Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৭.৭

    ৭.৭

    সেবার শ্রাবণ মাসে দুবার অমাবস্যা হলো। দ্বিতীয় অমাবস্যার দিন বিকেলে গুঁফো গোঁসাই খবর আনলো ডোঙা শর্মাকে সাপে কেটেছে! খবরটা শোনা মাত্র প্রথমেই গঙ্গারামের মনে পড়ল গুরুদেবের সম্পর্কে প্রচলিত গুজব: প্রতি শুক্লা দ্বাদশীর রাতে কাটুনিডাঙায় এক নাগিনীর সঙ্গে তিনি মিলিত হতে যান। কিন্তু সেদিন অমাবস্যা। ওরা বর্গিব্যাটারিতে ছুটে গিয়ে দেখল, বারুদঘরের মেঝেয় মাদুরের ওপর ডোঙা শর্মাকে শোয়ানো হয়েছে। এক পৃথুলকায় লোক তাঁর মাথার কাছে বসে উড়নি দিয়ে মুখে বাতাস করছে আর নিজের চোখ মুছছে। লোকটিকে ওরা আগে দেখেছে— ধর্মতলার গোবর্ধন ময়রা, গুরুদেবের জন্য নিয়মিত বাঁশের চ্যাঙারিতে মন্ডা আর চাল কাঁচকলার সিধে আনে।

    ছেলের দল দেখে ডুকরে কেঁদে উঠল গোবর্ধন—

    ‘এ কী সব্বোনাশ হল গো… তোমাদের গুরুদেবকে কালকেউটে কেটেছে!’

    ডোঙার চক্ষু রক্তবর্ণ, ঠোঁটের দুপাশে কষ বেয়ে ফেনা উঠছে, কিন্তু চৈতন্য হারাননি। দেখে চিনতে পারেন, সামান্য হাসেনও। ওঁর ডান পায়ের জঙ্ঘার ঠিক নীচে দুটি স্পষ্ট ছিদ্র। ইতিমধ্যেই পা-টা কালচে নীল হয়ে উঠেছে; বিষধর সাপ সন্দেহ নেই। জানা গেল, ঘটনাটি ঘটেছে আগের দিন রাতে, এবং ইতিমধ্যে গোবর্ধন ক্যাওটপাড়া থেকে হাত-চালা ওঝা ডেকে এনেছিল। কিন্তু তার ঝাড়ফুঁকে ফল হয়নি। শিরার ভেতরে বিষ ছড়িয়ে পড়েছে, একে একে দেহের বিভিন্ন অঙ্গগুলোকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে শুরু করেছে। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত যত বাড়ে, পায়ের কালচে বেগনি রঙটা সারা দেহে ছড়িয়ে যেতে থাকে। বাইরে ঝুপ ঝুপ করে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে যায়, বারুদঘরের পেছনে ভাঙা ইটের স্তূপে বাবলার ঝোপের মাথায় একটি-দুটি নক্ষত্র ওঠে।

    বাকিরা চলে যায়, গঙ্গা আর গুঁফো থেকে যায়। আর থাকে গোবর্ধন। মুমূর্ষুর ঠোঁটের ফাঁকে আঁজলা করে ফোঁটা ফোঁটা গঙ্গাজল দিতে থাকে সে।

    ধমনীবাহিত বিষে ফুসফুস আচ্ছন্ন হয়ে এলে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় ডোঙা শর্মার। ওরা অসহায় চেয়ে দেখে, জল থেকে তোলা মাছের মতো ধড়ফড় করছেন। ঠোঁটদুটো ফাঁক হয়ে এসেছে, কালো কুচকুচে জিভটা স্ফীত হয়ে ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাইছে। চোখ খোলা, বিস্ফারিত, কিন্তু সে চোখে দৃষ্টি অন্তর্হিত। কাধের উড়নিটা মুখে চেপে আবার ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করে দেয় গোবর্ধন।

    বাইরে ভিজে মাটিতে ছপছপ পদশব্দ, দরজায় এসে দাঁড়ালেন এক দীর্ঘদেহী পুরুষ। তাঁর সাদা গোঁফদাড়ি, সাদা টুপি, পরনে ফকিরের ঢোলা জোব্বা প্রদীপের–  আলো প্রতিফলিত হয়ে ক্ষণিকে ঘরটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

    ‘আলিসাহেব!’ গোবর্ধন বিহ্বল বিস্ময়ে বলে ওঠে।

    আলিসাহেব তাকান, ঠোঁটে হাসি ফোটে কী না গোঁফদাড়ির আড়ালে বোঝা যায় না। ডোঙা শর্মার পায়ের কাছে বসে প্রদীপটা হাতে তুলে নিয়ে খুঁটিয়ে ক্ষত নিরীক্ষণ করেন, চোখ জিভ পরীক্ষা করেন, দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নাড়েন।

    ‘এঁকে যিনি কেটেছেন, তাঁর বিষ ছাড়ানোর দাওয়াই আমার ঝুলিতে নেই। তিনি এই অঞ্চলের নন, দূরের কোনো দেশ থেকে জাহাজের খোলের মধ্যে এসেছেন।’

    গোবর্ধন ডুকরে কেঁদে ওঠে। আলি সাহেব ওর কাঁধটা চেপে ধরেন, ওঁর লম্বা বিশুষ্ক আঙুলে বিচিত্র ধাতুর আঙটি চিকচিক করে প্রদীপের আলোয়।

    ‘কান্না থামাও গোবর্ধন। বাইরে থেকে দুটো গোল পাথরের টুকরো খুঁজে এনে দাও। এ বিষ আমি নামাতে পারি না, কিন্তু কষ্ট থেকে রিহা দিতে পারি।’

    গুঁফো বাইরে থেকে দুটি মসৃণ পাথরখন্ড নিয়ে আসে, আলিসাহেব একটি কাপড়ের বটুয়া থেকে শুকনো কমলাভ ছত্রাক বের করে তাতে ডলে গুঁড়ো করেন, অচৈতন্য ডোঙা শর্মার ঠেলে-ওঠা কালো জিভ আঙুলে সরিয়ে ঠোঁটের ফাঁকে ঢেলে দেন। তারপর একটি জালালি কবুতরের পালক বের করে ডোঙা শর্মার বুকের ওপর, কপালে বুলিয়ে দিতে দিতে চোখ বন্ধ করে মন্ত্রোচ্চারণের মতো বিড়বিড় করেন, ফুঁ দিতে থাকেন।

    কিছুক্ষণের মধ্যেই ডোঙা শর্মার শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসে, স্ফীত জিভটা মুখগহ্বরে ঢুকে গিয়ে ঠোঁট বন্ধ হয়। চোখের পাতা নেমে আসে।

    ‘এবারে ইনি সাফা মন নিয়ে কোনো ব্যথা না পেয়ে যে জমিন ওঁর ঈশ্বর সাজিয়ে রেখেছেন সেখানে চলে যাবেন। আজ রাতের মধ্যে আর কিছু হবে না।’

    এই বলে আলিসাহেব যেভাবে এসেছিলেন, সেভাবেই আচমকা চলে গেলেন। ঘরের মধ্যে ক্ষীণ কাঠবাদামের গন্ধ আর ডোঙা শর্মার ঠোঁটের চারপাশে ওই দাওয়াইয়ের গুঁড়ো না থাকলে মনে হতো বুঝি স্বপ্ন। কেউই ওঁকে ডাকেনি, অথচ কীভাবে চলে এলেন কেউ জানল না। শুরু হল অপেক্ষার রাত। মৃত্যুপথযাত্রীকে ঘিরে বসে রইল ওরা তিনজন। বাইরে সজীব সজল পৃথিবী চঞ্চল হয়ে ওঠে। রাতচরা পাখির ডাক, গাছের সড়সড় শব্দ, কীটপতঙ্গের ধ্বনিতে মিশে যেতে থাকে গোবর্ধনের একটানা ঝিমধরা কন্ঠস্বর।

    *

    গাজির বাগানে একবার শাক-কন্দর সন্ধানে ঢুকে মসজিদের ধ্বংসস্তূপে আলিসাহেবকে প্রার্থনারত দেখে গোবর্ধন ভেবেছিল কোনো ফরিস্তা, ভেবেছিল দৃষ্টিবিভ্রম। কিন্তু আশ্রমের সেই বিভীষিকার রাতে সে যখন ডুমুর গাছে পিছমোড়া হয়ে বাঁধা, নগ্ন, ছেলেরা ছাউনির ভেতর অঘোরে ঘুমোচ্ছে, তিনি এলেন। একটিও কথা না বলে তিনি ওর হাতের বাঁধন খুলে দিলেন, জালালি কবুতরের পালক ছোয়ালেন ওর ভয়ে পাথর, কালসিটে-পড়া, প্রস্রাবের গন্ধে ভরা দেহে। গোবর্ধন দেহে বল ফিরে পেল, আশ্রমের চৌহদ্দি ছেড়ে নদীর ধারে এসে পাড় বরাবর ছুটতে শুরু করল দক্ষিণের দিকে। চষা মাঠ খাল ছাড়িয়ে, অন্ধকারে চিকচিকে হাঁটু-ডোবা দঁক কাদা পার হয়ে, পোড়ো ইমারতের সারি জাহাজঘাটা টাকশালের ধ্বংসাবশেষ ছাড়িয়ে অবশেষে পথ খুঁজে পেল। সেই পথ, যে পথ দিয়ে সে এসেছিল। আর এক মুহূর্ত এ দেশে নয়— গোবর্ধন ভাবল— এবার গ্রামে ফিরে যাবে। সেইমতো রাত্রির শেষ যামে অন্ধকারে হাঁটতে হাঁটতে একটা মোড়ে এসে পড়ল। এখানে রাস্তাটা চিরে দুভাগ হয়েছে, মধ্যিখানে জমাট ছায়া যেন পাহাড়ের মতো।

    পুব আকাশে ভোরের আলো সবে ফুটছে, গোবর্ধন দেখল এক অবিশ্বাস্য মহীরুহ। প্রাগৈতিহাসিক বটবৃক্ষ, তার বিসর্পিল ঝুরিগুলো মাটিতে শিকড় চারিয়ে দিয়ে আকাশ ছোঁয়ার প্রতিযোগিতায় মেতেছে। চারদিকে লম্বা ডালপালা নীচু হয়ে ভূমির সমান্তরালে ছড়িয়ে গিয়েছে, কিছু কিছু বেঁকে নেমে এসে মাটি ছুঁয়েছে। গোবর্ধন নীচু হয়ে প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে রাতচরা পশুর মতো নতুন দিনের আলো থেকে পালিয়ে, লজ্জা ভয় গ্লানি থেকে পালিয়ে, গাছের ঘন ছায়ার ভেতর ঢুকল। এতটা পথ আসার পর দেহে যেটুকু বল এসেছিল সবই নিঙড়ে ঝরে গিয়েছে। বটের নীচে গভীর আঁধার গলিঘুঁজি, আস্ত একটা পল্টন এসে লুকোলেও বাইরে থেকে টের পাওয়ার উপায় নেই। গোবর্ধন ক্রমশ সেঁধিয়ে এল তার আর্দ্র সজীব কেন্দ্রে— পরম আশ্বাসের মতো অন্ধকার আর একটা ক্ষীণ অবিরল শব্দে তার বুকে ঢেঁকির পাড় ক্রমশ শান্ত হয়ে এল। মাথার ওপর পাখির ডানার ঝটপটানি, কাছেই কোথাও জলের ফিফিস্ ধ্বনি।

    গুঁড়িতে ঠেস দিয়ে উবু হয়ে বসে চোখ লেগে গিয়েছিল। আলো ফুটে যেতে হাজার হাজার গাঙশালিখের ডাকে ধড়মড়িয়ে জেগে উঠল গোবর্ধন। সবুজ পাতার চাঁদোয়ায় দপদপ করছে সূর্যের রশ্মি, গাছের মোটা ডালগুলোয় পাখির গুয়ের সাদা ছিছিট্ দাগ। জলের শব্দ অনুসরণ করে তার উৎস খুঁজতে গিয়ে পোড়ামাটির বেদি দেখল। মাঝখানে কচ্ছপের আকারের পাথর, তাকে ঘিরে পাহারা দিচ্ছে বিভিন্ন আকারের পোড়ামাটির ঘোড়া। চারিদিকে শিকড়ের ঝালরে বাঁধা গুচ্ছ গুচ্ছ ক্ষুদে ঘোড়া। বেদির কয়েক হাত পেছনে ভূমির ক্ষত থেকে উৎসারিত ক্ষীণ জলধারা, পুরু পচা পাতার ওপর দিয়ে ফিফিস্ করে বয়ে চলেছে। গোবর্ধন জানু পেতে বসে নীচু হয়ে আঁজলাভরে পান করল, ঠান্ডা মিঠে জল, দেহের ক্লেদ ধুলো, বেদির ওপর দেখল কাঁচা বটের পাতায় এলাচদানা। তুলে নিয়ে পিঁপড়ে ঝেড়ে ফেলে মুখে পুরতেই মিষ্টি রসে মুখ ভরে উঠল। গত রাতের পর এই প্রথম ফের খুব কান্না পেল গোবর্ধনের

    সূর্য খানিক উঠেছে, পথের মোড় থেকে পুরুষের কন্ঠস্বর শোনা যাচ্ছিল। ওরা গোয়ালার দল, ছাড়িগঙ্গার গ্রাম থেকে ঘড়াভর্তি দুধ নৌকায় চাপিয়ে নিয়ে এসে জড়ো হচ্ছে। এখান থেকে কাঁধে বাঁক চাপিয়ে ফিরিঙ্গিডাঙার দিকে যাবে, তার আগে কচি বটের পাতায় পেতলের ঘড়াগুলোর মুখ বেঁধে নিচ্ছে যাতে দুধ চলকে না পড়ে, ঝোরা থেকে জল তুলে দুধে মেশাচ্ছে। গাছের আড়াল থেকে গোবর্ধন সব দেখল, ফিরিঙ্গিডাঙার সাহেব-মেমদের নিয়ে ওদের রঙ্গরসিকতা শুনল আড়ি পেতে।

    দলটা চলে যাবার পর বাইরে রোদের তেজ বাড়ল, গাছের মাথায় হাওয়ার ঝিরিঝিরি শব্দ, চারদিকে ঠাঠা রোদ্দুরে তাপবাষ্পে দুলছে সবকিছু। কিন্তু গাছের অন্দরে স্নিগ্ধ, ছায়াময়, পথের ষাঁড় আর কুকুর এসে আশ্রয় নিল। ক্রমশ দিন ফুরিয়ে আসার কালে গাছের উঁচু শিখরে অস্ত সূর্যের লালচে আলো এসে জড়ালো, গাঙশালিখেরা নদীর পাড় থেকে ফিরে আসতে লাগল ঝাঁক বেঁধে, আকাশে উড়াল দিল বাদুড়েরা। গুঁড়ির কোটর ছেড়ে বাইরে এসে গোবর্ধন যে পথে গোয়ালারা গিয়েছে সেই পথ ধরল। পোর্তোহাটা ওলন্দাজডাঙা দিনেমারডাঙা ছাড়িয়ে চাদেরডাঙায় গিয়েছে পথ, ওখানে তার স্বজাতিরা থাকে।

    চাঁদেরডাঙায় গিয়ে গোবর্ধন টের পেল ওড়িয়াটোলায় ইতিমধ্যে খবরটা রটে গিয়েছে।

    ‘তুই আমাদের জাতের মুখ পুড়িয়েছিস! এখানে তোর কোনো ঠাঁই হবে না! দুই খুঁচি চিঁড়ে আর একটা পুরোনো ধুতি দিয়ে বলল কোয়ার্সভিলের সেই ভিস্তিওয়ালা বাণেশ্বর। ‘তুই দেশে ফিরে যা, গোবর্ধন!’

    কিন্তু জলেশ্বরে ফিরে যাবার মতো দেহে মনে শক্তি গোবর্ধনের ছিল না। রাত নামলে সে ফিরে এল সেই বটগাছের আশ্রয়ে, গুঁড়ির কোটরে।

    ইতিমধ্যে সে জেনেছে এই জায়গাটার নাম ধর্মতলা। কচ্ছপাকৃতি দেবতাটির নাম ধর্মঠাকুর, খালধারে মুচি মেথর কামার কুমোরদের দ্বারা পূজিত। তাদের আনা চিনির ডেলা থানের পিঁপড়েদের সঙ্গে ভাগ করে খেয়ে, সারাদিন গাছের ছায়ায় লুকিয়ে থেকে, অন্ধকার নামলে কটকি ভারি ভিস্তিওয়ালাদের পাড়ায় গিয়ে দুমুঠো অন্ন ভিক্ষা করে, ভুলেও সাতগাঁয়ের পথ না মাড়িয়ে চার-চারটি দিন পার করে দিল গোবর্ধন।

    পঞ্চম দিন মধ্যরাতে ঘুম ভাঙল তারবাদ্যের ধ্বনিতে। চোখ মেলে দেখল, জ্যোৎস্না চুঁইয়ে এসে বৃক্ষতল অদ্ভুত সজীব হয়ে আছে। ঝুরির গহীন থেকে ভেসে আসছে একতারার ধ্বনি, ঝিমধরা গান। গাছের ব্যাপ্ত চাঁদোয়ার মাঝে একস্থানে গোলাকৃতি ফাঁক, বনের মধ্যে বজ্রপাতে যেমন হয়। ওপরে খোলা আকাশ, নীচে ঘন ফার্নের বিছানা। সেখানে জড়ো হয়েছে একদল নারীপুরুষ, তাদের পরনে জোব্বার আদলে ঢোলা পোশাক নীলে ছোপানো, যা চাঁদের প্রভায় মনে হয় বুঝি কালো। সকলেরই মাথা কামানো। তারা এলিয়ে রয়েছে মাটিতে, পরস্পরকে জড়িয়ে, কেউ একা। কেউ কেউ সুরের তালে দেহের উপরিভাগ দোলাচ্ছে, কখনো দাঁড়িয়ে উঠে দুদিকে হাত ছড়িয়ে ঘুরে চলেছে। ওরা যে প্রেত নয় সেটা গোবর্ধন বুঝতে পারে— সদ্য কামানো মাথায় অনাবৃত চামড়া মুখমন্ডলের তুলনায় ফিকে, চেহারাগুলোও রোগা, শিরাওঠা। এক নারী, গলায় আঁটোসাঁটো কড়ির মালা, নাচের ভঙ্গিতে মুখটা আকাশে তুলে চাঁদের আলো শুষে নিচ্ছে, যেন বুকের ভেতর থেকে নিঙড়ে তুলে আনছে এমন কোনো গভীর অনুভূতি যা গোবর্ধনের অচেনা, যা সে এর আগে কখনো দেখেনি।

    ক্রমশ ওই খোলা অঞ্চলটা ছেড়ে গাছের ছায়ায় চোখ সয়ে আসতে দেখতে পায় এমন দৃশ্য যা সে কখনো কল্পনাও করেনি— আরও অনেক নারী পুরুষ, ঢোলা পোশাক কোমরের ওপরে তোলা, খুলে ফেলা, পরস্পরে গা ঘষাঘষি করছে যেন চকমকি পাথর, যেন শঙ্খলাগা সাপ, যেন কেন, খিপ্র বেড়ালের মতো উপগত কিংবা মুখে মুখ, যৌনাঙ্গে মুখ, স্থির। ধরাশায়ী চিৎ পুরুষের ওপর নারী, কোমরের দুদিকে উরু গিঁথে বসেছে। চকিতে গোবর্ধনকে দেখে বল্লমের মতো দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই ওর সর্বাঙ্গে কাটা দিয়ে উঠল, আতঙ্কে পাথর হয়ে গেল। আর সেই নারী শীৎকার করে উঠে এলিয়ে পড়ল পুরুষটির বুকের ওপর। গোবর্ধনের দিকে তাকিয়ে রইল কিন্তু চোখের আলো সম্পূর্ণ নিভে গেল। যেন ওর আর কোনো অস্তিত্বই নেই।

    গাঙশালিখের কোলাহল আর তিরতিরে জলের আশ্বাসধ্বনিতে ভোর ফোটে। কোটরের ভেতরে গুটিশুটি জেগে উঠে গোবর্ধন বুঝতে পারে না রাতের দৃশ্য সত্যি না কি স্বপ্ন। নাকি এ খিদের সঙ্গে মেশা গাজার পাতার বিভ্রম? আগে চোখে পড়েনি, কোটরের মধ্যে দেখে ভাঙা ডিমের খোলা, পাখির হাড়গোড়। নির্ঘাৎ কোনো শ্বাপদের বাসা! ভেবে ফেলা মাত্রই শুকনো পাতায় মচমচ পায়ের শব্দ শোনে গোবর্ধন। লাফ দিয়ে নেমে পালাতে যাবে, সামনে এসে দাঁড়ালেন তিনি— সাদা চুল-দাড়ি, সাদা জোব্বা। তার উদ্ধারকর্তা।

    ঠোঁটে তর্জনি ছুঁইয়ে আলিসাহেব দুচোখে উজ্জ্বল হাসেন, ইশারায় ডেকে নেন বটের চৌহদ্দি ছেড়ে সরস্বতীর পাড়ে। শুকনো খাতে বালি ধূ ধূ করছে, আলিসাহেব হাঁটেন যেন পলকা বাতাসের মতো। চরের মাঝে পোড়ো পরিত্যক্ত সান্তা আনার কাছে এসে ওরা থামে। বোটটার মাস্তুল ভেঙে পড়েছে সেই কবে, কাঠের গায়ে জাহাজি ক্রিমির গর্তে ঝাঁঝরা, নির্ঘাৎ জলচর সাপ ও সরিসৃপের বাস। সেসবের পরোয়া না করে আলিসাহেব পরনের জোব্বাটা ভাঁজ করে কোমরে গিঁট বেঁধে উঠে পড়েন, গোবর্ধনকেও টেনে তুলে নেন। খোলের ভেতরে কমলা সবুজ ছোপ-লাগা বার্নাকলে ছাওয়া মোটা লোহার শিকল, বেড়ি, হাতল-অলা সিল, লোহার চাদরের অতিকায় পেটাই-করা কড়াই রয়েছে।

    আলিসাহেবের নির্দেশে কড়াইটা ধর্মতলায় টেনে নিয়ে এল দুজনে, জলে ভেসে আসা পোড়া কাঠ জড়ো করে আনল গোবর্ধন, এবং সকালে গোয়ালারা নৌকায় দুধ টেনে এনে ঘড়াভর্তি দুধ গরমে ছিন্ন হবার আগে, ফেলে দেবার আগে, ভিক্ষে মেগে নিল।

    টোপরের আকারের ক্ষীরের মন্ডা, অক্ষয়তৃতীয়ার আগে ওদের গ্রামের দোকানে বানানো হতো। পূর্ণিমা তিথিতে ভক্তের দল এসে মন্ডা পেয়ে চিনি-গুড়ের কদমা এলাচদানা ছেড়ে সেই মন্ডা কিনে পুজো চড়াল ধর্মঠাকুরের থানে। তিন দিনের মধ্যেই কড়ি দিয়ে গোয়ালাদের দুধের দাম মিটিয়ে দিল গোবর্ধন। বাকি অর্থে দোকানের সরঞ্জাম কিনল, একটি নতুন ধুতি আর উড়নি কিনল, তামাক কিনল।

    *

    ভোরের আলো ফোটার আগে অচৈতন্য ডোঙা শর্মার গলা দিয়ে স্বর বের হতে লাগল। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। গঙ্গারাম ও গুঁফো নীচু হয়ে কান পেতে শোনে— মৃত্যুর আগে অন্তিম ঘড়ঘড় নয়, খুব ক্ষীণ, যেন প্রাণের অতল থেকে বের হচ্ছে ধ্বনি:

    ক্রতো স্মর কৃতং স্মর ক্রতো স্মর কৃতং স্মর
    ক্রতো স্মর কৃতং স্মর ক্রতো স্মরো কৃতং স্মর

    মিইয়ে আসা প্রদীপের সলতেটা উসকে দেয় গোবর্ধন। ওরা দেখে মুমুর্ষুর ঠোঁট খোলা— নড়ছে না, কিন্তু কথাগুলো স্পষ্ট নির্গত হচ্ছে। শুনতে শুনতে এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে গঙ্গা ও গুঁফো একসঙ্গে উচ্চারণ করতে শুরু করে—

    বায়ুনিলমমৃতমথেদং ভষ্মাস্তাং শরীরম
    ওঁ ক্রতো স্মর কৃতং স্মর ক্রতো স্মর কৃতং স্মর

    আমার প্রাণবায়ু অমৃত অনিলে মিলিত হোক, আমার এই স্থূল শরীর ভষ্মীভূত হোক, হে আমার মন, স্মরণীয়কে স্মরণ করো, জীবনে যা কিছু করেছ স্মরণ করো, স্মরণীয়কে স্মরণ করো, যা কিছু করেছ স্মরণ করো…

    .

    ‘কার পাপে?’ নিষ্কম্প্র ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে বের হয় ধ্বনি, চৈতন্যধারা। ‘কার পাপে?’

    জীবনে প্রথম গুরুর আদেশ অমান্য করল ডোঙা শর্মা। তৎক্ষণাৎ ফিরে গেল না সে। আশ্রমে নুটু হারীতদের মুখোমুখি হবার ভয়টা ছিলই, তার থেকেও গভীর অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ বন্ধ দরজার ওপাশে ফিসফিসে নারীকণ্ঠ, নুপুরের নিক্কণ। বুকের মধ্যে বান ডেকেছিল। ডোঙাটা খুলে কিছু দূরে জলভ্যারেন্ডার ঝোপের ভেতরে ঢুকে অপেক্ষা করছিল। তখন সকালের আলো ফুটছে, পানকৌড়িগুলো গাছ থেকে জলে নেমে এসেছে, ভ্যারেন্ডার বেগনি ফোটা ফুলের ওপর বিনবিন করছে ভোমরা। ডালপাতার ফাঁক দিয়ে জলের ধারে একেনে কুঁড়েটা স্পষ্ট দেখা যায়, কিন্তু দুহাত দূর থেকেও ডোঙা শর্মাকে দেখা যায় না।

    দরজার পাশে ঠেস দিয়ে রাখা খড়ম দুটো নেই। দরজা খুলে যায়, কাপড়ের বোঝা হাতে নিয়ে বের হয়ে আসেন এক কৃষ্ণকায় নারী। মাথায় চুড়ো করে গিট বাধা চুল, লালপেড়ে সাদা শাড়ি হাঁটুর ওপরে তোলা, উরুর পেশি দেখা যাচ্ছে। খালে নেমে এসে কাপড়গুলো জলে ভিজিয়ে একখন্ড পাথরে আছড়াতে শুরু করে দেন। সেই শব্দে পানকৌড়িরা জল থেকে ডানা ঝেড়ে ওঠে, নারীর নাকে লাল কাচের নাকছাবি চিকচিক করে সূর্যের আলোয়। কিন্তু ওই দেহটির মধ্যে কী এমন অমোঘ রহস্য রয়েছে সেটা ডোঙা শর্মা বুঝতে পারে না।

    যতক্ষণ না তিনি কাচা কাপড়গুলো পাথরের ওপর স্তূপ করে রেখে স্নানে নামেন। প্রথমে আবক্ষ জলে সূর্যের দিকে ফিরে দুহাত জড়ো করেন, ভিজে ত্বকে রোদ ঝলকায়। তারপর হাতদুটো সামনে প্রসারিত করে বিচিত্র সাবলীলতায় দেহটা ভাসিয়ে দেন— পিঠ ধনুকের মতো বাঁকা, মাথায় চুড়ো করা খোপা ভেজে না, পা দুটো পেছন দিকে ছুঁড়ে বৃত্তাকারে সাঁতার দেন, পায়ের পাতাদুটো চিকচিক করে।

    পানকৌড়িদের মাঝে কিছুক্ষণ সাঁতার দেবার পর আবক্ষ জলে দাঁড়িয়ে চুলের গিঁট খুলে কাঁধের চারপাশে ছড়িয়ে দিয়ে ডুব দিলেন। তারপর ডাঙায় উঠলেন। ভিজে শাদা শাড়ি ঘন বাদামি ত্বকে চেপে বসেছে, উজ্জ্বল আলোয় ডোঙা স্পষ্ট দেখতে পায় সবকিছু। গামছার ফাস খুলে প্রথমে অনাবৃত করলেন বুক, ত্রস্ত কালো বৃত্ত দুদিকে অপাঙ্গে চেয়ে আছে। মুখমন্ডল আকাশে তুলে ভিজে গামছাটা পাকিয়ে নিয়ে হাত দুটো পিছনে নিয়ে গিয়ে দ্রুত, অবিকল ধুনুরির মতো চুলের জল ঝাড়তে লাগলেন। ঠাস ঠাস চুল ঝাড়ার ধ্বনি, বাতাসে ছড়িয়ে যাওয়া জলকণার মেঘে আশ্চর্য রামধনু, বুক দুটি কেঁপে উঠে উড়াল দেবার আগে ডানা ঝাপটাচ্ছে।

    চোখ পুড়ে গেল ডোঙা শর্মার। লজ্জা আর মুগ্ধ আবেশের ভেতর আবিষ্কার করল গুরুদেবের কাব্যরসের ব্যাখ্যার প্রাণভোমরা, কোন অমোঘ রহস্য যার প্রভাবে বুনোরাম পণ্ডিত শত শত বছর আগে রচিত পদাবলীতে প্রাণ সঞ্চার করেন, উপমা চিত্রকল্প বাস্তবের থেকেও জীবন্ত হয়ে ওঠে, যাপিত সত্যের থেকেও সত্য, কল্পনার প্রতিটি স্পন্দন জাগ্রত চৈতন্যের থেকেও স্নায়বিক।

    কিন্তু গুরুপত্নীর দিকে লালসার দৃষ্টি ঘোর পাপ, অজাচারের মতোই। এই নারী গুরুদেবের পত্নী নন, সাধনসঙ্গিনী তো বটেই। দাঁড় টেনে ফেরার সময় দীর্ণ হয়েছিল ডোঙা শৰ্মা – মাথার মধ্যে রামধনু, জালালি কবুতরের উড়াল, ঠাস ঠাস চুলঝাড়ার শব্দ চপেটাঘাতের মতো গালে এসে পড়ছে।

    *

    ‘ক্রতো স্মর কৃতং স্মর ক্রতো স্মর কৃতং স্মর…’ সর্পদংশনে নীল ঠোঁটের ফাক দিয়ে বের হয় স্বর।— ‘আমি দীর্ণ হচ্ছি, আমার ভেতরে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অবশ হয়ে আসছে একে একে, বিষের জ্বালায় আমার ভেতরে সবকিছু পুড়ে যাচ্ছে… আহ! এবার শেষ হোক! বায়ুনিলমমৃতমথেদং ভষ্মাতাং শরীরম!’

    .

    মনে হয়েছিল বিশ্ব সংসার বুঝি রসাতলে যেতে বসেছে। পরে সবার মনে পড়বে, সেদিন সকালটা শুরু হয়েছিল পাখির কলকাকলি ছাড়াই। আকাশে মেঘ ছিল, কিন্তু দুপুর নাগাদ এমন কালো করে এল মনে হবে বুঝি সন্ধ্যা নেমেছে। ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বলল, শাঁখ বেজে উঠল। তারপরে শুরু হলো শতাব্দীর বিধ্বংসী ঝড়। যেন ব্রহ্মপ্রলয়, চতুর্যুগের অবসান বয়ে নিয়ে এসেছে। পৃথিবীতে পাপ তো আর কম জমে ওঠেনি। আদিরাম মন্দিরে তাক করে কামান দেগেছিল এক বেপরোয়া ইংরেজ, দেশে ফিরে ভোঁতা কাগজ-কাটা ছুরি দিয়ে নিজের গলার নলি কেটে তার মূল্য চুকিয়েছে। কিন্তু সেখানেই তো শেষ নয়। ব্রাহ্মণ রাজার ঘাড়ে জোচ্চুরির দায় চাপিয়ে বিচিত্র নতুন আইনে ফাঁসির সাজা দিয়েছে। এরপর দলে দলে কলকাতা শহর ছেড়েছে ধর্মভীরু মানুষ, যেভাবে ডুবন্ত জাহাজ ছাড়ে ইঁদুরের পাল। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়, সেখানে শুরুও নয়। সেই যবে এক ফিরিঙ্গি যাজক-শল্যবিদ নদীর খাত বদলে দিয়ে সুপ্রাচীন বন্দর নগরীর মৃত্যু ঘটালো, সেই অভিশাপ লাগল ডিহি বাংলায়। সেই পাপের ধারা বয়ে নিয়ে এরপর মৎস্যভূমির বিখ্যাত ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান পোড়ো ধ্বংসস্তূপের মাঝে গুরুকুল গড়বে, তার ব্রাহ্মণ শিষ্যদের অব্রাহ্মণের হাতে রান্না ভাত খাইয়ে জাত নষ্ট করবে, এবং নিজে অস্পৃশ্য মেথরানির সঙ্গে শোবে… পাপ! পাপের বোঝায় জর্জরিত পৃথিবী!

    সরস্বতীর ধারে পোড়ো ইমারতগুলোর ভেতর দিয়ে শোঁ শোঁ হাওয়ার ধনিতে ভেসে আসা এইসব কথায় দীর্ণ হচ্ছে যখন সাতগাঁবাসীরা, ততক্ষণে প্রলয়ঙ্কর ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেল সব কিছু। প্রবল জলোচ্ছ্বাস কোটালের বানের সঙ্গে আঁতাত করল, সরস্বতী পুরোনো খাত ভাসালো, নতুন খাত ধরে বইতে শুরু হলো।

    বন্দর হুগলিতে ম্যাওবেড়ালের গির্জা আবারও ক্ষতিগ্রস্থ হল। যাজকাবাসের লাগোয়া বেকারির চুল্লি থেকে ফুলকি উড়ে উঁচু কাঠের কড়িগুলোয় আগুন লাগল, ছাদ ধ্বসে পড়ল। তার নীচে চাপা পড়ে জলে ভিজে নষ্ট হয়ে গেল ক্রিশ্চানদের জন্মমৃত্যুর পুরোনো নথি। মৎস্যভূমিতে ফিরিঙ্গি উপনিবেশের অতীত ইতিহাস হারিয়ে গেল চিরতরে। টানা তিনদিন বিরামহীন বৃষ্টিপাত হলো, আকাশ থেকে ফের অঝোর নদী নামল শিবের জটামুক্ত ভাগীরথীর মতো। পৌরাণিক প্লাবনের মাঝে সাতগাঁর মৎস্যভূমি বুঝি শুধু জেগে আছে। বৃষ্টিপাতের একটানা ধ্বনির ভেতর শোনা গেল কেবল পুরোনো ঘরবাড়ি পতনের শব্দ। জাহাজাঘাটার দিকটায় কত যে বাড়ি ভেঙে পড়ল কে তার হিসেব রাখে। পথে একটাও মানুষ নেই, একটা কুকুরও নেই, শুধু থেকে থেকে আকুল শাঁখের ধ্বনি বেজে ওঠে। আদিরামবাটির পুথিশালে একদিকের বরগা খসে পড়ে অনেক পুরোনো পুথি নষ্ট হলো। কিন্তু আদিরামের মন্দিরে নতুন করে কোনো ক্ষতি হলো না। ধর্মতলায় বটের বেশ কিছু পুরোনো ডাল ভেঙে পড়ল, কিন্তু মূল অংশে কিছু হলো না, ধর্মঠাকুরের বেদি অটুট রইল।

    ঝড় মিটে যাবার পর শরতে সূর্যের তাপ বাড়তে শুরু হলো গুটি বসন্তের মারী। প্রথমে শুরু হলো কুমোরদের বসতিতে, তারপর ক্রমশ অন্ত্যজদের পাড়া ছেড়ে হানা দিল সাতগাঁর অলিতে গলিতে, এমনকি ফিরিঙ্গিডাঙাতেও। তার পিছু পিছু এল এশিয়াটিক কলেরা। আদিরামবাটিতে বিপর্যয়ের ছায়া পড়ল, কলেরা রাজারামের স্ত্রী ভুবনেশ্বরীকে নিল।

    প্রলয়ঙ্কর ঝড়ের পর সকলেই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত, সকলেই জীবন পুনর্নির্মাণে ব্যস্ত, ঘরছাড়া। কলঙ্কলাগা পণ্ডিতের কথা ভাবার মতো কেউ ছিল না।

    না মি’লেডি, কেউ ছিল। ডোঙা শর্মা শেষদিন পর্যন্ত তার গুরুকে পরিত্যাগ করেনি। তার আগে গুটি বসন্তের মড়ক সেই ডোম রমণীকে ছুঁয়েছে, গাজির বাগানেও এসে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যে সে বুনোরামের সঙ্গে আশ্রমের মেরামত-করা ছাউনিতে থাকতে শুরু করেছে। কোয়ার্সভিলের সরকারি অঁস্পেত্য-দ্য-লা-সঁতে মহামারী রোধ করতে কার্টুনিডাঙার বসতিগুলো পুড়িয়ে দিচ্ছিল, নারীর দল ছড়িয়ে পড়েছিল যেদিকে পারে।

    ডোঙা শর্মা বুনোরামের জন্য খাদ্য সংগ্রহ করে আনে। কিন্তু ছাউনির আড়ালে গুরুদেব ও তাঁর সঙ্গিনীকে চোখের দেখা দেখার উপায় নেই। বাইরে চাল আনাজের পুঁটুলি নামিয়ে রেখে ডোঙা ডাকে–

    ‘গুরুদেব! গুরুদেব!’

    তারপর সে চলে যায়। মাঝে মাঝে হোগলার বেড়ার ওপাশে মলের নিক্কন শোনা যায়, মাঝে মাঝে শোনা যায় বুনোরামের ক্ষীণ কন্ঠস্বর–

    ‘চলে যাও ত্রৈলোক্যনাথ, এদিকে এসো না।’

    কিন্তু তবু সে আসে, আদেশ অমান্য করেই আসে। প্রতিবার ফিরে এসে দেখে খাদ্য গ্রহণ করেছেন গুরুদেব।

    একদিন আর কন্ঠস্বর নয়, দেখল পাথরের চাটানের ওপর— ‘পতিত গুরু পাপে বাসা’ লেখাটির নীচে কাঁপা হস্তাক্ষর–

    আর এসো না। চলে যাও।।

    পরদিন এসে দেখে আগের দিন রেখে যাওয়া পুঁটলিটা ছিঁড়ে পড়ে রয়েছে ঘাসের ওপর। এক ঝাঁক জালালি কবুতর চালের দানা খুঁটে খাচ্ছে, যজ্ঞিডুমুর গাছটার মাথায় এসে বসেছে দুটো শকুন।

    কোয়ার্সভিল থেকে অস্পেত্য-দ্য-লা-সঁতের দল নৌকায় চেপে এসে ছাউনিটা পুড়িয়ে দেবার পর কিন্তু ছাইয়ের ভেতর একটিই পুরুষ কঙ্কালের অবশেষ পাওয়া গিয়েছিল।

    *

    ফজরের প্রহরে ডোঙা শর্মা মারা গেলেন। মৃত্যুকালে তাঁর চোখদুটো বিস্ফারিত। আঙুল দিয়ে চোখের পাতা বন্ধ করে দেবার সময়ে গঙ্গারামের মনে হলো ঠেলে-ওঠা মণিতে রামধনুর গুঁড়ো লেগে আছে।

    অন্তিমকালে বার বার তিনি নশ্বর দেহ ভস্মীভূত করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সর্পদংশনে মৃত্যু, গোবর্ধন কিংবা গঙ্গারামেরা প্রাণে ধরে সেটা করতে পারল না। চাল কলা ধূপ এনে তালের ডোঙাটিকে সাজালো ওরা, মৃতদেহ ঘাসের মাদুরে মুড়ে দিল, গঙ্গাজলের কুঁজো দিল দীর্ঘ যাত্রাপথের জন্য। গোবর্ধন জেলেপাড়া থেকে খ্যাপলা জাল এনে বাখারি দিয়ে ছইয়ের মতো করে দিল, যাতে কাক শকুনে ঠুকরোতে না পারে, যাতে প্রাণের সঞ্চার হলে–যদি হয়–তিনি যেন তাঁর অবিকৃত দেহটি ফিরে পান। ভোরের আগে ঘুমন্ত নদী, বুক জলে নেমে ওরা ঠেলে দিলে ডোঙাটিকে। তখন সবে ভাটা পড়ছে, পুবের আকাশ ফর্সা হতে কিছু দেরি আছে। ত্রৈলোক্যনাথ শর্মার দেহ নিয়ে তালের ডোঙা ভেসে গেল, যেদিক থেকে এসেছিল সেইদিকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }