Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ২.৭

    ২.৭

    আলিসাহেব আদিরামবাটিতে আসছেন গঙ্গা কবিরাজের আমল থেকে। অনেককাল তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেবার দুর্গাপুজোয় অ্যান্টনি কাকাতুয়া বাড়িতে এল, তার কয়েকবছর পরে হঠাৎ একদিন তিনি এলেন।

    দুর্গাদশমীর দিন দুপুরবেলায় বসন্তর নেতৃত্বে বাড়ির চার বালকের দল বেরিয়েছিল নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে। কৈলাশে উড়ে গিয়ে মহাদেবকে মা দুর্গা ও তাঁর পুত্রকন্যার ঘরে ফেরার বার্তা পৌঁছে দেয় নীলকণ্ঠ। কিন্তু সেবার বাড়ির পেছন দিকে আমের বন ছাড়িয়ে নদীর ধারে জেলেদের খোরা জালের বাঁশের ডগায় তন্ত্র তন্ন করে খুঁজেও কোথাও একটাও নীলকণ্ঠ পাখির দেখা মিলল না। ওরা সরস্বতীর পাড় ধরে উত্তর দিকে পর্তুগীজ আমলের বর্গিব্যাটারি ছাড়িয়ে এগিয়ে চলল। নদীর পাড় ভেঙে বারুদঘরের কিছুটা অংশ ভেঙে পড়েছে খাতে। তার উত্তরে বিস্তীর্ণ আফিমের ক্ষেত, পাট-পচানোর বিল, সুলতানি আমলের ভগ্নস্তূপ। সেইসব পেছনে ফেলে যখন ওরা পৌঁছল এসে গাজীর বাগানে, তখন বিকেল হয় হয়। বড়ো বড়ো গাছ, তাদের গায়ে কোনোদিন কুঠারের ঘা পড়েনি, উঁচু ডাল থেকে ঝুলন্ত লতায় ছায়া জমেছে। বনতল ঘন ফার্নে ছাওয়া। তার মধ্যে দিয়ে পথের চিহ্ন ভাঙা ঘাট থেকে বটের শিকড় জড়ানো মিরাদর বেড় দিয়ে ঢুকেছে। এর আগে ওরা কেউ জনপদ ছাড়িয়ে এতদূরে আসেনি। মাথার ওপর ডালপালার ফাকে খুঁজতে খুঁজতে চার বালক নিঃশব্দ সারিতে শুঁড়িপথ দিয়ে ঢুকে পড়ল বনের ভেতর। লতাপাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে শ্যাওলাকীর্ণ ব্যাসাল্ট, কবেকার গোলাপি বেলেপাথর, তাদের গায়ে রিলিফের কাজ হাতিরা নৃত্য করছে, খঞ্জনি বাজাচ্ছে কিন্নরদল, চক্র, পুষ্পল ঘন্টা, মুক্তোর মালাছড়া।

    বসন্ত দলের সর্দার, সবচেয়ে সাহসী যদিও শিবু চক্কোত্তির ছেলে গদাই। সবচেয়ে কনিষ্ঠ হেমন্ত

    ‘এই দ্যাখ কী পেয়েছি!’ গদাই মুঠো খুলে দেখায়, লাল কুঁচ ফল। ‘এগুলো সোনার মতো দামি!’

    ‘চ্যাঙ!’ টুনু ফুৎকার দেয়। ‘কে বললে তোকে?’

    ‘আমি জানি, গদাই বলে। ‘দেবেন স্যাকরার দোকানে আছে। এগুলো দিয়ে সোনা ওজন করে।’

    পিপুল গাছের শিকড় বেয়ে উঠেছে কুঁচ লতা, তার শুকনো শুঁটিগুলো ফেটে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছে উজ্জ্বল লাল বীজ। প্রতিটি বীজের গায়ে কালো ফোঁটা, ঠিক যেন সাপের চোখ। নীলকণ্ঠ পাখির কথা ভুলে গিয়ে ওরা মুঠো মুঠো কুঁচের বীজ তুলে ভরতে থাকে ধুতির কোচড়ে, ইজেরের পকেটে।

    হেমন্ত উঁচু লতায় হাত পায় না, মাটি থেকে কুড়িয়ে নিতে নিতে বসন্তকে বলে,— ‘হ্যাঁ রে দাদা, আমরা কি তাহলে এবার খুব বড়োলোক হয়ে যাব? কলকাতার দিদাদের মতো?’

    ‘এই বাগানে যত কুঁচফল আছে সব যদি তুলে নিতে পারি তাহলে আমরা একটা জাহাজ কিনতে পারব,’ গদাই ঘোষণা করে। ‘চাঁদ সদাগরের মতো সাগরে যাব আমরা।’

    কিন্তু ওদের ধুতির কোঁচড় তত বড়ো নয়, কুঁচফল তুলতে তুলতে ভরে ওঠে। ইতিমধ্যে আকাশে পাকা ডুমুরের মতো রঙ ধরেছে, গাছের ফাক দিয়ে দেখা যায়।

    ‘চল এবার ফিরে যাই,’ বসন্ত বলে।

    ‘আর নীলকণ্ঠ?’ হেমন্ত বলে।

    ‘বাড়িতে গিয়ে বলব দেখেছি।’

    ‘না, মিছে কথা বললে মা দুগ্‌গা পাপ দেবে!’ হেমন্ত প্রতিবাদ করে।

    ‘পাকামি করিসনি হিমু! অমন করলে তোকে খেলায় নেব না।’

    কিন্তু হেমন্ত অনড়। পাখি না দেখে সে ফিরব না।

    নদীর ধারটায় বন নানান পাখির কলকাকলিতে মুখরিত। কিন্তু যতই ওরা ভেতরে ঢোকে চারদিক নিস্তব্ধ হয়ে ওঠে, শুঁড়িপথটা হারিয়ে যার শুকনো পাতার নীচে। গাজীর বাগান যে এত ঘন আর গভীর ওদের কেউ বলেনি। ঝোপঝাড় ঠেলে ওরা চারজন এসে পৌঁছয় বনের মাঝে খানিকটা ফাঁকা জায়গায়। হাতির পিঠের মতো পাঁচটি কবর, একটি মসজিদ যার গম্বুজ ধসে পড়েছে। এখানে গাছগুলো অতিকায় আর প্রাগৈতিহাসিক, মোটা মোটা ঝুরি যেন পাথরের অজগর। আকাশে জড়াজড়ি করে উঠেছে ঘন ডালপাতা, সবজেটে আলোয় ভরে আছে অঞ্চলটা। অদ্ভুত ভেষজ গন্ধ নাকে এসে লাগে। তারপরেই ওরা দেখতে পায়: নীলকন্ঠ নয়, পায়রা। তাদের পাটকিলে রং, গলার উজ্জ্বল লাল ডোরা-কাটা। অসংখ্য পায়রা এক ডাল থেকে আরেক ডালে নিঃশব্দে ওড়াউড়ি করছে ছাতবিহীন মসজিদের ওপর ভাঙা সৌধের মাথার ওপর পালকের চাঁদোয়া বুনছে। নীচে পরিচ্ছন্ন পাথরের মেঝেয় হাঁটু মুড়ে বসে আছে এক মূর্তি। তাঁর পরনে সাদা জোব্বা, টুপি, মুখভর্তি সাদা গোঁফদাড়ি, দুটো হাত মুখের সামনে মুঠি খুলে ধরে প্রার্থনা করছে।

    ভাঙা দেয়ালের আড়াল থেকে উঁকি দেয় ওরা, বুঝতে পারে না মানুষ না-কি ভূত। রাশি রাশি কুঁচফল জমিয়ে জাহাজ কেনার কথা, এমনকি নীলকণ্ঠ পাখির কথাও ভুলে যায়। নিবিষ্ট মূর্তি বইয়ের পাতার মতো খোলা দুটি হাত একবার কপালে ছোঁয়াচ্ছে, একবার সামনে ঝুঁকে মাথা ছোঁয়াচ্ছে মেঝেয়। তার দুচোখ বেয়ে জলের ধারা নেমে দাড়ি ভিজে উঠছে, সবজে আলোয় চিকচিক করছে রাংতার মতো। এক বয়স্ক পুরুষ একা, জঙ্গলের ভেতর কাঁদছে। স্বপ্নের মতো মনে হয়।

    প্রার্থনা শেষ হয়। যেন এক অদৃশ্য ইশারায় পায়রাগুলো ওড়াউড়ি থামিয়ে নেমে আসে। লোকটির কাঁধে এসে বসে বকবকম শুরু করে দেয়। আচমকা সে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় ভাঙা দেয়ালের ওপারে, জড়োসড়ো চার বালকের দিকে। ওরা যে ওখানে আছে সেটা যেন আগে থেকেই জানত। সূর্যাটানা চোখে ইশারা করে, মাথা নেড়ে ডাক দেয়।

    ‘বাবা গো!’ বলে ওঠে বসস্ত। ওই প্রথম ঝটিতি পেছনে ঘুরে দৌড়য়ে শুরু করে। গদাই, টুনু আর হেমন্তও দেখাদেখি ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুট লাগায় বনবার, ঠেলে। কিন্তু ওদের সঙ্গে তাল রাখতে পারে না হেমন্ত, পিছিয়ে পড়ে, পাথরের টুকরোয় ঠোক্কর খেয়ে ছিটকে পড়ে যায়। ডান হাঁটুতে তীক্ষ্ণ যন্ত্রণা, চোখ জ্বাল করে ওঠে, হাঁটুর ওপরটা খামচে ধরে দেখে রক্ত। আর তখনই ওকে পেছন দিক থেকে তুলে ধরে দুটো হাত সেই লোকটা! হেমন্তকে পালকের মতো অবলীল তুলে এনে শুইয়ে দেয় পাথরের চাটানের ওপর, ক্ষতমুখ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে।

    ‘আপনার বাড়ি কোথায়, খোকা?’

    এমন মিহি চিকন কণ্ঠস্বর হেমন্ত আগে কখনো শোনেনি। ওকে কেউ কখনে এভাবে— ‘আপনি’ করেও সম্বোধন করেনি। একটু আগে যে চোখদুটো জনে ভরেছিল সেখানে চিকচিক করছে প্রশান্ত হাসি।

    ‘আদিরামবাটি!’ উদ্গত কান্না চেপে হেমন্ত বলে।

    ‘গঙ্গা কবিরাজের বাড়ি! আপনি কার ছেলে?’

    হেমন্ত উত্তর দিতে পারে না, দমকে দমকে কান্না ঠেলে ওঠে। সে কান্না ক্ষতের যন্ত্রণায় নয়, সে কান্না এই জন্যে যে দাদারা ওকে ফেলে রেখে পালিয়েছে, আর পকেট থেকে সব কুঁচফল পড়ে গিয়েছে, আর বিকেল মরে আসছে, বাড়িে সকলে এখন বিসর্জনের তোড়জোড় শুরু করেছে, মায়েরা সিঁদুর খেলছে, কেউ দেখতেও পাচ্ছে না হেমস্ত ফেরেনি।

    ‘কাদে না, খোকা!’ তিনি কপালে হাত রাখেন। ‘ছোটো ছেলের রক্ত চোখের আঁশু খুঁচিয়ে তোলে এমন পাথর যদি গাজীর বাগানে থাকে তবে তার দাওয়াইও এখানেই আছে। আপনি একটু চুপ করে শুয়ে থাকুন দিকি, পা নাড়াবেন না। আমি এখনই আসছি।’

    এই বলে তিনি ভাঙা মসজিদের ডানদিকে ঝোপের কাছে যান, নীচু হয়ে কী যেন খুঁজতে থাকেন। হেমন্তও সেই ফাঁকে চাটান থেকে নেমে ক্ষতের যন্ত্রণা ভুলে পড়ি-কি-মরি ছুট লাগায় যেদিকে বসন্তরা গিয়েছে।

    .

    কালীপুজোর পরে হাঁটুর ক্ষতয় ন্যাকড়ার পটি জড়িয়ে ঘুরছিল হেমন্ত। কার্তিক মাস আসছে, আর ক’দিন পরেই সন্ধ্যাবেলা পিতৃপুরুষের আত্মাদের পথ দেখানোর জন ছাতে আকাশপ্রদীপ জ্বালা শুরু হবে। আমপাড়ার লম্বা বাঁশের লগিটার মাথায় পাতল বাখারির ফালি দিয়ে লণ্ঠনের ঘর বানাচ্ছিল বিশুকা। হেমন্ত ওকে দা দড়ির যোগান দিয়ে সাহায্য করছিল। এমন সময় গামা এসে ডাকল। ওষধিবাগানে একজন অচেনা অতিথি এসেছে, রামপ্রাণ ওর খোঁজ করছে।

    বেড়ার গেট খুলে ঢুকতেই হেমন্তর বুকের মধ্যে ধড়াস করে হাতুড়ির ঘা পড়ে। সেই লোকটি, নাগকেশরের বেদিতে হাঁটু সামনে ভাঁজ করে বসে বাবার সঙ্গে কথা বলছে! সেই সাদা দাড়িগোঁফ, পরনে সাদা জোব্বা টুপি, ডান হাতে তসবিহ। দশমীর বিকেলে গাজির বাগানে যে ছমছমে রহস্য তাকে ঘিরেছিল সেটা নেই, কিন্তু চোখে সেই চিকচিকে হাসিটা রয়েছে। হেমন্তকে দেখে তসবিটা উরুর ওপর রেখে জোব্বার পকেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনেন মুঠোভর্তি লাল কুঁচকল।

    ‘এগুলো সেদিন ফেলে চলে এসেছেন।’ শান্ত গলায় বলেন তিনি, তারপর ওর হাঁটুতে জড়ানো ব্যান্ডেজের দিকে তাকিয়ে যোগ করেন— ‘এখনও বুঝি সারল না?’

    রামপ্রাণ ছেলের হাঁটুর দিকে তাকায়।

    ‘ওখানে আবার কী হলো?’

    ‘তেমন কিছু না, পড়ে গিয়ে পাথরে কেটেছে,’ তিনি বলেন। ‘এই বয়সে যত ছুটোছুটি দৌড়ঝাঁপ চলে তার চোট সইতে হয় বেচারি হাঁটুদুটোকে।’

    বাবার আদেশে হেমন্ত ন্যাকড়ার পটি খোলে। ক্ষতের চারপাশে লালচে গালার মতো রঙ, জায়গাটা ফুলে রয়েছে। রামপ্রাণ তর্জনী ছুঁইয়ে টিপতেই হেমন্ত ব্যাথায় কঁকিয়ে ওঠে।

    ‘কী মলম লাগানো হয়েছে?’ ভুরু কুঁচকে জানতে চায় পরাণ ডাক্তার। মায়ের বানানো মলম, হেমন্ত জানায়, রেড়ির তেলে মাছের পটকা আর রসুনের কোয়া ফুটিয়ে তৈরি। শুনে রামপ্রাণের দুই ভ্রূর মাঝে ভাঁজটা গভীর হয়। সেটি ঠাওর করে জোব্বা-পরা লোকটি বলতে থাকেন জাঁসকর উপত্যকার এক আশ্চর্য গুল্মের কথা, যা কেটে দুখণ্ড হয়ে যাওয়া অঙ্গও জুড়ে দিতে পারে। এরপর ওঁরা হিমালয়ের দুষ্প্রাপ্য গাছগাছড়া, এবং তাদের কীভাবে সমতলের উষ্ণ আর্দ্র আবহাওয়ায় এনে বাঁচিয়ে রাখা যায়, সেই বিষয়ে আলোচনায় মজে যান। হেমন্তও সুযোগ বুঝে সরে পড়ে।

    লোকটি, আলিসাহেব, গঙ্গারামের কাছে যখন আসতেন তখনো রামপ্রাণের শিক্ষানবিশি শুরু হয়নি। সাতগাঁর বিখ্যাত কবিরাজকে হিমালয় ছেনে জড়িবুটি এনে দিতেন আলিসাহেব। গঙ্গারাম যখন মারা যান সেসময়ে আলিসাহেব কামরূপের পাহাড়ে, একদা যেখানে হজরত শাহ জালাল ডেরা বানিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে আরও উত্তরে তিব্বতের দিকে চলে যান আলিসাহেব। তারপর বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ শুরু হল, ইংরেজ সরকার পার্বত্য সীমান্তে সেনা মোতায়েন করল। বহুকাল আর এদিকে ফিরতে পারেননি, গাজীর বাগানে আসতে পারেননি – আলিসাহেব রামপ্রাণকে জানান। ইতিমধ্যে মসজিদটা আরও বনাকীর্ণ হয়েছে, আরও দুটি গম্বুজ ধসে পড়েছে। তবে সিলেট থেকে যে একজোড়া জালালি কবুতর এনে ছেড়ে দিয়েছিলেন সাতগাঁর আকাশে, তারা বংশবিস্তার করেছে। আদিরামবাটির ঔষধিবাগানে তাঁর নিজের হাতে পোঁতা চারাগুলো প্রায় সবকটিই বেঁচে আছে। নাগকেশর গাছটি ডালপালা ছড়িয়ে বাগানে কোমল ওষধি গুল্মের ওপর ছায়া বিস্তার করছে।

    .

    আলিসাহেব চলে যাবার পর রামপ্রাণ হেমন্তকে ফার্মেসিতে ডেকে নিল। নিজে হাতে হাটুর ক্ষত ধুইয়ে মার্কিউরোক্রোম দিয়ে গজের ব্যান্ডেজ বেঁধে দিল। তারপর ওর হাত ধরে সটান চলে এল রান্নাঘরের সামনে। সরোজা তখন সদ্য স্নান সেরে এসে ভিজে এলো চুলে উবু হয়ে বসে কলাইয়ের ডাল বাটছিল।

    ‘এতদিন ধরে ছেলেটার পায়ে কাটা ঘা, আমায় কেউ ঘুণাক্ষরেও বলেনি!’ রাগত স্বরে বলল রামপ্রাণ। ‘যদি গ্যাংগ্রিন হয়ে যায় কে জবাবদিহি করবে শুনি?’

    সরোজা হাতের কাজ থামাল না, স্বামীর দিকে দৃকপাত করল না। ‘আমায় কারোর কাছে জবাবদিহি করতে হবে না,’ শান্ত গলায় বলল। ‘আমি ওকে পেটে ধরেছি!’

    ‘বাহ! পেটে ধরেছি!’ হাতদুটো কোমরে রেখে স্ত্রীর গলা নকল করে ভেংচে ওঠে রামপ্রাণ। ‘পেটে ধরেছ বলে ওর পা কেটে বাদ দেবার অধিকার কে দিয়েছে তোমায়? নিজের বুদ্ধিতে হাতুড়ে চিকিচ্ছেটা না করে ওকে ফার্মেসিতে পাঠালে কী ক্ষতিটা হতো শুনি?’

    সরোজা রামপ্রাণের দিকে গনগনে চোখে তাকাল একবার, শিলের ওপর ভিজে ডালের স্তূপে চোখ ফিরিয়ে সবেগে নোড়া ঘষতে ঘষতে, হাতে চুড়ি-নোয়া ঝনঝনিয়ে, কর্কশ পাথুরে ধ্বনির ভেতর বেটে মিশিয়ে দিতে লাগল ভেতরে জমে ওঠা অভিযোগের কথা, সতের দিন ধরে ছেলেটা চোখের সামনে খোঁড়ানো সত্ত্বেও তার উদাসীন পিতার না দেখতে পাবার কথা, সারাদিন দুনিয়ার রুগি দেখে বেড়িয়ে বাড়ির মানুষগুলো বাঁচলো না ম’লো সেই নিয়ে থোড়াই কেয়ারের কথা,— ‘তার কারণ বাড়ির লোক পয়সা দেয় না যে!’, আর তাই যখন নিজের সহধর্মিণী ও রাতে অনিদ্রা বা অক্ষিদের কথা জানায় তখন হাই তুলে পাশ ফেরার কথা, আর বেশিবার কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করলে দিনে ক’বার উঠোন ঝাঁট দিচ্ছে জানতে চাওয়ার কথা, আর যখন শোনে সকালে একবার, তখন আরও বার দুই সারা উঠোন ঝাঁট দেবার পরামর্শ দেবার কথা, তার কারণ উঠোন ঝাঁট দেওয়াই নাকি অনিদ্রা আর অক্ষিধের সবচেয়ে ভালো ওষুধ, তাতে এমনকি নাকি গেঁটে বাতও ভালো হয়ে যায়,— ‘ভাবো, নিজের বউকে বলছে একজন ডাক্তার মানুষ!’, আর তাই ছেলের হাঁটু কেটে গিয়ে ঘা হলে কী করবে তার বউ নিজের বুদ্ধিতে চিকিৎসা করা ছাড়া। মালসায় ভেজানো সব ডাল বাটা হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে রামপ্রাণ। শিলের ঘর্ঘর চুড়ির নিক্কন থামলে বলে

    ‘আচ্ছা বেশ। এবার বলো দিকি রেড়ির তেলে মাছের পোঁটা ফুটিয়ে মলম বানানোর পরামর্শটা কে দিল?’

    ‘সে মোটা মোটা ডাক্তারি বই পড়েনি বটে, তবে কাটা ছেঁড়া ফোড়ায় তার দাওয়াই অব্যর্থ বলে মানে পাঁচটা গ্রামের মানুষ।’ নোড়া ধোয়া জল হাতের কোষে টেনে নিতে নিতে বলে সরোজা।

    তিনি সরোজার বাপের বাড়ি রাধানগরের দাইবুড়ি। হেমন্তর হাঁটুর ক্ষত সারছে না দেখে সরোজা তাঁর শরণাপন্ন হয়। সকালে জোয়ারের স্নানে নদীতে ডুব দিয়ে তাঁর পরামর্শ চায়, বিকেলে ফিরতি ভাটায় বাইশ মাইল উজানে রাধানগর থেকে ভেসে আসে মলমের প্রস্তুত প্রণালী।

    ‘উফফ্, সেই রাধানগর! মড়া জ্যান্ত, সবকটা ভূত! ভূতের দেশ!’ রামপ্রাণ সশব্দে কপাল চাপড়ে ওঠে। — ‘গঙ্গা কবিরাজের ভিটেয় এমন মূর্খামির চাষ হবে কে জানত!’

    বিয়ের সময়ে বাপের বাড়ি থেকে এক দুর্লভ যৌতুক এনেছিল সরোজা। জলে-জলে শব্দতরঙ্গে দূরনিবাসী আত্মীয়পরিজনদের সঙ্গে বার্তা বিনিময় করতে পারত। ব্যাপারটা অনেকটা টেলিফোনের মতোই, শুধু তারের বদলে মাধ্যম হলো নদীর বহতা জল। এবং এই বার্তালাপ শুধুমাত্র দুজন মানুষের মধ্যেই সম্ভব, সেই দুজনকে একই সময়ে জলে ডুব দিতে হয়। দূরত্ব কোনো বাধা নয়, এমনকি একই নদীতে দুজনকে ডুব দিতে হবে তাও নয়। তবে দুই জলধারার মধ্যে সংযোগ আবশ্যক, এবং বার্তালাপীরা পরস্পরকে চেনা, পরস্পরের কন্ঠস্বর জানা আবশ্যক। পুরো ব্যাপারটা এতই সহজ ও সাবলীল যে সাতগাঁয়ে আসার পর সরোজা নদীতে তার নিত্য স্নানের সাথীদেরও শিখিয়ে দিয়েছে। কিছুকালের মধ্যেই তারাও দূরে নদীকুল নিবাসী বাপের বাড়ির লোকজনেদের সঙ্গে এভাবে বাক্যালাপ করে। প্রথম প্রথম কেউ বিষ্ময় প্রকাশ করলে সরোজা হাত নেড়ে বলত—‘ও কিছু না! যে কেউ পারে!’ মাঝেসাঝেই সরোজা অশৌচ পালন করে। রাধানগরে কোনো জ্ঞাতি মারা যাবার খবর আসে, জলে-জলে আসা চেনা কণ্ঠস্বর নীরব হয়ে পড়ে।

    .

    প্রতিদিন দুপুর গড়িয়ে যাবার পর রামপ্রাণ যখন ফার্মেসিতে রুগি দেখা সেরে ভেতরবাড়িতে ফেরে, কুয়োতলায় এক গামলা জলে পটাসিয়াম পারমাঙ্গানেট গুলে লাইফবয় সাবান আর গামছা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সরোজা। রামপ্রাণ ফতুয়ার দুই পকেট থেকে মুঠো মুঠো সিকি আধুলি কড়ি গামলার জলে ফেলে দেয়, তারপর সাবান দিয়ে হাত পা ধুয়ে গামছায় মুছে ঘরে ওঠে। দিনের অর্জিত মুদ্ৰা জীবাণুমুক্ত করে একটি পেতলের বাক্সে গুনে তুলে রাখে সরোজা।

    সেই ঘটনার পরদিন দুপুরের পর উঠোনে এসে রামপ্রাণ সরোজার দেখা পেল না। ‘তোর বৌমণিকে দেখেছিস?’ রান্নাঘরে উঁকি দিয়ে জিজ্ঞেস করে বামুনদিকে, যাকে এবাড়িতে কেবল সে ও শাকম্ভরী অন্ন বলে ডাকে। নেভা উনুনে ছাইয়ের মধ্যে থেকে কয়লা বেছে তুলছিল অন্ন, মাথায় ঘোমটা টেনে মাথা নাড়ে সে দেখেনি। গামা চিন্তামণির জন্য ঘাসের বোঝা বয়ে আনছিল খিড়কি দিয়ে। ‘ঠাকরুনকে দেখেছিস?’ রামপ্রাণ শুধোয়। না, গামা দেখেনি। ‘তোর মাকে দেখেছিস?’ জিজ্ঞেস করে বসন্তকে। সেও দেখেনি। ‘পরাণবউ কোথায় গেল দেখেছ নাকি?’ জিজ্ঞেস করে শাকম্ভরীকে। তিনিও দেখেননি। ‘বৌদিকে দেখেছিস?’ ‘কাকীমাকে দেখেছ?’ ‘মেজদিকে দেখেছ?’ বড়োবাড়ির যাকেই সামনে পায়, তাকেই জিজ্ঞেস করে, সম্পর্ক অনুযায়ী সম্বোধন ধরে ধরে যারা ডাকে সেই নারীকে, যাকে রামপ্রাণ নিজে ডাকে— ‘ওগো শুনছো’ বলে। না, কেউ দেখেনি। যে মানুষটাকে বাড়ির সর্বত্র সারাক্ষণ সব কাজে দেখতে পাওয়া যায়, সেই জলজ্যান্ত মানুষটা কোথায় উধাও হয়ে গেল কেউ দেখেনি! অথচ কাউকে দেখে তেমন বিচলিত বলেও মনে হয় না।

    কেবল শাকম্ভরী দেবী ছাড়া;— ‘পরাণবউ’-এর অদর্শনে তাঁর কপালে ভাঁজ পড়ে।

    সেদিন রাতেও যখন সরোজা ফিরল না, রামপ্রাণের মনে পড়ল আগের দিনের সেই ঘটনা, মনে পড়ল তার ঠোঁটনিঃসৃত তিক্ত বাক্যগুলো। অনুশোচনায় বিদ্ধ হলো সে, মনে আশঙ্কার ছায়া জমল, রাতে ঘুম হলো না। পরদিন সকাল হতেই গামাকে পাঠাল রাধানগরে। হুগলি নদী পেরিয়ে ওপারে নটিহাটি থেকে ট্রেনে চড়ে দ্রুত যাওয়া যায় রাধানগরে। কিন্তু রামপ্রাণ নির্দেশ দিল নৌকা নিয়ে যেতে, এবং যাবার পথে নদীতে নজর রাখতে।

    ভাটার টান কাটিয়ে বাইশ মাইল যেতে গামার আধবেলা লেগে গেল। দুপুরের পর গিয়ে পৌঁছল নিজঝুম রাধানগরে। রেলপথ আসার পর ম্যালেরিয়ার প্রকোপে জনপদ ছেড়েছে মানুষ। এককালের সম্পন্ন জমিদারদের অট্টালিকাগুলো আরও পোড়ো হয়ে যেন সাতগাঁর প্রতিবিম্ব হয়ে উঠেছে। সরোজাদের শরিকী বাড়ির কিছুটা অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, খড়ের ছাউনি দেওয়া দালানকোঠা আঁকড়ে পড়ে আছেন এক বৃদ্ধা আত্মীয়া। তাঁর চরকা-কাটা চাঁদের বুড়ির মতো চেহারা, জরায় জীর্ণ দেহ, পুরোনো ছেঁড়া শাড়ি দিয়ে কাঁথা বুনছিলেন উঠোনে কামিনী গাছের নীচে বসে। গামা অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর কানের পাতায় হাতের তালু রেখে শুনলেন, তারপর বললেন

    ‘না বাপু, সে আসেনি! সে কেন, কেউই আসেনি! এ বাড়ি এখন ভূতেও মাড়ায় না!’

    সরোজার নিরুদ্দেশের দিনগুলো রাতগুলো যত গড়াতে লাগল, বাড়ির সকলে তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে মনে হলো, এমনকি কোলের মেয়ে ছোট্ট শিউলিও। ছন্দপতন ঘটল কেবল রামপ্রাণের দৈনন্দিনে। তার চশমা, নস্যির ডিবে যেন স্বতঃচালিত হয়ে ঠাঁইবদল করতে লাগল, তার সকালের বিকেলের চা হয় খুব পাতলা নয়তো খুব কড়া হয়ে উঠল, মাথার বালিশটা শক্ত পাথরের মতো হয়ে ঘাড়ব্যথা শুরু হলো। এমনকি সকালে ডকবাজারে গিয়ে সে ছাড়িগঙ্গার চরের চাষিদের আনা যে তাজা সব্জিগুলো বেছে কিনে আনে, যা দেখেই এক লহমায় সরোজা বুঝে যায় কোন বিশেষ চচ্চড়ি কিংবা ঘন্ট খেতে চাইছে রামপ্রাণ, সেগুলো ভিন্ন পদে রান্না হয়ে বিস্বাদ হলো। বামুনদি আর গামার শত চেষ্টা সত্ত্বেও ক্রমাগত মেজাজ হারাতে লাগল রামপ্রাণ, রোগী দেখতে গিয়েও ধৈর্যচ্যুতি ঘটল।

    বাড়ির আর যে সদস্যটির রামপ্রাণের মতোই দশা হলো, সে হলো অ্যান্টনি। দাঁড়ে ঠোঁট ঠুকে ঠুকে সে ক্ষণে ক্ষণে ডাকতে লাগল— ‘পরাণবউ! ও পরাণবউ!’ বামুনদি প্রসাদী কাটা ফল দিতে এলে তাকে দুর্বোধ্য পর্তুগিজ ভাষায় গালি দিল।

    ছ’দিন পরে কলকাতা থেকে রামপ্রাণের পিসি রাধারাণীর চিঠি এল। স্বামী তারিণীচরণের অস্বাভাবিক মৃত্যু ও তারপর পুলিশি জটিলতায় তার জীবনে কী যে বিপর্যয়ের আকাশ ভেঙে পড়েছে সে কথা চিঠি লিখে বোঝানো যাবে না, লিখছেন এমত পরিস্থিতিতে সহৃদয় রামপ্রাণ যে স্ত্রী সরোজাকে তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর জন্য কলকাতায় পাঠিয়েছেন, এজন্য তিনি অকুন্ঠ কৃতজ্ঞতা জানালেন। সরোজা সাক্ষাৎ মা জগদ্ধাত্রী রাধারাণী লিখেছেন সে কলকাতায় এসে সংসারের হাল ধরেছে, সে আসায় রাধারাণী বুকে কী যে বল পেয়েছেন তা ভাষায় প্রকাশ করার সাধ্য তাঁর নেই। পরিবার যে কী অমূল্য জিনিস তা জীবনে এইরকম অগ্নিপরীক্ষার সময়েই কেবল টের পাওয়া যায়, লিখেছেন। এবং যদিও বা কখনো ভাইয়ে ভাইয়ে মনাস্তর ঘটে, এবং তারপরেও কখনো যদি বা সদিচ্ছার মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে, ইহজগতে রক্তের বন্ধন কখনোই ছিন্ন হবার নয়। এতকিছু লেখার পর রাধারাণী রামপ্রাণের কাছে আবেদন করেছেন যাতে সরোজা আরও দিন কয়েক কলকাতায় তাঁর কাছে থাকে, যদিও তিনি অনুমান করতে পারেন এমন সুদক্ষ গৃহকর্ত্রীর অভাব আদিরামবাটিতে কতখানি অনুভূত হচ্ছে।

    রামপ্রাণ চিঠিটা তিনবার পড়ল। রাধারাণী যে শুধু অনেককাল আগে গঙ্গারাম ও পাগলরামের বিচ্ছেদের উল্লেখ করেছেন তাই নয়, বনলতার মর্মান্তিক পরিণতি ও সেই কারণে পরিবারের দুই শাখার বন্ধন ছিন্ন হবার কথাও লিখেছেন। চিঠিটা যতটা সুচিন্তিত ভাষায় লেখা, ততটাই সুপরিকল্পিতভাবে সরোজা স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধের ছক কষেছে। কেবলমাত্র রামপ্রাণ আর শাকম্ভরী ছাড়া বাড়ির আর সকলে, এমনকি ছোট্ট শিউলিও, জানত সে কোথায় গিয়েছে। সেটা ভেবে উঠতেই রামপ্রাণের মাথায় রাগ চড়ল। রাগের মাত্রা বেড়ে গেল যখন চিঠিটি চতুর্থবার পাঠে বুঝতে পারল, সরোজা কোথায় আছে সে যে জানেনা সেটাও রাধারাণী জানেন।

    প্রাণাধিক দুধপোর মনোকষ্ট দেখে শাকম্ভরী নীচু অথচ রামপ্রাণের কানে পৌঁছয় এমন গ্রামে স্বগতোক্তি করলেন

    ‘এর চেয়ে পরাণবউ যদি কাটুনিডাঙায় গিয়ে উঠত, তাহলেও এমন আছত্তার হতো না!’

    একদা স্রোতোচ্ছল সরস্বতীর পাড়ে কার্টুনিডাঙা। কার্টুনি মেয়েরা চাপার কলির মতো আঙুলে চরকায় সুতো কাটত। স্বচ্ছ মসলিনে ঢাকা তাদের লালফুলি আমের মতো স্তন জাহাজের ডেক থেকে দেখে ভিনদেশী নাবিকেরা বিচলিত হয়ে পড়ত। মসলিনশিল্প মরে যাবার পর কাটুনিডাঙা হয়ে ওঠে সাতগাঁর কুখ্যাত বেশ্যালয়।

    সরোজার বিরহের দ্বিতীয় সপ্তাহে একদিন সন্ধ্যায় পরাণ ডাক্তার চেম্বারে বসে অভয় চট্টরাজের লেখা প্রাচীন বিশ্বের চিকিৎসাবিজ্ঞান বইটির পাতা উলটোতে গিয়ে দেখল এক জায়গায় লেখা রয়েছে, মিশরে ফারাওয়ের আমলে প্রাণীর চর্বির সঙ্গে মধু মিশিয়ে দুরারোগ্য ক্ষতের নিরাময় হতো। সেটা পড়ে মনে অনুশোচনা প্রগাঢ় হলো। পরদিন সকালে ডকবাজারে আনাজপাতি কিনে গামার হাত দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ঘাটে নামল রামপ্রাণ। ঘাটে তখন হাটুরেদের নৌকার জটলা, ফাক দিয়ে বইছে সরস্বতীর কাদাজল। সাতগাঁয়ে থাকলে সরোজা ঠিক এইসময়টায় রোজ নাইতে যায়। কলকাতাতেও যদি সে এইসময় গঙ্গাস্নানে যায় এই আশায় এক বুক জলে নেমে ডুব দিল রামপ্রাণ। দুই আঙুলে নাক টিপে রেখে যতখানি সম্ভব ঠোঁট নাড়িয়ে বলে উঠল–

    ‘ওগো শুনছোওওওওও!’

    কয়েক সেকেন্ড ডুব দিয়ে থাকার পর কানে ভেসে এল ক্ষীণ ঝমঝম ঝমঝম ধ্বনি। কাছেই হুগলি ক্যানালে ব্রিজের ওপর দিয়ে সোয়া আটটার বন্দর-হুগলি লোকাল ঢুকছে। খানিকটা কাদাজল গিলে উঠে এল রামপ্রাণ, এবং আত্মসম্মান গিলে সেদিনই হুগলির ভাটায় নৌকায় পালকি দিয়ে গামাকে পাঠাল কলকাতায়। সন্ধ্যার আগে শূন্য পালকি নিয়ে ফিরে এল গামা।

    পরদিন সোয়া আটটার গাড়িতে সরোজা ফিরল। সঙ্গে রাধারাণীর পুত্র সুনির্মল, তার হাতে দুই হাঁড়ি ভর্তি শোভাবাজারের নবীন দাশের স্পঞ্জ রসগোল্লা। সরোজা ফিরে আসায় বাড়িতে খুশির হাওয়া, ছোটোরা কিছু বেশিই খুশি, তার কারণ এমন স্পঞ্জ রসগোল্লা, যা চিবোলে মুখের ভেতরে চকমিলানো মেঝেয় নতুন পাম্প শু মসমস করে হাঁটার মতো শব্দ হয়, সাতগাঁয় পাওয়া যায় না। শাকম্ভরী দেবী অবশ্য এই রসগোল্লা পাঠানোর মধ্যে বাঁকা ইঙ্গিত খুঁজে পেলেন। তার কারণ কে না জানে এই সাতগাঁর ময়রাই একদা বিশ্বকে রসগোল্লা বানাতে শিখিয়েছে? তবে তাঁর এই ব্যাখ্যা শোনার মতো ধৈর্য রামপ্রাণের ছিল না, কারণ সেইসময় তার সম্পূর্ণ মনোযোগ অধিকার করে নিয়েছিল স্বামীর জন্য সরোজার আনা একটি বিশেষ উপহার একটি চৌকোনা কাঠের বাক্স আর একটি বই।

    মেটিরিয়া মেডিকা পিউরা
    ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান প্রণীত
    ডাঃ হরিসাধন দত্ত MBBS কর্তৃক অনূদিত
    ভ্যান্ডারকুক মুদ্রণযন্ত্রে আদিরাম প্রেস, কলিকাতা-৩ হইতে প্রকাশিত।
    প্রকাশক- শ্রীমতী রাধারাণী দেবী।

    বাক্সের ভেতর সারিবদ্ধ কাচের শিশিতে টিকটিকির ডিমের আকারে ওষুধের গুলি। সেই বাক্স আর সেই বইটা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে রামপ্রাণ সেই মুহূর্তে কল্পনা করতে পারেনি এই দুটি জিনিস চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পর্কেই শুধু নয়, তার গোটা জীবনদর্শনই বদলে দেবে।

    ঠিক যেমনটা ঘটেছিল দরপ খান গাজার ক্ষেত্রে, এক জ্যৈষ্ঠের ভোরে কৃষ্ণপক্ষের জোয়ারে।

    কলকাতা থেকে ফেরার পর পরাণবউয়ের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিলেন শাকম্ভরী দেবী। পরদিন যখন সরোজা তাঁর প্রাতরাশের বরাদ্দ কাওনের খিচুড়ি নিয়ে এল, তিনি দরজার দিকে তাকিয়ে অদৃশ্য বামুনদিকে উদ্দেশ্য করে বললেন

    ‘পরাণবউকে জিজ্ঞেস কর তো অন্ন, এতদিন সে কলকাতার খুড়োর বাড়িতে বসে বসে করছিলটা কী? আর সেটা করে কী সে পেল?’

    সরোজা দরজার দিকে ফিরে বামুনদিকে দেখতে পেল না। কয়েক সেকেন্ডে ব্যাপারটা বুঝে নিয়ে সেও দেয়ালের দিকে তাকিয়ে জবাব দিল

    ‘পিসিমাকে বলে দাও, সে এ বাড়িতে নিত্যি যা করে ওখানেও তাই করছিল। সংসারের ঘানি ঠেলা, রান্নাবান্না, ওষুধপথ্য, সবার ভালোমন্দ দেখাশোনা। তার বদলে সে যা পেল এখানে কোনোকালেই সেটা পায় না সবার ভালোবাসা!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }