Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৫.২

    ৫.২

    কিতাব রুজারের ছটি পুথি নিয়ে কৃষ্ণদাস রায়কে সোনার মোহর দেবার পরিণাম রামাই পণ্ডিত কল্পনা করতে পারেননি। চারিদিকে রাষ্ট্র হয়ে গেল, প্রাচীন দুষ্প্রাপ্য পুথির জন্য তিনি অর্থমূল্য দিতে প্রস্তুত। দূরদূরান্ত থেকে লোকে পুরোনো ছেঁড়া ধসা পারিবারিক পুথি পুঁটুলি বেঁধে নিয়ে আসতে লাগল। তার কিছু কিছু প্রাচীন, বহুকাল অযত্নে পড়ে থাকা, সিন্দুকের গর্ভে আরশোলার রাজ্যে নয়তো দরজার মাথায় কুলুঙ্গিতে ছত্রাক আর পায়রার বিষ্ঠায় লাঞ্ছিত। বেশিরভাগই সহজলভ্য গ্রন্থের নকল, কিছু কিছু দুষ্প্রাপ্যও ছিল, বহুকাল আগে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে ভাবা হয়েছিল।

    রামাই পণ্ডিত কাউকে ফেরালেন না। সরস্বতী মজে গিয়ে বাণিজ্যের ভরকেন্দ্র বন্দর-হুগলিতে সরে যাবার পর বর্তমানে সাতগাঁ ক্ষয়িষ্ণু, অতীতের মেদুর স্মৃতি- আঁকড়ে-থাকা একটি জনপদ। জ্যোতিষশাস্ত্রীদের গৃহে বণিকদের আনাগোনা নেই, টোল চতুষ্পাঠীগুলো দূরদূরান্ত থেকে আসা বিদ্যার্থীদের কণ্ঠস্বরে গমগম করে না আর। এরই মধ্যে রামাই অতীত গৌরব পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা দেখলেন। বন্দরে সমৃদ্ধির কালে কয়েক প্রজন্ম ধরে পরিবারে যে ধনসমাগম ঘটেছিল, সেসব ফের তিনি বদলে নিতে চাইলেন ব্রাহ্মণের বর্ণসূচক অনধিগম্য মুদ্রায়ঃ অর্থাৎ, বিদ্যা।

    এ এক অভিনব ফিরতি জোয়ার, চারশো বছর আগে এই জনপদ থেকে ছড়িয়ে গিয়েছিল বিস্তীর্ণ বাংলায়। প্রাচীন, ভঙ্গুর, কীটদষ্ট তালপাতা, কাঠের পাত আর তুলোট কাগজের পুথি যেন জাদুবলে বেরিয়ে আসতে লাগল বর্গির হামলায় ছেড়ে যেতে থাকে ভিটের সিন্দুক থেকে, চিলেকোঠা থেকে, গোপন কুলুঙ্গি থেকে, মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে, গোয়ালের চালের বাতা থেকে। একাধিক বিরল গ্রন্থ, কৌম জ্ঞানচর্চার বৃত্ত থেকে হারিয়েছিল কতকাল: মীমাংসা দর্শনের নতুন ব্যাখ্যা থেকে শুরু করে স্মৃতিশাস্ত্রের প্রথাভাঙা টীকা, কর্মানুষ্ঠানপদ্ধতির বিস্মৃত সুত্র থেকে ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণের অজানা সংস্করণ, ইসলামী জ্যোতির্বিদ্যার আলোকে বরাহমিহিরের জ্যোতিষশাস্ত্রের বিচারমূলক ভাষ্য, আস্তুরলাবের সচিত্র বর্ণনা ও কর্মপদ্ধতিও। এসবই রামাই পণ্ডিত নিলেন সোনা রুপোর মুদ্রা দিয়ে, যা তাঁর পূর্বপুরুষেরা সঞ্চয় করেছিলেন জাহাজি নাবিকদের কোষ্ঠী গণনা ও রোগনিরাময় করে।

    পুথিই শুধু নয়, বিভিন্ন বর্গের বিগ্রহ আসতে লাগল। বর্গির হানায় যারা ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাচ্ছে, তারা অনেকেই প্রাণে ধরে গৃহদেবতাকে জলসমাধি দিতে পারল না। পুথিপত্রের সঙ্গে পারিবারিক পুজোর বিগ্রহ নিয়ে এল; রামাই পণ্ডিত যদি আদিরামের মন্দিরে ওঁদের ঠাঁই দেন, নিত্যপুজোর বন্দোবস্ত করেন। এক্ষেত্রেও তিনি কাউকে ফেরালেন না।

    সাতগাঁর সমাজে আপত্তি উঠল—বিভিন্ন বর্গের দেবদেবীর বিগ্রহ, তাদের পূজার উপচার আলাদা, এতে করে মন্দিরের অধিপতির শাস্তি বিঘ্নিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ‘এটা কি উচিৎ কাজ হচ্ছে, রামতনু?’ প্রবীণ গোষ্ঠীপতি এসে বললেন,— ‘এতে কি আদিরাম কুপিত হবেন না?’

    ‘এমনি এমনি তো আর উনি মর্যাদা পুরুষোত্তম নন, রামাই পণ্ডিতের প্রত্যয়ী কন্ঠস্বর। ‘বাস্তুচ্যুত দেবদেবীদের আশ্রয়দান করতে পেরে তিনি যে অত্যন্ত প্রীত হবেন এ আমার বিশ্বাস, সে তাঁরা যে বর্গেরই হোন।’

    বৈদিক, বৈষ্ণব, শাক্ত, এমনকি বিভিন্ন লৌকিক দেবদেবীর বিগ্রহ আসতে লাগল। তাদের কারোর মধ্যে এমনকি তান্ত্রিক বৌদ্ধ চিহ্নও আছে। শুধু তারারই তিনটি ব্রোঞ্জ ও অষ্টধাতুর মূর্তি, যিনি একাধারে ভদ্রকালী ও সরস্বতীরূপে পূজিত এক বিঘত পরিমাণ দীর্ঘ স্টিয়াটাইট পাথরের দিগম্বর তীর্থঙ্করের মূর্তি, যিনি আবার মহাদেবরূপে পূজিত। অপরিসর গর্ভগৃহে এতজন বিভিন্ন দেবদেবীর নির্দিষ্ট আচারমাফিক নিত্য পূজাপাঠ কঠিন হয়ে পড়ল। রামাই পণ্ডিত তালপাতার ছাউনি দেওয়া কাঠের ঠাকুরবাড়ি নির্মাণ করালেন।

    ফাল্গুনেও যে মানুষটি সংসারের মায়া কাটিয়ে হিমালয়ে যাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন, পরের জ্যৈষ্ঠের কাঠফাটা রৌদ্রে সেই তিনিই কি না বেতের ছাতা কাঁধে, মুন্ডিত মস্তকে ভিজে গামছা চাপিয়ে, মাইলের পর মাইল আলপথে, কখনো নৌকায় কখনো পালকিতে, চষে বেড়াতে লাগলেন গ্রাম থেকে গ্রামে, বিরল পুথির সন্ধানে।

    পশ্চিম রাঢ়ে এসে তিনি চাক্ষুষ করলেন এক অকল্পনীয় ধ্বংসের ছবি দাবানলের পর জঙ্গলের চেহারা যেমন হয়, তেমনই কিছু যেন বয়ে গিয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম গঞ্জ নগর বিজন, ফসলের মাঠ রিক্ত, দিনের বেলাতেও শিয়ালের পাল ঘুরে বেড়ায়, হাট বাজার বসে না। দলে দলে দেশ ছেড়েছে সচ্ছল সাবর্ণরা। যাদের কিছুই তেমন হারাবার নেই, কোথাও যাবার নেই, সেই সব প্রান্তিক বর্গের মানুষেরা রয়ে গিয়েছে।

    তাদের মুখে রামাই পণ্ডিত শোনেন বর্গির লুটেরাদের কথা। আগের শতকে যে হার্মাদ আর মগ জলদস্যুরা পূববাংলার উপকূলভূমি ছারখার করেছে, তাদের চেয়ে কিছু কম নৃশংস নয় এরা। তফাৎ একটাই ওরা আসত দ্রুতগামী জেলিয়া নৌকায় নদীনালাবেষ্টিত অঞ্চলে, এরা আসে সাজবিহীন বেঁটে আরবি ঘোড়ায়, মাথায় পাগড়ি আর কোমরে ধুতি ল্যাঙটের মতো পেঁচিয়ে পরে। শীতকালে যখন গোলা ভর্তি ফসল, গ্রামে গ্রামে দেবী অন্নপূর্ণার পুজোর উৎসব, মাইল মাইল রিক্ত নাড়া-ওঠা মাঠের ওপর দিয়ে ওরা আসে। ঘোড়ার খুরে খুরে ভর দুপুরেই আকাশে ছেয়ে আসে গোধূলির মেঘ, আগুন ধোঁয়া আর রক্তের ছোপলাগা, রিরংসা আর বিলাপের ধ্বনিতে দপদপ করে। গঞ্জের বাজারে গিয়ে পাইকারদের কাঁচামাল লুঠপাট করে, খোড়ো চালায় আগুন ধরিয়ে দেয়, কেউ বাধা দিতে এলে লম্বা বল্লম আর তরোয়ালে কচুকাটা করে, নবাবের ফৌজ নড়েচড়ে ওঠার আগেই যে পথে এসেছিল সেই পথে ফের ধোঁয়ার মতো মিলিয়ে যায়, রেখে যায় প্রলয়ের চিহ্ন। গাইবলদ ছেড়ে, গৃহদেবতার থান ছেড়ে, নৌকায় গরুর গাড়িতে পাল্কিতে যা কিছু নেবার মতো সম্পত্তি চাপিয়ে নিয়ে দলে দলে লোকে রাঢ় বাংলা ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

    সম্পন্নরা কেউ কেউ যাচ্ছে কলকাতায়। কাদামাটির গড় আর কয়েকশো কোঠাবাড়ি নিয়ে হুগলির পশ্চিম পাড়ে নোনা জলার মাঝে জেগে উঠছে ইংরেজদের শহর। কেউ কেউ চলে যাচ্ছে আরও পূর্বে, পদ্মা বুড়িগঙ্গা পেরিয়ে। মগ হার্মাদ জলদস্যু দমনের পর সেদিকে এখন শান্তি ফিরেছে।

    মি’লেডি, পদ্মা বুড়িগঙ্গার পুবের দেশকে এতকাল অপবিত্র বলে এসেছে এদিকের লোকেরা। দাক্ষিণাত্যের হিন্দু সেন রাজারা রাঢ় বাংলা দখল করার পর অত্যাচারিত বুদ্ধের অনুগামীরা দলে দলে গিয়ে খালবিল জলা থেকে সদ্য-জেগে- ওঠা ডাঙাভূমিতে বন কেটে বসত গড়ল, বিহার গড়ল, মুন্ডিতমস্তক বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের সুবাদে ওইসব অঞ্চল চিহ্নিত হলো নেড়ানেড়িদের দেশ নামে। তাদের মধ্যে অনেকেই আবার বাস্তব কান্ডজ্ঞানসম্পন্ন সুফি সাধকদের সংস্পর্শে এসে নবীন জলাভূমিকে বশে এনে চাষবাস শিখল, ইসলাম ধর্ম নিল। এপারের সাবর্ণদের চোখে নেড়ানেড়ির দেশ হয়ে উঠল পরিত্যাজ্য। কিন্তু প্রাণধারণ বড়ো বালাই, মি’লেডি। পুরোনো সংস্কার ধুয়ে মুছে গেল পরিস্থিতির চাপে।

    .

    শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু পুরীতে যাবার পর বাংলায় ভক্তি আন্দোলনে ভাটা পড়েছিল। তাকে ফের উজ্জীবিত করতে গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের নেতা শ্রীনিবাস আচার্য একদা পুরীধাম থেকে আসছিলেন, তাঁর সঙ্গে ছিল গরুর গাড়িতে বোঝাই মহাপ্রভুর প্রত্যক্ষ শিষ্য ছয় গোস্বামীর লেখা বৈষ্ণবসূত্রের পুথি। বিষ্ণুপুরের ঘন জঙ্গল দিয়ে আসার সময়ে ডাকাতের কবলে পড়েন, ওরা তাঁর সর্বস্ব কেড়ে নেয়। তার মধ্যে একশো আটটি পুথিও ছিল। প্রায় দুশো বছর পরে গ্রামে গ্রামে ঘুরে রামাই পণ্ডিত গোস্বামীদের লেখা কয়েকটি পুথি পেয়ে গেলেন।

    ছোটোবেলা থেকে রামাই মহাপ্রভুর সাতগাঁয়ে আসার কাহিনি শুনে আসছেন। তাঁর দন্ডির আঘাতে সৃষ্ট চৈতন্যধারা আজও তিরতির করে বয়ে চলে ধর্মতলার বটগাছের নীচে। সেই জলে প্রতিফলিত সূর্যের বীচিকাটা আলো গাছের ডালে গৌরাঙ্গদ্যুতি হয়ে ফোটে। সাতগাঁর সাবর্ণদের কাছে ধর্মতলা অগম্য স্থান। তা সত্ত্বেও বালক বয়সে একবার তিনি গোপনে গিয়ে দেখে এসেছেন। পুরীধামে নীলাচলে কিংবা জগন্নাথদেবের দারুবিগ্রহে তাঁর লীন হবার কাহিনিও কিছু কম অলৌকিক নয়। ততোধিক রোমাঞ্চকর তাঁর হত্যার কাহিনি, রামতনু ছোটোবেলা থেকে শুনে আসছেন। পুথি সংগ্রহের অভিযানে ঘুরতে ঘুরতে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানলেন সেই ভয়ঙ্কর নৃশংস ঘটনার বিবরণ সম্বলিত একটিমাত্র পুথি এই বাংলাতেই কোথাও আছে। ওড়িয়া ভাষায় লেখা পুথি, নাম চৈতন্য গৌরাঙ্গ চখরা। লেখক বৈষ্ণব দাস নাকি জগন্নাথ মন্দিরের চৌহদ্দির ভেতরে সেই হত্যাকান্ডের প্রত্যক্ষদর্শী।

    একদিন রামাই পণ্ডিতের কাছে খবর এল, সাতগাঁ থেকে ষোল ক্রোশ পশ্চিমে কানা দামোদরের ধারে ঘুঘুডাঙা গ্রামে এক পুরোহিতের কাছে পুথিটি আছে। পত্রপাঠ তিনি বেরিয়ে পড়লেন সেই গ্রামের উদ্দেশ্যে। কিছু পথ নৌকায় কিছুটা পায়ে হেঁটে, পরিত্যক্ত আগাছা কবলিত উর্বর চরভূমি পেরিয়ে বৈশাখের দীর্ঘ দিনের আলো ফুরিয়ে যাবার আগেই ঘুঘুডাঙায় পৌঁছলেন।

    .

    ঘুঘুডাঙা গ্রামটি বড়ো। দেখেই বোঝা যায় একদা বর্ধিষ্ণু ছিল। বর্তমানে প্রায় পরিত্যক্ত, জনবিরল। তালাবন্ধ কোঠাবাড়িগুলোয় বহুকাল চুনের পোঁচ পড়েনি, কালচে শ্যাওলায় ছাওয়া, গলিপথের দুপাশে ছেয়ে এসেছে আগাছা। পথের বাঁকে একটি জীর্ণ কাঠের রথে তেলাকুচো লতায় টুকটুকে লাল ফল ধরেছে। কয়েক পা এগিয়ে একখন্ড ঘাসজমি, দ্বাদশ শিবের মন্দির। দরজাগুলি খসে গিয়েছে, ভেতরে ধুলোয় ধূসর শিবলিঙ্গ, তাদের মাথায় ঝুলছে বিশুষ্ক কবেকার মাটির হাড়ি। বাঁধানো চাতালে শুকনো পাতা আর ছাগল নাদির স্তূপ। তারই এক পাশে দাগ কেটে পাঁচটি ছোটো মেয়ে এক্কাদোক্কা খেলছে। তাদের গায়ে বিবর্ণ শাড়ি, পায়ে হাঁটু অব্দি পুরু ধুলো। কন্ঠের কলকাকলি শূন্য মন্দিরের ভেতর প্রতিধ্বনি হয়ে দিনশেষের আলো ক্রমশ গাঢ় হয়ে আসছে। ওদের মধ্যে যে মেয়েটি সবচেয়ে ফুটফুটে, নাকে চিকচিক করছে সোনার নাকফুল, তার এক পায়ে কোনো সমস্যা রয়েছে। খেলতে গিয়ে বারে বারে আছাড় খেয়ে পড়ে যাচ্ছে, আবার উঠে পড়ছে। এ নিয়ে ওর বা সাথীদের কোনো হেলদোল নেই।

    ‘বাছারা, বলতে পার দাশরথি মুখোপাধ্যায়ের বাড়িটি কোনদিকে?’ রামাই পণ্ডিত বলেন।

    বালিকার দল ওঁর গলা পেয়ে খেলা থামায়, নাকফুল-পরা মেয়েটি ডান পা টেনে এগিয়ে এসে সপ্রতিভ গলায় বলে— ‘আপনি কি দাশুঠাকুরের কথা বলছেন?’

    ‘হ্যাঁ, তিনিই হবেন।’

    ‘আমার সঙ্গে আসুন।’

    মেয়েটি খেলা ছেড়ে এসে সামান্য লেংচে হাঁটতে হাঁটতে রামাই পণ্ডিতকে এগিয়ে নিয়ে চলে। দুদিকে সারি দিয়ে মেটে কুঁড়ে। মাঝে সংকীর্ণ গলিপথ গরুর গাড়ির চাকায় ক্ষতবিক্ষত। রামাই দেখেন, মেয়েটির পায়ে অসুবিধা, কিন্তু হরিণীর মতো ত্বরিৎ গতি তার। লাল ডুরে শাড়িটা হাঁটুর ওপরে তুলে গাছকোমর করে পরেছে, ডাগর পা দেখে বোঝার উপায় নেই সমস্যাটা কোথায়। রাংচিতের বেড়া দেওয়া বাগান, বাঁশবনের প্রান্তে টালির চালের বাড়ির ভেতরে ওঁকে পথ দেখিয়ে নিয়ে আসে। উঠোনের একপাশে একফালি সব্জির বাগান, মাটিলেপা তুলসীমঞ্চ, ওপরে মেটে হাঁড়ি থেকে জল টুপিয়ে পড়ছে। গোয়ালে খড়ের ছাউনির নীচে দুটি কঙ্কালসার গরু। মাথায় গামছা জড়িয়ে এক চল্লিশোর্ধ্ব প্রৌঢ় মাটিতে উবু হয়ে বঁটির সামনে বসে নারকেলের বালদো থেকে ঝাঁটার কাঠি বের করছেন। তাঁর গৌরবর্ণ ত্বক, গলায় পৈতে।

    মেয়েটি কুঁড়েঘরের দরজায় উঁকি মেরে ভেতরে কাউকে ডাকে— ‘ঠাকুরমশাই, ও ঠাকুরমশাই?’ তারপর উঠোনে ব্যক্তিটির দিকে ফিরে দুষ্টুমিভরা মুখে বলে— ‘ঠাকুরমশাই কি বাড়িতে আছেন? জানো মুনিষদাদা?’

    ব্রাহ্মণের মুখ হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। নারকেলের কাঠিগুলো জড়ো করে ঝাঁটার মতো তুলে বলেন— ‘দাঁড়া রে দুষ্টু মেয়ে! তোকে একবার ধরি!’

    মেয়েটি বিস্ময়ের ভাণ করে রামাই পণ্ডিতের দিকে ফিরে বলে–‘আমার মন বলে এই মুনিষদাদাই দাশুঠাকুর!’

    দাশরথি মুখোপাধ্যায় উচ্চৈঃস্বরে হেসে বঁটি ছেড়ে উঠে মাথার গামছার পাক খোলেন, সেই ফাঁকে মেয়েটি পালানোর উপক্রম করে। উনি সঙ্গে সঙ্গে ওঁকে স্মরণ করান, বাড়িতে অতিথি ব্রাহ্মণ এসেছেন। মেয়েটি লম্বা জিভ কেটে ঘরের ভেতর থেকে জলভরা পেতলের ঘড়া ও গামছা এনে রামাই পণ্ডিতের পা ধুইয়ে মুছিয়ে দেয়, দাওয়ায় পেতে দেয় কুশের মাদুর।

    ‘এবারে আমি খেলতে যাই?’ মেয়েটি জিজ্ঞেস করে। ‘ঢেঁপিটা আমার দান চুরি করে নিলে গৌরী খুব খোঁটা দেবে!’

    ‘আয় মা, আয়!’ দাশরথি বলেন, মুখে চিকচিক করে অপত্য স্নেহ।

    দাওয়ায় উঠে বসে প্রাথমিক পরিচয়পর্বে জানা যায় এঁরা পাশ্চাত্য বৈদিক বংশোদ্ভূত। পরস্পরের বংশলতিকার বিভিন্ন শাখাপ্রশাখার তথ্য বিনিময় করে দেখা হয় কোথাও কোনো সম্বন্ধের গ্রন্থি আছে কি না, এসব ক্ষেত্রে যেমন হয়ে থাকে। অবশেষে রামাই পণ্ডিত তাঁর আসার উদ্দেশ্য জানান।

    ‘হ্যাঁ, এমন পুথি আছে বটে কোনো এক অজ্ঞাত ভাষায় লেখা, দাশরধি বলেন। ‘কিন্তু সেই পুথি তো একটি নয়, এগারোটি।’

    তিন ভাই বর্গি হানার ভয়ে বাস উঠিয়ে ঢাকায় গিয়েছে, পুথিগুলি তার হেফাজতেই আছে। দাশরথি ভাইদের সঙ্গে নেড়ানেড়িদের দেশে যেতে চাননি। বাড়িতে নারায়ণ আছেন, নিত্য পুজো হয়, আর আছে বেশি বয়সে বিবাহের একমাত্র ফল ওই কন্যাটি। স্ত্রী দেহ রেখেছেন তিন বছর হলো।

    মুখোমুখি দুই বিপত্নীক পুরুষ, আলাপ চলে। অনেক দিন পরে কথা বলবার মতো একজনকে পেয়েছেন দাশু ঠাকুর। আকাশে আলো কনে আসছে, ওঁর গলায় সেই চেনা নির্লিপ্তির স্বর খুঁজে পান রামাই পণ্ডিত। উঠোনের ধারে বাঁশবনে কাকের দল ফিরছে, কাকা রব কানে বেজে উঠে মনে হয় যেন সুদূর হিমালয়ে কোনো ঝরনায় উপলখণ্ড গড়াচ্ছে। তার মনে পড়ে যায় এখানে আসার উদ্দেশ্য।

    ‘পুথিগুলি কি একবার স্বচক্ষে দেখতে পারি?’

    ‘বিলক্ষণ!’ দাশরথি বলেন। ‘তবে একটি শর্ত আছে।’

    ‘কী শর্ত?’ রামাই পণ্ডিতের ভ্রু কুঞ্চিত হয়।

    ‘আজ আমার কী সৌভাগ্য যে আপনার মতো যশস্বী পণ্ডিত, তদুপরি স্বজাতির, আমার এই নিতান্তই অকিঞ্চিৎকর কুঁড়েয় পদধুলি দিয়েছেন। এত দীর্ঘ পথ এসেছেন, আপনাকে আজ এখানে রাত্রিবাস করতে হবে, আমার হাতে সামান্য দুটি অন্ন গ্রহণ করতে হবে।’

    বাঁশের বনে অন্ধকার ঘনিয়ে আসার আগে মেয়েটি ফিরল। উঠোনে শুকনো বাঁশপাতা ঝাঁট দিয়ে সরালো, তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালিয়ে শাঁখ বাজালো। দাশু ঠাকুর গৃহদেবতার পুজো দিয়ে প্রসাদী ফল বাতাসা নিয়ে এলেন রামাই পণ্ডিতের জন্য। তারপর বিবর্ণ শালুতে মোড়া এগারোটি পুথি নিয়ে এসে রাখলেন জলচৌকির ওপর।

    রামাই পণ্ডিত দাশরথি মুখোপাধ্যায়ের গৃহে রাত্রিবাস করলেন। একটি রাত নয়, পর পর তিনটি রাত। এগারোটি পুথির মধ্যে কোথাও মহাপ্রভুর জীবনের শেষ দিনটির আখ্যান নেই। থাকা সম্ভবও নয়। তার কারণ অতীব বিশুষ্ক ভঙ্গুর তালপাতার পুথিগুলি তার চেয়ে ঢের প্রাচীন, রামাচার্যের কালের থেকেও প্রাচীন। এগুলি যে ওড়িয়া লিপিতে লেখা নয় সেটা রামাই বুঝতে পারলেন। পুথিগুলি সংস্কৃতেও লেখা নয়। বাংলার খুব কাছাকাছি কোনো ভাষায় ছোটো ছোটো পংক্তি, কখনো টানা গদ্য— অনুমান হয় মগধী প্রাকৃত। কিছু কিছু শব্দ বুঝি রাঢ় সমতট এমনকি অসম ও ওড়িশার সীমান্তে কথ্য রীতিতে প্রচলিত। বিগত কয়েক বছরে অসংখ্য প্রাচীন বিরল পুথি নাড়াচাড়া করে এই ব্যাপারে বেশ কিছুটা জ্ঞান অর্জন করেছেন তিনি। তিনটে দিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত, এবং তার পরেও রাত্রি দ্বিতীয় যাম অবধি প্রদীপের আলোয়, মুখুজ্জ্যেবাটির চারচালা বসার ঘরে বসে পুথিগুলি পাঠোদ্ধারের চেষ্টা করে নিশ্চিত হলেন, এই রকম কোনো কিছু তিনি এর আগে কখনো দেখেননি।

    সেটি কেবল পুথিগুলির প্রাচীনত্বের কারণেই নয়। সাধারণ মানুষের কথ্যভাষা যে এভাবে লিপিবদ্ধ হতে পারে, সেটা তাঁর কল্পনার অতীত ছিল। বিষয়ের যতটুকু আভাস তিনি পেলেন, তাতে স্পষ্ট এই গীতিকবিতাগুলি কোনো দৈব কিংবা মহাজাগতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে নয়, দেবদেবীর মাহাত্ম্য বর্ণন কিংবা রাজারাজড়াদের বংশলতিকাও নয়। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকথা আবেগ, হতাশা, কামনা, বঞ্চনা, গরম ধোঁয়া-ওঠা ভাতের রসনা, স্নিগ্ধ নদীর জলে স্নানের আরাম, শিমুল গাছের ঝিরিঝিরি আলোছায়ায় চিত্রল হরিণের আনাগোনা…

    পাতগুলি এতই ভঙ্গুর যে সামান্য কেশে উঠলে বায়ুর আঘাতে বুঝি ধুলো হয়ে যাবে; দীর্ঘকাল আর্দ্রতা শুষে তালের তন্তুগুলি পরস্পরে জুড়ে রয়েছে। অতীব সতর্ক আঙুলে একটি একটি করে পাত খুলে উলটে রামাই পণ্ডিত এমন এক সুতীব্র উত্তেজনা অনুভব করলেন, যা সোয়া চারশো বছর আগে তাঁর পূর্বপুরুষ রামাচার্য অনুভব করেছিলেন এক ভোরে, যখন দরপ খান ভেড়ার শিঙের ভেতর থেকে বের করেছিল পাকানো বাগদাতিকোষ।

    মুখোপাধ্যায় পরিবারের এই এগারোটি পুথি গৃহদেবতা শালগ্রাম শিলার থেকে কিছু কম প্রাচীন বা কম পূজ্য নয়। কবে কীভাবে এগুলি এল, কোথা থেকে এল, কীই বা লেখা আছে এতে, সেসব দাশরথি জানার চেষ্টা করেননি।

    ‘আমি আপনার মতো জ্ঞানতাপস নই,’ তিনি বলেন। ‘নিতান্তই গ্রাম্য পুরোহিত। তবে আমার পূর্বপুরুষেরা কেউ কেউ অধ্যাপনও করতেন। পিতৃদেবের মুখে শুনেছি, তিনি তাঁর পিতৃদেবের মুখে শুনেছেন, বল্লাল সেনের আমলে পুথিগুলি আমাদের গোত্রপিতার হস্তগত হয়। সেসময়ে নেড়ানেড়ি সন্ন্যাসীর দল দুমুঠো অন্নের যোগাড় করতে মূল্যবান পুথিপত্র, সোনার জরি-দেওয়া থংকা বিনিময় করছিল। তার কারণ ওদের ভিক্ষা দেবার মতো সাহস কারোর ছিল না। সঙ্ঘ বিহারের জোতজমি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই জমির প্রজা বাগদি হাড়ি ডোমদের জলচল করে উৎখাত করা হয়েছিল। বৌদ্ধ বেনেরা দেশ ছেড়েছিল আগেই। তারপর সন্ন্যাসীরাও পুথিপত্র পুঁটুলি বেঁধে নিয়ে হিমালয়ের ওপারে ভোট দেশে চলে যেতে লাগল দলে দলে। ও দেশ ছিল বৌদ্ধদের, ওখানে এসবের কদর ছিল। ভোট ব্যাপারীরা সোনার ধুলো আর কম্বল দিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে পুথি থংকা সংগ্রহ করত। বংশের এক পুরুষ কোনো এক ডোমনির কুঁড়ে থেকে পুথিগুলি উদ্ধার করেন। ভিনগাঁয়ে যজমানি করে ফিরছিলেন, পথে প্রবল ঝড়বৃষ্টি আর বাজের কবলে পড়েন। নিরুপায় হয়ে মাঠের মাঝে তালপাতায় ছাওয়া দীনহীন ডোমনির কুঁড়েয় আশ্রয় নেন। সেখানে ডোমনি তার পাঁচটি ক্ষুধার্ত সন্তানের মুখে অন্ন দেবার জন্য চাল ফোটানোর আয়োজন করছিল। বৃষ্টিতে জ্বালানি কাঠ ভিজে গিয়েছিল, বার বার চকমকি পাথর ঠুকেও আগুন জ্বলছিল না। এদিকে শিশুগুলা ক্ষিদের জ্বালায় কাদছে। তখন ডোমনি বাঁশের খলুঞ্চে থেকে এই পুথিগুলো বের করে আগুন ধরাতে যায়। দেখতে পেয়ে তিনি যজমানের দেওয়া ঘি আমসত্ত্ব ছাতু গুড় ফলের পুঁটলি বিলিয়ে দিয়ে পুথিগুলো উদ্ধার করেন। সেই থেকে আমাদের বাড়িতে রক্ষিত আছে, কিন্তু কেউ কখনো পাঠোদ্ধারের চেষ্টা করেছে বলে মনে হয় না। বুঝতেই পারছেন, সঙ্ঘ বিহারের পুথি, বৈষ্ণব বাড়িতে আর কীইবা কাজে লাগবে।’

    তিনদিন ধরে নিরলস চেষ্টার পর রামাই পণ্ডিত টের পাচ্ছিলেন, ওই আপাত সহজ চম্পুগুলি বারে বারে পাঠে উপমার ভেতর যেন অস্পষ্ট বেজে উঠছে নিহিত গভীর কোনো অর্থ, বিশুষ্ক ফলের ভেতরে যেমন বীজ বেজে ওঠে।

    ‘আমি এই পুথিগুলি সংগ্রহ করতে চাই ঠাকুরমশাই, এজন্য যা অর্থমূল্য আপনি চাইবেন আমি দিতে প্রস্তুত।’ রামাই কোমরে জড়ানো গেঁজেয়া থেকে একটি ফিরোজা রঙের রেশমি বটুয়া বের করে গিঁট খুললেন। প্রদীপের আলোয় চিকচিক করে উঠল তুঘলকী ছাপ মারা সাতগাঁর টাকশালের মোহর। ‘কিংবা আপনি যদি জমি চান, সরস্বতীর পাড়ে উঁচু তিনফসলি জমি…’

    দাশরথি মুখোপাধ্যায় মুচকি হাসেন।— ‘সোনার মোহর জমিজমা এসব নিয়ে আমি কী করব পণ্ডিতমশাই? আমি যে কাশীবাসী হবার জন্য পা বাড়িয়ে আছি। কিন্তু নিরুপায় গৃহে নারায়ণ আছেন, আর পায়ে সোনার বেড়ি ওই মেয়েটা। বিলম্বে বিবাহ করেছিলাম, আদরিণীর যখন আট মাস ওর মা পক্ষাঘাত হয়ে বিছানা নিল, আর উঠল না। বচ্ছরাধিক কাল খুব কষ্ট পেয়ে চলে গেল। সেই থেকে মেয়েই আমার শিবরাত্রির সলতে। আদরিণী ডাগর হচ্ছে, আমি চোখ বুজলে ওর কী হবে? আদর আমার পাত্রস্থ হবার আগেই যদি ঋতুমতী হয়? সাত পুরুষের অর্জিত পুণ্য ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে যে! ভেবে ভেবে দুচোখের পাতা এক করতে পারি না, জানেন? কে আমার নারায়ণকে ফুল জল দেবে? মাঝরাতে হাওয়া দিলে বাঁশবনে খটাখট শব্দ শুনে জেগে উঠি, ভ্রম হয় এই বুঝি ঘোড়া ছুটিয়ে বর্গি এল। সে যে কী আতঙ্ক পণ্ডিতমশাই!’

    ‘ওরা কি এ তল্লাটেও এসেছে?’ রামাই জিজ্ঞেস করেন।

    ‘কোন তল্লাটে আসেনি বলুন? ওদের জ্বালায় গ্রামকে গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়ছে শুধু নয়, সেইসব অঞ্চলের ইতিহাসও মুছে যাচ্ছে। যেকোনো দলিল দস্তাবেজ পুথিপত্র দেখলেই অগ্নিকুন্ডে ছুঁড়ে দেয়, এমনকি বেদ পুরাণ গীতাও।’

    ‘বলেন কী? শুনেছি ওরা দেবীর পূজারী?’ রামাই জিজ্ঞেস করেন।

    ‘ঠিকই শুনেছেন,’ দাশরথি বলেন। ‘কিন্তু তাতে কী? এসব নষ্ট করতে ওদের বাধে না। এমনকি যুবতী নারী মন্দিরের গর্ভগৃহে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণও করে। আর কী যে নৃশংস! বাধা দিলে তরোয়াল দিয়ে স্তন কেটে নেয়, জ্বলন্ত মশাল যোনিতে গুঁজে দেয়। শুনেছি ওদের দেশ অনুর্বর জনবিরল, সমৃদ্ধির চিহ্নমাত্র নেই। গোপালক আর বনবাসীদের সঙ্গে লড়াই করে শক্তি শানিয়েছে।’

    অন্ধকার যেন গাঢ় হয়ে আসে। দাশরথি গভীর শ্বাস নেন, প্রদীপের শিখাটি আঙুলে উস্কে তোলেন।

    ‘আপনি যদি আমায় এই সংকট থেকে উদ্ধার করতে পারেন, পুথিগুলি আপনার হাতে তুলে দিতে পারলে কৃতার্থ হব। আপনার দুই পুত্র আছে বলেছিলেন না?’

    ‘হ্যাঁ, কিন্তু বড়োটি যে বিবাহিত। আর ছোটোটি নেহাতই নাবালক, এখনও চোদ্দ পূর্ণ হয়নি।’

    ‘আদর এই বৈশাখে আট পেরিয়ে নয়ে পা দেবে।’

    রামাই পণ্ডিতের মনে ভেসে ওঠে মেয়েটির ফুটফুটে মুখ, কলকলে কথা, সারাক্ষণ প্রজাপতির মতো ফরফরিয়ে বাড়িময় ঘুরে বেড়ানো।

    ‘ওর পায়ে কি কোনো সমস্যা হয়েছে?’

    ‘পুকুরঘাটে জল আনতে গিয়ে পা মচকেছে, দাশরথি বলেন। ‘চুন-হলুদ দিয়েছি, কিন্তু ক’দিন যে পা-টাকে বিশ্রাম দেবে সে জো কই? মেয়ের আমার পায়ের তলায় সর্ষে।’

    রামাই পণ্ডিত আদরিণীর কোষ্ঠীবিচার দেখতে চান, এবং স্বজাতির ব্রাহ্মণের উৎকণ্ঠা নিরসনের ঐকান্তিক চেষ্টা করবেন এই আশ্বাস দিয়ে ঘুঘুডাঙা থেকে নিষ্ক্রান্ত হন।

    কার্তিক মাসে দেবোখানী একাদশীর পরদিন সাতগাঁ থেকে পালকি চেপে বালক রামদেব ঘুঘুডাঙায় বরবেশে এল। সম্প্রদান, কুশম্ভিকা ও এয়োদের আচারের পর পাশ্চাত্য বৈদিক রীতি অনুসারে অঋতুমতী নববধূকে পিত্রালয়ে রেখে বরযাত্রীদের সঙ্গে গরুর গাড়িতে আদিরামবাটিতে ফিরে এল। পালকিতে এল এগারোটি পুথি।

    .

    সেবার চৈত্র পঞ্চমীর সন্ধ্যা নামার আগেই উপর্যুপরি কামানের তোপে কেঁপে উঠল মৎস্যভূমি। সারারাত ধরে অবিরাম গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসতে লাগল কোয়ার্সভিলের দিক থেকে। সাতগাঁবাসীর কৌম স্মৃতিতে ফিরে এল মোগল নৌবাহিনির গোলায় পর্তুগীজদের বন্দর-হুগলি গুঁড়িয়ে যাবার দিনটি। এক সময়ে কড় কড় করে বাজ পড়ার মতো শব্দ হলো, গোলা এসে পড়ল সাতগাঁতেও। অন্ধকারে কিছু দেখা যায় না, বাতাসে ধোঁয়া আর বারুদের গন্ধ। মানুষজন ঘরের ভেতরে পালঙ্কের নীচে, সিন্দুকের ভেতরে গিয়ে সেঁধোলো। আর্ত শাঁখ বাজতে লাগল, গোয়ালে গরুগুলো ডাকাডাকি করতে লাগল। শেষরাতে গোলাগুলির শব্দ থামল,

    কিন্তু দক্ষিণের আকাশ দাউ দাউ আগুনের আভায় কমলা হয়ে রইল। হাওয়ায় দূর থেকে ভেসে এল বিলাপের ধ্বনি। সাতগাঁবাসীর আরও গভীর কৌমস্মৃতিতে ফিরে এল জৈষ্ঠ্যের কৃষ্ণপক্ষের রাত, যেদিন ষোলজন অশ্বারোহী নিয়ে দরপ খান এসেছিল দিল্লি থেকে।

    ভোরের আলো ফুটতে কোয়ার্সভিল থেকে ভেসে আসা সেই বিলাপের ধ্বনি হাহাকার হয়ে ফুটল আদিরামবাটিতে। মধ্যরাতে কখন একটি বিয়াল্লিশ পাউন্ডার কামানের গোলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আদিরাম মন্দিরে উড়ে এসে ক্ষত সৃষ্টি করেছে। দেয়ালে অসংখ্য পোড়ামাটির প্যানেল সেই অভিঘাতে খুলে খসে পড়ে চুরমার হয়েছে, মন্দিরের গায়ে গভীর ফাটল। দোচালা ইমারতটি উত্তরপশ্চিমে টাল খেয়ে গিয়েছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }