Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৯.৫

    ৯.৫

    দুফের চিনিকলে মন্দা চলেছে। ছাড়িগঙ্গার ওপারে উর্বর জমিগুলোয় ইংরেজ কোম্পানির চাপে আফিমের চাষ করতে বাধ্য হচ্ছে চাষিরা, আখের জোগানে টান পড়ছে। এদিকে কিছুকাল হলো ক্যারিবিয়ান থেকে জাহাজ বোঝাই করে চিনি আসছে কলকাতায়, মিহি সাদা দানার আকারের সত্যিই— ‘সফেদ তুষার’ যা গলে যায় না। প্রতিযোগিতার বাজারে এঁটে উঠতে পারছে না দুফের কলে প্রস্তুত ছাঁচে-ফেলা চিনি, এদিকে নতুন কলকব্জা বসিয়ে আধুনিকীকরণেরও কোনো উদ্যোগ নেই। ক্রমশ ক্ষয়ের ছবি ফুটে উঠছে চিনিকলে, চারপাশের জমিতে ঝোপজঙ্গল বাড়ছে, টিনের চালে মরচে আর দেওয়ালে শ্যাওলার ছোপ, যা একশো বছরেরও বেশি পরে বাপ্পা মায়ের সঙ্গে মার্টিন্‌স কোম্পানির ছোটো রেলগাড়িতে চেপে সাতগাঁ যাবার সময়ে দেখবে।

    ব্র্যোগের পকেট ঘড়িটা বন্ধ হবার পর যে বিচিত্র সময়হীনতার অনুভূতি হয়েছিল শার্লের, ঘড়ি সচল হবার পরেও, ঘড়ির কাঁটা সাড়ে তিনঘন্টা পিছিয়ে দেবার পরেও, সেটা কাটল না। এদিকে বেশ কয়েকটি গ্রীষ্ম কোয়ার্সভিলে কেটে গেল। মার্চের দুপুরে দাবদাহের সময় শ্বেতাঙ্গ পাড়ার বাসিন্দারা বাংলোর দরজা জানলা এঁটে ভেতরে সেঁধিয়ে থাকে। পথঘাট মধ্যরাতের মতো শুনশান, রাত্রিগুলো সজীব মুখর, অচেনা ফুলের গন্ধে বিস্ফারিত। ছকে-বাঁধা জীবন কাটে শার্লের। সকালে বাংলোয় প্রাতরাশের পর কলের অফিসে গিয়ে ঘন্টা দুই জমাখরচের হিসেব নিকেশ, কলকাতায় পাইকারি এজেন্টদের চিঠি লেখার কাজ, দুপুরে বাংলোয় ফিরে লাঞ্চের পর নিয়মমাফিক সিয়েস্তার প্রহরটা সে কাটায় ট্যাভার্নে। তিন মাসের বাসি লা প্রেস কাগজটা খুঁটিয়ে পড়ে, সংবাদে বিজ্ঞাপনে ছেড়ে আসা প্রিয় শহরটাকে খোঁজে। ওই শহরে জীবনের একুশটা বছর ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে ভোররাতের স্বপ্নের মতো। তিন ট্রাঙ্ক ভর্তি কবিতা আর গদ্যসাহিত্যের বইগুলো অচেনা অপাঠ্য হয়ে ওঠে, এমনকি মারকুইস দে সাদ-এর সোডোমের ১২০ দিন-ও বিস্বাদ লাগে। এখন সে কেবল ট্যাভার্নের লাইব্রেরিতে সস্তা কাহিনিকারের লেখা জীর্ণ বহুপঠিত রগরগে বইয়ের ভাষা সইতে পারে।

    ফিরিঙ্গিডাঙার জীবন ব্যাকুল লালসাময়,অবসাদগ্রস্ত, ইন্দ্রিয়পরায়ণ। আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রয়েছে মৃত্যু— মৃত্যুর শ্বাস, মৃত্যুর গন্ধ, মৃত্যুর ধ্বনি। দিনের বিভিন্ন প্রহরে গির্জার ঘন্টা বাজে, কফিনবাহক ঘোড়ার গাড়ি ক্যাচক্যাচ শব্দ করে গোরস্তানের দিকে চলে যায় শার্লের বাংলোর পাশের রাস্তা দিয়ে। কেরেস্তান গোরস্তানের সীমানা বেড়ে চলে। ক্যাথলিক চার্চের ব্যবস্থাপনায় নতুন নতুন জমি অধিগ্রহণ চলে। ‘এখানে মাটির ওপরে যত সাদা চামড়ার মানুষ থাকে, মাটির নীচে শায়িত মানুষের সংখ্যা তার থেকে কম করেও আট গুণ বেশি।’ মসিয়ে লাহুস বলেছেন। গোরস্তানের জন্য অধিকৃত জমি বাড়তে বাড়তে সাতগাঁ বন্দরের প্রাচীন এলাকায় ছড়িয়ে গিয়েছে। কবরের মাটি খুঁড়তে গিয়ে উঠে আসে চীনা পোর্সেলিনের টুকরো, কড়ি, সুলতানি আমলের মুদ্রা, সরু ইটের স্থাপত্যচিহ্ন। এক ইতিহাসের প্রবাহ আরও গভীর ইতিহাসের প্রবাহে মেশে।

    এক দুপুরে ট্যাভার্নে না গিয়ে শার্ল হাঁটতে হাঁটতে চলে এল কেরেস্তান গোরস্তানের দিকে। ছায়াঘন ঝাঁকড়া আমের গাছ, তালবীথির ছায়ায় শ্যাওলায় আকীর্ণ প্রাচীন গম্বুজের আকারের সৌধগুলো খাড়া। সবই বিগত শতাব্দীর, পাথরের ফলকে লেখা নাম আর এপিটাফগুলো লাইকেনে ঢেকে অস্পষ্ট হয়েছে। যেটুকু যা পড়া যায় প্রায় সকলেই পুরুষ, এবং প্রায় সকলেই অতি তরুণ। এদিকে কেউ ফুল দিতে আসে না, চারিদিকে অযত্নের ঝোপঝাড়। শিয়ালের দল ছানাপোনা নিয়ে থাকে। দিনের আলো ফুরিয়ে এলে প্রহরে প্রহরে ডাকে, শার্লের রাতের ঘুম ফর্দাফাই করে। ইউরোপীয় শাসনাধীন নির্দিষ্ট এলাকার সীমানা অগ্রাহ্য করে শিয়ালেরা রাতভর যাতায়াত করে সরস্বতীর পাড় থেকে হুগলির পাড়ে।

    ঝোপঝাড়ের ভেতর দিয়ে সুঁড়িপথ কিছুদূর গিয়ে ঢাল বেয়ে উঠেছে রু দ্য বেনারসে, খানিকটা যেতেই ডান দিকে একটি নজর-কাড়া কবরের সৌধ। অনেকটা হিন্দু মন্দিরের আদলের, উঁচু বেদির ওপর দুই স্তরে থামে ঘেরা, ওপরে নব্য ধ্রুপদী নকশায় গম্বুজ। পাথরের ফলকে লেখা রয়েছে নাম Susanna Anna Marial নামটা চেনা লাগে, মনে পড়ে যায় এদেশে আসার পর প্রথম বার ট্যাভার্নে গিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে আলাপের পর সে বলেছিল— ‘এই শহরে দেখার মতো কিছুই নেই, কেবল দুটো ঐতিহাসিক সৌধ আছে। একটি পাথরের আরেকটি রক্তমাংসের। পাথরেরটি দু পা হাঁটলেই দেখতে পাবে রু দ্য বেনারসের ধারে, সাত সাহেবের বিবির কবর। রক্তমাংসেরটি দেখার জন্য কোথাও যেতে হবে না, এখানেই তিনি এসে পড়বেন একটু পরেই। তিনি মঁসিয়ে পিয়ের লাহুস, লিজ-দ্য-নর।’

    ধনী ওলন্দাজ বিধবা সুজানা আনা মারিয়ার নাকি প্রেমিক ছিলেন পিয়ের লাহুস, এবং তিনিই একমাত্র সেই মোহিনীর আলিঙ্গনের নাগপাশ থেকে বেঁচে ফিরে আসেন। তার আগে দুই স্বামী ও পাঁচজন প্রেমিকের কেউই বাঁচেনি। প্রচুর ধনসম্পত্তি রেখে মারা যান সুজানা, মৃত্যুর অনেক আগেই ভেনিস থেকে স্থপতি আনিয়ে কবরের সৌধের নক্শা তৈরি করান। লোকমুখে সাত সাহেবের বিবির কবর। এদিকটায় কেউ মাড়ায় না, কারণ এখনও নাকি সুজানার অতৃপ্ত আত্মা গোরস্তানের আশেপাশে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। একাকী পুরুষ দেখলে তাকে ভুলিয়ে নিয়ে গিয়ে মারে। শার্ল কোয়ার্সভিলে আসার দুবছর আগে এক তরুণ ফ্যাক্টরের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল ওই সৌধের দোতলায়।

    এসবই শার্ল জেনেছে ক্ল্যারেটের আবেশে আকীর্ণ ট্যাভার্নে বসে। কিন্তু বিকেলের পড়ন্ত আলোয় প্রাচীন বট পিপুলের ছায়ায় জায়গাটা নিজের চোখে দেখে কেমন স্নিগ্ধ মায়াময় মনে হয়। এখানে দু-দুটি প্রজন্মের পুরুষেরা শায়িত আছে মাটির নীচে। তাদের চিহ্ন মুছে গিয়েছে পৃথিবী থেকে। গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরেও মাটি থেকে উঠে আসে হিম, যেন মৃতদের স্মৃতিলোপী হিমবাহ শ্বাস। ঝাপসা এপিটাফগুলো পড়ার চেষ্টা করে সে, টুকরো টুকরো তথ্য আর স্থান কালের উল্লেখ সাজিয়ে মনে মনে মৃতদের কাহিনিগুলো বোনে, কখনো কল্পনা করে এরই মাঝে তার নিজের কবর— এই সবুজ ছায়া, এই আর্দ্র মাটির শ্বাস, পাথরের গায়ে লাইকেন ছেয়ে আসা সময়ের গাঢ় চিত্ররূপ।

    একটা ভোঁ ভোঁ শব্দ কানে আসে, প্রথমে মনে হয় বাংলোর চালে মৌচাকের মতো। ঝুপসি কাঁঠালগাছের ওপাশ থেকে আসছে শব্দটা, ঢেউয়ের মতো উঠছে নামছে, যেন কুলকুল ঝোরার ধ্বনি, কিংবা কুলোয় শস্য ঝাড়া হচ্ছে। আকন্দের ঝোপ ঠেলে ঢালু দিয়ে নেমে কাঁঠালগাছের ওদিকটায় যেতেই চোখে পড়ে খোঁড়া কবরের মাটি, নুড়িপাথরের ওপর পড়ে আছে এক নারীর শব, গলস্ত, শূন্যে উদাসীন দুটি পা তোলা, উদর ফেঁড়ে নাড়িভুড়ি বেরিয়ে এসেছে। বিকট বাষ্পে ভরে আছে জায়গাটা, শ্বাস নিতে মাথা ঘুরে যায়। খোলা আকাশের নীচে অস্তগামী সূর্যের তেরছা লাল আলোয় দেহটা পড়ে আছে নারকীয় ফুলের মতো ঝাঁকে-ঝাঁকে মাছি পচে ওঠা গলা জঠর ছেয়ে আছে, কালো স্রোতে সপ্রাণ ঢেউয়ের মতো কৃমির সৈন্যদল, সব মিলিয়ে আশ্চর্য জীবন্ত হয়ে আছে।

    ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে একটা কুকুরী রুষ্ট চোখে শার্লকে দেখে, অপেক্ষা করে। কেরেস্তান গোরস্তানের ভেতর দিয়ে ফিরে যাবার সঁড়িপথ ধরে সে।

    খানিকটা পথ যাবার পর শুকনো পাতার মচমচ্ শব্দে ঘাড় ফেরাতে দেখে একটি কৃষ্ণবর্ণ মেয়ে। এক টুকরো সাদা কাপড় তার কোমরে জড়ানো, ঊর্ধ্বাঙ্গ অনাবৃত, হেঁতাল পাতার ঝাঁটা হাতে সৌধের চারিধারে ঝরা পাতা ডাঁই করছে। শার্ল চেয়ে থাকে ওর দিকে, চোখাচোখি হয় একবার। কালো মুখে শান্ত সাদা একজোড়া চোখ, নিস্পৃহ অথচ সতর্ক। খুব ধীরে ধীরে, মাটির নীচে মানুষগুলোর সম্মিলিত সময়ের ভারে যেন বা শ্লথগতি, মেয়েটি ঝরা পাতা গর্তের ধারে এনে জমা করে, অগ্নিসংযোগ করে। এক হাতে চোখ ঢেকে ধোঁয়া থেকে আড়াল করে, অন্য হাতে লম্বা লাঠি নিয়ে লকলকে আগুনের শিখায় পাতার স্তূপ উলটে দিতে থাকে।

    আলো কমে আসছে, তাপবাষ্পে দুলছে মেয়েটির মরীচিকাবৎ দেহ। গোধুলির পীতাভ আলোয় তার মাথার ওপর মশার ঝাঁক লম্বা মুকুট সৃষ্টি করেছে। একটি দুটি চামচিকে উড়ে উড়ে এসে তাদের শিকার করছে।

    যেন মৃত্যুর দেবী সে।

    .

    দিন কয়েক কেরেস্তান গোরস্তানে যাতায়াত করে শার্ল সাত সাহেবের বিবির সৌধের পেছন দিকে পাকুড় গাছের আড়ালে তালপাতার এক অদ্ভুতাকৃতি গোলাকার কুঁড়ে দেখতে পেল। এই রকম কুঁড়ে এই অঞ্চলে দেখা যায় না। সামনে নিকানো উঠোন, বেঁটে কাঠালগাছে বাঁধা একটি ছাগী, পোড়ামাটির পাড় দেওয়া কুয়ো।

    একদিন পড়ন্ত বিকেলের আলোয় শার্ল ভালো করে দেখল ওকে: সাদা বস্ত্রখন্ড কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত নেমেছে, লম্বা চুল একটি মাত্র বিনুনিতে বাঁধা, গোড়ালিতে মোটা ধাতুর মল, ঊর্ধ্বাঙ্গ সম্পূর্ণ অনাবৃত। প্রতিদিন সে ঝাঁট দিয়ে শুকনো ডালপাতায় আগুন ধরায়, মাথার ওপর মশার মিশরীয় মুকুট, টানা চোখ অপাঙ্গে দেখে, মুখের আদলে ফোটে পিরামিডে আঁকা নারীর মুখের প্রোফাইল।

    কখনো আরেকজন নারীকে দেখা যায়। এক বৃদ্ধা, মুখভর্তি বসন্তের দাগ। দেখে মনে হয় মেয়েটির দিদিমা। দিন ফুরিয়ে আসার পর নীলাভ আলোয় ডেরার পাশ দিয়ে যেতে গিয়ে শার্ল দেখে, কুয়োর ধারে পা ছড়িয়ে বসেছে সে, আর বৃদ্ধা বালতিতে জল তুলে ওর মাথায় ঢালছে। বিস্ফারিত রাত্রির ভেতর গলে মিশে যাচ্ছে মেয়েটি, রাতে-ফোটা ফুলের প্রস্ফুটনের ধীর সময়ে, পাথরের সৌধের গায়ে দেবদূতের দল অন্ধ, শ্যাওলাকীর্ণ চোখ মেলে রয়েছে।

    *

    ভাগনে এদেশে আসার পর এতগুলো বসন্ত কাটল কিন্তু এখনও সে কার্টুনিডাঙায় পা রাখেনি, চিনিকলে যুবতী কামিনদের গায়ে হাত দেয়নি। একটু চিন্তিতই ছিল অগস্টিন দুফে। এতদিনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল, জুলি ডিলিমাকে ডেকে পাঠাল।

    জুলির অজ্ঞাতসারে ফিরিঙ্গিডাঙার কোনো গাছের একটি ফুলও খসে না, একটি মেয়েও কুমারীত্ব হারায় না। তার নিজের যৌবন অস্তাচলে যাওয়ার সঙ্গে তাল রেখে প্রতিপত্তি বেড়েছে। জুলি ডিলিমার দুই হাতের আঙুলে আশ্চর্য জাদু, দেহের গ্রন্থিতে গ্রন্থিতে সব রকমের ফিক ব্যথা, মচকানো ব্যথা, গেঁটে বাতের ব্যথা, প্রবাসে নির্বাসনের ধুকধুকে ব্যথা, ঈর্ষার চিনচিনে ব্যথা, পরনারীর জন্য টনটনে ব্যথার নিরাময় জানে সে। কোয়ার্সভিলের বাংলোয় ভিলায় ঘন ঘন ডাক পড়ে তার।

    দিন সাতেকের মধ্যে খবর বয়ে আনল জুলি। লাউঞ্জ চেয়ারে এলানো দুফের পেছনে দাঁড়িয়ে সাহেবের ঘাড়ে মাথায় চরকি-চম্পি মালিশ দিতে দিতে বললো-

    ‘কেরেস্তান গোরস্তানের ওই বুড়িটা বোবা, নাম উমাপেনু। ক্লুনির মঠের খাতায় তাই লেখা আছে। মেয়েটি ওই বুড়ির নাতনি। দাস ব্যবসা লাটে ওঠার সময় মঠের নানরা যে দলটাকে নিয়ে আসে, ওরা ছিল তার মধ্যে। তার আগে এখান থেকে স্লেভারে চেপে মালাবারে গিয়েছিল বুড়ি। তখন ভরা যুবতী, পেটে নাকি বাচ্চা ছিল। নিজেই আগ বাড়িয়ে গিয়েছিল, কেউ ধরে নিয়ে যায়নি। সাতগাঁ তখন গুটি বসন্তে উজাড় হচ্ছে। তার ছোবল থেকে রক্ষে পায়নি, কিন্তু প্রাণেও মরেনি। কফি খামারে গিয়ে মেয়ে বিয়োয়। এরপর যা হয়, মা মেয়ে দুজনেই খামারে ওভারসিয়ারদের বিছানায় বিছানায় ঘুরতে থাকে। সেই মেয়ের পেট ফুলল, বাচ্চা বিয়োতে গিয়ে ম’ল। এই হলো সেই কফিখামারের মেয়ে, বাপের ঠিক নেই।’

    ‘ম্যানিফ্যিক্! তুই একটি রত্ন রে জুলি!’ দুফে বলে। চরকি-চম্পির আরামে তার চোখদুটো বুজে এসেছে, চিবুকের থলি ঝুলে পড়েছে বুকের ওপর। ডান হাতে তর্জনি আর বুড়ো আঙুলের মাঝে চিকচিক করে একটি রুপোর মুদ্রা, বাঁ হাতটা জুলির স্কার্টে-ঢাকা শিথিল নিতম্বে মাথা কোটে।

    ‘আমায় তো তুমি জলে ফেলেছ ম্যসিয়ে, এখন আর সোহাগ দেখিয়ে কী হবে?’ রুপোর টাকাটা ছিনিয়ে নিয়ে ঝটিতি সরে যায় জুলি, কপট রাগে ঠোঁট উলটোয়। ‘কিন্তু জলে পড়েও এই জুলি ডিলিমা ডুবে মরেনি। অনেক ঘাটের জল খেয়ে ভেসে রয়েছে!’

    দুফে ফের চোখ বুজে ঝিমুনির ভান করে। অনাবৃত ঘাড়ে চর্বির পরতে জুলি ডিলিমার আঙুল চলে, জিভ চলে সেই সঙ্গে—

    ‘দাসপ্রথা নিষিদ্ধ হলো, যে যে এলাকা থেকে ক্রীতদাসীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ক্লুনির মঠের নানরা তাদের সেসব জায়গায় ফিরিয়ে দিল। কিন্তু উমাপে তার পুরোনো বসতিতে ফিরতে চাইল না। গুটি বসন্তে সব উজাড় হয়েছে, কোথায় যাবে? থাকলেই বা কে ওদের ঘরে তুলবে? দুজনকে তাই দীক্ষা দিয়ে মঠে নেওয়া হলো বটে, কিন্তু মালাবারের সেই কফিখামারের পুরোনো অভ্যাস ছাড়ানো গেল না। বুক খোলা রেখে কোমরে কাপড় ঝোলায়, গাছপাথরের দেবতা পুজো করে। রবিবার চাল-ডাল-আলু নিতে মঠে যায় কিন্তু প্রার্থনা করে না। শহরের বাইরে কবরখানায় ওদের কাজ দিয়ে রাখা হয়েছে। হাফ-ফিরিঙ্গি আত্মহত্যা আর বিবাহবহির্ভূত জাতকদের শব গোর দেওয়া হয় ওদিকে। অনেকে গরীবগুর্বো, গোরের ওপর পাথর বসানোর টাকা জোগাড় করতে পারে না সহজে। ততদিন ওই বুড়ি আর তার নাতনি বাঁশ-কাঁটার বেড়া দিয়ে শেয়ালের থেকে বাঁচিয়ে রাখে।’

    বাংলোর বারান্দায় জুলির মুখোমুখি পড়ে যায় শার্ল। মামার প্রাক্তন রক্ষিতা ভাগ্নের ওপর অধিকার বশে তার থুতনি ছুঁয়ে উড়ন্ত চুমু ছুঁড়ে দেয়।

    ‘তুমি চিন্তা কোরো না বাছা। যে ফুল তোমার মনে ধরেছে আমি ঠিক তুলে এনে দেব। সেজন্য আমার হাতে একটু আধটু কাঁটা ফুটলেই বা কি!

    কোনো এককালে আকর্ষণীয়া ছিল জুলি, সময় আর ভাগ্য তার সর্বাঙ্গে থাবা বসিয়েছে। চড়া প্রসাধন সত্ত্বেও ওকে দেখলে, ওর কথা শুনলে শার্লের মনে পড়ে যায় জন কীটস নামে এক ইংরেজ কবির দ্য ইভ অফ সেন্ট অ্যাগনেস কবিতাটিতে সেই বুড়ি দাসীর কথা, যে প্রেমিক পরফিরোকে ম্যাডেলিনের শোবার ঘরে আলমারির ভেতরে লুকিয়ে রেখেছিল, যাতে ওরা মিলিত হতে পারে। শীতরাত্রে কামজর্জর পরফিরোর মতোই দশা হলো কি তারও?

    .

    বনফুল তুলে আনতে মোটেই বেগ পেতে হলো না জুলি ডিলিমার; হাতেও কাঁটা ফুটল না। চিনির ব্যবসায় লাভের মুখ দেখার পর বিভিন্ন দাতব্য প্রকল্পে দানধ্যান করে দয়াবান ক্রিশ্চান হিসেবে সমাজে নাম কিনেছে দুফে। জুলিরও মঠের ব্যবস্থাপকদের ঘরে এককালে যাওয়া-আসা ছিল, তার কথা ফেলতে পারে না কেউ। সেই সুতো ধরে এক রবিবার উমাপেনুকে পাকড়াও করল। সপ্তাহের বরাদ্দ রেশন নিতে এসেছিল সে, নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে। শহরে ঢোকার আগে বুকের ওপর গির্জার দান চেককাটা র‍্যাপার জড়িয়েছে।

    ‘শোনো বুড়ি, তোমার জন্য সুখবর আছে,’ জুলি বলল। ‘গোরস্তানে পড়ে থেকে আর কবর পাহারা দিতে হবে না। তোমার বয়স হচ্ছে, এখন থেকে এই মঠের চার দেয়ালের ভেতর আরামে থাকবে। তবে বুক ঢেকে রাখতে হবে কিন্তু। বিলেত থেকে কাপড় ধোবার কল এসেছে, সেই কল চালিয়ে নানদিদিদের কাপড় কাচবে। গতর না নাড়িয়ে দিব্যি তিন বেলা খাবার পাবে।

    মূক উমাপেনু অবাক বিভ্রান্ত চোখে চেয়ে থাকে, জুলির কথা শোনে। ওর মুখে দেখে বোঝা যায় না এই সংবাদে সে খুশি না হতাশ। হাত বাড়িয়ে নাতনিটাকে টেনে নেয়।

    ‘ওই তোমার বুঝি নাতনি? জুলি এমনভাবে তাকায় মনে হয় যেন মেয়েটির অস্তিত্ব তার এই প্রথম গোচরে এল। ‘এখনই মঠের ভেতরে ওর জন্যে কোনো কাজ নেই বাপু। পরে হবে। আপাতত কিছুদিন কাছেই এক সাহেবের বাংলোয় কাজ করতে হবে। হালকা ফাইফরমাশ খাটার কাজ, কবরখানার মতো খাটনির কাজ নয়। আর সাহেবও খুব ভালো মানুষ, সচ্চরিত্র আর ধর্মভীরু প্রায় যাজকই বলা যায়। ও রোজ এসে তোমার সঙ্গে দেখা করতে পারবে, তুমিও ইচ্ছে হলেই বাংলোয় যেতে পারবে।’

    ‘যাজক’ কথাটা উচ্চারণ করার পর ঠোঁট কামড়ে ধরে জুলি। জীবনে যত রকমের যাজক সে দেখেছে, বেদিতে এবং বিছানায়, তাদের কথা মনে পড়তেই পেটের মধ্যে থেকে ভুসভুসে হাসি উঠে আসে।

    উমাপেনুর সেটা চোখে পড়ে না। জীবনের সায়াহ্নে এসে কোনোরকম বিভ্রম নেই তার। স্বেচ্ছায় দাসত্ব গ্রহণ করেছিল সে কোনকালে, মনে হয় যেন গতজন্মে। দাসপ্রথা নিষিদ্ধ হবার পর কিছুদিন সে ছিল জোয়ালমুক্ত ঘানির বলদের মতো বিহ্বল, সম্বলহীন। সুদূর মালাবারের কফি খামার থেকে বাংলায় ফিরে এল, মঠের বদান্যতায় লোকসমাজের বাইরে গোরস্তানে কাজ পেল। সে জানে জীবন অনিত্য, পূর্বনির্ধারিত কিছু নেই; জানে, যৌনসঙ্গমের কালে পুরুষ সর্বত্রই একই রকমের অন্ধ আর নির্বোধ; এবং শেষ পর্যন্ত জানে, তার জীবনের একমাত্র দায় নাতনি গাঙীর ভবিষ্যৎ সিস্টার্স দ্য ক্লুনি মঠের সাদা গাউন-পরা সন্ন্যাসিনীদের হাতে আছে। পূর্ণিমা অমাবস্যায় পিপুল গাছে লাল সুতো-জড়ানো দেবতার কাছে, রবিবার মঠের চ্যাপেলে কাঠের পাটায় গাঁথা ফিরিঙ্গি দেবতার কাছে নিরুচ্চারে প্রার্থনা করে উমাপেনু – গাঙীর জীবন যেন ওর চেয়ে অন্যরকম হয়, ভালো আর সুস্থির হয়। যদিও সেই ভালোটা যে ঠিক কী সে ব্যাপারে কোনো ধারণা নেই।

    এপ্রিলের এক সকালে গাঙীকে নিয়ে বাংলোয় এল জুলি ডিলিমা। গাঙীর পরনে গোলাপি শাড়ির ওপর মঠের দেওয়া নতুন চেককাটা শেমিজ, চোখে ত্রস্ত চাহনি।

    ভালো করে গোঁফ ওঠার আগেই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শহরের সবকটি গণিকালয়ে পায়ের ধুলো পড়েছে ভাগ্নে-রত্নটির, সে খবর সাত সমুদ্র দূরে মামার কানে এসে পৌঁছেছে। এই রোগা আড়ষ্ট ক্রীতদাসীর মেয়ের মধ্যে ঠিক কী খুঁজে পেল, ভেবে তল পেল না অগস্টিন দুফে। নীচু স্বরে জুলিকে জিজ্ঞেস করে

    ‘এই তো? তুই ঠিক মাল এনেছিস?’

    সোনার মোহর কামড়ে পরখ করে উচ্চৈঃস্বরে হেসে ওঠে জুলি ডিলিমা।

    ‘সেটা তোমার ভাগ্নেটিকেই জিজ্ঞেস কর না? কেমন ফাঁদে-পড়া পাখির মতো মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছে দেখছ না? তুমি তো কোনোকালে আমার দিকে অমন করে তাকাওনি, সাহেব।’

    সশব্দে দীর্ঘশ্বাস ফেলে জুলি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }