Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ২.৬

    ২.৬

    বাপ্পার বুকে পৈতের মতো সেই নীলচে সবুজ দাগটা কৈশোরের আগে পর্যন্ত ছিল। দেখলেই সকলের মনে পড়ত শাকম্ভরী দেবীকে স্বপ্ন দিয়ে গঙ্গারামের আত্মা ফিরে আসার কথা। এই ঘটনা সাতগাঁয়ে নতুন নয়, মি’লেডি, পুনর্জন্ম যে কেবল মানুষের ক্ষেত্রে ঘটেছে এমনও নয়।

    অনেককাল আগের কথা মি’লেডি। শিউলি তখন সরোজার পেটে। কলকাতায় গিয়ে বনলতার মর্মান্তিক পরিণতির পর পাগলরামের মেয়ে রাধারাণীর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কে ছেদ পড়েছে তার আগেই। মুখ দেখাদেখি বন্ধ, সাতগাঁর সমাজেও ওরা ব্রাত্য। তবু নিয়ম করে প্রতিবছর দুর্গাপুজোর সময় ঠাকুর-চাকর বন্ধুবান্ধব নিয়ে বাবার বানানো ভিলায় ছুটি কাটাতে আসে রাধারাণী। একবার ওরা নিয়ে এল রেডিও, সাতগাঁয়ে প্রথম রেডিও। পিতৃপক্ষের শেষ দিন ভোররাতে এল ডোরাডোর বৈঠকখানা থেকে ভেসে এল শঙ্খধ্বনি, দেবীর আগমনী গান। তারপর মেঘমন্দ্ৰ কণ্ঠে চণ্ডীপুরাণ থেকে পাঠ। আদিরামবাটির ছোটো-বড়ো সকলে ঘুম ভেঙে উঠে উঁকি দিয়ে দেখল এল-ডোরাডোর রঙীন শার্সি আলোকিত, বৈঠকখানার দরোজা খোলা, ভেতরে চেয়ার শতরঞ্চি পাতা হয়েছে।

    কিন্তু কেউ সেই বেতার অনুষ্ঠান শুনতে এল না। শুধু তাই নয়, পরদিন রামরাম শাস্ত্রীমশাইয়ের নেতৃত্বে সাতগাঁর কনৌজি ব্রাহ্মণ সমাজ অল ইন্ডিয়া রেডিওর অধিকর্তাকে প্রতিবাদপত্র লিখল। তাঁদের অভিযোগ যে সময়ে এই রেডিও সম্প্রচার করা হয়েছে, তখন পিতৃজাতকের আত্মারা তিল-গঙ্গাজল পেতে দ্যুলোক থেকে ইহলোকে নেমে আসেন। এই বিশেষ দিনটি মর্ত্যভূমিতে তাঁদের মহা আলয়। এমত সময়ে বেতার তরঙ্গে জনৈক বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র নামধারী অব্রাহ্মণের কণ্ঠে পুরাণপাঠ তাঁদের যাত্রাপথে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বাংলা, ইংরিজি ও সংস্কৃতে লেখা ১১৮টি চিঠি জমা পড়ল ১ নং গার্সটিন প্লেসের দপ্তরে। সাহেব অধিকর্তা মহিষাসুরমর্দিনী নামে অনুষ্ঠানের সম্প্রচার সাত দিন পিছিয়ে দিলেন। রাধারাণীও আর এল-ডোরাডোয় রেডিও নিয়ে আসেনি।

    এই ঘটনার পরের বছর মহালয়ার কাকভোরে টুপ টুপ করে শিশির ঝরছে, ভেতর উঠোনে শোনা গেল–

    ওগো আমার আগমনী আলো
    জ্বালো প্রদীপ জ্বালো…

    পাতলা ঘুমের ভেতর জেগে উঠে শাকম্ভরী দেবীর মনে পড়ল তাঁর শৈশবের কথা।

    গানটা ভেসে আসছিল নিমগাছটার উঁচু ডাল থেকে। ছেঁড়া ছেঁড়া, কখনো উচ্চকিত কর্কশ, গানের কথাও কেমন যেন এলোমেলো। বাড়ির সকলে বিছানা ছেড়ে উঠে একে একে জড়ো হলো উঠোনে। ততক্ষণে অন্ধকার ফিকে হয়ে আসছে। গাছের মগডালে দেখা গেল একটি সাদা রঙের পাখি।

    ‘কাকাতুয়া!’ বসন্ত বলল। ‘কাকাতুয়াটা গান গাইছে!’

    ‘এ যে অ্যান্টনি ফিরিঙ্গির গলা!’ শাকম্ভরী দেবী উঠোনে এসে বললেন। ‘ফিবছর পুজোদালানে বসে মা দুর্গার আগমনী শুনিয়ে যেত ফিরিঙ্গি সাহেব, ছেলেবেলায় ঠাকুমার মুখে শুনেছি।’ তিনি গুনগুন করলে উঠলেন, ভোরের নিস্তব্ধতার ভেতর অদ্ভুত সুর ফুটল তাঁর গলায়

    ‘মা তাই শুনে এ ভবের কূলে
    দুর্গা দুর্গা বলে বিপদকালে
    একবার দুর্গা দুর্গা বলে যে ডাকে তোমায়
    তুমি কর তায় ভবসিন্ধু পার…’

    ‘মা দুর্গা আসছেন, পাখিটা মনে হয় সেই খবর নিয়ে এসেছে,’ বিশু বলল।

    ‘কিন্তু এটা নীলকণ্ঠ পাখি নয়,’ বসন্ত বলল।

    ‘নীলকণ্ঠ পাখির কণ্ঠ নীল কেন জানিস নে? মা দুর্গার বর বিষপান করে নীলকণ্ঠ হয়েছিলেন,’ বিশু ব্যাখ্যা করে। ‘এর ঝুঁটির রঙ দেখেছিস?’

    ‘হলুদ!’ ছোট্ট হেমন্ত মায়ের কোলে উঠে বলল।

    ‘হ্যাঁ, গন্ধকের রঙ। গন্ধক হল বিষ।’

    কোষাকুষি হাতে রামপ্রাণ ঘাটে পিতৃতর্পণ করতে যাচ্ছিল, পাখিটাকে দেখে বলল — ‘কাদের বাড়ির পোষ্য, খাঁচা খোলা পেয়ে উড়ে এসেছে। আলো ফুটলেই উড়ে চলে যাবে।’

    ‘ও যাবে বলে আসেনি রে পরাণ, ও হল অ্যান্টনি সাহেব! ও থাকবে।’ শাকম্ভরী দেবী প্রত্যয়ের স্বরে বললেন।

    সত্যিই তাই হলো। দুর্গাপুজোর পাঁচ দিন ঢাক-কাঁসরের শব্দেও পাখিটা উড়ে গেল না, দশমীর বিসর্জনের পরেও নিমগাছের মগডালে রয়ে গেল। ইতিমধ্যে সরোজা দেখেছে ওর ডানায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওরই উদ্যোগে গামা আম পাড়ার লগিজাল দিয়ে পেড়ে আনল পাখিটাকে। বসন্ত ওর ইস্কুলের জীববিজ্ঞানের বইয়ে ছবি মিলিয়ে দেখে জানালো পাখিটা জাভাদেশীয় কাকাতুয়া। আকার এবং ঠোঁটের গঠন দেখে বোঝা যায় বয়স হয়েছে। ডানায় ক্ষত সম্ভবত গুলতির গুলি লেগে হয়েছে। হলুদের সঙ্গে বোরিক পাউডার মিশিয়ে ওর পরিচর্যা শুরু করল সরোজা। বাড়ির ছোটোদের, বিশেষ করে হেমন্তর, আবদার মেনে স্থির হলো কাকাতুয়াটাকে পোষা হবে। রামপ্রাণ শর্ত দিল

    ‘যেদিন ওর মালিক নিতে আসবে এক কথায় দিয়ে দিতে হবে কিন্তু।’

    কাকাতুয়াটাকে বাড়িতে রাখার ব্যাপারে শাকম্ভরী দেবীর অসম্মতি ছিল না। ওর মধ্যে হান্স অ্যান্টনি সাহেবের আত্মা পুনর্জন্ম নিয়ে এসেছে, তিনি জানতেন। যদিও সেই পর্তুগীজ ফিরিঙ্গি ছিল জন্মসূত্রে কেরেস্তান, সবাই জানে বাংলায় এসে সে কালীভক্ত হিন্দু হয়ে যায়। গোয়ায় তখন বিধর্মীদের বিরুদ্ধে ইনকুইজিশন চলছে, তামাকের জাহাজে পালিয়ে চাঁদেরডাঙায় আশ্রয় নিল অ্যান্টনি সাহেব। মদ মাংস ছেড়ে দিল, এক হিন্দু রমণীকে বিবাহ করল। মুখে মুখে গান বাঁধতে শিখল, ধর্মতলায় জেলে-হেলে কৈবর্তদের দলে ভিড়ে কবির লড়াই করতে লাগল। দুর্গাপুজোর সময়ে ব্রাহ্মণপাড়ায় এসে দেবীর আগমনী গাওয়ার বায়না পেত। ফিরিঙ্গির ব্যাটা পুজোদালানে বসে গান গাইছে, এই নিয়ে রক্ষণশীলদের দিক থেকে কোনো বাধা আসেনি। হান্স অ্যান্টনি জন্মসূত্রে ক্রিশ্চান হলেও সে ছিল প্রকৃতই দ্বিজ: ইনকুইজিশনের আগুন থেকে পালিয়ে দ্বিতীয় জন্ম পায়। শুধু তাই নয়, গোয়ার বিশপের আদেশে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়, যেমনটা বিধর্মী পলাতকদের ক্ষেত্রে করা হতো। অর্থাৎ কি না তার জীয়ৎশ্রাদ্ধও হয়।

    শাকম্ভরী ছোটোবেলায় তাঁর পিতামহ রাজারামের মুখে শুনেছেন রেশমি আচকান পরে, মাথায় লাল পাগড়ি এঁটে সাদা ঘোড়ায় চেপে আসত অ্যান্টনি সাহেব। ভূমির ওপর হাঁটু মুড়ে পদ্মাসনে বসতে পারত না, একপাশে পা ভাঁজ করে বাইজিদের মতো বসতো। একতারা বাজিয়ে গলায় দরদ ঢেলে গান গাইত যখন, ওর বন্ধ চোখের থেকে জলের ধারা নেমে তামারং দাড়িতে ফুটে থাকত শিশিরবিন্দুর মতো।

    .

    কাকাতুয়াটাকে প্রথমে ভাঁড়ার ঘরের লাগোয়া ঢাকা বারান্দায় বেতের দোলনাটায় রাখা হয়, যে দোলনাটিতে আর কিছুকালের মধ্যেই শোবে শিশু শিউলি। দিন কয়েক পরে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন দুপুরবেলায় মেয়েবউরা পুজোর যোগাড়ে ব্যস্ত, রান্নাঘরের দাওয়ায় নারকেল কুরছে বামুনদি, সরোজা চালগুঁড়োর আলপনা দিচ্ছে, সহসা শোনা গেল পাখিটার তীক্ষ্ণ স্বর। সবাই হাতের কাজ ফেলে ছুটে এসে দেখল, কোত্থেকে একটা হলদে-কালো ডোরাকাটা হুলো বেড়াল দোলনার কানায় দুই পা দিয়ে পেন্ডুলামের মতো দুলছে, আর কাকাতুয়াটা দড়ি বেয়ে সিলিঙের কড়িতে উঠে গন্ধকরঙা ঝুঁটি পাখার মতো ফুলিয়ে কর্কশ পুরুষালি গলায় চিৎকার করছে—

    ‘ফ্যদা! গ্যাতো! ফ্যদা-সি!’

    পরে জানা যায় ওগুলি পর্তুগিজ ভাষায় অশ্রাব্য গালি। সেই ঘটনার পর, এবং বিশু ঠাকুরের পোষ্য দেবদেবীর প্রসাদী কাটা ফলে কাকাতুয়াটার বিশেষ রুচি প্রত্যক্ষ করার পরে, সকলে ওকে অ্যান্টনি নামেই ডাকে।

    আদিরামবাটিতে প্রথম যার নাম ধরে অ্যান্টনি ডাকতে শেখে সে হলো গামা। তারপর একে একে— ‘বামুনদি’,— ‘বিশু’… ক্রমশ ছোটো ছোটো লব্জ শেখে— ‘দুগ্‌গা দুগ্‌গা!’ ‘দ্যাখ্ কে এল!’ ‘রাম-রাম-রাম-রাম!’ এরপরে বামুনদির মতো গলা করে গালি দিতে শিখল–‘ড্যাকরা মিনসে!’ ‘মুকে পোকা পড়বে!’ ‘চোখ গেলে দেব!’ এবং আরও পরে শিউলির মতো করে–‘কচু-পোড়া!’

    হুলোটা আর আসেনি। অ্যান্টনির দাবীদারও কেউ আসেনি। রামনবমীর মেলায় লোহার দাঁড় কেনা হয়, ভাঁড়ারঘরের বারান্দায় পায়ে শেকল পরিয়ে রাখা হয় ওকে। সেখান থেকে উঠোনে নজর রাখে সে, রান্নাঘরের চালে কাক পায়রা বসলে তাড়া, খিদে পেলে কিংবা বিরক্ত হলে সরোজাকে ডাকে–‘পরাণবউ, ও পরাণবউ!’

    .

    বাপ্পা যখন সবে এক-পা দু-পা করে হাঁটতে শিখেছে, আদিরামবাটিতে লাল পাথরের মেঝেয় ফাটল গলে পাতালে পড়ে যাবার ভয়ে সারাক্ষণ বড়োদের আঁকড়ে থাকে, কোলে উঠতে চায়, যখন উঠোনে বাগানে কুয়ো ইঁদারার অন্ধকার মুখব্যাদানে ভয়, খিড়কির ওধারে আমবনে শ্যাওলাগন্ধী ছায়ায় ভয়, তখন অ্যান্টনি কাকাতুয়াকে ও খুব ভয় পেত সে। ততদিনে অ্যান্টনি বৃদ্ধ হয়েছে, আর আগমনী গায় না, শুধু বড়োদের লজ নকল করে আর গালি দেয়। চৈত্রমাসে সরোজা ওর গায়ের পোকা মারার জন্য হলুদ জলে চান করাতেন। এর ফলে অ্যান্টনির পালকের রঙ পাকাপাকিভাবে হলদেটে হয়ে যায়, ঝুঁটিটা হয়ে যায় লালচে। সেই ঝুটি নেড়ে, টিকিট পাঞ্চের মতো বাঁকানো ঠোঁট ফাঁক করে যখন তীক্ষ্ণ লাল চোখে তাকাতো, ছোট্ট বাপ্পা ভয় পেয়ে গিয়ে মায়ের বুকে মুখ লুকোত। অথচ অ্যান্টনির থেকে চেহারায় ঢের বড়ো চিন্তামণিকে একেবারেই ভয় করত না। ততদিনে রামপ্রাণ এক্কাগাড়িতে রুগি দেখতে যাওয়া বন্ধ করেছেন, চিন্তামণি আদিরামবাটির ভেতরে ছাড়া থাকত। গামা বাপ্পাকে চিন্তামণির পিঠে বসিয়ে বাগানে ঘোরাতো, ওর একটুও ভয় করত না। তার কারণ চিন্তামণি কথা বলতে পারত না, আর ওর বড়ো চোখদুটো সবসময় ছলছল করত।

    তবে আদিরামবাটিতে যা বাপ্পাকে সবচেয়ে বেশি টানত, অ্যান্টনি কিংবা চিন্তামণির থেকে যা কম জীবন্ত নয়, তা হলো আদিরামের মন্দির, মন্দিরের তিন দেয়ালে ৯৬৬টি খোদাই ছবি আর এক দেয়ালে বিস্ফারিত ক্ষতমুখ।

    .

    মি’লেডি, গঙ্গার জাতক এই মন্দির। হাজার হাজার বছর ধরে যে পলিরেণু বয়ে এসে জমা হয় নদীর বুকে, তাই দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তার দেহ। প্রতিটি দেহকোষ সুদুর হিমালয় থেকে উত্তর ভারতের উপলভূমির ওপর দিয়ে ভাঙতে ভাঙতে গড়াতে গড়াতে কত আকরিক, ফসিল আর জীবকণার সমন্বয়ে এই বদ্বীপভূমির মুক্তবেণিতে এসে সম্পূর্ণ করেছে তার যাত্রা। তারপর একদিন সূত্রধরের হাতের নরুনে পেয়েছে তার ছাঁদ, কাঠের চুল্লির ভেতর পেয়েছে তার উষ্ণ পীতাভ রঙ। বিভিন্ন ঋতুতে দিনের বিভিন্ন প্রহরে যখন সূর্যের আলো এসে পড়ে তার গায়ে, সুক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম রেখার টান বাঙ্ময় হয়ে ওঠে: পুথি-বগলে ব্রাহ্মণ, তার মুন্ডিত মাথার শিখায় বাঁধা ফুল; বণিক চলেছে, মাথার পেছনে বেতের ছাতাধারী ভৃত্য; মকরমুখী জাহাজ চলেছে সমুদ্রযাত্রায়, ঝরোকা থেকে বিদায় জানাচ্ছে বিষণ্ণ পটল-চেরা চোখের পুরনারী; ওপাশে পত্রপল্লবের ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে কামুক নাগর; ফলন্ত কাঁঠাল গাছের ডালে বানর, নীচে ত্রস্ত অভিসারিকার গলায় মুক্তাহার; মিরাদরের নীচে মুখোমুখি বসে পণ্ডিত ও তুর্কী শাসক; নৌকায় একতারা হাতে বাতুল গায়ক; ঘন অরণ্যে গন্ডারের দল; বনরাজির মাঝে পুথি পাঠ করছে বিবাগী পণ্ডিত, পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে এক দীর্ঘকায়া দাসী রমণী, তার পায়ে মল; পেটমোটা ফিরিঙ্গি যাজক, হাতে ক্রশ-আঁকা বাইবেল; নদীর পাড়ে চরকায় সুতো কাটছে কাটুনি তরুণীর দল, নৌকায় বণিক তাদের উন্মুক্ত স্তনে অপাঙ্গে তাকিয়ে গোঁফ চুমরাচ্ছে; শিকলে বাঁধা ক্রীতদাসের দল মাটি খুঁড়ছে, চাবুক হাতে হাবসি; পালতোলা ঢাও-এ চেপে চলেছে একদল জিরাফ; উন্মত্ত ষাঁড়ের পিঠে ব্রাহ্মণের দল, হাতে ত্রিশূল, মাথার শিখা উড়ছে…

    ছাজার নীচে প্যানেলগুলোয় মহাকাব্য, পুরাণ আর মঙ্গলকাব্যের দৃশ্যাবলী। সেইসব কাহিনির সঙ্গে শিশুর প্রথম পরিচয় ঘটে পরিবারের কোনো বয়স্ক সদস্যের কোলে চড়ে নিত্য পরিক্রমায়। সেই সঙ্গে জড়িয়ে যায় চলমান জীবনের অকিঞ্চিৎকর দৃশ্যরাজি। যেভাবে প্রতিদিন গঙ্গাস্নানে স্রোতবাহিত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পলিকণা ত্বকের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করে, গাত্রবর্ণে ক্রমশ সবুজাভ ধুসর ছাপ আনে, সেভাবেই স্মৃতিতে ছুপিয়ে যায় কাহিনিমালা, স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। ঘুমের ভেতরে দোচালা মন্দিরটা যেন উলটানো জাহাজের খোলের মতো দুলে দুলে কাহিনিমালার রঙিন সামুদ্রিক গুল্ম টেনে নিয়ে পাড়ি জমায়।

    আদিরামবাটিতে এলে রোজ সকালে দাদুর কোলে চেপে শাকম্ভরী দেবীকে দর্শন দিতে যাওয়াটা বাপ্পার নিত্যকর্মের মধ্যে পড়ে। তারপর সন্দেশ চুষতে চুষতে পরের গন্তব্য হলো মন্দির। গর্ভগৃহে ফুল-চন্দনের গন্ধে ভারি আবছায়ায় একা ঠায় দাঁড়িয়ে আছে পাথরের বালক। বাপ্পা হাত জোড় করে তাকে নমো করার পর রামপ্রাণ দুহাতে ওকে তুলে ধরবেন, হাত বাড়িয়ে ঝুলন্ত ঘন্টাটা বাজিয়ে দেবে সে। পাথরের বালকটি রুপোর পাতে মোড়া চোখ মেলে চেয়ে থাকে নিষ্পলক। এরপর বাইরে পরিক্রমা সারার পর, দেয়ালে নির্দিষ্ট থানে কপাল ছোঁয়ানোর পর কত প্রজন্মের কপালের তৈলাক্ত ছোঁয়ায় কয়েকটি নির্দিষ্ট প্যানেলে কারুকাজ ক্ষয়ে মসৃণ হয়েছে দাদু-নাতি চলে আসবে ওষধিবাগানে, নাগকেশরের নীচে বাঁধানো বেদিটায় গিয়ে বসবে। সেখানে তখন পাতার ফাঁক দিয়ে সকালের নরম রোদ এসে পড়েছে, চারদিকে ছড়িয়ে আছে গোলাপি নাগকেশরের ফুল, তার ওপর মৌমাছি উড়ছে। পাখি ডাকছে, টোলের বাড়ি থেকে ভেসে আসছে ছাত্রদের কণ্ঠে মুগ্ধবোধ আওড়ানোর ধ্বনি। বাপ্পার মা খুরপি হাতে ঘুরে ঘুরে গাছেদের পরিচর্যা করছে, দাদুর পাশে বসে পায়রাদের খুদ খাওয়াচ্ছে বাপ্পা। পায়রারা নেমে আসছে হাততালির মতো শব্দে, রামপ্রাণ ফতুয়ার পকেট থেকে খুদ নিয়ে বাপ্পার ছোট্ট হাতের তালুতে দিয়ে ডাকছেন–‘আয়! আয়! আয়!’

    হাতের সামনে নীলচে ধূসর ধোঁয়ার মতো ডানার ঝটাপটি টুকটুকে লাল পা, লাল চোখ, পাঁশুটে গন্ধ। ভয়ে হাতের খুদ ফেলে দিয়ে সিঁটিয়ে আসে বাপ্পা।

    একটা সাদা মতো লোক মায়ের পাশে পাশে ঘুরে বেড়ায়। লোকটা গাছেদের সঙ্গে কথা বলে, উবু হয়ে বসে আঙুল দিয়ে মাটি খোঁড়ে, বীজ পোঁতে, কঞ্চি পুঁতে জড়িয়ে দেয় লতার আকর্ষী। দাদু যেভাবে সামনে ঝুঁকে কান পেতে রুগিদের কথা শোনে, রোগের কথা শোনে, সেভাবেই গাছেদের কথা শোনে লোকটা। তার পরনে সাদা জোব্বা, মাথায় টুপি, সাদা গোঁফ দাড়ি এমনকি ভুরুও সাদা গলায় বিচিত্র আকারের তাবিজ মাদুলি, হাতের আঙুলগুলো লম্বাটে, টানা-টানা ঘুম-ঘুম চোখে সূর্যা আঁকা।

    তিনি আলিসাহেব। বড়ো হয়ে বাপ্পা জানবে, ওষধিবাগানের অনেক গাছ আলিসাহেবের হাতে লাগানো। তিনি দেশবিদেশ ঘুরে নিয়ে আসেন। নাগকেশরের বেদিতে দাদুর মুখোমুখি বসে সাদা-নীল চেককাটা রুমালে বীজ, ছাল, শেকড়বাকড় বিছিয়ে নাড়াচাড়া করেন, তাদের গুণাগুণ নিয়ে আলাপচর্চা করেন। সাতগাঁয়ে এলে উত্তরদিকে বসতি ছাড়িয়ে গাজির বাগানে থাকেন আলিসাহেব। আদিরামবাটিতে দাদুর সঙ্গে দেখা করতে আসেন, কিন্তু বাড়ির ভেতরে পা রাখেন না। ওষধিবাগানের বেড়ার চাবি খুলে দেওয়া হয়, আলিসাহেব বেদিতে বসে অপেক্ষা করেন।

    গ্রীষ্মে আলিসাহেব চলে যান হিমালয়ে। একবার বাড়ির ছোটোদের জন্য নিয়ে এলেন এক অদ্ভুত কাঁটাযুক্ত বীজ, যা জলে ফেললে আতশবাজির মতো ফেটে যায়। আলিসাহেবের রেশমি কণ্ঠস্বর, ছোটোদেরও তিনি— ‘আপনি’ সম্বোধন করেন, পশুপাখিদের ভাষা বোঝেন, এবং তাদেরকেও— ‘আপনি’ সম্বোধন করেন। পায়রাগুলো খুদ খেতে নেমে এসে আলিসাহেবের কাধে, কোলে, মাথায় টুপির ওপর এসে বসে। তিনি ওদের হাতে তুলে নেন, পালকের ফাঁকে লম্বা আঙুল দিয়ে বিলি কেটে দেন।

    ‘এই যে পাটকিলে রঙেরটিকে দেখছেন, গলায় চুনির গুঁড়ো, ইনি হলেন জালালি কবুতর।’ আলিসাহেব বলেন। ‘হজরত শাহ জালাল সাহেব সেই যেবার কোনিয়া থেকে হিন্দুস্থান এলেন, দিল্লিতে পীর নিজামুদ্দিন আউলিয়ার অতিথি হয়ে ছিলেন তিনি। চলে আসার সময়ে পীর এক জোড়া এই পায়রা উপহার দিয়েছিলেন। বাংলায় এসে হজরত সাহেব পায়রা দুটিকে উড়িয়ে দিলেন। সিলেটে শাহ জালালের আস্তানা থেকে জালালি কবুতর ছড়িয়ে পড়েছে আম বাংলায়।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Next Article জীবন স্রোতের আঁকেবাঁকে – অর্পিতা সরকার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Our Picks

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }