Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৮.২

    ৮.২

    গ্রীষ্মের ছুটির পর ইস্কুল খুললে রঘুনাথপুরে ফিরে বাপ্পা আবিষ্কার করল, বাবার বাঁ হাতের রঙ ডান হাতের তুলনায় ঘোর কালো, মনে হবে যেন দুটি ভিন্ন মানুষের। প্রবল তাপপ্রবাহের মধ্যে একটি জলপাই-সবুজ মাহিন্দ্রা জিপে চড়ে সারাদিন ব্লকে ব্লকে ঘুরে বেড়িয়েছে মানুষটা; চালকের পাশে বসে সারাক্ষণ বাঁ হাতে দরজার মাথায় হাতল ধরে থাকার পরিণাম। তাছাড়া সেই চেনা ওল্ড স্পাইস আফটারশেভ লোশনের গন্ধটাও আর পাওয়া যায় না। কিন্তু তা সত্ত্বেও পুরুলিয়ার খনিজ মিশ্রিত ভৌম জলে রথীনের স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছিল, প্রথম যৌবন থেকে পোষ্য অ্যাসিড রিফ্লাক্স, যা তার ও শিউলির বিবাহ যোগ ঘটিয়েছিল, প্রায় সেরে গিয়েছিল।

    সাতগাঁয়ে যাবার আগে যেসব গাছের চারা বসানো হয়েছিল, সেসবই শুকিয়ে ঝলসে গিয়েছে। বাংলোর পেছনদিকটায় বেশ অনেকটা জমি। সেখানে কয়েকটি পলাশ, বাবলা ও একটি কাঠাল গাছ ছাড়া আগের কোনো বাসিন্দার লাগানো গোলাপ বুনো ঝাড় হয়ে আছে। বর্ষার জল পেয়ে মাটি সরস হতেই শিউলি সহজাত উদ্যমে পুরুলিয়া শহরে সরকারি নার্সারি থেকে গাছের চারা আনিয়ে লাগাতে শুরু করল। তার সবুজ আঙুলের ছোঁয়ায় বিশুষ্ক ঘুমন্ত বীজ অঙ্কুরিত হয়, মাটি ফুঁড়ে ওঠে, পাতা বেরোয়, ফুল আসে, এমনকি প্রজাপতি মৌমাছি উড়ে এসে পরাগসঞ্চার ঘটায়। কিন্তু এই রুক্ষ প্রবল জলহাওয়া আর কাকরে মাটিতে ফুল অথবা সব্জির গাছ তেমন হয় না, তাই সে পেয়ারা আতা ও অন্যান্য ফল গাছের চারা লাগায়। এ অনেকটা গীতার— ‘কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন’ মন্ত্র মেনে চলার মতো, তার কারণ গাছে ফল আসা তো দূর, গাছগুলো বড়ো হয়ে ওঠার আগেই যে রথীন ফব অন্যত্র বদলি হবে, শিউলি সেটা ভালো করেই জানে। তবু মাটি হাতে নিয়ে গঘাঁটি করা, আঙুলে আর্দ্র শিকড়ের অনুভূতি আর খুঁড়ে-তোলা মাটির গন্ধের নেই এসব করে সে।

    বাংলোর বসার ঘরের দেয়ালে ব্রিটিশ আমলের সাহেব অফিসার ও তার মেমসাহেবের কয়েকটি সাদাকালো ছবি রয়েছে। ঝাপসা, কালচে ছোপ ধরা, যেন বহুকালের ছায়া ছুপিয়ে দিয়েছে। একটি ছবিতে এক বিশাল বটগাছের নীচে দাঁড়িয়ে আছে সাহেব দম্পতি, দুজনেরই পরনে খাকি শার্ট-ট্রাউজার্স, হাটু অব্দি জুতো, মাথায় সোলার টুপি। মেমসাহেবের গলায় একটি সাদা স্কার্ফ, সাহেবের হাতে একটি রাইফেল। তাদের পায়ের সামনে একটি বিশাল মৃত বাঘ।

    এ-এস-আইতে সার্ভেয়ারের কাজ করার সময়ে রথীনের ঠিক ওইরকম একটি সোলার টুপি ছিল, বাপ্পা ছোটোবেলায় কলুটোলা লেনের বাসায় দেখেছে। শিকারের ওই ছবিটার সামনে দাঁড়িয়ে সে ভাবতে চেষ্টা করে ওই সাহেব মেমের জায়গায় যদি ওর বাবা আর মা থাকত? তাদের পরনে ঠিক অমন ঘোড়ায় চড়ার পোশাক, ঠিক ওইরকম আত্মবিশ্বাসের ভঙ্গিতে ক্যামেরার দিকে তাকাতো যদি?

    কিন্তু অনেক কষ্ট করেও কিছুতেই সে ছবিটা কল্পনা করতে পারে না। বুকটা কেমন ভারি হয়ে আসে। ছবির ওই পুরোনো সাদাকালো সময়টা যে চিরকালের মতো হারিয়ে গেছে, সেটা বুঝতে পেরে কেমন একটা কষ্ট হয়। এই জায়গাটা আর ওইরকম বন্য, উত্তেজক, গল্পের বইয়ের জগতের মতো নেই—কেমন যেন শুষ্ক, আটপৌরে, ম্রিয়মাণ।

    যেকোনো পুরোনো সরকারি বাংলোর মতো এখানেও বিভিন্ন সময়ে বাসিন্দাদের রুচি ও অভ্যাসের ছাপ পড়েছে। বেডরুমের লাগোয়া লিকার ক্যাবিনেট বদলে পুজোর কুলুঙ্গি হয়েছে, সব্জির বাগান খুঁড়ে ব্যাডমিন্টন কোর্ট, যা ফের ওর মায়ের আঙুলের ছোঁয়ায় ক্রমশ অন্যরকম সবুজ হয়ে উঠছে। এক দুপুরে বাপ্পা বাথরুমে ফ্লাশ টানার উঁচু ধাতব জলপাত্রটার পেছনে আবিষ্কার করল এক গোছা বিলিতি পত্রিকা। তাদের পাতায় পাতায় নগ্ন অর্ধনগ্ন নারীদের রঙীন ছবি, তাদের কারোর গায়ে উল্কি, কারোর স্তনের বোঁটায় দুল, মাথায় ও পায়ের ফাকে লাল সোনালি চুল। বাপ্পা টের পাচ্ছিল এগুলো ঘোর নিষিদ্ধ বস্তু, কিন্তু মলাটে আর ভেতরেও ওর নিজের ছবির বইয়ের মতো খরগোশ আঁকা, আর গোটা হরফে লেখা PLAYBOY। কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে মায়ের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই শিউলি এসে ছোঁ মেরে ওগুলো কেড়ে নিল। সেদিন সন্ধ্যাবেলা রথীন অফিস থেকে ফেরার পর বাপ্পা ভেজানো দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে দুরু দুরু বুকে শাস্তির জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু রথীনের গলায় কয়েকবার— ‘প্লেবয়’ শব্দটা শুনল কেবল, আর অট্টহাসি। শাস্তি হলো না।

    অফিস থেকে সন্ধ্যাবেলা ফিরে রথীন শোবার ঘরে একা হুইস্কির গ্লাস হাতে নিয়ে বসে, দরজা ভেজানো থাকে। এই সময় ওই ঘরে বাপ্পার প্রবেশাধিকার নেই, বাবার গায়ে পুরোনো ফাইলের গন্ধের আড়ালে চাপা পড়া সকালের ওল্ড স্পাইস আফটারশেভ লোশনের গন্ধের রেশ খুঁজে নেবার কোনো উপায় নেই। হুইস্কির বোতল যে ঠিক কোথায় রাখা থাকে, বাপ্পা জানতে পারে না (ঠিক যেমন জানতে পারেনি বাবার সার্ভিস রিভলভারটা কোথায় রাখা থাকত)। শোবার ঘরে মৃদু আলোয় রথীনের একা থাকার এই সময়টায় রেডিও বাজে। সুচিত্রা মিত্র আর দেবব্রত বিশ্বাসের কন্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত ভেজানো দরজা চুঁইয়ে বাপ্পার পড়ার টেবিলে ভেসে ভেসে এসে বহু যুগের ওপার হতে প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে গোধূলি গগনে মেঘে আকাশ ভরা সূর্য তারা, এবং কোলাহল তো বারণ হলেও, যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসলেও, খাবার টেবিলে বসে রথীন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, শান্ত ও দায়িত্ববান। বাপ্পার লেখাপড়ার ব্যাপারে খোঁজ নেয়, শিউলি ঠিক মতো ওষুধ খেয়েছে কি না খোঁজ নেয়।

    এই সময়েই শিউলির অসুখটা শুরু হয়েছে, প্রথম দিকে যার লক্ষণগুলো ছিল অম্লশূলের মতো।

    অনেক বছর পরে বাপ্পা সেই অতীত সময়ের দিকে ফিরে তাকাবে। ভাবার চেষ্টা করবে, স্রোতের বিপরীতে মাথা তুলে সাঁতার কাটার মতো একের পর এক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে রথীনের শক্তির উৎস ঠিক কী ছিল? সে কি ওই দেবব্রত সুচিত্রার কন্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীতের ওই লাইনগুলোর মধ্যে কোথাও ছিল? দেশভাগের খোলামকুচি হয়ে কলকাতায় গড়িয়ে আসা, নিজের পরিশ্রমে মেধায় প্রতিষ্ঠিত এক যুবকের মধ্যে একদা রামপ্রাণ যে হোমিওপ্যাথি শাস্ত্রের পরিভাষায় কার্বোনিক ধাতের প্রাবল্য লক্ষ করেছিলেন পরিণত মস্তিষ্ক, মজবুত শিরদাঁড়া, যথাস্থানে হৃৎপিন্ড (কিংবা হৃদয়)–সেই ধাতের জন্য চাকুরিস্থলে রথীনকে গুনাগার দিতে হচ্ছিল। তার স্ত্রী পুত্রের জীবনও বিপর্যস্ত হচ্ছিল।

    একই ক্যাডারের অন্যান্য অফিসারেরা যখন এক জায়গায় অনেকদিন থিতু হয়ে থাকে, তখন রথীনের ঘন ঘন বদলি এবং ঠাঁই বদলের ঝক্কি পোয়াতে হয় শিউলিকেই। বারবার জিনিসপত্র বাঁধাছাঁদা, স্থানান্তরণ, নতুন জায়গায় গিয়ে গুছিয়ে বসতে-না-বসতেই, সেখানে চাকর পিওন ঠিকে কাজের লোকের চালচলন বুঝে ওঠার আগেই আবার ঠিকানা বদল যাকে চিনি ঠাট্টা করে বলে— ‘লিভিং আউট অফ দ্য স্যুটকেস’ সর্বদাই চারিদিকে প্যাকিং বাক্স, এবং প্রয়োজনের জিনিসটি কোন বাক্সে আছে খুঁজে না-পাওয়া। এসব নিয়ে শিউলি অনুযোগ করলে রথীন উদাসীন ভঙ্গিতে বলে—

    ‘ব্রিটিশ আমলে আইসিএস-রা যখন বদলি হতো, এমনকি যখন ট্যুরেও বেরোতো, আসবাবপত্র, বাসনকোশন, এমনকি সাহেবের গড়গড়া, মেমসাহেবের বাথরুম স্লিপারটি পর্যন্ত ঠিক একই রকম দুই জোড়া করে থাকত। এক হল্ট থেকে অফিসার বারো মাইল দূরে পরের হল্টে পৌঁছানোর আগেই লোকলস্কর গিয়ে তাঁবু সাজিয়ে ফেলত। সাহেব-মেম ঘোড়ায় চড়ে গিয়ে দেখত অবিকল একই রকম তাঁবু, একই রকম ক্যাম্প টেবিলে সাজানো কাটলারি আর ধূমায়িত স্যুপ, এমনকি খাটের পাশে ছোটো বুক শেলফে একই বইয়ের কপি। কিন্তু আমি তো আর সেই আমলের হেভেন-বর্ন অফিসার নই। কী আর করবে বলো?’

    এই ঘন ঘন ঠাঁই বদলের ক্ষেত্রে বাপ্পার সবচেয়ে বড়ো আতঙ্ক হলো মাঝরাতে প্রস্রাব পেলে অন্ধকারে বিছানা ছেড়ে উঠে বাথরুমের দরজা খুঁজে পাওয়া। ঘুমোতে যাবার আগে একটা ভয় তাড়া করে, যদি খুঁজে না পায়? যদি ঘরেই কিংবা এমনকি যদি বিছানাতেই হয়ে যায়? রামকানাই ইস্কুলে যেতে শুরু করেছে, কিন্তু সে নিয়মিত বিছানা ভেজায়। রামপ্রাণের ওষুধে কাজ হয়নি, রাধানগরের সেই ওঝানির নদীবাহিত টোটকা প্রয়োগ করেও সরোজা রোগ সারাতে পারেনি।

    আর যে ব্যাপারটা বাপ্পাকে বিচলিত করে, তা হলো নতুন ইস্কুলে গিয়ে ক্লাসঘরে সম্পূর্ণ অচেনা ছেলেমেয়েদের মাঝে গিয়ে বসা, একেবারে সামনের বেঞ্চিতে বসা, শিক্ষকদের ওকে— ‘তুমি’ করে সম্বোধন, এবং সহপাঠীদের মধ্যে থেকে নতুন বন্ধু খুঁজে পাওয়ার পরে-পরেই ইস্কুল ছেড়ে যাওয়া।

    আর এসবের মাঝে সাতগাঁ হলো বাপ্পার জীবনের সেই কেন্দ্র যেখানে সে ফিরে যেতে পারে, যা বাবা-কাকাদের ছেড়ে আসা সিলেটের মতো স্মৃতির অলীক স্বদেশভূমি নয়। মানচিত্রে নির্দিষ্ট একটি স্থান যেখানে থাকে তিতলি, যেখানে থাকে দিদা, বিশুকা, হেমন্তমামা, বসন্তমামার হার্লে, চিন্তামণি …

    যেখানে থাকে আরেকটা বাপ্পা, যে জন্মজন্মান্তরে কখনোই সাতগাঁ ছেড়ে যায় না, এবং এই পরিযায়ী ঠাঁই-নাড়া বাপ্পা বড়ো হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে যে ক্রমশ ঝাপসা হয়ে আসছে বুকে গলায় নীলচে জন্মদাগটার মতোই।

    *

    রঘুনাথপুরের এসডিও সাহেব ঘুষ নেন না, এই খবরটা যেমন দ্রুত ছড়িয়েছিল, ততোটাই ছড়িয়েছিল রুক্ষ্ম পাথুরে মাটিতে সাহেবের স্ত্রীর বাগান করার শখ। পাথর খাদানের এক ঠিকাদার শিউলির জন্য দুষ্প্রাপ্য গাছগাছড়ার চারা যোগাড় করে পাঠায়। লোকটি সুবিধার নয়, ওর বিরুদ্ধে নানারকমের দুর্নীতি আর আইনভঙ্গের অভিযোগ আছে। কিন্তু এই চারা পাঠানোর ব্যাপারে রথীন বাধাও দিতে পারে না। বনে জঙ্গলে ঘুরে খুঁজে-আনা উদ্ভিদকে আর যাই হোক উৎকোচ বলা যায় না। বিশেষ করে যখন পুরুলিয়ার উষর জমিতে সবুজায়নের সরকারি প্রকল্প চলেছে রথীনেরই উদ্যোগে। তাছাড়া গাছগাছড়ার ব্যাপারে শিউলির প্রবল আগ্রহ, আদিরামবাটির ওষধিবাগানের প্রতি টান সে নিজে চোখে দেখেছে।

    একদিন রথীন অফিসে বেরিয়ে যাবার পর সেই ঠিকাদার স্বয়ং বাড়িতে এল, হাতে একটি বড়ো শোলায় মোড়া বাক্স। বাক্স খুলে বেরোলো একটি তিন কিলো সাইজের ইলিশ। তার চওড়া পেট বরাবর লাল দাগ, গা থেকে বরফের ভাপ উঠছে। জানালো, রাতের এক্সপ্রেস ট্রেনে আইসবক্সে সরাসরি কলকাতা থেকে এসেছে।

    উদ্ভিদের প্রতি শিউলির দুর্বলতা রটেছিল। কিন্তু এই আরেকটি দুর্বলতার খবর কী করে যে জানাজানি হল সে এক রহস্য। রঘুনাথপুরে তো বটেই, পুরুলিয়া সদর বাজারেও টাটকা ইলিশ মেলে না। এই নিয়ে শিউলির আক্ষেপ ছিল। এখানে ছিটেফোটা বর্ষার মরশুমে খাবার টেবিলে প্রায়ই সে গল্প করে এই সময় আদিরামবাটিতে দুবেলা ঝালে-ঝোলে-অম্বলে অঢেল ইলিশের কথা, সরস্বতীতে মেছো নৌকার গল্প যা প্রায় পয়ারের মতো, যা বাপ্পা শৈশবকাল থেকে কতবার যে শুনেছে:

    ও কত্তা, আছে নাকি?

    না গিন্নি, নেই!

    সেদিন বিশাল আকারের ইলিশে প্রতিফলিত আলোয় মায়ের চোখ চিকচিক করে উঠতে দেখল বাপ্পা। আরেকবার শুনল সেই রসিক জেলে আর ইস্কুল বালিকার চাপান-উতোর। সন্ধ্যাবেলা রথীন অফিস থেকে ফিরল যখন, বাংলোর বাতাস ইলিশের গন্ধে ম ম করছে। পোশাক বদলে সে শোবার ঘরে ঢুকে দরজা ভেজাতে প্রৌঢ় বাংলো পিওন অজিতদা সাহেবের জন্য নিয়মমাফিক হুইস্কির বোতল, সোডা, গ্লাস আর বাদাম ট্রেতে সাজিয়ে নিয়ে ঘরে ঢুকল। তার পিছু পিছু ঢুকল শিউলি, হাতের প্লেটে দুটি সোনালি করে ভাজা ইলিশের পেটি, মুখে বিচিত্র উদ্ভাস। পাশের ঘরে ভেজানো দরজার ওপাশ থেকে বাপ্পা শুনতে পাচ্ছিল মায়ের উত্তেজিত কণ্ঠে সেই আশ্চর্য রকমের বড়ো ইলিশের বর্ণনা, শুনতে পাচ্ছিল কন্ঠস্বর ক্রমশ উচ্চগ্রাম থেকে খাদে নামছে, নামতে নামতে একসময় থেমে গেল।

    শ্রোতার মুখের অভিব্যক্তি ক্রমশ বদলে যেতে দেখে নীরব হয়ে পড়ল শিউলি। রথীন হুইস্কির গ্লাস নামিয়ে রাখল, তারপর উঠে করিডোরে গিয়ে সেই ঠিকাদারকে টেলিফোন করে বরফের মতো ঠান্ডা গলায় নির্দেশ দিল—অবিলম্বে–‘ইসি ওয়াক্ত পর’–সে যেন কাউকে পাঠিয়ে তার দেওয়া বস্তুটি নিয়ে যায়।

    এরপর শিউলির দিকে ফিরে ছুরির মতো স্বরে কেটে কেটে বলল—‘ক্রিশ্চান ধর্মে নোলা একটা পাপ! জানো নিশ্চয়ই? হিন্দু ধর্ম কী বলে? তোমাদের শাস্ত্রীমশাইকে একবার জিজ্ঞেস করো তো?’

    ঠিকাদার যে রথীনের জ্ঞাতসারেই ইলিশ মাছটা পাঠিয়েছে বলে সে জেনেছিল, এই কথাটা শিউলি বলে উঠতে পারার আগেই রথীন দ্রুত পায়ে রান্নাঘরে গেল। সেখানে সম্পূর্ণ মাছটা কাটা ও নুন-হলুদ মাখানো রয়েছে সাদা এনামেলের গামলায়, কয়েকটি ইতিমধ্যেই ভাজা হয়ে সাজানো রয়েছে থালায়।

    ‘এগুলো সব এখনই প্যাক কর! এক্ষুণি!’ রথীন আদেশ দিল।

    শিউলি নাকের চারপাশে লালচে আভা, বিন্দু বিন্দু ঘাম ফুটেছে–কাঁপা কাঁপা হাতে টুকরোগুলো বাক্সের ভেতর রাখার চেষ্টা করছে। রথীন দাঁড়িয়ে দেখল কয়েক মুহূর্ত। বাক্সটা আর মাছগুলো ওর হাত থেকে ছিনিয়ে নিল, এবং বহু বছর আগে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগে আয়াসলব্ধ বিদ্যা প্রয়োগ করল। হলুদ-মাখানো এবং ভাজা প্রতিটি টুকরো স্বস্থানে গিয়ে বসে নিখুঁত ও বিচিত্র সোনালি-বাদামি ডোরাকাটা ইলিশ মাছের আকার ধারণ করল। কেবল পেটের কাছে দুটি টুকরোর স্থান শূন্য; ও দুটি বাপ্পার পেটে চলে গিয়েছে।

    শিউলির প্রতি এই অন্যায্য উষ্মার ক্ষতিপুরণ দিল রথীন। পাঁচদিন পরে সদর বাজারের এক মাছের আড়তদারের মারফৎ কলকাতা থেকে এল চারটি মাঝারি আকারের ইলিশ। এবং এরপর তিন দিন ধরে এবেলা ওবেলা ইলিশ ভাপা, সর্ষে ইলিশ, ইলিশ পাতুরি, ইলিশের মাথা দিয়ে ছ্যাঁচড়া ছাড়াও বিকেলে চায়ের সঙ্গে ইলিশ ভাজা চলল। বাংলোর পিওন, মালি, গাড়ির চালকও সেই মাছের ভাগ পেল। ইলিশে অরুচি ধরে গেল সকলের।

    কেবল শিউলি ছাড়া। এক টুকরো মাছও মুখে তুলল না সে। এবং এই ঘটনার পর যে কয়েক বছর বেঁচে ছিল, কোনোদিন আর ইলিশ দাঁতে কাটেনি।

    রথীন অবশ্য সেটা লক্ষ করেনি। করার মতো মনের অবস্থা তার ছিল না। এই ঘটনার অব্যবহিত পরেই বাংলোয় এক অনিশ্চিত উৎকণ্ঠার ছায়া নেমে এল। কালভার্ট নির্মাণে নিকৃষ্ট বালি-পাথর সরবরাহের জন্য সেই ঠিকাদারের মোটা অঙ্কের বিল আটকে দিয়েছিল রথীন, আগের অফিসারের করা চুক্তি বাতিল করেছিল। নানা ভাবে তাকে বাগে আনার চেষ্টা বাতিল হওয়ায় মরীয়া ঠিকাদারের স্বরূপ প্রকাশ পেল, সন্ধ্যার পর ফোন আসতে লাগল বাংলোয়।

    বাড়িতে থাকলে সবসময়েই ফোন ধরত রথীন। একদিন সে মেজাজ হারিয়ে স্বভাববিরুদ্ধ চড়া গলায় চেঁচামেচি করতে লাগল। এরপর রথীন না থাকলে বাপ্পার ফোন ধরা নিষিদ্ধ হল, বাংলো পিওন অজিতজেঠুর সঙ্গে হেঁটে ইস্কুলে যাওয়া বন্ধ হলো, অফিস থেকে গাড়ি পাঠানো হতে লাগল। ঠিক কী ঘটছে সে বুঝতে পারছিল না, কিন্তু বাড়িতে সর্বক্ষণ একটা অস্বস্তিকর দমচাপা পরিবেশ। অফিস থেকে ফিরে রথীনের মদ্যপানের সময়কাল বাড়ছিল, একা খাবার টেবিলে বাপ্পা বাবাকে ইস্কুলের কথা, পড়াশোনার কথা বলার সুযোগ পাচ্ছিল না। একদিন বাড়ি ফিরে রথীন শোবার ঘরে গিয়ে দেখল শিউলি বিছানায় বসে ফুঁপিয়ে কাঁদছে, পাশে খোলা একটি শাড়ির প্যাকেট একটি শাদা থান আর একজোড়া লোহার নোয়া, বিধবার সাজ। দুপুরবেলায় অজ্ঞাতপরিচয় কোনো ব্যক্তি এসে বারান্দায় রেখে গেছে। পরদিন সকালে বাপ্পা দেখল বাবার অ্যাম্বাসাডারের চালকের পাশে একজন সাদা পোশাকের দেহরক্ষী, তার কোমরে চামড়ার খাপে সার্ভিস রিভলভার।

    সেবার দুর্গাপুজোর আগেই রথীনের বদলির অর্ডার এল। এবার উত্তরবঙ্গে ভুটান সীমান্তে। জঙ্গল, চা বাগান, রাভা জনজাতির বাস, বন্য হাতি ও চিতাবাঘের আনাগোনা সেখানে।

    .

    অনেকদিন বাদে সেবার তিনজনে একসঙ্গে মহিষাসুরমর্দিনী শোনা হলো না। মহালয়ার ঠিক দুদিন আগে লালবাতি লাগানো অ্যাম্বাসাডারে মায়ের সঙ্গে কলকাতায় ফিরে এল বাপ্পা। এরপর অনেকদিন . সত্যি বলতে, প্রায় কোনোদিনই আর— ওরা তিনজনে একটানা একই ছাতের নীচে থাকতে পারবে না। বাপ্পার ইস্কুলের পড়াশোনায় ছেদ পড়বে, আগামী তিন বছরের মধ্যে রথীনের ন’বার বদলি হবে, এবং এই ধারা তার গোটা কর্মজীবন ধরেই চলবে।

    এবং এসবই তার সেই বিশিষ্ট ধাতের জন্য, যা বহুকাল আগে রামপ্রাণ ডাক্তার নির্ণয় করেছিলেন: কার্বোনিক কন্সটিট্যুশন, অনমনীয় মেরুদন্ড ও সঠিক স্থানে সঠিক মাপের হৃৎপিন্ড। অথবা হৃদয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }