Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৬.৪

    ৬.৪

    মি’লেডি, বিপুল ব্রহ্মান্ডে মিল্কি ওয়ে গ্ল্যালেক্সির এক কোণে সৌরজগতে পৃথিবী গ্রহে হুগলি নদীর ধারে শহর কলকাতা, আর তার উত্তরে দুই নদীর মধ্যবর্তী মৎস্যভূমিতে সাতগাঁ, অতীতের প্রাইমাম এম্পোরিয়াম ইন্ডে, ছোটো রেলগাড়ি চেপে যেতে হয়। একদা মিশরের পিরামিডের ধনরত্ন নীলনদের উপত্যকা দিয়ে বন্দরে নিয়ে যাবার জন্য ইংল্যান্ডের স্ট্যাফোর্ড শহরে তৈরি লাল-কালো ডেল্টা ক্লাস ইঞ্জিন তিনটি বোতল-সবুজ কামরা টেনে পর পর ফরাসী, দিনেমার, ওলন্দাজ, আর্মানি ও পর্তুগীজদের ডাঙার ওপর দিয়ে, ডানদিকে সজীব ভরন্ত হুগলি আর বাঁদিকে মৃতপ্ৰায় সরস্বতীকে রেখে, মাঠঘাট পুকুর চিনিকল গোরস্তান ম্যাওবেড়ালের গির্জা ছাড়িয়ে সাতগাঁয় যাওয়া-আসা করে। সেই ট্রেনে চেপে পালাপার্বণে উৎসবে আত্মীয়বিয়োগে মায়ের সঙ্গে আসে এক বালক।

    রামনবমীতে আদিরাম মন্দিরের লাগোয়া জমিতে মেলা বসে। মাটির পুতুল থেকে শুরু করে তালপাতার সেপাই, অগ্রদ্বীপের কাঠের শ্রীচৈতন্য থেকে কাশীর পুতুলের-পেটে-পুতুল ও অন্যান্য খেলনার দোকান দেয় হস্তশিল্পীরা। এছাড়াও বিক্রি হয় গৃহসামগ্রী দেওঘরের পাথরের খোরা, বাটি, খলনুড়ি, শিলনোড়া, শিশু কাঠের বারকোশ, হাতা, চন্দ্রপুলির ছাপ, ইঁদুরকল, বসিরহাটের বঁটি, দা, হামানদিস্তা, নারকেলের ছোবড়া তোলার সাঁড়াশি, কুয়োয় বালতি তোলার হুক ও অন্যান্য ঘরকন্নার অপরিহার্য দ্রব্য। বিশুকা বাপ্পা, তিতলি আর কানাইকে মেলায় ঘোরাতে এনে খেলনা কিনে দেয় – কানাইয়ের জন্য ঝুমঝুমি, ভেঁপু আর বাপ্পা ও তিতলির জন্য প্লাস্টিকের ঘড়ি আর রোদচশমা। এছাড়া তিতলি বাবার কাছে আবদার করে নানারকম পুতুল মূর্তি ও খেলনা কেনে। ঝুলন পূর্ণিমার দিন হেমন্ত সেই খেলনা দিয়ে উঠোনের ধারে ওদের ঝুলন সাজিয়ে দেয়।

    প্রথমে গামা কোদালের চার কোপে আয়তাকার ঘাসের চাঙড় কেটে নিয়ে আসে। তার দুদিকে বালির নদী এঁকে তৈরি হয় মাছের আকারের ভূমি। একদিকে কেশুতির ডাল পুঁতে হয় ঘন জঙ্গল, সেখানে পোড়ামাটির গন্ডার হরিণ চরে, ইটের গুঁড়োর রাস্তায় লালনীল মোটর গাড়ি, কাগজের পালকি, একধারে ছোটো ছোটো পিচবোর্ডের ভিলা, পোর্সেলিনের গির্জা, অচল রিস্টওয়াচের ডায়াল দিয়ে ঘড়িঘর, ঝাঁটার কাঠির রেললাইনে দেশলাই বাক্সের রেলগাড়ি, খালের ওপর পাঠকাঠির সেতু, কাগজমন্ডের ঘন ঝুরি-নামানো বটগাছ, তার নীচে কাঠের শ্রীচৈতন্য, খোলামকুচির টুকরো জুড়ে জুড়ে মন্দির, তার সামনে পুতুলের রামনবমী মেলা, বালির নদীতে কঞ্চির ফালি দিয়ে তৈরি ভেলায় ক্ষুদে পোড়ামাটির ঘোড়া, প্লাস্টিকের পালতোলা জাহাজ, কানাইয়ের সদ্য-ছেড়ে আসা নীল চানের গামলার সমুদ্রে গোল হয়ে ঘুরে চলা টিনের পটপটি স্টিমার, ভাসমান রবারের হাঙর। জলের ধারে টুনি বাল্ববে সাজানো দোলনায় রাধাকৃষ্ণ, পেন্ডুলামের কারিকুরিতে অবিরাম দুলে চলেছে। কখনো শিবপার্বতী, কিংবা শ্মশানচারী শিব, পেছনে ডাকিনী যোগিনীর দলে তিতলির পরিত্যক্ত গোলাপি প্লাস্টিকের পুতুল, রংজ্বলা কেশহীন, হাত ছেঁড়া, দুই পায়ের মাঝে গোল বোতামের আকারে যৌনাঙ্গ, পেট টিপে ধরলে কঁকিয়ে ওঠে…

    ঝুলন সাজানো হলে রামপ্রাণ থেকে শুরু করে বাড়ির বড়োরা একে একে এসে দেখে যায়। রাধাকৃষ্ণের বৈজ্ঞানিক ঝুলন লীলা দেখে বামুনদি গলায় আঁচল জড়িয়ে প্রণাম করে, নতুনবউ এসে দেখে নেয় ওখানে তার ব্যক্তিগত সংগ্রহের পুতুল চুরি করে আনা হয়েছে কি না, কোমরে গামছা কানে পৈতে জড়িয়ে যুদ্ধে যাবার আগে বসন্ত বলে—

    ‘ম্যানিফ্যিক্! লা পেতি সাতগাঁও!’

    .

    ঝুলন পূর্ণিমার ছাপ্পান্ন দিন পরে এল দুর্গাপুজো। ফের আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠল আলোক মঞ্জীর, হাওয়ায় শিউলির সুবাসে দুখযামিনী অন্ধকার স্বচ্ছ হয়ে এল, আমের পাতায় শিশিরের টুপটাপ, প্রথম দোয়েল পাখির সকুন্ঠ ডাক। তার আগে পিতৃপক্ষ পড়লে আত্মীয় জ্ঞাতিরা সাতগাঁয় ফিরেছে, সরস্বতীর নির্জন ঘাটগুলো ক’দিন আবার মুখর হয়ে উঠেছে তিলতর্পণের মন্ত্রোচ্চারণে, কুশল বিনিময়ে। টোলের বাড়িতে মশাইয়ের কাছে নবজাতকের কোষ্ঠীবিচার করতে এসেছে প্রবাসীরা।

    ঠাকুরবাড়িতে তোলাঘরের তালা খুলে হার্মাদি সিন্দুকের ভেতর থেকে বের করা হয় পুজোসামগ্রী বাসনপত্র, হরিণচর্ম, শঙ্খ, চমরির লেজের চামর, গন্ডারের খড়্গের কোষা।

    এমনই একটি দিনে ব্রথ পাউডারের ভয়ে সিন্দুকের ভেতরে লুকিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল তিতলি, বিশুকা খুঁজে পায়। সে কথা বাপ্পা মনে করালে তিতলি প্রতিবাদ করে।

    ‘মোটেই আমি ঘুমোচ্ছিলাম না!’

    ‘তাহলে তুমি কী করছিলে, শুঁয়োপোকা?’ বাপ্পা হেসে বলে।

    ‘আমি বই পড়ছিলাম।’

    ‘তুই বই পড়ছিলি?’ বাপ্পার গলায় অবিশ্বাস ফোটে।

    ‘হ্যাঁ রে, হাইডি আর ছোট্ট রাজকুমারের গল্প। ওরা দুজনে খুব বন্ধু তো, যেমন আমি আর তুই। হাইডির পাহাড়ে অনেক প্রজাপতি পাখি আছে, রাজকুমারের দেশে কিছু নেই। হাইডি পাখি প্রজাপতি পাঠাচ্ছিল বন্ধুর কাছে। কত্ত পাখি কত্ত প্ৰজাপতি উড়ে উড়ে যাচ্ছিল পাহাড় থেকে আকাশে অনেক অনেএএএক উঁচুতে…’

    ‘এসব তুই দেখতে পাচ্ছিলি? মিথ্যুক কোথাকার!—’

    ‘সত্যি রে, বাপ্পাদাদা! আই সায়ার টু হোলি ব্লেসেড মেরি!’

    ‘তুই কেরেস্তান ঠাকুরের নাম নিয়ে মিছে কথা বলছিস? সিন্দুকের ভেতরে অন্ধকার। অন্ধকারে কেউ দেখতে পায়?’

    ‘একটা কথা বলব? তুই আমায় ছুঁয়ে দিব্যি কাট কাউকে বলবি না?’ তিতলি বাপ্পার কাঁধে হাত রেখে বলে।

    ‘আচ্ছা বলব না।’

    ‘পিসিমনিকেও বলবি না?’

    ‘মাকেও বলব না।’

    ‘দিঠানকেও বলবি না?’

    ‘দিদাকেও বলব না।’

    ‘বিশুকাকেও বলবি না?’

    ‘বিশুকাকেও বলব না।’

    বাপ্পা জানতে পারে, কলকাতা থেকে আলিপুরদুয়ার থেকে খয়রাশোল থেকে যে বাপ্পা সাতগাঁয় আসে সে জানতে পারে, যে বাপ্পা আদিরামবাটি ছেড়ে কোথাও যায় না সে জানতে পারে, তিতলির একটি তৃতীয় নয়ন আছে। কপালে চুলের রেখা থেকে দুই ভ্রূর মাঝামাঝি পর্যন্ত আড়াআড়ি, যেমন মা দুর্গার আছে। কিন্তু সেটি অদৃশ্য, দেখা যায় না, কেবলমাত্র ঘুটঘুটে অন্ধকারে সেই চোখ জেগে ওঠে।

    কলকাতা থেকে আলিপুরদুয়ার থেকে খয়রাশোল থেকে মাস কয়েক পর পর বাপ্পা যখন সাতগাঁয়ে আসে, তিতলি এমন বিচিত্র অবিশ্বাস্য জ্ঞানের ঝাঁপি নিয়ে অপেক্ষা করে থাকে ওর জন্য। নাকের পাটা ফুলিয়ে, ঠোঁটে সবজান্তা হাসি ঝুলিয়ে, তর্জনি উঁচিয়ে বিতরণ করে।

    ‘তুই বড়ো মিথ্যুক রে শুঁয়োপোকা!’ বাপ্পা বলে।

    ‘আমি মিথ্যুক?’ তিতলি আহত কণ্ঠে বলে। এমন তৃতীয় নয়ন ওর ক্লাসে অনেক সহপাঠীরই আছে। যে কেউ মনে মনে বিশ্বাস করলেই এই নয়ন কপালে ফুটিয়ে তুলতে পারে, কিন্তু সে খুব কঠিন আর কষ্টকর। পূর্ণিমার দিন খালিপেটে থেকে সন্ধ্যাবেলা ঠাকুরের পুজোর নতুন গামছা কপালে একশো আট বার ঘষতে ঘষতে— ‘রাম-রাম-রাম-রাম-রাম’ জপ করতে হবে। ভুল করে যদি— ‘মরা-মরা-মরা- মরা-মরা’ বলেছ তাহলেই কিন্তু অন্ধ হয়ে যাবে!

    বাপ্পা মাড়-দেওয়া নতুন গামছা নিয়ে পরীক্ষা করে। কয়েক বার কপালে ঘষতেই জ্বালা করতে থাকে, নুনছাল উঠে যাবার উপক্রম হয়। দিনটা অবশ্য পূর্ণিমা নয়, আর সে খালি পেটেও নেই। তবু চাঁদ-কপালি তিতলির অদৃশ্য তৃতীয় নয়নের ব্যাপারে অবিশ্বাস কাটে না।

    রবিবার দুপুরবেলায় খাওয়া-দাওয়া মিটলে বাড়ির সকলে দিবানিদ্রা দিচ্ছে। ঢাকা বারান্দায় লাল মেঝেয় বসে বাপ্পা আর তিতলি লুডো খেলছে। কানাইকে ওরা খেলায় নেয়নি। কানাই ছক্কা চালতে পারে না, দান দিতে জানে না। একটা লাল প্লাস্টিকের মোটরগাড়ি নিয়ে মেঝের ওপর সজোরে গড়িয়ে দিচ্ছে কানাই, দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে গাড়িটা ফিরে আসছে। আবার গড়িয়ে দিচ্ছে, কখনো লুডোর বোর্ডের ওপর দিয়ে, ঘুটি ছত্রাখান হয়ে যাচ্ছে।

    তিতলি উঠে গিয়ে ওর পিঠে কিল বসাতেই পা ছড়িয়ে বসে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কান্না জুড়ে দিল। পোস্তবাটার আবুলি ভেঙে অ্যান্টনি কর্কশ গলায় ডেকে উঠল— ‘ম্যের্দা!’ ভাঁড়ারের চৌকাঠে বামুনদি আঁচলে পাশ ফিরে ফের ঘুমোতে লাগল।

    উঠোনে দুপুরের রোদে হলুদ নিমের পাতা নিঃশব্দে ঝরছে। তিতলি লুডোর ঘুঁটি সরিয়ে রেখে ইশারায় ডেকে নেয় বাপ্পাকে।

    উঠোন পার হয়ে ঠাকুরবাড়ির দিকে যেতে কানাই পিছু নিল। কিন্তু ওরা দুজনে পা টিপে টিপে গিয়ে যখন তোলাঘরের দরজা ঠেলে ঢোকে, কানাই বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। ভেতরে ঢোকে না। ঘরের দেয়ালে হরিণের চামড়া আর চমরির লেজের চামরটায় তার যত ভয়।

    নীচু লম্বাটে ঘরের ভেতর সিন্দুকগুলোর ডালা খোলা, পুজোর বাসন ধুয়ে রাখা হয়েছে। হরিণচর্মটা রোদ খাওয়ানোর পর উষ্ণ জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ঘুলঘুলির ফোকর দিয়ে সূর্যরশ্মি ঢুকে বড়ো পেতলের গামলায় রাখা গঙ্গাজলে পড়েছে, ছাতের কড়িবরগায় তার প্রতিবিম্ব দপদপ করছে। তিতলি একটাও কথা না বলে বাপ্পার কাঁধ ধরে একটা জলচৌকির ওপর বসিয়ে দিল, ঘরের শেষ প্রান্তে আলকাতরা মাখানো সিন্দুকগুলোর আড়ালে গিয়ে নীচু হলো।

    প্রায়ান্ধকার ঘর, জলে প্রতিবিম্বের অস্পষ্ট প্রভা, সূক্ষ্ম ধুলিকণা সূর্যরশ্মিতে চিকচিক করে মিলিয়ে যায়। বাপ্পা অপেক্ষা করে। অন্ধকারে ক্রমশ চোখ সয়ে আসে। কতকালের ধোঁয়ায় মলিন দেয়ালে সারি সারি কুলুঙ্গিতে জলশঙ্খ, পুষ্পপাত্র, পঞ্চপ্রদীপ, তামার টাট, কাঠের রেহাল স্পষ্ট ফুটে ওঠে। তিতলিকে দেখা যায় না। সিন্দুকের আড়ালে খসখস শব্দ হয় কেবল। এদিকে ঢোলকের চামড়ায় লোম বেড়ে উঠতে থাকে, শাঁখের ভেতরে ঘুণপোকার কিটকিট-কিটকিট ধ্বনি। মাথার ওপর চুর চুর প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বাপ্পার মাথার মধ্যে ঝিঁ ঝিঁ করে একটা অচেনা অনুভূতি, দমবন্ধ হয়ে আসছে মনে হয়। কালবৈশাখী ঝড় ওঠার আগে বাতাসে বারুদের গন্ধের মতো জিভে একটা স্বাদ। আর তারপরেই ঘরের প্রান্তে হার্মাদি সিন্দুকের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে ওঠে তিতলি, মনে হয় বুঝি জলে ভেসে উঠছে। বাপ্পা দেখে, ওর দুই কাঁধের ওপরটা ডানার মতো চিকচিক করছে। অন্ধকার সিন্দুকে গুটির ভেতর থেকে শৈশবের গুঁয়োপোকাটা প্রজাপতি হয়ে বেরিয়ে এসেছে। যত সে এগিয়ে আসে, মাথায় সেই ঝিঁ ঝিঁ অনুভূতিটা বাড়ে। বুকের মধ্যে হাতুড়ির মতো শব্দ। আর তারপর তেরছা সূর্যরশ্মির নীচে আসতেই পাকা তেলাকুচোর লালে সোনালি জরির কাজ দাউ দাউ করে করে ওঠামাত্র ওটা যে প্রজাপতির ডানা নয়, একটা শাড়ি, তিতলি গায়ে জড়িয়েছে, বাপ্পা সেটা বুঝে ওঠার আগেই এক অতল নৈঃশব্দ্যের কুয়োর ভেতরে পড়ে যায়।

    .

    পরে সে জানতে পারবে, বাজ-পড়া গাছের মতো জলচৌকি থেকে মেঝেয় ছিটকে পড়েছিল। দাঁতে দাঁত লেগে ঠোঁট বেগনি হয়ে গিয়েছিল, চোখের পাতা খোলা আর অস্বাভাবিক সাদা। হাত পা বরফের মতো ঠান্ডা। তিতলির আতঙ্কিত চিৎকারে সকলে ছুটে আসে। বিশুকা ওকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে আসে বারান্দায়, রামপ্রাণ বুকে স্টেথোস্কোপ বসিয়ে নাড়ি দেখতে থাকেন। বাবার নির্দেশে শিউলি দু হাত জলে ভিজিয়ে নিয়ে ওর হাতে পায়ে জোরে জোরে ঘষতে থাকে উত্তাপ ফেরানো জন্য। ইত্যবসরে সরোজা একটা চন্দন কাঠের টুকরো এনে ওর দাঁতের ফাঁকে গুঁজে দিল। জামার বোতাম খুলে দিতে দেখা গেল বাপ্পার গলায় বুকে পৈতের মতো জন্মদাগটা অপরাজিতা নীল হয়ে ফুটেছে।

    চার মিনিট পরেও চৈতন্য না ফেরায়, শরীরে উত্তাপ না ফেরায় ওকে কোয়ার্সভিলের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বসন্ত লাথি মেরে মেরে হাৰ্লেকে জাগাতে চেষ্টা করে। পোড়া পেট্রলের গন্ধ নাকে যেতে জ্ঞান ফিরল বাপ্পার। শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে এল, দেহে উত্তাপ ফিরল। রামপ্রাণকে এতটা বিচলিত হতে এর আগে কেউ দেখেনি, শিউলির চোখমুখ লাল হয়ে ফুলে উঠেছিল। এদিকে তিতলির কান্না আর থামছিল না। তীব্র অপরাধবোধে দমবন্ধ হয়ে আসছিল ওর।

    সোনার জরিবসানো পাকা তেলাকুচো রঙের রেশমি শাড়িটা ছিল সতীর। বহুকাল সিন্দুকের ভেতর বংশের অন্যান্য স্মৃতিচিহ্নের মাঝে সঞ্চিত ছিল। রামপ্রাণের প্রপিতামহ রাজারাম সার্বভৌমের দ্বিতীয়া স্ত্রী লক্ষণা সহমরণে যান। আদিরামবাটির ইতিহাসে তিনিই শেষ ও সম্ভবত একমাত্র সতী। বাড়ি থেকে সরস্বতীর ঘাট পর্যন্ত পথ পালকিতে গিয়েছিলেন। সেই পালকি— যাতে চড়ে তিনি বিবাহের পর স্বামীগৃহে আসেন, তারও আগে রামদেবের স্ত্রী আদরিণী আসেন, এগারোটি লুপ্ত পুথি ও নারায়ণশিলা আসে, শেষবার অন্তর্জলীযাত্রা থেকে ফিরে আসেন শাকম্ভরী দেবী। ঘাটে লক্ষণার গা থেকে রেশমের শাড়ি গয়না খুলে নেওয়া হয়, তাঁকে পরানো হয় লালপাড় সুতির শাড়ি, তারপর জ্বলন্ত চিতায় তোলা হয়।

    এই ঘটনার কথা সবাই জানে, যদিও কোনো পারিবারিক নথিতে লেখা নেই, মি’লেডি।

    .

    তোলাঘরে সেই ঘটনার পর বহুদিন তিতলি বাপ্পার কাছে জানতে চেয়েছে, মূর্ছা যাবার পর ঠিক কীরকম অনুভূতি হচ্ছিল? বাপ্পা নিজেও অনেক ভাবার চেষ্টা করেছে। তড়কা লাগার ঠিক আগে কালবৈশাখীর সেই বারুদ গন্ধের পর গ্রীষ্মের প্রথম বৃষ্টির মতো একটা গন্ধ, ঘন সবুজ চুঁইয়ে আসা একটা অন্যরকম আলো। সেই আলোর ভেতর দিয়ে একটা হতশ্রী এক্কাগাড়ি আসছে।…

    আর কিছু মনে পড়ে না।

    *

    বাপ্পারা খয়রাশোলে ফিরে যাবার পর খবর এল অ্যান্টনি মারা গিয়েছে।

    বেশ কিছুকাল সে আগের সেই প্রাণশক্তি হারিয়েছিল, কিন্তু মরার বয়স হয়েছিল কি না জানার উপায় ছিল না। ফাল্গুন মাস পড়লেই সরোজা খাঁচার দরজা খুলে দিতেন, ছাড়িগঙ্গার ওপারে আফিম খেতে উড়ে যাবার মতো ডানার জোর তার ছিল। ইতিমধ্যে দেশে নতুন মাদক আইন হয়েছে, আফিম চাষে বিধিনিষেধ চেপেছে। চাষিরা লুকিয়ে গাঁদা ফুলের ক্ষেতে আফিমের চাষ করত, অ্যান্টনিকেও তার নেশার দ্রব্যের জন্য রোজ অনেকটা দূরে উড়ে যেতে হতো। চাষের মরশুম শেষ হলে সরোজা ওকে হলুদ জলে চান করাতেন। ওর সাদা পালক পাকাপাকিভাবে হলদেটে হয়ে গিয়েছিল পোর্তোহাটার হাফ-ফিরিঙ্গিদের মতো।

    সেবার শীতের প্রকোপ বেশি হলো, বসন্ত এল দেরীতে। বাতাস আমের বোলে ম-ম করে উঠতে অ্যান্টনি উচাটন হলো। পর পর তিনদিন যাওয়া-আসা করার পর চতুর্থ দিন থেকে ফিরল না। সাত দিন কেটে যাবার পর রামপ্রাণ ছাড়িগঙ্গার ওপারে রোগীদের গ্রামে খোঁজ নিতে লোক পাঠালেন। এর আগেও একবার এমন ঘটেছে, তিনদিন অ্যান্টনি না-ফেরার পর খবর এসেছিল শিকারিরা ফাঁদ পেতে ওকে ধরেছে, কলকাতায় কাশীপুরে পাখির হাটে বেচতে নিয়ে গিয়েছে। পরে দেখা যায় সেটা গুজব, পাঁচদিন পর বহাল তবিয়তেই ফিরে আসে। এবারেও ফিরল, আঠের দিনের মাথায়, কিন্তু বহাল তবিয়তে নয়। অ্যান্টনির দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেল না, কিন্তু দেখা গেল সে কন্ঠস্বর সম্পূর্ণ হারিয়েছে। কেউ বিষপ্রয়োগ করেছে, নাকি আফিমে কীটনাশকের প্রভাবে ঘটেছে, সেটা বোঝা গেল না। সরোজা ওকে ফের পাড়ে বহাল করলেন আগের মতো। কিন্তু অ্যান্টনি নড়াচড়া করে না, টু শব্দটি করে না। সারাদিন ডানায় ঠোঁট গুঁজে ঝিমোয়।

    অনেককাল এদিকে আলিসাহেব আসেন না, রামপ্রাণ নিজের বিবেচনামতো চিকিৎসা করেন। অ্যান্টনি মুক হয়ে পড়ায় এক বিচিত্র নৈঃশব্দ্য নেমে এল আদিরামবাটিতে। দুপুরবেলায় দোতলায় নতুনবউয়ের ঘরে রেডিওর ধ্বনি, রাস্তায় ফেরিওয়ালার ডাক, ঠাকুরবাড়িতে বিশু ঠাকুরের ঘন্টাধ্বনি, কুয়োয় কপিকলের শব্দ কেমন যেন অন্যরকম আর বিষণ্ণ শোনায়।

    জন্মাষ্টমির দিন সকালে নন্দর-মা এল ডোরাডোর দোতলার বারান্দায় অ্যান্টনির মৃতদেহ দেখল। ঘাড় ভাঙা, বুকের কাছে খোবলানো, চারিদিকে ছড়িয়ে আছে হলুদের ছোপ লাগা সাদা পালক। বোঝা গেল, এ কোনো বড়ো হুলো কিংবা ভাম বেড়ালের কাজ। বোবা হয়ে যাবার পর অ্যান্টনি ভয় দেখানোর ক্ষমতা হারিয়েছিল, ওকে শিকার করা কিছু কঠিন ছিল না। কিংবা কে জানে, হয়তো মরে দাড় থেকে খসে পড়েছিল, তারপর বেড়ালে টেনে নিয়ে যায়।

    সরোজার হাতে বোনা শৌখিন পশমের আসনে অ্যান্টনিকে মুড়ে পেছনের আমবনে শিয়ালকাঁটার ঝোপে গর্ত খুঁড়ে পুঁতে দিয়ে এল গামা। ঘটনার করুণ বিবরণ দিয়ে বাপ্পাকে শিউড়ির নতুন ঠিকানায় চিঠি লিখল তিতলি। ইতিমধ্যে বাপ্পারা খয়রাশোল থেকে জেলাসদরে চলে এসেছে, রথীনের পদোন্নতি হয়েছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }