Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৩.৫

    ৩.৫

    খুব ছোটোবেলায় সকালে মায়ের বুড়িপিসিমাকে দর্শন দিয়ে দাদুর কোলে চেপে মন্দির পরিক্রমার সময় দেয়ালে প্যানেলে খোদাই নদীর খাতবদল, শেকল বাঁধা ক্রীতদাসের সারি, দূরবীন চোখে ফিরিঙ্গি সাহেব, বাদাবনের গন্ডার ও অন্যান্য দৃশ্য বাপ্পার স্মৃতিতে আঁকা হয়ে ছিল। পরে তিতলি বড়ো হতে বিশুকা যখন ওদের দুজনকে নিয়ে মন্দিরে যেত, তর্জনি তুলে প্যানেলগুলো দেখিয়ে তাদের কাহিনি ব্যাখ্যা করত, এক বিচিত্র দেজা ভ্যুর মতো অনুভূতি হতো বাপ্পার। মনে হতো এসবই সে চাক্ষুষ করেছে বহুকাল আগে তার জন্মেরও আগে, যখন এই পৃথিবী এক অন্যরকম আলোয় ভরেছিল।

    মন্দিরের উঁচু চাতালে বাপ্পার কব্জি মুঠোয় ধরে আছে বিশুকা, অন্য হাতের বেড়ে চড়ে বসেছে তিতলি। তিতলির দুই পায়ে লাল হলুদ পশমী খরগোশ, যা হাঁটার জন্য নয়। তার কিছুকাল আগেই সে বারান্দায় বেতের দোলনা ছেড়েছে, কথা বলতে শুরু করেছে। দুধ আর জনসন বেবি পাউডারের গন্ধ-মাখা, ঘুমের- মধ্যে-দেয়ালা-করা সরোম মাংসপিন্ডটা একটু একটু করে একটা ক্ষুদে মানুষ হয়ে উঠেছে। চারপাশের বস্তুজগত আশ্চর্য সজীব ও সজ্ঞান। উঠোনে নিমগাছটার ছায়ার রঙ তেতো, বারান্দায় লোহার রেলিঙগুলো টক, বাতাসে অপদেবতাদের ফিসফাস আর ঘরের কোণে তাদের ছায়া দোলে। ওরা রান্নাঘরের চালে লতিয়ে ওঠা কুমড়োর পাতায় ছিট ছিট দাগ রেখে যায়। সেজন্য বাপ্পার হাতে লোহার বালা পরিয়ে দিয়েছে বামুনদি।

    সিজারিয়ানের পর নতুনবউয়ের স্বাস্থ্য আর ফেরেনি। সারাদিন ধরে তিতলির দেখাশোনা করে মান্দাসী, কেবল ভাত খাওয়ানোর সময়টুকু ছাড়া। ওর জাতের ব্যাপারে সন্দেহ থাকায় নতুনবউ নিজেই সেই কাজটা করে।

    অম্বুবাচির দিন সরোজা ওকে নদী থেকে তুলে বাড়িতে আনার তিনদিন পরেও কেউ মেয়েটাকে নিতে আসেনি। ওর স্মৃতি কিংবা বাক্‌শক্তি কোনোটাই ফেরেনি। রামপ্রাণ নদীপাড়ের বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা রোগীদের সাহায্যে খবরটা প্রচার করলেন, কিন্তু কোনো ফল হলো না। তখন হেমন্তকে দিয়ে মান্দাসীর ছবি তোলানো হলো, শিবুর ছাপাখানায় দুশোটি পোস্টার ছাপানো হলো। ওকে কবে কোথায় কী অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে, ওর চেহারার বর্ণনা, পায়ে পেতলের মকরমুখী মলের উল্লেখ (নিতম্বের নীচে ত্রিভুজাকার চিহ্নটির কথা লেখা হয়নি) এবং কেউ সন্ধান দিতে পারলে পুরস্কারের ঘোষণা সম্বলিত পোস্টার নিয়ে গামা নৌকা বেয়ে উজানে চলল। পথে গঙ্গার পাড়ে গ্রামে চন্ডীমন্ডপে হাটখোলায় দর্মার দেয়ালে গাছের গায়ে সেঁটে দিতে লাগল। অনেক বছর আগে সরোজা যেবার না জানিয়ে কলকাতায় গেল, রামপ্রাণের নির্দেশে এই নদীপথেই রাধানগর গিয়েছিল গামা। ইতিমধ্যে চরের ওপর অনেকগুলো নতুন গ্রাম গজিয়ে উঠেছে, গামা দেখল, পুরোনো গ্রামগুলোর চেহারাও কিছু কিছু বদলেছে। বদলায়নি কেবল হাটে মন্দিরে শীর্ণ, অনাহার পীড়িত মানুষের জটলা।

    কিন্তু পুরস্কারের ঘোষণাতেও ফল হলো না। ইতিমধ্যে সরোজা দর্জি ডাকিরে মেয়েটির জন্য কয়েকটি ফ্রক বানিয়েছেন, ওর একটি নামও দিয়েছেন। কলার মান্দাসে ভেসে এসেছে তাই মান্দাসী। ওই নামে ডাকলে আজকাল সে সাড়াও দেয়। টোলের বাড়িতে ছাত্র পড়াতে বসে সেই ডাক কানে যেতে মশাই ভাগে বিশুর মারফৎ বলে পাঠালেন–মান্দাসী নামটি ব্যাকরণগতভাবে যেমন অশুদ্ধ ও অর্থহীন, গঙ্গায় উৎসর্গীকৃত অজ্ঞাতকুলশীলকে তুলে এনে বাড়িতে রাখাটাও তেমনই ঘোর অশাস্ত্রীয় কাজ। আশ্রিতটি অতএব অলীক, তার কোনো বাস্তব অস্তিত্বই নেই।

    স্মৃতি হারালেও যে জিনিসটি মান্দাসী হারায়নি তা হলো খিদে। ও ঠিক কতদিন জলে ছিল সেটা নিরূপণ করা যায়নি, কিন্তু মনে হলো যেন ওই সময়টায় অভুক্ত থাকাটা সুদে আসলে শোধ তুলে নিচ্ছে। পাহাড় পরিমাণ ভাত তরকারি নিমেষে কীভাবে যে ওই কঙ্কালসার দেহের মধ্যে হারিয়ে যায় সে এক রহস্য। এমনকি গামার বিখ্যাত ভোজনক্ষমতাও ওর কাছে নস্যি। অত্যধিক খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়বে এই ভয়ে সরোজা যখন বামুনদিকে বিরত হতে ইশারা করে, দেখা যায় মান্দাসী চিন্তামণির জন্য ভিজানো ছোলা চুরি করছে, এমনকি ছাঁচতলার ধারে দেয়ালে কুলুঙ্গিতে রাখা তেঁতুলের গোলাও। যা কিছু মানুষের ভোজ্য সেসব ওর নাগাল থেকে সরিয়ে রাখার পর একদিন দুপুরে বামুনদি দেখল উঠোনে ইটের ফাঁকে আমরুল পাতা খুঁটে তুলে চিবোচ্ছে মান্দাসী। এইসব খাদ্য অখাদ্যের পুষ্টিগুণে এই বাড়িতে আসার সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই ওর চামড়ায় অনুজ্জ্বল মাটি-মাটি ভাবটা চলে গেল, চোখে আলো ফিরল। সরোজা মান্দাসীকে দিয়ে ফাইফরমাশ খাটাতে লাগলেন, বিশেষ করে তিতলিকে প্রতিপালনের নানান ছোটোখাটো কাজ অয়েলক্লথ ধোয়া, কাঁথা বালিশ রোদে দেওয়া, মালিশের তেল গরম করা, কাজলের ভূষোকালি তোলার জন্য বাগান থেকে ফনিমনসার পাতা তুলে আনা, নারকেল বালদোর আগুন করে হাতে পায়ে গরম সেঁক দেওয়া, এইসব। একদিন ভরদুপুরে সরোজা দেখলেন ভাঁড়ারের লাগোয়া ঢাকা বারান্দায় ঘুমন্ত শিশুর দোলনা দুলছে, মান্দাসী দেয়ালে ঠেস দিয়ে পা ছড়িয়ে বসে অঘোরে ঘুমোচ্ছে, ওর অতিকায় চোখদুটোর পাতা আধখোলা, এদিকে যান্ত্রিক হাত নেড়ে দড়িতে টান দিয়ে চলেছে। আরেকদিন সন্ধার আগে গাঢ় আলোআঁধারিতে দেখেন সে ঘুমন্ত তিতলির মাথার ওপর শূন্যে ক্ষিপ্র হাত চালিয়ে কী যেন খামচে খামচে মুঠিতে ধরছে। কাছে গিয়ে মুঠি খুলিয়ে দেখলেন রক্ত। মশা মারছিল।

    মান্দাসী ঠিক কবে থেকে একটু একটু কথা বলতে শুরু করল কেউ খেয়াল করেনি। ওর উচ্চারণে দোখনো টান ছিল, কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও ওর পেট থেকে অতীতের কথা বের করা গেল না। বামুনদির মন থেকে সন্দেহের কাটা যায়নি, হঠাৎ হঠাৎ সে মান্দাসীকে বিভিন্ন মুসলমানী নাম ধরে ডাকে, মান্দাসী আনমনে সাড়া দিয়ে ফেলে কি না পরখ করে। ওর চলাফেরা কাজের ভঙ্গি খুঁটিয়ে নজর করে। বাক্শক্তি ফিরলেও কথা বিশেষ বলে না মান্দাসী। মনে হয় যেন ঘুমের মধ্যে চলেফিরে বেড়াচ্ছে, বড়ো বড়ো চোখের পাতা পুরোপুরি বন্ধ হয় না কখনো।

    দুটি জিনিসে ওর বিশেষ পারদর্শিতা দেখা গেল – আগুন আর কাদা। বর্ষার দিনে বামুনদি কিছুতেই যখন আধভেজা কয়লায় উনুন জ্বালাতে পারে না, মান্দাসীকে ডাক দেয়। দুটো পাটকাঠি আর একটা ঘুঁটের টুকরো দিয়ে চোখের নিমেষে ভিজে কয়লাতেও গনগনে আঁচ তুলে দিতে পারে সে। বাগানে নারকেলের বালদো থেকে কাঠি বের করে ঝাঁটা বাঁধে, সকালে উঠোনে ঝরা নিমপাতা ঝাঁট দিয়ে ফেলে। তারপর গঙ্গামাটি দিয়ে মেটেঘরের সিঁড়ি দাওয়ার উনুন ও দেয়ালের বাইরের দিকগুলো লেপে দেয়; শাকম্ভরী দেবী ওকে কোনোমতেই ওঁর ঘরের ভেতরে ঢুকতে দেন না। বেলা বাড়লে কখনো কাদামাটির তাল ময়দার মতো মেখে বাপ্পা আর তিতলির জন্য ছোটো ছোটো পুতুল গড়ে। সেই পুতুলদের কাঠির মতো সোজা হাত পা, মুখে কাদার গুলি টিপে বসানো চোখ, ঝাঁটার কাঁটা দিয়ে ছেঁড়া ঠোঁট অদ্ভুত জীবন্ত আর ভয়ঙ্করদর্শন। সেই মূর্তিগুলোকে এতটাই নিঃসঙ্গ দেখায়— বুঝি মহাসাগরের মাঝে নির্জন দ্বীপবাসীর দল, যাদের গল্প বাপ্পাকে বই থেকে পড়ে শোনায় শিউলি যে তাদের জন্য আবার মাটির হাঁস পাখি ঘোড়া বানিয়ে দেয় মান্দাসী। তারপর তাদের উঠোনে রোদে শুকিয়ে নিয়ে মেটেঘরের বাইরে উনুনে পুড়িয়ে লাল করে তোলে। সদ্য পোড়া মাটিতে দগদগে মাংসের লাল রঙ মন্দিরে লাইকেন-ছাওয়া প্যানেলের রঙের থেকে আলাদা। তাছাড়া মান্দাসীর গড়া মূর্তিগুলো মুক্ত, ত্রিমাত্রিক।

    একদিন রান্নাঘরের পাট সেরে কুয়োয় জল নিতে এসে নিমগাছের নীচে পোড়ামাটির ছোটো ছোটো ঘোড়া দেখল বামুনদি। একটি ঘোড়া তুলে নিয়ে বাঁ হাতের তালুতে রেখে উঠোনের মাঝখানে এসে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় করল

    ‘হায় ভগবান! আমি ঠিক জানতুম!’

    ‘কী হয়েছে? কী হলো? বলি হলো টা কী?’ সকলে সমস্বরে বলল।

    ‘আমি ঠিক জানতুম গো! আমার সন্দে ভুল ছেল না!’ বলে বামুনদি দুলে দুলে ডান হাতে কপাল চাপড়াতে লাগল।

    ‘কী জানতিস সেটা আগে বলবে তো!’ সরোজা ধমক দিলেন।

    বামুনদি মান্দাসীর দিকে আঙুল উঁচিয়ে বলল—‘এই মেয়েটা নেড়ি!’

    মি’লেডি,— ‘নেড়ি’ বলতে বামুনদি সেদিন ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছিল সেটা স্পষ্ট নয়। নেড়ি অর্থে মুসলমান, বৌদ্ধ কিংবা নীচু জাতের হিন্দু এই তিনটির যেকোনো একটি হতে পারে। দাক্ষিণাত্য থেকে সেন বংশীয়রা যখন বাংলায় এসে পাল রাজাদের হঠিয়ে শাসনক্ষমতা দখল করল, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ওপর অত্যাচার, পীড়ন এমনকি হত্যাও শুরু হলো। বৌদ্ধরা মাথা মুন্ডন করত বলে তাদের বলা হতো নেড়ানেড়ির দল। এইসময়ে তারা আত্মগোপন করে, বিভিন্ন গুপ্ত ধর্ম ও তন্ত্রের আশ্রয় নেয়। বখতিয়ার খিলজি বাংলায় এসে সেনদের উৎপাটিত করার পর এই গোষ্ঠীর অনেকেই, এবং সেই সঙ্গে ব্রাহ্মণ্যবাদে নিপীড়িত অসংখ্য হিন্দুও, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।

    বেশ কিছুদিন ধরেই মান্দাসীর ছোটোখাটো আচার ব্যবহারে বামুনদির সন্দেহটা দানা বেঁধেছিল। মান্দাসীকে মশলা বেটে কলাপাতায় মুড়ে আনতে বললে পাতার নীচের দিকটা দিয়ে মোড়ে, ভাতের শানকিতে ব্যঞ্জন বেড়ে দিলে আগে অম্বল দিয়ে খায়, শেষে তেতো খায়। ওই পোড়ামাটির ঘোড়া দেখে সন্দেহের আর কিছু বাকি রইল না। ধর্মতলায় বটের নীচে ধর্মঠাকুরের থানে এইরকম মানতের ঘোড়া দেখা যায়, সকলেই জানে।

    শোরগোল তুলে বাড়ি মাথায় করার পর সরোজার গম্ভীর মুখচ্ছবি দেখে বামুনদি আর কথা বাড়ানোর সাহস করল না, আপন মনে গজগজ করতে করতে পোড়া কয়লা কাদায় মেখে উঠোনের একধারে উবু হয়ে গুল দিতে বসল।

    মুখ খুলল বিশু।—- ‘যে বাড়িতে ঠাকুরদেবতার বাস, সেখানে কী করে তুমি অমন জেদ ধরে মেয়েটাকে রেখেছ গো বৌদিদিমণি? তেনাদের বুঝি কোনো ইচ্ছে অনিচ্ছে নেই?’

    ‘কাদের ইচ্ছে-অনিচ্ছের কথা বলছ বিশুঠাকুরপো?’ সরোজা বিশুর চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন— ‘মা গঙ্গা যদি ইচ্ছা করে থাকেন এ বাড়ির মেয়েকে তাঁর কোলে টেনে নেবেন, তাহলে তিনি এও ইচ্ছা করেছেন তাঁর কোল থেকে আরেকটা মেয়ে এখানে আশ্রয় পাবে!’

    আদিরামবাটির সকল বয়স্কর হৃদয়ের গুপ্তকুঠুরিতে স্ফোটকের আকারের নৈঃশব্দ্য বুঝি নখে ফাটালেন সরোজা। বিশু ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকল কয়েক মুহূর্ত, তারপর মাথা নীচু করে হনহনিয়ে হেঁটে ঢুকে গেল ঠাকুরবাড়িতে, তার পোষ্য উনত্রিশ দেবদেবীর ঘরে।

    পরদিন সকালে শাকম্ভরী দেবী রামপ্রাণকে বললেন

    ‘আমার কাশী যাওয়ার বন্দোবস্ত করে দে, পরাণ। ঢের বাঁচা হলো!’

    সেদিনের পর আর মান্দাসী ঘোড়া গড়েনি। উনুন ধরাতে কিংবা জল টানতে ওর রান্নাঘরে পা রাখা বন্ধ হলো। সে যাত্রায় শাকম্ভরী দেবীর কাশী যাওয়া হলো না।

    মান্দাসীর গড়া পোড়া মাটির ঘোড়া চার পা ছড়িয়ে খাড়া হয়ে দাঁড়াতে পারে, কিন্তু চলতে পারে না। চিন্তামণি বাপ্পাকে আর তিতলিকে পিঠে চাপিয়ে নিয়ে বাগানের বড়ো কুয়োটার চারিধারে গোল হয়ে ঘুরে ঘুরে চলে। রামপ্রাণ এক্কাগাড়িতে চেপে বাইরে রুগি দেখতে যাওয়া বন্ধ করার পর গাড়িটার ছাউনি কেদারা খুলে তক্তা বসিয়ে মালের গাড়ি হয়েছে। গামা সোম্বচ্ছরের জ্বালানি কাঠ আর গঙ্গামাটি চাপিয়ে আনে, দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের পর চালচিত্রের কাঠামো টেনে পুজোদালানে আনে।

    সেই সময় বাপ্পার স্মৃতিতে এক সুবিশাল রহস্যময় পৃথিবীর নাম আদিরামবাটি। শীতের কুয়াশাঢাকা সকালে মান্দাসীর ফ্রক খামচে ধরে উঠোনের পশ্চিম কোণে মেটেঘরের দিকে হেঁটে যাওয়া যেন সেই পৃথিবীর সীমান্তপ্রদেশে যাত্রা। মেটেঘরের পেছনেই শুরু হচ্ছে সবুজ ছায়াঘেরা আমের বন। তার নীচে দিয়ে সিঁথির মতো পথ চলে গিয়েছে অজানার দিকে। কালকাসুন্দে আশশ্যাওড়ার ঝোপের একপাশে উঁচুনীচু শিয়ালকাঁটার বন, হলুদ ফুলের চারপাশে হলুদ প্রজাপতির ওড়াউড়ি। বড়ো হয়ে বাপ্পা জানতে পারবে ওইখানে পোঁতা আছে আদিরামবাটির কয়েক প্রজন্মের গর্ভফুল, এমনকি ওর নিজেরও গর্ভফুল। ওখানে শুয়ে আছে কয়েক প্রজন্মের মৃতজাতক— হয়তো প্রজন্মান্তরে জন্মাতে চাওয়া, জন্মাতে না-পারা, জরায়ুর ভেতর নাড়ির ফাঁস লেগে মৃত যে সে-ও।

    .

    রথীনের পদোন্নতি হয়েছে। আলিপুরদুয়ারে বড়ো কোয়ার্টার পেয়েছে, শিউলিদের সেখানে নিয়ে গিয়েছে। তিতলি হাঁটতে শেখার পর বাপ্পা যখন মায়ের সঙ্গে আলিপুরদুয়ার থেকে সাতগাঁয় আসে, ভাইবোন হাত ধরাধরি করে বড়োদের নজর এড়িয়ে আদিরামবাটির অচেনা জগত চিনতে শুরু করে। যেন দুই অভিযাত্রী, ইটবিছানো উঠোনে কুটিল সমুদ্রের ওপর পাড়ি জমিয়েছে। সেখানে বর্ষার পর নিমগাছের ছায়ারেখায় ঝিকিমিকি করে শ্যাওলা, ওষধিবাগানের টানা বাঁশের বেড়ার— যার গায়ে বর্ষার পর কমলা ছত্রাক গজায়, বাঁশের ফাটলে জমা জলে মশার ডিম খেতে আসে শামুক— ধার দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মন্দিরের চুড়ো দেখে দিকনির্ণয় করে এগোলে প্রথমে পড়বে টোলের বাড়ি। প্রশস্ত উঠোনে কাঠের উঁচু পিঁড়িতে বসে মশাই, সামনে ঘাসের পাততাড়ি পেতে একদল টিকিধারী বালক দুলে দুলে একঘেয়ে স্বরে ন্যায়ের সূত্র আবৃত্তি করছে। ওদের পাশ দিয়ে আরও অনেক দূর হেঁটে গিয়ে গোয়ালঘরের চালাটা— যার ভেতরে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ঝিমোয় চিন্তামণি আর বসন্তমামার হার্লে ডেভিডসন— পেরোলে বাগান, তার মধ্যিখানে পাড়বিহীন বিশাল ইঁদারা। তার মুখে জাল আঁটা, ওপরে কপিকলের ফ্রেমে হেমত্তমামার জোয়ার-ভাটার মিটার। জালের ফাঁক দিয়ে নীচে উঁকি দিলে আরেকটা আকাশ দেখা যায়, আকাশের গায়ে মেঘ, উড়ন্ত পাখি দেখা যায়, জেটপ্লেন চলে যাবার পর রুপোলি রেখা দেখা যায়। ওই পাতালপুরীতে যক্ষ থাকে, বিশুকা বলেছে। দুরু দুরু বুকে বাপ্পা ঝুঁকে পড়ে মুখের দুপাশে দুহাত জড়ো করে চিৎকার করে ডাকে, সে সাড়া দেয়।

    বাপ্পা!

    বাআআআআ…

    শোঁপোকা!

    শোঁওওওও…

    আতঙ্কে খুশিতে ঝলমল করে তিতলির মুখ। বাপ্পা ওর কনুই খামচে ধরে চোখ পাকিয়ে বলে— ‘গা ছুঁয়ে দিবি কাট কাউকে বলবি না!’

    ‘দিবি! দিবি!’ তিতলি বলে।

    এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানের শেষ গন্তব্য বাগানের প্রান্তে ফার্মেসিবাড়ি। তার বারান্দায় বেঞ্চিতে সারি দিয়ে অপেক্ষমাণ রোগীরা। তাদের মুখাবয়ব ফটকের রাস্তার ধারে পোড়ো বাড়িগুলোর মতো, তাদের জীবনেতিহাস লেখা রয়েছে দাদুর চেম্বারে শেলফে কালো রেক্সিন-বাঁধানো খাতায়। স্বাধীন দুই শিশুকে হাত ধরাধরি করে হেঁটে আসতে দেখে তাদের গাল টিপে আদর করার জন্য কারোর হাত নিশপিশ করে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াও রয়েছে জাতপাতের ভয়, মুখে কেবল বিচিত্র স্নেহসূচক শব্দ করে ওরা। দুজনে বারান্দা পার হয়ে চেম্বারে সবুজ পর্দা সরিয়ে ঢোকে। রামপ্রাণ একে একে ওদের দুজনকে হাঁটুর ওপর বসিয়ে ছদ্মগম্ভীর মুখে স্টেথোস্কোপ কানে গুঁজে বুক পিঠ পরীক্ষা করেন, ঘন ঘন মাথা নাড়েন। বাপ্পাও হাসি চেপে অপেক্ষা করে কখন দাদু বলবে

    ‘জিভটা দেখি!’ আর তারপর সবুজ রঙের শিশি খুলে জিভের ওপর নস্যির ডিবেয় টোকা মারার মতো করে ফেলবে চারটি করে গুলি। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার শেষে মশলাদ্বীপের বন্দরে এসে নাবিকেরা গভীর শ্বাস নেয়, বুকে ভরে ওঠে তাজা সুগন্ধী বাতাস, মুখের ভেতরটা শিরশিরে ঠান্ডা আর মিষ্টি প্লাসেবোর স্বাদে ভরে ওঠে।

    এমনই আরেকটি গন্তব্য ওষধিবাগানের অন্যদিকে আদিরামের মন্দির আর ঠাকুরবাড়ি। সেখানেও দীর্ঘযাত্রার শেষে এলাচদানা পাওয়া যায়। কিন্তু তাতে মুখের ভেতরে অমন ঠান্ডা অনুভূতি হয় না, চন্দন আর কর্পূরের গন্ধ পাওয়া যায়। তার আগে অবশ্যই ঠাকুরবাড়ির গ্যালারিতে উনত্রিশ জন দেবীদেবতা প্রত্যেককে জোড় হাত করে প্রণাম করতে হয়। তাঁদের কারোর বিস্ফারিত চোখ, কারোর হাতে বাঁশি, কমণ্ডলু, সাপ, পায়ের নীচে বাঘ, কুমীর, নাভিতে পদ্ম। বিশুকা চেনায়— ‘এই দেখ মা লক্ষ্মী, ইনি হলেন তারা, তাঁর পাশে নারায়ণ, এদিকে দেখ রাধা কৃষ্ণ যুগলে, দেখ জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রা, ওপরে দেখ পার্বতী মহাদেব, বিষ্ণু রয়েছেন, অন্নপূর্ণা, বিশালাক্ষী, বগলা…

    আরেকটি বিশেষ আকর্ষণের জায়গা হলো বাগানে পুবদিকের কোণে মাটির পাহাড়, বিশুকা যাকে বলে গিরি গোবর্ধন। প্রতিবছর গ্রীষ্মের শুরুতে সেটি জেগে ওঠে, তারপর ক্রমশ ছোটো হতে হতে দুর্গাপুজোর পরে প্রায় মিলিয়ে যায়।

    প্রতি বছর বসন্ত বিষুবের পর হুগলি নদী দিয়ে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের ড্রেজার আসে, ত্রিবেণীর কাছে নদীর খাত থেকে পলিমাটি তুলে পাড়ে জমা করে। সেই পাহাড় পরিমাণ মাটি ডাম্পার ট্রাকে বোঝাই করে ছাড়িগঙ্গার ঝিলে নিয়ে গিয়ে ফেলা হয়। তার আগে সাতগাঁইয়ারা যে-যার মতো সংগ্রহ করে নেয় সোম্বচ্ছরের ব্যবহার্য গঙ্গামাটি। এই সময়ে গামা মালটানা গাড়িতে চিন্তামণিকে জুতে নেয়, তিন- চার দিন ধরে সকাল বিকেল সেই বিশুদ্ধ আর্দ্র পলিমাটি বাগানের ধারে নির্দিষ্ট জায়গায় স্তূপাকারে জমা করে। ঠাকুরের নিত্যপুজো থেকে উনুন নিকোনো, বাসন মাজা, এমনকি শৌচের পর হাতে-মাটিতেও লাগে গঙ্গামাটি। এই মাটি দিয়েই মান্দাসী গড়ে পুতুল হাঁস পাখি ঘোড়া … না, ঘোড়া নয় আর! বর্ষার জল পড়লে মাটির ভেতর কতকালের ঘুমন্ত বীজগুলো জেগে ওঠে, অচেনা সবুজ আগাছায় ছেয়ে আসে গিরিগোবর্ধন। কিন্তু দুর্গাপুজোর সময়ে বাপ্পা যখন সাতগাঁয়ে আসে, ততদিনে পাহাড়টা যেন ভোজবাজিতে মিলিয়ে গিয়েছে। পুজোদালানে তখন দশভুজা মা দুর্গা, তাঁর ছেলেমেয়েরা, তাঁর বাহন সিংহ, আর মহিষাসুর।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }