Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    পরিমল ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প984 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৪.৬

    ৪.৬

    বিয়ের পর রথীন যখন জামাই হয়ে আদিরামবাটিতে এল, ততদিনে হেমন্তর কমিউনিস্ট জীবন অতীত অধ্যায়। আবার সে ফিরে এসেছে দক্ষিণের ঘরে। পরিবারের অন্য পুরুষদের তুলনায় লম্বা, মিতবাক, চৌকোনা চোয়াল, এক মাথা কোঁকড়ানো চুল আর একটা ধীর, মন্থর ভাব যা ওর সদাসতর্ক চোখদুটোর সঙ্গে অসমঞ্জস–শিউলির কাছে ওর ছোড়দার আগের জীবনের কথা শোনার পর রথীন কিছুতেই মেলাতে পারত না এই ছেলেটি কীভাবে সাতগাঁর রাস্তায় মেথরদের মিছিল সংগঠিত করেছিল। এ বাড়িতে যে দু’বার সে রাত্রিবাস করেছে, অনেকটা সময় কাটিয়েছে হেমন্তর ঘরে। বাড়ির অন্যেরা কেউ এদিকে বিশেষ আসে না, নিশ্চিন্তে সিগারেট খাওয়া যায়। দক্ষিণের একটেরে ঘরে ডার্করুম বানিয়ে সারাদিন ধরে এক মনে ক্যামেরায় তোলা ছবি ডেভেলপিং-এর কাজ করে হেমন্ত। প্রায় তারই সমবয়সী এই আত্মমগ্ন শ্যালকটির সঙ্গ রথীনের বিশেষ পছন্দ ছিল, যদিও বাক্যবিনিময় হতো সামান্যই। একবার রথীন ওর পার্টি সংগঠনের অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে হেমন্ত হেসেছিল।

    ‘সন্ন্যাসীদের পূর্বাশ্রমের কথা জিজ্ঞেস করতে নেই, জানো না?’

    রথীন আর কখনো এই ব্যাপারে প্রশ্ন করেনি। এক কোণে টুলে বসে চুপচাপ সিগারেট খেত আর দেখত কী গভীর মনোযোগে হেমন্ত সেলুলয়েডে বন্দি সাদাকালো ইমেজগুলোকে সাটিন কাগজের ওপর ফুটিয়ে তুলছে। বেশিরভাগই বৃদ্ধ নরনারীর ছবি, মৃত্যুর আগে কিংবা কাশীবাসী হবার ঠিক আগে। তাদের মুখের বলিরেখায় সময়ের হাতে আঁকা জটিল জালিকা, চোখে নিভু-নিভু আলো, কখনো আসন্ন মৃত্যুর বিস্ফার। এসবই হেমন্ত কাগজের ওপর ছেপে তুলত নির্মোহ আলোকচিত্রীর অভিনিবেশে। কোনো বৃদ্ধার স্বামী যদি তখনও জীবিত থাকেন, তাহলে সাদাকালো সিঁথির ওপর লাল রঙ দিয়ে সিঁদুর চিহ্ন এঁকে দেয়। সারাদিন ওর গ্যালেনা ক্রিস্টালের রেডিওয় চ্যানেল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বাজায় রবীন্দ্রসঙ্গীত, কেবলই রবীন্দ্রসঙ্গীত। এই আরেকটি জিনিস রথীনকে আকর্ষণ করে দক্ষিণের ঘরে। এবং এই ব্যাপারে দুজনের পছন্দের খুব মিল, দুজনেরই প্রিয় দেবব্রত বিশ্বাসের কন্ঠ আর পূজা পর্যায়ের গানগুলো। শুনতে শুনতে রথীনের মনে পড়ে চাকরিতে বিজন স্থানে পোস্টিং-এর সেই একাকী দিনগুলো, সেই নিঃসঙ্গ জীবনের স্মৃতিগুলো মেদুর হয়ে ফিরে আসে।

    হেমন্তর কী মনে পড়ে? সেটা ওর মুখ দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই। ফোটোগ্রাফের ওপর জিরো নম্বর তুলির আলতো টান দিয়ে প্রায় শ্বাস বন্ধ করে সে ফুটিয়ে তোলে অতিসূক্ষ্ম বলিরেখার ছায়া।

    হেমন্তর মতো ছেলের কমিউনিস্ট হয়ে পড়া, পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী হয়ে পড়া যতটা আকস্মিক, ঠিক ততটাই নাটকীয় ওর প্রত্যাবর্তন। রবীন্দ্রসঙ্গীত ওর জীবনের এই দুই অধ্যায়ের মাঝে সেতু, যদিও সাতগাঁর ব্রাহ্মণ সমাজে রবি ঠাকুরের গান গাওয়া বা শোনা মেথরদের নিয়ে মিছিল করার থেকে কিছু কম নিন্দনীয় নয়।

    সেটা জেনেই গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় পার্টি অফিসের ছাতে উঠে কমরেডরা দল বেঁধে তাঁর গান গাইত। পাড়াপড়শিরা বিরক্ত হতো, কেউ কেউ কানে আঙুলও দিত। পোর্তোহাটায় এক আর্মানি ব্যবসায়ীর দোতলা কোঠাবাড়ি ভাড়া নিয়ে চলছিল পার্টি অফিস। তার একতলায় ছিল প্রেস, সুনির্মলের দেওয়া একটি পুরোনো গেস্টেটনার কোম্পানির মেশিন, আর মার্কসীয় দর্শনের বই আর পত্রপত্রিকা নিয়ে একটি লাইব্রেরি। সেখানে পার্টির ক্লাস ও দলীয় সভা হতো, বিকেলের দিকে অনুষ্ঠানের রিহার্সাল হতো। ইউথ কোরাস নামে দলের সাংস্কৃতিক শাখায় কমিনটার্নের গান, পীট সিগারের গান বাংলায় অনুবাদ করে গাওয়া হতো। এছাড়া রবি ঠাকুরের কিছু বাছা বাছা গান।

    ইউথ কোরাসের নেতৃত্বে ছিলেন কমরেড জ্যোৎস্নাময় দাস। বছর পঞ্চাশের জ্যোৎস্নাময়ের কঙ্কালসার মন্বন্তরপীড়িত চেহারা, চাঁদির ওপর গোল টাকের চারপাশ দিয়ে কয়েকগুছি চুল কাঁধ পর্যন্ত নেমেছে, চোখে পুরু কাচের চশমা আর সর্বক্ষণ হাঁপানির রুগির মতো কাশি তাঁর সঙ্গী। আগুন ঝরা আবেগে গলার শির ফুলিয়ে তিনি কথা বলতেন, আঙুলের ফাঁকে সর্বদা জ্বলত বিড়ি, কোনো বিষয়ে নিজের মত প্রতিষ্ঠা করার জন্য মেঝেয় পা ঠুকতেন। রবীন্দ্রসঙ্গীতের গায়কীতে জ্যোৎস্নাম প্রথাভাঙা বদল এনেছিলেন, এবং এই ব্যাপারে তাঁর অবস্থান ছিল সুস্পষ্ট:

    ‘দেখুন কমরেড, রবিবাবু ছিলেন একজন বুর্জোয়া জমিদার! কিন্তু তিনি এখন আর জীবিত নেই, শ্রেণিশত্রু হিসেবে তাঁকে নিকেশ করার বিকল্প হিসেবে এটুকু আমরা করতেই পারি। তাঁর জীবনদেবতাকে ভজনার পুজো পর্যায়ের গানগুলোকে এভাবে গেয়ে আমরা বিপ্লবের গান হিসেবে ব্যবহার করতে আলবাৎ পারি!’ মেঝেয় সশব্দে পা ঠুকে বিড়িতে গভীর টান দিয়ে কাশির দমক সামলে বলতেন— ‘এবং মনে রাখবেন কমরেড, বিপ্লবের পর আমরা সব কিছুকে এভাবে ভেঙেচুরে নিয়ে জনগণের কাজে ব্যবহার করব। সব জাতীয় সম্পত্তি, সব বিল্ডিং, এমনকি সব কবিতা গান। সব নদীর দিক পরিবর্তন করে তার জল জনগণের সরকারের কল্যাণে ব্যবহার হবে। সব মানুষ কমিউনে বাস করবে, ফসল ফলবে সব মানুষের জন্য, বসন্তে কোকিল গাইবে কমিনটার্নের গান, শরতে কাশফুল ফুটবে লাল, পতাকার মতো!’

    কমরেড জ্যোৎস্নাময়ের কথায় অবিশ্বাস্য উপাদান চাপা পড়ে যেত ওঁর আবেগদীপ্ত বাচনভঙ্গিতে, ওঁর কথার মাঝে অস্থির পা ঠোকায়, ওঁর ঠোঁট নিঃসৃত বিড়ির নীল ধোঁয়ায়। ইউথ কোরাসের তরুণ সদস্যরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনত, উত্তেজনায় ওদের চোখ চকচক করে উঠত।

    .

    সেই দলে একটি মেয়ে হেমন্তর দৃষ্টি আকর্ষণ করল। শ্যামলা পাতলা গড়নের মেয়েটির বড়ো বড়ো চোখদুটো বিষণ্ণ, ঠিক যেন কোনো বড়ো আকারের মুখ থেকে উপড়ে নিয়ে বসানো। ওকে প্রথমদিন দেখে মনে হয়েছিল এই মেয়েটিকে আগে কোথায় যেন দেখেছে। একদিন ক্লাসের সময় খুঁটিয়ে নজর করতে হেমন্ত লক্ষ করল সে সম্পূর্ণ নিরাভরণ চুড়ি দুল কিচ্ছু নেই, শুধু বাঁ হাতের কব্জিতে জীর্ণ চামড়ার ব্যান্ডে একটি পুরুষের রিস্ট ওয়াচ, ডায়ালটা কব্জির ভেতর দিকে রেখে পরা, সেখানে গোঁজা ছোটো রেলের হলদে টিকিট। ওর পরনে খুব সাধারণ কালো পাড় দেওয়া সাদা শাড়ি, পায়ে ফিতে-বাঁধা কালো চামড়ার পাম্প, মাথায় লম্বা বেণি লাল ফিতেয় জড়ানো। শুধু ওই মাথার ফিতেয় কমিউনিস্ট দলের প্রতি আনুগত্যের চিহ্নটি ছাড়া কোথাও কোনো রঙ নেই, প্রায় যেন বৈধব্যের বেশ। সে রোজ দিনেমারডাঙা থেকে আসে, একটিও ইউথ কোরাসের রিহার্সাল কিংবা থিওরির ক্লাস মিস করে না, এবং রাত আটটা পঁয়তাল্লিশের বন্দর-হুগলিগামী ট্রেনে ফিরে যায়। ওর নাম আবীরা।

    সপ্তাহ দুয়েক ধরে প্রতিদিন দেখার পরেও হেমন্তর মনে একটা কাঁটার মতো অস্বস্তি খচখচ করে, আবীরাকে আগে কোথায় যেন দেখেছে। কোথায় যে দেখেছে কিছুতেই আর মনে করতে পারে না। একদিন সে ওর পদবি জিজ্ঞেস করায় আবীরা ভারি চোখের পাতা তুলে জানালো— ‘শুধুই আবীরা। আমার কোনো পদবি নেই।’ ওর কন্ঠস্বরে এমন এক ঠান্ডা প্রত্যয়ী ভাব ছিল যে তারপরে আর কথা এগোয় না। হেমন্ত বলল–

    ‘কিছু মনে করবেন না কমরেড, কিন্তু ক’দিন ধরেই মনে হচ্ছে আপনাকে কোথায় যেন দেখেছি, হয়তো কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানে। পদবি জানতে চাইলাম কারণ মনে হলো আদিরামবাটির চক্রবর্তী গুষ্টির সঙ্গে হয়তো আপনার লতায়- পাতায় আত্মীয়তা থাকলেও থাকতে পারে।’

    ‘কিন্তু আমি আপনাকে এর আগে কখনো দেখেছি বলে তো মনে পড়ে না, কমরেড,’ আবীরা বলল। ‘আর আমার কোনো পদবি নেই। পদবি মানুষের সামাজিক শ্রেণিচিহ্ন। আমি শ্রেণিহীন সমাজে বাস করতে চাই, তাই আমি দল করি।’

    আবীরার বাচনভঙ্গি, কথা বলার সময় ভারি চোখের পাতায় কম্পন, মাথা ঝাঁকিয়ে লম্বা চুলের বেণি কাঁধের সামনে এনে ফেলা, এইসব হেমন্তর কৌতূহল প্রশমিত করার বদলে উস্কে দিল। এবং যদিও ওর কাজ ছিল প্রেসের ঘরে, যেখান থেকে একটি প্রচারমূলক সাপ্তাহিক ব্রডশিট ছাপা হতো, হেমন্ত ইউথ কোরাসের যে রিহার্সালগুলোয় আবীরা অংশ নেয়, সেগুলো প্রত্যেকটি দেখতে যেতে শুরু করল।

    এল-ডোরাডোয় সুনির্মল একদিন ওকে সিগারেটে দীক্ষিত করার পর থেকেই হেমন্ত কালো লিকার চা আর তামাকের ধোঁয়া খেয়ে জীবনধারণ করতে শিখেছিল। অন্যান্য কমরেডদের মতো ঠোঁটের ফাঁকে জ্বলন্ত বিড়ি রেখে তানর্গল কথা বলে যেতে পারত, ধোঁয়ায় এবং দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের জটিল তত্ত্বে চোখ সরু করে লেনিনের মিলিটারি প্রোগ্রাম অফ দ্য প্রোলেতারিয়ান রেভেলিউশান-এর গূঢ় বার্তা ব্যাখ্যা করতে পারত। সাতগাঁর পার্টি ইউনিটে ষোল জন পুরুষ ও তিনজন মহিলা সদস্যের মধ্যে একজন ছিল এক কমরেডের স্ত্রী। জ্যোৎস্নাময় মাঝেই মাঝেই দু হাতের মুঠি পাকিয়ে আক্ষেপের স্বরে বলতেন— ‘আমাদের ইউথ কোরাসের জন্য দলে আরও মহিলা কমরেড চাই। শক্ত সবল কমরেড যারা গলা ছেড়ে গান গাইতে পারবে, আবার নিজে ধূমপান না করেও ঘন্টায় নব্বইটা বিড়ির ধোঁয়া গিলতে পারবে।’

    পার্টি ইউনিটে সকল পুরুষ সারাক্ষণ বিড়ি খেত, কেবল সুনির্মল খেত সিগারেট। থিওরির ক্লাস নিতে কলকাতা থেকে দুবার ট্রেন বদল করে আসার পরেও ওর গা দিয়ে দামি সুগন্ধ বের হতো। স্থানীয় কমরেডদের অবশ্য বিলাসদ্রব্যের সঙ্গে কোনোরকম সংস্রব ছিল না। তাদের পরনে থাকত সস্তা ছিট কাপড়ের পোশাক, যা কখনো ইচ্ছাকৃতভাবেই ছেঁড়া, মেরামত-না-করা, পায়ে টায়ারের চটি, গালে আট দশ দিনের না-কামানো দাড়ি। এদের মধ্যে অনেকেই রীতিমত সচ্ছল পরিবার থেকে এসেছে, এবং তারা জানে না যে দুটো প্ৰজন্ম আগেও তাদের বংশের পুরুষেরা নতুন ধুতির পাড় ছিঁড়ে পরত যাতে কোমরের কোমল ত্বকে না ঘষা লাগে।

    ছাপাখানা বিভাগের দায়িত্বে থেকে হেমন্তর কাজ ছিল বিস্তর ছাপার ম্যাটার কম্পোজ করা, গ্যালি প্রুফ দেখা, কলকাতা থেকে নিয়মিত ছাপার সরঞ্জাম আনানো। সারাক্ষণ যন্ত্রের সঙ্গে ওতোপ্রোত হয়ে এই কাজটা তার খুব পছন্দের ছিল। কিন্তু আবার চ্যালেঞ্জও ছিল নানারকমের। ব্রডশিটের প্রতিটি পাতায় এত বেশি— ‘বিপ্লব’ আর— ‘ইনক্লাব’ শব্দের আধিক্য ছিল কাঁঠালের গায়ে কাঁটার মতো, যে সবসময়েই— ‘প্ল’ ‘ক্ল’ ও আরও কিছু যুক্তাক্ষর ও হসন্তের টাইপ কম পড়ত। এর ফলে নানান অভিনব পন্থায় লেখাগুলো পরিমার্জন করতে হতো।

    এইসব এডিটিং-এর কাজ করতে গিয়ে প্রায়শই পার্টি অফিসে রাত কাটাতে হতো হেমন্তকে। মাঝেসাঝে যখন বাড়ি ফিরত, সরোজা ওর শীর্ণ অবিন্যস্ত চেহারা দেখে আঁতকে উঠত আর মনে মনে সুনির্মলকে শাপশাপান্ত করত ছেলেটার মাথায় এইসব বিজাতীয় তত্ত্বকথা ভরে দেবার জন্য। বাঁটুলের আখড়ায় গিয়ে যা পেশিসঞ্চয় হয়েছিল, সবই সে ইতিমধ্যে খুইয়েছে। শুধু দীর্ঘ হাড়কাঠামোটা রয়ে গিয়েছে। ওর বিশুকা, যে কিনা তখনও মেথরদের নিয়ে মিছিলের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি, উনত্রিশ দেবদেবীর কাছে রোজ প্রার্থনা করে—বাড়ির ছেলেটা যেন তার দিদির মতো আগুনঝরা পথে না হাঁটে।

    রামপ্রাণ সমস্যাটা চিকিৎসকের চোখ দিয়ে দেখতেন:

    ‘মার্কস-লেনিন ছেড়ে এদের যেটা দরকার তা হলো রোজ সকালে খালি পেটে দুচামচ করে জোলাপ। পেটের ক্রিমিগুলো বেরিয়ে গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আর এই মরবিড কৃচ্ছসাধনের রোগ সারানোর জন্য চাই কয়েক ডোজ নাক্সভোমিকা!’

    হেমন্তকে বাড়িতে দেখতে পেলে তিনি বিশেষ কাউকে উদ্দেশ্য না করে অনেকটা স্বগতোক্তির মতো করে বলতেন— ‘এইসব কোলকুঁজো দুবলা ছোড়াগুলো যে কী বিপ্লব আনবে সেটা কিছুতেই আমার মাথায় ঢোকে না।’

    হেমন্ত প্রতিবাদ করে উঠত। — ‘পৃথিবীতে সর্বত্র দুবলা ক্ষুধার্ত জনসাধারণই বিপ্লব ঘটিয়েছে। ইতিহাস তাই বলে।’

    ‘অতশত ইতিহাস আমি জানিনে বাপু, রামপ্রাণ বলতেন,— ‘কিন্তু তাদের নিশ্চয়ই চালনা করেছিল ভরপেট খাওয়া স্বাস্থ্যবান নেতারা!— ‘

    দীর্ঘ সময় ধরে শুধুমাত্র ক্যাফেইনের পথ্যে নির্ভরশীল হবার প্রভাব পড়ল হেমন্তর স্বাস্থ্যে। ওর অম্লাধিক্যের পীড়া শুরু হলো, চিকিৎসার পরিভাষায় যাকে বলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স। একদিন প্রেসের ঘরে নীচু হয়ে মেঝে থেকে গ্যালি প্রুফ নেবার সময় আচমকা বুকের ব্যথায় অচৈতন্য হয়ে পড়ল। চেতনা ফিরতে দেখল মাটিতে ছড়ানো কাগজের মাঝে শুয়ে আছে, মুখ চুল জলে ভেজা, আর ওপর থেকে ঝুঁকে এসেছে একগুচ্ছ মুখ। তার মধ্যে কমরেড আবীরার উৎকণ্ঠায় দীর্ণ মুখচ্ছবি তার স্মৃতিতে গিঁথে গেল। এবং বাড়িতে ক’দিন বিশ্রাম ও আরোগ্যের কালে ফিরে ফিরে আসতে লাগল নিদ্রায় জাগরণে।

    এবার নিরুপায় হেমন্ত বাবার হাতে গিয়ে পড়ল। শুরু হলো তিন বেলা পাঁচ রকম হোমিওপ্যাথির গুলি আর ঠান্ডা ছাগলের দুধে ভেজানো মুড়ির পথ্য। একদিন বিকেলে গভীর ঘুম থেকে জেগে উঠে সে পশ্চিমের খোলা জানলা দিয়ে দেখল, আমের বনে ঘনায়মান ছায়ায় শুকনো পাতার রাশি পলকা হাওয়ায় মাটির ওপর নিঃশব্দে লংমার্চ করে চলেছে। গাছের ডালে কোথাও একটা ঘুঘু ডাকছে। আচমকা হেমন্ত বুঝতে পারল, আবীরাকে সে দলে যোগ দেবার আগে কখনো দেখেনি, কিন্তু দেখামাত্র চিনেছে তার কারণ আবীরাকে দেখতে অবিকল বনলতাপিসির মতো!

    বনলতার একটা ছবি সে বর্গিব্যাটারিতে দেখেছিল। এখন সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজেও হেমন্ত তার দ্বিতীয় কোনো ছবি পেল না। পেশাদার খুনি যেভাবে অনুপুঙ্খ নিষ্ঠায় আঙুলের ছাপ মুছে ফেলে, সেভাবে বাড়ির সব কিছু থেকে, এমনকি একটি পারিবারিক ছবির অ্যালবাম থেকেও, বনলতার সমস্ত চিহ্ন লোপাট করা হয়েছে। এবং সেটা করা হয়েছে হেমন্তর জন্মেরও আগে, যখন ব্রিটিশ সরকারের পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছিল সাতগাঁর দেয়াল। তার বেশ কিছুকাল পরে— ততদিনে ইংরেজরা দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছে— সাতগাঁ পৌরসভা এলাকার একটি পার্ক শহীদ বনলতার নামে নামাঙ্কন করার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন বনলতার একটি ছবি চেয়ে বাড়িতে যোগাযোগ করে ওরা, মন্ত্রী এসে ঘটা করে পার্ক উদ্বোধন করেন। কিন্তু আদিরামবাটির কেউ সে অনুষ্ঠানে যায়নি। কোনো ছবিও পাঠানো হয়নি, তার কারণ কোনো ছবি বাড়িতে ছিল না।

    পরদিন সকালে হেমন্ত বর্গিব্যাটারিতে গেল। আখড়ায় ছাত্র কমেছে। এই ক’বছরে বাঁটুল দি গ্রেট আরেকটু বৃদ্ধ হয়েছেন, লাঠিতে ভর দিয়ে চলাফেরা করেন। হেমন্তকে দেখে বাঁটুল দি গ্রেট খুশি হলেন বলে মনে হলো না। হবার কথাও নয়। খালপাড়ের মেথরদের নিয়ে মিছিল করে হেমন্ত— ‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়!’ শ্লোগান দিয়েছে। এটা বাঁটুলের প্রিয় শ্লোগান ঠিকই, কিন্তু কমিউনিস্টরা নেতাজীকে কী চোখে দেখে তিনি জানেন। তা সত্ত্বেও এক কথায় ওকে ফের তিনি বারুদঘরের পেছনে পাতালঘরে নিয়ে গেলেন।

    প্রদীপের কাঁপা কাঁপা আলোয় ঝাপসা হয়ে আসা ছবিটা খুঁটিয়ে দেখতে গিয়ে শিউরে উঠল হেমন্ত। বনলতার নিরাভরণ গলায় কালো সুতোয় বাঁধা লম্বাটে পুঁতির আকারের লকেটটি সায়ানাইড ক্যাপসুল! প্রথমবার যখন দেখেছিল চিনতে পারেনি। বুঝতে পারল, ভারি পাতার নীচে চোখের যে দৃষ্টি দেখে মনে হয়েছিল স্বভাবভীরুতা, সেটা আসলে প্রগাঢ় নিরাসক্তি ছাড়া কিছু নয়। একবার সেটা রপ্ত করে ফেলতে পারলে বাসাংসি জীর্ণানির মতো দেহটাকে অনায়াসে মৃত্যুর হাতে সমর্পণ করা যায়। ওই চাহনির ভেতরে হেমন্ত আবীরাকে খুঁজে পেল। আবীরা গলায় সায়ানাইড ক্যাপসুল পরে না, কিন্তু ওর বুকের ধুকপুকুনির ভেতর বেজে চলে সেই একই নিরাসক্তি।

    সরোজার যত্নে এবং পথ্যে হেমন্ত তিন সপ্তাহের মধ্যে ফের খাড়া হয়ে উঠল, পার্টি অফিসে ফিরে গিয়ে থিওরির ক্লাসে, ব্রডশিট ছাপার কাজে ফের যোগ দিল। অম্লাধিক্যের জন্য ওকে প্রতি দু ঘন্টা অন্তর নিয়ম করে কিছু খেতে হতো, এজন্য পকেটে সবসময় লেড়ে বিস্কুট রাখত সে। কমরেড ষড়ঙ্গীর বলশেভিক রেভেলিউশানের ক্লাসে — বিশীর্ণ চেহারার জন্য ছেলের দল যাঁকে আড়ালে কমরেড শিড়িঙ্গে বলে ডাকত— একদিন যখন তিনি বোর্ডে চকখড়ি দিয়ে রেখাচিত্র এঁকে বোঝাচ্ছেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিবিন্যাসে বিপ্লব কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে, নিস্তব্ধ ক্লাসঘরে আচমকা পিস্তলে গুলি ছোঁড়ার মতো শব্দ হল কুড়ুম!

    কমরেড ষড়ঙ্গী লাফ দিয়ে টেবিলের নীচে গিয়ে লুকোতে চেষ্টা করতে একজন বলে উঠল—

    ‘আপনি চালিয়ে যান কমরেড, গুলির শব্দ ওটা নয়। আমাদের কমরেড হেমন্ত কুত্তার বিস্কুট দিয়ে পেটে অ্যাসিডিটি মারছে!’

    তিন মহিলা কমরেড একটি আলাদা বেঞ্চিতে বসতেন। বাতাসে ভেসে বেড়াত অব্যক্ত রোম্যান্টিক কামনার আবেগ। সেটা যত না ইউথ কোরাসের গান নাটকের রিহার্সালে হতো, তার থেকে ঢের বেশি হতো জটিল রাজনৈতিক তত্ত্বের ক্লাসে। হেমন্ত মাঝেমাঝেই এল-ডোরাডোর লাইব্রেরি থেকে বিপ্লব ও প্রেমের কবি নেরুদা ও লোরকার কবিতার বই এনে আবীরাকে পড়তে দিত, আবীরাও নিয়ম করে সেগুলি পড়ে ওকে ফেরত দিত। ওকে ঘিরে হেমন্তর অন্তরে পুঞ্জীভূত আবেগ টের পেত কি না বোঝা যেত না।

    রোজ সন্ধ্যার পর পার্টি কমিউন থেকে বেরিয়ে আটটা পঁয়তাল্লিশের লাস্ট ট্রেনটা ধরত আবীরা, হেমন্ত ওকে স্টেশন অবধি এগিয়ে দিতে যেত। এক সন্ধ্যায় ট্রেনের সবুজ কামরার ভেতরটা সম্পূর্ণ ফাঁকা, আবীরা উঠে জানলার ধারে এসে বসল। ওর মুখোমুখি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে হেমন্ত। ইঞ্জিনের বাঁশিটা দিতেই সে বুকের মধ্যে একটা মোচড় অনুভব করল, যে কথাগুলো এতদিন ধরে ভেতরে জমছে সেসব একসঙ্গে বেরিয়ে আসতে চাইল। বেপথুমান স্নায়ু শান্ত করতে একটা সিগারেট ধরালো হেমন্ত, প্যাকেটের শেষ সিগারেট, ওর ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এল, কথা নয়, রবিঠাকুরের গানের কলি।

    ইঞ্জিনের পিস্টনের ধাতব কোলাহলে জানলায় ঝুঁকে পড়েও আবীরা কিছু শুনতে পেল না, জিজ্ঞেস করল— ‘কোন গানটা?’

    ঝটকা দিয়ে নড়ে উঠে ট্রেনটা চলতে শুরু করল, আর তক্ষুণি হেমন্ত বুকপকেট থেকে পেন বের করে খালি প্যাকেটের গায়ে লিখে দিলে প্রথম লাইনটা ‘ফুল বলে, ধন্য আমি মাটির পরে….’

    প্যাকেটটা হাতে নিয়ে দেখে আবীরার ঠোঁটে বুঝি অস্ফুট হাসি ফুটল, চোখে চিকচিক করল বুঝি আলো। ইঞ্জিনের ধোঁয়া, ধন্দ আর আবীরার চোখে আলোর মতো ঝাঁক ঝাঁক আগুনের ফুলকিতে হেমন্তকে ভরিয়ে দিয়ে মার্টিন্‌স কোম্পানির ছোটো রেলগাড়িটা প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে কু-ঝিকঝিক করে চলল বন্দর-হুগলির দিকে।

    পরদিন দুপুরে কমরেড সুনির্মলের ফ্যাসিবাদের ক্লাসে এসে আবীরা সবার অলক্ষ্যে হেমন্তর হাতে গুঁজে দিল একটি চিরকুট, তাতে লেখা–

    প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
    ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা–

    রোলার, প্যাটন, গ্যালি টাইপের মাঝে ছাপাখানায় কাজটা হেমন্তর খুব পছন্দের ছিল। তার আরেকটা কারণ পাশের হলঘরে বিকেলের পর ইউথ কোরাসের রিহার্সাল হতো, রিহার্সাল দেখার ছুতোয় আবীরার কাছে কাছে থাকা যেত। কিন্তু পার্টির ওপরতলা থেকে কোনো এক অদৃশ্য হাত ওকে সরিয়ে দিল দোতলায় সম্পাদনা বিভাগে। সেখানে হাতে-লেখা প্রেসকপি এডিট করার, লেখকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার, প্রয়োজনে পাতা ভরানোর জন্য চটজলদি ফিলার লেখার দায়িত্ব বর্তালো। এখানে ডেডলাইন মেনে কাজের চাপ অনেক বেশি, সারাদিন মাথা তোলারও সময় মেলে না। কমিউনের রান্নাঘরে দুপুরের ভাতও মাঝেমধ্যেই বাদ পড়ে যায়। এমনকি পকেটে থাকা লেড়ে বিস্কুট পকেটেই মিইয়ে যায়, দু ঘন্টা তাত্তর নিয়ম করে খাওয়াও হয়ে ওঠে না হেমন্তর। একদিন আবীরা ওর টেবিলে এনে রাখল একটি চৌকোনা ক্লিপ-আঁটা স্টিলের টিফিন বাক্স, ভেতরে দইচিড়ে।

    ব্যাপারটা ক্রমশ রুটিন হয়ে দাঁড়ালো। টিফিন বাক্সে কোনোদিন থাকে ঘি গোলমরিচ মাখা মুড়ি, কোনোদিন চাল আর তালগুড়ের পায়েস। আবীরা সকালে বাড়ি থেকে পার্টি অফিসে এসে প্রথমেই দোতলায় উঠে হেমন্তর টেবিলের ড্রয়ারে রেখে দেয় টিফিন বাক্সটা, সন্ধ্যাবেলা বাড়ি ফেরার আগে খুলে দেখে নেয় খেয়েছে কী না, তারপর ব্যাগে ভরে। কিন্তু ইদানীং কাজের চাপে হেমন্ত আর ওর সঙ্গে স্টেশন পর্যন্ত যেতে পারে না। গ্যালি প্রুফ সংশোধনের পর ব্রডশিটের ম্যাটার সন্ধ্যার সময়ে ছাপা হয়, তখন হেমন্তকে প্রেসে মেশিনের পাশে দাঁড়িয়ে সারাক্ষণ নজর রাখতে হয়। পুরোনো লজঝড়ে গেস্টেটনার যন্ত্র, কালির রোলারের ধাক্কায় মাঝেমধ্যেই দুয়েকটা লাইন, এমনকি আস্ত প্যারাগ্রাফ খুলে টাইপগুলো নীচে ঝরে পড়ে। তখন ছাপা পাতা দেখে আবার সেগুলো কম্পোজ করতে হয়।

    এক সন্ধ্যায় আবীরা টিফিনবাক্স ফেরত নিতে এলে হেমন্ত বুকে জমে ওঠা আবেগ প্রকাশের মতো জুতসই রবিঠাকুরের গানের লাইন খুঁজে না পেয়ে বলল–‘থ্যাংক ইউ, কমরেড!

    ‘কীসের জন্য?’ আবীরা অবাক চোখে জিজ্ঞেস করল।

    হেমন্ত সামান্য লজ্জা পেয়ে বলল—‘এই যে আপনি আমার শরীর স্বাস্থ্যের প্রতি এত খেয়াল রাখছেন!’

    ‘কিন্তু সেটা তো আমি আপনার জন্য করছি না কমরেড!’ আবীরা নিস্পৃহ গলায় বলল। ‘আমি পার্টির একটি জিনিসের প্রতি যত্ন নিচ্ছি। আমরা যদি নিজেদের পার্টিতে সম্পূর্ণ উৎসর্গ করেছি বলে মনে করি তাহলে আমাদের শরীর স্বাস্থ্যও তো পার্টির, তাই নয় কি?’

    একদিন কমিউনের রান্নাঘরে বিকেলের জলখাবারে সুজির হালুয়া হয়েছিল, আবীরা হেমন্তর জন্য খানিকটা কলাপাতায় মুড়ে নিয়ে এল। হেমন্ত অবাক হয়ে দেখল আবীরা কলাপাতার মসৃণ পিঠটা বাইরের দিকে রেখে মুড়েছে। কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে হেমন্ত জিজ্ঞেস করে বসল

    ‘আপনার পদবি কী আবীরা?’ পরক্ষণেই প্রথম আলাপের স্মৃতি মনে পড়তে সামলে নেবার চেষ্টা করল। ‘না মানে জানতে চাইছি পার্টিতে আসার আগে আপনার জাত কী ছিল?’

    ‘এ কথা কেন জিজ্ঞেস করছেন?’ আবীরা ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল। ‘ছোটোবেলা থেকে শুনে আসছি এভাবে কলাপাতার উলটো পিঠে খাবার মুড়ে নেয় হাড়ি বাগদিরা। ধর্মঠাকুরের পুজোর প্রসাদও এভাবেই প্যাকেট করে বিলি হয়।’

    কমরেড আবীরা হাতদুটো বুকের কাছে ভাঁজ করল, মাথাটা একদিকে বাঁকিয়ে প্রায় আধ মিনিট হেমন্তর দিকে চেয়ে রইল, যেন পার্টির ক্লাসে বোর্ডে আঁকা কোনো জটিল তত্ত্বের রেখাচিত্র বোঝার চেষ্টা করছে। তারপর মাথাটা ওপর দিকে তুলে হেসে উঠল, এত জোরে যে ছাপাখানার ঘটাংঘট শব্দ ছাপিয়ে শোনা গেল সেই অট্টহাসি। প্রৌঢ় মেশিনম্যান দীনুবাবু ট্রেডল থেকে পা তুলে চশমার ওপর দিয়ে দেখতে লাগলেন ওদের।

    আচমকা ছাপাযন্ত্র থেমে গিয়ে নৈঃশব্দ্যের ভেতর শোনা গেল আবীরার অস্ফুট, প্রায় স্বগতোক্তির মতো কণ্ঠস্বর— ‘আমি জানতাম! আপনার সম্পর্কে আমার সন্দেহটায় কোনো ভুল ছিল না তাহলে!’

    পরদিন থেকে হেমন্তর টেবিলে স্টিলের চৌকোনা টিফিন বাক্স আসা বন্ধ হলো, এবং ওই ঘটনার দেড় মাসের মাথায় এক বুধবারের গুমোট দুপুরে দীনুবাবু দোতলায় উঠে এসে একটি ব্যাগ থেকে মিষ্টির প্যাকেট বের করে হেমন্তর টেবিলে রাখলেন।

    ‘কমরেড আবীরা পাঠিয়েছে?’ হেমন্ত বলল।

    দীনুবাবু হ্যাঁ-সূচক মাথা নেড়ে সম্পাদনা বিভাগের অন্যান্যদের প্যাকেট বিলি

    করতে লাগলেন।

    ‘কীসের জন্য কমরেড?’ জিজ্ঞেস করতে গিয়ে হেমন্ত টের পেল ওর গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসছে।

    ‘সে কী কমরেড, তুমি জানো না?’ পাশের টেবিল থেকে বারীন বলল। ‘কমরেড আবীরা আর কমরেড জ্যোৎস্নাময় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }