Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৯.৩

    ৯.৩

    একুশ বছর পূর্ণ হবার আগেই শার্ল লেবো ইউরোপের শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মগুলি চাক্ষুষ করে ফেলেছে, ইউরোপীয় ভাষায় যাবতীয় প্রধান সাহিত্য পড়ে ফেলেছে, প্যারিসের সবকটি বিখ্যাত অপেরা দেখেছে, সবকটি বিখ্যাত সালোঁর আড্ডায় যাতায়াত করেছে, এক প্রধানা অপেরা গায়িকার প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছে আবার ভেসেও উঠেছে, সবকটি মুখ্য বেশ্যালয়ে গিয়েছে এবং সিফিলিস বাঁধিয়েছে। শিল্প সংগ্রাহক জোসেফ লেবো ও তাঁর চেয়ে চল্লিশ বছরের ছোটো এক নারীর হিমেল বিবাহে জাত ফল সে। শার্লের মা ক্যারোলাইনের পরিবারে প্রায় সকলেই ছিল বদ্ধ উন্মাদ ও জড়বুদ্ধি। শৈশবে এক সহৃদয় দম্পতি তাঁকে দত্তক নেন। ওঁরাই জোসেফের সঙ্গে তাঁর বিবাহ দেন। শার্ল বড়ো হয়েছে এক পুরোনো বেলেপাথরের বাড়িভর্তি রাশি রাশি মূর্ত বিমূর্ত ক্যানভাসে ছবির বিষণ্ণ আবহে, যেখানে প্রায় কখনো সূর্যের আলো ঢুকত না। পিতার মৃত্যুর পর মা বিবাহ করেন এক সেনা অফিসারকে, এবং মূলত সৎপিতার উদ্যোগে উচ্ছন্নে যাওয়া শার্লের চারিত্রিক পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে তাকে বাংলায় নির্বাসনে পাঠানোর ব্যবস্থা হয়।

    এক ফেব্রুয়ারির ক্ষুরধার সকালে এক ট্রাঙ্ক ভর্তি গ্রীষ্মের পোশাক আর তিন ট্রাঙ্ক ভর্তি সাহিত্যগ্রন্থ নিয়ে শার্ল লেবো যখন সিসিনা নাম্নী জাহাজে চড়ে বসল, মনে মনে সে ফন্দি আঁটছে কীভাবে অপেরা সিজন শুরু হবার আগেই সে পালিয়ে আসবে প্যারিসে। এগারো সপ্তাহ অসহনীয় সমুদ্রযাত্রার পর মিঠে জল আর টাটকা শাকসব্জির জন্য রিউনিয়ান দ্বীপে থামা হলো, শার্লের অদম্য ইচ্ছে হলো সে নীল পাহাড় আর সোনালি বালুবেলার এই মন্থর দ্বীপে অদৃশ্য হয়ে যায়। জাহাজের ব্যাকুল বাশি তাকে ফিরিয়ে আনে।

    শান্ত ভারত মহাসাগর পেরিয়ে বঙ্গোপসাগর দিয়ে সিসিনা যখন হুগলি মোহনায় বাদামি কাদাজলে এসে পড়ল, ত্বকে আর্দ্র উষ্ণ বাতাসের স্পর্শ আর দুপাশে গাঢ় সবুজ বাদাবন দেখে শার্লের মনে হলো দমবন্ধ হয়ে আসছে, মনে হলো তার ছায়াটা দেহ থেকে বিযুক্ত হয়ে রিইউনিয়ান দ্বীপে রয়ে গিয়েছে, হয়তো এতদিনে ইউরোপগামী কোনো জাহাজে চড়ে বসছে, এই ছায়াহীন অলীক দেহটা চলেছে এক মরীচিকার পথে যাত্রায়।

    মে মাসের দুপুর দুটোর পেতলরঙা সূর্যালোকে নদীপাড়ে প্রাসাদোপম বাড়িগুলোর মাথায় হাড়গিলের ঝাঁক, বাতাসে তামাক, চিটেগুড়, ঘোড়ার গু তামাকপাতা আর পাকের গন্ধ, নেটিভ কুলিদের ঘামের গন্ধ— কলকাতা শহরে এক দন্ডও কাটাতে না চেয়ে শার্ল চারটি ট্রাঙ্ক কুলির মাথায় চাপিয়ে বন্দর-হুগলিগামী ভাড়ার বোটে চেপে বসল। দুই পাড়ে অচেনা গাছগাছালির ফাঁকে খোড়ো চালার কুঁড়ে, ইংরেজ কোম্পানির সেনা ব্যারাকের ছাউনি, বোট যত উত্তরে এগোয় তাপ কমে আসে, মৃদুমন্দ হাওয়া বইতে শুরু হয়। দশ লিগ উজান বেয়ে চলার পর হুগলির বাঁকে দেখা দেয় কোয়ার্সভিল: অর্ধচন্দ্রের আকারে পাড় বরাবর প্রশস্ত প্রোমেনাড, গ্যাসবাতির স্তম্ভ, দোদুল্যমান নারকেলবীথির নীচে লাল টালির চাল দুধসাদা দেয়ালের বাংলোর সারি, গভর্নরের কুঠি, গীর্জার চুড়ো, ঘড়িঘর… জলে প্রতিফলিত সোনালি সূর্যের আলোয় কম্পমান নগরের মরীচিকাটি অবিকল যেন একটি বাঁকানো কোয়ার্স, সদ্য বেকারির চুল্লি থেকে বেরিয়েছে, তার বাদামি-সাদা চিকন গা থেকে ভাপ উঠছে।

    ‘বিয়াঁভন্যু! বিয়াঁভন্যু! হুগলির ধারে আমাদের ছোট্ট ফ্রান্সে স্বাগতম!’

    চারজন গলদঘর্ম নেটিভ বাহকের কাধে সেদান চেয়ারে জাহাজঘাটায় আসা বিশালবপু ব্যক্তিটিকে দেখে চিনে উঠতে শার্লের কয়েক সেকেন্ড লাগল। সাদা পরচুলার ওপর ট্রাইকর্ন টুপি, আঁটোসাটো ব্রিচেসে জড়ানো বিয়ারের পিপের মতো বিশাল বপুটির নীচে হাঁটু-অব্দি মোজা-পরা লিকলিকে দুটি পা মামা অগস্টিন দুফে যেন গত শতাব্দীর কোনো ছবির ক্যানভাস থেকে উঠে এসেছে। জাহাজঘাটায় বাঁশের সাঁকোয় ভাগ্নেকে দুহাত প্রসারিত করে আলিঙ্গনে অভ্যর্থনা করে স্থানীয় নবাবের মতো।

    চিনিকলের ধারে বাগান ঘেরা একতলা বাংলো ব্যবস্থা হয়েছে শার্লের জন্য। বাংলোর মোটা দেয়াল, টালির চাল, প্রশস্ত বারান্দায় বাঁশের চিক ফেলা। বাগানের ধার দিয়ে বয়ে গিয়েছে হুগলির খাল। শাল আর শিরিষের সারির আড়ালে উঁচু পাকা সড়ক রু দ্য বেনারস; আদতে ইংরেজদের গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডেরই অংশ।

    .

    ‘দু হাজার বছর আগে আলেক্সান্দার লে গ্রাঁ যখন এদিকে বিশ্ববিজয়ে আসেন, তাঁর কমদ্যঁ নেয়ারহোস বাংলায় এসে আবিষ্কার করল এখানে মানুষেরা এক ধরনের ঘাস চিবোয়। ঘাসের নাম স্যাকারাম বারবেরি, তার মিষ্টি রস থেকে তৈরি স্ফটিক চিনদেশে রপ্তানি হতো ওষুধ হিসেবে। চীনেরা নাম দিয়েছিল তাং-শুয়াং, সাদা তুহিন, হীরের মতোই বহুমূল্য ছিল। এই তাং-শুয়াং-এর রহস্য উদ্ধার করতে সম্রাট তায়ঝোং বৌদ্ধ ভিক্ষুর ছদ্মবেশে বাংলায় চর পাঠিয়েছিল। বুদ্ধের বাণীর সঙ্গে এই আশ্চর্য ঘাসজাত স্ফটিক তারা নিয়ে গেল এশিয়ার বিভিন্ন দেশে, মধ্যযুগে আরবেরা নিয়ে গেল ইউরোপে, সান্তালার নিষিদ্ধ দেশে প্রবেশের ছাড়পত্র ছিল এই মিষ্টি সাদা তুহিন। ভাবতে পারো?’

    জ্ঞানচর্চার বিবিধ বিচিত্র বিষয়ে মামার অনুরাগের কথা ছোটোবেলায় মায়ের মুখে শুনেছে শার্ল, কিন্তু অতিকায় ভাটিতে ফুটন্ত রসের বাষ্প, গাঁজানো রসের গন্ধ, আর আখমাড়াইয়ের কোলাহলের মাঝে দাঁড়িয়ে চিনির মতো মামুলি বস্তু নিয়ে এই উত্তেজনা তাকে স্পর্শ করে না। হাতির দাঁতে বাঁধানো ছড়িতে বিপুল দেহের ভার রেখে হেঁটে হেঁটে কলের বিভিন্ন ইউনিট ঘুরিয়ে তার সাম্রাজ্য দেখায় দুফে। খালের ওপর জেটি, আখ বোঝাই নৌকা আসে ক্ষেত থেকে। আখমাড়াইয়ের কলগুলো চলে বলদটানা ঘানিতে, ব্যাগাস নামে যে ছিবড়ে তৈরি হয়ে তাই দিয়েই রসের ভাটিতে জ্বালানি হয়। আখ ছাড়াও বাদাবনের কাঠ আসে, পশুর হাড়-পোড়া কয়লা আসে। বর্ষার শেষ থেকে শীতের মাঝামাঝি পর্যন্ত আখের মরশুম, ওই সময়ে চিনির উৎপাদন বেশি হয়। বাকি সময়ে চিনি স্ফটিক হয়ে ওঠার পর যে গাদ পড়ে থাকে, তাই দিয়ে হয় রাম।

    ‘বিয়াল্লিশ জন কামিন কাজ করছে।’ দুফে বলে। ‘মাড়াইকলে ভাটিতে মেয়েরা মরদদের পাশে সমান তালে কাজ করে, তাদের মজুরিও এক।’

    ‘এরা কোথা থেকে আসে?’ শার্ল শুধোয়।

    ‘এরা খালপাড়ে কামিনবস্তিতে থাকে। বেশিরভাগই ক্রীতদাস বংশোদ্ভুত। আইন করে দাসপ্রথা বন্ধ হয়েছে, এখন নগদ মূল্যে শ্রম কিনতে হয়।’

    .

    অচেনা উত্তাপ আর এক অস্বচ্ছ ঘোরের ভেতর শার্লের দিন কাটে। দুপুরে চারদিক স্থির, তাপবাষ্পে দোলে, সন্ধ্যার আগে দীর্ঘ সময় গোলাপি কমলা আলোয় ভরে থাকে। মশাদের কয়ার শুরু হয়ে যায়। রাত্রিগুলো ভরে থাকে বাগানে ঝিঁঝিপোকা আর খালের ধারে ব্যাঙের ডাকে। খোলা জানলা দিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে জোনাকি, মশারিতে জড়িয়ে যায়। সকাল হয় আখ মাড়াইয়ের গন্ধের লোভে আসা মৌমাছির ভনভনানিতে; বাংলোর চালার নীচে মস্ত চাক বানিয়েছে ওরা। সারাদিন মৌমাছির গুঞ্জনের মতো অবিরাম চাকর আয়া চিনিকলের কুলিকামিনদের দুর্বোধ্য কথাবার্তার ধ্বনি, সন্ধ্যার পরে ভেসে আসে রসুইঘরের দিক থেকে। শার্লকে শিখে নিতে হয় ওদের বুলি, আদেশের ভাষা— ‘হারামি!’ ‘বজ্জাত!’ ‘জলদি!’–পাচককে, বেয়ারাকে, মাঝরাতে মাথার ওপর পাঙ্খা থেমে গেলে বারান্দায় পাঙ্খাওয়ালাকে…

    কিন্তু গালি দিয়ে আর মেঝেয় জুতো ঠুকে থামানো যায় না মাঝিদের গজল্লা বাংলোর পাঁচিলের নীচে খালের ধারে ওরা নৌকাগুলোকে টেনে আনে মাঝরাতে। ভোরবেলা চিনিকলে ডিউটি বদলের ভোঁ, বলদে টানা কলের ক্যাঁচকোঁচ ধ্বনি, চালকের হ্যাটাধ্বনি, শার্লের ঘুমের ভেতরে চুঁইয়ে ঢুকে বিস্ফারিত হয়ে ওঠে।

    .

    চিনির কল ঘুরিয়ে দেখিয়ে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপ, বিকিকিনির হিসাব রক্ষার পদ্ধতি দেখানোর পর শার্লকে তেমন কোনো কাজ দিতে পারেনি দুফে। সকালে একবার গিয়ে আখের আমদানির খতিয়ান নেওয়া আর বিকেলে রোদ পড়লে পাইকারদের নিয়মমাফিক দু-চারটে চিঠিচাপাটি লেখা ছাড়া আর তেমন কোনো দায়িত্ব নেই তার। কামিনদের পরিচালনা করে নেটিভ সর্দারেরাই।

    কলকাতা থেকে বোটে চড়ে আসার সময় অপরাহ্ণের আলোয় বিধৌত ধূমায়িত কোয়াসঁর আকারের শহরটিকে দেখে মনে যে বিচিত্র উত্তেজনার সঞ্চার হয়েছিল, সেটা আসলে এক বিভ্রম ছাড়া আর কিছু ছিল না। সেই ব্যাপারটা ক্রমশ স্পষ্ট হয় যখন শার্ল বিকেলের তাপ কমলে মামার দেওয়া ল্যান্ডোয় চেপে স্ট্র্যান্ড ধরে বোয়া- দ্যু-ভয় বের হয়, ওলন্দাজডাঙা আর্মানিডাঙা ছাড়িয়ে চলে যায় বন্দর হুগলির প্রান্তে জলের ওপর ভেঙে পড়া পর্তুগিজ কেল্লার জঙ্গলাকীর্ণ শেষ ভাঙা প্রাচীরে। ইউরোপিয়ান বসতিগুলোয় জীবন নিষ্প্রভ, ক্লান্ত আর ম্রিয়মাণ। জলে প্রতিফলিত আলোয় যে মায়া সৃষ্টি হয়, শার্ল লেবোর সন্ধানী চোখ তার ভেতর থেকে খুঁটে নেয় ক্ষয়ের চিহ্নগুলো দেয়ালে ফাটল চুঁইয়ে আসা বর্ষার জলে শ্যাওলার ছোপ, অযত্নের ঝোপঝাড়, দেয়ালে প্যাস্টেল রং জ্বলে গিয়েছে সূর্যের তেজে। একশো বছরেরও বেশি পরে দুই সদ্য বালক-বালিকা একটি আদ্যিকেলে মোটরসাইকেলের পেছনে চড়ে এই পথ দিয়ে যেতে যেতে যে দৃশ্যাবলীতে খুঁজে নেবে তাদের বাঁধভাঙা আনন্দের উপকরণ, সেগুলি দেখে তরুণ শার্লের লাতিন কোয়ার্টারের বৃদ্ধা দেহপোজীবিনীর কথা মনে পড়ে যায় লোলচর্ম, রুজের পরতের নীচে বলিরেখাময় মুখ, চুলে নকল গোলাপে ধুলো পড়েছে, কলপ জ্বলে গিয়ে দেখা যাচ্ছে রুপোলি শিকড়, দুর্মর আশায় বুক বেঁধে হুগলির পাড়ে অপেক্ষা করছে খরিদ্দারের জন্য।

    .

    ‘বুড়ি বেশ্যা নয় তো কি?’ ট্যাভার্নের কোণে তাঁর নির্দিষ্ট টেবিলে বসে খোনা গলায় ঘোষণা করেন মঁসিয়ে পিয়ের লাহুস, লিজ-দ্য-নর। ‘বুরবক ইংরেজ ছাড়া আর খদ্দেরই বা কই? শিগগিরই ওরা ফিরিঙ্গিডাঙাগুলো কিনে নেবে, কথাবার্তা চলছে।’

    ট্যাভার্নে অবিসংবাদী সম্রাট পিয়ের লাহুসের বয়স যে ঠিক কত কেউ জানে না। সোরা আর গানপাউডারের কমিশনেয়ার ছিলেন গত শতাব্দীতে, হুগলির ধারে এই ইউরোপীয় উপনিবেশের উত্থান পতনের কাল দেখে আসছেন এতগুলো বছর ধরে। এখনও তাঁর অজ্ঞাতসারে এই তল্লাটে কোথাও একটি গাছের পাতাও পড়ে না, একটি নথিতেও সই হয় না। ট্যাভার্নে তাঁর নির্দিষ্ট টেবিল থেকে এক অদৃশ্য জাল যেন ছড়িয়ে আছে উত্তরে পোর্তোহাটা থেকে দক্ষিণে কলকাতা পর্যন্ত, তার ওপর স্থির মাকড়শার মতো সদা সতর্ক লাহুস; যদিও টেবিলে হকের মাগে ঝুঁকে পড়া, মাড়-দেওয়া শার্টের কলারের ওপর তাঁর কুঞ্চিত গলা আর প্রায় কেশবিহীন ছোট্ট মাথাটা দেখে এক অতিকায় অ্যালডেব্রা কচ্ছপ বলে মনে হয়। ঔপনিবেশিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকার জন্য তিনি ফরাসী সরকারের দেওয়া লিজ-দ্য-ন্যর খেতাব পেয়েছেন। বর্তমানে তাঁর প্রধান ভূমিকা হলো কোনো আনকোরা তরুণ কোয়ার্সভিলে পা রাখলে তাকে সঠিকভাবে দীক্ষিত করা; চোখা নেটিভ গালি শেখানো যার বুনিয়াদি পাঠক্রম।

    ‘দ্যাখ খোকন, এদেশের রস পেতে হলে তোমায় খুব দ্রুত ভাষা আর আদবকায়দা শিখে নিতে হবে,’ শার্লের দিকে ফিরে বলেন লাহুস। ‘আর সেসব শেখার সর্বোত্তম স্থান হলো বিছানা!’

    হুঁকোবরদার ফুঁ দিয়ে টিকের আগুন উস্কে তোলে, হুকুমবরদার চট-চাপা বরফের বিছানা থেকে হিমায়িত ক্ল্যারেটের বোতল এনে পাত্রে ঢালে, রসুইঘরে গলদঘর্ম পাচক সাপার বানায়, একটু এদিক-ওদিক হলে মসিয়ে তাঁর টেবিল থেকে খোনা গলায় হাঁক পাড়েন— ‘বাঁশ্যোৎ! গুখোপুত!

    তরুণ ফ্যাক্টরেরা চারপাশের টেবিলে বসে তাঁর উপদেশামৃত পান করে। হক কিংবা বিয়ারের মগে চুমুক দিয়ে তারা ট্রেডিং কোম্পানিগুলোর লাভক্ষতির খতিয়ান বিনিময় করে। এরা অনেকে নেটিভ রক্ষিতা পোষে, গোপনে বেআইনি ক্রীতদাসীও রাখে, কেউ কেউ নিয়ম করে কাটুনিডাঙায় যায়। তাপ আর জীবাণুর শিকার হয়ে গোরস্তানে জমি নেবার আগেই চোরা পথে অঢেল টাকা কামিয়ে চম্পট দেবার সুলুক সন্ধান খোঁজে, দেশে ফিরে মেম্বার অব কাউন্সিলদের মতো রাজকীয় অবসর জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখে চলে। এদিকে ট্যাভার্নের বারান্দায় পাস্খাটানাদের দল দেয়ালে হেলান দিয়ে উবু হয়ে বসে দড়ি টানে, বাগানে মালি শুকিয়ে আসা গোলাপের চারা লাগায়, ভিস্তিওয়ালারা স্ট্র্যান্ডে জলছড়া দেয়, ভিজে ধুলোর গন্ধের সঙ্গে ভেসে আসে নদীতে জেলেডিঙি থেকে নেটিভ সুর। তাতে মেশে পিয়ের লাহুসের অনর্গল নাকি সুরের কন্ঠস্বর।

    ‘দিনেমারগুলো যখন এই মুলুকে প্রথম এল, ওদের না ছিল কবরের মাটি না ছিল মাল খালাসের জেটি। এই কোয়ার্সভিলে জাহাজঘাটা ব্যবহার করত। তারপর মার্কিন দেশে যুদ্ধ শুরু হলো, ব্যাটাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরল।’

    ‘সোরা আর গানপাউডার বেচে তোমারও ভাগ্য ফিরল, নয় কি?’ অগস্টিন দুফে ফোড়ন কাটে।

    ‘আমার কথা হচ্ছে না,’ দুফের দিকে হিমশীতল চোখে তাকিয়ে বলেন লাহুস। ‘ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, হল্যান্ড তখন নিজেদের মধ্যে লড়ছে, ফরাসী প্রাইভেটিয়ারেরা রিইউনিয়ান আর মরিশাসে ইংলিশ বোট দেখলেই হয় কামান দাগছে নয়তো আটক করছে। এদিকে জাহাজী মালের বীমার মাশুল চড়চড় করে চড়েছে প্যারিস লন্ডনের বাজারে। সবাই দিনেমারদের জাহাজে মাল পাঠাতে চায়।’

    ‘কেন? দিনেমারেরই কেন?’ শার্ল জানতে চায়।

    ‘দিনেমারেরা তখনও নিরপেক্ষ, যুদ্ধে নেই,’ লাহুস বলেন। ‘ব্যাঙ্ক না থাকায় জন কোম্পানির রাইটাররা রেমিটেন্সের বিল পাঠাতে চায়। দিনেমারডাঙার ফ্যাক্টরগুলো দুহাতে পয়সা কামালো।’

    ‘হুঁ হুঁ মনে আছে!’ দুফে বলে। ‘মাস গেলে যে ব্যাটার বেতন দুশো টাকা, যার রোজ ক্ল্যারেট পান করার পয়সা জুটত না বলে ধেনো গিলত, সেও তখন আশি টাকা ডজনের শ্যাম্পেন ওড়াচ্ছে!’

    ‘কিন্তু সে গুড়ে বালি পড়ল যখন ইংরেজদের সঙ্গে ওদের যুদ্ধ লাগল,’ মসিয়ে লাহুস বলেন। ‘ফোর্ট উইলিয়াম থেকে পল্টন এসে দিনেমারডাঙার দখল নিল।’

    ‘তারপরে দিনেমারডাঙার লালবাতি জ্বলল!’ এক ফ্যাক্টর বলে।

    ‘লালবাতি, হাতপাখা, খাঁচার চিড়িয়া, চুলে লাল কাগজের গোলাপ… দেখা আছে নাকি খোকনের?’ শার্লের দিকে ফিরে লাল চোখ মেলে বলেন পিয়ের লাহুস লিজ-দ্য-নর, নীচের ঠোঁট লালায় সিক্ত। ‘এখন বুরবক ইংরেজগুলো ওই বুড়ি বেশ্যাকে কটা টাকায় কেনে সেটাই দেখার।’

    হলঘরের অন্যপ্রান্তে দরজার পাশে টেবিলে একা বসে সাপার করছিল কলকাতার এক ইংরেজ যুবক, কেউ লক্ষ করেনি। কলা থেকে তৈরি কোয়ার্সভিলের নিজস্ব মদ ব্যোসার পাইকারি দালালি করতে এসেছে সে, ট্যাভার্নে উঠেছে তিনদিন হলো। সে গলা তুলে বলে

    ‘কলকাতাকে যতই গালাগালি দাও, কলকাতা না থাকলে তোমাদের এই ফিরিঙ্গিডাঙায় একদিনও হাঁড়ি চড়বে না।’

    ‘তাই নাকি?’ পিয়ের লাহুসের বৃত্ত থেকে এক তরুণ বলে। ‘তাহলে তুমি কেন মরতে এসেছো বাপু?’

    ‘আমি এসেছি পেটের টানে,’ ইংরেজ যুবক বলে। ‘এখানে না পোষালে অন্যত্র যাব। এ দেশে কি কারবারের অভাব নাকি?’

    ‘আর তলপেটের টান? কাটুনিডাঙায় পায়ের ধুলো দেওয়া হয়নি বুঝি?’

    ‘তোমরা দেখি কিছুই খবর রাখো না। কলকাতায় চিৎপুর থেকে কালীঘাট পর্যন্ত যেখানে যত বেশ্যালয় আছে সেখানে প্রতি শুক্রবার স্যানিটারি ইন্সপেক্টার যায়। প্রতিটি বেশ্যার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে, কাপড় তুলে যৌনাঙ্গ পরীক্ষা করে। নীরোগ থাকলে তবে ঠিক তিন ইঞ্চি ওপরে কর্পোরেশনের সিলমোহর মেরে দিয়ে যায়। খদ্দেররা এসে সিলমোহর আছে কি না দেখে রীতিমতো প্রমোদ কর দিয়ে ছাপানো রসিদ নেয়। হুঁ হুঁ বাপু, এই হলো আমাদের কলকাতা শহর! তোমরা এ জিনিস এখানে চালু করতে পারবে?’

    চিনেমাটির পিরিচে উষ্ণ পাঞ্চ নিয়ে চোখ বন্ধ করে বসেছিলেন লিজ-দ্য-ন্য পিয়ের লাহুস, উষ্ণ রামের বাষ্পে ঝিমিয়ে পড়েছিলেন কিংবা ধ্যানমগ্ন হয়েছিলেন গোলিয়াথ মাকড়শার মতো। যুবকটির কথা তাঁর কর্ণকুহরে প্রবেশ করছিল কি না বোঝা যায়নি। আচমকা তিনি চোখ খুলে বললেন—

    ‘ওহে ছোকরা, তুমি আলেক্সন্ডার দ্যুশালের নাম শুনেছ?’

    ইংরেজ যুবক থতমত খেয়ে তাকায় লোলচর্ম বৃদ্ধের দিকে।

    ‘তুমি কি তাঁর লেখা দে-লা-পন্তিত্যুশঁ-দে-লা-ভ্যিল-দে-পারী বইটা পড়েছ?’ ম্যসিয়ে লাহুস বলেন। ‘পড়নি নিশ্চয়ই? তিনিও একজন ইন্সপেক্টার ছিলেন, প্যারিসের মাটির নীচে বিখ্যাত পয়ঃপ্রণালীর ইন্সপেক্টর। তা এই দ্যুশালে অনেক সমীক্ষা করে একটি গভীর সত্য আবিষ্কার করেন। যেকোনো বড়ো শহরে নর্দমা, কসাইখানা আর আবর্জনার স্তূপ যেমন অপরিহার্য, বেশ্যালয়ও তেমনই। এবং প্রশাসনের কর্তব্য সেগুলিকে অবাধে চলতে দেওয়া। শুধু সুশীল সমাজের দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকলেই হবে। সেজন্য যতই বাপু কলকাতা নিয়ে বড়াই করো, ওই শহরের বড়ো বড়ো মুরুব্বিদেরও ফি সপ্তাহে বজরা ঠেলে এই মুলুকে না এলে চলে না, সে সব আমার জানা আছে। জানতে চাও তো নাম ধরে ধরে বলতে পারি। ঠ্যাঙের ফাঁকে সিলমোহর দেখে আর রসিদ নিয়ে আর যাই হোক তাদের তলপেটের ক্ষিদে মেটেনা!’

    .

    কলকাতায় যৌনব্যবসায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর দলে দলে বিভিন্ন বর্গের বর্ণের পতিতারা কাটুনিডাঙায় এসেছে আস্তানা পেতেছে, সে কথা সত্যি। এ হলো ফিরিঙ্গিডাঙার এজমালি পতিতালয়, কোনো একটি দেশের শাসনাধীন এলাকার বাইরে। দাসপ্রথা নিষিদ্ধ হবার কারণেও সম্প্রতি এই অঞ্চলটির বাড়বাড়ন্ত।

    ‘বুঝলে শার্ল, দাসপ্রথার একটা ভালো দিক হলো সাম্য!’ নেটিভদের মতো আঙুল দিয়ে কারিতে ভাত মেখে খেতে খেতে দুফে বলে চলে। ‘ক্রীতদাসদের মধ্যে স্বাধীনতা নেই, ভ্রাতৃত্ববোধ আছে কি না জানা নেই, কিন্তু সাম্য আছে। মালিকের চোখে সবাই সমান। কিন্তু যেইমাত্র দাসপ্রথা তুলে দেওয়া হলো, ওদের মধ্যে আবার জাতপাত ফিরে এলো। মজার ব্যাপার হলো, যারা ছিল অচ্ছুৎ, সবচেয়ে নীচু জাত, যারা পায়খানা থেকে মলপাত্র মাথায় বয়ে নিয়ে যাওয়া কিংবা মৃত পশুর ছাল ছাড়িয়ে চামড়া তৈরি করার মতো গায়ে গতরে খেটে কাজ করত, তাদের সমাজে ফিরে যেতে অসুবিধা হলো না। সমস্যা হলো উঁচু জাতের, বিশেষ করে মেয়েদের। ক্রিশ্চান মিশনগুলোয় কনভেন্টে নানদের হাতে পড়ে কেউ কেউ বেঁচে গেল, বাকিদের ঠাঁই হলো কার্টুনিডাঙায়।’

    ঝোলাগুড়-মাখা মুড়ির ডেজার্ট খচর মচর করে চিবোতে চিবোতে চোখ বুজে আসে মামা দুফের।–‘খাঁচার পাখি রাতারাতি খাঁচাছাড়া হলে কী হয়, তারা ততদিনে উড়তে ভুলেছে যে। জলের ধারে নতুন বাঁশ খড় দিয়ে গজিয়ে উঠল পরিযায়ী পাখিদের বাসা।’

    *

    সেবার জুন মাস শেষ হতে চলল কিন্তু বর্ষা এল না। শুরু হলো তাপপ্রবাহ। বিউবনিক প্লেগের রোগীর দেহে স্ফোটকের মতো হুগলি নদীর খাতে জেগে উঠল বালির চর। জাহাজঘাটার কাজকর্ম প্রায় বন্ধ হবার মতো অবস্থা। এই সময়ে দক্ষিণ থেকে জলভারাতুর মেঘ উড়ে আসে, তার বদলে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে এল বিশুষ্ক মরুবায়ু। বেলা দশটা এগারোটার মধ্যেই কোয়ার্সভিলের পথঘাট শুনশান, পথে গরু কুকুর পাখপাখালির দেখা মেলে না। সাক্ষাৎ মৃত্যু বুঝি কোয়ার্সভিলের শুনশান রাস্তায় টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে। পথের পাথরে শুকনো ঝরা পাতা হাওয়ায় চলার শব্দ যেন গোরস্থানের শ্বাসধ্বনি। আস্ত্রিকে ডায়ারিয়ায় লোকে পোকামাকড়ের মতো মরছে, গির্জার ঘন্টাধ্বনি যেন আর থামে না পুরুষদের জন্য তিনটি করে তিন বার আর নারীদের জন্য তিনটি করে দুই বার। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দূর থেকে ভেসে আসে সাতগাঁর অসংখ্য মন্দিরের ঘন্টাধ্বনি। তফাৎ শুধু এই মন্দিরে ঘন্টা বাজে ঈশ্বরের আবুলি ভাঙানোর জন্য, গির্জায় ঘন্টা বাজে মৃত্যুর বার্তা প্রচারের জন্য।

    বাংলোর দরজা বন্ধ করে জানলায় খড়খড়ি তুলে বারান্দায় খসখস ঝোলে, তাতে ঘন ঘন জলছড়া দেয় ভিস্তিওয়ালা, ভিজে খসখসের গন্ধে ভরে ওঠে বাংলোর বাতাস। মস্যিঁয়ে দুফে ছায়াচ্ছন্ন বারান্দায় সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে বরফ জলে শুয়ে থাকে, দুদিক থেকে দুই ভৃত্য তালপাতার পাখায় বাতাস করে। জলের মধ্যেও ভয়, চর্বির পরতে মোড়া দেহে ঘাম ছোটে।

    শার্ল দেখে, এনামেলের চানের গামলায় ভেসে আছে ফ্যাকাসে সাদা শুশুক; চিবুক ঝুলে পড়ে প্রায় বুক ছুঁয়ে ফেলেছে পেলিকানের মতো।

    ‘মদ খাও আর নাই খাও, দম নিতে তো হবে!’ দুফে বলে। ‘চিনিকলে ভাটিখানার বাতাসে শর্করার বাষ্প ভাসে। সারাদিন ধরে তার শ্বাস পেটে গিয়ে মড়কের কঙ্কালও ফুলে ঢোল হয়ে যায়!’

    এদেশে আসার পর প্রথম দিকে জুলি নামে এক ইউরেশীয় রক্ষিতা রেখেছিল অগস্টিন দুফে। জুলির দেহে যৌবনের জোয়ারে পলি জমলে তাকে পরিত্যাগ করে, কিন্তু সম্পর্ক ছিন্ন করেনি। ক্রিসমাসে সন্ত দিবসে নিয়ম করে জুলিকে নতুন পোশাক আর টার্কি পাখি পাঠায়। জুলিও কাটুনিডাঙায় নতুন চিড়িয়া এসে জুটলে ভেট পাঠিয়েছে সাহেবের বিছানায়। কিন্তু ইদানীং চক্ষু দুটি ছাড়া আর কোনো অঙ্গ চালনা করার মতো অবস্থা নেই ম্যসিঁয়ে দুফের। এদিকে বিপুল চর্বির পাহাড়ের ভেতরে পুরুষটি মরেনি। রোজ দুপুরে কলে ভাটিতে পরিদর্শনে গিয়ে হাতের ছড়ি দিয়ে আখ-মাড়াই কলে ভাটিখানায় কামিন মেয়েদের পশ্চাদ্দেশে খোঁচা দেয়, পরনের কাপড় তোলে।

    আসামের পাহাড় থেকে আসা কামিনদের এই দলটা এককালে ছিল কলা খামারের ক্রীতদাসী। ওরা হাঁটুর ওপর ভাঁজ করে চৌখুপি কাপড় পরে, মাথায় রুমাল বাঁধে, নৌকা থেকে আখের বোঝা মাথায় করে কলের ভাঁটিতে আনে দিনভর। ওদের একঘেয়ে গানের সুর ভেসে আসে বাংলোয়

    ওপারে বান্ধি বাড়ি কলা গাড়ি সারি সারি–
    কলার বাগিচা ঘিরি নিল্যাক বাড়িরে
    আসিবে পরাণের নাথ কাটমো কলার পাত
    বগলৎ বসি বাড়িয়া দেমো ভাতরে

    তাপপ্রবাহের কাল শেষ হলে যথা নিয়মে বর্ষা আসে। শরতে মাটিতে টান ধরলে রাশি রাশি আখ আসে ছাড়িগঙ্গার ওপারে বিস্তীর্ণ আখের ক্ষেত থেকে। আখ পেকে উঠলে রীতিমাফিক শুরু হয় বুনো শুয়োরের উপদ্রব। কোয়ার্সভিলের ফ্যাক্টর ও কমিশনেয়াররা সড়কি নিয়ে ঘোড়ায় চেপে শুয়োর শিকারের উৎসবে যায়।

    একবার মাত্র গিয়ে শিকারের শখ মিটেছে শার্লের; বীভৎস হিংস্রতা সহ্য করতে পারেনি। সড়কির ফলায় আমূল বিদ্ধ এক গর্ভবতী শুকরীর আর্তনাদ ওকে তাড়া করেছে কয়েক রাত। তার থেকেও অসহনীয় শিকার পার্টিতে শৌখিন ছাতা টুপি দস্তানায় সজ্জিত গুটিকয় ফিরিঙ্গি নারীর চোখে বিচিত্র জান্তব উল্লাস, আর সন্ধ্যায় ভোজের টেবিলের সেই আস্ত ঝলসানো শুকরীর পেট থেকে নটি সুসিদ্ধ সসেজের আকারের ছানা বের হলে তাদের লালাসিক্ত রঙীন ঠোঁটে নারকীয় ঔজ্জ্বল্য।

    আর এসবেরই মধ্যে একদিন ঘড়ির কাঁটা থেমে গেল। ব্রেগ্যে কোম্পানির রুপোর পকেট ঘড়ি, শার্লের মা বিশতম জন্মদিনে উপহার দিয়েছিলেন। বিলম্বিত বর্ষার পর বাংলার প্রকৃতির শীতল সজীব রূপ খুলতে রিউনিয়ান ছেড়ে আসার সময়ের সেই অনুভূতিটা পেড়ে ফেলল শার্লকে। যে ছায়াটাকে সে দ্বীপে ছেড়ে এসেছিল, সেটি ইতিমধ্যে ফিরে গিয়েছে তার প্রাণের শহরে।

    একদিন ট্যাভার্নে বসে সাতগাঁর এক দক্ষ নেটিভ ঘড়ি সারাইয়ের মিস্ত্রির হদিশ পেল শার্ল। খোঁজ করে গিয়ে ঘড়িটা দিতেই হাতে নিয়ে খুলে এক সেকেন্ডের মধ্যে সেটি ফের চালু করে দিল সে। পারিশ্রমিক দিতে গেলে বলল-–

    ‘সামান্য একটা এসকেপ হুইল ঘু-ঘুরিয়ে দেবার জন্য আমি কোনো পা- পারিশ্রমিক নিইনা, ঘড়িতে সা-সাড়ে তিন ঘন্টা সময় পিছিয়ে দেবার জন্যেও কিছু নিইনা।’

    সাতগাঁর সময়ের থেকে সাড়ে তিনঘন্টা পিছিয়ে চলে প্যারিসের সময়, সেটা আর সেই ব্রাহ্মণ মিস্ত্রিকে বলা হয়নি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }