায়ু নির্গত হবার ধ্বনির জন্য। সেই দুপুর থেকে এভাবে থাকার পর সে মশাইয়ের প্রতিটি ক্ষীণ শ্বাসঘাত, প্রতিটি অন্তিম ধ্বনির উচ্চাবচতা বুঝতে পারছিল। ঠোঁট নড়া থেমে গিয়েছিল, কিন্তু মৃত্যুর চিরচেনা

    ঘর্ঘর ধ্বনির সঙ্গে জড়িয়ে উদগত হচ্ছিল সেই কটি চরণ

    যদি তু গতিবিহীনং তারয়েঃ পাপীনং মাং
    যদি তু গতিবিহীনং তারয়েঃ পাপীনং মাং…
    সুরধুনি মুনিকন্যে তারয়েঃ পূণ্যবন্তং
    স তরতি নিজ পুণ্যেইস্-তত্র কিং তে মহত্ত্বম্
    যদি তু গতিবিহীনং তারয়েঃ পাপিনং মাং
    তদি হ তব মহত্ত্বং তন্মহত্ত্বং মহত্ত্ব

    নাড়ির স্পন্দন থেমে যাবার মুহূর্তে দ্বিধায় বিস্ফারিত চোখদুটো নিবদ্ধ হলো নদীর ওপারে, নিষ্পত্র শিরীষের ডালপালায় কাটাকুটি অতিকায় লাল থালার মতো সূর্যটার দিকে। পরাণ ডাক্তার তর্জনী ছুঁইয়ে দুই চোখের পাতা নামিয়ে দিলেন। তারপরেও মশাইয়ের মণির ভেতরে রয়ে গেল একটি দৃশ্যের রেশ—নবজাতকের মুখের ওপর একটি সবুজ পুঁতির জপমালা, ঝুমঝুমির মতো বেজে চলেছে, শিশুটির ক্ষুদে হাত ধরতে চাইছে রুপোর ক্রুশটি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Next Article জীবন স্রোতের আঁকেবাঁকে – অর্পিতা সরকার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Our Picks

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }