সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৩.৬
৩.৬
সাতগাঁ থেকে সাতশো কিলোমিটার উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশে বিস্তীর্ণ সবুজ অঞ্চল শরতের ভোর ফোটার আগে যখন হিমেল অন্ধকারে ঢাকা, চা গাছগুলো শিশিরে ভিজে নুয়ে এসেছে, তখন রথীন প্রথম ঘুম থেকে ওঠে। রেডিওটা চালিয়ে নব ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আকাশবাণী কলকাতার বেতার তরঙ্গ ধরে। সিভিল সার্ভিসে চাকরিটা পাবার পর প্রথম মাইনের টাকায় কেনা বুশ ট্রাঞ্জিস্টারটা অনেক নিঃসঙ্গ সন্ধ্যার বিশ্বস্ত সঙ্গী। এরপর সে পা টিপে টিপে রান্নাঘরে গিয়ে আলো জ্বেলে চা বানাবে। বছরে এই একটি দিন রথীনের এই আচার পালনে কখনো ছেদ পড়েনা। ধূমায়িত চায়ের কাপ ডিশের ওপর রেখে মশারি তুলে ভেতরে এগিয়ে ধরবে। ওর চোখে এক বিশিষ্ট পলকা চাহনি আর শিউলির ঘুমজড়ানো ঠোঁটে হাসির আভাস ফুটবে, যেটা কোনোদিন বদলাতে দেখেনি বাপ্পা। এরপর বছরে এই একটি দিন তার নিজের ডিশে কয়েক ফোঁটা চা ঢেলে রথীন এগিয়ে দেবে বাপ্পার দিকেও। বিছানায় উঠে বসে দুহাত বাড়িয়ে অঞ্জলির মতো যেইমাত্র সে সেটি নেবে, অমনি রেডিওয় বেজে উঠবে এক জলদগম্ভীর কণ্ঠ–
‘আশ্বিনের শারদ প্রাতে বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জীর
ধরণীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা…’
আর যখন দেবীকে অস্ত্রে সজ্জিত করে মহিষাসুরের সঙ্গে সম্মুখসমরে প্রস্তুত করার ধারাবিবরণী চলছে, তখন বাপ্পা পাতলা ঘুমে ডুবে যাবে, ফের জেগে উঠবে। আর তখনই দ্যুলোক-ভূলোক জুড়ে বেজে উঠবে রণদুন্দুভী। ওদিকে দশভূজা রণচণ্ডীরূপে অপূর্ব সৌন্দর্যে বিভূষিতা হয়ে যখন আবির্ভূতা, যখন হিমাচল তাঁকে দেবেন সিংহবাহন, বিষ্ণু দেবেন চক্র, পিনাকপাণি শঙ্কর দেবেন শূল, যম দেবেন তাঁর দন্ড… আর যখন বেজে উঠবে গান— ‘নমো চণ্ডী! নমো চণ্ডী’ ততক্ষণে ঘুম থেকে পুরোপুরি জেগে উঠেছে বাপ্পা, আর তার মনে পড়ছে ঠিক এই সময়ে সাতগাঁয় সব্বাই দাদুর ঘরে মারফি কোম্পানির ভাল্ভ সেটটার সামনে এসে বসেছে। বামুনদি থেকে থেকেই জোড় হাত করে কপালে ছোঁয়াচ্ছে, বুঝি ওই কাঠের বাক্সটার ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছেন শক্তিস্বরূপিণী দেবী। ভীষণ যুদ্ধ হচ্ছে, মহিষাসুর ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদল করছে— কখনো হাতি, কখনো রোষধূমায়িত সিংহ, এদিকে দেবীর বাহন সিংহ হু-হু দাবানল হয়ে বইছে, এবং আর যখন খড়ের এক ঘায়ে দেবী মহিষমুন্ড গড়িয়ে দেবেন মাটিতে, কাটা ধড় থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটবে ত্রিধারায়, রক্ত ছুটবে আকাশে, জানলার বাইরে অন্ধকার পাতলা হয়ে উঠবে, বাংলোর বাগানে গাছেদের ঝুপসি মাথাগুলো দেখা যাবে তখন। আদিরামবাটির দিকে দিকে শাখ বেজে উঠবে, নিখিল প্রাণের বীণায় দেবীর বিজয়ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দুখযামিনী অন্ধকার ঘুচে যাবে, আলিপুরদুয়ারে বাংলোর বাগানে হাওয়া বইবে, সেই হাওয়ায় ভেসে আসবে শিউলির গন্ধ, শিশিরে ভেজা পাতার ফিসফাস, ক্যামেলিয়ার ডালে দোয়েল পাখিটা প্রথম কুণ্ঠাভরে ডেকে উঠবে দুবার, এরপর কাক ডাকবে কা-কা করে, এক মহাজাগতিক কাকতালে জানলার পর্দায় বেজে উঠবে শরতের আলোর নুপুর, পূর্ব দিগন্তে সলজ্জ গোলাপি আলো চুঁইয়ে আসবে অসুরনীল আকাশ থেকে, পৃথিবীটা হয়ে উঠবে এক অপার সুখের আদিরামবাটি।
ততক্ষণে বাপ্পা ফিরে গিয়েছে সেই আমিটার কাছে, যে সাতগাঁ ছেড়ে কোনোদিন কোথাও যায় না, চোখ বন্ধ করে দেখতে পাচ্ছে ঘুমজড়ানো তিতলি ভোরের হিমে দিদার শাড়ির আঁচলের ওমে গিয়ে সেঁধিয়েছে, দেখতে পাচ্ছে বিশুকাকে, পৈতেটা দুহাতে ধরে ঘোরাচ্ছে দ্রুত, দেখতে পাচ্ছে গামাকে, কপিকল টেনে জল তুলছে ইঁদারা থেকে, গোয়ালের ছাউনিতে চিন্তামণি লেজ নাড়ছে ঘুমের ভেতর। দোতলায় তিতলিদের শোবার ঘরে নতুনবউ ট্রাঞ্জিস্টার চালিয়েছে, একই সম্প্রচারের ধ্বনির মাঝে সেকেন্ডের বিরতি অ্যান্টনিকে অস্থির করে তুলছে। আর ৭, ৬, ৫, ৪, ৩, ২, ১ দিন পরে বাপ্পারা সাতগাঁয়ে যাবে! এটা ভাবতেই বুকের ভেতরে তীব্র আনন্দ টাটিয়ে উঠছে ব্যথার মতো।
.
মহালয়ার ঠিক আগে রামপ্রাণ জামাতাকে চিঠি লিখবেন। স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লেখা সেই চিঠিতে থাকবে আলিপুরদুয়ারে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্বপূর্ণ পদে যোগ দেবার জন্য শুভেচ্ছা, সেই সঙ্গে একগুচ্ছ উপদেশাবলী স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া, তাতিরিক্ত পরিশ্রম করে সুস্থ শরীরকে ব্যস্ত না করা, বিশেষত এই ঋতুপরিবর্তনের কালে খাদ্যে যাতে উপযুক্ত মাত্রায় তিতো এবং সবুজ শাকসব্জি থাকে মা শিউলি আশা করা যায় সে দিকে নজর রাখছেন। এরপর তিনি রথীনকে সপরিবারে সাতগাঁয় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন। অন্ততপক্ষে দুর্গাপুজোর দিনগুলোয়, যখন মা উমা স্বয়ং সন্তানাদি নিয়ে পিত্রালয়ে আসেন, এবং ওই কটি দিন অফিসে ছুটি নেওয়া যদি একান্তই অসম্ভব হয় প্রশাসনিক দায়দায়িত্বের কারণে, তাহলে যেন মা শিউলি ও শ্রীমান বাপ্পাদিত্যকে সাতগাঁয় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
‘তুমি কি যাবে আমাদের সঙ্গে?’ শিউলি রথীনকে জিজ্ঞেস করবে। উত্তরের প্রত্যাশা করবে না, তার কারণ উত্তরটা শিউলি জানে, এবং শিউলি যে জানে সেটাও রথীন জানে। এরপর বাপ্পার দিকে ফিরে শিউলি বলবে— ‘বিশ্বের যেখানে যত বাঙালি যখন পরিবারের সঙ্গে আনন্দ উৎসব করে, তোর বাবা তখন অফিস করে।
কিন্তু সেই কণ্ঠস্বরে কোনো তিক্ততার ছোঁয়া না। এই খোঁটাগুলো হলো অন্তরঙ্গতার জল মাপা, রথীনের মুখে অস্বস্তির অভিব্যক্তি গোপনে উপভোগ করা। সেই ছোটোবেলাতেও এই ঘনিষ্ঠ সংকেতগুলো বাপ্পা বুঝতে পারত, যা ওর বয়সী যারা যৌথ পরিবারে বড়ো হয়েছে–তিতলি যেমন–অনুভব করতে পারত না।
বিয়ের পর রথীন হাতে গোনা কয়েকবার মাত্র সাতগাঁয় রাত্রিবাস করেছে। এ ব্যাপারে তার অনাগ্রহ ব্যক্ত করতে কোনো রাখঢাক ছিল না। মাঝেসাঝেই আদিরামবাটির বাসিন্দাদের বিচিত্র আচারব্যবহার নিয়ে কটাক্ষ করত। তার অনেকখানি জুড়ে থাকত ঘটি বামুনবাড়ির খাদ্যরুচি : আতপ চালের ভাত খাওয়া, মাছ খেতে না জানা, এবং সব রান্নায় মিষ্টি দেওয়া শুধু ডালেই নয়, এমনকি তেতো শুক্তোতেও,— ‘যাকে ওরা বলে শুত্তুনি’। ভাবা যায়! এসবই সে রসিয়ে রসিয়ে বলত কলুটোলা লেনের আড্ডায়, বলত শিউলির বিশুকা কেমন করে ভাতে অড়হড় ডাল মেখে কুড়মুড় করে পাঁপড়ের মতো বাতাসা খায়, আর এমনকি সন্দেশেও গুড় মাখিয়ে খায়, কারণ সন্দেশ নাকি যথেষ্ট মিষ্টি নয়!
‘হঃ? কিতা কিয়েন গো!’ খোকা চোখ গোল গোল করে বলত।
বাপ্পার জন্মের পর রথীন যে দুয়েকবার আদিরামবাটিতে রাতে থাকতে বাধ্য হয়েছে, শিউলি তাকে দুটি অনুশাসন পালন করতে বাধ্য করেছে। প্রথমটি হলো বাড়ির ভেতর ধূমপান করা যাবে না, কারণ ও বাড়িতে কেউ ধূমপান করে না।
‘কেউ ধূমপান করে না?’ রথীন রে রে করে উঠেছে। ‘ভুলে যেও না তোমার বিশুকাকে আমি বিয়ের আগে থেকে চিনি। দুপুরবেলায় ছাড়িগঙ্গার ধারে ছিপ নিয়ে বসে গাঁজা টানত, সঙ্গে থাকত স্যাঙাৎ শিবু।’
‘সে বাড়ির বাইরে কে কী করে তার কথা হচ্ছে না,’ শিউলি বলেছে।— ‘আর ছেলে বড়ো হচ্ছে, ওর সামনে তুমি বাড়ির বড়োদের নিয়ে এমন কথা কক্ষনো বলবে না।’
দ্বিতীয় অনুশাসনটি হলো, ওখানে গিয়ে লুঙ্গি পরা চলবে না, ধুতি অথবা নিদেনপক্ষে পাজামা পরতে হবে। তার কারণ আদিরামবাটিতে কোনো পুরুষ লুঙ্গি পরে না।
‘লুঙ্গি কী দোষ করল শুনি?’ রথীন তর্ক করেছে। ‘আমি কলেজে পড়ার সময় থেকে লুঙ্গি পরি। আমার পরিবারের সবাই পরে।’
‘হ্যাঁ জানি,’ শিউলি বলেছে। ‘মুসলমানরা ছাড়াও যে কেউ লুঙ্গি পরে সেটা আমি বিয়ের পরে তোমার পরিবারে এসে জেনেছি।’
‘বিয়ের আগে জগৎসংসার থেকে বিচ্ছিন্ন একটা দ্বীপে বাস করতে তো, তাই জানতে না!’
‘সাতগাঁ মোটেও দ্বীপ নয়! এককালে বাংলার রাজধানী ছিল!’
‘আলবাৎ দ্বীপ! ওই দ্বীপের মানুষগুলো মান্ধাতার ঠাকুর্দার যুগে বাস করে!’ বিয়ের পরে-পরেই রথীন দুবার সাতগাঁয়ে রাত্রিবাস করতে বাধ্য হয়েছে একবার অষ্টমঙ্গলায়, আরেকবার জামাইষষ্ঠীতে। দুবারই সে স্ত্রীর দুটো অনুশাসনই ভেঙেছে। ধূমপান করেছে, যদিও ঠিক ভেতরবাড়িতে নয়, বাগানের দিকে হেমন্ত দক্ষিণের ঘরে। দ্বিতীয় অনুশাসনটি ভাঙার ক্ষেত্রেও একইভাবে মধ্যপন্থা গ্রহণ করেছে— ধুতি ভাঁজ করে দক্ষিণীদের মুন্ডুর মতো করে পরেছে।
সেবার জামাইষষ্ঠীতে যাবার আগে শিউলি রথীনকে আগাম সতর্ক করেছিল। ‘নিরামিষ খেতে হবে কিন্তু। বাড়িতে ঠাকুরদেবতা আছেন, নিষ্ঠাভরে ষষ্ঠী পালন হয়। ওদিন কোনো রান্নাঘরে আঁশপান্না ঢোকে না।’
ঘটিবাড়ির রান্না নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রূপ সরোজার কানে গিয়েছিল কি না জানা যায়নি, কিন্তু সেদিন পাত পেড়ে খেতে বসে জামাই বাবাজীবনের বিস্ময়ের সীমা ছিল না। বিশু যেভাবে তার পোষ্য উনত্রিশ দেবদেবীকে নৈবেদ্য সাজিয়ে দেয়, সেভাবেই লাল শানের মেঝেয় চকচকে কাঁসার বাসনে বাসন্তী পোলাওয়ের বগিথালা ঘিরে অগুন্তি বাটিতে থরে থরে সাজানো কলকাতার বিখ্যাত সব দোকানের খাদ্যদ্রব্য, যা রথীন ক্ষুধাদীর্ণ মহানগরে কপর্দকহীন দিনগুলোয় স্বপ্নে দেখেছে, এবং চাকরিতে প্রথম বেতন পাবার পর চিনির সঙ্গে ট্রামে চেপে ঘুরে ঘুরে স্বাদ নিয়েছে।
কী ছিল না তাতে? গোলদিঘির ধারে প্যারামাউন্টের ডাব শরবত থেকে শুরু করে শোভাবাজারের অ্যালেন্স কিচেনের প্রন কাটলেট, চৌরঙ্গিতে নিজামের কাঠি রোল থেকে হ্যারিসন রোডে দিলখুশা কেবিনের ফিশ কবিরাজি, এসপ্ল্যানেডে অনাদি কেবিনের মোগলাই পরোটা থেকে শ্যামবাজারের গোলবাড়ির কষা মাংস, মোড়ের ওধারে হরিদাস মোদকের ডালপুরি থেকে দুটো গলি ছাড়িয়ে বড়ুয়ার মাটন প্যান্থেরাস …কী নয়! এবং প্রতিটি টাটকা ও নিখুঁত স্বাদ।
রথীনের চোখমুখের অবস্থা দেখে সরোজা মুচকি হেসে তালপাখার বাতাস করতে করতে আশ্বাসের সুরে বলেছিলেন— ‘লজ্জা কোরো না বাবা। আমি তোমার জন্য এই সবকিছু নিজে হাতে বানিয়েছি।’
ভোজবাজি চোখে দেখা এক জিনিস, খাওয়া আরেক জিনিস। খাবার পর বেনারসী পানের খিলি মুখে পুরে রথীন চিবোতেও ভুলে গেল যখন শুনল প্রতিটি পদ তৈরি হয়েছে রান্নাঘরেই, কাঁচকলা ছানা এঁচোড় আর ছোলার ডাল দিয়ে। এবং সবচেয়ে বিস্ময়কর যেটা, সরোজা এইসব বিখ্যাত দোকানের পদগুলি কোনোটিই জীবনে কখনো দাঁতে কাটেননি। বহু বছর আগে কলকাতায় গিয়ে রাধারাণীর ছেলে সুনির্মলের কাছে কেবল তাদের গল্প শুনেছেন।
সেবার কলকাতা থেকে সরোজা রামপ্রাণের জন্য হোমিওপ্যাথি ওষুধের বাক্স আর মেটিরিয়া মেডিকার বই ছাড়াও আরও কিছু নতুন জিনিস এনেছিলেন। কুয়োতলার পাশে একটি ওয়াশবেসিন বসানো হয়, তার এক পাশে গামছা ঝোলানোর রিং আর তরল সাবানদানি। দুপুরের পর রামপ্রাণ ফার্মেসি থেকে ফিরে— ‘ওগো শুনছ’ বলে ডাক দিলে সরোজা আগের মতোই গামলায় পটাশিয়াম পারমাঙ্গানেট জলে গুলে আনেন, কিন্তু এখন আর হাত ধোবার সময় রামপ্রাণের ধুতি ভেজে না। এছাড়া রান্নাঘরে সরোজার নকশা মাফিক উনুনের ওপর বসানো হয় একটি টিনের চিমনিঢাকা, যার মোটা পাইপ টালির চাল ফুঁড়ে আকাশে উঠেছে। এর ফলে ধোঁয়াকালি মাখা রান্নাঘরের চেহারাটাই বদলে গেল, বন্ধ হলো বামুনদির বারোমেসে কাশি, যার দাপটে ঘুমের চটকা ভেঙে অ্যান্টনি ডেকে উঠত— ‘ওরে থাম! ওরে থাম!’
গেরস্থালির এইসব অভিনব উপকরণ সরোজা দেখেছিল কলকাতার পিসি রাধারাণীর বাড়িতে। পাগলরামের রসুইঘরে মেটেবুরুজের মুসলমান বাবুর্চি রান্না করে, এই খবরটা সাতগাঁয় ছড়িয়েছিল কিন্তু ধোঁয়াবিহীন উনুনের কথা কেউ কখনো শোনেনি।
