Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ১.৫

    ১.৫

    কর্মসূত্রে সাতগাঁয় আসার আগে কলকাতা শহরের বাইরে পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে রথীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। যা ছিল তা এক ঝাপসা গ্রাম-মফস্সলের ছবি, সাদাকালো ইতিহাসবিহীন কতগুলি দৃশ্যখন্ড, যা সেইকালে বাংলা ছায়াছবির পর্দা জুড়ে ফুটে উঠত যখন রোম্যান্টিক নায়ক হুডখোলা ক্যাডিল্যাকে নায়িকাকে পাশে বসিয়ে চুল উড়িয়ে শহর ছাড়িয়ে ‘লং ড্রাইভ’ -এ যেত, তাদের চোখে থাকত কালো রোদচশমা, ঠোঁটে গানের কলি ও বার্ডস-আই। যেদিন সে তার টিনের তোরঙ্গটি নিয়ে মার্টিন্‌স কোম্পানির লাইট রেলে চেপে সাতগাঁ ক্যাম্প অফিসে কাজে যোগ দিতে এল, সেই অনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট হারিয়ে গেল।

    অফিস বলতে জনপদের বাইরে ঘাসে ছাওয়া উঁচুনীচু পরিত্যক্ত জমির মাঝে তিনটি ক্যানভাসের তাঁবু। ইতস্তত বাবলা গাছ, গরু চরছে। পাশেই সরস্বতী নদীর মজা সোঁতা। এরই মাঝে এদিক ওদিক খননের কাজ হয়েছে, তার আয়তাকার গর্তগুলো বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। চারদিকে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন আমলের টেরাকোটার টুকরো।

    সুতির ঢিলা কোট-পাতলুন পরা বছর পঞ্চাশের ক্যাম্প সার্ভেয়ার কেশব কুমার গুছাইতের চেহারা দেখলে মনে হবে সাম্প্রতিক দুর্ভিক্ষে লুপ্তপ্রায় মানবগোষ্ঠীর শেষ জীবিত প্রতিনিধি। তারের চশমা নাকে গলিয়ে খুব ধীরে ধীরে তিনি নিয়োগপত্রটি পড়লেন, ততোধিক ধীর গতিতে তাঁবুর এক কোণে ব্যুরো টেবিলের দেরাজ টেনে খুলে এক খন্ড সাদা কাগজ বের করলেন।

    ‘এখানে আপনার জয়েনিং রিপোর্ট লিখুন।’ পকেট ঘড়ি বের করে সময় দেখে অবসন্ন গলায় বললেন ‘যদিও এখন বেলা তিনটে, আপনি ফোর-নুনই লিখুন। নাহলে আজকের বেতনটা অর্ধেক পাবেন।’

    যোগদানপর্ব মিটলে অফিসের অন্যান্য কর্মচারী, অর্থাৎ দুজন বেতনভুক খননকারী, চারজন ঠিকা কুলি ও একজন পাচককে ডেকে পরিচয় করিয়ে দিলেন রথীন্দ্রনাথের সঙ্গে। হাত বাড়িয়ে করমর্দন করে গুছাইত বললেন

    ‘মিস্টার চ্যাটার্জি, আজ এই মুহূর্ত থেকে আপনি আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া পরিবারের একজন সদস্য।’ যেন তার স্বীকৃতি স্বরূপ একটি বাক্স থেকে লম্বাটে সোলার টুপি বের করে তরুণ সহকর্মীর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন ‘দিনদুপুরে সাইটে থাকার সময় এই জিনিসটি কখনো মাথায় পরে থাকতে ভুলবেন না। সাহেবরা এটি পরে থাকত বলেই এই চাঁদিফাটা রোদ্দুরের দেশে দুশো বছর রাজত্ব করতে পেরেছিল। জানেন তো?’

    এই অব্দি বলে থেমে, বার দুই দম নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। ‘তবে কী জানেন, ওরা বড়ো বেশি হুটোপাটি করেছিল। তাইতো একদিন বাক্সপ্যাঁটরা বেঁধে চলেও যেতে হলো।’

    সাতগাঁর ক্যাম্পসাইটে গুছাইত ইতিমধ্যে দুটি ডিগিং সিজন কাটিয়ে ফেলেছেন। একটি প্রাচীন বাণিজ্যতরীর ফসিলের টুকরো, কিছু লোহার যন্ত্রাদি, কড়ি, প্রবাল, চীনা হরফ আঁকা পোর্সেলিনের টুকরো আর রাশি রাশি পোড়ামাটির খোলামকুচি ছাড়া কিছু তেমন মেলেনি।

    ‘আমাদের এই সাইটটার আশেপাশে এককালে জাহাজ নির্মাণের কারিগরদের একটা বসতি ছিল বলে অনুমান হয়। আর.ডি. সাহেব যেখানে কাজ করেছিলেন সেই সাইটটা এখান থেকে মাইল দেড়েক উত্তরে, সরস্বতী নদীর খাতের পাশে।’

    রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরাতত্ত্ব পরিবারের লোকেরা ‘আর.ডি. সাহেব’ বলে সেটা রথীন জানত। চাষিদের লাঙলের ফলায় মহম্মদ বিন তুঘলকের আমলের মুদ্রা উঠে আসছে খবর পেয়ে উনি এখানে আসেন, এবং সুলতানী টাকশালের ভগ্নাবশেষ খুঁজে বের করেন।

    ‘এই সাতগাঁয়ে এসে আর.ডি. সাহেব এক রহস্যময় ধাঁধার সম্মুখীন হন, গুছাইত একদিন বললেন। ‘এখানে যত খুঁড়বেন, ততই দেখবেন অনেকটা নীচের লেয়ারে ওপরের সময়ের আর্টিফ্যাক্ট রয়েছে, প্রায় দুটো-তিনটে সেঞ্চুরি মিলেমিশে আছে। আসল ব্যাপারটা বুঝলেন কি, চ্যাটার্জি?’

    রথীন বিস্ময়ে মাথা নাড়ে। গুছাইত রহস্যের হাসি হাসেন, দুহাতের আঙুল পরস্পরে জড়িয়ে ক্যাম্প খাটে দেহের উপরিভাগ এলিয়ে দেন ধীরে ধীরে।

    ‘ত্রিবেণীর নীচের দিকে সরস্বতী আর হুগলি নদী বারে বারে বন্যায় কুল ভাসিয়ে খাত বদলিয়ে মাটির স্তর দইয়ের ঘোলের মতো ঘেঁটেছে। আর.ডি. সাহেব সেটা এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে লিখে গিয়েছেন।’ চোখ বন্ধ করে মন্ত্র আওড়ানোর মতো করে গুছাইত বলেন–‘হিয়ার দা পাস্ট অ্যান্ড দা প্রেজেন্ট আর সো ইনেক্সট্রিকেবলি লিংকড দ্যাট সীকিং এ প্রপার ক্রনোলজিকাল সিকোয়েন্স ইজ অ্যাজ গুড অ্যাজ চেজিং আ মিরাজ। হা হা হা! বুঝলে চ্যাটার্জি, আমরা এখানে মরীচিকার পেছনে ধাওয়া করছি! এ কথা আমি নয়, খোদ আর.ডি. সাহেব বলে গিয়েছেন।’

    কেশব কুমার গুছাইত আর্কিওলজিকাল সার্ভে বিভাগে কর্মজীবন শুরু করেছেন রথীনের বয়সে। তখনও দেশ পরাধীন, কাজ শিখেছেন পুরাতত্ত্বে নিবেদিতপ্রাণ সাহেবদের কাছে। সেই সময়ে কাজের প্রতি একধরনের নিষ্ঠা আর আবেগ হয়তো গড়ে উঠেছিল, এতকাল ধরে বিভিন্ন গুরুত্বহীন সাইটে পড়ে থেকে থেকে সেসবই শুকিয়ে মরে গিয়েছে। সন্ধ্যাবেলা তাঁবুর ভেতর কেরোসিন বাতির আলোয় পাল আমলের টেরাকোটার মুখোশের মতো গুছাইতের ভাবলেশহীন মুখে সেই অতীত উদ্দীপনার চিহ্ন খুঁজতে চেষ্টা করে রথীন।

    অপরিসর তাঁবুতে দুই দিকে দুই সার্ভেয়ার বাবুর জন্য দুটি ক্যাম্প খাট আর চারিদিকে বড়ো বড়ো কাঠের বাক্সে বোঝাই আর্টিফ্যাক্ট। বাক্সগুলোকেই আসবাবের মতো করে ব্যবহার করা হয়। তৃতীয় দিন সন্ধ্যাবেলা সাইট থেকে তাবুতে ফিরে সোলার টুপিটা কাঠের খুঁটিতে পেরেকে ঝুলিয়ে বাক্সগুলো দেখিয়ে গুছাইত বললেন—

    ‘সপ্তাহ মাস ধরে ডিগিং চালিয়ে কী পেলে সেটা বড়ো কথা নয়, বুঝলে হে চ্যাটার্জি। আসল কথা হলো লগ বুকে রোজ কাজের খতিয়ান লিখে রাখা, আর যতদূর সম্ভব ডিটেল রিপোর্ট তৈরি করে হেড অফিসে পাঠানো।’

    গুছাইত মাসে দুবার সেই রিপোর্ট জমা দিতে এবং ঠিকা কর্মীদের বেতন তুলতে কলকাতায় যান, এবং দেড় দিন ডিউটি লীভের সঙ্গে আরও দেড়দিন ফ্রেঞ্চ লীভ জুড়ে হাওড়ার ডোমজুড়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে আসেন। সাইটের রুটিন কাজ বিহারী খননকর্মী আর কুলিরাই করে। সার্ভেয়ার বাবুদের মাঝে মাঝে গিয়ে তদারকি করতে হয় আর লম্বা লম্বা খতিয়ান লিখতে হয়। শামুকের গতিতে সেই কাজ শেষ করতে করতে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামে। সেজবাতির শিখা কমিয়ে দিয়ে আলোআঁধারির ভেতর ক্যাম্পখাটে চিৎ হয়ে শুয়ে গুছাইত অপেক্ষা করেন পাশের মেস টেন্ট থেকে ধূমায়িত ভাতের গন্ধ ভেসে আসার জন্য

    ‘আমাদের এই ক্যাম্প বসার আগে এখানে যত খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছে, বর্ষায় বন্যায় সেই সাইটগুলো খুঁজে গিয়েছে পলিমাটিতে। তার ওপর ঝোপজঙ্গল গজিয়ে চারপাশের সঙ্গে এমনভাবে মিশে গিয়েছে আর আলাদা করে চেনাই যাবে না।’ বুকের ওপর দুটো হাত জড়ো করা, চোখ বোঁজা, গুছাইত কথা বলেন স্বগতোক্তির স্বরে। ‘এতদিনে যতখানি কাজ হবার কথা ছিল তার কিছুই প্রায় করা হয়নি।’

    ‘কেন?’ রথীন জিজ্ঞেস করে।

    ‘তার কারণ এখানে বেশিরভাগ দেবোত্তর জমি। মন্দির ট্রাস্ট আর ব্রাহ্মণদের সম্পত্তি। ওরা সেখানে মাটি খুঁড়তে দেবে না। এর বাইরে হুগলির পাড় বরাবর যা কিছু জমি আছে, তার বেশিরভাগটাই ছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ট্রেডিং কোম্পানির দখলে। সেসব জমি এতদিনেও খাস করা যায়নি।’

    ‘এদিকটায় তো পর্তুগীজরা এসেছিল।’

    ‘পর্তুগীজ ওলন্দাজ দিনেমার আর্মানি… কে নয়? সবার নামে নামে ডাঙা আছে। পর্তুগীজরা প্রথম এসেছিল, আর সবার শেষে বিদেয় হয় ফরাসিরা। ইংরেজরা যাবার পাঁচ বছর পরে। ওদিকটায় অবশ্য সেন আমলের আগে তেমন বসতি ছিল বলে মনে হয় না। যা কিছু সরস্বতীর ধারে এই সাতগাঁর দিকটায় আছে। অনেক কিছুই আছে। কিন্তু আমাদের এই কাজে প্রধান অন্তরায় হল স্থানীয় লোকজন।’

    ‘তারা কারা?’ রথীন জিজ্ঞেস করে।

    ‘টুলো পণ্ডিত আর জ্যোতিষীদের বংশধর। দাদু-ঠাকুর্দারা কে কবে সমৃত আতপান্ন খেয়েছিল তার গন্ধ হাতে লেগে আছে, এদিকে নিজেরা সব ক-অক্ষর- গোমাংস। ওরা পাল আমলের ইঁট খুলে নিয়ে গিয়ে ঘরবাড়ি মেরামত করে, সুলতানী টেরাকোটার ম্যুরালে ঘুঁটে দেয়, আরবি থুলুথ লিপি খোদাই করা পাথর দিয়ে শিলনোড়া বানায়! কল্পনা করতে পারো? ইংরেজরা আজ থাকলে সব কটাকে ফাঁসিতে লটকাতো না?’

    উত্তেজনার চোটে গুছাইত উঠে বসেন। রথীন দেখে, সেজবাতির আলোয় ওঁর অতিকায় ছায়া তাঁবুর দেয়ালে দুলছে। সোঁতার দিক থেকে হাওয়া বইতে শুরু হয়েছে, ক্যানভাস চুঁইয়ে সেই হাওয়ার শব্দে মিশছে ঝিঁঝিপোকার ডাক। তাতে মিশে যাচ্ছে গুছাইতের কন্ঠস্বর। শুনতে শুনতে ক্যাম্প খাটে হাত পা ছড়িয়ে তন্দ্রার ভেতর রথীন কল্পনা করে সাইট থেকে সামান্য দূরে এক সুপ্রাচীন জনপদ ও তার বাসিন্দাদের জীবন।

    .

    সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই তেমন দুজনের সঙ্গে পরিচয় হয়। বিশু মুখুজ্জ্যে আর শিবু চক্কোত্তি–নামের ধ্বনিতে যেমন চেহারাতেও তেমনই, একে অপরের পরিপূরক। শিবুর দেহ থেকে বুঝি সব মাংস খুবলে তুলে নিজের গায়ে ঝুলিয়েছে বিশু, তার বদলে দিয়েছে মাথার সব চুলগুলো। দুজনেরই পরনে আধময়লা খদ্দরের ধুতি ফতুয়া, কপালে চন্দনের ফোঁটা। সম্পর্কে ওরা দূরসম্পর্কীয় জ্ঞাতি। সাতগাঁর বনেদি পরিবার। বিশু মুখুজ্জ্যে মন্দিরের সেবাইত, শিবু চক্কোত্তি পেশায় জ্যোতিষী ও একটি ছাপাখানা চালায়। দীর্ঘ অলস দুপুর ওরা দাবা পাশা খেলে, ধর্মতলায় বটের নীচে আফিমখোর গেঁজেলদের ঠেকে আড্ডা দিয়ে, সরস্বতীর সোঁতায়–লোকমুখে যার নাম ছাড়িগঙ্গা–ছিপ ফেলে অতিবাহিত করে। এক সন্ধ্যায় নবাগত অ্যাসিস্টেন্ট সার্ভেয়ারটির সঙ্গে আলাপ করতে এল।

    রথীনের বিশদ পরিচয় জেনে বিশু মুখুজ্জ্যে বলে–‘অ, বাঙাল!’

    ‘তবে চাটুজ্যে বামুন!’ শিবু টিপ্পনী কাটে।

    হাতের ছিপ তাঁবুর খোঁটায় হেলান দিয়ে রেখে বিশু পা তুলে বসে প্যাকিং বাক্সের ওপর।

    ‘তা বটে। কিন্তু পুকুর খোঁড়ায় বামনাই কীসে লাগে?’

    ‘পুকুর খোঁড়া?’ রথীন অবাক হয়।

    ‘বই তো কী?’ বিশু ঠাকুর ভুঁড়ির ওপর হাত বুলিয়ে হাসে। ‘মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে চাদ্দিকে বড়ো বড়ো খোঁদল বানিয়ে আর গাদাখানেক খোলামকুচির জঞ্জাল তুলে কার উবগারটা হচ্ছে শুনি? দুনিয়ার সবাই জানে এ হল আদ্যিকেলে থান।’

    ‘সেটা আমাদের থেকে ভালো আর কে-ই বা জানে?’ শিবু এক টিপ নস্যি নাকে টেনে ধুতির খোঁটায় নাক ঝেড়ে বাক্সগুলো দেখিয়ে বলে ‘এক হপ্তার মধ্যে আমরা অমন বিস্তর খোলামকুচি তুলে আনতে পারি যা তোমরা বাপু ছ মাস ধরে মাথা কুটলেও পাবে না।’

    ‘পারি তো!’ বিশু ঠাকুর মাথা নাড়ে। ‘কিন্তু আমাদের সেসব করার সময় কই!’

    জানা যায়, উনত্রিশ জন ভিন্ন ভিন্ন কুলদেবতা নিয়ে একটি ঠাকুরবাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের ভার রয়েছে বিশু মুখুজ্যের ওপর। সেই দেবতাদের প্রত্যেকের আলাদা জাতি গোত্র, আলাদা রুচি, পুজোআর্চা আরতির সময়, উপাচার ও ভোগের মেনুও আলাদা। বিশু ঠাকুরকে এই সবকিছু একা হাতে সামলাতে হয়। এদিকে শিবু ঠাকুরের জ্যোতিষচর্চার গুমটি ঘর আছে ডকবাজারে, সেখানে সে কোষ্ঠীবিচার করে। সেইসঙ্গে একটি পুরোনো পারিবারিক প্রেস চালায়। এককালে সেখানে বিখ্যাত পাঁজি ছাপা হতো, এখন দোকানের বিল রসিদ ছাপা হয়।

    ‘লোফার!’

    ওরা চলে যাবার পর ক্যাম্প খাটে শায়িত গুছাইত বলেন। কিন্তু যতক্ষণ ওরা থাকে তিনি শত প্ররোচনাতেও মুখ খোলেন না। খাতা খুলে হিসেব পত্তর লেখেন, নয়তো বুকের ওপর হাত জড়ো করে চিৎ হয়ে শুয়ে উৎকর্ণ হয়ে থাকেন মেস টেন্টে ভাত ফুটে ওঠার শব্দে। তাঁর ধৈর্যের কারণ রথীন জানতে পারে ক্রমশ। ছাড়িগঙ্গায় ছিপ ফেলে ঘরে ফেরার পথে মাঝেসাঝেই শোল পাঁকাল জাতীয় মাছ গুছাইতকে উপহার দিয়ে যায় ওরা।

    মাছ ধরাটা নেশা, কিন্তু সব মাছ তো আর ব্রাহ্মণের ভোজ্য নয়।

    ‘কনৌজি ব্রাহ্মণেরা মাছ খায় না,’ শিবু চক্কোত্তি ব্যাখ্যা করে। ‘তবে এই সাতগাঁ হলো গিয়ে মৎস্যভূমি। সত্যযুগের শেষে মহাপ্লাবনের সময়ে ভগবান বিষ্ণু মৎস্যের রূপ ধরেছিলেন। তা’বলে সব মাছ শাস্ত্ৰীয় নয়।’

    ‘যে মাছের রঙ হবে রুপোলি, যার গায়ে আঁশ থাকবে, এবং যার আকার হবে বর্শার ফলার মতো, কেবলমাত্র সেইসব মাছ শাস্ত্রীয়,’ বিশু বলে। ‘সেই মাছ ভক্ষণ চলতে পারে।’

    গুছাইত এবং রথীনের অবশ্য কোনো মাছেই অরুচি নেই, মুফতে পাওয়া সোঁতার টাটকা মাছে তো নয়ই। এবং সেই কারণে রথীনের সিগারেটে বিশুদের ন্যায্য অধিকার জন্মায়। অন্ধকার নামার আগে সাইট থেকে ফিরে রথীন যখন ক্যাম্প খাটে হাত-পা ছড়িয়ে বসে, কুক এসে চা দিয়ে যায়, তখন প্রায় দিনই এসে উপস্থিত হয় দুই সাতগাঁইয়া। খেঁটো ধুতি হাঁটুর ওপর তুলে বাক্সের ওপর মৌজ করে বসে বিশু বলে–

    ‘কই হে চাটুজ্যেবাবু, দাও দিকি তোমার বাডসাই একখান।’

    রথীন প্যাকেট খুলে সিগারেট বাড়িয়ে দেয়। ‘আপনাকে কতবার বলেছি না এ বার্ডসআই নয়, এ হল পাসিং শো। বার্ডস আই যেকালে পাওয়া যেত তখন আমি সিগারেট ধরিনি।’

    ‘ওই হলো বাপু! যার নাম পরমেশ্বরী তারই নাম পাঁচি!’

    সিগারেটটা মুঠির ফাঁকে ছিলিমের মতো ধরে রামটান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বিশু মুখুজ্যে বলে গুপ্তধন শিকারীদের কথা, এক সময়ে যারা শাবল বেলচা নিয়ে সুলতানি মোহরের খোঁজে নদীর খাতে জেগে থাকা পোড়ো টাঁকশালের ধ্বংসাবশেষে হানা দিত।

    ‘তবে তারা আসত নিঝুম রাতে। তোমাদের মতো দিনদুপুরে মিছিমিছি মাটি খুঁড়ত না।’

    ‘মাস গেলে সরকারি মাইনেও পেত না।’ শিবু বলে।

    ‘ইংরেজরা পাততাড়ি গুটিয়ে পগাড় পার হলো, দেশটা যে কাদের হাতে ছেড়ে গেল!’ বিশু গোড়ালি টিপতে টিপতে আনমনা হয়ে পড়ে।

    ‘আমি শুনেছি কলকাতায় নাকি হুগলির ঢেউ গোনার জন্য সরকারের মাইনে করা লোক আছে।’ শিবু রথীনের দিকে ফিরে শুধোয়। ‘এটা কি সত্যি?’

    রথীন জবাব দেবার আগেই বিশু ধমকের সুরে বলে, ‘আলবাৎ সত্যি! নদীতে বড়ো বান ডাকলে কেল্লা থেকে ঢেউয়ের মাথায় কামান দাগে তো, জানিস নে? নইলে জাহাজঘাটায় ঠোকাঠুকি লেগে জাহাজ ভেঙে যাবে না?’

    ‘আমার এক ভায়রার মুখে শুনেছি কলকাতায় সদাগরী আপিসে নাকি লোক থাকে যাদের কাজ হলো সারাদিন জিভ বের করে উবু হয়ে টেবিলের মাথায় বসে থাকা।’–শিবু তার লিকলিকে ঠ্যাঙদুটো বাক্সে তুলে উবু হয়ে লম্বা জিভ বের করে। ‘এইরকম!’

    ‘তারা কী করে?’ রথীন জানতে চায়।

    ‘তারা নিজেরা কিছু করে না। ক্যাশিয়ার বাবুরা সারাদিন ধরে মোটা মোটা নোটের বান্ডিল গোনার সময়ে থেকে থেকে ওদের জিভে আঙুল ছুঁইয়ে ভিজিয়ে নেয়।

    ‘তোর ভায়রা তবে কোনোদিন কলকেতার বড়োবাজারে যায়নি, বিশু বলে। ‘গেলে দেখত ওখানে কত ধরনের পেশার লোক আছে। মাড়োয়াড়িগুলো সারাদিন গদিতে উপুড় হয়ে নোটের বান্ডিল গোনে আর ভয়সা ঘিয়ের ভুজিয়া খায়। এত মোটা হয়ে যায় যে বাতকৰ্ম্ম করতেও চাকর লাগে।’

    খিকখিক করে হেসে ওঠে শিবু। ‘সত্যি?’

    ‘সত্যি না তো কি মিথ্যে?’ বিশু খেঁকিয়ে ওঠে। ‘বাতকম্ম পেলেই হাতের সামনে ঘন্টায় চাঁটি মারে খটাং! চাকর এসে বিরাট ঢোলের মতো পাছাখানা তুলে ধরে, শেঠজী তখন গুড়ুম গুড়ুম করে তোপ দাগে!’

    চোখ বুজে মটকা মেরে শুয়েছিলেন গুছাইত। হাসি চাপতে তিনি হাই তোলার ভান করে ঠোঁটের ওপর তিনবার তুড়ি মেরে বলেন, ‘আজ মনে হয় ঠাকুরমশাইয়ের দু ছিলিম বেশিই হয়ে গেছে!’

    কলকাতা থেকে মাত্র তিপ্পান্ন কিলোমিটার দূরে একটি জনগোষ্ঠী বহু শতাব্দী ধরে এক নদীবেষ্টিত স্থানে বাস করে আসছে। এক অনড় মন্থর জীবনছন্দ, সেখানে দৈনন্দিন যাপনের জমে ওঠা জঞ্জালের নীচে চাপা পড়ে যেতে থাকে অতীত। সরস্বতী নদীটিও চারশো বছরে আগের এক ফিকে স্বপ্ন বই কিছু নয়। মধ্যযুগের খিলান, গম্বুজ ও অনান্য পোড়ামাটির স্থাপত্যচিহ্ন উপর্যুপরি বন্যা আর খাতবদলের পলির নীচে হারিয়ে গিয়েছে। চওড়া দেয়াল ও ভিতের উল্লম্ব অংশ কিছু কিছু মাধ্যাকর্ষণ উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থেকেছে, যতদিন না নরম মাটি তাদের ভূগর্ভে টেনে নেয়, কিংবা ঝোপঝাড়ে ঢেকে যায়। সাতগাঁর আশেপাশে এখনও পুকুর কিংবা নতুন বাড়ি নির্মাণের ভিত খুঁড়তে গিয়ে কষ্টিপাথরের বিগ্রহ থেকে শুরু করে চীনা হরফ আঁকা পোর্সেলিনের টুকরো, আদি বাংলার লিপি খোদাই করা পাথরের ট্যাবলেট, প্রবাল, পুঁতি ও কড়ি উঠে আসে।

    নরম মোলায়েম পলিমাটি কেকের মতো করে কেটে তার খাড়া গা থেকে প্রত্নবস্তু বুরুশ দিয়ে খুবলে আনা, বেতের ছোটো ঝুড়িতে ধুলো চেলে বের করে আনা, সারাদিনে কী মিলল আর কী মিলল না তার অনুপুঙ্খ খতিয়ান লেখার ক্লান্তিকর কাজের পর সন্ধ্যায় এই দুই সাতগাঁইয়ার সঙ্গ রথীনের ভালো লাগে না। ক্রমশ সে বুঝতে পারে, বিশু মুখুজ্জ্যে আর শিবু চক্কোত্তির মতো মানুষদের কাছে সাতগাঁ নামক এই নদীবেষ্টিত ভূখন্ডে যা আছে তাই নিয়েই পৃথিবী, এখানে যা নেই তা পৃথিবীতে কোথাও নেই।

    কলকাতার জন্য তার মন উচাটন হয়। সদ্য ছেড়ে আসা কঠিন দারিদ্র্যের দিনগুলোয় মহানগরের যে মহার্ঘ্য ভোগ্যসম্ভার অলীক স্বপ্ন ছিল, এখন তার কিছু কিছু দিয়ে রথীন ভরিয়ে দিতে পারে অন্তত মাসের প্রথম রবিবারটা, পার্ক স্ট্রিটে ফ্লুরিজে ব্রেকফাস্ট দিয়ে শুরু হয়ে যা শেষ হতে পারে চৌরঙ্গিতে মেট্রো সিনেমায় শেষ ইংরিজি শোয়ে, এমনকি তারও পরে নিজামের কাঠি রোলে। প্রতি শুক্রবার দুপুর ১.২৫-এর মার্টিন্‌স রেল ধরে বন্দর-হুগলি হয়ে হেড অফিসে যায় সপ্তাহের রিপোর্ট জমা দিতে। এতদিনে কলকাতা শহরে তার একান্ত নিজের একটি ঠিকানা হয়েছে। সন্তোষ রায়চৌধুরী বড়োবাজারে খাতা লেখার কাজ থেকে অবসর নিয়ে চলে গিয়েছেন রামরাজাতলায় বোনের কাছে, ২৩/৩ কলুটোলা লেনের ভাড়াটিয়া স্বত্ব দিয়ে গিয়েছেন রথীনকে। সেখানে আজকাল প্রায়ই তার জাঠতুতো খুড়তুতো ভাইবোনেরা এসে ওঠে।

    এই ব্যবস্থায় কেশব গুছাইতও সন্তুষ্ট। তিনি এখন তিনটি আস্ত দিন ডোমজুড়ে পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে আসতে পারেন। তরুণ সহকর্মীটির প্রবল কলকাতা প্রেম তিনি মনে মনে উপভোগই করেন। তিনি জানেন, ফিল্ড সার্ভেয়ারের চাকরিতে মাসের পর মাস বিজন পান্ডববর্জিত স্থানে নিষ্ফল মাটি ছেনে রিপোর্ট লিখে আর তাঁবুতে রাত কাটিয়ে যৌবনের এই উদ্দীপনা অচিরেই ঝুরঝুর করে ঝরে যাবে গঙ্গারিডি আমলের অ্যাম্ফোরার মতো।

    কিন্তু গুছাইত জানেন না, তরুণ সহকর্মীটি এই জীবন থেকে নিষ্ক্রমণের পথ খুঁজছে। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সে। তাঁবুর এক কোণে কাঠের বাক্স দিয়ে টেবিল বানিয়ে সেটির ওপর কুরুশের কাজ করা টেবিলঢাকা পেতে, টেরিটি বাজার থেকে শৌখিন চীনা লন্ঠন কিনে ইতিহাস, সিভিক্স, ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রির বই এনে সাজিয়ে রেখেছে (শেষের দুটি প্রিয় বিষয় সে শেষপর্যন্ত কলেজে পড়তে পারেনি)। বাঁশের গায়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে রবীন্দ্রনাথ ও আইনস্টাইনের যুগলে ফ্রেমবাঁধানো ছবি।

    ‘এই লোকটা কে?’ কবির পাশে একমাথা কাশফুলের মতো চুল লোকটাকে দেখিয়ে জানতে চায় বিশু ঠাকুর।

    ‘অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক

    ‘তুমি কমিউনিস্ট নাকি হে?’ বিশু চোখ সরু করে তাকায়, তারপর ব্যাখ্যা করে। ‘আমার মামাতো ভাইয়ের ছেলে হেমন্ত দেয়ালে রবিঠাকুরের ছবি ঝোলাতো আর সারাক্ষণ গুনগুন করে তেনার গান ভাঁজতো। সে ব্যাটা কিছুদিন কমিউনিস্ট হয়েছিল, এখন অবশ্য শুধরেছে।’

    ‘রবিঠাকুর কমিউনিস্ট ছিলেন এটা তো জানা ছিল না!’ রথীন বলে।

    ‘তার থেকেও খারাপ।’ বিশু নাক কুঁচকে বলে। ‘রবিঠাকুর বাঙাল ছিল! তেনার বাপঠাকুদ্দারা মোছলমানের হাতে ভাত খেয়ে পতিত পীর-আলি বামুন হয়েছিল। বাবা অদ্বৈত বেদান্ত থেকে ঝেঁপে দিয়ে নতুন ধম্মো আবিষ্কার করেছে বলে ঢাক পিটিয়েছিল, বীরভূমে আখড়া বানিয়েছিল। পুত্রটি আরও সরেস। তিনি সেখানে ছেলেমেয়ের অবাধ মেলামেশা, বনে জঙ্গলে নাচনকোঁদনের বন্দোবস্ত করেছিলেন। ভালো ভালো ঘরের মেয়েরা সেই ফাঁদে পা দিয়ে কলকাতায় স্টেজে উঠে মুজরো বসায় বাইজিদের মতো।’

    রথীনের ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি প্রসারিত হয়। বলে–‘রবীন্দ্রনাথ কিন্তু বাঙাল ছিলেন না। ওঁর বাস্তুভিটে ছিল কলকাতায় জোড়াসাঁকোয়।

    ‘আরে বাপু পদ্মাপারে জমিদারি তো ছিল নাকি? যেখান থেকে ভাতকাপড়ের বন্দোবস্ত হতো?’ বিশু বলে। ‘কলকেতায় কারোর আবার বাস্তুভিটে হয় নাকি!

    বিশু ঠাকুর বার কয়েক হাওড়া স্টেশন দিয়ে কাশী গিয়েছে, কিন্তু জীবনে কখনো নদী পেরিয়ে কলকাতা শহরে পা রাখেনি। হুগলি-সরস্বতীতে ঘেরা সাতগাঁর মৎস্যভূমির ব্রাহ্মণেরা সচরাচর কখনোই কোথাও যায় না। খুব যারা গোঁড়া, তারা এমনকি হুগলির পাড় বরাবর ম্লেচ্ছ ফিরিঙ্গিদের শহরগুলোও কখনো মাড়ায় না। কেউ কেউ অবশ্য সাতগাঁ ছেড়ে কাশী যায় শেষবারের মতো, মোক্ষলাভের বাসনায়।

    ছাপাখানার সরঞ্জাম কিনতে শিবু চক্রবর্তীকে মাঝেসাঝে কলকাতায় যেতে হয় বটে, তবে নির্ঝঞ্ঝাট সরকারি চাকরি জুটিয়ে নিয়েও মানুষ যে কেন লেখাপড়া করে সেটা তার মাথায় ঢোকে না। সিগারেটে সুখটান দিয়ে রথীনের বইগুলোর দিকে আঙুল নির্দেশ করে বলে–

    ‘আমিও পড়ি বইকি! তবে সেসব কমপোজে গাঁথা ছাপার ম্যাটার। আমার সেজখুড়ো মস্ত নৈয়ায়িক শাস্ত্রীমশাই পুথি পড়েন, কারণ সেটা তাঁর জাতধম্মো। আদিরামবাটির টোলে হাজার হাজার পুথি আছে। কিন্তু এইসব গরুখোর সাহেবদের লেখা বই তোমার ঐ পুকুর খুঁড়তে কী কাজে লাগে?’

    এই সময়ে রথীন তার তাঁবুজীবনের অভিজ্ঞতা চিঠিতে লিখত রুপু আর চিনিকে। খোকারা তখনও গৌহাটি ছেড়ে কলকাতায় চলে আসেনি। দুই নিষ্কর্মা গেঁজেল বামুনের গায়ে-পড়া সঙ্গ বড়ো বিরক্তিকর লাগত তার। কিন্তু তবুও রাতে খাওয়াদাওয়ার পাট চুকলে ক্যাম্প খাটে শুয়ে, ক্যানভাস ছুঁইয়ে আসা ক্ষীণ চাঁদের আলোয় গুছাইতের নাসিকাধ্বনি আর মশার গুঞ্জন ছাপিয়ে প্রহরে প্রহরে শিয়ালের ডাক শুনতে শুনতে মনে হতো এই বিজন মাঠের প্রান্তে ওই অচেনা জনপদে তবু তো দুজন মানুষ রয়েছে যাদের সে চেনে।

    .

    রাত বাড়লে শিয়ালগুলো ছাড়িগঙ্গায় ভেসে আসা মৃত পশুর সন্ধানে আসে। দিনের বেলা লুকিয়ে থাকে ধর্মতলার প্রাগৈতিহাসিক বটের ছায়ায়। বটগাছটি সাতগাঁর প্রাচীনতম জীবন্ত সত্তা। মহাপ্লাবনের পর জল থেকে জেগে উঠল এই মৎস্যাকৃতি ভূমি, কনৌজের সাত রাজপুত্রের ময়ূরপঙ্খী পাড়ে এসে লাগল, সেই তখন থেকেই গাছটি আছে। মহীরুহের ছায়ায় ধর্মঠাকুরের কচ্ছপাকৃতি পাথরটি কবে থেকে রয়েছে কেউ তার হিসেব রাখেনি। ম্যাওবেড়ালের গির্জা হবার আগে এই বটগাছটিই ছিল সবচেয়ে উঁচু ভূনির্দেশিকা। কুয়াশাচ্ছন্ন দিনে নাবিকেরা বটগাছের মাথা দেখে সরস্বতীর ছলনাময়ী খাতে দিক নির্ণয় করত।

    চৈতন্যদেব তাঁর বাইশজন শিষ্য নিয়ে এসে ধর্মতলায় দুটি রাত কাটিয়েছিলেন। তারপর থেকে এতকাল কত যে সাধুসন্ত ঠগ-ডাকাত লম্পট-জোচ্চোর, কত যে পাখি তক্ষক হরিণ শিয়াল ভামবিড়ালের নিশ্চিন্ত আশ্রয় হয়েছে আড়াই বিঘা জমির ওপর ঝুরিনামানো এই বটের পরিবার, তার কোনো লেখাজোকা নেই। ধর্মঠাকুরের থানে ইঁটের বেদির ওপর কচ্ছপাকৃতি পাথরে এলাকার অন্ত্যজ অচ্ছুতেরা চিনির ডেলা আর পোড়ামাটির ঘোড়া চড়ায়। রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় যেবার সাতগাঁয় এলেন, পিঠে ডুমো ডুমো দাগ প্যালিওআর্কটিক কচ্ছপের আকারের পাথরটিকে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল এটি পূর্ণ দৈর্ঘ্যের বুদ্ধমূর্তির মস্তকের উপরিভাগ। তাঁর অনুমান ছিল, দেহের বাকি অংশটি ওই ইটের বেদীর নীচে চাপা পড়ে রয়েছে। পাল রাজাদের কাল শেষ হবার পর এই অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অত্যাচার করে তাড়ানো হয়। তখনই সম্ভবত বাসাল্টের মূর্তিটি মাটিতে পুঁতে দিয়ে শুধুমাত্র ওই মাথার অংশটুকু ধৰ্ম্ম-রূপে পূজিত হতে থাকেন। কিন্তু আর.ডি. সাহেবের অনুমান পরীক্ষা করে দেখা সম্ভব হয়নি; ধর্মঠাকুরের বেদিতে জমাট বাঁধা বটের ঝুরির মতো আগলে জড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষের ধর্মবিশ্বাস।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Next Article জীবন স্রোতের আঁকেবাঁকে – অর্পিতা সরকার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Our Picks

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }